সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
১০০তম জন্মদিন উদযাপনে নাতির সাথে আকাশ থেকে ঝাঁপ দাদির
১০০তম জন্মদিন উদযাপনে নাতির সাথে আকাশ থেকে ঝাঁপ দাদির

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা রুবি ম্যাকনালি তাঁর ১০০তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন একেবারেই ব্যতিক্রমীভাবে—আকাশ থেকে ঝাঁপ দিয়ে।   বৃহস্পতিবার ডেভিস শহরের স্কাইড্যান্স স্কাইডাইভিংয়ে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে স্কাইডাইভিং করেন শতবর্ষী এই নারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিবারের ছয় সদস্য ও বন্ধু।   রুবি ম্যাকনালির স্কাইডাইভিংয়ের শুরু ৮০তম জন্মদিনে। সেবার তাঁর নাতি মজা করে তাকে স্কাইডাইভিং করার চ্যালেঞ্জ দেন। তিনি রাজি হয়ে গেলেও ভাবেননি, নাতি সত্যিই সেই প্রতিশ্রুতি মনে রাখবে।   কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার পর আর থামেননি রুবি। ৯০তম জন্মদিনে তিনি আবারও আকাশ থেকে ঝাঁপ দেন এবং তখনই প্রতিশ্রুতি দেন, ১০০ বছর বয়সেও একই কাজ করবেন।   তাঁর মেয়ে শ্যারন ম্যাকনালির ভাষায়, শতবর্ষী রুবিকে কোনো সিদ্ধান্ত থেকে ফেরানো সহজ নয়। এবারও পরিবারের সদস্যদের পক্ষে তাঁকে এই পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি।   বয়স নিয়ে ভয় বা ঝুঁকি সম্পর্কে রুবির নিজেরও খুব বেশি দুশ্চিন্তা নেই। তাঁর মতে, কোনো কিছু করার আগে অতিরিক্ত চিন্তা করতে থাকলে শেষ পর্যন্ত সেটি করার সাহসই হারিয়ে যেতে পারে।   ১০০ বছর বয়সী দাদির সঙ্গে স্কাইডাইভিংয়ের এই অভিজ্ঞতা পরিবারের তরুণ সদস্যদের কাছেও ছিল বিশেষ কিছু। রুবির কয়েকজন নাতি-নাতনিও এবার তাঁর সঙ্গে আকাশ থেকে ঝাঁপ দেন।   নাতনি এপ্রিল বারটক বলেন, ১০০ বছর বয়সী দাদির সঙ্গে স্কাইডাইভিং করার অভিজ্ঞতা পৃথিবীতে খুব বেশি মানুষের নেই। পরিবারের জন্য এটি সত্যিই বিশেষ একটি মুহূর্ত।   রুবি ম্যাকনালি এখন চান, তাঁর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মও এই ঐতিহ্য ধরে রাখুক। এমনকি পরবর্তী লাফের জন্য আর ১০ বছর অপেক্ষা না করে প্রতি বছরই পরিবারের সবাই মিলে স্কাইডাইভিং করার প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁর নাতনি।   আর ১১০ বছর বয়সে আবারও আকাশ থেকে ঝাঁপ দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রুবির উত্তর, তিনি সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২:৩৮
প্রেমের বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে প্রেমিকাসহ ৪ জনকে হত্যা
প্রেমের বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে প্রেমিকাসহ ৪ জনকে হত্যা, বাড়িতে আগুন ২১ বছরের যুবকের

২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ল্যাঙ্কাস্টারে একটি বাড়িতে চারজনকে হত্যার পর আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ২১ বছর বয়সী মিগুয়েল দিয়েগো স্যান্ডোভাল চারটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ২১ বছর বয়সী জানভি মাকুইনদাং, ২৫ বছর বয়সী ক্রিস্টিন আকা-আক, ২৪ বছর বয়সী এডউইন গার্সিয়া এবং ২১ বছর বয়সী ম্যাথিউ মন্টেবেলো।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, স্যান্ডোভাল নর্থ ট্যাবলার অ্যাভিনিউয়ের ওই বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। ভেতরের বাসিন্দারা ঘুমিয়ে পড়ার পর তিনি বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং চারজনকে গুলি করে হত্যা করেন।   এরপর বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেন স্যান্ডোভাল। আগুনে পরিবারের তিনটি কুকুরও মারা যায়। একই সময়ে বাড়ির ভেতরে থাকা দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক আটকা পড়ে। তাদের একজন ১৬ বছর বয়সী কিশোর তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে জরুরি নম্বরে ফোন করলে পরে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির শেরিফের ডেপুটিরা তাকে উদ্ধার করেন।   চারটি হত্যার পাশাপাশি স্যান্ডোভাল একটি হত্যাচেষ্টা, বসতবাড়িতে প্রথম-ডিগ্রির চুরি, বসবাসরত স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার তিনটি অভিযোগ এবং শিশু নির্যাতনের দুটি অভিযোগেও দোষ স্বীকার করেছেন।   হত্যার অভিযোগগুলোর সঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার বিশেষ পরিস্থিতি এবং ওত পেতে থেকে হত্যার অভিযোগও যুক্ত রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে মামলাটি আরও গুরুতর মাত্রা পেয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি নাথান জে. হকম্যান বলেন, সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর প্রতিশোধ নিতে স্যান্ডোভাল এই ‘পরিকল্পিত সহিংসতা’ চালিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ড নিহতদের পরিবারগুলোর জন্য এমন এক শূন্যতা তৈরি করেছে, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।   দোষ স্বীকারের ফলে স্যান্ডোভালের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পথে রয়েছে। আদালতের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৭ নভেম্বর তাঁর আনুষ্ঠানিক সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা।   মামলার নথি ও তদন্তসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে স্যান্ডোভালের গতিবিধি এবং তদন্তকারীরা কীভাবে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন, তার সব বিস্তারিত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   ২০২৪ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের হোমিসাইড ব্যুরো, জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে। দোষ স্বীকারের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া এখন সাজা ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২:২৭
স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে চাকরি ছাড়তে পারছেন না
স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে চাকরি ছাড়তে পারছেন না ২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ কর্মী এমন চাকরিতে থেকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যেটি তারা আর করতে চান না। কারণ চাকরি ছাড়লে হারাতে পারেন স্বাস্থ্যবিমা। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, নিয়োগদাতার দেওয়া স্বাস্থ্যবিমার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২৪ শতাংশ কর্মী এই পরিস্থিতিতে রয়েছেন। সংখ্যার হিসাবে যা প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ।   ওয়েস্ট হেলথ–গ্যালাপ সেন্টার অন হেলথকেয়ার ইন আমেরিকা-এর গবেষণায় এই প্রবণতাকে ‘জব লক’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিমা হারানোর আশঙ্কায় কর্মীরা কাঙ্ক্ষিত চাকরি ছাড়তে বা নতুন চাকরিতে যেতে পারছেন না। ২০২১ সালের তুলনায় এ ধরনের কর্মীর হার ৮ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।   গবেষণাটি ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৬০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নিয়োগদাতার দেওয়া স্বাস্থ্যবিমাকে প্রধান স্বাস্থ্যসুরক্ষা হিসেবে ব্যবহার করা ২ হাজার ৩২২ জন কর্মীর তথ্য আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।   স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। জরিপে প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা ওষুধের খরচ নিয়মিতভাবে বহন করতে তাদের সমস্যা হয়। একই সঙ্গে ৫১ শতাংশ মানুষ আগামী ১২ মাসে স্বাস্থ্যসেবার খরচ বহন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ হার।   চিকিৎসা-সংক্রান্ত ঋণে থাকা কর্মীদের মধ্যে ‘জব লক’-এর হার আরও বেশি। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক চিকিৎসা ঋণ রয়েছে এমন কর্মীদের ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার জন্য তারা এমন চাকরিতে থেকে যাচ্ছেন, যেটি তারা ছাড়তে চান। চিকিৎসা ঋণ নেই এমন কর্মীদের ক্ষেত্রে এই হার ২১ শতাংশ।   স্বাস্থ্য ব্যয়কে বড় ধরনের আর্থিক বোঝা মনে করেন এমন কর্মীদের মধ্যেও প্রায় ৪৮ শতাংশ চাকরি ছাড়তে পারছেন না স্বাস্থ্যবিমার কারণে। আর যাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যসেবার খরচ নিয়ে তীব্র মানসিক চাপ রয়েছে, তাদের মধ্যে এই হার ৫৩ শতাংশ।   নারীদের মধ্যেও এই প্রবণতা পুরুষদের তুলনায় বেশি। জরিপে ৩০ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার জন্য তারা কাঙ্ক্ষিত চাকরি ছাড়ছেন না। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ২০ শতাংশ।   দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। এক বা একাধিক দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কর্মীদের ২৯ শতাংশ স্বাস্থ্যবিমার কারণে চাকরি ছাড়তে পারছেন না। এমন কোনো রোগ নেই—এমন কর্মীদের মধ্যে এই হার ১৭ শতাংশ। তিন বা তার বেশি দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে হার বেড়ে ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে।   গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা অনেক ক্ষেত্রে চাকরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় এর প্রভাব শুধু চিকিৎসা পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। চাকরি পরিবর্তন, বেতন বৃদ্ধি, পেশাগত উন্নতি এমনকি নতুন ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্তেও স্বাস্থ্যবিমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে এখন এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে কেউ কেউ পছন্দের চাকরি ছেড়ে ভালো সুযোগ নেওয়ার বদলে বর্তমান চাকরিটিই ধরে রাখছেন—শুধু স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ঝুঁকি এড়াতে। আর স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় যত বাড়ছে, এই ‘জব লক’ প্রবণতাও তত বেশি কর্মীর পেশাগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২:১৩
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫১
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫১, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার মানুষ

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। ভূমিকম্পের পর শত শত আফটারশক, ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।    শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইন্দোনেশিয়ার ভূকম্পন ও আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নাজেওকেও এলাকার কাছে সমুদ্রের নিচে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার।    ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪১টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এসব কম্পনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং অনেক মানুষ বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।   সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সিক্কা, নাজেওকেও, মাঙ্গারাই ও পূর্ব মাঙ্গারাই। সিক্কা অঞ্চলে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র, ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করছেন।    ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপাসনালয় ও সরকারি স্থাপনাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।    ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। পরে পর্যবেক্ষণে বড় ধরনের সুনামির ঝুঁকি না থাকায় সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কিছু এলাকায় ছোট আকারের সমুদ্রের ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছিল।    উদ্ধারকাজেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূমিধস। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাটি ও পাথরে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বেগ পেতে হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।   ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে হাজার হাজার সামরিক ও পুলিশ সদস্যকে যুক্ত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ধ্বংসাবশেষ সরানো, আটকে পড়াদের উদ্ধারের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।   বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ফাটল ধরা ভবনে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আফটারশক অব্যাহত থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এর আগেও দেশটিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। ২০২২ সালের পশ্চিম জাভার ভূমিকম্পে তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিল।   বর্তমান ভূমিকম্পকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ এখনো চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২:১
চেনির তত্ত্বাবধানে ইউএফও থেকে উদ্ধার ‘এলিয়েন’ আটকের দাবি গ্রুশের
চেনির তত্ত্বাবধানে ইউএফও থেকে উদ্ধার ‘এলিয়েন’ আটকের দাবি গ্রুশের

সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির তত্ত্বাবধানে বিধ্বস্ত ইউএফও থেকে উদ্ধার করা জীবন্ত ‘এলিয়েন’ আটকে রাখার একটি ঘটনা পরিচালিত হয়েছিল—এমন দাবি করেছেন ইউএফও-বিষয়ক হুইসেলব্লোয়ার ডেভিড গ্রুশ।   বৃহস্পতিবার ‘দ্য ড. ফিল পডকাস্টে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা কর্মকর্তা গ্রুশ দাবি করেন, তিনি এমন কয়েকজন ব্যক্তিকে চেনেন, যারা কথিত এলিয়েনদের আটকে রাখার ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন।   গ্রুশ বলেন, তিনি সাবেক এক মন্ত্রিসভা সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন, যিনি একজন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের হয়ে এই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কাজ করতেন। ওই ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিচয় বোঝাতে তিনি ‘ডার্থ ভেডার’ নামটি ব্যবহার করেন। ডিক চেনি জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তাঁর সমালোচকেরা প্রায়ই এই নামে অভিহিত করতেন।   গ্রুশের দাবি, কথিত এলিয়েন ও মানুষের মধ্যে একধরনের চেতনা-নির্ভর যোগাযোগ হয়েছিল। প্রচলিত ভাষায় যাকে টেলিপ্যাথি বলা হয়, সেই ধরনের যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে কীভাবে এই যোগাযোগ সম্ভব হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি নিজেও নিশ্চিত নন বলে জানান।   এর আগে ২০২৩ সালে মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে গ্রুশ দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউএফও থেকে উদ্ধার করা ধ্বংসাবশেষ রয়েছে এবং এগুলো নিয়ে গোপন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।   নতুন সাক্ষাৎকারে গ্রুশ আরও দাবি করেন, মার্কিন সরকারের কাছে ২৫ থেকে ১০০টি পর্যন্ত ইউএফও থাকতে পারে। এসব ইউএফও থেকে ‘পাইলট’ উদ্ধারের বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন।   তবে জীবন্ত এলিয়েন উদ্ধার, তাদের আটকে রাখা কিংবা মানুষের সঙ্গে কথিত টেলিপ্যাথিক যোগাযোগের দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে গ্রুশের বক্তব্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে নয়, তাঁর করা দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   ডিক চেনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ৮৪ বছর বয়সে মারা যান।   গ্রুশের নতুন বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের কথিত গোপন ইউএফও কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তবে এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণে আরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও সরকারি নথি প্রকাশের বিষয়টিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১:৫৪
চীনা পর্যটক কমলেও জাপানের পর্যটন খাত হারায়নি গতি
তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা, চীনা পর্যটক কমলেও জাপানের পর্যটন খাত হারায়নি গতি

জাপানের প্রাণবন্ত প্রাণকেন্দ্র টোকিওর পথঘাট, ঐতিহাসিক মন্দির থেকে শুরু করে ফুকুওকার লালচে দার্জিলিং-এর মতো সুপ্রসিদ্ধ দাজাইফু টেনমাঙ্গু মন্দির—সব জায়গায় এই গ্রীষ্মে পর্যটকদের পদচারণা যেমন আগের মতোই চোখে পড়ার মতো, তেমনি বদলে গেছে তাদের জাতিগত পরিচয়।   চীন-জাপান সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের জের ধরে চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনা পর্যটকের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৫৬.৪ শতাংশ। কিন্তু সেই শূন্যস্থান কি পূরণ হচ্ছে? জাপানের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাব বলছে, হ্যাঁ—যদিও পথটা সহজ ছিল না।   গত বছর সংসদে তাইওয়ান ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী সানে তাইচির বিতর্কিত মন্তব্যের পর থেকেই চীনা পর্যটকদের আগমন থমকে যায়। পিকিং-এর তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং নিজেদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করার পরামর্শ বাস্তবে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু জাপানের পর্যটন খাত যেন হার মানেনি। বরং, দুর্বল ইয়েনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপ-আমেরিকা থেকে আসা পর্যটকেরা চীনের ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছেন। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট বিদেশি পর্যটক এসেছেন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার, যা গত বছরের রেকর্ড-সংলগ্ন সময়ের তুলনায় মাত্র ২ শতাংশ কম।   আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, পর্যটকের সংখ্যা কমলেও তাদের খরচের পরিমাণ বেড়েছে। আবাসন ও কেনাকাটায় মোট খরচ হয়েছে ৪.৮৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৩০.৪ বিলিয়ন ডলার), যা প্রথমার্ধের হিসেবে নতুন রেকর্ড। অর্থাৎ, কম পর্যটক এসেছেন, কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের গড় খরচ বেড়েছে—এ যেন খাদ্যতালিকায় কম কিন্তু মানসম্পন্ন আহারের দর্শন।   রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন নীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রিও নিশিকাওয়া মনে করছেন, এটি 'পর্যটকের বৈচিত্র্যায়ন'-এর স্পষ্ট প্রমাণ। তাঁর কথায়, "আমরা এখন সেই পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে চীন ছাড়াই পর্যটন তার গতি ধরে রাখতে পারছে।" এমনকি মধ্য প্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে ইউরোপীয় পর্যটকদের কাছ থেকে কিছু বাতিল আসলেও তা সামগ্রিক সংখ্যার তুলনায় নগণ্য।   ফুকুওকার দাজাইফু মন্দিরের পুরোহিত কেইয়া ইয়ামাগুচি জানালেন, এখানে আসা বিদেশি পর্যটকের প্রায় ৯০ শতাংশই দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান থেকে। "আমরা কোনো পরিবর্তন অনুভব করছি না," তাঁর গলায় আত্মবিশ্বাস।   তবে এই উজ্জ্বল চিত্রের উল্টোপিঠে আছে জাপানি নিজেদের বিদেশ ভ্রমণের চিত্র। মহামারীর আগে ২০১৯ সালে যেখানে বছরে ২ কোটি জাপানি বিদেশ গিয়েছিলেন, সেখানে ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজারে। চলতি বছর প্রথমার্ধে মাত্র ৬৯ লাখ ৪০ হাজার জাপানি বিদেশ সফর করেছেন। মূল কারণ—মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ইয়েন ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি। ভ্রমণ সংস্থা জেটিবি-র সমীক্ষা বলছে, এই গ্রীষ্মের ছুটিতে জাপানি পর্যটক বিদেশগামীর সংখ্যা ৮.৮ শতাংশ কমতে পারে—যা ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবার।   জাপান সরকার অবশ্য পাসপোর্ট ফি কমানোর মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমণে উৎসাহ দিতে চাইছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞ নিশিকাওয়া সতর্ক করে বলেছেন, দেশীয় পর্যটকদের কমে যাওয়া আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর জন্য হতে পারে মারাত্মক হুমকি। তাঁর মতে, স্থানীয় প্রশাসনগুলোকেই এখন নিজেদের মানুষের ভ্রমণ আগ্রহ বাড়ানোর কৌশল তৈরি করতে হবে।   সব মিলিয়ে, জাপানের পর্যটন শিল্প এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। চীন-নির্ভরতার পুরোনো দিন শেষ, নতুন বাজার ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। গ্রীষ্মের এই রোদে দাঁড়িয়ে টোকিওর কোনো ক্যাফেতে যদি বসেন, দেখবেন ইংরেজি, কোরিয়ান, থাই, ফরাসি আর স্প্যানিশ ভাষার মিশ্রণ—যেন এক বিশ্বমেলার আয়োজন। আর এই বৈচিত্র্যই এখন জাপানের পর্যটনের নতুন প্রাণশক্তি।

প্রকাশ : আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১:৩০
মিসরও যোগ দিতে পারে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে: এরদোয়ান
মিসরও যোগ দিতে পারে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে: এরদোয়ান

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি আরও দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা জানালেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট; হামলা হলে সদস্যদের যৌথ প্রতিক্রিয়ার নীতি, বাড়ছে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।   তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরও যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে চুক্তিটি অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।   আল জাজিরা আরবির ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানের জন্য দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, কোনো সদস্য দেশ বাইরের কোনো পক্ষের সশস্ত্র হামলার শিকার হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি চুক্তিতে রাখা হয়েছে। মিসরের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে তিনি চুক্তি সম্প্রসারণের একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে উল্লেখ করেন।    গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কায় এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল নীতির মধ্যে রয়েছে—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা।    চুক্তির আওতায় তিন দেশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়, নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয় রয়েছে। সামরিক মহড়ায় স্থল, নৌ, আকাশ ও সাইবার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।    তবে তুরস্ক ও পাকিস্তান দুদেশই জোর দিয়ে বলেছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। বিশেষ করে ইরানকে লক্ষ্য করে এই প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরি হয়েছে—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে আঙ্কারা।    ইরানও চুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রচেষ্টা নিয়ে তেহরানের ভয়ের কোনো কারণ দেখছে না। তবে তিনি চুক্তিটি যেন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং আঞ্চলিক বাস্তবতা ও প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনায় নেয়, সেই প্রত্যাশা জানিয়েছেন।    মিসরের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে অবশ্য এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মিসরকে সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও কায়রো নতুন কোনো প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারে কতটা আগ্রহী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।    এদিকে এরদোয়ান সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রণালিটি পুনরায় চালু করা তুরস্কের অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কাতারের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি।   সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে তুরস্ক তার প্রতিবেশীদের একা ছেড়ে দেবে না। সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গাজায় সহায়তা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।    এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়েও কথা বলেন এরদোয়ান। তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে এফ-৩৫ পাওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। তবে তুরস্কের রুশ নির্মিত এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে দেশটির এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফেরার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখনো রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা রয়েছে।   বিশ্লেষকদের কাছে মক্কা চুক্তির গুরুত্ব শুধু তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা, উপসাগরীয় নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ফলে মিসরসহ আরও দেশ এতে যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোয় এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১:২০
হরমুজে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে চায় তেহরান
ইরান-ওমান সমঝোতার পথে, হরমুজে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে চায় তেহরান

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে ওমানের সাথে চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা করছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এই জলপথকে কেন্দ্র করে তেহরান ও মাস্কাটের মধ্যে আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি আলাদা ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সাথে তারা সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তবে অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।   বাঘাই স্পষ্ট করে বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের কারণে এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীতে আগের মতো পূর্ণ নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তার কথায়, "এখনকার পরিস্থিতিতে সেটা বাস্তবসম্মত নয়।"   এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিউইয়র্কের এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে এবং খুব শিগগিরই তিনি এই প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন।   তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা পরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প ওই মন্তব্য 'মজা করেই' করেছিলেন।   ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা বার্তা দিয়েছেন। তিনি এক্স-এ লেখেন, "হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, আছে এবং থাকবে। এই জলপথ কখন খোলা বা বন্ধ হবে—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক অধিকার তেহরানের।"   বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয় এই ৩৩ কিলোমিটার চওড়া প্রণালী দিয়ে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের সাথে এই সমঝোতার উদ্যোগকে ইরানের একটি কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে—যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তারা এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার একটি বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে। তবে ওয়াশিংটন এই উদ্যোগকে কতটা সহ্য করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

প্রকাশ : আগস্ট ১৬, ২০২৬ ০:৫৮
ঝরনার আশপাশের পিচ্ছিল পাথর ও প্রবল স্রোত পর্যটকদের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে ছবি তুলতে গিয়ে ১৭৭ ফুট উঁচু ঝরনা থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে ঝরনার ওপর ছবি তুলতে গিয়ে ১৭৭ ফুট নিচে পড়ে ২০ বছর বয়সী এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত তরুণের নাম জ্যাকারি নিকোলাস মার্টেনস। তিনি কেনটাকির বাসিন্দা ছিলেন।   ঘটনাটি ঘটে সোমবার সন্ধ্যায় ওরেগনের সিলভার ফলস স্টেট পার্কে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওরেগন স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, মার্টেনস দক্ষিণ ফলস নামের জনপ্রিয় ঝরনার ওপরের একটি নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করে ছবি তুলছিলেন। একপর্যায়ে পা পিছলে তিনি ঝরনার কিনারা থেকে নিচে পড়ে যান।   পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটের দিকে ঝরনা থেকে একজন পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ সদস্যরা। প্রায় ১৭৭ ফুট নিচে ঝরনার পানির কুণ্ডে গিয়ে পড়েন মার্টেনস। পরে ম্যারিয়ন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল তার মরদেহ উদ্ধারের কাজ পরিচালনা করে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর পার্কের আরেক দর্শনার্থী মার্টেনসকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন এবং জরুরি চিকিৎসা হিসেবে সিপিআর দেন। তবে জরুরি উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।   সিলভার ফলস স্টেট পার্ক ওরেগনের অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র। প্রায় ৯ হাজার একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে বেশ কয়েকটি বড় ঝরনা রয়েছে। এর মধ্যে সাউথ ফলস সবচেয়ে পরিচিত। ঝরনাটি প্রায় ১৭৭ ফুট উঁচু এবং ‘ট্রেইল অব টেন ফলস’ নামে ৭ দশমিক ২ মাইল দীর্ঘ একটি জনপ্রিয় হাঁটার পথের অংশ।   সাউথ ফলসের বিশেষ আকর্ষণ হলো, দর্শনার্থীরা নির্ধারিত পথ ধরে ঝরনার পেছন দিয়েও হাঁটার সুযোগ পান। তবে ঝরনার ওপরের কিছু অংশ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, পার্কের অধিকাংশ ঝরনার ৩০০ ফুট ওপর ও নিচের এলাকায় পানির কাছে প্রবেশ নিষিদ্ধ।   ঝরনার আশপাশের পাথর বাইরে থেকে শুকনো মনে হলেও পানির কারণে অত্যন্ত পিচ্ছিল হতে পারে। আবার ঝরনার ওপরের প্রবাহও অনেক সময় ধারণার চেয়ে বেশি শক্তিশালী থাকে। ফলে নির্ধারিত পথ ছেড়ে ঝরনার কিনারার কাছে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।   সিলভার ফলস স্টেট পার্কে এমন দুর্ঘটনা নতুন নয়। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, ঝরনা দেখতে গিয়ে নির্ধারিত পথের বাইরে যাওয়া কিংবা পানির খুব কাছে পৌঁছানো বিপজ্জনক হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন ঝরনাতেও এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।   ২০২৫ সালের জুনে অলিম্পিক ন্যাশনাল পার্কের সল ডুক ফলসে ১৮ বছর বয়সী টেক্সাসের এক পর্যটক ঝরনার ওপর দিয়ে নদী পার হওয়ার সময় পিছলে পড়ে মারা যান। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ওরেগনের মাল্টনোমা ফলসের কাছে ৪৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তিরও পড়ে মৃত্যু হয়। এর আগেও ওই এলাকায় ঝরনার কাছাকাছি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।   মার্টেনসের মৃত্যুর পর আবারও পর্যটকদের নির্ধারিত পথ ও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে ছবি তোলার সময় ঝরনার কিনারা কিংবা নিষিদ্ধ এলাকায় না যাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে আসছে।   সাউথ ফলসের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে ছবি তোলার আকর্ষণ থাকলেও নিরাপত্তা উপেক্ষা করলে মুহূর্তেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মার্টেনসের এই দুর্ঘটনা সেই ঝুঁকিরই আরেকটি উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৬, ২০২৬ ০:৩
শ্রীধর চিল্লালের কাটা নখ নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষকের বকুনি থেকে জেদ করে তিনতলা ভবনের সমান নখ রেখে গিনেস বুকে রেকর্ড করেলন শ্রীধর

ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনের বাসিন্দা শ্রীধর চিল্লাল এক হাতে সবচেয়ে লম্বা নখ রাখার বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। তার বাঁ হাতের পাঁচটি নখের সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ছিল ৯০৯ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার বা ২৯ ফুট ১০ ইঞ্চি, যা প্রায় তিনতলা ভবনের উচ্চতার সমান। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, এই রেকর্ড ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মাপা হয়।   তবে শ্রীধরের এই নখ এখন আর তাঁর হাতে নেই। দীর্ঘ ৬৬ বছর নখ না কাটার পর ২০১৮ সালে তিনি সেগুলো কেটে ফেলেন। পরে কাটা নখগুলো নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে রিপলিজ বিলিভ ইট অর নট! জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়।   শ্রীধরের নখের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা ছিল বুড়ো আঙুলের নখ। সেটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৯৭ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার বা প্রায় ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি। তর্জনীর নখ ছিল ১৬৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার, মধ্যমার ১৮৬ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার, অনামিকার ১৮১ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার এবং কনিষ্ঠার নখের দৈর্ঘ্য ছিল ১৭৯ দশমিক ১ সেন্টিমিটার।   শ্রীধরের নখ বড় করার শুরুটা হয়েছিল স্কুলজীবনের একটি ঘটনা থেকে। ১৯৫২ সালে, তখন তার বয়স ছিল ১৪ বছর। এক সহপাঠীর কারণে একজন শিক্ষকের লম্বা নখ ভেঙে যায়। শিক্ষক এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের বোঝান, দীর্ঘ নখ ঠিকভাবে যত্ন নেওয়া কত কঠিন। সেই কথাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন শ্রীধর এবং বাঁ হাতের নখ কাটা বন্ধ করে দেন।   বছরের পর বছর নখ বড় হতে থাকায় তার দৈনন্দিন জীবনও কঠিন হয়ে পড়ে। ঘুমানোর সময় পর্যন্ত তাকে খুব সতর্ক থাকতে হতো। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শ্রীধর জানিয়েছিলেন, নখ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি ঘুমের মধ্যেও খুব বেশি নড়াচড়া করতে পারতেন না। প্রায় আধা ঘণ্টা পরপর হাতের অবস্থান বদলাতে হতো।   পেশায় আলোকচিত্রী ছিলেন শ্রীধর। দীর্ঘ নখের কারণে ক্যামেরা পরিচালনাও তার জন্য সহজ ছিল না। তাই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ ধরনের হাতল ব্যবহার করে ক্যামেরা চালাতেন।   গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর পুনেতে তার বাঁ হাতের নখের মোট দৈর্ঘ্য ৯০৯ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার মাপা হয়। পরে ২০১৮ সালে ৬৬ বছর পর তিনি নখগুলো কেটে ফেলেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ২৩:৫১
চুল পড়া রোধে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই নতুন আবিষ্কার বিশেষজ্ঞদের আশাবাদী করে তুলেছে। ছবি: সংগৃহীত
তীব্র চুল পড়ার সমস্যায় নতুন আশার আলো, পরিচিত একটি ওষুধেই মিলছে চুল ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা

তীব্র চুল পড়ার রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য নতুন আশার খবর দিয়েছেন গবেষকেরা। বাতসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় আগে থেকেই ব্যবহৃত একটি ওষুধ গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা বা অ্যালোপেশিয়া রোগীদের চুল গজাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। তৃতীয় ধাপের দুটি বড় ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওষুধটির উচ্চমাত্রা গ্রহণকারী রোগীদের প্রায় ৫৪ থেকে ৫৫ শতাংশ ২৪ সপ্তাহের মধ্যে মাথার অন্তত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে পেয়েছেন।   গবেষণায় ব্যবহৃত ওষুধটির নাম আপাডাসিটিনিব। এটি মুখে খাওয়ার একটি জ্যানাস কাইনেজ বা JAK ইনহিবিটর, যা শরীরের নির্দিষ্ট রোগপ্রতিরোধী সংকেত নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার ক্ষেত্রে রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা চুলের গোড়ায় আক্রমণ করে চুল পড়ার কারণ হতে পারে। নতুন গবেষণায় এই রোগপ্রতিরোধী প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করেই ওষুধটি ব্যবহার করা হয়েছে।   ‘জেএএমএ ডার্মাটোলজি’তে প্রকাশিত দুটি তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় ১২ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মোট ১ হাজার ৩৯৯ জন রোগী অংশ নেন। বিশ্বের ২৪৮টি গবেষণাকেন্দ্রে এসব পরীক্ষা পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের সবার মাথার অন্তত অর্ধেক চুল পড়ে গিয়েছিল এবং গবেষণার শুরুতে গড়ে প্রায় ৮৪ শতাংশ মাথার চুল হারিয়েছিলেন তারা।   গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের প্রতিদিন ১৫ মিলিগ্রাম আপাডাসিটিনিব, ৩০ মিলিগ্রাম আপাডাসিটিনিব অথবা প্লাসিবো দেওয়া হয়। ২৪ সপ্তাহ পর দেখা যায়, কম মাত্রার ওষুধ গ্রহণকারীদের প্রায় ৪৫ শতাংশের মাথার অন্তত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে এসেছে। আর ৩০ মিলিগ্রাম মাত্রা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ৫৪ থেকে ৫৫ শতাংশ। বিপরীতে প্লাসিবো গ্রহণকারীদের মাত্র ১ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ একই মাত্রার চুল ফিরে পেয়েছেন।   চিকিৎসাবিজ্ঞানে মাথার অন্তত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়। গবেষণায় শুধু মাথার চুল নয়, ভ্রু ও চোখের পাতার চুলের ক্ষেত্রেও উন্নতি দেখা গেছে। কিছু রোগীর মাথার চুল পুরোপুরি ফিরে আসার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।   অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা সাধারণ বংশগত চুল পড়ার মতো নয়। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় রোগপ্রতিরোধী সমস্যা, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা ভুল করে চুলের গোড়াকে আক্রমণ করে। ফলে মাথায় ছোট ছোট ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়া থেকে শুরু করে পুরো মাথা, ভ্রু, চোখের পাতা কিংবা শরীরের অন্যান্য অংশের চুলও পড়ে যেতে পারে। রোগটির ধরন ও তীব্রতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।   আপাডাসিটিনিবের কার্যপ্রক্রিয়াও এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এটি JAK-1 নামের একটি প্রোটিনের কার্যক্রমে বাধা দেয়, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধী সংকেত পরিবহনে ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ চুলের গোড়াকে বাইরে থেকে উদ্দীপিত করার বদলে ওষুধটি রোগটির পেছনে থাকা রোগপ্রতিরোধী প্রক্রিয়ার একটি অংশকে লক্ষ্য করে কাজ করে।   তবে গবেষণার ফল আশাব্যঞ্জক হলেও এটিকে সবার জন্য নিশ্চিত সমাধান হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। কারণ ২৪ সপ্তাহ পরও প্রায় অর্ধেক রোগী পরীক্ষায় নির্ধারিত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে পাওয়ার মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেননি। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ওষুধ ব্যবহারের পর চুলের এই পুনরুদ্ধার কতটা স্থায়ী হবে এবং ওষুধ বন্ধ করলে কী ঘটবে, সেটিও আরও গবেষণায় জানতে হবে।   ওষুধটির নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় ওপরের শ্বাসনালির সংক্রমণ, ব্রণ, রক্তে ক্রিয়েটিন ফসফোকাইনেজের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং নাক-গলার সংক্রমণের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ১৫ মিলিগ্রাম গ্রহণকারীদের ১ দশমিক ৬ শতাংশ, ৩০ মিলিগ্রাম গ্রহণকারীদের ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং প্লাসিবো গ্রহণকারীদের শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের মধ্যে দেখা যায়। গবেষকেরা পরীক্ষায় নতুন কোনো নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকির সংকেত পাননি বলে জানিয়েছেন।   তবে আপাডাসিটিনিব সাধারণ কোনো চুল পড়ার ওষুধ নয়। এটি একটি প্রেসক্রিপশনভিত্তিক রোগপ্রতিরোধী ওষুধ এবং এর আগে থেকেই বিভিন্ন প্রদাহজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তালিকায় আপাডাসিটিনিবের অনুমোদিত বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে, তবে গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রে এর অনুমোদন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।   অন্যদিকে, ইউরোপে পরিস্থিতি এগিয়েছে আরও এক ধাপ। গত ২৯ জুলাই ইউরোপীয় কমিশন ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর-কিশোরীদের গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার চিকিৎসায় আপাডাসিটিনিবের অনুমোদন দিয়েছে। ইউরোপীয় অনুমোদনের ভিত্তি ছিল এই তৃতীয় ধাপের UP-AA গবেষণা কর্মসূচির ফলাফল।   অ্যালোপেশিয়ার চিকিৎসায় JAK ইনহিবিটর শ্রেণির ওষুধ ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অ্যালোপেশিয়ার জন্য বারিসিটিনিব, রিটলেসিটিনিব এবং ডিউরুক্সোলিটিনিবের মতো JAK-সম্পর্কিত ওষুধ অনুমোদিত রয়েছে। ফলে আপাডাসিটিনিবের নতুন ফলাফল এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে আরও একটি সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।   তবে JAK ইনহিবিটর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের FDA এই শ্রেণির কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে গুরুতর হৃদ্‌যন্ত্র-সংক্রান্ত ঘটনা, ক্যানসার, রক্ত জমাট বাঁধা এবং মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। আপাডাসিটিনিবের ক্ষেত্রেও এর রোগপ্রতিরোধী কার্যপ্রক্রিয়ার কারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষণার ফল তাই গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আপাডাসিটিনিব গ্রহণের সুযোগ নেই। কার জন্য এই ওষুধ উপযুক্ত, কী মাত্রায় ব্যবহার করা হবে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কতটা, তা রোগীর বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য ওষুধের ওপর নির্ভর করে।   সব মিলিয়ে, তীব্র অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার চিকিৎসায় আপাডাসিটিনিবের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। ২৪ সপ্তাহেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর মাথার চুল ফিরে আসা এবং কিছু রোগীর সম্পূর্ণ চুল পুনরুদ্ধার চিকিৎসকদের আশাবাদী করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ২৩:৩০
ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়া। ৭ জুন ইউরোপে যাওয়ার পর দুই মাসেও দেশে ফেরেননি তিনি। ছবি: সংগৃহীত
‘সংক্ষিপ্ত সফরে’ ইউরোপ গিয়ে ২ মাস ধরে ‘নিখোঁজ’ বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট

ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়ার ইউরোপ সফর যেন শেষই হচ্ছে না। গত ৭ জুন ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে’ ইউরোপের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ৯৩ বছর বয়সী এই নেতা। কিন্তু দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি দেশে ফেরেননি। বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানের দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে এরই মধ্যে দেশটিতে উদ্বেগ ও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকার বলছে, পল বিয়া সুস্থ আছেন এবং বিদেশে থেকেও রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।   ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ৭ জুন জানিয়েছিল, পল বিয়া তার স্ত্রী শঁতাল বিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ইউরোপে একটি ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে’ যাচ্ছেন। পরে সরকার নিশ্চিত করে, তিনি সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তবে দেশে ফেরার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। আগস্টের শুরুতে তার বিদেশে অবস্থানের সময় প্রায় দুই মাসে পৌঁছে যায়, যা তার দীর্ঘদিনের বিদেশ সফরগুলোর মধ্যেও অন্যতম দীর্ঘ।   পল বিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে তার বয়স এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। ৯৩ বছর বয়সে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান। ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসার পর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্যামেরুন শাসন করছেন তিনি। ২০২৫ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে অষ্টম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন পল বিয়া।   তার স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপে তার নিয়মিত দীর্ঘ অবস্থান এসব জল্পনাকে আরও উসকে দেয়। তবে ক্যামেরুন সরকার বারবার এসব প্রশ্ন খারিজ করেছে। চলতি বছরের জুনে দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী রেনে ইমানুয়েল সাদি পল বিয়া জেনেভার কোনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন, এমন খবর অস্বীকার করেন। পরে প্রেসিডেন্টের সিভিল ক্যাবিনেটের পরিচালক স্যামুয়েল মভোন্দো আয়োলোও বলেন, তিনি হাসপাতালে ভর্তি নন এবং জেনেভায় হোটেল থেকেই নিয়মিত কাজ করছেন।   তবে সরকারের বক্তব্যের পরও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে পল বিয়াকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। তার অনুপস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে, প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা কীভাবে চলছে তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী রাজনীতিকদের কেউ কেউ পরিস্থিতিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় এক ধরনের ‘স্বয়ংক্রিয়’ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন।   এদিকে পল বিয়ার অনুপস্থিতির মধ্যেই ক্ষমতাসীন ক্যামেরুন পিপলস ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (সিপিডিএম) শীর্ষ নেতারা জুলাইয়ে একটি বিরল বৈঠকে বসেন। দলটির মহাসচিব জ্যঁ নকুতে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসভা হিসেবে উল্লেখ করলেও বৈঠকটি প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, তা স্পষ্ট করেননি।   পল বিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আরেকটি কারণ হলো দেশটিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি। এ বছরের এপ্রিলে আইনপ্রণেতারা ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ পুনর্বহালের ব্যবস্থা অনুমোদন করলেও এখনো সেই পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রেসিডেন্ট দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকলে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   এরই মধ্যে পল বিয়ার অনুপস্থিতির ৫৮তম দিনে ক্যামেরুনের সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনা হয়। ৪ আগস্ট জারি করা তিনটি প্রেসিডেন্টের ডিক্রিতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর প্রধানকে কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়। পাশাপাশি দেশের পাঁচটি যৌথ সামরিক অঞ্চলের মধ্যে চারটির কমান্ডার পরিবর্তন করা হয়। এসব পরিবর্তনের কোনো সরকারি কারণ জানানো হয়নি।   এই সামরিক রদবদলও পল বিয়ার অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা আরও বাড়িয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এ পরিবর্তনকে তার অনুপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সরকার বরাবরই বলে আসছে, বিদেশে থাকলেও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা পল বিয়ার রয়েছে।   ক্যামেরুনে প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। ২০২৪ সালেও পল বিয়া প্রায় ৪২ দিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তখনও তার স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাপক জল্পনা ছড়িয়েছিল। পরে তিনি সুইজারল্যান্ড থেকে দেশে ফেরেন। ওই ঘটনার পর ক্যামেরুন সরকার প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা নিষিদ্ধ করেছিল এবং বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।   পল বিয়ার রাজনৈতিক জীবনও দীর্ঘ সময়ের ক্ষমতার প্রতীক। ক্যামেরুনের প্রথম প্রেসিডেন্ট আহমাদু আহিদজোর পদত্যাগের পর ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসেন তিনি। ২০০৮ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের সীমা তুলে দেওয়া হয়। ফলে ২০২৫ সালের নির্বাচনে অষ্টমবারের মতো জয়ী হয়ে আবারও ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পান পল বিয়া।   তার দীর্ঘ শাসনামলে দেশটি নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে বোকো হারামের হামলা এবং পশ্চিমাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থবিরতাও তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশ ক্যামেরুনে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। অথচ তাদের জীবনের বড় অংশজুড়েই রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তারা দেখে আসছেন একই ব্যক্তিকে।   ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও বিতর্কমুক্ত ছিল না। পল বিয়া নির্বাচনে জয়ী হয়ে অষ্টম মেয়াদ নিশ্চিত করলেও বিরোধীরা ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ করে। নির্বাচনের পর দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হয়। ফলে দীর্ঘদিনের এই শাসকের বিদেশে অবস্থান এখন শুধু তার স্বাস্থ্য নয়, ক্যামেরুনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ক্ষমতার ধারাবাহিকতা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।   তবে এখন পর্যন্ত পল বিয়ার মৃত্যুর কোনো নির্ভরযোগ্য খবর বা তার গুরুতর অসুস্থতার বিষয়ে সরকারি নিশ্চিত তথ্য নেই। সরকার বলছে, তিনি সুস্থ আছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা তার দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছে। ফলে ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফর’ হিসেবে শুরু হওয়া এই ইউরোপ যাত্রা কবে শেষ হবে, সেটিই এখন ক্যামেরুনের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ২৩:১৩
একটি অনুষ্ঠানে হেঁটে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ধারণ করা ট্রাম্পের ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের পোশাকে অস্বাভাবিক আকৃতি, ফের ছড়াল ‘ডায়াপার’ পরার গুঞ্জন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোশাকের একটি ছবি ও ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও শুরু হয়েছে ‘ডায়াপার’ পরার গুঞ্জন। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পেছন দিকের পোশাকে অস্বাভাবিক আকৃতি দেখা যাচ্ছে দাবি করে অনেকে নানা মন্তব্য করেন। তবে ট্রাম্প প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার ব্যবহার করেন, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ভিডিওতে একটি অনুষ্ঠানের পর ট্রাম্পকে হেঁটে চলে যেতে দেখা যায়। এ সময় তার স্যুটের নিচের অংশের আকৃতি নিয়ে কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন। কারও কারও দাবি, পোশাকের নিচে একটি চৌকো ধরনের ফোলা অংশ দেখা যাচ্ছে।   এক্সে ব্রায়ান ক্রাসেনস্টেইন নামের এক ব্যবহারকারী ট্রাম্পের পেছনের দিকের পোশাকের আকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার পোস্টের পরপরই মন্তব্যের ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের সমর্থকদের অনেকে এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেন এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত শারীরিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করাকে অশোভন বলে মন্তব্য করেন।   অন্যদিকে, কিছু ব্যবহারকারী ছবিতে দেখা আকৃতিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে দাবি করেন। কেউ কেউ সরাসরি ‘ডায়াপার’ ব্যবহারের প্রসঙ্গ তোলেন। তবে এসব মন্তব্য মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুমান ও ব্যঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কোনো চিকিৎসা নথি, সরকারি বিবৃতি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব দাবিকে সমর্থন করেনি।   ট্রাম্পকে ঘিরে এমন গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের এপ্রিলেও তাঁর ‘৬০ মিনিটস’ সাক্ষাৎকারের পর একই ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছিল। সিবিএসের অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নোরাহ ও’ডনেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ট্রাম্পের স্যুটের পেছনের দিকে একটি ফোলা অংশ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন কিছু দর্শক। পরে সেই দৃশ্যের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে সেটিকে প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার বলে অনুমান করেন।   তবে ওই সময়ও দাবিটির পক্ষে কোনো যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ পোশাকের ভাঁজ, স্যুটের কাটিং, শরীরের ভঙ্গি কিংবা নিরাপত্তা সরঞ্জামের মতো বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণের কথা বলেন। অর্থাৎ একটি ছবিতে দেখা আকৃতি থেকেই ট্রাম্পের স্বাস্থ্য বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   মে মাসে আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারিতে মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের অংশগ্রহণের ছবিকে ঘিরেও একই ধরনের আলোচনা হয়েছিল। তাঁর যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ করার পর কিছু ব্যবহারকারী ট্রাম্পের স্যুটের আকৃতি নিয়ে মন্তব্য করেন এবং আবারও ডায়াপার ব্যবহারের দাবি তোলেন। কিন্তু সেই দাবিরও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।   জুলাই মাসেও একই ধরনের গুঞ্জন ছড়ায়। ট্রাম্পের সহযোগী নাটালি হার্পকে একটি বড় কালো ব্যাগ হাতে তাঁর পেছনে দেখা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী সেটিকে কথিত ‘ডায়াপার ব্যাগ’ বলে দাবি করেন। পরে এসব পোস্ট নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও ট্রাম্পের ডায়াপার ব্যবহারের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি হার্প যে কোনো ধরনের চিকিৎসা বা পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন, এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।   ট্রাম্পকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া এসব গুঞ্জনের পেছনে মূলত ছবি ও ভিডিওর নির্দিষ্ট কিছু অংশকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীদের অনুমান কাজ করছে। বিশেষ করে স্যুট পরা অবস্থায় তাঁর বসা বা হাঁটার সময় পোশাকের আকৃতি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো ছবির দৃশ্যমান আকৃতি থেকে চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়।   এ ধরনের গুঞ্জন নিয়ে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়েছে। তবে চলতি বছরের এপ্রিল ও জুলাইয়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার ব্যবহারের অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি বা যাচাই করা চিকিৎসা প্রমাণ নেই।   সম্প্রতি জীবনীকার মাইকেল উলফও ট্রাম্পের ডায়াপার ব্যবহারের দীর্ঘদিনের গুঞ্জন নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাকে প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়, কিন্তু তিনি এমন দাবির কোনো ভিত্তি দেখেননি। একই সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে উলফের বক্তব্য ও তার বিশ্বাসযোগ্যতার সমালোচনা করা হয়েছে।   ফলে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ছবিকে ঘিরে আলোচনা থাকলেও ট্রাম্প সত্যিই ডায়াপার ব্যবহার করছেন কি না, তা নিশ্চিত করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য ও অনুমানকে তাই প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ২২:৩৯
সাবেক প্রেমিকের বাড়ির সামনে এক টন পেঁয়াজ পাঠিয়েছিলেন চীনের শানডংয়ের এক তরুণী। ছবি: সংগৃহীত
‘আমি ৩ দিন কেঁদেছি, এবার তোমার পালা’, ব্রেকআপের পর সাবেক প্রেমিকের বাড়িতে এক টন পেঁয়াজ পাঠালেন তরুণী

বিচ্ছেদের পর তিন দিন ধরে কেঁদেছিলেন চীনের শানডং প্রদেশের এক তরুণী। এদিকে সাবেক প্রেমিককে দেখে তার মনে হচ্ছিল, বিচ্ছেদের কোনো প্রভাবই যেন পড়েনি তার ওপর। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত অভিনব এক কাণ্ড ঘটান ওই তরুণী। সাবেক প্রেমিকের বাড়ির সামনে তিনি পাঠিয়ে দেন এক টন পেঁয়াজ। সঙ্গে ছিল ছোট্ট একটি চিরকুট, ‘আমি তিন দিন কেঁদেছি, এবার তোমার পালা।’   ঘটনাটি ঘটে চীনের শানডং প্রদেশের জিবো শহরে। তবে ঘটনাটি নতুন নয়, ২০২০ সালের মে মাসে এটি চীনা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটনাটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তৎকালীন প্রতিবেদনগুলোতে চীনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম শানডং নেট এবং দাজং ডটকমের বরাত দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই তরুণীর পদবি ছিল ঝাও। সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে তার প্রায় এক বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। ঝাওয়ের দাবি, বিচ্ছেদের পর তিনি ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলেন এবং টানা তিন দিন কেঁদেছিলেন। কিন্তু তার সাবেক প্রেমিককে দেখে তার মনে হয়, তিনি যেন বেশ স্বাভাবিকভাবেই জীবন কাটাচ্ছেন।   সাবেক প্রেমিকের এমন আচরণেই ক্ষুব্ধ হন ঝাও। তার মনে হয়, শুধু তিনিই বিচ্ছেদের কষ্টে কাঁদবেন, আর সাবেক প্রেমিক কোনোভাবেই আবেগ প্রকাশ করবেন না, তা হতে পারে না। তাই তাকে কাঁদানোর জন্য এমন কিছু পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন, যার কারণে চোখে পানি আসবেই।   এরপর অনলাইনে অর্ডার করেন এক টন পেঁয়াজ। মোট ২০০টি প্যাকেটে ১০ কেজি করে পেঁয়াজ কেনা হয়েছিল বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়। সরবরাহকারীকে ঝাও বিশেষভাবে বলে দেন, পেঁয়াজগুলো যেন সাবেক প্রেমিকের বাড়ির দরজার সামনে রেখে আসা হয় এবং তাকে আগে থেকে ফোন করে জানানো না হয়।   শুধু পেঁয়াজ পাঠিয়েই থামেননি তিনি। প্যাকেটের সঙ্গে একটি চিরকুটও দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘বিচ্ছেদের পর আমি তিন দিন কেঁদেছি, এবার তোমার পালা।’ পেঁয়াজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানান, ঝাওয়ের অনুরোধ অনুযায়ী তাদের গ্রাহকসেবা বিভাগ থেকেই ওই চিরকুটটি লিখে দেওয়া হয়েছিল।   পেঁয়াজের বিশাল চালান যখন সাবেক প্রেমিকের বাড়ির সামনে পৌঁছায়, তখন বিষয়টি নিয়ে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়। তবে ঝাও যে ফলাফল চেয়েছিলেন, তা অবশ্য হয়নি। তার সাবেক প্রেমিক কাঁদেননি।   বরং ঘটনাটিকে অন্যভাবে সামলে নেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি পেঁয়াজগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন এবং এর বিনিময়ে এক হাজার ইউয়ানের বেশি পেয়েছেন। অর্থাৎ সাবেক প্রেমিককে কাঁদানোর পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত তার জন্য উল্টো আর্থিক লাভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   সাবেক প্রেমিকের বক্তব্যও ছিল বেশ সরাসরি। তিনি ঝাওয়ের এই কাণ্ডকে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের আগে থেকেই সমস্যা ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তারা আলাদা হয়ে যান। তিনি দাবি করেন, ঝাও তার ফোনে অন্য নারীদের সঙ্গে কথোপকথন দেখে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করেছিলেন।   তবে এই ঘটনার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে ওঠেন ভবনের অন্য বাসিন্দারা। এক টন পেঁয়াজ দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় চারপাশে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সাবেক প্রেমিক কাঁদছেন কি না তিনি জানেন না, তবে পেঁয়াজের গন্ধে তার নিজেরই দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। পুরো আবাসিক এলাকায় পচা পেঁয়াজের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   পেঁয়াজগুলো সেখানে পৌঁছে দেওয়ার কাজটিও সহজ ছিল না। তৎকালীন প্রতিবেদনে বলা হয়, সরবরাহকারীকে কয়েক ঘণ্টা ধরে বহুবার যাতায়াত করে পেঁয়াজগুলো ভবনের সামনে পৌঁছে দিতে হয়েছিল। ফলে সাবেক প্রেমিককে কাঁদাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সরবরাহকারীকেও বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়।   ঘটনার পর বিষয়টি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকে ঘটনাটিকে বিচ্ছেদের পর প্রতিশোধ নেওয়ার অদ্ভুত ও হাস্যকর উপায় হিসেবে দেখেন। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তোলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমস্যার কারণে কেন পুরো আবাসিক এলাকার মানুষকে দুর্গন্ধের ভোগান্তিতে পড়তে হবে।   তবে ঝাওয়ের পরিকল্পনার শেষ ফলাফল ছিল তার প্রত্যাশার পুরো বিপরীত। তিনি চেয়েছিলেন সাবেক প্রেমিকের চোখে পানি আনতে। কিন্তু সাবেক প্রেমিক কাঁদলেন না, বরং পেঁয়াজ বিক্রি করে অর্থও পেলেন। আর সেই পেঁয়াজের গন্ধে কষ্ট পেলেন আশপাশের বাসিন্দারা।   ফলে বিচ্ছেদের পর সাবেক প্রেমিককে ‘কাঁদানোর’ এই অভিনব পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত চীনের অন্যতম আলোচিত বিচ্ছেদ-পরবর্তী ঘটনার তালিকায় জায়গা করে নেয়।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ২২:২০
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণে নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় নতুন নিয়ম: ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বাতিল হচ্ছে ‘আনলিমিটেড স্টে’ সুবিধা

আগামী মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা নবায়ন ও কাজের অনুমতির জন্য প্রয়োজনীয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফরমের নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর (২০২৬) থেকে এফ (F), জে (J) এবং আই (I) ক্যাটাগরির ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ আর অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকছে না, বরং তা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ করা হবে।   মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) নতুন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, তারা ফরম আই-৫৩৯ (অ্যপ্লিকেশন টু এক্সটেন্ড/চেঞ্জ নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস) এবং ফরম আই-৭৬৫ (অ্যাপ্লিকেশন ফর এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন)-এর সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করতে যাচ্ছে। নীতিমালায় পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার দিন, অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ফরম দুটির পুরনো সংস্করণ আর গ্রহণ করা হবে না।   নতুন ফরমগুলোর একটি প্রিভিউ শেয়ার করে ইউএসসিআইএস নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে পোস্টমার্ক করা বা অনলাইনে জমা দেওয়া হলে ফরম আই-৫৩৯-এর পুরনো সংস্করণ (০৮/২৮/২৪) গ্রহণ করা হবে। তবে ১৫ সেপ্টেম্বর বা তার পরে জমা দিলে অবশ্যই নতুন সংস্করণ (০৯/১৫/২৬) ব্যবহার করতে হবে, অন্যথায় আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। একইভাবে, কাজের অনুমতির জন্য ব্যবহৃত ফরম আই-৭৬৫-এর ক্ষেত্রেও পুরনো সংস্করণ (০৮/২১/২৫) ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে জমা দিলে গ্রহণযোগ্য হবে। আর ১৫ সেপ্টেম্বর বা এরপর জমা দিলে নতুন সংস্করণটি (০৯/১৫/২৬) ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সটেনশন অব স্টে (ইওএস) বা অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর এই নতুন নিয়মে আসলে কী থাকছে? আগে এফ (F) ভিসায় আসা শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) অনুমোদিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা এবং পড়া শেষে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের (প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং) জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ পেতেন। এই ব্যবস্থাকে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ (ডি/এস) বলা হতো। কিন্তু নতুন চূড়ান্ত নিয়মে এই 'ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস' বাতিল করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।   এখন থেকে ফরম আই-২০ (সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি ফর নন-ইমিগ্র্যান্ট স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস)-এ উল্লেখিত প্রোগ্রামের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ভিসার মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে। তবে এই মেয়াদ কোনোভাবেই চার বছরের বেশি হবে না। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ৩০ দিন এবং পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় পাওয়া যাবে। এর বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে চাইলে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ইউএসসিআইএস-এর কাছে মেয়াদ বাড়ানোর (ইওএস) আবেদন করতে হবে। পড়াশোনা শেষ করা, নতুন কোনো কোর্সে ভর্তি হওয়া, অথবা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) বা স্টেম (STEM) ওপিটি-তে অংশ নেওয়ার জন্য এই মেয়াদ বাড়ানো অপরিহার্য।   গত বছর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে অভিবাসন নীতিতে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, এফ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের অবস্থানের নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ তারই একটি অংশ। গত বছরের (২০২৫) জুনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ভিসা আবেদনকারীদের, বিশেষ করে এফ, এম এবং জে নন-ইমিগ্র্যান্ট ক্যাটাগরিতে বাছাই ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া কঠোর করার মাধ্যমে এই কড়াকড়ি শুরু করে। পরবর্তীতে 'স্পেশালিটি অকুপেশন' হিসেবে পরিচিত এইচ-১বি (H-1B) ওয়ার্ক ভিসার ক্ষেত্রেও গত বছর থেকে নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়।   ট্রাম্প প্রশাসন মূলত 'জাতীয় নিরাপত্তা'র উদ্বেগ থেকেই এই পরিবর্তনগুলো আনছে বলে বারবার উল্লেখ করেছে। এ বিষয়ে বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা (প্রিভিলেজ), এটি কোনো অধিকার নয়।" ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্যগুলো মূলত মার্কিন অভিবাসন বিভাগের সার্বজনীন নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নিয়ম এবং সময়সীমা যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ইউএসসিআইএস-এর ওয়েবসাইট যাচাই করা বা একজন দক্ষ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ২১:৫২
উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ সোনার মুদ্রা ও বার তালিকাভুক্ত করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
নর্দমার পাইপ বসাতে গিয়ে মিলল ১০৪ কোটি টাকার সোনা, প্রথমে ভেবেছিলেন এক ইউরোর কয়েন

বেলজিয়ামে নর্দমার নতুন পাইপ বসানোর কাজ করতে গিয়ে প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০৪ কোটি টাকা মূল্যের সোনার সন্ধান পেয়েছেন নির্মাণশ্রমিকরা। দেশটির সিন্ট-খিলিস-ডেন্ডারমোন্ডে এলাকায় একটি পুরোনো ব্রুয়ারির ভবনের নিচে কাজ করার সময় এই বিপুল পরিমাণ সোনা পাওয়া যায়।   সম্প্রতি ঘটা এই ঘটনাটি সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সোনা পাওয়ার পর শ্রমিকরা সেটি নিজেদের কাছে না রেখে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ সোনাগুলো তালিকাভুক্ত করে নিরাপদ সরকারি হেফাজতে নিয়ে যায়। বিষয়টির উৎস ও প্রকৃত মালিকানা এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।   ঘটনাটি ঘটে ব্রাসেলসের কাছের ফ্লেমিশ অঞ্চল সিন্ট-খিলিস-ডেন্ডারমোন্ডেতে। সেখানে একটি পুরোনো ব্রুয়ারির মালিকের বাড়ি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা সংস্কারের কাজ চলছিল। ভবনটি বর্তমানে সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন সিএডব্লিউ ওস্ট-ফ্লান্ডারেনের অধীনে রয়েছে। সংগঠনটি সেখানে নতুন কার্যালয় ও আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য সংস্কারকাজ চালাচ্ছে।   নর্দমার পাইপ বসানোর জন্য মাটির নিচে খনন করতে গিয়ে শ্রমিকরা পুরোনো ভবনের একটি অংশের ভিতের কাছে পৌঁছান। সেখানেই তারা অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পান। ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ও নির্মাণশ্রমিক কোবে ভিআরটি নিউজকে জানান, প্রথমে তিনি সেগুলোকে এক ইউরোর কয়েন ভেবেছিলেন। পরে আরও খনন করার পর বোঝা যায়, সেখানে আসলে বিপুল পরিমাণ সোনা লুকিয়ে রাখা ছিল।   সাইটের প্রকল্পপ্রধান মারিও জানান, শ্রমিকরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও একের পর এক সোনার কয়েন ও বার বেরিয়ে আসার পর তারা বিস্মিত হয়ে যান। এরপর তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোন করেন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাওয়া সোনার তালিকা তৈরি করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে ৪৯টি সোনার বারসহ বিপুলসংখ্যক সোনার কয়েন পাওয়া গেছে। সেগুলোর মোট মূল্য আনুমানিক ৯ মিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ১০.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। পরে পুরো সোনার ভাণ্ডার নিরাপদ সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়।   তবে এত বিপুল সম্পদ পাওয়ার পরও নির্মাণশ্রমিকদের জন্য সেটি নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বেলজিয়ামের আইনি বিধান অনুযায়ী, সোনার প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হেফাজতেই থাকবে। মালিকানা নিয়ে দাবি জানানোর জন্য পাঁচ বছর সময়ের বিধান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত মালিক শনাক্ত না হলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী দাবিদার ও সন্ধানকারীর অধিকার নির্ধারিত হতে পারে।   সোনার এই ভাণ্ডারটি কার ছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তদন্তকারীরা এর উৎস ও মালিকানা যাচাই করছেন। এটি কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, কিংবা পুরোনো ব্রুয়ারির মালিক পরিবারের সম্পদ কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে ভবনটির সঙ্গে ভ্যান আসশে পরিবার ও পুরোনো ব্রুয়ারির সম্পর্কের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত সোনাগুলোর প্রকৃত মালিক হিসেবে কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়নি।   এই আবিষ্কারের পর স্থানীয় সমাজকল্যাণ সংগঠনটির কর্মকর্তারাও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ভবনটি বর্তমানে সিএডব্লিউ ওস্ট-ফ্লান্ডারেনের মালিকানাধীন। সংগঠনটি সমাজের অসহায় মানুষদের সহায়তায় কাজ করে। সংগঠনটির পরিচালক আশা প্রকাশ করেছেন, শেষ পর্যন্ত যদি আইনগতভাবে এই সম্পদের কোনো অংশ তাদের কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে তা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। তবে এর আগে মালিকানা ও আইনি বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি জরুরি।   অন্যদিকে, খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে গুপ্তধন খোঁজার লোকজনের ভিড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় পুলিশ। তারা সাধারণ মানুষকে ওই এলাকায় না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। কারণ জায়গাটি এখনো নির্মাণকাজ ও ভাঙার কাজ চলা একটি ঘেরাও করা এলাকা এবং সেখানে বেশ কয়েকটি গভীর ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা সব সোনা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   নির্মাণশ্রমিকদের জন্য ঘটনাটি নিঃসন্দেহে জীবনের অন্যতম অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন নির্মাণকাজে থাকা প্রকল্পপ্রধান মারিও জানান, তার বহু বছরের কর্মজীবনে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। আর ১৮ বছর বয়সী কোবের আশা, শেষ পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তারা এই আবিষ্কারের জন্য কোনো ধরনের পুরস্কার বা সন্ধানকারীর সম্মানী পেতে পারেন।   পুলিশও জানিয়েছে, তারা আশা করছে এই অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার শেষ পর্যন্ত সঠিক মানুষের হাতে যাবে এবং এর ইতিবাচক ফল অনেক মানুষের জীবনে কাজে লাগবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ২১:১৩
টেক্সাসের অরোরা স্কাই ক্যাস্টনার। কারাগারে জন্মের পরও পড়াশোনায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পান তিনি। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসের কারাগারে জন্ম, মায়ের যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠা, সেই তরুণী পেলেন হার্ভার্ডে আইন নিয়ে পড়ার ফুল স্কলারশিপ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি কারাগারে জন্ম হয়েছিল অরোরা স্কাই ক্যাস্টনারের। জন্মের পর মায়ের কাছ থেকে তিনি আর সেভাবে স্নেহ-যত্ন পাননি। নবজাতক অরোরাকে কারাগার থেকে নিয়ে গিয়ে একাই বড় করেন তার বাবা। জীবনের শুরুটাই ছিল নানা প্রতিকূলতায় ভরা। কিন্তু সেই পরিস্থিতি তার শিক্ষাজীবনের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। বরং কঠোর পরিশ্রম, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং একজন সহৃদয় পরামর্শদাতার সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পান তিনি।   অরোরার জন্ম টেক্সাসের Galveston County Jail-এ। তখন তার মা কারাগারে ছিলেন। জন্মের পর অরোরাকে তার বাবা কারাগার থেকে নিয়ে যান এবং একক অভিভাবক হিসেবে তাকে বড় করতে থাকেন। শৈশবটা সহজ ছিল না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবা-মেয়ের জীবন ছিল আর্থিক ও পারিবারিক নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। এমন পরিস্থিতিতেও অরোরার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই ছিল চোখে পড়ার মতো।   প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় অরোরা একটি পরামর্শদাতা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানেই তার পরিচয় হয় মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে। ধীরে ধীরে হ্যাম্বি শুধু তার শিক্ষাজীবনের পরামর্শদাতা নন, অরোরার জীবনে একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিতে পরিণত হন। চশমা কেনা, চুল কাটানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন দৈনন্দিন বিষয়েও তিনি অরোরাকে সহযোগিতা করতেন। এমনকি অরোরার জন্য গ্রীষ্মকালীন শিবিরে যাওয়ার সুযোগও তৈরি করে দেন তিনি।   অরোরার মেধা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ প্রথম দেখাতেই হ্যাম্বির নজরে আসে। হ্যাম্বি জানিয়েছিলেন, অরোরা ছোটবেলা থেকেই প্রচুর বই পড়ত। তার প্রিয় ব্যক্তিত্বদের একজন ছিলেন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেত্রী রোজা পার্কস। অরোরার এই আগ্রহ দেখে হ্যাম্বি বুঝতে পারেন, মেয়েটির মধ্যে বড় কিছু করার সম্ভাবনা রয়েছে।   শুধু পড়াশোনাতেই নয়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমেও অরোরা নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন। তিনি মাদকবিরোধী বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পান এবং একটি বৃত্তিও অর্জন করেন। পরে Conroe High School থেকে ২০২৩ সালে অত্যন্ত ভালো ফল নিয়ে স্নাতক হন। তিনি পুরো স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।   হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন অবশ্য অরোরার হঠাৎ তৈরি হয়নি। ২০২২ সালের মার্চে মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। সেই সফর তার মনে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়ার ইচ্ছা আরও দৃঢ় করে। এরপর থেকেই হার্ভার্ডে পড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে থাকেন তিনি।   হার্ভার্ডে ভর্তির আবেদনপত্রের প্রবন্ধে নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতাকেই সামনে আনেন অরোরা। তার আবেদনের প্রথম বাক্য ছিল, ‘আমি কারাগারে জন্মেছি।’ নিজের অতীতকে লুকিয়ে না রেখে সেটিকেই তিনি জীবনের গল্পের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আবেদনপত্র তৈরিতে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকও তাকে সহায়তা করেছিলেন।   ২০২৩ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, অরোরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান এবং পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে সেখানে পড়ার প্রস্তুতি নেন। তার লক্ষ্য ছিল আইন নিয়ে পড়াশোনা করা। তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। অরোরার গল্পে মোনা হ্যাম্বির ভূমিকা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ছোটবেলায় অরোরার জীবনে যে ধরনের সহায়তা ও দিকনির্দেশনার প্রয়োজন ছিল, হ্যাম্বি তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অরোরাও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তার পরামর্শদাতার অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। হ্যাম্বির সঙ্গে সম্পর্ককে তিনি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখেন।   অরোরার জীবনের গল্প তাই শুধু একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ঘটনা নয়। জন্মের পরিস্থিতি, পারিবারিক অনিশ্চয়তা কিংবা শৈশবের সীমাবদ্ধতা একজন মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না, তার পথচলা সেই কথাটিই সামনে আনে। একজন অভিভাবকের চেষ্টা, একজন পরামর্শদাতার সহায়তা এবং নিজের অধ্যবসায় কীভাবে একটি শিশুর সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে পারে, অরোরার গল্প তারও একটি উদাহরণ।   তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অরোরার হার্ভার্ডে ভর্তি ও পূর্ণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্য মূলত ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে প্রকাশিত। সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের নির্ভরযোগ্য সূত্রে তার বর্তমান শিক্ষাবর্ষ বা হার্ভার্ডে আইন পড়ার বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই তাকে বর্তমানে হার্ভার্ডের আইন শিক্ষার্থী হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করার বদলে ২০২৩ সালে হার্ভার্ডে আইন পড়ার জন্য পূর্ণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্যই যাচাই করা অবস্থায় বলা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ২০:৫৩
গাজায় দুই ভবনের ধ্বংসস্তূপে মিলল ২১ ফিলিস্তিনির কঙ্কাল, খোঁজ নেই আরও ৪০ জনের
গাজায় দুই ভবনের ধ্বংসস্তূপে মিলল ২১ ফিলিস্তিনির কঙ্কাল, খোঁজ নেই আরও ৪০ জনের

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র প্রতিদিনই নতুন করে সামনে আসছে। এবার গাজার দুটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ২১ জন ফিলিস্তিনির কঙ্কালসার দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল। শনিবার গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   বিবৃতিতে জানানো হয়, উদ্ধারকারীরা পূর্ব গাজা সিটির ‘আসকুলা’ এলাকায় একটি বিধ্বস্ত বাড়ির নিচ থেকে ১২ জনের এবং পশ্চিম গাজার ‘কাতিবা’ এলাকার আরেকটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও ৯ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।   দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকায় মরদেহগুলো সম্পূর্ণ কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। তবে তারা ঠিক কবে হামলার শিকার হয়েছিলেন, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   এদিকে, এই উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি আরও একটি ভয়াবহ তথ্য জানিয়েছে সিভিল ডিফেন্স। মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, গাজার জেইতুন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অপর একটি ভবনের নিচে অন্তত ৪০ জনের মরদেহ দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে আছে বলে তারা নির্ভরযোগ্য তথ্য পেয়েছেন।   এই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানেও অবিলম্বে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। গাজায় টানা সংঘাত ও হামলার কারণে এমন অসংখ্য ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৯:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ইন্ডিয়ানা, প্রাণহানি বেড়ে ৬, বিদ্যুৎহীন দেড় লাখ মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ইন্ডিয়ানা, প্রাণহানি বেড়ে ৬, বিদ্যুৎহীন দেড় লাখ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে গত কয়েকদিন ধরে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ ঝড় ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গত ১১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে রাজ্যটিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে জেনিংস কাউন্টির চার বছর বয়সী এক শিশু রয়েছে, যার বাড়ির ওপর ঝড়ের সময় গাছ ভেঙে পড়েছিল। এছাড়া ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ এবং ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে রাজ্যের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ।   টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ইন্ডিয়ানাপোলিসসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে, যা গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র জো হগসেট। পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজ্যের গভর্নর মাইক ব্রন ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।   তিনি জানিয়েছেন, এই দুর্যোগ ও ঐতিহাসিক বন্যার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট কেন্দ্রীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে শনিবার পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় দেড় লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন এবং উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় বহু পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।   ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় তারা অর্ধশত পানি থেকে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে, যেখানে ৯১ জন বাসিন্দা এবং ৪৫টি পোষা প্রাণীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। নোবলসভিল শহরের মেয়র ক্রিস জেনসেন জানিয়েছেন, সেখানে হোয়াইট নদীর পানি ১১৩ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে ২৪ দশমিক ৬ ফুটে পৌঁছেছে, যা ১৯১৩ সালের পর সর্বোচ্চ।   আবহাওয়া পূর্বাভাসে ইন্ডিয়ানাপোলিস, ওহাইওর কলম্বাস এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার চার্লসটনসহ বেশ কিছু এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক জোনাথন হুইথাম জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি অন্তত আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে, এরপরই পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৯:২৭
চুইংগাম চিবোলেই কমবে ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকি, ৯৩% ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করার দাবি
চুইংগাম চিবোলেই কমবে ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকি, ৯৩% ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করার দাবি

খুব শিগগিরই হয়তো সাধারণ চুইংগাম চিবানোর মতোই ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের বিশেষ চুইংগাম তৈরি করেছেন, যা ওরাল বা মুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী তিনটি জীবাণুকে আক্রমণ করতে সক্ষম। এর মধ্যে রয়েছে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা এইচপিভি, যা যৌনবাহিত সবচেয়ে সাধারণ একটি সংক্রমণ। লালারসের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই চুইংগামটি ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত ভাইরাস ধ্বংস করতে কার্যকর।   ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া স্কুল অব ডেন্টাল মেডিসিন-এর অধ্যাপক হেনরি ড্যানিয়েলের নেতৃত্বে একদল গবেষক এমন একটি অ্যান্টিভাইরাল বা ভাইরাসরোধী প্রোটিনের সন্ধানে কাজ শুরু করেছিলেন, যা বিভিন্ন ভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেগুলোকে ধ্বংস করতে পারে। গবেষণায় তারা দেখতে পান, হায়াসিন্থ বিন বা ল্যাবলাব বিনে 'এফআরআইএল' (FRIL) নামের এক ধরনের প্রোটিন রয়েছে।   এই প্রোটিন ভাইরাসগুলোকে একত্রে জমাট বাঁধতে বাধ্য করে, যার ফলে এগুলো সুস্থ মানবকোষে প্রবেশ করতে পারে না। শুধু তাই নয়, এই প্রোটিন আগে থেকেই কোষে প্রবেশ করা ভাইরাসগুলোকেও আটকে দিতে পারে, যা সংক্রমণকে আরও ছড়াতে বাধা দেয়। সংবাদমাধ্যমকে অধ্যাপক ড্যানিয়েল জানান, তারা মুখের ভেতরে থাকা অন্তত পাঁচটি ভিন্ন ধরনের ভাইরাস নিস্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছেন।   অধ্যাপক ড্যানিয়েলের মতে, এই চুইংগামে ভাইরাস ধ্বংস করার জন্য ঠিক যতটুকু বিন পাউডার বা শিমের গুঁড়া প্রয়োজন, তা ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি তৈরি করতে মাত্র কয়েক পয়সা খরচ পড়ে। অত্যন্ত সুলভ মূল্যে এটি তৈরি করা সম্ভব হওয়াই এই উদ্ভাবনের সবচেয়ে বড় সুবিধা।   তিনি আরও জানান, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য তাদের দলটি এখন মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদনের পর সরাসরি মানুষের ওপর এই চুইংগামের পরীক্ষা চালানো হবে। এই ট্রায়ালটি চার সপ্তাহ ধরে চলবে, যেখানে রোগীদের দিনে তিনবার চুইংগামটি চিবানোর নির্দেশ দেওয়া হবে।   প্রাথমিক পর্যায়ে এই চুইংগামটি ক্যানসারের প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি, যেমন রেডিয়েশন থেরাপি ও সার্জারির পাশাপাশি একটি সহায়ক থেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ড্যানিয়েলের আশা, ভবিষ্যতে এটি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই সাধারণ ওষুধের দোকানে পাওয়া যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের লক্ষ্য রোগীদের প্রচলিত ও প্রাকৃতিক চিকিৎসার মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা নয়; বরং এই প্রাকৃতিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলো ক্যানসারের পেছনে থাকা জীবাণু বা মাইক্রোবায়োমগুলোকে নির্মূল করা।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৯:২