- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণ আবারও বেড়েছে এবং তা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট ক্রেডিট কার্ড ঋণ ২১ বিলিয়ন ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে মোট ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণ গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে গড়া ১ দশমিক ২৮ ট্রিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ডের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভোক্তাদের শক্তিশালী ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এই ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ঋণের পরিমাণই বাড়েনি, বরং অনেক পরিবার সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে যেখানে ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া থাকা ক্রেডিট কার্ড ঋণের হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, তা ২০২৬ সালের শুরুতে বেড়ে ১২ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক ফেডের গবেষকেরা সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এখনও বিপুলসংখ্যক পরিবার মাসিক আয়ের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করে। এমন পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে একটি অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপই ঋণ পরিশোধে বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে গবেষকেরা আরও উল্লেখ করেন, বকেয়া ঋণের হার বৃদ্ধির পেছনে মূলত আগের জমে থাকা ঋণ দায়ী। নতুন করে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা ব্যাপক হারে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন, এমন চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। একই সময়ে অন্যান্য ভোক্তা ঋণের চিত্রেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে গাড়ি কেনার ঋণ এবং হোম ইকুইটি লাইন অব ক্রেডিট বেড়েছে। অন্যদিকে শিক্ষাঋণ ও আবাসন ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ আবাসন ঋণ, যার পরিমাণ ১৩ দশমিক ১২ ট্রিলিয়ন ডলার। এছাড়া গাড়ির ঋণ বেড়ে নতুন রেকর্ড ১ দশমিক ৭১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। শিক্ষাঋণের পরিমাণ ১ দশমিক ৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার, ক্রেডিট কার্ড ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং হোম ইকুইটি লাইন অব ক্রেডিটের পরিমাণ ৪৫৯ বিলিয়ন ডলার। নিউইয়র্ক ফেড জানিয়েছে, এই প্রতিবেদনটি ইকুইফ্যাক্সের ক্রেডিট রিপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন পরিবারের পরিচয় গোপন রেখে সংগৃহীত প্রতিনিধিত্বমূলক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ও খেলাপি পরিশোধের হার ভবিষ্যতে ভোক্তাদের ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হারের গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।
নিউইয়র্কে নতুন আসা বাংলাদেশিসহ ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়াতে চান এমন অভিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে ইংরেজি শেখার একাধিক সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি, পাবলিক লাইব্রেরি এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনা খরচে ইংরেজি শেখানো হচ্ছে। কিছু কর্মসূচিতে ইংরেজির পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতি ও কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রস অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্স পরিচালিত ‘উই স্পিক এনওয়াইসি’ কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে ইংরেজি শেখার সুযোগ রয়েছে। নতুন অভিবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় ইংরেজিতে দক্ষ করে তোলাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। সরাসরি ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনে অংশ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। এই কর্মসূচির ক্লাসে সাধারণ কথোপকথনের পাশাপাশি নিউইয়র্কে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে ইংরেজি শেখানো হয়। ডাক্তার বা হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ, সন্তানের স্কুলে কথা বলা, কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগ, বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ইংরেজি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির বিভিন্ন শাখাতেও বিনামূল্যে ইংরেজি শেখার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি ক্লাস ও কথোপকথন চর্চার সুযোগ দেওয়া হয়। নতুনদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের ক্লাসের পাশাপাশি কিছু স্থানে অপেক্ষাকৃত ভালো ইংরেজি জানা ব্যক্তিদের জন্যও আলাদা কার্যক্রম রয়েছে। ব্রুকলিন পাবলিক লাইব্রেরির বিভিন্ন শাখায়ও ইংরেজি শেখার ক্লাস ও কথোপকথন চর্চার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব ক্লাসে পড়া, লেখা, শোনা এবং কথা বলার দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিছু ক্লাসে আগে থেকে নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে, আবার নির্দিষ্ট কিছু কর্মসূচিতে সরাসরি উপস্থিত হয়েও অংশ নেওয়া যায়। চাকরির প্রস্তুতির সঙ্গে ইংরেজি শেখার সুযোগ রয়েছে সিটি কলেজ অব নিউইয়র্কেও। কর্মজীবী এবং চাকরি খুঁজছেন এমন অভিবাসীদের জন্য পরিচালিত বিনামূল্যের ইংরেজি কর্মসূচিতে ব্যাকরণ, পড়া, লেখা, শোনা ও কথা বলার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তবে সিটি কলেজের এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য কিছু যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৯ বছর হতে হবে, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা হতে হবে এবং চাকরির জন্য প্রস্তুত বা কর্মসংস্থানের জন্য উপলব্ধ থাকতে হবে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা এই নির্দিষ্ট বিনামূল্যের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না। সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচির আওতাতেও ইংরেজি শেখার সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে প্রাথমিক, মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ের ইংরেজি ক্লাস পরিচালনা করা হয়। ইংরেজির পাশাপাশি কোনো কোনো কেন্দ্রে হাই স্কুল সমমানের পরীক্ষার প্রস্তুতির সুযোগও দেওয়া হয়। কিংসবরো কমিউনিটি কলেজেও ইংরেজি শেখার পাশাপাশি চাকরির উপযোগী দক্ষতা তৈরির কর্মসূচি রয়েছে। ২০২৬ সালের ফল সেমিস্টারে ইংরেজির সঙ্গে খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত প্রশিক্ষণের একটি বিনামূল্যের কর্মসূচির তথ্য প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আগ্রহীরা যোগ্যতা ও আসন সম্পর্কে জানতে ৭১৮-৩৬৮-৪৮৭০ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে কিংসবরো কমিউনিটি কলেজের সব ইংরেজি কোর্স বিনামূল্যে নয়। প্রতিষ্ঠানটির কিছু নিবিড় ইংরেজি শিক্ষা কর্মসূচিতে টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে কোন কর্মসূচি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং কোনটিতে ফি রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমেও যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য ইংরেজি শেখা, সাধারণ শিক্ষা উন্নয়ন পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। পাঁচটি বরোর বিভিন্ন কেন্দ্রে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিছু কেন্দ্রে দিনের পাশাপাশি সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তেও ক্লাসের ব্যবস্থা থাকে, যা কর্মজীবীদের জন্য সুবিধাজনক। নিউইয়র্কে নতুন আসা অনেক বাংলাদেশির জন্য ইংরেজিতে দুর্বলতা চাকরি পাওয়া থেকে শুরু করে ডাক্তার দেখানো, সন্তানের স্কুলে যোগাযোগ, সরকারি অফিসে কাজ করা কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এসব বিনামূল্যের কর্মসূচি তাদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মক্ষেত্র ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের ক্লাসের সময়, আসন, নিবন্ধন পদ্ধতি এবং যোগ্যতার শর্ত এক নয়। কোনো কর্মসূচিতে সরাসরি গিয়ে অংশ নেওয়া গেলেও অন্য কর্মসূচিতে আগে থেকে নিবন্ধন, যোগ্যতা যাচাই বা ইংরেজি দক্ষতা নির্ধারণের পরীক্ষা দিতে হতে পারে। তাই ক্লাসে যোগ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বশেষ সময়সূচি, আসনের অবস্থা এবং ভর্তির শর্ত নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরের বিলি আর্ল ডেড মিডল স্কুলে ২০১৭ সালে আয়োজিত একটি ছোট উদ্যোগ আজও মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ‘ব্রেকফাস্ট উইথ ড্যাডস’ নামে বিশেষ এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের জীবনে বাবা বা পুরুষ অভিভাবকের ইতিবাচক উপস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানত, অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে আসার মতো বাবা, দাদা বা অন্য কোনো পুরুষ অভিভাবক নেই। সে কারণেই স্থানীয় কমিউনিটির কাছে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকদের ধারণা ছিল, অন্তত ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক এগিয়ে এলে যেসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে কেউ থাকবে না, তাদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছিল, তা ছিল প্রত্যাশার অনেক বাইরে। স্কুলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত হন। এত মানুষের অংশগ্রহণে নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে পুরো আয়োজন স্কুলের জিমনেসিয়ামে নিতে হয়। সকালের নাশতার টেবিলে স্বেচ্ছাসেবকেরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উৎসাহ দেন। কেউ কেউ ছেলেদের নেকটাই বাঁধার কৌশলও শেখান। কয়েক ঘণ্টার এই আয়োজনে প্রতিটি শিক্ষার্থী অনুভব করার সুযোগ পায় যে, তারা একা নয়; তাদের পাশে রয়েছে পুরো কমিউনিটি। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই উদ্যোগ তারই একটি উদাহরণ হয়ে আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও কিশোরদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পরিবারের পাশাপাশি সমাজের দায়িত্বশীল মানুষের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিলি আর্ল ডেড মিডল স্কুলের এই আয়োজন পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। অনেকেই এটিকে এমন একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন, যেখানে অর্থ বা বিশেষ কোনো সামর্থ্যের চেয়ে সময় দেওয়া এবং পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাই সবচেয়ে বড় অবদান হয়ে উঠেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা ছিল মাত্র ৫০ জন মানুষ সাড়া দেবেন। কিন্তু প্রায় ৬০০ জনের উপস্থিতি প্রমাণ করে, একটি ছোট উদ্যোগও কখনো কখনো পুরো কমিউনিটিকে একত্র করতে পারে। এই ঘটনাটি এখনও অনেকের কাছে মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শিশুদের প্রতি ভালোবাসার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর কাজে ফিরেছিলেন মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। কিন্তু হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত ব্যস্ত দায়িত্ব আর দুই ছোট সন্তানের মা হিসেবে নিজের ভূমিকা একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ায় এবার পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। আগস্টের শেষ দিকে তিনি হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব ছাড়বেন বলে বুধবার জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৮ বছর বয়সী লেভিট হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি এই পদে ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবেও দ্রুত উঠে আসেন তিনি। লেভিট জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি তার জন্য সহজ ছিল না। গত মে মাসে দ্বিতীয় সন্তান কন্যা ভিভিয়ানার জন্মের পর মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে তিনি হোয়াইট হাউসে ফেরেন। কিন্তু কাজে ফেরার পরই পেশাগত দায়িত্ব এবং সন্তানদের প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে লেভিট বলেন, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনে প্রতিনিয়ত বিপুল সময়, শক্তি ও মনোযোগ দিতে হয়। একই সঙ্গে তিনি অনুভব করছেন, দুই ছোট সন্তানকে একজন মা হিসেবে যে সময় ও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, বর্তমান দায়িত্বে থেকে তা পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত এ কারণেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। লেভিট ও তার স্বামী নিকোলাস রিচিওর দুই সন্তান। তাদের ছেলে নিকোর জন্ম ২০২৪ সালে। চলতি বছরের ১ মে জন্ম নেয় মেয়ে ভিভিয়ানা। মেয়ের জন্মের পর কিছুদিন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন লেভিট। পরে জুনে তিনি কাজে ফিরতে শুরু করেন এবং জুলাইয়ে আবার হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিংয়ে নিয়মিত উপস্থিত হন। রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেভিট এর আগেও পরিবার ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন। কাজে ফেরার পর এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি সকালের অনুষ্ঠানের আগে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে তার স্বামী রাতে নবজাতক মেয়ের দেখাশোনা করেছিলেন। তখন স্বামীর সহযোগিতার প্রশংসাও করেছিলেন তিনি। লেভিটের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প তাকে নিজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব ছাড়লেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক বলয় থেকে সরে যাচ্ছেন না লেভিট। তিনি ট্রাম্পের শীর্ষ বাইরের উপদেষ্টাদের একজন হিসেবে কাজ করবেন এবং রিপাবলিকান পার্টির হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবেন। সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মিডটার্ম নির্বাচনেও তার ভূমিকা থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার আগে লেভিট ট্রাম্পের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসে কাজ করেছিলেন। পরে নিউইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান এলিস স্টেফানিকের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর হন। ২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেস নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় লেভিটের বয়স ছিল ২৭ বছর। এর মধ্য দিয়ে তিনি হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে এই দায়িত্ব নেওয়ার রেকর্ড গড়েন। প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেওয়া এবং টেলিভিশনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার কারণে তিনি দ্রুত জাতীয়ভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। লেভিট দায়িত্ব ছাড়ার পর কে নতুন প্রেস সেক্রেটারি হবেন, তা এখনো ঘোষণা করেননি ট্রাম্প। ফলে আগস্টের শেষে তার বিদায়ের আগে হোয়াইট হাউস নতুন মুখের নাম ঘোষণা করে কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে। পদ ছাড়লেও লেভিটের রাজনৈতিক অধ্যায় অবশ্য শেষ হচ্ছে না। আপাতত হোয়াইট হাউসের প্রতিদিনের ব্যস্ততা থেকে সরে দুই ছোট সন্তানের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন তিনি। একই সঙ্গে বাইরে থেকে ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে রাজনীতিতেও সক্রিয় থাকবেন।
জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন একটি ‘বার্থ ট্যুরিজম প্রিভেনশন টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে পরিচালিত অভিযানে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬০০টির বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পররাষ্ট্র দপ্তর, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এবং অন্যান্য ফেডারেল সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অস্থায়ী ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্বের সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা রোধ করাই এই টাস্কফোর্সের মূল লক্ষ্য। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব কোনো পণ্য নয়, যা অভিবাসন আইনকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে অর্জন করা যাবে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, নতুন টাস্কফোর্স বিশ্বজুড়ে ভিসাধারীদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করছে। কোথাও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসার অপব্যবহারের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা বাতিল, জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের ৬০০টির বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা, কোনো ব্যক্তি ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেলে সাধারণত তার ভিসা বাতিল করা হয়। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্তৃত আইনি ক্ষমতা রয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন সেই ক্ষমতা প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে কেন্দ্র করে একটি লাভজনক ব্যবসা গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের ডুলা, ধাত্রী, মাতৃত্বসেবা পরামর্শক বা স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্যাকেজ, ভিসা পরামর্শ এবং হাসপাতালের ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, এসব নেটওয়ার্কের কেউ কেউ চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি জাল করে, আবার কেউ ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করার কৌশল শেখায়। অনলাইন বিজ্ঞাপনে "স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব" এবং "সীমানাহীন ভবিষ্যৎ"–এর মতো বার্তা ব্যবহার করে গ্রাহক আকৃষ্ট করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে কয়েকটি উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। এক দম্পতি সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও ছুটিতে কেনাকাটার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দুই সন্তানের জন্ম দেন। দুটি পৃথক ভিসা আবেদনে তারা ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করেন এবং দ্বিতীয়বার আগের সন্তানের তথ্যও প্রকাশ করেননি। পরে তাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। আরেক ঘটনায়, একটি বিদেশি সরকারের এক কর্মকর্তা সরকারি সফরের জন্য এক সপ্তাহের ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। কিন্তু তিনি তিন মাস অবস্থান করে সেখানে সন্তান জন্ম দেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তার ভিসাও বাতিল করা হয়। এ ছাড়া আরেক ভ্রমণকারী অরল্যান্ডোতে ছুটি কাটানোর কথা জানিয়ে ভিসা নিলেও পরে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পাঁচ দিনের মাথায় সন্তান জন্ম দেন। তদন্ত শেষে তার ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানায় পররাষ্ট্র দপ্তর। পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন বা ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করেন, তারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বা দেশটিতে প্রবেশের অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। একই সঙ্গে যারা এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা করেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন এই টাস্কফোর্স গঠন সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করছেন অভিবাসনবিষয়ক বিশ্লেষকরা। তবে অভিবাসন অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো বলছে, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেন বৈধ ভ্রমণকারী বা গর্ভবতী নারীরা অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক নির্বাচনে বিজয়ের পর আবদুল এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী বিদ্বেষমূলক প্রচারণা প্রায় ২০ গুণ বেড়েছে বলে এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (CSOH)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫৫টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্টে এল-সায়েদের নাম উল্লেখ করা হলেও ৪ থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে সেই সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৯৯টিতে পৌঁছে। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ ধরনের পোস্টের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৮৯৫ শতাংশ বেড়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে মোট ৩৮ হাজার ২৮০টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ৪ থেকে ১০ আগস্টের সাত দিনেই করা হয়েছে প্রায় ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ পোস্ট। সবচেয়ে বেশি পোস্ট করা হয় ৫ আগস্ট, সেদিন একদিনেই ৬ হাজার ৯২৩টি পোস্ট প্রকাশিত হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ানো ৪ লাখ ৯ হাজার ৬৪০টি পোস্টও পর্যবেক্ষণ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। গ্রীষ্মকালজুড়ে এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৮৩টি এমন পোস্টও করা হয় ৫ আগস্ট। গবেষণা অনুযায়ী, বিদ্বেষমূলক প্রচারণার বড় অংশজুড়ে এল-সায়েদকে ভিত্তিহীনভাবে "ইসলামি জিহাদি" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং তাকে হামাস, হিজবুল্লাহ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে জড়িয়ে নানা দাবি করা হয়েছে। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামী আইন চালু করতে চান, মুসলিম সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক অনুদানকে "সন্ত্রাসে অর্থায়ন" হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তথাকথিত "ইসলামপন্থী ও কমিউনিস্টদের দখলে চলে যাচ্ছে" এমন ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যও ছড়ানো হয়েছে। কিছু পোস্টে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে এল-সায়েদকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। আবার কিছু পোস্টে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে মুসলিমদের ব্যাপকভাবে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, এই প্রচারণার ধরন অনেকটাই নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে গত বছর মুসলিম প্রার্থী জোহরান মামদানির সফল প্রচারণার সময় দেখা ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। কোনো মুসলিম প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে গেলে বা জয়ী হলে একই ধরনের বিদ্বেষমূলক ভাষা ও অভিযোগ বারবার সামনে আসে। আবদুল এল-সায়েদ মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। স্টিভেন্সের পক্ষে প্রভাবশালী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC) ৩ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে। আগামী নভেম্বরে অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের শূন্য আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন এল-সায়েদ। ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই আসনটি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় এল-সায়েদ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার ফর অল), রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো এবং ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব কমাতে চাই, মানুষের পকেটে অর্থ ফেরাতে চাই এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই।" একই সাক্ষাৎকারে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমালোচনাকে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এল-সায়েদকে "র্যাডিক্যাল লেফট সোশ্যালিস্ট", "কমিউনিস্ট" এবং ইহুদি ও ইসরায়েলবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও এক নির্বাচনী বিতর্কে এল-সায়েদ নিজেকে সমাজতন্ত্রী নন উল্লেখ করে বলেন, "আমি সমাজতন্ত্রী নই। আমি এমন একজন পুঁজিবাদী, যিনি পুঁজিবাদ কীভাবে কাজ করে তা বোঝেন।" গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের এক গোলটেবিল বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ব্যঙ্গাত্মকভাবে তাকে "প্রেসিডেন্ট আবদুল এল-সায়েদ" বলে উল্লেখ করেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ডেমোক্রেসি নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এল-সায়েদ বলেন, তিনি প্রথম হওয়ার বিষয়টির চেয়ে নিজের অঙ্গরাজ্যের জন্য একজন কার্যকর সিনেটর হতে চান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি উন্মুক্ত, উদার ও বহুত্ববাদী দেশ, আর সেই মূল্যবোধই তিনি প্রতিনিধিত্ব করতে চান।
ইসরায়েলি কারাগারে প্রায় দুই বছর আটক থাকার পর গাজায় ফিরে সন্তানদের বুকে জড়িয়ে ধরার অপেক্ষায় ছিলেন ফিলিস্তিনি বাবা আহমেদ আবদুল করিম আল সিকালি। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ফিরে সেই পুনর্মিলনের বদলে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ছয়টি মৃত্যু সনদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিবরণ অনুযায়ী, তিনি আটক থাকা অবস্থায় তাদের বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তার ছয় সন্তান নিহত হয়। আহমেদের ঘটনা নিয়ে বুধবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও বিবরণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাকে ছয়টি মৃত্যু সনদ হাতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বড় সংবাদমাধ্যম, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বা স্বাধীন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে ঘটনার সব তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রচারিত বিবরণে বলা হয়েছে, প্রায় দুই বছর ইসরায়েলি কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেয়ে খান ইউনিসে ফেরেন আহমেদ। দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর সন্তানদের সঙ্গে দেখা হবে এমন প্রত্যাশা নিয়েই তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু ফিরে জানতে পারেন, তিনি আটক থাকা অবস্থায় তাদের বাড়িতে বিমান হামলা হয়েছিল। ওই হামলায় তার ছয় সন্তান নিহত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে। একই হামলায় তার স্ত্রী আহত হলেও বেঁচে যান বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিহত শিশুদের নাম, বয়স, হামলার সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং আহমেদকে কখন ও কী অভিযোগে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রচারিত তথ্যের একটি অংশে আবার অসঙ্গতিও রয়েছে। কয়েকটি পোস্টে বলা হয়েছে, আহমেদের স্ত্রী ও তার এক মেয়ে ওই হামলা থেকে বেঁচে গেছেন। একই সঙ্গে এসব পোস্টেই তার ‘ছয় সন্তান’ নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে জীবিত মেয়েটি ছয় সন্তানের বাইরে আরেক সন্তান কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ কারণে নিহত সন্তানের সংখ্যা ও পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে আরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর খান ইউনিস বারবার ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় বহু পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজা থেকে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে আটক করে ইসরায়েলে নেওয়ার ঘটনাও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আহমেদ আবদুল করিম আল সিকালির ঘটনাটি সত্য হলে, দীর্ঘ সময় আটক থাকার পর ঘরে ফিরে পরিবারের সদস্যদের হারানোর খবর পাওয়ার আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে এটি গাজার যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে। তবে তার পরিবারের বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া সব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির অনিশ্চিত তথ্যগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রকাশ না করাই সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরি খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের জন্য চাকরি খোঁজা ও আবেদন করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্ল্যাটফর্ম হলো USAJOBS। তবে বেসরকারি চাকরির মতো শুধু রিজিউমে পাঠালেই ফেডারেল চাকরির আবেদন শেষ হয় না। আবেদন করার আগে নাগরিকত্বের শর্ত, কে আবেদন করতে পারবেন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, কাজের স্থান, রিমোট নাকি অফিসভিত্তিক কাজ এবং কী কী কাগজপত্র লাগবে, সেসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করতে হয়। বিশেষ করে নাগরিক ও গ্রীনকার্ডধারীদের জন্য ফেডারেল চাকরির নিয়ম এক নয়। আবার পুরোপুরি রিমোট চাকরি এবং টেলিওয়ার্কও একই বিষয় নয়। তাই কোনো চাকরি দেখে সরাসরি আবেদন না করে প্রথমে পুরো চাকরির বিজ্ঞপ্তি পড়া জরুরি। কোথা থেকে ফেডারেল চাকরি খুঁজবেন: ফেডারেল সরকারের চাকরির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিভিন্ন সরকারি এজেন্সির চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে পদের নাম, পেশা, লোকেশন, বেতন, কাজের সময়সূচি এবং অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী চাকরি খোঁজা যায়। প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এর জন্য সরকারের লগইন ডট গভ (login.gov) ব্যবস্থার মাধ্যমে একাউন্ট ওপেন করে নিজের প্রোফাইল তৈরি করতে হয়। প্রোফাইল তৈরি করার পর চাকরি সংরক্ষণ, রিজিউমে রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী নতুন চাকরির খবর পাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। চাকরি খোঁজার সময় শুধু সাধারণভাবে ফেডারেল চাকরি লিখে সার্চ না করে নিজের পেশা ও দক্ষতার সঙ্গে মিল রেখে নির্দিষ্ট পদের নাম ব্যবহার করা বেশি কার্যকর। যেমন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স, অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্স, ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবারসিকিউরিটি, প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট, মানবসম্পদ, কন্ট্রাক্ট স্পেশালিস্ট বা প্রশাসনিক পদ। ফেডারেল চাকরির নির্দিষ্ট পেশাগত সিরিজ ব্যবহার করেও চাকরি খোঁজা যায়। পাশাপাশি লোকেশন অনুযায়ী সার্চ করা সম্ভব। আটলান্টা, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ওয়াশিংটন ডিসি, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন জায়গার চাকরি আলাদা করে খুঁজে দেখা যায়। রিমোট ফেডারেল চাকরি কীভাবে খুঁজবেন: যারা বাসা থেকে কাজ করতে চান, তাদের জন্য ফেডারেল সরকারের কিছু চাকরি পুরোপুরি রিমোট হিসেবে দেওয়া হয়। চাকরি খোঁজার সময় রিমোট কাজের ফিল্টার ব্যবহার করে এসব পদ আলাদা করা যায়। তবে রিমোট চাকরি এবং টেলিওয়ার্ক এক বিষয় নয়। রিমোট চাকরিতে সাধারণত নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন থাকে না। অন্যদিকে টেলিওয়ার্কের ক্ষেত্রে কর্মীকে নির্দিষ্ট সময় বা পরিস্থিতিতে অফিসে যেতে হতে পারে। তাই কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে টেলিওয়ার্কের সুযোগ রয়েছে লেখা থাকলেই সেটিকে পুরোপুরি রিমোট চাকরি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবার রিমোট লেখা থাকলেও আমেরিকার যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করা যাবে কি না, সেটি বিজ্ঞপ্তির লোকেশন ও অন্যান্য শর্ত দেখে নিশ্চিত হতে হবে। কিছু রিমোট চাকরিতে নির্দিষ্ট স্টেটের জন্য বা টাইম জোনের শর্ত থাকতে পারে। সিটিজেনরা কোন ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ফেডারেল চাকরির সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে নাগরিক হলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে না। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে “This job is open to” অংশটি প্রথমে দেখতে হবে। সেখানে বলা থাকে চাকরিটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত কি না, নাকি শুধু বর্তমান ফেডারেল কর্মী, ভেটেরান, মিলিটারি স্পাউস, শিক্ষার্থী, সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েট বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য খোলা। যদি সেখানে “Open to the public” লেখা থাকে, তাহলে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা আবেদন করতে পারেন। তবে এরপরও ওই পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। যোগ্যতা এবং আবেদন করার অধিকার এক বিষয় নয়: ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে একজন চাকরিপ্রার্থীর যোগ্যতা এবং তিনি ওই চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন কি না, দুটি আলাদা বিষয়। আপনার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা থাকলেও আপনি যদি ওই চাকরির জন্য নির্ধারিত আবেদনকারীর শ্রেণির মধ্যে না পড়েন, তাহলে নিয়োগকারী এজেন্সি আপনার আবেদন পর্যালোচনা নাও করতে পারে। তাই প্রথমে দেখতে হবে কারা আবেদন করতে পারবেন সেই তালিকায় আছেন কি না। এরপর দেখতে হবে আপনার শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং নির্দিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা চাকরিটির প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে মেলে কি না। গ্রিন কার্ডধারী বা নন-সিটিজেনরা কি আবেদন করতে পারবেন: বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের চাকরিতে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হয়। তবে এর কিছু সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে। কিছু পরিস্থিতিতে কোনো ফেডারেল এজেন্সি নন-সিটিজেনকে নির্দিষ্ট ধরনের সরকারি পদে নিয়োগ দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, অর্থ বরাদ্দের বিধান এবং এজেন্সির নিজস্ব নীতিমালা প্রযোজ্য হয়। কিছু পরিস্থিতিতে যোগ্য মার্কিন নাগরিক না পাওয়া গেলে বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে নন-সিটিজেন নিয়োগের সুযোগও থাকতে পারে। অর্থাৎ গ্রিন কার্ড আছে বলেই সব ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন নয়। আবার নন-সিটিজেনদের জন্য কোনো ফেডারেল চাকরির সুযোগই নেই, সেটিও সঠিক নয়। কোনো নির্দিষ্ট চাকরিতে নন-সিটিজেন আবেদন করতে পারবেন কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তির “This job is open to” এবং যোগ্যতার অংশ দেখতে হবে। সন্দেহ থাকলে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া সংশ্লিষ্ট এজেন্সির যোগাযোগের ইমেল এ মেইল দিতে পারেন। রিজিউমে তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম: ফেডারেল চাকরির জন্য রিজিউমে তৈরির ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরির জন্য রিজিউমে দুই পৃষ্ঠার বেশি হওয়া যাবে না। ওয়েবসাইটের রিজিউমে তৈরির ব্যবস্থাতেও দুই পৃষ্ঠার বেশি রিজিউমে সংরক্ষণ করা যায় না। তবে শুধু দুই পৃষ্ঠার রিজিউমে বানালেই হবে না। যে চাকরিতে আবেদন করছেন, সেই চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সঙ্গে মিল রেখে রিজিউমে তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন কোনো পদে নির্দিষ্ট সফটওয়্যার, প্রোগ্রামিং ভাষা, ডেটাবেস, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট বা অন্য কোনো বিশেষ দক্ষতা চাওয়া হলে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে সেগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে। প্রতিটি চাকরির জন্য একই রিজিউমে ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা সামনে আনা বেশি কার্যকর। ফেডারেল নিয়োগকারী এজেন্সি রিজিউমের তথ্যের ভিত্তিতেই প্রার্থীর যোগ্যতা মূল্যায়ন করে। চাকরির বিজ্ঞপ্তি পুরোটা পড়ুন: ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করার আগে শুধু পদের নাম ও বেতন দেখলেই হবে না। পুরো চাকরির বিজ্ঞপ্তি পড়তে হবে। প্রথমে দেখতে হবে চাকরিটি কার জন্য উন্মুক্ত। এরপর দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিশেষ ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্ত দেখতে হবে। এরপর কাজের স্থান এবং কাজের ধরন দেখতে হবে। চাকরিটি অফিসে গিয়ে করতে হবে, নাকি রিমোট, নাকি টেলিওয়ার্কের সুযোগ রয়েছে, সেটি বিজ্ঞপ্তিতেই পরিষ্কার করা থাকে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকাও দেখতে হবে। কোনো চাকরিতে রিজিউমের পাশাপাশি শিক্ষাগত সনদ, ট্রান্সক্রিপ্ট, পেশাগত লাইসেন্স বা অন্য কোনো নথি প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের অনেকেই তথ্যপ্রযুক্তি, হেলথ কেয়ার, ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইবারসিকিউরিটি, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। তাদের জন্য ফেডারেল চাকরি খোঁজার সময় নিজের বর্তমান পেশা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল রেখে নির্দিষ্ট পদের নাম ব্যবহার করা কার্যকর হতে পারে। তবে শুধু নিজের পেশার সঙ্গে মিলে গেলেই আবেদন করা উচিত নয়। প্রথমে নাগরিকত্বের শর্ত ও কারা আবেদন করতে পারবেন তা দেখতে হবে। এরপর অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। তারপর কাজের স্থান, রিমোট বা অফিসভিত্তিক কাজ, বেতন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে হবে। আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, কোনো ব্যক্তি ফেডারেল সরকারের কোনো এজেন্সির জন্য প্রাইভেট কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করলেও তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেডারেল সরকারের সরাসরি কর্মী হয়ে যান না। কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করা এবং সরাসরি ফেডারেল কর্মী হওয়া আলাদা বিষয়। ফেডারেল চাকরির ধরনও এক নয়। সরকারের চাকরি মূলত প্রতিযোগিতামূলক সার্ভিস, ব্যতিক্রমী সার্ভিস এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিসসহ বিভিন্ন ব্যবস্থার অধীনে হতে পারে। প্রতিটি ব্যবস্থায় নিয়োগের নিয়ম আলাদা হতে পারে। সবশেষে, ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক চাকরি খুঁজে বের করা এবং বিজ্ঞপ্তির প্রতিটি শর্ত মেনে আবেদন সম্পূর্ণ করা। নাগরিকদের জন্য সুযোগ তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত হলেও সব চাকরি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। নন-সিটিজেনদের ক্ষেত্রে সুযোগ আরও সীমিত এবং চাকরিভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে। আর যারা বাসা থেকে কাজ করতে চান, তাদের জন্য রিমোট চাকরি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে রিমোট এবং টেলিওয়ার্কের পার্থক্য বুঝে আবেদন করা জরুরি। তাই ফেডারেল চাকরি খোঁজার সময় প্রথমে নিজের পেশা অনুযায়ী চাকরি খুঁজুন। এরপর কারা আবেদন করতে পারবেন তা যাচাই করুন। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত পড়ুন। কাজের স্থান ও কাজের ধরন দেখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী রিজিউমে তৈরি করুন এবং “How to Apply” অংশের নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন সম্পূর্ণ করুন। সঠিক চাকরি বেছে নিয়ে বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত মেনে আবেদন করাই ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে সফলভাবে আবেদন করার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) মামলা করেছে মার্কিন সরকার। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন করে গ্রিন কার্ড ও পরে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস জেলার অ্যাটর্নি কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কানসাস অঙ্গরাজ্যের ওলেথ শহরের বাসিন্দা হরিন্দর সিং, যিনি হরিন্দর সিং সাংহেরা ও রুশপাল সিং নামেও পরিচিত, তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। তদন্তে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। মার্কিন সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, হরিন্দর সিং বেআইনিভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। তাই আদালতের কাছে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং নাগরিকত্বের সনদ (সার্টিফিকেট অব ন্যাচারালাইজেশন) বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবার অভিবাসন কর্মকর্তাদের নজরে আসেন তিনি। সে সময় তিনি নিজের নাম রুশপাল সিং বলে পরিচয় দেন। পরে ১৯৯৫ সালের আগস্টে একজন অভিবাসন বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের (ডিপোর্টেশন) নির্দেশ দেন। তবে সরকারি নথিতে এমন কোনো তথ্য নেই, যা থেকে বোঝা যায় তিনি কখনো যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছিলেন। এর এক বছর পর, ১৯৯৬ সালের জুনে তিনি 'হরিন্দর সিং' নামে নতুন পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই আবেদনে তিনি শুধু নামই পরিবর্তন করেননি, নিজের জন্মতারিখ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের তারিখ এবং আবেদন করার ভিত্তিও পরিবর্তন করেছিলেন। সেই আবেদন অনুমোদনের পর ২০০০ সালের অক্টোবরে তিনি একই পরিচয়ে গ্রিন কার্ড পান। এরপর প্রায় আট বছর পর 'হরিন্দর সিং' পরিচয়েই তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন। তদন্তকারীদের দাবি, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় তিনি আগের পরিচয়, বহিষ্কারের আদেশ এবং পূর্বের অভিবাসন-সংক্রান্ত ইতিহাসের কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। মার্কিন অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, যদি কেউ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে আদালতের মাধ্যমে সেই নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। সংস্থাটি জনগণকে এ ধরনের প্রতারণার তথ্য থাকলে নির্ধারিত অভিযোগপত্রের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে কানসাসের ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ইউএস অ্যাটর্নি'স অফিস, ডিস্ট্রিক্ট অব কানসাস) ও ইউএসসিআইএস
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে মর্মান্তিক এক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে চার শিশু ও তাদের মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যার পর বাবা নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (কেবিআই) এবং উইনফিল্ড পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ৫৩ বছর বয়সী রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়র নিজেই পুলিশে ফোন করেন। তিনি জানান, পরিবারের সবাইকে হত্যা করেছেন এবং এরপর নিজের জীবনও শেষ করতে যাচ্ছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বাড়ির ভেতর থেকে একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনায় কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে সরে গিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলেন এবং বিশেষায়িত সোয়াট (SWAT) দলের সহায়তা চান। সকাল প্রায় ১১টার দিকে সোয়াট সদস্যরা বাড়িতে প্রবেশ করে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী কেলি জর্জ এবং তার চার সন্তান। তাদের পরিচয় হলো ৯ বছর বয়সী ক্যারল উইলিয়ামস, ৭ বছর বয়সী রোনাল্ড উইলিয়ামস জুনিয়র, ৫ বছর বয়সী সারাহ উইলিয়ামস এবং ৩ বছর বয়সী কেলি ম্যাগি-উইলিয়ামস। এছাড়া রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়রের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। উইনফিল্ড পুলিশের প্রধান রবি ডিলং সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে রোনাল্ড উইলিয়ামসের অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক আচরণ সম্পর্কে একাধিক অভিযোগ পেয়েছিল পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে মানুষকে ধমক দেওয়া বা চিৎকার করার মতো ঘটনার তথ্যও তাদের কাছে ছিল। তিনি আরও জানান, এর আগে ওই এলাকার আশপাশে গুলির শব্দ শোনার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও গুলির উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ডিলং বলেন, আগের অভিযোগগুলো এমন পর্যায়ের ছিল না, যাতে এত বড় একটি ট্র্যাজেডির আশঙ্কা করা যায়। তার ভাষায়, "২০ বছরের বেশি সময়ের চাকরি জীবনে এর কাছাকাছিও কোনো ঘটনার মুখোমুখি হইনি।" কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানিয়েছে, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা প্রতিবেশী, স্বজন ও পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়র পূর্বে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। কানসাসের আদালতের নথিতে দেখা যায়, ১৯৯৯ সালে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে কেন্দ্র করে শিশু নির্যাতনের চেষ্টাসহ একাধিক অপরাধে তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। এ কারণে তার নাম রাজ্যের যৌন অপরাধীর নিবন্ধন তালিকাতেও ছিল। এই ঘটনা ঘটল মাত্র দুই সপ্তাহ আগে মিশিগানে আরেকটি ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের পর। সে ঘটনায় এক ব্যক্তি তার স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে গুলি করে হত্যা করার পর আগুন লাগিয়ে দেন বলে তদন্তে উঠে আসে। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, কানসাসের এই ঘটনাসহ চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৫টি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ৯টি ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। অপরাধবিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ঘটনাকে 'ফ্যামিলি অ্যানাইহিলেশন' বা পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের সমারভিল শহরে নিজ বাসা থেকে ৪৬ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ার পর ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত নারীর নাম অ্যালিন এসপিনাল (৪৬)। তিনি সমারভিলের ব্রুকসাইড অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসায় বসবাস করতেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কিছু আগে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ একটি ফোন আসে। ফোনে ওই বাসায় বসবাসকারী এক নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার ভেতরে অ্যালিন এসপিনালকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার বুক, গলা ও উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের স্বামী ইগনাসিও এসপিনালকে (৫৫) সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার নিউ জার্সির ওয়েস্ট নিউ ইয়র্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা, বেআইনি উদ্দেশ্যে অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তকারীরা সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন, বিভিন্ন আলামত ও ইলেকট্রনিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং ফরেনসিক পরীক্ষা চালিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য বা কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। নিউ জার্সির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় যৌথভাবে ঘটনাটির তদন্ত করছে। সূত্র: ফক্স নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে বাবা-মা বা অভিভাবক ছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে আসা অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য ১৫ কোটি ডলারের একটি ফেডারেল চুক্তির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আইন প্রতিষ্ঠান। ফলে হাজারো অভিবাসী শিশুর ভবিষ্যৎ আইনি প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, টেক্সাসের হিউস্টনভিত্তিক বার্ক ল' গ্রুপকে এই চুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিষ্ঠানটির অভিবাসন আইন নিয়ে অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত হলেও গত সপ্তাহে তাদের কাছে প্রায় ১৫ কোটি ডলারের চুক্তির প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীন শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তর (অফিস অব রিফিউজি রিসেটেলমেন্ট) জানায়, বার্ক ল' গ্রুপ চুক্তির জন্য আবেদন করতেই রাজি হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে কোনো অনুদান বা চুক্তিও দেওয়া হয়নি। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বার্ক ল' গ্রুপ সামাজিক মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে জানায়, তারা চুক্তির একটি "ছোট অংশ" নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কেন তারা সরে দাঁড়িয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। বার্ক ল' গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মার্সেলা বার্ক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনে পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আরও কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা ও রক্ষণশীল আইন বিশেষজ্ঞ যুক্ত রয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান জোরদার করছে। একই সঙ্গে জুলাইয়ের শেষ দিকে অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা দেওয়া প্রায় ১০০টি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। নতুন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় শিশুদের আইনি সহায়তা ব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বর্তমানে একটি অস্থায়ী সংস্থা সীমিত সময়ের জন্য এসব শিশুর পক্ষে আদালতে আইনি প্রতিনিধিত্ব করছে। তবে তাদের চুক্তির মেয়াদও চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর কী হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বাবা-মা ছাড়া দেশে প্রবেশ করা শিশুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে। ২০০৮ সালের 'ট্র্যাফিকিং ভিকটিমস প্রোটেকশন রিঅথরাইজেশন অ্যাক্ট' অনুযায়ী, বহিষ্কার-সংক্রান্ত মামলায় এসব শিশুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আইনি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করতে হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিশু ফেডারেল আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ২২ হাজার শিশু, যারা বহিষ্কারের ঝুঁকিতে রয়েছে, তারা আত্মীয়স্বজন বা অন্যান্য স্পনসরের কাছে অবস্থান করছে এবং তাদেরও আইনি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। বার্ক ল' গ্রুপে ৩০ জনেরও কম আইনজীবী রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তাদের মধ্যে মাত্র দুজনের অভিবাসন আইন বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে এত বড় দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। এদিকে বছরের শেষ পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে ২ কোটি ডলারের একটি চুক্তি পেয়েছে 'ইউএস কমিটি ফর রিফিউজিস অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্টস' (ইউএসসিআরআই)। তবে গত সপ্তাহে এই সংস্থার আইনজীবীরা অনেক ক্ষেত্রে যেসব শিশুর সঙ্গে এখনো দেখা করেননি, তাদের প্রতিনিধিত্বের দাবি নিয়ে আদালতে হাজির হলে বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অন্যদিকে, যেসব আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, তারা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, গত বছর থেকে কয়েক মাসের বিল সরকার পরিশোধ করেনি। গত ৬ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত সরকারকে বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেয়। আকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের যোগাযোগ পরিচালক বিলাল আসকারইয়ার জানিয়েছেন, সরকার ইতোমধ্যে বকেয়া নয় মাসের মধ্যে ছয় মাসের অর্থ পরিশোধ শুরু করেছে এবং বাকি অর্থও পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে। আইনজীবীদের দাবি, একটি শিশু যাকে দীর্ঘদিন ধরে একজন আইনজীবী প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাকে হঠাৎ করে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা নৈতিক ও বাস্তবিক উভয় দিক থেকেই জটিল। তাই স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত হাজারো অভিবাসী শিশুর আইনি সুরক্ষা অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচি 'টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস' (টিপিএস) ১৩টি দেশের জন্য বাতিল বা বাতিলের প্রক্রিয়ায় নেওয়ায় প্রায় ১০ লাখ ৪৫ হাজার অভিবাসী সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। এর ফলে বহু মানুষ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ টিপিএস সুবিধার আওতায় ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তাদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের এই সুরক্ষা শেষ হয়ে যাচ্ছে বা শেষ হওয়ার পথে। টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানবিক কর্মসূচি, যা ১৯৯০ সালের অভিবাসন আইনের মাধ্যমে চালু হয়। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো গুরুতর সংকটে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়া সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার এবং কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই অনুমোদনের মেয়াদ সাধারণত ৬ থেকে ১৮ মাস হলেও অতীতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নবায়ন করা হয়েছে। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার সময় ১৭টি দেশের জন্য টিপিএস কার্যকর ছিল। এরপর প্রশাসন ১৩টি দেশের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বাতিল বা বাতিলের উদ্যোগ নেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ভেনেজুয়েলা, হাইতি এবং হন্ডুরাসের নাগরিকরা। বর্তমানে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, হাইতি, হন্ডুরাস, মিয়ানমার, নেপাল, নিকারাগুয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেনের টিপিএস বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার ক্ষেত্রেও টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা আদালতের নির্দেশে আপাতত স্থগিত রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, টিপিএস হারানোদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ভেনেজুয়েলার নাগরিক। দুই দফায় দেওয়া টিপিএস সুবিধার আওতায় থাকা ৬ লাখ ১৫ হাজারের বেশি ভেনেজুয়েলান এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হয়েছেন। দ্বিতীয় বৃহত্তম গোষ্ঠী হাইতির নাগরিক, যাদের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার। এদিকে ২০২৬ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার টিপিএস বাতিলের অনুমতি দেয়। ওই রায়ের পর প্রশাসনের জন্য অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশের জন্য টিপিএস বাতিল করা হয়েছে, সেসব দেশে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং সেখানে নাগরিকদের ফিরে যাওয়া সম্ভব। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, টিপিএস কখনোই স্থায়ী অভিবাসন কর্মসূচি নয়; এটি সাময়িক মানবিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই চালু করা হয়েছিল। তবে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। তাদের দাবি, হাইতি, ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন, সিরিয়াসহ অনেক দেশে এখনো রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিপিএস বাতিল করলে হাজারো মানুষ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়বেন। কিছু সংগঠন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক বলেও অভিযোগ করেছে। অনেক টিপিএসধারী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। উদাহরণ হিসেবে হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ার নাগরিকদের অনেকে ১৯৯৮ সালে হারিকেন মিচের পর যুক্তরাষ্ট্রে এসে টিপিএস পান। তারা প্রায় তিন দশক ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন। বর্তমানে চারটি দেশের নাগরিকদের জন্য টিপিএস এখনো কার্যকর রয়েছে। এগুলো হলো এল সালভাদর, ইউক্রেন, লেবানন ও সুদান। এসব দেশের প্রায় ২ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ এখনো এই সুবিধা পাচ্ছেন। তবে এসব সুবিধার মেয়াদও ২০২৬ সালের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। ট্রাম্প প্রশাসন এগুলো আবার নবায়ন করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এদিকে টিপিএস হারানো অনেক অভিবাসী এখন বিকল্প আইনি পথ খুঁজছেন। কেউ আশ্রয়ের আবেদন করছেন, কেউ স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করছেন। একই সঙ্গে প্রশাসন কিছু অভিবাসীকে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগে উৎসাহিত করছে এবং অনেকের কর্মসংস্থানের অনুমতিও বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের জুনের এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। বিপরীতে ৩৯ শতাংশ এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট ছিল। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের বড় অংশ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও রিপাবলিকান সমর্থকদের অধিকাংশ তা সমর্থন করেছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যতগুলো দেশের টিপিএস বাতিল করা হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের তুলনায় বেশি। ফলে দেশটির অভিবাসন নীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ম্যানহাটনের এলিজাবেথ স্ট্রিট গার্ডেনের জায়গায় আবাসন নির্মাণ করা এখন তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এর জন্য তিনি সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন। মামদানি নির্বাচনী প্রচারের সময় ওই বাগান সরিয়ে সেখানে ১২৩টি সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট, বিশেষ করে প্রবীণদের জন্য, নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অ্যাডামসের প্রশাসন ২০২৫ সালে জায়গাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নগর পার্ক হিসেবে ঘোষণা করায় সেখানে নির্মাণের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এখন ওই জমিতে আবাসন নির্মাণ করতে হলে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার অনুমোদন প্রয়োজন। এদিকে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে নতুন একটি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় এলিজাবেথ স্ট্রিট গার্ডেনের পরিবর্তে লোয়ার ম্যানহাটনের ২২ সাফোক স্ট্রিটে ১৮০টি সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অ্যাডামসের প্রশাসন এর আগে বাগানটি সংরক্ষণ করে আশপাশের কয়েকটি স্থানে মোট ৬০০টি সাশ্রয়ী আবাসন তৈরির পরিকল্পনা করেছিল। মামদানি তখনও গার্ডেনের জায়গায় আবাসন নির্মাণের পক্ষে ছিলেন। এখন নতুন সমঝোতার মাধ্যমে বাগানটি রক্ষা করার পাশাপাশি বিকল্প জায়গায় আবাসন নির্মাণের চেষ্টা চলছে। তবে মামদানির সমালোচকেরা বলছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ার দায় শুধু পূর্ববর্তী প্রশাসনের ওপর চাপানো উচিত নয়।
কর্মীর কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে করানো সম্ভব হচ্ছে—শুধু এই কারণ দেখিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন চীনের একটি আদালত। হাংজু ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্টের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাড়তে থাকা এআই ব্যবহারের মধ্যে কর্মীদের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করেছে। মামলাটি একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ঝৌকে ঘিরে। তিনি এআই-সংশ্লিষ্ট কনটেন্টের মান যাচাইয়ের দায়িত্বে ছিলেন। বড় ভাষা মডেল ব্যবহারের মাধ্যমে তার কাজের বড় অংশ স্বয়ংক্রিয় করার পর প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে তাকে অপেক্ষাকৃত নিচু পদে বদলি এবং মাসিক বেতন ২৫ হাজার ইউয়ান থেকে কমিয়ে ১৫ হাজার ইউয়ান করার প্রস্তাব দেয়। অর্থাৎ তার বেতন প্রায় ৪০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা ছিল। ঝৌ নতুন পদ ও কম বেতন মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিষ্ঠানটি তার চাকরির চুক্তি বাতিল করে। কোম্পানির যুক্তি ছিল, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও এআই ব্যবহারের কারণে জনবলের প্রয়োজন কমেছে এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। চীনের শ্রম আইনে কর্মসংস্থান চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ‘বস্তুনিষ্ঠ পরিস্থিতির বড় ধরনের পরিবর্তন’ ঘটতে হয়। আদালতের মতে, প্রতিযোগিতামূলক থাকতে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করলে সেটিকে এমন অনিবার্য পরিবর্তন হিসেবে দেখানো যাবে না। আদালত আরও বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের পুরো ঝুঁকি একজন কর্মীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এআই ব্যবহারের কারণে কোনো কাজের ধরন বদলে গেলে প্রতিষ্ঠানকে পুনঃপ্রশিক্ষণ, যুক্তিসংগতভাবে অন্য দায়িত্বে স্থানান্তর বা আইনসম্মত বিকল্প সমাধানের সুযোগ বিবেচনা করতে হবে। শুধু সফটওয়্যার দিয়ে একজন কর্মীর কাজ করা সম্ভব হচ্ছে—এই যুক্তি একাই তাকে ছাঁটাইয়ের বৈধ ভিত্তি হতে পারে না। মামলায় ঝৌয়ের পক্ষে রায় দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ ৬০ হাজার ইউয়ানের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই রায়ের অর্থ চীনা কোম্পানিগুলো আর এআই ব্যবহার করতে পারবে না বা কোনো কর্মীকেই ছাঁটাই করতে পারবে না—এমন নয়। আদালত মূলত স্পষ্ট করেছেন, এআই গ্রহণকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বিদ্যমান শ্রম আইন পাশ কাটানো যাবে না। বৈধ ব্যবসায়িক পুনর্গঠন বা শ্রম আইনের অন্য শর্ত পূরণ হলে কর্মী ছাঁটাইয়ের সুযোগ থেকেই যাবে। চীনে এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গুয়াংজুতে একজন গ্রাফিক ডিজাইনারকে এআই দিয়ে প্রতিস্থাপনের পর চাকরিচ্যুত করার আরেক মামলায় আদালত একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল, এআই ব্যবহার কোম্পানির নিজস্ব ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত; সেটি নিজে থেকেই কর্মচুক্তি বাতিলের বৈধ কারণ হয়ে যায় না। চীনের এসব রায় এমন সময়ে আসছে, যখন জেনারেটিভ এআইয়ের কারণে সফটওয়্যার, গ্রাহকসেবা, ডিজাইন, প্রশাসন ও তথ্য বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন খাতে মানুষের কাজ দ্রুত স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা প্রতিষ্ঠান পাবে, কিন্তু তার কারণে চাকরি হারানোর পুরো ঝুঁকি কি শুধু কর্মীকেই বহন করতে হবে? হাংজুর আদালত সেই প্রশ্নে একটি স্পষ্ট সীমারেখা টেনেছেন। প্রতিষ্ঠান এআই গ্রহণ করতে পারবে, কাজের ধরনও বদলাতে পারবে; কিন্তু শুধু ‘এআই এখন এই কাজ করতে পারে’—এই যুক্তিতে একজন কর্মীর মৌলিক শ্রম অধিকার বাতিল করা যাবে না।
শৈশবে আলাদা হয়ে যাওয়া দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী কিশোরী বয়সে একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন। চেহারার অদ্ভুত মিল দেখে আশপাশের মানুষ অবাক হলেও তারা কেউই জানতেন না, আসলে তারা আপন দুই বোন। প্রায় তিন দশক পর একটি ডিএনএ পরীক্ষায় সেই সত্য সামনে আসে। দুই নারীর নাম মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল টিজসেন। দুজনেরই জন্ম ভারতে। শিশুকালে তাদের আলাদা এতিমখানায় রাখা হয় এবং পরে নেদারল্যান্ডসের দুটি ভিন্ন পরিবার তাদের দত্তক নেয়। ফলে একই দেশে বড় হলেও নিজেদের রক্তের সম্পর্ক সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না তাদের। ১৯৯৬ সালে দত্তক নেওয়া শিশুদের একটি অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। তখন তারা দুজনই কিশোরী। পরিচয়ের পর দ্রুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। চেহারার মিলও নজর এড়ায়নি বন্ধুদের। ঠিকানা বিনিময় করে চিঠি চালাচালিও শুরু করেন তারা। এমনকি মজা করে একে অপরকে ‘বোন’ বলেও সম্বোধন করতেন। কিন্তু সেই সময় কেউই জানতেন না, কথাটি কেবল মজার ছলে বলা নয়। বাস্তবেই তারা আপন দুই বোন। পরে জীবনের ব্যস্ততায় তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৫ বছর একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। এর মধ্যে দুজনের জীবন এগিয়েছে আলাদা পথে। মীনা নেদারল্যান্ডসে থেকে যান এবং তিন সন্তানের মা হন। মিনাল তার সঙ্গী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ফ্রান্সে বসবাস শুরু করেন। চলতি বছরের এপ্রিলে আসে জীবনের সবচেয়ে বড় চমক। ডিএনএ পরীক্ষার ফল জানায়, মীনা ও মিনালের মধ্যে পূর্ণ ভাইবোনের সম্পর্ক রয়েছে। তখনই বহু বছরের পুরোনো বন্ধুত্ব নতুন অর্থ পায়। ফল হাতে পাওয়ার পর প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি মিনাল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মীনার ছবি দেখে নিশ্চিত হন, ডিএনএ পরীক্ষায় যে আপন বোনের সন্ধান মিলেছে, তিনি সেই পুরোনো বান্ধবীই। দুই বোনের আবেগঘন পুনর্মিলন হয় ১১ আগস্ট নেদারল্যান্ডসে। দীর্ঘদিন পর মুখোমুখি হয়ে তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। কান্না আর হাসিতে কাটে সেই মুহূর্ত। জীবনের এতটা সময় আলাদা থাকার পর প্রথমবার তারা জানতেন, এবার আর তারা শুধু পুরোনো বন্ধু নন, আপন দুই বোন। মীনা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তার মনে হতো জীবনে যেন কিছু একটা অপূর্ণ রয়ে গেছে। বোনকে ফিরে পাওয়ার পর সেই শূন্যতা অনেকটাই পূরণ হয়েছে। মিনালের অনুভূতিও একই রকম। দত্তক পরিবারে ভালোবাসা পেলেও নিজের জন্মপরিচয় ও রক্তের সম্পর্কের কাউকে না জানার একটি শূন্যতা তার মধ্যে ছিল। ডিএনএ পরীক্ষার ফল সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। এখন আলাদা দেশে থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগ করছেন দুই বোন। প্রায় ৩০ বছর আগে যে সম্পর্ক শুরু হয়েছিল বন্ধুত্ব দিয়ে, তিন দশক পর সেই সম্পর্কের আসল পরিচয় সামনে এসেছে। একটি ডিএনএ পরীক্ষা শুধু তাদের জন্মপরিচয়ের রহস্যই ভাঙেনি, ফিরিয়ে দিয়েছে বহু বছর ধরে অজানা থেকে যাওয়া আপন সম্পর্কও।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) ফোর্ট হুডের কাছে বেল কাউন্টির সালাডো এলাকায় একটি খোলা মাঠে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটে দুপুরের দিকে। ফোর্ট হুড থেকে পরিচালিত হেলিকপ্টারটিতে দুইজন ক্রু ছিলেন এবং দুজনই ঘটনাস্থলে মারা যান। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সাধারণত পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিহত সেনাদের নাম প্রকাশ করে না। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনার সময় একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নে ছিল। কী কারণে এটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। হেলিকপ্টারটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর আগুন ধরে যায় এবং আশপাশের শুকনো ঘাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কাছাকাছি কয়েকটি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে হেলিকপ্টারটি কোনো বাড়ি বা স্থাপনায় আঘাত করেনি। বেল কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের মুখপাত্র ক্লিফ কোলম্যান দুর্ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঘটনাস্থলের ছবিতে বড় একটি এলাকা পুড়ে যেতে এবং হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষের আশপাশে দমকলকর্মীদের কাজ করতে দেখা গেছে। ফোর্ট হুডের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডিং জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইথান ডিভেন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থল নিরাপদ করা এবং প্রাথমিক উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করাই তাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে নিহত ক্রুদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফোর্ট হুডের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন প্রাথমিক তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি, মানবিক ভুল, আবহাওয়া অথবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি। এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার। দুইজন ক্রু এটি পরিচালনা করেন। সামনের আসনে থাকেন কো-পাইলট ও গানার এবং পেছনের আসনে থাকেন পাইলট। ১৯৮৪ সাল থেকে অ্যাপাচি মার্কিন সামরিক বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফোর্ট হুড যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি। প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার একরজুড়ে বিস্তৃত এই ঘাঁটি ভারী স্থলবাহিনী ও সামরিক ইউনিটের প্রশিক্ষণ ও মোতায়েনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। চলতি বছরের মার্চেও ফোর্ট হুডে আয়োজিত একটি মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও জনসম্পৃক্ততা কর্মসূচিতে এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার প্রদর্শন করা হয়েছিল। ফোর্ট হুডে এর আগেও প্রাণঘাতী সামরিক প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্রশিক্ষণের সময় একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চার সেনাসদস্য নিহত হন। পরের বছর ভারী বৃষ্টির কারণে ফুলে ওঠা একটি খালের পানিতে সামরিক যান ভেসে গেলে ফোর্ট হুডের নয় সেনা মারা যান। সাম্প্রতিক এই অ্যাপাচি দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনার পরিচয় এবং তারা কোন ইউনিটে কর্মরত ছিলেন, তা এখনো প্রকাশ করেনি সেনাবাহিনী। তদন্ত এগোলে হেলিকপ্টারের নির্দিষ্ট মডেল, উড্ডয়নের রুট এবং দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ইরান তাদের সামরিক কমান্ড কাঠামোতে ব্যাপক রদবদল আনছে এবং দেশের ভেতরে-বাইরে শত্রুদের বিরুদ্ধে 'আক্রমণাত্মক' ব্যবস্থা নিতে কট্টরপন্থীদের শীর্ষ পদে নিয়োগ দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নতুন 'আক্রমণাত্মক নীতি' বাস্তবায়নের জন্য ছয়জন প্রবীণ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ইরান তাদের যুদ্ধপূর্ব রক্ষণাত্মক কৌশল থেকে সরে এসে শত্রুর ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্লিনগেনডাল ইনস্টিটিউট থিংক ট্যাংকের হামিদরেজা আজিজি সিএনএন-কে বলেন, "আক্রমণাত্মক অভিযান, ঐক্যবদ্ধ কমান্ড এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া থেকে বোঝা যায় যে, ইরানের নেতৃত্ব তাদের ঐতিহ্যগত সতর্কতামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ ব্যবস্থার দিকে এগোতে চাইছে।" এই রদবদলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নিয়োগ পেয়েছেন আইআরজিসি-র প্রধান (কমান্ডার-ইন-চিফ) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আহমাদ ওয়াহিদি। খামেনি তাকে শত্রুর বিরুদ্ধে শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। ওয়াহিদির ওপর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং বিদেশে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাকে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং খামেনির যুদ্ধপন্থী অবস্থানের প্রধান রূপকার হিসেবে মনে করা হয়। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় হস্তক্ষেপ এবং হরমুজ প্রণালিতে হামলার সমর্থক হিসেবে ওয়াহিদির পরিচিতি রয়েছে। তার এই নিয়োগের ফলে ইরান আরও কট্টর অবস্থানে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াহিদি তার কাজে আইআরজিসি-র সাবেক প্রধান মহসিন রেজাইয়েরও সমর্থন পাবেন, যাকে সম্প্রতি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন প্রধান করা হয়েছে। রেজাই গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকে, তবে মার্কিন সেনারা বিপদে পড়বে। এদিকে, ওয়াহিদি ও রেজাইয়ের এই নিয়োগকে কট্টরপন্থার প্রতি তেহরানের চরম প্রতিশ্রুতির প্রমাণ বলে আখ্যা দিয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক্স-এ তারা জানায়, "ইরানি শাসকগোষ্ঠী সন্ত্রাসের উপাসনা করে এবং এর কারিগরদের পুরস্কৃত করে সর্বোচ্চ ক্ষমতার আসনে বসায়।" অভ্যন্তরীণ বিষয়েও আরও কঠোর শাসনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। খামেনি আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের নতুন প্রধান হিসেবে হোসেইন তায়েবকে নিয়োগ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই বাসিজ বাহিনীই এ বছরের শুরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়েছিল, যেখানে অন্তত ৭,০০০ মানুষ নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়; যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। হোসেইন তায়েব এর আগেও বাসিজের নেতৃত্বে ছিলেন এবং ২০১০ সালের বিক্ষোভে হত্যা ও গ্রেপ্তারের কারণে তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নিয়োগ এমন এক সময়ে এল, যখন গত প্রায় ছয় মাস ধরে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তার বাবার (সাবেক সর্বোচ্চ নেতা) কম্পাউন্ডে হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তার বাবা নিহত হওয়ার পরই তিনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হন। গত রোববার ইরান একটি ভিডিও প্রকাশ করে তাকে সুস্থ দেখানোর চেষ্টা করলেও, ধারণা করা হচ্ছে ভিডিওটি সংঘাতের আগের। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিংক ট্যাংক 'ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার'-এর মতে, এই রদবদলের মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচির উন্নয়ন। এর মাধ্যমে খামেনি ও তার মিত্ররা নিজেদের ক্ষমতা আরও সুসংহত করে যুদ্ধবিরতি চাইতে থাকা উদারপন্থীদের কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বমিতে শ্বাসনালি আটকে যাওয়া তিন বছর বয়সী এক মুমূর্ষু শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। স্যান বার্নার্ডিনো কাউন্টির রিয়াল্টো পুলিশের এই বীরত্বপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের একটি শ্বাসরুদ্ধকর ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। মায়ের চোখের সামনেই দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া ওই শিশুকে একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনেন তারা। জানা যায়, গত ৫ আগস্ট দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ওই শিশুর মা তার সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে হঠাৎ তিনি বুঝতে পারেন যে তার সন্তানের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে এবং সে বমি করে ফেলেছে। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি ইস্ট ফুটহিল বুলেভার্ডের ৩০০ ব্লকের কাছে গাড়ি থামিয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় ৯১১ নম্বরে কল করেন। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন ওই অসহায় মা ফুটপাতে তার সন্তানের নিথর দেহ কোলে নিয়ে বসে ছিলেন। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শিশুটির মা বলেন, "আমার মনে হচ্ছিল ছেলেটা আমার চোখের সামনেই মারা যাচ্ছে।" পরিস্থিতি বুঝতে পেরে এক পুলিশ কর্মকর্তা দ্রুত তার গাড়ি থেকে ‘লাইফভ্যাক’ (LifeVac) নামের একটি বিশেষ ডিভাইস বের করে আনেন। এরপর অন্য কর্মকর্তাদের সহায়তায় শিশুটিকে ফুটপাতে শুইয়ে ডিভাইসটির মাধ্যমে তার শ্বাসনালিতে আটকে থাকা প্রতিবন্ধকতা সরাতে পাম্প বা সাকশন তৈরি করতে থাকেন। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর অবশেষে শিশুটি শ্বাস নেয় এবং তার জ্ঞান ফেরে। এরপর রিয়াল্টো ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। বডি-ক্যামেরার অপর একটি ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালে সুস্থ হয়ে ওঠা সন্তানকে কোলে নিয়ে বসে আছেন ওই মা এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের মাধ্যমে জীবন বাঁচানোর জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এ বিষয়ে রিয়াল্টো পুলিশের ক্যাপ্টেন ল্যামন্ট কোয়ার্কার গণমাধ্যমকে বলেন, "এই ঘটনাটি আমাদের প্রথম সাড়াদানকারী (ফার্স্ট রেসপন্ডার) কর্মীদের জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করার গুরুত্ব প্রমাণ করে। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসায় কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঠিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।"
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা শাজিয়া হক। আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে তিনি কাউন্সিলমেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ শাজিয়া হক ব্যবসা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় নাগরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া শাজিয়া যুক্তরাষ্ট্রে এসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন কমিউনিটি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন। তার প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, তিনি লালমাটিয়া কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলেস ভ্যালি কলেজ থেকে লিবারেল আর্টসে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি এবং ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি চ্যানেল আইল্যান্ডস থেকে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেন। বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় একাধিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। স্থানীয় নাগরিক নেতৃত্বেও শাজিয়া হকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের উইলশায়ার সেন্টার-কোরিয়াটাউন নেবারহুড কাউন্সিলের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের নেবারহুড কাউন্সিলের নথিতে তাকে দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সক্রিয় ছিলেন। শাজিয়া হকের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে স্থানীয় জননিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, দায়িত্বশীল বাজেট ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় ব্যবসার বিকাশ এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের সঙ্গে সিটি সরকারের যোগাযোগ আরও সহজ করা এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যা সরাসরি সিটি কাউন্সিলে তুলে ধরার ওপরও তিনি জোর দিচ্ছেন। ব্যবসা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন শাজিয়া। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা এবং স্থানীয় ছোট ব্যবসার বিকাশে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার জীবনীতে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও শাজিয়া হকের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সংগঠন ও বিভিন্ন আয়োজনে তার সম্পৃক্ততার কথা তার প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও সঞ্চালক ও আয়োজক হিসেবে কাজ করেছেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছেন শাজিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসের লিটল বাংলাদেশ এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা ও স্বার্থ নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। অভিবাসন ইস্যুতেও সাম্প্রতিক সময়ে তার বক্তব্য জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের অভিবাসী পরিবারগুলোর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে স্পেকট্রাম নিউজ। ওই প্রতিবেদনে শাজিয়া হক তার বাবা-মা ও ভাইবোনদের বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং নতুন সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশি-আমেরিকান সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও শাজিয়া হকের দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা বা ফোবানার বিভিন্ন কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস-হলিউডভিত্তিক ফোবানা আয়োজনের কার্যক্রমেও তিনি যুক্ত রয়েছেন বলে কমিউনিটি পর্যায়ে জানানো হয়েছে। মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিলের নির্বাচনে শাজিয়া হকের প্রার্থিতা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্যও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ বাড়ার ধারাবাহিকতায় তার এই নির্বাচনী প্রচেষ্টা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মন্টেবেলো সিটির সরকারি নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সাধারণ পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। ওই নির্বাচনে ডিস্ট্রিক্ট ১-এর কাউন্সিলমেম্বার পদও রয়েছে। নির্বাচিত কাউন্সিলমেম্বারের মেয়াদ হবে ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। শাজিয়া হকের সামনে এখন মূল লক্ষ্য স্থানীয় ভোটারদের কাছে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সমর্থন বাড়ানো। নির্বাচনে জয়ী হলে ব্যবসা ও কমিউনিটি নেতৃত্বের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় প্রশাসনে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বের একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করার সুযোগ পাবেন তিনি।