আর মাত্র ৫ দিন! ভার্জিনিয়ায় মেজবানি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রথমবার বৃহত্তর ডিসি মেট্রোতে নকীব খানের সঙ্গীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক মেজবানি ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। আগামী ২৩ আগস্ট, রোববার আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার ওয়ানে বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই মেজবানি। আয়োজন ঘিরে এরই মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এবার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খান। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকায় এবারই প্রথম নকীব খানের সঙ্গীত পরিবেশনা করবেন।
আমেরিকাপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন বা বাইটপোর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেজবানি প্রতি বছর প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বড় মিলনমেলায় পরিণত হয়। এর আগে আমেরিকা বাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, এবারের আয়োজনকে আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির স্বাদ:
মেজবানির প্রধান আকর্ষণই থাকছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই মেজবানির জন্য গরু জবাই ও রান্নার প্রস্তুতির কার্যক্রম শুরু হবে। বিপুলসংখ্যক অতিথির খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের বিষয়টি মাথায় রেখে আগেভাগেই মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করবেন স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজকরা।
রোববার সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দুপুর ১২টার পর থেকে অতিথিদের জন্য মেজবানির খাবার পরিবেশন শুরু হবে। খাবারের পাশাপাশি দিনব্যাপী চলবে আড্ডা, মিলন এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন।
নকীব খানকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ: এবারের আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। তার পাশাপাশি সঙ্গীত পরিবেশনায় থাকছেন প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী।
নকীব খানের গান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। ফলে প্রবাসের মাটিতে তার সরাসরি সঙ্গীত পরিবেশনা ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বিশেষ করে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের জন্য এবারের আয়োজনটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
র্যাফেল ড্রতে থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার:
মেজবানি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে র্যাফেল ড্র। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে র্যাফেল ড্রতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে এবং প্রথম পুরস্কার হিসেবে থাকছে একটি হিরের আংটি। ফলে মেজবানির খাবার, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও সঙ্গীত পরিবেশনার পাশাপাশি র্যাফেল ড্র নিয়েও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রস্তুতি নিয়ে যা জানালেন স্যাম রিয়া ও শামসুদ্দিন মাহমুদ:
আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা স্যাম রিয়া এবং তার স্বামী শামসুদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, মেজবানিকে সফল করতে প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শামসুদ্দিন মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই গরু জবাইসহ মেজবানির মূল প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হবে।
রোববার সকাল থেকে অতিথিদের স্বাগত জানানো এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে। দুপুরের পর শুরু হবে মেজবানির খাবার পরিবেশন। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক মঞ্চে চলবে সঙ্গীত পরিবেশনা।
প্রবাসে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশীয় ঐতিহ্যের যোগসূত্র:
আয়োজকদের অন্যতম লক্ষ্য শুধু একটি খাবারের আয়োজন করা নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক জায়গায় এনে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানো। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি, চট্টগ্রামের মেজবানি এবং দেশের সামাজিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে চান আয়োজকরা।
স্যাম রিয়া এর আগে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছিলেন, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসীদের একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বৃহত্তর কমিউনিটির অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিসি, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশিদের আহ্বান:
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও আশপাশের স্টেট থেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই ও আমেরিকা বাংলা:
এবারের মেজবানি আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আই এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলা সংবাদমাধ্যম আমেরিকা বাংলা। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির এই বড় আয়োজনের খবর, প্রস্তুতি ও অনুষ্ঠানসংক্রান্ত বিভিন্ন আপডেট বৃহত্তর দর্শক-শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিতে দুই গণমাধ্যমই মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
আগামী ২৩ আগস্টের এই আয়োজন তাই শুধু চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির স্বাদ নেওয়ার সুযোগ নয়। প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে একসঙ্গে মিলিত হওয়ার পাশাপাশি নকীব খান ও অন্যান্য শিল্পীর সঙ্গীত উপভোগেরও সুযোগ থাকছে।
আর মাত্র পাঁচ দিন পরই আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে বসছে এই মিলনমেলা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বৃহত্তর ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের মেজবানি স্মরণীয় একটি কমিউনিটি আয়োজনে পরিণত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে সামান্য কথা-কাটাকাটির জেরে এক ৩০ বছর বয়সী নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ক্রাউন হাইটস এলাকার লিংকন টেরেস পার্কে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, নিহত ওই নারী তাঁর মাত্র ৭ বছর বয়সী শিশুপুত্রের সামনেই এই নৃশংস হামলার শিকার হন। নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ইস্টার্ন পার্কওয়ে এবং রচেস্টার অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি লিংকন টেরেস পার্কের ভেতর থেকে ওই নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। মুমূর্ষু অবস্থায় দ্রুত তাঁকে ব্রুকডেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বন্ধু ফেটি জানান, গভীর রাতে পার্কে একটি বারবিকিউ পার্টি চলাকালীন এক ব্যক্তির সাথে ওই নারীর সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়। হামলাকারী ওই ব্যক্তির সাথে নিহত নারীর আগে থেকেই কিছুটা জানাশোনা ছিল। ফেটি আক্ষেপ করে বলেন, "অযৌক্তিক ওই ছোট্ট তর্কটি সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যেত। কিন্তু ছেলেটির চোখের সামনেই তার মাকে খুন করা হলো; ও শুধু কাঁদছে আর খুঁজছে ওর মা কোথায়!" নিহতের আরেক বন্ধু আলাশা স্টিভেনসনের মতে, সামান্য তর্কের জেরে একজন নারীর সাথে তাঁর সন্তানের সামনে এমন পাশবিক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ জানিয়েছে, পুরুষ সন্দেহভাজন ওই হামলাকারী ঘটনার পরপরই খালি গায়ে এবং ধূসর রঙের সোয়েটপ্যান্ট পরা অবস্থায় রচেস্টার অ্যাভিনিউয়ের দিকে পালিয়ে যায়। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জোর পুলিশি অভিযান চলছে। উল্লেখ্য, ব্রুকলিনের ক্রাউন হাইটস এলাকায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় খুনের ঘটনা। এর আগে গত রোববার ভোরে একটি ক্লাবের বাইরে পাঁচ সন্তানের জননী আরেক নারীকে একইভাবে হত্যা করা হয়েছিল। একের পর এক এমন হত্যাকাণ্ডের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আর মাত্র ৫ দিন! ভার্জিনিয়ায় মেজবানি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রথমবার বৃহত্তর ডিসি মেট্রোতে নকীব খানের সঙ্গীত
ফ্লোরিডায় ছাত্রকে যৌ ন নিপীড়নের দায়ে শিক্ষিকার ৩০ মাসের কারাদণ্ড, স্কুল বোর্ডের বিরুদ্ধেও ক্ষতিপূরণ মামলা
প্রিন্সটন-হার্ভার্ড থেকে এমআইটি, যে ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্তানকে পড়ানোর স্বপ্ন দেখেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি বাবা-মা
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বিমা প্রতিষ্ঠান স্টেট ফার্ম মিউচুয়াল অটোমোবাইল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি তাদের অটো বা গাড়ি বিমার গ্রাহকদের জন্য এককালীন ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) ডলার ক্যাশ-ব্যাক ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ প্রদান শুরু করেছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের ইতিহাসে এটি প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় ডিভিডেন্ড প্রদানের ঘটনা বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএফটিভি। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সুবিধার আওতায় ৪ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি তালিকাভুক্ত গাড়ি কভার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে লাখ লাখ গ্রাহক এই অর্থ পেতে শুরু করেছেন এবং আগামী কয়েক মাস ধরে দেশব্যাপী পর্যায়ক্রমে এই অর্থ বিতরণ অব্যাহত থাকবে। এই বিশাল অঙ্কের ডিভিডেন্ডের জন্য তারাই যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন, যাদের ২০২৫ সালের যেকোনো সময় স্টেট ফার্মের ব্যক্তিগত অটো ইন্স্যুরেন্স পলিসি চালু ছিল এবং হিসাব অনুযায়ী যাদের ডিভিডেন্ডের পরিমাণ অন্তত ১০ ডলার। ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রাহক ঠিক কত টাকা পাবেন, তা নির্ভর করছে ২০২৫ সালে পরিশোধিত প্রিমিয়ামের পরিমাণের ওপর। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য অনুযায়ী এই হার ৪ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে গড়ে প্রতিটি গাড়ির বিপরীতে প্রায় ১০০ ডলার করে ডিভিডেন্ড পাওয়া যাচ্ছে। স্টেট ফার্ম জানিয়েছে, তাদের এই বিশাল অর্থ ফেরতের সিদ্ধান্তটি সম্ভব হয়েছে কোম্পানির সুদৃঢ় আর্থিক কাঠামো এবং ২০২৫ সালে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আন্ডাররাইটিং পারফরম্যান্সের কারণে। গ্রাহকরা কীভাবে এই অর্থ পাবেন বা তাদের পেমেন্টের বর্তমান অবস্থা কী, তা জানতে স্টেট ফার্ম একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া চালু করেছে। যেসব গ্রাহকের ইমেইল ঠিকানা প্রতিষ্ঠানটির কাছে সংরক্ষিত আছে, তারা একটি ইমেইল পাবেন, যেখানে পেমেন্ট পোর্টালের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট অথবা চেক বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। আর যাদের ইমেইল ঠিকানা নেই, তাদের ঠিকানায় সরাসরি ডাকযোগে চেক পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে বা পেমেন্ট স্ট্যাটাস চেক করতে গ্রাহকরা স্টেট ফার্মের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট sfdividend.com-এ ভিজিট করতে পারেন বলে মর্নিংস্টার জানিয়েছে। এছাড়াও ডিভিডেন্ড কাস্টমার কন্ট্যাক্ট সেন্টারে (1-888-808-9532) কল করেও এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যাবে। তবে এই পেমেন্ট পলিসির ক্রেডিটের বদলে আলাদাভাবে দেওয়া হবে এবং এর কারণে গ্রাহকদের ভবিষ্যৎ অটো ইন্স্যুরেন্স রেট বা প্রিমিয়ামে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের জাঁতাকলে বছরে জনগণের ১২ বিলিয়ন ঘণ্টা অপচয়, নাম দেওয়া হয়েছে ‘টাইম ট্যাক্স’
সিভি থেকে ইন্টারভিউ, চাকরি পেতে এআইয়ের ওপর বাড়ছে প্রার্থীদের ভরসা; মিলছে সাফল্যও
মেয়ে ইমিগ্রেশন আইনজীবী, তবুও আইসিই-এর হাতে বন্দি ২৭ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত গ্রিন কার্ডধারী বৃদ্ধা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির অন্তত ১২টি এলাকায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস-এর অভিযান এবং নজরদারি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সতর্ক করেছে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। হঠাৎ করে এই ধরপাকড় অভিযান বেড়ে যাওয়ায় শহরজুড়ে বসবাসরত অনিবন্ধিত অভিবাসী ও প্রবাসীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে কর্মস্থলে যাওয়ার পথেও অনেকেই যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে ভুগছেন। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে শহরের বেশ কয়েকটি সুপরিচিত এলাকায় আইসের তৎপরতা ব্যাপকভাবে চোখে পড়েছে। এর মধ্যে ম্যানহাটনের ইনউড ও ওয়াশিংটন হাইটস এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের পোর্ট রিচমন্ড ও স্ট্যাপলটন এলাকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ব্রুকলিন বোরোর সানসেট পার্ক, ডাইকার হাইটস, বেনসনহার্স্ট এবং সাইপ্রেস হিলসেও আইস সদস্যদের আকস্মিক উপস্থিতি ও অভিযানের খবর পাওয়া গেছে। মূলত যেসব এলাকায় অভিবাসীদের ঘনবসতি বেশি, কৌশলগতভাবে সেসব জায়গাতেই এই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রুকলিন ও ম্যানহাটনের পাশাপাশি কুইন্সের মতো বাংলাদেশি এবং অন্যান্য অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও এই অভিযানের তীব্র আঁচ লেগেছে। স্থানীয় অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, কুইন্সের এলমহার্স্ট, ইস্ট এলমহার্স্ট, কলেজ পয়েন্ট এবং করোনা এলাকায় আইসের দৃশ্যমান উপস্থিতি বেড়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত ২৭ জুলাইয়ের পর থেকে কেবল কুইন্স এলাকাতেই দুই ডজনের বেশি ব্যক্তিকে আটকের সুনির্দিষ্ট তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে ভয়াবহ ভীতির সঞ্চার করেছে। তবে এই ধরপাকড় পরিস্থিতি ঠিক কতটা ব্যাপক, সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এলাকাভিত্তিক অভিযানের কোনো পূর্ণাঙ্গ বা আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে অভিবাসী সংগঠনগুলোর তালিকাভুক্ত প্রতিটি এলাকায় প্রতিদিন নিয়মিত অভিযান চলছে কি না, তা শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তা সত্ত্বেও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে অভিবাসীদের নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে আইনজীবীদের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে ২৫০টির বেশি ই হুদি বি দ্বেষী ঘটনার অভিযোগ, উদ্বিগ্ন শিক্ষকরা
নিউইয়র্কে ৯৯২ ডলারেই অ্যাপার্টমেন্ট! ব্রুকলিনে শুরু ৬৩ ইউনিটের হাউজিং লটারি