সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
গাড়িতে ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার পরও  আগুনের ঝুঁকি
গাড়িতে ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার পরও আগুনের ঝুঁকি! যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ লাখের বেশি গাড়ি রিকল

গাড়ি চালানো হচ্ছে না, ইঞ্জিনও বন্ধ। তারপরও হঠাৎ আগুন ধরে যেতে পারে। এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর ১৫ লাখের বেশি গাড়ি রিকল করা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে নির্দিষ্ট মডেলের গাড়ির মালিকদের বাড়ি, গ্যারেজ ও অন্য গাড়ি থেকে দূরে খোলা জায়গায় পার্ক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এনএইচটিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসেই অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে ১৭টি 'পার্ক আউটসাইড' রিকল ক্যাম্পেইন হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এ ধরনের সতর্কতা দ্রুত বাড়ছে।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নির্দিষ্ট জিপ র‍্যাংলার, জিপ গ্ল্যাডিয়েটর, কিয়া টেলুরাইড এবং বিএমডব্লিউ ৫৩০ই এক্সড্রাইভসহ বেশ কিছু গাড়ির মালিককে বাড়ি বা অন্য গাড়ি থেকে দূরে পার্ক করতে বলা হয়েছে।   সবচেয়ে বড় সাম্প্রতিক রিকলগুলোর একটি জিপের। জুনে স্টেলান্টিস ২০২১ থেকে ২০২৫ মডেল ইয়ারের ১০ লাখ ৭৬ হাজার ৯৯৯টি জিপ র‍্যাংলার ও জিপ গ্ল্যাডিয়েটর রিকল করে। এসব গাড়িতে হাইড্রোলিক পাওয়ার স্টিয়ারিং পাম্পের বৈদ্যুতিক তারের সমস্যার কারণে আগুন লাগার ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়।   এই সমস্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৫১টি অগ্নিকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় আহত হওয়ার তথ্যও রয়েছে। গাড়ি বন্ধ থাকার সময়ও আগুন লাগতে পারে বলে মালিকদের সতর্ক করা হয়।   এরপর জুলাইয়ে কিয়া ২০২০ থেকে ২০২৪ মডেল ইয়ারের ৪ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৯টি টেলুরাইড রিকল করে। এনএইচটিএসএ জানায়, সামনের পাওয়ার সিটের মোটর অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন ধরে যেতে পারে।   কিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এ সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত সাতটি সিটে আগুন লাগার ঘটনা এবং ১১টি সিট মোটর গলে যাওয়ার ঘটনা তাদের জানা রয়েছে। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এসব গাড়ি ভবন ও অন্য গাড়ি থেকে দূরে বাইরে পার্ক করতে বলা হয়েছে।   কিয়া টেলুরাইডের ক্ষেত্রে সামনের পাওয়ার সিটের স্লাইড কভার বা নব আঘাত পেলে সুইচ সরে যেতে বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে মোটর একটানা চলতে থেকে অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আগের রিকলের অধীনে সঠিকভাবে মেরামত না হলেও একই ঝুঁকি থাকতে পারে।   এই রিকলের আওতাভুক্ত কিয়া টেলুরাইডে ডিলাররা বিনা খরচে একটি ইলেকট্রনিক ফিউজ অ্যাসেম্বলি বসাবে। নতুন ব্যবস্থাটি সিটের সুইচে সমস্যা হলে মোটরকে একটানা চলা থেকে রক্ষা করবে।   এ ধরনের রিকলকে 'পার্ক আউটসাইড' রিকল বলা হয়। কারণ আগুনের ঝুঁকি শুধু গাড়ি চালানোর সময় নয়, গাড়ি পার্ক করা এবং ইঞ্জিন বন্ধ থাকার সময়ও থাকতে পারে। এ কারণেই মালিকদের সাধারণ গ্যারেজের পরিবর্তে ভবন ও অন্য গাড়ি থেকে দূরে খোলা জায়গায় গাড়ি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।   সাবেক এনএইচটিএসএ তদন্তকারী ফ্র্যাঙ্ক বরিসের মতে, আধুনিক গাড়িতে ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার পরও কিছু বৈদ্যুতিক সার্কিট সক্রিয় বা গরম থাকতে পারে। গাড়িতে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অল্প জায়গায় আরও বেশি প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। এতে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে অতিরিক্ত তাপ বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   পরিসংখ্যানেও উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০টি 'পার্ক আউটসাইড' রিকল হয়েছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় ১৯টি। আর ২০২৬ সালের শুধু জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যেই এমন ১৭টি রিকল হয়েছে।   গাড়ির মালিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের গাড়ি কোনো রিকলের আওতায় আছে কি না তা যাচাই করা। এনএইচটিএসএর রিকল ব্যবস্থায় গাড়ির ১৭ ডিজিটের ভেহিকল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা ভিআইএন দিয়ে নির্দিষ্ট গাড়ির রিকল স্ট্যাটাস জানা যায়।   কোনো গাড়ির জন্য 'পার্ক আউটসাইড' নির্দেশনা থাকলে মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেটি বাড়ির গ্যারেজে বা অন্য গাড়ির পাশে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ কিছু ক্ষেত্রে আগুন লাগার জন্য গাড়ির চলমান থাকা প্রয়োজন নেই। ইঞ্জিন বন্ধ অবস্থাতেও বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৯, ২০২৬ ২:৩
অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার পর পরই প্যারালাইজড বৃদ্ধা
অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার পর পরই প্যারালাইজড বৃদ্ধা, হাসপাতালের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলে একটি হাসপাতালে অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার পর এক নারী কোমর থেকে নিচের অংশে প্যারালাইজড হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে অ্যাসেনশন সেন্ট থমাস হসপিটাল মিডটাউনে। তবে ঠিক কী কারণে তার শারীরিক অবস্থার এমন পরিবর্তন হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারের বক্তব্যের বাইরে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো চূড়ান্ত মেডিকেল সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএন নিউজ ২-কে ওই নারীর পুত্রবধূ জানিয়েছেন, তার শাশুড়ি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। অপারেশনের সময় তাকে পটাশিয়াম দেওয়ার পর পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে বদলে যায় বলে পরিবারের দাবি। এরপর থেকে তিনি কোমরের নিচের অংশ নড়াচড়া করতে পারছেন না।   পরিবারের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার বিষয়টি। তবে রোগীকে কী পরিমাণ পটাশিয়াম দেওয়া হয়েছিল, কেন দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিই তার প্যারালাইসিসের সরাসরি কারণ কি না, তা নিশ্চিত করার মতো পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।   পটাশিয়াম মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইলেক্ট্রোলাইট। এটি স্নায়ু, পেশি ও হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা খুব কম বা খুব বেশি হলে গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে হাসপাতালে পটাশিয়াম দেওয়ার ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা, রক্ত পরীক্ষার ফল এবং প্রয়োজনীয় ডোজ বিবেচনা করা হয়।   তবে কোনো নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে পটাশিয়াম দেওয়ার পর জটিলতা দেখা দিলেই সেটিকে সরাসরি কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। অপারেশনের সময় ব্যবহৃত অ্যানেসথেশিয়া, রোগীর আগে থেকে থাকা শারীরিক সমস্যা, স্নায়ু বা মেরুদণ্ডের জটিলতা এবং অন্যান্য চিকিৎসাগত কারণও বিবেচনায় নিতে হয়। এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রেকর্ড ও বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন ছাড়া প্যারালাইসিসের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।   অ্যাসেনশন সেন্ট থমাস হসপিটাল মিডটাউন ন্যাশভিলের একটি বড় হাসপাতাল। সেখানে ইমার্জেন্সি কেয়ার, সার্জারি, নিউরোলজি, অর্থোপেডিকস, হার্ট ও ভাসকুলার কেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। হাসপাতালটির সার্জারি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার সুবিধাও রয়েছে।   পরিবারের অভিযোগ সামনে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন, অপারেশনের সময় রোগীর চিকিৎসায় ঠিক কী ঘটেছিল এবং তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সেই চিকিৎসার কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না। এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পেতে মেডিকেল রেকর্ড, চিকিৎসকদের মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।   পরিবারটি এখন ওই নারীর চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে তারা অপারেশনের সময় কী ঘটেছিল তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইছে। চিকিৎসাজনিত ত্রুটির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো প্রকাশ্যে না আসায় ঘটনাটিকে এই পর্যায়ে পরিবারের অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১:৫৮
রকেট বানিয়ে নাসার চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ
রকেট বানিয়ে নাসার চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ, আবেদন শেষ ১৪ সেপ্টেম্বর

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব রকেট ডিজাইন, নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের সুযোগ নিয়ে আবারও শুরু হচ্ছে নাসার স্টুডেন্ট লঞ্চ চ্যালেঞ্জ। ২০২৭ সালের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে কলেজ ও ইউনিভার্সিটির পাশাপাশি যোগ্য মিডল ও হাইস্কুল পর্যায়ের দলগুলো আবেদন করতে পারবে। নাসার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আবেদন বা প্রপোজাল জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল টাইম।   নাসার স্টুডেন্ট লঞ্চ মূলত নয় মাসব্যাপী একটি ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ। এতে নির্বাচিত শিক্ষার্থী দলগুলোকে একটি হাই-পাওয়ার রকেট ডিজাইন, তৈরি, পরীক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত উৎক্ষেপণ করতে হয়। রকেটের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক বা ইঞ্জিনিয়ারিং পেলোডও তৈরি করতে হয়। ফলে এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব মহাকাশ ও অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ কাছ থেকে শেখার সুযোগ।   পুরো কর্মসূচিটি পরিচালনা করে আলাবামার হান্টসভিলে অবস্থিত নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের অফিস অব স্টেম এনগেজমেন্ট। চ্যালেঞ্জের বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকৌশল বিষয় তৈরিতে নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম এবং আর্টেমিস কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ইন্ডাস্ট্রি পার্টনাররা যুক্ত থাকেন।   নাসার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো কলেজ বা ইউনিভার্সিটি ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট লঞ্চ ইনিশিয়েটিভ বিভাগে অংশ নেওয়ার জন্য প্রপোজাল জমা দিতে পারে। এটি প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ এবং প্রপোজাল যাচাইয়ের পর দল নির্বাচন করা হয়।   ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা স্টুডেন্ট লঞ্চ ইনিশিয়েটিভ বিভাগ। তবে এই পর্যায়ে সরাসরি সব স্কুল আবেদন করতে পারবে না। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আমেরিকান রকেট্রি চ্যালেঞ্জের শীর্ষ ২৫টি স্কুল এবং রকেটস ফর স্কুলস প্রতিযোগিতার ক্লাস টু বিভাগের শীর্ষ সাতটি স্কুল নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে প্রপোজাল জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে। একটি স্কুল থেকে সর্বোচ্চ একটি দল অংশ নিতে পারবে।   চ্যালেঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শিক্ষার্থীদের কাজ অনেকটাই নাসার বাস্তব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়ার আদলে পরিচালিত হয়। নির্বাচিত দলকে ধাপে ধাপে প্রিলিমিনারি ডিজাইন রিভিউ, ক্রিটিক্যাল ডিজাইন রিভিউ, ফ্লাইট রেডিনেস রিভিউ এবং লঞ্চ রেডিনেস রিভিউ সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি ধাপ সফলভাবে শেষ করেই পরবর্তী পর্যায়ে যেতে হবে।   রকেট উৎক্ষেপণের পরও কাজ শেষ হবে না। শিক্ষার্থীদের রকেটের ফ্লাইট ও পেলোড থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে এবং পোস্ট লঞ্চ অ্যাসেসমেন্ট রিভিউ সম্পন্ন করতে হবে। এর মাধ্যমে একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ডিজাইন, পরীক্ষা, উৎক্ষেপণ এবং ফলাফল বিশ্লেষণ পর্যন্ত পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং লাইফসাইকেলের অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করে নাসা।   ২০২৭ সালের স্টুডেন্ট লঞ্চের চূড়ান্ত আয়োজন হবে আলাবামার হান্টসভিলে। নাসার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, লঞ্চ ডে নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ এপ্রিল ২০২৭। এখানেই বিভিন্ন দলের তৈরি হাই-পাওয়ার রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে।   নাসা বলছে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষার্থীদের রকেট বানানো শেখানো নয়। ভবিষ্যতের স্টেম ও অ্যারোস্পেস কর্মশক্তি তৈরির জন্য বাস্তব গবেষণা, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে আগ্রহী করে তোলার বিষয়টিও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।   আগ্রহী কলেজ ও ইউনিভার্সিটি এবং যোগ্য স্কুল দলগুলোকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ১৪ সেপ্টেম্বরের সময়সীমার মধ্যেই নাসার কাছে প্রপোজাল জমা দিতে হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১:৪৯
কলকাতায় হোটেলে আগুন লেগে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু
কলকাতায় হোটেলে আগুন লেগে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত নয়জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার, ১৯ আগস্ট ভোররাতে মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগে। এতে আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।    নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতরা চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় গিয়েছিলেন এবং ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত পৌনে ২টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরা। পশ্চিমবঙ্গ ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর ঘটনাস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক ফায়ার ইঞ্জিন সেখানে পৌঁছে যায়।    তবে আগুনের চেয়ে ঘন কালো ধোঁয়াই উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ধোঁয়ায় ভবনের সিঁড়ি ও করিডোর ঢেকে যাওয়ায় ওপরের তলায় আটকে পড়া অতিথিদের কাছে পৌঁছাতে ফায়ারফাইটারদের বেগ পেতে হয়। অনেক অতিথি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তেই তারা বের হওয়ার চেষ্টা করেন।    ভবনটির সরু সিঁড়ি এবং পর্যাপ্ত ইমার্জেন্সি এক্সিট না থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই ভবনের মধ্যে একাধিক ছোট আবাসিক হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    উদ্ধারকারীরা ভবন থেকে বহু মানুষকে বের করে আনেন। কয়েকজনকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। একটি প্রতিবেদনে প্রায় ৮০ জনকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের দুই কর্মীকেও আটক করেছে পুলিশ।    প্রাথমিকভাবে মৃতদের অনেকের শরীরে বড় ধরনের দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন না থাকার তথ্য এসেছে। এ কারণে ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে শ্বাসরোধে মৃত্যুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের আগে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।   আগুন কীভাবে লেগেছে, সেটিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। তাই শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এলেও তা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।    মির্জা গালিব স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও নিউ মার্কেটের আশপাশের এলাকায় বহু বাজেট হোটেল রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা, কেনাকাটা ও অন্যান্য কাজে কলকাতায় যাওয়া মানুষের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় অবস্থান করেন। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য যাওয়া বাংলাদেশিদের কাছে এলাকাটি পরিচিত আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।    ঘটনার পর হোটেলটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি অবস্থায় বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে।    এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠের একটি হোটেলেও ভয়াবহ আগুনে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি প্রাণঘাতী হোটেল অগ্নিকাণ্ডের পর পশ্চিমবঙ্গে আবাসিক হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১:১৪
ইসরায়েলি পর্যটকের বারবিকিউর আগুন থেকে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল!
ইসরায়েলি পর্যটকের বারবিকিউর আগুন থেকে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল!

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ভাড়া নেওয়া একটি ভিলায় বারবিকিউ করার পর সেখান থেকে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি পর্যটককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ১৪ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় রেথিমনো অঞ্চলের সেলিয়া গ্রামের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কাছাকাছি কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্কতামূলকভাবে সরিয়ে নিতে হয়।   গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিসংযোগ তদন্ত ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, পর্যটকদের দলটি যে ভিলায় অবস্থান করছিল, তার উঠান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তদন্তকারীদের ধারণা, বারবিকিউ গ্রিল থেকে উড়ে যাওয়া আগুনের ফুলকি প্রবল বাতাসে পাশের শুকনো ঘাস ও গাছপালায় পড়ে আগুন ছড়িয়ে দেয়।    আগুনের সময় ওই এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল বেশ বেশি। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে আশপাশের কৃষিজমি ও জলপাই বাগান হুমকির মুখে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৬০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার, তিনটি বিশেষ দাবানল ইউনিট, একাধিক গাড়ি, হেলিকপ্টার, পানির ট্যাংকার এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।   আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর গ্রিসের ১১২ জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে আশপাশের বাসিন্দাদের বার্তা পাঠানো হয়। ফোতিনারি ও সৌদা এলাকার বাসিন্দাদের সতর্কতামূলকভাবে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ারফাইটাররা।    তদন্তে ভিলার মালিক দাবি করেছেন, তীব্র দাবানল ঝুঁকির কারণে অতিথিদের সেখানে বারবিকিউ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, অতিথিরা পৌঁছানোর পর মৌখিকভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি লিখিতভাবেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও পর্যটকদের দলটি গ্রিল ব্যবহার করে বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ।    গ্রিসে উচ্চ দাবানল ঝুঁকির দিনগুলোতে বারবিকিউ, শুকনো গাছপালা পোড়ানো এবং আগুনের ফুলকি তৈরি করতে পারে এমন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভয়াবহ দাবানলের কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব নিয়ম ভঙ্গের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।    অভিযুক্ত পর্যটক অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, প্রবল বাতাসের মধ্যে বারবিকিউ ব্যবহার করা যাবে না, এমন কোনো স্পষ্ট মৌখিক বা দৃশ্যমান লিখিত সতর্কতা তিনি পাননি। তার আইনজীবী ইভ্যানজেলোস ফানোরগাকিস দাবি করেছেন, ডিফেন্সের পক্ষ থেকে এমন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে দেখা যায়, আগুনের সূচনা গ্রিলের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরে এবং মাঝখানে আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার ধারাবাহিক চিহ্ন ছিল না।    আটকের পর ওই ব্যক্তিকে রেথিমনোর বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে ১০ হাজার ইউরো জামানতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলবে এবং চূড়ান্তভাবে আগুনের জন্য কে দায়ী তা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।    ভিলার মালিক স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি অতিথিদের আগেই বারবিকিউ ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে অভিযুক্তের আইনজীবী বলছেন, ঘটনার প্রাথমিক বর্ণনার সঙ্গে তাদের হাতে থাকা তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।    ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন গ্রিসে দাবানলের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। শুষ্ক আবহাওয়া, দীর্ঘ সময় বৃষ্টির অভাব এবং প্রবল বাতাসের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। ১৬ আগস্ট সালামিনা দ্বীপে আরেকটি ভয়াবহ দাবানলে এক বৃদ্ধ দম্পতির মৃত্যু হয় এবং পাঁচ শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।    চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত আগুন লাগানোর ঘটনায় গ্রিসে ২৯৭ জনকে আটক করা হয়েছে বলে দেশটির প্রকাশিত পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬৭ জনের বিরুদ্ধে অবহেলার কারণে এবং ৩০ জনের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগ রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।    কর্তৃপক্ষ বলছে, দাবানলের উচ্চ ঝুঁকির সময়ে খোলা জায়গায় আগুন ব্যবহার নিয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না। বিশেষ করে পর্যটন এলাকাগুলোতে স্থানীয় নিষেধাজ্ঞা ও ফায়ার সেফটি নির্দেশনা অমান্য করলে ফৌজদারি তদন্ত এবং বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১:৬
শাস্তি দিয়ে শাসন করা শিশুরাই উল্টো আরও সহিংস হয়ে উঠতে পারে
শাস্তি দিয়ে শাসন করা শিশুরাই উল্টো আরও সহিংস হয়ে উঠতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

শিশুকে শাসন করতে শারীরিক শাস্তি কার্যকর, বহু পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এমন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন ফিলিপাইনের ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজিস্ট ড. লিয়ানে আলামপে। দেশটির সিনেটে শিশু ও কিশোরদের আচরণ নিয়ে এক শুনানিতে তিনি বলেছেন, শিশুদের মারধর বা কঠোর শারীরিক শাস্তি তাদের আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করে তোলে, এমন দাবির পক্ষে গবেষণাভিত্তিক প্রমাণ নেই। বরং কঠোর শাসনের সঙ্গে পরবর্তী জীবনে আক্রমণাত্মক ও সহিংস আচরণের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।   ফিলিপাইনের সিনেটের নারী, শিশু, পারিবারিক সম্পর্ক ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক কমিটির শুনানিতে এসব কথা বলেন আলামপে। তিনি মেট্রো ম্যানিলার আতেনেও ডি ম্যানিলা ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং দীর্ঘদিন ধরে শিশু লালনপালন ও শারীরিক শাস্তির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন।   আলামপে আইনপ্রণেতাদের জানান, কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক গবেষণায় শারীরিক শাস্তিকে কার্যকর শৃঙ্খলা তৈরির নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে সমর্থন করা হয়নি। বরং শিশুদের ওপর ঘন ঘন বা কঠোর শারীরিক শাস্তির সঙ্গে আগ্রাসন, উদ্বেগ এবং পরবর্তী সময়ে সহিংস আচরণের মতো সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।   আতেনেও ডি ম্যানিলা ইউনিভার্সিটিতে প্রকাশিত আলামপে ও অন্য গবেষকদের আগের গবেষণাতেও ফিলিপিনো পরিবারে শারীরিক শাস্তির ব্যবহার এবং শিশুদের আচরণগত সমস্যার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের শিশু ও অভিভাবকদের ওপর পরিচালিত গবেষণায়ও শারীরিক শাস্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ উঠে এসেছে।   তবে কিশোর বা তরুণদের সহিংস আচরণের জন্য একটি মাত্র কারণকে দায়ী করা ঠিক নয় বলেও সতর্ক করেছেন আলামপে। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একটি শিশুর পারিবারিক পরিবেশ, বেড়ে ওঠার ধরন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মানসিক অবস্থা এবং আশপাশের সামাজিক পরিস্থিতি মিলেই তার আচরণ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।   তিনি আরও বলেন, শিশু ও কিশোরদের মস্তিষ্ক এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা তখনও বিকাশের পর্যায়ে থাকে। ফলে তীব্র রাগ, হতাশা বা চাপের মুহূর্তে নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা কোনো সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি বোঝা তাদের জন্য তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। এ কারণে শিশুদের আচরণ সংশোধনে শুধু ভয় বা শাস্তির ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে শেখানো, সীমা নির্ধারণ এবং ইতিবাচক আচরণ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দেন শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞরা।   এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের শিশু বিচার ব্যবস্থার নীতিরও মিল রয়েছে। সংস্থাটি শিশুদের অপরাধের ক্ষেত্রে কেবল শাস্তির পরিবর্তে পুনর্বাসন ও restorative justice-এর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। আইনগত সমস্যায় জড়িয়ে পড়া শিশুদের মানসিক, আবেগিক ও সামাজিক বিকাশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে ফিরিয়ে দেওয়াই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।   ফিলিপাইনের সমাজকল্যাণ বিভাগ এর আগেও বলেছে, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া শিশুদের ক্ষেত্রে restorative justice নিশ্চিত করা জরুরি। এ প্রক্রিয়ায় শিশুকে শুধু অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া নয়, বরং তার আচরণের কারণ বোঝা, দায়িত্ববোধ তৈরি করা এবং পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   শিশু শাসনে মারধর নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। অনেক সমাজেই দীর্ঘদিন ধরে মনে করা হয়েছে, শারীরিক শাস্তি না দিলে শিশু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কিন্তু শিশু বিকাশ নিয়ে সাম্প্রতিক দশকের গবেষণা এই ধারণাকে ক্রমেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।   গবেষকদের মতে, শৃঙ্খলার উদ্দেশ্য যদি শুধু তাৎক্ষণিকভাবে শিশুকে ভয় দেখিয়ে কোনো কাজ থেকে বিরত রাখা হয়, তাহলে শারীরিক শাস্তি কখনও কখনও সাময়িকভাবে আচরণ বন্ধ করতে পারে। কিন্তু একটি শিশু কেন কোনো আচরণ ভুল, কীভাবে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেই শিক্ষা শুধু ভয়ের মাধ্যমে তৈরি হয় না।   এই কারণেই শিশুদের শাসনের ক্ষেত্রে শাস্তির কঠোরতার চেয়ে তারা সেই অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞরা।

প্রকাশ : আগস্ট ১৯, ২০২৬ ০:৫৩
বিয়ে করলেন ভাইরাল সেই প্রবাসী, এবার পাতে ‘আস্ত খাসি’
বিয়ে করলেন ভাইরাল সেই প্রবাসী, এবার পাতে ‘আস্ত খাসি’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের বিশেষ খাবার ‘খদরে’ আস্ত খাসি না থাকাকে কেন্দ্র করে বিয়ে না করেই ফিরে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়া একদিনের ব্যবধানেই নতুন করে বিয়ে করেছেন। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট রাতে নতুন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এবারের আয়োজনে বরের জন্য খাসির ব্যবস্থাও ছিল বলে বিয়ের ছবি ও স্বজনদের বক্তব্যে জানা গেছে।   নতুন কনের নাম জান্নাত আক্তার। তিনি আখাউড়া এলাকার জাহের মিয়ার মেয়ে। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। জুনায়েদের বাড়িও একই এলাকায়। নতুন বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ টাকা।   বিয়ের পর জুনায়েদ নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পোস্টে তিনি নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চান। জুনায়েদের ছোট ভাই পারভেজও বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   নতুন বিয়ের অনুষ্ঠানে বরের বিশেষ খাবারের আয়োজনও নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে খদরে খাসি পরিবেশনের দৃশ্য দেখা যায়। আগের বিয়ের অনুষ্ঠানে এই খাসিকে ঘিরেই বিরোধ তৈরি হওয়ায় নতুন বিয়েতে একই আয়োজনের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে।   এর মাত্র একদিন আগে সোমবার ১৭ আগস্ট আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন জুনায়েদ। সেখানে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে বরপক্ষের জন্য বিশেষভাবে সাজানো খাবার ‘খদর’ পরিবেশন করা হয়। কনেপক্ষের অভিযোগ, ওই খাবারে আস্ত খাসি না থাকায় আপত্তি জানান জুনায়েদ এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যান।   কনেপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। ফুল ও অন্যান্য আয়োজন নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে খাবারের সময় খদরে খাসি না থাকাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। উপস্থিত স্বজনরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি বিয়েতে রাজি হননি বলে দাবি কনেপক্ষের।   তবে ঘটনার পর জুনায়েদ পাল্টা বক্তব্য দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, শুধু খাসি না থাকাই বিয়ে না হওয়ার কারণ ছিল না। তার অভিযোগ, বিয়ের আসরে পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি কাবিন দাবি করা হয়েছিল এবং তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।   জুনায়েদের অভিযোগের বিপরীতে প্রথম কনেপক্ষ জানিয়েছে, ১৪ আগস্ট দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ের বিষয়ে লিখিত সমঝোতা হয়েছিল। তাদের দাবি, দুই লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং বরের পক্ষের একজন প্রতিনিধিও সেই লিখিত ফর্দে স্বাক্ষর করেছিলেন। ফলে বিয়ের দিন হঠাৎ অতিরিক্ত কাবিন দাবির অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছে।   প্রথম ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কনের স্বজনদের বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কনের বাবা জানিয়েছিলেন, আগে থেকে জানানো হলে বরের জন্য খাসির ব্যবস্থা করা যেত। তার দাবি ছিল, এমন কোনো বিশেষ শর্তের কথা তাকে আগে জানানো হয়নি।   খাসি নিয়ে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং জুনায়েদকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। সেই আলোচনা থামার আগেই পরদিন রাতে তার নতুন বিয়ের খবর সামনে আসে।   নতুন বিয়েতে ছয় লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ এবং বরের খদরে খাসি পরিবেশনের ছবি প্রকাশের পর ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিন আগে যে খাসিকে ঘিরে বিয়ে না হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, একদিন পর সেই খাসির আয়োজনের মধ্যেই নতুন সংসার শুরু করলেন আলোচিত জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়া।

প্রকাশ : আগস্ট ১৯, ২০২৬ ০:১৪
যোগ্য গাড়ির বীমা গ্রাহকদের ৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিচ্ছে স্টেট ফার্ম। ছবি: সংগৃহীত
স্টেট ফার্মের ৫ বিলিয়ন ডলারের ক্যাশব্যাক শুরু, দেখে নিন কারা পাচ্ছেন গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের এই অর্থ ফেরত

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ফার্ম তাদের যোগ্য গাড়ির ইন্স্যুরেন্স গ্রাহকদের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের এককালীন ক্যাশব্যাক দেওয়া শুরু করেছে। কোম্পানির ১০০ বছরের বেশি ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ডিভিডেন্ড কর্মসূচি। দেশজুড়ে ৪ কোটি ৯০ লাখের বেশি ইন্স্যুরেন্স করা গাড়ির গ্রাহক এই অর্থ ফেরতের আওতায় আসতে পারেন।    কারা এই টাকা পাবেন - ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যেকোনো সময়ে স্টেট ফার্ম মিউচুয়াল অটোমোবাইল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যক্তিগত গাড়ির ইন্স্যুরেন্স পলিসি চালু থাকলে গ্রাহক এই ডিভিডেন্ড পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তবে নির্ধারিত ন্যূনতম অর্থের শর্তও প্রযোজ্য। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৫ সালের মধ্যে পলিসি থাকলে বর্তমানে স্টেট ফার্মের গ্রাহক না থাকলেও ডিভিডেন্ড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।    কত টাকা পাওয়া যাবে - প্রতিটি গাড়ির জন্য গড়ে প্রায় ১০০ ডলার করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে স্টেট ফার্ম। তবে সবার জন্য একই পরিমাণ অর্থ নয়। ২০২৫ সালে কত প্রিমিয়াম পরিশোধ করা হয়েছে এবং কোন রাজ্যে পলিসিটি ছিল, তার ওপর ডিভিডেন্ডের পরিমাণ নির্ভর করবে। বিভিন্ন রাজ্যে এই হার ভিন্ন হওয়ায় কারও পাওয়া অর্থ ১০০ ডলারের বেশি, আবার কারও কম হতে পারে।    আলাদা করে আবেদন করতে হবে না - এই অর্থ পাওয়ার জন্য গ্রাহকদের কোনো আবেদন বা আলাদা করে ক্লেইম জমা দিতে হবে না। স্টেট ফার্ম জানিয়েছে, যোগ্য গ্রাহকদের ধাপে ধাপে অর্থ পাঠানো হচ্ছে এবং পুরো বিতরণ প্রক্রিয়া কয়েক মাস ধরে চলবে।    যাদের স্টেট ফার্মের কাছে ইমেইল ঠিকানা রয়েছে, তারা ডিভিডেন্ড পাওয়ার বিষয়ে ইমেইল এবং অর্থ গ্রহণের নির্দেশনা পেতে পারেন। যাদের নিবন্ধিত ইমেইল ঠিকানা নেই, তাদের ডাকযোগে চেক পাঠানো হবে।  কেন গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিচ্ছে স্টেট ফার্ম - স্টেট ফার্মের ২০২৫ সালের আর্থিক ফল প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়ায় এই ডিভিডেন্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোম্পানির মতে, গাড়ি মেরামতের খরচ কমে আসা এবং দুর্ঘটনার হার কমার মতো বিষয়গুলো তাদের গাড়ির ইন্স্যুরেন্স ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।    এটি শুধু ক্যাশব্যাক নয়, একই সময়ে স্টেট ফার্ম ৪০টি রাজ্যে গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ কমিয়েছে। কোম্পানির হিসাবে, এসব হার কমানোর ফলে গ্রাহকদের বছরে প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হচ্ছে।    স্টেট ফার্মের এই অর্থ ফেরত কোনো ইন্স্যুরেন্স ক্লেইমের টাকা বা আদালতের কোনো নিষ্পত্তির অর্থ নয়। এটি স্টেট ফার্ম মিউচুয়ালের যোগ্য গ্রাহকদের জন্য এককালীন ডিভিডেন্ড। অর্থাৎ ২০২৫ সালে যোগ্য গাড়ির ইন্স্যুরেন্স পলিসি থাকা গ্রাহকদের মধ্যে যারা শর্ত পূরণ করছেন, তাদের কাছেই এই অর্থ পাঠানো হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৯, ২০২৬ ০:৬
ভার্জিনিয়ায় অভিবাসী আটকের ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর আঘাতের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী, হাসপাতালে পরীক্ষায় মিলল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে আটক হওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে এক অভিবাসীকে। তার আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে পরীক্ষার পর তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, মস্তিষ্কে ফোলাভাব এবং মাথায় আঘাত শনাক্ত হয়।   জোসে মেহিয়া হার্নান্দেজের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক তার কাছে এসে থামে। সেখান থেকে দুই ব্যক্তি নেমে তাকে ধাওয়া করেন। তারা কারা, তা বুঝতে না পেরে হার্নান্দেজ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।   হার্নান্দেজের দাবি, পালানোর সময় তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর তিনি জ্ঞান হারান। কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালে জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখতে পান, তার মুখে গুরুতর আঘাত ও ফোলাভাব রয়েছে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তার মাথায় আঘাত, মস্তিষ্কে ফোলাভাব এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শনাক্ত করেন বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন।   জ্ঞান ফেরার পর হার্নান্দেজ তার হাসপাতালের বিছানার পাশে দুই আইসিই কর্মকর্তাকে দেখতে পান বলে দাবি করেন। তিনি কীভাবে আহত হয়েছেন জানতে চাইলে কর্মকর্তারা তাকে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ হার্নান্দেজের বক্তব্যের কিছু অংশ অস্বীকার করেছে। বিভাগের দাবি, আটকের সময় হার্নান্দেজ সাড়া দিচ্ছিলেন এবং তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করার পর তাকে আটক করতে আইসিই কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করেন।   তবে কীভাবে ওই বলপ্রয়োগের পর হার্নান্দেজের মুখে গুরুতর আঘাত এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলো, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।   হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় আইসিই কর্মকর্তারা তার পাশে ছিলেন বলেও হার্নান্দেজ অভিযোগ করেছেন। এদিকে তার স্ত্রী ও সৎ সন্তান প্রায় তিন দিন পর্যন্ত জানতেন না যে তিনি আটক হয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তার আইনজীবীর বক্তব্যে জানানো হয়েছে।   হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর আইসিই হার্নান্দেজের পায়ে জিপিএস নজরদারি যন্ত্র পরিয়ে দেয় এবং তাকে ইমিগ্রেশন কোর্টে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।   কয়েক দিন পর শারীরিক অবস্থার অবনতি অনুভব করলে হার্নান্দেজ আবার হাসপাতালে যান। সেখানে তাকে পুনরায় মস্তিষ্কে আঘাত ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জন্য চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তিনি আরও দুই দিন হাসপাতালে ছিলেন বলে তার আইনজীবীর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনার পর হার্নান্দেজ তার চাকরি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইউনিভিশনকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকে তিনি নিয়মিত কাজ করে আসছেন এবং পরিবারকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চেয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত কঠিন বলে বর্ণনা করেন।   ঘটনাটি নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন হলো, আইসিই কর্মকর্তারা হার্নান্দেজকে আটক করার সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং সেই সময় তিনি কীভাবে এত গুরুতরভাবে আহত হলেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, তাকে আটক করতে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল। অন্যদিকে হার্নান্দেজের পক্ষ থেকে আটকের পুরো ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৮, ২০২৬ ২৩:৯
ছেলেকে উদ্ধারের পর নদীতে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারান অ্যাঞ্জেলিনা খালিমেনডিক। ছবি: সংগৃহীত
ছেলেকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ, নিজের জীবন দিয়ে সন্তানকে বাঁচালেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের লিবার্টিভিলে নদীতে ডুবে এক মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় ছেলে নদীতে পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে ডেস প্লেইনস নদীতে ঝাঁপ দেন ৩১ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলিনা খলিমেন্দিক। ছেলেকে নিরাপদে তীরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হলেও নিজে আর ফিরতে পারেননি তিনি।   লেক কাউন্টি ফরেস্ট প্রিজার্ভ পুলিশ ও লিবার্টিভিলের ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা ৭টার পর ইন্ডিপেনডেন্স গ্রোভ ফরেস্ট প্রিজার্ভের কাছের নদীতে উদ্ধারকাজের জন্য তাদের ডাকা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকর্মীরা ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। তখন তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন না। দ্রুত তাকে অ্যাডভোকেট কন্ডেল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   লেক কাউন্টি করোনার অফিস জানিয়েছে, নিহত ওই নারী ইলিনয়ের হিনসডেল এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ছেলেকে সাহায্য করতেই তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। ছেলেকে নিরাপদে তীরে তুলে দেওয়ার পর তিনি নিজেই পানির নিচে তলিয়ে যান। ওই সময় এক আত্মীয় ও উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত পানিতে নেমে অ্যাঞ্জেলিনাকে উদ্ধার করে ডাঙায় নিয়ে আসেন।   সোমবার তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। করোনার অফিস জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের ফলাফলে পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে লেক কাউন্টি ফরেস্ট প্রিজার্ভ পুলিশ এবং লেক কাউন্টি করোনার অফিস যৌথভাবে এ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৮, ২০২৬ ২২:৪০
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ট্রাম্প পণ্যদোকানে বিক্রির জন্য রাখা বিভিন্ন সামগ্রী। ছবি: সংগৃহীত
বিক্রি কমে বন্ধ হচ্ছে ট্রাম্পের দুই বড় দোকান, কমেছে ক্রেতার ভিড়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে তৈরি পণ্য বিক্রির অন্তত দুটি পরিচিত দোকান চলতি বছর বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। টেনেসি ও পেনসিলভানিয়ার এসব দোকানের মালিকেরা বিক্রি কমে যাওয়া, ক্রেতার উপস্থিতি হ্রাস এবং নির্বাচনী উত্তেজনা কমে যাওয়াকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি ট্রাম্প-সমর্থিত পণ্যের বাজারে ২০২৪ সালের নির্বাচনী সময়ের তুলনায় চাহিদা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   টেনেসির নক্সভিলের কাছে ইন্টারস্টেট ৪০ মহাসড়কের পাশে থাকা বড় একটি ট্রাম্প পণ্যদোকান সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। উইলিয়াম ‘বিল’ হেইসের মালিকানাধীন দোকানটি মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষের কাছে একটি পরিচিত স্থানে পরিণত হয়েছিল। দোকানের সামনে ছিল ট্রাম্পের বড় বড় সাইনবোর্ড, ব্যানার এবং ‘ডেমোক্র্যাট সুপারস্টোর’ লেখা একটি ইটের তৈরি প্রদর্শনী। দোকানটি কেন বন্ধ হচ্ছে, তা নিয়ে প্রথমদিকে ভিন্ন ধরনের খবর ছড়িয়েছিল। তবে মালিক হেইস নিজেই জানিয়েছেন, অবসর নেওয়া বা ফ্লোরিডায় চলে যাওয়ার কারণে নয়, মূলত ব্যবসা কমে যাওয়াই দোকান বন্ধের কারণ। তার ভাষায়, দোকানে এখন আর আগের মতো ক্রেতা আসছেন না।   দোকানের এক কর্মীও একই চিত্র তুলে ধরেছেন। তার দাবি, এখন দোকানটি আর ব্যস্ত থাকে না। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় এবং ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর দোকানে ক্রেতার সংখ্যা ও বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। কিন্তু পরে সেই বাড়তি আগ্রহ আর ধরে রাখা যায়নি। দোকানটির ব্যবসায় রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রভাব স্পষ্ট ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর তার সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় ট্রাম্পের ছবি ও স্লোগানসংবলিত পণ্যের চাহিদাও বেড়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের সময়কার উত্তেজনা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দোকানের ক্রেতা কমতে শুরু করে বলে কর্মীরা জানিয়েছেন।   এর আগে পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ার উপকণ্ঠ বেনসালেমে থাকা আরেকটি পরিচিত ট্রাম্প পণ্যদোকানও বন্ধ হয়ে গেছে। ছয় বছর ব্যবসা করার পর ‘ট্রাম্প স্টোর’ নামে পরিচিত দোকানটির শেষ দিন ছিল ৩১ জানুয়ারি ২০২৬। দোকানটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাক্স কাউন্টিতে ট্রাম্প-সমর্থকদের একটি পরিচিত মিলনস্থলে পরিণত হয়েছিল। সেখানে টুপি, টি-শার্ট, পতাকা ও বিভিন্ন স্মারক বিক্রি করা হতো। দোকানটির মালিক মাইক ডোমানিকো বলেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ব্যবসায় ধীরগতি দেখা দেয়। ২০২০ সালে নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্রেতাদের আগ্রহ দেখে সেটি চালিয়ে যান। ছয় বছর পর এসে তার মনে হয়েছে, দোকানটির ব্যবসায়িক সময় শেষ হয়েছে।   তবে দোকান বন্ধের পেছনে শুধু বিক্রি কমে যাওয়াই কারণ নয়। ডোমানিকো আরও একটি ব্যবসায় মনোযোগ দিতে চান এবং তিনি আংশিক অবসরে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। পাশাপাশি দোকানের ভাড়ার চুক্তির মেয়াদও শেষের দিকে ছিল। দোকান বন্ধ হলেও তার অনলাইন ব্যবসা এবং বিভিন্ন মেলায় পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বেনসালেমের দোকানটি ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে বেশ ভালো ব্যবসা করেছিল। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করেও দোকানে কিছু পণ্যের চাহিদা বেড়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর তার ছবি ও ‘ফাইট, ফাইট, ফাইট’ স্লোগানসংবলিত টি-শার্টের চাহিদা বিশেষভাবে বেড়ে যায়।   এখনও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ট্রাম্পের নামে পণ্য বিক্রির দোকান চালু রয়েছে। টেনেসির গ্যাটলিনবার্গ, সাউথ ক্যারোলাইনার নর্থ মার্টল বিচ এবং নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ট্রাম্প-ভিত্তিক পণ্য বিক্রির কার্যক্রম রয়েছে। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনও অনলাইনে পণ্য বিক্রি করছে। পাশাপাশি তার কিছু গলফ ক্লাব ও রিসোর্টের সঙ্গেও পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বেনসালেম ও টেনেসির দোকান বন্ধ হওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক পণ্য বিক্রির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য সামনে এনেছে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক প্রতীকের পোশাক, টুপি, পতাকা ও স্মারকের চাহিদা দ্রুত বাড়তে পারে। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এমন ব্যবসার জন্য নিয়মিত ক্রেতা তৈরি করা সাধারণ খুচরা ব্যবসার তুলনায় বেশি কঠিন।   এদিকে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা ব্যবসা খাত সামগ্রিকভাবেও মূল্যস্ফীতি, ভোক্তার পরিবর্তিত অভ্যাস এবং অনলাইন কেনাকাটার প্রসারের মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই ট্রাম্পের পণ্য বিক্রির দোকানগুলোর ক্ষেত্রে বিক্রি কমার কারণকে শুধু রাজনৈতিক আগ্রহের পরিবর্তন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। ব্যবসার খরচ, ক্রেতাদের ব্যয়ের চাপ এবং অনলাইন কেনাকাটার প্রবণতাও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।   তবু দুই দোকানের মালিকের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় যে বিপুল আগ্রহ ট্রাম্প-সম্পর্কিত পণ্যের বিক্রি বাড়িয়েছিল, সেটি এখন আর আগের পর্যায়ে নেই। নির্বাচনী উত্তেজনা কমে যাওয়ার পর রাজনৈতিক পণ্যকে কেন্দ্র করে স্থায়ী খুচরা ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৮, ২০২৬ ২২:১৬
সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে জিমে ব্যায়ামের ভিডিও প্রকাশ করে আলোচনায় মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাঞ্জেলা হোলম। ছবি: সংগৃহীত
নবজাতককে বুকে বেঁধে জিমে ব্যায়াম, তীব্র সমালোচনার মুখে ইনফ্লুয়েন্সার মা

নবজাতক সন্তানকে বুকে বেঁধে গভীর রাতে জিমে গিয়ে ব্যায়াম করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মা ও ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাঞ্জেলা হোলম। ভিডিওতে তাকে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেডমিলে হাঁটা এবং ওজন তোলার ব্যায়াম করতে দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে কেউ শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ প্রসবের পর নিজের শরীর ও মানসিক সুস্থতার জন্য সময় বের করার প্রশংসা করেছেন।   ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাত ৯টার পর হোলম একটি নির্জন পার্কিং এলাকা দিয়ে শিশুকে নিয়ে জিমে প্রবেশ করেন। পরে শিশুটিকে বুকে বিশেষ ক্যারিয়ারে বেঁধে ট্রেডমিলে হাঁটতে এবং অন্যান্য ব্যায়াম করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ২ দশমিক ২ মিলিয়নের বেশি বার দেখা হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে।   হোলম পাঁচ সন্তানের মা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাতৃত্ব ও পারিবারিক জীবন নিয়ে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করেন। ভাইরাল ভিডিওতে ব্যবহৃত শিশুবহনকারী ক্যারিয়ারটি তার নিজের তৈরি ও বিক্রি করা পণ্য বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলোতেও মাতৃত্ব, সন্তানদের যত্ন এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়।   তবে ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেক দর্শক শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেডমিলে ব্যায়াম করাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। তাদের আশঙ্কা, ব্যায়ামের সময় মা হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেলে শিশুটিও গুরুতরভাবে আহত হতে পারে। বিশেষ করে ট্রেডমিল, ওজন তোলার সরঞ্জাম ও জিমের অন্যান্য যন্ত্রপাতির আশপাশে ছোট শিশুকে রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।   শিশুদের জিমে ব্যায়ামের জায়গায় রাখার ঝুঁকি নিয়ে এর আগেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনডিপেনডেন্ট হেলথ ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ব্যায়ামের জায়গায় ছোট শিশুদের জন্য পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি, ভারী ওজন, ধারালো প্রান্ত এবং কোনো যন্ত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো নানা বিপদ থাকতে পারে। সংস্থাটি পরামর্শ দিয়েছে, শিশুকে ব্যায়ামের যন্ত্রপাতি থেকে দূরে এবং নিরাপদ, নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা উচিত।   ট্রেডমিল নিয়ে উদ্বেগের পেছনে বাস্তব ঘটনাও রয়েছে। বার্মিংহাম চিলড্রেনস হাসপাতাল এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের গবেষকেরা ট্রেডমিল ব্যবহারের সময় শিশুদের আহত হওয়ার ঘটনা বিশ্লেষণ করেছিলেন। গবেষণায় ২৯ শিশুর ট্রেডমিল-সম্পর্কিত আঘাতের ঘটনা পাওয়া যায়। এসব আঘাতের মধ্যে গভীর পোড়া ও দাগের মতো গুরুতর ক্ষতও ছিল। গবেষকেরা বলেছিলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধযোগ্য এবং শিশুদের ট্রেডমিলের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ কমানো প্রয়োজন।   তবে হোলমের ভিডিও নিয়ে প্রতিক্রিয়া একতরফা ছিল না। অনেক মা ও অনুসারী তার পক্ষেও কথা বলেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, সন্তান জন্মের পর শরীরচর্চা তাদের মানসিকভাবে ভালো থাকতে সাহায্য করেছে। কেউ কেউ নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছেন, সন্তানকে সঙ্গে নিয়েও তারা ব্যায়াম করেছেন।   অন্যদিকে, কয়েকজন দর্শক প্রশ্ন তুলেছেন, শিশুটিকে দেখাশোনার জন্য পরিবারের অন্য কেউ থাকলে তাকে সঙ্গে নিয়ে জিমে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না। কেউ কেউ আবার রাতের বেলায় এমন ব্যায়াম করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে ভিডিওটি শুধু শিশুর নিরাপত্তা নয়, সন্তান জন্মের পর মায়েদের নিজের জন্য সময় বের করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবন প্রকাশ এবং অন্যদের বিচার করার প্রবণতা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হোলমের এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে মূল বিতর্ক এখন নিরাপত্তা বনাম ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে ঘিরে। সন্তান জন্মের পর নিয়মিত শরীরচর্চা মায়েদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য উপকারী হতে পারে। তবে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেডমিল বা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে বলে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলোতে জোর দেওয়া হয়েছে।   ঘটনাটি আবারও দেখিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন মায়ের দৈনন্দিন জীবনের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওও কীভাবে মুহূর্তে লাখো মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ভাইরাল হওয়ার আগে এমন ভিডিওতে থাকা সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৮, ২০২৬ ২১:৪৭
ডিভোর্সের প্রক্রিয়ায় থাকা এই দম্পতির দুই ছোট শিশু ঘটনার সময় বাড়িতেই উপস্থিত ছিল। ছবি: সংগৃহীত
সন্তানদের নিতে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে, টেক্সাসে স্বামীর হাতে স্ত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনার সময় তাদের দুই শিশু সন্তান বাড়িতেই উপস্থিত ছিল। পুলিশের তল্লাশির সময় অভিযুক্ত স্বামীর শার্টে লেগে থাকা বিশাল রক্তের দাগ দেখে প্রথম সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে গ্যারেজে রাখা একটি গাড়ির ডিকি থেকে স্ত্রীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট টেক্সাসের প্ল্যানো শহরে জেক বিগনি (৩৭) নামের ওই ব্যক্তির অ্যাপার্টমেন্টে যায় পুলিশ। ওইদিন সকালে তার স্ত্রী এলিয়ানা বিগনি এক বান্ধবীর সঙ্গে সকালের নাশতা করার কথা থাকলেও তিনি সেখানে যাননি। জেকের অতীতের সহিংস আচরণের কথা বিবেচনা করে ওই বান্ধবী এলিয়ানার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। এরপরই পুলিশ জেকের বাসায় গিয়ে খোঁজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের হাতে আসা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হলফনামা থেকে জানা যায়, জেক যখন অ্যাপার্টমেন্টের দরজা খোলেন, তখন তার শার্টে বিশাল একটি রক্তের দাগ ছিল। পুলিশ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ঘর পরিষ্কার করার সময় এই দাগ লেগেছে। তিনি পুলিশকে আরও জানান, এলিয়ানা ওইদিন সকালে এসেছিলেন, তবে কিছুক্ষণ পর চলেও গেছেন।   তবে পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তারা ভেতরে তল্লাশি চালান। সে সময় অ্যাপার্টমেন্টের মেঝেতে বিপুল পরিমাণ রক্ত ও রক্তের ছিটে দেখতে পান তারা। এরপর ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের গ্যারেজে রাখা একটি সাদা হুন্দাই গাড়ির ডিকি থেকে এলিয়ানার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, এলিয়ানা মূলত তার সন্তানদের নিতেই ওইদিন জেকের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিলেন। কলিন কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনার এখনো তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ প্রকাশ করেননি।   লোমহর্ষক এই ঘটনার আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ পৌঁছানোর ঠিক ৩০ মিনিট আগে জেক তার মাকে ফোন করেছিলেন। ফোনে তিনি বলেন, "তোমাকে আমার কিছু বলার আছে। সে মারা গেছে।" জেক তার মায়ের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, "আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল এবং সে মারা গেছে।" এই কথা শোনার পরই আতঙ্কিত হয়ে তার মা পুলিশে খবর দেন।   বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার কারণে এই দম্পতি আলাদা থাকছিলেন। মাত্র এক বছর আগে জেকের চাকরির সুবাদে তারা সপরিবারে টেক্সাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের সময় তাদের ২ ও ৫ বছর বয়সী দুই শিশু সন্তান ওই অ্যাপার্টমেন্টেই ছিল। তবে তারা শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   প্ল্যানো পুলিশের কর্মকর্তা জেরি মিনটন ফক্স৪-কে বলেন, "এমন একটি জঘন্য অপরাধের সময় ওই দুই শিশু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তারা ঠিক কী দেখেছে বা দেখেনি, তা নিয়ে আমি এখন কোনো অনুমান করতে চাই না, তবে তারা সেখানে ছিল।"   কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জেক বিগনিকে প্রাথমিকভাবে মৃতদেহ অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলেও পরে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে জামিন অযোগ্য অবস্থায় তাকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৮, ২০২৬ ২১:২৭
জেক ল্যাংয়ের আগমন ঘিরে ডিয়ারবর্নে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, সংঘর্ষে জড়াল দুই পক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শহরের সিটি কাউন্সিলের বৈঠককে ঘিরে উভয় পক্ষের বিক্ষোভকারীরা জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। বৈঠকের বাইরে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে নাৎসি প্রতীকসংবলিত পোশাক পরতেও দেখা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।   ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ডানপন্থী ও ইসলামবিরোধী কর্মী জেক ল্যাং। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিয়ারবর্ন সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তিনি হেনরি ফোর্ড সেন্টেনিয়াল লাইব্রেরিতে যান। ল্যাংয়ের আগমনকে কেন্দ্র করে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি তার বিরোধিতাকারীরাও সেখানে জড়ো হন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ২ ডেট্রয়েটের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলার পর ল্যাং ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি দল লাইব্রেরির দিকে ছুটে যায়। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে নামে।   বৈঠকের ভেতরে বক্তব্য দেওয়ার সময় ল্যাং খ্রিস্টান শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে অন্যরা প্রতিস্থাপন করছে বলে দাবি করেন। তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত কয়েকজন প্রতিবাদ জানান এবং তাকে উদ্দেশ করে কটূক্তিও করা হয় বলে ফক্স ২ জানিয়েছে। বাইরে একই সময়ে ল্যাংয়ের সমর্থক এবং তার ইসলামবিরোধী অবস্থানের বিরোধীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়।   পরিস্থিতির মধ্যে ডিয়ারবর্নের মেয়র আবদুল্লাহ হামুদ শহরের বহুত্ববাদী চরিত্রের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ডিয়ারবর্নকে মুসলিম ও আরব জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া একটি শহর হিসেবে উপস্থাপন করা হলে শুধু মুসলিম ও আরবদেরই আক্রমণ করা হয় না, বরং শহরের খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষের অবদানও অস্বীকার করা হয়।   ডিয়ারবর্নের কর্মকর্তারা আগে থেকেই বাসিন্দাদের সতর্ক করেছিলেন, যেন সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে প্রয়োজনীয় কাজ না থাকলে সেখানে না যান। পুলিশের পক্ষ থেকেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ প্রধান ইসা শাহিন জানিয়েছিলেন, শহরের বাইরের বিভিন্ন গোষ্ঠী বৈঠকে আসতে পারে বলে তারা খবর পেয়েছেন। এ কারণে বৈঠকের স্থানও পরিবর্তন করা হয়েছিল।   এর আগে স্থানীয় খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারাও মেয়র ও পুলিশ প্রধানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে উত্তেজনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা ডিয়ারবর্নকে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানের শহর হিসেবে তুলে ধরেন এবং ঘৃণার পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দেন।   ডিয়ারবর্নের ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ শহরটিতে বড় আরব-আমেরিকান ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ইসলামবিরোধী বক্তব্য ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এর আগেও শহরটি জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। এবার ল্যাংয়ের ঘোষিত ‘ক্রিশ্চিয়ান ক্রুসেডার মার্চ’কে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন আগে থেকেই নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করে।   জেক ল্যাং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় অংশ নেওয়ার পর কারাদণ্ড ভোগ করেন। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমার আওতায় তিনি মুক্তি পান। এরপর তিনি ডানপন্থী ও ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ আয়োজন করে আসছেন।   ডিয়ারবর্নের পুলিশ জানিয়েছে, ল্যাংয়ের বক্তব্য দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মতপ্রকাশের অধিকার বজায় রেখেই সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো এবং অংশগ্রহণকারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জন্য স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি মিশিগান স্টেট পুলিশ, ওয়েইন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়।   ল্যাংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ডেট্রয়েটের যাজক ও ট্রাম্প সমর্থক লরেঞ্জো সেওয়েলেরও। সেওয়েল দাবি করেন, তিনি ইসলামবিরোধী নন; বরং ডিয়ারবর্নে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সুযোগের ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের জন্য সমান সুযোগের প্রশ্ন তুলতেই তিনি ল্যাংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।   তবে শহরের কর্মকর্তারা শুরু থেকেই সতর্ক করে আসছিলেন, বাইরের বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি স্থানীয় পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ডিয়ারবর্ন পুলিশ ও মিশিগানের আমেরিকান-ইসলামিক সম্পর্কবিষয়ক কাউন্সিলের মিশিগান শাখাও বাসিন্দাদের বৈঠক এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিল।   মঙ্গলবারের ঘটনাকে ঘিরে ডিয়ারবর্নে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী, পুলিশ ও সংবাদকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। স্থানীয় প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান থেকে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো।

প্রকাশ : আগস্ট ১৮, ২০২৬ ২১:১২
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আদালতে প্রশ্নের মুখে মেটা। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ক্ষতিকর ফিচার বাতিলের দাবিতে মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ অঙ্গরাজ্যের মামলা

শিশু ও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক মামলায় মেটার বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্য। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কিছু বহুল ব্যবহৃত ফিচার তরুণদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে এবং অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করে, এমন অভিযোগ তুলে এসব ফিচারে বড় ধরনের পরিবর্তন চাওয়া হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মঙ্গলবার মামলাটির মূল বিচারপর্ব শুরু হয়েছে। মামলায় রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে মেটার কাছে সর্বোচ্চ প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশা ও ব্যবহারের পদ্ধতিতে আদালতের নির্দেশে পরিবর্তন আনার দাবি জানানো হয়েছে।   মামলাটি ২০২৩ সালে ২৯ অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের করা অভিযোগ থেকে শুরু হয়। ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি মামলাটির প্রধান বাদী হিসেবে এগিয়ে রয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, মেটা এমনভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার তৈরি করেছে, যাতে শিশু ও কিশোররা বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করে। একই সঙ্গে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও মেটা ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   মামলার অভিযোগে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে অসীম স্ক্রল বা ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ ব্যবস্থা। এর ফলে একটি পোস্ট শেষ হওয়ার পর ব্যবহারকারীকে পরবর্তী পোস্টের আভাস দেখানো হয় এবং স্ক্রল করতে থাকলে নতুন নতুন কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামনে আসতে থাকে। রাজ্যগুলোর দাবি, এই নকশা ব্যবহারকারীকে থামার স্বাভাবিক জায়গা না দিয়ে ক্রমাগত স্ক্রল করতে উৎসাহিত করে। মামলার নথি অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে এই ধরনের অসীম স্ক্রল ব্যবস্থা ২০১৬ সালে চালু করা হয়।   শুধু অসীম স্ক্রল নয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া, পুশ নোটিফিকেশন, অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানো এবং অল্প সময় পর অদৃশ্য হয়ে যায় এমন কনটেন্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যগুলো। তাদের অভিযোগ, এসব ফিচার তরুণ ব্যবহারকারীদের মনোযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি তাদের বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে।   রাজ্যগুলোর চাওয়া পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য অসীম স্ক্রল বন্ধ করা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়ার ব্যবস্থা সীমিত বা বন্ধ করা এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাপে ফেরাতে পারে এমন নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করা। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজের মতো নির্দিষ্ট সময় পর অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কনটেন্ট এবং একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ নিয়েও বিধিনিষেধ চাওয়া হয়েছে। ছবি ও ভিডিওতে চেহারা পরিবর্তনকারী ফিল্টারের ব্যবহার নিয়েও সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব রয়েছে।   এ ছাড়া রাজ্যগুলো মেটার সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদমেরও পরিবর্তন চায়। তাদের অভিযোগ, কোন কনটেন্ট ব্যবহারকারীকে বেশি সময় ধরে রাখতে পারে, সেই বিষয়টি অ্যালগরিদমে গুরুত্ব পাওয়ায় তরুণদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন কনটেন্টও বারবার সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়। রাজ্যগুলোর ভাষ্য, প্ল্যাটফর্মের নকশাই এমনভাবে করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীর ব্যস্ততা বা ‘এনগেজমেন্ট’ সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।   মামলায় শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজ্যগুলোর দাবি, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যথাযথ অভিভাবকীয় সম্মতি নেওয়া হয়নি। ২০২৬ সালের জুনে আদালত মেটার সারসংক্ষেপ রায়ের আবেদন পুরোপুরি নাকচ করে দেয় এবং মামলাটি বিচার পর্যন্ত যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়। একই আদেশে আদালত ক্যালিফোর্নিয়ার এই দাবিও গ্রহণ করে যে শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা রক্ষার ফেডারেল আইন, শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন বা কপ্পা (COPPA) অনুযায়ী মেটার অভিভাবকের সম্মতি নেওয়ার পদ্ধতি যথেষ্ট ছিল না।   তবে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীদের বক্তব্য, রাজ্যগুলোর অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের দাবিও তারা মানে না। মেটা আরও বলেছে, তরুণদের সুরক্ষায় তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বয়সভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কাজ চলছে।   মামলাটি এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি চাপ দ্রুত বাড়ছে। এর আগে নিউ মেক্সিকোর একটি মামলায় মেটাকে মোট ৯৪২ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের জুরি রায় এবং পরে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা রয়েছে। ওই মামলায় শিশুদের সুরক্ষায় বয়স যাচাই জোরদার করা, রাত ও স্কুলের সময়ে নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়।   ক্যালিফোর্নিয়ার বর্তমান মামলাটি অবশ্য আরও বড় পরিসরের। যদিও ২৯টি অঙ্গরাজ্য মামলায় রয়েছে, অকল্যান্ডের এই বিচারপর্বে প্রধানত ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সির অভিযোগগুলো নিয়ে শুনানি হচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। মেটার শীর্ষ নির্বাহীদের সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   এই মামলার ফল শুধু মেটার জন্য নয়, পুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আদালত যদি রাজ্যগুলোর অভিযোগের পক্ষে রায় দেয় এবং নকশাগত পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়, তাহলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই ধরনের মামলায় অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে থাকায়, এই রায় ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর শিশু-কিশোরদের জন্য পণ্য তৈরির পদ্ধতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষ করে অসীম স্ক্রল, স্বয়ংক্রিয় ভিডিও, নোটিফিকেশন এবং অ্যালগরিদমভিত্তিক সুপারিশের মতো ফিচারগুলো যদি আদালতের নির্দেশে সীমিত করা হয়, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রচলিত অভিজ্ঞতাই বদলে যেতে পারে। আর মেটার বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবির পাশাপাশি এই নকশাগত পরিবর্তনের দাবিই মামলাটিকে প্রযুক্তি শিল্পের জন্য এতটা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৮, ২০২৬ ২০:৫২
মুদি পণ্যের বাড়তি দামে কেনাকাটার ধরন বদলাচ্ছেন আমেরিকানরা। ছবি: সংগৃহীত
১০০ ডলারে যতটা বাজার হবে ভাবছেন, বাস্তবে তার চেয়েও কম: বদলে যাচ্ছে আমেরিকানদের কেনাকাটার অভ্যাস

মুদি পণ্যের ক্রমবর্ধমান দামের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের বাজার করার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় পছন্দের ব্র্যান্ড বা প্রয়োজনের তালিকা ধরে কেনাকাটা করলেও এখন অনেকেই ভাবছেন, একই টাকায় কীভাবে বেশি খাবার তৈরি করা যায়। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ১০০ ডলার দিয়ে মুদি দোকান থেকে কতটা খাবার কেনা সম্ভব, সে বিষয়ে অধিকাংশ আমেরিকানের ধারণা বাস্তবতার চেয়ে বেশি।   ইডাহো পটেটো কমিশনের পৃষ্ঠপোষকতায় টকার রিসার্চ পরিচালিত ২ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, মানুষ ১০০ ডলারের ক্রয়ক্ষমতা বাস্তবের তুলনায় প্রায় দুই বেলা খাবার বেশি বলে অনুমান করছেন। জরিপের ফলাফল বলছে, বাড়তে থাকা খাদ্যপণ্যের দাম শুধু মানুষের বাজেটেই চাপ তৈরি করছে না, বরং তারা কী কিনছেন, কীভাবে রান্না করছেন এবং খাবার কত দিন ব্যবহার করছেন, সেসব সিদ্ধান্তেও বড় পরিবর্তন আনছে।   জরিপে অংশ নেওয়া ৩১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, এক বছর আগের তুলনায় তারা এখন বাড়িতে অনেক বেশি রান্না করছেন। একই সময়ে ২৬ শতাংশ মানুষ এমন উপাদান কেনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, যেগুলো দিয়ে একাধিক ধরনের খাবার তৈরি করা যায়। অর্থাৎ একটি উপকরণ দিয়ে কয়েকটি বেলার খাবার তৈরি করে খরচ কমানোর চেষ্টা করছেন তারা।   শুধু নিম্ন আয়ের পরিবার নয়, খাদ্যের বাড়তি দাম নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে তুলনামূলক বেশি আয় করা পরিবারগুলোর মধ্যেও। ঋণ ও ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান লেন্ডিংট্রির ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জরিপে ২ হাজার মার্কিন ভোক্তার মধ্যে ৪৯ শতাংশ বলেছেন, খাবারের খরচ বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মাত্র ২২ শতাংশ জানিয়েছেন, খাবারের খরচ নিয়ে তাদের কোনো অসুবিধা নেই।   উচ্চ আয়ের মানুষের মধ্যেও পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয় করা পরিবারের ৫৭ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, গত এক মাসে মুদি পণ্যের খরচ মেটানো নিয়ে তাদের উদ্বেগ হয়েছে। লেন্ডিংট্রির ওই জরিপটি ৪ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত হয়। নতুন জরিপে মুদি বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ কোন পণ্যে যাচ্ছে, সেটিও উঠে এসেছে। ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা মাংস ও পোলট্রিকে তাদের বাজার খরচের বড় অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এরপর রয়েছে দুগ্ধজাত পণ্য ও ডিম, যা ৩০ শতাংশ মানুষ উল্লেখ করেছেন। ফ্রোজেন বা প্রস্তুত খাবারের কথা বলেছেন ২২ শতাংশ।   বাড়তি দামের মধ্যে খাবারের অপচয় কমানোও এখন ক্রেতাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জরিপে ৭৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, বাজার করার সময় খাদ্য অপচয় কমানো তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ৭২ শতাংশ পণ্যের দীর্ঘস্থায়িত্ব বা কত দিন ভালো থাকবে, সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর ৭১ শতাংশ মানুষ দামের তুলনায় পণ্যের পুষ্টিগুণ বিবেচনা করছেন।   একই সঙ্গে ক্রেতারা এমন উপাদান খুঁজছেন, যেগুলো দিয়ে একাধিক খাবার তৈরি করা যায়। ৬০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা এমন উপাদানকে কেন্দ্র করে খাবারের পরিকল্পনা করেন, যেগুলো বিভিন্ন পদে ব্যবহার করা সম্ভব। আর ৬৩ শতাংশের কাছে কোনো উপাদান দিয়ে সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবার তৈরি করা যায় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা।   এ ক্ষেত্রে আলু, ডিম, চাল, ডাল, পাস্তা ও টর্টিলার মতো সাধারণ উপাদানের গুরুত্ব বাড়ছে। জরিপে ৪০ শতাংশ মানুষ আলুকে তাদের সবচেয়ে বহুমুখী রান্নার উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ৩৭ শতাংশ জানিয়েছেন, এক বছর আগের তুলনায় তারা এখন আলুর ওপর বেশি নির্ভর করছেন। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এমন কিছু খাবারও নতুন করে বিবেচনা করছেন, যেগুলো তারা আগে এড়িয়ে চলতেন। এর মধ্যে লাল মাংস, সাদা চাল, আলু ও ডিম রয়েছে।   খরচ কমানোর আরেকটি বড় কৌশল হয়ে উঠছে দোকানের নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য কেনা। আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নেটক্রেডিটের ২০২৬ সালের এক বিশ্লেষণে ওয়ালমার্ট, টার্গেট ও ক্রোগারের ১৭১টি সাধারণ খাদ্য ও পানীয় পণ্যের নামি ব্র্যান্ড এবং দোকানের নিজস্ব ব্র্যান্ডের দামের তুলনা করা হয়। এতে দেখা গেছে, কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে দোকানের নিজস্ব ব্র্যান্ড বেছে নিলে ৫০ শতাংশেরও বেশি অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।   নেটক্রেডিটের বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিছু ক্ষেত্রে পার্থক্য আরও বেশি। উদাহরণ হিসেবে ওয়ালমার্টে দোকানের নিজস্ব ব্র্যান্ডের স্পোর্টস হাইড্রেশন পানীয় নামি ব্র্যান্ডের তুলনায় গড়ে ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত সস্তা ছিল। একইভাবে কিছু সিরিয়াল, কেচাপ, দুধ, পাস্তা ও অন্যান্য পণ্যে ৫০ শতাংশের বেশি সাশ্রয়ের সুযোগ পাওয়া গেছে।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাজার করার সময় শুধু কোনো পণ্যের গায়ে লেখা মোট দাম দেখলেই হবে না। একটি প্যাকেট বা উপাদান দিয়ে মোট কত বেলা খাবার তৈরি করা যাবে, অর্থাৎ প্রতি বেলার খাবারে আসলে কত খরচ পড়ছে, সেটিও হিসাব করা দরকার। কারণ তুলনামূলক বেশি দামের কোনো পণ্য যদি কয়েকটি খাবারে ব্যবহার করা যায়, তাহলে সেটিই শেষ পর্যন্ত সস্তা বিকল্প হতে পারে।   খাবারের অপচয় কমাতেও পরিকল্পিত কেনাকাটার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত নষ্ট হয় এমন তাজা সবজি, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য সপ্তাহের শুরুতেই ব্যবহার করা এবং পরে ফ্রোজেন বা দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য পণ্য ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে একই ধরনের পণ্যের দাম তুলনা করার সময় প্রতি আউন্স, প্রতি পাউন্ড বা নির্দিষ্ট পরিমাণের একক মূল্য দেখলে প্রকৃত সাশ্রয় বোঝা সহজ হয়। ইডাহো পটেটো কমিশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী জেমি হাইয়াম বলেন, আমেরিকানদের মুদি কেনাকাটায় পরিবর্তন এসেছে। মানুষ শুধু কম খরচ করতে চাইছেন না, একই সঙ্গে কম খরচে কীভাবে বেশি খাবার তৈরি করা যায়, সেটিও ভাবছেন।   সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে মুদি পণ্যের বাড়তি দাম মানুষের দৈনন্দিন খাবারের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলছে। বাইরে খাওয়ার বদলে ঘরে রান্না, নামি ব্র্যান্ডের পরিবর্তে দোকানের নিজস্ব ব্র্যান্ড, কম অপচয় এবং একাধিক খাবারে ব্যবহার করা যায় এমন উপাদান কেনার প্রবণতা বাড়ছে। বাজারের ব্যাগে পণ্য তোলার আগে এখন অনেক আমেরিকানই হিসাব করছেন, একটি ডলারে কতটা খাবার পাওয়া যাবে এবং একটি উপাদান দিয়ে কতগুলো বেলার খাবার তৈরি করা সম্ভব।

প্রকাশ : আগস্ট ১৮, ২০২৬ ২০:২৬
নিউইয়র্কে ৭ বছরের শিশুপুত্রের সামনে মাকে কু পিয়ে হ ত্যা
নিউইয়র্কে ৭ বছরের শিশুপুত্রের সামনে মাকে কু পিয়ে হ ত্যা, পলাতক হাম লাকারী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে সামান্য কথা-কাটাকাটির জেরে এক ৩০ বছর বয়সী নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ক্রাউন হাইটস এলাকার লিংকন টেরেস পার্কে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, নিহত ওই নারী তাঁর মাত্র ৭ বছর বয়সী শিশুপুত্রের সামনেই এই নৃশংস হামলার শিকার হন।   নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ইস্টার্ন পার্কওয়ে এবং রচেস্টার অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি লিংকন টেরেস পার্কের ভেতর থেকে ওই নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। মুমূর্ষু অবস্থায় দ্রুত তাঁকে ব্রুকডেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।   নিহতের বন্ধু ফেটি জানান, গভীর রাতে পার্কে একটি বারবিকিউ পার্টি চলাকালীন এক ব্যক্তির সাথে ওই নারীর সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়। হামলাকারী ওই ব্যক্তির সাথে নিহত নারীর আগে থেকেই কিছুটা জানাশোনা ছিল। ফেটি আক্ষেপ করে বলেন, "অযৌক্তিক ওই ছোট্ট তর্কটি সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যেত। কিন্তু ছেলেটির চোখের সামনেই তার মাকে খুন করা হলো; ও শুধু কাঁদছে আর খুঁজছে ওর মা কোথায়!"   নিহতের আরেক বন্ধু আলাশা স্টিভেনসনের মতে, সামান্য তর্কের জেরে একজন নারীর সাথে তাঁর সন্তানের সামনে এমন পাশবিক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ জানিয়েছে, পুরুষ সন্দেহভাজন ওই হামলাকারী ঘটনার পরপরই খালি গায়ে এবং ধূসর রঙের সোয়েটপ্যান্ট পরা অবস্থায় রচেস্টার অ্যাভিনিউয়ের দিকে পালিয়ে যায়। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জোর পুলিশি অভিযান চলছে।   উল্লেখ্য, ব্রুকলিনের ক্রাউন হাইটস এলাকায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় খুনের ঘটনা। এর আগে গত রোববার ভোরে একটি ক্লাবের বাইরে পাঁচ সন্তানের জননী আরেক নারীকে একইভাবে হত্যা করা হয়েছিল। একের পর এক এমন হত্যাকাণ্ডের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৯:৪৩
কানাডার নতুন নিয়মে ওয়ার্ক পারমিট বাতিল, ঋণের ভারে দিশেহারা ভারতীয় শিক্ষার্থীরা
কানাডার নতুন নিয়মে ওয়ার্ক পারমিট বাতিল, ঋণের ভারে দিশেহারা ভারতীয় শিক্ষার্থীরা

কানাডায় উচ্চশিক্ষা শেষে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন ভারতীয় শিক্ষার্থী সমীর গাড়োয়াল। কিন্তু তিন বছর পর পড়াশোনা শেষ করে তিনি এখন যে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন, তা দেশ ছাড়ার সময়ের চেয়েও কয়েক গুণ ভয়াবহ।   ভারত থেকে ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের শিক্ষা ঋণ (এডুকেশন লোন) নিয়ে কানাডায় পাড়ি জমানো সমীরের মতো বহু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট (PGWP) বাতিল করে দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। আলবার্টার পোর্টেজ কলেজ থেকে কোর্স সম্পন্ন করার পরও বৈধভাবে কাজের সুযোগ না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন এই শিক্ষার্থীরা।   সমীর ও তাঁর সহপাঠীদের প্রত্যাশা ছিল, পড়াশোনা শেষ করেই তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী কানাডায় কাজের অনুমতি পাবেন এবং সেই উপার্জনের অর্থ দিয়ে শিক্ষা ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে দাঁড়ায়; কোনো সদুত্তর ছাড়াই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন ঢালাওভাবে বাতিল করা হয়।   এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে নেমেছেন। জানা গেছে, মূলত কোর্সের যোগ্যতাবিষয়ক আইনি জটিলতা থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। ২০২৪ সালে কানাডা সরকার ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনে কিছু কোর্সকে অযোগ্য ঘোষণা করে।   তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, নিয়ম পরিবর্তনের অনেক আগেই তাঁরা এই কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন, ফলে তাদের ওপর এই নতুন নীতি চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক ও অন্যায্য।   নতুন করে আর কোনো ঋণ নেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় সমীর এখন নিজেকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব মনে করছেন। কানাডায় আসার পর পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন ফি ও উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে গিয়ে আগেই তাঁর সব সঞ্চয় ফুরিয়ে গিয়েছিল। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের ঋণের বোঝা টানতে বাধ্য হয়ে সমীর একটি ক্রাউডফান্ডিং বা তহবিল সংগ্রহের ক্যাম্পেইন চালু করেছেন।   বর্তমানে কানাডায় কাজের বৈধ অধিকার ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া কিংবা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া ছাড়া এই শিক্ষার্থীদের সামনে আর কোনো সহজ পথ খোলা নেই।

প্রকাশ : আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৯:১৮
ভার্জিনিয়ায় মেজবানি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রথমবার বৃহত্তর ডিসি মেট্রোতে নকীব খানের সঙ্গীত
আর মাত্র ৫ দিন! ভার্জিনিয়ায় মেজবানি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রথমবার বৃহত্তর ডিসি মেট্রোতে নকীব খানের সঙ্গীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক মেজবানি ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। আগামী ২৩ আগস্ট, রোববার আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার ওয়ানে বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই মেজবানি। আয়োজন ঘিরে এরই মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এবার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খান। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকায় এবারই প্রথম নকীব খানের সঙ্গীত পরিবেশনা করবেন।   আমেরিকাপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন বা বাইটপোর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেজবানি প্রতি বছর প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বড় মিলনমেলায় পরিণত হয়। এর আগে আমেরিকা বাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, এবারের আয়োজনকে আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।   চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির স্বাদ:   মেজবানির প্রধান আকর্ষণই থাকছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই মেজবানির জন্য গরু জবাই ও রান্নার প্রস্তুতির কার্যক্রম শুরু হবে। বিপুলসংখ্যক অতিথির খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের বিষয়টি মাথায় রেখে আগেভাগেই মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করবেন স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজকরা।   রোববার সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দুপুর ১২টার পর থেকে অতিথিদের জন্য মেজবানির খাবার পরিবেশন শুরু হবে। খাবারের পাশাপাশি দিনব্যাপী চলবে আড্ডা, মিলন এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন।   নকীব খানকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ: এবারের আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। তার পাশাপাশি সঙ্গীত পরিবেশনায় থাকছেন প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী।   নকীব খানের গান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। ফলে প্রবাসের মাটিতে তার সরাসরি সঙ্গীত পরিবেশনা ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বিশেষ করে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের জন্য এবারের আয়োজনটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।   র‍্যাফেল ড্রতে থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার:   মেজবানি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে র‍্যাফেল ড্র। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে র‍্যাফেল ড্রতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে এবং প্রথম পুরস্কার হিসেবে থাকছে একটি হিরের আংটি। ফলে মেজবানির খাবার, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও সঙ্গীত পরিবেশনার পাশাপাশি র‍্যাফেল ড্র নিয়েও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   প্রস্তুতি নিয়ে যা জানালেন স্যাম রিয়া ও শামসুদ্দিন মাহমুদ:   আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা স্যাম রিয়া এবং তার স্বামী শামসুদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, মেজবানিকে সফল করতে প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শামসুদ্দিন মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই গরু জবাইসহ মেজবানির মূল প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হবে।   রোববার সকাল থেকে অতিথিদের স্বাগত জানানো এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে। দুপুরের পর শুরু হবে মেজবানির খাবার পরিবেশন। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক মঞ্চে চলবে সঙ্গীত পরিবেশনা।   প্রবাসে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশীয় ঐতিহ্যের যোগসূত্র:   আয়োজকদের অন্যতম লক্ষ্য শুধু একটি খাবারের আয়োজন করা নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক জায়গায় এনে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানো। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি, চট্টগ্রামের মেজবানি এবং দেশের সামাজিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে চান আয়োজকরা।   স্যাম রিয়া এর আগে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছিলেন, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসীদের একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বৃহত্তর কমিউনিটির অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।   ডিসি, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশিদের আহ্বান:   আয়োজকদের পক্ষ থেকে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও আশপাশের স্টেট থেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই ও আমেরিকা বাংলা:   এবারের মেজবানি আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আই এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলা সংবাদমাধ্যম আমেরিকা বাংলা। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির এই বড় আয়োজনের খবর, প্রস্তুতি ও অনুষ্ঠানসংক্রান্ত বিভিন্ন আপডেট বৃহত্তর দর্শক-শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিতে দুই গণমাধ্যমই মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।   আগামী ২৩ আগস্টের এই আয়োজন তাই শুধু চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির স্বাদ নেওয়ার সুযোগ নয়। প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে একসঙ্গে মিলিত হওয়ার পাশাপাশি নকীব খান ও অন্যান্য শিল্পীর সঙ্গীত উপভোগেরও সুযোগ থাকছে।   আর মাত্র পাঁচ দিন পরই আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে বসছে এই মিলনমেলা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বৃহত্তর ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের মেজবানি স্মরণীয় একটি কমিউনিটি আয়োজনে পরিণত হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৯:৯
ইউরোপে তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১৬ হাজার মৃ ত্যু, তবু এসি ব্যবহারে রাজি নন অনেক ইউরোপীয়
ইউরোপে তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১৬ হাজার মৃ ত্যু, তবু এসি ব্যবহারে রাজি নন অনেক ইউরোপীয়

ইউরোপে সাম্প্রতিক ভয়াবহ তাপপ্রবাহে মাত্র এক সপ্তাহে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বেলজিয়ামের একটি অঞ্চলে একদিনে এত বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, যা করোনা মহামারির চূড়ান্ত পর্যায়ের রেকর্ডকেও হার মানিয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, তীব্র এই গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা ও বিপুল মৃত্যুর পরও স্থানীয় বাসিন্দারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি (AC) ব্যবহারে চরম অনীহা প্রকাশ করছেন। তাদের সোজা কথা, আরামের জন্য তারা কোনোভাবেই 'আমেরিকানদের মতো' হতে চান না!   নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুনের শেষদিকে বেলজিয়ামের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা ওয়ালোনিয়াতে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়। সেখানে গত ২৮ জুন মাত্র একদিনেই ৩১৩ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়, যেখানে ২০২০ সালের নভেম্বরে কোভিডের সর্বোচ্চ সংক্রমণের সময়ও দৈনিক মৃত্যু ছিল ২৪৫ জন।   জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের প্রথম দিক পর্যন্ত এই অঞ্চলে প্রত্যাশিত মৃত্যুর চেয়ে ৭৭ শতাংশ বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল যে, অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। স্বাস্থ্যসেবা ফেডারেশনের মহাপরিচালক ডা. ফিলিপ ডেভোস জানান, ওয়ালোনিয়ার প্রায় অর্ধেক জরুরি বিভাগে কোনো এসি নেই।   অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে জরুরি সেবার হটলাইনে কল করলেও তা সংযোগ হতে ১০ মিনিটের বেশি সময় লেগেছে। এমনকি মৃতদেহগুলোর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় অনেক অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালের বারান্দায় সারিবদ্ধভাবে শুইয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।   সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অতিরিক্ত এই মৃত্যুর ৮৫ শতাংশেরই বয়স ছিল ৬৫ বছরের বেশি। বিশেষ করে যারা একা বসবাস করতেন, এমন নিম্ন আয়ের বয়স্করাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছেন।   এত বিপুল প্রাণহানি ও চিকিৎসকদের সতর্কবার্তার পরও এসি ব্যবহারের প্রতি ইউরোপীয়দের নেতিবাচক মনোভাব বদলায়নি। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িতে এসি রয়েছে, সেখানে ইউরোপে এই হার গড়ে মাত্র ২০ শতাংশ। এমনকি ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলোতে এসি ব্যবহারকারী পরিবারের সংখ্যা মাত্র ৪ থেকে ৬ শতাংশ।   বেলজিয়ামের চিকিৎসক টুন সিসেন্সের মতে, সেখানকার অনেকেই মনে করেন এসি ব্যবহার করলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়বেন, জীবাণু ছড়াবে এবং পরিবেশের চরম ক্ষতি হবে।   বেলজিয়াম গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিলস ভ্যানভোলসেম জানান, সাংস্কৃতিকভাবে এটি একটি শীতপ্রধান দেশ হওয়ায় মানুষ ঘর ঠান্ডা করার চেয়ে গরম রাখার বিষয়েই বেশি অভ্যস্ত।   ওয়ালোনিয়ার আবাসন ও জ্বালানি মন্ত্রীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঢালাওভাবে এসি ব্যবহার করা তাদের দীর্ঘমেয়াদী কোনো কৌশল নয়। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, ব্যাপকভাবে এসি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক চাপ পড়বে এবং যন্ত্রের নির্গত গরম বাতাসে শহরগুলো উল্টো আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। তাই এসির বিকল্প হিসেবে তারা বিশেষ ‘কুলিং স্পেস’ তৈরি ও পরিবেশবান্ধব আবাসন সংস্কারের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৮:৪৩