সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
বিয়ের ছবিতে নীল রঙের ‘ইভিল আই’ প্রতীক দিয়ে স্বামীর মুখ ঢেকে রাখায় নেটদুনিয়ায় বিচ্ছেদের ও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অন্য নারীর নজর থেকে স্বামীকে বাঁচাতে বিয়ের ছবিতে মুখ ঢাকলেন ‘ইভিল আই’ স্টিকারে

বিয়ের ছবি প্রকাশ করেছেন, কিন্তু কোনো ছবিতেই স্বামীর মুখ দেখাননি। এমন একটি ঘটনা সামাজিক যোগা যোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দাবি করা হচ্ছে, অন্য নারীরা স্বামীকে দেখে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন, এই আশঙ্কাতেই নববধূ তার স্বামীর চেহারা গোপন রেখেছেন। তবে ভাইরাল পোস্টটির এই ব্যাখ্যার পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   সম্প্রতি একই ধরনের একটি বহুল আলোচিত ঘটনা ঘটেছে ভারতের ইন্টারনেট তারকা ও গায়িকা ধিনচ্যাক পূজাকে ঘিরে। ‘সেলফি ম্যায়নে লে লি আজ’ গানের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া পূজা বিয়ের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলেও শুরুতে স্বামীর মুখ দেখাননি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়।   পূজা জৈন নামে পরিচিত এই গায়িকা পরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন, তিনি সত্যিই বিয়ে করেছেন এবং এটি কোনো মিউজিক ভিডিও বা প্রচারণার অংশ নয়। তার স্বামীর নাম ইয়াভান। অনলাইনে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং কিছুদিন সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে ঘরোয়া আয়োজনে তারা বিয়ে করেন।   তবে স্বামীর মুখ লুকিয়ে রাখার কারণ হিসেবে অন্য নারীদের আগ্রহ বা ঈর্ষার কথা বলেননি পূজা। তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবন ব্যক্তিগত রাখতেই তারা আপাতত স্বামীর চেহারা প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। স্বামী একজন গায়ক বলেও জানিয়েছেন তিনি।   বিয়ের ছবি প্রকাশের পর পূজার অনুসারীদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার আকস্মিক বিয়ের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ স্বামীর পরিচয় জানতে আগ্রহ দেখান। তার জনপ্রিয় গানের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন বিয়ের গান তৈরির অনুরোধও করেন অনেকে।   ২০১৭ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সেলফি ম্যায়নে লে লি আজ’ গান ভাইরাল হওয়ার পর রাতারাতি আলোচনায় আসেন ধিনচ্যাক পূজা। পরে তিনি সালমান খান সঞ্চালিত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ১১’-তেও অংশ নেন।   এদিকে স্বামীর চেহারা লুকানোর সঙ্গে ‘অন্য নারীদের আগ্রহ’ ঠেকানোর যে ব্যাখ্যাটি বিভিন্ন পোস্টে ছড়ানো হচ্ছে, সেটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশ করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যাচাইযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত এই ঘটনায় স্বামীর পরিচয় আড়ালে রাখার কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথাই জানিয়েছেন নববধূ।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১১:৩৮
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার জঙ্গল থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগে উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতক ‘বেবি ইন্ডিয়া’। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ার জঙ্গলে ব্যাগে ফেলে দেয়া হয় নবজাতকে, চার বছর পর ডিএনএ টেস্টে শনাক্ত মা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার একটি জঙ্গলে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া নবজাতক ‘বেবি ইন্ডিয়া’র ঘটনা ছয় বছর পর আইনি পরিণতি পেয়েছে। ২০১৯ সালে জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ব্যাগে বেঁধে জঙ্গলে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় তার জন্মদাত্রী মা কারিমা জিওয়ানি পরে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।   ঘটনাটি ২০১৯ সালের ৬ জুন রাতে জর্জিয়ার ফরসাইথ কাউন্টিতে। অ্যালান রাগাটজের দুই কিশোরী মেয়ে বাড়ির কাছের জঙ্গল থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পায়। প্রথমে সেটিকে কোনো প্রাণীর শব্দ মনে হলেও বারবার কান্না শুনে তারা বাবাকে বিষয়টি জানায়। এরপর জঙ্গলে গিয়ে একটি বাঁধা প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে শিশুর কান্না আসছে বুঝতে পেরে তারা ৯১১-এ ফোন করেন।   ফরসাইথ কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাগ খুলে নবজাতক মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। তখনও তার শরীরে নাভির নাড়ি যুক্ত ছিল। পুলিশের বডি ক্যামেরায় উদ্ধার অভিযানের সেই মুহূর্ত ধরা পড়ে। ডেপুটি টেরি রোপার শিশুটিকে বের করার সময় তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।   পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্মীরা পরিচয়হীন নবজাতকদের জন্য রাখা নামের তালিকা থেকে তার নাম দেন ‘ইন্ডিয়া’। তদন্তকারীরা জানান, উদ্ধারের সময় শিশুটি ভালো অবস্থায় ছিল এবং পরবর্তী সময়েও সে সুস্থ ছিল।   তবে কে তাকে এভাবে জঙ্গলে ফেলে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্তকারীদের অপেক্ষা করতে হয় প্রায় চার বছর। উন্নত ডিএনএ ও ফরেনসিক জেনেটিক জিনিয়লজি প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে শিশুটির জৈবিক বাবাকে শনাক্ত করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, শিশুটিকে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় বাবার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ তারা পাননি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কারিমা জিওয়ানিকে শিশুটির জন্মদাত্রী মা হিসেবে শনাক্ত করা হয়।   ২০২৩ সালের মে মাসে ৪০ বছর বয়সী জিওয়ানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতা, গুরুতর হামলা ও শিশুকে পরিত্যাগসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, জিওয়ানি একটি গাড়ির ভেতরে শিশুটির জন্ম দিয়েছিলেন। এরপর কিছু সময় গাড়ি চালিয়ে নবজাতককে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে সেটির মুখ বেঁধে ডেভস ক্রিক রোডের কাছের নির্জন জঙ্গলে ফেলে যান। শেরিফ রন ফ্রিম্যান সে সময় বলেছিলেন, শিশুটিকে এমন কোনো জায়গায় রাখা হয়নি যেখানে সহজে কারও নজরে পড়ার সম্ভাবনা ছিল।   মামলাটি শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। জিওয়ানি হত্যাচেষ্টা এবং শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে মোট ৩০ বছরের সাজা দেয়। এর মধ্যে ১৫ বছর কারাগারে এবং বাকি ১৫ বছর প্রবেশনে কাটাতে হবে।   ঘটনার সময় জর্জিয়ায় নবজাতককে নিরাপদ স্থানে রেখে যাওয়ার আইনি ব্যবস্থা ছিল। নির্দিষ্ট শর্তে হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশনসহ অনুমোদিত স্থানে নবজাতককে নিরাপদে হস্তান্তরের সুযোগ থাকলেও বেবি ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রে সেই পথ অনুসরণ করা হয়নি।   সবচেয়ে স্বস্তির খবর, জঙ্গলে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়া সেই নবজাতক বেঁচে গেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বেবি ইন্ডিয়াকে পরে দত্তক নেওয়া হয়েছে। তার ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখা হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সে একটি পরিবারের সঙ্গে সুস্থ ও ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার একটি জঙ্গলে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া নবজাতক ‘বেবি ইন্ডিয়া’র ঘটনা ছয় বছর পর আইনি পরিণতি পেয়েছে। ২০১৯ সালে জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ব্যাগে বেঁধে জঙ্গলে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় তার জন্মদাত্রী মা কারিমা জিওয়ানি পরে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।   ঘটনাটি ২০১৯ সালের ৬ জুন রাতে জর্জিয়ার ফরসাইথ কাউন্টিতে। অ্যালান রাগাটজের দুই কিশোরী মেয়ে বাড়ির কাছের জঙ্গল থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পায়। প্রথমে সেটিকে কোনো প্রাণীর শব্দ মনে হলেও বারবার কান্না শুনে তারা বাবাকে বিষয়টি জানায়। এরপর জঙ্গলে গিয়ে একটি বাঁধা প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে শিশুর কান্না আসছে বুঝতে পেরে তারা ৯১১-এ ফোন করেন।   ফরসাইথ কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাগ খুলে নবজাতক মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। তখনও তার শরীরে নাভির নাড়ি যুক্ত ছিল। পুলিশের বডি ক্যামেরায় উদ্ধার অভিযানের সেই মুহূর্ত ধরা পড়ে। ডেপুটি টেরি রোপার শিশুটিকে বের করার সময় তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।   পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্মীরা পরিচয়হীন নবজাতকদের জন্য রাখা নামের তালিকা থেকে তার নাম দেন ‘ইন্ডিয়া’। তদন্তকারীরা জানান, উদ্ধারের সময় শিশুটি ভালো অবস্থায় ছিল এবং পরবর্তী সময়েও সে সুস্থ ছিল।   তবে কে তাকে এভাবে জঙ্গলে ফেলে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্তকারীদের অপেক্ষা করতে হয় প্রায় চার বছর। উন্নত ডিএনএ ও ফরেনসিক জেনেটিক জিনিয়লজি প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে শিশুটির জৈবিক বাবাকে শনাক্ত করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, শিশুটিকে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় বাবার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ তারা পাননি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কারিমা জিওয়ানিকে শিশুটির জন্মদাত্রী মা হিসেবে শনাক্ত করা হয়।   ২০২৩ সালের মে মাসে ৪০ বছর বয়সী জিওয়ানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতা, গুরুতর হামলা ও শিশুকে পরিত্যাগসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, জিওয়ানি একটি গাড়ির ভেতরে শিশুটির জন্ম দিয়েছিলেন। এরপর কিছু সময় গাড়ি চালিয়ে নবজাতককে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে সেটির মুখ বেঁধে ডেভস ক্রিক রোডের কাছের নির্জন জঙ্গলে ফেলে যান। শেরিফ রন ফ্রিম্যান সে সময় বলেছিলেন, শিশুটিকে এমন কোনো জায়গায় রাখা হয়নি যেখানে সহজে কারও নজরে পড়ার সম্ভাবনা ছিল।   মামলাটি শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। জিওয়ানি হত্যাচেষ্টা এবং শিশুর প্রতি প্রথম ডিগ্রির নিষ্ঠুরতার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাকে মোট ৩০ বছরের সাজা দেয়। এর মধ্যে ১৫ বছর কারাগারে এবং বাকি ১৫ বছর প্রবেশনে কাটাতে হবে।   ঘটনার সময় জর্জিয়ায় নবজাতককে নিরাপদ স্থানে রেখে যাওয়ার আইনি ব্যবস্থা ছিল। নির্দিষ্ট শর্তে হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশনসহ অনুমোদিত স্থানে নবজাতককে নিরাপদে হস্তান্তরের সুযোগ থাকলেও বেবি ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রে সেই পথ অনুসরণ করা হয়নি।   সবচেয়ে স্বস্তির খবর, জঙ্গলে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়া সেই নবজাতক বেঁচে গেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বেবি ইন্ডিয়াকে পরে দত্তক নেওয়া হয়েছে। তার ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখা হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সে একটি পরিবারের সঙ্গে সুস্থ ও ভালোভাবে বেড়ে উঠছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১১:২৯
ডেটিং অ্যাপে কথিত প্রোফাইল ঘিরে বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশন ও সাবা আজাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ডেটিং অ্যাপে হৃতিকের প্রোফাইল, আবারও কি সিঙ্গেল হৃতিক রোশন!

বলিউড তারকা হৃতিক রোশনের নামে সেলিব্রিটিদের ডেটিং অ্যাপ ‘রায়া’য় একটি কথিত প্রোফাইল সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী সাবা আজাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কে থাকা হৃতিক কেন ডেটিং অ্যাপে, সেই প্রশ্ন থেকেই তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে প্রোফাইলটি সত্যিই হৃতিকের কি না কিংবা সেটি বর্তমানে সক্রিয় কি না, তার কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।   ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেডিটে একজন ব্যবহারকারী হৃতিকের বলে দাবি করা রায়া প্রোফাইলের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। এরপরই সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং হৃতিক ও সাবার সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়।   তবে শুধু একটি স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে হৃতিক এখন রায়া ব্যবহার করছেন বা নতুন সম্পর্কে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত হৃতিক বা সাবা কেউই বিচ্ছেদের কোনো ঘোষণা দেননি। কথিত রায়া প্রোফাইল নিয়েও তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি।   বিষয়টিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে পুরোনো তথ্য। ২০২৪ সালেও হৃতিকের নামে রায়ায় একটি প্রোফাইল থাকার দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে সম্প্রতি সামনে আসা স্ক্রিনশটটি নতুন বা বর্তমানে সক্রিয় কোনো অ্যাকাউন্টের কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।   হৃতিক ও সাবার সম্পর্কের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালে। ওই বছরের শুরুতে মুম্বাইয়ে তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও পারিবারিক আয়োজনে একসঙ্গে উপস্থিত হয়ে নিজেদের সম্পর্ক কার্যত প্রকাশ্যেই রাখেন তারা।   এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে হৃতিকের ৫২তম জন্মদিনে সাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন। গত জুলাইয়েও হৃতিককে সাবা এবং তার দুই ছেলে হ্রেহান ও হৃদানকে সঙ্গে নিয়ে ছুটি কাটিয়ে ফেরার সময় বিমানবন্দরে দেখা যায়। অর্থাৎ কথিত ডেটিং প্রোফাইল নিয়ে নতুন গুঞ্জনের অল্প সময় আগেও তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে।   রায়া সাধারণ ডেটিং অ্যাপগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ব্যক্তিগত ও সদস্যপদনির্ভর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। বিনোদনজগতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে অ্যাপটি ব্যবহারের নজির রয়েছে। সদস্যদের গোপনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কারণে সেখানে থাকা কোনো ব্যক্তির প্রোফাইল সম্পর্কে বাইরে থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া কঠিন।   ফলে হৃতিকের নামে ছড়িয়ে পড়া প্রোফাইলটি আসল কি না, সেটি পুরোনো নাকি বর্তমানে সক্রিয় এবং সাবা আজাদের সঙ্গে তার সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা কী, এসব প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর এখনো নেই। হৃতিক বা সাবার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত তাদের বিচ্ছেদের খবরকে নিশ্চিত তথ্য নয়, গুঞ্জন হিসেবেই দেখতে হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১১:৫
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ভাহিদি। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধের সাফল্য প্রমাণ করেছে, ইসলাম বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে: ইরানের শীর্ষ কমান্ডার

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ছয় মাসের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইআরজিসি প্রধান আহমাদ ভাহিদির দাবি; মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে   ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ভাহিদি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানের সামরিক কার্যক্রম প্রমাণ করেছে যে ইসলাম বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।   শনিবার প্রকাশিত এক বার্তায় আহমাদ ভাহিদি গত ছয় মাসের যুদ্ধের কথা তুলে ধরে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করেছে, “ইসলামকে বিশ্ব শাসনের সক্ষমতা অর্জন করানো সম্ভব।”   তিনি আইআরজিসির পাশাপাশি ইরানের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বাসিজ বাহিনীর প্রশংসা করেন। তাঁর দাবি, এসব বাহিনীর সামরিক তৎপরতা বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হাঁটু গেড়ে বসতে’ বাধ্য করেছে।   আহমাদ ভাহিদি আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক প্রতিরোধ বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের জন্য ‘বিদ্রোহের দরজা খুলে দিয়েছে’।   তবে ইরানের এই বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মূল্যায়নের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত চলাকালে ইরানের নৌবাহিনীর বড় অংশ, পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত হরমুজ প্রণালির আশপাশে বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েন রেখেছে। এই নৌপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংঘাতের শুরু থেকেই এর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা রয়েছে।   যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও বড় একটি অংশ নিহত হয় বলে মার্কিন পক্ষের মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব হামলার পরও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে রয়েছে।   আহমাদ ভাহিদির বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছে। তাঁর বক্তব্যে সামরিক প্রতিরোধকে ইসলামী আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে ইরানের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।   তবে ভাহিদির দাবির বিপরীতে যুদ্ধের সামরিক বাস্তবতায় ইরানের নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। ফলে ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যুদ্ধকে প্রতিরোধের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও সংঘাতে দেশটির সামরিক সক্ষমতা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১০:৫২
নরওয়ের স্বালবার্ডে ঘুমন্ত মেরু ভাল্লুককে জাহাজের হর্ন বাজিয়ে জাগানোর অপরাধে এক ব্যক্তিকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ঘুমন্ত মেরু ভাল্লুককে জাগানোর জন্য শাস্তি! গুনতে হলো ৫ হাজার ডলারের বেশি জরিমানা

ঘুমিয়ে থাকা একটি মেরুভাল্লুককে ইচ্ছাকৃতভাবে জাহাজের হর্ন বাজিয়ে জাগানোর ঘটনায় নরওয়েতে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার নরওয়েজিয়ান ক্রোনার জরিমানা করা হয়েছে। মার্কিন মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৩০০ ডলার। নরওয়ের স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে চলতি আগস্টে ঘটনাটি ঘটে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি একটি নৌযানে করে স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জের উপকূলীয় এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় নৌযানে থাকা লোকজন স্থলভাগে একটি মেরু ভাল্লুককে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন। এরপর ওই ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে জাহাজের ফগহর্ন বাজান।   বিকট শব্দে মেরু ভাল্লুকটির ঘুম ভেঙে যায়। এরপর সেটি ওই স্থান ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যায়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   স্বালবার্ডের আইন অনুযায়ী, প্রয়োজন ছাড়া মেরু ভাল্লুককে বিরক্ত করা, আকৃষ্ট করা বা তাড়া করা নিষিদ্ধ। আইন ভাঙার দায়ে ওই ব্যক্তিকে ৫০ হাজার নরওয়েজিয়ান ক্রোনার জরিমানা করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি জরিমানা মেনে নিয়ে অর্থ পরিশোধ করেছেন।   নরওয়ের মূল ভূখণ্ড ও উত্তর মেরুর মাঝামাঝি আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত স্বালবার্ড  ভাল্লুকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। সেখানে ভাল্লুক দেখার জন্য প্রতি বছর বহু পর্যটক গেলেও প্রাণীগুলোর কাছাকাছি যাওয়া বা তাদের স্বাভাবিক আচরণে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।   স্বালবার্ডে মেরু ভাল্লুক ১৯৭০-এর দশকের শুরু থেকে সুরক্ষিত প্রাণী হিসেবে বিশেষ আইনি সুরক্ষা পেয়ে আসছে। পর্যটন ও নৌযান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেরু ভাল্লুকের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাসহ বন্যপ্রাণী সুরক্ষার নিয়ম আরও গুরুত্বের সঙ্গে প্রয়োগ করা হচ্ছে।   কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বন্যপ্রাণীকে শুধু শারীরিকভাবে আঘাত করলেই আইন লঙ্ঘন হয় না। অপ্রয়োজনে শব্দ করে ভয় দেখানো বা বিশ্রামে থাকা প্রাণীকে স্থান পরিবর্তনে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডও শাস্তিযোগ্য হতে পারে। এই ঘটনাতেও মেরু ভাল্লুকটির কোনো শারীরিক ক্ষতির খবর না থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটানোর কারণেই জরিমানা করা হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১০:৩৮
মিসিসিপির বেনোয়া মিউনিসিপ্যাল কোর্টের নতুন বিচারক ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী আসমা আলী। ছবি: সংগৃহীত
শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে হিজাব পরেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কে এই আসমা আলী?

মিসিসিপির শহর বেনোয়ার মিউনিসিপ্যাল কোর্টে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে আলোচনায় এসেছেন ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী আইনজীবী আসমা আলী। বিচারকের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার মুসলিম পরিচয় ও হিজাবকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা এবং বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার খবরও সামনে এসেছে। তবে তার পেশাগত পরিচয় নতুন নয়। ইমিগ্রেশন আইনজীবী হিসেবে প্রায় এক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।   আসমা আলী ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তার নিজের আইন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, তার বাবা-মা ১৯৭০-এর দশকে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় ইয়েমেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রেই বেড়ে ওঠা আসমা পরবর্তী সময়ে আইন পেশায় নিজের অবস্থান তৈরি করেন।    আইনজীবী হিসেবে আসমার মূল কাজ ইমিগ্রেশন আইন নিয়ে। অ্যাসাইলাম, ডিপোর্টেশন প্রতিরোধ, গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্ব, ফ্যামিলি ইমিগ্রেশন, ইমিগ্রেশন বন্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি মামলা পরিচালনা করেছেন। ইমিগ্রেশন কোর্ট, ইউএসসিআইএস এবং আইসিইর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলাতেও তিনি ক্লায়েন্টদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।    শিক্ষাজীবনেও তার পথচলা ছিল আইনকেন্দ্রিক। তিনি ২০১০ সালে বেকার্সফিল্ড কলেজ থেকে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, বেকার্সফিল্ড থেকে ২০১৩ সালে ক্রিমিনাল জাস্টিসে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরে মিসিসিপি কলেজ স্কুল অব ল থেকে ২০১৭ সালে জুরিস ডক্টর ডিগ্রি অর্জন করেন।    ২০১৭ সালে মিসিসিপি বারে আইনজীবী হিসেবে ভর্তি হওয়ার পর আসমা ইমিগ্রেশন আইনকে পেশার প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন। বর্তমানে তিনি রিজল্যান্ড, মিসিসিপিভিত্তিক আলী অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের প্রতিষ্ঠাতা ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি। তার প্রতিষ্ঠান জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইমিগ্রেশন মামলায় তিনি ক্লায়েন্টদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।    আইন পেশায় কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন আসমা। মিসিসিপি বারের নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচির সাবেক অংশগ্রহণকারী তিনি। তার পেশাগত প্রোফাইলে টপ ৪০ আন্ডার ৪০, আরব আমেরিকান ফাউন্ডেশনের টপ ৩০ আন্ডার ৩০ এবং মিসিসিপির ইমিগ্রেশন আইনজীবী হিসেবে বিভিন্ন পুরস্কার ও স্বীকৃতির তথ্য রয়েছে। ২০২৬ সালেও তিনি মিসিসিপির আইনি অঙ্গনে বিভিন্ন পেশাগত স্বীকৃতি পেয়েছেন।    মুসলিম আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম ল’য়ার্সের সঙ্গেও আসমা যুক্ত। একই সঙ্গে তিনি মিসিসিপি বার, আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন এবং আমেরিকান ইমিগ্রেশন ল’য়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য।    বিচারক হিসেবে তার নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই তার ধর্মীয় পরিচয় ও হিজাবকে ঘিরে। অনলাইনে তার নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে সমর্থন করা ব্যক্তিরাও তার পেশাগত যোগ্যতা ও দীর্ঘ আইনজীবী জীবনের কথা তুলে ধরেছেন।    তবে আসমা আলীর পেশাগত পথচলার দিকে তাকালে দেখা যায়, বিচারকের আসনে বসার আগেই তিনি মিসিসিপির আইন অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। মিসিসিপি বারের নথিতেও তার পেশাগত কর্মকাণ্ডের উপস্থিতি রয়েছে এবং ২০২৩ সালে তিনি লিডারশিপ মিসিসিপি বার কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী ছিলেন।    ইমিগ্রেশন আইনজীবী থেকে মিউনিসিপ্যাল বিচারকের বেঞ্চে আসা আসমা আলীর গল্প তাই শুধু একটি নতুন পদে নিয়োগের ঘটনা নয়। ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা, ক্রিমিনাল জাস্টিসে পড়াশোনা, আইন ডিগ্রি অর্জন, ইমিগ্রেশন আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ এবং শেষ পর্যন্ত হিজাব পরেই বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ তার পেশাগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১০:২৯
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল জাম্বোরিতে ক্ষুধার্ত মানুষের সহায়তায় রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করেছেন তরুণ স্কাউটরা। ছবি: সংগৃহীত
২০ হাজারের লক্ষ্য, সংগ্রহ হলো ৯৩ হাজারের বেশি খাবার, ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ স্কাউটরা

ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ স্কাউটদের নেওয়া খাদ্য সংগ্রহ কর্মসূচি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বড় সাফল্য পেয়েছে। ২০২৬ সালের ন্যাশনাল জাম্বোরিকে ২০ হাজার খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৯৩ হাজারের বেশি খাদ্যসামগ্রী।    স্কাউটিং আমেরিকার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয় ‘এলিভেট হাঙ্গার রিলিফ’। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার সামিট বেকটেল রিজার্ভে ২২ থেকে ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত ২০২৬ ন্যাশনাল জাম্বোরিতে দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্কাউট, স্বেচ্ছাসেবক ও অংশগ্রহণকারীরা এতে যুক্ত হন।    জাম্বোরির আগে আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল ২০ হাজার খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে সামিট বেকটেল রিজার্ভের আশপাশের চার থেকে ছয়টি কাউন্টির ফুড ব্যাংকগুলোতে পৌঁছে দেওয়া। অংশগ্রহণকারী স্কাউট ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রত্যেককে অন্তত দুটি নন-পেরিশেবল খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আসতে উৎসাহিত করা হয়েছিল।    কিন্তু নির্ধারিত লক্ষ্য পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ৯৩ হাজারের বেশি খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ হয়। অর্থাৎ প্রাথমিক লক্ষ্যের চার গুণেরও বেশি খাবার মানুষের সহায়তার জন্য একত্র করা হয়েছে।    স্কাউটিং আমেরিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খাদ্যসংকটে থাকা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের কমিউনিটির প্রতি দায়বদ্ধতা, নেতৃত্ব ও স্বেচ্ছাসেবার মূল্যবোধে উৎসাহিত করা হয়েছে।   ২০২৬ সালের ন্যাশনাল জাম্বোরিতে শুধু খাদ্য সংগ্রহই নয়, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সেবামূলক আরও কার্যক্রমও পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে স্কাউটদের অংশগ্রহণে হাজার হাজার হাইজিন কিট তৈরি করা হয়, যা সাম্প্রতিক ঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিম ভার্জিনিয়ার পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটিগুলোর জন্য শেল্ফ-স্টেবল খাবারও সরবরাহ করা হয়েছে।    স্কাউটিং আমেরিকার এই উদ্যোগের পেছনে ছিল একটি সহজ বার্তা, বড় পরিবর্তনের জন্য সব সময় বড় কিছু দিয়ে শুরু করতে হয় না। একজন স্কাউটের আনা দুটি খাবারের প্যাকেটও যখন হাজারো মানুষের অংশগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সেটিই হয়ে উঠতে পারে একটি বড় মানবিক সহায়তা।   ২০ হাজারের লক্ষ্য থেকে ৯৩ হাজারের বেশি খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহের এই ঘটনা তাই শুধু একটি সফল খাদ্য সংগ্রহ কর্মসূচির হিসাব নয়। এটি দেখিয়েছে, তরুণদের নেতৃত্বে একটি ছোট উদ্যোগও সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য বড় ধরনের সহায়তায় পরিণত হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১০:১৯
বন্দুক হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভোর সকালে বন্দুক হামলা, আহত পাঁচজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বন্দুক হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর কাছে গোলাগুলির পর পুরো ক্যাম্পাস কয়েক ঘণ্টার জন্য লকডাউন করে দেওয়া হয়। হামলায় একাধিক সন্দেহভাজন জড়িত বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।   চেস্টারফিল্ড কাউন্টি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত দেড়টার দিকে বোয়াসো স্ট্রিটের ৩৩০০ ব্লকে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের বাইরে গুলিবিদ্ধ পাঁচজনকে পাওয়া যায়। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। চারজনের আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানানো হয়েছে। অন্য একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।   ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, গোলাগুলির ঘটনাটি ক্যাম্পাসের কোয়াড অ্যানেক্সেস এলাকার কাছে ঘটে। ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়।   কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার সকালে ক্যাম্পাসের লকডাউন তুলে নেওয়া হয়। তবে তদন্তের কারণে ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। চেস্টারফিল্ড কাউন্টি পুলিশের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস ব্যুরো এবং হ্যানোভার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় তদন্তে সহায়তা করছে।   শনিবার সকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। হামলার পেছনে কী কারণ ছিল এবং সন্দেহভাজনদের পরিচয় কী, সে বিষয়েও বিস্তারিত প্রকাশ করেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শী বা ঘটনা সম্পর্কে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের চেস্টারফিল্ড কাউন্টি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।   গোলাগুলির সময়টিও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফল সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে এ ঘটনা ঘটেছে। সোমবার থেকে নতুন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। এরই মধ্যে নতুন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে স্বাগত জানানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছিল।   ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। এটি ভার্জিনিয়ার এট্রিক এলাকায়, রিচমন্ড শহর থেকে প্রায় ২০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। ক্যাম্পাসে গোলাগুলির পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও কর্মীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১০:১০
বেটার ডটকমের শীর্ষ পদ থেকে বরখাস্ত বিশাল গর্গ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সিইও ড্যানিয়েল লুইস। ছবি: সংগৃহীত
জুমে ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা সেই সিইও এবার নিজেই বরখাস্ত, পদ ফিরে পেতে লড়াই

একটি জুম কলে একসঙ্গে প্রায় ৯০০ কর্মীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন বেটার ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিশাল গর্গ। প্রায় পাঁচ বছর পর এবার নিজের প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ থেকেই বরখাস্ত হয়েছেন তিনি। তবে সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন নিয়ে বোর্ডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন গর্গ।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডিজিটাল মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্স হোল্ডিং কোম্পানির বোর্ড চলতি আগস্টে গর্গকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেয়। কোম্পানির বোর্ড তার নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। গর্গ অবশ্য এসব অভিযোগের কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করেছেন।   ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ২০২১ সালের বহুল সমালোচিত সেই জুম কলের কারণে। ওই বছরের ডিসেম্বরে গর্গ প্রায় ৯০০ কর্মীকে একটি অনলাইন মিটিংয়ে ডেকে জানান, তাদের চাকরি তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ছুটির মৌসুমের ঠিক আগে এত কর্মীকে একই জুম কলে ছাঁটাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।   ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গর্গ নিজের পদ্ধতির জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেছিলেন, ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি যথাযথ সম্মান ও সংবেদনশীলতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিতর্কের জেরে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি আবার সিইও পদে ফিরে আসেন।   এরপরও বেটারের পরিস্থিতি সহজ হয়নি। আবাসন ও মর্টগেজ বাজারের পরিবর্তন, কর্মী ছাঁটাই এবং আর্থিক ক্ষতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। ২০২৩ সালে শেয়ারবাজারে প্রবেশের প্রথম দিনেই বেটারের শেয়ারের দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে।   এবার গর্গকে সরানোর পর কোম্পানির অন্তর্বর্তী সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড্যানিয়েল লুইস। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্যেই বেটারের ভেতরে নতুন করে বোর্ডরুম লড়াই শুরু হয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্গের পক্ষে থাকা শেয়ারহোল্ডারদের একটি অংশ কোম্পানির বর্তমান নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে চাইছে। গর্গের পক্ষের দাবি, তাদের সঙ্গে এমন বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন যাদের হাতে কোম্পানির প্রায় ৫২ শতাংশ ভোটিং শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তারা অন্তর্বর্তী সিইও লুইসসহ বোর্ডের পাঁচ সদস্যকে সরানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন।   অন্যদিকে বেটারের বোর্ড গর্গকে সরানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্গকে বাদ দিয়ে বোর্ডের অন্য সদস্যরা তাকে সরানোর পক্ষে সর্বসম্মতভাবে ভোট দেন। বোর্ড তার নেতৃত্ব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক উদ্বেগের কথা তুলেছে। গর্গের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের কিছু অংশের সত্যতা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে।   ফলে প্রায় পাঁচ বছর আগে শত শত কর্মীকে এক জুম কলে চাকরি হারানোর খবর দেওয়া যে সিইও নিজেই বিশ্বজুড়ে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছিলেন, এখন সেই গর্গের নিজের চাকরি হারানো এবং আবার সিইও পদ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা বেটারের নতুন করপোরেট লড়াইয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৯:৫৯
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রচলিত ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ আইন বহাল রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ফ্যামিলি স্পন্সরশিপে নতুন গাইডলাইন, আবেদনকারীদের জন্য যা জানা জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যামিলি স্পন্সরশিপের নিয়ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ইউএসসিআইএস ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্র্যান্ট পিটিশন যাচাইয়ে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করেছে, অন্যদিকে কংগ্রেসে উত্থাপিত একটি বিল পাস হলে বাবা-মা, ভাই-বোন ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের স্পন্সর করার বর্তমান সুযোগের বড় অংশই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রস্তাবিত সেই বিল এখনো আইন হয়নি। বর্তমানে প্রচলিত ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ আইনই বহাল রয়েছে।   ইউএসসিআইএস ২০২৫ সালের ১ আগস্ট ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন নিয়ে পলিসি ম্যানুয়ালে নতুন নির্দেশনা যোগ করে। এটি ওই তারিখে নতুন করে জমা দেওয়া আবেদনের পাশাপাশি তখন পেন্ডিং থাকা পিটিশনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়।   নতুন নির্দেশনায় ইউএসসিআইএস স্পষ্ট করেছে, ফ্যামিলি-বেসড গ্রিন কার্ডের ভিত্তি যে পারিবারিক সম্পর্ক, সেটি সত্য ও আইনসম্মত কি না তা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পরীক্ষা করা হবে। বিশেষ করে বিয়ের ভিত্তিতে করা পিটিশনে বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধতা এবং আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ।   ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে পিটিশনার ও বেনিফিশিয়ারিকে ইন্টারভিউতে ডাকতে পারেন। ফলে নতুন নিয়মকে সব ফ্যামিলি পিটিশনের জন্য বাধ্যতামূলক ইন-পারসন ইন্টারভিউ হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। বরং কোন পরিস্থিতিতে ইন্টারভিউ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে ইউএসসিআইএস তার কর্মকর্তাদের নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করেছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নোটিস টু অ্যাপিয়ার বা এনটিএ। শুধু আই-১৩০ পিটিশন অনুমোদিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের নিশ্চয়তা দেয় না। ইউএসসিআইএসের নীতিতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি আইন অনুযায়ী রিমুভেবল হলে প্রযোজ্য পরিস্থিতিতে এনটিএ ইস্যু করা হতে পারে। এনটিএ হচ্ছে ইমিগ্রেশন কোর্টে রিমুভাল প্রসিডিংস শুরু করার আনুষ্ঠানিক নোটিস।   এর মধ্যেই ফ্যামিলি ইমিগ্রেশনের কাঠামো আরও বড়ভাবে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে কংগ্রেসে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ব্যারি মুর ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল এইচআর ৮৫৮৬ বা ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন। পরদিন তার কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিলটির বিস্তারিত প্রকাশ করে।   বিলটি বর্তমান অবস্থায় পাস হলে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে স্পন্সর করার যোগ্য আত্মীয়ের তালিকায়। প্রস্তাবে মার্কিন নাগরিকদের ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ ক্যাটাগরি থেকে বাবা-মাকে বাদ দিয়ে মূলত স্বামী বা স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান আইনের এক্সটেন্ডেড ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিগুলোর বড় অংশ বাতিল করার প্রস্তাব রয়েছে।   বর্তমান আইনে মার্কিন নাগরিকরা নির্দিষ্ট শর্তে স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং ভাই-বোনের জন্য পিটিশন করতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীরাও নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানের জন্য আবেদন করতে পারেন। কাজেই এখনই বাবা-মা বা ভাই-বোনের স্পন্সরশিপ বন্ধ হয়ে গেছে এমন দাবি সঠিক নয়।   আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্টে ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি আইনগতভাবে বাতিল করার প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ড কাঠামোর পরিবর্তে পয়েন্টভিত্তিক মেরিট সিস্টেম চালুর কথা বলা হয়েছে। সেখানে শিক্ষা, ইংরেজিতে দক্ষতা, উচ্চ বেতনের চাকরির অফারসহ বিভিন্ন যোগ্যতার ভিত্তিতে পয়েন্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   ডিভি লটারি নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ডিভি প্রোগ্রাম আইন থেকে বিলুপ্ত হয়নি। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর স্টেট ডিপার্টমেন্ট ডাইভারসিটি ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং স্ক্রিনিং ও ভেটিং ব্যবস্থা পর্যালোচনার কথা জানায়। অর্থাৎ প্রশাসনিকভাবে ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা এবং কংগ্রেসের মাধ্যমে ডিভি প্রোগ্রাম পুরোপুরি বাতিল করা এক বিষয় নয়।   বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও বড় একটি বিষয় রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারির নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু ২১ জানুয়ারি থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যখন সংশ্লিষ্ট স্ক্রিনিং ও পাবলিক বেনিফিটস নীতি পর্যালোচনা চলছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্র্যান্ট ভিসার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শুধু আই-১৩০ নিয়ম নয়, এই আলাদা ভিসা-ইস্যু নীতিটিও গুরুত্বপূর্ণ।   এদিকে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট বা আই-৮৬৪ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রেডিট স্কোর, তিন বছরের সার্টিফায়েড ট্যাক্স রিটার্ন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে বলে যেসব দাবি ছড়াচ্ছে, সেগুলোকে বর্তমান কার্যকর নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। কোনো প্রস্তাবিত পরিবর্তন এবং বর্তমানে কার্যকর আইনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নতুন কোনো বিধি কার্যকর হলে তার কার্যকর হওয়ার তারিখ ও চূড়ান্ত শর্ত সরকারি ঘোষণায় নির্ধারিত হয়।   তবে আই-৮৬৪ সই করার পর স্পন্সরের আর্থিক দায় দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। শুধু ডিভোর্স হয়ে গেলেই সাধারণভাবে সেই দায় শেষ হয়ে যায় না। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ঘটনা ঘটলে স্পন্সরের দায়িত্ব শেষ হতে পারে।   সব মিলিয়ে এখন ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ বন্ধ হয়নি এবং বাবা-মা বা ভাই-বোনকে স্পন্সর করার বর্তমান আইনও বাতিল হয়নি। কিন্তু ইউএসসিআইএসের যাচাই ও ভেটিং নীতি আগের তুলনায় কঠোর হয়েছে এবং কংগ্রেসে এমন একটি বিল রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আইন হলে পুরো ফ্যামিলি ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাই উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিতে পারে। তাই আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও পারিবারিক পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং জটিল ক্ষেত্রে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৯:৩৭
যিনি তার গ্রামের কৃষিজমিতে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার অভিযোগে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রাসায়নিক কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য ১৬ বছর ধরে নিজে নিজে আইন শিখেছেন। ছবি:সংগৃহীত
নিজের জমির বিচার পেতে ১৬ বছর আইন শিখলেন কৃষক, আদালতে পেলেন জয়

প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা মাত্র তিন বছর। আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্যও ছিল না। কিন্তু রাসায়নিক বর্জ্যে নিজের ও প্রতিবেশীদের কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার অভিযোগের বিচার পেতে হাল ছাড়েননি চীনের কৃষক ওয়াং এনলিন। দীর্ঘ ১৬ বছর নিজে আইন শিখে রাষ্ট্রায়ত্ত রাসায়নিক কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালে প্রাথমিক রায়ে তার ও গ্রামের অন্য কৃষকদের পক্ষেই সিদ্ধান্ত দেন আদালত।   ঘটনাটি চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশের ইউশুতুন গ্রামের। ২০১৭ সালে এএফপি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ওয়াংয়ের এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের খবর প্রকাশিত হয়। প্রায় এক দশক পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গল্পটি আবারও ছড়িয়ে পড়েছে।   ওয়াংয়ের লড়াইয়ের শুরু ২০০১ সালে। তার অভিযোগ ছিল, কাছের কিহুয়া গ্রুপের রাসায়নিক কারখানা থেকে বের হওয়া বর্জ্য তার বাড়ি এবং আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ে। আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, কারখানাটি বছরের পর বছর বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক বর্জ্য ওই এলাকায় ফেলেছিল।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তৎকালীন প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার নথি অনুযায়ী প্রায় ৭০ একরের বেশি কৃষিজমি রাসায়নিক বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বছরে গড়ে প্রায় ২০ হাজার টন রাসায়নিক বর্জ্য সেখানে ফেলার অভিযোগও করা হয়। কাছের একটি জলাশয়ের পানিও দূষিত হওয়ার অভিযোগ ছিল।   নিজের জমির ক্ষতির প্রতিকার চেয়ে প্রথমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে যান ওয়াং। কিন্তু কীভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে এবং কোন আইনের অধীনে প্রতিকার চাইতে হবে, সে সম্পর্কে তার পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না।সেখান থেকেই শুরু হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক যাত্রা।   ওয়াং ছোটবেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন। জটিল আইনি ভাষা বোঝার মতো শিক্ষাগত প্রস্তুতিও তার ছিল না। তারপরও নিজের অধিকার বুঝতে তিনি আইন পড়া শুরু করেন।   ২০১৭ সালে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াং জানান, একটি আইনের বই এবং অভিধান নিয়ে তিনি নিজে নিজে পড়াশোনা করেছেন। আইনের কঠিন শব্দ বুঝতে অভিধানের সাহায্য নিতেন। প্রয়োজনীয় অংশ লিখে রাখতেন এবং ধীরে ধীরে পরিবেশ ও ভূমি সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন বিষয় বোঝার চেষ্টা করতেন।   তার আইন শেখার গল্পের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি ছিল স্থানীয় বইয়ের দোকানের সঙ্গে তার সম্পর্ক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় দোকানে বসে আইনের বই পড়তেন এবং প্রয়োজনীয় অংশ হাতে লিখে নিতেন। বিনিময়ে দোকানের মালিককে নিজের উৎপাদিত ভুট্টা দিতেন।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত গল্পের মতো ওয়াং একা কোনো আইনজীবীর সহায়তা ছাড়াই পুরো মামলা পরিচালনা করে জয় পেয়েছিলেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। তার দীর্ঘ প্রচেষ্টার এক পর্যায়ে পরিবেশদূষনের শিকার ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দেওয়া একটি সংগঠন এবং আইন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতাও পান তিনি ও গ্রামের অন্য বাসিন্দারা।   দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০১৫ সালে আদালত মামলাটি গ্রহণ করে। এরপর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক রায়।   কিকিহার শহরের একটি জেলা আদালত কিহুয়া গ্রুপকে সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক বর্জ্য পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ফসলের ক্ষতির জন্য ইউশুতুন গ্রামের ৫৫টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার ইউয়ান ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। সে সময় এর মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।   তবে ওই রায়ের মাধ্যমেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। কিহুয়া গ্রুপ আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। ফলে ২০১৭ সালের প্রথম দিকের জয়টি ছিল ওয়াং ও তার প্রতিবেশীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক বিজয়।   একই বছরের নভেম্বরে এএফপি যখন ওয়াংয়ের সঙ্গে কথা বলে, তখন তার বয়স ছিল ৬৪ বছর। দীর্ঘ লড়াইয়ের পরও তিনি পিছিয়ে যেতে রাজি ছিলেন না। নিজের আইনি জ্ঞান শুধু ব্যক্তিগত লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রামের অন্য বাসিন্দাদেরও তাদের অধিকার সম্পর্কে বোঝাতে শুরু করেছিলেন তিনি।   ওয়াং ও তার সহযোগীরা নিজেদের দলটির নাম দিয়েছিলেন ‘সিনিয়র সিটিজেন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন টিম’। তার বাড়িতেই গ্রামের মানুষ জড়ো হয়ে পরিবেশ, আইন ও নিজেদের অধিকার নিয়ে আলোচনা করতেন।   ওয়াং এনলিনের গল্পটি তাই শুধু একজন কৃষকের ১৬ বছর ধরে আইন পড়ার ঘটনা নয়। এটি শিল্পদূষণের বিরুদ্ধে একটি গ্রামের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের গল্পও। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া একজন কৃষক নিজের জমির ক্ষতির বিচার চাইতে অভিধান হাতে আইন শেখা শুরু করেছিলেন। সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত তাকে আদালতের দরজা পর্যন্ত নিয়ে যায় এবং গ্রামের ৫৫টি পরিবারের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক রায় এনে দেয়।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৯:২০
ঢাকার উত্তরার একটি ফিলিং স্টেশন থেকে ১.২১৫ কোটি টাকার চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পাঁচ সন্দেহভাজনকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গ্রেপ্তার করেছে। ছবি:সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের পাম্পের ছিনতাইকৃত ১ কোটি ২১ লাখ টাকার ১২ লাখ টাকা উদ্ধার, জড়িত ৮

রাজধানীর উত্তরায় ডিএল পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি পিস্তল, গুলি, র‍্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ওয়াকিটকি ও হাতকড়াসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।   শুক্রবার ১৪ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. ইলিয়াস শিকদার, জাফর, মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল, মিন্টু রাড়ী ও সাগর বাড়ৈ। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে তিনজন সরাসরি ছিনতাইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।   পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে চারটি ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, নগদ ১২ লাখ টাকা, র‍্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকিটকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বর প্লেট ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে গত রোববার সকালে বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে। ডিএল পেট্রোল পাম্পের তিন কর্মচারী পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের পূবালী ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন।   মামলার এজাহার অনুযায়ী, পাম্পের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ আল আমিনসহ তিন কর্মচারী একটি সিএনজিচালিত কভার্ডভ্যানে টাকা নিয়ে রওনা হন। বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ছয় থেকে সাতজন তাদের গাড়ির গতিরোধ করে।   এ সময় ছিনতাইকারীরা আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে এবং পিস্তল দেখিয়ে টাকার ব্যাগ নিয়ে নেয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তারা আব্দুল্লাহপুরের দিকে পালিয়ে যায়।   ঘটনার পর পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার আব্দুল করিম অজ্ঞাত ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। এরপর তদন্তে নামে ডিবি।   ডিবি জানিয়েছে, তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রথমে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ইলিয়াস ও জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাতুয়াইল থেকে রুবেল এবং যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় থেকে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।   রুবেলের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া টাকার মধ্যে তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাগরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তার কাছ থেকে আরও নয় লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।   সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ১২ লাখ টাকা। ছিনতাই হওয়া ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকার বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে।   ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে আটজনকে সরাসরি দেখা গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।   ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ছিনতাইয়ের পর টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় চক্রটি। যারা মূল পরিকল্পনা ও সরাসরি ছিনতাইয়ে যুক্ত ছিল, তারা তুলনামূলক বেশি টাকা নেয়। অন্যদিকে যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে, তাদের ভূমিকা অনুযায়ী টাকা ভাগ দেওয়া হয়।   পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার সাগর বাড়ৈয়ের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ১৩টি মামলা রয়েছে। ডিবির দাবি, তিনি পেশাদার অপরাধী এবং এর আগেও ঢাকায় একই কায়দায় বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ টাকা পরিবহনের সময় ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ছিলেন।   এ ছাড়া রুবেলের বিরুদ্ধে চারটি, মিন্টুর বিরুদ্ধে তিনটি, জাফরের বিরুদ্ধে দুটি এবং ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে ডিবি।   তবে এই ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী এখনো গ্রেপ্তার হননি। তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। ডিবির ধারণা, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০টির বেশি মামলা থাকতে পারে। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে পুরো চক্র এবং লুট হওয়া বাকি টাকার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তদন্তকারীরা।   পেট্রোল পাম্পটির মালিক তাসীন আক্তার হক। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই। তার মা প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোন।   এত বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকে নেওয়ার তথ্য ছিনতাইকারীরা আগে থেকে কীভাবে জানতে পেরেছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। তবে ডিবি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পেট্রোল পাম্প বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   মূল পরিকল্পনাকারীসহ পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া বাকি ১ কোটি ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৯:৭
মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ও তার বোন ইমান আবদেলহাদি। ছবি:সংগৃহীত
বোনের বিতর্কিত মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আব্দুলকে টার্গেট রিপাবলিকানদের, মিশিগান সিনেট নির্বাচনে নতুন বিতর্ক

মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের বোন ইমান আবদেলহাদির অতীতের কিছু রাজনৈতিক মন্তব্য ও আইনি বিতর্ককে সামনে এনে রিপাবলিকানরা এখন আব্দুল এল-সায়েদকে আক্রমণের চেষ্টা করছে। নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনের আগে বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।   ইমান আবদেলহাদি ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর একজন অধ্যাপক ও লেখক। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে তার কিছু প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পর তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টকে সমালোচকেরা হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে এসব মন্তব্য ইমানের নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং এর সঙ্গে তার ভাইয়ের নির্বাচনী অবস্থানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা আলাদা বিষয়।   ইমানের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় বিতর্ক তৈরি হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। ইলিনয়ের ব্রডভিউয়ে আইসিই-সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনার বাইরে আইসিইবিরোধী বিক্ষোভের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন, তিনি এক ইলিনয় স্টেট পুলিশ ট্রুপারের দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে থুতু নিক্ষেপ করেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীর ওপর গুরুতর হামলার দুটি অভিযোগ এবং পুলিশকে বাধা দেওয়া বা প্রতিরোধের দুটি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়।   সাম্প্রতিক সময়ে ইমানের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে নিয়ে করা কিছু পুরোনো মন্তব্যও নতুন করে সামনে আনা হয়েছে। এর মধ্যে স্বাধীনতা দিবস ও থ্যাংকসগিভিং নিয়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যও রয়েছে। এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকানপন্থী মহলে আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার আরও জোরালো হয়েছে।   তবে আব্দুলের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন বলছে, পরিবারের সদস্যের রাজনৈতিক মতামতের জন্য একজন প্রার্থীকে দায়ী করা যায় না। ক্যাম্পেইনের একজন মুখপাত্র নিউজউইককে বলেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়ে মতভেদ থাকাও স্বাভাবিক। মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যালটে রয়েছেন আব্দুল এল-সায়েদ এবং ভোটারদের বিবেচনা করা উচিত তার নিজের জনসেবার রেকর্ড ও মিশিগানের মানুষের জীবনকে আরও ভালো ও সাশ্রয়ী করার পরিকল্পনা।   আব্দুল এল-সায়েদ চলতি আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়ী হয়ে দলের সিনেট প্রার্থী হন। এখন নভেম্বরে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। মিশিগানকে দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এই আসনের ফলাফল সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   প্রাইমারিতে জয়ের পর থেকেই আব্দুলকে ঘিরে রিপাবলিকানদের প্রচার আরও তীব্র হয়েছে। তার বোনের বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে সেই রাজনৈতিক আক্রমণের অংশ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে। অন্যদিকে আব্দুলের ক্যাম্পেইন জোর দিচ্ছে তার নিজস্ব রাজনৈতিক রেকর্ড, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং মিশিগানের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার ওপর।   এখন পর্যন্ত আব্দুল এল-সায়েদ তার বোনের আলোচিত মন্তব্যগুলোর প্রতিটির বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত অবস্থান নেননি। তবে তার ক্যাম্পেইন স্পষ্ট করেছে, ইমান আবদেলহাদির ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামতকে আব্দুলের নির্বাচনী অবস্থানের সঙ্গে এক করে দেখার বিষয়টি তারা গ্রহণ করছে না।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৮:৫৪
শিকাগোর হাইড পার্কে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর কাছে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। ছবি:সংগৃহীত
শিকাগোর হাইড পার্কে বন্দুকধারীদের হাতে এক ব্যক্তির সম্পদ ছিনতাই, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

শিকাগোর হাইড পার্কে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো ক্যাম্পাসের কাছে বন্দুক দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার প্রকাশিত পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে ইস্ট ৫৫তম স্ট্রিট ও সাউথ কটেজ গ্রোভ অ্যাভিনিউয়ের কাছে ঘটনাটি ঘটে।   পুলিশ জানায়, ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্য তখন ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় দুই সন্দেহভাজন তাদের কাছে এগিয়ে আসে। তাদের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এক ব্যক্তির কাছে থাকা সম্পদ দাবি করে।   বন্দুকধারীর হুমকির মুখে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে সম্পদ নেওয়ার পর দুই সন্দেহভাজনই পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনায় কেউ শারীরিকভাবে আহত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ঘটনার পর ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো পুলিশ শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের সদস্যদের সতর্ক করেছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।   পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো সন্দেহভাজনদের বিস্তারিত পরিচয় বা শারীরিক বর্ণনা প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলের আশপাশের তথ্য ও সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।   ঘটনা সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে শিকাগো পুলিশ বিভাগ অথবা ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো পুলিশ বিভাগে জানাতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোন থেকে ১২৩ নম্বরে এবং অন্যান্য ফোন থেকে ৭৭৩-৭০২-৮১৮১ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।   ঘটনার তথ্য ও সময় সম্পর্কে এবিসি৭ শিকাগোর প্রতিবেদনে পুলিশ সূত্রের বরাত দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৮:৩৭
অ্যাক্রনে ১৫ বছর বয়সী কিশোর জাজমির টাকারকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত। ছবি:সংগৃহীত
অ্যাক্রনে ১৫ বছরের কিশোরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

ওহাইওর অ্যাক্রনে ১৫ বছর বয়সী জাজমির টাকারকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা ডেভন ফিল্ডসকে বরখাস্ত করেছে শহর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে টাকার পরিবারের সঙ্গে ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের সমঝোতায় পৌঁছেছে অ্যাক্রন শহর। তবে এই সমঝোতার জন্য আদালতের অনুমোদন এখনো প্রয়োজন।   ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে গুলির শব্দ শোনার পর পুলিশ কর্মকর্তারা জাজমির টাকারকে দেখতে পান এবং তার পিছু নেন। পুলিশের দাবি, ওই কিশোরের কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। ধাওয়ার একপর্যায়ে কর্মকর্তা ডেভন ফিল্ডস তাকে গুলি করেন। পরে টাকার মারা যায়।   ফিল্ডসকে বরখাস্তের কারণ হিসেবে একাধিক পুলিশি নীতিমালা লঙ্ঘনের কথা জানিয়েছে অ্যাক্রন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে আহত কিশোরকে যথাযথভাবে চিকিৎসা সহায়তা না দেওয়া এবং দেহে-পরিহিত ক্যামেরা ব্যবহারের নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পৃথক একটি ফৌজদারি অভিযোগসংক্রান্ত বিষয়ও বরখাস্তের সিদ্ধান্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   এর আগে মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে গেলে ফিল্ডসের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি। ফলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়নি।   এদিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠন ফিল্ডসকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। সংগঠনটির দাবি, তাকে অন্যায়ভাবে দায়ী করা হচ্ছে এবং তারা বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।   অ্যাক্রনের মেয়র শামাস মালিক বলেছেন, ঘটনাটি প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পুলিশি নীতিমালার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৮:২২
হিউস্টনে গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ঘটনাস্থলে হিউস্টন পুলিশ, পুলিশের গাড়ি ও নিরাপত্তা বেষ্টনী দেখা যাচ্ছে। ছবি:সংগৃহীত
হিউস্টনে গাড়িতে গুলি চালিয়ে তিনজনকে আহত, পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজনও আহত হাসপাতালে ভর্তি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে চলন্ত গাড়ি লক্ষ্য করে এক ব্যক্তি রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পূর্ব হিউস্টনের নর্থ ওয়েসাইড ড্রাইভের ৬৩০০ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।   হিউস্টন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশের কোঠায় বয়সী এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী গাড়িগুলো লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করেন। গুলিতে গাড়ির ভেতরে থাকা তিনজন আহত হন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।   স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁর কর্মী ডেভিড ডেভিস জানান, তিনি ওই ব্যক্তিকে গাড়িগুলোর দিকে গুলি ছুড়তে দেখেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি ও তার সহকর্মীরা চালকদের সতর্ক করার চেষ্টা করেন এবং পরে নিরাপত্তার জন্য রেস্তোরাঁর ভেতরে আশ্রয় নেন।   পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সন্দেহভাজনকে অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তবে তিনি পুলিশের নির্দেশ মানেননি। পরে হিউস্টন পুলিশের তিন কর্মকর্তা এবং টেক্সাস জননিরাপত্তা বিভাগের একজন কর্মকর্তা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।   সন্দেহভাজন একাধিক গুলিতে আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, একপর্যায়ে সন্দেহভাজন সেন্ট লুইস স্ট্রিটের একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা পুলিশকে জানান, বাড়িটি সম্ভবত ওই ব্যক্তির নিজের বাসা। ঘটনার সময় তার হাতে থাকা অস্ত্র একপর্যায়ে আটকে গিয়েছিল বলেও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে উঠে এসেছে।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়। গুলিবর্ষণের কারণ এবং সন্দেহভাজনের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে আহত তিন ব্যক্তি কীভাবে গুলির শিকার হয়েছেন, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।   ঘটনাটির পৃথক তদন্ত পরিচালনা করছে হিউস্টন পুলিশ বিভাগ, স্থানীয় জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং টেক্সাস রেঞ্জার্স। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৮:১০
অফিসে একজন কর্মকর্তা কাজ করছেন প্রতীকী। ছবি: সংগ্রহীত
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নিয়োগের গতি কমলেও ছাঁটাই এখনো কম

যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন নিয়োগের গতি ধীর হয়ে পড়লেও কর্মরত মানুষের মধ্যে ব্যাপক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা এখনো দেখা দেয়নি। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটিতে বেকার ভাতার জন্য নতুন করে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৯ হাজার মানুষ। এর আগের সপ্তাহে সংশোধিত হিসাবে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ।   অর্থনীতিবিদেরা ২ লাখ ৫ হাজার আবেদনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ফলে নতুন আবেদনের সংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়েও কিছুটা বেশি হয়েছে।   তবে এক সপ্তাহের এই বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বড় ধরনের দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। গত চার সপ্তাহে বেকার ভাতার নতুন আবেদনের গড় প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে। একই সময়ে নিয়মিত বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা ২২ হাজার কমে প্রায় ১৭ লাখ ৮০ হাজারে নেমেছে।   শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিকে অর্থনীতিবিদেরা অনেকটা এমন একটি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক থাকলেও বিদ্যমান কর্মীদের ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করছে না। এর ফলে যারা ইতিমধ্যে চাকরিতে আছেন, তাদের চাকরির নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।   চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬১ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। গত বছর এই গড় ছিল মাত্র ৯ হাজার ৭০০। তবে মহামারি পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে যে দ্রুতগতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল, তার তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেক দুর্বল। ওই দুই বছরে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪ লাখ ৯১ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল।   সর্বশেষ চাকরির হিসাবেও শ্রমবাজারের ধীরগতির চিত্র ফুটে উঠেছে। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান ২৩ হাজার কমেছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার কারণে বেকারত্বের হার কমলেও সেটিকে পুরোপুরি শক্তিশালী চাকরির বাজারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে না।   উচ্চ সুদের হার, বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানগুলোর সতর্ক অবস্থান নতুন নিয়োগের ওপর চাপ তৈরি করছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কর্মী বাড়ানোর পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের ধরে রাখার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।   তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে এখনো বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের ঢেউ দেখা যায়নি। গত এক বছরে প্রতি সপ্তাহে বেকার ভাতার নতুন আবেদন সাধারণত ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজারের মধ্যে ছিল, যা ঐতিহাসিক বিবেচনায় তুলনামূলকভাবে কম। এ কারণে চাকরিতে থাকা মানুষের জন্য পরিস্থিতি এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল বলে মনে করা হচ্ছে।   অর্থনীতিবিদদের জন্য মূল উদ্বেগ তাই বর্তমানে শুধু কত মানুষ চাকরি হারাচ্ছেন, তা নয়; বরং নতুন চাকরি কতটা তৈরি হচ্ছে, সেটিও। নিয়োগের গতি দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বল থাকলে চাকরি পরিবর্তন করতে চাওয়া এবং নতুন করে কর্মসংস্থানে প্রবেশ করতে চাওয়া মানুষের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে।   সর্বশেষ পরিসংখ্যানের সামগ্রিক চিত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এখনো ভেঙে পড়েনি। তবে দ্রুতগতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সময়ও আর নেই। কম নিয়োগ এবং কম ছাঁটাইয়ের এই ভারসাম্য কতদিন বজায় থাকবে, সেটিই আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৭:৩৫
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি:সংগৃহীত
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সেমিস্টারের গ্রেডিংয়ে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টসের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথম সেমিস্টারের ফল প্রকাশের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ২০২৭ সালের শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন এই পদ্ধতি চালু হওয়ার কথা রয়েছে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম সেমিস্টারে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় আগের মতোই নম্বর ও অক্ষরভিত্তিক গ্রেড পাবে। তবে এসব গ্রেড তাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত নথিতে প্রকাশ করা হবে না এবং প্রথম সেমিস্টারের ফল সামগ্রিক গড় ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত হবে না। এর পরিবর্তে শিক্ষাগত নথিতে উত্তীর্ণ অথবা কৃতকার্য নয়—এ ধরনের ফলাফল দেখানো হবে।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পর প্রথম কয়েক মাস শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন পরিবেশ, কঠিন পড়াশোনা এবং ভালো ফল করার চাপ অনেক শিক্ষার্থীর ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। এই চাপ কমিয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন বিষয় শেখা, বিভিন্ন ধরনের কোর্স নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।   বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার অর্থ এই নয় যে প্রথম সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মূল্যায়ন হবে না। শিক্ষকরা আগের মতোই পরীক্ষা, লিখিত কাজ এবং অন্যান্য শিক্ষাকাজের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবেন। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকৃত ফলাফল ও শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শও পাবে।   তবে প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল শিক্ষাগত নথিতে প্রকাশ না হলেও বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত গ্রেডের তথ্য সংরক্ষণ করবে। প্রয়োজনে শিক্ষাগত পরামর্শ, বৃত্তি, আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন একাডেমিক সুযোগের ক্ষেত্রে এসব তথ্য ব্যবহার করা হতে পারে।   প্রথম সেমিস্টার শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে আবার স্বাভাবিক গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হবে। তখন শিক্ষার্থীদের অক্ষরভিত্তিক গ্রেড শিক্ষাগত নথিতে যুক্ত হবে এবং সামগ্রিক গড় ফলাফলের হিসাবেও তা অন্তর্ভুক্ত হবে।   এই নতুন পদ্ধতি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য হবে না। এটি মূলত কলেজ অব লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টসের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমর্থকদের মতে, প্রথম সেমিস্টারের গ্রেডের চাপ কমলে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে স্বস্তি পাবে এবং পড়াশোনায় নতুন বিষয় ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণে আরও আগ্রহী হবে। তবে সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, গ্রেডের গুরুত্ব কমিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ ও দায়িত্ববোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় আশা করছে, এই পরীক্ষামূলক পদ্ধতির মাধ্যমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য আরও ভালো পরিবেশ তৈরি হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৭:২১
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বীমার খরচ বাড়ায় বাড়ির মালিকদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে টেক্সাসসহ ঝুঁকিপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে। ছবি:সংগৃহীত
সম্পত্তি করের চেয়েও বাড়ির বীমা খরচ বেশি, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ অঙ্গরাজ্যে বাড়ছে মালিকদের চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির মালিকদের জন্য আবাসন ব্যয়ের নতুন চাপ হিসেবে সামনে এসেছে বাড়ির বীমার ক্রমবর্ধমান খরচ। রিয়েলটর ডটকমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটির ১৫টি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির বীমার মাসিক খরচ সম্পত্তি করের মাসিক ব্যয়ের চেয়েও বেশি। ফলে বাড়ির মালিকদের জন্য শুধু বন্ধকী ঋণের কিস্তিই নয়, বীমা ও করও বড় আর্থিক বোঝা হয়ে উঠছে।   রিয়েলটর ডটকমের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাধারণ বাড়ির মালিক মাসে গড়ে প্রায় ৩১১ ডলার সম্পত্তি কর দেন।   বিপরীতে বাড়ির বীমায় গড়ে খরচ হয় প্রায় ২০০ ডলার। তবে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি, নির্মাণ ব্যয় এবং বীমা দাবির চাপের কারণে বাড়ির বীমার খরচ দ্রুত বেড়েছে।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে নেব্রাস্কা। সেখানে একজন বাড়ির মালিকের মাসিক বীমা ব্যয় গড়ে প্রায় ৪১৩ ডলার, যা একটি পরিবারের মোট মাসিক আবাসন ব্যয়ের ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ। ওকলাহোমায় মাসিক বীমা ব্যয় প্রায় ২৭৮ ডলার এবং এটি মোট আবাসন ব্যয়ের ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ।   টেক্সাসেও বাড়ির মালিকদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে মাসিক বাড়ির বীমা খরচ গড়ে প্রায় ৩৩১ ডলার, যা মোট মাসিক আবাসন ব্যয়ের প্রায় ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। অঙ্গরাজ্যটির অনেক পরিবারের ক্ষেত্রে বীমার এই ব্যয় বাড়ি মালিকানার সামগ্রিক খরচকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।   দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় মাসিক বীমা খরচ প্রায় ২৫৯ ডলার, যা মোট আবাসন ব্যয়ের ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আরকানসাসে মাসিক ব্যয় প্রায় ২০০ ডলার এবং মোট আবাসন ব্যয়ের ১৪ শতাংশের কাছাকাছি। এসব পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, কিছু এলাকায় বীমা এখন বাড়ির মালিকদের নিয়মিত আবাসন ব্যয়ের একটি বড় অংশ দখল করছে।   কেন বাড়ছে বীমার খরচ?   প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বীমা কোম্পানিগুলোর ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এর অন্যতম কারণ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, দাবানল, শিলাবৃষ্টি ও তীব্র ঝড়ের মতো দুর্যোগে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বীমা দাবির পরিমাণও বাড়ছে।   একই সঙ্গে বাড়ি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় একটি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি বীমার আওতায় মেরামত করতে আগের তুলনায় বেশি অর্থ প্রয়োজন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ও জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগের কারণে বাড়ির বীমার খরচ বৃদ্ধি এবং বীমা পাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে।   টেক্সাসের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে টেক্সাসে বাড়ির বীমার প্রিমিয়াম ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে পরিবারের মধ্যম আয় বেড়েছে মাত্র ১১ শতাংশ। গত পাঁচ বছরেই বীমা প্রিমিয়াম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে আয় বৃদ্ধির হার ছিল আনুমানিক ৩ শতাংশ।   বীমার প্রিমিয়াম বাড়লে এর প্রভাব শুধু আলাদা একটি বিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। যেসব বাড়ির মালিকের বন্ধকী ঋণের সঙ্গে কর ও বীমার অর্থ জমা রাখার ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের মাসিক মোট অর্থপ্রদানও বেড়ে যেতে পারে। ফলে একই বাড়িতে বসবাস করলেও বীমার খরচ বাড়ার কারণে পরিবারের মাসিক আবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।   এই পরিস্থিতি বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলছে। একজন ক্রেতা বাড়ির মূল্য ও বন্ধকী ঋণের সুদ বিবেচনা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের বীমা প্রিমিয়াম, সম্পত্তি কর এবং অন্যান্য আবাসন ব্যয়ও হিসাব করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় কম দামের বাড়িও উচ্চ বীমা ব্যয়ের কারণে দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।   অন্যদিকে, কিছু বাড়ির মালিকের সামনে বীমা কোম্পানি পরিবর্তন বা নতুন পলিসি খোঁজার সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বীমা কোম্পানিগুলো বেশি প্রিমিয়াম নিতে পারে, কভারেজের শর্ত কঠোর করতে পারে অথবা নির্দিষ্ট ঝুঁকির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করতে পারে।   সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে এখন শুধু বাড়ির দাম ও বন্ধকী সুদ নয়, বাড়ির বীমার খরচও বড় অর্থনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। রিয়েলটর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ১৫টি অঙ্গরাজ্যে সম্পত্তি করের চেয়েও বেশি বীমা ব্যয় হওয়া সেই পরিবর্তনেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৬:৪৮
টেক্সাসে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দুই সেনা নিহত, প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সাময়িক বন্ধ
টেক্সাসে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দুই সেনা নিহত, প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সাময়িক বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সামরিক প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশজুড়ে অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।   ১২ আগস্ট টেক্সাসের সালাডোর কাছে একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। হেলিকপ্টারটি ফোর্ট হুড থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় এটি রক্ষণাবেক্ষণ-পরবর্তী পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে ছিল বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে। হেলিকপ্টারটি একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়।   নিহত দুই সেনাকে শনাক্ত করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। তারা হলেন ৩৪ বছর বয়সী চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার-২ ডিওন্ট্রে টি. হিউই এবং ২৫ বছর বয়সী ওয়ারেন্ট অফিসার শেথ এল. ওলমস্টেড। দুজনই টেক্সাসের বাসিন্দা ছিলেন এবং দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারে তারাই ছিলেন।   দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি কমব্যাট রেডিনেস সেন্টারের একটি নিরাপত্তা তদন্তকারী দল ঘটনাটি তদন্ত করছে।   তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার মূল কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া না পর্যন্ত এই সাময়িক স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।   তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের সব ধরনের উড্ডয়ন বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। সেনাবাহিনীর ঘোষণাটি মূলত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ওপর প্রযোজ্য।   দুই সেনার মৃত্যুতে ফোর্ট হুডের সামরিক সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেনাবাহিনী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৬:২৮