আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের দেনা বেড়ে ১.২৬ ট্রিলিয়ন ডলার, সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ২৩:১৩
মূল্যস্ফীতি ও বাড়তি ভোক্তা ব্যয়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড ঋণ আবারও বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মূল্যস্ফীতি ও বাড়তি ভোক্তা ব্যয়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড ঋণ আবারও বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণ আবারও বেড়েছে এবং তা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট ক্রেডিট কার্ড ঋণ ২১ বিলিয়ন ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে।

 

মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে মোট ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণ গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে গড়া ১ দশমিক ২৮ ট্রিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ডের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভোক্তাদের শক্তিশালী ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এই ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ঋণের পরিমাণই বাড়েনি, বরং অনেক পরিবার সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে যেখানে ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া থাকা ক্রেডিট কার্ড ঋণের হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, তা ২০২৬ সালের শুরুতে বেড়ে ১২ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

 

নিউইয়র্ক ফেডের গবেষকেরা সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এখনও বিপুলসংখ্যক পরিবার মাসিক আয়ের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করে। এমন পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে একটি অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপই ঋণ পরিশোধে বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তবে গবেষকেরা আরও উল্লেখ করেন, বকেয়া ঋণের হার বৃদ্ধির পেছনে মূলত আগের জমে থাকা ঋণ দায়ী। নতুন করে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা ব্যাপক হারে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন, এমন চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।

 

একই সময়ে অন্যান্য ভোক্তা ঋণের চিত্রেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে গাড়ি কেনার ঋণ এবং হোম ইকুইটি লাইন অব ক্রেডিট বেড়েছে। অন্যদিকে শিক্ষাঋণ ও আবাসন ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার।

 

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ আবাসন ঋণ, যার পরিমাণ ১৩ দশমিক ১২ ট্রিলিয়ন ডলার। এছাড়া গাড়ির ঋণ বেড়ে নতুন রেকর্ড ১ দশমিক ৭১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। শিক্ষাঋণের পরিমাণ ১ দশমিক ৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার, ক্রেডিট কার্ড ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং হোম ইকুইটি লাইন অব ক্রেডিটের পরিমাণ ৪৫৯ বিলিয়ন ডলার।

 

নিউইয়র্ক ফেড জানিয়েছে, এই প্রতিবেদনটি ইকুইফ্যাক্সের ক্রেডিট রিপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন পরিবারের পরিচয় গোপন রেখে সংগৃহীত প্রতিনিধিত্বমূলক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

 

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ও খেলাপি পরিশোধের হার ভবিষ্যতে ভোক্তাদের ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হারের গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বিনিয়োগভিত্তিক ‘গোল্ডেন ভিসা’ কর্মসূচিতে আবেদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ধনী বিদেশিদের আকৃষ্ট করছে নিউজিল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
দেশ ছাড়ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ধনীরা! ‘গোল্ডেন ভিসা’ নিয়ে কোথায় পাড়ি জমাচ্ছেন তারা?

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ধনী নাগরিক এখন বিদেশে বসবাসের বিকল্প খুঁজছেন। সেই প্রবণতায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে নিউজিল্যান্ডের ‘গোল্ডেন ভিসা’ বা বিনিয়োগভিত্তিক আবাসন কর্মসূচি। দেশটির সরকার আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু শর্ত সহজ করার পর গত ১৪ মাসে এই কর্মসূচিতে বিদেশিদের আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ মাসে নিউজিল্যান্ডের ‘অ্যাকটিভ ইনভেস্টর প্লাস ভিসা’ কর্মসূচির জন্য ৭০০-এর বেশি ধনী বিদেশি আবেদন করেছেন। এর আগে টানা তিন বছরে মোট আবেদন ছিল মাত্র ১১৫টি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জমা পড়া আবেদনগুলোর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে। এ সময় ২৭৭ জন মার্কিন নাগরিক আবেদন করেছেন, যাদের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।   নিউজিল্যান্ডের এই ভিসা কর্মসূচির আওতায় আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেশটিতে বিনিয়োগ করতে হয়। একটি বিকল্পে অন্তত ৫০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার তিন বছরের জন্য স্থানীয় তহবিল, ব্যবসা বা অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করতে হয়। তবে মোট বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ দাতব্য খাতে দেওয়া যায়।   আরেকটি বিকল্পে আবেদনকারীদের পাঁচ বছরের জন্য অন্তত ১ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল বিনিয়োগ খাতে, যেমন বন্ডে বিনিয়োগ করতে হয়। এই ক্যাটাগরিতে বর্তমানে ১২৭টি আবেদন জমা পড়েছে।   এই কর্মসূচির আওতায় অনুমোদন পাওয়া বিদেশি নাগরিকরা অনির্দিষ্টকাল নিউজিল্যান্ডে বসবাস করতে পারেন। পাশাপাশি তারা দেশটিতে বৈধভাবে কাজ করারও সুযোগ পান। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের জনসংখ্যা ৫০ লাখের কিছু বেশি।   ধনী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সম্প্রতি কর্মসূচির একাধিক শর্ত শিথিল করেছে নিউজিল্যান্ড সরকার। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভিসাধারীদের বছরে কতদিন দেশটিতে অবস্থান করতে হবে, সেই শর্তও আগের তুলনায় কমানো হয়েছে।   ২০২২ সালে চালু হওয়া কর্মসূচিতে ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৫০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার। পরে তা কমিয়ে দুটি পৃথক ক্যাটাগরিতে ৫০ লাখ এবং ১ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলারে নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে বিনিয়োগের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। এখন বন্ড ও নির্দিষ্ট ধরনের সম্পত্তিতেও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।   বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ৫০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলারের বিনিয়োগ ক্যাটাগরিতে থাকা ব্যক্তিদের তিন বছরে অন্তত ২১ দিন নিউজিল্যান্ডে অবস্থান করতে হবে।   অন্যদিকে ১ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলারের বিনিয়োগ ক্যাটাগরিতে সাধারণভাবে পাঁচ বছরে অন্তত ১০৫ দিন দেশটিতে থাকতে হয়। তবে অতিরিক্ত অর্থ প্রবৃদ্ধিমুখী বিনিয়োগে রাখলে এই সময়সীমা আরও কমানোর সুযোগ রয়েছে। সর্বোচ্চ ছাড় পাওয়ার পরও অন্তত ৬৩ দিন নিউজিল্যান্ডে অবস্থান করতে হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, শর্ত সহজ করা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, উন্নত জীবনমান এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগের কারণে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগভিত্তিক ভিসা কর্মসূচির প্রতি ধনী বিদেশিদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আয়ের অনেক ব্যক্তি বিকল্প আবাসনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির দিকে ঝুঁকছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ২৩:৩৪
মূল্যস্ফীতি ও বাড়তি ভোক্তা ব্যয়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড ঋণ আবারও বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের দেনা বেড়ে ১.২৬ ট্রিলিয়ন ডলার, সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের জন্য ফ্রিতে ইংরেজি শেখার সুযোগ! সাথে চাকরির প্রশিক্ষণও

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের জন্য ফ্রিতে ইংরেজি শেখার সুযোগ! সাথে চাকরির প্রশিক্ষণও

ডালাসের বিলি আর্ল ডেড মিডল স্কুলের ‘ব্রেকফাস্ট উইথ ড্যাডস’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাবাহীন ছেলেদের পাশে দাঁড়াতে একটি স্কুলে ছুটে এলেন ৬০০ এর বেশি মানুষ

প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট
দুই সন্তানকে কাছে পেতেই পদ ছাড়ছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট

দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর কাজে ফিরেছিলেন মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। কিন্তু হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত ব্যস্ত দায়িত্ব আর দুই ছোট সন্তানের মা হিসেবে নিজের ভূমিকা একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ায় এবার পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। আগস্টের শেষ দিকে তিনি হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব ছাড়বেন বলে বুধবার জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৮ বছর বয়সী লেভিট হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি এই পদে ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবেও দ্রুত উঠে আসেন তিনি।     লেভিট জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি তার জন্য সহজ ছিল না। গত মে মাসে দ্বিতীয় সন্তান কন্যা ভিভিয়ানার জন্মের পর মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে তিনি হোয়াইট হাউসে ফেরেন। কিন্তু কাজে ফেরার পরই পেশাগত দায়িত্ব এবং সন্তানদের প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে লেভিট বলেন, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনে প্রতিনিয়ত বিপুল সময়, শক্তি ও মনোযোগ দিতে হয়। একই সঙ্গে তিনি অনুভব করছেন, দুই ছোট সন্তানকে একজন মা হিসেবে যে সময় ও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, বর্তমান দায়িত্বে থেকে তা পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত এ কারণেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। লেভিট ও তার স্বামী নিকোলাস রিচিওর দুই সন্তান। তাদের ছেলে নিকোর জন্ম ২০২৪ সালে। চলতি বছরের ১ মে জন্ম নেয় মেয়ে ভিভিয়ানা। মেয়ের জন্মের পর কিছুদিন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন লেভিট। পরে জুনে তিনি কাজে ফিরতে শুরু করেন এবং জুলাইয়ে আবার হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিংয়ে নিয়মিত উপস্থিত হন।     রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেভিট এর আগেও পরিবার ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন। কাজে ফেরার পর এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি সকালের অনুষ্ঠানের আগে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে তার স্বামী রাতে নবজাতক মেয়ের দেখাশোনা করেছিলেন। তখন স্বামীর সহযোগিতার প্রশংসাও করেছিলেন তিনি। লেভিটের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প তাকে নিজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব ছাড়লেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক বলয় থেকে সরে যাচ্ছেন না লেভিট। তিনি ট্রাম্পের শীর্ষ বাইরের উপদেষ্টাদের একজন হিসেবে কাজ করবেন এবং রিপাবলিকান পার্টির হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবেন। সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মিডটার্ম নির্বাচনেও তার ভূমিকা থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার আগে লেভিট ট্রাম্পের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসে কাজ করেছিলেন। পরে নিউইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান এলিস স্টেফানিকের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর হন। ২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেস নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।     ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় লেভিটের বয়স ছিল ২৭ বছর। এর মধ্য দিয়ে তিনি হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে এই দায়িত্ব নেওয়ার রেকর্ড গড়েন। প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেওয়া এবং টেলিভিশনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার কারণে তিনি দ্রুত জাতীয়ভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। লেভিট দায়িত্ব ছাড়ার পর কে নতুন প্রেস সেক্রেটারি হবেন, তা এখনো ঘোষণা করেননি ট্রাম্প। ফলে আগস্টের শেষে তার বিদায়ের আগে হোয়াইট হাউস নতুন মুখের নাম ঘোষণা করে কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে। পদ ছাড়লেও লেভিটের রাজনৈতিক অধ্যায় অবশ্য শেষ হচ্ছে না। আপাতত হোয়াইট হাউসের প্রতিদিনের ব্যস্ততা থেকে সরে দুই ছোট সন্তানের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন তিনি। একই সঙ্গে বাইরে থেকে ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে রাজনীতিতেও সক্রিয় থাকবেন।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ২২:৩৫
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের উদ্দেশ্যে ভিসার অপব্যবহার রোধে নতুন টাস্কফোর্স গঠন করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন টাস্কফোর্স, ৬০০টির বেশি ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়ের পর আবদুল এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী পোস্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগান প্রাইমারিতে জয়ের পর সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়িদের বিরুদ্ধে ২০ গুণ বেড়েছে মুসলিমবিদ্বেষী পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করার আগে নিয়মগুলো জেনে নিন। ছবি: সংগৃহীত

ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করবেন কীভাবে? সিটিজেন, নন-সিটিজেন ও রিমোট চাকরিতে যেভাবে আবেদন করবেন

ভুয়া পরিচয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে কানসাসে মামলা। ছবি: সংগৃহীত
ভুয়া পরিচয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) মামলা করেছে মার্কিন সরকার। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন করে গ্রিন কার্ড ও পরে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস জেলার অ্যাটর্নি কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কানসাস অঙ্গরাজ্যের ওলেথ শহরের বাসিন্দা হরিন্দর সিং, যিনি হরিন্দর সিং সাংহেরা ও রুশপাল সিং নামেও পরিচিত, তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। তদন্তে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)।   মার্কিন সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, হরিন্দর সিং বেআইনিভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। তাই আদালতের কাছে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং নাগরিকত্বের সনদ (সার্টিফিকেট অব ন্যাচারালাইজেশন) বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবার অভিবাসন কর্মকর্তাদের নজরে আসেন তিনি। সে সময় তিনি নিজের নাম রুশপাল সিং বলে পরিচয় দেন।   পরে ১৯৯৫ সালের আগস্টে একজন অভিবাসন বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের (ডিপোর্টেশন) নির্দেশ দেন। তবে সরকারি নথিতে এমন কোনো তথ্য নেই, যা থেকে বোঝা যায় তিনি কখনো যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছিলেন। এর এক বছর পর, ১৯৯৬ সালের জুনে তিনি 'হরিন্দর সিং' নামে নতুন পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই আবেদনে তিনি শুধু নামই পরিবর্তন করেননি, নিজের জন্মতারিখ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের তারিখ এবং আবেদন করার ভিত্তিও পরিবর্তন করেছিলেন।   সেই আবেদন অনুমোদনের পর ২০০০ সালের অক্টোবরে তিনি একই পরিচয়ে গ্রিন কার্ড পান। এরপর প্রায় আট বছর পর 'হরিন্দর সিং' পরিচয়েই তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন। তদন্তকারীদের দাবি, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় তিনি আগের পরিচয়, বহিষ্কারের আদেশ এবং পূর্বের অভিবাসন-সংক্রান্ত ইতিহাসের কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।   মার্কিন অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, যদি কেউ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে আদালতের মাধ্যমে সেই নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। সংস্থাটি জনগণকে এ ধরনের প্রতারণার তথ্য থাকলে নির্ধারিত অভিযোগপত্রের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।   মামলাটি বর্তমানে কানসাসের ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ইউএস অ্যাটর্নি'স অফিস, ডিস্ট্রিক্ট অব কানসাস) ও ইউএসসিআইএস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ২১:৫৭
কানসাসে একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

কানসাসে একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু, স্ত্রী ও চার শিশুসন্তানকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা

নিউ জার্সির সমারভিলে বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সিতে বাসা থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তার ফেডারেল চুক্তি ফিরিয়ে দিল টেক্সাসের একটি আইন প্রতিষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তার ১৫ কোটি ডলারের চুক্তি ফিরিয়ে দিল ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ আইন প্রতিষ্ঠান

0 Comments