- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস-ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুবিধার্থে শৌচাগারের পাশে বিশেষ অজুর স্থান বা পা ধোয়ার ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি বছরের ৩১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হওয়া এই প্রকল্পের কাজ এ বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর আওতায় বিমানবন্দরের ‘ডি’ টার্মিনালের বিদ্যমান শৌচাগারে নারী ও পুরুষদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক অজুর স্থান তৈরি করা হবে। প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, শৌচাগারের সাধারণ বেসিনে পা ধোয়ার কারণে মেঝে ভিজে গিয়ে যে স্যাঁতসেঁতে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং বেসিনের যে ক্ষতি হয়, মূলত তা এড়াতেই নিচু উচ্চতার এই বিশেষ অজুর স্থানগুলো বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে অজুর এই সুবিধা একেবারেই নতুন কিছু নয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৯ সালে টার্মিনাল ডি-এর গেট ডি৪০-এর কাছে অবস্থিত ইন্টারফেইথ চ্যাপেলটি চালুর সময় সেখানেও দুটি অজু স্টেশন স্থাপন করা হয়েছিল। এছাড়া ডালাসের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুবিধার্থে আগে থেকেই এ ধরনের অজুর ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে সম্পত্তি কর (প্রোপার্টি ট্যাক্স) ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং রাজ্যটি এখন এই চরম সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত বছর কর সংকট চরমে পৌঁছানোর পর রাজ্য সরকার কিছু ত্রাণের ব্যবস্থা করলেও এর ভয়াবহ পরিণতি এখনও স্পষ্ট। জুন মাসে কুইয়াহোগা কাউন্টি রেকর্ড ১৮ মিলিয়ন ডলারের বকেয়া সম্পত্তি করের ঋণ বিক্রি করেছে, অন্যদিকে মাহোনিং কাউন্টির অডিটর ২৪ হাজারের বেশি বকেয়া পার্সেলের তালিকা প্রকাশ করেছেন। বাড়িঘরের ক্রমবর্ধমান মূল্য, পুনর্মূল্যায়ন এবং অস্বাভাবিক কর বৃদ্ধি রাজ্যের বাড়ির মালিকদের চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিয়েছে। গত বসন্তে মাহোনিং কাউন্টিতে কর খেলাপির হার ১৮ শতাংশে পৌঁছায়, যেখানে বকেয়া করের পরিমাণ ছিল ৭০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ইয়াংস্টাউনের কিছু এলাকায় প্রতি তিনজন বাড়ির মালিকের মধ্যে একজন কর দিতে পিছিয়ে পড়েছেন। কুইয়াহোগা কাউন্টিতে পুনর্মূল্যায়নের পর বাড়ির দাম গড়ে ৩২ শতাংশ লাফিয়ে বাড়ে, যার ফলে বকেয়া ব্যালেন্স এক ধাক্কায় ৬০ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পায়। কাউন্টি অডিটরস অ্যাসোসিয়েশন অব ওহাইওর সভাপতি ম্যাট নোলান সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং আগামী বছরগুলোতে বাড়ির মালিকদের সম্পত্তি কর আরও ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। বর্তমানে সম্পত্তি করের বোঝার দিক থেকে ওহাইও পুরো যুক্তরাষ্ট্রে অষ্টম স্থানে রয়েছে, যা নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়েও বেশি; অথচ পারিবারিক গড় আয়ের দিক থেকে রাজ্যটির অবস্থান ৪০তম। ওহাইওর বিভিন্ন শহর যেমন কলম্বাস ও ক্লিভল্যান্ডে ব্যাপক উন্নয়ন এবং আবাসন খাতে বুম বা আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির কারণেই মূলত করের পরিমাণ হু হু করে বাড়ছে। রাজ্যটিতে প্রতি ছয় বছর পরপর সম্পত্তির পুনর্মূল্যায়ন করা হয়, যার ফলে কোভিড-১৯ মহামারির পর অনেকেই তাদের প্রথম পুনর্মূল্যায়নের মুখোমুখি হয়েছেন। এই কাঠামোগত কারণেই করের বিল বহুগুণ বেড়ে গেছে। আইনপ্রণেতারা এই হতাশার কথা স্বীকার করলেও কোনো কার্যকর সমাধান এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে একটি তৃণমূল আন্দোলন গড়ে উঠেছে, যারা সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে সম্পত্তি কর পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। ‘সিটিজেন্স ফর প্রোপার্টি ট্যাক্স রিফর্ম’ নামক সংগঠনের অন্যতম আয়োজক বেথ ব্ল্যাকমার জানান, যখন তিনি নিজের বাড়ির পুনর্মূল্যায়ন বিলটি হাতে পেয়েছিলেন, তখন তা দেখে রীতিমতো মেঝেতে বসে পড়েছিলেন। তার বাড়ির মূল্যায়ন প্রায় ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি আরও জানান, অনেক বাড়ির মালিকের বর্তমান করের পরিমাণ তাদের মূল বন্ধকি ঋণের কিস্তির চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। বর্তমানে ‘এক্স দ্য ট্যাক্স’ (Ax the Tax) নামের একটি প্রচারণার মাধ্যমে সম্পত্তি কর পুরোপুরি বাতিলের জন্য স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্য আইনসভায় করের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব আনা হয়েছে এবং গভর্নর মাইক ডিওয়াইন একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। তবে দ্রুত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে তরুণ প্রজন্মের জন্য বাড়ি কেনার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হ্যাশট্যাগ:
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডিকেটরে নিজ বাবাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে ডেকাতুরের পেপারডাইন ড্রাইভ এলাকার একটি বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ডেকাব কাউন্টি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভোর ৫টার দিকে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ৬৫ বছর বয়সী জেরোম ওয়াটকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, জেরোমের ছেলে এশাউন সাগস নিজেই তাকে লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী এই গুলি চালিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতির জেরে বাবা ও ছেলের মধ্যে এমন চরম পরিণতি ঘটল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। বর্তমানে এশাউন সাগসকে গ্রেপ্তার করে ডেকাব কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা ও পারিবারিক সহিংসতার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের কাছে হোয়াইট হাউসে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম প্রকল্পের নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখার অনুমতি চেয়েছে। নিম্ন আদালতের একটি আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলাকালীন এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সলিসিটর জেনারেল গত সপ্তাহে ইউএস কোর্ট অব আপিলস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের তিন বিচারপতির প্যানেলের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদন করেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলরুম প্রকল্পটিকে আইনি চ্যালেঞ্জকারী বাদীদের এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। গত সপ্তাহে আপিল আদালতের বিভক্ত প্যানেল রায় দেয় যে, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন না থাকায় ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হবে। প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ের জায়গায় ৯০ হাজার বর্গফুটের (৮ হাজার ৪০০ বর্গমিটার) এই বলরুম নির্মাণের কোনো আইনি অধিকার নেই। গত শরতে ট্রাম্পের নির্দেশেই পুরোনো ইস্ট উইং গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে নিম্ন আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ দিতে তাদের নিজস্ব রায় দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখে। সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাওয়ার আগামী ২১ আগস্ট আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই এই স্থগিতাদেশের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্রুত রায় চেয়েছেন। সাওয়ার তার আবেদনে উল্লেখ করেন, এই মামলাটি এমন একটি অসাধারণ ও বেআইনি ইনজাংশন বা নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে জড়িত, যা হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ে চলমান সামরিক কমপ্লেক্স এবং সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বলরুমের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেবে। অথচ এটি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অপরিহার্য বলে তিনি দাবি করেন। এর আগে গত এপ্রিলে এক জেলা আদালতের বিচারক এই পরিকল্পিত বলরুমের মাটির ওপরের অংশের নির্মাণকাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে বিচারক স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে হোয়াইট হাউস ভূগর্ভস্থ কাজ, যেমন বাঙ্কার, সামরিক স্থাপনা এবং চিকিৎসা সুবিধা নির্মাণের কাজ বাধাহীনভাবে চালিয়ে যেতে পারবে। ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট প্যানেল তাদের ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তে মাটির ওপরের নির্মাণকাজ স্থগিত করার ওই আদেশ বহাল রাখে এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণবাদীদের পক্ষে অবস্থান নেয়, যারা মূলত বলরুম নির্মাণ বন্ধের দাবিতে এই মামলাটি করেছিলেন। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই বিচারক মত প্রকাশ করেন যে, এত বিশাল একটি বলরুম নির্মাণ করা হবে কি না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল কংগ্রেসের, এটি নির্বাহী বিভাগের নিজস্ব ইচ্ছার কোনো বিষয় নয়। অন্যদিকে ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া তৃতীয় বিচারক নাওমি রাও ভিন্নমত পোষণ করে জানান, যে সংগঠনটি প্রকল্পটিকে চ্যালেঞ্জ করেছে, তাদের মামলা করার কোনো আইনি অধিকারই নেই। তার মতে, সরকার যেখানে জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিচ্ছে, সেখানে জেলা আদালত কেবল একজন পথচারীর নান্দনিক অসন্তোষকে বড় করে দেখছে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, হোয়াইট হাউস সংস্কারের জন্য প্রেসিডেন্টেরই নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগও দাবি করেছে, বর্তমানে প্রকল্পের স্থানটি উন্মুক্ত থাকায় হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ১০ মাস ধরে নির্মাণাধীন এই বলরুমের প্রায় ৬৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে বাদীরা অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজের গতি বাড়িয়ে মূলত আদালতকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকির কারণে মেরিল্যান্ডভিত্তিক একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টে বিক্রি হওয়া ৩ হাজার ২৪০টি টমেটো সুপ কিট বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, গত ৩০ জুন থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে দেশটির ২৯টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন ওয়ালমার্ট স্টোরে এই সুপ কিটগুলো সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে ওয়ালমার্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সুপ কিটগুলোর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেটল কুইজিন’ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই পণ্যটি খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা অভিযোগ তারা পায়নি। তবে নিয়মিত ল্যাব পরীক্ষার সময় পণ্যটিতে লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়ার পরপরই তারা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এটি বাজার থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, লিস্টেরিয়া এমন এক ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, যা খাবারে বিষক্রিয়া ঘটিয়ে মানুষকে গুরুতর অসুস্থ করে তুলতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হলে রোগীর তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এফডিএ জানিয়েছে, যারা ইতিমধ্যে এই সুপ কিটটি কিনেছেন, তাদের পণ্যটি স্পর্শ করার পর খুব ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। এমনকি পণ্যটি রান্নাঘর বা রেফ্রিজারেটরের যেসব পৃষ্ঠের সংস্পর্শে এসেছে, সেগুলোও দ্রুত জীবাণুমুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের এই সুপ কিটটি অবিলম্বে ফেলে দিতে অথবা মূল্য ফেরতের জন্য নিকটস্থ ওয়ালমার্ট স্টোরে জমা দিতে বলা হয়েছে। সতর্কবার্তায় এফডিএ বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, কেবল গন্ধ বা বাহ্যিক রূপ দেখে পণ্যটি নিরাপদ কি না, তা কোনোভাবেই বিচার করা উচিত নয়। প্রত্যাহার করা ১৪ আউন্স ওজনের এই টমেটো সুপ কিটগুলো মূলত 'মার্কেটসাইড' ব্র্যান্ডের। এগুলোর প্যাকেটের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ হিসেবে ২২ আগস্ট লেখা রয়েছে এবং এর প্রোডাক্ট কোড হলো ১৯৪৩৪৬৪৭৪০০৪। যুক্তরাষ্ট্রের যে ২৯টি অঙ্গরাজ্যে এই পণ্যটি সরবরাহ করা হয়েছিল, তার মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, টেক্সাস, পেনসিলভানিয়া, ওহিও, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, নিউজার্সি, কলোরাডো, নর্থ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া ও ইলিনয় অন্যতম।
ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যস্ত মহাসড়কগুলোর ক্লান্তিকর যানজট এড়িয়ে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার অনিন্দ্যসুন্দর প্রাকৃতিক রূপ উপভোগ করার জন্য দারুণ এক সুযোগ করে দিচ্ছে অ্যামট্রাকের ‘ক্যাপিটল করিডোর’ ট্রেন সার্ভিস। ওবার্ন থেকে শুরু হয়ে সান হোসে পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১৭০ মাইলের এই রেলরুটটি মাত্র তিন ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে যাত্রীদের ঐতিহাসিক গোল্ড কান্ট্রি, সবুজ কৃষিজমি এবং প্রশান্ত জলসীমার মধ্য দিয়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে পৌঁছে দেয়। মোট ১৮টি স্টেশনকে সংযুক্ত করা এই রুটটি সম্প্রতি পর্যটকদের কাছে একটি দারুণ ও তুলনামূলক কম আলোচিত রোমাঞ্চকর ভ্রমণপথ হিসেবে নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই নয়নাভিরাম রেলযাত্রার সূচনা হয় ঐতিহাসিক গোল্ড রাশ ও মনোরম হাইকিং ট্রেইলের জন্য পরিচিত ওবার্ন শহর থেকে। এরপর রকলিন ও রোজভিল পেরিয়ে ট্রেনটি ক্যালিফোর্নিয়ার রাজধানী স্যাক্রামেন্টোতে প্রবেশ করে, যেখানে যাত্রীরা নেমে ঐতিহাসিক স্টেট ক্যাপিটল ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পান। সেখান থেকে সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় যাত্রীরা জানালার পাশে বসে উপভোগ করতে পারেন বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মনোরম দৃশ্য। এরপর ট্রেনটি কারকিনেজ প্রণালী ছুঁয়ে মার্টিনেজ ও রিচমন্ডের উপকূলরেখা ঘেঁষে এগিয়ে যায়, যা সান পাবলো উপসাগরের নয়নাভিরাম দৃশ্য চোখের সামনে মেলে ধরে। স্থানীয়দের কাছে এই রুটটি ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। ২০২৫ অর্থবছরে ক্যাপিটল করিডোরে প্রায় ১১ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন, যা থেকে রেল কর্তৃপক্ষের আয় হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। রুটটির পশ্চিম অংশে ট্রেনটি বিখ্যাত বাইকবান্ধব শহর ডেভিস, বার্কলে এবং ওকল্যান্ডের জ্যাক লন্ডন স্কয়ারের মতো প্রাণবন্ত ওয়াটারফ্রন্ট এলাকায় যাত্রা বিরতি দেয়। এরপর দক্ষিণ বে অঞ্চলের সান হোসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে সান্তা ক্লারার লেভিস স্টেডিয়ামের কাছাকাছি একটি স্টপেজে থামে, যা সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টিনাইনার্সের ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের যানজট এড়ানোর মোক্ষম সুযোগ দেয়। যাত্রার শেষ প্রান্ত সান হোসেতে রয়েছে ঐতিহাসিক জাপানটাউন, বিখ্যাত রোজিক্রুশিয়ান ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম এবং সান্তা ক্রুজ পর্বতমালার হাতছানি। যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ক্যাপিটল করিডোরের বগিগুলোতে রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। প্রশস্ত কোচ সিট, কাজের জন্য টেবিল, বৈদ্যুতিক প্লাগ পয়েন্ট ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের পাশাপাশি এতে সার্বক্ষণিক বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা ও খাবারের জন্য ক্যাফে কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দ্রুতগতির এই ট্রেন ভ্রমণ কেবল দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাকেই সহজ করেনি, বরং ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাস ও প্রকৃতির আসল রূপ দেখার এক দুর্দান্ত মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে, লাতিন আমেরিকায় সক্রিয় মাদক পাচারকারীদের সমূলে ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র এবার সরাসরি স্থলপথে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। পানামায় একটি যৌথ সামরিক মহড়া পরিদর্শনের সময় তিনি এই কঠোর বার্তা প্রদান করেন। এর আগে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানগুলোতে কেবল বিমান হামলা চালাত মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে এবার সেই অভিযানের পরিধি আরও বাড়িয়ে ইকুয়েডর, কলম্বিয়াসহ অন্যান্য মিত্র দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি লাতিন আমেরিকার মাটিতেও অভিযান চালানোর ছক কষছে পেন্টাগন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য হুমকি এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত, তারা আইএস বা আল-কায়েদার মতোই আমেরিকার শত্রু। তাই মার্কিন সরকার যেকোনো মূল্যে এই মাদকচক্রগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। আমেরিকার নেতৃত্বাধীন এই মাদকবিরোধী জোটে ইতোমধ্যে ১৯টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হাত মিলিয়েছে। তবে মেক্সিকোতে বড় বড় মাদক চক্রের শক্তিশালী ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও তারা এই সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্ত নেই। উল্লেখ্য, গত বছর থেকে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাগরে পরিচালিত বিমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২১৫ জন সন্দেহভাজন নিহত হয়েছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা ওই হামলাগুলোর কড়া সমালোচনা করে আসছেন। তবে এসকল সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ ও মিত্রদের সাথে নিয়ে স্থলপথে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কারাবন্দি অবস্থায় দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ মানুষ নিয়ে রাজপথে নামার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। বৃহস্পতিবার আদিয়ালা কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, অবিলম্বে ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া না হলে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ সমর্থক নিয়ে ইসলামাবাদের দিকে বিশাল পদযাত্রা করা হবে। আফ্রিদি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে আদিয়ালায় এটিই তার শেষ আগমন এবং সরকার নিজে থেকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেই কেবল তিনি আবার ফিরে আসবেন। বুধবার ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় আফ্রিদির নাম থাকলেও কারা কর্তৃপক্ষের সার্বিক আচরণে তার মনে হয়েছে, এই সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার কোনো সদিচ্ছা তাদের নেই। সাক্ষাতের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ আফ্রিদি পিটিআইয়ের ‘ডি-চক’ প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকেই দেশজুড়ে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন। তিনি দলীয় কর্মীদের হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে রাজপথে নেমে আসার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আফ্রিদির মতে, ২০২২ সালের এপ্রিল মাস থেকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার সঙ্গে যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বৈরী আচরণ করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। পিটিআইয়ের গণমাধ্যম শাখার তথ্য অনুযায়ী, দলটির এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং দলীয় কর্মীরা বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে ইমরান খানের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন। আগামী রোববার বান্নুতেও বড় ধরনের কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। আফ্রিদি দাবি করেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের পদযাত্রা কর্তৃপক্ষের জন্য রীতিমতো একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবে। জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মাত্র স্বল্প সময়ের নোটিশে খাইবার জেলায় বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়ে এর প্রমাণ আগেই দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ বারবার উপেক্ষিত হওয়ার বিষয়টিও চরম ক্ষোভের সঙ্গে তুলে ধরেন পিটিআইয়ের এই শীর্ষ নেতা। গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সপ্তাহে দুবার ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবার, আইনজীবী ও দলীয় নেতাদের সাক্ষাতের নির্দেশ দিলেও গত কয়েক মাস ধরে তা একেবারেই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। আফ্রিদির অভিযোগ, তারা আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বারবার আবেদন করলেও আদালত বর্তমানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একেবারেই অসহায়। তার দাবি, খোদ সরকারের মন্ত্রীরাই এখন স্বীকার করছেন যে, দেশের শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং অকার্যকর হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ আফ্রিদি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো যদি কাজই না করতে পারে, তবে সাধারণ জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকায় সেগুলো চালু রেখে অর্থের অপচয় করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র আবাসন সংকটের কারণে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া সাধারণ মানুষের আয়ের বড় একটি অংশ গিলে খাচ্ছে। আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠান জিলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে দুই বেডরুমের একটি বাসার গড় ভাড়া মাসে ৪ হাজার ৭৫০ ডলার, যা বছরে দাঁড়ায় ৫৭ হাজার ডলারে। ২০২৩ সালের মার্কিন শুমারি ব্যুরোর তথ্যমতে, এটি ওই শহরের পরিবারগুলোর গড় আয়ের দুই-তৃতীয়াংশের চেয়েও বেশি। শুধু নিউইয়র্ক নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই মানুষের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে বাসস্থানের পেছনে। জিলোর দেওয়া তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশটিতে গড় বার্ষিক বাড়িভাড়া ২১ হাজার ৪৮০ ডলার। জিলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক ভাড়াটেই 'কস্ট-বার্ডেনড' বা আবাসন ব্যয়ভারের চাপে পিষ্ট, যার অর্থ হলো তাদের আয়ের ৩০ শতাংশেরও বেশি কেবল আবাসন খাতেই ব্যয় হয়। ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তান থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৫৪ শতাংশ। জিলো ও স্ট্রিটইজি-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ কেনি লি জানান, যদিও ভাড়া বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে, তবুও আয়ের তুলনায় ভাড়ার পরিমাণ এখনো অনেক উঁচুতে অবস্থান করছে। করোনা মহামারির পর থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ ভাড়াটে এই অতিরিক্ত খরচের চাপে রয়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জয়েন্ট সেন্টার ফর হাউজিং স্টাডিজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরে ৩০ হাজার ডলারের কম আয় করা প্রতি ১০ জন ভাড়াটের মধ্যে ৮ জনেরও বেশি মানুষ ২০২৪ সালে মারাত্মক ব্যয়ভারের চাপে ছিলেন। বাড়িভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো তীব্র আবাসন সংকট। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে বর্তমানে মার্কিন আবাসন বাজারে ৪৭ লাখ বাড়ির বিশাল ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে অনেক মানুষ বাড়ি কেনার বদলে বাসা ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা আবাসন সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলছে। অর্থনীতিবিদ লি জানান, উন্নয়নের জন্য জমি থাকা সত্ত্বেও জোনিং বা আঞ্চলিক বিধিনিষেধ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নির্মাণকাজ থমকে আছে। উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ভাড়ার বাজারগুলোতে তাই আবাসন প্রকল্পগুলো আটকে রয়েছে। এই বাধাগুলো পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ কোনোভাবেই চাহিদার সমকক্ষ হতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি দ্বিদলীয় বিল আইনে পরিণত হয়েছে। হোয়াইট হাউস এটিকে দেশের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ আবাসন আইন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই আইনটি আবাসন সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করলেও, তাৎক্ষণিকভাবে এটি বাড়িভাড়ার আকাশচুম্বী মূল্যের লাগাম টেনে ধরতে পারবে না।
প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলে সৃষ্ট ক্রান্তীয় ঝড় ‘লালা’ ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার ভোরে হাওয়াইয়ের ‘বিগ আইল্যান্ড’-এর কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই এটি একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বা হারিকেনে রূপ নিতে পারে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টি ঘণ্টায় ১২ মাইল বেগে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এর কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ মাইল। বর্তমানে এটি হাওয়াইয়ের হিলো শহর থেকে প্রায় ৪২০ মাইল পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) মাউই কাউন্টির (মাউই, লানাই, মলোকাই এবং কাহুলাওয়ে দ্বীপসহ) জন্য জারি করা প্রাথমিক নজরদারি বা ‘ট্রপিক্যাল স্টর্ম ওয়াচ’-কে হালনাগাদ করে ‘ট্রপিক্যাল স্টর্ম ওয়ার্নিং’ বা চূড়ান্ত সতর্কতায় উন্নীত করেছে। এর পাশাপাশি ওআহু এবং কাউয়াই কাউন্টিতেও নতুন করে ঝড়ের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকা হাওয়াই কাউন্টি বা বিগ আইল্যান্ডে আগে থেকেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘হারিকেন ওয়ার্নিং’ বহাল রাখা হয়েছে। ঝড়টি ঠিক কখন এবং কতটা তীব্রতা নিয়ে আঘাত হানবে, তা এর চূড়ান্ত গতিপথের ওপর নির্ভর করলেও চলতি সপ্তাহান্তে হাওয়াই জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার থেকেই বিগ আইল্যান্ডে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে, যার ফলে খাড়া পাহাড়ি এলাকাগুলোতে প্রাণঘাতী ভূমিধস ও কাদা ধসের তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, মাউই এবং বিগ আইল্যান্ডে ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং বিগ আইল্যান্ডের উঁচু পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এই মাত্রা ২৫ ইঞ্চি পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যান্য দ্বীপগুলোতেও ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ভয়ংকর জলোচ্ছ্বাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে বিগ আইল্যান্ডের উপকূলীয় এলাকায় আকস্মিক বন্যা এবং ব্যাপক ভাঙনের ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।
যুক্তরাষ্ট্রে টানা ছয় সপ্তাহ পর সামান্য কমেছে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট। ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে গড় মর্টগেজ রেট দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে, যা আগের সপ্তাহের ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ থেকে মাত্র ২ বেসিস পয়েন্ট কম। তবে এই সামান্য পতনকে এখনই আবাসন বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। মর্টগেজ রেট কমলেও বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ওপর চাপ পুরোপুরি কাটেনি। এক বছর আগে একই সময়ে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট ছিল ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমান হার এখনও গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। ১৫ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেটও এ সপ্তাহে ৬ দশমিক ০১ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশে নেমেছে। আবাসন বাজারের সাম্প্রতিক চিত্রও মিশ্র। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকে তৈরি ও মালিকানাধীন বাড়ি বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৪ দশমিক ০৬ মিলিয়নে নেমেছে। তবে এক বছর আগের তুলনায় বাড়ি বিক্রি ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। বাড়ির দামেও বড় ধরনের স্বস্তি আসেনি। জুলাইয়ে বিদ্যমান বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বিক্রির জন্য বাজারে থাকা বাড়ির সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ লাখ ৪০ হাজার, যা প্রায় ৪ দশমিক ৬ মাসের সরবরাহের সমান। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়যোগ্যতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। জুলাইয়ে মোট বিদ্যমান বাড়ি বিক্রির মাত্র ২৯ শতাংশ ছিল প্রথমবারের ক্রেতাদের। জুনে এই হার ছিল ৩৩ শতাংশ। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ লরেন্স ইউন মনে করেন, গত কয়েক মাসের তুলনামূলক বেশি মর্টগেজ রেটের মধ্যেও বাড়ি বিক্রি মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে গড় মর্টগেজ রেট প্রায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এলে আবাসন বাজারে আরও শক্তিশালী কার্যক্রম দেখা যেতে পারে। ফলে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে নেমে আসা মর্টগেজ রেট বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সামান্য স্বস্তির খবর হলেও, আবাসন বাজারে বড় ধরনের গতি ফেরার জন্য আরও উল্লেখযোগ্য হারে মর্টগেজ রেট কমা, বাড়ির দাম ও মাসিক আবাসন ব্যয়ের চাপ কমা এবং ক্রেতাদের সাশ্রয়যোগ্যতা বাড়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে হোয়াইট রিভারের পানি ১৯১৩ সালের রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নদীর পানি বর্তমানে ২৪ দশমিক ৫ ফুটের বেশি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা ১১৩ বছর আগের রেকর্ডের চেয়েও এক ফুটের বেশি। এই নজিরবিহীন পানি বৃদ্ধির ফলে ইন্ডিয়ানার বিস্তীর্ণ এলাকা ও পুরো লোকালয় এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে। মঙ্গলবার থেকে ইন্ডিয়ানাপোলিসের পূর্বাঞ্চলে ১১ ইঞ্চিরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর মাইক ব্রন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্ডিয়ানা ন্যাশনাল গার্ডকে তলব করেছেন। উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে গভর্নর ব্রন জানান, তাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল রয়েছে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে জরুরি সম্পদ ও সহায়তা পাঠানো হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি সম্প্রদায়কে সাহায্য করার জন্য তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে, ইন্ডিয়ানার অ্যান্ডারসন শহরের রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহরটির বাসিন্দা চার্লি সিমন্স জানান, তিনি গত এক বছর ধরে কাজ করে মাত্র কয়েক মাস আগে তার বাড়িটি নতুন করে তৈরি করেছিলেন, কিন্তু বন্যায় তা এখন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আজীবন অ্যান্ডারসনে বসবাস করা সিমন্স জানান, তার জীবদ্দশায় তিনি কখনোই এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেননি। বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে ডেলাওয়্যার কাউন্টির ইয়র্কটাউন শহর কর্তৃপক্ষের শেয়ার করা ফেসবুক ভিডিওগুলোতেও। সেখানে বন্যার ভয়াবহতা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখা গেছে। অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টিতে ট্রেনের লাইন ও রাস্তাঘাট ঘোলা পানিতে তলিয়ে গেছে এবং টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কেমব্রিজ সিটির বাড়িঘর কয়েক ফুট পানিতে অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এভারটন ভলান্টিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে দুর্যোগকবলিত ওই অঞ্চল থেকে কয়েক ডজন মানুষকে উদ্ধার করেছেন। আগামী রবিবার পর্যন্ত নদীর পানি তীর উপচে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড, স্থায়ী চাকরি এবং নিয়মিত আয় থাকলেও পছন্দের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে গিয়ে অনেক নতুন অভিবাসী সমস্যায় পড়তে পারেন। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকা বা দুর্বল ক্রেডিট। তবে শুধু গ্রিন কার্ড থাকা বা না থাকার সঙ্গে ক্রেডিট স্কোরের সরাসরি সম্পর্ক নেই। বাড়িওয়ালা বা প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি সাধারণত আবেদনকারীর আয়, ক্রেডিট রিপোর্ট, আগের রেন্টাল হিস্ট্রি এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। যুক্তরাষ্ট্রে বহুল ব্যবহৃত ফিকো স্কোর সাধারণত ৩০০ থেকে ৮৫০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফিকোর শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী ৬৭০ থেকে ৭৩৯ স্কোরকে ‘গুড’, ৭৪০ থেকে ৭৯৯ ‘ভেরি গুড’ এবং ৮০০ বা তার বেশি স্কোরকে ‘এক্সেপশনাল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া পাওয়ার জন্য সারা দেশে বাধ্যতামূলক কোনো নির্দিষ্ট ক্রেডিট স্কোর নেই। বাড়িওয়ালা, প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, এলাকার রেন্টাল মার্কেট এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর প্রয়োজনীয় স্কোর নির্ভর করে। অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোরের পাশাপাশি ক্রেডিট রিপোর্টে বিল পরিশোধের ইতিহাস, ঋণের পরিমাণ, কালেকশন অ্যাকাউন্ট বা অন্যান্য আর্থিক তথ্যও দেখে। এ কারণে ‘ক্রেডিট স্কোর জিরো’ কথাটিও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা বা আগে কোনো ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করা ব্যক্তির পর্যাপ্ত ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলে অনেক সময় তার স্কোর তৈরি করার মতো তথ্যই থাকে না। অর্থাৎ তার স্কোর শূন্য হওয়ার বদলে কোনো স্কোর নাও থাকতে পারে। একে সাধারণভাবে ‘ক্রেডিট ইনভিজিবল’ বা সীমিত ক্রেডিট হিস্ট্রি বলা হয়। কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রি গড়ে উঠলে হাউজিং, ক্রেডিট কার্ড ও বিভিন্ন ধরনের লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে। নিয়মিত ও সময়মতো পেমেন্ট করা একটি শক্তিশালী ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন অভিবাসীদের একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো, ফোন বিল বা নিয়মিত রেন্ট দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব পেমেন্ট ক্রেডিট রিপোর্টে যুক্ত হয়। বাস্তবে সব ফোন, ইউটিলিটি বা রেন্ট পেমেন্ট নিয়মিতভাবে তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করা হয় না। তবে নির্দিষ্ট রেন্ট রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সময়মতো দেওয়া ভাড়ার তথ্য ক্রেডিট রিপোর্টে যুক্ত হলে তা ক্রেডিট তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলে একটি সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শুরু করা একটি প্রচলিত উপায়। এ ধরনের কার্ডে সাধারণত আগে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের সিকিউরিটি ডিপোজিট রাখতে হয়। এরপর কার্ডটি ব্যবহার করে প্রতি মাসে সময়মতো বিল পরিশোধ করলে সেই পেমেন্ট হিস্ট্রি ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট হওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্রেডিট প্রোফাইল তৈরি হতে পারে। শুধু ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই অবশ্য ভালো স্কোর নিশ্চিত হয় না। সময়মতো পেমেন্ট করা, ক্রেডিট লিমিটের তুলনায় ব্যালেন্স নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অল্প সময়ে অনেক নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্টের জন্য আবেদন না করাও গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলেও অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া অসম্ভব নয়। কোনো কোনো বাড়িওয়ালা স্থায়ী চাকরি ও পর্যাপ্ত আয়ের প্রমাণ, আগের বাড়িওয়ালার রেফারেন্স অথবা গ্যারান্টর বিবেচনা করতে পারেন। আবার অনেক প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির নিজস্ব টেন্যান্ট স্ক্রিনিং নীতি থাকে। চাকরির ক্ষেত্রেও ক্রেডিট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কিছু নিয়োগকর্তা আইনসঙ্গতভাবে এবং আবেদনকারীর লিখিত অনুমতি নিয়ে ক্রেডিট রিপোর্টসহ ব্যাকগ্রাউন্ড রিপোর্ট দেখতে পারেন। তবে তারা সাধারণত চাকরির আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোর দেখতে পান না। রাজ্য ও স্থানীয় আইন অনুযায়ী এ ধরনের যাচাইয়ের ওপর আরও বিধিনিষেধ থাকতে পারে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের প্রমাণ হলেও সেটি ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রির বিকল্প নয়। নতুন অভিবাসীদের জন্য শুরু থেকেই নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট সম্পর্কে জানা, সময়মতো পেমেন্ট করা এবং দায়িত্বশীলভাবে ক্রেডিট তৈরি করা ভবিষ্যতে অ্যাপার্টমেন্ট, মর্টগেজ, গাড়ির লোনসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মা ও অন্য দুই প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু। চারদিকে ঘন আমাজন জঙ্গল, বিষধর সাপ ও বন্য প্রাণীর ঝুঁকি। সঙ্গে ১১ মাস বয়সী এক শিশু। এমন পরিস্থিতিতেও ১৩ বছরের বড় বোনের নেতৃত্বে চার ভাইবোন টানা ৪০ দিন নিজেদের বাঁচিয়ে রেখেছিল। ২০২৩ সালে কলম্বিয়ার আমাজনে ঘটে যাওয়া এই অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। ঘটনাটি ২০২৩ সালের ১ মে। একটি সেসনা ২০৬ উড়োজাহাজ কলম্বিয়ার কাকেতা অঞ্চলের আরারাকুয়ারা থেকে সান হোসে দেল গুয়াভিয়ারে যাচ্ছিল। উড়োজাহাজটিতে চার শিশুসহ সাতজন ছিলেন। যাত্রাপথে ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর পাইলট জরুরি সংকেত পাঠান। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি আমাজনের দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজে থাকা চার ভাইবোন লেসলি, সোলেইনি, তিয়েন নোরিয়েল ও ক্রিস্টিন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায়। সে সময় তাদের বয়স ছিল যথাক্রমে ১৩, ৯, ৪ বছর এবং প্রায় ১১ মাস। পরে জঙ্গলের মধ্যে উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ থেকে তিন প্রাপ্তবয়স্কের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন শিশুদের মা মাগদালেনা মুকুতুই। দুর্ঘটনার পর চার শিশুর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে ধ্বংসাবশেষের আশপাশে পাওয়া বিভিন্ন চিহ্ন দেখে উদ্ধারকারীরা ধারণা করেন, শিশুরা বেঁচে আছে এবং জঙ্গলের ভেতর দিয়ে চলাচল করছে। এরপর তাদের উদ্ধারে বড় পরিসরে শুরু হয় ‘অপারেশন এসপেরানজা’ বা ‘অপারেশন হোপ’। চার ভাইবোনকে বাঁচিয়ে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বড় বোন লেসলির জঙ্গল সম্পর্কে জ্ঞান। শিশুরা আদিবাসী উইতোতো জনগোষ্ঠীর সদস্য। ছোটবেলা থেকেই বনজ ফল চেনা, জঙ্গলে চলাচল এবং বিপদ এড়িয়ে টিকে থাকার বিষয়ে তাদের পারিবারিক ও ঐতিহ্যগত শিক্ষা ছিল। দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজ থেকে পাওয়া কাসাভার আটা কিছুদিন তাদের খাবারের প্রধান উৎস ছিল। সেটি শেষ হয়ে গেলে জঙ্গল থেকে পরিচিত ফল ও বীজ সংগ্রহ করে খেতে শুরু করে তারা। লেসলি ছোট ভাইবোনদের জন্য ডালপালা দিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ও তৈরি করেছিল। সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব ছিল তখনো এক বছর পূর্ণ না হওয়া ছোট বোন ক্রিস্টিনকে নিরাপদ রাখা। শিশুদের খুঁজে বের করতে কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনীর শতাধিক সদস্যের পাশাপাশি বহু আদিবাসী অনুসন্ধানকারী জঙ্গলে নামেন। দুর্গম ভূখণ্ড সম্পর্কে আদিবাসীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তি ও উদ্ধার সক্ষমতার সমন্বয় করা হয়। হেলিকপ্টার থেকে জঙ্গলে খাবারের প্যাকেট ফেলা হয়। শিশুদের দাদির কণ্ঠে রেকর্ড করা বার্তাও লাউডস্পিকারে বাজানো হয়েছিল। সেখানে শিশুদের এক জায়গায় থাকার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে উদ্ধারকারীরা সহজে তাদের খুঁজে পেতে পারেন। দিন যত গড়াচ্ছিল, জঙ্গলে একের পর এক আলামত পাওয়া যাচ্ছিল। শিশুর ব্যবহৃত বোতল, অস্থায়ী আশ্রয়, খাওয়া ফলের অংশ এবং ছোট ছোট পায়ের ছাপ উদ্ধারকারীদের আশা জাগিয়ে রাখে। এসব চিহ্নই নিশ্চিত করছিল, শিশুরা দুর্ঘটনার পরও বেঁচে ছিল এবং জঙ্গলের মধ্যে চলাচল করছিল। অবশেষে ২০২৩ সালের ৯ জুন, দুর্ঘটনার ঠিক ৪০ দিন পর চার শিশুকে জীবিত খুঁজে পান সেনাসদস্য ও আদিবাসী অনুসন্ধানকারীদের যৌথ দল। উদ্ধারের সময় তারা অপুষ্ট ও অত্যন্ত দুর্বল ছিল। তবে চারজনই জীবিত ছিল। পরে তাদের হেলিকপ্টারে করে বোগোটার একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। কলম্বিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো চার শিশুর জীবিত উদ্ধারের ঘটনাকে পুরো দেশের জন্য আনন্দের খবর হিসেবে বর্ণনা করেন। চার ভাইবোনের বেঁচে থাকার পেছনে তাদের আদিবাসী জ্ঞান ও জঙ্গলের সঙ্গে পরিচিতির গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। এই অভিযানের আরেক আলোচিত সদস্য ছিল উইলসন নামের একটি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে উইলসন জঙ্গলে হারিয়ে যায়। শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের আঁকা ছবিতে একটি কুকুরের উপস্থিতি দেখা যায় এবং তারা জানিয়েছিল, জঙ্গলে একটি কুকুর কিছু সময় তাদের সঙ্গে ছিল। সেটি উইলসন ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। ব্যাপক অনুসন্ধানের পরও উইলসনকে আর পাওয়া যায়নি। আমাজনের দুর্গম পরিবেশে চার শিশুর ৪০ দিন বেঁচে থাকার ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত শুধু একটি উদ্ধার অভিযানের গল্প হয়ে থাকেনি। আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও আদিবাসীদের শতাব্দীপ্রাচীন বনজ জ্ঞানের সমন্বয় কীভাবে জীবন বাঁচাতে পারে, কলম্বিয়ার ‘অপারেশন হোপ’ তার একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কাজ চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন তিনবার আটকে গিয়েছিল এইচ-১বি ভিসা লটারিতে। কিন্তু হাল ছাড়েননি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ২৯ বছর বয়সী সোহান শেঠি। শেষ পর্যন্ত নিজের পেশাগত অর্জনের পক্ষে প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার নথি তৈরি এবং আইনজীবী ও অ্যাপ্লিকেশন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ হাজার ডলার খরচ করে তিনি ও-১ ভিসা পেতে সক্ষম হয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোহান যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা ও অ্যানালিটিকস খাতে নিজের ক্যারিয়ার চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু টানা তিনবার এইচ-১বি লটারিতে সুযোগ না পাওয়ায় একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত বিকল্প হিসেবে তিনি বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের জন্য থাকা ও-১ ভিসার পথে এগোন। ও-১ সাধারণ কোনো ওয়ার্ক ভিসা নয়। বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা, অ্যাথলেটিকস, শিল্পকলা, চলচ্চিত্র বা টেলিভিশনের মতো ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য অর্জনের স্বীকৃতি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এই ভিসা ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। এইচ-১বির মতো ও-১ ভিসায় বার্ষিক লটারি নেই। তবে আবেদনকারীকে নিজের যোগ্যতা ও পেশাগত অর্জনের পক্ষে শক্ত প্রমাণ দেখাতে হয়। সোহানের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বড় কাজ ছিল সেই প্রমাণ তৈরি করা। তাঁর আবেদনপত্রের সঙ্গে পেশাগত অর্জন, কাজের প্রভাব, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, স্বীকৃতি এবং নিজ ক্ষেত্রে অবস্থান প্রমাণে বিপুল পরিমাণ নথি যুক্ত করা হয়। পুরো আবেদন প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠায় পৌঁছায়। আইনগত সহায়তা ও আবেদনসংক্রান্ত খরচ মিলিয়ে তাঁর প্রায় ১৩ হাজার ডলার ব্যয় হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সোহান নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ও-১ ভিসা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, এইচ-১বি লটারিতে তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পর ও-১ ভিসা অনুমোদন পাওয়া তাঁর জন্য বড় অর্জন। তাঁর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ও-১ আবেদন তৈরির সময় তাঁর প্রমাণপত্রের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো আরও শক্তভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। সোহানের ঘটনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ২০২৭ অর্থবছরের এইচ-১বি নির্বাচনে আগের সম্পূর্ণ র্যান্ডম লটারির পরিবর্তে বেতনভিত্তিক ওজনযুক্ত নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যকর করেছে ইউএসসিআইএস। এতে উচ্চ বেতন ও উচ্চ দক্ষতার পদের আবেদনকারীরা নির্বাচনে তুলনামূলক সুবিধা পাচ্ছেন। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ২০২৭ অর্থবছরের জন্য কংগ্রেস নির্ধারিত ৬৫ হাজার সাধারণ এইচ-১বি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজারের কোটা পূরণের মতো আবেদন ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। ফলে এ অর্থবছরে আর দ্বিতীয় দফার লটারি হচ্ছে না। এইচ-১বি ব্যবস্থায় পরিবর্তন ও প্রতিযোগিতা বাড়ার মধ্যে যোগ্য বিদেশি পেশাজীবীদের একটি অংশ এখন ও-১ ভিসার দিকে নজর দিচ্ছেন। তবে এই ভিসা এইচ-১বির সরাসরি বিকল্প নয় এবং শুধু এইচ-১বি লটারিতে ব্যর্থ হলেই কেউ ও-১ ভিসার যোগ্য হয়ে যান না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নিজের অসাধারণ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য পেশাগত অর্জনের প্রমাণ দিতে হয়। সোহানের ক্ষেত্রে তিনবারের এইচ-১বি ব্যর্থতা তাই যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ হয়ে দাঁড়ায়নি। দীর্ঘ প্রস্তুতি, শত শত পৃষ্ঠার প্রমাণ এবং বড় অঙ্কের খরচের পর ভিন্ন একটি ভিসা ক্যাটাগরিতে নিজের যোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছেন।
মায়ের আলঝেইমার রোগ নিয়ে গবেষণায় সহায়তা হবে, এই বিশ্বাসে ২০১৩ সালে তার দেহ বিজ্ঞানের জন্য দান করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার বাসিন্দা জিম স্টফার। কিন্তু কয়েক বছর পর তিনি জানতে পারেন, মায়ের দেহ চিকিৎসা গবেষণায় নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছিল। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সামরিক পরীক্ষায় দেহ ব্যবহারের অনুমতি তিনি স্পষ্টভাবেই দেননি। জিমের মা ডরিস স্টফার ২০১৩ সালে ৭৪ বছর বয়সে আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত অবস্থায় মারা যান। পরিবারের আশা ছিল, তার মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা করলে আলঝেইমার সম্পর্কে নতুন কিছু জানা যেতে পারে। একটি নার্সের পরামর্শে পরিবার যোগাযোগ করে অ্যারিজোনাভিত্তিক বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের সঙ্গে। দেহ হস্তান্তরের সময় জিম একটি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেন। সেখানে চিকিৎসা গবেষণার অনুমতি দিলেও সামরিক, ট্রাফিক সেফটি কিংবা বিস্ফোরণসহ ধ্বংসাত্মক পরীক্ষায় মায়ের দেহ ব্যবহার করা যাবে না, এমন অপশনে তিনি ‘না’ চিহ্নিত করেছিলেন। এর প্রায় ১০ দিন পর পরিবারকে কিছু দাহ করা দেহাবশেষ ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু ডরিসের দেহ আসলে কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে কিছুই জানানো হয়নি। পরে রয়টার্সের তদন্তে উঠে আসে, বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টার ডরিসের একটি হাত আলাদা করে দাহ করেছিল এবং সেই ছাই পরিবারকে ফেরত দিয়েছিল। বাকি দেহটি অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি গবেষণা প্রকল্পে পাঠানো হয়েছিল। সেনাবাহিনীর ওই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল রাস্তার পাশে পাতা বোমা বা আইইডি বিস্ফোরণের সময় মানবদেহে কী ধরনের ক্ষতি হয়, তা বোঝা। ডরিসের দেহ সেই পরীক্ষার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অথচ তার মস্তিষ্ক আলঝেইমার গবেষণায় ব্যবহারই করা হয়নি। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা যায়, ডরিস ছাড়াও অন্তত ২০টি দেহ একই ধরনের সামরিক বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছিল, যেখানে দাতাদের বা তাদের পরিবারের প্রয়োজনীয় সম্মতি ছিল না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নিজস্ব নীতিরও লঙ্ঘন ছিল। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা পরে জানান, তারা সংশ্লিষ্ট পরিবারের আসল সম্মতিপত্র দেখেননি। বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের কাছ থেকে পরিবারগুলো সামরিক পরীক্ষায় সম্মতি দিয়েছে এমন আশ্বাসের ওপর নির্ভর করেছিলেন তারা। ডরিসের দেহের প্রকৃত পরিণতি পরিবারকে জানিয়েছিল না বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টার, না সেনাবাহিনী। ২০১৬ সালে রয়টার্সের একজন সাংবাদিকের কাছ থেকেই জিম প্রথম জানতে পারেন, তার মায়ের দেহ আলঝেইমার গবেষণায় নয়, বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে জিমসহ আরও অনেক পরিবার বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মৃত স্বজনদের দেহ কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল এবং সম্মতি ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে দেহ বা দেহাংশ বিক্রি করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে অ্যারিজোনার একটি সিভিল জুরি মামলার ২১ বাদীর মধ্যে ১০ জনের পক্ষে রায় দেয়। মোট ৫৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ মিলিয়ন ডলার ছিল ক্ষতিপূরণমূলক এবং ৫০ মিলিয়ন ডলার শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ। মামলায় উঠে আসে, বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টার চিকিৎসা গবেষণার কথা বলে দেহ সংগ্রহ করলেও কিছু দেহ সামরিক পরীক্ষায় বিক্রি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যতালিকায় একটি মাথাবিহীন ধড় ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত বিক্রির তথ্যও আদালতে দেখানো হয়। বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের মালিক স্টিফেন গোর এর আগে ২০১৫ সালে বেআইনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে বন্ধ হয়ে যায়। রয়টার্সের তদন্ত অনুযায়ী, এক দশকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫ হাজার দাতার দেহ থেকে ২০ হাজারের বেশি দেহাংশ বিক্রি করেছিল। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং পুরো দেহ দানের ব্যবস্থার মধ্যে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রক পার্থক্যও সামনে আনে। অঙ্গ প্রতিস্থাপন কঠোর ফেডারেল নিয়মের আওতায় থাকলেও গবেষণা ও শিক্ষার জন্য দান করা পূর্ণ মানবদেহ বা দেহাংশের বাণিজ্যে সে সময় তুলনামূলকভাবে খুব কম নজরদারি ছিল। জিম স্টফারের জন্য বিষয়টি ছিল কেবল একটি আইনি লড়াই নয়। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মায়ের অসুস্থতা নিয়ে গবেষণায় সাহায্য করার আশায়, সেটিই শেষ পর্যন্ত এমন এক ব্যবস্থার মুখোশ খুলে দেয় যেখানে পরিবারের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও দান করা মানবদেহ অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছিল।
পড়াশোনার খরচ চালাতে কখনো কম্পিউটারের দোকানে কাজ করেছেন, আবার সরকারি চাকরিতে ছিলেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর। সীমিত সুযোগ আর আর্থিক সংকটের মধ্যেও গবেষক হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি আশুতোষ নাথ। সেই পথ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টন থেকে অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি শেষ করেছেন তিনি। এবার ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের কলেজ অব ফার্মেসিতে পিএইচডি পরবর্তী গবেষণায় যুক্ত হয়ে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে কাজ করতে যাচ্ছেন ৩৪ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি গবেষক। আশুতোষের বেড়ে ওঠা খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা স্বচ্ছল ছিল না। তাঁর বাবা মিলন নাথ জীবিকার সন্ধানে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে পরিবার নিয়ে মানিকছড়িতে চলে গিয়েছিলেন। মা নিয়তী দেবীও সংসারের হাল ধরেছিলেন। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আশুতোষ সবার ছোট। তাঁর উচ্চশিক্ষার পথ তৈরিতে বড় ভাই পরিতোষ নাথের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। পোশাক সেলাই করে উপার্জনের একটি বড় অংশ ছোট ভাইয়ের পড়াশোনায় ব্যয় করতেন তিনি। স্কুল ও কলেজ শেষ করার পর আশুতোষ ভর্তি হন চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের রসায়ন বিভাগে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনার সঙ্গে বেড়ে যায় খরচ। বই কেনা থেকে শুরু করে নিজের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোও কঠিন হয়ে পড়ে। তখন চট্টগ্রামের চকবাজারের একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানকার আয় দিয়ে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও কিছু অর্থ পাঠাতেন। স্নাতকে পড়ার সময়ই সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন আশুতোষ। ২০১৬ সালে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি পেয়ে ঢাকায় চলে আসেন। চাকরির বেতনে সংসারের প্রয়োজন মেটানো কঠিন হওয়ায় পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংও করতেন। দিনের চাকরির পর রাত জেগে কাজ করে নিজের পড়াশোনা ও পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন সামলেছেন তিনি। স্নাতকে রসায়ন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য নতুন সুযোগ আসে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। বুয়েটে রসায়নে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন আশুতোষ। ২০১৯ সালে সেখান থেকে ডিগ্রি শেষ করেন। এই সময়টিই তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। নিয়মিত গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশ হতে থাকে। বুয়েটে গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন আরও দৃঢ় হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে থাকেন আশুতোষ। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে শতভাগ স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টনে পিএইচডি করার সুযোগ পান। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েট টিচিং ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবেও কাজ করেন। ২০২৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টন থেকে কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক গ্র্যাজুয়েশন নথিতেও তাঁর পিএইচডি এবং অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে গবেষণার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র ছিল জটিল পলিহেটেরোসাইক্লিক অণু তৈরির নতুন ও কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন। অধ্যাপক ওয়েই ঝাংয়ের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণার সময় সিনথেটিক অর্গানিক কেমিস্ট্রির বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। অর্গানিক সিনথেসিস, রিঅ্যাকশন অপটিমাইজেশন, এনএমআর, এলসি এমএস, এইচপিএলসি, ক্রিস্টালোগ্রাফি, ডিএফটি ক্যালকুলেশন এবং মলিকিউলার ডকিংয়ের মতো গবেষণা পদ্ধতিতে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার ফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতেও জায়গা পেয়েছে। ২০২৫ সালে আশুতোষ নাথ, জন মার্ক আওয়াদ ও অধ্যাপক ওয়েই ঝাংয়ের একটি গবেষণা বেইলস্টাইন জার্নাল অব অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালে অর্গানিক লেটারসেও তাঁর একাধিক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। এসব গবেষণায় জটিল রাসায়নিক কাঠামো তৈরির নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও গবেষণার অভিজ্ঞতা হয়েছে আশুতোষের। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও বোস্টন চিলড্রেনস হসপিটালের গবেষকদের সঙ্গে ছোট অণু ও প্রিসিশন ভ্যাকসিন সংশ্লিষ্ট গবেষণায় সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পিএইচডির পর এবার গবেষণার ক্ষেত্র আরও সরাসরি ওষুধ আবিষ্কারের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন আশুতোষ। চলতি আগস্টে ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের কলেজ অব ফার্মেসিতে পিএইচডি পরবর্তী গবেষক হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। সেখানে সিনথেটিক অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে মেডিসিনাল কেমিস্ট্রি ও ড্রাগ ডিসকভারির কাজে ব্যবহার করবেন। নতুন গবেষণায় জৈবিকভাবে সক্রিয় ক্ষুদ্র অণুর নকশা, সংশ্লেষণ ও কার্যকারিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ভবিষ্যতে সিনথেটিক ও মেডিসিনাল কেমিস্ট্রির সঙ্গে কম্পিউটেশনাল মডেলিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যুক্ত করে ওষুধ উদ্ভাবনের গবেষণা আরও এগিয়ে নিতে চান তিনি। খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চট্টগ্রামের কম্পিউটার দোকান, সেখান থেকে ঢাকায় সরকারি অফিসের চাকরি, বুয়েটের গবেষণাগার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি, আশুতোষের দীর্ঘ পথচলার নতুন গন্তব্য এখন ওষুধ উদ্ভাবনের গবেষণা। তাঁর লক্ষ্য, এমন গবেষণায় যুক্ত হওয়া যার ফল শেষ পর্যন্ত মানুষের চিকিৎসায় নতুন ও কার্যকর ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগতে পারে।
ম্যাসাচুসেটসের লরেন্স শহরের মেয়র ব্রায়ান ডেপেনাকে ফেডারেল ওয়্যার ফ্রড ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, কোভিড মহামারির সময় তার ব্যবসার জন্য পাওয়া ফেডারেল রিলিফ লোনের অর্থ ব্যক্তিগত ট্যাক্স, রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন এবং অন্যান্য ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট ব্রায়ান ডেপেনার বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। সিবিএস বোস্টনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে লরেন্সের মেয়র নির্বাচিত হওয়া ডেপেনা ২০২৫ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি লরেন্স সিটি কাউন্সিলে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি লরেন্সে টেনারেস টায়ার সার্ভিসেস ইনকরপোরেটেড নামে একটি টায়ার ও অটোমোবাইল ব্যবসার মালিক। ফেডারেল ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্ট অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৪ মে ডেপেনার ব্যবসা ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ইকোনমিক ইনজুরি ডিজাস্টার লোন বা ইআইডিএলের অনুমোদন পায়। ওই বছরের ১৮ জুন কোম্পানিটি অর্থ পায়। এই লোন মূলত কোভিড মহামারির কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতি মোকাবিলা ও ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছিল। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০২১ সালের শুরুর দিকে ডেপেনা লরেন্সের ৩৪২ ব্রডওয়েতে ৭ লাখ ডলারে একটি কমার্শিয়াল প্রপার্টি কেনার পর নগদ অর্থের চাপে পড়েন। এরপর তিনি তার ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজারের সহায়তায় ব্যবসার ইআইডিএল বাড়ানোর চেষ্টা করেন। ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্টে উল্লেখ করা টেক্সট মেসেজ অনুযায়ী, সে সময় ডেপেনা তার অ্যাডভাইজারের কাছে দ্রুত অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২১ সালের ১২ আগস্ট তার ব্যবসার ইআইডিএল বাড়িয়ে ৫ লাখ ডলার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, লোনের অর্থ কেবল ব্যবসার ক্ষতি সামাল দিতে ব্যবহারের কথা থাকলেও ডেপেনা তা অন্য কাজে খরচ করেন। ২০২১ সালের আগস্টে তিনি ইআইডিএল তহবিল থেকে ৮৫ হাজার ডলার ব্যক্তিগত ট্যাক্স পরিশোধে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরের মাসে আরও ৯০ হাজার ডলার তার মেয়র ক্যাম্পেইনে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রসিকিউটররা। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরে ফেডারেল লোনের অর্থ থেকে তার ক্যাম্পেইন অ্যাকাউন্টে একাধিক ডিপোজিট করা হয়। ২০২১ সালের অক্টোবরে ব্যবসার ইআইডিএল আবারও বাড়ানো হয় এবং কোম্পানির অ্যাকাউন্টে ১১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৮ ডলার আসে। এরপরও ওই অর্থের কিছু অংশ রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন ও বিভিন্ন ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের হিসাবে, ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত টেনারেস টায়ারের ইআইডিএলের বিপরীতে মাত্র ১৬টি পেমেন্ট করা হয়েছিল। মোট পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ১৬০ ডলার, যার পুরোটাই জমে থাকা সুদের বিপরীতে গেছে। তখনও মূল ঋণের বকেয়া ১৬ লাখ ডলারের বেশি ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেপেনার বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রড এবং সেই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে বোস্টনের ফেডারেল কোর্টে হাজির করার কথা ছিল। মামলাটি এখন বিচারাধীন এবং আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। লরেন্স শহর ম্যাসাচুসেটসের একটি বড় অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকা, যেখানে ডোমিনিকান বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ডেপেনার গ্রেপ্তার স্থানীয় রাজনীতিতে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ তিনি বর্তমানে দায়িত্বে থাকা মেয়র এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলোর জন্য বরাদ্দ করা ফেডারেল সহায়তা তহবিলের ব্যবহার।
শিশুর গুরুতর আঘাত এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ হাজারের বেশি বেবি জাম্পার ও সুইং রিকল করা হয়েছে। ফেডারেল নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের এসব পণ্য অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করতে বলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন বা সিপিএসসি জানিয়েছে, রিকলের আওতায় রয়েছে ট্যালেকো গিয়ারের প্রায় ৪১ হাজার ১০০টি বেবি জাম্পার, বেবি সুইং এবং টু-ইন-ওয়ান বেবি জাম্পার ও সুইং। সিপিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারের সময় এসব পণ্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে যেতে পারে। এতে শিশুর পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে ঝুলন্ত রেস্ট্রেইন্ট স্ট্র্যাপ এবং সিটের খোলা অংশ শিশুর গলায় আটকে শ্বাসরোধের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ইতোমধ্যে এসব পণ্য নিয়ে ৫২টি ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩২টি ঘটনায় শিশু আহত হয়েছে। আঘাতের মধ্যে মাথায় আঘাত এবং নাক দিয়ে রক্তপাতের ঘটনাও রয়েছে। রিকলের আওতায় থাকা পণ্যগুলো জি ট্যালেকো গিয়ার ব্র্যান্ডের। এর মধ্যে বেবি জাম্পার, বেবি সুইং এবং টু-ইন-ওয়ান জাম্পার ও সুইংয়ের একাধিক মডেল রয়েছে। পণ্যগুলো কালো, সাদা, ধূসর, গোলাপি, নীল ও সবুজ রঙে বিক্রি হয়েছে। রিকল হওয়া মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে Jumper-01 মডেলের বেবি জাম্পার, Swing-1 মডেলের বেবি সুইং এবং Jumper-01 মডেল নম্বরযুক্ত দুই ধরনের টু-ইন-ওয়ান জাম্পার ও সুইং। ফলে বাসায় এ ধরনের পণ্য থাকলে অভিভাবকদের মডেল নম্বর মিলিয়ে দেখা জরুরি। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট এবং ট্যালেকো গিয়ারের নিজস্ব অনলাইন স্টোরের মাধ্যমে পণ্যগুলো বিক্রি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় দেশজুড়ে বহু পরিবারের কাছে এসব পণ্য থাকতে পারে। ট্যালেকো গিয়ার গ্রাহকদের রিকল হওয়া পণ্য অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করতে বলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা ফুল রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে রিফান্ড পেতে পণ্যটি নষ্ট করে তার ছবি কোম্পানির কাছে জমা দিতে হবে। বিশেষ করে যেসব পরিবার কয়েক বছর আগে বেবি জাম্পার বা সুইং কিনে এখন ছোট সন্তান, আত্মীয়ের শিশু কিংবা অন্য কারও জন্য সেটি ব্যবহার করছেন, তাদেরও মডেল নম্বর পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ রিকলের আওতায় থাকা পণ্যগুলোর বিক্রি শুরু হয়েছিল পাঁচ বছরেরও বেশি সময় আগে। রিকল মানেই প্রতিটি পণ্যে দুর্ঘটনা ঘটেছে এমন নয়। তবে নির্দিষ্ট মডেলে এমন নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, যা ব্যবহারের সময় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই রিকলের আওতায় থাকা পণ্য ব্যবহার চালিয়ে না গিয়ে সিপিএসসির নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের বিশেষ পাসপোর্ট চালু করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’ নামে পরিচিত এই স্মারক পাসপোর্টে থাকছে বিশেষ আর্টওয়ার্ক ও ঐতিহাসিক নকশা। দেশজুড়ে মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার কপি ইস্যু করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বিশেষ এই পাসপোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণ মার্কিন পাসপোর্টের মতোই থাকবে। পার্থক্য মূলত এর নকশায়। সামনের ও পেছনের কভার এবং ভেতরের অংশে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ ছবি ও ডিজাইন যুক্ত করা হয়েছে। পাসপোর্টের ভেতরের সামনের কভারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের লেখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার নকশা রয়েছে। ভেতরের পেছনের কভারে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক দৃশ্যের চিত্র এবং ‘২৫০’ সংখ্যা রাখা হয়েছে। বাইরের পেছনের কভারে রয়েছে ‘ফ্রিডম ২৫০’ লোগো। বিশেষ পাসপোর্টটি নিয়ে আগ্রহ এত বেশি যে স্টেট ডিপার্টমেন্ট অতিরিক্ত ২ লাখ ৫০ হাজার কপি দেওয়ার সুযোগ ঘোষণা করেছে। তবে সাধারণভাবে অনলাইনে বা মেইলে আবেদন করলে এই সংস্করণ পাওয়া যাবে না। প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট পেতে আবেদনকারীকে নির্ধারিত পাসপোর্ট এজেন্সি বা বিশেষ ২৫০তম বার্ষিকী পাসপোর্ট ইভেন্টে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে। ওয়াশিংটন ডিসির ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সিতেও এ জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যাচ্ছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনলাইনে করা যাচ্ছে না। আবেদনকারীদের স্টেট ডিপার্টমেন্টের পাসপোর্ট কল সেন্টারে ফোন করে অপশন ৯ নির্বাচন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুযোগ জানতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হলে ইমেইলে কনফারমেশন পাঠানো হবে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্পষ্ট করেছে, অনলাইনে আবেদন, মেইলে আবেদন, সাধারণ পাসপোর্ট অ্যাকসেপটেন্স ফ্যাসিলিটিতে আবেদন কিংবা বিদেশে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করলে প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট পাওয়া যাবে না। দেশের বিভিন্ন শহরে বিশেষ আবেদন ইভেন্টও আয়োজন করা হচ্ছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরজুড়ে বাফেলো, সান ফ্রান্সিসকো, সান ডিয়েগো, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, মায়ামি, হিউস্টন, সিয়াটলসহ বিভিন্ন শহরের পাসপোর্ট এজেন্সি ও সেন্টারে এসব ইভেন্টের সময়সূচি রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আগে থেকে ফোন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। নিউইয়র্কের আবেদনকারীদের জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। বাফেলো পাসপোর্ট এজেন্সিতে ১৮ আগস্ট বিশেষ আবেদন ইভেন্ট নির্ধারিত রয়েছে। সেখানে অংশ নিতেও আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রয়োজন। প্যাট্রিয়ট পাসপোর্টের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ আবেদনপত্র নেই। আবেদনকারীর যোগ্যতার ভিত্তিতে সাধারণ ডিএস-১১ অথবা ডিএস-৮২ ফর্মই ব্যবহার করতে হবে। ফিও স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রচলিত পাসপোর্ট ফি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। বিশেষ সংস্করণটির পৃষ্ঠা সংখ্যাও সাধারণ পাসপোর্ট বুকের মতো ২৬টি। যারা ৫২ পৃষ্ঠার বড় পাসপোর্ট বুক চান, তারা এই বিশেষ ডিজাইন পাবেন না। বড় পাসপোর্ট বুক বর্তমান সাধারণ ডিজাইনেই ইস্যু করা হবে। প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট মূলত একটি স্মারক সংস্করণ হলেও এটি প্রকৃত মার্কিন পাসপোর্ট হিসেবেই ব্যবহারের জন্য তৈরি। অর্থাৎ এটি শুধু সংগ্রহে রাখার স্মারক বুক নয়, বরং সাধারণ পাসপোর্টের মতোই নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সরকারি ট্রাভেল ডকুমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র ১৭৭৬ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। ২০২৬ সালে সেই ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘আমেরিকা ২৫০’ উদযাপনের অংশ হিসেবেই বিশেষ এই পাসপোর্ট চালু করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। সীমিত সংখ্যায় পাসপোর্টটি ইস্যু হওয়ায় আগ্রহীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্ধারিত পাসপোর্ট এজেন্সি বা বিশেষ ইভেন্টে সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া। সাধারণ অনলাইন রিনিউয়াল বা মেইল আবেদন করে এই বিশেষ সংস্করণ পাওয়ার সুযোগ নেই।