সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
বাবার আত্মত্যাগে দুই সন্তান বাঁচল, নিজে আর ফিরলেন না
বাবার আত্মত্যাগে দুই সন্তান বাঁচল, নিজে আর ফিরলেন না

ম্যাসাচুসেটসের মার্থা’স ভিনইয়ার্ডে পরিবারের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে দুই সন্তানকে বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ৫৫ বছর বয়সী কেভিন ফস্টার। প্রবল স্রোতে তাঁর দুই কিশোর ছেলে কেনেথ ও কেডেনসহ পাঁচজন পানিতে বিপদে পড়েছিলেন।   ৩১ জুলাই বিকেল ৩টা ৪৭ মিনিটের দিকে লং পয়েন্ট এলাকায় তাঁদের উদ্ধারে জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়। তীব্র স্রোতের মধ্যে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় কয়েকজন সাহস করে পানিতে নামেন। শেষ পর্যন্ত ফস্টারের দুই ছেলেসহ চারজন নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হন। কিন্তু ফস্টারকে অচেতন অবস্থায় তীরে আনা হলে তাঁকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যদের বিপদে দেখে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাওয়াটা ছিল ফস্টারের স্বভাবেরই অংশ। তাঁর স্ত্রী নাদিয়া ও দুই সন্তান এখন তাঁকে হারানোর গভীর শোকে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেভিন ছিলেন ভালোবাসা, উদারতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পরিচিত একজন মানুষ।   ফস্টারের মৃত্যুতে স্থানীয় সম্প্রদায়েও শোক নেমে এসেছে। তাঁর স্মরণে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর দুই ছেলের শিক্ষার জন্য গঠিত তহবিলে ২ লাখ ৯০ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়েছিল।   ১১ আগস্ট ফস্টারের দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী ও স্বজনদের কাছে তাঁর শেষ মুহূর্তটি এখন শুধু এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি নয়—সন্তানদের বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করা এক বাবার ভালোবাসার প্রতীক।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১০:৫
মুসলিমদের ‘শিকারের পারমিট’ চেয়ে মিশিগানের জনপ্রতিনিধির পোস্ট, তীব্র বিতর্ক
মুসলিমদের ‘শিকারের পারমিট’ চেয়ে মিশিগানের জনপ্রতিনিধির পোস্ট, তীব্র বিতর্ক

মিশিগানের প্লেইনফিল্ড টাউনশিপের একজন নির্বাচিত ট্রাস্টির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইঙ্গিতপূর্ণ একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পোস্টটিতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘হান্টিং পারমিট’ ব্যবহারের কথা বলা হয়। তবে ট্রাস্টি বব রেমিঙ্গা দাবি করেছেন, তিনি ওই পোস্ট শেয়ার করেননি এবং তার নাম ব্যবহার করে পোস্টটি ছড়ানো হয়ে থাকতে পারে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৭ জানিয়েছে, বব রেমিঙ্গার নামে থাকা একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পোস্টটির ভাষা ইসলামবিদ্বেষী এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইঙ্গিত বহন করে বলে সমালোচনা ওঠে।   রেমিঙ্গা ফক্স ১৭-কে বলেন, পোস্টটি সম্পর্কে যোগাযোগ করার আগে তিনি কিছুই জানতেন না। তার দাবি, কেউ তার নাম ব্যবহার করে পোস্টটি তৈরি বা সম্পাদনা করে থাকতে পারে।   সাংবাদিক তাকে পোস্টটি সরাসরি দেখালে রেমিঙ্গা সেটিকে অত্যন্ত অনুপযুক্ত ও নিষ্ঠুর বলে মন্তব্য করেন। তিনি আবারও বলেন, এ ধরনের বক্তব্য তিনি নিজে কখনো প্রকাশ করতেন না।   ঘটনাটি সামনে আসার পর প্লেইনফিল্ড চার্টার টাউনশিপ বোর্ডও বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। বোর্ড বলেছে, টাউনশিপের দায়িত্ব পুরো কমিউনিটিকে সম্মান ও সততার সঙ্গে সেবা দেওয়া। কোনো নির্বাচিত কর্মকর্তা এমন মন্তব্য করলে যা টাউনশিপের নীতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেটি ওই ব্যক্তির নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হবে, টাউনশিপ বা পুরো বোর্ডের অবস্থান হিসেবে নয়।   বোর্ড আরও জানিয়েছে, মিশিগান আইনে টাউনশিপ কর্তৃপক্ষ কোনো নির্বাচিত কর্মকর্তাকে এ ধরনের ব্যক্তিগত বক্তব্যের জন্য সরাসরি পদ থেকে অপসারণ করতে বা বেতন বন্ধ করতে পারে না। নির্বাচিত কর্মকর্তার বিষয়ে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ভোটারদের নির্বাচন, পুনর্নির্বাচন বা রিকল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিতে হয়।   বিতর্কের পর বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার দুপুরে একটি বিশেষ বোর্ড মিটিং ডাকা হয়েছে। সেখানে রেমিঙ্গাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং টাউনশিপের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।   এদিকে গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসের ইসলামিক সেন্টারের ইমাম শরিফ সাহিবজাদা বলেছেন, ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণার বড় একটি কারণ হলো অজ্ঞতা ও ভুল বোঝাবুঝি। তার মতে, মানুষ একে অপরের ধর্ম ও বাস্তব জীবন সম্পর্কে জানলে এ ধরনের বিভাজন কমতে পারে।   তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে সামগ্রিকভাবে সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত করার ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে ঘৃণামূলক বক্তব্যের জবাব সংঘাত দিয়ে নয়, বরং বোঝাপড়া ও মানবিকতার মাধ্যমে দেওয়ার আহ্বান জানান।   ঘটনাটি স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে এমন একটি পোস্টে সরাসরি মুসলিমদের লক্ষ্য করে ‘শিকার’ করার ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায়। তবে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, পোস্টটি সত্যিই রেমিঙ্গা নিজে শেয়ার করেছিলেন কি না।   রেমিঙ্গা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে টাউনশিপ বোর্ড তার বিরুদ্ধে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত বলে জানিয়েছে। ফলে শুক্রবারের বিশেষ মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ আসে, সেদিকেই এখন স্থানীয়দের নজর।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৯:৩৬
ম্যানহাটনে বাসা ভাড়ায় ৫ হাজার ডলারের রেকর্ড
ম্যানহাটনে বাসা ভাড়ায় ৫ হাজার ডলারের রেকর্ড! এক বছরে লিস্টিং কমেছে ৩৯ শতাংশ

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বাসা খোঁজা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। জুলাইয়ে মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের মিডিয়ান রেন্ট মাসে রেকর্ড ৫ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে এক বছরের ব্যবধানে ভাড়ার জন্য বাজারে থাকা অ্যাপার্টমেন্টের লিস্টিং প্রায় ৩৯ শতাংশ কমেছে। ফলে সীমিত বাসার জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি ভাড়াটিয়াদের ওপর চাপও তীব্র হচ্ছে।   বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে ম্যানহাটনের মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের মিডিয়ান রেন্ট জুনের তুলনায় ৩ শতাংশ এবং গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এক বছরে বাজার থেকে প্রায় ৪ হাজার অ্যাপার্টমেন্টের লিস্টিং কমে গেছে।   শুধু রেন্ট বাড়াই নয়, ভালো বাসা পাওয়ার জন্য ভাড়াটিয়াদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও কমে আসছে। গত বছরের গ্রীষ্মে একটি অ্যাপার্টমেন্ট গড়ে ৪৮ দিন বাজারে থাকলেও এবার তা নেমে এসেছে ৩৬ দিনে। অর্থাৎ পছন্দের বাসা পেলে দ্রুত লিজ না করলে সেটি অন্য ভাড়াটিয়ার কাছে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।   ম্যানহাটনের সব এলাকাতেই লিস্টিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় গত বছরের তুলনায় ইনভেন্টরি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। সবচেয়ে বেশি রেন্ট ডাউনটাউন ম্যানহাটনে। এরপর রয়েছে ওয়েস্ট সাইড, ইস্ট সাইড ও নর্দার্ন ম্যানহাটন।   বিশেষ করে দুই বা তার বেশি বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে রেন্ট দ্রুত বাড়ছে। বাজারের সবচেয়ে দামি ১০ শতাংশ বা লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্টের মিডিয়ান রেন্ট এক বছরের ব্যবধানে ৩১ শতাংশ বেড়ে মাসে ১৩ হাজার ৭৫০ ডলারে পৌঁছেছে।   অন্যদিকে নতুন লিজের সংখ্যাও ১৯ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ রেন্ট বাড়লেও নতুন চুক্তির সংখ্যা একই গতিতে বাড়ছে না। আবাসন বিশেষজ্ঞদের কাছে এটি নিউইয়র্কের হাউজিং মার্কেটে সরবরাহ সংকট ও ক্রয়ক্ষমতার চাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।   নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় দীর্ঘদিন ধরেই বড় সমস্যা। শহরের বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা তাদের আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি শুধু রেন্টেই ব্যয় করেন। সাধারণভাবে আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি আবাসনে ব্যয় হলে সেটিকে হাউজিং কস্ট বার্ডেন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   তবে ম্যানহাটনের এই ৫ হাজার ডলারের হিসাব সব ধরনের অ্যাপার্টমেন্টের নয়। প্রতিবেদনের তথ্য মূলত মার্কেট রেট ইউনিটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ম্যানহাটনের প্রায় ৪৪ শতাংশ বাসা রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে, যেগুলো এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।   মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন আবাসন সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদে ২ লাখ অ্যাফোর্ডেবল হোম তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ‘ব্লক বাই ব্লক’ পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি অফিস ভবন, সিটির মালিকানাধীন সম্পত্তি এবং অন্যান্য অব্যবহৃত জায়গাকে আবাসনে রূপান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।   রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টে মামদানির প্রতিশ্রুত রেন্ট ফ্রিজও চলতি শরতে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে এই নীতি মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের রেন্টে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রিয়েল এস্টেট খাতে বিতর্ক রয়েছে।   বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় সংকেতটি স্পষ্ট। ম্যানহাটনে শুধু বাসার রেন্টই বাড়ছে না, ভাড়ার জন্য পাওয়া যাচ্ছে আগের তুলনায় অনেক কম অ্যাপার্টমেন্ট। ফলে নতুন বাসা খুঁজছেন এমন নিউইয়র্কবাসীর জন্য উচ্চ রেন্টের পাশাপাশি সীমিত ইনভেন্টরিও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৯:৩০
গর্ভপাতের জন্য সারোগেটকে চাপ
গর্ভপাতের জন্য সারোগেটকে চাপ, জন্মের পর শিশু গেল বাবা-মায়ের কাছে

যুক্তরাষ্ট্রে এক শিশুকে ঘিরে সারোগেট মা ও বায়োলজিক্যাল বাবা-মায়ের বিরোধ এখন জটিল আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। গর্ভাবস্থায় শিশুটির গুরুতর হৃদরোগ ধরা পড়ার পর বায়োলজিক্যাল বাবা-মা গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিলেও সারোগেট ম্যাককেনা ওয়েস্ট তাতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত টেক্সাসে শিশুটির জন্ম হয়েছে এবং বর্তমানে বায়োলজিক্যাল বাবা-মা নওশিন গিলকার ও ওমর আহমেদের শারীরিক হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে নবজাতক।   আলাস্কার নার্স ম্যাককেনা ওয়েস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি নওশিন গিলকার ও ওমর আহমেদের জন্য সারোগেট হিসেবে শিশুটিকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন। ২০২৫ সালের আগস্টে তাদের মধ্যে সারোগেসি চুক্তি হয় এবং পরে আইভিএফের মাধ্যমে ওয়েস্ট গর্ভবতী হন।   গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, শিশুটি হাইপোপ্লাস্টিক লেফট হার্ট সিনড্রোম বা এইচএলএইচএস নিয়ে বেড়ে উঠছে। এটি জন্মগত একটি গুরুতর হৃদরোগ, যেখানে হৃদযন্ত্রের বাম পাশ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয় না। আক্রান্ত শিশুর জীবন রক্ষায় জন্মের পর একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।   আদালতের নথির বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, শিশুটির সম্ভাব্য কষ্ট ও ভবিষ্যৎ জীবনমান নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শের পর গিলকার ও আহমেদ গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের দাবি, সারোগেসি চুক্তিতে ভ্রূণের গুরুতর অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে গর্ভপাতের অনুরোধ করার বিধান ছিল।   ওয়েস্ট অবশ্য শেষ পর্যন্ত গর্ভপাত করতে অস্বীকৃতি জানান। তার বক্তব্য, তিনি শিশুটির জীবন শেষ করতে চাননি। এরপর দুই পক্ষের সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হতে থাকে এবং বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।   পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ওয়েস্ট টেক্সাসে চলে যান। টেক্সাসে প্রায় সব পরিস্থিতিতেই গর্ভপাত নিষিদ্ধ। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত আগেই গিলকার ও আহমেদকে শিশুটির আইনি বাবা-মা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।   আলাস্কার একটি আদালত ওয়েস্টকে জোর করে ক্যালিফোর্নিয়ায় পাঠানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেও মামলার মূল বিচারিক এখতিয়ার ক্যালিফোর্নিয়ার রয়েছে বলে জানায়। এর মধ্যেই বিষয়টি টেক্সাসের আদালত ও রাজ্য সরকারের নজরে আসে।   শিশুটির জন্মের ঠিক আগে মামলায় হস্তক্ষেপ করেন টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন। তার দপ্তরের আবেদনের পর আদালত নির্দেশ দেয়, জন্মের পর শিশুটিকে প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ও স্থিতিশীল রাখার চিকিৎসা দিতে হবে এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সেই চিকিৎসায় কেউ বাধা দিতে পারবে না। ১২ আগস্ট নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে টেক্সাসে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই এইচএলএইচএসের চিকিৎসার জন্য তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হয়।   বায়োলজিক্যাল বাবা-মায়ের আইনজীবী লি বাডনার নিশ্চিত করেছেন, শিশুটি বর্তমানে গিলকার ও আহমেদের শারীরিক হেফাজতে রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আদালতের নথিতে শিশুটিকে ‘রুমি’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট এবং তার সমর্থকেরা তাকে ‘গ্যাব্রিয়েল’ নামে ডাকছেন।   তবে শিশুর জন্মের মধ্য দিয়ে আইনি বিরোধের অবসান হয়নি। আদালতের বর্তমান আদেশ অনুযায়ী, ওয়েস্ট নিজেকে শিশুটির বাবা-মা বা অভিভাবক হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন না, শিশুটির চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না এবং তাকে হাসপাতাল থেকে সরিয়েও নিতে পারবেন না।   ওয়েস্টের আইনজীবীর দাবি, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তাকে শিশুটিকে দেখা বা কোলে নেওয়ারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। ওয়েস্ট এখনো শিশুটির কাস্টডি চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার আইনজীবীরা ক্যালিফোর্নিয়ায় দেওয়া প্যারেন্টেজ আদেশকেও চ্যালেঞ্জ করতে চাইছেন।   অন্যদিকে গিলকার ও আহমেদের পক্ষ বলছে, তারা এখন সন্তানের চিকিৎসাতেই মনোযোগ দিতে চান। শিশুটিকে চিকিৎসা না দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না বলেও তারা দাবি করেছেন।   মামলাটি সারোগেসি চুক্তি, গর্ভবতী নারীর নিজের শরীর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এবং জন্মের পর শিশুর আইনি অভিভাবকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সারোগেসি ও প্যারেন্টেজ আইন একরকম না হওয়ায় ক্যালিফোর্নিয়া, আলাস্কা ও টেক্সাসের আইন এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ২৫ আগস্ট। ওই দিন ডালাস কাউন্টির আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে শিশুটির কাস্টডি এবং চলমান বিরোধের পরবর্তী দিকনির্দেশনা নিয়ে আরও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৯:২০
কবরস্থানে ঐতিহাসিক কবর ও স্মৃতিচিহ্ন পরিদর্শন। ছবি:সংগৃহীত
সন্তানের কবরও রেহাই পেল না, মায়ের ২৪ বছরের শোক ভাঙচুরে ফিরল নতুন যন্ত্রণায়

ফ্লোরিডার পাসকো কাউন্টির একটি কবরস্থানে একই পরিবারের কয়েকটি কবর ভাঙচুর এবং স্মৃতিচিহ্ন চুরির অভিযোগে এক নারীকে অন্তত পাঁচটি অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মিরান্ডা ইংলিশ বলেছেন, তার শিশুপুত্রের কবরসহ পরিবারের একাধিক কবর থেকে এমন কিছু জিনিস হারিয়েছে, যেগুলোর বিকল্প আর কখনোই পাওয়া সম্ভব নয়।   ঘটনাটি ঘটেছে লাকুচির একটি কবরস্থানে। পাসকো কাউন্টি শেরিফের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস্টিন মিক্সন নামে এক নারীকে কবর ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।   মিরান্ডা ইংলিশ জানান, ভাঙচুর হওয়া কবরগুলোর একটি তার শিশুপুত্র ল্যামন্ট সিম্পসনের। ২০০২ সালে মারা যাওয়ার পর তাকে ওই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছেলের কবর দেখতে সেখানে নিয়মিত যান।   শিশুটিকে তার বাবা ল্যামন্ট সিম্পসন সিনিয়র এবং মিরান্ডার বাবা উইলিয়াম ক্লাউডের মাঝখানে দাফন করা হয়েছে। পরিবারের জন্য জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে প্রিয়জনদের স্মরণ করার শান্ত একটি স্থান ছিল।   কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই শান্তির জায়গাটিই বদলে গেছে। মিরান্ডার ভাষ্য অনুযায়ী, ল্যামন্ট সিম্পসন সিনিয়রের কবরে নতুন একটি হেডস্টোন বসানোর মাত্র দুই দিনের মধ্যেই সেটি চুরি হয়ে যায়।   এর পাশাপাশি পরিবারের কাছে ‘গ্র্যানি ডি’ নামে পরিচিত তার শাশুড়ির ছাই রাখা একটি আর্নও নিখোঁজ রয়েছে। সেটি এখনো উদ্ধার করা গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।   শুধু হেডস্টোন বা আর্ন নয়, বছরের পর বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের কবরে রাখা বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নও চুরি বা নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মিরান্ডা। একটি বেঞ্চ ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং কবরে রাখা কয়েকটি ছবির ওপরের কাচও ভাঙা হয়েছে।   মিরান্ডা জানিয়েছেন, ছেলের মৃত্যুর পর থেকে প্রতি বছর তার জন্মদিনে কবরস্থানে আসেন তিনি। ছেলে বেঁচে থাকলে যে বয়স হতো, সেই সংখ্যার সমান বেলুন উড়িয়ে দিনটি স্মরণ করেন।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪ বছর ধরে এই রীতি অনুসরণ করছেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক ভাঙচুরের পর কবরস্থানে যাওয়ার অনুভূতিই বদলে গেছে।   পরিবারের কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, হারিয়ে যাওয়া কিছু স্মৃতিচিহ্ন আর নতুন করে তৈরি করা সম্ভব নয়। ছেলের কবরে থাকা কিছু অ্যাঞ্জেল বা দেবদূতের মূর্তি তার বাবা কিনে দিয়েছিলেন। এখন সেই বাবাও একই কবরস্থানে শায়িত। ফলে এসব জিনিসের আবেগী মূল্য পরিবারের কাছে অনেক বেশি।   অভিযুক্ত ক্রিস্টিন মিক্সনকে এর আগে কবরস্থানের আশপাশে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন মিরান্ডা। তবে কেন তিনি পরিবারের কবরগুলো লক্ষ্যবস্তু করেছেন বা এসব জিনিস নেওয়ার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা তিনি জানেন না।   পাসকো কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, কবর ভাঙচুর ও চুরির ঘটনায় মিক্সনের বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে নিখোঁজ সব জিনিস উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনার পরও অভিযুক্ত নারীর প্রতি কঠোর শাস্তির চেয়ে তার মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন মিরান্ডা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চান অভিযুক্ত ব্যক্তি সাহায্য ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান।   পরিবারের কাছে কবরস্থানটি এতদিন ছিল হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের কাছে ফিরে যাওয়ার একটি জায়গা। এখন সেই জায়গাতেই ভাঙচুর ও চুরির ঘটনা তাদের পুরোনো শোককে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৯:১২
পুরনো মার্কিন সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড। ছবি:সংগৃহীত
ডিসঅ্যাবিলিটি সুবিধার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে নতুন ১৪ রোগ যুক্ত করল সোশ্যাল সিকিউরিটি

যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গুরুতর ও বিরল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ডিসঅ্যাবিলিটি বেনিফিটের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির তালিকায় আরও ১৪টি স্বাস্থ্যগত অবস্থা যুক্ত করেছে। এর ফলে কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস বা সিএএল তালিকায় মোট রোগ ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৪টিতে।   সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ১১ আগস্ট নতুন তালিকা ঘোষণা করে। এই কর্মসূচির আওতায় এমন গুরুতর রোগ ও মেডিক্যাল কন্ডিশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যেগুলো সাধারণত সোশ্যাল সিকিউরিটির ডিসঅ্যাবিলিটি সংজ্ঞা পূরণ করে। ফলে আবেদনকারীর কেস সাধারণ প্রক্রিয়ার তুলনায় দ্রুত পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়।   নতুন যোগ হওয়া ১৪টি কন্ডিশনের মধ্যে রয়েছে অ্যাডেনাইলোসাক্সিনেট লাইয়েজ ডেফিসিয়েন্সির নিওনেটাল ফর্ম ও টাইপ ১, আইকার্ডি সিনড্রোম, বারাইতসার উইন্টার সিনড্রোম, বেয়ার স্টিভেনসন কিউটিস জাইরাটা সিনড্রোম, বোরিং ওপিটজ সিনড্রোম, সিএএসকে সম্পর্কিত জিন ডিসঅর্ডার, হেপাটোস্প্লেনিক টি সেল লিম্ফোমা, লাফোরা ডিজিজ, ম্যালিগন্যান্ট মাইগ্রেটিং পারশিয়াল সিজারস অব ইনফ্যান্সি, ওপিএইচএন১ সিনড্রোম, প্রাইমারি কার্ডিয়াক সারকোমা, প্রাইমারি ইন্ট্রাক্রানিয়াল ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা, মেটাস্টেসিসসহ ইউভিয়াল মেলানোমা এবং ওয়ারবার্গ মাইক্রো সিনড্রোম।   এসবের মধ্যে কয়েকটি অত্যন্ত বিরল জেনেটিক ও নিউরোলজিক্যাল রোগ, আবার কয়েকটি গুরুতর ক্যানসার। অনেক ক্ষেত্রে রোগগুলো শিশু বয়সেই দেখা দেয় এবং রোগীর দৈনন্দিন জীবন, শারীরিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে।   সোশ্যাল সিকিউরিটি কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো জানিয়েছেন, ডিসঅ্যাবিলিটি প্রোগ্রামের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও মানসম্মত করার চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস কর্মসূচি গুরুতর রোগে আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা কমিয়ে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে তৈরি করা হয়েছে।   সিএএল তালিকায় কোনো রোগের নাম থাকার অর্থ এই নয় যে আবেদন না করেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাসিক ডিসঅ্যাবিলিটি পেমেন্ট শুরু হয়ে যাবে। আবেদনকারীকে সোশ্যাল সিকিউরিটি ডিসঅ্যাবিলিটি বেনিফিটের জন্য আবেদন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল রেকর্ড জমা দিতে হবে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আবেদনকারীর রোগ নির্ণয় ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।   তবে সাধারণ ডিসঅ্যাবিলিটি কেসের তুলনায় সিএএল কেসগুলো দ্রুত শনাক্ত ও প্রসেস করার ব্যবস্থা রয়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নীতিমালা অনুযায়ী, কেস দ্রুত প্রসেস হলেও আবেদনকারীকে সোশ্যাল সিকিউরিটি আইনের ডিসঅ্যাবিলিটি সংজ্ঞা পূরণ করতে হয় এবং আবেদন মূল্যায়নের মূল আইনি মানদণ্ড অপরিবর্তিত থাকে।   এক্ষেত্রে প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে সোশ্যাল সিকিউরিটি। আবেদন জমা পড়ার পর সিস্টেম সম্ভাব্য কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস কেস শনাক্ত করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হেলথ আইটি ব্যবস্থার মাধ্যমে ইলেকট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড সরাসরি পাওয়া গেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে।   ২০০৮ সালে কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস কর্মসূচি চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এই দ্রুত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদন পেয়েছেন বলে জানিয়েছে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।   এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাধারণ ডিসঅ্যাবিলিটি আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মেডিক্যাল রেকর্ড সংগ্রহ, রোগের প্রভাব মূল্যায়ন এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করতে সময় লাগে। কিন্তু অত্যন্ত গুরুতর ও সুস্পষ্ট কিছু রোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষা রোগী ও পরিবারের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। সিএএল সেই অপেক্ষা কমানোর একটি বিশেষ ব্যবস্থা।   নতুন তালিকা প্রকাশের ফলে যাদের এসব ১৪টি রোগের কোনো একটি রয়েছে, তাদের জন্য আবেদন দ্রুত প্রসেস হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে শুধুমাত্র রোগের নাম মিললেই বেনিফিট নিশ্চিত, এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। আবেদনকারীর মেডিক্যাল ডায়াগনোসিস, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির যোগ্যতার অন্যান্য শর্তও বিবেচনায় নেওয়া হবে।   সোশ্যাল সিকিউরিটির সম্পূর্ণ কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস তালিকায় এখন ৩১৪টি কন্ডিশন রয়েছে। তালিকায় বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার, বিরল জেনেটিক রোগ, শিশুদের গুরুতর রোগ এবং স্নায়ুবিক সমস্যাসহ এমন বহু কন্ডিশন রয়েছে, যেগুলো গুরুতর ডিসঅ্যাবিলিটির সঙ্গে সম্পর্কিত।   যারা ইতিমধ্যে ডিসঅ্যাবিলিটি বেনিফিটের আবেদন করার কথা ভাবছেন এবং নতুন যোগ হওয়া কোনো কন্ডিশনে আক্রান্ত, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মেডিক্যাল ডায়াগনোসিস ও চিকিৎসার রেকর্ড প্রস্তুত রাখা এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির অফিসিয়াল আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেস জমা দেওয়া। নতুন পরিবর্তনের মূল সুবিধা হলো, যোগ্য আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তের জন্য স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে না হওয়ার সম্ভাবনা।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৯:০
পশ্চিম পেনসিলভেনিয়ার এক বাবা ও ছেলে নিউ জার্সির একটি সৈকতে ছুটি কাটানোর সময় বহু আকাঙ্ক্ষিত একটি আবিষ্কার করেছেন; তাঁরা বিলুপ্ত মেগালোডন হাঙরেরএকটি বড় ও ভালোভাবে সংরক্ষিত জীবাশ্ম দাঁত খুঁজে পেয়েছেন। ছবি:সংগৃহীত
নিউজার্সির সৈকতে ঘুরতে গিয়ে মিলল লক্ষ বছর আগের বিলুপ্ত দানব হাঙর মেগালোডনের দাঁত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে এক পরিবারের হাতে ধরা পড়েছে প্রাগৈতিহাসিক মেগালোডন হাঙরের একটি জীবাশ্ম দাঁত। সাধারণ একটি বিচ ভ্রমণের মধ্যে পাওয়া বস্তুটি যে পৃথিবী থেকে লাখ লাখ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বিশালাকৃতির এক শিকারি হাঙরের স্মৃতি বহন করছে, সেটিই এখন ঘটনাটিকে বিশেষ করে তুলেছে।   ডব্লিউসিভিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউজার্সির সৈকতে পরিবারটি দাঁতটি খুঁজে পায়। প্রথম দেখায় এটি সাধারণ পাথর বা অন্য কোনো সামুদ্রিক বস্তু মনে হলেও এর আকার ও গঠন নজর কাড়ে। পরে এটি মেগালোডনের জীবাশ্ম দাঁত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার খবর সামনে আসে।   মেগালোডন ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে পরিচিত সবচেয়ে বড় শিকারি হাঙরগুলোর একটি। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম ওটোডাস মেগালোডন। জীবাশ্মের তথ্য থেকে জানা যায়, বিশাল এই হাঙর কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীর সমুদ্রে বিচরণ করেছে এবং আনুমানিক ৩৬ লাখ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যায়।   মেগালোডনের দাঁতই প্রাণীটির সবচেয়ে বেশি পাওয়া জীবাশ্মগুলোর মধ্যে অন্যতম। হাঙরের কঙ্কাল মূলত কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি দিয়ে তৈরি হওয়ায় মৃত্যুর পর তা সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। বিপরীতে দাঁত তুলনামূলকভাবে শক্ত হওয়ায় সেগুলো পলির নিচে চাপা পড়ে লাখ লাখ বছর টিকে থেকে জীবাশ্মে পরিণত হতে পারে।   লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, মেগালোডনের দাঁত প্রায় ১৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারত। দাঁতের কিনারা ছিল করাতের মতো ধারালো। তিমি, বড় মাছ এবং অন্য হাঙর শিকারে এসব শক্তিশালী দাঁত ব্যবহার করত প্রাণীটি।   নিউজার্সিতে প্রাগৈতিহাসিক হাঙরের দাঁত পাওয়ার ঘটনা একেবারে নতুন নয়। রাজ্যের বিভিন্ন সৈকত ও নদীর তীর থেকে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রজাতির হাঙরের জীবাশ্ম দাঁত পাওয়া যাচ্ছে। নিউজার্সি স্টেট মিউজিয়ামের প্রাকৃতিক ইতিহাস সংগ্রহেও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া জীবাশ্ম হাঙরের দাঁত সংরক্ষিত রয়েছে।   বিশেষ করে জার্সি শোরের কিছু এলাকায় জীবাশ্ম সন্ধানীদের নিয়মিত আনাগোনা রয়েছে। ঢেউ, জোয়ার এবং উপকূলের বালু ও পলির পরিবর্তনের কারণে বহু পুরোনো জীবাশ্ম কখনো কখনো মাটির স্তর থেকে বেরিয়ে সৈকতে চলে আসে।   তবে মেগালোডনের দাঁত পাওয়া মানে বর্তমানে ওই অঞ্চলে এই বিশাল হাঙরের অস্তিত্ব রয়েছে এমন নয়। জীবাশ্মবিষয়ক বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, মেগালোডন প্রায় ৩৬ লাখ বছর আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এর চেয়ে সাম্প্রতিক সময়ের কোনো মেগালোডন দাঁত বা অন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   নিউজার্সির ওই পরিবারের জন্য তাই সৈকতে পাওয়া দাঁতটি কেবল একটি ব্যতিক্রমী সংগ্রহ নয়। এটি এমন এক সামুদ্রিক শিকারির জীবাশ্ম স্মৃতি, যে পৃথিবীর মহাসাগরে বিচরণ করেছিল মানুষের আবির্ভাবের বহু আগে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৮:৪৯
ইমরান খান ও আফ্রিদি। ছবি:সংগৃহীত
ইমরানের মৃত্যুর গুঞ্জন, দেখা না দিলে ২০ লাখ মানুষ নিয়ে নামবেন আফ্রিদি

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না দেওয়ায় বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০ লাখের বেশি মানুষ নিয়ে ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার পর সাংবাদিকদের সামনে এ ঘোষণা দেন আফ্রিদি। তার সঙ্গে পিটিআইয়ের কয়েকজন নেতা ও আইনপ্রণেতাও ছিলেন। তবে পুলিশ তাদের বহরকে কারাগারের দিকে এগোতে দেয়নি।   আফ্রিদি বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে এটাই তার শেষবারের মতো আদিয়ালা কারাগারে আসা। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেই কেবল তিনি আবার সেখানে যাবেন।   আগামী মাসের কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবে দাবি করে আফ্রিদি বলেন, “আমরা বলেছি ২৭ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ মানুষকে ইসলামাবাদে নিয়ে আসব। আমরা এর চেয়েও বেশি মানুষ নিয়ে আসব।”   পিটিআইয়ের পরিকল্পিত এই পদযাত্রা নিয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আফ্রিদির ভাষায়, ২৭ সেপ্টেম্বর কর্তৃপক্ষের জন্য একটি “দুঃস্বপ্ন” হয়ে উঠেছে। তবে তার ঘোষিত ২০ লাখ মানুষের সমাগমের হিসাব পিটিআইয়ের নিজস্ব দাবি। স্বাধীনভাবে এ সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   আদিয়ালা কারাগারে সাক্ষাতের অনুমতি না পাওয়ার পর দেশজুড়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ কর্মসূচিরও ডাক দেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোকে প্রতীকীভাবে ইসলামাবাদের ডি চক বানানোর আহ্বান জানান তিনি।   দলীয় নেতাকর্মীদের পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা ও পিটিআইয়ের পতাকা নিয়ে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে আফ্রিদি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন শহরে দলটির কর্মী ও সমর্থকেরা ইতোমধ্যে রাস্তায় নেমে ইমরান খানের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন।   আফ্রিদির অভিযোগ, ২০২২ সালের এপ্রিলের পর থেকে ইমরান খানের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পিটিআইয়ের কর্মসূচিতে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে। আগামী রোববার বান্নুতেও একটি বড় কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন তিনি।   পিটিআই এর আগেই ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চের ঘোষণা দিয়েছিল। দলটির প্রধান দাবি কারাবন্দি ইমরান খানের মুক্তি। আফ্রিদি চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিলেন, ওই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং পেশোয়ার থেকে ইসলামাবাদের দিকে পিটিআই কর্মী ও সমর্থকেরা যাত্রা করবেন।   ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও দণ্ড রয়েছে। পিটিআই দীর্ঘদিন ধরে এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।   ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে পিটিআই নেতৃত্ব ও কারা কর্তৃপক্ষের বিরোধও নতুন নয়। সোহেল আফ্রিদি এর আগেও একাধিকবার আদিয়ালা কারাগারে গিয়ে সাক্ষাতের অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। বৃহস্পতিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ এখন ২৭ সেপ্টেম্বরের পরিকল্পিত ইসলামাবাদ পদযাত্রার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৮:৩৭
প্রায় এক দশক একসঙ্গে থাকার পর, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং জর্জিনা রদ্রিগেজ ২০২৬ সালের ১১ই আগস্ট পর্তুগালে একটি ঘরোয়া ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ছবি:সংগৃহীত
রোনালদোকে বিয়ের পরও জর্জিনার থাকবে না তার সম্পত্তিতে স্বয়ংক্রিয় মালিকানা

দীর্ঘ প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর বিয়ে করেছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। গত ১১ আগস্ট পর্তুগালের ক্যাসকাইসে একান্ত পারিবারিক আয়োজনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাদের সম্পত্তি ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকে থাকা চুক্তির বিষয়টি।   রোনালদোর ম্যানেজমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাসকাইসে একটি ব্যক্তিগত সিভিল সেরেমনিতে বিয়ে করেন তারা। অনুষ্ঠানে তাদের পাঁচ সন্তান উপস্থিত ছিল। পরে দুজনই হাতে বিয়ের আংটি পরা একটি ছবি প্রকাশ করে বিয়ের খবর নিশ্চিত করেন।   রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্ক শুরু হয় ২০১৬ সালে। মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে জর্জিনা কাজ করার সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল। প্রায় এক দশক একসঙ্গে থাকার পর ২০২৫ সালের আগস্টে বাগদানের ঘোষণা দেন তারা। ঠিক এক বছর পর সেই সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়েতে রূপ নেয়।   বিয়ের পর তাদের সম্পত্তির মালিকানা কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিয়ের আগে তারা এমন একটি চুক্তি করেছেন যাতে দুজনের সম্পত্তি পৃথক থাকবে। অর্থাৎ বিয়ের কারণে একজনের ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর অন্যজনের স্বয়ংক্রিয় মালিকানা তৈরি হবে না।   রোনালদোর বিপুল সম্পদের কারণে বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। আল নাসরে খেলা থেকে পাওয়া আয় ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসা, ব্র্যান্ড চুক্তি, বিনিয়োগ ও সম্পত্তি রয়েছে পাঁচবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই ফুটবলারের। তবে তার মোট সম্পদের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব রয়েছে। ফলে রোনালদোর সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটিকে নিশ্চিত হিসাব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   একইভাবে জর্জিনারও নিজস্ব মডেলিং ক্যারিয়ার, ব্যবসা ও ব্র্যান্ড থেকে উল্লেখযোগ্য আয় রয়েছে। পৃথক সম্পত্তির ব্যবস্থায় তার নিজের নামে থাকা আয় ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণও তার কাছেই থাকবে।   সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে বিচ্ছেদের পরিস্থিতিতে জর্জিনার আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে পুরোনো একটি চুক্তির দাবিকে ঘিরে। স্প্যানিশ ভাষার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কয়েক বছর ধরেই দাবি করা হচ্ছে, সম্পর্ক ভেঙে গেলে জর্জিনা প্রতি মাসে এক লাখ ইউরো করে আজীবন আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। একই সঙ্গে মাদ্রিদের অভিজাত লা ফিনকা এলাকায় পরিবারের একটি বিলাসবহুল বাড়ির মালিকানাও তার কাছে থাকবে বলে এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   তবে এই শর্তগুলো নিয়ে রোনালদো বা জর্জিনা প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তাদের পক্ষ থেকে চুক্তির পূর্ণ নথিও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে মাসিক এক লাখ ইউরো কিংবা নির্দিষ্ট বাড়ির মালিকানা পাওয়ার দাবিগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।   জর্জিনা ও রোনালদো বর্তমানে পাঁচ সন্তানকে নিয়ে পরিবার হিসেবে জীবনযাপন করছেন। জর্জিনা ও রোনালদোর দুই মেয়ে আলানা মার্টিনা ও বেলা এসমেরালদা। রোনালদোর ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র এবং যমজ ইভা ও মাতেওকেও একসঙ্গে বড় করছেন তারা। ২০২২ সালে জর্জিনা যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার সময় তাদের ছেলে অ্যাঞ্জেল মারা যায়।   বিয়ের আয়োজনও ছিল তাদের তারকাখ্যাতির তুলনায় অত্যন্ত ছোট ও ব্যক্তিগত। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত থাকা সত্ত্বেও বড় কোনো জমকালো অনুষ্ঠান না করে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই সম্পর্কটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেন রোনালদো ও জর্জিনা।   বিয়ের পর রোনালদো ইতোমধ্যে সৌদি আরবে আল নাসরের অনুশীলনে ফিরেছেন। নতুন মৌসুম সামনে রেখে মাঠের প্রস্তুতি শুরু করলেও তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহ কমেনি। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তাদের সম্পত্তি পৃথক রাখার সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পাশাপাশি দুজনের আর্থিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৮:২৩
২০২৬ সালের ১২ই আগস্টের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পটভূমিতে একটি জাদুকরী বিয়ের প্রস্তাবের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে, যা সূর্যাস্তের সময় ঘটেছিল। ছবি:সংগৃহীত
সূর্যগ্রহণের আলোছায়ায় হাঁটু গেড়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব! মুহূর্তেই ভাইরাল

আকাশে সূর্য আর চাঁদের বিরল মিলন, সামনে ফরাসি আল্পসের বিশাল পাহাড়। ঠিক সেই মুহূর্তে সঙ্গীর সামনে হাঁটু গেড়ে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এক ব্যক্তি। ১২ আগস্টের সূর্যগ্রহণকে ঘিরে ফ্রান্সের বিখ্যাত ভ্যাল থোরেন্সে ধারণ করা এমন একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।   ফ্রান্সের তারেন্তেজ উপত্যকার জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র ভ্যাল থোরেন্সে ঘটনাটি ঘটে। সূর্যগ্রহণ চলার সময় পাহাড়ের দিগন্তে সূর্য যখন চাঁদের আড়ালে অনেকটাই ঢাকা পড়ছিল, তখন সঙ্গীর সামনে হাঁটু গেড়ে বসেন ওই ব্যক্তি। এরপর তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।   পুরো মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধারণ করেন ফটোগ্রাফার অরেল ড্রু। ভ্যাল থোরেন্স কর্তৃপক্ষও সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে। এরপর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি। অনেকেই পাহাড়, গ্রহণে ঢাকা সূর্য এবং বিয়ের প্রস্তাবের মুহূর্তকে সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন।   তবে ভ্যাল থোরেন্সে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়েছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বর্ণনা ছড়িয়েছে, সেটি সঠিক নয়। ১২ আগস্ট ফ্রান্সের এই অংশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে। পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সরু পথটি ফ্রান্সের ওপর দিয়ে যায়নি।   নাসার তথ্য অনুযায়ী, ১২ আগস্টের পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথ উত্তর রাশিয়া থেকে শুরু হয়ে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও উত্তর আটলান্টিক অতিক্রম করে স্পেনে পৌঁছায়। পর্তুগালের একেবারে ছোট একটি অংশ থেকেও পূর্ণ গ্রহণ দেখা গেছে। ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দেখা গেছে আংশিক সূর্যগ্রহণ।   পূর্ণ গ্রহণের পথে চাঁদ অল্প সময়ের জন্য সূর্যের উজ্জ্বল অংশ পুরোপুরি ঢেকে দেয়। নাসা জানিয়েছে, এবারের গ্রহণে পূর্ণতার সময় অধিকাংশ স্থানে দুই মিনিটেরও কম ছিল। গ্রহণের কেন্দ্রের কাছাকাছি কিছু এলাকায় এই সময় দুই মিনিটের কিছু বেশি স্থায়ী হয়।   ভ্যাল থোরেন্সের ওই যুগলের জন্য অবশ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের চেয়ে মুহূর্তটির ব্যক্তিগত তাৎপর্যই ছিল বড়। পাহাড়ের পেছনে গ্রহণে ঢাকা সূর্য অস্ত যাওয়ার কাছাকাছি সময়ে দেওয়া সেই বিয়ের প্রস্তাব এমন এক দৃশ্য তৈরি করেছে, যা একইভাবে দ্বিতীয়বার সাজিয়ে তোলা প্রায় অসম্ভব।   সূর্যগ্রহণের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও যখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন ফরাসি আল্পসের এই ছোট্ট ঘটনাটি আলাদা করে মানুষের নজর কেড়েছে। আকাশের বিরল এক দৃশ্যের সঙ্গে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে মিলিয়ে ওই যুগল নিজেদের জন্য তৈরি করেছেন স্মরণীয় এক মুহূর্ত।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৮:৮
কামাল উদ্দিন বাবুল, তাঁর স্ত্রী আরজু আক্তারএবং তাঁদের ছোট মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা, যারা ইতালির রোমে এক সহিংস হামলায় মর্মান্তিকভাবে নিহত হন। ছবি:সংগৃহীত
দেশে এসেছে ইতালিতে নিহত একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশির মরদেহ

ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি হত্যার ৪৯ দিন পর তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনজনের মরদেহ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নেওয়া হয়।   নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু আক্তার (৩৮) এবং তাদের শিশুকন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশা। গত ২৬ জুন রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে তাদের হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির হোসেন অয়ন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনিও দেশে ফিরেছেন।   পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ইতালিতে প্রথম জানাজা শেষে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর পর স্বজনেরা মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে সেগুলো নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নেওয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় চরকাঁকড়া ইউনিয়নের শিশু নিকেতন স্কুল মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তিনজনকে পাশাপাশি দাফনের কথা রয়েছে।   গত ২৬ জুন রাতে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের ক্যাসালোত্তি এলাকায় ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ইতালির পুলিশ ও দেশটির সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাসার ভেতরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কামাল, তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করা হয়। অয়নও হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রোমের পলিক্লিনিকো জেমেলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে তার অস্ত্রোপচারও করা হয়।   ঘটনার পর রোমের প্রসিকিউটর অফিসের নির্দেশে ইতালীয় পুলিশ ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে তার ছবি প্রকাশ করে। তাকে ধরতে ইতালিজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়। রেলস্টেশন, বিমানবন্দর, বাস টার্মিনাল ও সীমান্ত এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। তদন্তকারীরা হত্যার উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পুরো পরিস্থিতি জানতে অনুসন্ধান শুরু করেন।   হত্যাকাণ্ডের পর অয়ন পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে সন্দেহভাজন শাহাদাতের সঙ্গে তার বিরোধ হয়েছিল। তদন্তকারীরা পরে সন্দেহভাজনের ফোনসহ বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করে হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখেন।   তিনজনের ময়নাতদন্তেও শরীরে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ইতালীয় সংবাদ সংস্থা এডিএনক্রোনোসের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ভুক্তভোগীর শরীরে আত্মরক্ষার চেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আঘাতও পাওয়া গেছে।   এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীর পরিবারের পক্ষ থেকে আগের একটি হুমকির ঘটনাও সামনে আনা হয়। স্বজনদের দাবি, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গ্রামের বাড়িতে ‘লাল বাহিনী’ নাম ব্যবহার করে একটি চিঠির মাধ্যমে পরিবারটিকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ওই চিঠিতে স্বর্ণালংকার ও অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। তবে রোমের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সেই হুমকির কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   কামাল উদ্দিন বাবুলের পরিবার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা পরিবারটির তিন সদস্য একসঙ্গে নিহত হওয়ার ঘটনায় তখনই এলাকায় শোক নেমে আসে। প্রায় সাত সপ্তাহ পর তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে ফেরায় স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আবারও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৭:৩১
মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর এজেন্টদের একটি আবাসিক বাড়ির প্রবেশপথে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা। ছবি:সংগৃহীত
বাসায় হঠাৎ আইসিই এলে কী করবেন? দরজা খোলার আগে বাংলাদেশিদের জানা জরুরি ৫ রাইটস

নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য নিজেদের মৌলিক রাইটস জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রস অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্স বা এমওআইএ বলছে, আইসিইর মুখোমুখি হলেও একজন ব্যক্তির কিছু রাইটস রয়েছে এবং এসব রাইটস সম্পর্কে আগে থেকেই পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে রাখা জরুরি।   বিশেষ করে বাসায় আইসিই এলে আতঙ্কিত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে দেওয়া, নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে কথা বলা কিংবা না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর করার আগে পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির সর্বশেষ ‘নো ইয়োর রাইটস’ নির্দেশনায়ও অভিবাসীদের নিজেদের রাইটস সম্পর্কে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।   প্রথমত, আইসিই এজেন্ট দরজায় এলেই তাকে ঘরে ঢুকতে দিতে হবে এমন নয়। আপনার সম্মতি ছাড়া সাধারণভাবে বাসায় প্রবেশের জন্য তাদের বিচারকের স্বাক্ষর করা বৈধ জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট প্রয়োজন। আইসিই বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জারি করা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ওয়ারেন্ট এবং আদালতের জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট এক বিষয় নয়।   দরজা না খুলেই এজেন্টদের ওয়ারেন্ট দেখাতে বলা যায়। সেটি দরজার নিচ দিয়ে দিতে বা জানালার মাধ্যমে দেখাতে বলতে পারেন। ওয়ারেন্টটি বিচারকের স্বাক্ষর করা কি না, ঠিকানা সঠিক কি না এবং তারা যে জায়গায় প্রবেশ করতে চাইছেন সেটি ওয়ারেন্টের আওতায় আছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বৈধ জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট থাকলে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া উচিত নয়।   দ্বিতীয়ত, আপনার চুপ থাকার রাইট রয়েছে। আপনি কোথায় জন্মেছেন, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন কিংবা আপনার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস কী, এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চুপ থাকার রাইট ব্যবহার করতে পারেন। তবে কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা ভুয়া ডকুমেন্ট দেখানো উচিত নয়।   তৃতীয়ত, না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর করবেন না। আইসিই হেফাজতে নেওয়ার পরও এমন ডকুমেন্ট সামনে আসতে পারে যার আইনি প্রভাব একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে সঙ্গে সঙ্গে বোঝা কঠিন। তাই কোনো কাগজের অর্থ না বুঝলে আইনজীবীর পরামর্শ ছাড়া স্বাক্ষর না করাই নিরাপদ।   চতুর্থত, আটক হলে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের রাইট রয়েছে। তবে ইমিগ্রেশন কোর্টের বিষয়টি ক্রিমিনাল কোর্টের মতো নয়। সরকার সাধারণত নিজের খরচে ইমিগ্রেশন আইনজীবী নিয়োগ করে দেয় না। এ কারণে আগে থেকেই বিশ্বস্ত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি বা লিগ্যাল সার্ভিস সংস্থার যোগাযোগের তথ্য পরিবারের কাছে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।   নিউইয়র্ক সিটির এমওআইএ বর্তমানে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে নিউইয়র্কবাসীদের জন্য বিনামূল্যে ও গোপনীয় ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সহায়তার ব্যবস্থা রেখেছে। আইসিই বাসায় এলে বা পরিবারের কেউ আটক হলে এমওআইএ ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট হটলাইনে ৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। ৩১১ নম্বরে ফোন করে ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল’ বললেও সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়।   পঞ্চমত, পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলা করুন। পালানোর চেষ্টা, শারীরিক বাধা, ধাক্কাধাক্কি বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। নিজের রাইটস ব্যবহার করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে শারীরিকভাবে বাধা না দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।   আইসিইর উপস্থিতি রেকর্ড করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এবং এজেন্টদের কাজে বাধা না দিয়ে ঘটনা নথিবদ্ধ করা যেতে পারে। তবে ব্যক্তিগত বাসার ভেতরে অন্য কারও কথোপকথনের অডিও রেকর্ড করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।   পরিবারের কেউ আটক হওয়ার আগেই একটি ইমার্জেন্সি প্ল্যান তৈরি করে রাখা উপকারী। গুরুত্বপূর্ণ ইমিগ্রেশন ডকুমেন্টের কপি, আইনজীবীর যোগাযোগের তথ্য এবং জরুরি অবস্থায় সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যদের দায়িত্ব কে নেবেন, এসব আগেই ঠিক করে রাখা যেতে পারে। মূল ডকুমেন্ট এমন জায়গায় রাখা উচিত যেখানে প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত পরিবারের সদস্য সেটি খুঁজে পাবেন।   নিউইয়র্ক সিটির সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, এমওআইএর লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টারগুলো বিভিন্ন অভিবাসী এলাকায় বিনামূল্যে ইমিগ্রেশন সহায়তা দেয় এবং বাংলা ভাষাতেও তথ্য পাওয়া যায়। কারও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস না থাকলেও সহায়তা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইসিই দরজায় এসেছে মানেই নিজের সব রাইটস শেষ হয়ে গেছে এমন নয়। আবার রাইটস ব্যবহার করার অর্থ এজেন্টদের শারীরিকভাবে বাধা দেওয়াও নয়। দরজা খোলার আগে ওয়ারেন্ট যাচাই করা, চুপ থাকার রাইট ব্যবহার করা, না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর না করা, দ্রুত বিশ্বস্ত আইনি সহায়তা নেওয়া এবং পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলা করাই পরিবারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।   এই প্রতিবেদন সাধারণ তথ্য ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। প্রত্যেকের ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি আলাদা হওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন আইনজীবী বা স্বীকৃত লিগ্যাল সার্ভিস প্রোভাইডারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৭:১৫
চালক গাড়ির ভেতরে থাকা প্রশিক্ষকের পাশে তার সদ্য পাওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সটি ধরে আছেন। ছবি:সংগৃহীত
নতুন প্রবাসীদের বাংলাদেশিদের জন্য নিউ ইয়র্ক ড্রাইভার লাইসেন্সের এ টু জেড

নিউ ইয়র্কে নতুন জীবন শুরু করার পর অনেক প্রবাসীর জন্য ড্রাইভার লাইসেন্স নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তবে কোন ডকুমেন্ট লাগবে, কোথায় পরীক্ষা দিতে হবে, লার্নার পারমিটের পর কী করতে হবে এবং রোড টেস্টের প্রক্রিয়া কী, এসব নিয়ে নতুনদের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকে। নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিএমভির আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ নিয়ম অনুযায়ী, কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করেই সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ির ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়া যায়।   প্রথমেই ঠিক করতে হবে আপনি স্ট্যান্ডার্ড, রিয়েল আইডি নাকি এনহ্যান্সড ড্রাইভার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করবেন। তিন ধরনের লাইসেন্সের ডকুমেন্টের প্রয়োজনীয়তা এক নয়। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৬ বছর হতে হবে।   ডিএমভিতে আবেদন করার সময় বয়স, পরিচয় এবং নিউ ইয়র্ক স্টেটে বসবাসের প্রমাণ দিতে হয়। কোন ডকুমেন্ট গ্রহণযোগ্য এবং কোন ডকুমেন্টের কত পয়েন্ট রয়েছে, তা ডিএমভির নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ঠিক হয়। তাই সবার জন্য পাসপোর্ট, গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড এবং ঠিকানার দুটি প্রমাণ বাধ্যতামূলক, এমনভাবে বিষয়টি দেখা ঠিক নয়। আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও তিনি কোন ধরনের লাইসেন্স চাইছেন, তার ওপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নির্ভর করে।   বিশেষ করে নিউ ইয়র্কের গ্রিন লাইট ল-এর কারণে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস না থাকলেও যোগ্য নিউ ইয়র্ক বাসিন্দারা স্ট্যান্ডার্ড ড্রাইভার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর কখনো ইস্যু হয়নি এমন আবেদনকারীকে এ বিষয়ে ডিএমভির নির্ধারিত হলফনামা দিতে হয়। পরিচয়, জন্মতারিখ ও নিউ ইয়র্কে বসবাসের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য ডকুমেন্টের সমন্বয়ও জমা দিতে হবে।   এরপর আসে লার্নার পারমিট। সাধারণ ক্লাস ডি পারমিটের লিখিত পরীক্ষা বাংলাসহ ২০টি ভাষায় দেওয়া যায়। পরীক্ষায় মোট ২০টি মাল্টিপল চয়েস প্রশ্ন থাকে। পাস করতে কমপক্ষে ১৪টির সঠিক উত্তর দিতে হবে। একই সঙ্গে চারটি রোড সাইন প্রশ্নের মধ্যে অন্তত দুটির উত্তর সঠিক হতে হবে।   অনলাইনে পুরো আবেদন ও পরীক্ষা শেষ করেই সব প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারী লার্নার পারমিট পেয়ে যাবেন, এমন ধারণাও সঠিক নয়। ডিএমভির বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিচয়, বয়স ও রেসিডেন্সির ডকুমেন্ট নিয়ে ডিএমভি অফিসে যেতে হয়। অনলাইনে আগে থেকে ডকুমেন্ট যাচাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অনলাইন পারমিট টেস্টের সুযোগও নির্দিষ্ট যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য সীমিত। ফলে আবেদন করার আগে নিজের ক্ষেত্রে কোন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য তা ডিএমভির নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করা জরুরি।   পারমিট পাওয়ার পর একা গাড়ি চালানো যাবে না। সাধারণভাবে পাশে কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ি চালানোর বৈধ লাইসেন্সধারী একজন সুপারভাইজিং ড্রাইভার থাকতে হবে। নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় লার্নার পারমিটধারীদের গাড়ি চালানোর স্থান ও সময় নিয়েও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ রয়েছে।   রোড টেস্ট দেওয়ার আগে নতুন ড্রাইভারদের ডিএমভি অনুমোদিত পাঁচ ঘণ্টার প্রি-লাইসেন্সিং কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। তবে অনুমোদিত হাইস্কুল বা কলেজের ৪৮ ঘণ্টার ড্রাইভার এডুকেশন প্রোগ্রাম সম্পন্নকারীদের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।   পাঁচ ঘণ্টার কোর্স অনলাইনেও করা যায়, কিন্তু এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। ডিএমভির অনুমোদিত অনলাইন প্রি-লাইসেন্সিং কোর্স করতে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং বৈধ নিউ ইয়র্ক স্টেট ফটো লার্নার পারমিট থাকতে হবে। অনুমোদিত প্রোভাইডারের মাধ্যমে কোর্সটি করতে হয়। কোর্স শেষ হওয়ার তথ্য সাধারণত প্রোভাইডার ইলেকট্রনিকভাবে ডিএমভিকে জানিয়ে দেয়। ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর। লার্নার পারমিট পাওয়ার পর রোড টেস্ট নির্ধারণের আগে কমপক্ষে ছয় মাস অপেক্ষা করতে হয়। জুনিয়র পারমিটধারীদের অন্তত ৫০ ঘণ্টা সুপারভাইজড ড্রাইভিং প্র্যাকটিস করতে হয়, যার মধ্যে কমপক্ষে ১৫ ঘণ্টা সূর্যাস্তের পর গাড়ি চালানোর অনুশীলন থাকতে হবে। রোড টেস্টের সময় অভিভাবকের স্বাক্ষর করা নির্ধারিত সার্টিফিকেশনও প্রয়োজন হয়।   প্রি-লাইসেন্সিংয়ের শর্ত পূরণ হলে রোড টেস্টের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায়। ডিএমভির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, জিপ কোডের কাছাকাছি পরীক্ষাকেন্দ্রে সাধারণত প্রথম অ্যাপয়েন্টমেন্ট তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যায়। তবে গ্রীষ্মকাল ও স্কুল ছুটির মতো ব্যস্ত সময়ে অপেক্ষা ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে নিউ ইয়র্ক সিটিতে সবসময় তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই রোড টেস্ট পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   রোড টেস্টের দিন পরীক্ষার উপযোগী বৈধ গাড়ি নিয়ে যেতে হবে। গাড়িটির বৈধ রেজিস্ট্রেশন ও ইন্স্যুরেন্স থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ইন্সপেকশন সংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হবে। সঙ্গে থাকা ড্রাইভারেরও বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে। পরীক্ষার সময় গাড়িতে পরীক্ষার্থী ও অনুমোদিত ব্যক্তিদের বিষয়ে ডিএমভির নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।   রোড টেস্টের ফল একই দিন সন্ধ্যা ৬টার পর অনলাইনে পাওয়া যায়। পাস করলে অনলাইনে একটি ইন্টারিম লাইসেন্স পাওয়া যাবে। ফটো লার্নার পারমিটের সঙ্গে সেটি রেখে গাড়ি চালানো যায়। মূল ফটো ড্রাইভার লাইসেন্স সাধারণত প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে মেইলে পাঠানো হয়।   প্রথম দুইবার রোড টেস্ট দেওয়ার সুযোগ প্রাথমিক ফি কাঠামোর মধ্যে থাকে। দুইবারই ফেল করলে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। আবার পরীক্ষা দেওয়ার আগে অন্তত ১৪ দিন অপেক্ষা করতে হয়।   নতুন প্রবাসীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ড্রাইভার লাইসেন্সের নামে থার্ড পার্টি বা সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকা। ড্রাইভিং স্কুল বা ডিএমভি অনুমোদিত কোর্স প্রোভাইডার প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কোর্স দিতে পারে, কিন্তু ড্রাইভার লাইসেন্স ইস্যু করে নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিএমভি।   তাই আবেদন শুরুর আগে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড, রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্স নির্বাচন করা, ডিএমভির ডকুমেন্ট গাইড ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিশ্চিত করা এবং এরপর পারমিট, প্রি-লাইসেন্সিং কোর্স ও রোড টেস্টের ধাপ অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। নিয়ম, ফি এবং গ্রহণযোগ্য ডকুমেন্ট সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবেদন করার সময় নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিএমভির সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৬:৪৮
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনার সাথে সম্পর্কিত, যেখানে এক নারী দাবি করেছেন যে তার অভিবাসী প্রেমিক অবিশ্বস্ত জানতে পেরে তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে (ICE) বিষয়টি জানান, যার ফলে তাকে আটক ও নির্বাসিত করা হয়। ছবি:সংগৃহীত
পরকীয়ার প্রতিশোধে প্রেমিককে আইসিই এর গাতে ধরিয়ে ডিপোর্ট করালেন প্রেমিকা

পরকীয়ায় জড়ানো কাগজপত্রহীন প্রেমিককে সিক্স ফ্ল্যাগসে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে মেক্সিকো সীমান্তে নিয়ে ফেলে আসার এক নারীর গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিল। কিন্তু লাখো মানুষের আলোচনার জন্ম দেওয়া সেই গল্পে পরে আসে বড় মোড়। টিকটকে ‘মন্টস.ইউজার৫৫৫’ নামে পরিচিত ওই নারী নিজেই জানান, ঘটনাটি বাস্তব ছিল না, বরং একটি সাজানো গল্প বা স্ক্রিপ্ট ছিল।   ঘটনাটি প্রথম ভাইরাল হয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে। ওই নারী একটি ভিডিওতে দাবি করেন, তার প্রেমিক যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ছাড়া বসবাস করছিলেন। একসঙ্গে ঘুরতে গিয়ে তোলা ছবি ফোনে নেওয়ার সময় প্রেমিকের স্ন্যাপচ্যাটে অন্য এক নারীর সঙ্গে কথোপকথন ও ছবি দেখে তিনি পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেমিককে সরাসরি কিছু না বলে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। প্রেমিকের ছুটির দিন থাকায় তাকে টেক্সাসের সান আন্তোনিওর সিক্স ফ্ল্যাগস অ্যামিউজমেন্ট পার্কে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন।   প্রেমিক যাতে কোনো সন্দেহ না করেন, সেজন্য ভ্রমণের প্রস্তুতিও স্বাভাবিকভাবেই নেওয়া হয় বলে গল্পে দাবি করেন ওই নারী। তাকে ফোন ও ওয়ালেট সঙ্গে নিতে বলা হয়। যাত্রাপথে অপ্রয়োজনীয় বিরতি এড়াতে আগেই বাথরুম ব্যবহার করতে বলেন এবং পরে গাড়িতে ঘুমাতে উৎসাহিত করেন।   কিন্তু সিক্স ফ্ল্যাগসের দিকে না গিয়ে গাড়ি চালিয়ে লারেডো হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্তের দিকে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।   ভাইরাল ভিডিওর গল্প অনুযায়ী, প্রেমিক গাড়িতে ঘুমিয়ে থাকায় প্রথমে বুঝতে পারেননি তারা কোথায় যাচ্ছেন। সীমান্তের কাছে পৌঁছে একটি চেকপয়েন্টে গাড়ি থামার পর তার ঘুম ভাঙে এবং তখনই তিনি পরিস্থিতি বুঝতে পারেন।   নারী দাবি করেন, প্রেমিক তখন পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করতে থাকেন এবং কেন তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা জানতে চান। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি।   গল্পের শেষ অংশে ওই নারী দাবি করেন, মেক্সিকোয় পৌঁছানোর পর প্রেমিককে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন। যাওয়ার আগে তাকে ৫০ ডলারও দেন। তার বক্তব্যের সারমর্ম ছিল, তিনি আর নিজেকে ব্যবহার করতে দেবেন না এবং প্রেমিককে নিজের জীবন নতুন করে শুরু করতে হবে।   ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও নারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি প্রকাশ করে। কোথাও বলা হয় তিনি প্রেমিককে মেক্সিকোয় ফিরিয়ে দিয়েছেন, আবার কোথাও ঘটনাটিকে সরাসরি ‘ডিপোর্ট’ করানো হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।   তবে এখানেই গল্পটির গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিপোর্ট করা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ও ইমিগ্রেশন আইনের আওতাধীন একটি সরকারি প্রক্রিয়া। একজন প্রেমিক বা প্রেমিকা ব্যক্তিগতভাবে কাউকে ‘ডিপোর্ট’ করতে পারেন না।   ভাইরাল গল্পের মূল বর্ণনাতেও ওই নারী আইসিইকে ফোন করে প্রেমিককে ধরিয়ে দিয়েছেন এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং তার বর্ণনা ছিল, তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে তাকে মেক্সিকো সীমান্তের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পড়তে গল্পটিতে ‘আইসিইকে ডেকে ডিপোর্ট করানো’র মতো আরও নাটকীয় দাবি যুক্ত হয়।   এরপর আসে আরও বড় প্রশ্ন। মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যম রেডিও ফর্মুলার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই নারী আরেকটি পোস্টে জানান, পুরো গল্পটিই ছিল একটি স্ক্রিপ্ট এবং বাস্তব কোনো প্রেমিককে এভাবে ডিপোর্ট করার ঘটনা ঘটেনি।   ওই পোস্টে তিনি গল্পটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল বলেও ইঙ্গিত করেন এবং মজা করে জানান, তিনি একটি স্ক্রিপ্ট অনুশীলন করছিলেন। রেডিও ফর্মুলা জানায়, পরে তিনি স্পষ্ট করেন যে ভাইরাল হওয়া ঘটনাটি কাল্পনিক।   ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল প্রচারিত ‘পরকীয়ার প্রতিশোধ নিতে কাগজপত্রহীন প্রেমিককে ডিপোর্ট করালেন নারী’ দাবিটিকে নিশ্চিত বাস্তব ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার ভিত্তি নেই।   ঘটনাটি বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নাটকীয় ব্যক্তিগত গল্প কীভাবে দ্রুত বাস্তব ঘটনা হিসেবে ছড়িয়ে পড়তে পারে তার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। প্রথমে নারীর নিজের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করে। এরপর সেই গল্পে আরও নাটকীয় তথ্য যোগ হয়ে আইসিই দিয়ে প্রেমিককে ডিপোর্ট করানোর দাবিও ছড়িয়ে পড়ে।   শেষ পর্যন্ত যে নারী গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন, তার নিজের পরবর্তী বক্তব্যই পুরো ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। তাই ভাইরাল দাবিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, প্রেমিককে পরকীয়ার প্রতিশোধ হিসেবে মেক্সিকোয় ফেলে আসার যে গল্প লাখো মানুষের দৃষ্টি কেড়েছিল, সেটিকে পরে ওই নারী নিজেই সাজানো গল্প হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৬:৩৩
নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া, সাশ্রয়ী আবাসন ও নতুন বাড়ি নির্মাণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নগরবাসীর মতবিনিময়। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্কের আবাসন সংকট রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে

নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া ও সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট এখন নগর রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। উচ্চ ভাড়া, পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতি এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি নিয়ে বাসিন্দা, বাড়ির মালিক ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।   মেয়র জোহরান মামদানির আবাসন পরিকল্পনায় ভাড়াটিয়াদের জন্য ব্যয় কমানো এবং সাশ্রয়ী আবাসনের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও নতুন আবাসন নির্মাণের নীতিকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর মধ্যে সমর্থনের পাশাপাশি সমালোচনাও রয়েছে।   সমর্থকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট মোকাবিলায় ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা এবং আরও বেশি সাশ্রয়ী বাড়ি তৈরি করা প্রয়োজন। অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, কঠোর ভাড়া নিয়ন্ত্রণ বাড়ির মালিকদের নতুন বিনিয়োগ ও নির্মাণে নিরুৎসাহিত করতে পারে।   নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় অনেক পরিবারের আয়ের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। ফলে আগামী দিনে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, নতুন বাড়ি নির্মাণ এবং সাশ্রয়ী আবাসন—এই তিন বিষয়ই নগর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৬:১৮
নিউইয়র্কে আইনশৃঙ্খলা ও সহিংস অপরাধ কমার বিষয় তুলে ধরছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; পাশে পুলিশ কর্মকর্তারা। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্কে অপরাধ কমার তথ্য সামনে আনছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমি সফর করছেন। সফরে তিনি দেশজুড়ে সহিংস অপরাধ কমার তথ্য তুলে ধরবেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেবেন।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্পের সফরের সময় ২০২৫ সালের নতুন এফবিআই অপরাধ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হবে। ওই পরিসংখ্যানে হত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই ও গুরুতর হামলাসহ বিভিন্ন সহিংস অপরাধ কমার তথ্য রয়েছে।   ট্রাম্পের সঙ্গে সফরে থাকবেন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চে এবং এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। অপরাধ ও জননিরাপত্তার বিষয়টি নিউইয়র্কের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   নাসাউ কাউন্টিতে ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে ট্রাম্পের এই সফরকে আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত করে দেখা হচ্ছে।   তবে অপরাধ কমার পেছনে প্রশাসনের নীতির কতটা ভূমিকা রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরাও এক বছরের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৬:৭
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বিক্রি কমলেও বাড়ির দাম ও গৃহঋণের উচ্চ সুদ ক্রেতাদের ওপর বাড়াচ্ছে আর্থিক চাপ। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রি কমেছে, ঋণের সুদে চাপ বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে আবারও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। জুলাই মাসে ব্যবহৃত বাড়ি বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৪০ লাখ ৬০ হাজার ইউনিটে নেমেছে।   বাড়ি বিক্রি কমলেও দাম কমেনি। জুলাইয়ে ব্যবহৃত বাড়ির জাতীয় মধ্যম বিক্রয়মূল্য এক বছর আগের তুলনায় ২ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে বাজারে থাকা বাড়ির মজুতও ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রায় ১৫ লাখ ৪০ হাজার ইউনিট হয়েছে।   ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে গৃহঋণের সুদ। জুলাইয়ের শেষ দিকে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের গৃহঋণের হার প্রায় ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশে পৌঁছায়, যা এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। আগস্টের ১৩ তারিখে গড় হার সামান্য কমে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ হলেও তা গত বছরের একই সময়ের ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশের চেয়ে বেশি।   উচ্চ সুদ ও বাড়ির বাড়তি দাম একসঙ্গে কাজ করায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। বিশেষ করে প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। জুলাইয়ে মোট বাড়ি বিক্রির মাত্র ২৯ শতাংশ ছিল প্রথমবারের ক্রেতাদের, যেখানে একটি স্বাস্থ্যকর বাজারে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন।   অন্যদিকে, পুরোনো বাড়ির মালিকদের একটি বড় অংশও কম সুদের পুরোনো গৃহঋণ ছেড়ে নতুন ঋণে যেতে চাইছেন না। ফলে বাজারে বাড়ির সরবরাহ কম থাকছে এবং এতে দামও তুলনামূলকভাবে উঁচু থাকছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৫:১২
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্রেডিট কার্ডের মোট ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ছবি: গেটি ইমেজ
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার, বাড়ছে খেলাপি

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের মোট ঋণ বেড়ে ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই ঋণ ২১ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। একই সময়ে ৯০ দিনের বেশি বকেয়া থাকা ঋণের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিমাণ গত বছরের ১ দশমিক ২৮ ট্রিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি।   ঋণের পাশাপাশি বকেয়া পরিশোধের পরিস্থিতিও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ৯০ দিনের বেশি বকেয়া থাকা ক্রেডিট কার্ড ঋণের হার দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১২ দশমিক ৮ শতাংশে উঠেছে। আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।   নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের গবেষকেরা বলছেন, অনেক পরিবার বেতন-নির্ভর জীবনযাপন করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জ্বালানির ব্যয় বাড়ায় কিছু পরিবার দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভর করছে।   তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, ৯০ দিনের বেশি বকেয়ার হার বেড়েছে মানেই নতুন করে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন—এমনটা নয়। পুরোনো বকেয়া ঋণ দীর্ঘ সময় নথিতে থেকে যাওয়ায় এই হারও বেড়ে দেখা যেতে পারে। নতুন করে খেলাপি হওয়ার হার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।   ঋণের চাপ কমাতে বিশেষজ্ঞরা মাসিক পরিশোধের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি নিজের ঋণ ও সুদের হার পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছেন। ক্রেডিট স্কোর ভালো হয়ে থাকলে কম সুদের হার নিয়ে ঋণদাতার সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। এছাড়া যোগ্যতা থাকলে সুদমুক্ত নির্দিষ্ট সময়ের ঋণ স্থানান্তর সুবিধা বা কম সুদের ব্যক্তিগত ঋণও বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৫:৩
মালয়েশিয়ায় ভুয়া পাসপোর্ট চক্রের কাছ থেকে জব্দ করা জাল নথিপত্র দেখাচ্ছেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় ভুয়া পাসপোর্ট চক্রে ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, জব্দ বিপুল নথি

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের ভিসা নবায়নে সহায়তার নামে ভুয়া পাসপোর্ট সরবরাহ করা একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় কুয়ালালামপুরের দুটি আবাসিক ইউনিটে অভিযান চালিয়ে ২ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল পাসপোর্ট তৈরির সরঞ্জাম ও নথি জব্দ করা হয়েছে।   গত ১৩ আগস্ট কুয়ালালামপুরের তামান ওয়াহ্যু ও কাম্পুং বাতুর দুটি আবাসিক ইউনিটে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২৯ ও ৩২ বছর বয়সী দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, গত ৫ আগস্ট পাসপোর্ট জালিয়াতি ও বিকৃতির অভিযোগে তিন ইন্দোনেশীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়।   তদন্তে জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে চক্রটি সক্রিয় ছিল। গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশির একজনকে চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রায় নয় বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং নির্মাণ খাতের একটি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ পাস ছিল। অপর সন্দেহভাজনের ভিসার মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।   অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি মূলত সেসব বিদেশি শ্রমিককে লক্ষ্য করত, যারা বিদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অযোগ্য বিবেচিত হতেন। তাদের জন্য পাসপোর্টের ছবি পরিবর্তন করে পরিচয় একই রেখে ভুয়া নথি তৈরি করা হতো। এরপর সুস্থ ব্যক্তিকে ওই পরিচয় ব্যবহার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেওয়ানো হতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে ভুয়া প্রবেশ ও প্রস্থানের সিলও ব্যবহার করা হতো। প্রতিটি লেনদেনে ২০০ থেকে ৩০০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো।   অভিযানে দুটি আসল বাংলাদেশি পাসপোর্ট, নয়টি জাল বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ ও একটি প্রিন্টার জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৭০০টি পাসপোর্ট পৃষ্ঠা এবং বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০০টি ভুয়া পাসপোর্টের কভার উদ্ধার করা হয়।   এ ছাড়া কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের সন্দেহজনক জাল অভিবাসন সিল এবং ইন্দোনেশিয়ার বাতাম ও বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রস্থানের সিলও পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা মূল পরিকল্পনাকারীর একটি ই-ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২ লাখ রিঙ্গিত উদ্ধার করেছেন।   কর্তৃপক্ষের ধারণা, জব্দ করা উপকরণের পরিমাণ দেখে চক্রটির কাছে প্রায় ২ হাজার জাল পাসপোর্ট তৈরির সক্ষমতা ছিল। চক্রটি প্রকাশ্যে কোনো বিজ্ঞাপন দিত না; ফ্রিল্যান্স এজেন্ট ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করত।   মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং ক্লাং ভ্যালির বাইরে এর কার্যক্রম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো এই জাল নথি তৈরিতে জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।   গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মূল পরিকল্পনাকারীর বিরুদ্ধে ৫৫ডি ও ৫৬(১)(ডি) ধারা এবং অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৫(১)(সি) ধারায় তদন্ত চলছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৪:৩৪
জাপানের চিবা প্রিফেকচারে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তা ও প্লাবিত গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
নজিরবিহীন বৃষ্টিতে জাপানে ৪ জনের মৃত্যু, বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী

জাপানের পূর্বাঞ্চলে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিতে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। চিবা প্রিফেকচারে ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পর বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতিতে চার লাখের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার রাতে টোকিওর পূর্বে চিবা এলাকায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৪৫ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা প্রথমবারের মতো চিবা প্রিফেকচারের জন্য ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা জারি করে।   বন্যার পানিতে গাড়িতে আটকা পড়ে সাকুরা শহরে ৬৬ বছর বয়সী এক নারী মারা যান। ইচিকাওয়া শহরে প্লাবিত সড়ক থেকে ৬০ বা ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরও দুজন গাড়ি থেকে বের হতে না পেরে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।   পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী রাত কাটান। চিবা প্রিফেকচারাল সরকারের ভবনে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষ আশ্রয় নেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সেনাসদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।   শুক্রবার বৃষ্টি কমে এলেও চিবা এলাকায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ এলাকার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা মেনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   চিবা গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেছেন। জাপানের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৪:৭