- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
অটিজম নিয়ে বেড়ে ওঠা জোশুয়া বেকফোর্ড মাত্র ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিশুদের জন্য পরিচালিত একটি বিশেষায়িত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। ছোটবেলা থেকেই অসাধারণ শেখার ক্ষমতার পরিচয় দেওয়া এই ব্রিটিশ তরুণ পরবর্তী সময়ে অটিজম সচেতনতা ও শিক্ষাবিষয়ক কাজেও যুক্ত হয়েছেন। জোশুয়ার শেখার ক্ষমতা তাঁর বাবা নক্স ড্যানিয়েলের নজরে আসে মাত্র ১০ মাস বয়সে। কম্পিউটারের কিবোর্ডে বিভিন্ন অক্ষর দেখিয়ে দিলে জোশুয়া সেগুলো মনে রাখতে এবং চিহ্নিত করতে পারতেন। এরপর অল্প বয়সেই তাঁর শেখার গতি স্বাভাবিক বয়সভিত্তিক শিক্ষার সীমা ছাড়িয়ে যায়। তিন বছর বয়সের মধ্যেই তিনি ধ্বনিভিত্তিক পদ্ধতিতে সাবলীলভাবে পড়তে পারতেন এবং জাপানি ভাষা শেখা শুরু করেছিলেন। কম্পিউটারে টাইপ করাও তিনি ছোট বয়সেই আয়ত্ত করেন। মানুষের শরীর ও অ্যানাটমির প্রতিও তাঁর আগ্রহ তৈরি হয় খুব অল্প বয়সে। জোশুয়ার মেধা বিকাশের জন্য প্রচলিত বয়সভিত্তিক শিক্ষার বাইরে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁর বাবা। ২০১১ সালে তিনি অক্সফোর্ডের মেধাবী শিশুদের জন্য পরিচালিত একটি কর্মসূচির বিষয়ে জানতে পারেন। কর্মসূচিটি মূলত ৮ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য হলেও জোশুয়া তখন মাত্র ছয় বছরের ছিলেন। তাঁর বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর জোশুয়াকে বিশেষভাবে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। অক্সফোর্ডে জোশুয়া দর্শন ও ইতিহাসের ওপর বিশেষায়িত কোর্স করেন এবং উভয় বিষয়েই কৃতিত্বের সঙ্গে সাফল্য অর্জন করেন। তবে তাঁর এই পথচলা প্রচলিত অর্থে ছয় বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার ঘটনা ছিল না; বরং মেধাবী শিশুদের জন্য তৈরি বিশেষায়িত শিক্ষাকর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। জোশুয়ার গল্পকে ঘিরে তাই একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে, অসাধারণ প্রতিভাবান শিশুদের কীভাবে শনাক্ত করা হবে এবং তাদের জন্য কেমন শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। সমর্থকদের মতে, বয়সের ভিত্তিতে একই ধরনের পাঠ্যক্রমে সব শিশুকে আটকে না রেখে মেধা ও শেখার সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, শিশুদের খুব অল্প বয়সে অত্যন্ত দ্রুতগতির শিক্ষাব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার সামাজিক ও মানসিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একটি শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার পাশাপাশি তার সামাজিক বিকাশ, মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং বয়স উপযোগী পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। জোশুয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তাঁর অসাধারণ মেধা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। অটিজম নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং অটিজম আক্রান্ত মানুষের জন্য সুযোগ ও সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার কাজেও তিনি যুক্ত হয়েছেন। তিনি ন্যাশনাল অটিস্টিক সোসাইটির একটি প্রচারণার সঙ্গেও কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। শৈশবের সেই অসাধারণ শিক্ষাযাত্রার পর তাঁর দীর্ঘদিনের আরেকটি লক্ষ্য নিউরোসার্জন হওয়া। অল্প বয়স থেকেই মানবদেহ ও মস্তিষ্কের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল এবং সেই আগ্রহই ভবিষ্যৎ পেশার স্বপ্নকে প্রভাবিত করেছে। জোশুয়া বেকফোর্ডের পথচলা শুধু একজন মেধাবী শিশুর সাফল্যের গল্প নয়। এটি একই সঙ্গে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে আনে, যেখানে প্রতিটি শিশুর সক্ষমতা, শেখার ধরন এবং প্রয়োজনকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। তাঁর গল্প দেখিয়েছে, প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা যেমন জরুরি, তেমনি সেই প্রতিভাকে সমাজের জন্য ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের পথ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবার থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন শান্তা যাদব। বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন তিনি। শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব ও মা রীনা যাদব দুজনই লংলা চা-বাগানের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বেড়ে উঠলেও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল শান্তার। চা-বাগানের জীবন এবং সেখানকার শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের নানা বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। লংলা চা-বাগানে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন শান্তা। এরপর চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবন নিয়ে তাঁর আগ্রহ আরও গভীর হয়। নিজের বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতাও এই আগ্রহকে প্রভাবিত করেছে। চা-বাগানের মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের বাস্তবতা তাঁকে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। স্নাতক শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন শান্তা। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির সুযোগ পেলেও নিজের লক্ষ্য ও আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক স্নাতকোত্তর কর্মসূচি বেছে নেন তিনি। এই কর্মসূচিতে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য, মানুষের কাছে কার্যকরভাবে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন শান্তা। তাঁর পড়াশোনার জন্য প্রায় দুই কোটি টাকা সমপরিমাণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। শান্তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও নিজের শিকড় থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা। শৈশব থেকেই তিনি দেখেছেন, চা-বাগান ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ কতটা সীমিত হতে পারে। সেই বাস্তবতাই তাঁকে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার লক্ষ্য স্থির করতে সাহায্য করেছে। শিক্ষাজীবনে চা-বাগানের শিক্ষার্থীদের নিয়েও কাজ করেছেন শান্তা। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়ার সময় তিনি চা-ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চা-বাগানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন তিনি। উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে চা-বাগানের শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে শান্তার। তাঁর লক্ষ্য নিজের অর্জিত জ্ঞানকে এমন কাজে ব্যবহার করা, যা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। লংলা চা-বাগানের সীমিত সুযোগের পরিবেশ থেকে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর শান্তার এই পথচলা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি দেশের চা-বাগান ও অন্যান্য প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ। শুরুর জায়গা সীমিত হলেও শিক্ষা, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় লক্ষ্য একজন মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে, শান্তার পথচলা তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
গ্রীষ্মের ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান টিকিটের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতি বছর ২৩ আগস্টকে ‘ন্যাশনাল চিপ ফ্লাইট ডে’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এটি কোনো আনুষ্ঠানিক দিবস নয়। বরং আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত সময়টিকে তুলনামূলক কম দামে ফ্লাইট পাওয়ার সম্ভাবনাময় সময় হিসেবে দেখা হয়। গ্রীষ্মের ছুটি শেষ হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে শুরু করায় এই সময়ে ভ্রমণের চাহিদা সাধারণত কমে যায়। ফলে যাত্রী কমে যাওয়ার কারণে এয়ারলাইনগুলো আসন পূরণ করতে বিভিন্ন রুটে ভাড়া কমাতে পারে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর সময়টি এই কারণে বাজেট ভ্রমণকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে বুক করা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের গড় ভাড়া আগস্টের শুরুর তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ কম হতে পারে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে কমার হার গড়ে প্রায় ১৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে রুট, ভ্রমণের তারিখ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রকৃত ভাড়া ভিন্ন হতে পারে। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৩ আগস্টকে আলাদা কোনো ‘ম্যাজিক ডে’ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। বরং আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বরের শুরুর কয়েক সপ্তাহে ভাড়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা বেশি কার্যকর। Fareportal-এর প্রধান সাপ্লাই ও রেভিনিউ কর্মকর্তা যুবরাজ দত্তের মতে, গ্রীষ্মের চাহিদা কমার সময় বিভিন্ন বিকল্প তুলনা করে বুকিং করলে যাত্রীরা ভালো দামের সুযোগ পেতে পারেন। ফ্লাইট বুকিংয়ের সময় নিয়েও প্রচলিত কিছু ধারণা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে যাত্রার ৩০ থেকে ৬০ দিন আগে বুকিং করলে তুলনামূলক ভালো ভাড়া পাওয়ার সুযোগ থাকে। তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনে টিকিট কাটার অপেক্ষা না করে আগে থেকেই বিভিন্ন তারিখের ভাড়া তুলনা করা বেশি কার্যকর হতে পারে। টিকিটের দাম কমানোর জন্য বারবার ব্রাউজারের কুকি মুছে ফেলা বা একই ফ্লাইট বারবার সার্চ করার মতো প্রচলিত কৌশলও খুব একটা কার্যকর নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং ফ্লাইটের ভাড়া কমলে জানানোর জন্য ফেয়ার অ্যালার্ট চালু করা এবং আগে থেকে পাওয়া ট্রাভেল পয়েন্ট বা মাইল ব্যবহার করা সাশ্রয়ের ভালো উপায় হতে পারে। তবে কম ভাড়ার সুযোগ পেলেই দ্রুত বুক করার আগে লাগেজ ফি, সিট নির্বাচন, পরিবর্তন বা বাতিলের নিয়ম এবং অন্যান্য অতিরিক্ত খরচ দেখে নেওয়া জরুরি। কারণ কম মূল্যের টিকিটের সঙ্গে অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত হলে শেষ পর্যন্ত মোট খরচ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হতে পারে। সব মিলিয়ে, গ্রীষ্মের ভ্রমণ মৌসুম শেষ হওয়ার এই সময়টি যাদের সামনে ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের জন্য ভাড়া তুলনা করার ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারে। নির্দিষ্ট একটি দিনকে কেন্দ্র না করে আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত ভাড়ার ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করাই হতে পারে তুলনামূলক কম দামে টিকিট পাওয়ার বাস্তবসম্মত কৌশল।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি এক রেস্টুরেন্টকর্মী গুলিতে নিহত হওয়ার একদিনের মধ্যেই টেনেসিতে সশস্ত্র ডাকাতির সময় গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন আরেক বাংলাদেশি। নিহত ৩৮ বছর বয়সী মহসিন রানা টেনেসির বেলস শহরের একটি গ্যাস স্টেশনের কনভেনিয়েন্স স্টোরে কর্মরত ছিলেন। রোববার, ২৩ আগস্ট ভোররাতে বেলস শহরের ৫০৫৪ হাইওয়ে ৪১২ সাউথে অবস্থিত এক্সন সাফারি কর্নার মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একজন বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে ডাকাতি করার সময় কর্মচারীকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে দোকানে আসা এক ক্রেতা ক্যাশ কাউন্টারের কাছে মহসিনকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে ৯১১-এ ফোন করেন। পুলিশ ও জরুরি সেবার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহসিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা টিবিআই তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোররাতের ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি দোকান থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাকে আটক করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটির তদন্তে ক্রকেট কাউন্টি শেরিফের অফিস, বেলস পুলিশ, টিবিআই, এটিএফ, এফবিআইসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা সংস্থা যুক্ত রয়েছে। নিহত মহসিনের এক স্বজনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বন্দুকধারী প্রথমে ক্যাশ কাউন্টারে থাকা টাকা দাবি করে। মহসিন কোনো ধরনের প্রতিরোধ না করে টাকা তুলে দেন। এরপর সন্দেহভাজন ব্যক্তি সিগারেট চাইলেও মহসিন তার নির্দেশ অনুযায়ী সিগারেট দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বন্দুকধারী তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় বলে স্বজনরা জানান। প্রায় সাত বছর আগে বাংলাদেশের ঢাকার সাভার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন মহসিন রানা। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে বাংলাদেশে থাকেন। দুই সন্তানের একজনের বয়স ১২ বছর এবং অন্যজনের ৫ বছর। এদিকে, একই দিনে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টকর্মী ইউসুফ রাজু। ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকার আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজায় রোববার ভোরে ওই হামলায় রাজু নিহত হন এবং রাসেল নামে ৩৯ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি আহত হন। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ঘটনাটি তদন্ত করছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশিদের গুলিতে হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে টেনেসি ও নিউইয়র্কের দুটি ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাজ্যে সন্তানসহ বিবাহিত দম্পতিদের সামাজিক আবাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার রিচার্ড টাইস। নতুন আবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেছেন, সন্তানদের বিবাহিত বাবা-মায়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা আদর্শ পরিস্থিতি এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া শিশুদের উৎসাহিত করা উচিত। রিফর্ম ইউকের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩৫ বছরের কম বয়সী ব্রিটিশ নাগরিকদের সামাজিক আবাসনের অপেক্ষমাণ তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি সন্তানসহ বিবাহিত দম্পতি, কর্মরত ব্যক্তি ও সাবেক সেনাসদস্যদেরও অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। টাইসকে জিজ্ঞেস করা হলে, সন্তানসহ বিবাহিত ব্রিটিশ দম্পতি একক ব্রিটিশ নাগরিকের চেয়ে সামাজিক আবাসনে অগ্রাধিকার পাবেন কি না, তিনি বলেন, হ্যাঁ। তাঁর যুক্তি, পরিবার সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া শিশুদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন। একক অভিভাবকদের প্রসঙ্গে টাইস বলেন, বাস্তব জীবনে অনেক পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তবে তাঁর মতে, আদর্শ পরিস্থিতিতে সন্তানদের বিবাহিত দম্পতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা বেশি কাম্য এবং এ বিষয়টি উৎসাহিত করা উচিত। রিফর্ম ইউকের এই পরিকল্পনায় ব্রিটিশ নাগরিকদের আবাসনের তালিকায় এগিয়ে রাখার পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার আগের একটি প্রস্তাবও রয়েছে। দলটির দাবি, বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দিলে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার বাড়ি খালি হতে পারে। তবে প্রস্তাবটির তীব্র সমালোচনা করেছে গৃহহীনতা নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা শেল্টার। সংস্থাটির মতে, এমন নীতি বাস্তবায়ন হলে অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় অস্থায়ী আবাসনে আটকে থাকতে পারে। বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের জন্য এটি গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছে। দলটির দাবি, সামাজিক আবাসনের সুযোগ নির্ধারণে আবাসনের প্রয়োজনের পরিবর্তে জাতীয়তা ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিলে আরও বেশি পরিবার গৃহহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এর আগে জুন মাসে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি প্রস্তাব সামনে আনেন। তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে সামাজিক আবাসনে থাকা বিদেশি নাগরিকদের বেসরকারি ভাড়া বাসায় যাওয়ার জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হবে। তা না হলে তাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার হারানো এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়ার কথা বলা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার মুসকোজি শহরের দুই তরুণ প্রাইস জ্যাকসন ও কিরান ইংলিশ শৈশব থেকে তাদের সহপাঠী ম্যাডিসন মুরের পাশে ছিলেন। ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত ম্যাডিসনের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব শুরু হয়েছিল কিন্ডারগার্টেনে। এরপর স্কুলজীবনের প্রায় পুরোটা সময়ই তারা তাকে একা হতে দেননি। ২০২১ সালে তিনজন একসঙ্গে হাইস্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর তাদের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। ম্যাডিসন যখন সাধারণ শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা শুরু করেন, তখন থেকেই প্রাইস ও কিরান নিয়মিত তার খোঁজ রাখতেন। স্কুলের করিডোরে হাঁটার সময় তার সঙ্গে থাকতেন, লাঞ্চে পাশে বসতেন এবং ফিল্ড ট্রিপে তার হাত ধরে বা পাশে থেকে তাকে সঙ্গ দিতেন। তাদের কাছে এসব কোনো দায়িত্ব বা বোঝা ছিল না, ছিল স্বাভাবিক বন্ধুত্বের অংশ। ম্যাডিসনের মা ডেনা ফ্যাবিয়ান-মুরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাইস ও কিরান সবসময় ম্যাডিসনের খোঁজ নিতেন এবং তাকে একা না রাখার চেষ্টা করতেন। তারা তাকে শুধু ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত একজন সহপাঠী হিসেবে দেখেননি, বরং একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেই দেখেছেন। এই বন্ধুত্ব ছিল একতরফা নয়। তৃতীয় শ্রেণিতে খারাপ গ্রেড পাওয়ার পর কিরান একবার কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তখন ম্যাডিসনই তাকে সান্ত্বনা দিয়েছিল। কিরানের কাছে ঘটনাটি এখনও তাদের বন্ধুত্বের বিশেষ স্মৃতি। বছরের পর বছর একসঙ্গে পথ চলতে চলতে প্রাইস ও কিরানের কাছে ম্যাডিসন অনেকটা পরিবারের সদস্য হয়ে ওঠেন। প্রাইস একে বড় ভাইয়ের মতো দায়িত্ব নেওয়া হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ম্যাডিসনের পাশে থাকা তাদের কাছে কোনো বিশেষ কাজ ছিল না, বরং স্বাভাবিকভাবেই বন্ধুত্বের অংশ হয়ে গিয়েছিল। ২০২১ সালে তিনজন একই সঙ্গে হাইস্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। সেই সময় ম্যাডিসনের বাবা কেভিন মুর তাদের তিনজনের ক্যাপ-গাউন পরা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছিলেন, এই দুই তরুণ কিন্ডারগার্টেন থেকে তাঁর মেয়ের পাশে থেকেছেন এবং তার বন্ধু হিসেবে তাকে আগলে রেখেছেন। ছবিটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ তাদের বন্ধুত্বের প্রশংসা করেন। ম্যাডিসনের মা বলেন, ছেলেদের এই আচরণ তাদের কাছে কখনোই বড় কোনো বিষয় ছিল না। তারা স্বাভাবিকভাবেই একে অপরকে ভালোবাসত এবং বন্ধুর পাশে দাঁড়াত। ম্যাডিসনের পরিবার ছোটবেলা থেকেই তাকে সাধারণ শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল। পরিবারের বিশ্বাস ছিল, ভিন্ন সক্ষমতা ও ভিন্ন অভিজ্ঞতার মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়েই শিশুরা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতা শিখতে পারে। একটি গ্র্যাজুয়েশন ছবি তাই শুধু তিন বন্ধুর একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার মুহূর্ত হয়ে থাকেনি। দীর্ঘদিনের এই বন্ধুত্ব দেখিয়েছে, কাউকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সবসময় বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিনের জীবনে পাশে দাঁড়ানো, একসঙ্গে হাঁটা এবং বন্ধুর প্রয়োজনের সময় তাকে একা না রাখার মধ্য দিয়েও সত্যিকারের সহমর্মিতা প্রকাশ পেতে পারে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে নতুন একটি গ্যাসক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ রোববার এ তথ্য জানিয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, নতুন আবিষ্কৃত গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ২১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ঘনমিটার। তবে পুরো মজুত উত্তোলনযোগ্য নয়। আনুমানিক ৭২ শতাংশের বেশি পুনরুদ্ধার হার বিবেচনায় প্রায় ৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন পাকনেজাদ। ইরানের তেলমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, নতুন ক্ষেত্রের গ্যাসকে ‘সুইট গ্যাস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ধরনের গ্যাসে হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো ক্ষতিকর উপাদান তুলনামূলকভাবে কম থাকায় এর উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয় কম হতে পারে। নতুন গ্যাসক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস কনডেনসেটও রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকনেজাদ। তাঁর দাবি, গ্যাস ও কনডেনসেট মিলিয়ে এই আবিষ্কার ইরানের জন্য কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্পদ তৈরি করতে পারে। আবিষ্কৃত উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণের গুরুত্ব বোঝাতে পাকনেজাদ বলেছেন, এটি ইরানের বৃহৎ সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি ধাপের প্রায় ১৫ বছরের উৎপাদনের সমান। ইরানের গ্যাস খাত বর্তমানে নানা চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের কারণে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। যুদ্ধের আগে ইরানের দৈনিক প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ঘনমিটার ছিল, যা বছরে প্রায় ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের সমান। নতুন এই আবিষ্কার ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং ভবিষ্যৎ গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নতুন ক্ষেত্র থেকে বাস্তবে গ্যাস উৎপাদন শুরু হতে সময় লাগতে পারে বলে জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিলেটের টিলাগড়ের তরুণ পংকজ তালুকদার কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই অর্জনের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বন্ধু, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও অভিনন্দন। পংকজ সিলেটের হাতিম আলী উচ্চবিদ্যালয় ও এমসি কলেজে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পরিবারের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পংকজ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পথটি মোটেও সহজ ছিল না। শারীরিক প্রশিক্ষণ, মানসিক প্রস্তুতি এবং বিশেষায়িত সামরিক প্রশিক্ষণের প্রতিটি ধাপেই তাঁকে কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, অনেক দিন ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে দিনের প্রশিক্ষণ শুরু হতো এবং শেষ হতো রাত ৮টা থেকে ৯টার দিকে। দীর্ঘ সময় ঘুম ও বিশ্রামের সুযোগ সীমিত থাকলেও প্রতিদিনই শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও সহনশীলতার পরীক্ষা দিতে হয়েছে। মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণও ছিল অত্যন্ত কঠিন। প্রায় ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় টানা চার দিন জঙ্গলে অবস্থান করতে হয়েছে তাঁকে। প্রচণ্ড গরম, সাপ, পোকামাকড় ও শারীরিক ক্লান্তির মধ্যেও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এম৪ রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর অনুশীলন, জীবন্ত গ্রেনেড নিক্ষেপ, মাইন শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্গম বাধা অতিক্রমের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেছেন পংকজ। প্রায় পাঁচ মাসের কঠোর প্রশিক্ষণে তাঁর ওজন কমেছে ২৬ পাউন্ড। পাশাপাশি প্রায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দৌড়াতে হয়েছে। সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোর একটি ছিল কাঁধে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ পাউন্ড ওজনের ভারী ব্যাগ নিয়ে টানা ১০ মাইল হাঁটা। কখনো মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও এই প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে। শরীর ভিজে গেলেও থেমে যাওয়ার সুযোগ ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি। পংকজ বলেন, অনেক সময় শরীর মনে করত আর পারছে না, আবার মন চাইত একটু বিশ্রাম নিতে। কিন্তু থেমে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তখন নিজেকেই বারবার সাহস দিয়ে আরও একবার চেষ্টা করার মানসিকতা ধরে রাখতে হয়েছে। শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকাও ছিল বড় মানসিক পরীক্ষা। প্রশিক্ষণের সময় মুঠোফোন ব্যবহারের সুযোগ ছিল সীমিত। কখনো মাত্র ৩০ মিনিটের জন্য ফোন হাতে পাওয়ার সুযোগ মিলত। সেই অল্প সময়টুকুতেই পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতো। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সদস্য। নিজের এই যাত্রার দিকে ফিরে তাকিয়ে পংকজ মনে করেন, নির্ঘুম রাত, কঠোর পরিশ্রম, ঘাম ও শারীরিক কষ্টই তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। এই পুরো সময়ে যারা তাঁকে সাহস ও মানসিক শক্তি দিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে পংকজ বলেন, বেসামরিক জীবন থেকে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করে এখন তিনি গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একজন সদস্য।” তিনি আরও বলেন, “এই পথ সহজ ছিল না। কিন্তু প্রতিটি কষ্ট সার্থক হয়েছে। কষ্ট ছিল সাময়িক, গর্ব থাকবে চিরদিন।” সিলেট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রযুক্তি খাতে পেশাজীবন শুরু করার পর কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ পেরিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা হিসেবে পংকজের এই যাত্রা এখন তাঁর পরিচিতজনদের কাছে পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। সূত্র : sylhettoday24
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও কর্মীর বিদায়ের খবর সামনে আসছে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মধ্যে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পর্যায়ে এই পরিবর্তন প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিদায়গুলোর একটি হলো হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের। তিনি আগস্টের শেষ দিকে দায়িত্ব ছাড়ছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিবারকে আরও সময় দেওয়ার জন্য লেভিট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে দায়িত্ব ছাড়ার পরও তিনি ট্রাম্পের বাইরের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন। লেভিটের বিদায়ের পর হোয়াইট হাউসের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার চলে যাওয়ার খবর এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন লেজিসলেটিভ অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর জেমস ব্রেইড, হোয়াইট হাউস কাউন্সেল ডেভিড ওয়ারিংটন এবং ইউএস পারডন অ্যাটর্নি এড মার্টিন। জেমস ব্রেইড কংগ্রেসের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ট্রাম্প তার বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে কংগ্রেসে প্রশাসনের বিভিন্ন আইন পাস করানোর ক্ষেত্রে ব্রেইডের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউস ছাড়বেন। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস কাউন্সেল ডেভিড ওয়ারিংটনও প্রশাসন ছাড়ছেন। তার জায়গায় দীর্ঘদিনের ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সহযোগী উইল শার্ফকে নতুন শীর্ষ আইনজীবী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তন ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে সাম্প্রতিক এই বিদায়গুলোকে শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না কিছু পর্যবেক্ষক। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক তদন্তের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এর পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনমত, প্রশাসনের জনপ্রিয়তা এবং আসন্ন রিপাবলিকান প্রাইমারি নিয়েও হোয়াইট হাউসের ভেতরে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লেভিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ একজন মুখপাত্রের বিদায়ও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনের সবচেয়ে দৃশ্যমান ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন ছিলেন। তার বিদায়ের পর হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনে সাম্প্রতিক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদায়কে ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে—এগুলো কি স্বাভাবিক প্রশাসনিক রদবদল, নাকি মধ্যবর্তী নির্বাচন ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগাম প্রস্তুতি? আগামী কয়েক মাসে আরও কর্মকর্তা হোয়াইট হাউস ছাড়েন কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে কিছু বিদেশি নাগরিককে দেওয়া দুই বছরের কনডিশনাল গ্রিন কার্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম আবারও সামনে এসেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আবেদন না করলে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। কনডিশনাল গ্রিন কার্ড সাধারণত এমন ব্যক্তিদের দেওয়া হয়, যাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি কিছু শর্তের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়া কিছু ব্যক্তি এই দুই বছরের শর্তযুক্ত স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেতে পারেন। এই গ্রিন কার্ডের মেয়াদ সাধারণত দুই বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গ্রিন কার্ডের ওপর থাকা শর্ত তুলে নেওয়ার জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হয়। বিয়ের ভিত্তিতে পাওয়া কনডিশনাল গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম হলো, কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদন করতে হয়। স্বামী-স্ত্রীকে যৌথভাবে আবেদন করার নিয়ম থাকলেও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এককভাবে আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। যেমন—দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, বিবাহবিচ্ছেদ, নির্যাতনের শিকার হওয়া কিংবা অন্য কোনো বিশেষ পরিস্থিতি থাকলে আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই বছরের গ্রিন কার্ড থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আবেদন এবং প্রমাণ জমা দিতে হয়। কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে শর্ত তুলে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। তাই কনডিশনাল গ্রিন কার্ডধারীদের নিজেদের কার্ডের মেয়াদ, আবেদন করার সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগেভাগেই যাচাই করে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সময়সীমা পার হয়ে গেলে অভিবাসন স্ট্যাটাস নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। অর্থাৎ, দুই বছরের কনডিশনাল গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য মূল বিষয় হলো—কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শর্ত তুলে নেওয়ার প্রয়োজনীয় আবেদন সম্পন্ন করা।
মাইগ্রেনে ভোগা মানুষের জন্য নতুন আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে সবুজ আলোভিত্তিক থেরাপি। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট ধরনের সবুজ আলো মাইগ্রেনের সময় মাথাব্যথা ও আলো-সংবেদনশীলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। মাইগ্রেনের অন্যতম সাধারণ উপসর্গ হলো আলো সহ্য করতে না পারা, যাকে ফোটোফোবিয়া বলা হয়। উজ্জ্বল বা নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো অনেকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে সবুজ আলোর ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। এর পেছনে মস্তিষ্ক ও চোখের আলোক-সংবেদনশীল স্নায়ুপথের ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা। আগের গবেষণায় দেখা যায়, নীল, লাল ও অ্যাম্বার আলোর তুলনায় সবুজ আলো মাইগ্রেনের ব্যথাকে কম বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে তুলনামূলক কম প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় সংকীর্ণ-ব্যান্ডের সবুজ আলো ব্যবহার করে মাইগ্রেন রোগীদের কয়েক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশ মাথাব্যথা ও আলো-সংবেদনশীলতা কমার কথা জানিয়েছেন। আরও বড় একটি বাস্তবভিত্তিক পর্যবেক্ষণেও একই ধরনের সম্ভাবনা দেখা যায়। সেখানে ১৪২ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৯১ জনকে সবুজ আলোতে ভালো সাড়া দেওয়া ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নথিভুক্ত মাইগ্রেন আক্রমণের প্রায় ৫৭ শতাংশ ক্ষেত্রে মাথাব্যথা এবং প্রায় ৫৩ শতাংশ ক্ষেত্রে আলো-সংবেদনশীলতা কমার কথা জানানো হয়। এদিকে ২০২৫ সালের একটি প্রাথমিক র্যান্ডমাইজড নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় ৬৯ জন মাইগ্রেন রোগীকে নিয়ে সবুজ আলোসহ বিভিন্ন নন-মেডিকেশন পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় সবুজ আলো ব্যবহার করা গ্রুপে ব্যথার তীব্রতা, মাইগ্রেনের প্রভাব এবং জীবনযাত্রার মানের কিছু সূচকে উন্নতি দেখা যায়। তবে গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের হওয়ায় আরও বড় ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। সবচেয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শুধু সবুজ রঙের আলো নয়, সাধারণ সাদা আলোর মধ্যেও আলোর বর্ণগত উপাদান পরিবর্তন করলে কী প্রভাব পড়ে, তা পরীক্ষা করা। ২০২৬ সালের এক গবেষণায় মাইগ্রেন চলাকালে বিভিন্ন ধরনের সাদা আলো ব্যবহার করে দেখা হয়, কোন বর্ণের আলো রোগীদের জন্য তুলনামূলক বেশি সহনীয়। তবে বিশেষজ্ঞদের জন্যও বিষয়টি এখনো গবেষণাধীন। সবুজ আলোকে মাইগ্রেনের নিশ্চিত চিকিৎসা বা প্রচলিত চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখার সময় এখনো আসেনি। কোন ধরনের আলো, কতটা উজ্জ্বলতা, কতক্ষণ ব্যবহার এবং কোন রোগীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপকার হবে—এসব বিষয়ে আরও গবেষণা দরকার। অর্থাৎ, মাইগ্রেনের চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি আলোভিত্তিক নন-মেডিকেশন পদ্ধতি ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় সহায়ক ব্যবস্থা হতে পারে—আর সবুজ আলো নিয়ে এখন পর্যন্ত পাওয়া গবেষণাগুলো সেই সম্ভাবনাই সামনে আনছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিসা-সংক্রান্ত নির্দেশনা সামনে এসেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশনা মূলত তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যারা হার্ভার্ডে পড়াশোনা শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের ভিসা, ভ্রমণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে না পারলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যোগদান বা একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী এখনো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাননি, তাদের জন্য সময়সীমাটি গুরুত্বপূর্ণ। হার্ভার্ডের এই নির্দেশনা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ও প্রবেশ-সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা এবং নিজেদের ভিসার শর্ত দুটিই ভালোভাবে অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থীর ইতোমধ্যে বৈধ ভিসা রয়েছে, তাদেরও ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এদিকে, হার্ভার্ডে পড়াশোনার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যায়। তাদের জন্য সময়মতো ক্যাম্পাসে পৌঁছানো শুধু ভ্রমণের বিষয় নয়—ক্লাস শুরু, আবাসন, ওরিয়েন্টেশন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গেও এটি সরাসরি যুক্ত। তাই নতুন শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা ও ভ্রমণ নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, হার্ভার্ডে নতুন শিক্ষাবর্ষে যোগ দিতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ভিসা ও ভ্রমণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ২৪ বছর বয়সী লরেন্স গুয়েরগুইস কলেজে পড়ার সময় রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ শুরু করে এখন ৩০টিরও বেশি বাড়ির মালিক হয়েছেন। বর্তমানে তিনি পূর্ণকালীন বাড়িওয়ালা হিসেবে কাজ করছেন এবং তার বেশিরভাগ সম্পত্তি যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট অঞ্চলে। Business Insider-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় গুয়েরগুইসের লক্ষ্য ছিল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ে ক্যারিয়ার গড়া। কিন্তু এক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকারের সঙ্গে কথোপকথনের পর তিনি নিজের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বদলে রিয়েল এস্টেটে মনোযোগ দেন। ২১ বছর বয়সে প্রথম বিনিয়োগের জন্য নিজের গাড়িই বিক্রি করে দেন তিনি। গাড়ি বিক্রি করে পাওয়া ১৬ হাজার ডলারের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ডলার ব্যবহার করেন ইলিনয়ের একটি বাড়ির ডাউন পেমেন্ট হিসেবে। বাকি অর্থ দিয়ে কয়েক মাসের মর্টগেজ খরচ মেটানোর পরিকল্পনা করেন। প্রচলিত ব্যাংক ঋণের বদলে তিনি ডিএসসিআর ঋণ ব্যবহার করেন। এ ধরনের ঋণে ঋণগ্রহীতার ব্যক্তিগত বেতনের চেয়ে সম্পত্তি থেকে প্রত্যাশিত ভাড়া দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব কি না, সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথম বাড়িটির মাসিক পেমেন্ট ছিল প্রায় ৪০০ ডলার, বিপরীতে ওই এলাকায় সরকারি হিসাবের ভাড়া ছিল প্রায় ১ হাজার ৩০০ ডলার। প্রথম বাড়িতে তিনি সেকশন-৮ কর্মসূচির একজন ভাড়াটিয়া পান। সেখান থেকে ভাড়ার আয় আসতে শুরু করার পর রিয়েল এস্টেটকেই নিজের মূল ব্যবসা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়। ২০২৪ সালের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর গুয়েরগুইস ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ওহাইও চলে যান। সেখানে প্রায় দুই বছর থেকে তিনি একের পর এক সম্পত্তি কেনা, সংস্কার এবং ভাড়াটিয়া ব্যবস্থাপনার কাজ নিজেই করেন। শুরুর দিকে তার কাজ ছিল বেশ পরিশ্রমের। বাড়িতে রং করা, মেঝে পরিবর্তন, পুরোনো কার্পেট সরানো থেকে শুরু করে ছোটখাটো প্লাম্বিংয়ের কাজও নিজেই শিখে করতেন। নির্মাণকাজে অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন ভিডিও দেখে বিভিন্ন কাজ শেখার কথাও জানান তিনি। প্রথম দেড় বছর তিনি নিজেই ভাড়াটিয়াদের যাচাই, বাড়ি দেখানো, যোগাযোগ এবং মেরামতের কাজ সামলাতেন। পরে নিজের প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ চালু করেন। এখন মেরামত, বাড়ি দেখানোসহ অনেক কাজ অন্যরা পরিচালনা করায় তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় থেকেও দূর থেকে সম্পত্তিগুলো পরিচালনা করতে পারছেন। Business Insider-এর প্রতিবেদনে গুয়েরগুইস জানান, প্রচলিত অফিসের চাকরির চেয়ে বাড়িওয়ালা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এবং ব্যস্ত জীবনযাপনই তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়। বর্তমানে ৩০টির বেশি সম্পত্তি নিয়ে তার রিয়েল এস্টেট ব্যবসা আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যবস্থাপনানির্ভর ও দূর থেকে পরিচালনাযোগ্য হয়েছে। তবে তার এই সাফল্যের পেছনে শুধু বাড়ির সংখ্যা নয়, ঋণ ব্যবস্থাপনা, সম্পত্তির ভাড়া, সংস্কার খরচ এবং নিয়মিত ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অর্থাৎ ৩০টি বাড়ির মালিক হওয়া মানেই ৩০টি বাড়ির পুরো মূল্য নিজের নগদ অর্থে কেনা—এমন নয়; প্রথম বাড়ি থেকেই তিনি ঋণভিত্তিক বিনিয়োগের মডেল ব্যবহার করেছেন। কলেজে পড়ার সময় একটি গাড়ি বিক্রি করে শুরু করা সেই বিনিয়োগই কয়েক বছরের মধ্যে ৩০টির বেশি সম্পত্তির পোর্টফোলিওতে পরিণত হয়েছে—আর ২৪ বছর বয়সেই রিয়েল এস্টেটকে নিজের পূর্ণকালীন পেশায় পরিণত করেছেন গুয়েরগুইস।
জার্মানিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে চার শ্রেণির বিদেশি নাগরিক বিশেষ সুবিধায় সেটেলমেন্ট পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। দেশটির সরকারি অভিবাসন নির্দেশনায় এসব শ্রেণির জন্য তুলনামূলক সহজ শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন ইইউ ব্লু কার্ডধারী, জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ব্যক্তিরা, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং স্বনিযুক্ত বা ব্যবসায়ী ব্যক্তিরা। সাধারণ নিয়মে জার্মানিতে স্থায়ী সেটেলমেন্ট পারমিটের জন্য কয়েক বছর বৈধভাবে বসবাস, নিজের খরচ চালানোর মতো আয়, পেনশন ব্যবস্থায় অবদান, জার্মান ভাষাজ্ঞান এবং দেশটির আইন ও সমাজ সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞানসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে সাধারণ সময়ের তুলনায় দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। দক্ষ কর্মীদের জন্য সাধারণত যোগ্য রেসিডেন্স পারমিটে তিন বছর থাকার পাশাপাশি পেনশন ব্যবস্থায় অন্তত ৩৬ মাসের অবদান, নির্দিষ্ট চাকরি, আর্থিকভাবে স্বনির্ভরতা এবং জার্মান ভাষায় অন্তত B1 পর্যায়ের দক্ষতা প্রয়োজন। জার্মানিতে পড়াশোনা বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ শেষ করা ব্যক্তিদের জন্যও কিছু ক্ষেত্রে শর্ত সহজ করা হয়েছে। একইভাবে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং স্বনিযুক্ত ব্যক্তিরাও বিশেষ বিধানের আওতায় দ্রুত স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য যোগ্য হতে পারেন। সেটেলমেন্ট পারমিট পেলে জার্মানিতে অনির্দিষ্টকাল বসবাস ও কাজ করার অধিকার পাওয়া যায়। ফলে অস্থায়ী রেসিডেন্স পারমিটের তুলনায় এটি বিদেশিদের জন্য অনেক বেশি স্থিতিশীল অভিবাসন মর্যাদা তৈরি করে। তবে চার শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমিট পাওয়া যায় না। আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি শর্ত, আর্থিক সক্ষমতা, ভাষাজ্ঞান ও অন্যান্য যোগ্যতা কর্তৃপক্ষ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ, জার্মানিতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করতে আগ্রহী বিদেশিদের জন্য দক্ষতা, শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসার ভিত্তিতে স্থায়ী হওয়ার একাধিক পথ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের সবসময় বৈধ গ্রিন কার্ড সঙ্গে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মার্কিন সরকারের প্রকাশিত নির্দেশনায় স্থায়ী বাসিন্দাদের এই আইনি দায়িত্ব আবারও স্পষ্ট করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গ্রিন কার্ড বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার প্রমাণ। তাই গ্রিন কার্ড শুধু বাড়িতে রেখে দিলেই হবে না, প্রয়োজনের সময় প্রদর্শনের জন্য তা নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কার্ডটির মেয়াদ ও বৈধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, সবসময় সঙ্গে রাখার নিয়মও মেনে চলতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ কার্ড সঙ্গে থাকলে তা বৈধ গ্রিন কার্ড বহনের শর্ত পূরণ নাও করতে পারে। এই বিধান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক গ্রিন কার্ডধারীর জন্য প্রযোজ্য। পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্য অ-নাগরিকদের ক্ষেত্রেও নিবন্ধনের প্রমাণ সঙ্গে রাখার নিয়ম রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এর মধ্যে বৈধ অভিবাসন নথি বা কর্মসংস্থান অনুমতিপত্রের মতো নথি থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনের আওতায় থাকা কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সঙ্গে না রাখলে আইনি পরিণতির মুখে পড়তে পারেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার জরিমানা অথবা ৩০ দিন পর্যন্ত কারাদণ্ড, কিংবা দুটিই হতে পারে। তবে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা সাধারণত আগেই নিবন্ধিত হিসেবে বিবেচিত হন। তাই শুধু এই নিয়মের কারণে গ্রিন কার্ডধারীদের আবার নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে—এমন নয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেসব অ-নাগরিক আগে নিবন্ধিত হননি এবং যাদের ৩০ দিন বা তার বেশি সময় থাকার কথা, তাদের ক্ষেত্রে আলাদা নিবন্ধন ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য মূল বিষয় হলো—গ্রিন কার্ডের মেয়াদ ও বৈধতা নিশ্চিত করা এবং কার্ডটি সবসময় নিজের সঙ্গে রাখা।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চলমান বাণিজ্য বিরোধে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে চীন। কানাডার সঙ্গে চীনের বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং উত্তর আমেরিকার বাজারে চীনা পণ্য প্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে চীনে উৎপাদিত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন পণ্য কানাডা বা মেক্সিকোর মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে পারে—এমন আশঙ্কা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পণ্য অন্য দেশে পৌঁছানোর এই প্রক্রিয়াকে ট্রান্সশিপমেন্ট বলা হয়। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, উত্তর আমেরিকার সরবরাহব্যবস্থায় চীনের প্রভাব সীমিত রাখতে কানাডাকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে চীনা ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম যাতে ঘুরপথে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে কানাডার কাছ থেকে বাড়তি নিশ্চয়তা চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে কানাডার দাবি, চীনা ইস্পাত আমদানি নিয়ন্ত্রণে তারা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। যেসব দেশের সঙ্গে কানাডার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই, সেসব দেশ থেকে নির্দিষ্ট কিছু ইস্পাত আমদানিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সীমা ছাড়ালে ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কও আরোপ করা হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াচ্ছে কানাডা। মার্চে চীন কানাডার কয়েকটি কৃষি ও সামুদ্রিক পণ্যের জন্য বাজার আবার খুলে দেয়। এর মধ্যে ক্যানোলা, মটরশুঁটি, লবস্টার ও কাঁকড়াও রয়েছে। এ ছাড়া চীনে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য বছরে ৪৯ হাজার গাড়ির একটি কোটা নির্ধারণ করেছে কানাডা। এসব গাড়ির ওপর আগের ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের পরিবর্তে ৬ দশমিক ১ শতাংশ শুল্কহার প্রযোজ্য হবে। কিছু চীনা ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ওপরও শুল্ক ছাড় বাড়িয়েছে কানাডা। চীন বর্তমানে কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম পণ্য বাণিজ্য অংশীদার। কানাডার ভাষ্য, নতুন বাজার তৈরি ও বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমাতেই তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে। তবে ওয়াশিংটনে এ পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর আমেরিকাকে চীনের প্রভাব থেকে আরও সুরক্ষিত রাখতে চাইছে। ফলে কানাডা যদি বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করে, সেটি যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্কের নতুন বিরোধের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
কানাডার ভিসা ও অভিবাসন আবেদনকে কেন্দ্র করে প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ভুয়া ওয়েবসাইট, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং অনুমোদনহীন প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদনকারীদের কাছ থেকে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতারকেরা অনেক সময় সরকারি ওয়েবসাইট বা কর্মকর্তার পরিচয় নকল করে আবেদনকারীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে। দ্রুত ভিসা করিয়ে দেওয়া, নিশ্চিতভাবে কানাডায় প্রবেশের সুযোগ বা উচ্চ বেতনের চাকরির নিশ্চয়তার মতো প্রলোভনও প্রতারণার অন্যতম লক্ষণ। বিশেষ করে কোনো ওয়েবসাইটে আবেদন ফরম বা গাইড পেতে টাকা চাওয়া হলে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আবেদন ফরম ও নির্দেশিকা তাদের সরকারি ওয়েবসাইটেই বিনামূল্যে পাওয়া যায়। আবেদনকারীদের আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের ঠিকানা যাচাই করতে। সরকারি কানাডীয় ওয়েবসাইট সাধারণত canada.ca অথবা .gc.ca ডোমেইন ব্যবহার করে। তবে শুধু ওয়েবসাইটে তালা চিহ্ন বা নিরাপদ সংযোগ দেখেই সেটিকে বৈধ ধরে নেওয়া উচিত নয়। কর্তৃপক্ষের মতে, কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের দায় আবেদনকারীরই। তাই অনুমোদিত প্রতিনিধি ছাড়া কাউকে গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এ ছাড়া কেউ যদি ভিসা দ্রুত করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা, অস্বাভাবিক কম খরচে অভিবাসনের সুযোগ কিংবা আবেদন অনুমোদনের গ্যারান্টি দেয়, সেটিকে সম্ভাব্য প্রতারণার সংকেত হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছে কানাডার কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কানাডাগামী আবেদনকারীদের জন্য মূল বার্তা হলো—ভিসার নামে কোনো দালাল বা অননুমোদিত ওয়েবসাইটকে টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে অবশ্যই সরকারি সূত্রে তথ্য যাচাই করা।
সমাজের নানা প্রতিকূলতা আর পারিবারিক দায়িত্ব সামলে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে এক অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক জনাব আব্দুর রহমান রাহাদ। নির্ধারিত 'ক্লাস টেস্ট' চলাকালীন এক ছাত্রীর সন্তানকে নিজের কোলে সামলে রেখে তাকে নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার বিবরণ ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দেয়। ঘটনার দিন সকালে নির্ধারিত কুইজ পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে এক ছাত্রী তার কোলের সন্তানকে নিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে আসেন। ছাত্রীটি জানান, পরীক্ষার সময়টুকুতে তার বাচ্চাকে দেখভাল করার মতো কেউ নেই এবং তার স্বামীও অফিসের কাজ থেকে ছুটি পাননি। তাই তিনি পরীক্ষাটি নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে পরে দিতে চান, যাতে বন্ধুদের পরীক্ষা শেষ হলে তাদের কাছে সন্তানকে রেখে তিনি পরীক্ষায় বসতে পারেন। ছাত্রীর এমন অসহায়ত্ব দেখে শিক্ষক উপলব্ধি করেন, আমাদের সমাজে একজন নারীকে সফল হতে গেলে সংসার, সন্তান ও পারিপার্শ্বিক কত শত বাধা অতিক্রম করতে হয়। তিনি চাইলে ছাত্রীকে পরে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিতে পারতেন। কিন্তু শিক্ষকের মনে হয়, এতে ওই ছাত্রীকে একটি ভুল বার্তা দেওয়া হবে। কেবল সন্তানের কারণে তিনি তার সহপাঠীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বেন বা আলাদা হয়ে যাবেন—এমনটা হতে দিতে চাননি তিনি। তাই তিনি ছাত্রীকে জানান, বাচ্চাটি যদি তার কাছে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তবে পরীক্ষা চলাকালীন তিনি নিজেই তাকে সামলাবেন। শিক্ষক হয়ে পরীক্ষার হলে বাচ্চা কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়ে ছাত্রীটি কিছুটা ইতস্তত বোধ করলেও, শিক্ষক তাকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, মানুষ হিসেবে এটি তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। পুরো পরীক্ষা চলাকালীন শিশুটি শিক্ষকের কোলেই ছিল এবং ওই ছাত্রী তার সহপাঠীদের সঙ্গে একই সময়ে বসে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরীক্ষা শেষে কৃতজ্ঞতাপূর্ণ হৃদয়ে ওই ছাত্রী শিক্ষককে ধন্যবাদ জানালে তিনি এক অনুপ্রেরণাদায়ী বার্তা দেন। তিনি বলেন, "মাতৃত্ব কোনো বাধা নয়, বরং এটি জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই নিজের মেধার প্রমাণ দিয়ে আপনি সফলভাবে এগিয়ে যাবেন।
ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করতে পারলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই এই রুটে ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ২৩ আগস্ট সচিবালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, নিউইয়র্কের পাশাপাশি সিডনিতেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ সংকট। বহরে পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ না থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে বিদ্যমান ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সিও বাড়ানো যাচ্ছে না। এই সংকট কাটাতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সই করে আগামী বছর থেকে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে দরপত্র প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় পাঁচটি গন্তব্যে বর্তমানে প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ পাওয়া গেলে এসব রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ বা তিন গুণ করার সুযোগ রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় ২০৩১ সাল থেকে উড়োজাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। তার আগ পর্যন্ত যাত্রীসেবা সচল রাখা এবং নতুন রুটে ফ্লাইট বাড়াতে লিজে উড়োজাহাজ আনার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটির সফট ওপেনিং করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। এর আগে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজ ও চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী হয়রানি কমাতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার ভাষ্য, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমান ও বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে উড়োজাহাজ পর্যন্ত সব জায়গায় পরিচ্ছন্ন ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। ঈশ্বরদী বিমানবন্দর নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজন বিবেচনায় বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে বিমানবন্দরটি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালু হলে সেখানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থাতেও বিমানবন্দরটি ভূমিকা রাখতে পারবে বলে জানান তিনি। নিউইয়র্কের সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবশ্য আইকাও অডিটের ফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও কারিগরি মানের গ্রেড অর্জন করা গেলে আগামী জানুয়ারি থেকে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি যোগাযোগ চালুর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী।
ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সাইরাংয়ে ছয় বছর বয়সী ডেরেক সি. লালছানহিমার মানবিকতার একটি ঘটনা ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। দুর্ঘটনাবশত প্রতিবেশীর একটি মুরগির ছানাকে সাইকেলের নিচে চাপা দেওয়ার পর সেটিকে বাঁচাতে নিজের কাছে থাকা সব টাকা, মাত্র ১০ রুপি, নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যায় শিশুটি। সাইকেল চালানোর সময় হঠাৎ মুরগির ছানাটির ওপর দিয়ে চলে যায় ডেরেকের সাইকেল। বিষয়টি বুঝতে পেরে আহত ছানাটিকে কোলে তুলে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসে সে। এরপর বাবা ধীরাজ ছেত্রীর কাছে ছানাটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। ছেলের এমন অনুরোধে অবাক হলেও বিষয়টি হেসে উড়িয়ে দেননি ধীরাজ। বরং তিনি বলেন, ছানাটিকে হাসপাতালে নেওয়া এতটাই জরুরি মনে হলে ডেরেক নিজেই যেন সেটিকে নিয়ে যায়। বাবার কথা শুনে এক মুহূর্তও দেরি করেনি ডেরেক। নিজের কাছে থাকা একমাত্র ১০ রুপির নোটটি হাতে নেয়। এক হাতে আহত মুরগির ছানা এবং অন্য হাতে নিজের সব সঞ্চয় নিয়ে ছুটে যায় কাছের হাসপাতালে। হাসপাতালে গিয়ে ছানাটিকে বাঁচানোর জন্য সাহায্য চায় শিশুটি। তবে ততক্ষণে মুরগির ছানাটি মারা গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা সেটিকে আর বাঁচাতে পারেননি। হাসপাতালের কর্মীরা ডেরেককে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন। হাসপাতালে মুরগির ছানা ও ১০ রুপির নোট হাতে উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে থাকা ডেরেকের একটি ছবি তোলা হয়। পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি শেয়ার করে সাঙ্গা সেজ নামের এক ব্যক্তি জানান, দুর্ঘটনার পর নিজের সব টাকা নিয়ে ছানাটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল শিশুটি। ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর ডেরেকের এই সরলতা ও প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে সাঙ্গা সেজ ডেরেকের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন। হাসপাতাল থেকে ফিরে ডেরেক কান্নায় ভেঙে পড়ে। তার মনে হয়েছিল, হাসপাতালের লোকজন ছানাটিকে চিকিৎসা না দিয়ে শুধু তার ছবি তুলেছে। পরে সে নাকি বাবাকে জানিয়েছিল, পরেরবার ১০ রুপির বদলে ১০০ রুপি নিয়ে হাসপাতালে যাবে, যাতে চিকিৎসকেরা অবশ্যই ছানাটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ডেরেকের স্কুলও তার সহমর্মিতার স্বীকৃতি দেয়। তাকে প্রশংসাপত্র দেওয়ার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মিজো শাল পরিয়ে সম্মান জানানো হয়। ডেরেকের মানবিকতার বিষয়টি পরে প্রাণীকল্যাণ সংগঠন পেটা ইন্ডিয়ার নজরেও আসে। ২০১৯ সালে সংগঠনটি তাকে ‘সহমর্মী শিশু পুরস্কার’ দেয়। একটি দুর্ঘটনার পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে আহত প্রাণীটিকে বাঁচানোর জন্য নিজের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যাওয়া ডেরেকের এই ঘটনা শিশুদের সহজাত মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।