হারিকেন ইসাইয়াসে যুক্তরাষ্ট্রে চারজনের মৃত্যু, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন প্রায় ৬ লাখ এর বেশি মানুষ
হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত ফ্লোরিডা, আলাবামা, জর্জিয়া ও মিসিসিপিতে প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ঝড় দুর্বল হয়ে পড়লেও দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা, দমকা বাতাস ও টর্নেডোর ঝুঁকি অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বাড়ির ওপর গাছ পড়ে।
ইসাইয়াস স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে উপকূলে আঘাত হানে। তখন এটি ক্যাটাগরি ২ মাত্রার হারিকেন ছিল। স্থলভাগে ঢোকার পর ঝড়টি দুর্বল হতে থাকে। তবে আলাবামার দক্ষিণাঞ্চল, ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেল এবং জর্জিয়ার দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা রয়ে যায়।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান পাওয়ারআউটেজের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে ফ্লোরিডায় প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার, আলাবামায় ১ লাখ ৯০ হাজার, জর্জিয়ায় ৪৩ হাজার এবং মিসিসিপিতে ১৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। এই সংখ্যা বিদ্যুৎ সংযোগের হিসাব, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মোট সংখ্যা নয়।
আলাবামার হিউস্টন কাউন্টিতে উপড়ে পড়া গাছ ও বিদ্যুতের তারের কারণে সড়কে চলাচল বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। রাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউন্টির সব সড়ক বন্ধ থাকবে। এলাকাটিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতাও জারি ছিল।
ফ্লোরিডায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গভর্নর রন ডিস্যান্টিস জানিয়েছেন, ঝড় মোকাবিলায় প্রায় ১৬ হাজার বিদ্যুৎকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন এলাকায় হাইওয়ে, সেতু ও বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ চললেও পেনসাকোলা বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ১৯ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের কারণ নথিভুক্ত করার নিয়ম বদলাচ্ছে। নতুন নিয়মে ১০ ধরনের ঘটনাকে এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে থাকা কারণের তালিকা থেকে সরিয়ে আলাদা শ্রেণিতে রাখা হবে। এতে ওই সব কারণে ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটলে যাত্রীদের খাবার, হোটেল বা অন্য সুবিধা পাওয়ার সুযোগ কমতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন পরিবহন বিভাগ। এত দিন এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে থাকা কারণে দীর্ঘ বিলম্ব বা ফ্লাইট বাতিল হলে কোম্পানিগুলোর নিজস্ব অঙ্গীকার অনুযায়ী যাত্রীরা বিভিন্ন সুবিধা পেতেন। নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট ১০টি কারণ সেই শ্রেণিতে গণনা করা হবে না। পরিবহন বিভাগ বলছে, এর ফলে সুবিধা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় এমন ঘটনার সংখ্যা কমতে পারে। তবে কতজন যাত্রী প্রভাবিত হবেন বা সুবিধার পরিমাণ কতটা কমবে, সে হিসাব তাদের কাছে নেই। নতুন শ্রেণিতে থাকছে যাত্রীর মৃত্যুর পর উড়োজাহাজ পরিষ্কারের প্রয়োজন, চরম আবহাওয়া বা বাইরের কোনো বস্তুর আঘাতে উড়োজাহাজের ক্ষতি, এয়ারলাইনস বা তার ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে নেই এমন ব্যাগেজ ব্যবস্থার ত্রুটি এবং নির্দিষ্ট শর্তে সাইবার হামলা। সরকারি ব্যবস্থার অপ্রত্যাশিত ত্রুটি সরাসরি নিরাপদে ফ্লাইট পরিচালনায় বাধা দিলেও সেটি এই শ্রেণিতে পড়বে। এ ছাড়া জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে ব্রেক অতিরিক্ত গরম হওয়া, ফ্লাইটের আগে সমাধান করতেই হবে এমন অনির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ, এয়ারলাইনসের দায় ছাড়া চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা, বিশৃঙ্খল যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া এবং আগ্নেয়গিরির ছাই বা ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বিমানবন্দর বন্ধ হওয়াও তালিকায় রয়েছে। সব ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণ এই ছাড়ের আওতায় পড়বে না; নিয়মে নির্দিষ্ট পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য খাবার ও হোটেলের ব্যবস্থা আর টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়। এয়ারলাইনস ফ্লাইট বাতিল করলে বা সময়সূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনলে যাত্রী বিকল্প ফ্লাইট কিংবা ভাউচার গ্রহণ না করে রিফান্ড নিতে পারেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণ এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে ছিল কি না, তার ওপর এই রিফান্ডের অধিকার নির্ভর করে না। পরিবহন বিভাগের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ যাত্রায় নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন ঘণ্টা এবং আন্তর্জাতিক যাত্রায় অন্তত ছয় ঘণ্টা পরে গন্তব্যে পৌঁছানোর মতো পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য বিলম্বের মধ্যে পড়ে। তবে পরিবর্তিত বা বিকল্প ফ্লাইটে ভ্রমণ করলে সাধারণত পুরো টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়ার নিয়ম প্রযোজ্য হয় না। ২০২৪ সালে পাস হওয়া আইনের নির্দেশনা কার্যকর করতেই পরিবহন বিভাগ এই শ্রেণিবিন্যাস বদলাচ্ছে। ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটলে যাত্রীরা এয়ারলাইনসের কাছে বিলম্বের কারণ জানতে এবং কোম্পানির কাস্টমার সার্ভিস নীতিতে খাবার, হোটেল বা অন্য সুবিধার কী অঙ্গীকার রয়েছে, তা দেখতে পারেন।
হেলথ ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি চিকিৎসকসহ গ্রেপ্তার পাঁচ শতাধিক
হারিকেন ইসাইয়াসে যুক্তরাষ্ট্রে চারজনের মৃত্যু, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন প্রায় ৬ লাখ এর বেশি মানুষ
নিউ ইয়র্কে কৃষিকাজে ঘণ্টায় ১৯.২৫ ডলার বেতনে ১২৬ জনের চাকরির সুযোগ, লাগবে না শিক্ষাগত ডিগ্রি
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে মানবদেহের একটি প্রদর্শনীতে নিজের মৃত ছেলের দেহ শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেছেন টেক্সাসের বাসিন্দা কিম এরিক স্মিথ। তবে প্রদর্শনী কর্তৃপক্ষ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। পুরোনো আলোকচিত্রেও দেখা গেছে, যে সংরক্ষিত দেহটিকে তিনি ছেলের বলে মনে করছেন, সেটি তাঁর ছেলের মৃত্যুর অন্তত ছয় বছর আগে প্রদর্শনীতে ছিল। ফলে ছেলের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার দাবিটি প্রতিষ্ঠিত তথ্যের সঙ্গে মিলছে না। কিমের ছেলে ক্রিস্টোফার টড এরিক ২০১২ সালের ১০ নভেম্বর টেক্সাসের মিডলোথিয়ানে মারা যান। তাঁর বয়স ছিল ২৩ বছর। ছেলের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলে আসছেন কিম। পরে লাস ভেগাসের ‘রিয়েল বডিজ’ প্রদর্শনীর একটি সংরক্ষিত মানবদেহের ছবি দেখে সেটিকে নিজের ছেলের দেহ বলে সন্দেহ করেন তিনি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দ্য সানকে দেওয়া বক্তব্যে কিম বলেন, ছেলের মাথার ডান পাশে যে ধরনের ক্ষত তিনি দেখেছিলেন বলে মনে করেন, প্রদর্শনীর দেহেও একই ধরনের চিহ্ন তাঁর চোখে পড়েছে। ‘দ্য থিংকার’ নামে পরিচিত বসা অবস্থার ওই দেহটির সঙ্গে ছেলের শারীরিক মিল রয়েছে বলে তাঁর দাবি। সন্দেহ দূর করতে তিনি ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। তবে তাঁর উল্লেখ করা মিলগুলো ছেলের পরিচয় নিশ্চিত করার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রদর্শনীর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইমাজিন এক্সিবিশনস জানিয়েছে, পরিবারের প্রতি তাদের সহমর্মিতা থাকলেও অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান লিড স্টোরিজকে দেওয়া বক্তব্যে তারা জানায়, সংশ্লিষ্ট দেহটি ২০০৪ সাল থেকে লাস ভেগাসে প্রদর্শিত হচ্ছে। তাই ২০১২ সালে মারা যাওয়া ক্রিস্টোফারের সঙ্গে সেটির সম্পর্ক থাকার সুযোগ নেই। লিড স্টোরিজ কর্তৃপক্ষের উল্লেখ করা ২০০৪ সালের ছবি খুঁজে পায়নি। তবে গেটি ইমেজেসের সংগ্রহে ২০০৬ সালের ২২ জুন তোলা একটি ছবি শনাক্ত করেছে, যেখানে একই সংরক্ষিত দেহ দেখা যায়। ছবিটি লাস ভেগাসের ট্রপিকানা হোটেলে ‘বডিজ: দ্য এক্সিবিশন’ উদ্বোধনের সময় তোলা হয়েছিল। এই আলোকচিত্রই দেখায়, ক্রিস্টোফারের মৃত্যুর বহু আগে দেহটি প্রদর্শনীতে ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু বর্ণনায় বলা হয়েছে, কিম সরাসরি প্রদর্শনীতে গিয়ে ছেলের দেহ চিনতে পারেন। কিন্তু তাঁর প্রকাশিত বক্তব্য পর্যালোচনা করে লিড স্টোরিজ জানিয়েছে, তিনি প্রথমে ২০১৮ সালের একটি সংবাদ প্রতিবেদনের সঙ্গে থাকা ভিডিওতে দেহটি দেখেছিলেন। ২০২৫ সালের মার্চে সেই প্রতিবেদন আবার শেয়ার করেন তিনি। অর্থাৎ ঘটনাটি সাম্প্রতিক কোনো আবিষ্কার নয়। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত ক্যাসিনো ডট অর্গের প্রতিবেদনেও অভিযোগটি খণ্ডন করা হয়। সেখানে বলা হয়, ক্রিস্টোফারের দেহ ২০১২ সালেই দাহ করা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কিম আগে দাহের বিষয়টি স্বীকার করলেও পরে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ছেলের মৃত্যুর উত্তর খুঁজে পাওয়ার তাঁর চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও প্রদর্শনীর দেহটি ক্রিস্টোফারের বলে দাবি করার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা আরও কঠিন, মর্টগেজ সুদ ৭.৫৫ শতাংশে পৌঁছানোয় বাড়ছে ঋণের চাপ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণদের চিকিৎসার খরচে সহায়তা, যোগ্যদের জন্য আসছে ৯০ ডলার
ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের, আসছে লাখ লাখ টন জ্বালানি
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন এমন দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ইবি-২ গ্রিন কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী এবং বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসায় বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে এই শ্রেণিতে আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে যোগ্য আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও পরিবারের সদস্য হিসেবে অভিবাসনের সুযোগ পেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী, ইবি-২ মূলত দুই ধরনের আবেদনকারীকে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছেন উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবীরা। দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছেন বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসায় সাধারণ মানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা। এ ছাড়া জাতীয় স্বার্থে ছাড় বা ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী ব্যক্তি নিয়োগকর্তার স্পনসর ছাড়াই নিজের আবেদন করতে পারেন। উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রির চেয়ে বেশি মানের শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। এর মধ্যে মাস্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রি অন্তর্ভুক্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রির পর অন্তত পাঁচ বছরের ক্রমবর্ধমান দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাগত কাজ থাকলে সেটিকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। শুধু আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই হবে না; যে পেশায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে চান, সেটিও সাধারণত উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাদার কাজ হতে হবে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট পদে প্রবেশের জন্য সাধারণত অন্তত স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন হওয়া উচিত। উদাহরণ হিসেবে, প্রকৌশলে উচ্চতর ডিগ্রিধারী কেউ যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৌশলী হিসেবে কাজের জন্য আবেদন করলে তাঁর যোগ্যতা বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু একই ব্যক্তি এমন একটি কাজের জন্য আবেদন করলে, যেখানে সাধারণত ডিগ্রির প্রয়োজন নেই, সেখানে শুধু তাঁর উচ্চতর ডিগ্রি ইবি-২ যোগ্যতা নিশ্চিত করবে না। যাঁদের উচ্চতর ডিগ্রি নেই, তাঁরাও বিশেষ দক্ষতার ভিত্তিতে আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন। তবে তাঁদের প্রমাণ করতে হবে, বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসার ক্ষেত্রে তাঁদের দক্ষতা সংশ্লিষ্ট পেশায় সাধারণত দেখা যায় এমন মানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ জন্য নির্ধারিত ছয়টি মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত তিনটি পূরণ করার প্রমাণ দিতে হয়। এসব মানদণ্ডের মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, একই পেশায় অন্তত ১০ বছরের পূর্ণকালীন কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ, পেশাগত লাইসেন্স বা সনদ, বিশেষ দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন, পেশাজীবীদের সংগঠনের সদস্যপদ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সহকর্মী, প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি। কাজের অভিজ্ঞতা প্রমাণে নিয়োগকর্তার চিঠিসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হতে পারে। আবেদনকারীর পেশা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রমাণের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ইবি-২ আবেদনে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তার চাকরির প্রস্তাব এবং শ্রম সনদসংক্রান্ত প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়। তবে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে। এ ব্যবস্থায় যোগ্য ব্যক্তি নিজেই আবেদন করতে পারেন; নিয়োগকর্তার স্পনসর এবং প্রচলিত শ্রম সনদ প্রক্রিয়া থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে এই ছাড় স্বয়ংক্রিয় নয়। আবেদনকারীকে আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হয় যে তাঁর প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব ও জাতীয় তাৎপর্য রয়েছে, তিনি সেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত অবস্থানে আছেন এবং চাকরির প্রস্তাব ও শ্রম সনদের শর্ত মওকুফ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক উপকার হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক—অর্থাৎ স্টেম—ক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের আবেদনও এই ব্যবস্থায় বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বা উদীয়মান প্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও কাজের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং প্রস্তাবিত কাজের প্রভাব গুরুত্ব পেতে পারে। তবে শুধু স্টেম বিষয়ে ডিগ্রি বা ডক্টরেট থাকলেই জাতীয় স্বার্থে ছাড় নিশ্চিত হয় না; নির্ধারিত শর্ত পূরণের প্রমাণ প্রয়োজন। কিছু নির্দিষ্ট পেশার ক্ষেত্রে শ্রম সনদসংক্রান্ত নিয়মে ব্যতিক্রম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ‘শিডিউল এ’ তালিকায় নির্দিষ্ট পেশা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই তালিকায় থাকা মানেই সব আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইবি-২ গ্রিন কার্ডের যোগ্য হবেন, এমন নয়। কোন অভিবাসন শ্রেণিতে আবেদন করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পেশার জন্য কী শর্ত প্রযোজ্য, তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হয়। ইবি-২ আবেদনের জন্য সাধারণত আই-১৪০ ফরমের মাধ্যমে অভিবাসন আবেদন জমা দেওয়া হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে যোগ্য আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও নির্ধারিত নিয়মে অভিবাসী মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু আই-১৪০ অনুমোদন হলেই পরিবারের সবাই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড পেয়ে যাবেন, এমন নয়। ভিসা পাওয়ার সুযোগ, প্রয়োজনীয় আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হয়। সব মিলিয়ে, ইবি-২ দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের একটি বিদ্যমান অভিবাসনপথ। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, প্রস্তাবিত পেশা এবং প্রয়োজনীয় নথি—সবকিছুই আবেদন মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির বর্তমান নিয়ম ও যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।
আবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার পরিকল্পনায় কমলা হ্যারিস, তবে স্বামী ডগ এমহফের রয়েছে আপত্তি
যুক্তরাষ্ট্রের রিও গ্র্যান্ডে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, পানির সংকটে পড়তে পারেন দেড় কোটি মানুষ