৮ বছর বয়সে মস্তিষ্কের অর্ধেক বাদ! এরপর দুই ডিগ্রি অর্জন, করেছেন বিয়েও
মাত্র ৮ বছর বয়সে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ বার খিঁচুনিতে আক্রান্ত হতেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টিনা স্যান্থহাউস। বিরল স্নায়ুরোগ র্যাসমুসেনস এনসেফালাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তার জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকেরা মস্তিষ্কের ডান পাশের পুরো অংশ অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জনস হপকিন্স চিলড্রেনস সেন্টারে প্রায় ১৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে তার মস্তিষ্কের ডান গোলার্ধ অপসারণ করা হয়।
অস্ত্রোপচারটি করেন নিউরোসার্জন ডা. বেন কারসন। র্যাসমুসেনস এনসেফালাইটিস একটি বিরল রোগ, যা মস্তিষ্কের একটি অংশে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং গুরুতর খিঁচুনি, শারীরিক দুর্বলতা ও অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। ক্রিস্টিনার ক্ষেত্রে ওষুধে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। একপর্যায়ে দিনে ১৫০টিরও বেশি খিঁচুনি হতে থাকে।
হেমিস্ফেরেকটমি নামে পরিচিত এই জটিল অস্ত্রোপচারে আক্রান্ত মস্তিষ্কের অর্ধেক অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর ক্রিস্টিনা শরীরের বাম পাশে বেশিরভাগ মোটর সক্ষমতা হারান। তবে তার স্মৃতি, বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্ব অক্ষুণ্ন থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অস্ত্রোপচারের পর তার ভয়াবহ খিঁচুনিও বন্ধ হয়ে যায়।
শৈশবের এই কঠিন অভিজ্ঞতা ক্রিস্টিনার পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ১৭ বছর বয়সে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ গাড়ি চালানোর ড্রাইভার লাইসেন্স অর্জন করেন তিনি। পরে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যান এবং মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
পরবর্তী সময়ে ক্রিস্টিনা স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্ট হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন। অন্যদের কথা বলা ও যোগাযোগের সক্ষমতা উন্নত করতে কাজ করার পাশাপাশি নিজের জীবনও গড়ে তোলেন তিনি। পরে বিয়ে করেন এবং নিজের বাড়ির মালিকও হন।
ক্রিস্টিনার ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে মস্তিষ্কের অভিযোজন ক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। শৈশবে মস্তিষ্কের একটি গোলার্ধ অপসারণের পরও তার বাকি মস্তিষ্ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব নিতে সক্ষম হয়। ভয়াবহ রোগ ও বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের পরও শিক্ষা, পেশা, পরিবার ও নিজের স্বাভাবিক জীবন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ক্রিস্টিনা দেখিয়েছেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা সবসময় মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কে পৃথক দুই প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন ৩১ বছর বয়সী যিশুস আকোস্তাকে ধরতে ২৫ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে এফবিআই। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে কয়েক দিনের ব্যবধানে ওই দুই হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের অভিযোগ, গত ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় গুলির ঘটনায় একজন নিহত ও আরেকজন আহত হন। এরপর ২৫ আগস্ট ব্রঙ্কসের একটি ডেলিতে ঢুকে গুলি চালানোর ঘটনায় আরও একজন নিহত হন। ওই ঘটনার পর আকোস্তার বিরুদ্ধে সন্দেহ আরও জোরালো হয় এবং তাকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। এফবিআই জানিয়েছে, আকোস্তাকে গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। এর আগে ইউনাইটেড বোদেগাস অব আমেরিকাও তার গ্রেপ্তারে সহায়তাকারী তথ্যের জন্য ১০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আকোস্তা বর্তমানে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হতে পারেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন এবং এর আগে সহিংস অপরাধ ও অস্ত্র-সংক্রান্ত মামলায় সাজা ভোগ করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এ ঘটনায় নিউইয়র্কজুড়ে তার অবস্থান শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে। কোনো তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন এনওয়াইপিডির হিসাবে ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে নিউইয়র্ক সিটিতে গুলির ঘটনা, গুলিতে হতাহত ও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে কমেছে। একই সময়ে পুলিশ জানিয়েছে, বছরের শুরু থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩ হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
নিউইয়র্কে একাধিক ক্লার্ক পদে নিয়োগ, আবেদন ও যোগ্যতা জেনে নিন
সকাল ৯টায় ডিভোর্স, দুপুর ১২টায় জানতে পারলেন স্বামী ৪ কোটি ডলারের লটারি জিতেছেন
ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে তিনবার জয়ী করা স্টেটএ গ্যাসের দাম গ্যালনপ্রতি ২৬ ডলার
মাত্র ৮ বছর বয়সে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ বার খিঁচুনিতে আক্রান্ত হতেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টিনা স্যান্থহাউস। বিরল স্নায়ুরোগ র্যাসমুসেনস এনসেফালাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তার জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকেরা মস্তিষ্কের ডান পাশের পুরো অংশ অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জনস হপকিন্স চিলড্রেনস সেন্টারে প্রায় ১৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে তার মস্তিষ্কের ডান গোলার্ধ অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারটি করেন নিউরোসার্জন ডা. বেন কারসন। র্যাসমুসেনস এনসেফালাইটিস একটি বিরল রোগ, যা মস্তিষ্কের একটি অংশে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং গুরুতর খিঁচুনি, শারীরিক দুর্বলতা ও অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। ক্রিস্টিনার ক্ষেত্রে ওষুধে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। একপর্যায়ে দিনে ১৫০টিরও বেশি খিঁচুনি হতে থাকে। হেমিস্ফেরেকটমি নামে পরিচিত এই জটিল অস্ত্রোপচারে আক্রান্ত মস্তিষ্কের অর্ধেক অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর ক্রিস্টিনা শরীরের বাম পাশে বেশিরভাগ মোটর সক্ষমতা হারান। তবে তার স্মৃতি, বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্ব অক্ষুণ্ন থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অস্ত্রোপচারের পর তার ভয়াবহ খিঁচুনিও বন্ধ হয়ে যায়। শৈশবের এই কঠিন অভিজ্ঞতা ক্রিস্টিনার পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ১৭ বছর বয়সে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ গাড়ি চালানোর ড্রাইভার লাইসেন্স অর্জন করেন তিনি। পরে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যান এবং মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে ক্রিস্টিনা স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্ট হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন। অন্যদের কথা বলা ও যোগাযোগের সক্ষমতা উন্নত করতে কাজ করার পাশাপাশি নিজের জীবনও গড়ে তোলেন তিনি। পরে বিয়ে করেন এবং নিজের বাড়ির মালিকও হন। ক্রিস্টিনার ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে মস্তিষ্কের অভিযোজন ক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। শৈশবে মস্তিষ্কের একটি গোলার্ধ অপসারণের পরও তার বাকি মস্তিষ্ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব নিতে সক্ষম হয়। ভয়াবহ রোগ ও বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের পরও শিক্ষা, পেশা, পরিবার ও নিজের স্বাভাবিক জীবন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ক্রিস্টিনা দেখিয়েছেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা সবসময় মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না।
নিউ ইয়র্ক ব্রুকলিনে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি রাজুর জানাজা আজ, কাল মরদেহ যাবে বাংলাদেশে
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিংয়ে বড় বিরতি, সেপ্টেম্বরে চালুর সম্ভাবনা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের চাপে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জে মার্কিন নৌবাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে সাবেক প্রেমিকাকে নজরদারি ও গতিবিধি অনুসরণ করতে ফ্লক ক্যামেরা ২ হাজারের বেশি বার ব্যবহার করার অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে বেতন ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া কর্মকর্তা আসাদ জাহির ২০২২ সাল থেকে পেট্রোল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল মিসকনডাক্ট এবং কম্পিউটারে বেআইনি প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জাহির ফ্লক সেফটির ক্যামেরা সিস্টেম ব্যবহার করে তার সাবেক প্রেমিকার অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কে তথ্য খুঁজেছেন এবং তাকে ট্র্যাক করেছেন। এভাবে তিনি ২ হাজারের বেশি বার ক্যামেরা সিস্টেমে অনুসন্ধান চালান বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ফ্লক সেফটির ক্যামেরাগুলো মূলত বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনের চলাচল শনাক্ত ও প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিতে ব্যবহৃত হয়। সিস্টেমটির অপব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর ব্যবহারকারীদের কার্যক্রম শনাক্ত করতে কোম্পানিটি এআই-চালিত অডিটিং ব্যবস্থা চালু করে। এই অডিটিং ব্যবস্থার মাধ্যমেই জাহিরের অস্বাভাবিক অনুসন্ধান নজরে আসে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানেও উঠেছে। এ ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ যানবাহন ও মানুষের চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হওয়ায় এর অপব্যবহার নিয়ে গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
ফ্লোরিডাকে পেছনে ফেলে অবসরপ্রাপ্তদের নতুন ঠিকানা ডেলাওয়্যার, কম কর আর সৈকতই মূল আকর্ষণ
রাশিয়ায় সিআইএ প্রধানের গোপন সফর, ‘যুদ্ধ নিয়ে কিছু একটা হতে পারে’ বললেন ট্রাম্প