ট্রাম্পের দাতার কোম্পানির হাতে সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের বিলিয়ন ডলারের কাজ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দাতা টিম বার্নার্ডের মালিকানাধীন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বার্নার্ড কনস্ট্রাকশন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল ও অন্যান্য সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সরকারি চুক্তি পেয়েছে।
মন্টানাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে টেক্সাসের বিগ বেন্ড এলাকায় সরকারি অনুমতি ছাড়া রাজ্য মালিকানাধীন জমিতে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগও উঠেছে।
মার্কিন সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া হিসাবে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বার্নার্ড কনস্ট্রাকশন ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সীমান্ত নির্মাণকাজে ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের চুক্তি পেয়েছে।
এর মধ্যে ২০২৬ সালের ৫ মার্চ প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৯৬ কোটি ডলারের একটি চুক্তি দেওয়া হয়। ‘বিগ বেন্ড বর্ডার ব্যারিয়ার কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট’ নামে ওই প্রকল্পের আওতায় পশ্চিম টেক্সাসের টেরলিঙ্গুয়া এলাকায় রিও গ্র্যান্ডে নদীর তীরবর্তী সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণের কথা রয়েছে।
একই দিনে টেক্সাসের হাডস্পেথ কাউন্টি এলাকায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার এবং ডেল রিওর কাছে প্রায় ৬০ কোটি ডলারের আরও সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ চুক্তিও প্রতিষ্ঠানটি পায় বলে বিভিন্ন সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
কে এই টিম বার্নার্ড?
টিম বার্নার্ড ১৯৭৫ সালে মন্টানায় বার্নার্ড কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠা করেন। বোযম্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বাঁধ, জলাধার, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সুড়ঙ্গ, পাইপলাইন, পানি ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনসহ বড় ধরনের নির্মাণকাজ করে।
বার্নার্ডের রাজনৈতিক যোগাযোগও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে। মার্কিন ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে টিম বার্নার্ড ও তার স্ত্রী ট্রাম্প-সমর্থিত যৌথ তহবিল সংগ্রহ কমিটি ও একটি রাজনৈতিক সংগঠনে মোট ১০ লাখ ডলার অনুদান দেন।
এ ছাড়া বার্নার্ড কনস্ট্রাকশনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও ট্রাম্প ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রচারণায় ১০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দেওয়ার তথ্য বিভিন্ন রাজনৈতিক অর্থায়ন-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারে পাওয়া গেছে।
চুক্তি নিয়ে আইনি বিতর্ক
সীমান্ত নির্মাণকাজ নিয়ে বিতর্ক আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী নির্মাণ প্রতিষ্ঠান পসিলিকো সিভিল ২০২৬ সালের মে মাসে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে অভিযোগ করেছিল, টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোর নতুন সীমান্ত দেয়াল প্রকল্পের বড় অংশ বার্নার্ড কনস্ট্রাকশন ও ফিশার স্যান্ড অ্যান্ড গ্র্যাভেলের মতো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি সেই মামলা প্রত্যাহার করে নেয়।
এর মধ্যেই বিগ বেন্ড এলাকায় নতুন অভিযোগ সামনে আসে। ৩১ জুলাই টেক্সাস জেনারেল ল্যান্ড অফিস মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন এবং বার্নার্ড কনস্ট্রাকশনকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠায়।
অভিযোগ, দক্ষিণ প্রেসিডিও কাউন্টিতে রাজ্যের মালিকানাধীন এক মাইলেরও বেশি জমি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিষ্কার করা হয়েছে।
টেক্সাসের ভূমি কমিশনার ডন বাকিংহাম বলেন, রাজ্যের অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাজ করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের সার্বভৌমত্বও রক্ষা করতে হবে।
পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ
বিগ বেন্ড এলাকায় সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের বিরোধিতা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই।
তাদের আশঙ্কা, ভারী নির্মাণযন্ত্র ও স্থায়ী দেয়াল মরুভূমির পরিবেশব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিগ বেন্ড অঞ্চলের পাঁচটি কাউন্টির শেরিফ মার্চে যৌথ বিবৃতিতে নির্মাণকাজ বন্ধের আহ্বান জানান। তাদের যুক্তি, দুর্গম ভূপ্রকৃতিই ওই অঞ্চলে ইতোমধ্যে একটি প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। সেখানে বিশাল স্থাপনা নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তারা প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। সীমান্ত দেয়াল ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ সেই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক দাতার প্রতিষ্ঠানের হাতে বিপুল সরকারি চুক্তি, বিগ বেন্ড এলাকায় অনুমোদন নিয়ে বিরোধ এবং পরিবেশগত উদ্বেগ—সব মিলিয়ে সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের এই প্রকল্প নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এনেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস। নতুন নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে স্থায়ী বসবাসের আবেদন বা অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগকে এখন বিশেষ পরিস্থিতিতে দেওয়া একটি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে অনেক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে। গত ২১ মে জারি করা নতুন নীতিনির্দেশনায় ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় থাকা কেউ গ্রিন কার্ড পেতে চাইলে সাধারণ নিয়মে তাকে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আবেদন করতে হবে। তবে বিশেষ বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক অভিবাসীর গ্রিন কার্ডের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অস্থায়ী কর্মী এবং অন্যান্য অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই আবেদন করা সম্ভব হবে কি না, তা এখন আরও কঠোরভাবে যাচাই করতে পারেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কেউই আর গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যোগ্যতা পূরণকারী অস্থায়ী ভিসাধারীরা এখনো অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। তবে নতুন নীতিতে এই সুবিধা অনুমোদনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের বিবেচনামূলক ক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীর পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করা হতে পারে। অর্থাৎ শুধু আইনগত যোগ্যতা পূরণ করলেই আবেদন অনুমোদনের নিশ্চয়তা থাকবে না। কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি এবং অন্যান্য ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে দুটি প্রক্রিয়ার পার্থক্যও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আবেদন করার পদ্ধতিকে বলা হয় অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আবেদন। অন্যদিকে কনস্যুলার প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। নতুন নীতির ফলে যাঁদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেতে হবে, তাঁদের জন্য চাকরি, পড়াশোনা, পরিবার এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নানা বাস্তব সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারের সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকা বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। অভিবাসন আইনজীবীরাও নতুন নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী, কর্মী বা অন্য কোনো অস্থায়ী ভিসায় থাকা কেউ যদি ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পরিকল্পনা করেন, তাহলে পুরোনো নিয়মের ওপর নির্ভর না করে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের পরিস্থিতি যাচাই করা জরুরি। তবে ইতোমধ্যে গ্রিন কার্ডধারী বা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব নেই। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে নতুন করে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার আবেদনকারীদের জন্যই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া এখনো বিদ্যমান। তাই প্রত্যেক আবেদনকারীর ভিসার ধরন, আবেদন করার ভিত্তি এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম আলাদা হতে পারে। জটিল কোনো আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
কানাডার ভিসায় চিকিৎসা পরীক্ষা থেকে ছাড় পেতে পারেন ৪ শ্রেণির বিদেশি
ট্রাম্পের দাতার কোম্পানির হাতে সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের বিলিয়ন ডলারের কাজ
অভিবাসন অভিযানের প্রভাবে অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা, পরীক্ষার ফল খারাপের আশঙ্কা শিক্ষকদের
চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশেষ করে জেন-জি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বিপুলসংখ্যক নিয়োগদাতা। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক জরিপে ১ হাজার ১১৫ জন নিয়োগ ব্যবস্থাপকের মতামত নেওয়া হয়। এতে ৫৪ শতাংশ নিয়োগদাতা জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার পর কোনো জেন-জি প্রার্থী হঠাৎ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। ৬৬ শতাংশ নিয়োগদাতা বলেছেন, এ ধরনের আচরণ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলেছে। চাকরির প্রস্তাব পাওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করার ঘটনাগুলোও ছিল বিভিন্ন ধরনের। কেউ প্রস্তাব গ্রহণ করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করেননি। কেউ কাগজপত্র শেষ করেও প্রথম কর্মদিবসে কাজে যোগ দেননি। আবার কেউ কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ কাজ করার পর কোনো নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। কেন বাড়ছে এমন প্রবণতা বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বর্তমান চাকরির বাজারে একজন প্রার্থী একই সময়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন ও সাক্ষাৎকার দিতে পারেন। এর মধ্যে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে বেশি বেতন, ভালো সুযোগ-সুবিধা কিংবা পছন্দের কাজের প্রস্তাব এলে আগের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়াও এর একটি কারণ হতে পারে। চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রার্থী বাছাই, একাধিক ধাপে সাক্ষাৎকার এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় লাগলে কাঙ্ক্ষিত প্রার্থী অন্য সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। তবে শুধু তরুণ প্রার্থীদের আচরণ দিয়ে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যায় না। নিয়োগদাতারাও কি প্রার্থীদের এড়িয়ে যাচ্ছেন? চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, অনেক প্রতিষ্ঠান সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর আর কোনো উত্তর দেয় না। কখনো কখনো প্রার্থীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রেখে নিয়োগদাতারা হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এটিকেও একই ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ সমস্যাটি একমুখী নয়। চাকরিপ্রার্থীরা যেমন নিয়োগদাতার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করছেন, তেমনি নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধেও প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার অভিযোগ রয়েছে। জেন-জিকে নিয়ে বিতর্ক জরিপে অংশ নেওয়া ৬৬ শতাংশ নিয়োগদাতা মনে করেন, জেন-জি প্রার্থীদের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলছে। এমনকি প্রায় ১০ শতাংশ নিয়োগদাতা জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিজ্ঞতার কারণে তারা জেন-জি প্রার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হয়ে উঠেছেন। তবে একটি প্রজন্মের সব কর্মীকে একই আচরণের জন্য দায়ী করা নিয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বয়সের পাশাপাশি চাকরির ধরন, বেতন, কর্মপরিবেশ, প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতিও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। বদলে যাচ্ছে নিয়োগের ধরন ঘন ঘন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করার চেষ্টা করছে। চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার পর প্রার্থীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, দায়িত্ব ও বেতন-সুবিধা আগে থেকেই পরিষ্কার করা এবং যোগদানের তারিখ নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, চাকরির প্রস্তাব পাওয়ার পর কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া একজন প্রার্থীর পেশাগত ভাবমূর্তির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ভবিষ্যতে একই প্রতিষ্ঠান কিংবা সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার কাছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সব মিলিয়ে, চাকরির বাজারে হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা এখন শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় নয়। এটি নিয়োগদাতা ও চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে আস্থা ও যোগাযোগের পরিবর্তিত চিত্রও তুলে ধরছে। আর কর্মক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের প্রবেশ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবণতা ভবিষ্যতের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কতটা বদলে দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
পেনশন হারিয়ে ৮৮ বছরেও চাকরি, অবশেষে মিলল ১০ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা
পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, সুবিধা হারাচ্ছেন বহু মানুষ
ট্রাম্প এডমিনিস্ট্রেশন এর বড় বিনিয়োগ! স্কুলের খাবারে ফিরছে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ, পুষ্টিকর খাবার
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বাড়ি কেনার খরচ যখন অনেকের নাগালের বাইরে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে ইউটিকার শহরে। নিউইয়র্ক সিটির প্রায় চার ঘণ্টা উত্তরে অবস্থিত এই শহরে কিছু এলাকায় বাড়ির গড় মূল্য ৮৭ হাজার ডলারের কাছাকাছি, আর মাসিক ভাড়া শুরু হচ্ছে প্রায় ৯০০ ডলার থেকে। কিন্তু এত সাশ্রয়ী হওয়ার পরও শহরটি জনসংখ্যা ধরে রাখতে পারছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অন্যতম সাশ্রয়ী আবাসন বাজার এখন ইউটিকা। এলাকাভেদে বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৮৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের মধ্যে। তবে শহরটির সামগ্রিক গড় বাড়ির মূল্য আরও বেশি, প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার ৪১২ ডলার, যা গত এক বছরে প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। বাড়ির দামের পাশাপাশি ইউটিকার জীবনযাত্রার ব্যয়ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গড়ের তুলনায় প্রায় ২৮ থেকে ৩৩ শতাংশ কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু বাড়ি ১ লাখ ডলারেরও নিচে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এমনকি পাঁচ বেডরুমের একটি বাড়ির দাম ৮৯ হাজার ৯০০ ডলার এবং তিন বেডরুমের একটি বাড়ির দাম ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার রাখা হয়েছে। কিন্তু কম দামের আবাসনই ইউটিকার সবচেয়ে বড় সমস্যা সমাধান করতে পারছে না। শহরটির জনসংখ্যা ২০২০ সালের আদমশুমারির পর থেকে ৪ শতাংশের বেশি কমেছে। সাম্প্রতিক বছরেও প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ শহরটি ছেড়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বর্তমানে জনসংখ্যা বছরে প্রায় শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ হারে কমছে। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট। একসময় শিল্পনির্ভর ইউটিকা কয়েক দশকের শিল্পায়ন পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিবর্তনে বড় ধরনের কর্মসংস্থান হারিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠানের কারখানা বন্ধ হওয়া এবং চাকরি শহরের বাইরে চলে যাওয়ার ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও করভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। শহরটির মধ্যম পারিবারিক আয় এখন প্রায় ৫২ হাজার ডলার, যা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গড়ের তুলনায় অনেক কম। ২০২৪ সালে ইউটিকার একজন ব্যক্তির মধ্যম আয় ছিল প্রায় ৩০ হাজার ৭৮৫ ডলার। একই সঙ্গে শহরটির দারিদ্র্যের হার ২৭ শতাংশের বেশি, যা জাতীয় হারের প্রায় দ্বিগুণ। বেকারত্বের হারও প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। ফলে ইউটিকার আবাসন বাজারে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। বাড়ি কেনার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভালো বেতনের চাকরি ও অর্থনৈতিক সুযোগের অভাব অনেক মানুষকে অন্য শহরে চলে যেতে উৎসাহিত করছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে সাশ্রয়ী শহরের তালিকা অবশ্য কোন তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে তার ওপর পরিবর্তিত হয়। ২০২৬ সালের আরেকটি আবাসন বিশ্লেষণে জামেস্টাউনকে অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে সাশ্রয়ী স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৯১৪ ডলার এবং মধ্যম ভাড়া ৭৫৯ ডলার। তবে ইউটিকাকে আলাদা করে আলোচনায় এনেছে কম দামে বাড়ি পাওয়ার সুযোগ এবং একই সঙ্গে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার বাস্তবতা। অর্থাৎ, এখানে সাশ্রয়ী দামে বাড়ি কেনা সম্ভব হলেও সেটিকে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
নোংরা ডায়াপারে দম বন্ধ হয়ে শিশুর মৃত্যু, আবর্জনায় ভরা গ্যারেজে রাখার অভিযোগে বাবা-মা গ্রেপ্তার
"এটা খুবই বিপজ্জনক", বিলিয়নিয়ার্সদের সেই টাওয়ারে ঝরছে ‘কংক্রিটের টুকরো'! দ্রুত কমছে দাম