- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রচেষ্টায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতায় ফিরে যাওয়া এবং দুই পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ নিয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র। জুনের ওই সমঝোতায় সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের পাশাপাশি ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সমঝোতাটি দ্রুত ভেঙে পড়ে। ৭ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেন। এক সপ্তাহ পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সমঝোতাটি স্থগিত রয়েছে। সমঝোতা ভেঙে পড়ার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরান চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেয়নি। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। বুধবার তিনি দাবি করেন, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। মার্কিন নৌ অবরোধকে তিনি ‘ইস্পাতের দেয়াল’ বলেও উল্লেখ করেন। তবে সামুদ্রিক চলাচলের তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো অত্যন্ত সীমিত। ইরানি সূত্রটি রয়টার্সকে জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনায় অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে জুনের অন্তর্বর্তী সমঝোতায় ফিরিয়ে আনা এবং দুই পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তেহরান অন্তর্বর্তী সমঝোতার ৬০ দিনের সময়সীমা বাড়ানোর খবরও প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের বক্তব্য, তাদের দৃষ্টিতে ওই সময়সীমা কার্যকরভাবে শুরুই হয়নি। কারণ সমঝোতায় পৌঁছানোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সেটি লঙ্ঘন করে এবং কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তি থেকে সরে যায় বলে অভিযোগ তেহরানের। গত কয়েক দিনে দুই দেশের বক্তব্যও আরও কঠোর হয়েছে। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন এবং দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের ‘বুলি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। যুদ্ধবিরতি আলোচনার অচলাবস্থার মধ্যেই নৌপথে নতুন হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। মঙ্গলবার বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলায় একটি ছোট কার্গো জাহাজের চার ক্রু নিহত হন। যুদ্ধ শুরুর পর হুতিদের জাহাজে হামলায় এটিই প্রথম প্রাণঘাতী ঘটনা বলে জানিয়েছে রয়টার্স। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে পানামার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজকে থামাতে মার্কিন নৌবাহিনীর এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার থেকে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। সামুদ্রিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের উপকূলের কাছে ওমান উপসাগরে যাওয়ার পথে জাহাজটি আক্রান্ত হয়। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। মঙ্গলবার মাত্র আটটি জাহাজ চলাচল শনাক্ত হয়েছে, যেখানে যুদ্ধের আগে দৈনিক সাধারণত ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে উঠেছিল। পরে দাম কমলেও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার অনিশ্চয়তায় বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। সব মিলিয়ে যুদ্ধ বন্ধের স্থায়ী সমঝোতার সম্ভাবনা আপাতত আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জুনের অন্তর্বর্তী সমঝোতায় ফেরার পথ তৈরি না হলে হরমুজ প্রণালি, মার্কিন নৌ অবরোধ, ইরানের জব্দ সম্পদ ও নিষেধাজ্ঞা—এই চার ইস্যুই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পরবর্তী পর্যায়ের প্রধান বিরোধের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
ওমান উপকূলে আটকে থাকা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া অপরিশোধিত তেল ভয়াবহ পরিবেশগত সংকট তৈরি করেছে। রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে যুক্ত ক্যারোলিন বেজেঙ্গি নামের ট্যাংকারটিতে প্রায় ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল ছিল। জুনে বিস্ফোরণের পর জাহাজটি ওমান উপকূলে আটকে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। স্যাটেলাইট চিত্রে এক পর্যায়ে ৮০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকায় তেলের স্তর ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরিস্থিতি এরপর আরও গুরুতর হয়েছে। সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে তেল শুধু দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের সাগরেই সীমাবদ্ধ নেই, ওমানের মূল ভূখণ্ডের সৈকতেও পৌঁছে গেছে। দেশটির পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাবিলিয়াহ দ্বীপের উত্তরে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের রাস মাদরাকাহ এলাকার সৈকতেও তেলদূষণ শনাক্ত হয়েছে। আরও উত্তরে অবস্থিত মাসিরাহ দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে দ্বীপটির দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারের বেশি। মৌসুমি প্রবল বাতাস ও সাগরের স্রোতের কারণে তেল দ্রুত উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ২৪৭ মিটার দীর্ঘ ক্যারোলিন বেজেঙ্গি মে মাসে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্ক থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করে। জুনে ইয়েমেনের কাছাকাছি অবস্থানের সময় জাহাজটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ৩০ জুন এটি ওমানের কাবিলিয়াহ দ্বীপের কাছে আটকে যায়। বিস্ফোরণের কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং কোনো পক্ষও ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। ফলে জাহাজটির ক্ষতি দুর্ঘটনা, নাশকতা নাকি চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত—তা এখনো নিশ্চিত নয়। জাহাজটি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক পক্ষের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত পুরোনো ও মালিকানা কাঠামো অস্বচ্ছ এমন জাহাজগুলোর বহরকে সাধারণভাবে রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বলা হয়। তেল ছড়িয়ে পড়ার পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন হিসাব পাওয়া গেছে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস ও প্যাক্সের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে প্রায় ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী বিশ্লেষণে দূষণের প্রভাব আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সামনে এসেছে। ফলে ৮০০ বর্গকিলোমিটারের হিসাবটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ, বর্তমান সর্বোচ্চ বিস্তার নয়। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে। ট্যাংকারটি যে এলাকায় আটকে রয়েছে, তার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল রয়েছে। সেখানে বিপন্ন অ্যারাবিয়ান সি হাম্পব্যাক তিমি, সামুদ্রিক পাখি এবং অন্যান্য বিরল প্রাণীর আবাস। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অপরিশোধিত তেল অগভীর পানি ও সৈকতে পৌঁছালে দীর্ঘমেয়াদে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি অনেক বেড়ে যেতে পারে। তেলের স্তর মাছ, সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি এবং উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে ওমানের খারিফ মৌসুম। এ সময় শক্তিশালী বাতাস ও সাগরের স্রোত তেল দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে। একই কারণে জাহাজে পৌঁছানো, তেল আটকে রাখা এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে এখন ক্যারোলিন বেজেঙ্গি উদ্ধারের কাজে যুক্ত হয়েছে। ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজটিকে স্থিতিশীল করা এবং এর ভেতরে থাকা অবশিষ্ট তেল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আন্তর্জাতিক তেলদূষণ মোকাবিলা বিশেষজ্ঞদেরও কাজে যুক্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এখনো জাহাজটির ভেতরে থাকা তেল। প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল বহনক্ষমতার তেলবোঝাই ট্যাংকারটির সব তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়েনি। জাহাজটি আরও ভেঙে গেলে কয়েক কোটি গ্যালন অপরিশোধিত তেল নতুন করে সাগরে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই বলছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি কাজ হচ্ছে ট্যাংকারটিকে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করা এবং অবশিষ্ট তেল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া। কারণ তেল ইতোমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল থেকে বহু দূরে ওমানের মূল ভূখণ্ডের সৈকতে পৌঁছে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় সামুদ্রিক তেলদূষণ বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই এক হাইস্কুল শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক পাওয়ার পর তাকে আটক করেছে স্কুল পুলিশ। বুধবার সকালে সাউথ লস অ্যাঞ্জেলেসের সান্টি হাইস্কুলে এ ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় পুরো স্কুল লকডাউন রাখা হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্লাস আবার শুরু হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি ঝামেলার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিকভাবে তল্লাশি চালায়। সেই তল্লাশির সময় এক শিক্ষার্থীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। এরপর ওই শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নেয় স্কুল পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও বিষয়টি জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর বয়স ও পরিচয় প্রকাশ করেনি। ঘটনাটি ঘটে লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই। ফলে ক্যাম্পাসে বন্দুক পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্কুলের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে সান্টি হাইস্কুল কিছু সময় লকডাউনে রাখা হয়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে লকডাউন তুলে নেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাসে ফিরে যায়। ঘটনায় কাউকে গুলি করা হয়েছে বা কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দুকটি কী অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং সেটি আগে কোনোভাবে ফায়ার হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে বিপজ্জনক কোনো বস্তু নিয়ে আসা নিষিদ্ধ। এমনকি দেখতে অস্ত্রের মতো বা বিপজ্জনক বস্তু বলে মনে হতে পারে এমন জিনিসও স্কুলে না আনতে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। অভিভাবকদেরও সন্তানদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং বিপজ্জনক কার্যকলাপ এড়িয়ে চলার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্কুলের প্রথম দিনেই এমন ঘটনা ঘটায় ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্কুলে অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সান্টি হাইস্কুলে পাওয়া বন্দুকটি কোথা থেকে এসেছে, শিক্ষার্থী কেন সেটি স্কুলে এনেছিল এবং তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের কথা বলে পরিচালিত ৩৪ মিলিয়ন ডলারের প্রতারণা মামলায় ২১ বছরের বেশি কারাদণ্ড পাওয়া পলাতক মাইকেল লিজাসো মারাসিগানকে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় দেখা গেছে। এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টারস তালিকায় থাকা মারাসিগানকে ধরিয়ে দেওয়ার তথ্যের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। প্যাসিফিক ডেইলি নিউজের কর্মীদের তোলা একটি ছবির বরাত দিয়ে হাওয়াই নিউজ নাউ জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ ম্যানিলায় একটি ক্যাফে থেকে বের হওয়ার সময় মারাসিগানের ছবি তোলা হয়। ছবিটি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসার পর তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এফবিআইয়ের হনুলুলু ফিল্ড অফিস জানিয়েছে, মারাসিগান এখনও পলাতক এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। ৫৪ বছর বয়সী মারাসিগান যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের দ্বৈত নাগরিক। গুয়ামের হাফা আদাই বিঙ্গো নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত বিশাল প্রতারণা ও মানি লন্ডারিং স্কিমের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে এফবিআই ও আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মারাসিগান ও তার সহযোগীরা গুয়াম শ্রাইন ক্লাবের হাফা আদাই বিঙ্গো পরিচালনা করেন। খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষকে বলা হতো, বিঙ্গো থেকে পাওয়া অর্থ অসুস্থ শিশু এবং তাদের একজন অভিভাবককে চিকিৎসার জন্য হাওয়াইয়ের শ্রাইনার্স হাসপাতালে পাঠানোর কাজে ব্যয় হবে। কিন্তু ফেডারেল আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। ওই সময় বিঙ্গো কার্যক্রম থেকে প্রায় ৩৪ মিলিয়ন ডলার আয় হলেও এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরিয়ে নেওয়া ও পাচার করা হয়। বিচার বিভাগের হিসাবে, অ্যালোহা শ্রাইনার্সের পাওয়ার কথা ছিল এমন ১০ লাখ নয়, পুরো ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮০৪ ডলার সরিয়ে নিয়েছিলেন মারাসিগান ও তার সহযোগীরা। ব্যাংক রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিঙ্গো থেকে সংগৃহীত অর্থের মাত্র প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার অ্যালোহা শ্রাইনার্স এবং শিশুদের বিমানযাত্রার খরচে ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২১ সালে বিঙ্গোর অর্থ থেকে সংগঠনটির ঘোষিত দাতব্য উদ্দেশ্যে কোনো অর্থই ব্যয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। ২০২৫ সালের ১৩ মে ফেডারেল জুরি মারাসিগান ও তার সহযোগীদের অবৈধ জুয়া ব্যবসা পরিচালনার ষড়যন্ত্র, মানি লন্ডারিং ষড়যন্ত্র এবং ওয়্যার ফ্রডের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। মারাসিগানকে পৃথক কয়েকটি মানি লন্ডারিং অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য ফিলিপাইনে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন মারাসিগান। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ফিরে না এসে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপর ২০২৫ সালের জুনে প্রিট্রায়াল রিলিজের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফেডারেল অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। পলাতক থাকা অবস্থাতেই ২০২৬ সালের ১৮ মে তাকে সাজা দেন গুয়ামের ফেডারেল আদালত। মারাসিগানকে ২৬২ মাস বা প্রায় ২১ বছর ১০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অ্যালোহা শ্রাইনার্সকে ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮০৪ ডলার ক্ষতিপূরণ, ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৩ ডলার ফরফেইচার এবং ৬ হাজার ৫০০ ডলার বাধ্যতামূলক আদালত ফি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তাকে এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টারস তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য বর্তমানে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এফবিআই তাকে পালিয়ে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জানিয়েছে, গুয়াম ও ফিলিপাইন উভয় জায়গাতেই তার যোগাযোগ রয়েছে। ম্যানিলায় মারাসিগানের সাম্প্রতিক ছবিকে তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত এফবিআই স্পেশাল এজেন্ট টম সাইমন হাওয়াই নিউজ নাউকে বলেছেন, ছবিটি সত্যি এবং সাম্প্রতিক হলে তদন্তকারীদের জন্য তার অবস্থান সংকুচিত করার বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মারাসিগানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ তাদের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে তখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য ছিল না। অন্যদিকে এফবিআইয়ের হনুলুলু অফিস স্পষ্ট করেছে, মারাসিগান এখনও তাদের ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে সংস্থাটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যে অর্থ অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই অর্থের কোটি কোটি ডলার ব্যক্তিগত স্বার্থে সরিয়ে নেওয়ার এই মামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা বিশেষভাবে গুরুতর বলে বর্ণনা করেছেন। এখন ম্যানিলায় মারাসিগানের সম্ভাব্য উপস্থিতির নতুন তথ্য সামনে আসায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই দণ্ডিত প্রতারককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ছেলেকে অভিনব কায়দায় শিক্ষা দিলেন এক মা। স্থানীয় এক পুলিশ অফিসারের সহায়তায় ছেলেকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ‘গ্রেফতারের’ অভিনয় করানো হয়। তবে এটি কোনো সত্যিকারের গ্রেফতার ছিল না, পুরো ঘটনাটিই ছিল মা, ছেলে ও পুলিশ অফিসারের মজার আয়োজন। ঘটনাটি ঘটেছে কলোরাডোর কীনসবার্গে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কোল্টন সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে মায়ের সঙ্গে প্রথম দিনের প্রচলিত ‘ব্যাক টু স্কুল’ ছবি তুলতে রাজি হচ্ছিল না। মা আমান্ডা স্টলজ তখন স্থানীয় পুলিশ অফিসার জ্যাকের সহায়তা নেন। অফিসার জ্যাকও বিষয়টিকে মজার ছলে নেন। তিনি কোল্টনের হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে বোঝানোর অভিনয় করেন যে, স্কুলের প্রথম দিনে মায়ের সঙ্গে ছবি তুলতে অস্বীকৃতি জানানো নাকি ‘আইনবিরোধী’। পরে ছেলেটিকে পুলিশ গাড়ির পেছনের সিটে বসিয়েও ছবি তোলা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পুরো ঘটনাটি উপভোগ করছে কোল্টন। হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায়ও তাকে হাসতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে পুলিশ গাড়ির পেছনে বসে হাসছে সে, সামনে দাঁড়িয়ে আছেন অফিসার জ্যাক। অবশ্য কোল্টনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি এবং তাকে প্রকৃত অর্থে আটকও করা হয়নি। ঘটনাটি ছিল স্কুলের প্রথম দিনের স্মৃতি ধরে রাখতে মা ও স্থানীয় পুলিশ অফিসারের পরিকল্পিত কৌতুক। অমান্ডা পরে মজা করে লেখেন, তার ছেলে স্কুলে যাওয়ার আগে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় পড়েছিল। অফিসার জ্যাক তাকে বুঝিয়েছেন, স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে মাকে অস্বীকার করা নাকি সত্যিই ‘আইনের বিরুদ্ধে’। ঘটনার পর অমান্ডা স্থানীয় পুলিশ অফিসারদের প্রশংসাও করেন। তার মতে, শিশুদের সঙ্গে এ ধরনের আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি করা তাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকে এবং কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে পুলিশ অফিসারদের সম্পর্ক তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। অমান্ডা বলেন, শেষ পর্যন্ত তারা কোল্টনের স্কুলে ফেরার দিনের ছবিও পেয়ে গেছেন। ফলে যে ছবি তুলতে রাজি না হওয়া থেকে পুরো ঘটনার শুরু, পুলিশের মজার ‘গ্রেফতারের’ সুবাদে সেই ছবিই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে পরিবারের জন্য ব্যতিক্রমী এক স্মৃতি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করেন। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের জয়ের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তবে এবার বিরোধী জোটও প্রার্থী দেওয়ায় নির্বাচন হলে সংসদ সদস্যদের ভোটের মধ্য দিয়েই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন তারেক রহমান। সেখানেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১ আগস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়েছিল। এরপর কয়েক দিন ধরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত নেন তিনি। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলকে বেছে নেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম কয়েক দিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। দলীয় সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিক হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সম্মতিপত্রে তিনি স্বাক্ষর করেছেন বলে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছিল। বৃহস্পতিবারের বৈঠকের আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যান সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। দলীয় বৈঠক শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত থাকার বিষয়ে প্রার্থীর স্বাক্ষরিত ঘোষণা জমা দিতে হয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরাসরি সাধারণ ভোটাররা ভোট দেন না। জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এবার মির্জা ফখরুলের বিপরীতে বিরোধী ১১ দলীয় ঐক্য এলডিপি সভাপতি কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে উভয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদে ভোট হয়েছিল। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি। এবার দুই পক্ষের প্রার্থী থাকলে দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দিতে হবে। সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। এরপর থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান এবং ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব হন। বর্তমানে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর এখন নজর নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাইয়ের দিকে। মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বহাল থাকলে ২০ আগস্ট সংসদে ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
বিষধর হাবু সাপের উপদ্রব কমাতে ১৯৭৯ সালে জাপানের আমামি ওশিমা দ্বীপে ছাড়া হয়েছিল মাত্র ৩০টির মতো বেজি। উদ্দেশ্য ছিল বেজি সাপ ও ইঁদুর শিকার করবে এবং মানুষের জন্য ঝুঁকি কমাবে। কিন্তু পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল দেয়। সাপের বদলে দ্বীপের বিরল ও স্থানীয় প্রাণীদের শিকার করতে শুরু করে বেজি। কয়েক দশকের মধ্যে তাদের সংখ্যা বেড়ে আনুমানিক ১০ হাজারে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে ২০২৪ সালে দ্বীপটিকে বেজিমুক্ত ঘোষণা করে জাপান সরকার। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আমামি ওশিমায় ছাড়া বেজিগুলো ছিল স্মল ইন্ডিয়ান মঙ্গুজ। দ্বীপটিতে এ প্রাণী আনার পেছনে ছিল বিষধর হাবু সাপ নিয়ন্ত্রণের ভাবনা। তবে হাবু মূলত রাতে সক্রিয়, আর বেজি বেশি সক্রিয় দিনের বেলায়। ফলে যে সাপ দমনের জন্য বেজি আনা হয়েছিল, বাস্তবে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল তুলনামূলক কম। এর পরিবর্তে বেজির সহজ শিকারে পরিণত হয় আমামি ওশিমার স্থানীয় বন্যপ্রাণী। এর মধ্যে ছিল বিপন্ন আমামি খরগোশ এবং দ্বীপের বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙ, ইঁদুর ও অন্যান্য প্রাণী। পর্যাপ্ত খাবার ও অনুকূল পরিবেশ পেয়ে বেজির বিস্তার দ্রুত বাড়তে থাকে। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আমামি ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে দ্বীপটিতে বেজির সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজারে পৌঁছেছিল। এই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশেরও একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। জাপানের সরকারি নথি অনুযায়ী, ১৯১০ সালে গঙ্গা নদীর মোহনা অঞ্চল, যা বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ, সেখান থেকে বেজি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে। বিশ্ব ঐতিহ্যের মনোনয়নের জন্য জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা নথিতে বলা হয়েছে, সে সময় ১৭টি বেজি ওকিনাওয়ায় ছাড়া হয়েছিল। কয়েক দশক পর ১৯৭৯ সালে ওকিনাওয়া থেকেই প্রায় ৩০টি বেজি নিয়ে আমামি ওশিমায় ছাড়া হয়। শুরুতে যে সিদ্ধান্তকে হাবু সাপ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য উপায় মনে করা হয়েছিল, পরে সেটিই স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়। বেজির বিস্তারের সঙ্গে আমামি খরগোশসহ বিভিন্ন স্থানীয় প্রজাতির আবাস ও বিস্তৃতি সংকুচিত হওয়ার সম্পর্কও ধরা পড়ে সরকারি গবেষণায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৯৯৩ সালে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিকর বন্যপ্রাণী হিসেবে বেজি ধরার কাজ শুরু করে। ১৯৯৬ সাল থেকে জাপানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ ও কাগোশিমা প্রিফেকচার আরও বিস্তৃতভাবে বেজির সংখ্যা, বিস্তার এবং ধরার পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করে। ২০০০ সালে শুরু হয় বড় পরিসরের নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। পরবর্তী বছরগুলোতে ফাঁদ, ক্যামেরা এবং প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুরসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ অভিযানের পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে আমামি ওশিমায় সর্বশেষ বেজিটি ধরা পড়ে। এরপর কয়েক বছর আর কোনো বেজি পাওয়া যায়নি। কিন্তু শুধু বেজি ধরা না পড়ার ভিত্তিতে নির্মূল ঘোষণা করেনি জাপান। দ্বীপে কোনো প্রজননক্ষম বেজির জনগোষ্ঠী রয়ে গেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ২০২৩ অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত অনুসন্ধান ও নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়। দুটি বৈজ্ঞানিক মডেল ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত বেজি নির্মূলের সম্ভাবনা হিসাব করা হয়। একটি মডেলে সফলতার সম্ভাবনা আসে ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অন্যটিতে ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মূল্যায়নের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, আমামি ওশিমা থেকে স্মল ইন্ডিয়ান মঙ্গুজ নির্মূল হয়েছে। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এই সাফল্যকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিশেষ করে এত বড় একটি দ্বীপ থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত বেজির প্রজননশীল জনগোষ্ঠী নির্মূলের ঘটনা বিশ্বেও বিরল। তবে আমামি ওশিমার অভিযান শেষ হলেও ওকিনাওয়ায় বেজির সমস্যা পুরোপুরি শেষ হয়নি। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওকিনাওয়ার উত্তরাঞ্চলে এখনও বেজি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলছে। অর্থাৎ এক শতাব্দীরও বেশি আগে হাবু সাপ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে আনা প্রাণীটির পরিবেশগত প্রভাব জাপানের অন্য অংশে এখনও সামলাতে হচ্ছে। আমামি ওশিমার ঘটনাটি এখন বহিরাগত প্রজাতি দিয়ে কোনো স্থানীয় সমস্যার সমাধান করতে গেলে তার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি কত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। যে ৩০টি বেজি সাপের উপদ্রব কমানোর আশায় দ্বীপে ছাড়া হয়েছিল, তাদের সংখ্যা একসময় প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। ১৯৭৯ সালে শুরু হওয়া সেই অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করতে জাপানকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।
লন্ডনের একটি ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা ব্রিটিশ নারী খলিলা লিস্টার জীবনের এক পর্যায়ে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে ধর্মটি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও ব্যক্তিগত উপলব্ধির পর ১৯ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি একজন পাবলিক স্পিকার, যোগাযোগ প্রশিক্ষক এবং পাওয়ার অব ভয়েস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা। নিজের ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে কথা বলেছেন খলিলা। তার বক্তব্য ও একাধিক সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, মুসলিম হওয়ার আগে তিনি বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রেডিও উপস্থাপনা, অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং হিপহপ ঘরানার বিভিন্ন আয়োজনে কাজ করতেন তিনি। বিভিন্ন তারকার সাক্ষাৎকার নেওয়ার পাশাপাশি বড় মঞ্চেও কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল তার। পেশাগতভাবে এগিয়ে গেলেও জীবনের অর্থ ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে তার মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সেই সময় তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু ইসলাম গ্রহণ করেন। বন্ধুর জীবনে পরিবর্তন দেখেই ইসলাম সম্পর্কে তার আগ্রহ আরও বাড়ে। এক সাক্ষাৎকারে খলিলা জানিয়েছেন, শুরুতে ইসলামকে নিজের জীবনধারার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়নি তার। মুসলিম নারীদের পোশাক ও জীবনযাপন থেকে শুরু করে ধর্মটির বিভিন্ন বিষয় তার কাছে অপরিচিত ছিল। তবে ইসলাম গ্রহণের পর নিজের বন্ধুর আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং জীবনবোধে পরিবর্তন তাকে ধর্মটি সম্পর্কে আরও জানতে উৎসাহিত করে। খলিলার ভাষ্য অনুযায়ী, তার বন্ধু প্রায় এক বছর ধরে তার সঙ্গে ইসলাম, হাদিস ও ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেও ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা ও চিন্তাভাবনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে এক স্রষ্টার উপাসনা এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের প্রতি আস্থা তৈরি হয় তার। শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন খলিলা। নিজের পুরোনো জীবনধারার সঙ্গে নতুন ধর্মীয় বিশ্বাসের সমন্বয় করতে না পেরে সে সময় বিনোদন জগতের ক্যারিয়ার থেকেও সরে আসেন তিনি। খলিলা নিজেই ২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ১৯ বছর বয়সে মুসলিম হওয়ার পর তার জীবনের অনেক কিছু বদলে যায়। যে মূল্যবোধের সঙ্গে তিনি আগে যুক্ত ছিলেন, ইসলাম গ্রহণের পর সেগুলোর অনেক কিছুর সঙ্গে আর নিজেকে মেলাতে পারছিলেন না। ফলে সে সময়ের পেশাগত জীবন ছেড়ে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেন। তার পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গেও ধর্মীয় এই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। খলিলা জানিয়েছেন, তার বাবা ছিলেন ইহুদি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাবার মৃত্যুর পর তিনি দাবি করেন, মৃত্যুর প্রায় ৩০ মিনিট আগে তার বাবা শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ইসলাম গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আবারও পেশাগতভাবে সক্রিয় হন খলিলা। বর্তমানে তিনি পাওয়ার অব ভয়েস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিশেষ করে মুসলিম নারী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের পাবলিক স্পিকিং এবং যোগাযোগ দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তিনি ইসলাম চ্যানেলে উপস্থাপনার পাশাপাশি পাবলিক স্পিকিং কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চ ও অনুষ্ঠানে নিজের ধর্মীয় যাত্রা, মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্ব এবং যোগাযোগ দক্ষতা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা থেকে ইসলাম গ্রহণ পর্যন্ত নিজের যাত্রাকে খলিলা ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আত্মঅনুসন্ধানের ফল হিসেবেই তুলে ধরেছেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুর জীবনে ইসলামের প্রভাব প্রত্যক্ষ করা তাকে ধর্মটি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী করেছিল। সেই কৌতূহল থেকেই শুরু হওয়া অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর বয়সে তার ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
নিউইয়র্কে স্ন্যাপ বা ইবিটি তোমার মাথায় কি উকুন সুবিধা নেওয়া অনেক বাসিন্দার জন্য নতুন কাজের নিয়ম কার্যকর হয়েছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের একটি অংশ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে তাদের স্ন্যাপ সুবিধা সীমিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশিসহ নিউইয়র্কে বসবাসরত যেসব পরিবার এই সুবিধা পান, তাদের জন্য নতুন নিয়মগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মটি মূলত এমন কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, যাদের ওপর নির্ভরশীল ছোট সন্তান নেই। একজন ব্যক্তির বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে হলে, তার সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু বসবাস না করলে এবং শারীরিক বা মানসিক কারণে কাজ করতে অক্ষম হিসেবে ছাড় না থাকলে তিনি এই কাজের শর্তের আওতায় পড়তে পারেন। নতুন নিয়মে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে হতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তির সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল শিশু না থাকলে কাজের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তৃতীয়ত, কোনো বৈধ ছাড় না থাকলে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবা বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে। মাসে ৮০ ঘণ্টার হিসাবে সপ্তাহে গড়ে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ বা অনুমোদিত কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে হয়। কেউ চাকরি করলে সেই কাজের সময় গণনা হতে পারে। একইভাবে অনুমোদিত চাকরির প্রশিক্ষণ, শিক্ষা বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের নির্দিষ্ট সময়ও শর্ত পূরণে বিবেচিত হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিন মাসের সীমা। যাদের ওপর এই কাজের শর্ত প্রযোজ্য, তারা প্রয়োজনীয় কাজ বা অনুমোদিত কার্যক্রমে অংশ না নিলে এবং কোনো ছাড়ের আওতায় না থাকলে তিন বছরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র তিন মাস স্ন্যাপ সুবিধা পেতে পারেন। এরপর আবার যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নতুন ফেডারেল আইনে এই কাজের শর্তের আওতায় পড়ার বয়সসীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগে সর্বোচ্চ বয়স ছিল ৫৪ বছর। নতুন নিয়মে তা বাড়িয়ে ৬৪ বছর করা হয়েছে। ফলে ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী অনেক কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কও এখন এই শর্তের আওতায় আসতে পারেন। তবে ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী হলেই সবার স্ন্যাপ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। গর্ভবতী নারী, শারীরিক বা মানসিক কারণে কাজ করতে অক্ষম ব্যক্তি এবং ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুর সঙ্গে বসবাসকারী ব্যক্তি কাজের এই বিশেষ সময়সীমা থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট ধরনের প্রতিবন্ধী ভাতা বা সম্পূরক নিরাপত্তা আয় গ্রহণকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রেও সাধারণ কাজের শর্ত থেকে ছাড় থাকতে পারে। কারও পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে। তাই নিজের ক্ষেত্রে নিয়মটি প্রযোজ্য কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। নতুন আইনে আগে বিশেষ ছাড় পাওয়া কয়েকটি শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। কিছু সাবেক সেনাসদস্য, গৃহহীন ব্যক্তি এবং পালক পরিবার থেকে বেরিয়ে আসা নির্দিষ্ট বয়সী তরুণ তরুণীর ক্ষেত্রেও নতুন কাজের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। যারা নিউইয়র্ক সিটির মানবসম্পদ প্রশাসন থেকে কাজের কার্যক্রমসংক্রান্ত চিঠি বা নোটিশ পেয়েছেন, তাদের সেটি উপেক্ষা করা উচিত নয়। চাকরি, প্রশিক্ষণ বা অন্য অনুমোদিত কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রমাণ চাওয়া হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জমা দিতে হবে। অনলাইনে নিজের সরকারি সুবিধার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া যায়। চাইলে নিকটস্থ মানবসম্পদ প্রশাসনের কার্যালয়েও যোগাযোগ করা যেতে পারে। কাজ করতে না পারার বৈধ কারণ থাকলে সেটিও কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রসহ অতিরিক্ত প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। পারিবারিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও তথ্য হালনাগাদ করা গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু আপনার সঙ্গে বসবাস শুরু করলে সেটি আপনার ওপর কাজের বিশেষ শর্ত প্রযোজ্য হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির স্ন্যাপ সহায়তা নম্বর ৭১৮-৭৬২-৭৬৬৯। নিজের সুবিধার বর্তমান অবস্থা, নতুন কাজের শর্ত কিংবা কোনো ছাড় প্রযোজ্য কি না জানতে এই নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি বাংলাদেশি বা অভিবাসী পরিবারগুলোর স্ন্যাপ সুবিধা একযোগে বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নয়। জাতীয়তা বা বাংলাদেশি পরিচয়ের কারণে কারও সুবিধা বন্ধ হবে না। কার ওপর নতুন কাজের শর্ত প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে বয়স, কাজের সক্ষমতা, নির্ভরশীল শিশু, কাজ বা অনুমোদিত কার্যক্রম এবং প্রযোজ্য ছাড়ের ওপর। তাই যারা বর্তমানে নিউইয়র্কে স্ন্যাপ সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের কর্তৃপক্ষের পাঠানো চিঠি বা নোটিশ ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। নিজের ওপর নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হলে নির্ধারিত কাজের সময়ের তথ্য অথবা ছাড় পাওয়ার প্রমাণ সময়মতো জমা না দিলে স্ন্যাপ সুবিধা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের আদালতে শামীমা বেগমের আইনি লড়াইয়ের পথ শেষ হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট তার আপিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করায় দেশটির আদালতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত আর চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নেই। তবে শামীমার মামলা এখন ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে রয়েছে, যেখানে তিনি দাবি করেছেন, শিশু পাচারের সম্ভাব্য শিকার হিসেবে তার পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। লন্ডনে জন্ম নেওয়া শামীমা ২০১৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে দুই স্কুলবন্ধুর সঙ্গে যুক্তরাজ্য ছেড়ে সিরিয়ায় যান। সেখানে তিনি ইসলামিক স্টেট বা আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ করেন এবং পরে একজন আইএস সদস্যকে বিয়ে করেন। ২০১৯ সালে সিরিয়ার একটি শিবিরে তার সন্ধান পাওয়ার পর তৎকালীন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করেন। এরপর নাগরিকত্ব ফিরে পেতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু করেন শামীমা। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্পেশাল ইমিগ্রেশন আপিলস কমিশন তার আবেদন খারিজ করে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের কোর্ট অব আপিলও তার পক্ষে রায় দেয়নি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট কোর্ট অব আপিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি চেয়ে করা শামীমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, তার আবেদনে এমন কোনো গ্রহণযোগ্য আইনি প্রশ্ন নেই, যার ভিত্তিতে আরও আপিলের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ আদালতে নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে যায়। তবে মামলার এখানেই সমাপ্তি হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর শামীমা ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আবেদন করেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে স্ট্রাসবুর্গভিত্তিক আদালত মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্য সরকারকে জানায় এবং সরকারের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব চায়। মামলাটির অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় হচ্ছে, ১৫ বছর বয়সে শামীমার সিরিয়ায় যাওয়ার পেছনে মানবপাচার বা শিশু পাচারের উপাদান ছিল কি না এবং ব্রিটিশ সরকার নাগরিকত্ব বাতিলের আগে সেই সম্ভাবনা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছিল কি না। শামীমার আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাকে আইএসের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাকে সম্ভাব্য মানবপাচারের শিকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত ছিল। তাদের যুক্তি, নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় রাষ্ট্রের তার প্রতি থাকা সুরক্ষামূলক দায়িত্বের বিষয়টিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন ছিল। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত বিশেষভাবে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে বিষয়টি পরীক্ষা করছে। এই অনুচ্ছেদ দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মানবপাচার থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান হচ্ছে, শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের আদালতগুলোও এর আগে সরকারের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করেনি। শামীমার নাগরিকত্ব নিয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সময় আইনি যুক্তি ছিল, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বাবা মায়ের সন্তান হিসেবে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ছিলেন এবং সে কারণে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারিয়ে রাষ্ট্রহীন হবেন না। তবে বাংলাদেশ সরকার প্রকাশ্যে জানিয়েছে, শামীমা বাংলাদেশের নাগরিক নন এবং তাকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। ফলে বাস্তবে শামীমার অবস্থান অত্যন্ত জটিল। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নেই, বাংলাদেশ তাকে নাগরিক হিসেবে স্বীকার করছে না এবং অন্য কোনো দেশে তার পুনর্বাসনের নিশ্চিত ব্যবস্থাও নেই। বর্তমানে তিনি উত্তর পূর্ব সিরিয়ার আল রোজ শিবিরে অবস্থান করছেন। ২০১৯ সালে আইএসের ভূখণ্ডগত পতনের পর থেকে সেখানে আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন নারী ও শিশুদের একটি বড় অংশকে রাখা হয়েছে। শামীমার তিন সন্তানই অল্প বয়সে মারা গেছে। ২০১৯ সালে শিবিরে অবস্থানকালে তার নবজাতক ছেলের মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে চলমান মামলাটি এখন তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবশিষ্ট আইনি পথ। তবে আদালত শেষ পর্যন্ত তার পক্ষে রায় দিলেও সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেবে বা তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরার অনুমতি দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আদালতের সিদ্ধান্তের ধরন এবং যুক্তরাজ্য সরকার সেটি কীভাবে বাস্তবায়ন করে, তার ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে। ফলে এক দশকেরও বেশি সময় আগে ১৫ বছর বয়সে লন্ডন ছেড়ে সিরিয়ায় যাওয়া শামীমা বেগমের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই স্ট্রাসবুর্গের ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের মামলার ওপর নির্ভর করছে।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দীর্ঘ সামরিক অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে থাকা অবশিষ্ট মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আইএসবিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশনও শেষ হবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদি বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠকের পর ৩০ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশন শেষ এবং বাহিনী প্রত্যাহারের ‘স্থির ও চূড়ান্ত’ তারিখ হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার শেষ হবে বলে আশা করছে। তবে বর্তমানে ইরাকে ঠিক কতজন মার্কিন সেনা রয়েছেন এবং প্রত্যাহারের পর তাদের কোথায় মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া অবশ্য ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। দেশটির অধিকাংশ এলাকা থেকে গত বছরই মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে সীমিত সংখ্যক সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম রয়ে গেছে। ইরাকি কুর্দি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, এরবিল থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরানোর নতুন ধাপ প্রায় তিন সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরও জুলাইয়ে জানিয়েছিল, ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে আইএসবিরোধী ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ মিশন শেষ করার কথা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য, আইএসকে ভূখণ্ডগতভাবে পরাজিত করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক এবং আন্তর্জাতিক জোট উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিদেশি বাহিনী চলে যাওয়ার পর আইএস ও অন্যান্য সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলার প্রধান দায়িত্ব থাকবে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে। এর মধ্যে কুর্দিস্তান অঞ্চলের পেশমার্গা বাহিনীও রয়েছে। ইরাকের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর শুধু বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নয়। দেশটির সরকার একই দিনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আল জাইদির বক্তব্য, বিদেশি বাহিনী চলে যাওয়ার পর আলাদা সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র ধরে রাখার প্রয়োজন থাকবে না এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরাকি বাহিনী সক্ষম। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। ইরাকে ইরানঘনিষ্ঠ কয়েকটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে এবং তাদের কয়েকটি ইতোমধ্যে অস্ত্র সমর্পণে অনীহা জানিয়েছে। ফলে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সব অস্ত্র রাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ বাগদাদ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস দুই পর্বে বিভক্ত। ২০০৩ সালের মার্চে সাদ্দাম হোসেন সরকারের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার দাবিকে অন্যতম কারণ দেখিয়ে ইরাকে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। পরে সেই ধরনের অস্ত্র পাওয়া যায়নি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সাদ্দাম সরকারের পতন ঘটে, কিন্তু এরপর দেশটি দীর্ঘ যুদ্ধ, বিদ্রোহ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মধ্যে পড়ে। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা সর্বোচ্চ এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি হয়েছিল। পরে ধাপে ধাপে সেনা কমানো শুরু হয় এবং ২০১১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ যুদ্ধরত সেনারা ইরাক ছাড়ে। তবে সেই প্রত্যাহার স্থায়ী হয়নি। ২০১৪ সালে আইএস ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিলে ইরাকি সরকারের আমন্ত্রণে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জোটের সেনারা আবার দেশটিতে ফিরে আসে। তাদের মূল দায়িত্ব ছিল ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও আইএসবিরোধী অভিযানে সহায়তা করা। আইএসের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড পুনর্দখলের পর ২০২১ সালে জোটের সরাসরি যুদ্ধ মিশন শেষ হয়। এরপরও প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ইরাকে থেকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং যৌথ আইএসবিরোধী কার্যক্রমে সহায়তা করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের সমঝোতার পর থেকে সেই উপস্থিতিও ধাপে ধাপে কমানো হচ্ছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যাহার পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ হলে ২০০৩ সালের আগ্রাসনের ২৩ বছর পর ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটবে। তবে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। দুই দেশ ইতোমধ্যে সামরিক মিশননির্ভর সম্পর্ক থেকে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, জ্বালানি ও বাণিজ্যকেন্দ্রিক দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বের দিকে এগোনোর কথা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬ বছর পর একই দিনে তিনটি পৃথক অঙ্গরাজ্যে তিন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার টেনেসি, আলাবামা ও ওকলাহোমায় তিন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা রয়েছে। শেষ মুহূর্তে আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ না এলে ২০১০ সালের পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম ঘটনা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ফক্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, টেনেসিতে ৬৬ বছর বয়সী অ্যান্থনি ড্যারেল হাইনস, আলাবামায় ৪২ বছর বয়সী জেরেমি উইলিয়ামস এবং ওকলাহোমায় ৭০ বছর বয়সী কার্লোস কুয়েস্তা রদ্রিগেজের মৃত্যুদণ্ড বৃহস্পতিবার কার্যকরের সূচি রয়েছে। তিনজনই পৃথক হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রবিন মাহের জানিয়েছেন, একই দিনে তিনটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত বিরল। তবে তিন অঙ্গরাজ্যের একই দিনের সময়সূচির মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এটি মূলত কাকতালীয়ভাবে একই দিনে পড়েছে। এর আগে সর্বশেষ ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল। সেদিন লুইজিয়ানা, ওহাইও ও টেক্সাসে তিন বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০১৮ সালেও একই দিনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নির্ধারিত হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মাত্র একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা অ্যান্থনি ড্যারেল হাইনসকে ১৯৮৫ সালে ৫৪ বছর বয়সী ক্যাথরিন জিন জেনকিনসকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। জেনকিনস কিংস্টন স্প্রিংসের একটি মোটেলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন হাইনস। ১৯৮৬ সালে হাইনসকে প্রথম মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে আপিলের মাধ্যমে নতুন করে সাজা নির্ধারণের সুযোগ পেলেও ১৯৮৯ সালে আবারও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে হাইনসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি দুইবার স্ট্রোক করেছেন এবং আংশিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত। এ কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার জন্য তার শরীরে শিরা খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এই উদ্বেগের পেছনে রয়েছে টেনেসিতে কয়েক মাস আগের একটি ঘটনা। আরেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির শরীরে ইনজেকশন দেওয়ার উপযোগী শিরা খুঁজে পেতে সমস্যার কারণে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শেষ পর্যন্ত স্থগিত করতে হয়েছিল। হাইনসের আইনজীবীরা একই ধরনের পরিস্থিতি তার ক্ষেত্রেও তৈরি হতে পারে বলে আদালত ও গভর্নরের কাছে হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। আলাবামায় জেরেমি উইলিয়ামসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী কামারি হল্যান্ডকে ২০২১ সালে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, উইলিয়ামস ওই শিশুকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন এবং নিজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিরোধিতা করছেন না। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, উইলিয়ামস শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করেন। ঘটনাটি আলাবামার সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত অপরাধ মামলাগুলোর একটি। অন্যদিকে ওকলাহোমায় কার্লোস কুয়েস্তা রদ্রিগেজকে ২০০৩ সালে তার প্রেমিকা অলিম্পিয়া ফিশারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওকলাহোমার অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ফিশার সম্পর্কটি শেষ করার পরিকল্পনা করছিলেন। এ সময় কুয়েস্তা রদ্রিগেজ তাকে গুলি করেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, প্রথম গুলির প্রায় আট মিনিট পর তিনি ফিশারকে দ্বিতীয়বার গুলি করেন। দ্বিতীয় গুলিতেই তার মৃত্যু হয়। ফিশারের গর্ভবতী মেয়ে ঘটনাস্থলের খুব কাছেই ছিলেন। গত জুলাইয়ে ওকলাহোমা পারডন অ্যান্ড প্যারোল বোর্ড ৩-১ ভোটে কুয়েস্তা রদ্রিগেজের ক্ষমার আবেদন সুপারিশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। তবে শুনানিতে কুয়েস্তা রদ্রিগেজ নিজেই জানান, তিনি ক্ষমা চান না। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এখন অল্প কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত। ২০২৫ সালে ১১টি অঙ্গরাজ্যে মোট ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল, যা ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ। এর মধ্যে শুধু ফ্লোরিডাতেই ১৯টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। আলাবামা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেক্সাসে পাঁচজন করে এবং টেনেসিতে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত চারটি অঙ্গরাজ্যে ১৯টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। বৃহস্পতিবারের তিনটি মৃত্যুদণ্ড নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কার্যকর হলে প্রায় ১৬ বছরের মধ্যে প্রথমবার একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি পৃথক অঙ্গরাজ্যে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার লেক হাভাসু সিটির ঐতিহাসিক লন্ডন ব্রিজ থেকে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পর এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ব্রিজ থেকে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য লাস ভেগাসের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার সকালে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এবিসি১৫ অ্যারিজোনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টার কিছু আগে প্রত্যক্ষদর্শীরা এক কিশোরকে লন্ডন ব্রিজ থেকে নিচের পানিতে ঝাঁপ দিতে দেখেন। পানিতে পড়ার পর সে আর স্বাভাবিকভাবে ওপরে উঠে আসেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, কিশোরটি প্রথমে পানির নিচে চলে যায়। এরপর অল্প সময়ের জন্য আবার ওপরে দেখা গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই সে দ্বিতীয়বার পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং আর ভেসে ওঠেনি। খবর পেয়ে লেক হাভাসু সিটি পুলিশ ও ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানিতে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে কিশোরটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাকে দ্রুত হাভাসু রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সে সময় তার অবস্থা গুরুতর ছিল। পরে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হেলিকপ্টারে করে লাস ভেগাসের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বুধবার সকালে লেক হাভাসু সিটির কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিশোরটির মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখনো নিহত কিশোরের নাম বা বয়স প্রকাশ করেনি। সে স্থানীয় বাসিন্দা ছিল নাকি পর্যটক হিসেবে সেখানে গিয়েছিল, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানানো হয়নি। একইভাবে কিশোরটি কেন ব্রিজ থেকে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিল, সেটিও এখনো পরিষ্কার নয়। এটি বিনোদনের উদ্দেশ্যে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা ছিল কি না কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতি ছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে ঘটনার কারণ নিয়ে অনুমান না করে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। লেক হাভাসু সিটির লন্ডন ব্রিজ অ্যারিজোনার অন্যতম পরিচিত পর্যটন আকর্ষণ। ব্রিজটি একসময় ইংল্যান্ডের লন্ডনে টেমস নদীর ওপর ছিল। পরে সেটি কিনে খুলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয় এবং লেক হাভাসু সিটিতে পুনর্নির্মাণ করা হয়। কিশোরের মৃত্যুর ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কী কারণে সে ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল এবং ঘটনার আগে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বহুল আলোচিত হাই স্পিড রেল প্রকল্প নতুন করে বড় ধরনের অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে। নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা করা না গেলে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পটির হাতে থাকা বর্তমান তহবিল শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল প্রকল্পের ইন্সপেক্টর জেনারেল বেঞ্জামিন বেলন্যাপ। আগামী পাঁচ বছরে প্রকল্পটির অর্থায়ন ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৯৫০ কোটি ডলার। ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল অথরিটির সংশোধিত ২০২৬ বিজনেস প্ল্যান পর্যালোচনা করে এই সতর্কতা দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল। ফক্স ১১ লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির জন্য দীর্ঘমেয়াদে মোট ৩ হাজার ৯৩০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য অর্থের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজ্যের ক্যাপ অ্যান্ড ইনভেস্ট কর্মসূচি থেকে বছরে ১০০ কোটি ডলার পাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, নির্মাণকাজের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সময়ে যে গতিতে অর্থ প্রয়োজন হবে, সেই গতিতে এসব উৎস থেকে টাকা আসবে না। ইন্সপেক্টর জেনারেলের হিসাব অনুযায়ী, নতুন ফাইন্যান্সিং নিশ্চিত করা না গেলে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই বর্তমান অর্থের ভাণ্ডার শেষ হয়ে যেতে পারে। শুধু ২০২৭-২৮ অর্থবছরেই নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চালিয়ে যেতে অতিরিক্ত ২২০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৭-২৮ থেকে ২০৩১-৩২ অর্থবছরের মধ্যে সব মিলিয়ে অর্থায়ন ঘাটতি প্রায় ৯৫০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে রাজ্য সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ, রেভিনিউ বন্ড এবং বেসরকারি বিনিয়োগসহ কয়েকটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু ঋণের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করলে প্রকল্পের খরচ আরও বাড়বে। ইন্সপেক্টর জেনারেলের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ঋণের সুদ বাবদ অতিরিক্ত ৩৬০ কোটি থেকে ৬৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। এই সম্ভাব্য সুদের খরচ ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালি অংশের জন্য হাই স্পিড রেল অথরিটির বর্তমান ৩ হাজার ৫৭০ কোটি ডলারের ব্যয় হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নেই। ইন্সপেক্টর জেনারেলের পর্যালোচনায় প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয়ের আরও কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে কন্টিনজেন্সি বাজেটে প্রায় ১২০ কোটি ডলারের ঘাটতি, তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে পাওয়ার প্রত্যাশায় রাখা প্রায় ৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের নির্মাণ ব্যয় এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর জন্য আরও প্রায় ১৭০ কোটি ডলার। প্রকল্পের ব্যয় কমাতে নির্মাণ পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে পছন্দের পরিকল্পনায় মার্সেড থেকে বেকার্সফিল্ড অংশের দৈর্ঘ্য ১৭১ মাইল থেকে কমিয়ে ১৬২ মাইল করার কথা রয়েছে। মার্সেডের পরিকল্পিত স্টেশন শহরের কেন্দ্রস্থলের পরিবর্তে শহরতলিতে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাউনটাউন বেকার্সফিল্ডের উত্তরে রেললাইন নির্মাণের একটি অংশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথাও রয়েছে। ইন্সপেক্টর জেনারেলের মতে, সাম্প্রতিক যে ব্যয় সাশ্রয়ের হিসাব দেখানো হচ্ছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এসেছে কাজের পরিমাণ কমানোর মাধ্যমে। অর্থাৎ শুধু নির্মাণ দক্ষতা বাড়িয়ে খরচ কমানো হয়নি, কিছু অবকাঠামো ও কাজের পরিধিও পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রকল্পের সময়সূচি নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সরকারি নথিতে প্রাথমিক যাত্রীসেবা চালুর সময় নয় মাস পিছিয়ে ২০৩২ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে ইন্সপেক্টর জেনারেলের ঝুঁকিভিত্তিক পরিসংখ্যান মডেল বলছে, পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে প্রকল্পের এই অংশ শেষ হতে ২০৩৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ট্রেন কেনার পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন এসেছে। আগস্টে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ছয়টি ট্রেনসেট কেনার পরিকল্পনা কমিয়ে তিনটিতে আনা হয়েছে। সম্ভাব্য লিজ পারচেজ ব্যবস্থার অধীনে ট্রেন সরবরাহের সময়সীমা ২০৩০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার হাই স্পিড রেল প্রকল্পের অর্থায়ন পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ফেডারেল সরকারের সঙ্গে বিরোধের পর। ২০২৫ সালে ফেডারেল সরকার প্রকল্পটির প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের অনুদান বাতিল করে। ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করলেও পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়। হাই স্পিড রেল অথরিটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আবারও ফেডারেল সরকারের সঙ্গে অর্থায়নের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আশা রয়েছে। ইন্সপেক্টর জেনারেল বেলন্যাপ রাজ্যের আইনপ্রণেতা ও গভর্নরকে দেওয়া চিঠিতে প্রকল্পের ব্যয় ও সময়সূচি সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা করেছেন। তার কার্যালয়ের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য যথেষ্ট স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা হয়নি, ফলে আইনপ্রণেতাদের জন্য কার্যকর তদারকি কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল অথরিটি জানিয়েছে, তারা গঠনমূলক তদারকিকে গুরুত্ব দেয় এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি এখন রেললাইন বসানোর পর্যায়ে এগোচ্ছে এবং বেসরকারি খাত ও রাজ্যের বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তব অগ্রগতি হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল মূলত সান ফ্রান্সিসকো ও লস অ্যাঞ্জেলেসকে দ্রুতগতির ট্রেন নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। তবে প্রকল্পটি বছরের পর বছর ধরে ব্যয় বৃদ্ধি, সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়া এবং অর্থায়নের অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বর্তমান তহবিল ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় নতুন অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে কি না।
নিউজিল্যান্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া ‘গোল্ডেন ভিসা’ কর্মসূচিতে ধনী আমেরিকানদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। দেশটির সরকার বিনিয়োগের শর্ত সহজ করার পর আবেদন বেড়েছে কয়েক গুণ। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত অ্যাকটিভ ইনভেস্টর প্লাস ভিসার জন্য ৮৩৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৭৭টি আবেদন এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে। নিউজিল্যান্ডের ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই ২৭৭টি আবেদনে আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের সদস্য মিলিয়ে মোট ৮৩৮ জন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে চীন থেকে ১৫৬টি এবং হংকং থেকে ১১০টি। এরপর রয়েছে জার্মানি ৫৬টি এবং তাইওয়ান ৪৫টি। ফক্স লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার ধনী বাসিন্দাদের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের এই ভিসা নিয়ে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচিটির নাম ‘অ্যাকটিভ ইনভেস্টর প্লাস ভিসা’। বিনিয়োগের বিনিময়ে নিউজিল্যান্ডে বসবাস ও কাজের সুযোগ থাকায় এটি সাধারণভাবে ‘গোল্ডেন ভিসা’ নামে পরিচিত। নিউজিল্যান্ড সরকার ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল কর্মসূচিটির নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। বর্তমানে দুটি বিনিয়োগ ক্যাটাগরি রয়েছে, গ্রোথ এবং ব্যালান্সড। গ্রোথ ক্যাটাগরিতে কমপক্ষে ৫০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার তিন বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে হয়। ব্যালান্সড ক্যাটাগরিতে প্রয়োজন কমপক্ষে এক কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার এবং বিনিয়োগ ধরে রাখতে হয় পাঁচ বছর। গ্রোথ ক্যাটাগরির অর্থ নিউজিল্যান্ডের ব্যবসা, ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ও অনুমোদিত ম্যানেজড ফান্ডের মতো তুলনামূলক উচ্চ প্রবৃদ্ধির বিনিয়োগে দেওয়া যায়। ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে এই ক্যাটাগরির মোট বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ অনুমোদিত জনকল্যাণমূলক খাতে অনুদান দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যালান্সড ক্যাটাগরিতে বন্ড, তালিকাভুক্ত শেয়ার ও নির্দিষ্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টসহ তুলনামূলক বিস্তৃত বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। নিয়ম সহজ করার আগে এই ভিসায় আগ্রহ ছিল অনেক কম। নিউজিল্যান্ড ইমিগ্রেশনের হিসাবে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পুরোনো নিয়মে মাত্র ১১৫টি আবেদন জমা পড়েছিল। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত আবেদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৭টিতে। এর মধ্যে ৩৯৫টি আবেদন ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে এবং আরও ২৮৫টি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া। একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে শারীরিকভাবে অবস্থানের সময়সীমাও কমানো হয়েছে। গ্রোথ ক্যাটাগরির বিনিয়োগকারীদের তিন বছরে অন্তত ২১ দিন নিউজিল্যান্ডে থাকতে হয়। ব্যালান্সড ক্যাটাগরিতে সাধারণভাবে পাঁচ বছরে অন্তত ১০৫ দিন অবস্থান করতে হয়, যদিও নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত গ্রোথ ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে এই সময় কমানোর সুযোগ রয়েছে। এই ভিসা পাওয়া ব্যক্তিরা নিউজিল্যান্ডে অনির্দিষ্টকাল বসবাস করতে পারেন এবং সেখানে কাজ ও পড়াশোনার সুযোগও পান। তবে এটি শুধু অর্থ জমা দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। বিনিয়োগের অর্থ বৈধ উৎস থেকে এসেছে কি না, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অনুমোদিত খাতে অর্থ রাখা হয়েছে কি না এবং অন্যান্য ইমিগ্রেশন শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, সেগুলো যাচাই করা হয়। সরকারি হিসাবে, নতুন নিয়ম চালুর পর ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত অ্যাকটিভ ইনভেস্টর প্লাস কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১৪৮ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার ইতোমধ্যে বিনিয়োগ হয়েছে। এর প্রায় দুই তৃতীয়াংশ গ্রোথ ক্যাটাগরিতে এসেছে। নিউজিল্যান্ড সরকার বলছে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু ধনী বিদেশিদের বসবাসের সুযোগ দেওয়া নয়। বিদেশি পুঁজি দেশটির ব্যবসা, উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজে লাগানোই এর মূল উদ্দেশ্য। আবেদনকারীদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এখন স্পষ্টভাবে শীর্ষে থাকায় দেশটির বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচিতে আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আফগানিস্তানে নিখোঁজ এক মার্কিন সেনাকে খুঁজতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন জর্জিয়া আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের মাস্টার সার্জেন্ট মার্ক অ্যালেন। সেই গুলিতে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের পর হাঁটা ও কথা বলার ক্ষমতা হারান তিনি। প্রায় এক দশক সেই আঘাতের জটিলতা নিয়ে বেঁচে থাকার পর ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর ৪৬ বছর বয়সে মারা যান অ্যালেন। ঘটনাটি ২০০৯ সালের। আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে মার্কিন সেনা বো বার্গডাল তার পোস্ট ছেড়ে চলে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। তাকে উদ্ধারে বড় ধরনের অনুসন্ধান অভিযান শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সামরিক আদালতের নথি অনুযায়ী, সেই অনুসন্ধান অভিযানের অংশ হিসেবেই অ্যালেন ও তার দলকে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের এমন কিছু এলাকায় পাঠানো হয়েছিল, যেখানে দীর্ঘ সময় মার্কিন সেনারা টহল দেয়নি। ২০০৯ সালের ৮ জুলাই বার্গডালকে খোঁজার অভিযানে থাকা অবস্থায় অ্যালেনের দল শত্রুপক্ষের হামলার মুখে পড়ে। গোলাগুলির একপর্যায়ে অ্যালেনের মাথায় গুলি লাগে। সামরিক আদালতে পরে দেওয়া সাক্ষ্যে ওই অভিযানে থাকা মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জন মার্ক্স জানান, হামলার সময় তিনি অ্যালেনের পাশেই ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর অ্যালেনকে মেডিক্যাল ইভাকুয়েশনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়। মাথায় গুলির আঘাতে অ্যালেন গুরুতর ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। তার একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং দীর্ঘ সময় চিকিৎসা ও রিহ্যাবিলিটেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু আঘাতের প্রভাব ছিল স্থায়ী। তিনি আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে বা কথা বলতে পারেননি এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি কাজেই অন্যের সহায়তার প্রয়োজন হতো। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে অ্যালেনের পাশে ছিলেন তার স্ত্রী শ্যানন অ্যালেন ও পরিবারের সদস্যরা। ২০১৭ সালে বার্গডালের সামরিক বিচার প্রক্রিয়ায় শ্যানন তার স্বামীর দৈনন্দিন জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছিলেন। অ্যালেনকে বিছানা থেকে ওঠানো, গোসল করানো ও পোশাক পরানোর মতো সাধারণ কাজেও দীর্ঘ সময় এবং বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হতো। মার্ক অ্যালেন ১৯৯১ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরে ফ্লোরিডা আর্মি ন্যাশনাল গার্ড এবং এরপর জর্জিয়া আর্মি ন্যাশনাল গার্ডে দায়িত্ব পালন করেন। আফগানিস্তানের পাশাপাশি তিনি ইরাক এবং সিনাই উপদ্বীপেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সরকারি সামরিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২২ বছরের সামরিক ক্যারিয়ার শেষে আফগানিস্তানে পাওয়া আঘাতের কারণে ২০১৩ সালের মে মাসে তিনি অবসর নেন। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পার্পল হার্ট পান। অ্যালেনকে যে অভিযানে পাঠানো হয়েছিল, সেই বো বার্গডাল পরে প্রায় পাঁচ বছর তালেবানের হাতে বন্দি ছিলেন। ২০১৪ সালে গুয়ানতানামো বে-তে আটক পাঁচ তালেবান সদস্যের বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে সামরিক আদালতে বার্গডাল নিজের পোস্ট ত্যাগ এবং সহযোদ্ধাদের বিপদের মুখে ফেলার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি, তবে পদাবনতি, বেতন কর্তন এবং ডিজঅনারেবল ডিসচার্জের সাজা দেওয়া হয়েছিল। অ্যালেনের আহত হওয়ার সঙ্গে বার্গডালকে খোঁজার অভিযানের সরাসরি সম্পর্কও সামরিক আদালতের নথিতে উঠে আসে। আদালতে উপস্থাপিত সরকারি নথিতে বলা হয়, ২০০৯ সালের ৮ জুলাই অ্যালেন যে মিশনে অংশ নিয়েছিলেন, সেটির উদ্দেশ্যই ছিল বার্গডালকে খুঁজে বের করা। সেই অভিযানেই হামলার মুখে পড়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। আঘাত পাওয়ার এক দশকেরও বেশি সময় পর ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর মারা যান মার্ক অ্যালেন। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি নথিতেও উল্লেখ করা হয়েছে, আফগানিস্তানে পাওয়া গুরুতর যুদ্ধকালীন আঘাতের সঙ্গে দীর্ঘ ১০ বছর লড়াইয়ের পর তার মৃত্যু হয়। অ্যালেনের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জানিয়েছিলেন, শেষ সময়ে পরিবারের সদস্যরা তার পাশেই ছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে একটি মুহূর্তের আঘাত কীভাবে একজন সেনা এবং তার পরিবারের পরবর্তী পুরো জীবন বদলে দিতে পারে, মার্ক অ্যালেনের গল্প তারই এক দীর্ঘস্থায়ী উদাহরণ।
যুক্তরাজ্যের ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর অসুস্থতাকে প্রথমে সাধারণ টনসিলের সংক্রমণ বলে মনে করেছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে, সে বিরল ও অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এক ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত। পরে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, তার শরীরে চতুর্থ ধাপের বারকিট লিম্ফোমা (Burkitt lymphoma) রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্মেই বারোজ-পিট, যাকে পরিবারের সদস্যরা ‘মেলি’ নামে ডাকেন, গত মে মাসে ইংল্যান্ডের ডেভনে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর সময় অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও ক্ষুধামন্দায় ভুগতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তার খেলাধুলা কমে যায় এবং বেশিরভাগ সময় শুয়ে থাকতে চাইত। মেলির মা নিকি বারোজ-পিট জানান, প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকেরা এটিকে টনসিলের সংক্রমণ বলে মনে করেন এবং অ্যান্টিবায়োটিক দেন। তারা পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে মেলি সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়ে। পরবর্তীতে মেলিকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা রক্ত পরীক্ষা করেন। প্রথমদিকে তার শরীরে সেপসিস, যক্ষ্মা বা বিদেশ সফরের সময় কোনো সংক্রমণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। প্রায় ১৫ দিন হাসপাতালে থাকার পর তাকে বার্মিংহাম চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই গত ৩ জুলাই চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, মেলি স্টেজ-৪ বারকিট লিম্ফোমায় আক্রান্ত। এটি শিশুদের মধ্যে দেখা যাওয়া বিরল ও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এক ধরনের নন-হজকিন লিম্ফোমা, যা শ্বেত রক্তকণিকার বি-সেল থেকে শুরু হয় এবং খুব দ্রুত শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসকেরা জানান, মেলির ক্ষেত্রে ক্যানসারটি ইতোমধ্যে প্লীহা, যকৃত ও অস্থিমজ্জায় ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে তার ছয় মাসব্যাপী কেমোথেরাপি চলছে। মা নিকি বলেন, শুরু থেকেই তিনি বুঝতে পারছিলেন, বিষয়টি সাধারণ কোনো অসুস্থতা নয়। কারণ মেলি সবসময়ই খেলাধুলাপ্রিয়, প্রাণবন্ত ও সক্রিয় ছিল। কিন্তু সে হাঁটতে, খেতে এমনকি কথা বলতেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল। তিনি বলেন, "বারবার বলা হচ্ছিল, ওর কিছু হয়নি। কিন্তু একজন মা হিসেবে আমি বুঝতে পারছিলাম, ওর শরীরে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়াটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের ছিল।" প্রথমদিকে মেলির ঘাড়ে ব্যথা ছিল। পরে পায়ের শিন ও কুঁচকিতেও ব্যথা শুরু হয়। পরিবারের ধারণা ছিল, হয়তো জিমন্যাস্টিকস অনুশীলনের সময় পাওয়া কোনো আঘাতের কারণে এমন হচ্ছে। কিন্তু পরে জানা যায়, এগুলো ক্যানসারের লক্ষণ ছিল। বর্তমানে মেলির চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পরিবার তহবিল সংগ্রহ করছে। তার খালা এমা হোয়াইট জানান, চিকিৎসার ফাঁকে মেলিকে কিছু আনন্দের সময় উপহার দিতে চান তারা। ক্যানসারের কারণে পরিবারের বেশ কয়েকটি ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। মেলির ইচ্ছার তালিকায় রয়েছে ডিজনি ওয়ার্ল্ড ফ্লোরিডা ও ল্যাপল্যান্ড ভ্রমণ। পরিবারটি বার্মিংহাম চিলড্রেনস হাসপাতাল এবং চিকিৎসাকালীন সহায়তা দেওয়া রোনাল্ড ম্যাকডোনাল্ড হাউসের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তারা ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্যও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বারকিট লিম্ফোমা দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, অকারণে ব্যথা বা স্বাভাবিক আচরণে বড় পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস প্রদেশের পারগামিনো শহরে ২০১২ সালে এক কিশোরকে সপ্তম তলা থেকে নিচে ফেলে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় আদালতের রায় এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যম এবং আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৬ জানুয়ারি সকালে ১৬ বছর বয়সী ইভান হোর্তিগেরা তার ১৪ বছর বয়সী বান্ধবী তামারার বাসায় রাত কাটানোর পর ঘুমিয়ে ছিলেন। সকাল প্রায় ৯টার দিকে তামারার বাবা নরবের্তো নুনিয়েজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে তাদের একসঙ্গে দেখতে পান। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তিনি ইভানকে মারধর শুরু করেন। তদন্তে জানা যায়, মারধরের একপর্যায়ে কিশোরটির চোয়াল ও নাকের হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, পাশের একটি ভবনের এক বাসিন্দা জানালা দিয়ে ঘটনাটির কিছু অংশ প্রত্যক্ষ করেন। তিনি আদালতে জানান, বাসা থেকে কাঁচ ভাঙার শব্দ শোনার পর তিনি দেখতে পান অভিযুক্ত ব্যক্তি কিশোরকে হুমকি দিচ্ছেন। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই কিশোরটি ভবনের ওপর থেকে নিচে পড়ে যায়। ফরেনসিক তদন্তে দেখা যায়, ইভানের হাতে আত্মরক্ষার কোনো চিহ্ন ছিল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনি নিচে পড়ে যাওয়ার আগেই অচেতন ছিলেন। এই তথ্য প্রসিকিউশনের অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করে। অভিযুক্ত নরবের্তো নুনিয়েজ শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, ইভান নিজেই ভবন থেকে লাফ দিয়েছিলেন। তবে তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং ঘটনার আগে দেওয়া হুমকির তথ্য বিশ্লেষণ করে এই দাবি গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে এটি স্পষ্ট যে ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড। ইভানের বোন লুসিয়া হোর্তিগেরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, বহু বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত এখনও তার মনে স্পষ্ট। তিনি বলেন, পরিবারের জন্য এই ক্ষতি কখনও পূরণ হওয়ার নয়। ঘটনাটি আর্জেন্টিনায় সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক বিরোধ বা ব্যক্তিগত ক্ষোভ কখনও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বৈধতা দেয় না। এমন ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ধনী নাগরিক এখন বিদেশে বসবাসের বিকল্প খুঁজছেন। সেই প্রবণতায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে নিউজিল্যান্ডের ‘গোল্ডেন ভিসা’ বা বিনিয়োগভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি। দেশটির সরকার আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু শর্ত সহজ করার পর গত ১৪ মাসে এই কর্মসূচিতে বিদেশিদের আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ মাসে নিউজিল্যান্ডের ‘অ্যাকটিভ ইনভেস্টর প্লাস ভিসা’ কর্মসূচির জন্য ৭০০-এর বেশি ধনী বিদেশি আবেদন করেছেন। এর আগে টানা তিন বছরে মোট আবেদন ছিল মাত্র ১১৫টি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জমা পড়া আবেদনগুলোর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে। এ সময় ২৭৭ জন মার্কিন নাগরিক আবেদন করেছেন, যাদের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। নিউজিল্যান্ডের এই ভিসা কর্মসূচির আওতায় আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেশটিতে বিনিয়োগ করতে হয়। একটি বিকল্পে অন্তত ৫০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার তিন বছরের জন্য স্থানীয় তহবিল, ব্যবসা বা অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করতে হয়। তবে মোট বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ দাতব্য খাতে দেওয়া যায়। আরেকটি বিকল্পে আবেদনকারীদের পাঁচ বছরের জন্য অন্তত ১ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল বিনিয়োগ খাতে, যেমন বন্ডে বিনিয়োগ করতে হয়। এই ক্যাটাগরিতে বর্তমানে ১২৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় অনুমোদন পাওয়া বিদেশি নাগরিকরা অনির্দিষ্টকাল নিউজিল্যান্ডে বসবাস করতে পারেন। পাশাপাশি তারা দেশটিতে বৈধভাবে কাজ করারও সুযোগ পান। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের জনসংখ্যা ৫০ লাখের কিছু বেশি। ধনী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সম্প্রতি কর্মসূচির একাধিক শর্ত শিথিল করেছে নিউজিল্যান্ড সরকার। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভিসাধারীদের বছরে কতদিন দেশটিতে অবস্থান করতে হবে, সেই শর্তও আগের তুলনায় কমানো হয়েছে। ২০২২ সালে চালু হওয়া কর্মসূচিতে ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৫০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার। পরে তা কমিয়ে দুটি পৃথক ক্যাটাগরিতে ৫০ লাখ এবং ১ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলারে নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে বিনিয়োগের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। এখন বন্ড ও নির্দিষ্ট ধরনের সম্পত্তিতেও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ৫০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলারের বিনিয়োগ ক্যাটাগরিতে থাকা ব্যক্তিদের তিন বছরে অন্তত ২১ দিন নিউজিল্যান্ডে অবস্থান করতে হবে। অন্যদিকে ১ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলারের বিনিয়োগ ক্যাটাগরিতে সাধারণভাবে পাঁচ বছরে অন্তত ১০৫ দিন দেশটিতে থাকতে হয়। তবে অতিরিক্ত অর্থ প্রবৃদ্ধিমুখী বিনিয়োগে রাখলে এই সময়সীমা আরও কমানোর সুযোগ রয়েছে। সর্বোচ্চ ছাড় পাওয়ার পরও অন্তত ৬৩ দিন নিউজিল্যান্ডে অবস্থান করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, শর্ত সহজ করা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, উন্নত জীবনমান এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগের কারণে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগভিত্তিক ভিসা কর্মসূচির প্রতি ধনী বিদেশিদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আয়ের অনেক ব্যক্তি বিকল্প আবাসনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির দিকে ঝুঁকছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণ আবারও বেড়েছে এবং তা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট ক্রেডিট কার্ড ঋণ ২১ বিলিয়ন ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে মোট ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণ গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে গড়া ১ দশমিক ২৮ ট্রিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ডের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভোক্তাদের শক্তিশালী ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এই ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ঋণের পরিমাণই বাড়েনি, বরং অনেক পরিবার সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে যেখানে ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া থাকা ক্রেডিট কার্ড ঋণের হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, তা ২০২৬ সালের শুরুতে বেড়ে ১২ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক ফেডের গবেষকেরা সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এখনও বিপুলসংখ্যক পরিবার মাসিক আয়ের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করে। এমন পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে একটি অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপই ঋণ পরিশোধে বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে গবেষকেরা আরও উল্লেখ করেন, বকেয়া ঋণের হার বৃদ্ধির পেছনে মূলত আগের জমে থাকা ঋণ দায়ী। নতুন করে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা ব্যাপক হারে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন, এমন চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। একই সময়ে অন্যান্য ভোক্তা ঋণের চিত্রেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে গাড়ি কেনার ঋণ এবং হোম ইকুইটি লাইন অব ক্রেডিট বেড়েছে। অন্যদিকে শিক্ষাঋণ ও আবাসন ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ আবাসন ঋণ, যার পরিমাণ ১৩ দশমিক ১২ ট্রিলিয়ন ডলার। এছাড়া গাড়ির ঋণ বেড়ে নতুন রেকর্ড ১ দশমিক ৭১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। শিক্ষাঋণের পরিমাণ ১ দশমিক ৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার, ক্রেডিট কার্ড ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং হোম ইকুইটি লাইন অব ক্রেডিটের পরিমাণ ৪৫৯ বিলিয়ন ডলার। নিউইয়র্ক ফেড জানিয়েছে, এই প্রতিবেদনটি ইকুইফ্যাক্সের ক্রেডিট রিপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন পরিবারের পরিচয় গোপন রেখে সংগৃহীত প্রতিনিধিত্বমূলক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ও খেলাপি পরিশোধের হার ভবিষ্যতে ভোক্তাদের ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হারের গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।