সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সের ডেনিস মালিক বার্নস
১৬ বছর বয়সে ১৭০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, ৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি বৃত্তির প্রস্তাব

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সের ডেনিস মালিক বার্নস এমন এক একাডেমিক সাফল্য অর্জন করেছেন, যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হাইস্কুল নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই শেষ করে তিনি ১৭০টির বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া বৃত্তির প্রস্তাবের মোট মূল্য ছাড়িয়েছে ৯ মিলিয়ন ডলার।   ইন্টারন্যাশনাল হাই স্কুল অব নিউ অরলিন্সের এই শিক্ষার্থী ৪.৯৮ জিপিএ নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন শুরু করেন। শুরুতে কোনো রেকর্ড গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এতগুলো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেননি। তবে একের পর এক ভর্তি ও বৃত্তির প্রস্তাব আসতে থাকায় বিষয়টি তার কাছেও ব্যতিক্রমী হয়ে ওঠে।   বার্নসের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার অসাধারণ একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ। তিনি ন্যাশনাল অনার সোসাইটির নেতৃত্বেও ছিলেন। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছেন এবং উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্সে দ্বৈতভাবে পড়াশোনা করে কলেজ পর্যায়ের ক্রেডিট অর্জন করেছেন।   বার্নসের ক্ষেত্রে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সংখ্যাই নজরকাড়া নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাকে বড় অঙ্কের বৃত্তির প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১৭০টির বেশি ভর্তি প্রস্তাবের সঙ্গে বৃত্তির মোট মূল্য ৯ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত আসার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি এবং মোট বৃত্তির পরিমাণ ১০ মিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্যও জানিয়েছিলেন।   এই অর্জনের ফলে আগের মার্কিন রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান বার্নস। এর আগে ২০১৯ সালে লুইজিয়ানার আরেক শিক্ষার্থী নরম্যান্ডি করমিয়ের বিভিন্ন কলেজ থেকে প্রায় ৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তির প্রস্তাব পেয়েছিলেন বলে সে সময়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।   তবে বার্নসের অর্জনকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের আনুষ্ঠানিক বিশ্বরেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা রয়েছে। তার স্কুল কর্তৃপক্ষ গিনেস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সে সময় গিনেসের পক্ষ থেকে এমন কোনো রেকর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃত্তির প্রস্তাব পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করাই বেশি নির্ভুল।   বার্নস ভবিষ্যতে কম্পিউটার সায়েন্স ও ক্রিমিনাল জাস্টিস নিয়ে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এরপর আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন।   নিজের সাফল্যের জন্য পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহায়তার কথা তুলে ধরেছেন বার্নস। তার এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ায় একাডেমিক প্রস্তুতি, আগেভাগে আবেদন এবং বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ খোঁজার গুরুত্বও সামনে এনেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৯:৪
'ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছিল', ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি
'ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছিল', ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি

হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট জানিয়েছেন, জীবনের এক কঠিন সময়ে পারিবারিক সংকটের কারণে মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে আত্মহত্যাকে তিনি সাময়িকভাবে ‘স্বস্তির পথ’ হিসেবে বুঝতে পেরেছিলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা তাঁর ছিল না।    সোমবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ৬২ বছর বয়সী এই অভিনেতা নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। পিট জানান, ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল যে আত্মহত্যার চিন্তার সঙ্গে নিজেকে পরিচিত মনে হচ্ছিল। তবে তাঁর বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছা এবং আশাবাদী মানসিকতা তাঁকে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।  পিটের এই বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর সাবেক স্ত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও সন্তানদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। জোলির সঙ্গে তাঁদের বিচ্ছেদ ২০১৬ সালে শুরু হলেও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। তাঁদের ছয় সন্তান রয়েছে।  সন্তানদের সঙ্গে পিটের সম্পর্কও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ দূরত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের কয়েকজন সন্তান ইতোমধ্যে পিটের পদবি ব্যবহার করা বন্ধ করেছেন। শিলোর পদবি পরিবর্তনের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং জাহারা ও ম্যাডক্সের ক্ষেত্রেও এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  সাক্ষাৎকারে পিট তাঁর মায়ের মৃত্যুর প্রভাবের কথাও বলেন। তাঁর মা জেন পিট ২০২৫ সালের আগস্টে মারা যান। পারিবারিক দূরত্ব, মায়ের মৃত্যু এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা পরিবর্তন মিলিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলো তাঁর জন্য বেশ কঠিন ছিল বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।      পিট আরও জানান, সাত বছর মদ্যপান থেকে দূরে থাকার পর তিনি আবার পান করা শুরু করেছেন। তবে এখন তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক থাকার চেষ্টা করেন। অতীতে মদ্যপান থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাসের সহায়তা এবং অভিনেতা ব্র্যাডলি কুপারের সমর্থনের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।  অ্যাঞ্জেলিনা জোলিও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের সন্তানদের নিয়ে কথা বলেছেন। জুনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সন্তানরা তাঁকে জীবনের কঠিন সময় পার হতে সহায়তা করেছে এবং তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে ভূমিকা রেখেছে।    তবে পিটের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তিনি আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এমন দাবি করেননি। বরং তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আত্মহত্যাকে কেন কেউ স্বস্তির পথ মনে করতে পারে, সেই অনুভূতির কথা বলেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৮:১৮
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের বড় পরিবর্তন, আবেদন করতে ফিরতে হতে পারে দেশে
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের বড় পরিবর্তন, আবেদন করতে ফিরতে হতে পারে দেশে

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এনেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস। নতুন নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে স্থায়ী বসবাসের আবেদন বা অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগকে এখন বিশেষ পরিস্থিতিতে দেওয়া একটি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে অনেক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।  গত ২১ মে জারি করা নতুন নীতিনির্দেশনায় ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় থাকা কেউ গ্রিন কার্ড পেতে চাইলে সাধারণ নিয়মে তাকে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আবেদন করতে হবে। তবে বিশেষ বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।  এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক অভিবাসীর গ্রিন কার্ডের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অস্থায়ী কর্মী এবং অন্যান্য অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই আবেদন করা সম্ভব হবে কি না, তা এখন আরও কঠোরভাবে যাচাই করতে পারেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কেউই আর গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যোগ্যতা পূরণকারী অস্থায়ী ভিসাধারীরা এখনো অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। তবে নতুন নীতিতে এই সুবিধা অনুমোদনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের বিবেচনামূলক ক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।  নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীর পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করা হতে পারে। অর্থাৎ শুধু আইনগত যোগ্যতা পূরণ করলেই আবেদন অনুমোদনের নিশ্চয়তা থাকবে না। কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি এবং অন্যান্য ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।  গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে দুটি প্রক্রিয়ার পার্থক্যও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আবেদন করার পদ্ধতিকে বলা হয় অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আবেদন। অন্যদিকে কনস্যুলার প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। নতুন নীতির ফলে যাঁদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেতে হবে, তাঁদের জন্য চাকরি, পড়াশোনা, পরিবার এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নানা বাস্তব সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারের সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকা বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। অভিবাসন আইনজীবীরাও নতুন নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।    বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী, কর্মী বা অন্য কোনো অস্থায়ী ভিসায় থাকা কেউ যদি ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পরিকল্পনা করেন, তাহলে পুরোনো নিয়মের ওপর নির্ভর না করে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের পরিস্থিতি যাচাই করা জরুরি। তবে ইতোমধ্যে গ্রিন কার্ডধারী বা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব নেই। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে নতুন করে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার আবেদনকারীদের জন্যই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া এখনো বিদ্যমান। তাই প্রত্যেক আবেদনকারীর ভিসার ধরন, আবেদন করার ভিত্তি এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম আলাদা হতে পারে। জটিল কোনো আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৭:৪৩
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান
ইসলামের ইতিহাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স! ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার পেলেন মারুফ

মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করেও আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার পথে বড় সাফল্য অর্জন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা অ্যাট ওমাহাতে ইতিহাস বিষয়ে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।   শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করে বিশ্বের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পেয়েছেন মারুফ। নিজের একাডেমিক আগ্রহ, গবেষণার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা অ্যাট ওমাহাকে বেছে নেন তিনি।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মারুফের এই অর্জন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য। কারণ প্রচলিত ধারণার বিপরীতে মানবিক বিষয়ে পড়াশোনা করেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিস্তর সুযোগ রয়েছে।   স্নাতক পর্যায়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশোনার পর আরও বিস্তৃত পরিসরে ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করার লক্ষ্য থেকেই মাস্টার্সে বিষয়টি বেছে নিয়েছেন মারুফ। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে ভবিষ্যতে গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞানচর্চায় অবদান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।   মারুফের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শুধু ভালো ফলাফল যথেষ্ট নয়। নিজের একাডেমিক আগ্রহ স্পষ্ট করা, গবেষণার সক্ষমতা তৈরি করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা এবং শক্তিশালী আবেদনপত্র প্রস্তুত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পাওয়ার পর নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী একটি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা চাইলে সঠিক প্রস্তুতি, গবেষণামুখী মানসিকতা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পারেন।   মারুফ হাসানের সাফল্য তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৬:৫৪
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদ
সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদকে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ গৃহযুদ্ধকালীন বিভিন্ন অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত অনুপস্থিতিতে দেওয়া রায়ে তাঁর ছোট ভাই ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মাহের আল–আসাদকেও মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।    আদালতের রায়ে বাশার আল–আসাদকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী করা হয়েছে। ২০১১ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধও মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। আদালতের মতে, ওই সময় সংঘটিত অপরাধের মধ্যে শিশু হত্যার ঘটনাও রয়েছে।    আতেফ নাজিব ছিলেন বাশার আল–আসাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান। ২০১১ সালের আন্দোলনের শুরুতে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং নির্যাতনের ফলে মৃত্যুর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল।     ২০১১ সালে সিরিয়ার সরকারবিরোধী গণআন্দোলনের সূচনা হয়। দেয়ালে সরকারবিরোধী স্লোগান লেখার অভিযোগে কয়েকজন কিশোরকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনা সে সময় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে সেই বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।    বাশার আল–আসাদ ২০০০ সালে তাঁর বাবা হাফেজ আল–আসাদের মৃত্যুর পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হন। প্রায় ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রযাত্রায় তাঁর সরকারের পতন ঘটে। ক্ষমতা হারানোর পর তিনি সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান এবং বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন।    বাশার ও মাহের আল–আসাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব এর আগে রাশিয়ার কাছে তাঁদের হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে। তবে রাশিয়ায় অবস্থান করায় মৃত্যুদণ্ডের এই রায় বাস্তবায়ন নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।    এই রায় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় নির্ধারণে দেশটির নতুন সরকারের নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। তবে সাবেক সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আতেফ নাজিবের বিচার ছিল ক্ষমতাচ্যুত আসাদ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন সিরিয়ায় শুরু হওয়া প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য বিচারগুলোর একটি।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৬:৪৬
কানাডার ভিসায় চিকিৎসা পরীক্ষা থেকে ছাড়
কানাডার ভিসায় চিকিৎসা পরীক্ষা থেকে ছাড় পেতে পারেন ৪ শ্রেণির বিদেশি

কানাডায় কাজ, পড়াশোনা বা ভ্রমণের জন্য ভিসা বা অনুমতিপত্রের আবেদন করা বিদেশিদের অনেকের ক্ষেত্রেই অভিবাসন-সংক্রান্ত চিকিৎসা পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কিছু আবেদনকারীকে নতুন করে এই পরীক্ষা থেকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, আগের চিকিৎসা পরীক্ষা, কানাডায় বর্তমান অবস্থান এবং আবেদনকারীর স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে নতুন করে চিকিৎসা পরীক্ষা না-ও চাইতে পারে কর্তৃপক্ষ।   যে চার শ্রেণির আবেদনকারী ছাড়ের জন্য বিবেচিত হতে পারেন—   ১. কানাডায় স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারী যারা কানাডায় স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আগের চিকিৎসা পরীক্ষার তথ্য বিবেচনা করে নতুন করে পরীক্ষা না করার সুযোগ থাকতে পারে।   ২. ইতোমধ্যে কানাডায় বসবাসকারী বিদেশি কানাডায় অবস্থানরত কোনো বিদেশি নতুন কোনো অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন করলে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাকে আবার চিকিৎসা পরীক্ষা করতে নাও বলা হতে পারে।   ৩. গত পাঁচ বছরের মধ্যে চিকিৎসা পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন এমন আবেদনকারী কোনো আবেদনকারী গত পাঁচ বছরের মধ্যে অভিবাসন-সংক্রান্ত চিকিৎসা পরীক্ষা সম্পন্ন করে থাকলে, নতুন আবেদনের সময় নির্দিষ্ট শর্তে আগের পরীক্ষার ফল ব্যবহার করা যেতে পারে।   ৪. আগের পরীক্ষায় জনস্বাস্থ্য বা জননিরাপত্তার ঝুঁকি কম ছিল এমন আবেদনকারী আগের চিকিৎসা পরীক্ষায় যদি আবেদনকারীর স্বাস্থ্যগত অবস্থাকে জনস্বাস্থ্য বা জননিরাপত্তার জন্য কম বা কোনো ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে নতুন করে পরীক্ষা থেকে ছাড় দেওয়া হতে পারে।   তবে এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসা পরীক্ষা থেকে ছাড় স্বয়ংক্রিয় নয়। কানাডার অভিবাসন কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে কোনো আবেদনকারীর কাছ থেকে নতুন করে চিকিৎসা পরীক্ষা চাইতে পারেন।   এ ছাড়া আবেদনকারীর নিজ দেশের পরিস্থিতি, কানাডায় কতদিন থাকার পরিকল্পনা, কী ধরনের কাজ করবেন এবং আগের কোথায় বসবাস বা ভ্রমণ করেছেন—এসব বিষয়ও চিকিৎসা পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের দেখাশোনা কিংবা এমন কিছু পেশায় কাজ করতে গেলে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।   তাই কোনো আবেদনকারী নিজেকে এই চার শ্রেণির একটির মধ্যে মনে করলেই চিকিৎসা পরীক্ষা লাগবে না—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদন করার আগে কানাডার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।   এদিকে কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় এক্সপ্রেস এন্ট্রি নিয়েও বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিদেশি কর্মী ও দক্ষ পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করতে ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় নতুন অগ্রাধিকার যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৬:৪১
টিম বার্নার্ড ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ট্রাম্পের দাতার কোম্পানির হাতে সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের বিলিয়ন ডলারের কাজ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দাতা টিম বার্নার্ডের মালিকানাধীন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বার্নার্ড কনস্ট্রাকশন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল ও অন্যান্য সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সরকারি চুক্তি পেয়েছে।   মন্টানাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে টেক্সাসের বিগ বেন্ড এলাকায় সরকারি অনুমতি ছাড়া রাজ্য মালিকানাধীন জমিতে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগও উঠেছে।   মার্কিন সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া হিসাবে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বার্নার্ড কনস্ট্রাকশন ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সীমান্ত নির্মাণকাজে ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের চুক্তি পেয়েছে।   এর মধ্যে ২০২৬ সালের ৫ মার্চ প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৯৬ কোটি ডলারের একটি চুক্তি দেওয়া হয়। ‘বিগ বেন্ড বর্ডার ব্যারিয়ার কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট’ নামে ওই প্রকল্পের আওতায় পশ্চিম টেক্সাসের টেরলিঙ্গুয়া এলাকায় রিও গ্র্যান্ডে নদীর তীরবর্তী সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণের কথা রয়েছে।   একই দিনে টেক্সাসের হাডস্পেথ কাউন্টি এলাকায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার এবং ডেল রিওর কাছে প্রায় ৬০ কোটি ডলারের আরও সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ চুক্তিও প্রতিষ্ঠানটি পায় বলে বিভিন্ন সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   কে এই টিম বার্নার্ড?   টিম বার্নার্ড ১৯৭৫ সালে মন্টানায় বার্নার্ড কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠা করেন। বোযম্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বাঁধ, জলাধার, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সুড়ঙ্গ, পাইপলাইন, পানি ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনসহ বড় ধরনের নির্মাণকাজ করে।   বার্নার্ডের রাজনৈতিক যোগাযোগও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে। মার্কিন ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে টিম বার্নার্ড ও তার স্ত্রী ট্রাম্প-সমর্থিত যৌথ তহবিল সংগ্রহ কমিটি ও একটি রাজনৈতিক সংগঠনে মোট ১০ লাখ ডলার অনুদান দেন।   এ ছাড়া বার্নার্ড কনস্ট্রাকশনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও ট্রাম্প ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রচারণায় ১০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দেওয়ার তথ্য বিভিন্ন রাজনৈতিক অর্থায়ন-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারে পাওয়া গেছে।   চুক্তি নিয়ে আইনি বিতর্ক   সীমান্ত নির্মাণকাজ নিয়ে বিতর্ক আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী নির্মাণ প্রতিষ্ঠান পসিলিকো সিভিল ২০২৬ সালের মে মাসে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে অভিযোগ করেছিল, টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোর নতুন সীমান্ত দেয়াল প্রকল্পের বড় অংশ বার্নার্ড কনস্ট্রাকশন ও ফিশার স্যান্ড অ্যান্ড গ্র্যাভেলের মতো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।   তবে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি সেই মামলা প্রত্যাহার করে নেয়।   এর মধ্যেই বিগ বেন্ড এলাকায় নতুন অভিযোগ সামনে আসে। ৩১ জুলাই টেক্সাস জেনারেল ল্যান্ড অফিস মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন এবং বার্নার্ড কনস্ট্রাকশনকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠায়।   অভিযোগ, দক্ষিণ প্রেসিডিও কাউন্টিতে রাজ্যের মালিকানাধীন এক মাইলেরও বেশি জমি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিষ্কার করা হয়েছে।   টেক্সাসের ভূমি কমিশনার ডন বাকিংহাম বলেন, রাজ্যের অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাজ করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের সার্বভৌমত্বও রক্ষা করতে হবে।   পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ   বিগ বেন্ড এলাকায় সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের বিরোধিতা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই।   তাদের আশঙ্কা, ভারী নির্মাণযন্ত্র ও স্থায়ী দেয়াল মরুভূমির পরিবেশব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   বিগ বেন্ড অঞ্চলের পাঁচটি কাউন্টির শেরিফ মার্চে যৌথ বিবৃতিতে নির্মাণকাজ বন্ধের আহ্বান জানান। তাদের যুক্তি, দুর্গম ভূপ্রকৃতিই ওই অঞ্চলে ইতোমধ্যে একটি প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। সেখানে বিশাল স্থাপনা নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তারা প্রশ্ন তোলেন।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। সীমান্ত দেয়াল ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ সেই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক দাতার প্রতিষ্ঠানের হাতে বিপুল সরকারি চুক্তি, বিগ বেন্ড এলাকায় অনুমোদন নিয়ে বিরোধ এবং পরিবেশগত উদ্বেগ—সব মিলিয়ে সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের এই প্রকল্প নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৬:৩৫
অভিবাসন অভিযানের প্রভাবে অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা
অভিবাসন অভিযানের প্রভাবে অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা, পরীক্ষার ফল খারাপের আশঙ্কা শিক্ষকদের

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে চলতি বছরের শিক্ষার্থীদের রাজ্যভিত্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার ফল প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষকদের একটি অংশ। এর পেছনে সাম্প্রতিক ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর সময়কার অভিবাসন অভিযান ও এর প্রভাবকে দায়ী করছেন তারা।   শিক্ষকদের দাবি, অভিযানের সময় অভিবাসন ও সীমান্ত-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড ঘিরে তৈরি হওয়া আতঙ্ক শুধু পরিবারের ওপর নয়, শ্রেণিকক্ষেও প্রভাব ফেলেছে। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি বেড়েছে, অনেকের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং কেউ কেউ মানসিকভাবে গুটিয়ে গেছে।   স্টিলওয়াটারের অভিজ্ঞ জীববিজ্ঞান শিক্ষক স্টেসি বার্টলেট জানান, জানুয়ারিতে তার শিক্ষার্থীদের আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন তিনি। তার ভাষায়, শ্রেণিকক্ষে এক ধরনের নীরবতা তৈরি হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা কী নিয়ে উদ্বিগ্ন, তা অনেক সময় ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিল না। তার মতে, কোনো না কোনোভাবে প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীই পরিস্থিতির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল।   শিক্ষকদের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ শিক্ষক জানিয়েছেন, তাদের শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ ক্লাসে অনুপস্থিত ছিল। ৬৭ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। আর ৪৭ শতাংশ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের আচরণে স্পষ্টভাবে গুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।   টুইন সিটিজ এলাকার শিক্ষকদের মতামত আলাদাভাবে বিবেচনা করলে পরিস্থিতি আরও বেশি উদ্বেগজনক। সেখানে ৯১ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন এবং ৮৯ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় বা উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।   শিক্ষকদের মতে, এর প্রভাব শুধু বিদ্যালয়ে উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তাদের অনেকের ক্ষেত্রেও মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।   বার্টলেট বলেন, শিশুরা ও কিশোর-কিশোরীরা বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই বাস করে। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা, বাবা-মায়ের অবস্থা, বন্ধুদের পরিস্থিতি কিংবা পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো নিয়ে উদ্বেগ তাদের মনোযোগের ওপর প্রভাব ফেলেছে।   শিক্ষা সংগঠন এডুকেশন মিনেসোটার সভাপতি মনিকা বায়রন বলেন, ভীত-সন্ত্রস্ত শিশুদের স্বাভাবিকভাবে পড়ানো সম্ভব নয়। তার মতে, মিনেসোটা কমপ্রিহেনসিভ অ্যাসেসমেন্টস এমনিতেই শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক কম ঝুঁকির মূল্যায়ন পরীক্ষা। তাই সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে এ বছরের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।   জরিপটি পরিচালনা করেছে ভস রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি, যা ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি গবেষণা ও কৌশলগত পরামর্শ প্রতিষ্ঠান।   তবে শিক্ষকদের আশঙ্কা এখনো পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল দিয়ে নিশ্চিত হয়নি। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের রাজ্য পরীক্ষার ফল আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশের কথা রয়েছে। মিনেসোটা সাধারণত আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে এসব ফল প্রকাশ করে।   ফলে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, মানসিক চাপ ও মনোযোগের ওপর সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলে কতটা পড়েছে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৬:২৪
চাকরির অফার পেয়েও হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে উধাও জেন-জি প্রার্থীরা
চাকরির অফার পেয়েও হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে উধাও জেন-জি প্রার্থীরা

চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশেষ করে জেন-জি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বিপুলসংখ্যক নিয়োগদাতা।   ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক জরিপে ১ হাজার ১১৫ জন নিয়োগ ব্যবস্থাপকের মতামত নেওয়া হয়। এতে ৫৪ শতাংশ নিয়োগদাতা জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার পর কোনো জেন-জি প্রার্থী হঠাৎ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। ৬৬ শতাংশ নিয়োগদাতা বলেছেন, এ ধরনের আচরণ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলেছে।   চাকরির প্রস্তাব পাওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করার ঘটনাগুলোও ছিল বিভিন্ন ধরনের। কেউ প্রস্তাব গ্রহণ করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করেননি। কেউ কাগজপত্র শেষ করেও প্রথম কর্মদিবসে কাজে যোগ দেননি। আবার কেউ কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ কাজ করার পর কোনো নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।   কেন বাড়ছে এমন প্রবণতা   বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বর্তমান চাকরির বাজারে একজন প্রার্থী একই সময়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন ও সাক্ষাৎকার দিতে পারেন। এর মধ্যে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে বেশি বেতন, ভালো সুযোগ-সুবিধা কিংবা পছন্দের কাজের প্রস্তাব এলে আগের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।   নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়াও এর একটি কারণ হতে পারে। চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রার্থী বাছাই, একাধিক ধাপে সাক্ষাৎকার এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় লাগলে কাঙ্ক্ষিত প্রার্থী অন্য সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।   তবে শুধু তরুণ প্রার্থীদের আচরণ দিয়ে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যায় না।   নিয়োগদাতারাও কি প্রার্থীদের এড়িয়ে যাচ্ছেন?   চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, অনেক প্রতিষ্ঠান সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর আর কোনো উত্তর দেয় না। কখনো কখনো প্রার্থীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রেখে নিয়োগদাতারা হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এটিকেও একই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   অর্থাৎ সমস্যাটি একমুখী নয়। চাকরিপ্রার্থীরা যেমন নিয়োগদাতার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করছেন, তেমনি নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধেও প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার অভিযোগ রয়েছে।   জেন-জিকে নিয়ে বিতর্ক   জরিপে অংশ নেওয়া ৬৬ শতাংশ নিয়োগদাতা মনে করেন, জেন-জি প্রার্থীদের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলছে। এমনকি প্রায় ১০ শতাংশ নিয়োগদাতা জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিজ্ঞতার কারণে তারা জেন-জি প্রার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হয়ে উঠেছেন।   তবে একটি প্রজন্মের সব কর্মীকে একই আচরণের জন্য দায়ী করা নিয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বয়সের পাশাপাশি চাকরির ধরন, বেতন, কর্মপরিবেশ, প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতিও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।   বদলে যাচ্ছে নিয়োগের ধরন   ঘন ঘন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করার চেষ্টা করছে। চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার পর প্রার্থীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, দায়িত্ব ও বেতন-সুবিধা আগে থেকেই পরিষ্কার করা এবং যোগদানের তারিখ নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   অন্যদিকে, চাকরির প্রস্তাব পাওয়ার পর কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া একজন প্রার্থীর পেশাগত ভাবমূর্তির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ভবিষ্যতে একই প্রতিষ্ঠান কিংবা সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার কাছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।   সব মিলিয়ে, চাকরির বাজারে হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা এখন শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় নয়। এটি নিয়োগদাতা ও চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে আস্থা ও যোগাযোগের পরিবর্তিত চিত্রও তুলে ধরছে। আর কর্মক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের প্রবেশ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবণতা ভবিষ্যতের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কতটা বদলে দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৬:১৮
ভবিষ্যৎ চুক্তির উদ্দেশ্যে ১৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল
ভবিষ্যৎ চুক্তির উদ্দেশ্যে ১৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল

হামাসের কাছে কোনো ইসরায়েলি বন্দি না থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতে বন্দি বিনিময় চুক্তিতে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের শিন বেত প্রধান। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎস মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে শীর্ষ পর্যায়ের ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক আলোচনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।   হারেৎসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের হাতে থাকা মরদেহগুলোর বেশিরভাগই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। তবে এসব মরদেহের মধ্যে বেসামরিক ফিলিস্তিনিও রয়েছেন। মরদেহগুলো ভবিষ্যতে কোনো বন্দি বা মরদেহ বিনিময় চুক্তিতে ইসরায়েলের জন্য আলোচনার হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।   ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখা ইসরায়েলের নতুন কোনো নীতি নয়। পশ্চিম তীর ও গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের মরদেহ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে রাখার অভিযোগ রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বহু বছর ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছে।   হারেৎসের তথ্য অনুযায়ী, মরদেহ আটকে রাখার বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ে সাম্প্রতিক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে কোনো বিনিময় চুক্তির প্রয়োজন হলে এসব মরদেহকে আলোচনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।   মরদেহ আটকে রাখার এই নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে মৃতদের মর্যাদা রক্ষা এবং যথাযথভাবে তাদের দাফন বা সৎকারের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি আরও গভীর মানবিক সংকট তৈরি করেছে। স্বজনের মৃত্যুর পরও মরদেহ ফিরে না পাওয়ায় অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনকে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করতে পারছে না। একই সঙ্গে মরদেহগুলোকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বা সামরিক দর-কষাকষিতে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   হারেৎসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হাতে থাকা প্রায় ১ হাজার ৭০০ মরদেহের বিষয়টি এখন ভবিষ্যৎ বিনিময় আলোচনার সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে সামনে এসেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মরদেহ আটকে রাখার নীতি নতুন করে আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার মহলের নজরে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৬:০
বিদেশে পড়াশোনার খরচ আন্তর্জাতিক কার্ডে পরিশোধের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
বিদেশে পড়াশোনার খরচ আন্তর্জাতিক কার্ডে পরিশোধের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও সহজ করতে নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এডি ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যু করা আন্তর্জাতিক ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি ও অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় পরিশোধ করা যাবে।   সোমবার (১০ আগস্ট) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ভর্তি প্ল্যাটফর্মে কার্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে অনেক বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ভর্তি প্ল্যাটফর্ম আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করায় শিক্ষার্থীদের এমন সুবিধার চাহিদা বাড়ছিল।   প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর নিজের নামে অথবা তার শিক্ষা ব্যয় বহনকারী ব্যক্তি বা অভিভাবকের নামে এসব আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু করা যাবে। কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি ছাড়াও অনুমোদিত অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত খরচ পরিশোধ করা যাবে।   বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শিক্ষা-সংক্রান্ত এসব কার্ড লেনদেনকে বিদ্যমান ভ্রমণ কোটার বাইরে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। ফলে বিদেশে পড়াশোনার জন্য অনুমোদিত শিক্ষা ব্যয় পরিশোধের ক্ষেত্রে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি করবে।   তবে এই সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত প্রচলিত আইন, নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করতে হবে। এডি ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে কার্ডের মাধ্যমে শুধু অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয়ই পরিশোধ করা হচ্ছে।   এ ছাড়া প্রতিটি লেনদেনের যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত ‘পারপাস কোড’ ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদন করতে হবে।   নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশে পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশ থেকে টিউশন ফি পাঠানোর প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বা আন্তর্জাতিক ভর্তি প্ল্যাটফর্ম সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে, সেসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় সহজে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৪:১২
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ খুলে দিতে তেহরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত সামনে আনায় সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।   সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। এর পাশাপাশি মার্কিন সামরিক হুমকি ও হামলা বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর মতো শর্তও সামনে এসেছে।    ইরানের অবস্থান হলো, শুধু ওমানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। বৃহত্তর মার্কিন-ইরান সমঝোতার অংশ হিসেবেই জলপথটি পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে তেহরান।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। ফলে এর কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে তেল, গ্যাস ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে জলপথটি দ্রুত স্বাভাবিক করা ওয়াশিংটনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   তবে ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টো তিনি ইরানের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, অতীতে ইরানের কর্মকাণ্ডে নিহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।   ফলে দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থ চাইছে, আর ট্রাম্প প্রশাসন বলছে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বদলে ইরানেরই দায় স্বীকার করে অর্থ পরিশোধ করা উচিত।   এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণের দাবির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এই অর্থের কাঠামো ও কীভাবে তা পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জলপথটি পুনরায় চালু করার শর্ত এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য দুই পক্ষের অন্তত এক পক্ষকে বড় ধরনের ছাড় দিতে হতে পারে।   এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি এখন শুধু সামরিক সংঘাতের কেন্দ্র নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।   একদিকে তেহরান ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ একাধিক শর্তে অনড়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের এসব দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। ফলে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানো—তিনটি বিষয়ই এখন পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।   সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে ইরানের একাধিক শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবস্থান দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।  

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৪:০
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো’: ট্রাম্প

গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও “খুব ভালো” বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সোমবার ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন গাজা যুদ্ধ বন্ধে তার প্রশাসনের নেওয়া উদ্যোগ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে প্রকাশ্য মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। নেতানিয়াহু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজায় বর্তমান অবস্থান থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পরিকল্পনা মেনে নেবে না।    ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবটি গাজায় যুদ্ধ বন্ধ, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে একটি নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি নিয়ে হামাস ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ার পরও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আপত্তি এসেছে।    এই পরিস্থিতিকে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রকাশ্য মতবিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প নিজে দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সম্পর্ককে “খুব ভালো” বলে বর্ণনা করেছেন।    এর আগে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তবে গাজায় যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, ইসরায়েলি সেনা কখন ও কোথা থেকে সরে যাবে এবং হামাসের ভবিষ্যৎ কী হবে, এসব প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।   বিশেষ করে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের আগে হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণকে শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইসরায়েলের সম্মতি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে আপাতত এই মতপার্থক্যকে দুই দেশের সম্পর্কের বড় সংকট হিসেবে দেখানোর কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ভালো রয়েছে বলেই বার্তা দিয়েছেন।   ফলে এখন মূল প্রশ্ন, গাজা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের এই মতপার্থক্য শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের পরিকল্পনার বাস্তবায়নে কতটা প্রভাব ফেলবে। নেতানিয়াহু হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, আর ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কাঠামো এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।   অর্থাৎ, সম্পর্ক ভালো থাকার দাবি করলেও গাজা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর অবস্থানের পার্থক্য এখন আর গোপন নেই। আগামী দিনগুলোতে এই মতপার্থক্য দুই নেতার সম্পর্ক এবং গাজা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ সমাধানে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন নজরে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৩:৪৩
গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস রেখে লিবিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা
গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস রেখে লিবিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনী লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার ফাওজি মানসুরি গাড়িতে বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন।   সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব লিবিয়ার বেঙ্গাজি শহরের হাওয়ারি এলাকায় নিজ বাড়ির বাইরে তার গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরিত হলে তিনি নিহত হন। বিষয়টি রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা।   নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মানসুরি নিহত হন। তবে হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।   বিস্ফোরণে কী ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়েও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।   এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। হামলার উদ্দেশ্যও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।   লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামরিক বিভাজনের মধ্যে রয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে এলএনএ খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী সামরিক কাঠামো হিসেবে সক্রিয়। বেঙ্গাজি এই বাহিনীর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি।   সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে এই হামলা পূর্ব লিবিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৩:৩৯
পেনশন হারিয়ে ৮৮ বছরেও চাকরি
পেনশন হারিয়ে ৮৮ বছরেও চাকরি, অবশেষে মিলল ১০ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা

৮৮ বছর বয়সেও সপ্তাহে পাঁচ দিন, প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে সুপারমার্কেটে কাজ করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনাসদস্য এড বাম্বাস। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর অবসর নেওয়ার কথা থাকলেও আর্থিক সংকট তাকে আবারও কাজে ফিরতে বাধ্য করেছিল। কিন্তু এক অস্ট্রেলীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে আকস্মিক পরিচয় তার জীবনটাই বদলে দেয়।   মিশিগানের ব্রাইটনের একটি মেইজার সুপারমার্কেটে কাজ করতেন বাম্বাস। তিনি ১৯৯৯ সালে জেনারেল মোটরস থেকে অবসর নেন। পরে কোম্পানির আর্থিক সংকট ও পুনর্গঠনের সময় তার অবসর সুবিধা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। নিজের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসা ও সংসারের খরচ সামলাতে তিনি সম্পদ বিক্রি করেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পরও আর্থিক চাপ কাটেনি। শেষ পর্যন্ত বয়স ৮০ পেরিয়েও তাকে আবার পূর্ণকালীন কাজে ফিরতে হয়।    বাম্বাসের এই জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পারেন অস্ট্রেলীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্যাম ওয়েইডেনহোফার। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের সহায়তার গল্প তুলে ধরার সময় তিনি সুপারমার্কেটে বাম্বাসের সঙ্গে কথা বলেন। ৮৮ বছর বয়সেও কেন তাকে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে, তা জানার পর ওয়েইডেনহোফার তার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।   ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বাম্বাসকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে ওয়েইডেনহোফার একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ শুরু করেন। প্রথমে লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১০ লাখ ডলার। কিন্তু মানুষের ব্যাপক সাড়া সেই লক্ষ্যকে দ্রুত ছাড়িয়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই তহবিলে ১০ লাখ ডলারের বেশি জমা পড়ে। পরে মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৯ লাখ ৪২ হাজার ডলারে পৌঁছায় এবং প্রায় ৬৭ হাজার মানুষ এতে অনুদান দেন।    ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বাম্বাসকে প্রায় ১৭ লাখ ডলারের একটি চেক তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থ তাকে দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ থেকে বেরিয়ে এসে অবশেষে অবসর নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।    বাম্বাসের প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ডলারের ঋণ ছিল। অনুদানের অর্থের একটি অংশ সেই ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি অবসরের পর ভ্রমণ ও আবার গলফ খেলার মতো ব্যক্তিগত ইচ্ছাগুলো পূরণ করার সুযোগও তৈরি হয়।    বাম্বাসের গল্প শুধু একজন প্রবীণ সেনাসদস্যের আর্থিক সংকটের কাহিনি নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে বয়স বাড়ার পরও আর্থিক কারণে কাজ করে যেতে বাধ্য হওয়া প্রবীণদের বাস্তবতাকেও সামনে এনেছে। তার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অচেনা মানুষের সহযোগিতা শেষ পর্যন্ত একটি কঠিন জীবনপর্বের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।   ২০২৬ সালের এপ্রিলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাম্বাস শেষ পর্যন্ত ৫ জানুয়ারি অবসর নেন। নিজের সহকর্মী ও তাকে সহায়তা করা মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে তিনি ছুটির মৌসুম পর্যন্ত কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ওয়েইডেনহোফারের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রবীণ সেনাসদস্যকে সহায়তার একটি নতুন উদ্যোগেও যুক্ত হন।    একটি সুপারমার্কেটে হওয়া সামান্য এক কথোপকথন থেকে শুরু হয়েছিল ঘটনাটি। শেষ পর্যন্ত তা হাজার হাজার মানুষের সহযোগিতায় ৮৮ বছর বয়সী এক প্রবীণকে জীবনের কাঙ্ক্ষিত অবসরের সুযোগ এনে দেয়।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৩:২২
পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, সুবিধা হারাচ্ছেন বহু মানুষ
পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, সুবিধা হারাচ্ছেন বহু মানুষ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অভিবাসন ব্যবস্থায় প্রতারণা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করার মতো বিভিন্ন কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে।   সোমবার প্রকাশিত পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা বাতিলের সবচেয়ে বড় অংশের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা জড়িত। হামলা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, চুরি এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যৌন নিপীড়ন, শিশু নির্যাতন, প্রতারণা ও আত্মসাতের মতো অভিযোগের ক্ষেত্রেও ভিসা বাতিল করা হয়েছে।    পররাষ্ট্র দপ্তর যেসব মামলার উদাহরণ দিয়েছে, তার মধ্যে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, অপহরণ, মানবপাচার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। তবে ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে অভিযোগ বা গ্রেপ্তার এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিধিমালায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তিকে ভিসার জন্য অযোগ্য বিবেচিত হলে ভিসা বাতিলের সুযোগ রয়েছে।   এ তালিকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টও জায়গা পেয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে উল্লাস প্রকাশকারী কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসন এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং অন্যান্য কারণে ভিসা বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছে।    উত্তর আফ্রিকায় একটি মার্কিন দূতাবাস শতাধিক ভিসা বাতিল করেছে এমন ব্যক্তিদের, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের সঙ্গে তথাকথিত জন্মপর্যটনের বিষয়টি যুক্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা সাধারণত জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পায়। তবে ভিসার উদ্দেশ্য বা ব্যবহারে প্রতারণা বা অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে।  মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ভিসা কোনো অধিকার নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য দেওয়া একটি বিশেষ অনুমতি। তাই ভিসার শর্ত ভঙ্গ বা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে এমন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রশাসন ভিসা বাতিলের ক্ষমতা ব্যবহার করবে।   ভিসা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের আবেদন ও যোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার ওপরও গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। চলমান এই নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, পড়াশোনা, কাজ কিংবা অন্যান্য বৈধ অভিবাসন সুবিধা প্রত্যাশী বিদেশি নাগরিকদের জন্য যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।    তবে এই নীতি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের উদ্বেগও রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যকে ভিসা বাতিলের ভিত্তি হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিজস্ব নীতিতেও ভিসা বাতিলের নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি রয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ভিসাধারী ভিসার জন্য অযোগ্য হয়ে পড়লে বা নির্দিষ্ট আইনগত কারণে তার ভিসা বাতিল করা যেতে পারে। ফলে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিলের এই সংখ্যা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ও ভিসা ব্যবস্থায় কঠোর প্রয়োগের পরিসরকে স্পষ্ট করছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৩:১৪
উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বিস্ফোরণ চীনের স্যাটেলাইটবাহী রকেট
আবারো চীনের ব্যর্থতা! উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বিস্ফোরণ চীনের স্যাটেলাইটবাহী রকেট

চীনের মহাকাশ কর্মসূচিতে বড় ধাক্কা এসেছে। সোমবার ১০ আগস্ট হাইনান প্রদেশের ওয়েনচাং মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণের পর লং মার্চ ৭এ রকেটটি মাত্র ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই আকাশে ভেঙে পড়ে। রকেটটিতে থাকা চায়নাস্যাট ৪বি যোগাযোগ উপগ্রহটিও কক্ষপথে পৌঁছাতে পারেনি।    চীনের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২ মিনিটে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। শুরুতে স্বাভাবিকভাবে উড্ডয়ন করলেও কিছুক্ষণ পর রকেটটির উড্ডয়নে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। এরপর সেটি ভেঙে পড়ে এবং মিশনটি ব্যর্থ ঘোষণা করা হয়। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।    লং মার্চ ৭এ চীনের মাঝারি ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ রকেট। উচ্চ কক্ষপথে উপগ্রহ পাঠানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এবারের মিশনের লক্ষ্য ছিল চায়নাস্যাট ৪বি যোগাযোগ উপগ্রহকে কক্ষপথে স্থাপন করা। উপগ্রহটি যোগাযোগ সেবা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এই ব্যর্থতা লং মার্চ ৭এ রকেটের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২০ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হওয়ার পর রকেটটি পরবর্তী সময়ে একাধিক সফল মিশন সম্পন্ন করেছে। ২০২৬ সালের এই ঘটনার আগে এর উৎক্ষেপণ কার্যক্রমে দীর্ঘ সময় কোনো ব্যর্থতা দেখা যায়নি।    বিশেষজ্ঞদের মতে, মিশন ব্যর্থতার সঠিক কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে রকেটটির কোনো গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক বা ইঞ্জিনসংক্রান্ত সমস্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা অন্য রকেট উৎক্ষেপণ নিয়েও অতিরিক্ত পর্যালোচনা হতে পারে।    চীনের জন্য ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দেশটি মহাকাশে নিজেদের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ওয়েনচাং উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের রকেট ও উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ রকেটের ব্যর্থতা পরবর্তী কয়েকটি মিশনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা যাচাইয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।   তবে এই ঘটনার কারণে চীনের পুরো মহাকাশ কর্মসূচি থেমে যাবে এমন কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। চীনা কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল এবং লং মার্চ ৭এ রকেটের পরবর্তী উৎক্ষেপণ নিয়ে সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১:১৯
স্কুলের খাবারে ফিরছে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ, পুষ্টিকর খাবার
ট্রাম্প এডমিনিস্ট্রেশন এর বড় বিনিয়োগ! স্কুলের খাবারে ফিরছে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ, পুষ্টিকর খাবার

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলের মধ্যাহ্নভোজে দীর্ঘদিন পর আবার পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধসহ আরও পুষ্টিসমৃদ্ধ ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারের সুযোগ বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন স্কুলের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি খাদ্য সংগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।   ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ স্কুলের খাবারে ফিরিয়ে আনার আইনে স্বাক্ষর করেন। পরে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ নতুন বিধি কার্যকর করে। এর ফলে দুই বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য স্কুলসহ বিভিন্ন ফেডারেল শিশু-পুষ্টি কর্মসূচিতে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ ও দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধ দেওয়ার সুযোগ আবার চালু হয়।   এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের জন্য নতুন খাদ্য নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এতে পুরোপুরি প্রাকৃতিক, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।   স্কুলের খাবারে এই পরিবর্তনের লক্ষ্য শুধু দুধ বা নতুন কিছু খাবার যোগ করা নয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফল, সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য স্কুলের খাবারের ব্যবস্থায় যুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের তাজা ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে পরিচিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।   এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৬ অর্থবছরে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে স্কুলের সরাসরি সংযোগ তৈরির কর্মসূচিতে প্রায় দুই কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে। মোট ৬৮টি প্রকল্পকে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্প ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় কৃষক, খাদ্য উৎপাদক এবং স্কুলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও খাদ্য সরবরাহের সুযোগ তৈরি করবে।   স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত খাবার স্কুলের মধ্যাহ্নভোজ, গ্রীষ্মকালীন খাবার কর্মসূচি এবং শিশু যত্নকেন্দ্রে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে এই কর্মসূচি। পাশাপাশি স্কুল বাগান, কৃষি শিক্ষা, স্থানীয় খাদ্য সংগ্রহ এবং শিক্ষার্থীদের কৃষি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়ার মতো কার্যক্রমও এতে রয়েছে।   কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এই অনুদান কর্মসূচি চালুর পর থেকে এক বছরে সবচেয়ে বড় আর্থিক বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২০১৩ সালে কর্মসূচি চালুর পর থেকে সংস্থাটি ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে। এ অর্থ দিয়ে ৫০টি অঙ্গরাজ্যসহ বিভিন্ন মার্কিন অঞ্চলে ১ হাজার ২৬৫টির বেশি প্রকল্পে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।   স্কুলের রান্নাঘর আধুনিক করার জন্যও আলাদা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে জাতীয় স্কুল মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচির আওতায় রান্নাঘরের সরঞ্জাম কেনার জন্য দুই কোটি ডলারের অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্কুলগুলো আধুনিক ওভেন, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনে তাজা খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে পারবে।   তবে স্কুলের খাবারে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। সরকারের নতুন নীতিতে পুষ্টিসমৃদ্ধ ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট কোনো খাবার সবার জন্য একইভাবে উপকারী কি না, তা বয়স, স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করতে পারে।   সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলের খাবার ব্যবস্থায় স্থানীয় কৃষিপণ্য, প্রাকৃতিক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার এবং বিভিন্ন ধরনের দুধের দিকে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের খাবারের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের জন্যও স্কুলভিত্তিক বড় বাজার তৈরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১:১৪
নিউইয়র্কের সবচেয়ে সাশ্রয়ী শহরে ৮৭ হাজার ডলারেই মিলছে বাড়ি! তবুও নেই বাসিন্দা
নিউইয়র্কের সবচেয়ে সাশ্রয়ী শহরে ৮৭ হাজার ডলারেই মিলছে বাড়ি! তবুও নেই বাসিন্দা

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বাড়ি কেনার খরচ যখন অনেকের নাগালের বাইরে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে ইউটিকার শহরে। নিউইয়র্ক সিটির প্রায় চার ঘণ্টা উত্তরে অবস্থিত এই শহরে কিছু এলাকায় বাড়ির গড় মূল্য ৮৭ হাজার ডলারের কাছাকাছি, আর মাসিক ভাড়া শুরু হচ্ছে প্রায় ৯০০ ডলার থেকে। কিন্তু এত সাশ্রয়ী হওয়ার পরও শহরটি জনসংখ্যা ধরে রাখতে পারছে না।    মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অন্যতম সাশ্রয়ী আবাসন বাজার এখন ইউটিকা। এলাকাভেদে বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৮৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের মধ্যে। তবে শহরটির সামগ্রিক গড় বাড়ির মূল্য আরও বেশি, প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার ৪১২ ডলার, যা গত এক বছরে প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।    বাড়ির দামের পাশাপাশি ইউটিকার জীবনযাত্রার ব্যয়ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গড়ের তুলনায় প্রায় ২৮ থেকে ৩৩ শতাংশ কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু বাড়ি ১ লাখ ডলারেরও নিচে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এমনকি পাঁচ বেডরুমের একটি বাড়ির দাম ৮৯ হাজার ৯০০ ডলার এবং তিন বেডরুমের একটি বাড়ির দাম ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার রাখা হয়েছে।    কিন্তু কম দামের আবাসনই ইউটিকার সবচেয়ে বড় সমস্যা সমাধান করতে পারছে না। শহরটির জনসংখ্যা ২০২০ সালের আদমশুমারির পর থেকে ৪ শতাংশের বেশি কমেছে। সাম্প্রতিক বছরেও প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ শহরটি ছেড়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বর্তমানে জনসংখ্যা বছরে প্রায় শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ হারে কমছে।    এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট। একসময় শিল্পনির্ভর ইউটিকা কয়েক দশকের শিল্পায়ন পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিবর্তনে বড় ধরনের কর্মসংস্থান হারিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠানের কারখানা বন্ধ হওয়া এবং চাকরি শহরের বাইরে চলে যাওয়ার ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও করভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।   শহরটির মধ্যম পারিবারিক আয় এখন প্রায় ৫২ হাজার ডলার, যা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গড়ের তুলনায় অনেক কম। ২০২৪ সালে ইউটিকার একজন ব্যক্তির মধ্যম আয় ছিল প্রায় ৩০ হাজার ৭৮৫ ডলার। একই সঙ্গে শহরটির দারিদ্র্যের হার ২৭ শতাংশের বেশি, যা জাতীয় হারের প্রায় দ্বিগুণ। বেকারত্বের হারও প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।    ফলে ইউটিকার আবাসন বাজারে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। বাড়ি কেনার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভালো বেতনের চাকরি ও অর্থনৈতিক সুযোগের অভাব অনেক মানুষকে অন্য শহরে চলে যেতে উৎসাহিত করছে।   নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে সাশ্রয়ী শহরের তালিকা অবশ্য কোন তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে তার ওপর পরিবর্তিত হয়। ২০২৬ সালের আরেকটি আবাসন বিশ্লেষণে জামেস্টাউনকে অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে সাশ্রয়ী স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৯১৪ ডলার এবং মধ্যম ভাড়া ৭৫৯ ডলার।    তবে ইউটিকাকে আলাদা করে আলোচনায় এনেছে কম দামে বাড়ি পাওয়ার সুযোগ এবং একই সঙ্গে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার বাস্তবতা। অর্থাৎ, এখানে সাশ্রয়ী দামে বাড়ি কেনা সম্ভব হলেও সেটিকে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১:৫
নোংরা ডায়াপারে দম বন্ধ হয়ে শিশুর মৃত্যু
নোংরা ডায়াপারে দম বন্ধ হয়ে শিশুর মৃত্যু, আবর্জনায় ভরা গ্যারেজে রাখার অভিযোগে বাবা-মা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে মাত্র এক বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আবর্জনা, ময়লা ডায়াপার, পশুর মলমূত্র ও অন্যান্য বিপজ্জনক বর্জ্যে ভরা একটি অপরিচ্ছন্ন গ্যারেজে শিশুটিকে রাখা হতো। গত ২৭ জুলাই মলমূত্রে নোংরা একটি ডায়াপারের অংশ মুখে যাওয়ার পর দম বন্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনায় ২২ বছর বয়সী ডিভান উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে হত্যা এবং শিশুটির মা ২২ বছর বয়সী আলেক্সান্দ্রা প্রাইসের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা বর্তমানে অ্যালেন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। আগামী ১২ আগস্ট অ্যালেন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাদের হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে একমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন উইলিয়ামস। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, শিশুটি মলমূত্রযুক্ত ডায়াপারের অংশ খাওয়ার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি আরও জানান, এর আগেও শিশুটি নোংরা ডায়াপার মুখে নিয়েছিল।   শিশুটিকে পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার মুখে রক্তপাত ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এসব আঘাতকে পুলিশ সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে।   তদন্তে শিশুটির থাকার পরিবেশ নিয়েও ভয়াবহ তথ্য সামনে আসে। পুলিশের নথি অনুযায়ী, পরিবারটি একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণবিহীন গ্যারেজে বসবাস করত। সেখানে প্রচুর আবর্জনা, বিয়ার ক্যান, ব্যবহৃত ডায়াপার এবং বিড়ালের মূত্র ছিল। শিশুটির খেলার খাঁচাটিও দূষিত মেঝের ওপর রাখা ছিল।   পুলিশের পরিদর্শনে ওই এলাকায় পশুর মূত্র ও মল, কাঁচা পয়ঃবর্জ্য, পচনশীল প্রাণীর দেহাবশেষ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঘরটিতে মাছি ও মাকড়সার উপস্থিতি, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাবও ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।   আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, শিশুটিকে বাইরে ব্যবহারের পানির পাইপ দিয়ে গোসল করানো হতো। এমনকি উইলিয়ামস শিশুটিকে অতিরিক্ত ঝাল খাবার খাওয়াতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। শিশুটির মা তাকে এ ধরনের খাবার না দিতে বলেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি নিয়মিত ডায়াপার, সোফার কুশনসহ অনিরাপদ বিভিন্ন জিনিস মুখে নিত। পরিবারের সদস্যরাও শিশুটির চারপাশের পরিবেশ যে অত্যন্ত নোংরা ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তা স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শিশুটিকে দীর্ঘ সময় ধরে এমন একটি পরিবেশে রাখা হয়েছিল, যা তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত নোংরা ডায়াপারের অংশ মুখে যাওয়ার পর দম বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।   অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আগামী শুনানিতে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ০:৪৭