আন্তর্জাতিক

গ্রিন কার্ডে নতুন নিয়ম, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতীয়দের যা জানা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ৮:১৫
প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত
প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। এর আওতায় আবেদনকারীর সরকারি সুবিধা নেওয়ার ইতিহাসের পাশাপাশি বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা এবং শিক্ষা ও দক্ষতাও বিবেচনা করবে ইউএসসিআইএস।

 

নতুন নিয়মটি ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেন আমলের ২০২২ সালের ‘পাবলিক চার্জ’ কাঠামো বাতিল করার পর চালু করছে।ইউএসসিআইএসের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের নিজেদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সক্ষমতা থাকা উচিত এবং তারা যেন দীর্ঘমেয়াদে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পড়েন, সেটিই নতুন নীতির মূল লক্ষ্য।

 

ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয়দের বড় একটি অংশ কর্মসংস্থানভিত্তিক ও পরিবারভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এসব শ্রেণির অনেক আবেদনকারী নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ পরীক্ষার আওতায় পড়তে পারেন।

 

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আয়ভিত্তিক কিছু সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়ও আবেদনকারীর ‘পাবলিক চার্জ’ মূল্যায়নে বিবেচিত হতে পারে। এর মধ্যে আয় সহায়তার জন্য নগদ অর্থ, আবাসন সহায়তা, খাদ্য সহায়তা, কলেজের আর্থিক সহায়তা এবং একই ধরনের অন্যান্য সুবিধা থাকতে পারে।

 

তবে কোনো ভারতীয় আবেদনকারী সরকারি সুবিধা নিয়েছেন মানেই তার গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন নয়। ইউএসসিআইএস স্পষ্ট করেছে, প্রয়োজনীয় আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার হলফনামা যথেষ্ট না থাকার বিষয়টি ছাড়া অন্য কোনো একক কারণ একাই কাউকে ভবিষ্যতে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য যথেষ্ট হবে না।

 

বরং কর্মকর্তারা আবেদনকারীর পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন। পাঁচটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাবে: বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, সম্পদ ও আর্থিক পরিস্থিতি এবং শিক্ষা ও দক্ষতা।

 

অর্থাৎ একজন ভারতীয় আবেদনকারীর আয় ভালো হলেও বয়স বা স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি, পারিবারিক নির্ভরশীলতা কিংবা সম্পদের অবস্থাও সামগ্রিক মূল্যায়নে ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়ার কোনো ইতিহাস থাকলেও সেটিকে অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

 

তবে সব ভারতীয় গ্রিন কার্ড আবেদনকারী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী, বিশেষ অভিবাসী অপ্রাপ্তবয়স্ক, সাময়িক সুরক্ষার আবেদনকারী, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট অপরাধের শিকার ব্যক্তিসহ কয়েকটি অভিবাসন শ্রেণি ‘পাবলিক চার্জ’ পরীক্ষার বাইরে থাকবে।

 

পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য আত্মীয়ের আবেদন এই পরীক্ষার আওতায় পড়তে পারে। কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসীদের মধ্যেও বিভিন্ন শ্রেণি নতুন নিয়মের আওতাভুক্ত হবে।

 

ভারতীয়দের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন নিয়মটি জাতীয়তা দেখে আলাদা কোনো পরীক্ষা চালু করছে না। অর্থাৎ ভারতীয়দের জন্য আলাদা শর্ত নয়, একই ‘পাবলিক চার্জ’ কাঠামো প্রযোজ্য হবে সব যোগ্য আবেদনকারীর ক্ষেত্রে।

 

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদ, পরিবার, শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে কোন সরকারি সুবিধা নেওয়া হয়েছে এবং সেটি আবেদনকারীর নির্দিষ্ট অভিবাসন শ্রেণির ক্ষেত্রে কীভাবে বিবেচিত হতে পারে, তা বুঝে আবেদন করা জরুরি।

 

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয়দের জন্য শুধু আবেদন জমা দেওয়াই নয়, নিজেদের সামগ্রিক আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতির সঠিক তথ্য উপস্থাপনও আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
গ্রেসিয়া গুয়াদালুপে ওরান্তেস মেন্দোজার ছবি:সংগৃহীত
হেভি ফিল্টারের ছবিতে নিখোঁজ নারী, বাস্তব চেহারা মেলাতে গিয়ে বিপাকে পুলিশ

মেক্সিকোর চিয়াপাসে নিখোঁজ এক নারীকে খুঁজতে প্রকাশ করা পোস্টারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নেওয়া অতিরিক্ত ফিল্টারযুক্ত ছবি ব্যবহারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৩০ বছর বয়সী গ্রেসিয়া গুয়াদালুপে ওরান্তেস মেন্দোসার ওই ছবিতে এত বেশি ডিজিটাল পরিবর্তন ছিল যে, বাস্তবে তার চেহারার সঙ্গে ছবিটির মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   গ্রেসিয়া গত ১২ এপ্রিল চিয়াপাসের ওকোসোকোয়াউতলা দে এস্পিনোসা এলাকায় নিখোঁজ হন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের খবর জানানোর পর কর্তৃপক্ষ দ্রুত অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। তার সন্ধানে দেশটির নিখোঁজ নারীদের খুঁজে বের করার জন্য ব্যবহৃত আলবা প্রোটোকলের আওতায় অনুসন্ধান চালানো হয়। সরকারি অনুসন্ধান নথিতেও তার বয়স ৩০ বছর এবং নিখোঁজের তারিখ ১২ এপ্রিল উল্লেখ করা হয়েছে।   অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গ্রেসিয়ার ছবি দিয়ে পোস্টার ও সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হয়। তবে ব্যবহৃত ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নেওয়া ছিল এবং তাতে বিভিন্ন ফিল্টার ও ডিজিটাল সম্পাদনা করা হয়েছিল। ফলে ছবিতে তার মুখের বৈশিষ্ট্য ও চেহারায় বাস্তবের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায় বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।   নিখোঁজ ব্যক্তিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ছবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, এমন ছবি ব্যবহার করে কীভাবে সাধারণ মানুষ বা অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা নিখোঁজ ব্যক্তিকে সহজে শনাক্ত করবেন। বিশেষ করে ফিল্টারের কারণে মুখের গঠন, ত্বকের রং ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বদলে গেলে বাস্তব চেহারার সঙ্গে ছবি মেলানো আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।   তবে ঘটনাটির শেষ পরিণতি ছিল স্বস্তির। নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর গ্রেসিয়াকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়। ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে চিয়াপাসের ভ্যালেস অঞ্চলের একটি সড়কে নিরাপদ অবস্থায় পাওয়া যায়। সরকারি কর্তৃপক্ষও তার সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং অনুসন্ধানে সহায়তার জন্য নাগরিকদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে।   সরকারি অনুসন্ধান নথিতে গ্রেসিয়ার শারীরিক বৈশিষ্ট্যও উল্লেখ করা হয়েছিল, যার মধ্যে উচ্চতা, গায়ের রং, চুলের ধরন এবং গালে থাকা ফ্রেকলসের তথ্য ছিল। এ ধরনের বর্ণনা নিখোঁজ ব্যক্তিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব চেহারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি থাকলে অনুসন্ধান আরও কার্যকর হতে পারে।   গ্রেসিয়াকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি ফিরলেও ঘটনাটি নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবি ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ফিল্টারযুক্ত ছবি স্বাভাবিক হলেও নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে এমন ছবি ব্যবহার করা হলে তা যেন তার প্রকৃত চেহারা শনাক্ত করার কাজে বাধা না দেয়, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।   নিখোঁজ ব্যক্তির ক্ষেত্রে দ্রুত ও নির্ভুল শনাক্তকরণ অনেক সময় অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ছবি নেওয়ার ক্ষেত্রে ছবিটির সাম্প্রতিকতা এবং বাস্তব চেহারার সঙ্গে মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা অনুসন্ধান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে পারে।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ৯:১২
কুয়েতি পাসপোর্ট ছবি:সংগৃহীত

কুয়েতে ভিসার স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা বন্ধ হচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর

সারা আল-খাওয়াস ছবি:সংগৃহীত

পশ্চিম সাসেক্সের সাগরে ব্রিটিশ ফিলিস্তিনি কিশোরী ও তার পরিবারের মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত

গ্রিন কার্ডে নতুন নিয়ম, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতীয়দের যা জানা জরুরি

আহমেদাবাদে একটি গণবিবাহ অনুষ্ঠানে ছবি:সংগৃহীত
ধর্মীয় আইন বনাম অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, উত্তরাখণ্ডে নতুন করে বাড়ছে বিতর্ক

ভারতের উত্তরাখণ্ডে ধর্মভেদে আলাদা পারিবারিক আইন তুলে দিয়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পর দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক ও লিভ-ইন সম্পর্কের মতো বিষয়ে একই আইনি কাঠামো চালুর এই উদ্যোগকে বিজেপি সরকার সমতা ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশের প্রশ্ন, সবার জন্য একই আইন করতে গিয়ে তাদের ধর্মীয় ও পারিবারিক রীতিনীতির জায়গা কতটা থাকছে।   উত্তরাখণ্ড ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল পাস করে। পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি আইনটি কার্যকর হয়। স্বাধীনতার পর ভারতে কোনো রাজ্যে এ ধরনের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার ক্ষেত্রে উত্তরাখণ্ডই প্রথম।   আইনটির মূল লক্ষ্য হলো ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা ব্যক্তিগত আইন না রেখে নাগরিকদের পারিবারিক বিষয়ে একটি অভিন্ন নিয়ম চালু করা। উত্তরাখণ্ড সরকারের সরকারি ব্যাখ্যায়, নতুন বিধিতে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক ও উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার মতো বিষয়ে ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে একই কাঠামো প্রযোজ্য।   বিয়ের ক্ষেত্রেও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়েও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধান রয়েছে। লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নিবন্ধন ও নির্দিষ্ট তথ্য জানানোর নিয়ম রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালে রয়টার্সের প্রতিবেদনে আইনটির এসব বিধান নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছিল।   সমর্থকদের প্রধান যুক্তি হলো, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা আইন থাকলে নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিয়ে, বিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে একটি পরিষ্কার আইনি কাঠামো তৈরি করবে। ২০২৬ সালেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে সমর্থকেরা এটিকে সমতা, ন্যায়বিচার ও লিঙ্গসমতার হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছেন।   কিন্তু সমালোচকদের আপত্তি মূলত অন্য জায়গায়। তাদের প্রশ্ন, ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনের সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলোকে রাষ্ট্রীয় অভিন্ন আইনের আওতায় এনে কি সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে? অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডও ২০২৬ সালে উত্তরাখণ্ডসহ নতুন অভিন্ন দেওয়ানি বিধির উদ্যোগগুলোর বিরোধিতা করে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন তুলেছে।   এই জায়গাতেই দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উত্তরাখণ্ডের মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন প্রবীণ নেতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রশ্ন করা হয়েছে, ধর্মীয় বিধান ও রাষ্ট্রীয় আইনের মধ্যে সংঘাত তৈরি হলে একজন মুসলিম কীভাবে একই সঙ্গে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং রাষ্ট্রের আইন মেনে চলবেন। তবে মুসলিমরা ভবিষ্যতে ভারতের মূলধারা থেকে আরও দূরে সরে যাবে, এমন বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখা যাবে না। এটি দ্য ইকোনমিস্টের একটি বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে সতর্কতা।   আইনটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি শুধু মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য নয়। উত্তরাখণ্ড সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, একই দেওয়ানি কাঠামো রাজ্যের সব নাগরিকের ওপর প্রযোজ্য। তবে নির্দিষ্ট কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে ‘সবার জন্য একই আইন’ ধারণাটিও বাস্তবে কিছু সাংবিধানিক ব্যতিক্রমের সঙ্গে প্রয়োগ করা হচ্ছে।   এদিকে উত্তরাখণ্ডের অভিজ্ঞতা ভারতের অন্য রাজ্যগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালে গুজরাট ও আসাম অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পথে এগিয়েছে, আর মধ্যপ্রদেশও এ বছর নিজস্ব অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল পাস করেছে। রাজস্থানও ২০২৬ সালের আগস্টে একই ধরনের বিল বিধানসভায় তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   ফলে উত্তরাখণ্ডের অভিজ্ঞতা এখন শুধু একটি রাজ্যের আইন নিয়ে বিতর্ক নয়। এটি ভারতের ভবিষ্যৎ পারিবারিক আইন ব্যবস্থার বড় একটি পরীক্ষাও হয়ে উঠেছে। একদিকে প্রশ্ন উঠছে, ধর্মভেদে আলাদা ব্যক্তিগত আইন তুলে দিয়ে অভিন্ন নিয়ম চালু করলে নাগরিকদের সমতা কতটা বাড়বে। অন্যদিকে প্রশ্ন থাকছে, সেই সমতার পথে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু পরিচয়ের জন্য কতটা জায়গা রাখা হবে।   দেড় বছরের বেশি সময় পরও তাই উত্তরাখণ্ডের অভিন্ন দেওয়ানি বিধিকে ঘিরে মূল বিতর্কটি রয়ে গেছে একই জায়গায়: সবার জন্য একই আইন কি সত্যিই সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করবে, নাকি অভিন্নতার নামে ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের একটি অংশ ক্রমেই সংকুচিত হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ৭:৩৩
কিম ও ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত

কিমের সঙ্গে বৈঠক চান ট্রাম্প, জবাবে ১০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

ইরানের নতুন হুমকি ট্রাম্প প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত

ট্রাম্পের নতুন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’, ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞার হুমকি

ফ্রান্সের শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে দীর্ঘ ১৮ বছর বসবাস করা ইরানি নাগরিক মেহরান কারিমি নাসেরি। ছবি: সংগৃহীত

১৮ বছর বন্দী হয়ে জীবন কাটান বিমানবন্দরে, অবশেষে সেখানেই মৃত্যু

মেকআপ ছাড়াই মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন ২০ বছর বয়সী মেলিসা রউফ। ছবি: সংগৃহীত
মেকআপ ছাড়া সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা আয়োজন করে ইতিহাস গড়ল ইংল্যান্ড

মুখে কোনো মেকআপ না দিয়েই মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন মেলিসা রউফ। ২০ বছর বয়সী এই তরুণী প্রতিযোগিতার ৯৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে পুরো প্রতিযোগিতায় মেকআপ ছাড়া অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত সেরা ১৬ জনের তালিকায় জায়গা করে নেন।   রউফের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল নিজের স্বাভাবিক চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেকআপ করতেন। নিজের স্বাভাবিক চেহারায় বাইরে যেতে স্বস্তি বোধ করতেন না তিনি।   তবে ২০২২ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে সেই অভ্যাস বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন রউফ। মিস লন্ডন প্রতিযোগিতায় কোনো মেকআপ ছাড়াই অংশ নেন তিনি। সেখানে ‘বের ফেস টপ মডেল’ পর্বে জয় পান, যা তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।   এরপর মিস ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে আরও বড় সিদ্ধান্ত নেন রউফ। পুরোপুরি মেকআপ ছাড়া মঞ্চে হাজির হন তিনি। প্রতিযোগিতার দীর্ঘ ৯৪ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রতিযোগী, যিনি মেকআপ ছাড়াই পুরো প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।   তবে স্বাভাবিক চেহারায় মঞ্চে ওঠার কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েননি রউফ। বরং ৪০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা ১৬ জনের একজন হিসেবে জায়গা করে নেন তিনি।   রউফ জানান, এই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝতে সাহায্য করেছে যে সুন্দর দেখাতে মেকআপ বা ফিল্টারের প্রয়োজন নেই। নিজের স্বাভাবিক চেহারা নিয়েই আত্মবিশ্বাসী হওয়া সম্ভব। তার এই বার্তা বিশেষ করে তরুণীদের নিজেদের মতো করে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে উৎসাহিত করেছে।   পরবর্তীতে মেকআপ ছাড়া সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ধারণাটিও আরও জনপ্রিয় হয়। রউফ নিজেও পরে এমন একটি প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি সম্পাদনা, ফিল্টার এবং নিখুঁত দেখানোর চাপ যখন মানুষের স্বাভাবিক চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে, তখন রউফের সিদ্ধান্ত ছিল নিজের চেহারাকে লুকিয়ে না রেখে স্বাভাবিকভাবেই মঞ্চে দাঁড়ানোর এক ব্যতিক্রমী বার্তা।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ২:২৭
বেলজিয়ামের প্রিন্স লরেন্ট তাঁর ২৬ বছর বয়সী সন্তান ক্লেমঁ ভান্দেনকার্কহোভেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

২৬ বছরের সাবেক গাড়ি বিক্রেতা এখন বেলজিয়ামের রাজপুত্র! বাবার স্বীকৃতিতে পেলেন উত্তরাধিকার অধিকার

২৭ বার সন্তান জন্ম দিয়ে মোট ৬৯ সন্তানের মা হওয়া রাশিয়ার ইতিহাসখ্যাত নারী ভ্যালেন্টিনা ভাসিলিয়েভা। ছবি: সংগৃহীত

২৭ বার সন্তান জন্ম দিয়ে ৬৯ সন্তানের মা, ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া নারী তিনি

প্রয়াত অধ্যাপক জেসন আরডের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাথান কোফনাস সাসপেন্ড। ছবি: সংগৃহীত

চুরির অভিযোগে আত্মহত্যা করা ক্যামব্রিজ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা একাডেমিক সাসপেন্ড

0 Comments