- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫ ডলারে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে কংগ্রেসে উত্থাপিত নতুন ‘লিভিং ওয়েজ ফর অল অ্যাক্ট’-এ। ২০০৯ সাল থেকে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরিতে কোনো পরিবর্তন না আসার পর এই বিলকে বড় ধরনের মজুরি সংস্কারের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিলটি প্রথমে ২৮ এপ্রিল প্রতিনিধি পরিষদে এবং পরে ২৫ জুন সিনেটে উত্থাপন করা হয়। সিনেটে বিলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি। প্রতিনিধি পরিষদে এর প্রধান উদ্যোক্তা কংগ্রেসওম্যান ডেলিয়া রামিরেজ। বর্তমানে উভয় কক্ষেই বিলটি সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ২৫ ডলারে নেওয়া হবে। প্রতিনিধি পরিষদের সংস্করণে বড় ও বেশি লাভজনক কোম্পানিগুলোকে ২০৩১ সালের মধ্যে এই মজুরি কাঠামোয় যেতে বলা হয়েছে। ছোট ব্যবসাগুলোকে কর্মীদের মজুরি সমন্বয়ের জন্য আরও সময় দিয়ে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। সিনেটের সংস্করণে বড় কোম্পানির জন্য সময়সীমা ২০৩২ এবং অন্যান্য ব্যবসার জন্য ২০৩৯ সাল পর্যন্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, বিলের দুই কক্ষের সংস্করণে সময়সীমায় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলার। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে তা এক ধাপে নয়, কয়েক বছরের মধ্যে বাড়িয়ে ২৫ ডলারে নেওয়া হবে। বিলটিতে ভবিষ্যতে জাতীয় মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি মজুরির দুই-তৃতীয়াংশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি নিয়মিত সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া টিপসনির্ভর কর্মী, তরুণ কর্মী ও প্রতিবন্ধী কর্মীদের জন্য বিদ্যমান কিছু সাবমিনিমাম ওয়েজ বা কম মজুরির ব্যবস্থা ধীরে ধীরে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে বিলটির পথ সহজ নয়। বর্তমানে কংগ্রেসে এটি কমিটির পর্যায়ে রয়েছে এবং এর বাস্তবায়নের জন্য প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে অনুমোদনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন। ফলে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। বিলের সমর্থকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মীদের মজুরি বাড়ানো প্রয়োজন। অন্যদিকে ব্যবসায়িক মহলে ফেডারেল পর্যায়ে এত বড় মজুরি বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ন্যূনতম মজুরি কত হওয়া উচিত, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দিল্লির নিহাল বিহারে চার মাস বয়সি যমজ সন্তানের একজনের শরীরে ওঠা ফোসকায় ওষুধ কে লাগাবেন, তা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হওয়া বিবাদ শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হামলায় গড়িয়েছে। ৩১ বছর বয়সী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বিনয় গুপ্তকে তাঁর স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। বিনয় দিল্লির লক্ষ্মী পার্কের বাসিন্দা ছিলেন এবং নোয়ডায় অ্যাডোবিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে রেখার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের চার মাসের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। বিনয়, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা বাড়ির তৃতীয় তলায় থাকতেন, আর তাঁর বাবা-মা থাকতেন নিচের তলায়। পুলিশ ও বিনয়ের পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, ২২ আগস্ট সকালে শিশুর শরীরে ওঠা ফোসকায় ওষুধ লাগানো নিয়ে বিনয় ও রেখার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর রেখা বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিছু সময় পর তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিনয়ের বাড়িতে আসেন। পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। বিনয়ের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের পক্ষ থেকে মারধর ও গলা চেপে ধরার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে হামলার সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং কার ভূমিকা কী ছিল, তা এখনো তদন্ত করছে পুলিশ। হামলার পর বিনয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশ বিনয়ের স্ত্রী রেখা, তাঁর দুই ভাই রাজু জিন্দাল ও বেদ প্রকাশ জিন্দাল এবং রাজুর স্ত্রী পুণমকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ধারা এবং অভিন্ন উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটনের ৩(৫) ধারায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত, হামলার সময়কার ঘটনাপ্রবাহ এবং প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা যাচাই করছেন। এদিকে বিনয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং পুলিশের তদন্ত ও ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক দল বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের ফলাফলও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একটি শিশুর চিকিৎসা নিয়ে শুরু হওয়া পারিবারিক বিবাদ কীভাবে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে পরিণত হলো, এখন সেটিই খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।
ওয়েলসের পার্লামেন্ট সেনেড নির্বাচনে প্রার্থীদের মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে নতুন আইন অনুমোদন করেছে। ১৭ মার্চ ২০২৬ ভোটের মাধ্যমে পাস হওয়া এই আইনে নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন বিধান তৈরির বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। ‘সেনেড সাইমরু (মেম্বার অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড ইলেকশনস) বিল’ নামে পরিচিত এই আইনটির মূল লক্ষ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি বাড়ানো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার প্রবণতা মোকাবিলা করা। ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আইনের মাধ্যমে ওয়েলশ মন্ত্রীরা সেনেড নির্বাচনের নিয়মে মিথ্যা তথ্য নিষিদ্ধ করার বিধান আনতে বাধ্য থাকবেন। তবে নতুন বিধানটি ২০২৬ সালের মে মাসের সেনেড নির্বাচনে কার্যকর হয়নি। আইনটি পাস হওয়ার সময়ই জানানো হয়েছিল, প্রয়োজনীয় বিধি তৈরি ও পরামর্শ প্রক্রিয়ার কারণে এই ব্যবস্থা ২০৩০ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ওয়েলশ সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বিষয়টি বাস্তবায়নে বিস্তারিত কাজ ও পরামর্শ প্রয়োজন। বর্তমানে ওয়েলসে নির্বাচনী আইনে কোনো প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্র বা আচরণ সম্পর্কে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। নতুন আইনের মাধ্যমে এই কাঠামো আরও বিস্তৃত করার পথ তৈরি হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে মতভেদও রয়েছে। সেনেডের বিভিন্ন কমিটি সতর্ক করেছে, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের সংজ্ঞা স্পষ্ট না হলে নতুন বিধান স্বাধীন মতপ্রকাশ ও নির্বাচনী বিতর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কোন বক্তব্যকে মতামত এবং কোনটিকে মিথ্যা তথ্য হিসেবে গণ্য করা হবে, সেটি নির্ধারণে সতর্কতা প্রয়োজন বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। নতুন আইনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারে ইচ্ছাকৃত প্রতারণা মোকাবিলায় ওয়েলস একটি নতুন কাঠামো তৈরি করছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ, অপরাধের সংজ্ঞা ও সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়গুলো পরবর্তী বিধিমালার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের জুম্মান তপদার যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস আর্মিতে যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণের নতুন এই অর্জনে তাঁর পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। জুম্মান তপদার হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাটরা বিলওয়াই এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার ঐতিহ্যবাহী তপদার বাড়ির মো. বিল্লাল হোসেন তপদার ও শাহনাজ বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। পাঁচ সদস্যের পরিবারে তাঁর দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। বর্তমানে তাঁর পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, উন্নত জীবন ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান জুম্মান। দেশটিতে যাওয়ার পর পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজের পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করে তিনি ইউএস আর্মিতে যোগদানের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পরে তিনি সফলভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। জুম্মানের এই অর্জনে তাঁর মা-বাবা ও স্বজনরা আনন্দিত। স্থানীয়রাও তাঁর সাফল্যকে হাজীগঞ্জ তথা চাঁদপুরের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও নিরাপত্তার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন তরুণের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের এই ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও নতুন প্রজন্মের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র :বাংলা টিভি
লন্ডনের নর্থ অকেন্ডনে প্রস্তাবিত ১৪.৭ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার চালু হলে বছরে ১২ লাখ টনের বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নিঃসরণ হতে পারে বলে পরিকল্পনা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিমাণ নিঃসরণ লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে প্রায় ৮ হাজার ৪৮০টি ফ্লাইটের বার্ষিক কার্বন ফুটপ্রিন্টের সমান। ইস্ট হ্যাভারিং ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস নামে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ইউরোপের অন্যতম বড় ডেটা সেন্টারে পরিণত হতে পারে। ২১৮ হেক্টর গ্রিন বেল্ট জমিতে গড়ে ওঠার কথা রয়েছে এই ক্যাম্পাসের। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়াকরণের অবকাঠামো হিসেবে এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা নথি অনুযায়ী, ডেটা সেন্টারটির সম্ভাব্য ৬০ বছরের আয়ুষ্কালে মোট কার্বন নিঃসরণ ৭ কোটি ২০ লাখ টনেরও বেশি হতে পারে। আর ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হলেও বছরে প্রায় ২৬৫ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে, যা যুক্তরাজ্যের ১০ লাখের বেশি পরিবারের বার্ষিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের কাছাকাছি। প্রকল্পটির জন্য জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বড় ধরনের সংযোগ প্রয়োজন হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৬০০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার সক্ষমতার সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট গ্রিড অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। কার্বন নিঃসরণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা নথিতে প্রকল্পটির কার্বন নিঃসরণ যুক্তরাজ্যের ২০৫০ সালের নেট-জিরো লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩৮ সালের হিসাবে প্রকল্পটির পরিচালনাগত কার্বন নিঃসরণ হ্যাভারিং এলাকার পুরো কার্বন বাজেটের প্রায় ২০ গুণ এবং যুক্তরাজ্যের মোট কার্বন বাজেটের প্রায় ১ শতাংশের সমান হতে পারে। তবে প্রকল্পটির পক্ষে অর্থনৈতিক সুবিধার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ডেভেলপারদের দাবি, ক্যাম্পাসটি স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি হ্যাভারিংয়ের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। প্রকল্পের পরিকল্পনায় ১১৩ হেক্টরের একটি ইকোলজি পার্ক, ইনডোর হর্টিকালচার সুবিধা এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ জায়গার কথাও রয়েছে। হ্যাভারিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পটি এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে স্থানীয় উন্নয়ন আদেশের খসড়া নিয়ে জনমত গ্রহণ করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পরিকল্পনা, পরিবেশগত প্রভাব ও কারিগরি বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বড় ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব স্থাপনার জন্য বিপুল বিদ্যুৎ, জমি ও শীতলীকরণ অবকাঠামোর প্রয়োজন হওয়ায় পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ইস্ট হ্যাভারিং প্রকল্পকে ঘিরে সেই বিতর্কই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ২ দশমিক ৫৭ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক শেষ করেছিলেন আরমান সাইকট। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, এমন ফলাফল নিয়ে উচ্চশিক্ষার বড় সুযোগ পাওয়া কঠিন। কিন্তু সেই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সপেরিমেন্টাল কোয়ান্টাম রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে পূর্ণ অর্থায়নে ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। আরমানের এই অর্জনের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে একাডেমিক ফলাফলের বাইরে গবেষণায় তার দীর্ঘ প্রস্তুতি। স্নাতক শেষ করার পর তিনি প্রায় ১৪ মাস গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এ সময় গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন এবং কোয়ান্টাম বিজ্ঞানে নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ তৈরি করেন। তবে এই সুযোগ একবারে আসেনি। গবেষণার সুযোগ ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য তিনি প্রায় ১০০ জন অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ইমেইল পাঠানো, প্রত্যাখ্যান সামলানো এবং নতুন সুযোগ খুঁজে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পান তিনি। আরমানের যাত্রা দেখাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই একজন শিক্ষার্থীর পুরো ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। গবেষণার অভিজ্ঞতা, নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, শেখার আগ্রহ, মেন্টরশিপ এবং দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দিচ্ছে। সিজিপিএ প্রত্যাশার চেয়ে কম হলেও গবেষণার কাজ, প্রকাশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা দিয়ে নিজের প্রোফাইল শক্তিশালী করার সুযোগ থাকে। আরমান সাইকটের কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এটি এমন শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ, যারা তুলনামূলক কম সিজিপিএর কারণে নিজেদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। তার পথচলা অন্তত এটুকু স্পষ্ট করে, একটি ট্রান্সক্রিপ্ট একজন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনার পুরো গল্প বলে না। লক্ষ্য, গবেষণার দক্ষতা, কৌতূহল এবং বারবার চেষ্টা করার মানসিকতাও ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে বাড়িভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। জুলাই ২০২৬-এ দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া বছরে ১৩ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ম্যানহাটনে সামগ্রিক গড় ভাড়াও সর্বকালের সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৬৫৫ ডলারে পৌঁছেছে। তথ্যগুলো এসেছে দ্য করকোরান গ্রুপের জুলাইয়ের রেন্টাল মার্কেট রিপোর্ট থেকে। করকোরানের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ছিল ৪ হাজার ৮৮ ডলার এবং এক বেডরুমের গড় ভাড়া ৫ হাজার ৪৮৬ ডলার। দুই বেডরুমের ভাড়া বছরে ১৩ শতাংশ এবং তিন বেডরুমের ভাড়া ১২ শতাংশ বেড়েছে। তবে দুই ও তিন বেডরুমের গড় ভাড়া এখনো নিজ নিজ সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় কিছুটা নিচে রয়েছে। শুধু ভাড়া বাড়াই নয়, অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জুলাইয়ে ম্যানহাটনে ভাড়ার জন্য সক্রিয় তালিকাভুক্ত অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ১৯৮টি, যা এক বছর আগের তুলনায় ২২ শতাংশ কম। করকোরানের হিসাবে, ২০১৯ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর কোনো জুলাইয়ে এত কম অ্যাপার্টমেন্টের তালিকা দেখা যায়নি। তবে ম্যানহাটনের ভাড়া নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপ হলো মধ্যম ভাড়া। জুলাইয়ে এই ভাড়া ছিল মাসে ৫ হাজার ২৯৫ ডলার, যা জুনের সমান এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ অতিরিক্ত দামের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টগুলোর প্রভাব বাদ দিলেও সাধারণ ভাড়ার বাজারে চাপ রয়ে গেছে। ভাড়ার এই চাপের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো চাহিদার তুলনায় সীমিত সরবরাহ। জুলাইয়ে ম্যানহাটনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়াটিয়া পেতে গড়ে মাত্র ৩৩ দিন সময় নিয়েছে। এক বছর আগের তুলনায় এই সময়ও কমেছে, যা বাজারে প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র তার একটি ইঙ্গিত। জুনে ম্যানহাটনের ভাড়ার খালি থাকার হার বা ভ্যাকেন্সি রেট ছিল ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জুলাইয়ে তা সামান্য বেড়ে ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ হলেও সরবরাহ এখনো অত্যন্ত সীমিত। একই সময়ে সক্রিয় তালিকার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় ভাড়াটিয়াদের পছন্দের সুযোগও সংকুচিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক ভাড়াটিয়া তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল এলাকায় যাওয়ার কথা ভাবছেন। কেউ কেউ নিউইয়র্কের অন্য বরোতে, আবার কেউ পাশের নিউ জার্সির শহরগুলোতে বাসা খুঁজছেন। তবে ম্যানহাটনের উচ্চ ভাড়ার প্রভাব আশপাশের বাজারেও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। করকোরান বলছে, ম্যানহাটনে চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও নতুন আবাসন সরবরাহ সেই গতিতে বাড়ছে না। জুলাইয়ে নতুন লিজ স্বাক্ষরের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু একই সময়ে সক্রিয় তালিকা ২২ শতাংশ কমেছে। ফলে কম সংখ্যক অ্যাপার্টমেন্টের জন্য বেশি ভাড়াটিয়াকে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। নিউইয়র্কের আবাসন বাজারে এই পরিস্থিতি ভাড়াটিয়াদের জন্য ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কম ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ম্যানহাটনের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় বাসা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে নতুন আবাসন নির্মাণ বাড়ানো এবং সরবরাহের ঘাটতি কমানো নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চাপও বাড়ছে।
পশ্চিম কেনিয়ার প্রত্যন্ত চেপোরোর গ্রামে ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনা পাওয়ার ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সোনা-অনুসন্ধান। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গ্রামটিতে জড়ো হন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তবে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের মতো পর্যাপ্ত সোনার মজুত রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ৩৩ বছর বয়সী মানাসে লোমাচার পেশায় ছাগলপালক। হারিয়ে যাওয়া একটি ছাগল খুঁজতে গিয়ে নদীর তীরে কয়েকজন নারীকে সোনা খুঁজতে দেখেন তিনি। কৌতূহলবশত তাদের সঙ্গে যোগ দেন লোমাচার। সেখানেই প্রায় ৩ গ্রাম সোনা পাওয়ার দাবি করেন তিনি। পরে সেই সোনা ৩৬ হাজার কেনিয়ান শিলিংয়ে বিক্রি করেন লোমাচার, যার মূল্য প্রায় ২৮০ মার্কিন ডলার। তার এই ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সোনা-অনুসন্ধানের ঢল শুধু তার পাওয়া সোনার কারণেই শুরু হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত নয়। ওয়েস্ট পোকট কাউন্টির ডেপুটি কমিশনার স্যামুয়েল কিয়ারির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতে ওই এলাকায় কয়েকজন তরুণ তুলনামূলক বড় পরিমাণের সোনা খুঁজে পান। পরদিন কয়েকজন নারীও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা পাওয়ার দাবি করেন। এরপর মুখে মুখে খবর ছড়িয়ে পড়লে চেপোরোরে মানুষের ঢল নামে। কেনিয়া ও প্রতিবেশী উগান্ডার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সোনার আশায় সেখানে ছুটে আসেন। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, ভিড় একপর্যায়ে প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। পরে সেই সংখ্যা কমে প্রায় আড়াই হাজারে নেমে এলেও খোঁড়াখুঁড়ি এখনো চলছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও চেপোরোরের ওই এলাকায় ছিল ঝোপঝাড় ও পশুচারণের জমি। এখন সেখানে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত, মাটির স্তূপ এবং অস্থায়ী খনিশিবির। অনেকেই কোনো খনির অভিজ্ঞতা ছাড়াই হাতে থাকা সাধারণ সরঞ্জাম নিয়ে মাটির নিচে সোনা খুঁজছেন। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া সোনার পরিমাণ নিয়ে বড় কোনো নিশ্চিত হিসাব পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, কেউ কেউ কয়েকশ কেনিয়ান শিলিং মূল্যের সোনা পেয়েছেন, আবার সর্বোচ্চ প্রায় ৭৮ হাজার শিলিং বা ৬০০ ডলার মূল্যের সোনা পাওয়ার দাবিও রয়েছে। মাটির নিচে আসলে কতটা সোনা আছে এবং তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন লাভজনক হবে কি না, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। চেপোরোর আশপাশের নদীর তীরে স্থানীয় নারীরা বহু বছর ধরেই ছোট পরিসরে সোনা খুঁজে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই কার্যক্রমই এখন বড় আকারের অনানুষ্ঠানিক খনন কার্যক্রমে রূপ নিয়েছে। সোনা খুঁজতে আসা মানুষের ভিড়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতেও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে, খনিস্থলের আশপাশে ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি ছোট ব্যবসা গড়ে উঠেছে। খাবার, পানি, কোমল পানীয়, রুটি, দুধসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে হঠাৎ করে হাজার হাজার মানুষের আগমনে চেপোরোরের সীমিত অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ করে খনিস্থলে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি বাড়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এদিকে সোনা পাওয়ার আশায় অনেকেই মাটির আরও গভীরে গর্ত করছেন। খনন করা মাটি ও পাথর কাছের ওর্তুম শহরে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়ায় কতটা সোনা পাওয়া যায়, তার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে এলাকায় বড় ধরনের খনন কার্যক্রমের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। চেপোরোরের এই আকস্মিক সোনা-উন্মাদনা স্থানীয় মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করেছে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পানি, স্যানিটেশন, নিরাপত্তা ও শিশুদের খননকাজে জড়িয়ে পড়া নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। লোমাচারের আশা, যথাযথ সরকারি সহায়তা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলে স্থানীয় মানুষ নিয়ন্ত্রিতভাবে সোনা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তার বিশ্বাস, আরও অনুসন্ধানে খনিজ সম্পদের সন্ধান মিললে চেপোরোরের দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের বেলস শহরে সশস্ত্র ডাকাতির সময় গুলিতে ৩৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি মহসিন রানা নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে ৫০৫৪ হাইওয়ে ৪১২ সাউথে অবস্থিত এক্সন সাফারি কর্নার মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভোরে এক বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে ডাকাতি করে। এ সময় দোকানের এক কর্মীকে গুলি করা হয়। পরে সন্দেহভাজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ভোর আনুমানিক সাড়ে ২টার দিকে এক ক্রেতা দোকানে ঢুকে গুলিবিদ্ধ কর্মীকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে ক্রকেট কাউন্টি জরুরি সেবা, শেরিফের ডেপুটি ও তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গুরুতর আহত মহসিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মহসিন রানা প্রায় সাত বছর আগে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বলে পরিবার ও পরিচিতজনদের সূত্রে জানা গেছে। তার বাড়ি ঢাকার সাভারে। তিনি টেনেসির ওই গ্যাস স্টেশনের কনভেনিয়েন্স স্টোরে কাজ করতেন। বাংলাদেশে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। তাদের বয়স ১২ ও ৫ বছর বলে জানা গেছে। ঘটনার পর বেলস পুলিশ, ক্রকেট কাউন্টি শেরিফের অফিস, টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, জ্যাকসন পুলিশ, ম্যাডিসন কাউন্টি শেরিফের অফিস, এটিএফ ও এফবিআইসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা ও তদন্তকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে কাজ করেছে। তদন্তকারীরা এখন হামলার পুরো ঘটনা, ডাকাতির ধরন এবং গুলির পেছনের কারণ খতিয়ে দেখছেন। ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখা হয় এবং তদন্তের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। মহসিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর টেনেসিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও পরিচিতজনেরা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সূত্র: আওয়াজ বিডি
ইতালির রাজধানী রোমে বাংলাদেশি এক পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইতালির পুলিশ। গত ২৬ জুন রাতে কাসালোত্তি এলাকার একটি বাসায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন কামাল উদ্দিন বাবুল, তাঁর স্ত্রী আরজু আক্তার এবং তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরিশা। দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আয়ান গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, শাহাদাতের সঙ্গে নিহত আরজুর পূর্বপরিচয় ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত বিরোধসহ একাধিক সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী শাহাদাত বাংলাদেশি নাগরিক। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি পলাতক। তাঁর ছবি প্রকাশ করে ইতালির পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে অবস্থান সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে। দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোমসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনার রাতে কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে, তা নিয়ে তদন্তকারীরা নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য আয়ানের বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। আয়ান পুলিশকে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পরও শাহাদাত কিছু সময় বাসার ভেতরে ছিলেন। পরে আয়ান হামলার শিকার হলে গুরুতর আহত অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। এরপর শাহাদাত পালিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডের আগে শাহাদাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম লা রিপুবলিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার কিছু আগে তিনি এমন একটি বার্তা প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মৃত্যুর কথা উল্লেখ ছিল। পোস্টটির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে শাহাদাতের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ইতালীয় ও বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত বিরোধ, অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনসহ একাধিক সম্ভাব্য কারণের কথা বলা হয়েছে। তবে এসবের কোনটি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। শাহাদাতেরও একই উপজেলার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইতালির পুলিশ এখন শাহাদাতকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: নিউজ ২৪
যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পর্যায়ে থাকা গরুর মাংসের দাম কমাতে আগামী ৯০ দিনের জন্য বিদেশ থেকে অতিরিক্ত মাংস আমদানির পরিকল্পনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর বদলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশটির গরু খামারি ও পশুপালকেরা। এমনকি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেছেন। ট্রাম্প শুক্রবার জানান, আগামী ৯০ দিনে সর্বোচ্চ ৩ লাখ মেট্রিক টন গরুর মাংস যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা যাবে। এই পরিমাণ মাংস নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রমের পর যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়, তা ছাড়াই আমদানির সুযোগ পাবে। ট্রাম্পের দাবি, আমদানি করা এই মাংস বর্তমান বাজারদরের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম দামে মার্কিন ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদেশি মাংস রপ্তানিকারকদের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং তাঁরা ২৫ শতাংশ কম দামে মাংস সরবরাহে সম্মত হয়েছেন। তবে কোন কোন দেশ এই মাংস সরবরাহ করবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করার পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্পের এই উদ্যোগের পেছনে মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। দেশটির গরুর পাল ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দীর্ঘদিনের খরা, খাদ্য ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মেক্সিকো থেকে গবাদিপশু আমদানিতে বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন কারণে সরবরাহ কমেছে। একই সময়ে ভোক্তাদের মধ্যে গরুর মাংসের চাহিদা শক্তিশালী থাকায় দাম আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে গরু ও বাছুরের মাংসের দাম এক বছর আগের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মাটির গরুর মাংসের গড় দামও প্রতি পাউন্ডে প্রায় ৬ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মার্কিন পরিবারের নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় থাকা এই পণ্যটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল। তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও সংশয় রয়েছে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গ্লিন টনসর বলেছেন, ৩ লাখ মেট্রিক টন আমদানি যুক্তরাষ্ট্রে বছরে খাওয়া গরুর মাংসের মাত্র প্রায় ৩ শতাংশের সমান। ফলে এই পরিমাণ আমদানি বাজারদরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক ডেভিড অ্যান্ডারসনও প্রশ্ন তুলেছেন, এত অল্প সময়ে বিদেশি দেশগুলো আদৌ এত বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত মাংস যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে পারবে কি না। অন্যদিকে, দেশটির গরু খামারিরা আশঙ্কা করছেন, সস্তা বিদেশি মাংস বাজারে ঢুকলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গরুর দাম কমে যাবে। এতে বর্তমানে লাভজনক অবস্থায় থাকা খামারিরা নতুন করে গরুর পাল বাড়ানোর উৎসাহ হারাতে পারেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান হিসেবে গরুর সংখ্যা বাড়ানোই বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাটলম্যানস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জাস্টিন টাপার বলেন, আমেরিকান খামারিদের পেছনে রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা যায় না। তাঁর অভিযোগ, এই উদ্যোগ স্থানীয় বাজারকে দুর্বল করতে পারে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ন্যাশনাল ক্যাটলম্যানস বিফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কলিন উডালও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি সমাধানের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যেও আপত্তি দেখা গেছে। নেব্রাস্কার সিনেটর ডেব ফিশার বলেছেন, সবাই বাজারে কম দাম চান, কিন্তু তার জন্য মার্কিন পশুপালকদের ক্ষতির মুখে ফেলা উচিত নয়। তাঁর মতে, বিদেশি গরুর মাংস দিয়ে বাজার ভরিয়ে দিলে স্থানীয় পশুপালন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং গরুর পাল পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। মন্টানার রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহিও ট্রাম্পের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্য সঠিক হলেও বিদেশি মাংস আমদানির এই উদ্যোগ মার্কিন খামারিদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং গরুর পাল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। নেব্রাস্কার আরেক রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটসও সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি মাংস দিয়ে বাজার ভরিয়ে দিলে স্থানীয় কৃষক ও পশুপালকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে কম মানের মাংস বাজারে ঢোকার আশঙ্কা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি খামারিদের ভালোবাসেন এবং তাঁদের কাজের প্রশংসা করেন। তবে তাঁর মতে, গরুর মাংসের দাম কমাতে সাময়িকভাবে কিছু সহায়তা প্রয়োজন। প্রশাসন একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গরুর পাল বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, আমদানি বাড়ানোকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর সময় পর্যন্ত বাজারে সরবরাহের ঘাটতি পূরণ করতে এটি একটি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ। আমদানি করা মাংস মূলত গরুর মাংসের কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন মাংসের অংশ হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ট্রাম্প প্রশাসন কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন গরুর মাংস আমদানির জন্য শুল্কমুক্ত সীমা সাময়িকভাবে বাড়িয়েছিল। এবার ৯০ দিনের জন্য আরও বড় পরিসরে আমদানির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের দাম রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমানোর চাপও প্রশাসনের ওপর রয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম কমানোর স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের কতটা স্বস্তি দেবে এবং স্থানীয় খামারিদের ওপর কতটা চাপ তৈরি করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, ফক্স বিজনেস ও এবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সন্তানদের বাবাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ১০০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এক নারী। মামলার আসামি মিন্ডি ওস্টিন শিশুদের বাবা ক্রিস্টোফার ট্রাভিস জোন্সকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একটি ডে-কেয়ার সেন্টারের বাইরে গুলি করে হত্যা করেন। ওই সময় তাঁদের দুই সন্তান গাড়ির ভেতরে ছিল। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই ফ্লোরিডার স্টার্ক শহরের আন্টি লিলিজ চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের সামনে। ৩৭ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার জোন্স সেদিন তাঁদের দুই সন্তানকে ডে-কেয়ার থেকে নিতে গিয়েছিলেন। সন্তানদের গাড়িতে তোলার পর তিনি চালকের আসনে বসেন। তখন মিন্ডি ওস্টিন একটি ব্যাগ নিয়ে তাঁর কাছে এগিয়ে যান। তদন্তকারীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিজেবি জানিয়েছে, ওস্টিন প্রথমে জোন্স ও শিশুদের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন। এরপর জোন্স সন্তানদের গাড়ির পেছনের আসনে বসিয়ে চালকের আসনে বসার পর ওস্টিন তাঁর ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গাড়ির দিকে গুলি চালান। জোন্স গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গাড়ি থেকে বেরিয়ে ডে-কেয়ার সেন্টারের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রবেশপথের দ্বিতীয় নিরাপত্তা দরজা দিয়ে ঢুকতে না পেরে তিনি দুই দরজার মাঝের জায়গায় আটকা পড়েন। তদন্তকারীদের মতে, সেখানেও ওস্টিন গুলি চালান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জোন্স ওস্টিনের নাম উল্লেখ করে জানান, তিনিই তাঁকে গুলি করেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় জোন্স ও ওস্টিনের দুই সন্তান গাড়ির ভেতর ছিল। ডে-কেয়ার ভবনের ভেতরেও আরও ছয় শিশু ও দুই কর্মী ছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। তবে ঘটনায় কোনো শিশু আহত হয়নি। ঘটনার পর ওস্টিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা, শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা, অস্ত্র রাখা এবং অন্যান্য অভিযোগ আনা হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলেছিলেন, গুলি চালানোর আগে তিনি একটি ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তবে মামলাটি শেষ পর্যন্ত বিচার পর্যন্ত গড়ায়নি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ওস্টিন দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা এবং আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করে সমঝোতাভিত্তিক মামলার নিষ্পত্তিতে রাজি হন। আদালত ওই সমঝোতা গ্রহণ করে তাঁকে বিভিন্ন অভিযোগে ধারাবাহিক সাজা দেন, যার মোট মেয়াদ ১০০ বছর। একই সঙ্গে জোন্সের পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মামলার শুনানিতে জোন্সের পরিবারের সদস্যরা আদালতে বক্তব্য দেন। তাঁর পরিবারের এক সদস্য ফিলিস স্যান্ডস জানান, শুরুতে পরিবার আরও কঠোর শাস্তি চেয়েছিল। তবে ১০০ বছরের সাজায় কার্যত ওস্টিনের জীবনের বাকি সময় কারাগারে কাটানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, জোন্সের দুই সন্তান ওই ঘটনার কারণে গভীরভাবে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে তাদের এমন এক নারী দত্তক নেন, যিনি জোন্সের পরিবারের সদস্য নন। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, বড় হওয়ার পর সন্তানরা একদিন বাবার মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইবে এবং সেই স্মৃতি তাদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। জোন্সের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি সন্তানদের জন্য কাজ করতেন এবং তাদের জীবনে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও পরিবারের বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। মামলাটি শেষ পর্যন্ত ১০০ বছরের কারাদণ্ডে শেষ হলেও ঘটনাটির মূল প্রশ্নগুলো এখনও পরিবারের জন্য গভীর বেদনার বিষয় হয়ে রয়েছে। সন্তানদের নিতে যাওয়া একটি সাধারণ বিকেল কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে প্রাণঘাতী ঘটনায় পরিণত হয়েছিল, সেই স্মৃতি এখন জোন্সের পরিবারের পাশাপাশি তাঁর দুই সন্তানের জীবনেও দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে। সংবাদসূত্র: ডব্লিউসিজেবি, নিউজ৪জ্যাক্স ও ব্র্যাডফোর্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য
দুর্ঘটনার পর জরুরি মুহূর্তে গাড়ির দরজা খুলতে সমস্যা হতে পারে এমন আশঙ্কায় চীনে প্রায় ৩০ লাখ টেসলা গাড়ি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ঘোষিত এই পদক্ষেপটি চীনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গাড়ি প্রত্যাহারের অংশ। টেসলার পাশাপাশি আরও আটটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ৪৩ লাখ গাড়ি এই প্রত্যাহারের আওতায় এসেছে। চীনের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফর মার্কেট রেগুলেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টেসলার প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে প্রায় ২৯ লাখ ৮০ হাজার গাড়ি। এর মধ্যে চীনে তৈরি এবং আমদানি করা মডেল থ্রি, মডেল ওয়াই, মডেল এস ও মডেল এক্স রয়েছে। এই প্রত্যাহার ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। সমস্যাটি মূলত গাড়ির বৈদ্যুতিকভাবে পরিচালিত ও ভাঁজ হয়ে থাকা দরজার হাতল নিয়ে। কোনো গাড়ি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর যদি এর নিম্ন-ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়, তখন জরুরি অবস্থায় দরজা খোলার ব্যবস্থা সহজে খুঁজে পাওয়া বা ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে। এতে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা দ্রুত বের হতে না পারার পাশাপাশি বাইরে থাকা উদ্ধারকারীদেরও ভেতরে পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে। সমস্যা সমাধানে টেসলা ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলোতে সতর্কতামূলক লেবেল লাগাবে। পাশাপাশি দূরবর্তী সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে দুর্ঘটনার পর গাড়ির জানালা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছুটা নিচে নামার ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে দরজা খোলার প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বের হওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। টেসলা আলাদাভাবে চালকের মনোযোগ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়েও আরেকটি প্রত্যাহার ঘোষণা করেছে। চীনে তৈরি প্রায় ২৭ লাখ ৪০ হাজার মডেল থ্রি ও মডেল ওয়াই গাড়িতে সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে চালক গাড়ি চালানোর সময় পর্যাপ্ত মনোযোগ দিচ্ছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। সহায়ক স্টিয়ারিং ও অন্যান্য চালক সহায়তা ব্যবস্থা ব্যবহারের সময় চালক প্রয়োজনমতো নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোই এর উদ্দেশ্য। যেসব গাড়িতে দূরবর্তীভাবে সফটওয়্যার হালনাগাদ করা সম্ভব হবে না, সেসব গাড়ির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্ধারিত সেবা কেন্দ্রে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে টেসলা জানিয়েছে। এই বড় প্রত্যাহার শুধু টেসলাকে ঘিরে নয়। চীনের আরও কয়েকটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান একই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে গাড়ি প্রত্যাহার করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শাওমি, লিপমোটর, এক্সপেং ও গিলি হোল্ডিং রয়েছে। সব মিলিয়ে চীনে প্রায় ৪৩ লাখ গাড়ি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির দরজার নকশা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি বেড়েছে। বিশেষ করে বাইরে থেকে প্রায় সমতল বা ভাঁজ হয়ে থাকা দরজার হাতল নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর গাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলে এ ধরনের দরজা কীভাবে দ্রুত খোলা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চীনা কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে নতুন গাড়িতে পুরোপুরি লুকানো বা প্রত্যাহারযোগ্য দরজার হাতল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। সাম্প্রতিক বড় পরিসরের গাড়ি প্রত্যাহারকে সেই কঠোর নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বড় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার চীনে নিরাপত্তা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর এই কঠোর অবস্থান গাড়ি নির্মাতাদের নকশা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর দরজার মতো সুবিধাগুলো দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের নিরাপদে বের হওয়ার ক্ষেত্রে যেন বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সে বিষয়টিই এখন গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে মে মাসেও টেসলা একাধিক গাড়ি প্রত্যাহার করেছিল। তখন প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার সাইবারট্রাকের চাকার স্টাড আলাদা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রত্যাহার করা হয়। একই সময়ে পেছনের ক্যামেরার ছবি প্রদর্শনে বিলম্বের কারণে মডেল থ্রি, মডেল ওয়াই, মডেল এস ও মডেল এক্স মিলিয়ে ২ লাখ ১৮ হাজারের বেশি গাড়িও প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে এবারের প্রত্যাহারের পরিসর অনেক বড়। চীনের বাজারে টেসলার প্রায় ২৯ লাখ ৮০ হাজার গাড়ি এর আওতায় আসায় এটি দেশটিতে কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় গাড়ি প্রত্যাহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের প্রত্যাহার এখনো ঘোষণা করা হয়নি। দেশটির ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট গাড়ি নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এ ধরনের একই প্রত্যাহারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি। সংবাদসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন মিশরের বেনি সুয়েফের বাহেয়া আলি সুলেইমান। স্বামী দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে অক্ষম হয়ে কাজ করার সামর্থ্য হারানোর পর তিন সন্তানকে নিয়ে সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্মাণশ্রমিকের কাজ থেকে শুরু করে টুকটুক চালানো পর্যন্ত করেছেন তিনি। কিন্তু পুরুষশ্রমিকদের হয়রানি এড়াতে শেষ পর্যন্ত নিজের পরিচয় আড়াল করে পুরুষের পোশাক পরে ‘বাকার’ নামে কাজ করতে শুরু করেন। তবে এই ঘটনা নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালে আবার আলোচনায় এলেও বাহেয়ার এই ঘটনা মূলত ২০১৭ সালে মিশরের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে আসে। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ৩২ বছর। পরবর্তী বছরগুলোতে তাঁর জীবনকাহিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। বাহেয়ার স্বামী দুর্ঘটনার পর চলাফেরা ও কাজের সক্ষমতা হারালে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যায়। তিন সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানোর জন্য তখন বাহেয়াকেই কাজের সন্ধানে বের হতে হয়। প্রথমে তিনি টুকটুক চালাতেন। এরপর নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিন্তু নির্মাণকাজে অধিকাংশ শ্রমিক ছিলেন পুরুষ। বাহেয়া প্রথমদিকে আবায়া ও মাথায় ওড়না পরেই কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এতে পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে হয়রানির শিকার হতে হতো এবং তাঁকে কাজের জায়গায় গুরুত্ব দেওয়া হতো না। পরিস্থিতি থেকে বের হতে তিনি চুল কেটে ফেলেন, পুরুষের পোশাক পরেন এবং ‘বাকার’ নাম গ্রহণ করেন। এরপর কয়েক বছর ধরে তিনি পুরুষ পরিচয়েই নির্মাণকাজ করেন। ইট, বালু ও অন্যান্য ভারী নির্মাণসামগ্রী বহনের মতো কঠিন কাজও করতে হয়েছে তাঁকে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ ছিল না। বাড়তি আয় করতে তিনি টুকটুক চালিয়ে রাত পর্যন্ত কাজ করতেন। কিন্তু এত পরিশ্রমের পরও পরিবারের আর্থিক সংকট কাটছিল না। একপর্যায়ে ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণের চাপ সামলাতে বাহেয়া নিজের একটি কিডনি বিক্রি করেন। এর বিনিময়ে তিনি প্রায় ২৫ হাজার মিশরীয় পাউন্ড পেয়েছিলেন, যা তখন প্রায় ১ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলারের সমান ছিল। কিডনি বিক্রির পর তাঁর শারীরিক অবস্থাও খারাপ হয়ে যায় বলে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন। বাহেয়ার ভাষ্য ছিল, অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি সব সময় দুর্বল বোধ করতেন এবং ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতেও কষ্ট হতো। তারপরও পরিবারের জন্য কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। তাঁর টুকটুকটিও একপর্যায়ে পুলিশ জব্দ করে। বৈধ লাইসেন্স না থাকার কারণে সেটি আটক করা হয়েছিল এবং সেটি ফেরত পেতে প্রায় ৩ হাজার মিশরীয় পাউন্ড জরিমানা দিতে বলা হয়েছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সেই অর্থও জোগাড় করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। বাহেয়ার জীবনকাহিনি ২০১৭ সালে মিশরের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘৯০ মিনিটস’-এ প্রকাশ্যে আসে। অনুষ্ঠানে তিনি নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তাঁর গল্প প্রকাশ্যে আসার পর মিশরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয় এবং তাঁর কঠিন জীবনসংগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সাক্ষাৎকারে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নারীর পোশাকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে তাঁর কখনো ইচ্ছা করে কি না। জবাবে তিনি জানান, নারীদের স্বাভাবিক পোশাকে দেখলে তাঁর কষ্ট হয়। কারণ নিজের পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে তাঁকে এমন এক পরিচয় গ্রহণ করতে হয়েছিল, যা তিনি নিজে বেছে নেননি। তাঁর গল্পের আরেকটি দিক ছিল কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও সুযোগের সংকট। বাহেয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, নারী হিসেবে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে তিনি যে আচরণের মুখোমুখি হয়েছিলেন, পুরুষের পরিচয় নেওয়ার পর সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যায়। ফলে পুরুষ পরিচয় তাঁর কাছে শুধু আয়ের কৌশল নয়, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি থেকে নিজেকে দূরে রাখার একটি উপায়ও হয়ে ওঠে। তবে কিডনি বিক্রির বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে জীবিত অবস্থায় একটি কিডনি বিক্রি করা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাহেয়ার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে যায়। তাঁর ঘটনা তাই শুধু একজন মায়ের ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়, দারিদ্র্য ও ঋণের চাপে মানুষ কতটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে, তারও একটি উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে উসপসুলসহ কিছু ওয়েবসাইটে তাঁর পুরোনো ঘটনা আবার প্রকাশিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনাটিকে ২০২৬ সালের নতুন ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না। বাহেয়ার এই জীবনসংগ্রামের মূল প্রতিবেদন ও টেলিভিশন সাক্ষাৎকার ২০১৭ সালের। বাহেয়া আলি সুলেইমানের গল্প শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া এক নারীর কঠিন বাস্তবতার কথাই সামনে আনে। স্বামীর অক্ষমতার পর সন্তানদের দেখভালের দায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, পুরুষ পরিচয়ে বছরের পর বছর শ্রম এবং শেষ পর্যন্ত নিজের শরীরের একটি অঙ্গ বিক্রি করে ঋণ সামাল দেওয়ার চেষ্টা তাঁর জীবনের গভীর সংকটকে তুলে ধরে। সংবাদসূত্র: মিশরীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘৯০ মিনিটস’
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রিনিটি নদী থেকে দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। নিহতরা হলেন ৪৫ বছর বয়সী লেক্স রিনকন এবং তাঁর ১৮ বছর বয়সী ছোট ভাই কৃষ্ণ রিনকন, যিনি গণেশ নামেও পরিচিত ছিলেন। বুধবার হামবোল্ট কাউন্টির উইলো ক্রিক এলাকার ট্রিনিটি নদীতে তাঁদের মরদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, পানিতে ডুবে তাঁদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের দিন নদীর স্রোতে এক ব্যক্তিকে বিপাকে পড়তে দেখা যাওয়ার খবর পাওয়ার পর পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। পরদিন সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে হামবোল্ট কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা ট্যাগমেয়ার বিচ এলাকায় পৌঁছান। সেখানে নদীর তীরে একটি গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় দেখতে পান তারা। এরপর নদীর পানির পাশাপাশি আশপাশের নদীতীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে পানির ভেতর থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারী দল। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ জানায়, একজন লেক্স রিনকন। তিনি হামবোল্ট কাউন্টির আর্কাটা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং তাঁর বয়স ৪৫ বছর। অপরজন তাঁর ১৮ বছর বয়সী ভাই কৃষ্ণ রিনকন, যিনি নিউইয়র্কে থাকতেন। দুই ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে। আগামী সপ্তাহে তাঁদের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে মৃত্যুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না। ট্রিনিটি নদীর ওই অংশটি স্রোত ও পানির পরিস্থিতির কারণে বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত। নদীতে হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গেলে সাঁতারু বা পানিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে দুই ভাই ঠিক কীভাবে পানিতে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। নিহতদের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিউইয়র্কে বসবাস করেন। ফলে শেষবারের মতো দুই ভাইকে বিদায় জানাতে তাঁদের স্বজনদের হামবোল্ট কাউন্টিতে যেতে হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হঠাৎ করে বিমানের টিকিট কিনতে হওয়ায় যাতায়াতের ব্যয়ও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একটি অনলাইন অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে স্বজনদের ক্যালিফোর্নিয়ায় যাতায়াত, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয় সামাল দিতে সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। লেক্সের বন্ধু গ্রেগরি টেরি তাঁকে স্মরণ করে বলেন, লেক্স ছিলেন অত্যন্ত সদয়, দৃঢ়চেতা, সৃজনশীল ও রসিক একজন মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে জানার সুযোগ পেয়েছেন উল্লেখ করে টেরি বলেন, লেক্সের ছোট ভাই গণেশের সঙ্গেও পরিচিত হতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। দুই ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের পর তাঁদের মৃত্যুর বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রশান্ত মহাসাগরের বিপজ্জনক স্রোতে আটকে পড়া এক শিশুকে সাহায্য করতে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে গুরুতর মেরুদণ্ডের আঘাত পেয়েছেন পাঁচ সন্তানের বাবা জশ কোলেট। ৪২ বছর বয়সী এই ব্যক্তির ঘাড় থেকে শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে। বর্তমানে তাঁর সামনে দীর্ঘ ও অনিশ্চিত চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের পথ। ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার সান ক্লেমেন্টের রিভিয়েরা বিচে। ওই দিন পরিবারের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে সময় কাটাচ্ছিলেন জশ। এ সময় সাত থেকে আট বছর বয়সী এক শিশু রিপ কারেন্ট বা সমুদ্রের শক্তিশালী বিপরীতমুখী স্রোতে আটকে পড়ে বলে জশের বোন হিলারি কোলেট স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিএলএকে জানিয়েছেন। শিশুটিকে বিপদে দেখে তার মা প্রথমে পানিতে নামেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জশও দ্রুত এগিয়ে যান এবং শিশুটিকে সাহায্য করার জন্য সাগরে ঝাঁপ দেন। কিন্তু পানিতে নামার পরপরই তিনি পাথর অথবা পানির নিচে থাকা বালুর উঁচু অংশে আঘাত পান বলে পরিবারের ভাষ্য। আঘাতটি এতটাই গুরুতর ছিল যে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়ার ক্ষমতা হারান। সৈকতে থাকা কয়েকজন দ্রুত তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেন এবং তাঁকে পানি থেকে তীরে নিয়ে আসেন। উদ্ধারের পর জশ তাঁর স্ত্রীকে জানান, তাঁর মনে হচ্ছে ঘাড় ভেঙে গেছে। পরে চিকিৎসকেরা তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা তাঁদের বলেছেন জশের ঘাড় থেকে শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে। তবে যে শিশুটিকে সাহায্য করতে তিনি সাগরে নেমেছিলেন, সেই শিশু নিরাপদে পানি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। জশকে উদ্ধার করে তীরে আনার আগেই শিশুটি নিরাপদে ছিল বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গুরুতর শারীরিক অবস্থার কারণে জশ এখনো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। তবে পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তাঁর কথা বলার ক্ষমতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁর বোন হিলারির ভাষ্য অনুযায়ী, এত বড় দুর্ঘটনার পরও জশ মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছেন। দুর্ঘটনার পর জশের চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পরিবারে। পাঁচ সন্তানের এই বাবার চিকিৎসা, থেরাপি এবং পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে স্বজনেরা অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। পরিবারের তহবিল সংগ্রহের আবেদনে বলা হয়েছে, সামনে জশের সুস্থ হয়ে ওঠার পথ দীর্ঘ এবং সহজ হবে না। তারপরও পরিবার তাঁর অবস্থার উন্নতি নিয়ে আশাবাদী এবং চিকিৎসার প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্যাচের ২১ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত তহবিলে প্রায় ৬৫ হাজার ডলার উঠেছিল, যেখানে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ডলার। জশের দুর্ঘটনাটি আবারও সমুদ্রের রিপ কারেন্টের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। এ ধরনের স্রোত উপকূলের কাছ থেকে দ্রুত পানি সমুদ্রের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। ফলে ভালো সাঁতারুদের জন্যও পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। জশের পরিবার এখন তাঁর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। মেরুদণ্ডের গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর ভবিষ্যৎ শারীরিক সক্ষমতা কেমন হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরিবার বলছে, সামনে দীর্ঘ পথ থাকলেও তারা আশা হারাচ্ছে না। সংবাদসূত্র: কেটিএলএ, নিউইয়র্ক পোস্ট ও প্যাচ
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে তীব্র গরমের মধ্যে মরুভূমিতে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ৭২ বছর বয়সী গ্র্যান্ট সাইলার। প্রায় ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় মাটিতে পড়ে থাকার পর তাঁর শরীরে ভয়াবহ দগ্ধ হওয়ার ক্ষত তৈরি হয়েছে। এখন তাঁর ডান পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হতে পারে। অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে গত ৩ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১০ ফিনিক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইলার সেদিন বাড়ির এলাকা থেকে প্রায় এক মাইল দূরে মরুভূমির দিকে হাঁটতে গিয়েছিলেন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে যান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নিজে উঠে দাঁড়াতে বা সাহায্য চাইতে পারেননি। সাইলারের মেয়ে হিদার ক্রুক জানান, তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বুলহেড সিটিতে বসবাস করছে এবং প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে তারা পরিচিত। ১৯৮৮ সালে তাঁর পরিবার সেখানে চলে আসে। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন তাপমাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ক্রুক বলেন, প্রথমে বাবার পড়ে যাওয়ার খবর শুনে তাঁর মনে হয়েছিল, এত গরমের মধ্যে তিনি বাইরে হাঁটতে গেলেন কেন। কিন্তু পরে তাঁর অবস্থার ভয়াবহতা জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সাইলারকে শেষ পর্যন্ত এক পথচারী নারী দেখতে পান। তিনি মাটিতে পড়ে থাকা সাইলারের শরীরে পানি ঢালেন এবং তাঁকে জ্ঞান ফেরাতে সাহায্য করেন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তাঁর বাড়ির ঠিকানা জেনে জরুরি সেবায় খবর দেন। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় সাইলার প্রচণ্ড কাঁপছিলেন। তাঁর শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল বলে তাঁর পরিবারের ভাষ্য। তাঁকে দ্রুত লাস ভেগাসের একটি দগ্ধ রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় উত্তপ্ত মাটির ওপর পড়ে থাকার কারণে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাত্রার দগ্ধ হওয়ার ক্ষত তৈরি হয়েছে। তিনি একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা-সংক্রান্ত জটিলতারও মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর ডান পায়ের টিস্যু এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তা আর স্বাভাবিকভাবে সেরে ওঠার সম্ভাবনা নেই বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। এ কারণে আগামী ৩১ আগস্ট তাঁর ডান পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলার অস্ত্রোপচার করার কথা রয়েছে। এরপর তাঁকে দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম পা, চলাফেরার সহায়ক সরঞ্জাম এবং বাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মতো বিষয়ও পরিবারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইলারের মেয়ে ক্রুক পেশায় একজন নার্স। তিনি বাবাকে অত্যন্ত শক্ত ও স্বনির্ভর মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সাধারণত সামান্য আঘাত পেলেও সাইলার চিকিৎসা বা অন্যের সহায়তা নিতে চাইতেন না। ক্রুক জানান, মাত্র নয় মাস আগেও তাঁর বাবা তাঁর বাড়ির পেছনে একটি দেয়াল নিজেই পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। তখন প্রায় ৮০ পাউন্ড ওজনের একটি কংক্রিটের ব্লক তাঁর পায়ের ওপর পড়ে গেলেও তিনি ব্যথানাশক ওষুধও নিতে চাননি। সেই মানুষটিই এখন তীব্র ব্যথায় কাতরাচ্ছেন বলে জানান তাঁর মেয়ে। ফক্স ১০-কে ক্রুক বলেন, তাঁর বাবা এমন মানুষ, যিনি সাধারণত পড়ে গেলে উঠে দাঁড়িয়ে আবার কাজ শুরু করার চেষ্টা করেন। তাই তাঁকে এবার এতটা কষ্টে দেখতে পাওয়া পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার পর শুধু চিকিৎসাজনিত সংকট নয়, আর্থিক চাপও তৈরি হয়েছে পরিবারের ওপর। সাইলারের স্ত্রী ভিকি প্রতিদিন নেভাদার হাসপাতালে স্বামীকে দেখতে যান। এ জন্য তাঁকে প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা যাতায়াত করতে হচ্ছে। পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় সামাল দিতে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬ হাজার ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সামনে আরও বড় ব্যয়ের আশঙ্কা করছে পরিবার। বাড়িতে হুইলচেয়ার চলাচলের উপযোগী পরিবর্তন, কৃত্রিম পা, বিশেষ চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের খরচ এর মধ্যে রয়েছে। অ্যারিজোনার মরুভূমি অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় সরাসরি উত্তপ্ত মাটির সংস্পর্শে থাকা শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাইলারের ঘটনা সেই ঝুঁকিরই একটি ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে। বর্তমানে সাইলার লাস ভেগাসের দগ্ধ রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। তাঁর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট নির্ধারিত অস্ত্রোপচারের পর তাঁর সুস্থতা ও পুনর্বাসনের দীর্ঘ পথ শুরু হবে। সংবাদসূত্র: ফক্স ১০ ফিনিক্স
ব্রাজিলে ১২ বছর বয়সী কিশোরীর পরিচয় দিয়ে একটি পরিবারের সঙ্গে ১৪ মাস বসবাস করার ঘটনায় আমান্ডা মারিয়া সুজা দে অলিভেইরাকে প্রতারণা ও মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। বাস্তবে তাঁর বয়স ৩৮ বছর। সান্তা কাতারিনা অঙ্গরাজ্যের জইনভিলে একটি পরিবার তাঁকে নিজেদের সন্তান হিসেবে আশ্রয় দেওয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। সান্তা কাতারিনার আদালতের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অলিভেইরা একটি কাল্পনিক পরিচয় তৈরি করে নিজেকে ১২ বছর বয়সী শিশু হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি পালিয়ে এসেছেন। তাঁর এই বক্তব্য বিশ্বাস করে পরিবারটি তাঁকে নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দেয় এবং প্রায় ১৪ মাস তাঁকে পরিবারের সদস্য হিসেবেই দেখাশোনা করে। তদন্তে উঠে এসেছে, অলিভেইরা ‘গাব্রিয়েলে’ নাম ব্যবহার করতেন এবং শিশুসুলভ কণ্ঠে কথা বলতেন। নিজের প্রাপ্তবয়স্ক চেহারা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি দাবি করতেন, শৈশবে তাঁকে জোর করে হরমোন দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নিজেকে অটিজমে আক্রান্ত এবং নির্যাতনের শিকার শিশু হিসেবেও উপস্থাপন করেছিলেন। এসব তথ্য ব্যবহার করে তিনি পরিবারের সহানুভূতি অর্জন করেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। পরিবারটি তাঁর গল্প বিশ্বাস করে তাঁকে নিজেদের মেয়ের মতো করে নেয়। তাঁকে আলাদা ঘর দেওয়া হয় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানো হতো। এমনকি তাঁর কথিত ১২তম জন্মদিনও উদ্যাপন করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে একপর্যায়ে পরিবারের এক আত্মীয়ের সন্দেহ হয়। তিনি ইন্টারনেটে খোঁজ করে অলিভেইরার সঙ্গে মিল রয়েছে এমন আগের কয়েকটি ঘটনার তথ্য খুঁজে পান। এরপর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অলিভেইরার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের পরিচয় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগের ইতিহাস রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অলিভেইরা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে শিশু পরিচয় ব্যবহার করেছেন। তবে তাঁর আইনজীবীদের দাবি, এই আচরণের উদ্দেশ্য ছিল কারও কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া নয়। বরং দীর্ঘদিনের অনিশ্চিত জীবন ও রাস্তায় থাকার অভিজ্ঞতা থেকে বেঁচে থাকার একটি উপায় হিসেবে তিনি এমন পরিচয় তৈরি করেছিলেন। আদালতে অলিভেইরা বলেছেন, তিনি মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং মিথ্যা বলেছেন, তবে কাউকে প্রতারণা করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শৈশবে যে ভালোবাসা ও যত্ন তিনি পাননি, সেটি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি পরিবারের সান্নিধ্য খুঁজেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে তিনি পরিবারটির কাছ থেকে আশ্রয়, যত্ন ও বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছেন। তদন্তে তাঁর ব্যবহৃত মিথ্যা পরিচয়, বিভিন্ন বক্তব্য এবং আগের ঘটনাগুলোর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ব্রাজিলের আদালত শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতারণা এবং মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। রায়ে অলিভেইরাকে প্রতারণার দায়ে এক বছর ছয় মাস ১০ দিনের কারাদণ্ড এবং মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে আরও চার মাস ১৮ দিনের সাজা দেওয়া হয়েছে। উভয় সাজাই প্রাথমিকভাবে আধা-খোলা কারা ব্যবস্থায় ভোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে মামলার বিচার চলাকালে অলিভেইরার মানসিক সক্ষমতা নিয়েও পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর দীর্ঘদিনের মানসিক ও সামাজিক সংকট রয়েছে এবং বিষয়টি মামলায় বিবেচনা করা প্রয়োজন। আদালতের প্রক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়। অলিভেইরার আইনজীবী লুসিও সুজা রায়ের পর জানিয়েছেন, তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিলসহ আইনগতভাবে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেবেন। তাঁর ভাষ্য, অলিভেইরার বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং তাঁর কর্মকাণ্ডকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত। এই ঘটনা ব্রাজিলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে শিশু হিসেবে উপস্থাপন করে একটি পরিবারের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে মামলাটি সহানুভূতি, পরিচয় যাচাই এবং দুর্বল অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অলিভেইরার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের ঘটনার তদন্ত বা মামলা থাকার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এসব ঘটনার সবগুলোতে আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। বর্তমান মামলায় সান্তা কাতারিনার আদালত তাঁকে প্রতারণা ও মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। সংবাদসূত্র: ফক্স নিউজ, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে দুই মাস বয়সী এক শিশুকে ডায়াপার পরিবর্তনের সময় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে লুথেরান চার্চের এক ভিকারিয়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জোসায়াহ জাঙ্কিন। ২৭ বছর বয়সী জাঙ্কিন ফোর্ট ওয়েন শহরের একটি লুথেরান চার্চে ভিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে তিনি অ্যালেন কাউন্টি কারাগারে আটক আছেন। জাঙ্কিনের বিরুদ্ধে একটি শিশু যৌন নির্যাতনের মামলা করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউপিটিএ ও ডব্লিউকেআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের একটি ঘটনার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। এক নারী পুলিশকে জানান, জাঙ্কিন নিজেই তাঁকে বলেছিলেন যে তিনি শিশুটিকে ডায়াপার পরিবর্তনের সময় নির্যাতন করেছিলেন। পরে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের সময়ও জাঙ্কিন একই শিশুকে একাধিকবার নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির কাছে জাঙ্কিন অন্তত চারবার শিশুটিকে নির্যাতনের কথা বলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানার পর ওই ব্যক্তি মিশিগানের কর্তৃপক্ষকে জানান। অন্যদিকে, শিশুটির বিষয়ে পাওয়া তথ্য এক নারী ইন্ডিয়ানার শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছেও জানান। ঘটনাটি নিয়ে মিশিগানেও তদন্ত হয়েছে। তদন্তকারী এক গোয়েন্দা জানিয়েছেন, জাঙ্কিন ফোর্ট ওয়েনে শিশুটিকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এদিকে ইন্ডিয়ানায় তদন্তকারীরা অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন এবং আদালতের নথিতে থাকা তথ্য সংগ্রহ করেন। তদন্তের সময় পুলিশ এমন একটি ব্যক্তিগত ডায়েরির ছবিও পায়, যেটি যৌন আসক্তি থেকে মুক্তির একটি কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ডায়েরিতে জাঙ্কিন তাঁর যৌন আচরণকে গ্রেপ্তারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে চিহ্নিত করেছিলেন। সেখানে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণসংক্রান্ত কল্পনার কথাও লেখা ছিল বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ জাঙ্কিনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি। তবে তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি নিজে আত্মসমর্পণ করবেন। পরে ২০ আগস্ট তাঁকে অ্যালেন কাউন্টি কারাগারে আটক করা হয়। কারাগারের নথিতেও তাঁর বিরুদ্ধে শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। জাঙ্কিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত ইন্ডিয়ানা ও মিশিগান উভয় অঙ্গরাজ্যেই চলছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর আগে তিনি লুথেরান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিভিন্ন দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন। লুথেরান চার্চের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তিনি উইসকনসিনের একটি লুথেরান চার্চে ভিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং একটি নতুন চার্চ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগেও কাজ করেছিলেন। বর্তমান মামলায় অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ২০২৪ সালে ফোর্ট ওয়েনে দুই মাস বয়সী শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা। তদন্তকারীরা জাঙ্কিনের কথিত স্বীকারোক্তি, ব্যক্তিগত নথি এবং বিভিন্ন ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন। মামলার পরবর্তী ধাপে আদালতে এসব তথ্য ও প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জাঙ্কিনের বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগ, তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সংবাদসূত্র: ডব্লিউপিটিএ, ডব্লিউকেআরসি, ২১অ্যালাইভ নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি উদ্যোগ আদালতে বড় ধাক্কা খেয়েছে। ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার প্রশাসনিক নীতি বাতিল করে দিয়েছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার, ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের জেলা জজ জেনেট ভার্গাস এই রায় দেন। রায়ের ফলে আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়ায় জাতীয়তার ভিত্তিতে আর ওই সামগ্রিক স্থগিতাদেশ প্রয়োগ করা যাবে না। আদালত বলেছে, কেবল কোনো ব্যক্তির জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন ভিসা আটকে দেওয়ার এই নীতি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এই নীতি কার্যকর করেছিলেন। জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই নীতি চালু করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, নির্দিষ্ট ৭৫টি দেশের সম্ভাব্য অভিবাসীদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। সে কারণে এসব দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। তবে আদালত মনে করেছে, অভিবাসন ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একজন আবেদনকারী সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা তাঁর জাতীয়তার ভিত্তিতে একযোগে ধরে নেওয়া আইনসম্মত নয়। জজ ভার্গাস তাঁর রায়ে বলেন, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কংগ্রেসের নির্ধারিত আইনি কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আদালতের মতে, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের অধীনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদেরই ব্যক্তিভিত্তিকভাবে ভিসা আবেদনের যোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ রয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, বসনিয়া, আলবেনিয়া, আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া ও সোমালিয়ার মতো দেশও রয়েছে। বাংলাদেশের জন্যও এই সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া স্থগিতাদেশের আওতায় বাংলাদেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াও পড়েছিল। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক বা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য আদালতের রায়টি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে ভিসা পাওয়ার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হবে। এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুটি অলাভজনক সংগঠন এবং ১১ জন ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের পরিবারের সদস্যদের ভিসা আবেদন স্থগিত বা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। অন্যরা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। মামলাকারীদের মধ্যে ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারও ছিল। মামলাকারীরা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক আনা গ্যালাঘার বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভিসা স্থগিতের কারণে আলাদা হয়ে থাকা কিছু পরিবার আবার তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারও রায়টিকে আইনের শাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছিল যে সম্ভাব্য অভিবাসীদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাঁদের প্রবেশ সীমিত করা প্রয়োজন। পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে জানিয়েছিল, সরকারি সম্পদের ওপর সম্ভাব্য চাপ কমানো এবং আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করাই এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। কর্মকর্তারা এমন তথ্যও তুলে ধরেছিলেন যে নির্দিষ্ট দেশগুলোর অভিবাসী-অধ্যুষিত ৩০ শতাংশের বেশি পরিবার কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে। তবে আদালতের মূল আপত্তি ছিল, এই পরিসংখ্যান ব্যবহার করে একটি দেশের সব নাগরিককে একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা যায় কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভিসার যোগ্যতা ব্যক্তির নিজস্ব আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করার আইনি কাঠামো রয়েছে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর আগে জুনে আরেকটি ফেডারেল আদালত এমন একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ আটকে দেয়, যার মাধ্যমে অভিবাসীদের আশ্রয়, কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত কিছু সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি, ঠিক কত দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে। প্রশাসন চাইলে উচ্চ আদালতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি আবারও উচ্চতর আদালতের বিবেচনায় যেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের অভিবাসন নীতিতে ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন আইনি লড়াই শুরু হতে পারে। আদালতের বর্তমান রায়ে মূলত জাতীয়তার ভিত্তিতে আরোপ করা সামগ্রিক স্থগিতাদেশ বাতিল হয়েছে। যেসব ভিসা প্রত্যাখ্যান শুধুমাত্র ওই নীতির ভিত্তিতে করা হয়েছিল, সেগুলোও পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে। ফলে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অভিবাসনের প্রক্রিয়া আবার ব্যক্তিভিত্তিক মূল্যায়নের দিকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংবাদসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ