সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে ছয়জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়ান।   নতুন চার মন্ত্রী হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রশিদুজ্জামান মিল্লাত। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।   এর আগে সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের একই দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।   আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আন্দালিভ রহমান পার্থ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।   বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। অন্যদিকে রশিদুজ্জামান মিল্লাত জামালপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এর আগে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।   প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য। হুমায়ুন কবির এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   নতুন ছয় সদস্যের শপথের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় আরও বিস্তৃতি ঘটল। তাদের দায়িত্ব বণ্টন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে নতুন করে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১২:৭
ইসরাইলপন্থি মেলিসাকে হারিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে আয়েশা ওয়াহাব
ইসরাইলপন্থি মেলিসাকে হারিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে আয়েশা ওয়াহাব

ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের বিশেষ নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আয়েশা ওয়াহাব। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। এরিক সোয়ালওয়েল পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া আসনটি পূরণ করতে এই বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।    মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটের ফল বৃহস্পতিবার রাতে স্পষ্ট হওয়ার পর ওয়াহাবের জয় নিশ্চিত হয়। চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী তিনি ৫৩.১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট মেলিসা হার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৬.৯ শতাংশ। আলামেডা কাউন্টির ফলাফলেও ওয়াহাবের ৫৩.০৯ শতাংশ এবং হার্নান্দেজের ৪৬.৯১ শতাংশ ভোট পাওয়ার তথ্য রয়েছে।   সোয়ালওয়েল চলতি বছরের এপ্রিলে যৌন অসদাচরণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগের মধ্যে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার পদত্যাগের পর ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্ট বে এলাকার এই আসনটি শূন্য হয়ে যায়।    ওয়াহাবের জয় শুধু একটি আসন পূরণের ঘটনা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের আফগান-আমেরিকান সম্প্রদায়ের জন্যও এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এর আগে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম ও প্রথম আফগান-আমেরিকান সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন। এবার সেই পথ পেরিয়ে তিনি ফেডারেল পর্যায়ে কংগ্রেসে জায়গা করে নিলেন।    বিশেষ নির্বাচনের প্রচারণায় ওয়াহাব প্রগ্রেসিভ ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচিত অবস্থান ধরে রাখেন। আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার খরচ এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ তার প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানও নির্বাচনী লড়াইয়ে আলোচনায় আসে।    অন্যদিকে হার্নান্দেজ তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থি ডেমোক্র্যাট হিসেবে প্রচারণা চালান। নির্বাচনী লড়াইয়ে তার পক্ষে বাইরের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। এআইপিএসি-সংশ্লিষ্ট একটি সুপার প্যাক ওয়াহাবকে আক্রমণ করে বিজ্ঞাপনে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    আয়েশা ওয়াহাব তার জয়ের পর প্রচারণায় বিপুল বাইরের অর্থের প্রবাহ ও তার বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে ভোটারদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এসবের মধ্যেও তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ তাকে সমর্থন করেছেন।   তবে এই জয় ওয়াহাবের জন্য আপাতত পূর্ণ মেয়াদের কংগ্রেস সদস্যপদ নিশ্চিত করছে না। বিশেষ নির্বাচনে তিনি সোয়ালওয়েলের অবশিষ্ট মেয়াদ পূরণ করবেন, যা জানুয়ারিতে শেষ হবে। এরপর ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে একই আসনের পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদের জন্য আবারও ওয়াহাব ও হার্নান্দেজ মুখোমুখি হবেন।    হার্নান্দেজ ইতোমধ্যে নভেম্বরের লড়াই নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নতুন করে নির্ধারিত ১৪তম ডিস্ট্রিক্টের সীমানায় প্রায় ২৬ হাজার নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আশা করছেন, নিজের সাবেক মেয়র এলাকা ডাবলিন থেকে আরও সমর্থন আদায় করতে পারবেন।   ফলে বিশেষ নির্বাচনে ইতিহাস গড়ার পর ওয়াহাবের সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জয় পেলে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার এই ডেমোক্র্যাট-প্রধান আসন থেকে পূর্ণ দুই বছরের জন্য কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১১:৫১
ভারী বৃষ্টিতে নিউইয়র্কের রাস্তায় বন্যা, পানিতে আটকে পড়ে যানবাহন ও যাত্রী
ভারী বৃষ্টিতে নিউইয়র্কের রাস্তায় বন্যা, পানিতে আটকে পড়ে যানবাহন ও যাত্রী

নিউইয়র্ক সিটিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ে বিভিন্ন সড়ক মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়। কুইন্স ও ব্রুকলিনের কয়েকটি এলাকায় রাস্তাগুলো কার্যত নদীর মতো হয়ে পড়ে, যানবাহন আটকে যায় এবং জনজীবনে ব্যাপক ভোগান্তি দেখা দেয়। লং আইল্যান্ডে কোথাও কোথাও প্রায় ৩ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।  কুইন্সে বন্যার পানির কারণে লং আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়ের দুই দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ব্রুকলিনের বুশউইকসহ কয়েকটি এলাকায় অতিরিক্ত পানিতে স্টর্ম ড্রেনেজ ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়ে। কিছু স্থানে পানির উচ্চতা এতটাই বেড়ে যায় যে চালকদের গাড়ির ছাদে উঠে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।  নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট আগেই সতর্ক করেছিল, শক্তিশালী বজ্রঝড়ে অল্প সময়ে প্রতি ঘণ্টায় ১ থেকে ২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার জন্য শহর ও আশপাশের এলাকাকে অতিবৃষ্টিজনিত বন্যার মাঝারি ঝুঁকিতে রাখা হয়েছিল। পরে নগর কর্তৃপক্ষ ফ্ল্যাশ ফ্লাড ওয়ার্নিং জারি হওয়ার কথা জানায়।  বন্যার কারণে নিউইয়র্কের বিভিন্ন সড়কে যানজট ও বন্ধের পাশাপাশি সাবওয়ে সার্ভিসেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি জরুরি সতর্কতায় একাধিক এমটিএ ট্রেনে দেরি ও সার্ভিস পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। জ্যাকি রবিনসন পার্কওয়েতেও বন্যার পানির কারণে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়।  শুধু নিউইয়র্ক সিটিই নয়, নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির আরও কয়েকটি এলাকায়ও প্রবল বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। নিউ জার্সির জার্সি সিটিতে বন্যার পানিতে আটকে পড়া ৬৯ জনকে জরুরি উদ্ধারকারী দল ইনফ্ল্যাটেবল রাফট ব্যবহার করে উদ্ধার করে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।  লং আইল্যান্ডের আটলান্টিক বিচ এলাকায় ঝড়ে একটি সম্ভাব্য টর্নেডোর আঘাতে সান অ্যান্ড সার্ফ বিচ ক্লাবের ব্যাপক ক্ষতি হয়। নাসাউ কাউন্টি পরে ওই এলাকায় স্টেট অব ইমার্জেন্সি ঘোষণা করে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি এবং গুরুতর আহতের ঘটনাও জানানো হয়নি।  ঝড়ের আগেই নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বিশেষ করে বেসমেন্ট অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে বলেছিল। নগর কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্যার পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং পানির নিচে রাস্তার গর্ত, ধ্বংসাবশেষ বা বৈদ্যুতিক ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো, হাঁটা বা সাইকেল চালানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।  আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি নিউইয়র্কে হঠাৎ ভারী বৃষ্টির সময় নগর বন্যার ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনেছে। শহরের সরকারি তথ্যমতে, ভারী বৃষ্টির সময় স্বল্প সময়ের মধ্যেই নিচু এলাকা, দুর্বল ড্রেনেজের রাস্তা ও আন্ডারপাসে পানি জমে যেতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১১:২৪
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ইসরাত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ইসরাত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজে পড়াশোনা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন ইসরাত জাহান। ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে শুরু হওয়া তাঁর শিক্ষাজীবনের পথ পেরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ পর্যন্ত। সেখানে পূর্ণ তহবিলের সহায়তায় স্নাতকোত্তর শেষ করার পর তিনি পিএইচডির জন্য ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনে ভর্তি হন এবং মেমফিসে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতাও করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যেও তাঁর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এবং পরবর্তী সময়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইসরাত। সুযোগ না পেয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন বলে নিজেকে কখনো পিছিয়ে থাকা মনে করেননি। বরং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছেন।   শিক্ষাজীবনের শুরুটাও তাঁর জন্য খুব সহজ ছিল না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পড়াশোনায় দীর্ঘ সেশনজটের কারণে ২০১০ সালে শুরু করা স্নাতক পড়াশোনার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে তাঁকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে বিদেশে উচ্চশিক্ষার কথা ভাবেন তিনি।   তখন ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করলেও ইংরেজিতে কথা বলা ও অনেক বিষয় বুঝতে তাঁর সমস্যা হতো। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত চেষ্টা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য জিআরই পরীক্ষাও দেন দুইবার। প্রথমবার প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর দ্বিতীয়বার আরও প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেন।   এরপর শুরু হয় উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজার পালা। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাগত পটভূমি বিবেচনা করা হবে, কোথায় জিআরই বাধ্যতামূলক নয় এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে কি না, এসব তথ্য তিনি বিভিন্ন উচ্চশিক্ষাবিষয়ক গ্রুপ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে খুঁজে বের করেন। পরে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল রেখে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন।   সেই চেষ্টার ফল আসে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস থেকে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পূর্ণ তহবিলের সহায়তায় স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পান ইসরাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে স্নাতক এবং ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তাঁর স্নাতকোত্তর গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশি নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে প্রজনন আচরণের সম্পর্ক।   স্নাতকোত্তর শেষ করার পর ইসরাত ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রোফাইলে তাঁর গবেষণার আগ্রহের মধ্যে নারীর স্বাস্থ্য, জনমিতি, স্বাস্থ্য বৈষম্য ও চিকিৎসা সমাজবিজ্ঞান উল্লেখ রয়েছে। একই প্রোফাইলে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসে সমাজবিজ্ঞানের দুটি কোর্স পড়ানোর তথ্যও রয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর ইসরাত জাহান পিএইচডির জন্য ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনে যান। মেমফিস বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে তাঁর পদ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাডজাঙ্কট ইনস্ট্রাক্টরের তথ্যও রয়েছে।   একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজে পড়াশোনা করাকে ঘিরে নানা ধরনের কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল ইসরাতকে। সেই পথ পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষকতায় পৌঁছানোর গল্পটি দেখায়, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শুধু কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে না। নিজের দক্ষতা তৈরি, সঠিক তথ্য খোঁজা এবং সুযোগের জন্য ধারাবাহিক চেষ্টা করাও উচ্চশিক্ষার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১১:১৮
ইবি-৩ ভিসায় চাকরি ও গ্রিন কার্ডের প্রতিশ্রুতি
ইবি-৩ ভিসায় চাকরি ও গ্রিন কার্ডের প্রতিশ্রুতি! টাকা দেওয়ার আগে যা যাচাই করবেন

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী চাকরি ও গ্রিন কার্ডের সুযোগের কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইবি-৩ ভিসার নামে নানা ধরনের অফার প্রচার করা হচ্ছে। এসব প্রস্তাবে অর্থ দেওয়ার আগে চাকরির নিয়োগকর্তা, পদের শর্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পুরো ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া যাচাই করা জরুরি। কারণ ইবি-৩ কোনো দ্রুত বা নিশ্চিত গ্রিন কার্ড পাওয়ার ব্যবস্থা নয়। এটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার আবেদন, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শ্রম সনদ, মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং পরবর্তী ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোয়।  ইবি-৩ হলো কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণির অভিবাসী ভিসা। এর আওতায় তিন ধরনের আবেদনকারী রয়েছেন: দক্ষ কর্মী, পেশাজীবী এবং অন্যান্য কর্মী। দক্ষ কর্মীর ক্ষেত্রে সাধারণত অন্তত দুই বছরের প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। পেশাজীবী শ্রেণিতে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের বিদেশি ডিগ্রি প্রয়োজন। আর অন্যান্য কর্মী শ্রেণিতে দুই বছরের কম প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন এমন স্থায়ী, অস্থায়ী বা মৌসুমি নয় এমন কাজ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।  অনেক ইবি-৩ আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ থেকে শ্রম সনদ নিতে হয়। এরপর নিয়োগকর্তা মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবায় কর্মীর জন্য আই-১৪০ আবেদন জমা দেন। তবে সব চাকরি বা ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়া প্রযোজ্য নয়। তাই কোনো এজেন্সি বা মধ্যস্থতাকারীর দেওয়া কাগজে শুধু ইবি-৩ লেখা আছে বলেই সেটিকে বৈধ চাকরির অফার ধরে নেওয়া উচিত নয়।  বিদেশে থাকা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপে জাতীয় ভিসা কেন্দ্রের মাধ্যমে নথিপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারে কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করেন। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত নথি বা তথ্যও চাওয়া হতে পারে।  তাই ইবি-৩ সাক্ষাৎকারের আগে নিজের আবেদনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। সম্ভাব্য নিয়োগকর্তার নাম, প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের ব্যবসা করে, আপনার পদের নাম, কাজের দায়িত্ব, কর্মস্থল এবং ওই পদের জন্য কী ধরনের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে, এসব তথ্য আবেদনপত্র ও অন্যান্য নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে জানা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   নিজের শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার তথ্যও ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে। যে পদের জন্য আবেদন করা হয়েছে, সেই পদের শ্রম সনদে কী যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে এবং আপনার নথি সেই শর্ত পূরণ করে কি না, তা আগে থেকেই মিলিয়ে দেখা উচিত। একইভাবে আগের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, ভ্রমণ, অভিবাসন আবেদন এবং প্রযোজ্য অন্যান্য তথ্য সম্পর্কেও সঠিক উত্তর দিতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া গুরুতর অভিবাসন জটিলতার কারণ হতে পারে।   ঢাকায় অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনকারীদের এক মাসের কম পুরোনো মার্কিন নিয়োগকর্তার চিঠি আনতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি নির্ধারিত অন্যান্য নথিও প্রয়োজন হয়। মার্কিন দূতাবাস, ঢাকার বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের মূল নথি ও প্রয়োজনীয় কপি সঙ্গে আনতে হয় এবং সাক্ষাৎকারের আগে নির্ধারিত নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।  ভিসা সাক্ষাৎকার দিলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সাক্ষাৎকারের পর অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হলে বা প্রশাসনিক যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে আবেদন প্রক্রিয়ায় আরও সময় লাগতে পারে। প্রশাসনিক যাচাইয়ের সময়কাল প্রতিটি মামলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।    ইবি-৩ নিয়ে প্রতারণা এড়াতে সম্ভাব্য নিয়োগকর্তা বাস্তব ও বৈধ প্রতিষ্ঠান কি না, চাকরির প্রস্তাবটি সত্যি কি না এবং আপনার নামে করা অভিবাসন আবেদনের তথ্য সরকারি নথির সঙ্গে মেলে কি না, তা যাচাই করা উচিত। শ্রম সনদ প্রয়োজন হলে সেটির তথ্যও পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মধ্যস্থতাকারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত গ্রিন কার্ড বা নিশ্চিত ভিসার প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।   ইবি-৩ প্রক্রিয়ার সময়ও সবার জন্য এক নয়। ভিসা সংখ্যার সীমা, আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণিতে ভিসা কতটা সহজলভ্য, তার ওপর অপেক্ষার সময় নির্ভর করতে পারে। তাই ছয় মাসে নিশ্চিত গ্রিন কার্ডের মতো প্রতিশ্রুতিকে সরকারি তথ্যের সঙ্গে যাচাই না করে বিশ্বাস করা ঠিক নয়।   কোনো ইবি-৩ অফারে টাকা দেওয়ার আগে নিয়োগকর্তা, চাকরির শর্ত, শ্রম সনদ, আই-১৪০ আবেদন এবং পরবর্তী ভিসা প্রক্রিয়ার তথ্য সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত। জটিলতা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি কোনো আইনি পরামর্শ নয়। প্রতিটি অভিবাসন আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট মার্কিন সরকারি কর্তৃপক্ষ প্রযোজ্য আইন ও আবেদনকারীর নথিপত্র যাচাই করে গ্রহণ করে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১০:৪২
বিশ্বের ১৩৩ দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের নুরুউদ্দীন জাকারিয়ার বিশ্বজয়
বিশ্বের ১৩৩ দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের নুরুউদ্দীন জাকারিয়ার বিশ্বজয়

সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন হিফজ, তেলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় চতুর্থ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের হাফেজ নুরুউদ্দীন জাকারিয়া। বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে এই সাফল্য অর্জন করেন তিনি।    এবারের প্রতিযোগিতায় ১৩৩টি দেশ থেকে মোট ৩৩৪ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। পাঁচটি বিভাগে কুরআন মুখস্থ, নির্ভুল তেলাওয়াত, তাজবিদ এবং সংশ্লিষ্ট জ্ঞান যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করা হয়।    নুরুউদ্দীন জাকারিয়া চতুর্থ বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই বিভাগে ১৫ পারা কুরআন হিফজ, শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত এবং তাজবিদের নিয়ম যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিচারকরা একাধিক ধাপে প্রতিযোগীদের দক্ষতা যাচাই করেন।    নুরুউদ্দীন ঢাকার আর রাইহান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক এই সাফল্যের আগে দেশেও কুরআন তেলাওয়াতে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।   ২০২৩ সালে দেশের সবচেয়ে বড় কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত ‘কুরআনের নূর’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন নুরুউদ্দীন জাকারিয়া। সেখানে প্রায় ১০ হাজার প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ঢাকার মার্কাজু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামী থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং পুরস্কার হিসেবে ১০ লাখ টাকা পান।    এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের মাধ্যমে সেই অর্জনের তালিকায় যোগ হলো আরও বড় একটি অধ্যায়। মক্কার পবিত্র নগরীতে অনুষ্ঠিত কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কুরআন প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত। সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, দাওয়াহ ও গাইডেন্স এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।    এবারের প্রতিযোগিতায় পাঁচটি বিভাগ মিলিয়ে মোট ৫০ জনকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল।    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাফেজ ও কুরআন তেলাওয়াতকারীদের অংশগ্রহণের এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের নুরুউদ্দীন জাকারিয়ার প্রথম স্থান অর্জন দেশের কুরআন শিক্ষার অঙ্গনে নতুন সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১০:৩৪
বিকেলে নববধূকে নিয়ে বাড়ি আসেন, রাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বরের মৃত্যু
বিকেলে নববধূকে নিয়ে বাড়ি আসেন, রাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বরের মৃত্যু

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বৌভাতের আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহমেদ আনাস বাপ্পি নামে ২২ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগের দিনই নববধূকে বাড়িতে এনেছিলেন বাপ্পি।   বাপ্পি ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে। প্রায় দুই মাস আগে ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইরা খাতুনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। শুক্রবার দুপুরে নববধূকে ঘিরে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছিল।   পরিবারের সদস্যরা জানান, বৌভাত উপলক্ষে বাড়িতে অতিথিদের খাবারের জায়গা ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত চলছিল। বাপ্পিও সেখানে উপস্থিত থেকে প্রস্তুতির কাজ তদারকি করছিলেন। একপর্যায়ে স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।   স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলন হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, স্ট্যান্ড ফ্যান সরানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাপ্পির মৃত্যু হয়। আকস্মিক এই ঘটনায় বৌভাতের সব আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে।   দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তিনি জানান, পুলিশ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।   শুক্রবার যে বাড়িতে নববধূকে ঘিরে অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানেই বাপ্পির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১০:১৬
জুয়েলারি দোকানে ১৩ বছর চাকরি করে ৯৯ ভরি স্বর্ণ সরিয়েছেন কর্মচারী
জুয়েলারি দোকানে ১৩ বছর চাকরি করে ৯৯ ভরি স্বর্ণ সরিয়েছেন কর্মচারী

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা ৫৫ পিস স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া চুড়িগুলোর মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ।   শুক্রবার বিকেলে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশিদ এসব তথ্য জানান।   পুলিশ জানায়, পাঁচলাইশ থানার প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’ নামে একটি দোকান রয়েছে। দোকানটির মালিক বিপ্লব বসাক। সেখানে রোমেন দে নামের ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রায় ১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন।   গত ১৪ আগস্ট দুপুরে দোকানের কর্মীরা স্বর্ণের অলংকারের মজুত মিলিয়ে দেখার সময় গরমিল দেখতে পান। বিষয়টি মালিককে জানানো হলে তিনি বাসা থেকে দোকানের দিকে রওনা হন। মালিক আসছেন জানতে পেরে রোমেন দে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে দোকান থেকে বেরিয়ে যান।   পরে দোকানের মজুত যাচাই করে দেখা যায়, রোমেনের দায়িত্বে থাকা সাতটি বক্সে রাখা ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি নেই। ওই চুড়িগুলোর ওজন ছিল প্রায় ৯২৭ দশমিক ৫০০ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য এক কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা। পুলিশ জানায়, স্বর্ণের চুড়ি সরিয়ে নেওয়ার পর বক্সগুলোতে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছিল।   এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন দোকান মালিক বিপ্লব বসাক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শওকত ইমামের নেতৃত্বে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে।   এর ধারাবাহিকতায় ১৮ আগস্ট রাত ২টার দিকে সীতাকুণ্ড থানার ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন জানান, আত্মসাৎ করা ৫৩টি চুড়ির মধ্যে ৪৬টি বাকলিয়ার মিয়াখান নগর রোডের ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’-এর মালিক শ্যামল সিংহের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে।   রোমেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ আগস্ট রাতে বোয়ালখালী থানার কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মিয়াখান নগরের ওই জুয়েলারি দোকান থেকে সাতটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়। এসব চুড়ির ওজন ১৪২ দশমিক ৪০ গ্রাম।   পরদিন ২০ আগস্ট শ্যামল সিংহকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার কাছে থাকা আরও ৩৯টি চুড়ি বিভিন্ন জুয়েলার্স ও বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছে রাখা হয়েছে।   এরপর কোতোয়ালি থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘মর্ডাণ রিনা জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি, ‘সাহা জুয়েলার্স’ থেকে ১৬টি এবং বিভিন্ন বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আরও ২০টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ জানায়, বন্ধকি ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিটন মহাজনের কাছ থেকে একটি, সাগর কারিগরের কাছ থেকে পাঁচটি, পার্থ মহাজনের কাছ থেকে ১১টি এবং রুবেল মহাজনের কাছ থেকে তিনটি চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।   এ ছাড়া রোমেন দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়ার ‘মর্ডাণ রিয়া জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি, ‘শাহ আমানত জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি এবং চকবাজারের ‘ফেন্সী জুয়েলার্স’ থেকে দুটি ও ‘তাজমহল জুয়েলার্স’ থেকে একটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।   সিএমপি জানিয়েছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ির মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১০:৮
হাইড্রলিক নষ্ট হওয়ার পরও উড়িয়ে নিরাপদে ফিরলেন নারী পাইলট
বাগদাদের আকাশে ক্ষতবিক্ষত যুদ্ধবিমান, হাইড্রলিক নষ্ট হওয়ার পরও উড়িয়ে নিরাপদে ফিরলেন নারী পাইলট

২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল ইরাকের বাগদাদের আকাশে স্থলবাহিনীকে আকাশপথে সহায়তা দেওয়ার মিশনে ছিলেন মার্কিন বিমানবাহিনীর পাইলট ক্যাপ্টেন কিম ক্যাম্পবেল। হঠাৎ তাঁর এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ যুদ্ধবিমানের পেছনের অংশে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লাগে। এতে বিমানের সব হাইড্রলিক লাইন ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটির দিকে কাত হয়ে পড়লেও ক্যাম্পবেল বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেননি। বরং বিকল্প যান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটি নিরাপদে কুয়েতে ফিরিয়ে আনেন তিনি।   সেদিন ক্যাম্পবেল ৭৫তম ফাইটার স্কোয়াড্রনের হয়ে বাগদাদের ওপর স্থলবাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার মিশনে ছিলেন। মিশন শেষ করে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক পাইলট এলাকা ছাড়ার সময় হঠাৎ বিমানের পেছনের অংশে তীব্র আঘাত অনুভব করেন। মুহূর্তের মধ্যেই ককপিটে একের পর এক সতর্কসংকেত জ্বলে ওঠে এবং বিমানের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অচল হয়ে যায়।   আঘাতের পর এ-১০ বিমানটি বাম দিকে তীব্রভাবে কাত হয়ে মাটির দিকে নেমে যেতে শুরু করে। ক্যাম্পবেল নিয়ন্ত্রণব্যবহার করে বিমানটিকে সামলানোর চেষ্টা করলেও সেটি কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। শত্রু নিয়ন্ত্রিত এলাকার ওপর এমন অবস্থায় বিমান থেকে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।   তখন ক্যাম্পবেল বিমানের জরুরি বিকল্প ব্যবস্থা চালু করেন, যাকে বলা হয় ম্যানুয়াল রিভারশন। স্বাভাবিক হাইড্রলিক ব্যবস্থা কাজ না করলে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যান্ত্রিক কেবল ও সংযোগের সাহায্যে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যায়। ব্যবস্থা চালু করার পর বিমানটি ধীরে ধীরে তাঁর নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে এবং মাটির দিকে নেমে যাওয়ার পরিবর্তে আবার ওপরে উঠতে শুরু করে।   তবে বিপদ তখনও কাটেনি। বিমানের পেছনের অংশ, লেজ এবং অনুভূমিক ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। ককপিট থেকে ক্যাম্পবেলের পক্ষে বিমানের পেছনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা সম্ভব ছিল না। তাঁর সঙ্গে থাকা পাইলট পাশ থেকে বিমানটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাঁকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানাচ্ছিলেন।   পরে বিমানের ছবি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর কাঠামোর বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছিল। এমনকি ডান পাশের অনুভূমিক ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশেও বড় একটি গর্ত হয়েছিল। এত ব্যাপক ক্ষতি সত্ত্বেও বিমানটি আকাশে টিকে ছিল এবং ক্যাম্পবেল সেটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন।   বাগদাদ থেকে বেরিয়ে আসার সময়ও বিমানটি শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঝুঁকির মধ্যে ছিল। ক্যাম্পবেল ও তাঁর সঙ্গে থাকা পাইলট শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটিকে কুয়েতের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। পুরো পথেই তাঁকে স্বাভাবিক হাইড্রলিক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে বিকল্প যান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়।   ঘাঁটির কাছে পৌঁছানোর পর শুরু হয় আরও কঠিন পরীক্ষা। হাইড্রলিক ব্যবস্থা নষ্ট থাকায় বিমানের গতি কমানোর বিশেষ ব্যবস্থা, স্বাভাবিক ব্রেক এবং দিকনির্দেশনা নিয়ন্ত্রণও কাজ করছিল না। জরুরি পদ্ধতি অনুসরণ করে ক্যাম্পবেল অবতরণের জন্য চাকার ব্যবস্থা নামান। তিনটি চাকাই ঠিকভাবে স্থির হয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি রানওয়ের দিকে এগিয়ে যান।   অবতরণের শেষ মুহূর্তেও বিমানটি একদিকে কাত হয়ে যায়। কিন্তু ক্যাম্পবেল দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এ-১০-কে নিরাপদে রানওয়েতে নামাতে সক্ষম হন।   মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই মিশনে অসাধারণ সাহসিকতা ও দক্ষতার জন্য ক্যাম্পবেল ডিস্টিংগুইশড ফ্লাইং ক্রস পদকে ভূষিত হন। যুদ্ধক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি যুদ্ধবিমানকে নিয়ন্ত্রণে রেখে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ঘটনা তাঁর সামরিক জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে ওঠে।   পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পবেল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। ২০০৪ সালে ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামেও তিনি ওই মিশনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি কীভাবে জরুরি পরিস্থিতিতে বিমানের বিকল্প নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করে সেটিকে আকাশে ধরে রেখেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানান।   ক্যাম্পবেলের ব্যবহৃত এ-১০ যুদ্ধবিমানটি পরবর্তী সময়ে সংরক্ষণ করা হয়। ক্ষতবিক্ষত অবস্থায়ও বিমানটির নিরাপদে ফিরে আসার ঘটনা এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২-এর শক্তিশালী কাঠামো ও যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি সহ্য করার সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করা হয়।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৯:৫৭
ইসরায়েলি পতাকা প্রদর্শন করায় আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে স্বর্ণজয়ী কিশোরের সনদ বাতিল
ইসরায়েলি পতাকা প্রদর্শন করায় আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে স্বর্ণজয়ী কিশোরের সনদ বাতিল

উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করায় বিতর্কে জড়িয়েছেন ১৭ বছর বয়সী ইসরায়েলি শিক্ষার্থী ইয়োতাম বুদনিক। পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় আয়োজকেরা তার সনদ বাতিল করেছেন এবং প্রতিযোগিতার সরকারি ফলাফলের তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দিয়েছেন। তবে স্বর্ণপদক ফেরত দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   ইসরায়েলের রেহোভট শহরের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী বুদনিক ৯ থেকে ১৬ আগস্ট উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে অংশ নেন। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই কম্পিউটারভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অসাধারণ ফল করে তিনি স্বর্ণপদক অর্জন করেন।   পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মঞ্চে ওঠার পর বুদনিক নিজের সঙ্গে থাকা একটি ইসরায়েলি পতাকা বের করে কাঁধে জড়িয়ে নেন। পরে এই পতাকা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের সাধারণ পরিষদ ২০২৪ সালে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে ইসরায়েলকে আর আলাদা জাতীয় দল হিসেবে প্রতিযোগিতায় স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। তবে দেশটির সর্বোচ্চ চারজন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন এবং তাদের অংশগ্রহণ হবে আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের পতাকার অধীনে।   এই সিদ্ধান্তের ফলে বুদনিকসহ ইসরায়েলি শিক্ষার্থীরা জাতীয় দলের পরিচয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। এরপর স্বর্ণপদক পাওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করেন।   ঘটনার পর আয়োজকেরা তার কাছে স্বর্ণপদক ফেরত দেওয়ার দাবি জানান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বুদনিক পদক ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর পর তার সনদ প্রত্যাহার করা হয় এবং সরকারি ফলাফলের তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া হয়।   বুদনিক তার অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শনে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিবেচনার ফল। তার মতে, বিজ্ঞানভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রাজনৈতিক বিষয়কে প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া উচিত নয়।   আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াড বিশ্বের প্রধান আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতাগুলোর একটি। এতে বিভিন্ন দেশের স্কুলশিক্ষার্থীরা কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য অংশ নেন। প্রতিযোগিতাটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো তরুণদের মধ্যে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এবং বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করা।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও তারা জাতীয় দলের পরিচয়ে অংশ নিতে পারবেন না। তাদের আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের পতাকার অধীনে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়।   বুদনিকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় জাতীয় পরিচয়, পতাকা প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে আয়োজকেরা প্রতিযোগিতার নির্ধারিত নিয়ম ও সিদ্ধান্ত কার্যকর করার অবস্থানে রয়েছে, অন্যদিকে বুদনিকের পদক্ষেপ বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত ও জাতীয় পরিচয় প্রকাশের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৯:৫১
গৃহহীন ব্যক্তির পাশে কুকুরের মলভরা স্যান্ডউইচ রেখে দেওয়া সেই পুলিশ কর্মকর্তাই এখন টেক্সাসের পুলিশপ্রধান
গৃহহীন ব্যক্তির পাশে কুকুরের মলভরা স্যান্ডউইচ রেখে দেওয়া সেই পুলিশ কর্মকর্তাই এখন টেক্সাসের পুলিশপ্রধান

টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে গৃহহীন এক ব্যক্তির পাশে কুকুরের মল ভরা স্যান্ডউইচ রেখে চাকরি হারানো সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ম্যাথিউ লাকহার্স্ট এবার ছোট শহর বেনাভিদেসের পুলিশপ্রধান হয়েছেন। ২০২৬ সালের ১ জুন তিনি নতুন পদে দায়িত্ব নেন।    লাকহার্স্টের বিতর্কের শুরু ২০১৬ সালে। তখন তিনি সান অ্যান্টোনিও পুলিশ বিভাগের বাইসাইকেল প্যাট্রোলে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ বিভাগের তদন্ত নথি অনুযায়ী, তিনি কুকুরের মল রুটির দুই টুকরোর মধ্যে রেখে একটি খাবারের পাত্রে ভরে গৃহহীন এক ব্যক্তির পাশে রেখে দেন। পরে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হলে লাকহার্স্ট বিষয়টি স্বীকার করেন।    তৎকালীন পুলিশপ্রধান উইলিয়াম ম্যাকম্যানাস ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেন। এরপর লাকহার্স্টের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়নি।    একই সময় আরেকটি অভ্যন্তরীণ তদন্তে পুলিশ বিভাগের একটি নারী টয়লেটে মল না পরিষ্কার করে রেখে যাওয়ার এবং টয়লেটের আসনে মলজাতীয় পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায়ও লাকহার্স্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দ্বিতীয় বরখাস্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করলেও একজন সালিশকারী শেষ পর্যন্ত বিভাগীয় সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।    তবে প্রথম বরখাস্তের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালে তিনি আপিলে জয় পান। সালিশকারী সিদ্ধান্ত দেন, তাকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সান অ্যান্টোনিও পুলিশ বিভাগ নির্ধারিত ১৮০ দিনের সময়সীমা মেনে চলেনি। ফলে তিনি আবারও পুলিশের চাকরিতে ফেরার সুযোগ পান।    এরপর ২০২০ সালে দ্বিতীয় ঘটনার কারণে সান অ্যান্টোনিও পুলিশ বিভাগ থেকে তার বরখাস্ত বহাল থাকে। কিন্তু মাত্র কয়েক মাস পরই তিনি টেক্সাসের আরেক শহর ফ্লোরেসভিলের পুলিশ বিভাগে রিজার্ভ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। ২০২২ সালে তার অতীতের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর জনমতের চাপের মধ্যে ফ্লোরেসভিল কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়।    এরপরও লাকহার্স্টের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কাজের পথ বন্ধ হয়নি। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে তিনি দক্ষিণ টেক্সাসের ছোট শহর বেনাভিদেসের পুলিশ বিভাগে কাজ করছিলেন। পরে ৩০ এপ্রিল ২০২৬-এর সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে তার পদোন্নতির অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ১ জুন তিনি পুলিশপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন।    লাকহার্স্টের পদোন্নতি আবারও টেক্সাসে পুলিশ কর্মকর্তাদের জবাবদিহি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ২০২২ সালে প্রকাশিত টেক্সাসের একটি রাজ্য পর্যায়ের পর্যালোচনাতেও বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের অন্য বিভাগে নতুন চাকরি পাওয়ার সুযোগ এবং রাজ্য পর্যায়ে তাদের ওপর নজরদারির সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।    এদিকে লাকহার্স্টের নতুন পদ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকরা বেনাভিদেসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে শহরের সিটি সেক্রেটারি টিফানি বাজান একাধিকবার ফোন কেটে দেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। শহরটির প্রায় ১১০০ বাসিন্দার এই ছোট কমিউনিটিতে তার পুলিশপ্রধান হওয়া তাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৯:৪১
ইমরান খান মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সংঘাতে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘনিষ্ঠ সহযোগীর
ইমরান খান মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সংঘাতে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘনিষ্ঠ সহযোগীর

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মুক্তি পেলে দেশটির সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সংঘাতে যাবেন না বলে দাবি করেছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।   বুখারির এই বক্তব্যকে ইমরান খানের দল ও পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের তীব্র বিরোধের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইমরান নিজে এমন কোনো অবস্থান নিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে তার সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্যও খুব সীমিত।   বুখারি বলেন, ইমরান খান মুক্তি পেলে এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না, যা দেশের ক্ষতি করতে পারে। তার ভাষায়, সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে নিজের কষ্ট নিয়ন্ত্রণ করে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।   তিনি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মুনির চাইলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারেন। এমনকি তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেনাপ্রধান উদ্যোগ নিলে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির পথও তৈরি হতে পারে।   তবে বুখারি স্পষ্ট করেছেন, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কোনো আলোচনা চলছে না। তিনি নিজেও বর্তমানে দুবাইয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন।   ইমরান খান ও পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের সম্পর্ক ২০২২ সালে তার সরকারের পতনের পর থেকেই তীব্র বিরোধে রূপ নেয়। ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহার, দুর্নীতি, সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় সহিংস হামলায় উসকানি এবং বেআইনি বিয়েসহ একাধিক মামলা হয়। ইমরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং তার দল মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরানের বেশির ভাগ মামলায় দেওয়া সাজা স্থগিত বা বাতিল হয়েছে, যদিও একটি মামলার সাজা বহাল রয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে আপিল চলছে।   এর মধ্যেই ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে রাওয়ালপিন্ডির কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত তার চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার নির্দেশও দেয়।    তবে পরে সরকার ওই আদেশের পুনর্বিবেচনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। সরকারের যুক্তি ছিল, কারাগারের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত এবং বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন রয়েছে।    শেষ পর্যন্ত ২০ আগস্ট ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় ইমরানের দল আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নতুন আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। সরকার অবশ্য বলছে, চিকিৎসা পরীক্ষায় তাৎক্ষণিক গুরুতর শারীরিক সমস্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    ইমরানের দল সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে আপাতত কোনো আলোচনায় না গেলেও সেপ্টেম্বরের ২৭ তারিখ দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বুখারির ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরানের চিকিৎসা, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ, মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি এবং শেষ পর্যন্ত তার মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচি হবে।   বুখারির সাম্প্রতিক বক্তব্য পাকিস্তানের রাজনীতিতে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও এটিকে এখনই সামরিক বাহিনী ও ইমরান খানের দলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। কারণ ইমরান নিজে এমন কোনো সমঝোতার বার্তা দেননি এবং তার দলের পক্ষ থেকেও সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের ঘোষণা বহাল রয়েছে।  

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৯:৩২
সঙ্গীর গলায় ছুরি ধরে তরুণীকে ধর্ষণ করে দুই আফগান নাগরিক
পার্কে ডেটে গিয়েছিলেন তরুণী, সঙ্গীর গলায় ছুরি ধরে তরুণীকে ধর্ষণ করে দুই আফগান নাগরিক

পূর্ব লন্ডনের একটি পার্কে প্রথম ডেটে গিয়ে তারার আকাশ দেখার সময় এক তরুণীকে ছুরি দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় দুই আফগান নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট বার্কিং পার্কে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় খান আগাহ ও নূরুল্লাহ আহমদজাই নামে দুই ব্যক্তি তরুণী ও তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষকে আক্রমণ করেন। আদালতে মামলার বিচার শেষে দুজনকেই একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।   আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই তরুণী ও তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষ সেদিন প্রথমবারের মতো দেখা করেছিলেন। তাঁরা পার্কে বসে তারার আকাশ দেখছিলেন। ওই সময় দুজন হামলাকারী তাঁদের কাছে গিয়ে আক্রমণ শুরু করেন।   একজন হামলাকারী ওই পুরুষের গলায় ছুরি ধরে তাঁকে ভয় দেখান এবং পুলিশকে খবর দিলে হত্যার হুমকি দেন। অন্যজন তরুণীকে ধর্ষণ করেন। পরে দুজন নিজেদের ভূমিকা বদলে নেন এবং পালাক্রমে ওই তরুণীকে যৌন নির্যাতন করেন বলে আদালতে জানানো হয়।   মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ভয়াবহ ছুরি দেখিয়ে সংঘটিত যৌন হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আদালতকে জানানো হয়, হামলাকারীরা ওই নারী ও তাঁর সঙ্গীকে সম্পূর্ণ অপরিচিত অবস্থায় আক্রমণ করেছিলেন।   তরুণীকে আদালতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে হয়। দীর্ঘ ও কঠিন জেরার মধ্যেও তিনি ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাঁর সাহসের প্রশংসা করা হয়।   দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখানো, যৌন নিপীড়ন এবং বেআইনিভাবে আটকে রাখাসহ একাধিক অভিযোগ ছিল। বিচার শেষে দুজনকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।   আদালতের কার্যক্রমে আরও উঠে আসে, নূরুল্লাহ আহমদজাই ২০২৩ সালে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তিনি সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকা আবাসনে ছিলেন। তাঁর আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল বলে মামলার তথ্য থেকে জানা যায়। খান আগাহ কীভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।   দুজনের সাজা পরে ঘোষণা করার কথা রয়েছে। আদালতের সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও তাঁদের মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নথিভুক্ত হয়েছে।   ঘটনার বিষয়ে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মেগান লেলিয়ট ভুক্তভোগী নারীর সাহসের প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে। সাজা ঘোষণার পর দুই আসামিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনাটি পূর্ব লন্ডনে পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে মামলার সঙ্গে অভিবাসন পরিস্থিতির বিষয়টি যুক্ত হলেও অপরাধের দায় ব্যক্তিগতভাবে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির ওপরই বর্তায়।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৯:১৯
গ্রেসিয়া গুয়াদালুপে ওরান্তেস মেন্দোজার ছবি:সংগৃহীত
হেভি ফিল্টারের ছবিতে নিখোঁজ নারী, বাস্তব চেহারা মেলাতে গিয়ে বিপাকে পুলিশ

মেক্সিকোর চিয়াপাসে নিখোঁজ এক নারীকে খুঁজতে প্রকাশ করা পোস্টারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নেওয়া অতিরিক্ত ফিল্টারযুক্ত ছবি ব্যবহারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৩০ বছর বয়সী গ্রেসিয়া গুয়াদালুপে ওরান্তেস মেন্দোসার ওই ছবিতে এত বেশি ডিজিটাল পরিবর্তন ছিল যে, বাস্তবে তার চেহারার সঙ্গে ছবিটির মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   গ্রেসিয়া গত ১২ এপ্রিল চিয়াপাসের ওকোসোকোয়াউতলা দে এস্পিনোসা এলাকায় নিখোঁজ হন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের খবর জানানোর পর কর্তৃপক্ষ দ্রুত অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। তার সন্ধানে দেশটির নিখোঁজ নারীদের খুঁজে বের করার জন্য ব্যবহৃত আলবা প্রোটোকলের আওতায় অনুসন্ধান চালানো হয়। সরকারি অনুসন্ধান নথিতেও তার বয়স ৩০ বছর এবং নিখোঁজের তারিখ ১২ এপ্রিল উল্লেখ করা হয়েছে।   অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গ্রেসিয়ার ছবি দিয়ে পোস্টার ও সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হয়। তবে ব্যবহৃত ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নেওয়া ছিল এবং তাতে বিভিন্ন ফিল্টার ও ডিজিটাল সম্পাদনা করা হয়েছিল। ফলে ছবিতে তার মুখের বৈশিষ্ট্য ও চেহারায় বাস্তবের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায় বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।   নিখোঁজ ব্যক্তিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ছবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, এমন ছবি ব্যবহার করে কীভাবে সাধারণ মানুষ বা অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা নিখোঁজ ব্যক্তিকে সহজে শনাক্ত করবেন। বিশেষ করে ফিল্টারের কারণে মুখের গঠন, ত্বকের রং ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বদলে গেলে বাস্তব চেহারার সঙ্গে ছবি মেলানো আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।   তবে ঘটনাটির শেষ পরিণতি ছিল স্বস্তির। নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর গ্রেসিয়াকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়। ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে চিয়াপাসের ভ্যালেস অঞ্চলের একটি সড়কে নিরাপদ অবস্থায় পাওয়া যায়। সরকারি কর্তৃপক্ষও তার সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং অনুসন্ধানে সহায়তার জন্য নাগরিকদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে।   সরকারি অনুসন্ধান নথিতে গ্রেসিয়ার শারীরিক বৈশিষ্ট্যও উল্লেখ করা হয়েছিল, যার মধ্যে উচ্চতা, গায়ের রং, চুলের ধরন এবং গালে থাকা ফ্রেকলসের তথ্য ছিল। এ ধরনের বর্ণনা নিখোঁজ ব্যক্তিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব চেহারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি থাকলে অনুসন্ধান আরও কার্যকর হতে পারে।   গ্রেসিয়াকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি ফিরলেও ঘটনাটি নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবি ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ফিল্টারযুক্ত ছবি স্বাভাবিক হলেও নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে এমন ছবি ব্যবহার করা হলে তা যেন তার প্রকৃত চেহারা শনাক্ত করার কাজে বাধা না দেয়, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।   নিখোঁজ ব্যক্তির ক্ষেত্রে দ্রুত ও নির্ভুল শনাক্তকরণ অনেক সময় অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ছবি নেওয়ার ক্ষেত্রে ছবিটির সাম্প্রতিকতা এবং বাস্তব চেহারার সঙ্গে মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা অনুসন্ধান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৯:১২
কুয়েতি পাসপোর্ট ছবি:সংগৃহীত
কুয়েতে ভিসার স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা বন্ধ হচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর

কুয়েতে ভিজিট ভিসা এবং দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানোর বিশেষ সুবিধা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হচ্ছে। এরপর থেকে ভিসা ও ছুটির অনুমতিপত্রের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বৈধতার সময়সীমাই কার্যকর হবে।   কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন শ্রেণির ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না। একইভাবে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে দেওয়া অতিরিক্ত সময়ের সুবিধা শেষ হবে।   চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কুয়েতসহ এ অঞ্চলে বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর ফলে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে কুয়েত ছাড়তে পারেননি। একই সময়ে কুয়েতের বাইরে থাকা অনেক প্রবাসীও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশটিতে ফিরতে পারেননি।   এ পরিস্থিতিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিসা ও আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাতে কুয়েত সরকার সাময়িকভাবে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা চালু করেছিল। এর আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের পর মেয়াদ শেষ হওয়া ভিজিট ভিসা এবং কুয়েতের বাইরে থাকা কিছু প্রবাসীর ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদও অতিরিক্ত সময়ের জন্য বাড়ানো হয়।   তবে এটি কোনো স্থায়ী ভিসা ব্যবস্থা ছিল না। বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেওয়া অস্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবেই সুবিধাটি চালু করা হয়েছিল।   ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভিজিট ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলে আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না। ভিসাধারীদের ভিসায় উল্লেখ করা শেষ বৈধ তারিখ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।   কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তাদের ছুটির অনুমতিপত্রের নির্ধারিত মেয়াদই কার্যকর হবে। বিশেষ মেয়াদ বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত সময় নিয়ে কুয়েতে ফেরার সুযোগ থাকবে না।   এ কারণে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের নিজেদের ছুটির অনুমতিপত্রের বর্তমান বৈধতা আগেই যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া আবাসন অনুমতিপত্রের অবস্থাসংক্রান্ত সনদকে ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ যাচাইয়ের সরকারি রেফারেন্স হিসেবে বিবেচনা করা হবে।   তাই পুরোনো কাগজপত্র, আগের বার্তা কিংবা নিয়োগকর্তার মৌখিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে বর্তমান বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধ সময় শেষ হওয়ার পরও কোনো প্রবাসী কুয়েতে ফিরে না এলে তার আবাসন-সংক্রান্ত অবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। একইভাবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভিজিট ভিসায় কুয়েতে অবস্থান করলে তা আবাসন আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আবাসন আইনের আওতায় জরিমানা বা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার হার চালু হচ্ছে, এমন ঘোষণা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার অঙ্ককে তাই সরকারি ঘোষণা হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা ব্যক্তির ভিসা বা আবাসনের ধরন এবং কী ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৮:৫০
শরনার্থী ছবি:সংগৃহীত
সোমালিদের টিপিএস বাতিল কার্যকর হচ্ছে, আদালতের রায়ে নির্বাসনের ঝুঁকিতে প্রায় ১,১০০ জন

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় ১,১০০ সোমালি নাগরিকের অস্থায়ী সুরক্ষিত অবস্থান বা টিপিএস বাতিলের পথে আর আদালতের বাধা নেই। ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক অ্যালিসন বারোজ আগের স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন সোমালিয়ার টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারছে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, সোমালিয়ার টিপিএস ১৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়েছে।   টিপিএস হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী অভিবাসন সুরক্ষা, যার আওতায় যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য গুরুতর পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজের অনুমতি পান। সোমালিয়া ১৯৯১ সাল থেকে এই কর্মসূচির আওতায় ছিল।   ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের জানুয়ারিতে সোমালিয়ার টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের যুক্তি ছিল, সোমালিয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং দেশটি আর টিপিএসের আইনি শর্ত পূরণ করে না। তবে সোমালিয়ায় এখনো নিরাপত্তা সংকট ও আল-শাবাবের সঙ্গে সংঘাত রয়েছে।   প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টিপিএস ১৭ মার্চ থেকে বাতিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মার্চে বিচারক বারোজ সাময়িকভাবে সিদ্ধান্তটি আটকে দেন। চারজন সোমালি টিপিএসধারী এবং দুটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় ও জাতিগত পক্ষপাতের প্রভাব রয়েছে এবং প্রশাসন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি।   আগস্টে বিচারক আগের স্থগিতাদেশ তুলে নেন। এর পেছনে জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ও ভূমিকা রাখে। ওই রায়ে টিপিএস বাতিলের বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নিম্ন আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত করা হয়। এরপর হাইতি, সিরিয়া, দক্ষিণ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের টিপিএস বাতিলের ক্ষেত্রেও প্রশাসন আইনি অগ্রগতি পায়।   টিপিএস বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সোমালি নাগরিকদের জন্য বড় পরিবর্তন এসেছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, সোমালিয়ার টিপিএস ১৪ আগস্ট থেকেই বাতিল এবং এই কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিদের টিপিএস-ভিত্তিক বৈধতা আর কার্যকর নেই। টিপিএসের ভিত্তিতে দেওয়া কর্মসংস্থানের অনুমতিও পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।   তবে টিপিএস বাতিল হয়েছে মানেই ১,১০০ জনকে সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে, এমন নয়। যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন ভিত্তি নেই, তারা ভবিষ্যতে নির্বাসন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন। অন্য কোনো বৈধ স্ট্যাটাস, আবেদন বা আইনি সুরক্ষা থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।   অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের বক্তব্য, সোমালিয়ায় নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি এখনো এমন নয় যে সেখানে থাকা সোমালি নাগরিকদের নিরাপদে ফেরত পাঠানো যায়। মামলার আইনি লড়াইও পুরোপুরি শেষ হয়নি।   ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সোমালিয়ার টিপিএস বাতিল বৃহত্তর অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের অংশ। প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, টিপিএস অস্থায়ী সুরক্ষা হিসেবে তৈরি হলেও অনেক দেশের নাগরিক বছরের পর বছর এই ব্যবস্থার আওতায় থেকে যাচ্ছেন। তাই নিজ দেশে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সুরক্ষা প্রত্যাহার করে অভিবাসন আইন কার্যকর করা উচিত।   অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন, কোনো দেশের পরিস্থিতি বাস্তবে কতটা নিরাপদ হয়েছে এবং সেখানে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে, সেই মূল্যায়ন যথেষ্টভাবে করা হচ্ছে কি না।   সোমালি টিপিএসধারীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন ভিত্তি আছে কি না। টিপিএস বাতিলের পর বৈধ স্ট্যাটাস ও কাজের অনুমতির বিষয়টি নিয়ে যাদের অনিশ্চয়তা রয়েছে, তাদের নিজেদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৮:৩৮
সারা আল-খাওয়াস ছবি:সংগৃহীত
পশ্চিম সাসেক্সের সাগরে ব্রিটিশ ফিলিস্তিনি কিশোরী ও তার পরিবারের মর্মান্তিক মৃত্যু

ইংল্যান্ডের পশ্চিম সাসেক্স উপকূলে সাগরে ডুবে একই পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন ৫৫ বছর বয়সী হোসাম আল-খাওয়াস, তার স্ত্রী ৩৭ বছর বয়সী জেইনা আলায়ন এবং তাদের ১৪ বছর বয়সী মেয়ে সারা। পরিবারের আরেক কিশোরীকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে শোরহ্যাম-বাই-সি এলাকার শোরহ্যাম ফোর্টের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ২টা ৪০ মিনিটে পানিতে কয়েকজনের বিপদে পড়ার খবর পেয়ে পুলিশ, কোস্টগার্ড, উদ্ধারকারী নৌযান, অ্যাম্বুলেন্স ও আকাশপথের জরুরি চিকিৎসা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। চারজনকে পানি থেকে তীরে তোলা হলেও তিনজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটি লন্ডন থেকে শোরহ্যাম-বাই-সি এলাকায় বেড়াতে এসেছিল। পানিতে নামার পর তারা বিপদে পড়েন। ঘটনাটিকে এখন পর্যন্ত একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসেবেই তদন্ত করা হচ্ছে। তৃতীয় কোনো পক্ষের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   নিহত হোসাম আল-খাওয়াস ছিলেন ফিলিস্তিনি শরণার্থী। ফিলিস্তিনি দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, তার পরিবারের শিকড় দক্ষিণ লেবাননের রাশিদিয়েহ শরণার্থী শিবিরে। পরিবারটি ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে লন্ডনে বসবাস করত।   ১৪ বছর বয়সী সারা যে স্কুলে পড়ত, সেই পশ্চিম লন্ডনের এলিং এলাকার এলেন উইলকিনসন স্কুল ফর গার্লসও তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ সারাকে মিষ্টি স্বভাবের এবং শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে জনপ্রিয় একজন ছাত্রী হিসেবে স্মরণ করেছে।   এই ঘটনায় ব্রিটেনে বসবাসরত ফিলিস্তিনি কমিউনিটির মধ্যেও শোক নেমে এসেছে। ব্রিটিশ ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোরীর দ্রুত সুস্থতার জন্যও তারা শুভকামনা জানিয়েছে।   ঘটনার পর খোলা পানিতে সাঁতারের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রের স্রোত, পানির তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফিলিস্তিনি কমিউনিটির সদস্যরা এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৮:২৭
প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত
গ্রিন কার্ডে নতুন নিয়ম, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতীয়দের যা জানা জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। এর আওতায় আবেদনকারীর সরকারি সুবিধা নেওয়ার ইতিহাসের পাশাপাশি বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা এবং শিক্ষা ও দক্ষতাও বিবেচনা করবে ইউএসসিআইএস।   নতুন নিয়মটি ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেন আমলের ২০২২ সালের ‘পাবলিক চার্জ’ কাঠামো বাতিল করার পর চালু করছে।ইউএসসিআইএসের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের নিজেদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সক্ষমতা থাকা উচিত এবং তারা যেন দীর্ঘমেয়াদে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পড়েন, সেটিই নতুন নীতির মূল লক্ষ্য।   ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয়দের বড় একটি অংশ কর্মসংস্থানভিত্তিক ও পরিবারভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এসব শ্রেণির অনেক আবেদনকারী নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ পরীক্ষার আওতায় পড়তে পারেন।   ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আয়ভিত্তিক কিছু সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়ও আবেদনকারীর ‘পাবলিক চার্জ’ মূল্যায়নে বিবেচিত হতে পারে। এর মধ্যে আয় সহায়তার জন্য নগদ অর্থ, আবাসন সহায়তা, খাদ্য সহায়তা, কলেজের আর্থিক সহায়তা এবং একই ধরনের অন্যান্য সুবিধা থাকতে পারে।   তবে কোনো ভারতীয় আবেদনকারী সরকারি সুবিধা নিয়েছেন মানেই তার গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন নয়। ইউএসসিআইএস স্পষ্ট করেছে, প্রয়োজনীয় আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার হলফনামা যথেষ্ট না থাকার বিষয়টি ছাড়া অন্য কোনো একক কারণ একাই কাউকে ভবিষ্যতে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য যথেষ্ট হবে না।   বরং কর্মকর্তারা আবেদনকারীর পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন। পাঁচটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাবে: বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, সম্পদ ও আর্থিক পরিস্থিতি এবং শিক্ষা ও দক্ষতা।   অর্থাৎ একজন ভারতীয় আবেদনকারীর আয় ভালো হলেও বয়স বা স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি, পারিবারিক নির্ভরশীলতা কিংবা সম্পদের অবস্থাও সামগ্রিক মূল্যায়নে ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়ার কোনো ইতিহাস থাকলেও সেটিকে অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।   তবে সব ভারতীয় গ্রিন কার্ড আবেদনকারী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী, বিশেষ অভিবাসী অপ্রাপ্তবয়স্ক, সাময়িক সুরক্ষার আবেদনকারী, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট অপরাধের শিকার ব্যক্তিসহ কয়েকটি অভিবাসন শ্রেণি ‘পাবলিক চার্জ’ পরীক্ষার বাইরে থাকবে।   পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য আত্মীয়ের আবেদন এই পরীক্ষার আওতায় পড়তে পারে। কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসীদের মধ্যেও বিভিন্ন শ্রেণি নতুন নিয়মের আওতাভুক্ত হবে।   ভারতীয়দের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন নিয়মটি জাতীয়তা দেখে আলাদা কোনো পরীক্ষা চালু করছে না। অর্থাৎ ভারতীয়দের জন্য আলাদা শর্ত নয়, একই ‘পাবলিক চার্জ’ কাঠামো প্রযোজ্য হবে সব যোগ্য আবেদনকারীর ক্ষেত্রে।   নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদ, পরিবার, শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে কোন সরকারি সুবিধা নেওয়া হয়েছে এবং সেটি আবেদনকারীর নির্দিষ্ট অভিবাসন শ্রেণির ক্ষেত্রে কীভাবে বিবেচিত হতে পারে, তা বুঝে আবেদন করা জরুরি।   ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয়দের জন্য শুধু আবেদন জমা দেওয়াই নয়, নিজেদের সামগ্রিক আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতির সঠিক তথ্য উপস্থাপনও আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৮:১৫
আহমেদাবাদে একটি গণবিবাহ অনুষ্ঠানে ছবি:সংগৃহীত
ধর্মীয় আইন বনাম অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, উত্তরাখণ্ডে নতুন করে বাড়ছে বিতর্ক

ভারতের উত্তরাখণ্ডে ধর্মভেদে আলাদা পারিবারিক আইন তুলে দিয়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পর দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক ও লিভ-ইন সম্পর্কের মতো বিষয়ে একই আইনি কাঠামো চালুর এই উদ্যোগকে বিজেপি সরকার সমতা ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশের প্রশ্ন, সবার জন্য একই আইন করতে গিয়ে তাদের ধর্মীয় ও পারিবারিক রীতিনীতির জায়গা কতটা থাকছে।   উত্তরাখণ্ড ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল পাস করে। পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি আইনটি কার্যকর হয়। স্বাধীনতার পর ভারতে কোনো রাজ্যে এ ধরনের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার ক্ষেত্রে উত্তরাখণ্ডই প্রথম।   আইনটির মূল লক্ষ্য হলো ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা ব্যক্তিগত আইন না রেখে নাগরিকদের পারিবারিক বিষয়ে একটি অভিন্ন নিয়ম চালু করা। উত্তরাখণ্ড সরকারের সরকারি ব্যাখ্যায়, নতুন বিধিতে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক ও উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার মতো বিষয়ে ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে একই কাঠামো প্রযোজ্য।   বিয়ের ক্ষেত্রেও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়েও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধান রয়েছে। লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নিবন্ধন ও নির্দিষ্ট তথ্য জানানোর নিয়ম রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালে রয়টার্সের প্রতিবেদনে আইনটির এসব বিধান নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছিল।   সমর্থকদের প্রধান যুক্তি হলো, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা আইন থাকলে নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিয়ে, বিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে একটি পরিষ্কার আইনি কাঠামো তৈরি করবে। ২০২৬ সালেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে সমর্থকেরা এটিকে সমতা, ন্যায়বিচার ও লিঙ্গসমতার হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছেন।   কিন্তু সমালোচকদের আপত্তি মূলত অন্য জায়গায়। তাদের প্রশ্ন, ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনের সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলোকে রাষ্ট্রীয় অভিন্ন আইনের আওতায় এনে কি সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে? অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডও ২০২৬ সালে উত্তরাখণ্ডসহ নতুন অভিন্ন দেওয়ানি বিধির উদ্যোগগুলোর বিরোধিতা করে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন তুলেছে।   এই জায়গাতেই দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উত্তরাখণ্ডের মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন প্রবীণ নেতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রশ্ন করা হয়েছে, ধর্মীয় বিধান ও রাষ্ট্রীয় আইনের মধ্যে সংঘাত তৈরি হলে একজন মুসলিম কীভাবে একই সঙ্গে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং রাষ্ট্রের আইন মেনে চলবেন। তবে মুসলিমরা ভবিষ্যতে ভারতের মূলধারা থেকে আরও দূরে সরে যাবে, এমন বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখা যাবে না। এটি দ্য ইকোনমিস্টের একটি বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে সতর্কতা।   আইনটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি শুধু মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য নয়। উত্তরাখণ্ড সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, একই দেওয়ানি কাঠামো রাজ্যের সব নাগরিকের ওপর প্রযোজ্য। তবে নির্দিষ্ট কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে ‘সবার জন্য একই আইন’ ধারণাটিও বাস্তবে কিছু সাংবিধানিক ব্যতিক্রমের সঙ্গে প্রয়োগ করা হচ্ছে।   এদিকে উত্তরাখণ্ডের অভিজ্ঞতা ভারতের অন্য রাজ্যগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালে গুজরাট ও আসাম অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পথে এগিয়েছে, আর মধ্যপ্রদেশও এ বছর নিজস্ব অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল পাস করেছে। রাজস্থানও ২০২৬ সালের আগস্টে একই ধরনের বিল বিধানসভায় তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   ফলে উত্তরাখণ্ডের অভিজ্ঞতা এখন শুধু একটি রাজ্যের আইন নিয়ে বিতর্ক নয়। এটি ভারতের ভবিষ্যৎ পারিবারিক আইন ব্যবস্থার বড় একটি পরীক্ষাও হয়ে উঠেছে। একদিকে প্রশ্ন উঠছে, ধর্মভেদে আলাদা ব্যক্তিগত আইন তুলে দিয়ে অভিন্ন নিয়ম চালু করলে নাগরিকদের সমতা কতটা বাড়বে। অন্যদিকে প্রশ্ন থাকছে, সেই সমতার পথে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু পরিচয়ের জন্য কতটা জায়গা রাখা হবে।   দেড় বছরের বেশি সময় পরও তাই উত্তরাখণ্ডের অভিন্ন দেওয়ানি বিধিকে ঘিরে মূল বিতর্কটি রয়ে গেছে একই জায়গায়: সবার জন্য একই আইন কি সত্যিই সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করবে, নাকি অভিন্নতার নামে ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের একটি অংশ ক্রমেই সংকুচিত হবে?

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৭:৩৩
কিম ও ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত
কিমের সঙ্গে বৈঠক চান ট্রাম্প, জবাবে ১০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগের পরদিনই উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূলের সাগরে প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।   বৃহস্পতিবার পিয়ংইয়ংয়ের আশপাশের এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয় বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব দিকের জলসীমায় গিয়ে পড়ে।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়া নির্ধারিত সময়ের ছয় দিন আগেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের পেছনে কিমের সঙ্গে তার ভালো ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন।   তবে উত্তর কোরিয়া এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট মনে করেনি। কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, মহড়ার সময় ও পরিসর কমালেও এর ‘উসকানিমূলক’ চরিত্র বদলায়নি। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের যোগাযোগের দাবিও অস্বীকার করেছেন।   তবে কিম ইয়ো জং একইসঙ্গে বলেছেন, ট্রাম্প ও তার ভাইয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনো ভালো। বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে পিয়ংইয়ং পুরোপুরি আলোচনার দরজা বন্ধ করেনি, বরং ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আরও বড় ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে।   যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পূর্বশর্ত ছাড়াই আলোচনায় বসার আগ্রহ জানিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এখনো উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণকে তার নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরে রেখেছে। অন্যদিকে পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত বৈরী নীতি পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছে।   ট্রাম্প ও কিম এর আগে তিনবার সরাসরি বৈঠক করেছেন। ২০১৯ সালে ভিয়েতনামের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের পারমাণবিক আলোচনা কার্যত থেমে যায়। এবার নতুন করে বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হলেও উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা দেখিয়ে দিচ্ছে, সম্ভাব্য আলোচনার আগে দুই দেশের অবস্থানের বড় ব্যবধান এখনো রয়ে গেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৭:৮