সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
আলোচিত মন্ত্রীরাসভার সদস্যরা।ছবি:সংগৃহীত
মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও চারজন, কে পাচ্ছেন কোন মন্ত্রণালয়?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে আরও চারজনকে যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়াবেন বলে মন্ত্রিপরিষদ সূত্রে জানা গেছে।   নতুন করে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।   তবে চারজনের দায়িত্ব ও দপ্তর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। সরকারি ও দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাদের দুজনই বিভিন্ন মাধ্যমে এ ধরনের আলোচনার কথা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন, তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।   আবদুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে আন্দালিব রহমান পার্থকে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   এর পাশাপাশি সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে রদবদলের বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিমান, কৃষি, খাদ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্থানীয় সরকার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সম্ভাবনার কথা বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। তবে এসব পরিবর্তনও এখনো চূড়ান্ত নয়।   এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে এই ফলাফল পাওয়া যায়।   রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরই মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তার হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পুনর্বণ্টনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনার অংশ হিসেবেও মন্ত্রিসভায় সীমিত পরিবর্তনের আলোচনা চলছে।   তবে নতুন মন্ত্রীদের শপথ এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য দায়িত্বগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৬:৫৮
অভিযুক্ত মা ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ বছরের ছেলেকে হত্যার অভিযোগে মায়ের মানসিক অসুস্থতার দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহামের ৪১ বছর বয়সী অ্যান্ড্রিয়া ফস্টের বিরুদ্ধে ৩ বছরের ছেলেকে হত্যার এবং ২ বছরের আরেক ছেলেকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মামলায় ফস্টের আইনজীবীরা এখন মানসিক অসুস্থতার কারণে দায়ী নন - এমন আবেদন করার উদ্যোগ নিয়েছেন।   ঘটনাটি ঘটে ১২ ফেব্রুয়ারি। ডারহামের চার্টওয়েল কোর্টের বাড়িতে দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর পুলিশ তাদের হাসপাতালে নেয়। সেখানে এক শিশুর মৃত্যু হয়, অন্যজন বেঁচে যায়। ফস্টকে পরদিন প্রথম-ডিগ্রি হত্যা ও প্রথম-ডিগ্রি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।   ঘটনার পর আদালতে ফস্টের স্বামী এরিক ফস্ট জানান, তার স্ত্রী গুরুতর মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্ত্রীকে নিজের ক্ষতি না করার অনুরোধ করেন এবং তাকে একজন যত্নশীল মা হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে পুলিশ এখনো ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য প্রকাশ করেনি।   মামলার পর ফস্ট নিজেও একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে আদালতের নথি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কারাগারে থাকা অবস্থায় একটি আত্মহত্যার চেষ্টায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। পরে তাকে মানসিক চিকিৎসার জন্য নর্থ ক্যারোলাইনার একটি রাষ্ট্রীয় মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়।   মার্চে একজন বিচারক রায় দেন, ফস্ট তখন বিচারের মুখোমুখি হওয়ার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলেন না। তাকে নিবিড় মানসিক চিকিৎসা ও মূল্যায়নের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।   এদিকে ২০ আগস্ট তার আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক অসুস্থতার কারণে দায়ী নন - এমন আবেদন করার উদ্যোগের কথা জানান। এর ফলে মামলাটি আবারও মানসিক স্বাস্থ্য, অপরাধমূলক দায় এবং বিচারিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।   ঘটনাটিকে ম্যাসাচুসেটসের লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধেও সন্তান হত্যার অভিযোগ রয়েছে এবং তার মামলায় মানসিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই চলছে। তবে দুই ঘটনার পরিস্থিতি এক নয় এবং একইভাবে বিচার করা উচিত নয়।   ফস্টের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় তার মানসিক অবস্থা ও অপরাধের জন্য আইনি দায়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৬:৩৭
অভিযুক্ত নারী ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্কের ক্যাপিটলে বোমা হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী আলবানিতে স্টেট ক্যাপিটল ভবনে বোমা হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। জেসিকা বাউইকে ১৯ আগস্ট যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে আটক করা হয়।   মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, বাউই এমন একটি বিস্ফোরক সংগ্রহের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন, যেটি তিনি নিউইয়র্ক স্টেট ক্যাপিটল ও সেখানে থাকা অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের লক্ষ্য করে হামলায় ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।   তদন্তকারীদের দাবি, বাউই কয়েকবার স্টেট ক্যাপিটল এলাকায় গিয়ে ভবনের ছবি তোলেন এবং আইনপ্রণেতারা ভবনের ভেতরে থাকা অবস্থায় হামলার বিষয়ে আলোচনা করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হামলার পর সিরিয়ায় গিয়ে আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাউই অনলাইনে আইএসের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন এবং সংগঠনটির প্রতি আনুগত্যের শপথও প্রচার করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে এফবিআইয়ের গোপন সদস্যরা তাকে বিস্ফোরক ও অন্যান্য অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তা করতে পারে এমন ব্যক্তিদের ভূমিকায় ছিলেন।   তদন্তে যুক্ত ছিল এফবিআই, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস, নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তদন্ত বিভাগ, আলবানি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ও আলবানি পুলিশ।   ২০ আগস্ট বাউইকে ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড, জরিমানা এবং তত্ত্বাবধানে মুক্তির শাস্তি হতে পারে। তবে আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল হামলার কথিত পরিকল্পনা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই এবং স্টেট ক্যাপিটলসহ সরকারি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ অব্যাহত থাকবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৭:৪৩
মরিচ ছবি:সংগৃহীত
জালাপেনো মরিচে সালমোনেলা, যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ অঙ্গরাজ্যে ৪৩১ জন আক্রান্ত

যুক্তরাষ্ট্রে জালাপেনো মরিচের সঙ্গে সম্পর্কিত সালমোনেলা সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব আরও ছড়িয়ে পড়েছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩২ অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৪৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৫৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।   তদন্তে মেক্সিকোর সিনালোয়া অঞ্চলে উৎপাদিত জালাপেনো মরিচকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব মরিচ যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি ও বিতরণ করেছে কোস্ট সিট্রাস ডিস্ট্রিবিউটরস। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তদন্ত এখনো চলছে।   এরই মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় জালাপেনো মরিচ এবং এসব মরিচ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে সালসা, গুয়াকামোলে, পিকো দে গায়ো, স্যুপ মিশ্রণ, স্টাফড মাশরুমসহ বিভিন্ন প্রস্তুত খাবার রয়েছে। টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় ৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে বিক্রি হওয়া কিছু পণ্যও প্রত্যাহারের আওতায় এসেছে।   দেশটির বড় কয়েকটি খুচরা বিক্রেতা ও খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্যেও প্রত্যাহারের ঘোষণা এসেছে। হোল ফুডস, টেলর ফ্রেশ ফুডসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জালাপেনোযুক্ত পণ্য এর আওতায় রয়েছে।   রেস্তোরাঁ খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। তদন্তে আক্রান্তদের বড় একটি অংশ অসুস্থ হওয়ার আগে মেক্সিকান ধাঁচের রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার কথা জানিয়েছে। চিপোটলে ও কিউডোবার মতো বড় রেস্তোরাঁ শৃঙ্খলও আক্রান্ত উৎসের জালাপেনো ব্যবহার বন্ধ করেছে।   সালমোনেলা সংক্রমণে সাধারণত জ্বর, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব ও বমির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হতে পারে।   কর্তৃপক্ষ ভোক্তা ও খাদ্য ব্যবসাগুলোকে প্রত্যাহার করা জালাপেনো বা এসব মরিচ দিয়ে তৈরি পণ্য খাওয়া, বিক্রি বা পরিবেশন না করার নির্দেশ দিয়েছে।   সংশ্লিষ্ট পণ্য ঘরে থাকলে তা ফেলে দেওয়া বা নির্ধারিত নিয়মে ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।তদন্ত ও পণ্য প্রত্যাহার কার্যক্রম এখনো চলমান থাকায় আক্রান্তের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষের আপডেট থেকে বোঝা যাচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৬:৫
ছবি : কোলাজ আমেরিকা বাংলা
১০ মাসের নাতনিকে গাড়িতে রেখেই কাজে চিকিৎসক দাদি, ৮ ঘণ্টা পর মিলল শিশুর মরদেহ

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যে নিজের কর্মস্থলের বাইরে গাড়িতে প্রায় আট ঘণ্টা রেখে দেওয়ার পর ১০ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে তার দাদি, চিকিৎসক স্টেসি ফাজেনবেকার, ভুল করে গাড়িতে রেখেই কাজে চলে গিয়েছিলেন।   মৃত শিশুটির নাম স্কটি গুইন ক্রোওয়েল। ১৩ আগস্ট ম্যাডিসনভিলের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে দাদির গাড়ির পেছনের আসনে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, সেদিন শিশুটিকে সকালে ডে-কেয়ারে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।   ওই দিন কেনটাকিতে তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা আরও ভয়াবহ হয়ে প্রায় ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬১ বছর বয়সী ফাজেনবেকার সকালে শিশুটিকে ডে-কেয়ারে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি শিশুটিকে নিয়ে ডে-কেয়ারে না গিয়ে সরাসরি নিজের কর্মস্থলে চলে যান। বিকেল ৪টার দিকে শিশুটির বাবা তাকে নিতে গেলে ডে-কেয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, সেদিন সকালে স্কটিকে সেখানে আনা হয়নি।   এরপর পরিবার জানতে পারে, শিশুটি দাদির গাড়িতেই রয়ে গেছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ফাজেনবেকার সহকর্মীদের নিয়ে দ্রুত গাড়ির কাছে ছুটে যান। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।   ম্যাডিসনভিল পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়ে যায়।   পুলিশ জানিয়েছে, ফাজেনবেকারের মাদক ও অ্যালকোহল পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসবে বলে তারা ধারণা করছে না। শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত করা হবে।   এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগপত্র দাখিল হয়নি। তবে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে গ্র্যান্ড জুরির কাছে অভিযোগ উপস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে।   ফাজেনবেকার প্রায় এক বছর আগে মেয়ে ও নাতনির কাছাকাছি থাকার জন্য ম্যাডিসনভিলে চলে এসেছিলেন। পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান স্কটি ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জন্ম নেয়।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৬:২১
শিশুটির ছবি:সংগৃহীত
টেক্সাসে বাবার সঙ্গে ৫ বছরের শিশুকেও আটক করে অভিবাসন আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে ফুটবল খেলতে যাওয়ার পথে বাবার সঙ্গে ৫ বছরের এক শিশুকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির নাম লিয়াম তাদেও। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এবং স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনাটি সামনে এসেছে।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট রোববার অস্টিনে গাড়ি থামানোর পর লিয়াম ও তার বাবাকে আটক করা হয়। পরে তাদের দক্ষিণ টেক্সাসের ডিলি এলাকার একটি পারিবারিক অভিবাসন আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়। অস্টিনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমও কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসারের বক্তব্যের ভিত্তিতে লিয়ামকে ডিলি কেন্দ্রে আটকের তথ্য প্রকাশ করেছে।   পরিবার জানিয়েছে, আটকের সময় লিয়াম তার বাবার সঙ্গে ফুটবল খেলায় যাচ্ছিল। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে শিশুটিকে কাঁদতে দেখা যাচ্ছে বলে স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আটককেন্দ্র থেকে লিয়াম তার মাকে ফোন করে তাকে ভালোবাসে ও মিস করছে বলেও জানানো হয়েছে।   চলতি সপ্তাহেই লিয়ামের কিন্ডারগার্টেনে যাওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়টিকে সামনে এনে টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসার শিশুটিকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, লিয়ামের এই সময়ে কিন্ডারগার্টেনে থাকার কথা, আটককেন্দ্রে নয়।   কাসার আরও দাবি করেন, শিশুটিকে ফুটবল খেলতে যাওয়ার পথেই আটক করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে ডিলি আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তিনি শুধু লিয়াম নয়, আটক থাকা অন্যান্য শিশুদেরও মুক্তি এবং ডিলির পারিবারিক আটককেন্দ্র বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।   অস্টিনের স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিয়ামকে কখন এবং শহরের ঠিক কোন এলাকায় আটক করা হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কাছেও এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল; প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত বিভাগটি কোনো জবাব দেয়নি।   ঘটনাটি নিয়ে অভিবাসন আইনজীবী রেনাটা কাস্ত্রোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, শিশুদের স্বাভাবিক জীবন স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে আটক করা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তবে এটি তার ব্যক্তিগত মতামত, সরকারি তদন্তের ফল নয়।   ডিলি আটককেন্দ্রটি দক্ষিণ টেক্সাসে অবস্থিত এবং সেখানে অভিবাসন-সংক্রান্ত মামলায় পরিবার ও শিশুদের আটক রাখা হয়। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে লিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটিও এখনো অনিশ্চিত।   এদিকে ঘটনাটি নিয়ে আরেক ৫ বছরের শিশু লিয়াম রামোসের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। মিনেসোটায় আটক হওয়ার পর তাকেও ডিলি কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। অস্টিনের কংগ্রেসম্যান কাসারও দুই ঘটনার নাম ও বয়সের মিলের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে দুটি ঘটনা আলাদা।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লিয়াম ও তার বাবাকে ঠিক কোন আইনি কারণে আটক করা হয়েছে, আটকের সময় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং তাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি অবস্থান কী এসব বিষয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তাই পরিবারের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও কংগ্রেসম্যানের দাবির বাইরে কোনো তথ্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৫:৩২
ইরানের নতুন হুমকি ট্রাম্প প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত
ট্রাম্পের নতুন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’, ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞার হুমকি

ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা এবং দেশটির অর্থনীতিকে সহায়তা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।   ট্রাম্প এই নতুন উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর লক্ষ্য ইরানের তেল বিক্রি, তেল পাচার, আর্থিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করা। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলোকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুমকি দেওয়া হয়েছে।   এই পদক্ষেপের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে ইরানের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। বিশেষ করে চীন ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।   এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞার হুমকির প্রভাব বিশ্ববাজারে দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য কমলেও সপ্তাহজুড়ে প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।   নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে ওয়াশিংটন দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত সংকটের সমাধানে তেহরানকে বাধ্য করতে চাইছে। তবে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফল পুরোপুরি পাওয়া যায়নি তাই নতুন পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৫:১৫
ক্যালিফোর্নিয়ার বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসে ইতিহাস গড়লেন আয়েশা ওয়াহাব। ছবি: সংগৃহীত
কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে নির্বাচিত আয়েশা ওয়াহাব

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আয়েশা ওয়াহাব। ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের বিশেষ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেলিসা হার্নান্দেজকে হারিয়ে তিনি এই ইতিহাস গড়েন।   বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিশেষ নির্বাচনের সব ভোট গণনা শেষে ওয়াহাব ৫৩ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। এই ফলের মাধ্যমে কংগ্রেসে নতুন ইতিহাস তৈরি হলো।   এই আসনটি সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলের পদত্যাগের পর শূন্য হয়। তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর তিনি পদ ছেড়ে দেন। সেই শূন্য আসন পূরণ করতেই বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।   আয়েশা ওয়াহাব এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম এবং প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। এবার কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন মাইলফলক তৈরি করলেন।   ওয়াহাব ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে তুলনামূলকভাবে প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। ফিলিস্তিনের প্রতি তার সমর্থনও নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।   অন্যদিকে মেলিসা হার্নান্দেজ ইসরায়েলপন্থী অবস্থান নিয়ে প্রচার চালান। তার নির্বাচনী প্রচারে আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দেয়। পলিটিকোর তথ্য অনুযায়ী, হার্নান্দেজের প্রচারে প্রায় ৩০ লাখ ডলার সহায়তা দেয় সংগঠনটি।   জুলাই থেকে দুই প্রার্থীর প্রচারে মোট প্রায় ৪০ লাখ ডলার ব্যয় হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩৭ লাখ ডলার হার্নান্দেজের প্রচারে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   জয়ের পর ওয়াহাব বলেন, নির্বাচনী এলাকায় বিপুল পরিমাণ বাইরের অর্থ ব্যয় এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মধ্যেও ভোটাররা তাকে সমর্থন করেছেন। তার মতে, ভোটাররা প্রচারের বিভিন্ন দাবির পরিবর্তে নিজেদের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   তবে এই বিশেষ নির্বাচনের ফলেই দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হচ্ছে না। আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনে আবারও ওয়াহাব ও হার্নান্দেজ মুখোমুখি হবেন।   হার্নান্দেজ জানিয়েছেন, নতুন করে নির্ধারিত কংগ্রেসনাল মানচিত্রে ১৪তম ডিস্ট্রিক্টে প্রায় ২৬ হাজার নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে। তার দাবি, এর ফলে নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি ওয়াহাবের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে জয় পাওয়ার সুযোগ দেখছেন।   বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আয়েশা ওয়াহাব এখন কংগ্রেসে আফগান-আমেরিকান প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। তবে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনেও তাকে নিজের আসন ধরে রাখার জন্য আবারও ভোটারদের সমর্থন চাইতে হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৫:৮
সাবেক কংগ্রেসম্যানের বাড়িতে এফবিআইয়ের তল্লাশি। ছবি:সংগৃহীত
যৌন অসদাচরণের অভিযোগে সাবেক কংগ্রেসম্যানের বাড়িতে এফবিআইয়ের অভিযান

সাবেক মার্কিন কংগ্রেসম্যান এরিক সোয়ালওয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন অসদাচরণের অভিযোগের তদন্তে তার ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, একই তদন্তের অংশ হিসেবে সোয়ালওয়েলের ইলেকট্রনিক ডিভাইসও জব্দ করা হয়েছে।   তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোয়ালওয়েলের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করার পর তার ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। ঘটনাগুলো গত সপ্তাহের শেষ দিকে ঘটেছে।   ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে চার নারী সোয়ালওয়েলের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ তোলেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে যৌন নিপীড়ন এবং অনিচ্ছাকৃত যৌন ছবি পাঠানোর দাবিও রয়েছে। সোয়ালওয়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি নিজের কিছু আচরণকে ‘বিচারবোধের ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করলেও অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা জানিয়েছেন।   অভিযোগ সামনে আসার পর সোয়ালওয়েল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদে নির্বাচনের প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়ান এবং কংগ্রেসের সদস্যপদও ছেড়ে দেন। তার পদে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্য সিনেটর আয়েশা ওয়াহাব বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।   এখন এফবিআইয়ের তল্লাশি ও ডিভাইস জব্দের মাধ্যমে তদন্ত আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সোয়ালওয়েলের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বা তিনি অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমন তথ্য নেই। এফবিআই ও বিচার বিভাগও তদন্ত নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৫:৬
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় একটি চার্টার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা আট আরোহীর সবাই নিহত। ছবি: সংগৃহীত
আলাস্কায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, চার্টার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৮ আরোহী

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে একটি চার্টার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এতে থাকা আটজনই নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে পশ্চিম আলাস্কার একটি দুর্গম রাডার কেন্দ্রের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয় বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে সিএনএন।   সেসনা ৪৪১ মডেলের বিমানটি আলাস্কার অ্যাংকারেজ থেকে প্রায় ৪৫০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কেপ নিউএনহামের উদ্দেশে যাচ্ছিল। গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর পরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয় বলে প্রাথমিক তথ্যে জানিয়েছে ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন।   আলাস্কান কমান্ড জানিয়েছে, বিমানটি ছিল বেসামরিকভাবে চুক্তিবদ্ধ একটি ফ্লাইট। এতে মোট আটজন ছিলেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং কেউ বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত করে।   তবে বিমানটি কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড দুর্ঘটনাটি তদন্ত করবে। তদন্তের নেতৃত্ব দেবে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড।   কেপ নিউএনহামের ওই স্থাপনায় শুধু সামরিক বিমান এবং অনুমোদিত চার্টার বিমান অবতরণ করতে পারে। দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে বিমান চলাচলও বিশেষ অনুমতির আওতায় পরিচালিত হয়।   দুর্ঘটনায় আটজনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন মার্কিন বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল রবার্ট ডেভিস। তিনি বলেন, এটি সামরিক পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ক্ষতি।   তিনি আরও বলেন, নিহতরা কঠিন পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা নিবেদিতপ্রাণ পেশাজীবী ছিলেন।   বিমানটিতে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাদের স্বজনদের আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর খবর জানানোর পর নাম প্রকাশ করা হবে বলে আলাস্কান কমান্ড জানিয়েছে।   দুর্ঘটনার পর তদন্তকারীরা বিমানটির গতিপথ, আবহাওয়া, উড্ডয়ন পরিস্থিতি এবং যান্ত্রিক কোনো সমস্যা ছিল কি না, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখবেন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৪:৫৮
২৫ বছরের অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা ও বিভিন্ন ব্যয়ের প্রণোদনায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ রেকর্ড ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ, বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গত ২৫ বছরে যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা ব্যয়, করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকারি প্রণোদনা এবং দীর্ঘদিনের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতার কারণে দেশটির ঋণ দ্রুত বেড়েছে।   ২০০১ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ছিল ৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০০৮ সালে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং কর কমানোর প্রভাবে ঋণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে বৈশ্বিক আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিও ঋণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।   ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ২০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এরপর করোনা মহামারির সময় অর্থনীতি সচল রাখতে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা দেওয়া হয়। এর ফলে ২০২২ সালের শুরুতে দেশটির ঋণ ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে।   এরপরও প্রতিরক্ষা ও সরকারি ব্যয়, কর-ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়তে থাকায় ঋণের পরিমাণ কমেনি। ২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ৩৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। আগস্টে তা ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।   অর্থাৎ মাত্র সাড়ে চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ৩০ ট্রিলিয়ন থেকে বেড়ে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ঋণের পাশাপাশি সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বড় চাপ তৈরি করছে। উচ্চ সুদের হার ও বিপুল ঋণের কারণে সরকারের ঋণ পরিচালনার খরচ ক্রমেই বাড়ছে।   এদিকে ঋণ বাড়ার প্রভাব মার্কিন সরকারি বন্ডের বাজারেও দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়েছে। উচ্চ সরকারি ঘাটতি, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং করপোরেট ঋণ বৃদ্ধিও বাজারে চাপ তৈরি করছে।   এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ট্রেজারি দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বাজারে সাময়িক স্বস্তি এলেও ঋণের মূল কারণগুলো সমাধান না হলে দীর্ঘমেয়াদে চাপ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   দায়িত্বশীল ফেডারেল বাজেট কমিটির প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিস সতর্ক করেছেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ শুধু সরকারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপরও পড়ে। ঋণ বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে, সরকারের অন্যান্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমতে পারে এবং নতুন সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের এই নতুন মাইলফলক দেশটির দীর্ঘদিনের বাজেট ঘাটতি ও ঋণনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৪:৫০
ফ্রান্সের শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে দীর্ঘ ১৮ বছর বসবাস করা ইরানি নাগরিক মেহরান কারিমি নাসেরি। ছবি: সংগৃহীত
১৮ বছর বন্দী হয়ে জীবন কাটান বিমানবন্দরে, অবশেষে সেখানেই মৃত্যু

ফ্রান্সের প্যারিসে শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরের টার্মিনালকে ১৮ বছর নিজের বাড়ি বানিয়ে ফেলেছিলেন ইরানি নাগরিক মেহরান কারিমি নাসেরি। ১৯৮৮ সালে বিমানবন্দরে আটকে পড়ার পর দীর্ঘদিন সেখানেই বসবাস করেন তিনি। তার অদ্ভুত জীবনকাহিনি পরে হলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘দ্য টার্মিনাল’-এর অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।   নাসেরি ১৯৮৮ সালের আগস্টে শার্ল দ্য গল মানবন্দরে পৌঁছান। এর আগে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে আইনি জটিলতার মধ্য দিয়ে বেশ কয়েক বছর কাটিয়েছিলেন। প্যারিসে এসে তিনি দাবি করেন, তার পরিচয়পত্র ও শরণার্থী সনদ হারিয়ে গেছে বা চুরি হয়েছে। ফলে ফ্রান্সে প্রবেশের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার হাতে ছিল না। একই সঙ্গে অন্য কোনো দেশও তাকে গ্রহণ করতে রাজি হচ্ছিল না।   এই জটিল অবস্থায় বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১-ই হয়ে ওঠে তার আশ্রয়। দিন গড়াতে গড়াতে সপ্তাহ, মাস পেরিয়ে বছর চলে যায়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৮ বছর সেখানেই থেকে যান নাসেরি।   টার্মিনালের একটি লাল প্লাস্টিকের বেঞ্চ ছিল তার দীর্ঘদিনের বিছানা। বিমানবন্দরের কর্মীদের ব্যবহৃত গোসলের সুবিধা তিনি ব্যবহার করতেন। সময় কাটত বই পড়া, লেখালেখি ও নিজের ডায়েরি লিখে। বিমানবন্দরের কর্মীরাও ধীরে ধীরে তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তারা তাকে ‘স্যার আলফ্রেড’ নামে ডাকতে শুরু করেন।   প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো যাত্রী ওই টার্মিনাল দিয়ে যাতায়াত করতেন। তাদের অনেকের কাছেই নাসেরি হয়ে উঠেছিলেন এক পরিচিত মুখ। কেউ কৌতূহলবশত তার সঙ্গে কথা বলতেন, কেউ আবার বিমানবন্দরে বসবাসকারী এই অদ্ভুত মানুষটির গল্প শুনতে থামতেন।   তবে নাসেরির জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল, পরবর্তী সময়ে তার বিমানবন্দর ছাড়ার আইনগত সুযোগ তৈরি হলেও তিনি আর বের হননি। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি বেলজিয়ামে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি পান। পরে ফ্রান্সেও তার জন্য আইনি বসবাসের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন বিমানবন্দরে থাকার পর সেটিই যেন তার পরিচিত পৃথিবী হয়ে উঠেছিল।   তার জীবনের এই অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা ১৯৯৩ সালের ফরাসি সিনেমা ‘লস্ট ইন ট্রানজিট’-এর অনুপ্রেরণা দেয়। পরে আরও বেশি পরিচিতি পায় স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত ২০০৪ সালের সিনেমা ‘দ্য টার্মিনাল’। টম হ্যাঙ্কস অভিনীত সিনেমাটিতে একজন মানুষকে বিমানবন্দরে আটকে গিয়ে সেখানেই বসবাস করতে দেখা যায়। নাসেরির জীবনের সঙ্গে সিনেমাটির গল্পের মিল থাকলেও এটি তার জীবনের সরাসরি পুনর্নির্মাণ ছিল না।   ২০০৪ সালেই নাসেরি নিজের স্মৃতিকথা ‘দ্য টার্মিনাল ম্যান’ প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন বিমানবন্দরে বসবাসের কারণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার গল্প ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি একসময় বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন।   ২০০৬ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে শেষ পর্যন্ত শার্ল দ্য গল বিমানবন্দর ছাড়েন নাসেরি। এরপর প্যারিসের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৬ বছর কাটান তিনি।   কিন্তু জীবনের শেষ অধ্যায়েও বিমানবন্দরটি যেন তাকে আবার টেনে নেয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে, বয়স সত্তরের শেষ দিকে, তিনি আবার শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে ফিরে আসেন।   এর মাত্র দুই মাস পর, ১২ নভেম্বর ২০২২ সালে টার্মিনাল ২এফ-এ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মেহরান কারিমি নাসেরি। জীবনের প্রায় দুই দশক যে বিমানবন্দরকে নিজের বাড়ি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেখানেই থেমে যায় তার দীর্ঘ ও অস্বাভাবিক জীবনের গল্প।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৪:৩৫
ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিযোগে টেলর সুইফটের সাবেক প্রেমিক কনর কেনেডিকে ওয়ান্টেড তালিকায় তুলেছে রাশিয়া। ছবি: সংগৃহীত
টেলর সুইফটের সাবেক প্রেমিক কনর কেনেডি আন্তর্জাতিক মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়!

টেলর সুইফটের সাবেক প্রেমিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের ছেলে কনর কেনেডিকে আন্তর্জাতিক মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তুলেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী এই মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে রাশিয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।   রাশিয়ার অভিযোগ, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় কনর ইউক্রেনের ইন্টারন্যাশনাল লিজিয়নে যোগ দিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে রুশ ফৌজদারি আইনের ৩৫৩ ধারার তৃতীয় অংশে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে সশস্ত্র সংঘাতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সাত থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।    তবে কনর নিজেই ২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনে যাওয়ার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনের পরিস্থিতি দেখে তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং দেশটির হয়ে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ইউক্রেনের দূতাবাসে গিয়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিয়নে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন।   কনরের দাবি অনুযায়ী, তিনি নিজের পরিবার ও বন্ধুদের বিষয়টি জানাননি। এমনকি ইউক্রেনে যাওয়ার সময় বাবাকেও জানাননি যে তিনি কোথায় যাচ্ছেন। তার বাবা রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র পরে জানিয়েছিলেন, ছেলে তাকে শুধু জানিয়েছিল যে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আইন প্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছে।   ইউক্রেনে কনরের প্রথম দায়িত্ব ছিল ড্রোন পরিচালনা করা। পরে তিনি মেশিনগান অপারেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন বলে তার বাবা জানিয়েছেন। কনর প্রায় আড়াই মাস ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ফ্রন্টে ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    যুদ্ধে যাওয়ার আগে কনরের কোনো সামরিক অভিজ্ঞতা ছিল না। নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি জানিয়েছিলেন, সময়টা ভয়ংকর হলেও সৈনিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি অর্থবহ ছিল।   কনর কেনেডি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কেনেডি পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত। তবে ২০১২ সালে পপ তারকা টেলর সুইফটের সঙ্গে তার স্বল্পস্থায়ী সম্পর্কের কারণে তিনি আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। ওই বছরের গ্রীষ্মে তাদের সম্পর্ক শুরু হলেও অক্টোবরে বিচ্ছেদ হয়।    বর্তমানে কনর বিনোদনজগতের সঙ্গে নয়, বরং তার ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রহণের কারণে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। রাশিয়ার আদালত তার অনুপস্থিতিতে গ্রেপ্তারের অনুমোদন দিয়েছে এবং এরপরই তাকে আন্তর্জাতিকভাবে খোঁজা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    কনর বর্তমানে ব্রাজিলিয়ান শিল্পী জিউলিয়া বের সঙ্গে বিবাহিত। টেলর সুইফটের সাবেক প্রেমিক হিসেবে একসময় যে ব্যক্তি বিনোদন সংবাদে পরিচিত ছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে তার গোপন অংশগ্রহণের কারণে এখন সেই কনর কেনেডিই রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা নিয়ে নতুন করে শিরোনামে এসেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ৪:২৪
ইউসি বার্কলিতে ভর্তির হারে ক্যালিফোর্নিয়ার সব হাইস্কুলকে ছাড়িয়ে গেছে সান ফ্রান্সিসকোর মিশন হাইস্কুল। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার কোন হাইস্কুল থেকে ইউসি বার্কলিতে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়! তালিকায় চমকপ্রদ তথ্য

ক্যালিফোর্নিয়ার হাইস্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউসি সিস্টেমে ভর্তির নতুন পরিসংখ্যানে চমকপ্রদ চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের ফল অনুযায়ী, সান ফ্রান্সিসকোর মিশন হাইস্কুল ইউসি বার্কলিতে ভর্তির হারে রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি সব হাইস্কুলকে ছাড়িয়ে গেছে।   ইউসি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মিশন হাইস্কুল থেকে ইউসি বার্কলিতে আবেদন করা ৭৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। অর্থাৎ স্কুলটির গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৪৫ শতাংশ। একই সঙ্গে মিশন হাইস্কুলের আবেদনকারীদের গড় জিপিএ ছিল ৩.৯৩, আর যারা ভর্তির সুযোগ পেয়েছে তাদের গড় জিপিএ ছিল ৪.০৮।    মিশন হাইস্কুলের এই সাফল্য আরও উল্লেখযোগ্য, কারণ স্কুলটিতে আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউসি বার্কলিতে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলটি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করছে।    তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফ্রেসনোর এডিসন হাইস্কুল। স্কুলটি থেকে ইউসি বার্কলিতে আবেদন করা ৬২ জনের মধ্যে ২১ জন ভর্তি হয়েছে, যা ৩৪ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হার। এরপর রয়েছে ইউসিএলএর জেফেন একাডেমি, যেখানে ৬১ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১৯ জন ভর্তি হয়েছে এবং গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৩১ শতাংশ।    বে এরিয়ার আরও কয়েকটি হাইস্কুলও ইউসি বার্কলিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। রেডউড সিটির স্ট্যানফোর্ড অনলাইন হাইস্কুলের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ২৭ শতাংশ। অকল্যান্ডের বেসরকারি বিশপ ও’ডাউড হাইস্কুলেও একই হার দেখা গেছে। বার্কলে হাইয়ের হার ছিল ২৩ শতাংশ, এল সেরিটো হাইয়ের ২৩ শতাংশ, হারকিউলিস হাইয়ের ২২ শতাংশ এবং ড্যানভিলের সান রামন ভ্যালি হাইয়ের ২২ শতাংশ।    অন্যদিকে, কিছু স্কুলের শিক্ষার্থীদের ইউসি বার্কলিতে ভর্তির হার ছিল তুলনামূলকভাবে কম। ক্যাম্পবেলের ওয়েস্টমন্ট হাইস্কুলে এই হার ছিল ৪ শতাংশ, এলক গ্রোভের প্লেজ্যান্ট গ্রোভ হাইস্কুলে ৪ শতাংশ এবং ওয়েস্ট স্যাক্রামেন্টোর রিভার সিটি হাইস্কুলে ৫ শতাংশ।   ২০২৫ সালের সামগ্রিক ইউসি ভর্তি চিত্রেও কিছুটা স্বস্তির খবর ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য। রাজ্যের যেসব শিক্ষার্থী ইউসি ক্যাম্পাসে আবেদন করেছিল, তাদের ৭৭ শতাংশের বেশি অন্তত একটি ইউসি ক্যাম্পাসে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতার হার।    তবে ইউসি সিস্টেমের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্যাম্পাসগুলোতে ভর্তি এখনও কঠিন। ২০২৫ সালের হিসাবে ইউসিএলের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৯.৪ শতাংশ এবং ইউসি বার্কলির ১১.৪ শতাংশ। এরপর ইউসি সান দিয়েগোর ২৮.৪ শতাংশ, ইউসি আরভাইনের ২৮.৭ শতাংশ এবং ইউসি সান্তা বারবারার ৩৮.৩ শতাংশ।    বিষয়ভেদেও ভর্তির প্রতিযোগিতায় বড় পার্থক্য রয়েছে। ইউসি বার্কলিতে পাবলিক হেলথ ছিল সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিষয়গুলোর একটি, যেখানে গ্রহণযোগ্যতার হার মাত্র ২ শতাংশ। অন্যদিকে আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজে এই হার ছিল ২৫ শতাংশ। ইউসিএলে নার্সিংয়ে ভর্তি সবচেয়ে কঠিন ছিল, গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল মাত্র ১ শতাংশ।    বে এরিয়ার আরও কিছু হাইস্কুল ইউসি মার্সেড ও ইউসি রিভারসাইডে প্রায় শতভাগ ভর্তি সাফল্য দেখিয়েছে। ইউসি মার্সেডে সান ফ্রান্সিসকোর ১৩টি হাইস্কুলের আবেদনকারীদের গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ১০০ শতাংশ। পুরো ইউসি মার্সেড ক্যাম্পাসের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতার হার ছিল ৯৫.১ শতাংশ। ইউসি রিভারসাইডের সামগ্রিক হার ছিল ৮৭.১ শতাংশ।    এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, ক্যালিফোর্নিয়ার হাইস্কুল থেকে ইউসি ক্যাম্পাসে ভর্তির ক্ষেত্রে স্কুলভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ইউসি বার্কলির মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ক্যাম্পাসে মিশন হাইস্কুলের ৪৫ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হার স্কুলটির শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক সাফল্যকে আরও নজরকাড়া করে তুলেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ২:৪৭
মিশিগানে ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটে স্থায়ী পদে কর্মী নিয়োগের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে সরকারি চাকরির সুযোগ! ঘণ্টায় প্রায় ২২ থেকে ৩০ ডলার আয়

মিশিগানে সরকারি চাকরি খুঁজছেন এমন প্রার্থীদের জন্য ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটে নতুন নিয়োগের সুযোগ এসেছে। আগস্টে প্রকাশিত একাধিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এইড ৬-ই৮ পদে স্থায়ী ফুলটাইম কর্মী নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি বিজ্ঞপ্তিতে বেতন প্রতি দুই সপ্তাহে ১,৭৫৩.৬০ থেকে ২,৪১৭.৬০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।   মিশিগান সিভিল সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এইড পদে মূলত সেক্রেটারি অব স্টেটের শাখা অফিসে নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা দিতে হয়। গ্রাহকের আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা, বিভিন্ন ট্রানজেকশন প্রসেস করা, সেবার নিয়ম ও বিকল্প পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য দেওয়া এবং নির্ভুলতার সঙ্গে কাজ করা এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।   তবে একটি বিষয় চাকরিপ্রার্থীদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা দরকার। ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এইড ৬ হলো এন্ট্রি লেভেল পদ, যেখানে সাধারণত হাই স্কুল শেষ করার সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন এবং নির্দিষ্ট ধরনের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু ৬-ই৮ গ্রেডটি অভিজ্ঞ পর্যায়ের পদ।   মিশিগান সিভিল সার্ভিসের বর্তমান চাকরির স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, ই-৮ পর্যায়ে পৌঁছাতে ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এইড সিরিজে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি থাকলেই ৬-ই৮ পদে সরাসরি যোগ্যতা নিশ্চিত হয় না।   এই পদে গাড়ির লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, গাড়ির টাইটেলসহ মিশিগান সেক্রেটারি অব স্টেটের বিভিন্ন সেবা সংক্রান্ত কাজও থাকতে পারে। কাজের ধরন অনুযায়ী গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং বিপুলসংখ্যক ট্রানজেকশন সামলানোর সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।   আগস্টে প্রকাশিত একটি ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এইড ৬-ই৮ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্থায়ী ফুলটাইম পদ হিসেবে প্রতি দুই সপ্তাহে ১,৭৫৩.৬০ থেকে ২,৪১৭.৬০ ডলার বেতনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই ধরনের আরেকটি আগস্টের বিজ্ঞপ্তিতে বার্ষিক ৪৫,৫৯৩.৬০ থেকে ৬২,৮৫৭.৬০ ডলার পর্যন্ত বেতন দেওয়া হয়েছে। পদ, লোকেশন ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বেতন ও শেষ তারিখ ভিন্ন হতে পারে।   মিশিগান স্টেট গভর্নমেন্টের ফুলটাইম কর্মীরা চাকরির ধরন ও যোগ্যতা অনুযায়ী হেলথ ইন্স্যুরেন্স, রিটায়ারমেন্ট সুবিধা, পেইড লিভসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান। এছাড়া রাজ্য সরকারের চাকরিতে কর্মীদের জন্য অন্যান্য আর্থিক ও ক্যারিয়ার সুবিধাও রয়েছে।   আবেদন করতে হলে মিশিগান স্টেটের সরকারি চাকরির পোর্টালে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুঁজে আবেদন করতে হয়। আবেদন সাধারণত নিওগভ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইলেকট্রনিকভাবে জমা দিতে হয়। চাকরিপ্রার্থীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট জব স্পেসিফিকেশন, পজিশন ডেসক্রিপশন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।   মিশিগানের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের চাকরিতে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকসহ অতিরিক্ত নিয়োগ শর্তও থাকতে পারে। তাই কোনো নির্দিষ্ট পদে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত যাচাই করা উচিত।   আগস্টে প্রকাশিত কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শেষ তারিখ ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তবে একই গ্রেডের নতুন পদ আগস্টেই প্রকাশিত হয়েছে এবং কিছু বিজ্ঞপ্তির আবেদন সময়ও চলমান রয়েছে। ফলে মিশিগানে সরকারি চাকরি খুঁজছেন এমন প্রার্থীদের জন্য প্রতিটি নতুন পোস্টিং আলাদাভাবে দেখে দ্রুত আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ২:৩৭
মেকআপ ছাড়াই মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন ২০ বছর বয়সী মেলিসা রউফ। ছবি: সংগৃহীত
মেকআপ ছাড়া সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা আয়োজন করে ইতিহাস গড়ল ইংল্যান্ড

মুখে কোনো মেকআপ না দিয়েই মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন মেলিসা রউফ। ২০ বছর বয়সী এই তরুণী প্রতিযোগিতার ৯৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে পুরো প্রতিযোগিতায় মেকআপ ছাড়া অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত সেরা ১৬ জনের তালিকায় জায়গা করে নেন।   রউফের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল নিজের স্বাভাবিক চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেকআপ করতেন। নিজের স্বাভাবিক চেহারায় বাইরে যেতে স্বস্তি বোধ করতেন না তিনি।   তবে ২০২২ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে সেই অভ্যাস বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন রউফ। মিস লন্ডন প্রতিযোগিতায় কোনো মেকআপ ছাড়াই অংশ নেন তিনি। সেখানে ‘বের ফেস টপ মডেল’ পর্বে জয় পান, যা তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।   এরপর মিস ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে আরও বড় সিদ্ধান্ত নেন রউফ। পুরোপুরি মেকআপ ছাড়া মঞ্চে হাজির হন তিনি। প্রতিযোগিতার দীর্ঘ ৯৪ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রতিযোগী, যিনি মেকআপ ছাড়াই পুরো প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।   তবে স্বাভাবিক চেহারায় মঞ্চে ওঠার কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েননি রউফ। বরং ৪০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা ১৬ জনের একজন হিসেবে জায়গা করে নেন তিনি।   রউফ জানান, এই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝতে সাহায্য করেছে যে সুন্দর দেখাতে মেকআপ বা ফিল্টারের প্রয়োজন নেই। নিজের স্বাভাবিক চেহারা নিয়েই আত্মবিশ্বাসী হওয়া সম্ভব। তার এই বার্তা বিশেষ করে তরুণীদের নিজেদের মতো করে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে উৎসাহিত করেছে।   পরবর্তীতে মেকআপ ছাড়া সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ধারণাটিও আরও জনপ্রিয় হয়। রউফ নিজেও পরে এমন একটি প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি সম্পাদনা, ফিল্টার এবং নিখুঁত দেখানোর চাপ যখন মানুষের স্বাভাবিক চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে, তখন রউফের সিদ্ধান্ত ছিল নিজের চেহারাকে লুকিয়ে না রেখে স্বাভাবিকভাবেই মঞ্চে দাঁড়ানোর এক ব্যতিক্রমী বার্তা।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ২:২৭
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির উদ্যোগে বাবা-মাদের জন্য বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ার কর্মসূচির আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বাবা-মায়েদের একান্ত সময়ের সুযোগ, মামদানির ‘পেরেন্টস নাইট আউট’-এ ৪ ঘণ্টার ফ্রি চাইল্ডকেয়ার

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ‘পেরেন্টস নাইট আউট’ কর্মসূচিতে চার ঘণ্টার বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ারের সুযোগ পেলেন শহরের বাবা-মায়েরা। ১৬ আগস্টের এই আয়োজনে ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী প্রায় ৩০০ শিশু বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে সময় কাটায়। আর এ সময়ে তাদের বাবা-মা ও অভিভাবকেরা কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজেদের মতো সময় কাটানোর সুযোগ পান।   নিউইয়র্ক সিটি পার্কসের উদ্যোগে পাঁচ বরোর পাঁচটি বিনোদনকেন্দ্রে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে বিশেষ এই আয়োজন। শিশুদের জন্য ছিল রাতের খাবার, খেলাধুলা, ছবি আঁকা ও হাতের কাজ, দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রম এবং বিনোদনের নানা ব্যবস্থা। প্রশিক্ষিত কর্মীরা পুরো সময় শিশুদের দেখাশোনা করেন।   মামদানি প্রশাসন জানিয়েছিল, কর্মসূচিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যস্ত বাবা-মা ও অভিভাবকদের নিজেদের জন্য কিছুটা সময় বের করে দেওয়া। কেউ চাইলে সঙ্গীর সঙ্গে বাইরে খেতে যেতে পারেন, প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে পারেন, বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নিতে পারেন কিংবা জমে থাকা ঘরের কাজ শেষ করতে পারেন।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন অভিভাবক এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে বাইরে সময় কাটিয়েছেন বা রাতের খাবার খেতে গেছেন। কেউ বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নিয়েছেন, কেউ কেনাকাটা করেছেন, আবার কেউ জমে থাকা কাপড় ধোয়া বা ঘরের অন্যান্য কাজ শেষ করার সুযোগ পেয়েছেন।   শিশুদের জন্যও আয়োজনটি ছিল নানা কার্যক্রমে ভরপুর। বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে তারা খেলাধুলা, বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম, হাতের কাজ, রোবোটিকস, বোর্ড গেমসহ নানা আয়োজনে অংশ নেয়।   এই কর্মসূচির জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ শিশুর জায়গা রাখা হয়েছিল। ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সেবাটি ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে আগে থেকে নিবন্ধন করা এবং নিউইয়র্ক সিটি পার্কসের বিনোদনকেন্দ্রের সদস্য হওয়া প্রয়োজন ছিল।   ব্রুকলিনের শার্লি চিশলম বিনোদনকেন্দ্র, ম্যানহাটনের হাইব্রিজ বিনোদনকেন্দ্র, কুইন্সের আল ওর্টার বিনোদনকেন্দ্র, ব্রঙ্কসের কোয়ামে টুরে বিনোদনকেন্দ্র এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের গ্রিনবেল্ট বিনোদনকেন্দ্রে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।   মেয়রের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ‘পেরেন্টস নাইট আউট’-এ প্রায় ৩০০ শিশু অংশ নেয়। কর্মসূচিটির মাধ্যমে পরিবারগুলোর জন্য শিশুদের বিনোদন ও বিভিন্ন কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি বাবা-মায়েদের দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে কয়েক ঘণ্টার বিরতিও দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।   নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ত শহরে সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্বের কারণে অনেক বাবা-মায়ের জন্য নিজেদের জন্য আলাদা সময় বের করা কঠিন। সেই বাস্তবতায় বিনামূল্যে কয়েক ঘণ্টার চাইল্ড কেয়ারের এই উদ্যোগ তাদের কিছুটা স্বস্তি ও ব্যক্তিগত সময় দেওয়ার একটি নতুন ব্যবস্থা হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ২:১৮
বেলজিয়ামের প্রিন্স লরেন্ট তাঁর ২৬ বছর বয়সী সন্তান ক্লেমঁ ভান্দেনকার্কহোভেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
২৬ বছরের সাবেক গাড়ি বিক্রেতা এখন বেলজিয়ামের রাজপুত্র! বাবার স্বীকৃতিতে পেলেন উত্তরাধিকার অধিকার

বেলজিয়ামের প্রিন্স লরেন্টের ২৬ বছর বয়সী ছেলে ক্লেমঁ ভান্দেনকার্কহোভেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন তিনি। এর ফলে সাবেক গাড়ি বিক্রেতা ক্লেমঁ এখন বেলজিয়ামের রাজপরিবারের সদস্য এবং বাবার সম্পত্তির আইনগত উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন। তবে তিনি বেলজিয়ামের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবেন না এবং রাজপরিবার থেকে কোনো সরকারি ভাতাও পাবেন না।    বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপের ছোট ভাই প্রিন্স লরেন্ট ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার প্রকাশ্যে জানান, ক্লেমঁ তারই জৈবিক সন্তান। ক্লেমঁর মা বেলজিয়ামের গায়িকা ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব আইরিস ভান্দেনকার্কহোভে, যিনি ‘ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ান্টেন’ নামেও পরিচিত। লরেন্ট ও আইরিসের সম্পর্কের সময় ক্লেমঁর জন্ম হয়। পরে ২০০৩ সালে লরেন্ট প্রিন্সেস ক্লেয়ারের সঙ্গে বিয়ে করেন।    প্রকাশ্যে বাবার স্বীকৃতি দেওয়ার পরও এতদিন ক্লেমঁ আইনগতভাবে প্রিন্স লরেন্টের সন্তান হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিভিল রেজিস্ট্রারের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে পিতৃত্বের স্বীকৃতি নথিভুক্ত করা হয়। কয়েক মাস বিষয়টি গোপন থাকার পর ১৯ আগস্ট তা প্রকাশ্যে আসে।    আইনগত স্বীকৃতির ফলে ক্লেমঁ এখন তার বাবার অন্য তিন সন্তান প্রিন্সেস লুইস এবং যমজ প্রিন্স নিকোলাস ও প্রিন্স আয়মেরিকের সমানভাবে প্রিন্স লরেন্টের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েছেন। চাইলে বাবার রাজপরিবারের পদবি স্যাক্স-কোবুর্গ গ্রহণ করারও অধিকার রয়েছে তার। তবে নিজের মায়ের পরিবারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বর্তমানে ভান্দেনকার্কহোভে পদবিই রাখতে চান ক্লেমঁ।    আইনগত স্বীকৃতির কারণে ক্লেমঁ বেলজিয়ামের রাজপুত্রের মর্যাদা পাওয়ার অধিকার অর্জন করেছেন। তবে এই মর্যাদার সঙ্গে কোনো সরকারি দায়িত্ব বা রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব যুক্ত হবে না। একইভাবে তিনি রাজপরিবারের সরকারি ভাতাও পাবেন না।    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্লেমঁ বেলজিয়ামের সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় থাকবেন না। বেলজিয়ামের সংবিধান অনুযায়ী সিংহাসনের উত্তরাধিকার নির্দিষ্ট বৈবাহিক বংশধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে প্রিন্স লরেন্টের সন্তান হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি পেলেও সিংহাসনের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ক্লেমঁর কোনো অবস্থান তৈরি হচ্ছে না।    ক্লেমঁর পিতৃত্ব নিয়ে বেলজিয়ামে প্রায় দুই দশক ধরে নানা আলোচনা ছিল। ২০২৫ সালে প্রিন্স লরেন্ট প্রকাশ্যে তাকে নিজের ছেলে হিসেবে স্বীকার করার পর সেই দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটে। এবার আইনগত স্বীকৃতির মাধ্যমে রাজপরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কও আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১:৫৮
গাজায় আন্তর্জাতিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স গঠনে ২০ কোটি ডলার অর্থায়নের পরিকল্পনা মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের। ছবি: সংগৃহীত
গাজায় শান্তি পরিকল্পনায় ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে ২০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স বা আইএসএফ গঠনে ২০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তবে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতবিরোধ থাকায় ফোর্সটি কবে গাজায় মোতায়েন হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।   স্টেট ডিপার্টমেন্ট ৩০ জুলাই মার্কিন কংগ্রেসকে অর্থায়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। এর মধ্যে আইএসএফের সরঞ্জাম, অবকাঠামো, যানবাহন ও অপারেশনাল খরচের জন্য ২০ কোটি ডলার রাখা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৬৩ লাখ ডলার ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার এই ফোর্সের কাজে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাস করা হবে।   রয়টার্সের হাতে আসা কংগ্রেশনাল নোটিফিকেশন অনুযায়ী, গাজায় আইএসএফ নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা এবং মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন সামগ্রী নিরাপদে পৌঁছাতে ভূমিকা রাখবে। ফোর্সটির চূড়ান্ত কাঠামো ও সদস্যসংখ্যা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।   মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তার ২১ দফা শান্তি পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আইএসএফ ওই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফোর্সকে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।   এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া আইএসএফে সেনা পাঠাতে সম্মতি জানিয়েছে। মিসর ও জর্ডান ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ফোর্সটি কবে গাজায় প্রবেশ করবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই।   এরই মধ্যে পরিকল্পনাটি বড় ধরনের রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জুলাইয়ের শেষ দিকে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের একটি রোডম্যাপ সামনে আনলেও ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে এর বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। অন্যদিকে হামাসও পরিকল্পনাটিতে সম্মতির কথা বললেও ইসরায়েলকে আগে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছে।   এই অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার চলতি সপ্তাহে হামাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিসরে এবং পরে ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে জেরুজালেমে বৈঠক করেছেন। তবে এসব বৈঠকে মূল বিরোধগুলোর কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।   ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও জানিয়েছে, গাজায় আন্তর্জাতিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স প্রবেশের জন্য এখনো ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কোনো অনুমোদন দেয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র অর্থায়নের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি এগিয়ে নিলেও এর বাস্তবায়ন এখনো নির্ভর করছে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে নিরাপত্তা, নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে সমঝোতার ওপর।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১:৪৮
২৭ বার সন্তান জন্ম দিয়ে মোট ৬৯ সন্তানের মা হওয়া রাশিয়ার ইতিহাসখ্যাত নারী ভ্যালেন্টিনা ভাসিলিয়েভা। ছবি: সংগৃহীত
২৭ বার সন্তান জন্ম দিয়ে ৬৯ সন্তানের মা, ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া নারী তিনি

রাশিয়ার ১৮ শতকের এক কৃষক পরিবারের নারী ভ্যালেন্টিনা ভাসিলিয়েভাকে ঘিরে এমন এক রেকর্ডের দাবি রয়েছে, যা আজও অবিশ্বাস্য মনে হয়। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, তিনি ২৭ বার সন্তান জন্ম দিয়ে মোট ৬৯ সন্তানের মা হয়েছিলেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসও এটিকে এক মায়ের সর্বোচ্চ সন্তান জন্মদানের রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে কয়েক শতাব্দী পুরোনো হওয়ায় ঘটনাটির সব তথ্য আধুনিক মানদণ্ডে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।    ভ্যালেন্টিনা ছিলেন রুশ কৃষক ফিওদর ভাসিলিয়েভের প্রথম স্ত্রী। গিনেসের তথ্য অনুযায়ী, ১৭২৫ থেকে ১৭৬৫ সালের মধ্যে ২৭টি প্রসবে তিনি ১৬ জোড়া যমজ, ৭ সেট ট্রিপলেট এবং ৪ সেট কোয়াড্রুপলেটের জন্ম দেন। সব মিলিয়ে সন্তানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৯।    এই হিসাব অনুযায়ী, ১৬ জোড়া যমজে সন্তান ৩২ জন, ৭ সেট ট্রিপলেটে ২১ জন এবং ৪ সেট কোয়াড্রুপলেটে ১৬ জন। তিন ধরনের সন্তান মিলিয়েই ৬৯ জন।   ঘটনাটির তথ্য প্রথমদিকে রাশিয়ার নিকোলস্ক মঠের নথিতে পাওয়া যায়। ১৭৮২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মস্কোয় পাঠানো একটি প্রতিবেদনে ভাসিলিয়েভ পরিবারের সন্তানসংখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে ১৭৮২ সালে দ্য জেন্টলম্যানস ম্যাগাজিনেও বিষয়টি প্রকাশিত হয়।    তবে ভ্যালেন্টিনার গল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নিজেও বলছে, ঘটনাটি পরিসংখ্যানগতভাবে অত্যন্ত অস্বাভাবিক মনে হলেও সেই সময়ের একাধিক নথি এর পক্ষে প্রমাণ হিসেবে পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ভ্যালেন্টিনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব কম তথ্যই পাওয়া যায়, এমনকি তার নাম নিয়েও ঐতিহাসিক সূত্রে নিশ্চিততা নেই।    আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ফিওদর ভাসিলিয়েভ পরে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তার আরও ১৮ সন্তান ছিল, যার মধ্যে ছিল ৬ জোড়া যমজ ও ২ সেট ট্রিপলেট। ফলে দুই স্ত্রী মিলিয়ে তার মোট সন্তানের সংখ্যা ৮৭ বলে দাবি করা হয়েছে।    এত বেশি যমজ ও একাধিক সন্তান একসঙ্গে জন্ম দেওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে কিছু আধুনিক বিশ্লেষণে জেনেটিকভাবে একাধিক ডিম্বাণু নিঃসরণের প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। তবে ভ্যালেন্টিনার ক্ষেত্রে এমন কোনো কারণ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।    চার শতাব্দী আগের এই ঘটনাটির সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হলেও, ৬৯ সন্তান জন্ম দেওয়ার দাবিটি এখনো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের রেকর্ড তালিকায় রয়েছে। তাই ভ্যালেন্টিনা ভাসিলিয়েভার নাম ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া মায়েদের তালিকায় এক অনন্য রেকর্ড হিসেবে টিকে আছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১:৩২