সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না ইরান, মজুতও দেবে না যুক্তরাষ্ট্রকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ২২:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ বা মজুত হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে ইরান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা  ফেসবুক হ্যাশট্যাগ:
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ বা মজুত হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে ইরান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা ফেসবুক হ্যাশট্যাগ:

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত হুমকি ও চাপ থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করবে না ইরান। এমনকি তাদের কাছে থাকা ইউরেনিয়ামের বর্তমান মজুতও কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামী এ কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে নিজেদের প্রয়োজনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা এবং তা মজুত রাখা সম্পূর্ণভাবে ইরানের বৈধ অধিকার। অন্যদিকে ইরানে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার সহায়তার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংলাপে বসার সম্মতি প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

 

মোহাম্মদ ইসলামী তার বিবৃতিতে জানান যে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অংশ। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির সমস্ত নিয়ম মেনেই এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার টেবিলে এটি রাখার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে ইরান। স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জাতীয় উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে পরমাণু প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে উল্লেখ করে ইসলামী জানান যে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে পশ্চিমাদের দাবিগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ভূখণ্ডে যৌথভাবে বড় ধরনের হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল। এই ঘটনার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন যে তারা কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেবেন না। যুদ্ধের সময় ইরানের একাধিক পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে ইরান শুরু থেকেই এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার পরিকল্পনা তাদের নেই।

 

উদ্ভূত এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের পাশে থাকার জোরালো বার্তা দিয়েছে মস্কো। ইরানে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরানকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে রাশিয়া প্রস্তুত আছে বলে মাসুদ পেজেশকিয়ানকে সরাসরি আশ্বাস দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার মধ্য এশিয়ার দেশ তুর্কমেনিস্তানে কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটসের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ান এবং ইরানি প্রেসিডেন্টের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানেই পুতিন জানিয়েছেন যে এই সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ইরানের পক্ষে তাদের সাধ্যের মধ্যে যা কিছু করা সম্ভব তার সবই করতে রাশিয়া পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

 

সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরান যুদ্ধ থামানোর জন্য প্রকৃত অর্থেই আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভাষণে তিনি ইরান এবং রাশিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির দিকটিও সবার সামনে তুলে ধরেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকে উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে এবং এর ফলে তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ রাশিয়াকে সামরিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে ইরান আর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য রাশিয়া তাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে।

 

তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনা যখন একপ্রকার অচলাবস্থার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে ঠিক সেই মুহূর্তেই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। ইরানের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে এই সংঘাতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ থেকে ইরান কখনোই সরে দাঁড়াবে না। পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেছেন যে তারা সংলাপে যুক্ত থাকতে আগ্রহী কিন্তু যখনই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া হয় তখনই তারা নতুন করে হামলা চালায়। এত কিছুর পরও ইরান আলোচনার টেবিল ছেড়ে যাবে না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

 

উৎস: ইত্তেফাক


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের প্রধান চিকিৎসক হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রখ্যাত গবেষক অধ্যাপক মরিয়ম জামাল হানজানি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ক্যানসার গবেষণা যুক্তরাজ্যের প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা হলেন অধ্যাপক মারিয়াম জামাল-হানজানি

ক্যান্সার গবেষণায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দাতব্য সংস্থা ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের প্রধান চিকিৎসক বা চিফ ক্লিনিশিয়ান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রখ্যাত গবেষক অধ্যাপক মরিয়ম জামাল হানজানি। এই নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি সংস্থাটির ক্লিনিক্যাল গবেষণার রূপরেখা তৈরি এবং ক্যান্সার চিকিৎসার মান উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবেন। ক্যান্সার চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সংস্থাটি দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য পূরণে তার মতো একজন অভিজ্ঞ গবেষকের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার খবরটি চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মহলেও বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।   অধ্যাপক মরিয়ম জামাল হানজানি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে বা ইউসিএলে ক্যান্সার জিনোমিকস এবং মেটাস্ট্যাসিস বিষয়ের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি একজন অত্যন্ত সুপরিচিত এবং স্বীকৃত গবেষক হিসেবে সমাদৃত। মানবদেহে ক্যান্সার কীভাবে বিবর্তিত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তা নিয়ে তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি প্রচলিত চিকিৎসার বিরুদ্ধে ক্যান্সার কোষগুলো কীভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে সেই জটিল প্রক্রিয়া নিয়েও তার ব্যাপক গবেষণা রয়েছে। তার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবার ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের ভবিষ্যত গবেষণার কাজে সরাসরি ব্যবহৃত হবে।   নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অধ্যাপক মরিয়ম জামাল হানজানি অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন যে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলোকে রোগীদের বাস্তব জীবনের কল্যাণে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের একটি অসাধারণ ও প্রমাণিত ইতিহাস রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যের অংশ হতে পারা এবং এই যাত্রায় ভূমিকা রাখার সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি বলে মনে করছেন। রোগীদের জন্য নতুন এবং আরও কার্যকর চিকিৎসার উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।   বর্তমান বিশ্বে ক্যান্সার চিকিৎসায় মেটাস্ট্যাসিস বা ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়া রোধ করা চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। অধ্যাপক মরিয়মের জিনোমিক্স বিষয়ক দীর্ঘ গবেষণা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন করতে পারে। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে বরাবরই গবেষণাগারের প্রাথমিক সাফল্যগুলোকে সরাসরি রোগীদের জন্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে কাজ করে থাকে। প্রধান চিকিৎসক হিসেবে তিনি বিজ্ঞানীদের আধুনিক গবেষণা এবং রোগীদের সরাসরি চিকিৎসার মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করবেন। এর ফলে আগামী দিনে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে মানবজাতির লড়াই আরও বেশি সুসংহত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   উৎস: ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে প্রেস রিলিজ

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ২৩:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ বা মজুত হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে ইরান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা  ফেসবুক হ্যাশট্যাগ:

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না ইরান, মজুতও দেবে না যুক্তরাষ্ট্রকে

ব্রাজিলের গিলবার্তো নোগেইরা দে অলিভেইরা ও তাঁর সাবেক স্ত্রী দায়ানে দোস সান্তোস ফারিয়াস আবার বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

পরকীয়ার জেরে স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটেছিলেন স্ত্রী, কারামুক্তির পর তাকেই ফের বিয়ে করছেন স্বামী

থাইল্যান্ডের রানি অনন্য ইতিহাস, একাই আকাশে ওড়ালেন সুপারসনিক যুদ্ধবিমান

থাইল্যান্ডের রানি অনন্য ইতিহাস, একাই আকাশে ওড়ালেন সুপারসনিক যুদ্ধবিমান

শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিলাই
শান্তিতে নোবেল পেলেন ইসরায়েলকে গণ হ ত্যায় দোষী সাব্যস্ত করা বিচারক

২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক বিচারক নাভি পিলাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং যু দ্ধাপরাধ ও গণ হ ত্যার বিচার নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।   ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিলাই জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ইসরায়েলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি।   নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ সাহসিকতা এবং সততার পরিচয় দিয়েছেন নাভি পিলাই। বিশেষ করে যু দ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণ হ ত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তাঁর ভূমিকা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।   নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে যু দ্ধ ও সংঘাত বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালত এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সহিং সতা ছাড়াই বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরতেই পিলাইয়ের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।   সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ইসরায়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন পিলাই। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অবস্থান ইসরায়েল এবং দেশটির সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল।   ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের শতাধিক সদস্য পিলাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তাঁর নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যক্রমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষার পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রাখেন তিনি।   পরবর্তী সময়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইসরায়েলসংক্রান্ত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন পিলাই। তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণ হ ত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে ইসরায়েল ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিশনের এই অনুসন্ধান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।   দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া নাভি পিলাইয়ের পেশাগত জীবন শুরু হয় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার সময় তিনি নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন।   ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন পিলাই। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৮ সালে ডক্টর অব জুরিডিক্যাল সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।   এরপর রুয়ান্ডার গণ হ ত্যার বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানে যৌন সহিং সতা ও ধ র্ষ ণকে গণ হ ত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিলাই।   মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণ হ ত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলায়ও তিনি অ্যাডহক বিচারক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ধারাবাহিক ভূমিকার বিষয়টি এবারের নোবেল পুরস্কারের সিদ্ধান্তে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।   নোবেল কমিটির মতে, আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যু দ্ধাপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং নি র্যা তনের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।   আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে নাভি পিলাইয়ের হাতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর কয়েক দশকের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবারের পুরস্কারকে দেখছে নোবেল কমিটি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৮:৯
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নাভি পিল্লাই

আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই

সমাজের সব প্রতিকূলতা জয় করে মুই থমাস আজ একজন সফল ইয়োগা প্রশিক্ষক ও রাগবি রেফারি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জন্মের দিনই ফেলে যায় পরিবার, দত্তক নেওয়া বাবা-মায়ের ভালোবাসায় সেই মুই আজ সফল রাগবি রেফারি

মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ৪৫টি ড্রোন ও বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের তথ্য প্রকাশ করেছে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ যুদ্ধবিমান ধ্বংস, ক্ষতি ৪০ হাজার কোটি টাকা

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক বিমান ধ্বংস, ক্ষয়ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলারের বেশি
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক বিমান ধ্বংস, ক্ষয়ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলারের বেশি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-১৫ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং বিপুলসংখ্যক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ৩৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।   গত সোমবার (৫ অক্টোবর) হালনাগাদ করা এই প্রতিবেদনের তথ্য বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো বিমান ও ড্রোনের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।   সিআরএস জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড, প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন বহরে। ইরানের সঙ্গে সামরিক অভিযানে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী। গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ব্যবহৃত এই ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি।   গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অন্তত ৪৫টি রিপার ড্রোন হারানোর তথ্য সামনে আসে। নতুন কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে সেই সংখ্যাই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   শুধু রিপার ড্রোন নয়, ইরানের সামরিক অভিযানে আরও তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন হারানোর তথ্যও রয়েছে। এর মধ্যে এমকিউ-৪সি ট্রাইটন দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মানবচালিত যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কথা জানিয়েছে সিআরএস।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আটটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবারও ব্যবহারযোগ্য করা হয়েছে।   গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের মিত্রবাহিনীর ভুলবশত গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এ ধরনের ঘটনাকে সামরিক পরিভাষায় ফ্রেন্ডলি ফায়ার বলা হয়।   এরপর ৫ এপ্রিল ইরানের আকাশে আরও একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয় বলে জানিয়েছিল ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড।   অন্যদিকে গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুওয়াফফাক সালটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেগুলো মেরামত করে আবারও সামরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।   মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমানও ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে। গত ১৯ মার্চ ইরানের আকাশে ভূমি থেকে চালানো হামলায় একটি এফ-৩৫এ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।   এফ-৩৫ যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। শত্রুপক্ষের রাডার এড়িয়ে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতার কারণে এই যুদ্ধবিমান মার্কিন সামরিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।   এছাড়া দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে ৬ এপ্রিল শত্রুপক্ষের হামলায় একটি এ-১০ বিধ্বস্ত হয় বলে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছিলেন। অন্যটি সেপ্টেম্বরে জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার বিমানগুলোরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।   কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে সাতটি কেসি-১৩৫ বিমানের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য রয়েছে। গত ১২ মার্চ ইরাকে দুটি কেসি-১৩৫ বিমান একটি ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি বিধ্বস্ত হয়ে ছয় মার্কিন ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়। অন্য বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।   এর দুই দিন পর সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও পাঁচটি কেসি-১৩৫ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্চের শেষ দিকে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় বিমানটি ক্ষতির মুখে পড়ে। পরবর্তী প্রতিবেদনে বিমানটিতে সরাসরি আঘাত লাগার তথ্যও উঠে আসে।   সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হেলিকপ্টারগুলোর মধ্যেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   সিআরএসের হিসাবে, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হেলিকপ্টার, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি, একটি এমএইচ-৬০ সি হক এবং একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন টু হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   এছাড়া বিশেষ সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু বিমানও ধ্বংস হওয়ার তথ্য রয়েছে। এপ্রিল মাসে ইরানে ভূপাতিত একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রুদের উদ্ধারের অভিযানের সময় বিমান দুটি ধ্বংস করা হয়েছিল।   তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ৮১টি বিমান ও ড্রোনের সবই ইরানের সরাসরি হামলায় ধ্বংস হয়নি। এর মধ্যে কিছু বিমান শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু বিধ্বস্ত হয়েছে দুর্ঘটনায়, আবার কিছু মিত্রবাহিনীর ভুলবশত হামলার শিকার হয়েছে। কয়েকটি বিমান উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সময় মার্কিন বাহিনী নিজেরাই ধ্বংস করেছে।   একইভাবে ৮১টি বিমানই স্থায়ীভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে, এমন তথ্যও প্রতিবেদনে বলা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বিমান ইতোমধ্যে মেরামত করে সামরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের নাম দেয় অপারেশন এপিক ফিউরি।   মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং সামরিক স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি আক্রমণের মধ্য দিয়ে সংঘাত বিস্তৃত হয়। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির পর সামরিক তৎপরতা কিছুটা কমলেও পরবর্তী সময়ে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে।   এই দীর্ঘ সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রতিস্থাপন ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের সেপ্টেম্বর মাসের হিসাবে, ১ আগস্ট পর্যন্ত সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির পরিমাণ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে ১৯০ কোটি থেকে ৩৩০ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে।   তবে এই হিসাব শুধু বিমান ও ড্রোনের ক্ষতির জন্য নয়। এতে যুদ্ধের অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ৮১টি বিমানের ক্ষতির আর্থিক মূল্য এককভাবে ৩৩০ কোটি ডলার বলে ধরে নেওয়া যাবে না।   কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস সতর্ক করেছে, যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং নতুন তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু সামরিক তথ্য গোপনীয় হওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণও কঠিন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব ক্ষয়ক্ষতির কারণে মার্কিন কংগ্রেসকে সামরিক বাজেট, নতুন বিমান কেনা, ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম মেরামত এবং সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে হতে পারে।   বিশেষ করে ই-৩ সেন্ট্রির মতো পুরোনো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঞ্চলের সামরিক প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।   একই সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কত দ্রুত নতুন বিমান ও ড্রোন সরবরাহ করতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। উৎপাদন সক্ষমতা, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক সামরিক চাহিদার কারণে প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে।   মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শুধু কতগুলো বিমান ধ্বংস হয়েছে, তা দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের সামরিক গুরুত্ব, প্রতিস্থাপন ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ অভিযানের সক্ষমতার ওপর এর প্রভাবও বিবেচনা করতে হয়।   সর্বশেষ কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও ড্রোন বহর উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির কতটা স্থায়ী এবং ভবিষ্যতে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে কত ব্যয় হবে, তা নির্ধারণে আরও বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৭:৫৪
ভারতে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ

বাংলাদেশের মতো ভারতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস

বাংলাদেশের মতো ভারতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপির

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শিকার ফ্রান্সের মুসলিম মেয়র

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শিকার ফ্রান্সের মুসলিম মেয়র

0 Comments