সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
যুক্তরাজ্যের আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে পিএইচডি শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য ফান্ডিংসহ গবেষণা
যুক্তরাজ্যে ফুল ফান্ডিংয়ে পিএইচডি! আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাবেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও

যুক্তরাজ্যের আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে পিএইচডি শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য ফান্ডিংসহ গবেষণার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরাল কলেজের ঘোষণা অনুযায়ী, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আবেদনকারীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। নির্বাচিত গবেষকদের টিউশন ফি, জীবনযাপনের জন্য বার্ষিক অনুদান এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হবে।    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফুলটাইম গবেষকদের তিন বছরের এবং পার্টটাইম গবেষকদের ছয় বছরের টিউশন ফি বহন করবে স্টুডেন্টশিপ। ফুলটাইম গবেষকদের জন্য বছরে প্রায় ২১ হাজার পাউন্ড করমুক্ত মেইনটেন্যান্স গ্র্যান্ট এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য অতিরিক্ত ৯০০ পাউন্ডের সহায়তা উল্লেখ রয়েছে। প্রচারিত তথ্যে বার্ষিক অনুদান প্রায় ২২ হাজার পাউন্ড বলা হলেও বর্তমান আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় অঙ্কটি প্রায় ২১ হাজার পাউন্ড।    যেসব প্রকল্পে পার্টটাইম সুযোগ রয়েছে, সেখানে পড়াশোনার সময় ও ফান্ডিং ফুলটাইমের ৫০ শতাংশ হারে নির্ধারিত হবে। এই সুযোগ ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে গবেষণার জন্য। তবে প্রচারিত পোস্টে ১৩০টি স্টুডেন্টশিপের কথা বলা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রতিযোগিতার ঘোষণায় মোট সংখ্যাটি নিশ্চিত করা হয়নি।    সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে প্রস্তাবিত গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফার্স্ট ক্লাস অথবা আপার সেকেন্ড ক্লাস, অর্থাৎ ২:১ অনার্স ডিগ্রি চাওয়া হয়েছে। সমমানের আন্তর্জাতিক যোগ্যতাও বিবেচিত হতে পারে। লোয়ার সেকেন্ড ক্লাস বা ২:২ অনার্সের সঙ্গে মাস্টার্সে ডিস্টিংকশন থাকলে আবেদন বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণও দিতে হবে।    ২০২৭ সালের ভর্তির আবেদন ৯ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে। শেষ সময় ৮ জানুয়ারি ২০২৭, যুক্তরাজ্যের সময় বিকেল ৪টা। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি একই দিন রাত ১০টা। তবে যোগ্যতার অংশে ডিগ্রি অর্জনের সময় হিসেবে এখনো সেপ্টেম্বর ২০২৬ লেখা রয়েছে। তাই যাঁদের ডিগ্রি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, তাঁদের সংশ্লিষ্ট সময়সীমা ডক্টরাল কলেজের কাছে নিশ্চিত করতে হবে।    আবেদনের সঙ্গে চাওয়া ডিগ্রি সার্টিফিকেট, গবেষণা প্রস্তাব, সিভি এবং প্রয়োজনে একাডেমিক লেখার নমুনাসহ সব নথি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি বাদ থাকলে আবেদন সময়মতো সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না। আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রকল্পের বিবরণে উল্লেখ করা সুপারভাইজারের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগও রয়েছে।    প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম থেকে মাঝামাঝি সময়ে ইন্টারভিউ এবং ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ফল জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্টুডেন্টশিপ শুরু হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৭। নির্বাচন হবে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে, যেখানে আবেদনকারীর যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও গবেষণার আগ্রহ বিবেচনা করা হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ৩:২৯
কাপড় ইস্ত্রির ব্যবসা থেকে মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার রুপি আয় করেন অরুণ
কাপড় ইস্ত্রি করেই তার মাসে প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার টাকা আয়

ভারতে কাপড় ইস্ত্রির ব্যবসা থেকে মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার রুপি আয় করেন বলে দাবি করেছেন অরুণ নামের এক ব্যক্তি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খরচ বাদ দিয়ে মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার রুপি থাকে। দুই কর্মীকে মাসিক ২০ হাজার রুপি করে বেতন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ভিত্তি করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নবভারত টাইমস ৮ অক্টোবর এই তথ্য প্রকাশ করেছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওটি ‘টু জেনারেশনস ওয়ান ভ্লগ’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে অরুণ জানান, তিনি প্রতিদিন প্রায় ৫০০টি পোশাক ইস্ত্রি করেন এবং প্রতিটির জন্য ৮ রুপি নেন। এই হিসাবে দৈনিক আয় দাঁড়ায় ৪ হাজার রুপি।    তবে দৈনিক কাজের পরিমাণ ও মাসিক আয়ের দাবির মধ্যে হিসাবের অমিল রয়েছে। প্রতিদিন ৫০০টি পোশাক ৮ রুপি করে ইস্ত্রি করলে ৩০ দিনে মোট আয় হয় ১ লাখ ২০ হাজার রুপি। মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার রুপির অঙ্কটি কীভাবে আসে, প্রতিবেদনে তার ব্যাখ্যা নেই। ফলে তাঁর উল্লেখ করা মাসিক আয়কে নিশ্চিত হিসাব হিসেবে ধরা যাচ্ছে না।    অরুণের বক্তব্য অনুযায়ী, কাজটি তিনি একা করেন না। তাঁর সঙ্গে আরও দুইজন কাজ করেন। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ কেজি ওজনের ইস্ত্রি দিয়ে কাজ করতে হয়, যা শারীরিক পরিশ্রমের। আগ্রহীরা কাজটি শিখতে পারেন বলেও ভিডিওতে উল্লেখ করেন তিনি।    ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে ছোট ব্যবসার আয় ও চাকরির বেতনের তুলনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আয়, খরচ ও কর্মীদের বেতনের তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যনির্ভর। 

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ৩:২৮
ওমান উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা
ইরানের বন্দর ছেড়ে আসা পণ্যবাহী জাহাজে মার্কিন যুদ্ধবিমানের হা মলা

ওমান উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালিয়ে সেটির চলাচলক্ষমতা অচল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শনিবার, ১০ অক্টোবর পানামার পতাকাবাহী এমভি ওশান মলিকা নামের জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, জাহাজটি একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধ অতিক্রমের চেষ্টা করছিল।    রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘আরিকা সান’ নামেও পরিচিত জাহাজটি একটি ইরানি বন্দর ছেড়ে আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলছিল। সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম গোলাবারুদ ব্যবহার করে জাহাজটির পেছনের অংশে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজের চালনাব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে যায়।    হামলায় জাহাজের কোনো নাবিক আহত হননি বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। ফলে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা ও অবরোধ অতিক্রমের চেষ্টার বিষয়ে জাহাজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।    সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১৪ জুলাই ইরানি বন্দরে প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আবার কার্যকর করা হয়। এরপর তিন মাসে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করা হয়েছে এবং ১৩৫টি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।    একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোপন বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের ১০টি ট্যাংকার ধ্বংস করার দাবিও করেছে মার্কিন বাহিনী। এসব সংখ্যা সেন্ট্রাল কমান্ডের দেওয়া তথ্য। সর্বশেষ হামলার ঘটনাটিকে তারা অবরোধ কার্যকর রাখার অভিযানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।    ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে চলাচলকারী নাবিকদের অবরোধসংক্রান্ত সতর্কবার্তা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড। পাশাপাশি নৌযান চলাচলের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারিত বার্তা পর্যবেক্ষণ এবং রেডিওর ১৬ নম্বর চ্যানেলে মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।    এই হামলা এমন সময়ে ঘটল, যখন ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ট্যাংকার হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল দুই মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশের সমপরিমাণ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ৩:২৭
মৌসুমি কৃষিকর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি
নিউ ইয়র্কে কৃষিকাজে ঘণ্টায় ১৯.২৫ ডলার বেতনে ১২৬ জনের চাকরির সুযোগ, লাগবে না শিক্ষাগত ডিগ্রি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ১২৬ জন মৌসুমি কৃষিকর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নেসবিট ফ্রুট ফার্মস (Nesbitt Fruit Farms)। প্রতিষ্ঠানটি আপেল সংগ্রহ, বাছাই ও বাগান পরিচর্যার কাজে কর্মী নেবে। ঘণ্টায় বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯.২৫ ডলার। তবে এইচ-২এ কর্মীদের জন্য ঘণ্টায় ১৭.৯১ ডলার উল্লেখ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইট সিজনালজবসে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে ৬ অক্টোবর ২০২৬। চাকরির মেয়াদ ১০ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। কর্মস্থল নিউইয়র্কের ওয়াটারপোর্ট এলাকায়, যার ঠিকানা ১৩১০১ কেনড্রিক রোড, ওয়াটারপোর্ট, নিউইয়র্ক ১৪৫৭১। এটি নিউইয়র্ক সিটির বাইরে অবস্থিত। সরকারি ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিটি বর্তমানে অ্যাকটিভ দেখানো হচ্ছে। তবে সব পদ এখনো খালি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পদের নাম অ্যাগ্রিকালচারাল ওয়ার্কার উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মীদের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকবে বাগান থেকে আপেল সংগ্রহ, ফল বাছাই, আপেলের কনটেইনার ওঠানো ও নামানো, বাগান পরিষ্কার এবং কৃষিকাজের অন্যান্য দায়িত্ব পালন। প্রয়োজনে উপযুক্ত ড্রাইভার লাইসেন্সধারী কর্মীদের যানবাহন চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে আবেদন করার জন্য ড্রাইভার লাইসেন্স বাধ্যতামূলক নয়। চাকরিটি ফুলটাইম হলেও অস্থায়ী ও মৌসুমভিত্তিক। সপ্তাহে ৪৪ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। প্রতিদিন কাজের নির্ধারিত সময় সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আবহাওয়া ও ফসলের পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজের সময় পরিবর্তিত হতে পারে। ঘণ্টায় ১৯.২৫ ডলার হিসাবে সপ্তাহে ৪৪ ঘণ্টা কাজ করলে মোট বেতন দাঁড়ায় ৮৪৭ ডলার। তবে প্রকৃত বেতন ও প্রযোজ্য অন্যান্য শর্ত নিয়োগের চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। আবেদনকারীদের অন্তত তিন মাসের যাচাইযোগ্য সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত ডিগ্রির শর্ত উল্লেখ করা হয়নি। কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রতিষ্ঠান বিনা খরচে সরবরাহ করবে। তবে কর্মীদের কাজের উপযোগী নিজস্ব পোশাক ব্যবহার করতে হবে। এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-২এ কৃষিকর্মী কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট শর্তে অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারে। তবে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কর্মী নেওয়া হবে কি না কিংবা নতুন আবেদনকারীদের ভিসা স্পনসরশিপ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তাই বিদেশ থেকে আবেদন করতে আগ্রহীদের বিষয়টি আগে নিশ্চিত করতে হবে।   আবেদন করতে আগ্রহীরা সরাসরি নেসবিট ফ্রুট ফার্মসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। ফোন নম্বর ৫৮৫-৬৮২-৯৭২৫ এবং ইমেইল nesbittfarms24@gmail.com। সরকারি জব অর্ডার নম্বর H-300-26278-279749। এই নম্বর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সিজনালজবস ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির তথ্য যাচাই করা যাবে। আবেদনের নির্দিষ্ট শেষ তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। তবে চাকরির মেয়াদ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তাই আগ্রহীদের আবেদন করার আগে পদ খালি থাকা, নিয়োগের শর্ত এবং কাজের অনুমতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত করার নামে কোনো মধ্যস্থতাকারীকে অগ্রিম অর্থ না দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১:০
পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে ভয়াবহ বন্দুক হামলায়
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও একই পরিবারের সাতজনসহ আটজনকে হত্যা, কারণ খুঁজছে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় একই পরিবারের সাত সদস্যসহ আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলে, এক বছর বয়সী এক মেয়ে এবং আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী রয়েছেন। হামলার পর ৪৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত ব্যক্তিও আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার ৯ অক্টোবর বিকেলে শহরের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তবে নিজের পরিবারের সদস্যদের কেন ওই ব্যক্তি হত্যা করেছেন, তার কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে এরি শহরের সেভেনথ ও পেরি স্ট্রিট এলাকার একটি বাড়িতে গুলির শব্দ শনাক্ত করে পুলিশের শটস্পটার সিস্টেম। সতর্কবার্তা পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে বাড়ির বাইরে দুই নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে বাড়ির ভেতরে আরও ছয়জন এবং হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরি পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ শনিবার ১০ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিহত আটজনের মধ্যে সাতজন হামলাকারীর আত্মীয়। অপরজন ছিলেন পরিবারের পরিচিত এক নারী। হামলাকারীর বয়স ৪৫ বছর। তাঁর পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত পিস্তলটি তাঁর নিজের নামে নিবন্ধিত ছিল। পুলিশ বাড়ির দ্বিতীয় তলায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর শরীরে নিজের ছোড়া গুলির আঘাত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির নিচতলায় পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলে এবং এক বছর বয়সী এক মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায়। দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির কাছে পাওয়া যায় ২৪ ও ৪৪ বছর বয়সী দুই নারী এবং ১৯ ও ২১ বছর বয়সী দুই তরুণের মরদেহ। নিহত ২৪ বছর বয়সী নারী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ ছাড়া বাড়ির বাইরে নিহত দুই নারীর বয়স ছিল ৫১ ও ৩৭ বছর। সব মিলিয়ে হামলাকারীসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে প্রতিবেশীর বাড়ির ডোরবেল ক্যামেরার ভিডিও ও অডিও রেকর্ডিং। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ফুটেজে দেখা যায়, দুই নারী উদ্বিগ্ন অবস্থায় বাড়িটির সামনে আসেন। তাঁরা দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন এবং আশপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে অস্পষ্ট গুলির শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণ পর হামলাকারী বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং ওই দুই নারীকে গুলি করেন। পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানান, ওই দুই নারী বাড়ির ভেতরে কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে বুঝতে পেরেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাঁরা আগে থেকে কী জানতেন কিংবা কেন সেখানে গিয়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা তাঁদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বিরোধ, ব্যক্তিগত ক্ষোভ কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তবে সেটি তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এদিকে ঘটনাস্থলে পুলিশের অভিযান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পুলিশ পৌঁছানোর পর বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে কেন সময় লেগেছিল, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। এ বিষয়ে পুলিশপ্রধান জানান, কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বাড়ির ভেতর থেকে আর কোনো গুলির শব্দ কিংবা সাহায্যের আহ্বান শুনতে পাননি। ভেতরে কারও নড়াচড়াও দেখা যায়নি। ফলে পরিস্থিতি যাচাই করে নিরাপদে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির ভেতরে প্রবেশের আগে বিশেষ সোয়াট টিম মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ও রোবট ব্যবহার করা হয়। পরে কর্মকর্তারা বাড়িতে প্রবেশ করে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। অভিযানের সময় শোনা কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পুলিশের ব্যবহৃত ফ্ল্যাশব্যাং ডিভাইস থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীর কোনো গোলাগুলি হয়নি। এরি পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ বলেন, তাঁর দীর্ঘ ২৮ বছরের বেশি পুলিশি কর্মজীবনে এটি অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। একই বাড়িতে এতজন মানুষের মৃত্যু, বিশেষ করে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের অভিজ্ঞতা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জন্যও অত্যন্ত কঠিন ছিল। তিনি জানান, এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা দায়িত্ব পালন শেষে ঘটনাস্থল ছেড়ে আসার পরও পুলিশ সদস্যদের মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়। এরি শহরের মেয়র দারিয়া ডেভলিন নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই পরিবারের ওপর যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কোনো কথাই তাঁদের ক্ষতি পূরণ করতে পারবে না। তবে শহরের প্রশাসন ও বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছেন। পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোও ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এরি শহরের মেয়রের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর ইতোমধ্যে চার শতাধিক গণগুলির ঘটনা নথিভুক্ত করেছে গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ। সংস্থাটি সাধারণত হামলাকারী ছাড়া অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে গণগুলির ঘটনা হিসেবে গণনা করে। এরি শহরের এই হত্যাকাণ্ড আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা এবং পরিবারের ভেতরে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলার বিষয়টিকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এদিকে নিহতদের পরিচয় প্রকাশের আগে তাঁদের স্বজনদের খবর দেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এরি কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি এলিজাবেথ হার্জ সাধারণ মানুষকে তদন্ত চলাকালে গুজব বা যাচাইহীন তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে ভিত্তিহীন তথ্য নিহতদের পরিবারের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তদন্তকারীরা এখন হত্যাকাণ্ডের আগে হামলাকারীর গতিবিধি, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করছেন।  বিশেষ করে বাড়ির বাইরে নিহত দুই নারী কেন সেখানে এসেছিলেন এবং তাঁরা আগে থেকে কোনো বিপদের খবর পেয়েছিলেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। এসব তথ্য হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। পুলিশের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারী মারা যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য নতুন কোনো হুমকি নেই। তবে আটজনকে হত্যার পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।  তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে পারিবারিক বিরোধ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইছে না কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ০:৩৯
টেক্সাসের বাসিন্দা কিম এরিক স্মিথ
মৃত ছেলের দেহ ভেগাসের জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে, ‘প্রমাণ’ পাওয়ার দাবি মায়ের

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে মানবদেহের একটি প্রদর্শনীতে নিজের মৃত ছেলের দেহ শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেছেন টেক্সাসের বাসিন্দা কিম এরিক স্মিথ। তবে প্রদর্শনী কর্তৃপক্ষ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। পুরোনো আলোকচিত্রেও দেখা গেছে, যে সংরক্ষিত দেহটিকে তিনি ছেলের বলে মনে করছেন, সেটি তাঁর ছেলের মৃত্যুর অন্তত ছয় বছর আগে প্রদর্শনীতে ছিল। ফলে ছেলের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার দাবিটি প্রতিষ্ঠিত তথ্যের সঙ্গে মিলছে না।    কিমের ছেলে ক্রিস্টোফার টড এরিক ২০১২ সালের ১০ নভেম্বর টেক্সাসের মিডলোথিয়ানে মারা যান। তাঁর বয়স ছিল ২৩ বছর। ছেলের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলে আসছেন কিম। পরে লাস ভেগাসের ‘রিয়েল বডিজ’ প্রদর্শনীর একটি সংরক্ষিত মানবদেহের ছবি দেখে সেটিকে নিজের ছেলের দেহ বলে সন্দেহ করেন তিনি।    ২০২৫ সালের নভেম্বরে দ্য সানকে দেওয়া বক্তব্যে কিম বলেন, ছেলের মাথার ডান পাশে যে ধরনের ক্ষত তিনি দেখেছিলেন বলে মনে করেন, প্রদর্শনীর দেহেও একই ধরনের চিহ্ন তাঁর চোখে পড়েছে। ‘দ্য থিংকার’ নামে পরিচিত বসা অবস্থার ওই দেহটির সঙ্গে ছেলের শারীরিক মিল রয়েছে বলে তাঁর দাবি। সন্দেহ দূর করতে তিনি ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। তবে তাঁর উল্লেখ করা মিলগুলো ছেলের পরিচয় নিশ্চিত করার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।    প্রদর্শনীর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইমাজিন এক্সিবিশনস জানিয়েছে, পরিবারের প্রতি তাদের সহমর্মিতা থাকলেও অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান লিড স্টোরিজকে দেওয়া বক্তব্যে তারা জানায়, সংশ্লিষ্ট দেহটি ২০০৪ সাল থেকে লাস ভেগাসে প্রদর্শিত হচ্ছে। তাই ২০১২ সালে মারা যাওয়া ক্রিস্টোফারের সঙ্গে সেটির সম্পর্ক থাকার সুযোগ নেই।  লিড স্টোরিজ কর্তৃপক্ষের উল্লেখ করা ২০০৪ সালের ছবি খুঁজে পায়নি। তবে গেটি ইমেজেসের সংগ্রহে ২০০৬ সালের ২২ জুন তোলা একটি ছবি শনাক্ত করেছে, যেখানে একই সংরক্ষিত দেহ দেখা যায়। ছবিটি লাস ভেগাসের ট্রপিকানা হোটেলে ‘বডিজ: দ্য এক্সিবিশন’ উদ্বোধনের সময় তোলা হয়েছিল। এই আলোকচিত্রই দেখায়, ক্রিস্টোফারের মৃত্যুর বহু আগে দেহটি প্রদর্শনীতে ছিল।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু বর্ণনায় বলা হয়েছে, কিম সরাসরি প্রদর্শনীতে গিয়ে ছেলের দেহ চিনতে পারেন। কিন্তু তাঁর প্রকাশিত বক্তব্য পর্যালোচনা করে লিড স্টোরিজ জানিয়েছে, তিনি প্রথমে ২০১৮ সালের একটি সংবাদ প্রতিবেদনের সঙ্গে থাকা ভিডিওতে দেহটি দেখেছিলেন। ২০২৫ সালের মার্চে সেই প্রতিবেদন আবার শেয়ার করেন তিনি। অর্থাৎ ঘটনাটি সাম্প্রতিক কোনো আবিষ্কার নয়।    ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত ক্যাসিনো ডট অর্গের প্রতিবেদনেও অভিযোগটি খণ্ডন করা হয়। সেখানে বলা হয়, ক্রিস্টোফারের দেহ ২০১২ সালেই দাহ করা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কিম আগে দাহের বিষয়টি স্বীকার করলেও পরে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ছেলের মৃত্যুর উত্তর খুঁজে পাওয়ার তাঁর চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও প্রদর্শনীর দেহটি ক্রিস্টোফারের বলে দাবি করার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ০:২৪
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ১২, আহত ৩০৯; প্রাণ হারিয়েছেন দুই বাংলাদেশি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। শনিবার, ১০ অক্টোবরের এই হামলায় নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রোববার হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে।   কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক। এ ছাড়া বাংলাদেশি দুই নাগরিকের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে।   হামলায় বিমানবন্দরের স্থাপনায়ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিমাণ নির্ধারণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। হামলার কারণে যাত্রীদের চলাচল ও বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।   এই হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, বেসামরিক বিমানবন্দর ও যাত্রীদের লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তবে হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও দায় স্বীকারের তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   একই সপ্তাহে সৌদি আরবের বিমান চলাচল অবকাঠামোতে একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। রিয়াদের বিমানবন্দরে সর্বশেষ হামলায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাঁদের পরিবারের কাছে খবর পৌঁছানো এবং আহত বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।   সূত্র: সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, আল জাজিরা ও সৌদি গেজেট।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ২৩:৫৯
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হোসেন
যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক মোস্তফা হোসেনের ‘সিলিকন রিভার’, সেমিকন্ডাক্টরে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ও উন্নত প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ‘সিলিকন রিভার’ নামের এই উদ্যোগের লক্ষ্য গবেষণা, দক্ষ জনবল, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করা। ২০২৬ সালের ২৫ ও ২৬ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সম্মেলনে এই পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে অর্জিত গবেষণা ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য উন্নত প্রযুক্তিতে কাজের সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।   বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া অধ্যাপক মুস্তাফা হোসেন যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ‘সিলিকন রিভার’ উদ্যোগের প্রধান স্থপতিদের একজন এবং বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বয় তৈরিতে কাজ করছেন। তাঁর পরিকল্পনায় সেমিকন্ডাক্টরের পাশাপাশি জীবপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিকসকে সমন্বিত একটি উদ্ভাবন কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।   এর উদ্দেশ্য শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো নয়, বরং গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব পণ্য, ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়ার পথ তৈরি করা। বর্তমান বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ প্রযুক্তি আধুনিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক গাড়ি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো এবং শিল্পকারখানার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় চিপ অপরিহার্য।   এই খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে পারলে উচ্চদক্ষতার কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে উন্নত চিপ তৈরির কারখানা স্থাপনে বিপুল বিনিয়োগ, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশের জন্য চিপ নকশা, গবেষণা, পরীক্ষা, উন্নত প্যাকেজিং এবং প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা খাতে সক্ষমতা গড়ে তোলাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি গবেষণার জন্য সেন্টার অব রিসার্চ এক্সেলেন্স ইন সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি বা ক্রেস্ট চালু করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটির লক্ষ্য সেমিকন্ডাক্টর ও উন্নত প্রযুক্তিতে গবেষণা বাড়ানো এবং নতুন গবেষক তৈরি করা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গবেষণায় যুক্ত করা, বিশেষায়িত দক্ষতা তৈরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রযুক্তি শিল্পের যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।   বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরির জন্য এ ধরনের গবেষণাকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সম্মেলনে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন নিবন্ধন করেন বলে পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্মেলনে ৩৮টি উদ্ভাবনকে আরও উন্নয়নের জন্য নির্বাচন, সেমিকন্ডাক্টর খাতে ৩ হাজার ৫০০ জনের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পেশাদার চিপ নকশার সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ সামনে আসে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনটি উদ্বোধন করেন এবং অধ্যাপক মুস্তাফা হোসেন সেখানে ‘সিলিকন রিভার ভিশন অ্যাড্রেস ২০২৬’ উপস্থাপন করেন। এসব উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর।   বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৬ সালের ৫ জুন বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল টেক্সাসের অস্টিনে এএমডি, এনএক্সপি এবং টোকিও ইলেকট্রনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষ জনবল, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সম্ভাব্য শিল্প সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে। অধ্যাপক মুস্তাফা হোসেনও বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এসব যোগাযোগ ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে আলোচনা হওয়া মানেই বিনিয়োগ বা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া নয়।   ‘সিলিকন রিভার’ উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাবনাময় পথ তুলে ধরছে। তবে এই পরিকল্পনা সফল করতে ধারাবাহিক গবেষণা অর্থায়ন, মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষ জনবল, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। তৈরি পোশাকশিল্পের পাশাপাশি উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর নতুন রপ্তানি খাত গড়ে তোলার যে সুযোগ বাংলাদেশের সামনে রয়েছে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত অধ্যাপক মুস্তাফা হোসেনের উদ্যোগ সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ। এর দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ধারিত হবে বাংলাদেশে কতটা গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং বাজারযোগ্য প্রযুক্তিপণ্য তৈরি করা সম্ভব হয়, তার ওপর।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ২৩:৫৪
উচ্চ মর্টগেজ সুদে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা কঠিন
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা আরও কঠিন, মর্টগেজ সুদ ৭.৫৫ শতাংশে পৌঁছানোয় বাড়ছে ঋণের চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও উচ্চ ঋণের চাপ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং বাড়ি কেনার খরচ বাড়তে থাকায় অর্থনীতি নিয়ে ভোক্তাদের আস্থা কমছে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্টোবরের প্রাথমিক জরিপে দেশটির ভোক্তা আস্থার সূচক সেপ্টেম্বরের ৪৮ দশমিক ১ থেকে কমে ৪৬ দশমিক ৩-এ নেমেছে। এটি টানা তৃতীয় মাসের পতন এবং চলতি বছরের মে মাসে দেখা রেকর্ড সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মানুষের মূল্যায়নও আরও খারাপ হয়েছে। জরিপে বর্তমান পরিস্থিতি-সংক্রান্ত সূচক সেপ্টেম্বরের ৫০ দশমিক ৯ থেকে কমে ৪৪ দশমিক ৭-এ দাঁড়িয়েছে, যা জরিপের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার এবং শেয়ারবাজারে যাঁদের বিনিয়োগ কম, তাঁদের মধ্যে হতাশা বেশি দেখা গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের এই চাপের মধ্যে বাড়ি কেনাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ বা গৃহঋণের সুদের হার ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশের ঘরে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুদের হার বেশি থাকলে বাড়ির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ঋণের মাসিক কিস্তি বেড়ে যায়। ফলে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহী ব্যক্তি এবং সীমিত বাজেটের পরিবারগুলোর জন্য নিজের বাড়ির মালিক হওয়া আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের তাই শুধু বাড়ির দাম দেখলেই চলে না। ঋণের সুদের হার, ডাউন পেমেন্ট, মাসিক কিস্তি, বাড়ির কর, বিমা এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও হিসাব করতে হয়। দীর্ঘ মেয়াদে এসব ব্যয় পরিবারের বাজেটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মর্টগেজের সুদের হার ঋণের ধরন, মেয়াদ, ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট স্কোর এবং অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। অন্যদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাও মানুষের কেনাকাটার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। জরিপে ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, যেসব পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, সেগুলোর কেনাকাটা তাঁরা কমাবেন। প্রায় ১৬ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা এসব পণ্য কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারেন। এমন মনোভাবের কারণে পরিবারগুলো অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমিয়ে খাবার, বাসাভাড়া, জ্বালানি ও চিকিৎসার মতো জরুরি খরচকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সেপ্টেম্বরের আরেকটি জরিপেও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে আগামী এক বছরে মূল্যস্ফীতির হার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে মানুষের প্রত্যাশা ছিল। ২০২৩ সালের মে মাসের পর এটি সর্বোচ্চ। আগের মাসে এই প্রত্যাশা ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা খাবার, পেট্রল, বাসাভাড়া, চিকিৎসা এবং কলেজে পড়াশোনার খরচ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এসব খাতে ব্যয় বাড়লে পরিবারগুলোর হাতে অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর জন্য অর্থ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি ঋণের কিস্তি ও ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া থাকলে আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে অর্থনৈতিক আস্থা কমে যাওয়ার প্রভাব সব পরিবারের ওপর সমান নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোর ব্যয় তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে। বিপরীতে, মধ্যম ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বাজেটের চাপ বেশি অনুভব করছে। ফলে একই অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে একেকটি পরিবারের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ঋণের সুদের হার ও মাসিক কিস্তির পাশাপাশি অন্যান্য আবাসন ব্যয়ও বিবেচনা করা প্রয়োজন। ঋণদাতাদের কাছ থেকে একাধিক প্রস্তাব তুলনা করা এবং ঋণের শর্ত ভালোভাবে বুঝে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হতে পারে। দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে মাসিক বাজেট তৈরি, বিভিন্ন দোকানে পণ্যের দাম তুলনা এবং অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমানোর মতো পদক্ষেপ কাজে আসতে পারে। তবে ব্যক্তিগত আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পরিবারের আয়, সঞ্চয়, ঋণ ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনা করা জরুরি। সামগ্রিকভাবে, ভোক্তা আস্থার পতন, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং উচ্চ আবাসন ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর আর্থিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। আগামী মাসগুলোতে এসব চাপ কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি, ঋণের সুদের হার এবং পরিবারের আয়-ব্যয়ের পরিস্থিতির ওপর।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ২০:২
মেডিকেয়ারের খরচ মেটাতে আর্থিক সহায়তা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণদের চিকিৎসার খরচে সহায়তা, যোগ্যদের জন্য আসছে ৯০ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অর্থের উদ্দেশ্য হলো যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি চিকিৎসাবিমার নির্দিষ্ট মাসিক খরচ মেটাতে সহায়তা করা। কর্মসূচিটির মোট ব্যয় প্রায় ২০০ কোটি ডলার। তবে দেশটির মোট ৬ কোটি ৪২ লাখ মেডিকেয়ারভুক্ত মানুষের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য।  এই সহায়তা মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা প্রচলিত মেডিকেয়ার কর্মসূচির ‘পার্ট বি’ অংশের আওতায় রয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন এবং নির্দিষ্ট অতিরিক্ত সহায়তা বা আয়ভিত্তিক বাড়তি মাসিক প্রিমিয়াম দেন না। ‘পার্ট বি’ সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষাগার পরীক্ষা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার মতো চিকিৎসাব্যয়ের অংশবিশেষ বহন করে। এই কর্মসূচির মাসিক খরচ সাধারণত প্রায় ২০০ ডলার থেকে শুরু হয়; ব্যক্তির আয় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী তা পরিবর্তিত হতে পারে।  যাঁরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ‘মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ’ পরিকল্পনায় যুক্ত, তাঁরা এই এককালীন অর্থ পাবেন না। কম আয়ের যেসব প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অন্য সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে ইতিমধ্যে তাঁদের চিকিৎসাবিমার মাসিক খরচে সহায়তা পান, তাঁরাও এই অর্থের বাইরে থাকবেন। এ ছাড়া আয়ভিত্তিক বাড়তি মাসিক প্রিমিয়াম প্রদানকারী নির্দিষ্ট ব্যক্তিরাও যোগ্য নন। ফলে শুধু মেডিকেয়ার কার্ড থাকলেই ৯০ ডলার পাওয়া যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিদের অর্থ পাওয়ার জন্য আলাদা করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়ার কথা। অধিকাংশ যোগ্য ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠানো হবে; অন্যদের কাছে অক্টোবরের পরবর্তী সময়ে ডাকযোগে সরকারি চেক পৌঁছানোর কথা। অর্থ পাঠানোর সময়সূচি ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।  এই সহায়তার অর্থ আসছে কংগ্রেসের তৈরি মেডিকেয়ার উন্নয়ন তহবিল থেকে। তহবিলটি মূলত সরকারি চিকিৎসাবিমা কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে ব্যবহারের জন্য গঠন করা হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসনের সময়ে এই তহবিল থেকে সরাসরি সুবিধাভোগীদের অর্থ দেওয়ার ঘটনা প্রথম বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।  তবে এই উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে এককালীন অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসাব্যয়ের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের মতে, চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের তুলনায় ৯০ ডলারের সহায়তা সীমিত। অন্যদিকে, প্রশাসনের বক্তব্য হলো, যোগ্য মানুষকে সরাসরি অর্থ দিলে তাঁদের চিকিৎসাবিমার খরচ মেটাতে কিছুটা সুবিধা হবে।  যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাঁদের চিকিৎসাবিমার ধরন যাচাই করা। পরিবারের কেউ মেডিকেয়ারভুক্ত হলে তিনি প্রচলিত কর্মসূচির আওতায় আছেন, নাকি বেসরকারি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনায় যুক্ত—তা জানা প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি অন্য কোনো সরকারি আর্থিক সহায়তা পান কি না, সেটিও যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অর্থ পাওয়ার যোগ্য কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে সরকারি মেডিকেয়ার সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। অর্থ পাওয়ার আশায় অপরিচিত কাউকে ব্যাংক হিসাবের গোপন তথ্য, পাসওয়ার্ড বা পরিচয়সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য দেওয়া উচিত নয়। এই অর্থ পাওয়ার জন্য আলাদা আবেদন প্রয়োজন নেই বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে; তাই অর্থ ছাড়ের নামে কেউ টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে সতর্ক থাকা জরুরি।  যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য প্রবীণদের জন্য এককালীন ৯০ ডলারের সহায়তা চিকিৎসাবিমার খরচে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু এই অর্থ সবার জন্য নয় এবং এটি নিয়মিত মাসিক ভাতা নয়। তাই খবরটি দেখেই অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা ধরে না নিয়ে নিজের চিকিৎসাবিমার ধরন ও যোগ্যতা যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৯:৫২
ডিজেল সরবরাহ নিয়ে ট্রাম্প ও পুতিনের সমঝোতা
ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের, আসছে লাখ লাখ টন জ্বালানি

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে অবিলম্বে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে মস্কো। আগামী নভেম্বরেও আরও কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই উদ্যোগে জ্বালানির দাম কতটা কমবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।   শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা অত্যন্ত সফল হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন এবং এরপরপরই আরও ১০ লাখ টন ডিজেল পাঠানোর কথা রয়েছে। রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোর অবস্থা অনুকূলে থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন জ্বালানি সরবরাহ করা হতে পারে বলেও জানান তিনি। রুশ প্রেসিডেন্টের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভও দুই দেশের মধ্যে ডিজেল ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রকাশিত বক্তব্যে ট্রাম্প ঘোষিত সব চালানের নির্দিষ্ট পরিমাণ ও সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম প্রায় রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর মধ্যে এই ঘোষণা এলো। কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন এবং বাড়ি গরম রাখার কাজে ডিজেল গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। ফলে এর দাম বাড়লে শুধু পরিবহন খরচ নয়, কৃষিপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। যুক্তরাষ্ট্রের মোটরচালক সংগঠন এএএর হিসাবে, গত বৃহস্পতিবার দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ২৮ সেন্টে পৌঁছায়। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যু দ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ডিজেলের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান ও ইউক্রেনকে ঘিরে চলমান যু দ্ধ এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এ পরিস্থিতিতে আগামী ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তা, কৃষক, খামারমালিক ও ট্রাকচালকদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের—বিশেষ করে কৃষক, খামারমালিক ও ট্রাকচালকদের—জন্য দাম কমানো তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর মস্কোর জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রুশ ডিজেল বিক্রি, সরবরাহ ও আমদানির অনুমতি দিয়ে একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করে। এর ফলে ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত নির্দিষ্ট শর্তে রাশিয়ার ডিজেল আমদানি করা যাবে। অর্থাৎ, জ্বালানির দাম কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট ডিজেল উৎপাদন ও ব্যবহারের তুলনায় ঘোষিত প্রাথমিক চালানের পরিমাণ সীমিত। ফলে বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে রাশিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত ডিজেল এলেও দাম দীর্ঘ সময় কম থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এদিকে ডিজেলের উৎপাদন বাড়াতে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। শিল্প খাতের তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন সরকারি বিভাগের প্রধানদের ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশ দিতে পারেন। এ নির্দেশনা প্রেসিডেন্টের স্মারকলিপির আকারে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে শীতল যু দ্ধের সময়কার প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে ঋণ বা ঋণের নিশ্চয়তা দেওয়া এবং জরুরি পণ্য সরবরাহে সরকারি চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। পাশাপাশি জ্বালানি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করছে—এমন কিছু স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিধিনিষেধ পাশ কাটানোর উপায়ও খোঁজা হতে পারে। ইরানকে ঘিরে যু দ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন এবং মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্রে তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে নতুন শোধনাগার নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান স্থাপনাগুলোর দক্ষতা বাড়ানো বা সেগুলোর সম্প্রসারণে সরকারি অর্থ ব্যয় করা বেশি কার্যকর হতে পারে বলে গত মাসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন জ্বালানি খাতের নির্বাহীরা। নতুন শোধনাগার নির্মাণে ব্যয় বেশি এবং কাজ শেষ করতেও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ডিজেলের পাশাপাশি পেট্রলের দামও কমার পূর্বাভাস দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর আশা, শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম প্রতি গ্যালন ১ ডলার ৮৫ সেন্ট থেকে ১ ডলার ৯৫ সেন্টে নেমে আসবে। তবে শুক্রবার এএএর হিসাবে গড় দাম ছিল প্রায় ৪ ডলার ৩৭ সেন্ট। ফলে ট্রাম্পের এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বাজারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৯:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা
যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-২ গ্রিন কার্ডে সুযোগ দুই ধরনের দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীর, সঙ্গে পরিবার নেওয়ার সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন এমন দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ইবি-২ গ্রিন কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী এবং বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসায় বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে এই শ্রেণিতে আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে যোগ্য আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও পরিবারের সদস্য হিসেবে অভিবাসনের সুযোগ পেতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী, ইবি-২ মূলত দুই ধরনের আবেদনকারীকে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছেন উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবীরা। দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছেন বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসায় সাধারণ মানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা। এ ছাড়া জাতীয় স্বার্থে ছাড় বা ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী ব্যক্তি নিয়োগকর্তার স্পনসর ছাড়াই নিজের আবেদন করতে পারেন। উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রির চেয়ে বেশি মানের শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। এর মধ্যে মাস্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রি অন্তর্ভুক্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রির পর অন্তত পাঁচ বছরের ক্রমবর্ধমান দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাগত কাজ থাকলে সেটিকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। শুধু আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই হবে না; যে পেশায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে চান, সেটিও সাধারণত উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাদার কাজ হতে হবে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট পদে প্রবেশের জন্য সাধারণত অন্তত স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন হওয়া উচিত। উদাহরণ হিসেবে, প্রকৌশলে উচ্চতর ডিগ্রিধারী কেউ যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৌশলী হিসেবে কাজের জন্য আবেদন করলে তাঁর যোগ্যতা বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু একই ব্যক্তি এমন একটি কাজের জন্য আবেদন করলে, যেখানে সাধারণত ডিগ্রির প্রয়োজন নেই, সেখানে শুধু তাঁর উচ্চতর ডিগ্রি ইবি-২ যোগ্যতা নিশ্চিত করবে না। যাঁদের উচ্চতর ডিগ্রি নেই, তাঁরাও বিশেষ দক্ষতার ভিত্তিতে আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন। তবে তাঁদের প্রমাণ করতে হবে, বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসার ক্ষেত্রে তাঁদের দক্ষতা সংশ্লিষ্ট পেশায় সাধারণত দেখা যায় এমন মানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ জন্য নির্ধারিত ছয়টি মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত তিনটি পূরণ করার প্রমাণ দিতে হয়। এসব মানদণ্ডের মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, একই পেশায় অন্তত ১০ বছরের পূর্ণকালীন কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ, পেশাগত লাইসেন্স বা সনদ, বিশেষ দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন, পেশাজীবীদের সংগঠনের সদস্যপদ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সহকর্মী, প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি। কাজের অভিজ্ঞতা প্রমাণে নিয়োগকর্তার চিঠিসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হতে পারে। আবেদনকারীর পেশা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রমাণের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ইবি-২ আবেদনে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তার চাকরির প্রস্তাব এবং শ্রম সনদসংক্রান্ত প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়। তবে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে। এ ব্যবস্থায় যোগ্য ব্যক্তি নিজেই আবেদন করতে পারেন; নিয়োগকর্তার স্পনসর এবং প্রচলিত শ্রম সনদ প্রক্রিয়া থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে এই ছাড় স্বয়ংক্রিয় নয়। আবেদনকারীকে আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হয় যে তাঁর প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব ও জাতীয় তাৎপর্য রয়েছে, তিনি সেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত অবস্থানে আছেন এবং চাকরির প্রস্তাব ও শ্রম সনদের শর্ত মওকুফ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক উপকার হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক—অর্থাৎ স্টেম—ক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের আবেদনও এই ব্যবস্থায় বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বা উদীয়মান প্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও কাজের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং প্রস্তাবিত কাজের প্রভাব গুরুত্ব পেতে পারে। তবে শুধু স্টেম বিষয়ে ডিগ্রি বা ডক্টরেট থাকলেই জাতীয় স্বার্থে ছাড় নিশ্চিত হয় না; নির্ধারিত শর্ত পূরণের প্রমাণ প্রয়োজন। কিছু নির্দিষ্ট পেশার ক্ষেত্রে শ্রম সনদসংক্রান্ত নিয়মে ব্যতিক্রম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ‘শিডিউল এ’ তালিকায় নির্দিষ্ট পেশা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই তালিকায় থাকা মানেই সব আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইবি-২ গ্রিন কার্ডের যোগ্য হবেন, এমন নয়। কোন অভিবাসন শ্রেণিতে আবেদন করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পেশার জন্য কী শর্ত প্রযোজ্য, তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হয়। ইবি-২ আবেদনের জন্য সাধারণত আই-১৪০ ফরমের মাধ্যমে অভিবাসন আবেদন জমা দেওয়া হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে যোগ্য আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও নির্ধারিত নিয়মে অভিবাসী মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু আই-১৪০ অনুমোদন হলেই পরিবারের সবাই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড পেয়ে যাবেন, এমন নয়। ভিসা পাওয়ার সুযোগ, প্রয়োজনীয় আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হয়। সব মিলিয়ে, ইবি-২ দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের একটি বিদ্যমান অভিবাসনপথ। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, প্রস্তাবিত পেশা এবং প্রয়োজনীয় নথি—সবকিছুই আবেদন মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির বর্তমান নিয়ম ও যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৯:২৭
কমলা হ্যারিসের সঙ্গে তাঁর স্বামী ডগ এমহফ
আবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার পরিকল্পনায় কমলা হ্যারিস, তবে স্বামী ডগ এমহফের রয়েছে আপত্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তবে এবার হোয়াইট হাউসে ফেরার পথে নিজের রাজনৈতিক শিবিরের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিসর থেকেও অনীহা ও সংশয়ের মুখে পড়ছেন তিনি। এমনকি তাঁর স্বামী ডগ এমহফও চান না, হ্যারিস আবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। তবে শেষ পর্যন্ত হ্যারিস নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁকে সমর্থন করবেন বলে ধারণা করছেন এমহফের ঘনিষ্ঠজনেরা।   সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমহফ ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজনকে জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর স্ত্রী অংশ না নিলেই তিনি বেশি খুশি হবেন। তবে তাঁর এই অবস্থানকে হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিরোধিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ঘনিষ্ঠজনদের ধারণা, হ্যারিস চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিলে এমহফ তাঁর পাশে থাকবেন। হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে সংশয় শুধু তাঁর পরিবারেই সীমাবদ্ধ নয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকজন অর্থদাতা সরাসরি তাঁকে জানিয়েছেন, ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে আবারও লড়াই করা তাঁর জন্য কঠিন হতে পারে। তাঁদের কেউ কেউ সম্ভাব্য এই প্রচারাভিযানকে জয়ের ক্ষেত্রে অনিশ্চিত ও কঠিন বলে মনে করছেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন হ্যারিস। ওই নির্বাচনে তিনি জনপ্রিয় ভোট, ইলেকটোরাল কলেজ এবং গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলোর কোনোটিতেই জয় পাননি। অথচ তাঁর নির্বাচনী প্রচারে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিপুল অর্থ সংগ্রহের পরও পরাজয় ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে তাঁর নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে ২০২৮ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে হ্যারিস এখনো আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রার্থীভিত্তিক জরিপে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে দুই অঙ্কের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি, তাই এসব জরিপকে চূড়ান্ত জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হ্যারিস নিজেও এখন পর্যন্ত পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। গত মাসে মিশিগানে এনএএসিপির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আবার নির্বাচনে লড়বেন কি না, তা এখনো ঠিক করেননি। একই সঙ্গে তিনি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভালো করতে না পারলে ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পনার গুরুত্বও কমে যাবে। তবে তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর জন্য তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন হ্যারিস। উইসকনসিনের গভর্নর পদপ্রার্থী ডেভিড ক্রাউলি এবং নেভাডার গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যারন ফোর্ডের জন্য আয়োজিত ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানেও তাঁর উপস্থিতির কথা জানা গেছে। গত সপ্তাহে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির একটি ভার্চুয়াল আলোচনায়ও অংশ নেন হ্যারিস। সেখানে দুই হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবককে এক ডজন অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ভোটদানে উৎসাহিত করার কাজে সহায়তা করতে বলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এ ধরনের তৎপরতা ভবিষ্যতে বড় নির্বাচনী প্রচারের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এসব কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে তিনি ২০২৮ সালে প্রার্থী হবেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। হ্যারিসের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কয়েকজন ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীও তাঁর আবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির একাংশ নতুন নেতৃত্ব ও নতুন মুখ সামনে আনার পক্ষে। অন্যদিকে, হ্যারিসের পরিচিতি, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য ভোটারসমর্থন তাঁকে আলোচনায় রেখেছে। এদিকে এমহফ আবার আইন পেশায় সক্রিয় হয়েছেন। তিনি লস এঞ্জেলেসের আইন প্রতিষ্ঠান উইলকি ফার অ্যান্ড গ্যালাগারে অংশীদার হিসেবে কাজ করছেন। চলতি বছরের শুরুতে হ্যারিস ও এমহফ মালিবুতে প্রায় ৮০ লাখ ডলারের একটি বাড়িও কিনেছেন। হ্যারিসের কার্যালয় এবং এমহফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে হ্যারিসের সামনে এখনো একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। তিনি শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবেন কি না, তা যেমন অনিশ্চিত, তেমনি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে সমর্থন ও সংশয়—দুই-ই রয়েছে। আপাতত তাঁর প্রকাশ্য অবস্থান, নির্বাচনী তৎপরতা এবং দলের নেতাদের প্রতিক্রিয়াই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৯:২
মেক্সিকোতে রিও গ্র্যান্ডে নদীর কমে যাওয়া পানিপ্রবাহ
যুক্তরাষ্ট্রের রিও গ্র্যান্ডে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, পানির সংকটে পড়তে পারেন দেড় কোটি মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদী রিও গ্র্যান্ডে ভয়াবহ পানিসংকটের মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিনের খরা, অতিরিক্ত পানি ব্যবহার এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। নদীটির পানির ওপর নির্ভরশীল প্রায় দেড় কোটি মানুষের সুপেয় পানির সরবরাহ নিয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   প্রায় ১ হাজার ৯০০ মাইল দীর্ঘ রিও গ্র্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম নদীগুলোর একটি। কলোরাডো অঙ্গরাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে নদীটি নিউ মেক্সিকো ও টেক্সাসের মধ্য দিয়ে মেক্সিকো সীমান্তবর্তী অঞ্চল অতিক্রম করে মেক্সিকো উপসাগরে গিয়ে মিশেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর বিভিন্ন এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কৃষিকাজ এবং অন্যান্য পানির চাহিদা মেটাতে নদীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, নদীটির ঐতিহাসিক স্বাভাবিক প্রবাহের প্রায় ৮৫ শতাংশই হারিয়ে গেছে। অতিরিক্ত পানি উত্তোলন ও কয়েক বছর ধরে চলা তীব্র খরাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নদীটির সংকট নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কলোরাডো নদীর পানির ঘাটতি বেশি আলোচনায় এসেছে। তবে রিও গ্র্যান্ডের পরিস্থিতিও সমানভাবে গুরুতর হয়ে উঠছে। নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের পানি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের বড় নদীগুলোর মধ্যে রিও গ্র্যান্ডের পানিপ্রবাহ কমার হার অন্যতম বেশি। চলতি গ্রীষ্মেই নদীটির ১১২ মাইলের বেশি অংশ শুকিয়ে গেছে। এতে নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষিকাজ এবং মানুষের পানির চাহিদা পূরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত কিছুটা স্বস্তি দিলেও আগামী কয়েক বছর এবং পরবর্তী কয়েক দশকে নদীটির পানির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। চলতি পানি বছরে নিউ মেক্সিকো অংশে নদীর প্রবাহ ছিল মধ্যম বা স্বাভাবিক হিসাবে ব্যবহৃত দীর্ঘমেয়াদি মাত্রার মাত্র ৩১ শতাংশ। আগস্টে তা আরও কমে ওই মাত্রার প্রায় ১৪ শতাংশে নেমে আসে। নদীর পানির ঘাটতির আরেকটি বড় চিত্র পাওয়া গেছে এলিফ্যান্ট বাট জলাধারে। নিউ মেক্সিকোর এই গুরুত্বপূর্ণ জলাধারে গত ৩১ আগস্ট পানির পরিমাণ ছিল ধারণক্ষমতার দেড় শতাংশেরও কম। ওই তারিখের হিসাবে এটি ছিল রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তর। নদীর প্রবাহ কমে যাওয়া এবং জলাধারে পানির পরিমাণ নেমে আসা খরা মোকাবিলা ও ভবিষ্যতের পানির চাহিদা পূরণের কাজকে আরও কঠিন করে তুলছে। পানি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অঙ্গরাজ্য কাজ করছে। রিও গ্র্যান্ডে ও কলোরাডো—দুটি নদীই নিউ মেক্সিকোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানির উৎস সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে অন্য অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে। সংকটের প্রভাব শুধু নিউ মেক্সিকোতেই সীমাবদ্ধ নয়। টেক্সাসেও ভবিষ্যতের পানির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অঙ্গরাজ্যটির ২০২৭ সালের পানি পরিকল্পনা অনুযায়ী, খরার সময় নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত বর্তমান পানির সরবরাহ ২০৩০ থেকে ২০৮০ সালের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ কমে যেতে পারে। একই সময়ে জনসংখ্যা ও পানির চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, নতুন পানির উৎস তৈরি করা এবং পানি ব্যবস্থাপনার কার্যকর কৌশল গ্রহণ করা না হলে টেক্সাসে পানির ঘাটতি ২০৩০ সালে বছরে প্রায় ৩৬ লাখ একর-ফুটে পৌঁছাতে পারে। ২০৮০ সালে এই ঘাটতি বেড়ে বছরে প্রায় ৫৮ লাখ একর-ফুট হতে পারে। এই হিসাব এমন পরিস্থিতির ভিত্তিতে করা হয়েছে, যখন অতীতের সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মতো পরিস্থিতি আবার ফিরে আসে। একর-ফুট পানির পরিমাণ মাপার একটি একক, যা এক একর জমিতে এক ফুট গভীরতায় জমে থাকা পানির সমান। রিও গ্র্যান্ডের সংকটের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি খরার পাশাপাশি পানির অতিরিক্ত ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ কমে গেলে মানুষ, কৃষি ও পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ে। নদীর পানি ও জলাধারের ওপর নির্ভরশীল এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা তখন আরও কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু বৃষ্টির ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। পানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো, বিদ্যমান উৎস সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রিও গ্র্যান্ডের প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতের পানির চাহিদা সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৮:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান, বাড়ছে বিকল্প পাসপোর্টের চাহিদা

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক বিভাজন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ইউরোপের দেশ লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নেওয়ার আগ্রহ বাড়ছে আমেরিকানদের। অনেকেই দেশ ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এখনই নিচ্ছেন না। বরং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ইউরোপে বসবাসের সুযোগ রাখতে দ্বিতীয় পাসপোর্ট সংগ্রহ করছেন। তাঁদের একটি বড় অংশের জন্য এই সুযোগ তৈরি হয়েছে পূর্বপুরুষের সূত্রে লুক্সেমবার্গের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকার কারণে। লুক্সেমবার্গের জাতীয় নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে ৩ হাজার ৫৭৪ জন আমেরিকান দেশটির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। নাগরিকত্বের তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। তবে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ৬৫৭ জন নতুন করে স্বেচ্ছায় আবেদন, নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার বা অন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় লুক্সেমবার্গের নাগরিক হয়েছেন। দুই পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্যের কারণ নাগরিকত্ব পাওয়ার পদ্ধতি। জাতীয় নিবন্ধনে যাঁদের নাগরিক হিসেবে গণনা করা হয়েছে, তাঁদের সবাই ওই বছর নতুন করে আবেদন করে নাগরিকত্ব পাননি। তাঁদের অনেকেই আইন অনুযায়ী আগে থেকেই লুক্সেমবার্গের নাগরিক হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য ছিলেন। যেমন, জন্মের সময় বাবা বা মা লুক্সেমবার্গের নাগরিক হলে বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক শর্ত পূরণ করে দেশটিতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্বের বিধান রয়েছে। তবে স্বেচ্ছায় আবেদন করে নাগরিকত্ব পাওয়া ৬৫৭ জনের সংখ্যাও আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। এই বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে বিকল্প পাসপোর্টের প্রতি আগ্রহ বাড়ার একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডেনভারের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী ক্যারিস ক্যাসিডির অভিজ্ঞতায় এই প্রবণতার ব্যক্তিগত দিকটি উঠে এসেছে। তিনি একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী। ছোটবেলা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে বসবাসের চিন্তা তাঁর মনে ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আগ্রহ আরও জোরালো হয়। ক্যাসিডির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজন নতুন কিছু নয়। তবে দেশটিতে সামাজিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ইউরোপের তুলনায় কম বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে নিজের অবস্থার উন্নতি করতে চাইলেও অনেক সময় বিপুল ঋণের বোঝা নিতে হয়, আবার কখনো বাসস্থান কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও কাটছাঁট করতে হয়। অনলাইনে পারিবারিক ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে ক্যাসিডি জানতে পারেন, তাঁর পূর্বপুরুষদের একজন ছিলেন লুক্সেমবার্গের বাসিন্দা। তাঁর পাঁচ প্রজন্ম আগের এক পূর্বপুরুষের সূত্র ধরে দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ওই পূর্বপুরুষ ১৮১৫ সালের পর লুক্সেমবার্গে জন্মেছিলেন বলে নাগরিকত্বের জন্য প্রাসঙ্গিক বংশগত শর্তের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক ইতিহাস মিলে যায়। লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব আইনে নির্দিষ্ট বংশধারার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য পারিবারিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা এবং পূর্বপুরুষের জন্মসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে নারীরাও তাঁদের সন্তানদের নাগরিকত্বের অধিকার দিতে পারেন। ক্যাসিডিকে পারিবারিক নথি ও অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহ করতে প্রায় এক বছর সময় দিতে হয়। তবে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য তাঁকে ভাষা পরীক্ষা দিতে হয়নি কিংবা লুক্সেমবার্গে গিয়েও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়নি। মার্চে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে সুইডেনে চলে যান। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে উদ্বেগের কারণেই দ্রুত দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তবে ইউরোপে কোথায় স্থায়ীভাবে থাকবেন, সে বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনা তখনও চূড়ান্ত হয়নি। লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিয়ে কাজ করা ড্যানিয়েল অ্যাটজও এই প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছেন। নেব্রাস্কায় জন্ম নেওয়া অ্যাটজ নিজেও পূর্বপুরুষের সূত্রে দেশটির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। তাঁর প্রপিতামহীর মা মার্গারিট ক্রুখটেন লুক্সেমবার্গে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি কানসাসে চলে যান। ২০০৮ সালে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তনের ফলে নির্দিষ্ট শর্তে ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারি জীবিত থাকা লুক্সেমবার্গের নাগরিক পূর্বপুরুষের বংশধরদের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়। ২০১৭ সালে পাস হওয়া আরেকটি আইনে যোগ্য বংশধরদের জন্য একই ধরনের সুযোগ রাখা হয়েছিল, যার আবেদন করার সময়সীমা ছিল ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ২০১৪ সালে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অ্যাটজ লুক্সেমবার্গে তাঁর হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়দের খুঁজে পান। তাঁদের একজন অ্যানেটের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অ্যাটজের ভাষায়, এই নাগরিকত্ব তাঁর জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এখন তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ববিষয়ক পরামর্শ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অন্য আমেরিকানদের আবেদনপ্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন। অ্যাটজ জানান, ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার সময়ও লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্বের আবেদন বেড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আগ্রহের মাত্রা আরও বেশি। তাঁর প্রতিষ্ঠানে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর থেকে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছর কর্মীর সংখ্যা দুই থেকে বেড়ে ১৫ হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৯০০ আমেরিকান নাগরিকত্বপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, যা মোট আবেদনকারীদের আনুমানিক ১৫ শতাংশ। লুক্সেমবার্গ সরকারের অক্টোবরের শুরুতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৬৯০। প্রতিবেশী জার্মানিতে বসবাসরত নাগরিকের সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৯২৫। জুনের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা ৯৫২ জন বেড়েছে। তবে নাগরিকত্ব নেওয়া মানেই লুক্সেমবার্গে চলে যাওয়া নয়। অ্যাটজের মতে, তাঁদের অধিকাংশই দেশটিতে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন না। অনেকেই স্পেন, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় দেশকে বসবাসের জন্য বেছে নিচ্ছেন। লুক্সেমবার্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড়ের তুলনায় প্রায় ৫১ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি কাজের সুযোগও সবার পেশাগত চাহিদার সঙ্গে মেলে না। ক্যাসিডিও ভবিষ্যতে লুক্সেমবার্গে থাকার কথা ভাবছেন, তবে আর্থিক দিক থেকে তা কতটা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে তিনি জানান, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসেনি। ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাঁর কাছে কিছুটা ভীতিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবু যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা পুরোপুরি হারাননি ক্যাসিডি। তাঁর মতে, দেশটিতে অনেক কঠিন ঘটনা ঘটলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের প্রশাসনের বাকি সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে, লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্বের প্রতি আমেরিকানদের আগ্রহ কেবল দেশত্যাগের প্রবণতা নয়; অনেকের কাছে এটি ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় একটি বিকল্প ব্যবস্থা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্বের সুযোগ থাকায় তাঁরা প্রয়োজনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাস ও কাজের পথ খোলা রাখতে চাইছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৮:১৬
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে করছাড়ের নতুন সীমা
বাড়ির সম্পত্তি কর ও আয়করে মিলতে পারে বড় ছাড়, ২০২৬ সালে করদাতাদের করণীয়

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের করবর্ষে রাজ্য ও স্থানীয় করের ওপর সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত করছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাড়ির সম্পত্তি কর, রাজ্য ও স্থানীয় আয়করসহ নির্দিষ্ট করের হিসাবের মাধ্যমে এই সুবিধা নিতে পারেন যোগ্য করদাতারা। তবে সবাই এই ছাড় পাবেন না। সুবিধাটি কাজে লাগাতে হলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে করের হিসাব জমা দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত বড় কর ও ব্যয়সংক্রান্ত আইনের মাধ্যমে স্টেট অ্যান্ড লোকাল ট্যাক্স বা এসএএলটি (SALT) ছাড়ের সীমা বাড়ানো হয়। ২০২৪ সালের করবর্ষে এই সীমা ছিল ১০ হাজার ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৪০ হাজার ডলার হয়। ২০২৬ সালে সীমাটি আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৪০০ ডলারে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর এই সীমা ১ শতাংশ করে বাড়বে। তবে সুবিধাটি স্থায়ী নয়। ২০৩০ সাল থেকে এসএএলটি ছাড়ের সীমা আবার ১০ হাজার ডলারে নেমে আসার কথা রয়েছে। এসএএলটি ছাড় মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা কর জমা দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট খরচ আলাদাভাবে হিসাব করে ছাড় দাবি করেন। করদাতারা বাড়ির সম্পত্তি করের পাশাপাশি রাজ্য ও স্থানীয় আয়কর অথবা বিক্রয় করের মধ্যে একটি বেছে নিতে পারেন। আয়কর ও বিক্রয় কর—দুটিই একসঙ্গে এই হিসাবের আওতায় নেওয়া যায় না। তবে ছাড়ের সীমা বেড়েছে বলেই প্রত্যেক করদাতার কর কমবে, এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রে কর জমা দেওয়ার সময় সাধারণ ছাড় (স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন) অথবা নির্দিষ্ট খরচের ভিত্তিতে হিসাব করা ছাড়ের (আইটেমাইজড ডিডাকশন) মধ্যে যেটি বেশি সুবিধাজনক, সেটি বেছে নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের করবর্ষে একক করদাতাদের সাধারণ ছাড় ১৬ হাজার ১০০ ডলার। যৌথভাবে কর জমা দেওয়া বিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ৩২ হাজার ২০০ ডলার। বাড়ির ঋণের সুদ, দাতব্য অনুদান, চিকিৎসাব্যয় এবং যোগ্য রাজ্য ও স্থানীয় করসহ অন্যান্য ছাড়যোগ্য খরচ যোগ করলে মোট পরিমাণ সাধারণ ছাড়ের চেয়ে বেশি হতে পারে। তখন নির্দিষ্ট খরচের ভিত্তিতে ছাড় দাবি করা লাভজনক হতে পারে। করছাড় বাড়াতে যেসব কৌশল কাজে লাগতে পারে বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে করের সুবিধা বাড়ানোর একটি উপায় হলো নির্দিষ্ট ছাড়যোগ্য খরচের সময় পরিকল্পনা করা। কোনো পরিবারের মোট ছাড়যোগ্য খরচ সাধারণ ছাড়ের সীমার সামান্য নিচে থাকলে, যোগ্য কিছু খরচ একই করবর্ষে হিসাব করার মাধ্যমে আইটেমাইজড ডিডাকশনের সুবিধা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, যাঁরা ২০২৬ সালে বাড়ির সম্পত্তি কর পরিশোধ করেছেন, তাঁরা স্থানীয় নিয়ম অনুমোদন করলে এবং পরবর্তী বছরের কর নির্ধারণের নোটিশ পেয়ে থাকলে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী বছরের সম্পত্তি করের একটি অংশ আগাম দিতে পারেন। এতে ২০২৬ সালের জন্য তাঁদের ছাড়যোগ্য খরচ বাড়তে পারে। তবে আগাম কর দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। সম্পত্তি করের মূল্যায়ন বা কর নির্ধারণের নোটিশ পাওয়ার সময় এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। আবার যাঁদের বাড়ির ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এসক্রো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পত্তি কর পরিশোধ করে, তাঁদের ক্ষেত্রে আগাম অর্থ দেওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। স্বনিয়োজিত ব্যক্তি, ছোট ব্যবসার মালিক কিংবা বিনিয়োগ থেকে আয় করা করদাতাদের জন্যও কিছু সুযোগ থাকতে পারে। তাঁরা রাজ্য সরকারের কাছে ত্রৈমাসিক আনুমানিক আয়করের অর্থ পরিশোধ করে থাকলে, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২৬ সালের শেষ কিস্তি পরিশোধ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। ফেডারেল সরকারের ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের আনুমানিক কর পরিশোধের শেষ সময় ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি। তবে রাজ্যভেদে কর পরিশোধের সময়সীমা আলাদা হতে পারে। তাই আগাম অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। এ ধরনের পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো একাধিক বছরের ছাড়যোগ্য খরচ একটি করবর্ষে একত্র করা। তবে কেবল ছাড় বাড়ানোর জন্য অপ্রয়োজনীয় অর্থ আগাম পরিশোধ করা উচিত নয়। এতে প্রকৃত আর্থিক লাভ হচ্ছে কি না, তা হিসাব করে নেওয়া জরুরি। বেশি আয়ের করদাতাদের জন্য রয়েছে বিশেষ সতর্কতা এসএএলটি ছাড়ের সীমা বাড়লেও উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে সুবিধাটি ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। ২০২৬ সালে সংশোধিত সমন্বিত মোট আয় বা মডিফায়েড অ্যাডজাস্টেড গ্রস ইনকাম (এমএজিআই) ৫ লাখ ৫০০ ডলারের বেশি হলে সর্বোচ্চ ছাড়ের পরিমাণ কমতে শুরু করে। আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সুবিধা কমতে থাকে। প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ ডলার বা তার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে ছাড়ের সীমা আবার ১০ হাজার ডলারে নেমে আসে। আলাদাভাবে কর জমা দেওয়া বিবাহিত ব্যক্তিদের জন্য সীমা ও আয়ের হিসাব ভিন্ন। এই ব্যবস্থাকে ঘিরে ‘এসএএলটি টর্পেডো’ নামে পরিচিত একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আয় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বাড়লে করদাতা শুধু অতিরিক্ত আয়ের ওপর করই দেন না, একই সঙ্গে করছাড়ের একটি অংশও হারান। ফলে আয়ের সামান্য বৃদ্ধি করের সামগ্রিক বোঝা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে। ২০২৬ সালে ৫ লাখ ৫০০ ডলার থেকে প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ ডলার আয়ের সীমার মধ্যে ছাড় কমার হিসাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্যায়ে প্রতি অতিরিক্ত এক ডলার আয়ের জন্য এসএএলটি সুবিধার ৩০ শতাংশ হারে ছাড় কমতে পারে। তাই এই আয়সীমার কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের আগেভাগে আয়ের হিসাব করা দরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, রথ আইআরএতে অর্থ রূপান্তর, বিনিয়োগের মুনাফা আদায় কিংবা বোনাস পাওয়ার মতো সিদ্ধান্তও সংশ্লিষ্ট বছরের আয়ের হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য আয় এবং করছাড়ের ওপর প্রভাব একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ করদাতা সাধারণ ছাড় ব্যবহার করেছিলেন। অর্থাৎ, করছাড়ের নতুন সীমা সবার জন্য সমানভাবে লাভজনক হবে না। বিশেষ করে যাঁদের ছাড়যোগ্য খরচ সাধারণ ছাড়ের চেয়ে বেশি, তাঁদের জন্য এসএএলটি সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে বেশি করছাড় পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সম্পত্তি কর, রাজ্য ও স্থানীয় কর, অন্যান্য ছাড়যোগ্য খরচ এবং সম্ভাব্য বার্ষিক আয়ের হিসাব আগে থেকেই সাজিয়ে নেওয়া দরকার। বিশেষত উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে সামান্য পরিকল্পনাগত ভুলেও প্রত্যাশিত সুবিধা কমে যেতে পারে। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য কর পরামর্শকের সঙ্গে আলোচনা করা সহায়ক হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৮:৮
মেক্সিকোর মানজানিলো উপকূলের দিকে এগোচ্ছে হারিকেন সাইমন
মেক্সিকোর উপকূলের দিকে এগোচ্ছে ক্যাটাগরি ৪ হারিকেন সাইমন, প্রাণঘাতী বন্যার আশঙ্কা

মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন সাইমন। শনিবার ঝড়টি ক্যাটাগরি ৪ হারিকেনে পরিণত হয়েছে। এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার। ঝড়টি উপকূলে আঘাত হানলে ধ্বংসাত্মক বাতাস, জলোচ্ছ্বাস, ভারী বৃষ্টি ও প্রাণঘাতী বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে সাইমনের অবস্থান ছিল মেক্সিকোর মানজানিলো উপকূলীয় শহর থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার দূরে। ঝড়টি উত্তর দিকে এগোচ্ছিল। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার গভীর রাত অথবা রোববারের শুরুর দিকে এটি মেক্সিকোর পশ্চিম-মধ্য উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। স্থলভাগে আঘাত হানার আগে ঝড়টির শক্তি আরও বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুয়ের্তো ভায়ার্তা পর্যটনকেন্দ্রের দক্ষিণে মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কয়েকটি এলাকায় হারিকেন সতর্কতা কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে মানজানিলোও রয়েছে। দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় বন্দর এই শহরটি ঝড়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। আরও দক্ষিণে লাজারো কার্দেনাসের দিকে কিছু এলাকায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলের কাছের মারিয়াস দ্বীপপুঞ্জও সতর্কতার আওতায় রয়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, ঝড়টির শক্তিশালী বাতাস ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারে। ভারী বৃষ্টিতে সড়ক ডুবে যেতে পারে, পাহাড়ি ঢালে ভূমিধস হতে পারে এবং যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। এতে জরুরি উদ্ধারকর্মীদের দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঝড়ের পর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতেও সময় লাগতে পারে। মানজানিলোতে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি শনিবার দিনের প্রথম ভাগে মানজানিলো শহরে বাসিন্দাদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্কের লক্ষণ দেখা যায়নি। তবে ঝড়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল আগেই। কিছু দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জানালায় সুরক্ষামূলক বোর্ড লাগানো হচ্ছিল। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং রাস্তাঘাটেও মানুষের চলাচল কমে আসে। শুক্রবার রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। একই সঙ্গে সমুদ্রের পানি ও ঢেউয়ের উচ্চতা বাড়তে থাকায় সৈকতসংলগ্ন হোটেলগুলোর প্রবেশপথের কাছাকাছি পর্যন্ত ঢেউ পৌঁছাচ্ছিল। তবে শনিবার দিনের প্রথম ভাগে সেখানে ঝড়ের প্রবল বাতাস পুরোপুরি অনুভূত হয়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক সুরক্ষা কর্মীরা সৈকত বন্ধ করে দেন এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধক বসান। উপকূলের বিপজ্জনক অবস্থা বোঝাতে লাল ও কালো সতর্কসংকেতও টাঙানো হয়। বাসিন্দা ও পর্যটকদের সমুদ্রের কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড এবং জরুরি সেবার কর্মীরা বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় টহল দিচ্ছেন। পাশের হালিসকো অঙ্গরাজ্যের বন্যাপ্রবণ সিহুয়াতলান পৌরসভার কিছু এলাকায় সতর্কতামূলকভাবে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি ইতিমধ্যে বেড়ে যাওয়ায় ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদী উপচে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস হারিকেন সাইমনের কারণে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে রোববার পর্যন্ত ১০ থেকে ২০ ইঞ্চি বা প্রায় ২৫ থেকে ৫১ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার। মিচোয়াকান, কোলিমা ও হালিসকোর কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টির পরিমাণ ৩০ ইঞ্চি বা প্রায় ৭৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এত বেশি বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় মাটি ধসে সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মেক্সিকোর গুয়েরেরো, মিচোয়াকান, কোলিমা ও হালিসকো অঙ্গরাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের কেন্দ্র যেখানে উপকূলে আঘাত হানবে, তার কাছাকাছি ও পূর্ব দিকে সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে উপকূলে ঢুকে পড়তে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বিশাল ও ধ্বংসাত্মক ঢেউ। আগামী কয়েক দিন মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য উপকূলের বিভিন্ন স্থানে উত্তাল সমুদ্র এবং বিপজ্জনক স্রোত তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে হারিকেন পোলো ক্যাটাগরি ২ ঝড় হিসেবে বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপে আঘাত হানে। ওই ঝড়ে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে, রাস্তায় পানি জমে এবং বিভিন্ন স্থানে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর পরপরই সাইমনের শক্তিশালী হয়ে ওঠা মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৭:৫৩
ফ্লোরিডায় স্কুল নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রে প্তারের পর তদন্ত
ফোনে ঘোড়ার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌ ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও, ফ্লোরিডায় স্কুল নিরাপত্তাকর্মী গ্রে প্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে একটি স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীর ফোনে ঘোড়ার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌ ন কর্মকাণ্ডের পাঁচটি ভিডিও পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ডেনিস কিরান নামের ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গ্রে প্তার করা হয়েছে। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতাসংক্রান্ত চারটি অভিযোগে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিউ স্মিরনা বিচ হাইস্কুলে কর্মরত কিরানকে ঘিরে তদন্ত শুরু হয় বুধবার। ওই দিন স্কুলের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা তাঁকে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি তুলতে দেখেন। এ সময় তাঁর হাতে থাকা ফোনটি উরুর ওপরের অংশের কাছে রাখা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর কিরানের কাছ থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তদন্ত চলাকালে তাঁকে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে তাঁর ফোন পরীক্ষা করে পুলিশ। ওই ফোনে শিক্ষার্থীদের কোনো অপরাধমূলক ছবি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ঘোড়ার সঙ্গে যৌ ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার পাঁচটি ভিডিও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ভিডিওগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কিরানের বিরুদ্ধে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। আদালত তাঁকে শিশু ও প্রাণীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের শুরুতে স্কুলে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি তোলার অভিযোগ সামনে এলেও ফোনে শিক্ষার্থীদের অপরাধমূলক ছবি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ফোনে পাওয়া ভিডিওগুলোকে কেন্দ্র করে পৃথক অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে। অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। ফ্লোরিডায় স্কুলের নিরাপত্তা জোরদার করতে চালু করা হয়েছিল স্কুল গার্ডিয়ান কর্মসূচি। ২০১৮ সালে পার্কল্যান্ডের একটি স্কুলে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার পর এ কর্মসূচি শুরু হয়। এর আওতায় স্কুল জেলার নির্দিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্যাম্পাসে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা কর্মীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের মতো কাউকে গ্রে প্তার করার ক্ষমতা পান না। তাঁদের মূল দায়িত্ব স্কুলের নিরাপত্তায় সহায়তা করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখা। স্কুলের মতো সংবেদনশীল স্থানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের আচরণ নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকির গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৭:৩৫
প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ ও ত্বকের যত্ন
প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে ব্রণের সমস্যা, ত্বক সুস্থ রাখতে চিকিৎসকেরা দিচ্ছেন যেসব পরামর্শ

ব্রণকে সাধারণত কৈশোরের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বয়স বাড়ার পরও অনেকের মুখে ব্রণ দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে কৈশোরের ব্রণ প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও থেকে যায়, আবার কারও ত্বকে নতুন করে ব্রণ দেখা দেয়। মুখের পাশাপাশি বুক, কাঁধ ও পিঠেও হতে পারে এই সমস্যা। সঠিক চিকিৎসা না নিলে ব্রণ থেকে ত্বকে কালচে দাগ ও স্থায়ী ক্ষত তৈরি হতে পারে।   ফিলিপাইনে বসবাসকারী বিপণনকর্মী ও কনটেন্ট নির্মাতা গিলিয়ান মেগান মন্টালবোর অভিজ্ঞতা এর একটি উদাহরণ। কৈশোরে তাঁর কপাল ও নাকে অল্প কয়েকটি ব্রণ উঠত। তখন সমস্যা তেমন গুরুতর ছিল না। কিন্তু কর্মজীবনে প্রবেশের পর ব্রণ আবার দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে বেড়ে যায়। গাল ও থুতনিতে ব্রণ হওয়ায় তিনি কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখের দিকে তাকাতেও অস্বস্তি বোধ করতেন। মন্টালবোর ভাষায়, এই সমস্যা তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নিজের প্রতি ইতিবাচক ধারণার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন তিনি। প্রায় এক বছরের মধ্যে তাঁর ব্রণ অনেকটাই সেরে যায়। তবে ত্বকে থেকে যাওয়া দাগ নিয়ে তাঁকে আরও কিছুদিন ভুগতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ একটি পরিচিত সমস্যা। এ নিয়ে লজ্জা পাওয়া বা একা একা কষ্ট সহ্য করার প্রয়োজন নেই। ব্রণের ধরন ও কারণ বুঝে চিকিৎসা নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস স্কুল অব মেডিসিনের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও এথনিক স্কিন প্রোগ্রামের পরিচালক ডা. ক্রিস্টাল আগুহ বলেন, ব্রণের কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে চিকিৎসকদের যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন ব্রণের সমস্যায় ভুগলে একা কষ্ট না পেয়ে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত। প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণের কারণ কী? ত্বকের ক্ষুদ্র রন্ধ্র তেল, মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ তৈরি হতে পারে। সাধারণ ছোট ব্রণ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে কমে যেতে পারে। কিন্তু বারবার ব্রণ উঠতে থাকলে, দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কিংবা ত্বকের রং ও গঠনে পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কৈশোরে সাধারণত কপাল, নাক ও গালে ব্রণ বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্রণ চোয়ালের রেখা ও থুতনির আশপাশে বেশি দেখা যেতে পারে। স্টেরয়েডজাতীয় কিছু ওষুধ ব্যবহারের কারণেও কারও কারও ব্রণ হতে পারে। ব্রণের পেছনে বংশগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, পরিবেশ এবং খাদ্যাভ্যাসের মতো একাধিক বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে কারণ এক নয়। মুখ ও শরীরের অন্য অংশে ব্রণ তৈরির প্রক্রিয়ায় মিল থাকলেও শরীরের ব্রণের ক্ষেত্রে ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা কখনো কখনো বেশি হতে পারে। ব্রণ দেখতে একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। কিছু ব্রণ ছোট, সাদা ও ব্যথাহীন দানার মতো দেখা যায়। আবার কিছু ব্রণ লাল, ফুলে থাকা ও ব্যথাযুক্ত হতে পারে। ত্বকের গভীরে তৈরি হওয়া বড় ও যন্ত্রণাদায়ক গুটিকে সিস্টিক ব্রণ বলা হয়। ব্রণের ধরন বুঝে চিকিৎসা নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্রণের চিকিৎসায় কী কী উপায় রয়েছে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রণের চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার তীব্রতা, কারণ এবং ত্বকের অবস্থার ওপর। হালকা ব্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড কিংবা অ্যাডাপালিনের মতো উপাদানযুক্ত ফেসওয়াশ বা ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এসব উপাদান ত্বকের রন্ধ্র পরিষ্কার রাখতে এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ব্রণ বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক বা ট্রেটিনয়েনজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে। গুরুতর সিস্টিক ব্রণ কিংবা অন্য চিকিৎসায় কাজ না হলে আইসোট্রেটিনয়েনের মতো ওষুধ বিবেচনা করা হয়। তবে এসব ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা রয়েছে। তাই নিজে থেকে ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। নারীদের হরমোনজনিত ব্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসাপদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কিংবা স্পাইরোনোল্যাকটোনের মতো ওষুধ দিতে পারেন। কোন চিকিৎসা উপযুক্ত হবে, তা ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হয়। কখনো কখনো দ্রুত কোনো নির্দিষ্ট ব্রণের ফোলা ও প্রদাহ কমাতে চিকিৎসকেরা কর্টিসোন ইনজেকশন ব্যবহার করেন। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বিকল্প নয়। ব্রণ থেকে বের হওয়া তরল শোষণ করতে হাইড্রোকলয়েডযুক্ত প্যাচও ব্যবহার করা হয়। এসব প্যাচ ব্রণ খোঁচানো থেকে বিরত থাকতেও সাহায্য করতে পারে। তবে সব ধরনের ব্রণের জন্য এগুলো উপযুক্ত নয়। ত্বকে দাগ বা অন্য সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ব্রণ খোঁচানো কেন ক্ষতিকর ব্রণ উঠলে অনেকেই তা নখ দিয়ে খুঁটতে বা চেপে বের করতে চান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ফাইন ডার্মাটোলজির প্রতিষ্ঠাতা ডা. লরেন ফাইন বলেন, ব্রণ খোঁচানো বা চেপে ধরলে সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে ত্বকের প্রদাহ আরও গভীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি নতুন ব্রণ তৈরি হওয়া, কালচে দাগ পড়া এবং স্থায়ী ক্ষতের ঝুঁকিও বাড়ে। গাঢ় ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে প্রদাহের পর অতিরিক্ত রঞ্জক পদার্থ তৈরি হওয়ায় দাগ দূর হতে বেশি সময় লাগতে পারে। ব্রণ সেরে যাওয়ার পরও ত্বকে দাগ থেকে যেতে পারে। এ ধরনের দাগ কমাতে গ্লাইকোলিক অ্যাসিডযুক্ত কিছু ত্বক পরিচর্যার পণ্য সহায়ক হতে পারে। অ্যাডাপালিন ও রেটিনলযুক্ত পণ্যও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। তবে গভীর বা গুরুতর ক্ষতের জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ লেজারের মতো চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন। চিকিৎসা শুরু করার পর ফল পেতে সময় লাগতে পারে। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের শুরুতে কারও কারও ব্রণ সাময়িকভাবে বেড়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তনও দেখা যায়। তাই ত্বকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং সমস্যা বাড়লে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের যত্নের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও জরুরি মন্টালবোর অভিজ্ঞতা দেখায়, ব্রণের প্রভাব শুধু ত্বকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর বাবা নিজেও ব্রণের সমস্যায় ভুগেছিলেন। তিনিই তাঁকে চিকিৎসকের কাছে যেতে এবং উপযুক্ত পণ্য খুঁজে নিতে উৎসাহিত করেন। কঠিন সময়ে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সমর্থনও তাঁকে সাহস জুগিয়েছিল। মন্টালবো জানান, ব্রণের সমস্যা যখন সবচেয়ে বেশি ছিল, তখন ওই বন্ধু তাঁর সঙ্গে বিদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। একসময় বন্ধু তাঁকে জানান, তাঁর মুখের ব্রণ কখনো খেয়ালই করেননি। এই অভিজ্ঞতা মন্টালবোকে বুঝতে সাহায্য করে, অন্যের কাছে একজন মানুষের চেহারার চেয়ে তাঁর আচরণ ও ব্যক্তিত্ব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ব্রণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা ত্বকে কালচে দাগ ও ক্ষত তৈরি করলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা, ধৈর্য এবং কাছের মানুষের সহযোগিতা এই সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৭:২৪
ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের বাঘের আবাসস্থল
দর্শনার্থীদের সামনেই বাঘের খাঁচায় ঢুকে প্রাণ হারালেন ব্যক্তি, বন্ধ হলো পার্ক

ইংল্যান্ডের একটি বন্যপ্রাণী পার্কে বাঘের খাঁচায় ঢুকে প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্যক্তি। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে এ ঘটনা ঘটে। খাঁচায় প্রবেশের পর একটি বাঘ তাঁর ওপর আ ক্র ম ণ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ ত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর পার্কটি খালি করে দেওয়া হয় এবং সপ্তাহান্তের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কীভাবে ওই ব্যক্তি বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের বাঘের খাঁচায় একজন ব্যক্তির প্রবেশের খবর পায় তারা। পরে বাঘটি ওই ব্যক্তির ওপর আ ক্র ম ণ করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃ ত ঘোষণা করা হয়। নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। শোকাবহ এই পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা পরিবারটিকে সহায়তা করছেন। ঘটনার সময় পার্কে উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বাঘটির সঙ্গে ওই ব্যক্তির সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওতে ব্যক্তিটিকে বাঘের আ ক্র ম ণ থেকে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করতে শোনা যায়। আশপাশে থাকা লোকজনও চিৎকার করে তাঁকে সতর্ক করার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার ভিডিওটি অত্যন্ত মর্মান্তিক হওয়ায় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এমন দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে নিহত ব্যক্তির পরিবার ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মানসিক কষ্ট আরও বাড়তে পারে। কীভাবে খাঁচায় প্রবেশ করলেন, তদন্ত চলছে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা চালু করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জরুরি সেবাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে পার্ক প্রশাসন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার পর বাঘের খাঁচার চারপাশে কালো পর্দা টাঙানো হয়। এতে দর্শনার্থীদের সরাসরি ঘটনাস্থল দেখার সুযোগ সীমিত করা হয়। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে পার্কের দর্শনার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আ ক্র ম ণের পর বাঘটি আহত হয়নি এবং খাঁচার ভেতরেই ছিল। এ কারণে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন করে কোনো ঝুঁকি নেই বলেও আশ্বস্ত করেছে তারা। তবে ওই ব্যক্তি কীভাবে দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত অংশ পেরিয়ে বাঘের আবাসস্থলে ঢুকলেন, তা এখনো জানা যায়নি। তিনি কোনো বাধা অতিক্রম করেছিলেন কি না, কিংবা কী পরিস্থিতিতে খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, সেসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের ‘ল্যান্ড অব দ্য টাইগার্স’ এলাকায় বাঘ দেখার জন্য দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে তৈরি পথ রয়েছে। সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বাঘের চলাফেরা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাঘের আবাসস্থলটি প্রায় দুই একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। পার্কটি ২০০৯ সালে চালু হয়। পরে ২০১১ সালে বাঘের জন্য নির্দিষ্ট এই প্রদর্শনী এলাকা চালু করা হয়। এখানে বিপন্ন প্রজাতির আমুর বা সাইবেরীয় বাঘ রাখা হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশের আদলে তৈরি আবাসস্থলে বাঘগুলো বিচরণ করে এবং দর্শনার্থীরা নির্ধারিত স্থান থেকে সেগুলো দেখতে পারেন। এ ধরনের বন্যপ্রাণী পার্কে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সীমানা ও প্রবেশপথ মেনে চলা জরুরি। একই সঙ্গে প্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসস্থল থেকে দর্শনার্থীদের আলাদা রাখার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইয়র্কশায়ারের এই ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার পর পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, দর্শনার্থী, কর্মী ও প্রাণীদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তদন্ত চলাকালে পার্কটি বন্ধ রাখা হবে বলেও জানানো হয়। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিচয়, বয়স কিংবা তিনি কী কারণে বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ তাঁর পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। একটি বন্যপ্রাণী পার্কে এমন মর্মান্তিক ঘটনা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং প্রাণীদের আবাসস্থল সুরক্ষার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। তদন্তে কীভাবে ওই ব্যক্তি বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, তা স্পষ্ট হলে ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও জানা যাবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৭:৭