ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ উপসাগরীয় মিত্ররা, মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে খুঁজছে বিকল্প নিরাপত্তা বলয়
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘায়িত যুদ্ধ এখন শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতেই সীমাবদ্ধ নেই; এর ধাক্কা পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরব মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কেও। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ও কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে হতাশা বাড়ছে। এমনকি নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রাখার বিনিময়ে তারা আদৌ প্রত্যাশিত নিরাপত্তা পাচ্ছে কি না—সেই প্রশ্নও এখন উঠছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে কথা বলা আরব ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এই অসন্তোষের গভীরতা উঠে এসেছে। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসনের বারবার অবস্থান পরিবর্তন এবং ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থতা উপসাগরীয় দেশগুলোকে এমন এক যুদ্ধের মূল্য দিতে বাধ্য করছে, যেটি তারা শুরু করেনি এবং দীর্ঘায়িত হোক সেটিও তারা চায় না।
একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন, আর মূল্য দিচ্ছি আমরা।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ওয়াশিংটনের প্রতি ক্ষোভ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মিত্র হয়েও যুদ্ধের মূল্য কেন দিচ্ছে উপসাগর?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক রূপ নেয়। ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাব পড়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদারত্ব থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেদের ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়।
সমস্যার একটি বড় অংশ মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ঘিরে। উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলটির নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কিন্তু ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর এই ঘাঁটিগুলোই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে—এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে। উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের একটি অংশ এখন প্রশ্ন তুলছেন, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণে তাদের নিরাপত্তা বাড়ছে, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধে তাদের দেশও স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।
ট্রাম্পের বদলে যাওয়া অবস্থানেও বিরক্তি
উপসাগরীয় মিত্রদের আরেকটি বড় উদ্বেগ ট্রাম্পের ইরাননীতি কতটা অনুমানযোগ্য, তা নিয়ে।চলমান সংঘাতে ট্রাম্প কখনো সামরিক চাপ বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো দ্রুত শান্তিচুক্তির সম্ভাবনার কথা বলেছেন। যুদ্ধ বন্ধের জন্য বিভিন্ন সময়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি উদ্যোগ নিয়েও উপসাগরীয় মিত্রদের উদ্বেগ ছিল—বিশেষ করে এমন কোনো সমঝোতা যাতে তেহরান আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারে।
অর্থাৎ উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থানও একমাত্রিক নয়। তারা একদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ককে নিরাপত্তা হুমকি মনে করে; অন্যদিকে এমন দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধও চায় না, যার আঘাত তাদের শহর, বন্দর, তেল স্থাপনা এবং অর্থনীতির ওপর এসে পড়ে।এই দ্বৈত সংকটই এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।
নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ঝুঁকির উৎসও কি যুক্তরাষ্ট্র?
দশকের পর দশক ধরে উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিনিময়ে ওয়াশিংটন পেয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, কৌশলগত অবস্থান এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি।কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ সেই পুরোনো সমীকরণেই প্রশ্ন তুলেছে।
মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যদি ইরানের হামলা ঠেকাতে না পারে, বরং সেই উপস্থিতিই ইরানের কাছে কোনো উপসাগরীয় দেশকে বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরে—তাহলে সেই ঘাঁটির কৌশলগত মূল্য নতুন করে হিসাব করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কিছু আঞ্চলিক কর্মকর্তা। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত কিছু উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রাখার সুবিধা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
সৌদি আরব খুঁজছে বিকল্প নিরাপত্তা বলয়
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ সৌদি আরব। যুদ্ধটি নিজেদের শুরু করা নয়—এমন একটি সংঘাতে ক্রমেই টেনে নেওয়া হচ্ছে বলে রিয়াদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যেই সৌদি আরব আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব শক্তিশালী করার দিকে এগিয়েছে।
তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো, পাশাপাশি লোহিত সাগরে বহুপক্ষীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা—এসব পদক্ষেপকে শুধু তাৎক্ষণিক যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নিরাপত্তা নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সৌদি আরব বা অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছে—এমন নয়। তাদের সামরিক অবকাঠামো, অস্ত্রব্যবস্থা, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, তারা একই সঙ্গে বিকল্প নিরাপত্তা অংশীদারও তৈরি করতে চাইছে।
হরমুজ সংকট বাড়িয়েছে চাপ!
ইরান যুদ্ধের আরেকটি বড় ধাক্কা এসেছে হরমুজ প্রণালিতে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ ছিল এই সরু নৌপথ। যুদ্ধের পর সেখানে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প রুট ও অবকাঠামো ব্যবহার করে হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করলেও ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলা সেই বিকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে এখন কঠিন সমীকরণ—ইরানকে অতিরিক্ত শক্তিশালী হতে দেওয়া যাবে না, আবার এমন যুদ্ধও চলতে দেওয়া যাবে না যা তাদের অর্থনীতি ও জ্বালানি অবকাঠামোকে ক্রমাগত ঝুঁকির মধ্যে রাখে।
পুরোনো সম্পর্ক কি নতুন দিকে যাচ্ছে?
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমান অসন্তোষ শুধু ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনৈতিক ধরন নিয়ে নয়। এর কেন্দ্রে রয়েছে আরও বড় একটি প্রশ্ন—ভবিষ্যতে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার প্রধান নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা নির্ভরযোগ্য মনে করা যাবে।
একসময় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ ছিল তুলনামূলকভাবে সহজ—মার্কিন সামরিক শক্তির উপস্থিতির বিনিময়ে উপসাগরীয় মিত্ররা পেত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ সেই হিসাব বদলে দিয়েছে।
এখন সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখছে, তেহরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের পথ খুঁজছে এবং তুরস্ক-পাকিস্তানসহ অন্য শক্তির সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তৈরি করছে।
তাই বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক ফল শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে নির্ধারিত নাও হতে পারে। বরং সেটি নির্ধারিত হতে পারে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর—যখন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন হিসাব করবে, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তারা ভবিষ্যতে কতটা ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করবে।
কারণ উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে যদি সত্যিই এই ধারণা স্থায়ী হয় যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি তাদের সুরক্ষার পাশাপাশি সংঘাতের লক্ষ্যবস্তুতেও পরিণত করছে, তাহলে কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে গড়ে ওঠা মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য সেটিই হতে পারে ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত ধাক্কা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি অবশেষে ফেডারেল সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেয়েছেন। গত বুধবার ব্রুকলিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাবে তিনি নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, "হ্যাঁ, আমার সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স আছে।" কাকতালীয়ভাবে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গ্রেসি ম্যানশনে এক অন্তরঙ্গ বৈঠকের মাত্র এক সপ্তাহ পরই এই ছাড়পত্র পেলেন তিনি। তবে ঠিক কবে বা কখন তিনি এই অনুমোদন পেয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি মেয়র। এই শীর্ষ নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার ফলে এখন থেকে মেয়র মামদানি নিউইয়র্ক সিটির সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হুমকি এবং অন্যান্য অতি-গোপনীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর আট মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় সম্প্রতি গণমাধ্যমে বেশ সমালোচনা হচ্ছিল। কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে মেয়র দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। গত ২১ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনে মেয়রের বাসভবনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে মামদানির সাথে সাক্ষাৎ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। উভয় নেতাই জানিয়েছিলেন, তাদের ওই সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনায় মূলত নিউইয়র্ক এবং সম্ভাব্য আবাসন প্রকল্প নিয়েই কথা হয়েছে। এর পরপরই ছাড়পত্র পাওয়ার খবরটি সামনে আসে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৩৪ বছর বয়সী সাবেক এই স্টেট অ্যাসেম্বলি মেম্বারের সরকারি পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায়, তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেতে এই কয়েক মাস বিলম্ব হওয়াটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। তবে নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে নিরাপত্তা ব্রিফিং থেকে বঞ্চিত থাকার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস ঐতিহাসিক ফেডারেল অভিযোগের মুখে পড়ার পর তার ক্লিয়ারেন্স বাতিল করা হয়েছিল, যদিও গত বছর ট্রাম্পের বিচার বিভাগ সেই অভিযোগ খারিজ করে দেয়। অন্যদিকে, মামদানির প্রিয় সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাজিও দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় নয় মাস পর এই ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন, যখন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায় যে তিনি আবেদনপত্রই পূরণ করেননি। শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব গ্রহণের দেড় বছরেরও বেশি সময় পর ব্লাজিও তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র হাতে পেয়েছিলেন।
পকেটে থাকা ১৯৪৩ সালের পেনি বদলে দিতে পারে ভাগ্য, দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে পদোন্নতি পেলেন একাধিক বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা
মা-বাবাকে আমেরিকায় আনতে চান? জানুন আইআর-৫ ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মারা গেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ শুভানন সাহিদ। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ২টা ৭ মিনিটে পেনসিলভানিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৩১ বছর। শুভানন সাহিদ ফিলাডেলফিয়ার বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ ডক্টর মোহাম্মাদ শহিদুল্লাহ এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সংগঠক ও BADV-এর সাধারণ সম্পাদক সাহিদা আফরোজ নিপুর বড় ছেলে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার, স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন শুভানন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি জীবনযুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩১ বছর বয়সেই থেমে গেল তাঁর জীবনপথ। শুভাননের অকালমৃত্যুতে ফিলাডেলফিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তাঁকে কাছ থেকে চিনতেন এমন অনেকেই তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পরিবারের জন্য এই মৃত্যু তৈরি করেছে অপূরণীয় শূন্যতা। যে বয়সে একজন তরুণের সামনে ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা স্বপ্ন ও সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা, সেই সময়েই কঠিন রোগের কাছে হার মানতে হলো শুভাননকে। তাঁর দীর্ঘ লড়াই ও অকালপ্রয়াণ স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর বেদনা তৈরি করেছে। পরিবার, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে শুভাননের স্মৃতি দীর্ঘদিন অমলিন থাকবে। তাঁর চলে যাওয়ায় তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। মরহুম শুভানন সাহিদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে আমেরিকা বাংলা পরিবার। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত বাবা-মা, পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন। আমিন। মরহুম শুভানন সাহিদের নামাজে জানাজার সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
সবচেয়ে ছোট ডায়পার! অপরিণত নবজাতকদের এই ডায়াপারের নাম ‘লিটল ফাইটার্স’
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি
আমেরিকায় ওষুধ নিয়ে যাচ্ছেন? কাস্টমসে যাওয়ার আগে জানুন ৯০ দিনের নিয়ম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এই প্রযুক্তি কোনো এলাকায় গ্রাহকরা একটি খাবারের জন্য কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, সেই তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রেস্টুরেন্টের জন্য দামের সুপারিশ দিচ্ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাকডোনাল্ডসের এই প্রাইসিং ইঞ্জিন প্রতিদিনের লাখ লাখ লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রেস্টুরেন্ট ও মেনু আইটেমের জন্য একটি ‘সেরা’ বা উপযুক্ত দাম নির্ধারণের সুপারিশ তৈরি করে। এর মধ্যে গ্রাহকদের অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা ও আগ্রহ, স্থানীয় বাজার এবং আশপাশের প্রতিদ্বন্দ্বী রেস্টুরেন্টের দামও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর ফলে একই খাবারের দাম কাছাকাছি দুটি রেস্টুরেন্টেও আলাদা হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে রয়টার্সের যাচাইয়ে দেখা গেছে, একটি ম্যাকডোনাল্ডসের অ্যাপে বিগ ম্যাকের দাম ছিল ৫ দশমিক ৬৯ ডলার। মাত্র দুই মাইল দূরের আরেকটি রেস্টুরেন্টে একই বার্গারের দাম ছিল ৬ দশমিক ৮৯ ডলার। তবে ওই নির্দিষ্ট দামের পার্থ্যকটি এআইয়ের সুপারিশের কারণেই হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। ম্যাকডোনাল্ডস বলছে, এআই কোনো খাবারের চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করে না। প্রাইসিং টুল মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য সুপারিশ দেয় এবং শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদেরই। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এটি কোনো বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নয়; বরং রেস্টুরেন্ট মালিকদের তথ্যভিত্তিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি প্রযুক্তি। তবে রয়টার্সকে পাঁচজন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক জানিয়েছেন, তারা এসব এআইভিত্তিক প্রাইসিং টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোম্পানির চাপ অনুভব করেছেন। কোম্পানির নথিতে এমন ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে, যেখানে সুপারিশ করা দামের সঙ্গে কোনো রেস্টুরেন্টের প্রকৃত দামের পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা আইন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ম্যাকডোনাল্ডসের প্রাইসিং পোর্টালের আইনি শর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে যে তারা একে অপরের প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ফলে একই প্রযুক্তির মাধ্যমে দামের বিষয়ে সমন্বয় হলে অ্যান্টিট্রাস্ট বা প্রতিযোগিতা আইনের বিষয় সামনে আসতে পারে। এদিকে বিগ ম্যাকের দাম ১৮ ডলার পর্যন্ত ওঠার একটি ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। কানেকটিকাটের এক ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের মামলায় দাবি করা হয়, ২০২৩ সালে প্রাইসিং টুল তার রেস্টুরেন্টে বিগ ম্যাক মিলের দাম প্রায় ১৮ ডলার রাখার পরামর্শ দিয়েছিল। ম্যাকডোনাল্ডস ওই মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ম্যাকডোনাল্ডসের দাবি, তাদের লক্ষ্য শুধু দাম বাড়ানো নয়। বরং মূল্যস্ফীতির সময়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে তুলনামূলক কম দামের খাবার ও অফার চালুর বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটি ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নির্দেশনা দিচ্ছে। তবে বাড়তে থাকা শ্রম, ভাড়া ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের কারণে কিছু রেস্টুরেন্ট মালিক এসব দামের সুপারিশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এআইভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য একটি প্রশ্নও সামনে এসেছে—একই খাবারের দাম কাছাকাছি দুটি রেস্টুরেন্টে কেন এতটা আলাদা হবে? ম্যাকডোনাল্ডস বলছে, চূড়ান্ত দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত এখনো ফ্র্যাঞ্চাইজিদের হাতেই রয়েছে।
পকেটের নোটেই লুকিয়ে থাকতে পারে হাজার ডলার, দেখে নিন সিরিয়াল নম্বর
ডালাসে নিখোঁজের পর বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলীর মৃ ত দে হ উদ্ধার