- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ফিলাডেলফিয়ায় ইন্তেকাল করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি ও আইটি পেশাজীবী মাহবুব রহমান। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইডেন্টিটি অ্যান্ড অ্যাক্সেস ম্যানেজমেন্ট আর্কিটেক্ট হিসেবে কাজ করা মাহবুব রহমানের মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও বন্ধুদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। মাহবুব রহমান ১৯৬৮ সালের ৩০ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জন্মগ্রহণ করেন। কটিয়াদী থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ভারতের কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। কর্মজীবনে তিনি ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজে অ্যাপ্লিকেশন আর্কিটেক্ট হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেন। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগে আইডেন্টিটি অ্যান্ড অ্যাক্সেস ম্যানেজমেন্টের গ্রুপ সার্ভিসেস আর্কিটেক্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হার্ভার্ডের বিভিন্ন প্রকাশিত নথিতেও তার এই পদে কাজ করার তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৩ সালে তিনি ফিলাডেলফিয়ায় আসেন এবং চিলড্রেন’স হসপিটাল অব ফিলাডেলফিয়ায় আইডেন্টিটি অ্যান্ড অ্যাক্সেস ম্যানেজমেন্ট সলিউশন্স আর্কিটেক্ট হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে মাহবুব রহমান ব্রেইন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় তার অস্ত্রোপচার ও রেডিয়েশন চিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তার শারীরিক অবস্থার আর উন্নতি হয়নি। অবশেষে রোববার সকালে ড্রেক্সেল হিলে নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন।মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। মরহুমের জানাজা ও দাফন নিউ জার্সির প্রিন্সটনে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তার নিকটাত্মীয়-স্বজন বসবাস করেন। জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে। মাহবুব রহমানের স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে অসাধারণ মেধাবী, বিনয়ী, সদয় ও মানবিক মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। মানুষের উপকারে এগিয়ে আসার মানসিকতা এবং কোমল ও বিনয়ী স্বভাবের কারণে তিনি পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছে বিশেষভাবে প্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কানাডায় পড়াশোনার জন্য দেওয়া শিক্ষার্থী ভিসা একটি সাময়িক অনুমতি। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো শিক্ষার্থী স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা কানাডায় থাকার অন্য বৈধ মর্যাদা অর্জন করতে না পারলে তাকে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। স্মিথের এই মন্তব্য এসেছে আলবার্টায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে। বিশেষ করে পোর্টেজ কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতি না পাওয়ায় প্রতিবাদ করছেন। তাঁদের অনেকেই দাবি করছেন, কানাডায় পড়াশোনার সময় তাঁরা ভবিষ্যতে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে প্রত্যাশা করেছিলেন। ১২ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে স্মিথ বলেন, শিক্ষার্থী ভিসা কানাডায় পড়াশোনার জন্য দেওয়া একটি সাময়িক নথি। আলবার্টার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত প্রদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ থাকলে তার শর্তও স্পষ্ট—শিক্ষা শেষ করা এবং এরপর সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নিজ দেশে জীবন গড়ে তোলা। এর আগে ২৯ জুলাই রেড ডিয়ারে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনেও স্মিথ একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেউ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় এসে শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি না পান, তাহলে তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে। স্মিথের বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমানে আলবার্টায় আলোচিত পোর্টেজ কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কলেজটির কিছু সাবেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্নাতক হওয়ার পর স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতির আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রতিবাদ করছেন। তাঁদের একটি অংশের অভিযোগ, পড়াশোনায় ভর্তি হওয়ার সময় তাঁরা যে তথ্য পেয়েছিলেন, পরে অভিবাসন-সংক্রান্ত বাস্তবতার সঙ্গে সেটির মিল পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোর্টেজ কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যবসা ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রায় দুই বছর ধরে পড়াশোনা করে এবং প্রায় ৩২ হাজার কানাডীয় ডলার পর্যন্ত টিউশন ফি দেওয়ার পর জানতে পারেন যে তাঁদের কর্মসূচি স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতির জন্য যোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং কয়েকজন অনশন কর্মসূচিও পালন করেছেন। শিক্ষার্থীদের মূল দাবির একটি হলো পড়াশোনা শেষ করার পর কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাওয়া। তবে প্রিমিয়ার স্মিথের বক্তব্য অনুযায়ী, কানাডায় পড়াশোনার অনুমতি পাওয়া মানেই পরবর্তী সময়ে কাজের অনুমতি বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার নিশ্চিত হওয়া নয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের কানাডায় আসার আগে তাঁদের কর্মসূচি এবং পরবর্তী অভিবাসন সুবিধা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট বা পিজিডব্লিউপি। কানাডায় নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর এই অনুমতির মাধ্যমে দেশটিতে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সব কর্মসূচি কিংবা সব শিক্ষার্থী এই সুবিধার জন্য যোগ্য নন। ফলে শুধু কানাডার কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কিংবা ডিগ্রি সম্পন্ন করলেই পিজিডব্লিউপি নিশ্চিত হয় না। পোর্টেজ কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে কারণ তাঁরা দাবি করছেন, তাঁদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে তাঁদের কাছে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তীতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি। অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা বাতিল করার ক্ষমতা তাদের নেই। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ এবং আইনি পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী হিসেবে প্রবেশ এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার দুটি আলাদা বিষয়। কোনো শিক্ষার্থী বৈধভাবে পড়াশোনা শেষ করলেও পরবর্তী সময়ে তাকে কানাডায় থাকতে হলে নতুন কোনো বৈধ অনুমতি বা অভিবাসন মর্যাদা প্রয়োজন হতে পারে। তাই শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার তৈরি হয় না। একই সঙ্গে ড্যানিয়েল স্মিথের বক্তব্যকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করাও ঠিক হবে না যে কানাডায় থাকা সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে ভিসা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাধ্যতামূলকভাবে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। মূল বক্তব্য হলো, বৈধ থাকার অনুমতি শেষ হয়ে গেলে এবং স্থায়ী বসবাস বা অন্য কোনো বৈধ মর্যাদা না থাকলে কানাডায় থাকার অধিকার থাকে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিবাসন আইনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হতে পারে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কানাডার সামগ্রিক অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের কারণে। দেশটি সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বাসিন্দাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার মান নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে পড়াশোনা থেকে কাজ এবং পরবর্তীতে স্থায়ী বসবাসে যাওয়ার পথ আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও শর্তনির্ভর হয়ে উঠেছে। স্মিথ একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কানাডায় আসার আগে অভিবাসনের ভবিষ্যৎ পথ সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পরামর্শদাতা যদি পড়াশোনার সঙ্গে স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে সেটি যাচাই না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে কানাডায় পড়াশোনার পরিকল্পনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোন কর্মসূচি পিজিডব্লিউপির জন্য যোগ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও যোগ্যতার আওতায় রয়েছে কি না, পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির শর্ত কী এবং স্থায়ী বসবাসের জন্য আলাদা কী যোগ্যতা প্রয়োজন এসব আগে থেকেই যাচাই করা। আলবার্টার প্রিমিয়ারের সাম্প্রতিক বক্তব্য তাই শুধু পোর্টেজ কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়; এটি কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কেরও প্রতিফলন। বিশেষ করে পড়াশোনা শেষে কানাডায় থেকে কাজ করার প্রত্যাশা নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য বার্তাটি স্পষ্ট শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় প্রবেশ করা স্থায়ীভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা নয় এবং বৈধ থাকার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ির সরবরাহ কমে যাওয়ায় নতুন ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। জাতীয় রিয়েলটরস অ্যাসোসিয়েশনের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্রি না হওয়া বিদ্যমান বাড়ির মজুত জুনের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৫ লাখ ৪০ হাজার ইউনিটে নেমেছে। বর্তমান বিক্রির গতিতে এই মজুত দিয়ে প্রায় ৪ দশমিক ৬ মাসের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ে প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাওয়া ক্রেতাদের অংশ জুলাইয়ে মাত্র ২৯ শতাংশে নেমেছে, যা জুনের ৩৩ শতাংশের চেয়ে কম। সুস্থ আবাসন বাজারে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি থাকা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমিত সরবরাহের পাশাপাশি উচ্চ বন্ধকি ঋণের সুদ ও বাড়ির বাড়তি দাম ক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি করছে। জুলাইয়ে বিদ্যমান বাড়ির মধ্যম দামও এক বছর আগের তুলনায় ২ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে বাড়ি কিনতে আগ্রহী অনেক মানুষ উচ্চ খরচের কারণে অপেক্ষা করছেন, আবার কম সুদের পুরোনো ঋণ ধরে রাখতে অনেক বাড়ির মালিকও নতুন করে বাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন না। এতে বাজারে বাড়ির সরবরাহ আরও সংকুচিত থাকছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গুলির ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। শনিবার ভোর সাড়ে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনের কাছে কোয়াড অ্যানেক্সেস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলির পর ক্যাম্পাসে সাময়িক লকডাউন জারি করা হয়। চেস্টারফিল্ড কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, আহত পাঁচজনের বয়স ১৭ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে একজন ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। চিকিৎসার পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাকি আহতদের অবস্থা প্রাণঘাতী নয়। ঘটনার প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর পুলিশ ১৯ বছর বয়সী ক্যামরন হ্যারিসকে গ্রেপ্তার করে। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক ভবনের কক্ষের আলমারিতে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ বলেছে, হ্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। হ্যারিসের বিরুদ্ধে আটটি গুরুতর অপরাধের পরোয়ানা জারি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুরুতরভাবে আহত করা এবং অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ। তবে গুলির ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই বলে জানায় এবং লকডাউন তুলে নেয়। তদন্তে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সংস্থা এবং হ্যানোভার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও সহায়তা করছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর ঠিক আগে এ ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো এরই মধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সোমবার থেকে ক্লাস শুরুর কথা ছিল। ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ভার্জিনিয়ার একটি ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রতিটি মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল আমির হাতামি। রোববার ইরানের সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাতামি এ ঘোষণা দেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানি বাহিনীর কোনো সদস্য একজন মার্কিন ‘আগ্রাসী’ সেনাকে হত্যা বা বন্দি করতে পারলে জনগণের অংশগ্রহণে তাকে এই অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। হাতামির এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক সংঘাতের কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি। যুদ্ধবিরতি ও অন্তর্বর্তী সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা থাকলেও সর্বশেষ আলোচনাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই নিয়ন্ত্রণের দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে নৌ অবরোধ বজায় রাখার কথা জানিয়েছে এবং প্রয়োজনে সেটি অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার কথাও বলেছে। অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সত্ত্বেও ইরান নিজেদের শর্ত ছাড়া নৌপথটি স্বাভাবিকভাবে খুলবে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২৪০ দিনের বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে রণতরীটির নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কথা মার্কিন আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন। এই দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাময়িকভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি কমে যাচ্ছে, যা চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার মধ্যে নতুন কৌশলগত উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হলে তেহরানকে এর জন্য বড় মূল্য দিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। একই সময়ে ইরানও যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে শুধু সামরিক সংঘাতই নয়, পাল্টাপাল্টি হুমকি, অবরোধ, পুরস্কার ঘোষণা এবং কূটনৈতিক চাপও ক্রমেই বাড়ছে। আমির হাতামির ৩০ হাজার ডলারের এই ঘোষণা সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তবে ঘোষণাটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে, পুরস্কারের অর্থ কে দেবে এবং এ ধরনের কোনো পুরস্কার ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও হরমুজ প্রণালি, নৌ অবরোধ, সামরিক অভিযান এবং ক্ষতিপূরণের মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশের অবস্থান এখনো ব্যাপকভাবে ভিন্ন। ফলে সামরিক উত্তেজনা কমানোর বদলে পাল্টাপাল্টি চাপের এই পরিস্থিতি আরও কতদিন চলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র গরম ও উচ্চ আর্দ্রতা অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার সতর্কতা অনুযায়ী, প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এই তাপপ্রবাহের প্রভাবে রয়েছেন। কিছু এলাকায় প্রকৃত তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছাতে পারে, আর আর্দ্রতা যোগ হয়ে শরীরে অনুভূত তাপমাত্রা ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। আবহাওয়াবিদরা ‘হিট ডোম’ বা তাপ-গম্বুজ পরিস্থিতির কথা বলছেন। এতে একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় দীর্ঘ সময় ধরে কোনো অঞ্চলের ওপর অবস্থান করে এবং নিচের স্তরে গরম ও আর্দ্র বাতাস আটকে রাখে। ফলে দিনের তাপমাত্রা যেমন বাড়ে, তেমনি রাতেও পর্যাপ্ত ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ থাকে না। বিশেষ করে সেন্ট্রাল প্লেইনস, সাউদার্ন প্লেইনস, লোয়ার মিসিসিপি ভ্যালি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব এলাকার একাধিক অঙ্গরাজ্যে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি বা তার ওপরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে তাপের চাপ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। রাতেও মিলছে না স্বস্তি এই তাপপ্রবাহের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো রাতের তাপমাত্রাও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকা। কিছু শহরে রাতের তাপমাত্রা প্রায় ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত থাকতে পারে। ফলে দিনের প্রচণ্ড গরমের পর শরীর রাতে স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ কম পাচ্ছে। এতে দীর্ঘসময় ধরে তাপের সংস্পর্শে থাকা মানুষের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় তীব্র গরম স্কুলগুলোর জন্যও বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কোথাও শিক্ষার্থীদের বাইরের কার্যক্রম সীমিত করা হচ্ছে। দক্ষিণ ক্যারোলিনায় অতিরিক্ত গরমের কারণে ফুটবল দলের অনুশীলনী ম্যাচ বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে। বাইরে কাজ করা শ্রমিক, নির্মাণকর্মী, কৃষিশ্রমিক এবং দীর্ঘসময় রোদে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।গরমের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। আগস্টের শেষভাগেও গরমের আশঙ্কাতা পপ্রবাহটি খুব দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনাও কম। জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার সম্ভাবনা রয়েছে। সেন্ট্রাল ও সাউদার্ন গ্রেট প্লেইনস, মিসিসিপি ভ্যালি ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সমন্বিত অনুভূতি ১০৫ থেকে ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি হতে পারে। চলতি তাপপ্রবাহের গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ ২০২৬ সালের জুলাই ছিল সংলগ্ন ৪৮ অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ মাস। এনওএএ-এর হিসাবে জুলাইয়ে গড় তাপমাত্রা ছিল ৭৬ দশমিক ৮৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট, যা ১৮৯৫ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ড ছিল ১৯৩৬ সালের জুলাইয়ের। এনওএএ জানিয়েছে, জুলাইয়ে সংলগ্ন যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা ছিল। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহে রাতের তাপমাত্রা বেশি থাকা বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়, কারণ এতে মানুষ ও অবকাঠামো উভয়ের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে তাপের চাপ তৈরি হয়। সার্বিকভাবে, আগস্টের এই তাপপ্রবাহ শুধু অস্বস্তিকর গরম নয়—এটি জনস্বাস্থ্য, স্কুল, কর্মক্ষেত্র, বিদ্যুৎ ব্যবহার ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে জুলাইয়ে অপ্রত্যাশিত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে অকৃষি খাতে কর্মসংস্থান ২৩ হাজার কমেছে, যেখানে অর্থনীতিবিদেরা বরং নতুন চাকরি বাড়ার প্রত্যাশা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ চাকরি কমলেও বেকারত্বের হার বেড়ে যায়নি। কর্মসংস্থানের দুর্বলতার পেছনে কয়েকটি খাতে চাকরি কমে যাওয়ার প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার শিক্ষা, খুচরা ব্যবসা ও অবসর-আতিথেয়তা খাতে কর্মসংস্থান কমেছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরি বাড়তে থাকায় সামগ্রিক পতন কিছুটা সামাল দেওয়া হয়েছে। এদিকে মে ও জুনের কর্মসংস্থানের হিসাবও আগের তুলনায় নিচের দিকে সংশোধন করা হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়েছে। এই প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমে আসার নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমবাজারের এই দুর্বলতা ভবিষ্যতে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গুলির ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আটলান্টা পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ড্রাইভ এনডব্লিউ-এর ২৪০০ ব্লকে গুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আহত ব্যক্তিকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আহত ব্যক্তি বর্তমানে সচেতন ও জ্ঞানসম্পন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তাঁর পরিচয়, বয়স বা লিঙ্গ প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। গুলির ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়টিও এখনো স্পষ্ট নয়। আটলান্টা পুলিশ বিভাগের গুরুতর হামলা তদন্ত ইউনিট ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে সম্ভাব্য আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার সূত্র খুঁজে দেখছেন। পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য বা ভিডিও ফুটেজ থাকলে তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গুলির কারণ ও ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়তে থাকার মধ্যেই ওষুধের খরচে বড় স্বস্তির খবর এসেছে। জুলাই পর্যন্ত এক বছরে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এটি ১৯৬৩ সালের মার্চের পর দেশটিতে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামের সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জুলাইয়ের মূল্যস্ফীতির তথ্যে এই পরিবর্তন উঠে এসেছে। সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী থাকার সময় প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত ছয় মাসের হিসাবেও ওষুধের দাম দ্রুত কমেছে। এই পরিসংখ্যানকে নিজেদের ওষুধের দাম কমানোর নীতির বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানোকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যনীতি হিসেবে সামনে এনেছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে একই ওষুধের জন্য অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় বেশি মূল্য দিতে হয়—এই ব্যবধান কমাতে ওষুধ প্রস্তুতকারকদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি সরাসরি ভোক্তাদের কম দামে নির্দিষ্ট ওষুধ পাওয়ার সুযোগ এবং ব্যয়বহুল ওষুধের দাম কমাতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি মেডিকেয়ার জিএলপি-১ ব্রিজ। গত ১ জুলাই কর্মসূচিটি চালু হয়েছে। এর আওতায় যোগ্য মেডিকেয়ার পার্ট ডি সুবিধাভোগীরা ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট জিএলপি-১ ওষুধ মাসে ৫০ ডলার কো-পেতে পেতে পারেন। বর্তমানে ওয়েগোভি, জেপবাউন্ডের নির্দিষ্ট সংস্করণ এবং ফাউন্ডায়ো কর্মসূচিটির অন্তর্ভুক্ত। কর্মসূচির আওতায় ওষুধ প্রস্তুতকারীরা প্রতি মাসের সরবরাহ ২৪৫ ডলারের নেট মূল্যে দিচ্ছে, তবে যোগ্য রোগীর নিজস্ব খরচ ৫০ ডলার। এই সুবিধা সবার জন্য নয়; নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ এবং চিকিৎসকের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে জুলাইয়ে ওষুধের দাম কমার পুরো কৃতিত্ব শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান নীতিকে দেওয়া যাবে না। মেডিকেয়ারের প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম নিয়ে সরাসরি দর-কষাকষির ক্ষমতা তৈরি হয়েছিল ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসনের ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্টের মাধ্যমে। প্রথম দফার আলোচনায় নির্ধারিত দাম ২০২৬ সাল থেকেই কার্যকর হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সেই কাঠামো অব্যাহত রেখে পরবর্তী পর্যায়ের দর-কষাকষির কাজও এগিয়ে নিচ্ছে। ফলে বর্তমান মূল্যপতনের পেছনে একাধিক বিষয় কাজ করছে। নতুন প্রশাসনের মূল্য কমানোর উদ্যোগের পাশাপাশি আগে পাস হওয়া আইন, মেডিকেয়ারের দর-কষাকষি এবং ওষুধ প্রস্তুতকারীদের সঙ্গে নতুন মূল্যব্যবস্থাও বর্তমান বাজারে প্রভাব ফেলছে। তারপরও জুলাইয়ের পরিসংখ্যান ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ে মার্কিন পরিবারগুলোর উদ্বেগের মধ্যে এমন একটি খাতে দাম কমেছে, যেখানে বিশেষ করে প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষের নিয়মিত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। আর পতনের মাত্রাটিও সাধারণ নয়—ছয় দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামে এমন বার্ষিক পতন আর দেখা যায়নি। তবে এই পরিসংখ্যানের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যেক রোগীর ফার্মেসির বিল ঠিক ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে গেছে—এমন নয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সূচক সামগ্রিক বাজারে প্রেসক্রিপশন ওষুধের মূল্য পরিবর্তন পরিমাপ করে। একজন রোগী বাস্তবে কত টাকা দেবেন, তা নির্ভর করবে তার ওষুধ, স্বাস্থ্যবিমা, মেডিকেয়ার সুবিধা, ডিডাক্টিবল ও কো-পেসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় পরীক্ষা হবে এই পতন কতটা স্থায়ী হয়। জুলাইয়ের রেকর্ড পরিসংখ্যান আপাতত হোয়াইট হাউসকে শক্তিশালী একটি অর্থনৈতিক বার্তা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম এমন গতিতে কমছে, যা দেশটি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেখেনি।
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘায়িত যুদ্ধ এখন শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতেই সীমাবদ্ধ নেই; এর ধাক্কা পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরব মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কেও। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ও কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে হতাশা বাড়ছে। এমনকি নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রাখার বিনিময়ে তারা আদৌ প্রত্যাশিত নিরাপত্তা পাচ্ছে কি না—সেই প্রশ্নও এখন উঠছে। ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে কথা বলা আরব ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এই অসন্তোষের গভীরতা উঠে এসেছে। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসনের বারবার অবস্থান পরিবর্তন এবং ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থতা উপসাগরীয় দেশগুলোকে এমন এক যুদ্ধের মূল্য দিতে বাধ্য করছে, যেটি তারা শুরু করেনি এবং দীর্ঘায়িত হোক সেটিও তারা চায় না। একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন, আর মূল্য দিচ্ছি আমরা।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ওয়াশিংটনের প্রতি ক্ষোভ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মিত্র হয়েও যুদ্ধের মূল্য কেন দিচ্ছে উপসাগর? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক রূপ নেয়। ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাব পড়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদারত্ব থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেদের ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। সমস্যার একটি বড় অংশ মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ঘিরে। উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলটির নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর এই ঘাঁটিগুলোই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে—এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে। উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের একটি অংশ এখন প্রশ্ন তুলছেন, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণে তাদের নিরাপত্তা বাড়ছে, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধে তাদের দেশও স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। ট্রাম্পের বদলে যাওয়া অবস্থানেও বিরক্তি উপসাগরীয় মিত্রদের আরেকটি বড় উদ্বেগ ট্রাম্পের ইরাননীতি কতটা অনুমানযোগ্য, তা নিয়ে।চলমান সংঘাতে ট্রাম্প কখনো সামরিক চাপ বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো দ্রুত শান্তিচুক্তির সম্ভাবনার কথা বলেছেন। যুদ্ধ বন্ধের জন্য বিভিন্ন সময়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি উদ্যোগ নিয়েও উপসাগরীয় মিত্রদের উদ্বেগ ছিল—বিশেষ করে এমন কোনো সমঝোতা যাতে তেহরান আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারে। অর্থাৎ উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থানও একমাত্রিক নয়। তারা একদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ককে নিরাপত্তা হুমকি মনে করে; অন্যদিকে এমন দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধও চায় না, যার আঘাত তাদের শহর, বন্দর, তেল স্থাপনা এবং অর্থনীতির ওপর এসে পড়ে।এই দ্বৈত সংকটই এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে। নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ঝুঁকির উৎসও কি যুক্তরাষ্ট্র? দশকের পর দশক ধরে উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিনিময়ে ওয়াশিংটন পেয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, কৌশলগত অবস্থান এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি।কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ সেই পুরোনো সমীকরণেই প্রশ্ন তুলেছে। মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যদি ইরানের হামলা ঠেকাতে না পারে, বরং সেই উপস্থিতিই ইরানের কাছে কোনো উপসাগরীয় দেশকে বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরে—তাহলে সেই ঘাঁটির কৌশলগত মূল্য নতুন করে হিসাব করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কিছু আঞ্চলিক কর্মকর্তা। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত কিছু উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রাখার সুবিধা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। সৌদি আরব খুঁজছে বিকল্প নিরাপত্তা বলয় এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ সৌদি আরব। যুদ্ধটি নিজেদের শুরু করা নয়—এমন একটি সংঘাতে ক্রমেই টেনে নেওয়া হচ্ছে বলে রিয়াদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যেই সৌদি আরব আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব শক্তিশালী করার দিকে এগিয়েছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো, পাশাপাশি লোহিত সাগরে বহুপক্ষীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা—এসব পদক্ষেপকে শুধু তাৎক্ষণিক যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নিরাপত্তা নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সৌদি আরব বা অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছে—এমন নয়। তাদের সামরিক অবকাঠামো, অস্ত্রব্যবস্থা, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, তারা একই সঙ্গে বিকল্প নিরাপত্তা অংশীদারও তৈরি করতে চাইছে। হরমুজ সংকট বাড়িয়েছে চাপ! ইরান যুদ্ধের আরেকটি বড় ধাক্কা এসেছে হরমুজ প্রণালিতে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ ছিল এই সরু নৌপথ। যুদ্ধের পর সেখানে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প রুট ও অবকাঠামো ব্যবহার করে হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করলেও ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলা সেই বিকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে এখন কঠিন সমীকরণ—ইরানকে অতিরিক্ত শক্তিশালী হতে দেওয়া যাবে না, আবার এমন যুদ্ধও চলতে দেওয়া যাবে না যা তাদের অর্থনীতি ও জ্বালানি অবকাঠামোকে ক্রমাগত ঝুঁকির মধ্যে রাখে। পুরোনো সম্পর্ক কি নতুন দিকে যাচ্ছে? সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমান অসন্তোষ শুধু ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনৈতিক ধরন নিয়ে নয়। এর কেন্দ্রে রয়েছে আরও বড় একটি প্রশ্ন—ভবিষ্যতে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার প্রধান নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা নির্ভরযোগ্য মনে করা যাবে। একসময় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ ছিল তুলনামূলকভাবে সহজ—মার্কিন সামরিক শক্তির উপস্থিতির বিনিময়ে উপসাগরীয় মিত্ররা পেত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ সেই হিসাব বদলে দিয়েছে। এখন সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখছে, তেহরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের পথ খুঁজছে এবং তুরস্ক-পাকিস্তানসহ অন্য শক্তির সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তৈরি করছে। তাই বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক ফল শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে নির্ধারিত নাও হতে পারে। বরং সেটি নির্ধারিত হতে পারে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর—যখন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন হিসাব করবে, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তারা ভবিষ্যতে কতটা ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করবে। কারণ উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে যদি সত্যিই এই ধারণা স্থায়ী হয় যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি তাদের সুরক্ষার পাশাপাশি সংঘাতের লক্ষ্যবস্তুতেও পরিণত করছে, তাহলে কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে গড়ে ওঠা মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য সেটিই হতে পারে ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত ধাক্কা।
সৌদি আরবের বিপুল আর্থিক সক্ষমতা, তুরস্কের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের বিশাল সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা—এই তিন শক্তিকে একই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় নিয়ে এসেছে নতুন ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া এই চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব এখন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনা করছে ভারত। গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষর করে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ঘোষণা হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাকিস্তান অবশ্য স্পষ্ট করেছে, এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়নি। চুক্তিটি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান প্রথমে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করে। এরপর তুরস্ককে যুক্ত করে ত্রিপক্ষীয় কাঠামো তৈরির আলোচনা শুরু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর তিন দেশের একটি খসড়া প্রতিরক্ষা চুক্তি তৈরি হয়েছে। আগস্টে সেটিই পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে রূপ নেয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই তিন দেশ একে অপরকে আসলে কী দিতে পারে? সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় শক্তি অর্থনীতি। তেলসমৃদ্ধ দেশটির বিপুল আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে রিয়াদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কও আছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংকটের মধ্যেও পাকিস্তানের জন্য সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তার উৎস হয়ে উঠেছে। ফলে যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, সামরিক অবকাঠামো কিংবা নতুন প্রতিরক্ষা প্রকল্পে সৌদি অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তুরস্ক নিয়ে আসছে অন্য ধরনের শক্তি—প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সামরিক শিল্প। ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তি এবং নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদনে গত কয়েক বছরে দ্রুত এগিয়েছে আঙ্কারা। নতুন চুক্তিতেও স্থল, নৌ, আকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রে যৌথ মহড়া এবং ড্রোন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে যৌথভাবে অস্ত্র তৈরি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ব্যবস্থাও চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর পাকিস্তানের হাতে রয়েছে এমন একটি সক্ষমতা, যা সৌদি আরব ও তুরস্ক—কোনো দেশেরই নেই: পারমাণবিক অস্ত্র। এখানেই ভারতের জন্য বিষয়টি সবচেয়ে স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—নতুন চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান তার পারমাণবিক অস্ত্র সৌদি আরব বা তুরস্কের জন্য ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দিয়েছে, এমন কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা এই জোটের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ায়—কিন্তু এটিকে তিন দেশের যৌথ ‘পারমাণবিক ছাতা’ হিসেবে এখনই বর্ণনা করা যাবে না। পাকিস্তান-সৌদি আগের চুক্তির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা এ ধরনের কৌশলগত অস্পষ্টতার কথা বলেছেন। তবু দিল্লি বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, সরকার তা মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে ভারতের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দিল্লি। ভারতের উদ্বেগের বড় জায়গা পাকিস্তান-তুরস্ক সামরিক সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই সম্পর্কের সঙ্গে সৌদি অর্থায়ন ও রাজনৈতিক প্রভাব যুক্ত হলে পাকিস্তানের সামরিক আধুনিকায়নের গতি বাড়তে পারে—বিশেষ করে ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সাইবার সক্ষমতা এবং যৌথ অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে। চুক্তিতে এসব ক্ষেত্রের সহযোগিতা স্পষ্টভাবে রাখা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের অবস্থান ভারতের জন্য তুলনামূলক জটিল। রিয়াদ পাকিস্তানের পুরোনো মিত্র হলেও ভারতের সঙ্গেও তার গভীর অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ভারত-পাকিস্তান কোনো ভবিষ্যৎ সংকটে সৌদি আরব স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসলামাবাদের সামরিক অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একাত্ম হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি এখনো নেই। এই কারণেই নতুন চুক্তিকে সরাসরি ‘ভারতবিরোধী জোট’ বলা ঠিক হবে না। চুক্তির তিন দেশই বলছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়। বরং দ্রুত বদলে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও একে দেখা হচ্ছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এই কাঠামো তিন দেশেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। তুরস্ক জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অন্য দেশকেও যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে এবং মিশরের নাম সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সেটি বাস্তবায়িত হলে জোটটির ভৌগোলিক ও সামরিক পরিধি আরও বড় হতে পারে। তবে এখনই একে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বলা অতিরঞ্জিত হবে। তিন দেশের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা স্বার্থ সব ক্ষেত্রে এক নয়। তাদের অস্ত্রব্যবস্থাও ভিন্ন উৎসনির্ভর। তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার, আর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় চীনের বড় প্রভাব রয়েছে। ফলে ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত সামরিক জোটে রূপ নিতে বাস্তব অনেক বাধা রয়েছে। তারপরও চুক্তিটিকে শুধু প্রতীকী ঘোষণা হিসেবে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ কমছে। বৃহস্পতিবার তুরস্ক যে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, তাতে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় ব্যবস্থা, যৌথ মহড়া, গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং যৌথ অস্ত্র উন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো বাস্তব পদক্ষেপ রয়েছে। ফলে ভারতের জন্য আসল প্রশ্নটি হয়তো এই জোট কাকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছে—সেটি নয়। বরং প্রশ্ন হলো, আগামী কয়েক বছরে সৌদির অর্থ, তুরস্কের প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতার এই সমন্বয় কতটা কার্যকর সামরিক কাঠামোয় রূপ নেয়। কারণ পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা যদি তুরস্কের উন্নত প্রযুক্তি ও সৌদি আরবের আর্থিক শক্তির মাধ্যমে দ্রুত আধুনিক হয়, তার সবচেয়ে প্রত্যক্ষ কৌশলগত প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে। আর ঠিক সেই কারণেই মক্কায় স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির গতিপথ এখন খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনো দুই বছরের বেশি দূরে। কোনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকাও তৈরি হয়নি। তবে তরুণ ভোটারদের নিয়ে নতুন এক জরিপে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। অ্যাক্সিওস-জেনারেশন ল্যাবের জরিপে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটদের ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে হ্যারিসকে বেছে নিয়েছেন। সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাকে পছন্দ করেছেন ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজকে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ মিশেল ওবামার প্রায় দ্বিগুণ সমর্থন পেয়েছেন হ্যারিস। তবে হ্যারিস, মিশেল ওবামা কিংবা ওকাসিও-কর্তেজ—তিনজনের কেউই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। ফলে জরিপটি কোনো চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকার ওপর নয়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে তরুণদের বর্তমান মনোভাবের একটি চিত্র। ওকাসিও-কর্তেজ অবশ্য ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট অথবা সিনেট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। স্বতন্ত্র তরুণ ভোটারদের মধ্যে চিত্রটি ভিন্ন। সেখানে মিশেল ওবামা ১১ দশমিক ৪ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে। ওকাসিও-কর্তেজ পেয়েছেন ৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রিপাবলিকান তরুণদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাকে বেছে নিয়েছেন ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ১০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ৯ দশমিক ৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। জরিপটি ২৯ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ১ হাজার ৭৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। এতে ৩৭ শতাংশ নিজেদের ডেমোক্র্যাট, ২৬ শতাংশ রিপাবলিকান এবং ২৯ শতাংশ স্বতন্ত্র হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। সামগ্রিক জরিপের ত্রুটিসীমা প্লাস-মাইনাস ৩ দশমিক ০১ শতাংশ পয়েন্ট। তবে জরিপে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রার্থীদের চেয়েও বড় একটি বিষয় উঠে এসেছে—তরুণ মার্কিনিদের ব্যাপক অর্থনৈতিক অসন্তোষ। ৯৬ শতাংশ উত্তরদাতা বাড়িভাড়া, মুদি পণ্য, জ্বালানি কিংবা ইউটিলিটি বিলের ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের ৪০ শতাংশ জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার এসব ব্যয় নিয়ে তারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডেও তরুণদের বড় অংশ অসন্তুষ্ট। জরিপে ৬৬ শতাংশ তার দায়িত্ব পালনের ধরন অনুমোদন করেননি, বিপরীতে অনুমোদন করেছেন ৩৪ শতাংশ। জেনারেশন ল্যাবের প্রধান নির্বাহী সাইরাস বেশলস তরুণদের সামগ্রিক মনোভাবকে প্রায় সবকিছুর প্রতিই নেতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হ্যারিসের এগিয়ে থাকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পের কাছে পরাজয়ের পরও তিনি দলের সম্ভাব্য ২০২৮ প্রার্থীদের আলোচনার কেন্দ্রেই রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রগতিশীল নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর খবরও এসেছে। অ্যাক্সিওসের বিশ্লেষণেও জুলাইয়ের শেষ দিকে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের মধ্যে হ্যারিসকে শীর্ষে রাখা হয়েছিল। তবে এই জরিপকে ২০২৮ সালের নির্বাচনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্বাচন এখনো অনেক দূরে, প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি এবং জরিপটিও শুধু ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মতামত তুলে ধরেছে। তারপরও তরুণ ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় একটি বিষয় পরিষ্কার—২০২৪ সালের পরাজয়ের পরও কমলা হ্যারিসের রাজনৈতিক প্রভাব শেষ হয়ে যায়নি; বরং সম্ভাব্য আরেকটি হোয়াইট হাউস লড়াইয়ের আলোচনায় তিনি এখনো সামনের সারিতে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কয়েক দিনের টানা প্রবল বৃষ্টি, ঝড় ও আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। বন্যার পানিতে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে কেন্দ্রীয় ইন্ডিয়ানার বিভিন্ন এলাকা। বিশেষ করে হোয়াইট রিভার নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ইন্ডিয়ানাপোলিস ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক প্লাবন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা পরিস্থিতিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাজ্যের কিছু এলাকায় মাত্র দুই দিনে ১১ ইঞ্চিরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে হোয়াইট রিভারের পানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়। অ্যান্ডারসন ও নোবলসভিল এলাকায় নদীর পানি ২৪ ফুটের বেশি উচ্চতায় উঠেছে, যা ১৯১৩ সালের বন্যার রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল নৌকা ব্যবহার করে প্লাবিত এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। ইন্ডিয়ানাপোলিসে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো শনিবার পর্যন্ত অন্তত ৯৫ জন মানুষ ও ৪৫টি পোষা প্রাণীকে উদ্ধার করেছে। কয়েকটি এলাকায় বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে ৩৫০টির বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টিপটন কাউন্টির একটি প্রবীণদের আবাসন এলাকাতেও সরিয়ে নেওয়ার অভিযান চালানো হয়েছে। ফায়েট কাউন্টিসহ অন্যান্য এলাকায় চলছে উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান কার্যক্রম। দুর্যোগে মৃত্যুর ঘটনাগুলোও বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে। রাজ্য জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ছয়জনের মধ্যে তিনজন নারী, দুইজন পুরুষ এবং চার বছর বয়সী এক শিশু রয়েছে। ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে দুইজন এবং জেনিংস, লেক, পোর্টার ও লাপোর্ট কাউন্টিতে একজন করে মারা গেছেন। প্রবল বৃষ্টি ও বন্যার পাশাপাশি ঝোড়ো বাতাসেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে ঝড়ের সময় ইন্ডিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কয়েক লাখ গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হন। এদিকে ইন্ডিয়ানার গভর্নর মাইক ব্রাউন জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনরুদ্ধারে ফেডারেল সহায়তার জন্য রাজ্যের অনুরোধ অনুমোদনের কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সরকারি সহায়তা পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বন্যার পানিতে গাড়ি না চালানো এবং পানি দ্রুত বাড়তে থাকা এলাকায় না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো বলছে, পানির স্রোত অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় সামান্য গভীর পানিও গাড়ি বা মানুষকে ভাসিয়ে নিতে পারে। তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইন্ডিয়ানায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও বেশ কিছু এলাকায় নদীর পানি ও জলাবদ্ধতা এখনো উদ্বেগের কারণ। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বৈষম্যের অভিযোগের মধ্যেই কলকাতার কাশীপুরের জ্যোতিনগর কলোনিতে নাগরিক সুবিধা নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১৭ দিন ধরে কলোনির প্রায় ৫০০ মুসলিম পরিবার সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সংকটে চরম দুর্ভোগে রয়েছে। কলকাতা সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর জেটিসংলগ্ন এই কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এসব পরিবার। স্থানীয়দের দাবি, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে কলোনিতে সুপেয় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কিছু বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরলেও অনেক ল্যাম্পপোস্টে এখনো বিদ্যুৎ নেই বলে অভিযোগ তাদের। ফলে রাতের বেলায় চলাচলসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। জ্যোতিনগর কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দাই দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। অনেক পরিবার ৫০ থেকে ৬০ বছর, আবার কেউ কেউ প্রায় ৭০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় সেখানে বসবাস করছেন। দীর্ঘদিনের বসবাস সত্ত্বেও মৌলিক নাগরিক সুবিধার জন্য তাদের বারবার কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার এখন কলোনির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা থেকে পানি সংগ্রহ করে রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। তবে নদীতে বিভিন্ন স্থান থেকে দূষিত পানি মেশার কারণে এই পানি ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। কলোনিতে পাঁচটি পানির কল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এসব কলের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে প্রায় ৫০০ মুসলিম পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য কলকাতা সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার কারণে তাদের ওপর ক্ষোভ থেকে এমন বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন তারা। কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির রিতেশ তিওয়ারি নির্বাচিত হওয়ার পর মুসলিমদের ভোট না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, ওই বক্তব্যের পর তাদের আশঙ্কা আরও বেড়েছে যে ভোটের কারণে তাদের এলাকার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। তবে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সঙ্গে বিধায়কের ওই বক্তব্য বা কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশের সরাসরি সম্পর্কের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ সামনে আসেনি। এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, পানি সরবরাহ বন্ধ রাখার পেছনে কলোনি উচ্ছেদের পরিকল্পনাও থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষেও এখনো কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, ১৭ দিন ধরে সুপেয় পানি না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও দিনমজুর পরিবারগুলো। দ্রুত পানি সরবরাহ পুনরায় চালু, বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়া এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দারা। নাগরিক সুবিধা বন্ধের প্রকৃত কারণ কী এবং এর সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—তা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ চলছিল বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের পর সফরের অনুকূল পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছিল। তবে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার পর সফর আয়োজনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। মুখপাত্র জানান, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করবে সরকার। এ ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতি অব্যাহত রাখার কথাও জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের সাবেক সেনাসদস্য জেমস ব্র্যাডফোর্ডকে ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স বা ভিএর কেয়ারগিভার সুবিধা থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে একটি ফেডারেল জুরি। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪৯ বছর বয়সী ব্র্যাডফোর্ড জাংশন সিটির বাসিন্দা। তাকে সরকারের সঙ্গে প্রতারণার ষড়যন্ত্র এবং সরকারি অর্থ, সম্পদ বা নথি চুরির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত ব্র্যাডফোর্ড ও তার কেয়ারগিভার ভিএর প্রোগ্রাম অব কমপ্রিহেনসিভ অ্যাসিস্ট্যান্স ফর ফ্যামিলি কেয়ারগিভার্স কর্মসূচির আওতায় তার প্রয়োজনীয় সেবার মাত্রা নিয়ে মিথ্যা ও প্রতারণামূলক তথ্য দেন। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ভেটেরান ও সাবেক সেনাসদস্যদের দেখাশোনা করা ব্যক্তিদের মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ব্র্যাডফোর্ড ও তার কেয়ারগিভার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন, তিনি নিজের দৈনন্দিন মৌলিক কিছু কাজ নিজে করতে সক্ষম নন। এর মধ্যে ওষুধ ব্যবস্থাপনা, আর্থিক বিষয় গোছানো এবং যাতায়াতের মতো কাজও ছিল। এসব কাজে তার কেয়ারগিভারের সহায়তা প্রয়োজন বলে তারা দাবি করেছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মে মাস থেকে প্রায় ২০২৫ সাল পর্যন্ত ব্র্যাডফোর্ড টোপেকায় জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিএসএ-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বহু মিলিয়ন ডলারের চুক্তি তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে তার এই চাকরি এবং কেয়ারগিভার সুবিধা পাওয়ার জন্য দেওয়া তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মামলাটি তদন্ত করেছে ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্সের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এবং জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মহাপরিদর্শকের কার্যালয়। মার্কিন বিচার বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি সারা ওয়ালটন ও লিন্ডসি ডেবেনহাম মামলাটি পরিচালনা করছেন। ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্সের তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেগরি বিলিংসলি বলেন, ভেটেরানদের জন্য নির্ধারিত সুবিধা যাতে প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিক লাভের জন্য ব্যবহার না করা হয়, তা নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকার। জিএসএর মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা জর্জ রিচার্ডসনও বলেন, ভেটেরানদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার জন্য তৈরি কর্মসূচিতে প্রতারণা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ অব্যাহত থাকবে। ব্র্যাডফোর্ডের সাজা ঘোষণার তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলবে।
মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে নাবিকদের খাবারের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সামরিক গবেষক ও লেখক সেথ হার্প সামাজিক মাধ্যমে নাবিকদের পাঠানো কয়েকটি খাবারের ছবি প্রকাশ করার পর এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রকাশিত ছবিগুলোতে পরিবেশন করা খাবারের পরিমাণ ও উপস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ দেখা যায়। তবে ছবির ভিত্তিতে খাবারের পুষ্টিমান বা সামগ্রিক খাদ্যব্যবস্থার মান নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে। রণতরীটি দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন দীর্ঘ মেয়াদে মোতায়েন থাকার সময় নাবিকদের কাজের চাপ, সরবরাহ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মতো বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন করে জর্জ ওয়াশিংটনের খাবারের ছবি সামনে আসায় মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের প্রস্তুতি ও রসদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সামরিক গবেষক সেথ হার্প তাঁর পোস্টে খাবারের ছবিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের আকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ রাজনৈতিক মন্তব্য ও মতামত; এগুলোকে সরাসরি প্রমাণিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর রসদ ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন এসেছে। ইরানের হামলার পর বাহরাইনে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের কিছু অংশ ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দিয়েগো গার্সিয়া ভারত মহাসাগরের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপ। মূল ভূখণ্ড থেকে এর দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় সেখানে খাবার, জ্বালানি, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা তুলনামূলক জটিল। এর মধ্যেই ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে নতুন করে দীর্ঘ দূরত্বে মোতায়েন করা হচ্ছে। ফলে রণতরীটির নাবিকদের জন্য খাবার ও অন্যান্য সরবরাহ কতটা নিয়মিত রাখা সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়ে নজর বাড়ছে। তবে খাবারের কয়েকটি ছবি থেকেই পুরো জাহাজের খাদ্য বা সরবরাহ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া সামগ্রিক সংকটের মাত্রা নিশ্চিত করাও কঠিন। ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের নতুন দায়িত্ব এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েন—দুই ঘটনাই এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্য ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর একসঙ্গে একাধিক কৌশলগত চাপ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক সনদের আবেদন শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন মুদ্রা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় বা ওসিসি প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক সনদের আবেদনে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকিং কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি স্টেবলকয়েন নিয়েও কাজ করছে। স্টেবলকয়েন হলো এমন এক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি, যার মূল্য সাধারণত কোনো প্রচলিত মুদ্রা বা নির্দিষ্ট সম্পদের সঙ্গে যুক্ত রাখা হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের প্রধান প্রশ্ন, দেশটির প্রেসিডেন্টের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন সিদ্ধান্তটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রমে যাওয়ার সুযোগ প্রেসিডেন্টের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে ওয়ারেনের বক্তব্যের পাশাপাশি এটিও গুরুত্বপূর্ণ যে, কোনো ব্যাংক সনদ অনুমোদন পাওয়ার অর্থ প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছামতো অর্থ গ্রহণ বা স্থানান্তর করতে পারবে—এমন নয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্থপাচার প্রতিরোধ, গ্রাহক যাচাই এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও নিয়ন্ত্রণ প্রযোজ্য থাকে। সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, প্রেসিডেন্টের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ প্রবাহ হলে সেটি রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বার্থের সংঘাতের নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ ঘুষ গ্রহণ বা অর্থপাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণিত তথ্য বর্তমানে প্রকাশ্যে নেই। ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা এর আগেও রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছে। নতুন ব্যাংক সনদের অনুমোদনের ফলে সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। এখন নজর থাকবে, শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনের পর প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কার্যক্রম শুরু করে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কীভাবে এর আর্থিক লেনদেন ও সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত তদারকি করে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি স্পেসএক্সে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার জমা দেওয়া নিয়ন্ত্রক নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ডের নথিতে দেখানো ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন শেয়ার পোর্টফোলিওর মধ্যে স্পেসএক্সই সবচেয়ে বড় একক শেয়ারধারণ। তবে এই হিসাবের মধ্যে সরাসরি মালিকানাধীন শেয়ারের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে পাওয়া শেয়ারও থাকতে পারে। স্পেসএক্সের জুনে হওয়া রেকর্ড আইপিওর পর বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের মূল্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এক দশকেরও বেশি আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্পেসএক্সে বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছিল। কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে প্রবেশের পর সেই পুরোনো বিনিয়োগগুলোর মূল্য দ্রুত বেড়েছে। হার্ভার্ড একা নয়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিনিয়োগ সংস্থাও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের স্পেসএক্স শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসেরও স্পেসএক্সে বিনিয়োগ রয়েছে বলে বিভিন্ন নথিতে উঠে এসেছে। হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে হার্ভার্ডের মোট এনডাওমেন্টের মূল্য ছিল প্রায় ৫৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এই তহবিলের বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশও ছিল নজিরবিহীন। জুনের আইপিওতে কোম্পানিটি প্রতি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করে। এর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্পেসএক্সে বড় বিনিয়োগ করে লাভবান হয়েছে আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানও। এর মধ্যে রয়েছে অ্যালফাবেট। ২০১৫ সালে অ্যালফাবেটের ৯০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এক দশক পর প্রায় ৯৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারে পরিণত হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। স্পেসএক্সের বর্তমান বাজারমূল্য নিয়ে অবশ্য বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোম্পানিটির মহাকাশযান উৎক্ষেপণ ব্যবসা, স্টারলিংক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। আবার এত উচ্চ মূল্যায়নের কারণে ঝুঁকির কথাও বলছেন কিছু বিশ্লেষক। হার্ভার্ডের স্পেসএক্স বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সম্ভাব্য সুফলও সামনে এসেছে। স্পেসএক্সের মূল্যায়ন দ্রুত বাড়ার ফলে শুধু ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী নয়, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এনডাওমেন্টও বড় অঙ্কের সম্পদের মালিক হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা রুবি ম্যাকনালি তাঁর ১০০তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন একেবারেই ব্যতিক্রমীভাবে—আকাশ থেকে ঝাঁপ দিয়ে। বৃহস্পতিবার ডেভিস শহরের স্কাইড্যান্স স্কাইডাইভিংয়ে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে স্কাইডাইভিং করেন শতবর্ষী এই নারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিবারের ছয় সদস্য ও বন্ধু। রুবি ম্যাকনালির স্কাইডাইভিংয়ের শুরু ৮০তম জন্মদিনে। সেবার তাঁর নাতি মজা করে তাকে স্কাইডাইভিং করার চ্যালেঞ্জ দেন। তিনি রাজি হয়ে গেলেও ভাবেননি, নাতি সত্যিই সেই প্রতিশ্রুতি মনে রাখবে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার পর আর থামেননি রুবি। ৯০তম জন্মদিনে তিনি আবারও আকাশ থেকে ঝাঁপ দেন এবং তখনই প্রতিশ্রুতি দেন, ১০০ বছর বয়সেও একই কাজ করবেন। তাঁর মেয়ে শ্যারন ম্যাকনালির ভাষায়, শতবর্ষী রুবিকে কোনো সিদ্ধান্ত থেকে ফেরানো সহজ নয়। এবারও পরিবারের সদস্যদের পক্ষে তাঁকে এই পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি। বয়স নিয়ে ভয় বা ঝুঁকি সম্পর্কে রুবির নিজেরও খুব বেশি দুশ্চিন্তা নেই। তাঁর মতে, কোনো কিছু করার আগে অতিরিক্ত চিন্তা করতে থাকলে শেষ পর্যন্ত সেটি করার সাহসই হারিয়ে যেতে পারে। ১০০ বছর বয়সী দাদির সঙ্গে স্কাইডাইভিংয়ের এই অভিজ্ঞতা পরিবারের তরুণ সদস্যদের কাছেও ছিল বিশেষ কিছু। রুবির কয়েকজন নাতি-নাতনিও এবার তাঁর সঙ্গে আকাশ থেকে ঝাঁপ দেন। নাতনি এপ্রিল বারটক বলেন, ১০০ বছর বয়সী দাদির সঙ্গে স্কাইডাইভিং করার অভিজ্ঞতা পৃথিবীতে খুব বেশি মানুষের নেই। পরিবারের জন্য এটি সত্যিই বিশেষ একটি মুহূর্ত। রুবি ম্যাকনালি এখন চান, তাঁর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মও এই ঐতিহ্য ধরে রাখুক। এমনকি পরবর্তী লাফের জন্য আর ১০ বছর অপেক্ষা না করে প্রতি বছরই পরিবারের সবাই মিলে স্কাইডাইভিং করার প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁর নাতনি। আর ১১০ বছর বয়সে আবারও আকাশ থেকে ঝাঁপ দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রুবির উত্তর, তিনি সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন।