- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজ ছাত্রকে ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত এক জীববিজ্ঞানের শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এবার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। জঘন্য এই ঘটনার শিকার হয়ে ওই কিশোর ঈশ্বরের ওপর থেকে নিজের বিশ্বাস পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছেন বলে দাবি করেছেন। ব্রুক অ্যান্ডারসন নামের ২৮ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকা বর্তমানে যৌন অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৩০ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। কারাবাসের দুই মাস পার হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে এই নতুন দেওয়ানি মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ঘটনাটির শুরু হয়েছিল খুব স্বাভাবিকভাবেই। টাম্পার রিভারভিউ হাই স্কুলে পড়ার প্রথম দুই বছর ওই ছাত্র বিজ্ঞান শিক্ষিকা ব্রুক অ্যান্ডারসনের ক্লাসরুমেই দুপুরের খাবার খেতেন। তবে ২০২১ সাল থেকে ওই শিক্ষিকা ধীরে ধীরে ছাত্রটির সাথে অনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিক্ষিকা তাকে অত্যন্ত অশালীন ও যৌন উত্তেজক বার্তা পাঠাতে শুরু করেন, যা ছাত্রটির হাইস্কুলের শেষ বছর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এরপর গত বছরের এপ্রিল মাসে (২০২৫) ওই ছাত্রকে আপত্তিকর ছবি পাঠান এবং মে মাসে ক্লাসরুমের ভেতর তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী, ওই সময় ছাত্রটির বয়স সম্মতি প্রদানের আইনি বয়সের (Age of consent) চেয়ে এক বছর কম ছিল। এর আগে ফৌজদারি আদালতে তিনটি বেআইনি যৌন কার্যকলাপসহ একাধিক অভিযোগে ওই শিক্ষিকা নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছিলেন। ভুক্তভোগী কিশোরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জঘন্য এই যৌন নির্যাতনের কারণে ওই কিশোর স্থায়ী মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছেন, যার ফলে ঈশ্বরের ওপর তার বিশ্বাসও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এই অপূরণীয় ক্ষতির জন্য রোড আইল্যান্ডে এক বিলাসবহুল পরিবেশে বেড়ে ওঠা ওই শিক্ষিকার কাছে এক লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি। এছাড়াও, এমন একজন বিকৃত মানসিকতার শিক্ষিকাকে স্কুলে নিয়োগ দিয়ে চরম অবহেলার পরিচয় দেওয়ায় হিলসবরো কাউন্টি স্কুল বোর্ডের কাছেও আরও ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। শিক্ষিকা নিজে থেকে ফৌজদারি অপরাধের দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় বর্তমান ক্ষতিপূরণ মামলায় ভুক্তভোগী কিশোরের অবস্থান আরও জোরালো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের শিক্ষাজীবনের সাফল্য প্রবাসজীবনের অন্যতম বড় অর্জন। হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর নতুন দেশে নিজেদের অবস্থান তৈরির পাশাপাশি তাঁদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন থাকে সন্তানকে উচ্চশিক্ষার সেরা সুযোগটি করে দেওয়া। আর সেই সন্তান যখন প্রিন্সটন, এমআইটি, হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, ইয়েল, ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো, ডিউক, জনস হপকিন্স, নর্থওয়েস্টার্ন কিংবা ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়, তখন সেই আনন্দ শুধু শিক্ষার্থীর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা পুরো পরিবারের জন্য এক অসীম গর্বের বিষয়ে পরিণত হয়। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, এই দশটি প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থার শীর্ষস্থান দখল করে আছে। এই বিশ্বসেরা বিদ্যাপীঠগুলোতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। শুধুমাত্র ভালো ফলাফল থাকলেই এখানে সুযোগ নিশ্চিত হয় না; বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রস্তুতির পাশাপাশি তার সামগ্রিক প্রোফাইল, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম এবং সুযোগের সদ্ব্যবহারের দিকগুলো গভীরভাবে মূল্যায়ন করে থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এদের নিড-বেসড ফিন্যান্সিয়াল এইড বা আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা। প্রিন্সটন, হার্ভার্ড, এমআইটি এবং ইয়েল ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে না, যাকে নিড-ব্লাইন্ড অ্যাডমিশন বলা হয়। ভর্তি হতে পারা শিক্ষার্থীদের প্রমাণিত আর্থিক প্রয়োজনের শতভাগই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব অনুদান বা গ্র্যান্টের মাধ্যমে পূরণ করে থাকে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের কোনো বাধ্যতামূলক ঋণ বা লোন নিতে হয় না। এমনকি পরিবারের আয়ের নির্দিষ্ট সীমার ওপর ভিত্তি করে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণ ফ্রি হতে পারে। তবে ফিন্যান্সিয়াল এইড পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা অভিবাসন মর্যাদাও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। সন্তান যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হয়, তবে বেশিরভাগ শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে দেশীয় আবেদনকারী হিসেবে বিবেচনা করে নিড-ব্লাইন্ড সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্ট্যানফোর্ড, ডিউক, জনস হপকিন্স বা পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ফিন্যান্সিয়াল এইড চাওয়ার বিষয়টি ভর্তির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই উচ্চ টিউশন ফি দেখে ভয় না পেয়ে, আবেদন করার আগেই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা নীতি ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। সন্তানকে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াতে হবে এমন কোনো চাপ প্রয়োগ না করে, তার যোগ্যতা ও আগ্রহের সাথে মানানসই প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তবুও, শূন্য থেকে জীবন শুরু করা একজন প্রবাসী বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের এমন সাফল্য কেবল একটি কলেজে সুযোগ পাওয়ার খবর থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে বছরের পর বছর দেখা স্বপ্নের এক গৌরবময় বাস্তবায়ন।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বিমা প্রতিষ্ঠান স্টেট ফার্ম মিউচুয়াল অটোমোবাইল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি তাদের অটো বা গাড়ি বিমার গ্রাহকদের জন্য এককালীন ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) ডলার ক্যাশ-ব্যাক ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ প্রদান শুরু করেছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের ইতিহাসে এটি প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় ডিভিডেন্ড প্রদানের ঘটনা বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএফটিভি। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সুবিধার আওতায় ৪ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি তালিকাভুক্ত গাড়ি কভার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে লাখ লাখ গ্রাহক এই অর্থ পেতে শুরু করেছেন এবং আগামী কয়েক মাস ধরে দেশব্যাপী পর্যায়ক্রমে এই অর্থ বিতরণ অব্যাহত থাকবে। এই বিশাল অঙ্কের ডিভিডেন্ডের জন্য তারাই যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন, যাদের ২০২৫ সালের যেকোনো সময় স্টেট ফার্মের ব্যক্তিগত অটো ইন্স্যুরেন্স পলিসি চালু ছিল এবং হিসাব অনুযায়ী যাদের ডিভিডেন্ডের পরিমাণ অন্তত ১০ ডলার। ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রাহক ঠিক কত টাকা পাবেন, তা নির্ভর করছে ২০২৫ সালে পরিশোধিত প্রিমিয়ামের পরিমাণের ওপর। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য অনুযায়ী এই হার ৪ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে গড়ে প্রতিটি গাড়ির বিপরীতে প্রায় ১০০ ডলার করে ডিভিডেন্ড পাওয়া যাচ্ছে। স্টেট ফার্ম জানিয়েছে, তাদের এই বিশাল অর্থ ফেরতের সিদ্ধান্তটি সম্ভব হয়েছে কোম্পানির সুদৃঢ় আর্থিক কাঠামো এবং ২০২৫ সালে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আন্ডাররাইটিং পারফরম্যান্সের কারণে। গ্রাহকরা কীভাবে এই অর্থ পাবেন বা তাদের পেমেন্টের বর্তমান অবস্থা কী, তা জানতে স্টেট ফার্ম একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া চালু করেছে। যেসব গ্রাহকের ইমেইল ঠিকানা প্রতিষ্ঠানটির কাছে সংরক্ষিত আছে, তারা একটি ইমেইল পাবেন, যেখানে পেমেন্ট পোর্টালের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট অথবা চেক বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। আর যাদের ইমেইল ঠিকানা নেই, তাদের ঠিকানায় সরাসরি ডাকযোগে চেক পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে বা পেমেন্ট স্ট্যাটাস চেক করতে গ্রাহকরা স্টেট ফার্মের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট sfdividend.com-এ ভিজিট করতে পারেন বলে মর্নিংস্টার জানিয়েছে। এছাড়াও ডিভিডেন্ড কাস্টমার কন্ট্যাক্ট সেন্টারে (1-888-808-9532) কল করেও এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যাবে। তবে এই পেমেন্ট পলিসির ক্রেডিটের বদলে আলাদাভাবে দেওয়া হবে এবং এর কারণে গ্রাহকদের ভবিষ্যৎ অটো ইন্স্যুরেন্স রেট বা প্রিমিয়ামে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের আসরে এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বরের জন্য তৈরি করা বিশেষ খাবারের ডালায় 'আস্ত খাসি' না থাকায় শুরু হয় তুমুল বাগবিতণ্ডা। আর এই অযৌক্তিক ক্ষোভ ও অশালীন আচরণের জেরে জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়াকে বিয়ে না দিয়েই আসর থেকে বের করে দিয়েছেন কনের বাবা সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এই অভিনব ঘটনাটি ঘটে, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়ার সঙ্গে তোলাতলা গ্রামের সফিকুল ইসলামের মেয়ে রাশেদা আক্তারের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। দুপুরে বরপক্ষ কনের বাড়িতে উপস্থিত হলে ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁদের বরণ করে নেওয়া হয়। কিন্তু শুরুতেই সেই ফুল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বর। এরপর বরপক্ষের প্রায় ১৫০ জন অতিথির খাওয়াদাওয়া শেষে বর, তাঁর ভাই ও চাচার জন্য তিনটি বড় ডালায় বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। কিন্তু সেই ডালায় আস্ত খাসি না দেখতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন জুনায়েদ। কনেপক্ষের সঙ্গে তিনি চরম বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি শান্ত করতে বরের বড় ভাই উজ্জল মিয়া এগিয়ে এলে জুনায়েদ রেগে গিয়ে তাঁর ভাইকেই ওই মেয়েকে বিয়ে করতে বলেন! বরের এমন উদ্ধত আচরণ ও বেয়াদবি দেখে কনের বাবা তাৎক্ষণিকভাবে এই বিয়ে ভেঙে দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন এবং খাওয়া শেষে উপহারসামগ্রী ও স্বর্ণালংকারসহ বরপক্ষকে বিদায় করে দেন। এ বিষয়ে কনের বাবা সফিকুল ইসলাম জানান, খাবারের ডালায় আস্ত খাসি না থাকায় বর আপত্তি তুলে চরম খারাপ আচরণ শুরু করেন। খাসির বিষয়টি আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না জানালেও তিনি শান্ত হননি, উল্টো নিজের বড় ভাইকে বিয়ে করতে বলার মতো ধৃষ্টতা দেখান। ছেলের এমন মানসিকতা দেখে তিনি মেয়ের ভবিষ্যৎ ভেবে বিয়ে না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশিক মিয়াও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খাবার নিয়ে বরের চরম বেয়াদবির কারণেই কনের বাবা তাঁদের তাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিযুক্ত বর জুনায়েদ। তাঁর দাবি, খাওয়ার পর কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত কাবিনের চেয়ে দশ গুণ বেশি অর্থ দাবি করে এবং তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁদের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বরের ভাই উজ্জল মিয়া বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান, বিয়ে না দেওয়ার কথা বলায় তাঁরা বরকে নিয়ে ফিরে এসেছেন। পাল্টাপাল্টি এই অভিযোগের মধ্যেই পুরো বিষয়টি নিয়ে নেটদুনিয়ায় বইছে সমালোচনার ঝড়।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের সরকারি ফর্ম পূরণ আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রতি বছর প্রায় ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। সাংবাদিক অ্যানি লোওরে তাঁর সদ্য প্রকাশিত বই “দ্য টাইম ট্যাক্স: হাউ দ্য গভর্নমেন্ট ওয়েস্টস আওয়ার টাইম — অ্যান্ড হাউ টু ফিক্স ইট”-এ এই বিষয়টিকে ‘টাইম ট্যাক্স’ বা সময়ের ওপর কর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত প্রায় ৯১ হাজার ৪৭৬টি সরকারি সংস্থা তাদের নিজস্ব নিয়ম ও ফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের এই বিপুল পরিমাণ সময় কেড়ে নিচ্ছে। আমেরিকান অ্যাকশন ফোরামের মতে, নষ্ট হওয়া এই শ্রমঘণ্টার আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় ৪৩০ বিলিয়ন ডলার, যা প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনির জন্য বছরে প্রায় ছয় দিন পূর্ণকালীন কাজের সমান। আমলাতান্ত্রিক এই জটিলতার একটি ভয়াবহ উদাহরণ হলেন জেফ মিলার নামের এক ব্যক্তি। ২০০১ সালে ম্যাসাচুসেটসের একটি মোটরযান কার্যালয়ে (ডিএমভি) ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থানান্তর করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে, সরকারি খাতায় তিনি একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী! আসলে একই দিনে ও একই রাজ্যে জন্ম নেওয়া জেফ মিলার নামের অন্য এক ব্যক্তি হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধ করেছিলেন। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে মিলারকে তার জন্মসনদ, পাসপোর্ট এবং নতুন করে সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড জোগাড় করতে হয়েছিল। নিউজার্সি থেকে তাকে একটি চিঠিও সংগ্রহ করতে হয় প্রমাণ করার জন্য যে, তিনি সেই অপরাধী জেফ মিলার নন। কিন্তু তাতেও হয়রানির শেষ হয়নি; পরবর্তী সময়ে কানাডা ভ্রমণ শেষে তাকে সীমান্তে আটক করা হয় এবং অপরাধীদের বাড়ি ভাড়া দেয় না বলে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবি-ও তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে দেয়। বইটিতে দেখানো হয়েছে, এই ‘টাইম ট্যাক্স’ বা সময়ের অপচয় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ফেলে দরিদ্র, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষদের। উটাহ রাজ্যের তিন সন্তানের একক মা মার্সেলা প্যাটিনোর সপ্তাহে আয় ছিল মাত্র ৩০০ ডলার এবং তিনি সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু বারবার কাগজপত্রের প্রমাণ দেওয়া এবং সরকারি ওয়েবসাইটের জটিলতার কারণে তাকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এমনকি মিশিগান রাজ্যে একসময় সরকারি সহায়তার আবেদনের ফর্মটি ছিল ৪০ পৃষ্ঠার এবং ১৮ হাজার শব্দ সংবলিত। সেখানে আবেদনকারীদের ওজন, চুলের রঙের পাশাপাশি কোনো নারী গর্ভবতী হলে তার সন্তান ঠিক কোথায় এবং কবে মাতৃগর্ভে এসেছিল— এমন অযৌক্তিক প্রশ্নও করা হতো। লোওরে এই পরিস্থিতিকে ‘পেপারওয়ার্ক ভোর্টেক্স’ বা কাগজপত্রের ঘূর্ণিপাক বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার চেয়ে ফর্ম পূরণ করাই দরিদ্রদের মূল কাজে পরিণত হয়। তবে পরিস্থিতি যে অপরিবর্তনযোগ্য, তা কিন্তু নয়। বইটিতে উদাহরণ হিসেবে ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়ার কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রায় সব সরকারি সেবা একটি নিরাপদ ডিজিটাল পোর্টালে পাওয়া যায়। তাদের ‘অনলি ওয়ান্স’ বা ‘কেবল একবার’ নীতির ফলে এক সংস্থাকে তথ্য দিলে অন্য সংস্থাগুলো সহজেই তা সংগ্রহ করতে পারে। ফলে এস্তোনিয়ার নাগরিকরা মাইক্রোওভেনে পপকর্ন ভাজতে যে সময় লাগে, তার চেয়েও কম সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেন। পরবর্তীতে আমেরিকার মিশিগান রাজ্যও তাদের সেই বিশাল ফর্মটি ছোট করে ৮০ শতাংশ শব্দ কমিয়ে আনে, যার ফলে আবেদন সফল হওয়ার হার ৭২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৪ শতাংশে দাঁড়ায়। অ্যানি লোওরের মতে, নাগরিকদের অপেশাদার আমলা বানানো সরকারের কাজ হতে পারে না; বরং মানুষের মূল্যবান সময় বাঁচাতে সরকারের উচিত নিজেদের প্রশাসনিক দায়িত্ব নিজেরাই পালন করা।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে শত শত বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সাইবার হামলা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরির দায়ে ১৭ জন ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে মার্কিন প্রশাসন। 'মাবনা ইনস্টিটিউট' নামের একটি ইরানি হ্যাকিং গ্রুপের সদস্য এই অভিযুক্তরা অন্তত ২০১৩ সাল থেকে এই সুসংগঠিত সাইবার অপরাধের সাথে যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের মার্কিন অ্যাটর্নি, বিচার বিভাগ এবং ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) কর্মকর্তারা সম্প্রতি ১৪-দফার এই সংশোধিত অভিযোগপত্র বা ইনডিক্টমেন্ট প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অভিযুক্তরা মূলত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার হয়ে এই বৈশ্বিক গুপ্তচরবৃত্তি ও তথ্য চুরির মিশন পরিচালনা করেছিল। হ্যাকারদের এই সংঘবদ্ধ চক্রটি যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪টি এবং অন্যান্য দেশের ১৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেম হ্যাক করে বিশ্বজুড়ে এক লাখেরও বেশি অধ্যাপকের অ্যাকাউন্ট টার্গেট করেছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে তারা সক্ষম হয়। এর পাশাপাশি অন্তত ৪২টি মার্কিন বেসরকারি কোম্পানি, ইউরোপের বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক এনজিও এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বেশ কয়েকটি সংস্থাও তাদের হামলার শিকার হয়। হ্যাকাররা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন গবেষণার অন্তত ৩১.৫ টেরাবাইট অ্যাকাডেমিক ডেটা ও মহামূল্যবান ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি (মেধাস্বত্ব) চুরি করে। এই চুরি করা তথ্যগুলো তারা কেবল আইআরজিসি-র হাতেই তুলে দেয়নি, বরং 'মেগাপেপার' ও 'গিগাপেপার' নামক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তা ইরানি বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এই সাইবার অপরাধের ভয়াবহতা কেবল তথ্য চুরিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; অভিযুক্তরা বিখ্যাত মার্কিন মিডিয়া ও এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি এইচবিও (HBO)-এর সার্ভারেও বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করেছিল। বেহজাদ মেসরি এবং তার সহযোগীরা এইচবিও-র গোপন ও সংবেদনশীল ডেটা চুরি করে তা ফাঁসের হুমকি দিয়ে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বিটকয়েন মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে। সামগ্রিকভাবে এই হ্যাকিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কর্পোরেট ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিস্টেম পুনরুদ্ধারে দুই কোটি ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই সাইবার অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের 'রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস' (RFJ) প্রোগ্রাম ইতোমধ্যেই পাঁচজন শীর্ষ হ্যাকারের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য ১ কোটি ডলার (১০ মিলিয়ন ডলার) পর্যন্ত বিশাল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা শঙ্কা ও সতর্কবার্তার মাঝেই এক অন্যরকম নীরব বিপ্লব ঘটে চলেছে সাধারণ মানুষের জীবনে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের বাসিন্দা লনি ডিনেলোর গল্পটি এর একটি বড় প্রমাণ। এক বিষণ্ণ শনিবার সন্ধ্যায় একাকীত্বে ভুগে তিনি চ্যাটজিপিটি-র (ChatGPT) শরণাপন্ন হন এবং লেখেন, "আমার খুব একা লাগছে।" এরপরের ঘটনাটি কোনো বড় প্রযুক্তিগত আবিষ্কারের খবর না হলেও, একজন সাধারণ মানুষের কঠিন সময়ে প্রযুক্তির পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। লনি এখন তার এই এআই-কে নিজের 'সুন্দর ছোট্ট পরিবার' বলে ডাকেন। এআইয়ের সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক নিয়ে যখন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের মতো রাজনীতিক এবং জিওফ্রে হিন্টনের মতো গবেষকরা সতর্ক করছেন, তখন এর বিপরীত চিত্রটিও সমানভাবে সত্য—মেশিন যত শক্তিশালী হচ্ছে, সাধারণ মানুষও তত বেশি সক্ষম হয়ে উঠছে। মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গও সম্প্রতি তার এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, এআইয়ের এই সুপার-ইন্টেলিজেন্স ক্ষমতা গুটি কয়েক ল্যাবে আটকে না থেকে বরং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নে ব্যবহৃত হওয়া উচিত। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউর ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার কর্মক্ষেত্রে নয়, বরং মানুষের মানসিক প্রশান্তি, একাকীত্ব কাটানো এবং জীবনকে গুছিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। মিনেসোটার জেনিফার এরিকসন তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবার চিকিৎসার সময়সূচি ও ওষুধের রুটিন ঠিক রাখতে এআই ব্যবহার করছেন, যা তাকে মানসিক শান্তি দিচ্ছে। অন্যদিকে, ৯১ বছর বয়সী রন হিউম তার নাতির কাছে মেইল লিখতে এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান নিয়মিত জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছেন। একসময় যে সুবিধা পেতে অর্থ বা প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাক্সেসের প্রয়োজন হতো, তা এখন সবার হাতের মুঠোয়। কর্মসংস্থান ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও এআইয়ের এই ইতিবাচক প্রভাব লক্ষণীয়। সম্প্রতি চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারী এক হাজার চাকরিপ্রার্থীর ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ ইন্টারভিউয়ের ডাক পেয়েছেন এবং ৫৯ শতাংশ চাকরি পেয়েছেন। স্ট্যানফোর্ড ও এমআইটি-র এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের সহায়তায় কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গ্রাহকসেবা কর্মীদের উৎপাদনশীলতা ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আটলান্টায় বসবাসরত ২৬ বছর বয়সী উদ্যোক্তা রবি ভ্যান জিল জানান, তার ছোট স্টার্টআপে এআই এখন সেক্রেটারি, শিডিউলার এবং লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছে, যা মূলত ৩০ জনের একটি দলের কাজ একাই সামলে নিচ্ছে। তার মতে, ছোট ব্যবসার জন্য এআই এক অনন্য হাতিয়ার। কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত ইয়োরা সামিটেও দেখা গেছে, তরুণ উদ্যোক্তারা সামান্য একটি স্মার্টফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে এআইয়ের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে পাল্লা দিয়ে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বিশ্বজুড়ে এআইয়ের এই গণতন্ত্রীকরণের ওপর জোর দিয়েছেন ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যানও। তবে এই প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে এর প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা জরুরি। সে লক্ষ্যেই পারডিউ ইউনিভার্সিটির ক্র্যাচ ইনস্টিটিউট 'গ্লোবাল ট্রাস্টেড টেক স্ট্যান্ডার্ড' তৈরি করছে। এআই নিয়ে কেবল শঙ্কা না ছড়িয়ে, একে যদি আস্থার যোগ্য করে তোলা যায়, তবে এর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী কোনো যন্ত্র বা সিনেমাটিক ভিলেন হবে না, বরং হবে সাধারণ মানুষ।
আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)-এর ওয়ান্টেড বা পলাতক আসামির তালিকায় নাম উঠেছে মেজর সিং নামের এক ব্যক্তির। ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবসা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কুখ্যাত 'জাগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ' নামক একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী সিন্ডিকেটের সাথে মেজর সিংয়ের গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এই গ্যাংটি মূলত ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট এলাকায় তাদের গোপন আস্তানা গড়ে তুলেছিল এবং সেখান থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, মেজর সিং এবং তার এই চক্রটি ওই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে র্যাকেটিয়ারিং (সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি, ভীতি প্রদর্শন ও প্রতারণা) এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র পাচার সংক্রান্ত ভয়ংকর সব অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সাথে সরাসরি যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য এই ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধী গ্যাংটিকে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে মার্কিন প্রশাসন। এই চক্রের মূলোৎপাটন করতে এফবিআই ইতোমধ্যেই মেজর সিংকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। তাকে ধরিয়ে দিতে বা তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা এফবিআইয়ের কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বসবাসকারী এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রবীণ নারীকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। ভেঙ্কটা নরসমাম্বা ভাসামসেট্টি নামের এই গ্রিন কার্ডধারী বৃদ্ধা ২০১৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (LPR)। নর্থ ক্যারোলিনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত এবং দুই মার্কিন নাগরিক নাতি-নাতনির দাদি এই নারীকে গত ১১ আগস্ট আইসিই-এর একটি নিয়মিত চেক-ইনের সময় আটক করা হয়। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, তার নিজ মেয়ে যশস্বিনী ভাসামসেট্টি খোদ টেক্সাস ও নিউ জার্সিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন আইনজীবী। বিগত মে মাসে একজন মার্কিন বিচারক ভেঙ্কটার বিরুদ্ধে আনা নির্বাসন মামলা খারিজ করে দিলেও, বর্তমানে তাকে জর্জিয়ার একটি আইসিই বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছে। এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয় ২০২২ সালে। অসুস্থ ও বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনা করতে ওই বছরের জুলাই মাসে ভারতে গিয়েছিলেন ভেঙ্কটা। সেখানে গিয়ে তিনি নিজেই মারাত্মকভাবে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন এবং প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। শারীরিক জটিলতা কাটিয়ে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। তবে এই সাত মাস দেশের বাইরে থাকার কারণে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) অভিযোগ তোলে যে, তিনি তার মার্কিন স্থায়ী আবাসনের অধিকার পরিত্যাগ করেছেন। মার্কিন আইনে, কোনো স্থায়ী বাসিন্দা ১৮০ দিনের বেশি দেশের বাইরে থাকলে তার দেশে ফেরার সময় এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। তবে ভেঙ্কটার আইনজীবী এবং পরিবারের দাবি, তিনি তার মার্কিন জীবন গুটিয়ে নেননি, বরং ভারতে থাকাকালীন নর্থ ক্যারোলিনায় নিজের প্রাথমিক বাসস্থানের জন্য একটি বাড়ি কেনার কাজও সম্পন্ন করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো জোরালো ভিত্তি না থাকায় এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ সময়মতো উপযুক্ত প্রমাণ দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায়, গত ১৯ মে (২০২৬) ইমিগ্রেশন বিচারক তার নির্বাসন প্রক্রিয়া খারিজ করে দেন। এরপর থেকে ভেঙ্কটা নিয়মিত আইসিই-এর কাছে হাজিরা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ১১ আগস্ট শার্লট অফিসে হাজিরা দিতে গেলে তাকে আচমকা আটক করা হয়। ভেঙ্কটার মেয়ের বান্ধবী ও সহকর্মী জো উইলসন জানান, আইসিই অদ্ভুতভাবে দাবি করছে যে ভেঙ্কটা কোনো গ্রিন কার্ডধারী নন। তার কোনো অপরাধমূলক অতীত নেই এবং তিনি মারাত্মক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ায় তার নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন। তা সত্ত্বেও তাকে এভাবে বন্দি করার ঘটনায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। আটকের পরপরই ভেঙ্কটার আইনি দল গত ১৩ আগস্ট তার এই অবৈধ আটকের বিরুদ্ধে একটি জরুরি 'হেবিয়াস কর্পাস' পিটিশন দায়ের করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একজন ফেডারেল বিচারক আগামী তিন দিনের মধ্যে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে এই আটকের আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিই তাদের এই আটক প্রক্রিয়াকে বেআইনি বলে স্বীকার করেনি বা তাকে মুক্তির নির্দেশও দেয়নি। তবে ফেডারেল আদালত সরকারের পক্ষে রায় দিলেও, আগামী সাত দিনের মধ্যে ভেঙ্কটা ভাসামসেট্টির জামিন শুনানির সুযোগ পাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তার মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
ভারতের সাধারণ নারীরা কীভাবে নিজেদের অসাধারণ জীবন দিয়ে দেশকে রূপ দিয়েছেন, তা নিয়ে অনেক কিছুই বলার আছে। প্রথাগত রাজনীতিতে তাদের উপস্থিতি যতটা, জনজীবনে তাদের প্রভাব তার চেয়ে অনেক বেশি। সম্প্রতি ভারত যখন তার ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে, তখন দেশের ছোট-বড় নানা আন্দোলন এবং তাতে নারীদের অবদানের কথা নতুন করে ভাবাচ্ছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বিদেশি পণ্য বর্জন থেকে শুরু করে লবণ তৈরি বা পুলিশের মুখোমুখি হওয়া—সবখানে নারীরা এমন ভূমিকা নিয়েছিলেন, যা সাধারণত পুরুষদের একচেটিয়া বলে মনে করা হতো। সত্তরের দশকে বন উজাড়ের বিরুদ্ধে ‘চিপকো’ আন্দোলনে নারীরা গাছ জড়িয়ে ধরে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিলেন। আর সাম্প্রতিক সময়ে শাহিনবাগের দাদিরা বৈষম্যমূলক হিসেবে সমালোচিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে টানা অবস্থান নিয়ে প্রমাণ করেছেন, প্রতিবাদের জায়গা সবসময়ই তৈরি করা যায়, এমনকি যখন মনে হয় কোনো আশাই অবশিষ্ট নেই। বর্তমানে নারীদের জনজীবনে প্রবেশের পথ অনেক বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে কোনো রাজনৈতিক পটভূমি ছাড়াই অনেকে সাধারণ মানুষের নজরে আসছেন। তবে সব বাধা এখনো দূর হয়নি। বিশেষ করে নির্বাচনী রাজনীতিতে নারীদের প্রবেশ করা আজও বেশ কঠিন। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মসের ২০২৫ সালের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নারী সংসদ সদস্য ও বিধায়কদের প্রায় অর্ধেকই রাজনৈতিক পরিবার থেকে এসেছেন, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১৮ শতাংশ। সাধারণ জীবনযাপন করা একজন নারী কেন হঠাৎ চারপাশের সবকিছু বদলে দেওয়ার তাগিদে পথে নামেন? সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন নারীর গল্প থেকেই এর উত্তর মেলে।তারা কখনো পুলিশের ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়েছেন, কখনো অনাহারে থেকেছেন, আবার কখনো চরম অপমানের শিকার হয়েছেন। বামপন্থী অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বোরা ‘ককরোচ প্রোটেস্ট’ বা তেলাপোকা বিক্ষোভের সময় পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের জবাবদিহি এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ২৩ দিন অনশন করেছিলেন। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজের এই পিএইচডি গবেষক এখন শিক্ষাসংস্কারের দাবিতে ‘জেন জি রাইজিং’ প্রচারণার অংশ হিসেবে দেশজুড়ে ঘুরছেন। বোরার মতে, তার পরিবারের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে তার নিজের চিন্তার আকাশ-পাতাল তফাত। তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন কারণ এটিই চারপাশের সময়কে বোঝার একমাত্র উপায়। নিজের জন্য কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে অসহায় বোধ না করে সেখানে নিজের মতামত তুলে ধরাই তার লক্ষ্য। থিয়েটার তাকে শিখিয়েছে রাজনীতি শুধু স্লোগান বা প্রতিবাদ নয়, এটি মানুষের চিন্তাভাবনা ও সম্পর্কের ভাষাও। তার কাছে স্বাধীনতার অর্থ হলো এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা, যা কেবল মুনাফার হাতিয়ার নয়, বরং সমাজকে গোঁড়ামি ও রক্ষণশীলতা থেকে মুক্ত করে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। মুম্বাইয়ের মডেল, অভিনেতা এবং থিয়েটার শিল্পী আহির এক অভাবনীয় সাহসের পরিচয় দিয়ে আটক শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি পুলিশের ভ্যান শারীরিকভাবে আটকে দেন। এই সাহসিকতার কারণে তাকে একটি সংঘবদ্ধ সাইবার হামলার শিকার হতে হয়। সাঁতারের পোশাক পরা একটি ছবির কারণে তাকে তীব্র ট্রল করা হয়। তবে আহির মনে করেন, তার পোশাক কোনোভাবেই তার চরিত্র নির্ধারণ করে না এবং ওই দিন ২০ জন শিক্ষার্থীকে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করার ঘটনাকে ম্লান করতে পারে না। তিনি জানান, চার বছর বয়স থেকে থিয়েটার তাকে মানুষের কষ্ট বুঝতে এবং সহমর্মিতা শিখিয়েছে। তার কাছে স্বাধীনতা মানে হলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের কথা বলা এবং লজ্জিত না হওয়া। শুরুতে অনলাইন আক্রমণ তাকে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত করলেও পরে তিনি বুঝতে পারেন, এই বিদ্বেষ তার বাস্তবতাকে বদলে দিতে পারে না এবং তাকে কারও কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে না। দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনরত ছাত্রকর্মীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আলি। জেএনইউ ছাত্র সংসদের এই সদস্য ক্যাম্পাসের লাইব্রেরিতে ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম ভেঙে ফেলার অভিযোগে এক বছরের জন্য বরখাস্ত হয়েছেন। মধ্যপ্রদেশের একটি ছোট গ্রাম থেকে আসা আলির পরিবারের কেউ এর আগে শহরে আসেননি। আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার পর পুলিশ তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেয় এবং বাবাকে ফোন করে তাকে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে বলে। তবে আলির কাছে স্বাধীনতা অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং একজন মুসলিম নারী হিসেবে তার পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তিনি বলেন, ছাত্রকর্মী হিসেবে স্বাধীনতার অর্থ হলো প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার এবং নিজের ব্যক্তিসত্তার প্রকাশ। দেশের একজন সমান নাগরিক হিসেবে তাকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে করার বা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রকাশে বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। অন্যদিকে, আইন ও সাংবাদিকতার সফল পেশা ছেড়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-এর আইনি প্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন আরেক নারী। ছাত্রদের জবাবদিহির দাবির সঙ্গে নিজের চিন্তার মিল পেয়ে তিনি এই বিক্ষোভে আকৃষ্ট হন। শুরুতে জনসমক্ষে আসতে দ্বিধা বোধ করলেও, নারীদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার প্রয়োজনে তিনি মুখপাত্র হিসেবে এগিয়ে আসেন। তিনি জানান, তার প্রজন্মের বিরুদ্ধে প্রায়ই অধৈর্য হওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এর জবাবে তিনি বলেন, "আমরা অধৈর্য কারণ আমরা পরিবর্তন দেখতে চাই। প্রতিবাদ করে সরকারের কাছ থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে আমরা চুপ থাকতে পারি না।" ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতিরও অবসান চান তিনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হওয়া নতুন নতুন প্রতিবাদ এবং তরুণদের নির্ভয়ে কথা বলার এই প্রবণতা তাকে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির অন্তত ১২টি এলাকায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস-এর অভিযান এবং নজরদারি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সতর্ক করেছে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। হঠাৎ করে এই ধরপাকড় অভিযান বেড়ে যাওয়ায় শহরজুড়ে বসবাসরত অনিবন্ধিত অভিবাসী ও প্রবাসীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে কর্মস্থলে যাওয়ার পথেও অনেকেই যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে ভুগছেন। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে শহরের বেশ কয়েকটি সুপরিচিত এলাকায় আইসের তৎপরতা ব্যাপকভাবে চোখে পড়েছে। এর মধ্যে ম্যানহাটনের ইনউড ও ওয়াশিংটন হাইটস এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের পোর্ট রিচমন্ড ও স্ট্যাপলটন এলাকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ব্রুকলিন বোরোর সানসেট পার্ক, ডাইকার হাইটস, বেনসনহার্স্ট এবং সাইপ্রেস হিলসেও আইস সদস্যদের আকস্মিক উপস্থিতি ও অভিযানের খবর পাওয়া গেছে। মূলত যেসব এলাকায় অভিবাসীদের ঘনবসতি বেশি, কৌশলগতভাবে সেসব জায়গাতেই এই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রুকলিন ও ম্যানহাটনের পাশাপাশি কুইন্সের মতো বাংলাদেশি এবং অন্যান্য অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও এই অভিযানের তীব্র আঁচ লেগেছে। স্থানীয় অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, কুইন্সের এলমহার্স্ট, ইস্ট এলমহার্স্ট, কলেজ পয়েন্ট এবং করোনা এলাকায় আইসের দৃশ্যমান উপস্থিতি বেড়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত ২৭ জুলাইয়ের পর থেকে কেবল কুইন্স এলাকাতেই দুই ডজনের বেশি ব্যক্তিকে আটকের সুনির্দিষ্ট তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে ভয়াবহ ভীতির সঞ্চার করেছে। তবে এই ধরপাকড় পরিস্থিতি ঠিক কতটা ব্যাপক, সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এলাকাভিত্তিক অভিযানের কোনো পূর্ণাঙ্গ বা আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে অভিবাসী সংগঠনগুলোর তালিকাভুক্ত প্রতিটি এলাকায় প্রতিদিন নিয়মিত অভিযান চলছে কি না, তা শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তা সত্ত্বেও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে অভিবাসীদের নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে আইনজীবীদের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
ইউনাইটেড জিউইশ টিচার্স নামের একটি ইহুদি শিক্ষকদের সংগঠনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে অন্তত ২৫০টি ইহুদি বিদ্বেষী এবং ইসরায়েলবিরোধী ঘটনা ঘটেছে। গত জানুয়ারিতে মেয়র জোহরান মামদানী এবং স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলসের কাছে পাঠানো এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সিটিতে সামগ্রিক ঘৃণাত্মক অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি ঘটনাই ইহুদি বিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই তথ্যগুলো ইহুদি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত শত্রুতার একটি স্থায়ী প্রবণতা প্রকাশ করে। নথিবদ্ধ ঘটনার বেশিরভাগ জুড়েই রয়েছে সরাসরি হয়রানি, ভাঙচুর ও হুমকি। এর পাশাপাশি পক্ষপাতদুষ্ট পাঠ্যক্রম, নির্দেশনামূলক উপকরণ এবং ওয়াকআউট বা বিক্ষোভের মতো বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে রয়েছে। এসব ঘটনার কারণে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাজড়ে একটি প্রতিকূল শিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। যদিও সিটি স্কুলগুলো নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের ভিত্তিতে ঘৃণাত্মক ঘটনার আলাদা পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না, তবে ধর্মভিত্তিক বুলিং, হয়রানি এবং বৈষম্যের সামগ্রিক ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপাত্ত অনুযায়ী, প্রি-কোভিড সময়কালের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে এমন ১৫১টি ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে বেড়ে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ৩৬৭টি, ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ৩৯৮টি এবং ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ৩১৯টিতে দাঁড়ায়। সংগঠনের সভাপতি মোশে স্পার্ন জানান, নথিভুক্ত ঘটনার প্রায় এক চতুর্থাংশ বা ২৩ শতাংশ ছিল ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কিত পক্ষপাতদুষ্ট শিক্ষা, ১০ শতাংশ ওয়াকআউট এবং বাকিগুলো অনলাইন পোস্টসহ অন্যান্য স্টাফ অ্যাকশনের সাথে সম্পর্কিত। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, প্রতিবেদনের ৩৭ শতাংশ ঘটনা ব্রুকলিনের স্কুলগুলোতে, ২৭ শতাংশ কুইন্সে, ২৫ শতাংশ ম্যানহাটনে, ৯ শতাংশ ব্রংক্সে এবং ২ শতাংশ স্টেটান দ্বীপে সংঘটিত হয়েছে। মৌখিক হয়রানির বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইহুদিবিদ্বেষী ট্রপ, হলোকাস্টের প্রসঙ্গ এবং ইসরায়েলি ইহুদিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙচুরের ঘটনায় স্বস্তিকা চিহ্ন ও অন্যান্য ঘৃণাত্মক প্রতীক অঙ্কনের পাশাপাশি শারীরিক হুমকি এবং হামলার ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ইহুদিদের ধর্মীয় সুবিধা এবং স্কুল জীবনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত বা অস্বীকৃত হয়েছে। ইউনাইটেড জিউইশ টিচার্স জানিয়েছে, স্কুল বা জেলা নেতৃত্ব এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যার ফলে প্রতিকূল পরিবেশ বহাল রয়েছে। কুইন্সের টাউনসেন্ড হাই স্কুলে গ্র্যাজুয়েশনের পর ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সে যোগদানের কারণে এক শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা এবং ব্রুকলিন টেক হাই স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ডে স্বস্তিকা খোদাই করার মতো ঘটনা এর কিছু উদাহরণ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংগঠনটি শিক্ষা বিভাগের সমস্ত নিয়ম নীতি এবং পেশাদার প্রশিক্ষণে আন্তর্জাতিক হলোকাস্ট স্মরণ জোটের (IHRA) ইহুদিবিদ্বেষের সংজ্ঞা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে, শিক্ষা বিভাগের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে বৈষম্য ও ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে তাদের 'শূন্য সহনশীলতা' (zero tolerance) নীতি রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো রিপোর্ট করা ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে তারা বদ্ধপরিকর। ‘রেসপেক্ট ফর অল’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি স্কুলে বুলিং ও পক্ষপাত প্রতিরোধে ডেডিকেটেড স্টাফ এবং অভিযোগ জানানোর নানা মাধ্যম চালু রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
আকাশ প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে অবাক করা বিষয় হলো, সেই পরাক্রমশালী আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোই এখন ইরানের ছোট ছোট ড্রোনের সামনে চরম অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সম্প্রতি খোদ মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের এক শীর্ষ কমান্ডারের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তিতে এই তথ্য সামনে এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোনের ঝাঁক শনাক্ত করার মতো অত্যাধুনিক সেন্সর নেই, এমনকি সেগুলো প্রতিহত করার জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থাও অনুপস্থিত। ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার পর মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার এই দুর্বলতা ওয়াশিংটনকে নতুন করে গভীর ভাবনায় ফেলেছে। মার্কিন নর্দার্ন কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোসেফ জারার্ড স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, ছোট ড্রোনের বড় ধরনের ঝাঁক বা সোয়ার্ম ড্রোন হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তাঁর মতে, মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গাটি হলো এই ড্রোনগুলোর প্রাথমিক শনাক্তকরণ। শত্রুপক্ষের কোনো ড্রোন যখন ঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসে, সেটি যদি সঠিক সময়ে রাডারে ধরা না পড়ে, তবে তাকে আকাশেই ধ্বংস করার সুযোগ প্রায় থাকে না বললেই চলে। আর একটি বা দুটি ড্রোনের বদলে যখন একসঙ্গে অসংখ্য ড্রোন ধেয়ে আসে, তখন পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আধুনিক সামরিক যুদ্ধের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অসম খরচের এই লড়াই। প্রতিটি সস্তা ড্রোনকে আকাশেই ধ্বংস করতে কোটি ডলার মূল্যের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করা দীর্ঘমেয়াদে কোনোভাবেই কার্যকর বা টেকসই কৌশল হতে পারে না। এই আর্থিক এবং কৌশলগত ঘাটতি মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি সিস্টেম, জ্যামিং প্রযুক্তি, মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লেজার প্রযুক্তির উন্নয়নে দ্রুতগতিতে কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে পেন্টাগন ড্রোন এবং কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তির সার্বিক উন্নয়নের জন্য ২১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেটের প্রস্তাব করেছে বলেও জানা গেছে। নতুন এসব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পুরোপুরি মাঠে নামানোর আগেই যদি বড় ধরনের কোনো সোয়ার্ম ড্রোন হামলা হয়, তবে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটিই এখন পেন্টাগনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই শঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তাদের মিত্রদের ব্যবহৃত ড্রোনগুলো এরই মধ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং আঞ্চলিক অবকাঠামোর জন্য এক নতুন ধরনের মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে। কোটি ডলারের যুদ্ধবিমান বা বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে অত্যন্ত কম খরচের এসব ড্রোনের ঝাঁক ভবিষ্যৎ যুদ্ধের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিতে পারে। শত্রুপক্ষ নয়, বরং খোদ মার্কিন শীর্ষ কমান্ডারের এই সতর্কবার্তা প্রমাণ করে যে, ড্রোনের ঝাঁক আকাশে ওঠার আগেই শনাক্ত করা সম্ভব না হলে বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটিও যেকোনো সময় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে।
আফ্রিকার দেশ চাদের এক প্রবীণ মুয়াজ্জিনের আজান দেওয়ার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বয়সের ভারে শরীর অত্যন্ত দুর্বল হলেও তাঁর অটল ভক্তি এবং দায়িত্ববোধ গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে নেটিজেনদের। স্থানীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বৃদ্ধ মুয়াজ্জিনের বাড়ি চাদের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর আম তিমানে। তাঁকে ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বয়স্ক এবং দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা সক্রিয় মুয়াজ্জিনদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই মুয়াজ্জিন গত ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই মসজিদে নিয়মিত আজান দিয়ে আসছেন। শারীরিক নানা সীমাবদ্ধতা ও বার্ধক্যের ক্লান্তি সত্ত্বেও প্রতিদিন নিয়ম করে মসজিদে দাঁড়িয়ে তাঁর আজান দেওয়ার এই দৃশ্য এক বিরল আত্মনিবেদন ও আধ্যাত্মিক শক্তির প্রমাণ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁর এই অবিচল ধর্মীয় সেবা স্থানীয়দের কাছে যেমন পরম শ্রদ্ধার, তেমনি বহির্বিশ্বের মানুষের কাছেও এক বিশাল বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁর এই অসামান্য নিষ্ঠার দৃশ্যটিই বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তবে, সাংবাদিকতার স্বচ্ছতা ও নীতি অনুযায়ী এই তথ্যের কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন। ওই মুয়াজ্জিনের বয়স ১০০ বছর এবং তিনি ৭ দশকের বেশি সময় ধরে একই মসজিদে আজান দিচ্ছেন—এমন দাবিগুলো মূলত স্থানীয় সূত্র ও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রচারিত। আন্তর্জাতিক মূলধারার শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে এই তথ্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা যাচাই করেনি। সংবাদটি মূলত সচেতনতা এবং তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হয়েছে। তবে যারা এই ভাইরাল দাবির সত্যতা নিয়ে আরও গভীরে জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা প্রাসঙ্গিক স্ক্রিনশট ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো যাচাই করে দেখার সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে।
স্বপ্নের হানিমুনে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হলেন এক ব্রিটিশ নবদম্পতি। গ্রিসের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সিফনস দ্বীপে একটি প্রাইভেট হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আলেকজান্ডার ক্রোমি এবং মেরি এবার্ট নামের ওই দম্পতি নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় তাদের বহনকারী এয়ার ট্যাক্সির পাইলট ৫৫ বছর বয়সী জিওর্গোস রাইকোসও প্রাণ হারিয়েছেন, যিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন। এথেন্সের নিকটবর্তী মার্কোপোলো থেকে উড্ডয়নের পর অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই সেটিতে আগুন ধরে যায়। নিহত আলেকজান্ডার ক্রোমি লন্ডনের ব্ল্যাকস্টোন নামের একটি সুপরিচিত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী মেরি এবার্ট যুক্ত ছিলেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কনসাল্টিং ফার্ম বেইন অ্যান্ড কোম্পানিতে। তাদের এই অকাল মৃত্যুতে উভয় প্রতিষ্ঠানই গভীর শোক প্রকাশ করেছে। ব্ল্যাকস্টোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলেকজান্ডার তার সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। বেইন অ্যান্ড কোম্পানিও মেরিকে তাদের টিমের একজন অত্যন্ত মেধাবী ও সম্মানিত সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। দুর্ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অবতরণের ঠিক আগে আকাশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘুরতে ঘুরতে বেল-২০৬ মডেলের হেলিকপ্টারটি মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে হেলিকপ্টারটি থেকে বিকট ও অস্বাভাবিক শব্দ শোনা গিয়েছিল। নিহত পাইলট রাইকোস গ্রিক বিমানবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন এবং সামরিক চিনুক (Chinook) হেলিকপ্টার চালানোর মতো তার দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ছিল। তবুও শেষ মুহূর্তে তিনি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে ধ্বংসস্তূপ এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে, সেখান থেকে কেবল তিনটি দগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সিফনসের ডেপুটি মেয়র মানোলিস ফৌনতুলাকিস জানান, দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারটির কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। গ্রিসের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই গ্রিসে দাবানল নেভানোর সময় অন্য আরেকটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছিল।
ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত বৈঠকে আলোচনা চলছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কংগ্রেসওম্যান মার্জোরি টেইলর গ্রিন। তবে অত্যন্ত গুরুতর এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি এবং স্বাধীনভাবে দাবিটির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গ্রিন দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি কৌশলগত বৈঠকে আলোচনা করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি তার অনুমান নয় এবং বিষয়টি সম্পর্কে তিনি নিশ্চিতভাবে জানেন। একসময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত গ্রিন এই সম্ভাবনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার ভাষায়, এমন সিদ্ধান্ত হবে ভয়াবহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের এখনই সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত। তবে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস, পেন্টাগন কিংবা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি যে ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হচ্ছে। গ্রিনও তার তথ্যের উৎস প্রকাশ করেননি। ফলে তার বক্তব্যকে এই মুহূর্তে একটি অপ্রমাণিত দাবি হিসেবেই বিবেচনা করতে হচ্ছে। গ্রিনের দাবি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ওয়াশিংটনের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য বারবার বলেছেন, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। হোয়াইট হাউসও একই অবস্থান প্রকাশ করে আসছে। তবে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। গ্রিনের দাবি মূলত দ্বিতীয় বিষয়টি নিয়েই নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। গ্রিন আরও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি ছিল না, অথচ ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সতর্কবার্তার ভিত্তিতে পরিস্থিতি যুদ্ধের দিকে এগিয়েছে। এই বক্তব্যের ক্ষেত্রেও তিনি নতুন কোনো গোয়েন্দা নথি বা প্রমাণ প্রকাশ করেননি। ইরান যুদ্ধ নিয়ে গ্রিনের অবস্থান সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের সঙ্গে তার রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট করেছে। একসময় ট্রাম্পের অন্যতম দৃশ্যমান সমর্থক হলেও বিদেশে নতুন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে তিনি প্রশাসনের সমালোচক হয়ে উঠেছেন। জেফ্রি এপস্টেইনসংক্রান্ত নথি প্রকাশের দাবিসহ আরও কয়েকটি ইস্যুতেও ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। গ্রিন তার পোস্টে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু বোমা হামলার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। ১৯৪৫ সালের আগস্টের পর যুদ্ধে আর কোনো পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। সেই ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, ইরানে এমন অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এর পরিণতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রিনের দাবি স্বাধীন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হয়নি। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে পরমাণু হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা এমন হামলা আসন্ন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কোনো ভিত্তি নেই। তবে সাবেক একজন রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যানের এমন গুরুতর দাবি সামনে আসায় ওয়াশিংটনে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
জাপানের অপরাধ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি টোকিওর সেতাগায়া পরিবার হত্যা। ঘটনাস্থলে খুনি নিজের রক্ত থেকে শুরু করে পোশাক, ব্যাগ, রুমাল এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি পর্যন্ত ফেলে গিয়েছিল। এত বিপুল আলামত হাতে থাকার পরও ২৫ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, এখনো শনাক্ত হয়নি খুনি। ২০২৬ সালেও মামলাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাত থেকে ৩১ ডিসেম্বর ভোরের মধ্যে। টোকিওর সেতাগায়া এলাকার কামি সোশিগায়ায় নিজেদের বাড়িতে খুন হন ৪৪ বছর বয়সী মিকিও মিয়াজাওয়া, তার স্ত্রী ইয়াসুকো এবং তাদের দুই সন্তান নিনা ও রেই। নতুন বছর শুরুর ঠিক আগে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাটি তখন পুরো জাপানকে নাড়িয়ে দেয়। শুরুতে পুলিশের ধারণা ছিল, ঘটনাস্থলে এত আলামত পাওয়া যাওয়ায় অপরাধীকে শনাক্ত করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তদন্তকারীদের সবচেয়ে অবাক করেছিল খুনির রেখে যাওয়া বিপুল ব্যক্তিগত সামগ্রী। টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে একটি সোয়েটশার্ট, টুপি, হিপ ব্যাগ, স্কার্ফ, গ্লাভসসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। খুনির ব্যবহৃত জুতার ছাপও পাওয়া যায়। পুলিশ দুটি কালো রুমালও উদ্ধার করে। তদন্তে জানা যায়, রুমাল ও ব্যাগে ফরাসি ব্র্যান্ড গি লারোশের ‘ড্রাকার নোয়ার’ পারফিউমের উপাদান ছিল। এই পারফিউম জাপানে আশির দশক থেকেই বিক্রি হচ্ছিল। ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া ছুরিটিও শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এটি ছিল ‘সেকি মাগোরোকু গিনজু’ নামে বিক্রি হওয়া একটি সাশিমি ছুরি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের জুনে একই ধরনের মোট ১ হাজার ৫০০টি ছুরি তৈরি হয়েছিল এবং কানতো অঞ্চলের ৪৬টি দোকানে সেগুলো বিক্রি করা হয়েছিল। আরও গুরুত্বপূর্ণ আলামত আসে খুনির শরীর থেকেই। হামলার সময় তার হাত আহত হয়েছিল এবং ঘটনাস্থলে তার রক্ত থেকে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সেই রক্তের গ্রুপ ‘এ’। আঙুলের ছাপসহ আরও ফরেনসিক আলামতও তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে। খুনির পরনে থাকা সোয়েটশার্টের উৎস খুঁজতে গিয়ে তদন্ত আরও সংকীর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের আগে পুরো জাপানে একই ধরনের মাত্র ১৩০টি সোয়েটশার্ট বিক্রি হয়েছিল। এর মধ্যে টোকিওতে বিক্রি হয়েছিল মাত্র ১০টি। এত নির্দিষ্ট তথ্য পেয়েও শেষ পর্যন্ত সেই সূত্র ধরে খুনির পরিচয় বের করা সম্ভব হয়নি। জুতার সূত্রটিও ছিল রহস্যজনক। পুলিশের তদন্তে ধারণা করা হয়, খুনির জুতাটি দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি স্ল্যাজেঞ্জার ব্র্যান্ডের ২৭ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার মাপের। একই মাপের জুতা জাপানের বাজারে বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুই দশকের বেশি সময় ধরে এসব পোশাক ও ব্যক্তিগত সামগ্রীর ছবি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়ে আসছে টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশ। সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শী থেকে শুরু করে পোশাক বা অন্যান্য আলামত চিনতে পারেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। ২৫ বছর পরও মামলাটি বন্ধ হয়নি। বরং ২০২৬ সালেও এটি টোকিও পুলিশের সক্রিয় তদন্তাধীন মামলার তালিকায় রয়েছে। খুনিকে গ্রেফতার বা মামলার সমাধানে কার্যকর তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি ইয়েন পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একটি পরিবারের চার সদস্যকে কারা এবং কেন হত্যা করেছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, নিজের এত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, রক্ত ও ফরেনসিক আলামত ফেলে যাওয়ার পরও কীভাবে একজন খুনি এক চতুর্থাংশ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে শনাক্ত না হয়ে রয়ে গেল।
নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে তুলনামূলক কম ভাড়ায় বাসা পাওয়ার নতুন সুযোগ এসেছে। জনপ্রিয় পার্ক স্লোপ এলাকার ৭৪ সেন্ট মার্কস প্লেসে নির্মিত ‘সোলেস’ নামের নতুন আবাসিক ভবনের ৬৩টি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবাসন লটারি চালু হয়েছে। এক কক্ষের ছোট বাসা, এক শোবার ঘর ও দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে এই প্রকল্পে। মাসিক ভাড়া শুরু ৯৯২ ডলার থেকে। আবেদনের শেষ দিন ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। নিউইয়র্ক সিটির আবাসন লটারির নিয়ম অনুযায়ী, শুধু কম আয়ের পরিবার নয়, মধ্যম এবং তুলনামূলক বেশি আয়ের পরিবারও এই প্রকল্পের বিভিন্ন শ্রেণিতে আবেদন করতে পারবেন। পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং মোট বার্ষিক আয়ের ওপর নির্ভর করবে কে কোন বাসার জন্য যোগ্য হবেন। এই প্রকল্পে বছরে ৩৮ হাজার ৯৪৯ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার পর্যন্ত আয়কারীদের জন্য বিভিন্ন বাসা রাখা হয়েছে। ১২ তলা সোলেস ভবনটির নকশা করেছে আইএনসি আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইন এবং এটি নির্মাণ করেছে অ্যাভডু অ্যান্ড পার্টনার্স। নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে লটারিতে বাসাগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে। আবেদনকারীদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের ৪০ শতাংশ থেকে ১৩০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে। ৪০ শতাংশ মধ্যম আয়ের শ্রেণিতে সবচেয়ে কম ভাড়ার বাসাগুলো রাখা হয়েছে। এখানে সাতটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৯৯২ ডলার। এসব বাসার জন্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ৩৮ হাজার ৯৪৯ ডলার থেকে ৫৪ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। একই শ্রেণিতে রয়েছে ১৮টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্ট। এসব বাসার মাসিক ভাড়া ১ হাজার ২৩৮ ডলার। আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ৪৯ হাজার ৯৮৯ ডলার থেকে ৭৩ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে থাকতে হবে। ৬০ শতাংশ মধ্যম আয়ের শ্রেণিতে তিনটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এগুলোর মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৫৫৯ ডলার। যোগ্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় হতে হবে ৫৮ হাজার ৩৮৯ ডলার থেকে ৮১ হাজার ৪২০ ডলারের মধ্যে। এই শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি বাসা রাখা হয়েছে দুই শোবার ঘরের। মোট ২২টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৯৬৭ ডলার। এসব বাসার জন্য বার্ষিক আয় ৭৪ হাজার ৯৮৩ ডলার থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯২০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। তুলনামূলক বেশি আয়ের পরিবারগুলোর জন্যও লটারিতে বাসা রাখা হয়েছে। এলাকার মধ্যম আয়ের ১৩০ শতাংশ শ্রেণিতে পাঁচটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৫৪৩ ডলার। আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৪১২ ডলার থেকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। একই শ্রেণিতে দুটি এক শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৭৮৪ ডলার। এসব বাসার জন্য বার্ষিক আয় হতে হবে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬০ ডলার থেকে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫১০ ডলারের মধ্যে। এ ছাড়া ছয়টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ৫১৮ ডলার। এসব বাসার জন্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৪৬ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। তবে নির্ধারিত আয়সীমার মধ্যে থাকলেই বাসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কোন ধরনের বাসার জন্য আবেদন করা হচ্ছে এবং সেই বাসার নির্ধারিত আয়ের সীমাসহ নিউইয়র্ক সিটির অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে। আবেদন গ্রহণের পর লটারির মাধ্যমে সম্ভাব্য আবেদনকারী নির্বাচন করা হয় এবং পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আয়ের তথ্য যাচাই করা হয়। ব্রুকলিনের এই আবাসন প্রকল্পে আবেদন করতে আগ্রহীদের সময়সীমার বিষয়টি বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। সোলেস ভবনের ৬৩টি অ্যাপার্টমেন্টের আবাসন লটারিতে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সফর ও অনুষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা নাটালি হার্পকে। গত মাসে তুরস্ক থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্রাম্পকে গোপনে অন্য একটি উড়োজাহাজে সরিয়ে নেওয়ার সময়ও হাতে গোনা কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে ছিলেন তিনি। এরপর থেকেই ট্রাম্পের কাছে হার্পের প্রবেশাধিকার এবং হোয়াইট হাউসে তার প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হার্প বর্তমানে প্রেসিডেন্টের স্পেশাল ও এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তার আনুষ্ঠানিক পদের চেয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্ক এবং প্রায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতিই বেশি নজর কাড়ছে। গত জুলাইয়ে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় নিরাপত্তা হুমকির কারণে ট্রাম্পের যাত্রাপথে অত্যন্ত গোপন পরিবর্তন আনা হয়েছিল। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার হুমকির পর সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশনায় ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে গোপনে অন্য একটি সামরিক উড়োজাহাজে নেওয়া হয়। একটি ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে নেওয়ার এই অভিযান এতটাই গোপন ছিল যে তার সঙ্গে খুব সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা ছিলেন। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই গোপন ফ্লাইটে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং হোয়াইট হাউসের তিন ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা নাটালি হার্প, ড্যান স্ক্যাভিনো ও ওয়াল্ট নাউটা। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ছিলেন এয়ার ফোর্স ওয়ানের ডিকয় ফ্লাইটে। এত গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও হার্পের ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা তার অবস্থান নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। বিশেষ করে তিনি কীভাবে প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কর্মীদের একজন হয়ে উঠলেন এবং ট্রাম্পের কাছে তার প্রবেশাধিকার কতটা বিস্তৃত, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে। হার্পকে ট্রাম্পের আশপাশে প্রায়ই ল্যাপটপ ও বহনযোগ্য প্রিন্টার নিয়ে দেখা যায়। প্রেসিডেন্টের জন্য সংবাদ প্রতিবেদন, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং অন্যান্য তথ্য প্রিন্ট করে দেওয়ার কারণে হোয়াইট হাউসের পরিমণ্ডলে তিনি ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ নামেও পরিচিত হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প কোন সংবাদ বা তথ্য দেখছেন, তা তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে হার্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। হার্পের রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয় ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে। ক্যানসারের চিকিৎসার সময় তিনি প্রকাশ্যে ট্রাম্পের ‘রাইট টু ট্রাই’ আইনের প্রশংসা করেন এবং নিজের চিকিৎসার প্রসঙ্গে ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দেন। পরে ২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনেও বক্তব্য দেন তিনি। একসময় ওয়ান আমেরিকা নিউজে কাজ করা হার্প পরে ট্রাম্পের রাজনৈতিক টিমের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন হয়ে ওঠেন। সাম্প্রতিক সময়ে জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফও প্রকাশ্যে হার্পের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে সোমবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করা হলেও ট্রাম্প সরাসরি উত্তর দেননি। বরং প্রশ্নকারী সাংবাদিকের সমালোচনা করেন। তবে হার্পের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য সামনে আসেনি। মূলত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার অস্বাভাবিকভাবে ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্ক, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সফরে নিয়মিত উপস্থিতি এবং তুরস্কের উচ্চঝুঁকির গোপন ফ্লাইটে জায়গা পাওয়াই তাকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনে আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদার বাইরে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আস্থা কার ওপর কতটা রয়েছে, সেটি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নাটালি হার্পের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, তিনি এখন ট্রাম্পের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের একজন।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত নিজ দেশ কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী শাকিরা। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি চোকো সফর করে সেখানে অন্তত ১০টি স্কুল নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয় পুনর্গঠনে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গত ১০ আগস্ট কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে শিশুদের আবার স্কুলে ফেরানো। মঙ্গলবার চোকোর রাজধানী কুইবদো সফর করেন শাকিরা। তার সঙ্গে ছিলেন মার্কিন ধনকুবের ও সমাজসেবী হাওয়ার্ড জি. বাফেট। তারা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। শাকিরা জানান, তার পিয়েস দেসকালসোস ফাউন্ডেশন হাওয়ার্ড জি. বাফেট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় চোকোতে অন্তত ১০টি স্কুল নির্মাণে কাজ করবে। একই সঙ্গে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিভার্সিদাদ তেকনোলজিকা দেল চোকোর পুনর্গঠনেও সহায়তা করা হবে। এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি এসেছে। গ্লোবাল সিটিজেন ও লাইভ নেশন মিলিয়ে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া সিএএফ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক আরও আড়াই লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শাকিরা বলেন, চোকোর প্রতি দীর্ঘদিনের একটি 'ঐতিহাসিক ঋণ' রয়েছে। কলম্বিয়ার তুলনামূলক দরিদ্র ও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই অঞ্চলের মানুষ যেন দুর্যোগের জরুরি পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পর আবারও ভুলে না যায়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষা নিয়ে শাকিরার কাজ নতুন নয়। তার পিয়েস দেসকালসোস ফাউন্ডেশন দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চোকোসহ কলম্বিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের শিক্ষা ও স্কুল অবকাঠামো নিয়ে কাজ করছে। হাওয়ার্ড বাফেটের ফাউন্ডেশনের সঙ্গেও এর আগে একাধিক শিক্ষা প্রকল্পে কাজ করেছেন তিনি। ভূমিকম্পের পর শাকিরার এবারের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু ভবন পুনর্নির্মাণ নয়, যত দ্রুত সম্ভব শিশুদের আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে স্কুলকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দেখছেন তিনি।