সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
জাপানি বুলেট ট্রেন
জাপানি ট্রেনের অপেক্ষা এড়িয়ে নিজস্ব বুলেট ট্রেন চালাতে চায় ভারত

মুম্বাই ও আহমেদাবাদের মধ্যে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পের একটি অংশ ২০২৭ সালে চালুর লক্ষ্য থাকলেও জাপানের নতুন প্রজন্মের শিনকানসেন ট্রেন তখন পাওয়া যাবে না। এ কারণে শুরুতে ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দ্রুতগতির ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশ এ ব্যবস্থায় সম্মত হয়েছে।    ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথের নির্মাণ, ট্রেন সরবরাহ ও সিগন্যাল ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে দুই দেশের মধ্যে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত জুলাইয়ে জানিয়েছিলেন, জাপান ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে ই১০ সিরিজের ট্রেন সরবরাহ করবে। ট্রেনটি এখনো উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। তাই রেলপথের প্রথম অংশ প্রস্তুত হলে ভারতীয় ট্রেন দিয়ে যাত্রীসেবা শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।    তবে সরবরাহের সময় নিয়ে আরও দীর্ঘ অপেক্ষার কথা জানিয়েছেন ভারতের রেল মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি বলেন, জাপান ২০৩৪ সালের আগে ই১০ ট্রেন দিতে পারবে না, এমন তথ্য স্পষ্ট হওয়ার পর নিজস্ব ট্রেন ও আন্তর্জাতিক মানের সিগন্যাল ব্যবস্থা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাপানি পক্ষ তখনো ট্রেন, সিগন্যাল এবং পরিচালনা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সরবরাহ প্রস্তাব দিতে পারেনি।    প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন জাপানের সাবেক বিচারমন্ত্রী হিদেকি মাকিহারা। গত জুলাইয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ভারতীয় পক্ষের সিদ্ধান্ত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার সমস্যায় কাজ এগোয়নি। এটি মাকিহারার অভিযোগ; ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দেশের আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং দ্রুত রেলসেবা চালুর অভিন্ন লক্ষ্য অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।    প্রথম ভারতীয় বুলেট ট্রেন তৈরি করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিইএমএল। ‘বি২৮’ নামের এই ট্রেনের নকশাগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার, আর যাত্রীসেবায় পরিচালনার নির্ধারিত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার। বাণিজ্যিক চলাচলের অনুমোদনের আগে ট্রেনটিকে পরীক্ষা ও পরীক্ষামূলক চলাচলের ধাপ পার হতে হবে।    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুজরাটের সুরাট থেকে ভাপি অংশে ২০২৭ সালের শেষ দিকে সেবা শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্প শেষ করার প্রত্যাশিত সময় ২০২৯ সাল। শুরুতে ভারতীয় ট্রেন ব্যবহারের পাশাপাশি নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আন্তর্জাতিক হাইস্পিড রেল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মাসাফুমি শুকুরি।    প্রকল্পটি প্রথমে ২০২২ সালে শেষ করার লক্ষ্য ছিল। তবে জমি অধিগ্রহণের জটিলতা ও করোনাভাইরাস মহামারিতে কাজ ব্যাহত হয়। শুকুরির মতে, ভারতের প্রথম দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণের মতো বড় উদ্যোগ মূল্যায়নের সময় এসব বাধা বিবেচনা করা প্রয়োজন। মাকিহারার সমালোচনার বিপরীতে তিনি বলেছেন, এত দীর্ঘ নতুন রেলপথ অল্প কয়েক বছরে তৈরি করা সহজ নয়।    মুম্বাই–আহমেদাবাদ প্রকল্পে জাপান শুধু প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নয়, ঋণও দিচ্ছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি বা জাইকার প্রকাশিত একটি ঋণচুক্তিতে বার্ষিক সুদ শূন্য দশমিক ১ শতাংশ, পরিশোধের মেয়াদ ৫০ বছর এবং প্রথম ১৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডের উল্লেখ রয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই রেলপথের উদ্দেশ্য দুই শহরের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করা।    সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৫:২৭
ট্রাম্পের নেভি ব্লু স্যুট তৈরি নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে, নিশ্চিত করলেন কারখানার এমডি
ট্রাম্পের নেভি ব্লু স্যুট তৈরি নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে, নিশ্চিত করলেন কারখানার এমডি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরা আলোচিত নেভি ব্লু স্যুটটি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে। জেলার আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অবস্থিত ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেডের কারখানায় স্যুটটি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির। ট্রাম্পের পোশাক নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে আলোচনা শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের এই সংযোগ সামনে আসে।   গত ৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে নেভি ব্লু রঙের স্যুট পরেছিলেন ট্রাম্প। ওই অনুষ্ঠানে তাঁর পোশাকের ধরন এবং স্যুটের ব্র্যান্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে মার্কিন পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জস এ ব্যাংকের স্যুট পরার বিষয়টি সামনে আসার পর সেটির উৎপাদনকারী দেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।   গত ৮ অক্টোবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের স্যুটের উৎপাদনস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে বলা হয়, স্যুটটি সম্ভবত চীন অথবা বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো কারখানার নাম নিশ্চিত করা হয়নি।   এরপর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির জানান, ট্রাম্পের পরা নেভি ব্লু স্যুটটি তাঁদের কারখানাতেই তৈরি হয়েছে।   শরীফ জহিরের মতে, বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশে তৈরি সাশ্রয়ী দামের স্যুট পরা দেশের পোশাকশিল্পের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের দক্ষ শ্রমিকদের জন্য গর্বের মুহূর্ত এবং আন্তর্জাতিক মানের পোশাক তৈরিতে দেশের সক্ষমতার প্রতিফলন।   নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অবস্থিত ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেড দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় স্যুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ও রোমানিয়ার যৌথ বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই কারখানায় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য পুরুষদের স্যুট, ব্লেজার, ফরমাল ট্রাউজার, ওয়েস্টকোট ও জ্যাকেট তৈরি করা হয়।   প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর প্রায় ৫০ লাখ পিস পুরুষদের পোশাক উৎপাদন করে। কারখানাটিতে অত্যাধুনিক কাটিং মেশিন, বিশেষায়িত সেলাই ও প্রেসিং যন্ত্রপাতি এবং স্বয়ংক্রিয় পণ্য পরিবহনব্যবস্থা রয়েছে। এসব প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ শ্রমিকদের হাতে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক।   প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আদমজীর কারখানাটির আয়তন প্রায় পাঁচ লাখ বর্গফুট। এখানে কাপড় কাটা থেকে শুরু করে সেলাই, প্রেসিং, ফিনিশিং এবং প্যাকেজিংয়ের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত মান অনুসরণ করে পোশাক উৎপাদনের জন্য বিশেষায়িত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।   বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেডের কারখানায় প্রায় ৪ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি।   প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা শুধু ট্রাম্পের স্যুট তৈরির দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্র্যান্ড ও পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জন্য ফরমাল পোশাক তৈরি করছে কারখানাটি। বিশেষ করে স্যুটের মতো তুলনামূলক জটিল ও উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ার একটি উদাহরণ এই প্রতিষ্ঠান।   বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে মূলত টি-শার্ট, শার্ট, প্যান্ট ও অন্যান্য সাধারণ পোশাক রপ্তানির জন্য পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্যুট, ব্লেজার এবং বিশেষায়িত ফরমাল পোশাকের মতো উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরিতেও বিনিয়োগ বাড়ছে। আদমজীর ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার সেই পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।   এদিকে ট্রাম্পের স্যুট বাংলাদেশে তৈরি হওয়ার বিষয়টি তাঁর প্রশাসনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যনীতির প্রেক্ষাপটেও আলোচনায় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো, বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং আমেরিকান পণ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।   নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পরা স্যুট বাংলাদেশে তৈরি হওয়ার দাবি সামনে আসায় আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বিদেশি উৎপাদনকারীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   তবে ট্রাম্প নিজে স্যুটটির উৎপাদনস্থান সম্পর্কে জানতেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে তাঁর দপ্তর থেকেও স্যুটটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়নি।   মার্কিন বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক বিশ্বের একাধিক দেশে উৎপাদিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করা হলেও উৎপাদনের কাজ সম্পন্ন হয় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কারখানায়। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের পোশাকবাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত।   ট্রাম্পের স্যুট নিয়ে আলোচনার ফলে নতুন করে সামনে এসেছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কর্মরত দক্ষ শ্রমিকদের অবদান। বিশেষ করে স্যুটের মতো পোশাক তৈরিতে নিখুঁত কাটিং, সেলাই, ফিটিং ও ফিনিশিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজগুলোতে প্রশিক্ষিত শ্রমিক ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় প্রয়োজন হয়।   আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। একসময় এখানে ছিল ঐতিহাসিক আদমজী পাটকল। পরবর্তী সময়ে অঞ্চলটি রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। বর্তমানে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের প্রতিষ্ঠান সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য পণ্য উৎপাদন করছে।   নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানায় তৈরি স্যুট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার দাবি বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের আন্তর্জাতিক সংযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা দেখিয়েছে, বিশ্বের বড় ব্র্যান্ডগুলোর পণ্য উৎপাদনের নেপথ্যে বাংলাদেশের শ্রমিক ও কারখানাগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।   কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের আলোচিত নেভি ব্লু স্যুটের নেপথ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের আদমজীর দক্ষ কারিগরদের শ্রম। আর সেই সূত্রেই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত একটি পোশাকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৩:৫৬
খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ
খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ

খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় এক পুলিশ পরিদর্শক গুরুতর আহত হওয়ার পর রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করার নির্দেশ দিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা বিবেচনায় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এই নির্দেশনা জারি করা হয়। বিশেষ অভিযানসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।   দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে খুলনা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত একটি দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।   নির্দেশনাপত্রে উল্লেখ করা হয়, খুলনার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় বর্তমানে বিশেষ অভিযান চলছে। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। অভিযানের সময় কিংবা দায়িত্ব শেষে ফেরার পথে যাতে কোনো পুলিশ সদস্য নিরাপত্তাঝুঁকিতে না পড়েন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে জেলা পুলিশ।   এই পরিস্থিতিতে বিশেষ অভিযানসহ অন্যান্য দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের রাতের বেলায় একা চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিট ইনচার্জদের সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   জেলা পুলিশের নির্দেশনার অনুলিপি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার, জেলা গোয়েন্দা শাখা, ট্রাফিক বিভাগ, পুলিশ লাইন্স, রিজার্ভ অফিস, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও থানায় পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে একই নিরাপত্তা নির্দেশনার আওতায় আনা হয়েছে।   মূলত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গভীর রাতে এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর ছিনতাইকারীদের হামলার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই দিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা নগরীর খানজাহান আলী সড়কের খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে হামলার শিকার হন জেলা পুলিশের পরিদর্শক শাহ আলম (৪৩)।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শাহ আলম রূপসা এলাকায় বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় করে শহরে ফিরছিলেন। সে সময় তিনি সাদা পোশাকে ছিলেন। খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে পৌঁছালে একদল ছিনতাইকারী তাঁর পথরোধ করে।   অভিযোগ রয়েছে, ছিনতাইকারীরা প্রথমে তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হন তিনি। হামলাকারীরা তাঁর দুটি মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।   পরে রক্তাক্ত অবস্থায় শাহ আলমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।   খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানিয়েছেন, আহত পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে পুলিশ।   পুলিশ সুপার জানান, বিশেষ অভিযান শেষে ফেরার পথে একজন পুলিশ সদস্যের ওপর এমন হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। এ কারণেই জেলার পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে কিংবা রাতে চলাচলের সময় যাতে কেউ একই ধরনের হামলার শিকার না হন, সেটিই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।   জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খুলনার বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধীদের তৎপরতা মোকাবিলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাকে চলমান অভিযানের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।   এর আগে গত ৭ অক্টোবর খুলনা জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করার কথা জানায়। সাম্প্রতিক কয়েকটি অপরাধ, বিশেষ করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের প্রথম দিনেই ৯৫ জনকে আটক ও গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছিল জেলা পুলিশ।   পুলিশের চলমান অভিযানের মধ্যেই একজন পরিদর্শক ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় অভিযান শেষে সদস্যদের নিরাপদে ফেরার ব্যবস্থা এবং একা চলাচলের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক হয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।   তবে নতুন নির্দেশনাটি সাধারণ মানুষের রাতের চলাচলের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়। এটি মূলত খুলনা জেলা পুলিশের সদস্যদের জন্য জারি করা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নির্দেশনা। বিশেষ অভিযান ও অন্যান্য দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যরা যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, সে উদ্দেশ্যেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।   খুলনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমের ওপর হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।   সাম্প্রতিক অপরাধ পরিস্থিতির মধ্যে পুলিশ সদস্যদের রাতের বেলায় একা চলাচল না করার এই নির্দেশনা খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান এবং পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৩:৫১
১৩ বছরে ২০ সন্তান হারিয়ে আশা ছেড়েছিলাম, এক মাস পরই. হলান যমজ সন্তানের মা
১৩ বছরে ২০ সন্তান হারিয়ে আশা ছেড়েছিলাম, এক মাস পরই. হলান যমজ সন্তানের মা

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। একের পর এক গর্ভপাত, চিকিৎসার ব্যর্থতা এবং গর্ভেই যমজ সন্তান হারানোর মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। সব মিলিয়ে ২০টি সন্তান হারানোর পর একসময় মা হওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন ৪৪ বছর বয়সী পরমজিৎ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবারও গর্ভধারণ করেন তিনি। এবার সুস্থ যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটান এই নারী।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পরমজিৎ ও তাঁর স্বামী নামিন্দরের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। সন্তান নেওয়ার জন্য এই দম্পতিকে একাধিকবার চিকিৎসার সহায়তা নিতে হয়েছে। আইভিএফ চিকিৎসা, বারবার গর্ভপাত, জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ এবং খুব প্রাথমিক পর্যায়ে গর্ভ নষ্ট হওয়ার মতো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তাঁরা।   তবে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি আসে ২০১৮ সালে। সে বছর যমজ পুত্রসন্তানের মা হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন পরমজিৎ। সন্তান দুটির নামও রেখেছিলেন তাঁরা, অমৃত ও ফতেহ। কিন্তু গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে গুরুতর প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। এটি গর্ভাবস্থার একটি জটিলতা, যেখানে মায়ের রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।   পরমজিৎ জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থায় শারীরিক সমস্যার কথা চিকিৎসকদের জানালেও প্রথমদিকে তাঁর উদ্বেগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁকে বলা হয়েছিল, এসব উপসর্গ গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক পরিবর্তনের অংশ হতে পারে। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে জানা যায়, তাঁর একটি সন্তানের হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য সন্তানটিকেও আর বাঁচানো সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়।   শেষ পর্যন্ত যমজ দুই সন্তানকেই হারান পরমজিৎ ও নামিন্দর। ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা টুইনস ট্রাস্টের প্রকাশিত বিবরণেও ২০১৮ সালে তাঁদের যমজ সন্তান অমৃত ও ফতেহকে হারানোর ঘটনাটি উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে সন্তান দুটিকে হারান পরমজিৎ।   এই ঘটনা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। পরমজিৎ জানিয়েছেন, যমজ সন্তান হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যাওয়াও তাঁর কাছে কঠিন হয়ে উঠেছিল। সন্তান হারানোর শোক তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের ওপরও চাপ তৈরি করেছিল।   তবু মা হওয়ার আশা পুরোপুরি ছাড়তে পারেননি তিনি। পরবর্তী কয়েক বছর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান এই দম্পতি। কিন্তু বারবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়ে একপর্যায়ে নতুন করে চেষ্টা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন।   ২০২২ সালে ভারতে সফরের সময় পরমজিতের জীবনে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি অমৃতসর এবং শিখ ধর্মের পবিত্র তীর্থস্থান হজুর সাহিবে যান। সেখানে প্রার্থনা করেন, জীবনে যদি আবার সন্তান আসে, তাহলে সেই সন্তানকে নিয়ে তিনি পুনরায় সেখানে ফিরবেন।   পরমজিতের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরের প্রায় এক মাস পর তিনি জানতে পারেন, আবারও গর্ভবতী হয়েছেন। গর্ভধারণের ছয় সপ্তাহের মাথায় পরীক্ষায় জানা যায়, তাঁর গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে।   খবরটি আনন্দের হলেও অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে উদ্বেগও তৈরি হয় তাঁর মধ্যে। কারণ এর আগেও যমজ সন্তান হারিয়েছিলেন তিনি। নতুন গর্ভধারণের পর একই ধরনের জটিলতা আবার দেখা দিতে পারে কি না, সেই আশঙ্কা ছিল।   চিকিৎসকেরা তাঁর আগের গর্ভধারণ ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার ইতিহাস বিবেচনায় রেখে এবার বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখেন। পুরো গর্ভাবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং সন্তানদের বিকাশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।   অবশেষে গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন পরমজিৎ। দুই মেয়ের নাম রাখা হয় আভনূর ও আজুনি। দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষা এবং একের পর এক সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতার পর এই দুই শিশুর জন্ম তাঁদের পরিবারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।   পরমজিৎ জানিয়েছেন, জন্মের পর প্রথমবার দুই মেয়েকে কোলে নেওয়ার মুহূর্তটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। এত দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান হারানোর যন্ত্রণা বহন করার পর শেষ পর্যন্ত দুই মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখতে পাওয়ার অনুভূতি তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।   প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আভনূর ও আজুনি এখন প্রায় তিন বছর বয়সী। সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে পরমজিৎ ও নামিন্দরের। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা, শারীরিক জটিলতা ও মানসিক চাপের পর তাঁদের পারিবারিক জীবনে এসেছে পরিবর্তন।   নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে সন্তান হারানো কিংবা দীর্ঘদিন গর্ভধারণে সমস্যার মুখোমুখি হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে চান পরমজিৎ। তিনি মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে থাকা নারীদের জন্য মানসিক সহায়তা এবং চিকিৎসকদের যথাযথ মনোযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   বিশেষ করে ২০১৮ সালে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে গর্ভাবস্থায় শারীরিক উপসর্গ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করেছে। তাঁর অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় সময়মতো চিকিৎসা মূল্যায়ন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।   চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া সাধারণত গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের পর দেখা দিলেও কিছু ক্ষেত্রে এর আগে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, পেটের ওপরের অংশে ব্যথা এবং হঠাৎ শরীর ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই উপসর্গ দেখা যায় না।   পরমজিতের জীবনের এই ঘটনা একই সঙ্গে দীর্ঘদিন সন্তান নেওয়ার চেষ্টা, বারবার গর্ভপাতের মানসিক প্রভাব এবং জটিল গর্ভাবস্থায় বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। তবে তাঁর সফল গর্ভধারণের অভিজ্ঞতা থেকে সব দম্পতির ক্ষেত্রে একই ফলাফল পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   ১৩ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা এবং ২০টি সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতার পর শেষ পর্যন্ত দুই কন্যাসন্তানকে কোলে পেয়েছেন পরমজিৎ। একসময় যে দম্পতি আর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আজ তাঁদের সংসারে বেড়ে উঠছে আভনূর ও আজুনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ব্যক্তিগত শোক এবং চিকিৎসার নানা জটিলতা পেরিয়ে এই দুই শিশুর জন্মই এখন তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের উপলক্ষ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৩:২৬
১০৮ বছর বয়সেও গাড়ি চালান মার্কিন নারী, ড্রাইভার লাইসেন্স নবায়ন করলেন ২০৩৩ সাল পর্যন্ত
১০৮ বছর বয়সেও গাড়ি চালান মার্কিন নারী, ড্রাইভার লাইসেন্স নবায়ন করলেন ২০৩৩ সাল পর্যন্ত

বয়স ১০৮ বছর। অথচ এখনো নিজেই গাড়ি চালিয়ে বাজার করেন, নিয়মিত ব্যায়াম করতে যান এবং নিজের দৈনন্দিন কাজ সামলান। যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের ডোভার শহরের বাসিন্দা সুসান ইয়ং ব্রাউন এবার আরও একটি কারণে আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি তিনি নিজের ড্রাইভার লাইসেন্স নবায়ন করেছেন, যার মেয়াদ থাকবে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত। তখন তাঁর বয়স হবে ১১৫ বছর। এক শতাব্দীর বেশি বয়সেও স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করা এই নারীর গল্প যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯১৮ সালে জন্ম নেওয়া সুসান ইয়ং ব্রাউন দীর্ঘ আট দশকের বেশি সময় ধরে গাড়ি চালাচ্ছেন। বর্তমানে তাঁর গাড়ি একটি নীল রঙের সুবারু। বাজার করা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যাওয়ার জন্য এখনো নিজের গাড়ির ওপরই নির্ভর করেন তিনি। বয়সের কারণে গাড়ি চালানো বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই তাঁর।   নিজের গাড়ি চালানোর অভ্যাস সম্পর্কে ব্রাউন বলেন, বাজারে যেতে হলে তাঁকে গাড়ি চালাতেই হয়। কোথাও যেতে চাইলেও গাড়ি প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকার কারণে তিনি গাড়ি চালাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে সব সময় সতর্ক থাকার চেষ্টা করেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।   ড্রাইভার লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টি সামনে আসে তাঁর ১০৮তম জন্মদিন উদযাপনের সময়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে ব্রাউন জানান, ডেলাওয়্যার কর্তৃপক্ষ তাঁর লাইসেন্সের মেয়াদ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে বয়স ১১৫ বছর হওয়ার বছর পর্যন্ত লাইসেন্সটির মেয়াদ থাকবে। তবে এই মেয়াদ পর্যন্ত গাড়ি চালানো তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ও প্রযোজ্য নিয়মের ওপরও নির্ভর করবে।   সুসান ইয়ং ব্রাউনের জীবনের শুরুটা ছিল বর্তমান সময়ের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। ১৯১৮ সালে ডেলাওয়্যারের একটি গ্রামীণ এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত পরিবারে বেড়ে ওঠার সময় তাঁদের বাড়িতে বিদ্যুৎ কিংবা পাইপলাইনের পানির ব্যবস্থা ছিল না। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই নানা কাজে সহযোগিতা করতে হতো তাঁকে।   তাঁর শৈশব কেটেছে যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্যের সময়। তখন আফ্রিকান আমেরিকান শিশুদের জন্য আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা ছিল। ব্রাউনও এমন একটি পৃথক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি।   পরবর্তী সময়ে ভর্তি হন তৎকালীন ডেলাওয়্যার স্টেট কলেজ ফর কালার্ড স্টুডেন্টসে, যা বর্তমানে ডেলাওয়্যার স্টেট ইউনিভার্সিটি নামে পরিচিত। ১৯৪৫ সালে সেখান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।   প্রায় ৩০ বছর ডেলাওয়্যারের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন ব্রাউন। কর্মজীবনের একটি সময় তাঁকে এমন একটি বিদ্যালয়ে পড়াতে হয়েছে, যেখানে একটি কক্ষেই বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হতো। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের পর অবসর নিলেও সক্রিয় জীবনযাপনের অভ্যাস ছাড়েননি তিনি।   বর্তমানে ডোভার শহরের যে বাড়িতে বসবাস করছেন, সেখানে তাঁর কেটেছে সাত দশকের বেশি সময়। বয়স ১০৮ হলেও নিজের দৈনন্দিন কাজকর্ম যতটা সম্ভব নিজেই পরিচালনা করেন। নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।   ডোভারের মডার্ন ম্যাচিউরিটি সেন্টারের দীর্ঘদিনের সদস্য ব্রাউন। ১৯৭৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বর্তমানে সপ্তাহে তিন দিন নিজেই গাড়ি চালিয়ে সেখানে যান। অন্য প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে দলগত ব্যায়াম এবং চেয়ার ড্যান্সিংয়ের মতো শরীরচর্চায় অংশ নেন।   বাড়িতেও প্রতিদিন সকালে ব্যায়াম করার অভ্যাস রয়েছে তাঁর। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ২০ বছর ধরে নির্দিষ্ট একটি ব্যায়ামের রুটিন অনুসরণ করছেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরচর্চার মধ্য দিয়েই দিনের শুরু করেন।   খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলেন ব্রাউন। তাঁর নিয়মিত খাবারের মধ্যে রয়েছে মুরগির মাংস, তাজা ফল এবং ব্ল্যাক কফি। ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলেন এবং অ্যালকোহল পান করেন না। তবে পরিবারের বিশেষ অনুষ্ঠানে নিজের হাতে তৈরি সেভেন আপ কেক খেতে ও অন্যদের খাওয়াতে ভালোবাসেন তিনি।   সম্প্রতি তাঁর ১০৮তম জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, স্থানীয় কর্মকর্তা এবং পরিচিতজনসহ ১৩০ জনের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ডেলাওয়্যারের গভর্নর ম্যাট মেয়ারও। দীর্ঘ জীবন এবং এখনো সক্রিয় থাকার অভ্যাসের জন্য অনুষ্ঠানে ব্রাউনকে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়।   মডার্ন ম্যাচিউরিটি সেন্টার কর্তৃপক্ষও তাঁকে ব্যতিক্রমী সম্মান দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সামনে ১০০ বছর কিংবা তার বেশি বয়সী চালকদের জন্য একটি বিশেষ পার্কিং স্পট সংরক্ষণ করা হয়েছে। ব্রাউনের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি ও স্বাধীনভাবে গাড়ি চালিয়ে আসার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।   বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শারীরিক সক্ষমতা ও দৈনন্দিন কাজের ধরনে পরিবর্তন আসে। তবে ব্রাউনের জীবনযাপন দেখায়, ব্যক্তিভেদে সেই পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা আলাদা হতে পারে। তিনি নিজের সক্ষমতার মধ্যে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন এবং পরিচিত পরিবেশে স্বাধীনভাবে জীবন কাটাচ্ছেন।   অবশ্য প্রবীণ বয়সে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বয়সের পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি, শারীরিক সক্ষমতা, প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা এবং নিরাপদে গাড়ি পরিচালনার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাউনের ড্রাইভার লাইসেন্স নবায়নের ঘটনাকে সব প্রবীণ চালকের সক্ষমতার সাধারণ উদাহরণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ব্রাউনের বক্তব্যও বেশ সরল। তিনি জানিয়েছেন, বয়স বাড়ার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেন এবং নিজের মতো করে জীবন উপভোগ করতে চান। তাঁর ভাষায়, তিনি সুন্দরভাবে বয়সের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন।   এক শতাব্দীর বেশি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তন দেখেছেন সুসান ইয়ং ব্রাউন। বর্ণবৈষম্যের সময়কার একটি গ্রামীণ পরিবার থেকে উঠে এসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন এবং অবসরের পরও স্বাধীনভাবে বসবাস, তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়েই রয়েছে ভিন্ন অভিজ্ঞতা।   এখন ১০৮ বছর বয়সে এসেও সেই স্বাধীনতা ধরে রাখতে চান তিনি। নিজের নীল সুবারু গাড়ি চালিয়ে বাজারে যাওয়া কিংবা সপ্তাহে তিন দিন ব্যায়াম করতে পৌঁছে যাওয়া তাঁর কাছে এখনো স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজ।   ২০৩৩ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা ড্রাইভার লাইসেন্স তাই শুধু একটি প্রশাসনিক অনুমোদন নয়, ব্রাউনের দীর্ঘদিনের স্বাধীন জীবনযাপনের গল্পেও নতুন একটি অধ্যায়। বয়স ১০৮ পেরোলেও নিজের পরিচিত জীবনযাত্রা ছেড়ে দেওয়ার কোনো তাড়া নেই ডেলাওয়্যারের এই প্রবীণ নারীর।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৩:১৬
একসময় চাকরি দেয়নি প্রিন্সটন ও ম্যাকগিল, নোবেলজয়ীকে ঘিরে এখন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছ্বাস
একসময় চাকরি দেয়নি প্রিন্সটন ও ম্যাকগিল, নোবেলজয়ীকে ঘিরে এখন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছ্বাস

একসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে স্থায়ী শিক্ষকতার সুযোগ পাননি কানাডিয়ান কবি ও লেখক অ্যান কারসন। পরে কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটিতেও তাঁর কর্মজীবনে আসে অনিশ্চয়তা। অথচ সেই কারসনই এবার পেয়েছেন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। তাঁর এই অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছে প্রিন্সটন ও ম্যাকগিল, দুই বিশ্ববিদ্যালয়ই। আর তাতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অতীতের সম্পর্ক।   গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডিশ একাডেমি ৭৬ বছর বয়সী অ্যান কারসনকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয়। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও আধুনিক লেখার ধারাকে মিলিয়ে নতুন ধরনের সাহিত্য সৃষ্টির জন্য তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও গদ্যের প্রচলিত সীমারেখা ভেঙে লেখালেখির স্বতন্ত্র ধরন তৈরি করেছেন তিনি।   নোবেল ঘোষণার পর প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ক্ল্যাসিকস বিভাগ নিজেদের ওয়েবসাইটে কারসনকে অভিনন্দন জানায়। একইভাবে ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটিও সাবেক এই অধ্যাপকের অর্জন উদযাপন করে। তবে এই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর অতীতের সম্পর্ক এক রকম ছিল না।   ১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা শুরু করেন অ্যান কারসন। প্রথমে ইনস্ট্রাক্টর এবং পরে ক্ল্যাসিকস বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন তিনি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টিতে স্থায়ী শিক্ষকতার স্বীকৃতি, অর্থাৎ টেনিউর পাননি। এর পরই প্রিন্সটন ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা শুরু করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টেনিউর একজন শিক্ষকের দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিরাপত্তা ও একাডেমিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের শিক্ষকতা, গবেষণা ও অন্যান্য কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কারসনের ক্ষেত্রে সেই স্বীকৃতি না পাওয়ার ঘটনা এখন তাঁর নোবেলজয়ের পর নতুন করে সামনে এসেছে।   প্রিন্সটন ছাড়ার পর তিনি আটলান্টার এমোরি ইউনিভার্সিটিতে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে কানাডার মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির ক্ল্যাসিকস বিভাগে যোগ দেন। সেখানে গ্রিক ও লাতিন ভাষা এবং প্রাচীন সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।   ম্যাকগিলে তাঁর কর্মজীবনেও পরিবর্তন আসে। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রাচীন গ্রিক ভাষার স্নাতকোত্তর কোর্স বন্ধ করে এবং ক্ল্যাসিকস বিভাগের কাঠামোয় পরিবর্তন আনে। ফলে কারসনের দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা ও গবেষণার পরিবেশেও প্রভাব পড়ে। তবে ম্যাকগিল তাঁকে সরাসরি চাকরিচ্যুত করেছিল, এমন দাবি প্রতিষ্ঠিত নয়।   বরং ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে অ্যান কারসনকে জন ম্যাকনটন প্রফেসর অব ক্ল্যাসিকস পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ২০০২ সাল পর্যন্ত সেখানে শিক্ষকতা করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে যোগ দেন। ফলে ম্যাকগিল তাঁকে হারিয়েছিল বলে যে আলোচনা চলছে, সেটিকে সরাসরি চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   প্রিন্সটনের সঙ্গে কারসনের সম্পর্কও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। ২০২৫ সালে তিনি আবার বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ফিরে যান একটি বিশেষ বক্তৃতা দিতে। রবার্ট ফেগলস লেকচারে তাঁর বক্তব্য শুনতে চার শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সাহিত্য, অনুবাদ, শিল্প এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। নোবেলজয়ের পর প্রিন্সটন সেই অনুষ্ঠানের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেছে।   অ্যান কারসনের জন্ম ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে। টরন্টো ইউনিভার্সিটি থেকে ক্ল্যাসিকস বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও ভাষার প্রতি আগ্রহ থেকেই তাঁর সাহিত্যচর্চার শুরু। পরবর্তী সময়ে সেই জ্ঞানকে আধুনিক কবিতা ও গদ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিজস্ব লেখার ধরন গড়ে তোলেন।   তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে অটোবায়োগ্রাফি অব রেড, ইরোস দ্য বিটারসুইট, দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড এবং নক্স। বিশেষ করে অটোবায়োগ্রাফি অব রেড বইয়ে প্রাচীন গ্রিক পুরাণকে আধুনিক কাব্যিক আখ্যানের মাধ্যমে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি।   নোবেল পাওয়ার আগেও আন্তর্জাতিক সাহিত্যজগতে প্রতিষ্ঠিত নাম ছিলেন অ্যান কারসন। তিনি ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ, গুগেনহাইম ফেলোশিপ, টি এস এলিয়ট পুরস্কারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য সম্মাননা পেয়েছেন। ২০০৫ সালে কানাডার অন্যতম রাষ্ট্রীয় সম্মাননা অর্ডার অব কানাডার সদস্য হন তিনি।   এবারের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে তিনি পাচ্ছেন ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। আগামী ডিসেম্বরে সুইডেনের স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।   কারসনের নোবেলজয়ের পর তাঁর সাবেক দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিনন্দনকে ঘিরে শিক্ষা ও গবেষণাজগতে একটি পুরোনো প্রশ্ন সামনে এসেছে। একজন শিক্ষকের সম্ভাবনা কিংবা সৃজনশীল প্রতিভা মূল্যায়নে প্রচলিত একাডেমিক ব্যবস্থা কতটা সফল হতে পারে?   প্রিন্সটনে টেনিউর না পাওয়া কিংবা ম্যাকগিলে বিভাগীয় পরিবর্তনের মুখোমুখি হওয়া কারসনের সাহিত্যচর্চাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি নিজের লেখালেখি অব্যাহত রেখেছেন এবং ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক সাহিত্যে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।   তাঁর নোবেলজয় একদিকে যেমন ব্যক্তিগত সাহিত্যিক অর্জনের স্বীকৃতি, অন্যদিকে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন এবং একজন সৃজনশীল মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার পার্থক্য নিয়েও আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।   যে প্রিন্সটনে একসময় স্থায়ী শিক্ষকতার সুযোগ পাননি, সেই প্রতিষ্ঠান আজ তাঁর নোবেলজয় উদযাপন করছে। ম্যাকগিলও সাবেক অধ্যাপক হিসেবে তাঁর অর্জনকে নিজেদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। আর অ্যান কারসনের এই দীর্ঘ পথচলা দেখিয়েছে, কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তই একজন লেখকের ভবিষ্যৎ অর্জনের চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৩:১২
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের গড়া মসজিদের লাউডস্পিকারে আজান, সুরে মনের প্রশান্তি
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের গড়া মসজিদের লাউডস্পিকারে আজান, সুরে মনের প্রশান্তি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে একটি মসজিদ ও একটি চার্চ। একদিকে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রার্থনা, অন্যদিকে মসজিদ থেকে ভেসে আসা আজানের সুর। ইস্ট নিউইয়র্কের পিটকিন অ্যাভিনিউতে ধর্মীয় সহাবস্থানের এই দৃশ্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি মসজিদকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের সমাগম স্থানীয় বহুজাতিক সমাজের একটি পরিচিত চিত্র তুলে ধরেছে।   ব্রুকলিনের ২১৩৫ পিটকিন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত মসজিদটির নাম মসজিদ আন নামিরাহ। এর ঠিক কাছেই ২১৪৫ পিটকিন অ্যাভিনিউতে রয়েছে ফেইথ ওয়ারশিপ সেন্টার নামে একটি চার্চ। পেন্টেকোস্টাল খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের এই উপাসনালয় এবং মসজিদটি একই সড়কে খুব অল্প দূরত্বে অবস্থিত। ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও দুটি প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের প্রার্থনা ও ধর্মীয় কার্যক্রমের স্থান হিসেবে পরিচিত।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মসজিদ ও চার্চের কাছাকাছি অবস্থান এবং আজানের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওটি ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্ক এলাকায় ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় শহরে এমন দৃশ্য অস্বাভাবিক নয়। তবে একই সড়কে দুটি ভিন্ন ধর্মের উপাসনালয়ের অবস্থান স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নতুন করে সামনে এনেছে।   স্থানীয় কমিউনিটির তথ্য অনুযায়ী, মসজিদ আন নামিরাহ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশিদের উদ্যোগে গড়ে উঠলেও মসজিদটি কেবল একটি দেশের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি আফ্রিকান, আরব এবং বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা নামাজ আদায় করতে আসেন। ফলে ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মিলনস্থল হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে মসজিদটি।   নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের বসবাসের সঙ্গে মসজিদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ব্রুকলিনের কেনসিংটন, বে রিজ এবং ইস্ট নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি অভিবাসীরা ধীরে ধীরে নিজেদের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   ইস্ট নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মসজিদ আল আমান। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটি এলাকায় বাংলাদেশিদের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। মসজিদ আন নামিরাহও স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।   এদিকে নিউইয়র্ক সিটিতে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের নিয়ম নিয়েও অনেকের আগ্রহ রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন মেয়র এরিক অ্যাডামস এবং নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট নতুন নির্দেশনা ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মসজিদগুলোকে আলাদা পারমিট ছাড়াই বাইরে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের সুযোগ দেওয়া হয়।   সিটির ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টার মধ্যে জুমার আজান প্রচার করা যায়। একইভাবে রমজান মাসে প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময় আজান প্রচারের সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে আলাদা পারমিট নিতে হয় না। তবে শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ সিটির প্রযোজ্য নিয়ম মেনে চলতে হয়।   নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো মসজিদ ও স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয় করে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করে। সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, আজানের শব্দ আশপাশের স্বাভাবিক পরিবেশের তুলনায় সর্বোচ্চ ১০ ডেসিবেল বেশি হতে পারে। এর উদ্দেশ্য ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা।   নিউইয়র্ক সিটির এই সিদ্ধান্ত মুসলিম কমিউনিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়। এর আগে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের ক্ষেত্রে পারমিটসংক্রান্ত নিয়ম নিয়ে অনেক মসজিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ছিল। নতুন নির্দেশনার ফলে শুক্রবার ও রমজানের নির্ধারিত সময়ে আজান প্রচারের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়।   তবে মসজিদ আন নামিরাহ কেবল নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। স্থানীয় অসচ্ছল পরিবারগুলোর খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এখানে মুনা সোশ্যাল সার্ভিসেসের উদ্যোগে বিনামূল্যে গ্রোসারি বিতরণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।   এই কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় পরিবারগুলোকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী, তাজা শাকসবজি এবং হালাল ও সাংস্কৃতিক চাহিদার উপযোগী খাবার দেওয়া হয়। খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসের প্রথম ও তৃতীয় সোমবার দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত মসজিদ আন নামিরাহ কেন্দ্রে গ্রোসারি বিতরণের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কার্যক্রমের সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে।   খাদ্যসহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে মসজিদটি এলাকার মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণেও ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের নিয়মিত গ্রোসারি কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ রয়েছে, তাদের জন্য এ ধরনের কর্মসূচি সহায়ক। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গা ব্যবহার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্যসহায়তা দেওয়ার এই উদ্যোগ কমিউনিটিভিত্তিক সেবার একটি উদাহরণ।   অন্যদিকে কাছেই অবস্থিত ফেইথ ওয়ারশিপ সেন্টার স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। দুটি প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনার পদ্ধতি আলাদা হলেও একই এলাকায় তাদের অবস্থান ব্রুকলিনের বৈচিত্র্যময় সামাজিক পরিবেশকে তুলে ধরে।   নিউইয়র্কের মতো শহরে বাংলাদেশি, আফ্রিকান, আরব, লাতিন আমেরিকানসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। ভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ একই এলাকায় বসবাস করলেও প্রত্যেকে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার সুযোগ পান। ইস্ট নিউইয়র্কের পিটকিন অ্যাভিনিউতে পাশাপাশি মসজিদ ও চার্চের অবস্থান সেই বাস্তবতারই একটি চিত্র।   বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ আন নামিরাহ এখন শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের নামাজের স্থান নয়, বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের ধর্মীয় কার্যক্রম এবং স্থানীয় মানুষের খাদ্যসহায়তার একটি কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা পালন করছে।   ব্রুকলিনের ব্যস্ত পিটকিন অ্যাভিনিউতে একদিকে মসজিদ থেকে আজানের সুর, অন্যদিকে চার্চের প্রার্থনা। পাশাপাশি দুটি ভিন্ন ধর্মের উপাসনালয় মনে করিয়ে দেয়, নিউইয়র্কের বহুজাতিক সমাজে নিজ নিজ ধর্মীয় ঐতিহ্য বজায় রেখেও একই এলাকায় বসবাস ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ২:৩৭
কলকাতায় মুসলিমদের পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন তৃণমূল এমপি
কলকাতায় মুসলিমদের পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন তৃণমূল এমপি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। শহরের জ্যোতি নগর কলোনির বাসিন্দাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে পানি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সমীরুল ইসলাম। এ ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন তিনি।   শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চিঠির একটি অনুলিপি প্রকাশ করেন সমীরুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর কলকাতার জ্যোতি নগর কলোনিতে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় বাসিন্দারা রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আউটলুক ইন্ডিয়া ও বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমীরুল ইসলাম জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারকে লেখা চিঠিতে পানি সংকটকে গুরুতর মানবাধিকার সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে কোনো এলাকার মানুষকে নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত রাখা শুধু পৌর পরিষেবার ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   কলকাতার কাশীপুর এলাকার জ্যোতি নগর কলোনিতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি মোল্লাপাড়া নামেও পরিচিত। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা মুসলিম হলেও হিন্দু পরিবারও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ২৯ জুলাই থেকে এলাকায় নিয়মিত পাইপলাইনের পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।   দীর্ঘদিন ধরে পানি না পাওয়ায় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। রান্না, পানীয় জল সংগ্রহ, গোসল এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে তাঁদের বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। স্থানীয় সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানির ট্যাংকারের ব্যবস্থা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।   সমীরুল ইসলাম তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা মানুষের মৌলিক অধিকারের অংশ। জাতিসংঘও নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা পাওয়াকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো জনগোষ্ঠীকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না করা তাদের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।   তৃণমূলের এই সংসদ সদস্যের অভিযোগ, জ্যোতি নগর কলোনির মুসলিম বাসিন্দাদের বিজেপির ভোটব্যাংকের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এ কারণেই তাঁদের এলাকায় পানির সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে পরিকল্পিতভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   চিঠিতে সমীরুল ইসলাম আরও জানান, কলোনির বাসিন্দারা কোনো বিশেষ সুবিধা কিংবা বাড়তি সরকারি সহায়তা চাইছেন না। তাঁদের দাবি কেবল দৈনন্দিন জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ পানীয় জল পাওয়ার নিশ্চয়তা।   পানি সংকটের কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছেন তিনি। দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি না পেলে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছেন তিনি।   এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার কাছে কয়েকটি বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন সমীরুল ইসলাম। জ্যোতি নগর কলোনিতে কেন দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে না, তার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   পাশাপাশি বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সংকটের স্থায়ী সমাধানে কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা কী এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেছেন তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য।   পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তবে পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগের বিষয়ে রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   জ্যোতি নগর কলোনির পানি সংকটকে কেন্দ্র করে এখন স্থানীয় নাগরিক পরিষেবার পাশাপাশি ধর্মীয় বৈষম্য ও মানবাধিকারের প্রশ্নও সামনে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ, পানি সরবরাহ বন্ধের প্রকৃত কারণ শনাক্ত এবং বাসিন্দাদের জন্য নিয়মিত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ২:১৫
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলায় পড়ে আল আমিন এবার যোগ দিলেন যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলায় পড়ে আল আমিন এবার যোগ দিলেন যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে

বাংলাদেশের হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানো আল আমিন এবার দেশটির বিমানবাহিনী রয়্যাল এয়ার ফোর্সে (আরএএফ) যোগ দিয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের আরএএফ হালটনের এভিয়েটর ট্রেনিং একাডেমিতে পাসিং আউট প্যারেডের মাধ্যমে প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন তিনি। বর্তমানে এয়ার রিক্রুট (এআর) পদে রয়েছেন এই বাংলাদেশি তরুণ।   হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বেড়ে ওঠা আল আমিনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় স্থানীয় বিদ্যালয়ে। ২০১৩ সালে নালমুখের সাবিহা চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। এরপর ভর্তি হন হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজে। সেখান থেকে ২০১৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক এবং ২০১৯ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাংলা বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন।   স্নাতক শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় সিলেটের এমসি কলেজের বাংলা বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তি হন আল আমিন। তবে সেখানে পড়াশোনা শেষ করা হয়নি তাঁর। বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা থেকে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি।   যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটিতে ইন্টার্নশিপসহ ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে মাস্টার্স পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করেন আল আমিন। বাংলাদেশে বাংলা বিষয়ে পড়াশোনা করলেও বিদেশে গিয়ে ব্যবসা ব্যবস্থাপনার মতো ভিন্ন একটি বিষয়ে উচ্চশিক্ষার পথ বেছে নেন তিনি।   পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের কর্মজীবন নিয়েও নতুন পরিকল্পনা করতে থাকেন আল আমিন। একপর্যায়ে যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল রয়্যাল এয়ার ফোর্সে কাজ করার সুযোগ পাওয়া। তবে এই বাহিনীতে যোগদানের জন্য তাঁকে বেশ কয়েকটি বাছাই ও পরীক্ষার ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে।   নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হওয়ার পর শুরু হয় তাঁর প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ। সামরিক জীবনের নিয়মশৃঙ্খলা, শারীরিক সক্ষমতা, দায়িত্ববোধ এবং দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করেন তিনি।   অবশেষে গত ৭ অক্টোবর আরএএফ হালটনের এভিয়েটর ট্রেনিং একাডেমিতে অনুষ্ঠিত পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেন আল আমিন। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। এর ফলে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে তাঁর পেশাগত জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।   রয়্যাল এয়ার ফোর্স যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম প্রধান শাখা। দেশটির আকাশসীমার নিরাপত্তা, সামরিক বিমান পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে এই বাহিনী। রয়্যাল এয়ার ফোর্সে সামরিক সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য আরএএফ হালটন একটি পরিচিত প্রশিক্ষণকেন্দ্র।   আল আমিন বর্তমানে এয়ার রিক্রুট পদে রয়েছেন। এটি তাঁর সামরিক ক্যারিয়ারের প্রাথমিক পর্যায়। প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ভবিষ্যতে কোন নির্দিষ্ট শাখা বা দায়িত্বে তিনি কাজ করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   বাংলাদেশে বাংলা বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করার পর যুক্তরাজ্যে ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় উচ্চশিক্ষা এবং সেখান থেকে সামরিক বাহিনীতে যোগদান, আল আমিনের শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবনে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। প্রতিটি পর্যায়েই তাঁকে নতুন পরিবেশ এবং ভিন্ন ধরনের কাজের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়েছে।   বিশেষ করে বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করে যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হওয়া এবং প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষ করা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ভিন্ন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।   হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের নালমুখ থেকে বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, সেখান থেকে সিলেটের এমসি কলেজ এবং পরবর্তী সময়ে লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটি হয়ে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে পৌঁছেছেন আল আমিন।   দেশের মাটিতে শুরু হওয়া শিক্ষাজীবন থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ বিমানবাহিনীতে যোগদানের এই পথচলা তাঁর জীবনে নতুন মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হলো। প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর এখন রয়্যাল এয়ার ফোর্সে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরবর্তী ধাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন হবিগঞ্জের এই তরুণ। সূত্র: পাবলিকিয়ান

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১:৫২
ফ্রান্স থেকে দেশে এসে ভাড়ায় ডাকাতি, কাজ শেষে ইউরোপে ফিরে যান চক্রের লোকেরা
ফ্রান্স থেকে দেশে এসে ভাড়ায় ডাকাতি, কাজ শেষে ইউরোপে ফিরে যান চক্রের লোকেরা

বাংলাদেশে ডাকাতি করতে বিদেশ থেকে বিমানে আসছেন সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যরা। ডাকাতি শেষে আবার ফিরে যাচ্ছেন ইউরোপে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় এমন একাধিক চক্র সক্রিয় থাকার তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের গাড়ি থামিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়া এবং টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করার অভিযোগ রয়েছে এসব চক্রের বিরুদ্ধে।   আরটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এসব ডাকাত চক্রের সঙ্গে দেশি ও বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীরা জড়িত। কেউ বিদেশ থেকে দেশে এসে ডাকাতিতে অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভাড়ায় এসে অপরাধ সংঘটিত করছেন। কাজ শেষ হলে দ্রুত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন তাঁরা।   তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত অভিযুক্তদের একজন বাগেরহাটের সৈয়দ নাসির উদ্দিন। তিনি ফ্রান্সে বসবাস করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকে বিমানে ভারতে এসে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতেন তিনি। এরপর শ্যালক শামীমসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ডাকাতিতে অংশ নিতেন। ডাকাতি শেষে একই পথে আবার ফ্রান্সে ফিরে যেতেন।   তবে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে পারেননি নাসির। রাজধানীর উত্তরায় একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।   শুধু বিদেশ থেকে আসা অপরাধীরাই নন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী পেশাদার ডাকাতদেরও অর্থের বিনিময়ে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁদের কেউ ব্যবসায়ী পরিচয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন, আবার ডাকাতির সুযোগ পেলে সংগঠিত চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন।   এমনই একজন পাবনার চাটমোহরের নবীন পূর্বপাড়ার মো. শহিদুল ইসলাম (৪৩)। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ‘মেসার্স কৃষি ভান্ডার’ নামে তাঁর একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ভাড়ায় ডাকাতিতে জড়িত।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাকাতির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক, হাতকড়া ও ওয়াকিটকিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করেন শহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা। তাঁর বিরুদ্ধে সাভার, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় ডাকাতির তিনটিসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শহিদুলের সঙ্গে আরও ছয় থেকে সাতজনের একটি দল রয়েছে। গত ২৩ জুলাই রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় মোহাম্মদ রিয়াজ নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় এই চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। রতন চৌধুরী ওরফে ডালিম নামে এক ব্যক্তি তাঁদের ভাড়া করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।   একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত আরেক ব্যক্তি বরিশালের খানপুরের মো. জলিল মোল্লা। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতির পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, ধানমন্ডি ও মিরপুর মডেল থানায় একটি করে এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় দুটি মামলা রয়েছে।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর এলাকায় আল আমীন গ্রুপ, শাওন গ্রুপ এবং গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক সোর্স শহীদের নেতৃত্বাধীন চক্রসহ কয়েকটি সংঘবদ্ধ দল সক্রিয় রয়েছে। এসব অপরাধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে।   অভিযোগ রয়েছে, এসব চক্র পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকার বিনিময়ে ডাকাতিতে অংশ নেয়। বিশেষ করে বিমানবন্দর দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা স্বর্ণের বড় চালান লুটের ক্ষেত্রে ভাড়ার অঙ্ক কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।   বিমানবন্দর এলাকায় সাধারণ যাত্রীরাও এসব অপরাধের শিকার হচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল সিঙ্গাপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান কুষ্টিয়ার মো. রাশেদুল ইসলাম। ফ্লাইটের আগে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে ওভারসিজ ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য একটি বাসে ওঠেন তিনি।   অভিযোগ অনুযায়ী, বাসটিতে আগে থেকেই যাত্রীবেশে পাঁচ থেকে ছয়জন ডাকাত অবস্থান করছিলেন। বাসের দরজা বন্ধ করে তাঁরা রাশেদুলের চোখ ও মুখ বেঁধে মারধর করেন। এরপর তাঁর সঙ্গে থাকা মালামাল লুট করে এমইএস ফ্লাইওভারসংলগ্ন জসিমউদ্দীন গোলচত্বর এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়।   ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির জানিয়েছেন, বিমানবন্দর ও উত্তরা এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর অভিযুক্তরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যান। অনেক চেষ্টা করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হলেও অনেকে অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।   তবে পুলিশের নিয়মিত তৎপরতার কারণে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ডাকাতির ঘটনা অনেকাংশে কমেছে বলে দাবি করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।   অন্যদিকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, টহল এবং অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।   তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অপরাধীরা অনেক সময় স্থান, সময় ও কৌশল পরিবর্তন করে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করেন। এসব অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন।   বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এসব ঘটনায় বিদেশফেরত যাত্রী, বিদেশগামী ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতির অভিযোগ সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১:২৫
১৩ বছরে বাবা-মাকে হারানো নাজমুস সোহান এখন অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট
১৩ বছরে বাবা-মাকে হারানো নাজমুস সোহান এখন অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট

মাত্র ১৩ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা দুজনকেই হারিয়েছিলেন খুলনার ডুমুরিয়ার নাজমুস সোহান। সেই কঠিন শৈশব পেরিয়ে আজ তিনি অস্ট্রেলিয়ার রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট। বর্তমানে দেশটির অ্যাডিলেডে অবস্থিত এডিনবরা বিমানঘাঁটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন এই বাংলাদেশি তরুণ।   খুলনার ডুমুরিয়ায় বেড়ে ওঠা নাজমুস সোহানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ডুমুরিয়া হাইস্কুলে। পরে পড়াশোনা করেন ডুমুরিয়া কলেজে। তবে কৈশোরেই তাঁর জীবনে নেমে আসে বড় বিপর্যয়। সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মাকে হারানোর পর পরিবারের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় বড় হতে থাকেন তিনি। এর প্রায় তিন বছর পর বড় ভাই অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেলে ফুফুর বাড়িতে থাকতে শুরু করেন সোহান।   জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। ২০১৫ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। ভর্তি হন মেলবোর্নের মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে। নতুন দেশ ও ভিন্ন পরিবেশে শুরু হয় তাঁর জীবনের আরেক অধ্যায়।   অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে ডুমুরিয়ার জমাদ্দার পরিবারের মেয়ে সুরাইয়া মান্নানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি নিজের কর্মজীবন নিয়েও নতুন পরিকল্পনা করতে থাকেন সোহান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার একপর্যায়ে ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।   শুরুতে একটি ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এরপর ব্যবসার প্রয়োজনে মেলবোর্ন থেকে ব্রিসবেন, সেখান থেকে সিডনি এবং পরে অ্যাডিলেডে চলে যান। ব্যবসার শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও উদ্যোগ নেওয়া বন্ধ করেননি। এ সময় বড় ভাইয়ের উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা তাঁর এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম সহায়তা ছিল।   বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাক ব্র্যান্ড ‘হেভি মেটাল টি-শার্ট’-এর সহমালিক নাজমুস সোহান। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় একটি কলেজের সহমালিক এবং একটি ভাষা স্কুলের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।   ব্যবসায় নিজের অবস্থান তৈরি করার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন সোহান। যোগ দিতে চান রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্সে। তবে সামরিক বাহিনীতে প্রবেশের পথ সহজ ছিল না। প্রায় তিন বছর ধরে নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করার পর ফ্লাইং অফিসার হিসেবে বিমানবাহিনীতে যোগ দেন তিনি।   সামরিক বাহিনীর কঠোর প্রশিক্ষণ, নিয়মশৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়েছে তাঁকে। ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকলেও সামরিক পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। প্রশিক্ষণের প্রতিটি পর্যায়ে শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও দায়িত্ববোধের পরীক্ষা দিতে হয়েছে।   পরবর্তী সময়ে কর্মদক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় ফ্লাইং অফিসার থেকে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হন নাজমুস সোহান। বর্তমানে অ্যাডিলেডের এডিনবরা বিমানঘাঁটির একটি বড় ইউনিটের অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।   অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এডিনবরা বিমানঘাঁটি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটি। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত এই ঘাঁটি নজরদারি, গোয়েন্দা কার্যক্রম ও সামরিক বিমান পরিচালনাসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ১৯৫৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া ঘাঁটিটি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।   পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও পরিবারকে গুরুত্ব দেন সোহান। স্ত্রী সুরাইয়া মান্নান ও এক বছর বয়সী মেয়ে সিজদাকে নিয়ে তাঁর সংসার। কর্মব্যস্ততার বাইরে মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন তিনি। অবসরে বন্ধুদের সঙ্গে টেনিস খেলাও তাঁর অন্যতম পছন্দ।   ব্যবসা ও সামরিক বাহিনীর দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন নাজমুস সোহান। অসচ্ছল মানুষের জন্য ঘর নির্মাণে সহযোগিতা, শীতবস্ত্র বিতরণ, মসজিদ নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার মতো বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নেন তিনি।   নিজের এসব সামাজিক উদ্যোগ নিয়ে প্রচারের চেয়ে নীরবে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সোহান। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।   ডুমুরিয়ার একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীতে দায়িত্বপূর্ণ পদে পৌঁছানোর এই যাত্রায় নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে নাজমুস সোহানকে। কৈশোরে বাবা-মাকে হারানো, আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ে ওঠা, বিদেশে নতুন জীবন শুরু করা, ব্যবসায় ঝুঁকি নেওয়া এবং পরে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া, প্রতিটি পর্যায়ে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়েছে তাঁকে।   মাত্র ১৩ বছর বয়সে যে কিশোর বাবা-মাকে হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেই নাজমুস সোহান আজ অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা পেরিয়ে ব্যবসা ও সামরিক বাহিনীতে তাঁর এই পথচলা অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও নতুন করে শুরু করার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১:১৭
দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ
দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকায় তাঁর বাসা থেকে দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে যুগান্তর। তবে আটকের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ধ্রুব রাঠি। কিন্তু বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই তাঁকে আটক করা হয়। নিউজ১৮-এর বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার সকাল প্রায় ৭টা ৪৮ মিনিটে দিল্লি পুলিশের একটি দল তাঁর বাসায় পৌঁছায়। সে সময় তাঁর মা দরজা খুলে দেন।   প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকার সেন্ট্রাল পার্ক বিহারে অবস্থিত তাঁর বাসার বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে তাঁকে কী কারণে আটক করা হয়েছে কিংবা কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি ও তাদের সহযোগী ছাত্রসংগঠনগুলো। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।   আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের দাবি, এই প্রক্রিয়া ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনও ভোটার তালিকা সংশোধনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম হিসেবে তুলে ধরেছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভ সামনে রেখে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও মেট্রো পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।   বিক্ষোভের আগে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর একাধিক সদস্যকে আটক করার খবরও পাওয়া গেছে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের অভিযোগ, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ঠেকাতে তাঁদের সদস্যদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে একই আন্দোলনের একটি সমাবেশে অংশ নেন ধ্রুব রাঠি। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। সমাবেশে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ধ্রুব রাঠি।   ওই সমাবেশে তিনি জানান, সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং নির্বাচনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে তিনি আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।   ভারতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে ইউটিউব ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন ধ্রুব রাঠি। বিশেষ করে সরকারি নীতি, নির্বাচনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে তাঁর আলোচনা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।   শনিবার তাঁকে আটকের যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ কিংবা পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বর্তমান অবস্থান এবং আটকের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১:০
মিশিগানের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি তরুণ মাহবুব রহমান নিহত
মিশিগানের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি তরুণ মাহবুব রহমান নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাহবুব রহমান নামে এক বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে শহরের ১২ মাইল রোড ও হুভার রোডের সংযোগস্থলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর মাহবুব রহমানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।   কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ওয়ারেন পুলিশ।   তবে দুর্ঘটনার সময় অন্য কোনো যানবাহন জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মাহবুব রহমানের বয়স, মিশিগানে তাঁর বসবাসের সময়কাল কিংবা পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা যায়নি।   এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্তের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ০:৪১
বিরল রোগে আক্রান্ত হলেও জলের বুকে ওয়েক সার্ফিং করার সময় পরম স্বাধীনতা উপভোগ করেন অ্যাবি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
লাখে একজনের হওয়া বিরল রোগে আক্রান্ত অ্যাবি, সার্ফিংয়ে খুঁজে পেলেন জীবনের আনন্দ

জন্ম থেকেই বিরল রোগ ক্লিপেল-ট্রেনোনে আক্রান্ত অ্যাবি ভ্লাদা স্মুটের জীবনে রয়েছে নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জ। তবে সেই সীমাবদ্ধতা তাঁর আনন্দ খুঁজে নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ওয়েক সার্ফিংয়ের মাধ্যমে পানির ওপর ঢেউয়ের সঙ্গে চলার অভিজ্ঞতায় তিনি খুঁজে পান মুক্তির স্বাদ। তাঁর জীবনযাপনের এই দিকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তাঁর ভাই। সেখানে অ্যাবির প্রতিকূলতার মধ্যেও হাসিমুখে জীবন উপভোগ করার মানসিকতার কথা উঠে এসেছে।   অ্যাবির ভাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জন্ম থেকেই তাঁর বোনকে এমন কিছু বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা অন্য অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ নয়। সাধারণ কাজও কখনো কখনো তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে নিজের সীমাবদ্ধতার দিকে মনোযোগ দিয়ে থেমে থাকার পরিবর্তে অ্যাবি যেসব কাজ করতে পারেন, সেগুলো উপভোগ করার চেষ্টা করেন। তাঁর ভাইয়ের কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, জীবনের প্রতিকূলতা নিয়ে অ্যাবিকে কখনো অভিযোগ করতে শোনেননি তিনি। বরং অ্যাবি বর্তমান মুহূর্তকে উপভোগ করেন এবং নিজের মতো করে জীবন এগিয়ে নিয়ে যান।   অ্যাবির জীবনে ওয়েক সার্ফিং বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এ জলক্রীড়ায় নৌকার পেছনে তৈরি হওয়া ঢেউয়ের ওপর বিশেষ বোর্ডের সাহায্যে ভারসাম্য রেখে চলতে হয়। পানির ওপর এই অভিজ্ঞতা অ্যাবিকে দৈনন্দিন জীবনের সীমাবদ্ধতা থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে স্বাধীনতার অনুভূতি দেয়। তাঁর ভাইয়ের প্রকাশিত ছবিতে ও ভিডিওতে সেই আনন্দের মুহূর্তগুলো দেখা যায়। অ্যাবির গল্পে তাই শুধু একটি বিরল রোগের কথা নয়, নিজের পছন্দের কাজের মধ্য দিয়ে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।   ক্লিপেল-ট্রেনোনে সিনড্রোম একটি বিরল জন্মগত অবস্থা, যা রক্তনালি, নরম টিস্যু ও হাড়ের বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে। এ রোগে ত্বকে লালচে বা বেগুনি জন্মদাগ, অস্বাভাবিক শিরা এবং শরীরের কোনো একটি অঙ্গের অতিরিক্ত বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। সাধারণত একটি পা বেশি আক্রান্ত হলেও কারও কারও ক্ষেত্রে শরীরের অন্য অংশেও লক্ষণ দেখা যায়। রোগটির উপসর্গ ও তীব্রতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।       চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ক্লিপেল-ট্রেনোনে সিনড্রোমের নির্দিষ্ট কোনো নিরাময় নেই। তবে এর উপসর্গ ও জটিলতা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান, ফিজিওথেরাপি, চাপ প্রয়োগকারী বিশেষ পোশাক কিংবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বিবেচনা করা হতে পারে। এই রোগ থাকলেই যে কেউ স্বাভাবিক জীবনযাপন বা পছন্দের কাজে অংশ নিতে পারবেন না, তা নয়। তবে শারীরিক সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম বেছে নেওয়া জরুরি।       অ্যাবির গল্পে তাঁর ভাই যে বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন, তা হলো নিজের অক্ষমতা বা সীমাবদ্ধতাকে জীবনের সবকিছু হয়ে উঠতে না দেওয়া। তিনি কী করতে পারেন না, তার বদলে কী করতে পারেন, সেদিকে মনোযোগী থাকার চেষ্টা করেন। তাঁর হাসিমুখে সময় কাটানো এবং ওয়েক সার্ফিংয়ের মতো পছন্দের কাজে অংশ নেওয়া পরিবারের কাছে আনন্দের বিষয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিরল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবন ও তাঁদের ব্যক্তিগত আনন্দের জায়গাগুলোও আলোচনায় এসেছে।   সূত্র: আপসোকল, গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতাল।

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২৬ ০:৩
ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের প্রধান চিকিৎসক হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রখ্যাত গবেষক অধ্যাপক মরিয়ম জামাল হানজানি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ক্যানসার গবেষণা যুক্তরাজ্যের প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা হলেন অধ্যাপক মারিয়াম জামাল-হানজানি

ক্যান্সার গবেষণায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দাতব্য সংস্থা ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের প্রধান চিকিৎসক বা চিফ ক্লিনিশিয়ান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রখ্যাত গবেষক অধ্যাপক মরিয়ম জামাল হানজানি। এই নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি সংস্থাটির ক্লিনিক্যাল গবেষণার রূপরেখা তৈরি এবং ক্যান্সার চিকিৎসার মান উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবেন। ক্যান্সার চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সংস্থাটি দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য পূরণে তার মতো একজন অভিজ্ঞ গবেষকের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার খবরটি চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মহলেও বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।   অধ্যাপক মরিয়ম জামাল হানজানি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে বা ইউসিএলে ক্যান্সার জিনোমিকস এবং মেটাস্ট্যাসিস বিষয়ের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি একজন অত্যন্ত সুপরিচিত এবং স্বীকৃত গবেষক হিসেবে সমাদৃত। মানবদেহে ক্যান্সার কীভাবে বিবর্তিত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তা নিয়ে তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি প্রচলিত চিকিৎসার বিরুদ্ধে ক্যান্সার কোষগুলো কীভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে সেই জটিল প্রক্রিয়া নিয়েও তার ব্যাপক গবেষণা রয়েছে। তার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবার ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের ভবিষ্যত গবেষণার কাজে সরাসরি ব্যবহৃত হবে।   নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অধ্যাপক মরিয়ম জামাল হানজানি অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন যে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলোকে রোগীদের বাস্তব জীবনের কল্যাণে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের একটি অসাধারণ ও প্রমাণিত ইতিহাস রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যের অংশ হতে পারা এবং এই যাত্রায় ভূমিকা রাখার সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি বলে মনে করছেন। রোগীদের জন্য নতুন এবং আরও কার্যকর চিকিৎসার উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।   বর্তমান বিশ্বে ক্যান্সার চিকিৎসায় মেটাস্ট্যাসিস বা ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়া রোধ করা চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। অধ্যাপক মরিয়মের জিনোমিক্স বিষয়ক দীর্ঘ গবেষণা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন করতে পারে। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে বরাবরই গবেষণাগারের প্রাথমিক সাফল্যগুলোকে সরাসরি রোগীদের জন্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে কাজ করে থাকে। প্রধান চিকিৎসক হিসেবে তিনি বিজ্ঞানীদের আধুনিক গবেষণা এবং রোগীদের সরাসরি চিকিৎসার মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করবেন। এর ফলে আগামী দিনে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে মানবজাতির লড়াই আরও বেশি সুসংহত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   উৎস: ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে প্রেস রিলিজ

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ২৩:৪৪
টেক্সাসের মহাসড়ক থেকে উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশের গাড়ির সামনের সিটে বসে থাকা সেই আহত পেঁচা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
টহল দিতে গিয়ে আহত পেঁচার দেখা, উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে টহল দেওয়ার সময় মহাসড়কের পাশ থেকে একটি আহত পেঁচা উদ্ধার করেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। গত বৃহস্পতিবার টেক্সাসের দশ নম্বর আন্তঃরাজ্য মহাসড়ক বা আই-১০ থেকে পেঁচাকে উদ্ধার করা হয়। টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি বা ডিপিএস এর এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই মানবিক কাজের জন্য ওই পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা করছেন সাধারণ মানুষ। ছোট্ট এই প্রাণীটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার মাধ্যমে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে টেক্সাসের পুলিশ বিভাগ।   সংবাদমাধ্যম ফক্স লোকালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রুপার রেমন্ড টরেস ভ্যান হর্ন এলাকার কাছাকাছি টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় মহাসড়কের ঠিক মাঝখানের সড়কদ্বীপে তিনি একটি পেঁচাকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি সাথে সাথে তার গাড়ি থামিয়ে পাখিটির অবস্থা পরীক্ষা করেন। এরপর টেক্সাস পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগের কর্মীরা না আসা পর্যন্ত তিনি পেঁচাটিকে নিজের কাছে সুরক্ষিত রাখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকৃত পেঁচাটি টরেসের পুলিশ গাড়ির সামনের যাত্রীর আসনে বেশ শান্তভাবে বসে আছে।   পুলিশ কর্মকর্তা টরেসের কাছ থেকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান টেক্সাস পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আহত পেঁচাটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন। এরপর পাখিটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এল পাসো চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে চিড়িয়াখানার পশু চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পেঁচাটির চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হয়ে উঠলে এটিকে পুনরায় তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার এমন যৌথ প্রচেষ্টা বন্যপ্রাণী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   এই উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছে। সেখানে বলা হয়, একজন ট্রুপার হিসেবে প্রতিটি দিন কী ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে তা আগে থেকে বলা মুশকিল। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয় যে এ ধরনের মুহূর্তগুলো মনে করিয়ে দেয় সমাজের ও রাষ্ট্রের অন্যান্য সংস্থার সাথে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব কতটা জরুরি। পুলিশের এমন মানবিক কাজের প্রশংসা করে নেটিজেনরাও নানা ধরনের ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।   উৎস: ফক্স লোকাল এবং টেক্সাস ডিপিএস

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ২৩:২৩
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের দিনেই আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সাবেক বিচারকের নোবেল জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বা আইসিসির একজন সাবেক বিচারক নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংস্থাটির ওপর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আইসিসির সাথে চুক্তিবদ্ধ যেকোনো প্রতিষ্ঠানের লেনদেন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের আক্রমণ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে আইসিসি প্রতিষ্ঠার রোম চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও পরে তা অনুমোদন করেনি।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে আমেরিকানদের বিচার করার সুযোগ দেবেন না। তিনি আইসিসিকে একটি 'বিপথগামী আদালত' হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এর মাধ্যমে সংস্থাটির সাথে সমস্ত লেনদেন নিষিদ্ধ করা হবে এবং তাদের পরিচালনার সক্ষমতা পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়া হবে। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের একটি শিথিল মেয়াদ বা গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছে। এই সময়ে টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ এবং বন্দি সংক্রান্ত কিছু লেনদেনের সুযোগ থাকবে।   এই নিষেধাজ্ঞার কড়া নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। তারা এটিকে 'আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত' বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে আইসিসি তাদের ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রকে এই আদালত রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে, তারা একা লড়াই করতে পারবে না, তাদের ভাগ্য এখন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর হাতে। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান রক্ষার বিষয় নয়, বরং আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষার প্রশ্ন। আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজাত শামিম খান রয়টার্সকে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হলো স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজকে বাধাগ্রস্ত করা। তবে তারা তাদের তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।   মূলত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের কারণেই ওয়াশিংটন আইসিসির ওপর ক্ষুব্ধ। যদিও আইসিসি জানিয়েছে যে আফগানিস্তান তদন্তটি এখন তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। মার্কো রুবিও তার বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে কিছু বহিরাগত বিশেষজ্ঞ আমেরিকান সেনা, সীমান্তরক্ষী এবং নির্বাচিত নেতাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য আইসিসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আইসিসি কর্মকর্তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেননি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস জানিয়েছেন, ছয় মাসের এই শিথিল মেয়াদ আলোচনার একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে আইসিসি যাতে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাতেও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আদালতকে সুরক্ষার জন্য ইইউ ব্লকিং স্ট্যাটিউট কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।   আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এ পর্যন্ত বিশ্বনেতা এবং বড় ধরনের সংঘাতের মূল হোতাসহ ৭০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এর মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির এবং লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির মতো নাম রয়েছে। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অবশ্য পরে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সদস্য দেশগুলোকে আইসিসি ছাড়ার আহ্বান জানালেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটোর প্রায় সব সদস্য রাষ্ট্রই আইসিসিকে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এই আদালতটিকে রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর।   কাকতালীয়ভাবে শুক্রবার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের কয়েক ঘণ্টা আগেই আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালন করা দক্ষিণ আফ্রিকার এই আইনজ্ঞকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে নোবেল কমিটি আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারকদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। তারা জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বের জন্য অপরিহার্য। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও আইসিসি কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন, যা পরে জো বাইডেন প্রশাসন বাতিল করে দেয়। তবে গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই আইসিসি সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং বিকল্প ব্যাংকিং ও সফটওয়্যার ব্যবস্থা গড়ে তুলছিল।   উৎস: রয়টার্স

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ২৩:১০
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ বা মজুত হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে ইরান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা  ফেসবুক হ্যাশট্যাগ:
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না ইরান, মজুতও দেবে না যুক্তরাষ্ট্রকে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত হুমকি ও চাপ থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করবে না ইরান। এমনকি তাদের কাছে থাকা ইউরেনিয়ামের বর্তমান মজুতও কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামী এ কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে নিজেদের প্রয়োজনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা এবং তা মজুত রাখা সম্পূর্ণভাবে ইরানের বৈধ অধিকার। অন্যদিকে ইরানে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার সহায়তার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংলাপে বসার সম্মতি প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।   মোহাম্মদ ইসলামী তার বিবৃতিতে জানান যে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অংশ। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির সমস্ত নিয়ম মেনেই এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার টেবিলে এটি রাখার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে ইরান। স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জাতীয় উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে পরমাণু প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে উল্লেখ করে ইসলামী জানান যে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে পশ্চিমাদের দাবিগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ভূখণ্ডে যৌথভাবে বড় ধরনের হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল। এই ঘটনার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন যে তারা কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেবেন না। যুদ্ধের সময় ইরানের একাধিক পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে ইরান শুরু থেকেই এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার পরিকল্পনা তাদের নেই।   উদ্ভূত এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের পাশে থাকার জোরালো বার্তা দিয়েছে মস্কো। ইরানে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরানকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে রাশিয়া প্রস্তুত আছে বলে মাসুদ পেজেশকিয়ানকে সরাসরি আশ্বাস দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার মধ্য এশিয়ার দেশ তুর্কমেনিস্তানে কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটসের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ান এবং ইরানি প্রেসিডেন্টের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানেই পুতিন জানিয়েছেন যে এই সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ইরানের পক্ষে তাদের সাধ্যের মধ্যে যা কিছু করা সম্ভব তার সবই করতে রাশিয়া পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।   সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরান যুদ্ধ থামানোর জন্য প্রকৃত অর্থেই আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভাষণে তিনি ইরান এবং রাশিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির দিকটিও সবার সামনে তুলে ধরেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকে উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে এবং এর ফলে তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ রাশিয়াকে সামরিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে ইরান আর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য রাশিয়া তাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে।   তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনা যখন একপ্রকার অচলাবস্থার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে ঠিক সেই মুহূর্তেই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। ইরানের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে এই সংঘাতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ থেকে ইরান কখনোই সরে দাঁড়াবে না। পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেছেন যে তারা সংলাপে যুক্ত থাকতে আগ্রহী কিন্তু যখনই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া হয় তখনই তারা নতুন করে হামলা চালায়। এত কিছুর পরও ইরান আলোচনার টেবিল ছেড়ে যাবে না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।   উৎস: ইত্তেফাক

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ২২:৪৬
দূষিত খাবার ও অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ানো এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ানো ডায়রিয়া প্রকট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে, অ্যান্টিবায়োটিকেও মিলছে না ফল

যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি ব্যাপকভাবে ওষুধ প্রতিরোধী শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসি সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। এই ব্যাকটেরিয়াটি অত্যন্ত সংক্রামক যা মূলত অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক, দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো বর্তমানে প্রচলিত সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধগুলো এই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে সাধারণত তীব্র ডায়রিয়া, জ্বর এবং প্রচণ্ড পেটব্যথা দেখা দেয়। এটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়াতে সক্ষম এবং মাত্র দশটি ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এলেই একজন সুস্থ মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। সিডিসি জানিয়েছে যে ২০১১ সাল থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রায় সতেরো হাজার শিগেলা ভাইরাসের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন শতাংশ বা ৫১০টি নমুনাকে ব্যাপকভাবে ওষুধ প্রতিরোধী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো পাঁচটি বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরোধী হিসেবে গড়ে তুলেছে।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই ধরনের ওষুধ প্রতিরোধী শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ছিল শূন্য শতাংশ। কিন্তু ২০২৩ সালে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে আট দশমিক পাঁচ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ২০২২ এবং ২০২৩ সালে। এই দুই বছরেই মোট শনাক্ত হওয়া রোগীর প্রায় ৮৪ শতাংশ বা ৪১৫ জন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদিত এমন কোনো মুখের ওষুধ নেই যা সরাসরি এই প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে। ফলে চিকিৎসকদের ল্যাব টেস্টের ওপর নির্ভর করে বিকল্প ওষুধের সন্ধান করতে হচ্ছে।   সিডিসির প্রতিবেদনে আক্রান্তদের বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৯৬ শতাংশেরই বয়স আঠারো বছরের বেশি এবং এদের মধ্যে ৮৬ শতাংশেরও বেশি পুরুষ। আক্রান্তদের গড় বয়স ৪১ বছর। যদিও সিডিসি সরাসরি যৌন সংস্পর্শের তথ্য বিশ্লেষণ করেনি, তবে পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখা গেছে যে পুরুষদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে এটি বেশি ছড়ায়। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বিশেষ করে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরা এই ব্যাকটেরিয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।   আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর কোনো খবর পাওয়া না গেলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। যাদের তথ্য পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে বা দেশের ভেতরে তেমন ভ্রমণ করেননি, যা প্রমাণ করে যে সংক্রমণগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই ছড়িয়েছে। সিডিসি আশঙ্কা করছে যে বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। তাই এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধে দেশজুড়ে নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত শনাক্তকরণের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।   উৎস: সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এবং লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ২২:২৩
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিকল্প হিসেবে লুক্সেমবার্গের পাসপোর্ট চাইছেন অনেক মার্কিনি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার বিকল্প খুঁজছেন আমেরিকানরা, পূর্বপুরুষের সূত্রে নিচ্ছেন লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত হয়ে দেশ ছাড়ার কথা ভাবতে শুরু করেছিলেন ডেনভারের বাসিন্দা পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী ট্রান্সজেন্ডার নারী ক্যারিস ক্যাসিডি। ছোটবেলা থেকেই ইউরোপে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন দেখতেন তিনি, যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে আরও প্রবল হয়। নিউজউইককে তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগেও আমেরিকায় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিভাজন ছিল এবং এখানকার তুলনায় ইউরোপে সামাজিক গতিশীলতা অনেক বেশি। আমেরিকায় সাধারণ মানুষের কাছে কেবল একটাই প্রত্যাশা থাকে যে তারা সারাজীবন কাজ করে যাবে। কেউ নিজের অবস্থার উন্নতি করতে চাইলে তাকে বিশাল ঋণের বোঝায় পড়তে হয় অথবা জীবনের অন্যান্য আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হয় বলে মনে করেন ক্যাসিডি।   ইউরোপকে নিজের স্বপ্ন পূরণের একটি আদর্শ জায়গা হিসেবে বিবেচনা করতেন ক্যাসিডি। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার একজন পূর্বপুরুষ উনিশ শতকে লুক্সেমবার্গ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এই সূত্র ধরেই প্রায় ছয় লাখ একানব্বই হাজার মানুষের ছোট ও স্থলবেষ্টিত দেশ লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব দাবি করার সুযোগ পান তিনি। দেশটির আইন অনুযায়ী, ১৮১৫ সাল বা তার পরে জন্মগ্রহণকারী কোনো পূর্বপুরুষের সাথে অবিচ্ছিন্ন পুরুষ বংশানুক্রমিক সম্পর্ক থাকলে নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। এছাড়া ১৯৬৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্মগ্রহণকারী সন্তানরাও নারীদের মাধ্যমে এই নাগরিকত্ব পেতে পারেন।   প্রায় এক বছর ধরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের পর অবশেষে গত মার্চ মাসে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব লাভ করেন ক্যাসিডি। লুক্সেমবার্গের পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য কোনো ভাষা পরীক্ষা দেওয়া বা দেশটিতে ভ্রমণের বাধ্যবাধকতা নেই। নাগরিকত্ব পাওয়ার পরপরই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে সুইডেনে পাড়ি জমান। ক্যাসিডি জানান, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকার কারণেই তিনি দ্রুত দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক আমেরিকানই এখন বিকল্প পাসপোর্ট হিসেবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন।   ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে এই ছোট্ট ইউরোপীয় দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য মার্কিনিদের আবেদন বহুগুণ বেড়ে গেছে। জাতীয় নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে তিন হাজার পাঁচশো চুয়াত্তর জন আমেরিকান লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই বছর ৬৫৭ জন মার্কিনি স্বেচ্ছায় আবেদনের মাধ্যমে নতুন নাগরিক হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন যা আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। বাকিরা জন্মসূত্রে বা ১৯৪৮ সালের এপ্রিলের আগে দেশটিতে জন্মের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।   নেব্রাস্কার বাসিন্দা ড্যানিয়েল অ্যাটজও একইভাবে ইউরোপে বসবাসের স্বপ্ন দেখছিলেন এবং ২০০৮ সালের লুক্সেমবার্গের জাতীয়তা আইন তাকে সেই সুযোগ এনে দেয়। ওই আইন অনুযায়ী, ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারি জীবিত থাকা কোনো লুক্সেমবার্গ নাগরিকের বংশধররা তাদের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার করার সুযোগ পান। অ্যাটজ ২০১৪ সালে তার নাগরিকত্ব ফিরে পান এবং সেখানে নিজের হারিয়ে যাওয়া ইউরোপীয় আত্মীয়দের সাথে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি নিউজউইককে জানান, লুক্সেমবার্গের এই পরিবারটি তাকে অনেক মানসিক সমর্থন দিয়েছে এবং এই নাগরিকত্ব তার জীবনকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।   বর্তমানে অ্যাটজ লাক্সসিটিজেনশিপ ডটকম নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অন্যান্য আমেরিকানদের লুক্সেমবার্গের পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করছেন। তিনি জানান, ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো মার্কিনিদের মধ্যে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। আর এখন প্রতি তিন মাসে প্রায় নয়শ জন আমেরিকান লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তার প্রতিষ্ঠানে সেবাপ্রত্যাশীদের ভিড় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অ্যাটজ জানান, ক্যাসিডির মতো এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে ভীত এবং তারা ইউরোপে স্থায়ী হতে চাইছেন।   নাগরিকত্ব পাওয়ার হার বাড়লেও এর মানে এই নয় যে আমেরিকানরা দলে দলে লুক্সেমবার্গে গিয়ে বসবাস শুরু করছেন। লুক্সেমবার্গ ইউরোপের অন্যতম ব্যয়বহুল দেশ এবং সেখানে সব ধরনের পেশার মানুষের জন্য পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ নেই। তাই অনেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের টিকিট হিসেবে এই পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। অ্যাটজ জানান, পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নব্বই শতাংশেরও বেশি মানুষ স্প্যানিশ, পর্তুগিজ বা ফরাসি শহরগুলোতে পাড়ি জমান। ক্যাসিডি নিজেও লুক্সেমবার্গে স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও আর্থিক দিক বিবেচনায় তিনি ইউরোপের অন্য কোনো দেশে বাস করার কথা ভাবছেন।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশে বসবাসকারী অনেক আমেরিকান তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করছেন এবং এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তবে ক্যাসিডি এখনই নিজের মার্কিন পাসপোর্ট ছাড়তে রাজি নন। তিনি বলেন, অনেক খারাপ ঘটনা ঘটলেও হয়তো আগামী দিনে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তার ভেতরের আমেরিকান সত্তা এখনও আশাবাদী যে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে এবং একটি সুন্দর সমাপ্তি দেখা যাবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে কী ঘটে, তা সবার জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করেন তিনি।   উৎস: নিউজউইক

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ২২:৭