লাখে একজনের হওয়া বিরল রোগে আক্রান্ত অ্যাবি, সার্ফিংয়ে খুঁজে পেলেন জীবনের আনন্দ
জন্ম থেকেই বিরল রোগ ক্লিপেল-ট্রেনোনে আক্রান্ত অ্যাবি ভ্লাদা স্মুটের জীবনে রয়েছে নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জ। তবে সেই সীমাবদ্ধতা তাঁর আনন্দ খুঁজে নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ওয়েক সার্ফিংয়ের মাধ্যমে পানির ওপর ঢেউয়ের সঙ্গে চলার অভিজ্ঞতায় তিনি খুঁজে পান মুক্তির স্বাদ। তাঁর জীবনযাপনের এই দিকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তাঁর ভাই। সেখানে অ্যাবির প্রতিকূলতার মধ্যেও হাসিমুখে জীবন উপভোগ করার মানসিকতার কথা উঠে এসেছে।
অ্যাবির ভাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জন্ম থেকেই তাঁর বোনকে এমন কিছু বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা অন্য অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ নয়। সাধারণ কাজও কখনো কখনো তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে নিজের সীমাবদ্ধতার দিকে মনোযোগ দিয়ে থেমে থাকার পরিবর্তে অ্যাবি যেসব কাজ করতে পারেন, সেগুলো উপভোগ করার চেষ্টা করেন। তাঁর ভাইয়ের কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, জীবনের প্রতিকূলতা নিয়ে অ্যাবিকে কখনো অভিযোগ করতে শোনেননি তিনি। বরং অ্যাবি বর্তমান মুহূর্তকে উপভোগ করেন এবং নিজের মতো করে জীবন এগিয়ে নিয়ে যান।
অ্যাবির জীবনে ওয়েক সার্ফিং বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এ জলক্রীড়ায় নৌকার পেছনে তৈরি হওয়া ঢেউয়ের ওপর বিশেষ বোর্ডের সাহায্যে ভারসাম্য রেখে চলতে হয়। পানির ওপর এই অভিজ্ঞতা অ্যাবিকে দৈনন্দিন জীবনের সীমাবদ্ধতা থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে স্বাধীনতার অনুভূতি দেয়। তাঁর ভাইয়ের প্রকাশিত ছবিতে ও ভিডিওতে সেই আনন্দের মুহূর্তগুলো দেখা যায়। অ্যাবির গল্পে তাই শুধু একটি বিরল রোগের কথা নয়, নিজের পছন্দের কাজের মধ্য দিয়ে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
ক্লিপেল-ট্রেনোনে সিনড্রোম একটি বিরল জন্মগত অবস্থা, যা রক্তনালি, নরম টিস্যু ও হাড়ের বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে। এ রোগে ত্বকে লালচে বা বেগুনি জন্মদাগ, অস্বাভাবিক শিরা এবং শরীরের কোনো একটি অঙ্গের অতিরিক্ত বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। সাধারণত একটি পা বেশি আক্রান্ত হলেও কারও কারও ক্ষেত্রে শরীরের অন্য অংশেও লক্ষণ দেখা যায়। রোগটির উপসর্গ ও তীব্রতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ক্লিপেল-ট্রেনোনে সিনড্রোমের নির্দিষ্ট কোনো নিরাময় নেই। তবে এর উপসর্গ ও জটিলতা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান, ফিজিওথেরাপি, চাপ প্রয়োগকারী বিশেষ পোশাক কিংবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বিবেচনা করা হতে পারে। এই রোগ থাকলেই যে কেউ স্বাভাবিক জীবনযাপন বা পছন্দের কাজে অংশ নিতে পারবেন না, তা নয়। তবে শারীরিক সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম বেছে নেওয়া জরুরি।
অ্যাবির গল্পে তাঁর ভাই যে বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন, তা হলো নিজের অক্ষমতা বা সীমাবদ্ধতাকে জীবনের সবকিছু হয়ে উঠতে না দেওয়া। তিনি কী করতে পারেন না, তার বদলে কী করতে পারেন, সেদিকে মনোযোগী থাকার চেষ্টা করেন। তাঁর হাসিমুখে সময় কাটানো এবং ওয়েক সার্ফিংয়ের মতো পছন্দের কাজে অংশ নেওয়া পরিবারের কাছে আনন্দের বিষয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিরল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবন ও তাঁদের ব্যক্তিগত আনন্দের জায়গাগুলোও আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: আপসোকল, গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতাল।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreভারতের রাজধানী দিল্লিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকায় তাঁর বাসা থেকে দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে যুগান্তর। তবে আটকের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ধ্রুব রাঠি। কিন্তু বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই তাঁকে আটক করা হয়। নিউজ১৮-এর বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার সকাল প্রায় ৭টা ৪৮ মিনিটে দিল্লি পুলিশের একটি দল তাঁর বাসায় পৌঁছায়। সে সময় তাঁর মা দরজা খুলে দেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকার সেন্ট্রাল পার্ক বিহারে অবস্থিত তাঁর বাসার বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে তাঁকে কী কারণে আটক করা হয়েছে কিংবা কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি ও তাদের সহযোগী ছাত্রসংগঠনগুলো। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের দাবি, এই প্রক্রিয়া ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনও ভোটার তালিকা সংশোধনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম হিসেবে তুলে ধরেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভ সামনে রেখে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও মেট্রো পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিক্ষোভের আগে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর একাধিক সদস্যকে আটক করার খবরও পাওয়া গেছে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের অভিযোগ, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ঠেকাতে তাঁদের সদস্যদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে একই আন্দোলনের একটি সমাবেশে অংশ নেন ধ্রুব রাঠি। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। সমাবেশে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ধ্রুব রাঠি। ওই সমাবেশে তিনি জানান, সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং নির্বাচনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে তিনি আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ভারতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে ইউটিউব ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন ধ্রুব রাঠি। বিশেষ করে সরকারি নীতি, নির্বাচনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে তাঁর আলোচনা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। শনিবার তাঁকে আটকের যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ কিংবা পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বর্তমান অবস্থান এবং আটকের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
লাখে একজনের হওয়া বিরল রোগে আক্রান্ত অ্যাবি, সার্ফিংয়ে খুঁজে পেলেন জীবনের আনন্দ
ক্যানসার গবেষণা যুক্তরাজ্যের প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা হলেন অধ্যাপক মারিয়াম জামাল-হানজানি
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না ইরান, মজুতও দেবে না যুক্তরাষ্ট্রকে
ব্রাজিলে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্ম দিয়েছেন গিলবার্তো নোগেইরা দে অলিভেইরা নামের ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। পরকীয়ার কারণে নিজের স্ত্রী তার গোপনাঙ্গ কেটে ফেলার পরও তিনি সেই প্রাক্তন স্ত্রীকেই পুনরায় বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ডায়ানে দস সান্তোস ফারিয়াস নামের ওই নারী তার স্বামীর সাথে হওয়া ভয়ংকর সেই ঘটনার পর জেল খেটে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন। জেল থেকে বের হওয়ার পর গিলবার্তো নিজেই তার সাথে যোগাযোগ করেন এবং জানান যে তিনি তাকে অনেক মিস করেছেন। এখন এই যুগল অতীতের সব তিক্ততা ভুলে আবারও একসাথে সংসার শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালের ২২ ডিসেম্বর তারিখে। ডায়ানে নিজের জন্মদিনের দিন জানতে পারেন যে তার স্বামী গিলবার্তো অন্য এক নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়েছেন। এই খবর শোনার পর তিনি চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ভয়ংকর এক প্রতিশোধের পরিকল্পনা করেন। তিনি কৌশল করে গিলবার্তোর হাত বেঁধে ফেলেন এবং একটি রেজার দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে তা কমোডে ফ্ল্যাশ করে দেন। এই ভয়ংকর হামলার দায়ে ডায়ানেকে আদালত চার বছর আট মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে। তবে গত নভেম্বরে তিনি কারাগার থেকে আগাম মুক্তি লাভ করেন। হাসপাতালে ভর্তির পর গিলবার্তোকে আরও একটি চরম অবমাননাকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। চিকিৎসকরা তাকে জানান যে চিকিৎসা বিজ্ঞানের স্বার্থে তার ক্ষতের ছবি তোলা প্রয়োজন কারণ তারা এর আগে এমন ঘটনার সম্মুখীন হননি। গিলবার্তো চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে ছবি তোলার অনুমতি দিলেও পরে জানতে পারেন যে সেগুলো হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি এক্সেও সেই ভয়ংকর ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ে। পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন যে সান্তা কাসা দে আতিবাইয়া নামের ওই চিকিৎসা কেন্দ্রের একটি কম্পিউটার থেকে ছবিগুলো ফাঁস করা হয়েছিল। এই ছবি ফাঁসের ঘটনায় আদালত ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয়। ক্ষতিপূরণ হিসেবে গিলবার্তো বিশ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল বা প্রায় তিন হাজার বিশ পাউন্ড লাভ করেন। তবে তিনি এই পরিমাণ অর্থকে একেবারেই সামান্য বলে উল্লেখ করেছেন এবং আরও বেশি ক্ষতিপূরণ চেয়ে আপিল করেছেন। তার মতে, তিনি যে পরিমাণ মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছেন, তার তুলনায় এই অর্থ কিছুই নয়। এই ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে তিনি এখন নিজের বাড়ি সংস্কার করার পাশাপাশি একটি কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করাতে চান। এছাড়াও ক্ষতিপূরণের এই অর্থ দিয়েই তিনি তার প্রাক্তন স্ত্রীর সাথে দ্বিতীয় বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করার কথা ভাবছেন। অস্ত্রোপচারের আগে তিনি ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন এবং ব্রাজিলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে এর জন্য কিছু আর্থিক সহায়তাও পেতে পারেন। নিজের হবু স্ত্রীর এমন কাজের পক্ষে সাফাই গেয়ে গিলবার্তো বলেন যে ডায়ানে রাগের মাথায় এই কাজটি করে ফেলেছিলেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে তিনি ডায়ানেকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন এবং তার সাথে পুনরায় জীবন শুরু করতে চান। গিলবার্তোর মনে স্ত্রীর প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই এবং তিনি তার কোনো ক্ষতি করার কথাও ভাবেন না। উৎস: নিউজফ্ল্যাশ এবং হ্যারিসনস
থাইল্যান্ডের রানি অনন্য ইতিহাস, একাই আকাশে ওড়ালেন সুপারসনিক যুদ্ধবিমান
শান্তিতে নোবেল পেলেন ইসরায়েলকে গণ হ ত্যায় দোষী সাব্যস্ত করা বিচারক
আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই
হংকংয়ে ১৯৯২ সালে এক বিরল জেনেটিক রোগ নিয়ে জন্ম নেন মুই থমাস। জন্মের পরপরই তার নিজের বাবা ও মা তাকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যান। চিকিৎসকরাও তখন আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তারা ধারণা করেছিলেন যে এই শিশু হয়তো শৈশব পার হতে পারবে না। কিন্তু ভাগ্যের লিখন ছিল অন্যরকম। অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং এক দম্পতির নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় সেই মুই আজ ৩৩ বছর বয়সে এসে একজন সফল ইয়োগা প্রশিক্ষক এবং রাগবি রেফারি হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন। মুই থমাস জন্মগতভাবে হারলেকুইন ইচথিওসিস নামের এক অত্যন্ত বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগের কারণে রোগীর পুরো শরীর পুরু ও শক্ত চামড়ার আবরণে ঢাকা থাকে যা ফেটে গিয়ে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি করে। এর ফলে রোগীর শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং শরীরে সহজেই বড় ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। নব্বইয়ের দশকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই রোগটিকে প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। চিকিৎসকদের ধারণা ছিল এই রোগে আক্রান্ত প্রায় কেউই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে না। তবে শিশুটির জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তার বয়স আঠারো মাস। ফস্টার কেয়ার প্রোগ্রামের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে আসা রগ এবং টিনা থমাস নামের এক দম্পতির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সময় এই দম্পতির দত্তক নেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না বরং তারা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু টিনা যখনই হাসপাতালে মুইকে দেখতে যেতেন তখন শিশুটির সঙ্গে তার এক অদ্ভুত মায়াবী সম্পর্ক তৈরি হয়। টিনা যখন হাসপাতাল থেকে চলে আসতে চাইতেন তখন মুই তার জন্য অঝোরে কাঁদতেন। শিশুটির এই কান্না টিনাকে মানসিকভাবে প্রবল নাড়া দেয়। এরপর দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় আইনি ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে তারা মুইকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকরা তাদের বারবার সতর্ক করেছিলেন যে শিশুটি যেকোনো সময় মারা যেতে পারে। কিন্তু রগ ও টিনা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। হাসপাতালে মুইয়ের প্রতিটি চিকিৎসাকালীন সময়ে টিনা রাতের পর রাত তার বিছানার পাশে মেঝেতে ঘুমিয়েছেন। তাদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই মুইকে নতুন এক জীবন উপহার দেয়। দীর্ঘ লড়াই শেষে ৩৩ বছর বয়সী মুই থমাস আজ সমাজের সব প্রতিকূলতাকে জয় করেছেন। তিনি বর্তমানে একজন ইয়োগা প্রশিক্ষক এবং বিশ্বের প্রথম রাগবি রেফারি যিনি এই বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েও মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক গঠনের কারণে তাকে অনেক মানসিক নির্যাতন বা বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল। তবে সেই কষ্টকেই তিনি নিজের শক্তি বানিয়ে দ্য গার্ল বিহাইন্ড দ্য ফেস নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি সমাজের সব ধরনের কুসংস্কার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ যুদ্ধবিমান ধ্বংস, ক্ষতি ৪০ হাজার কোটি টাকা
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক বিমান ধ্বংস, ক্ষয়ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলারের বেশি