সন্তান জন্মের চার দিন আগে পেনসিলভানিয়ায় গুলিতে নিহত অন্তঃসত্ত্বা নারী
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে একটি বাড়িতে গুলির ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা নারী অ্যাঞ্জেলিনা স্টোনসহ আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তাঁর দুই শিশুসন্তানও রয়েছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীও মারা গেছেন। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছেন, অ্যাঞ্জেলিনার সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ছিল ঘটনার মাত্র চার দিন পর। অনাগত সন্তানটির নামও রাখা হয়েছিল কাইরি।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরির পেরি স্ট্রিটের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে পরিবারের আটজন সদস্য এবং তাঁদের একজন পারিবারিক বন্ধু ছিলেন। অ্যাঞ্জেলিনার দুই শিশুসন্তানের নাম ইসাইয়া ও আমারি’আনা। তাদের বয়স যথাক্রমে পাঁচ বছর ও এক বছর। এ ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন দুই ভাই, মা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠজন। এ ঘটনায় একটি পরিবারের একাধিক প্রজন্মের সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ৪৫ বছর বয়সী ব্যক্তি পরিবারের সাতজন নিহতের আত্মীয় ছিলেন।
পরিবারটির ঘনিষ্ঠ বন্ধু লিসা সিমার্স সিবিএস নিউজকে জানান, অ্যাঞ্জেলিনা তাঁর অনাগত সন্তানকে পৃথিবীতে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর দুই শিশুসন্তানও পরিবারের সবার কাছে খুব প্রিয় ছিল। সিমার্স বলেন, শিশুরা নিষ্পাপ ছিল এবং তাদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার কথা ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে। ঘটনার সময় বাড়ির বাইরে থেকেও ভেতরে কী ঘটছিল, তা বুঝতে না পারা এবং কিছু করতে না পারার অসহায়ত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরি নিউজ নাউকেও দেওয়া বক্তব্যে তিনি পরিবারটির প্রতি নিজের গভীর মমত্ববোধের কথা জানান।
ইরি পুলিশের প্রধান রিচার্ড লোরাহ জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেলে গুলির শব্দ শনাক্তকারী ব্যবস্থার মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বাড়ির বাইরে ৫১ ও ৩৭ বছর বয়সী দুই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে বাড়ির ভেতর থেকে আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে দুই শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ছিলেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বাড়ির দোতলায় একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি নিজেই নিজের গুলিতে মারা গেছেন।
পুলিশের প্রধান লোরাহ সংবাদ সম্মেলনে জানান, আশপাশের এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দুই নারীকে বাড়িটির দিকে আসতে দেখা গেছে। তাঁদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল, তাঁরা বাড়ির ভেতরে কোনো সমস্যার বিষয়ে জানতে পেরে সাহায্য চাইছিলেন। ভিডিওতে তাঁদের প্রতিবেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা এবং বাড়ির দরজায় আঘাত করার দৃশ্যও রয়েছে। তদন্তকারীদের পর্যালোচনা করা ভিডিও ও শব্দ ধারণ করা তথ্য অনুযায়ী, দুই নারী বাড়িতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে ভেতর থেকে চাপা গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে সন্দেহভাজন ব্যক্তি বাইরে এসে তাঁদের গুলি করেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
ইরি শহর কর্তৃপক্ষের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ পৌঁছানোর পর সেখানে আর কোনো গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেনি বলেও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় পুলিশের সাড়া দিতে দেরি হয়েছিল, এমন তথ্যও নাকচ করা হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ নিহতদের স্বজন ও ঘটনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কী ঘটেছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।
এদিকে অ্যাঞ্জেলিনা ও তাঁর সন্তানদের শেষকৃত্যের ব্যয় মেটাতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। গোফান্ডমিতে খোলা তহবিল সংগ্রহের পাতায় বলা হয়েছে, পরিবারের হাতে এই আকস্মিক ক্ষতির ব্যয় বহনের মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই। শেষকৃত্য ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে স্থানীয় মানুষের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ওই তহবিল সংগ্রহের বিবরণে অ্যাঞ্জেলিনার ছেলে ইসাইয়া, মেয়ে আমারি’আনা এবং অনাগত সন্তান কাইরির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের এই বিপর্যয়ে স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁদের পরিচিতজনেরা।
পেনসিলভানিয়ার এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ প্রধান লোরাহ বলেন, কিছু ঘটনাস্থলের স্মৃতি দায়িত্ব পালন শেষে চলে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন মনে থেকে যায়। তাঁর মতে, এটি তেমনই একটি মর্মান্তিক ঘটনা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনই কোনো অনুমানভিত্তিক সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না। সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে নিহতদের সম্পর্ক, ঘটনার আগে কী ঘটেছিল এবং কী কারণে এই সহিংসতা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কে স্কুলে পড়ুয়া সন্তান সহপাঠীদের হাতে হয়রানি বা বুলিংয়ের শিকার হলে কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে, তা অনেক অভিভাবকেরই জানা নেই। বিশেষ করে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য স্কুলের নিয়ম, অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। সন্তান হঠাৎ স্কুলে যেতে না চাইলে, টিফিন না খেলে, সহপাঠীদের ভয়ে চুপচাপ থাকলে কিংবা স্কুল থেকে ফেরার পর কান্নাকাটি করলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এসব লক্ষণের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে, তবে বুলিংয়ের আশঙ্কা থাকলে সন্তানের সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলে কী ঘটছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। বুলিং বলতে শুধু মারধর বা শারীরিক আক্রমণ বোঝায় না। কাউকে বারবার অপমান করা, নাম ধরে বিদ্রূপ করা, ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া, ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধুদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা, গুজব ছড়ানো কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপদস্থ করাও এর মধ্যে পড়তে পারে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের ‘রেসপেক্ট ফর অল’ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হয়রানি, ভয় দেখানো, বৈষম্য ও বুলিং প্রতিরোধের নীতিমালা রয়েছে। জাতি, বর্ণ, ধর্ম, জাতীয় পরিচয়, অভিবাসন-সংক্রান্ত পরিচয়, লিঙ্গ, প্রতিবন্ধিতা বা ওজনের ভিত্তিতে কাউকে হেনস্তা করার বিষয়টিও এই নীতিমালার আওতায় আসতে পারে। প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান সন্তান নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হলে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে স্কুলের অধ্যক্ষ, শ্রেণিশিক্ষক, কাউন্সেলর অথবা ‘রেসপেক্ট ফর অল লিয়াজোঁ’র সঙ্গে যোগাযোগ করুন। স্কুলের নির্ধারিত এই কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও বুলিংয়ের অভিযোগ গ্রহণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপে সহায়তা করেন। সম্ভব হলে শুধু মৌখিকভাবে না জানিয়ে ইমেইল বা লিখিত অভিযোগ দিন। অভিযোগে ঘটনার তারিখ, সময়, স্থান, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা থাকলে তা এবং কী ধরনের আচরণ করা হয়েছে, সেগুলো উল্লেখ করুন। অভিযোগ জানানোর পর স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার তদন্তের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান। একই সঙ্গে অভিযোগের শনাক্তকরণ নম্বর বা ‘অনলাইন অকরেন্স রিপোর্টিং সিস্টেম’ (OORS) নম্বর চাইতে পারেন। এই নম্বর পরবর্তী সময়ে অভিযোগের অগ্রগতি জানতে কাজে লাগবে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের নির্দেশনা অনুযায়ী, বুলিং বা হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সহায়তা বা শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। স্কুল ব্যবস্থা না নিলে কোথায় অভিযোগ করবেন স্কুলে জানানোর পরও যদি হয়রানি বন্ধ না হয়, অথবা স্কুলের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট না হন, তাহলে নিউইয়র্ক সিটি শিক্ষা বিভাগের (NYCPS) কাছে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন। এ জন্য সরকারি অনলাইন পোর্টাল রয়েছে: nycenet.edu/bullyingreporting। সেখানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বুলিং, ভয় দেখানো, হয়রানি ও বৈষম্যের ঘটনা জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। অভিযোগ করার জন্য অভিভাবক হওয়া বাধ্যতামূলক নয়; ঘটনাটি সম্পর্কে জানা অন্য ব্যক্তিও রিপোর্ট করতে পারেন। ফোনে অভিযোগ বা সহায়তা পেতে (718) 935-2288 নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। নিউইয়র্ক সিটি শিক্ষা বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নম্বরে সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যোগাযোগ করা যায়। এ ছাড়া RespectForAll@schools.nyc.gov ঠিকানায় ইমেইল করা যায়। চাইলে পরিচয় গোপন রেখেও অভিযোগ জানানো সম্ভব, যদিও যোগাযোগের তথ্য দিলে কর্তৃপক্ষের পক্ষে অভিযোগের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো সহজ হতে পারে। অভিযোগ করার সময় যেসব প্রমাণ রাখবেন বুলিংয়ের ঘটনা ঘটলে যত দ্রুত সম্ভব তারিখ, সময়, স্থান এবং কী ঘটেছিল, তা লিখে রাখুন। সন্তানের কাছে কী বলা হয়েছে বা কীভাবে হয়রানি করা হয়েছে, তা নিজের ভাষায় নথিবদ্ধ করুন। অনলাইনে বার্তা, মন্তব্য বা গুজব ছড়ানো হলে স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন। প্রাসঙ্গিক ইমেইল বা স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগের কপিও রেখে দিন। অভিযোগ পাঠানোর সময় নিজের ব্যবহৃত ইমেইল ঠিকানাকে অনুলিপি প্রাপক হিসেবে রাখলে পরবর্তী সময়ে যোগাযোগের রেকর্ড খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। তবে প্রমাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে শিশুকে বারবার একই ঘটনা বলতে বাধ্য করবেন না কিংবা অন্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াবেন না। সন্তানের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিকে অগ্রাধিকার দিন। স্কুলের কাছে জানতে চান, তদন্ত চলাকালে শিশুটিকে কীভাবে নিরাপদ রাখা হবে এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা অন্য সহায়তা দেওয়া সম্ভব কি না। শিক্ষা বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী, অভিযোগকারী বা তদন্তে সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণ নিষিদ্ধ। এমন কিছু ঘটলে স্কুলের কর্তৃপক্ষকে আবার জানানো উচিত। ৩১১, ৯৮৮ ও ৯১১ নম্বর কখন ব্যবহার করবেন নিউইয়র্ক সিটির ৩১১ নম্বর সাধারণ সরকারি তথ্য ও বিভিন্ন পরিষেবা সম্পর্কে জানতে কাজে আসে। স্কুলে বুলিংয়ের অভিযোগ জানানোর পথ খুঁজে পেতে ৩১১-এ যোগাযোগ করতে পারেন। তবে সরাসরি বুলিংয়ের অভিযোগ জানানোর জন্য শিক্ষা বিভাগের নির্ধারিত ফোন নম্বর ও অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করাই ভালো। সন্তান বুলিংয়ের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে বা তীব্র মানসিক সংকটে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ৯৮৮ নম্বরে ফোন বা খুদে বার্তা পাঠিয়ে বিনা মূল্যে, গোপনীয় মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নেওয়া যায়। এটি জরুরি মানসিক সংকট মোকাবিলার সেবা, সাধারণ স্কুল-সংক্রান্ত অভিযোগের বিকল্প নয়। অন্যদিকে, শিশুর ওপর তাৎক্ষণিক শারীরিক হামলা, গুরুতর হুমকি বা জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ৯১১ নম্বরে ফোন করুন। নিউইয়র্কের আইন ও স্কুলের দায়িত্ব নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষার জন্য ‘ডিগনিটি ফর অল স্টুডেন্টস অ্যাক্ট’ (DASA) নামে আইন রয়েছে। পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষা বিভাগের নিজস্ব নীতিমালা ও অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি কার্যকর। স্কুলের কর্মীরা বুলিং বা হয়রানির ঘটনা দেখলে কিংবা সে সম্পর্কে জানতে পারলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবেন, এমন নির্দেশনা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির নীতিমালা অনুযায়ী, কর্মীদের এ ধরনের ঘটনা এক স্কুল দিনের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে একই সময়সীমায় তদন্ত শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অভিভাবকদের মনে রাখা দরকার, নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুল, চার্টার স্কুল ও বেসরকারি স্কুলের অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া এক নয়। সরকারি স্কুলের জন্য শিক্ষা বিভাগের অনলাইন পোর্টাল ও নির্ধারিত নম্বর ব্যবহার করা যায়। চার্টার বা বেসরকারি স্কুলে পড়ুয়া শিশুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্কুলের নিজস্ব অভিযোগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতে পারে। তাই অভিযোগ করার আগে সন্তান কোন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে, তা নিশ্চিত করুন। বাংলাদেশি অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সন্তানকে দোষারোপ না করে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো। প্রয়োজনে স্কুলের বাংলা ভাষায় সহায়তা পাওয়া যায় কি না, তা জানতে চান। অভিযোগের লিখিত কপি, শনাক্তকরণ নম্বর ও সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। স্কুলে সন্তান নিরাপদ বোধ করছে কি না, সে বিষয়েও নিয়মিত খোঁজ রাখুন। সমস্যা চলতে থাকলে শিক্ষা বিভাগের কাছে অভিযোগের অগ্রগতি জানতে চান এবং প্রয়োজনে বিষয়টি উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যান। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস, নিউইয়র্ক সিটি ৩১১ এবং নিউইয়র্ক সিটি যুব ও কমিউনিটি উন্নয়ন বিভাগ।
সন্তান জন্মের চার দিন আগে পেনসিলভানিয়ায় গুলিতে নিহত অন্তঃসত্ত্বা নারী
আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ করার প্রস্তাব ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যসহায়তার নতুন আয়সীমা কার্যকর, কারা সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন?
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের টনটন শহরের বাসিন্দা ও দুই সন্তানের জননী ডেবরা মেলোর রহস্যময় নিখোঁজের ঘটনায় পেরিয়ে গেছে ২৫টিরও বেশি বছর। ২০০০ সালের ২০ জুন মাত্র ৩০ বছর বয়সে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন তিনি। দীর্ঘ আড়াই দশক পরও পুলিশ ও তার পরিবার এই রহস্যের জট খুলতে পারেনি, তবে হাল ছাড়েননি ডেবরার স্বজনরা। ডেবরার ছোট বোন প্যাট্রিসিয়া হোয়াইট জানান, নিখোঁজ হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সংগীতশিল্পী টিনা টার্নারের একটি কনসার্টে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেখানে ডেবরাকে বেশ অন্যমনস্ক ও বিষণ্ন দেখাচ্ছিল। পর্তুগাল থেকে আসা লুইস মেলোর সাথে কৈশোরেই প্রেমের সম্পর্কে জড়ান ডেবরা এবং ১৯৮৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে মায়ের অনুমতি নিয়ে তাকে বিয়ে করেন। তারা দুজনে মিলে স্থানীয় একটি ‘ডানকিন ডোনাটস’-এ কাজ করতেন। কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার কয়েক বছর আগে থেকে ডেবরা বেশ চুপচাপ ও বিষণ্ন হয়ে পড়েন। প্যাট্রিসিয়ার দাবি, লুইস অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ ছিলেন এবং ডেবরার ফোনের কথাবার্তায় আড়ি পাততেন। এমনকি সন্তানদের নিয়ে লুইসকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও বোনকে জানিয়েছিলেন ডেবরা। ব্রিস্টল কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের হোমিসাইড ইউনিটের ডেপুটি চিফ জেসন মোহন জানান, ২০০০ সালের ২০ জুন ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ডানকিন ডোনাটসে কাজ করেন ডেবরা ও লুইস। এরপর বিকেল ৩টায় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকায় তারা গাড়িতে করে ঘুরতে বের হন। ডাক্তারের চেম্বার থেকে ৪০০ ডলারের স্কিন ক্রিম কিনে ফেরার পথে ওয়েমাউথের রুট ১৮-তে গাড়ির ভেতর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। লুইসের দাবি অনুযায়ী, ঝগড়ার একপর্যায়ে ডেবরা গাড়ি থেকে নেমে যেতে চাইলে তিনি তাকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে চলে যান। কয়েক মিনিট পর লুইস সেখানে ফিরে এসে ডেবরাকে আর খুঁজে পাননি। তবে লুইসের এই দাবির পক্ষে কোনো নিরপেক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরদিন ২১ জুন সকালে ডেবরার মেয়ের ফোন পেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন প্যাট্রিসিয়া। ততক্ষণেও লুইস পুলিশে কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করেননি। পরে ওই দিনই পরিবার ও লুইস আলাদাভাবে ওয়েমাউথ পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। ২৩ জুন পুলিশ দম্পতির বাড়ি ও গাড়ি তল্লাশি করে গাড়ির ভেতর থেকে ৪০০ ডলারের স্কিন ক্রিমটি উদ্ধার করে। তবে ডেবরার হাতব্যাগ, স্বর্ণের ব্রেসলেট, গলার চেইন, সবুজ পাথরের আংটি এবং বিয়ের আংটিটি নিখোঁজ ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে লুইসের দুইবার পলিগ্রাফ (মিথ্যা ধরার পরীক্ষা) টেস্ট নেওয়া হলে তিনি দুবারই অকৃতকার্য হন। পুলিশ বিমান, ডগ স্কোয়াড ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে বনাঞ্চলসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও ডেবরার কোনো চিহ্ন পায়নি। এমনকি ২০১৭ সালে এক গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টনটনের একটি স্থানে মাটি খুঁড়ে তল্লাশি চালানো হলেও তা নিষ্ফল হয়। ডেপুটি চিফ মোহন জানান, এই ঘটনায় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড (ফাউল প্লে) ঘটেছে বলেই পুলিশের ধারণা এবং স্বামী লুইস মেলোকে এখনো সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। যদিও লুইস শুরু থেকেই স্ত্রীর নিখোঁজের সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন। ভৌত প্রমাণের অভাব এবং দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তদন্ত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রহস্য উদঘাটনের আশায় ২০২২ সালে ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশ এক অভিনব উদ্যোগ নেয়। অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি ও তথ্য দিয়ে তাসের (প্লেয়িং কার্ড) সেট তৈরি করে কারাগারের বন্দিদের মাঝে বিতরণ করা হয়, যাতে কেউ কোনো তথ্য জানলে সামনে আসে। সেই তাসের সেটে ‘কুইন অব ডায়মন্ডস’ কার্ডে স্থান পায় ডেবরার ছবি। ২০২৫ সালে ডেবরা নিখোঁজের ২৫ বছর পূর্তিতে টনটনের মেমোরিয়াল পার্কে এক স্মরণসভার আয়োজন করে তার পরিবার। ডেবরার বোন প্যাট্রিসিয়া এবং সাবেক ভগ্নিপতি স্টিভেন ডিমৌরা জানান, তারা কেবল জানতে চান ডেবরার সাথে আসলে কী ঘটেছিল এবং তিনি কোথায় আছেন। পুলিশও বর্তমানে ২০০০ সালে ডেবরা ও লুইসের সাথে কাজ করা সাবেক সহকর্মীদের খুঁজে বের করে নতুন তথ্যের সন্ধান চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে, ট্রাম্পের শুল্কনীতি ঘিরে চাপে ব্যবসা ও পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে আজ ডাকঘর বন্ধ, চিঠি ও পার্সেল পাঠাতে গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হবে
ইরান যুদ্ধে নি হত ২১ মার্কিন সেনা, কেউ ফিরতে চেয়েছিলেন প্রেমিকার কাছে, কেউ সন্তানের কাছে
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও আলাবামা অঙ্গরাজ্যে ঘূর্ণিঝড় আইসাইয়াসের আঘাতের পর উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার কাজ চলছে। ঝড়ের অবশিষ্টাংশ উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ায় অ্যাপালাচিয়ান পার্বত্য অঞ্চল এবং মধ্য-আটলান্টিক এলাকার কয়েকটি স্থানে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও টর্নেডোর ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝড়-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্লোরিডা ও আলাবামায় গাছ উপড়ে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সড়কে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কিছু এলাকায় বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডল এলাকায় ঝড়ের কারণে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আলাবামার কয়েকটি এলাকাতেও গাছ পড়ে ঘরবাড়ি ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বহু পরিবারকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ কখন পুরোপুরি ফিরবে, তা এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। ঝড়ের প্রভাব দক্ষিণাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভারী বৃষ্টির কারণে পশ্চিম নর্থ ক্যারোলাইনার নদীগুলোর পানি বেড়ে কিছু এলাকায় প্লাবন, ভূমিধস এবং পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। ভার্জিনিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনার কিছু এলাকায় টর্নেডোর ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ফেডারেল সহায়তার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়ার জন্য জরুরি অবস্থা অনুমোদন করেছেন; এর ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সহায়তা পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। ফ্লোরিডা ও আলাবামার জন্যও আগে জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন মোকাবিলায় কৌশলগত মজুত থেকে অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের জরুরি ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর ফলে সাধারণ ভোক্তাদের জ্বালানির দাম কতটা পরিবর্তিত হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে হারিকেন সাইমন মেক্সিকোর উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় সেখানে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, র্যাচেল নামের আরেকটি ঝড়ের অবশিষ্টাংশ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে বড় ঢেউ, উপকূলীয় প্লাবন ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষের পরামর্শ হলো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর, জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। বন্যার পানিতে ডুবে থাকা সড়কে গাড়ি চালানো এবং বিদ্যুতের তারের কাছে যাওয়া বিপজ্জনক।
নিউইয়র্কে পুলিশকে ৭ বার ছু রিকাঘাত, গভর্নরের নীরবতাকে ‘ভণ্ডামি’ বললেন মুলিন
যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতার আবেদন কম, তবে নতুন চাকরি খুঁজতে কর্মীদের বাড়ছে অনিশ্চয়তা