- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ইয়েমেনে সং ঘা ত তীব্র হয়ে ওঠার মধ্যেই সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোট দ্রুত সক্রিয় হওয়ার পথে এগোচ্ছে। ৫ অক্টোবর রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে তিন দেশ সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের চুক্তি সই হয়েছিল চলতি বছরের ৭ আগস্ট। চুক্তির মূল বিষয় হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আ ক্র ম ণকে তিন দেশের ওপর আ ক্র ম ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে এর কিছুটা মিল রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকের পরও জোটটিকে পুরোপুরি কার্যকর সামরিক জোট হিসেবে বিবেচনা করার মতো সব কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। বরং সদস্য দেশগুলো এখন সেই কাঠামো বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। ৫ অক্টোবরের বৈঠকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও অংশ নেন। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ঠিক কত সেনা, কী ধরনের সরঞ্জাম বা কোন কোন ইউনিট সৌদি আরবে পাঠানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠকে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন এই সচিবালয়ের মাধ্যমে তিন দেশের সামরিক সমন্বয়, প্রস্তুতি ও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ইয়েমেনের দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতি। ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে লড়াই আবার তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং এর আশপাশের অঞ্চল নিয়ে দুই পক্ষের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে তাই আঞ্চলিক উদ্বেগও বাড়ছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী সম্প্রতি হুথিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুনর্দখলের জন্য ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে অভিযান শুরু করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই অভিযানে বিমান সহায়তা দিচ্ছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি জানিয়েছেন, অভিযানের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে এবং স্থলবাহিনীকে নিয়মিত বিমান সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে এবং মক্কা বন্দরের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্দখলের দাবি করেছে। ধুবাব বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকাতেও তাদের অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। তবে হুথিরা সরকারি বাহিনীর সব দাবির সঙ্গে একমত নয়। একই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের তায়েজের দিকে হুথিদের অগ্রসর হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সামরিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। ইয়েমেনের লড়াইয়ের প্রভাব এখন সৌদি আরবের ভূখণ্ডেও পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা সৌদি শহর, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হা ম লার কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু ছিল গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থাপনা। ৫ অক্টোবরের মক্কা জোটের বৈঠকেও সৌদি শহর ও বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক স্থাপনায় হা ম লার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষভাবে পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ঘিরে যেকোনো নিরাপত্তা হুমকিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখছে তিন দেশ। জরুরি বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করার চেষ্টার নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের শহর এবং বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় চলমান হা ম লার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করা হয়েছে। তুরস্ক ইতোমধ্যে সৌদি আরবকে প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার পথে এগিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তুরস্কের সহায়তার মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন পরিচালনায় সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। পাকিস্তানও সৌদি আরবে আগে থেকেই সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। তবে মক্কা চুক্তির আওতায় এই সহায়তা ভবিষ্যতে কতটা বিস্তৃত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক বর্তমানে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা নজরদারি ও অন্যান্য সহায়তায় দুই দেশ যুক্ত থাকলেও ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি স্থল লড়াইয়ে সৌদি বাহিনীই প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এতে পাকিস্তান ও তুরস্ক কতদিন সরাসরি লড়াইয়ের বাইরে থাকতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অথচ ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি বড় ধরনের সামরিক জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে চলা। কারণ ইয়েমেনের ভূখণ্ডে সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, সৌদি আরবের শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের ওপর চাপ তত বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে, মাত্র কয়েক মাস আগে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোট এখন রাজনৈতিক ঘোষণা থেকে বাস্তব নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে। তবে জোটটি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে তিন দেশের সামরিক সমন্বয়, বাহিনী মোতায়েনের পরিধি এবং ইয়েমেনের চলমান সং ঘা ত কতটা বিস্তৃত হয় তার ওপর। আপাতত সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকি এই নতুন জোটের জন্য প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাশিয়ার রিয়াজান অঞ্চলে দেশটির অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইয়ানডেক্সের একটি বড় ডেটা সেন্টারে ড্রোন হা ম লার ঘটনা ঘটেছে। এতে ডেটা সেন্টারটিতে আ গু ন ধরে যায় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে সাময়িকভাবে পুরো কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। রাশিয়ার কোনো ডেটা সেন্টারে ইউক্রেনীয় ড্রোনের এমন বড় হা ম লার ঘটনা এর আগে নিশ্চিতভাবে সামনে আসেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইয়ানডেক্স জানিয়েছে, হা ম লার পর ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সেবাগুলো পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভোক্তা সেবাগুলো চালু রয়েছে। ইয়ানডেক্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জেনারেটিভ মডেল ইয়ানডেক্সজিপিটিও এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ইয়ানডেক্স ক্লাউডের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ডেটা সেন্টারের একটি অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ কারণে গ্রাহকদের বিকল্প ডেটা সেন্টার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ড্রোন হা ম লায় ঠিক কতটা ভৌত ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইউক্রেনের ডেটা অবকাঠামোর বিরুদ্ধেও রাশিয়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক হা ম লা চালিয়েছে। ফলে ডেটা সেন্টার ও প্রযুক্তি অবকাঠামোকে ঘিরে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হা ম লার নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে। ইয়ানডেক্সের স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এবারের ড্রোন হা ম লা সেই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর দিকে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে একই সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়া ব্যাপক ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন হা ম লা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া এক রাতেই প্রায় ৭০টি ক্ষে প ণাস্ত্র এবং কয়েক ডজন শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে। হা ম লায় দেশটির শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তর ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরেই সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে রুশ ক্ষে প ণাস্ত্রের আঘাতে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শহরটিতে নি হ তের সংখ্যা ২২ জনে পৌঁছেছে বলে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে। রাজধানী কিয়েভেও একটি আবাসিক ভবনে রুশ হা ম লার পর আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ হিসাবে, ইউক্রেনজুড়ে ওই রুশ হা ম লায় অন্তত ৩২ জন নি হ ত হয়েছেন এবং ১০০ জনের বেশি আ হ ত হয়েছেন। এর আগে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা মৃতের সংখ্যা ২৫ ও পরে ২৮ জন বলে জানিয়েছিলেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। প্রিলুকিতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি বিভাগের কর্মীরা রাতভর কাজ করেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ১৫ জনকে জীবিত বের করে আনেন। শহরটিতে প্রায় ৫৫ জন আ হ ত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। জেলেনস্কি এই হা ম লাকে রাশিয়ার অন্যতম ভয়াবহ ও ‘জঘন্য’ আ ঘা ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঘটনাটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে তীব্র মন্তব্যও করেন। জেলেনস্কি বলেন, শিশু ও সাধারণ মানুষকে হ ত্যা করাই যেন পুতিনের নিজের জন্য দেওয়া জন্মদিনের উপহার। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, তাদের হা ম লার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প অবকাঠামো। দেশটি উচ্চনির্ভুলতার স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথের ক্ষে প ণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে মস্কো জানিয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী বলেছে, রাশিয়ার ছোড়া ৪৬টি জেটচালিত ড্রোনের ৮০ শতাংশের কিছু বেশি তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ইউক্রেনের জন্য ব্যালিস্টিক ক্ষে প ণাস্ত্র এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে বলে জেলেনস্কি জানিয়েছেন। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। একই দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের জন্য ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরোর একটি নতুন অর্থ ছাড় করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডে পাল্টা আ ঘা ত চালিয়েছে। জেলেনস্কির দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার চারটি লক্ষ্যবস্তুতে আ ঘা ত হেনেছে। এর মধ্যে দুটি জ্বালানি স্থাপনা এবং একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ছিল। ইয়ানডেক্সের ডেটা সেন্টারে ড্রোন হা ম লা এবং ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন হা ম লা একই সময়ে সংঘটিত হওয়ায় সংঘাতের নতুন দিক সামনে এসেছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি এখন দুই পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামোও ক্রমেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির জায়গা হিসেবে উঠে এসেছে টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ফ্লাইট দেরি, ফ্লাইট বাতিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেরির হার কতটা বেড়েছে এবং শহরের কেন্দ্র থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে কতটা সময় লাগে—এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করে করা নতুন এক বিশ্লেষণে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ‘স্ট্রেসফুল’ বিমানবন্দর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাইটওয়ে পার্কিংয়ের করা এই বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫টি বড় বিমানবন্দরকে তুলনা করা হয়েছে। গবেষণায় ২০২৫ সালের ফ্লাইট দেরি ও বাতিলের হার, ২০২১ সালের তুলনায় দেরির হার কতটা পরিবর্তিত হয়েছে এবং শহরের কেন্দ্র থেকে বিমানবন্দরে গাড়িতে যেতে কতটা দূরত্ব ও সময় লাগে—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রতিটি সূচককে সমান গুরুত্ব দিয়ে একটি সম্মিলিত স্কোর তৈরি করা হয়েছে। তালিকার শীর্ষে থাকা ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থে ২০২৫ সালে ২৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ ফ্লাইট দেরিতে ছেড়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রায় প্রতি চারটি ফ্লাইটের একটি নির্ধারিত সময়ের পরে ছেড়েছে। একই সময়ে বিমানবন্দরটির ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। শুধু সাম্প্রতিক দেরির হারই নয়, গত কয়েক বছরে পরিস্থিতির অবনতিও ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থকে তালিকার শীর্ষে তুলতে ভূমিকা রেখেছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট দেরির হার ৩৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরটি ডালাস শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২২ মাইল দূরে। গবেষণার হিসাবে গাড়িতে যেতে প্রায় ২৬ মিনিট সময় লাগে। ফলে যাত্রীরা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই বাড়তি সময় ও চাপের মুখে পড়তে পারেন। এরপর ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলে সেই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। গবেষণাটির মূল উদ্দেশ্যও ছিল বিমানবন্দরের একটি নির্দিষ্ট সমস্যা নয়, বরং ভ্রমণের পুরো প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের সম্ভাব্য চাপকে একসঙ্গে মূল্যায়ন করা। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শিকাগো ও’হেয়ার ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। সেখানে ২৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ ফ্লাইট দেরিতে ছাড়ে। ২০২১ সালের তুলনায় ও’হেয়ারে ফ্লাইট দেরির হার বেড়েছে ৪২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শহরের কেন্দ্র থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময়ও—গবেষণায় এই যাত্রার সময় প্রায় ৫০ মিনিট ধরা হয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভার্জিনিয়ার রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এই বিমানবন্দর শহরের তুলনামূলক কাছে হলেও ফ্লাইট বাতিলের দিক থেকে পরিস্থিতি বেশি কঠিন। এর বাতিলের হার ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা গবেষণায় শীর্ষ তিন বিমানবন্দরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। একই সময়ে ২০২১ সালের তুলনায় ফ্লাইট দেরির হার বেড়েছে ৭৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। সামগ্রিক তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং পঞ্চম অবস্থানে ফিলাডেলফিয়া ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এরপর ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর। লাগার্ডিয়ায় ফ্লাইট বাতিলের হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশের কাছাকাছি। তবে সব বিমানবন্দরের পরিস্থিতি এতটা চাপের নয়। একই গবেষণায় সবচেয়ে কম ভোগান্তির বিমানবন্দর হিসেবে উঠে এসেছে ইউটাহর সল্ট লেক সিটি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এরপর রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং হাওয়াইয়ের ড্যানিয়েল কে. ইনোয়ে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এই তিন বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে ফ্লাইট বাতিলের হার ১ শতাংশের নিচে এবং শহরের কেন্দ্র থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পথও তুলনামূলক সহজ। ফলে ফ্লাইটের সময়সূচি ও যাতায়াত—দুই দিক থেকেই এগুলো তুলনামূলক কম চাপের অভিজ্ঞতা দিতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কয়েকটি বিমানবন্দরে গত পাঁচ বছরে ফ্লাইট দেরির পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়েছে। শার্লট ডগলাস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ২০২১ সালের তুলনায় দেরির হার বেড়েছে ৭৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। রোনাল্ড রিগ্যান ন্যাশনালে বেড়েছে ৭৩ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ। বিপরীতে হিউস্টন হবি বিমানবন্দরে একই সময়ে ফ্লাইট দেরির হার ২৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমেছে। গবেষণাটিতে শহরের কেন্দ্র থেকে বিমানবন্দরের দূরত্বও আলাদা করে দেখা হয়েছে। যেমন ওয়াশিংটন ডালেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৬ মাইল দূরে। অন্যদিকে বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট শহরের কেন্দ্র থেকে মাত্র ২ দশমিক ৭ মাইল দূরে। ওমাহা ও আলবুকার্ক বিমানবন্দরে শহরের কেন্দ্র থেকে গাড়িতে পৌঁছাতে প্রায় আট মিনিট সময় লাগে। তবে গবেষণার ফলাফলের অর্থ এই নয় যে যাত্রীদের এসব বিমানবন্দর এড়িয়ে চলতে হবে। বরং যেসব বিমানবন্দরে দেরি, বাতিল এবং দীর্ঘ যাতায়াতের ঝুঁকি বেশি, সেসব জায়গায় ভ্রমণের আগে হাতে অতিরিক্ত সময় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। বিমানবন্দরে পৌঁছানো, নিরাপত্তা তল্লাশি এবং সম্ভাব্য ফ্লাইট দেরি—সবকিছুর জন্য বাড়তি সময় রাখলে যাত্রাপথের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।
মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে নিয়ে নতুন করে তীব্র আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আক্রমণের ভাষার পাশাপাশি এবার ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে প্রার্থীর নাম নিয়েও তৈরি হয়েছে আলোচনা। আবদুল এল-সাইয়েদের বদলে তাকে ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ নামে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এরপর তাকে ‘চরমপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি। বুধবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ ডেমোক্র্যাটদের জন্য একজন ‘ভয়ংকর প্রার্থী’। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, এল-সাইয়েদ ‘জিহাদের সময়ের’ সঙ্গে যুক্ত এবং তাকে ‘চরমপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ হিসেবে আখ্যা দেন। তবে ট্রাম্পের পোস্টে ব্যবহৃত ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ নামে মিশিগানের এবারের সিনেট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী নেই। নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আবদুল এল-সাইয়েদ। ফলে ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে নামটি বদলে লিখেছেন, নাকি ভুল করে লিখেছেন—তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প তার পোস্টে এল-সাইয়েদের সঙ্গে অনলাইন স্ট্রিমার হাসান পিকারকে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি এল-সাইয়েদকে পিকারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে দুজনকেই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করেন। তবে এসব মন্তব্যের পক্ষে ওই পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি ট্রাম্প। একই পোস্টে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থনও ঘোষণা করেন। তিনি রজার্সকে অত্যন্ত ভালো প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে মিশিগানের ভোটারদের তার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ আলোচিত। আবদুল এল-সাইয়েদ আগস্টে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি জিতে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে এল-সাইয়েদ ও রজার্সের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন পোস্ট-শার স্কুল জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদ ৪৮ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। জরিপটির মার্জিন অব এরর ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট, অর্থাৎ ব্যবধানটি পরিসংখ্যানগতভাবে খুব বড় নয়। এল-সাইয়েদকে নিয়ে রিপাবলিকানদের আক্রমণ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে থেকেই তার রাজনৈতিক অবস্থান, বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান প্রচারে তাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে এল-সাইয়েদ তার প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও বাণিজ্যের মতো স্থানীয় ইস্যুকে সামনে রাখছেন। তার প্রচারণার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। রজার্সও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু নীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে ভিন্নমত দেখিয়েছেন। বিশেষ করে কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান শুল্ক বিরোধ শেষ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। মিশিগানের কানাডার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় এই ইস্যুটি তার প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টে রজার্সের প্রতি তার সমর্থন স্পষ্ট। আর আবদুল এল-সাইয়েদের নাম ‘মোহাম্মদ’ লিখে তাকে ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ বলার বিষয়টি মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক প্রচারের নতুন উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। মিশিগানের সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। ভোটের আগে দুই দলের প্রচারণা আরও তীব্র হওয়ার পাশাপাশি প্রার্থীদের ঘিরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণও বাড়তে পারে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন এক পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। লাওসে চীন-লাওস যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে চালু হওয়া একটি স্থাপনায় আটটি হালকা আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান ও দুই ডজনের বেশি সহায়ক সামরিক যান দেখা গেছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে এসব সরঞ্জামের উপস্থিতি ধরা পড়ার পর স্থাপনাটি ভবিষ্যতে শুধু প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবেই থাকবে, নাকি চীনের বৃহত্তর সামরিক কর্মকাণ্ডের অংশ হয়ে উঠবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রকাশ করা ভ্যান্টর স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েন থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে বান কিউন বিমানবন্দরের একটি নির্মাণাধীন রানওয়েতে আটটি কে-৮ হালকা আক্রমণাত্মক বিমান এবং ২০টির বেশি সহায়ক যান রয়েছে। রানওয়ের সম্প্রসারণের কাজও তখন চলছিল। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বান কিউন বিমানবন্দরে চীন-লাওস যৌথ সহায়তা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং চীন-লাওস বন্ধুত্ব বিমান একাডেমি ২৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। দুই দেশের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই কেন্দ্রের মূল উদ্দেশ্য লাওসের বিমানবাহিনীর পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বাড়ানো। চীনের দাবি, কেন্দ্রটির নির্মাণ ও ব্যবহার দুই দেশের পারস্পরিক সম্মান ও সমান পরামর্শের ভিত্তিতে হয়েছে এবং এটি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। তবে স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা সামরিক উপস্থিতি এবং রানওয়ের নির্মাণকাজকে ঘিরে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের বিশ্লেষণ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে স্থাপনাটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মতো হলেও ভবিষ্যতে এর সামরিক সক্ষমতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে বড় আকারের বিমান পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সেখানে ভবিষ্যতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ ও জ্বালানি সংরক্ষণাগার, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব ব্যবস্থা যুক্ত হলে স্থাপনাটি শুধু প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চীনের বৃহত্তর সামরিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বিদেশে বড় ধরনের সামরিক ঘাঁটির সংখ্যা খুবই সীমিত। আফ্রিকার জিবুতিতে চীনের একটি সামরিক সহায়তা ঘাঁটি রয়েছে। এ ছাড়া কম্বোডিয়ার রিয়াম বন্দরে চীনের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। সেই তুলনায় লাওসের বান কিউনে বিমান পরিচালনার সক্ষমতাসম্পন্ন একটি স্থাপনা তৈরি হলে এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের সামরিক উপস্থিতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে। বান কিউনকে বেছে নেওয়ার পেছনে ভৌগোলিক কারণও রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এলাকাটি চীনের সঙ্গে লাওসের সীমান্তের কাছাকাছি এবং চীন-লাওস রেলপথের অবকাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে চীন থেকে জনবল ও সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত সেখানে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে লাওসের অনেক এলাকার তুলনায় বান কিউনের ভূপ্রকৃতি তুলনামূলক সমতল, যা বিমানঘাঁটি ও উড্ডয়ন প্রশিক্ষণের জন্য সুবিধাজনক। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক র্যাচেল ভ্যানডেনব্রিঙ্ক মনে করেন, বান কিউনকে বেছে নেওয়া কোনো নির্দিষ্ট সামরিক প্রয়োজন পূরণের চেয়ে সুযোগ কাজে লাগানোর সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত হতে পারে। তাঁর মতে, চীনের জন্য মূল ভূখণ্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি সহজপ্রবেশ্য অবস্থান হিসেবে লাওসের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিলও রানওয়ের সম্প্রসারণ নিয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, বর্তমানে বিমানক্ষেত্রটি তুলনামূলক ছোট ও সাধারণ দেখালেও ভবিষ্যতে বড় বিমান পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হতে পারে। এর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বা ইলেকট্রনিক নজরদারির কাজে ব্যবহৃত বিমানও থাকতে পারে। তবে লাওসে থাকা কে-৮ বিমানগুলোর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষক কলিন কোহ দেশটির বিমানগুলোর কার্যক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। লাওসের হাতে বর্তমানে চারটি কে-৮ বিমান রয়েছে বলে লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্য উদ্ধৃত করেছে রয়টার্স। নতুন স্যাটেলাইট ছবিতে যে আটটি বিমান দেখা গেছে, সেগুলো চীনা তৈরি হংডু জেএল-৮ বা কে-৮ মডেলের বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। বিমানটি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি হালকা আক্রমণাত্মক কাজে ব্যবহার করা যায়। এই স্থাপনা নিয়ে সবচেয়ে বেশি নজর রাখছে লাওসের প্রতিবেশী দেশগুলো। বিশেষ করে ভিয়েতনাম দীর্ঘদিন ধরে ইন্দোচীন অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তার নিয়ে সতর্ক। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়েও ভিয়েতনাম ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ফলে লাওসে চীনের সামরিক অবকাঠামোর সম্প্রসারণ হ্যানয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বিষয় হয়ে উঠতে পারে। থাইল্যান্ডও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, চীনা ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া লাওসের সার্বভৌম অধিকার। তবে পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখা এবং পরিস্থিতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ব্যাংকক। বান কিউন বিমানবন্দরটির অতীত ইতিহাসও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ভিয়েতনাম যু দ্ধের সময় ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র গোপন সামরিক অভিযানে বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেছিল। সে সময় এটি ‘লিমা সাইট ৪৪’ নামে পরিচিত ছিল। এখন একই এলাকায় চীনের সামরিক প্রশিক্ষণ ও সহায়তা অবকাঠামো গড়ে ওঠায় এর কৌশলগত গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সু তজু-ইউনের মতে, দক্ষিণ চীন সাগর বা তাইওয়ানকে ঘিরে ভবিষ্যতে কোনো স ং ঘাত তৈরি হলে লাওসের এই ঘাঁটি চীনের জন্য আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হয়ে উঠতে পারে। তবে বর্তমানে স্থাপনাটি ঠিক কী ধরনের সামরিক কাজে ব্যবহার করা হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। চীন অবশ্য এ ধরনের আশঙ্কাকে স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব দিচ্ছে না। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কেন্দ্রটি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং এর লক্ষ্য চীন-লাওস সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো। একই সঙ্গে কেন্দ্রটির উদ্দেশ্য হিসেবে লাওসের বিমানবাহিনীর পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের কথা উল্লেখ করেছে। তবে স্যাটেলাইটে ধরা পড়া যুদ্ধবিমান, সহায়ক সামরিক যান এবং রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজের কারণে বান কিউনের এই স্থাপনা এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের নজরের কেন্দ্রে রয়েছে। ভবিষ্যতে সেখানে নতুন সামরিক অবকাঠামো যোগ হয় কি না, সেটিই চীনের এই নতুন বিদেশি সামরিক উপস্থিতির প্রকৃত পরিসর বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। দেশটির কিছু ‘ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী গোষ্ঠী’ নিজেদের একচেটিয়া প্রভাব ধরে রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি মাস্ক। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক বলেন, ভারতীয় জনগণের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার স্বার্থে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী স্টারলিংককে আটকে দিচ্ছে। তিনি লেখেন, কারা এর সঙ্গে জড়িত তা সহজেই অনুমান করা যায়। একই পোস্টে তিনি এই বাধাকে ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে ‘অপরাধ’ বলেও মন্তব্য করেন। মাস্কের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু অনুমোদন এখনো বাকি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পেলেও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যাচাই ও স্পেকট্রাম বরাদ্দসহ পরবর্তী ধাপের অনুমোদন শেষ হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছে স্টারলিংকের ভারতীয় কার্যক্রম। ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে বর্তমানে রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেলের মতো বড় কোম্পানির শক্ত অবস্থান রয়েছে। মাস্কের বক্তব্যে কারও নাম না থাকলেও তাঁর মন্তব্যকে দেশটির বড় টেলিযোগাযোগ ব্যবসায়ীদের দিকে ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো মাস্কের অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। মাস্কের অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার ভারতের সরকার এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য ভারতের নিয়ন্ত্রক কাঠামো সবার জন্য ন্যায্য ও বৈষম্যহীন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার জন্য লাইসেন্স পাওয়া সব প্রতিষ্ঠানকেই একই ধরনের নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, ভারতে বর্তমানে তিনটি বৈশ্বিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকেই জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। তিন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া চলছে এবং তারা বর্তমানে মোটামুটি একই নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে। তাই নিয়ন্ত্রক কাঠামো কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে লক্ষ্য করে তৈরি বা প্রয়োগ করা হচ্ছে—এমন দাবি ‘ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার। অন্যদিকে, স্টারলিংক কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারতীয় বাজারে প্রবেশের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার সম্প্রতি জানান, ভারতীয় বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে কোম্পানিটি বিনিয়োগ করেছে এবং সরকারি অনুমোদন পেলেই সেবা চালুর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশ নিয়ে নিরাপত্তা, স্পেকট্রাম এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও নেটওয়ার্ক কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা বিধি মেনে চলবে, তা নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ভারতের বিশাল ও বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ডে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটকে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্টারলিংকও দাবি করে আসছে, প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ফাইবার অবকাঠামো পৌঁছানো কঠিন এমন এলাকাগুলোতে তাদের সেবা ইন্টারনেট সংযোগ বাড়াতে পারে। তবে ভারতের বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশ শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এর সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতাও জড়িত। রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেল ইতোমধ্যে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। একই সময়ে তারাও স্যাটেলাইট যোগাযোগের বাজারে নিজেদের কার্যক্রম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে ইলন মাস্কের অভিযোগ এবং ভারতের সরকারের পাল্টা বক্তব্যকে ঘিরে দেশটির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে মাস্ক দ্রুত স্টারলিংক চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে ভারত সরকার বলছে, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করেই সব প্রতিষ্ঠানকে সেবা চালুর সুযোগ দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে শরৎ নামার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই শুরু হয় হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা কাশির মতো সমস্যা। কিন্তু এসব উপসর্গ দেখেই বোঝা যায় না, এটি মৌসুমি অ্যালার্জি নাকি সাধারণ ঠান্ডা। কারণ দুই ধরনের সমস্যার অনেক লক্ষণ একই রকম। আবার ফ্লুর সঙ্গেও কিছু উপসর্গের মিল থাকায় অনেকেই শুরুতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। শরতের আবহাওয়ায় তাপমাত্রার পরিবর্তনও এ ধরনের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। উষ্ণ আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা পরিবেশে যাওয়ার পাশাপাশি বাতাসে থাকা পরাগরেণু ও ছত্রাকের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দিতে পারে বা বেড়ে যেতে পারে। মৌসুমি অ্যালার্জি মূলত কোনো ভাইরাসজনিত অসুস্থতা নয়। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা পরাগরেণু, ছত্রাক বা পোষা প্রাণীর লোমের মতো তুলনামূলকভাবে ক্ষতিকর নয় এমন কোনো উপাদানকে হুমকি হিসেবে শনাক্ত করলে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তখন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা চোখ চুলকানোর মতো সমস্যা শুরু হয়। মৌসুমি অ্যালার্জির সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ থাকা, চোখ চুলকানো ও পানি পড়া, নাক বা গলায় চুলকানি, গলার পেছনে শ্লেষ্মা নামা এবং হালকা কাশি। বিশেষ করে চোখ ও নাকে চুলকানি থাকলে অ্যালার্জির সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। অন্যদিকে সাধারণ ঠান্ডা ভাইরাসের কারণে হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি কথা বলার সময়, কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় এবং শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারেন। কাছাকাছি অবস্থানে থাকা ব্যক্তির নাক, মুখ বা চোখে ভাইরাস পৌঁছালে সংক্রমণ হতে পারে। সাধারণ ঠান্ডার উপসর্গের মধ্যে রয়েছে নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, হাঁচি, গলা ব্যথা ও কাশি। এর সঙ্গে হালকা ক্লান্তি এবং শরীরব্যথাও থাকতে পারে। ঠান্ডার উপসর্গ সাধারণত কয়েক দিন স্থায়ী হয় এবং সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে কমে আসে। অ্যালার্জি ও ঠান্ডার মধ্যে আরেকটি পার্থক্য হলো উপসর্গের ধরন। অ্যালার্জিতে চোখ চুলকানো বা পানি পড়ার মতো সমস্যা বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে গলা ব্যথা, ক্লান্তি ও শরীরব্যথা থাকলে ভাইরাসজনিত ঠান্ডার সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। ফ্লুর ক্ষেত্রে উপসর্গ সাধারণ ঠান্ডার তুলনায় অনেক বেশি তীব্র হতে পারে। হঠাৎ করে প্রচণ্ড দুর্বল লাগা, শরীরব্যথা, জ্বর এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে শুধু অ্যালার্জি বা সাধারণ ঠান্ডা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মৌসুমি অ্যালার্জির ক্ষেত্রে উপসর্গ কমানোর একটি কার্যকর উপায় হলো অ্যালার্জেনের সংস্পর্শ কমানো। বাইরে থাকলে পরাগরেণু ও অন্যান্য অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসার সুযোগ বাড়ে। উপসর্গ বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিহিস্টামিন বা নাকের স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণ ঠান্ডার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রচুর তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। কাশির ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ বা মধু ব্যবহার করা হয়। জ্বর বা শরীরব্যথায় অ্যাসিটামিনোফেন কিংবা আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কিছু নাক খোলার স্প্রে টানা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা উচিত নয়। অক্সিমেটাজোলিনজাতীয় স্প্রে সাধারণত তিন দিনের বেশি ব্যবহার করলে উল্টো নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে। জ্বরের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ঠান্ডার ক্ষেত্রে জ্বর খুব সাধারণ লক্ষণ নয়। তাই জ্বরের সঙ্গে তীব্র শরীরব্যথা বা দুর্বলতা থাকলে ফ্লুর মতো অন্য সংক্রমণের সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ ঠান্ডা বা ফ্লু-সদৃশ উপসর্গ সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই কমে যায়। তবে উপসর্গ ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে, ক্রমেই খারাপ হলে কিংবা সাধারণ চিকিৎসায় উপকার না মিললে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। তাই শরতে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা কাশি হলেই সেটিকে ঠান্ডা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চোখ-নাক চুলকানো ও বারবার হাঁচির মতো উপসর্গ অ্যালার্জির দিকে ইঙ্গিত করতে পারে, আর গলা ব্যথা, ক্লান্তি, শরীরব্যথা বা জ্বর থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। তবে শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিত রোগ নির্ণয় করা যায় না। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাকের বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির দিক থেকে এক ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসের হিসাবে মার্কিন বাজারে একক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারকের অবস্থান হারিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন পর দ্বিতীয় স্থানটি আবার দখলে নিয়েছে চীন। শীর্ষ অবস্থান অবশ্য ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) ৭ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। অটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৯ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির বদলে এখন নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৬৩ কোটি ৭ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। ফলে বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ২৪ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি করে দ্বিতীয় অবস্থান নিশ্চিত করেছে দেশটি। তবে চীনের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি খুব একটা ইতিবাচক নয়। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রভাবের মধ্যে দেশটির পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমেছে। এর আগে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে চিত্রটি ভিন্ন ছিল। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করে চীনের চেয়ে এগিয়ে ছিল। কিন্তু আগস্টের রপ্তানি যোগ হওয়ার পর চীন বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যায় এবং দ্বিতীয় স্থান দখল করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। দেশের মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসে এই বাজার থেকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমে যাওয়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক বছরেও মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২২ সালে রপ্তানি ৩৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৯৭৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। কিন্তু পরের বছর বিশ্বজুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাবে মার্কিন ভোক্তা চাহিদায় চাপ তৈরি হলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিও কমে যায়। ২০২৩ সালে তা প্রায় ২৫ শতাংশ কমে ৭২৯ কোটি ডলারে নেমে আসে। এরপর ২০২৪ সালে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়ে ৭৩৪ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে আবার প্রায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়ে রপ্তানি আয় উন্নীত হয় প্রায় ৮২০ কোটি ডলারে। তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসের পরিসংখ্যান বলছে, বছরের শুরুতে সেই ইতিবাচক ধারাটি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই নয়, সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির বাজারেও চলতি বছরে চাপ দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে মার্কিন ব্যবসায়ীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আমদানি কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এই সামগ্রিক বাজার সংকোচনের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী হিসেবে ভিয়েতনাম নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ভিয়েতনামের রপ্তানিও শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে চলতি বছর শুধু বাংলাদেশের রপ্তানিই কমেনি, শীর্ষ সরবরাহকারী দেশগুলোর অনেকের ক্ষেত্রেই রপ্তানিতে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্র দেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার। ফলে আগামী মাসগুলোতে মার্কিন বাজারে রপ্তানি পরিস্থিতি বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে জেডি ভ্যান্সের উত্থানের গল্প অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো। ওহাইওর মিডলটাউনে আর্থিক সংকট ও পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যে বেড়ে ওঠা এই রাজনীতিকের শৈশব কেটেছে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। তাঁর মা মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করেছেন। আর বাবার অনুপস্থিতিতে জীবনের বড় একটি সময় দাদা-দাদির সান্নিধ্যেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। শৈশবের সেই অভিজ্ঞতাগুলোই পরে তাঁর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ‘হিলবিলি এলিজি’র অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। জেডি ভ্যান্সের পুরো নাম জেমস ডেভিড ভ্যান্স। ১৯৮৪ সালের ২ আগস্ট ওহাইওর মিডলটাউনে তাঁর জন্ম। একসময় শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানের জন্য পরিচিত ছিল শহরটি। তবে সময়ের সঙ্গে সেখানে শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমতে থাকে। এর প্রভাব পড়ে ভ্যান্সের পরিবারেও। মায়ের আসক্তি ও পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যে তাঁর জীবনে সবচেয়ে বড় স্থিরতার জায়গা হয়ে ওঠেন দাদা-দাদি। বিশেষ করে তাঁর দাদি, যাকে ভ্যান্স ‘মামাও’ নামে উল্লেখ করেছেন, তাঁর বেড়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। উচ্চবিদ্যালয় শেষ করে ভ্যান্স সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে যোগ দেন। প্রায় চার বছর সামরিক বাহিনীতে কাজ করেন তিনি এবং ইরাকেও দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক জীবন শেষ করার পর উচ্চশিক্ষায় মন দেন ভ্যান্স। ভর্তি হন ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে দর্শন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইয়েল ল স্কুল। ইয়েলে পড়ার সময় ভ্যান্সের জীবনে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হয়। সেখানে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় উষা ভ্যান্সের। ২০১৩ সালে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। পরে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতেও কাজ করেন। একই সময়ে নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা এবং আমেরিকার শ্রমজীবী মানুষের জীবন নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। ২০১৬ সালে প্রকাশিত তাঁর স্মৃতিকথা ‘হিলবিলি এলিজি’ তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি এনে দেয়। বইটিতে ওহাইও ও অ্যাপালাচিয়ান অঞ্চলের শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবন, দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট এবং সামাজিক পরিবর্তনের নানা দিক তুলে ধরেন ভ্যান্স। বইটি দ্রুত বেস্টসেলার হয়ে ওঠে। পরে ২০২০ সালে এটি চলচ্চিত্রেও রূপ নেয়। লেখক ও বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর ধীরে ধীরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন ভ্যান্স। ২০২২ সালে ওহাইও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হন তিনি। এর মাত্র দুই বছর পর, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে রিপাবলিকান দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বেছে নেন। সে সময় ভ্যান্সের বয়স ছিল ৩৯ বছর। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটি জয়ী হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ৪০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন জেডি ভ্যান্স। এর মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য ও পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যে বেড়ে ওঠা এক তরুণের জীবনে যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। ভ্যান্সের জীবনকে অনেকেই ‘আমেরিকান ড্রিম’-এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। কারণ তাঁর জীবনের পথচলায় রয়েছে কঠিন শৈশব, মেরিন কোরে কাজ, উচ্চশিক্ষা, ইয়েল ল স্কুল থেকে ডিগ্রি, লেখালেখি, ব্যবসা এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান। তবে তাঁর গল্পকে শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না। দাদা-দাদির সহায়তা, শিক্ষা এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পাওয়া সুযোগও তাঁর এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আজ জেডি ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ। দারিদ্র্য ও পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া জীবন থেকে মেরিন কোর, ইয়েল ল স্কুল, লেখালেখি, ব্যবসা ও সিনেট হয়ে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদে পৌঁছানো তাঁর যাত্রা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী।
মাত্র ২৫ বছর বয়সে বিশ্বের প্রযুক্তি খাতে আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন উদ্যোক্তা আমান সাঙ্গার। তাঁর সহপ্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোডিং প্ল্যাটফর্ম কারসরের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানিস্ফিয়ার ৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের চুক্তিতে অধিগ্রহণ করেছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স। গত ১৪ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া নথিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্পেসএক্স। মাত্র চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়াশোনার সময় তিন বন্ধুকে নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেছিলেন আমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মাইকেল ট্রুয়েল, সুয়ালেহ আসিফ ও আরভিড লুনেমার্ক। ২০২২ সালে তাঁদের প্রতিষ্ঠিত অ্যানিস্ফিয়ার পরবর্তী সময়ে কারসর নামের এআই কোডিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। অল্প সময়ের মধ্যে সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে প্রযুক্তিটি। কারসর মূলত এমন একটি সফটওয়্যার, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে প্রোগ্রামিং কোড লেখা, সংশোধন, ব্যাখ্যা করা এবং ভুল শনাক্ত করা যায়। একজন ডেভেলপার সাধারণ ভাষায় নির্দেশনা দিলেই সফটওয়্যারটি সেই অনুযায়ী কোড তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। প্রচলিত কোড এডিটরের সঙ্গে এআই প্রযুক্তিকে সরাসরি যুক্ত করার কারণেই কারসর দ্রুত প্রযুক্তি খাতে পরিচিতি পায়। আমান সাঙ্গারের জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিউইয়র্কে। তাঁর পরিবার ভারতীয় বংশোদ্ভূত। বাবা অরবিন্দ সাঙ্গার ভারতের আইআইটি বোম্বের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিনিয়োগ খাতের একজন পেশাজীবী। মা শিল্পা সাঙ্গার একজন অর্থোডন্টিস্ট ও উদ্যোক্তা। মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকে প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় আমানের। পরে তিনি এমআইটিতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই প্রযুক্তি নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেন আমান। এর আগে গুগল ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটসে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। নিজস্ব এআইভিত্তিক উদ্যোগ নিয়েও পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সহপাঠীর সঙ্গে মিলে অ্যানিস্ফিয়ার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির শুরুটা অবশ্য বর্তমান কারসরের মতো ছিল না। প্রতিষ্ঠাতারা প্রথম দিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার তৈরির সম্ভাবনা পরীক্ষা করছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের পুরো প্রক্রিয়াতেই এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই ধারণা থেকেই কারসরের উন্নয়ন শুরু হয়। কারসর জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ এর ব্যবহারপদ্ধতি। সাধারণ কোডিং সফটওয়্যারে ডেভেলপারকে বিভিন্ন কাজ নিজে করতে হয়। কিন্তু কারসরে এআইকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে একাধিক ফাইলের কোড পরিবর্তন, নতুন ফিচার তৈরি কিংবা বিদ্যমান কোডের সমস্যা সমাধানে সহায়তা নেওয়া যায়। ফলে সফটওয়্যার তৈরির সময় ও শ্রম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিটি দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যানিস্ফিয়ারের ব্যবসায়িক মূল্যও বাড়তে থাকে। ২০২৫ সালের জুনে বিনিয়োগ সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৯৯০ কোটি ডলার। পরবর্তী সময়ে এআই কোডিং প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিটির মূল্যায়ন আরও বৃদ্ধি পায়। স্পেসএক্সের সঙ্গে কারসরের সম্পর্ক শুরু হয় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। সে সময় দুই প্রতিষ্ঠান এআই মডেলের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতার ঘোষণা দেয়। চুক্তিতে নির্দিষ্ট শর্তে অ্যানিস্ফিয়ার অধিগ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছিল। পরে ১৬ জুন আনুষ্ঠানিক অধিগ্রহণ চুক্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নথি অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট অধিগ্রহণ কার্যকর হওয়ার পর অ্যানিস্ফিয়ার স্পেসএক্সের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। চুক্তির আওতায় অ্যানিস্ফিয়ারের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য স্পেসএক্সের প্রায় ৩৮ কোটি ৯৩ লাখ সাধারণ শেয়ার বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়। লেনদেনে অ্যানিস্ফিয়ারের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ হাজার কোটি ডলার। অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর কারসরের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, স্পেসএক্সের বিশাল কম্পিউটিং অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় আরও উন্নত এআই মডেল তৈরি এবং গ্রাহকদের তুলনামূলক কম খরচে সেবা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স মূলত মহাকাশ প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার জন্য পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কম্পিউটিং অবকাঠামোতেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। কারসর অধিগ্রহণ সেই সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অ্যানিস্ফিয়ারের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আমান বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসায়িক কার্যক্রম, পণ্যের প্রসার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনাগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে ৬ হাজার কোটি ডলারের অধিগ্রহণমূল্যকে আমানের ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এটি পুরো প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন। প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যক্তিগত সম্পদ নির্ভর করে তাঁদের মালিকানাধীন শেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থার ওপর। আমানের এই উদ্যোক্তা যাত্রা প্রযুক্তি খাতে তরুণ প্রতিষ্ঠাতাদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় চার বন্ধুর উদ্যোগে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এআই সফটওয়্যার কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। স্পেসএক্সের অধীনে যাওয়ার পর কারসর কত দ্রুত নতুন প্রযুক্তি তৈরি করতে পারবে এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের বাজারে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এর মধ্যেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ২৫ বছর বয়সী আমান সাঙ্গার আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের আলোচনায় নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
চার্জার কিংবা নির্দিষ্ট চার্জিং প্যাডে ডিভাইস বসানোর ঝামেলা কমাতে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন দুই বাংলাদেশি গবেষক। ড. সাইদুল আলম চৌধুরী ও ইউশা আরাফ নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রিজোলিংক। তাঁদের লক্ষ্য তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে বাস্তব জীবনে নিয়ে আসা। বিশেষ করে এমন ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে একটি নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস তার ছাড়াই চার্জ করা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে স্মার্টপাওয়ারবক্স নামের একটি প্রযুক্তি। প্রচলিত ওয়্যারলেস চার্জারে সাধারণত ফোন বা অন্য ডিভাইস নির্দিষ্ট প্যাডের ওপর সঠিকভাবে বসাতে হয়। কিন্তু স্মার্টপাওয়ারবক্স এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে একটি ছোট ত্রিমাত্রিক পরিসরের ভেতরে ডিভাইসের অবস্থান পরিবর্তন হলেও চার্জিং কার্যক্রম চালানো যায়। ফলে ভবিষ্যতে একটি ড্রয়ার বা নির্দিষ্ট চার্জিং জোনের মধ্যে ফোন, স্মার্টওয়াচ কিংবা ইয়ারবাড রাখলেই সেগুলো চার্জ হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্মার্টপাওয়ারবক্স প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত নকশা ও প্রোটোটাইপ উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গবেষক ড. সাইদুল আলম চৌধুরী এবং অধ্যাপক আইগুও প্যাট্রিক হু। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেটিভ ওয়্যারলেস পাওয়ার রিসার্চ ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত। স্মার্টপাওয়ারবক্স প্রযুক্তিতে আসবাবের ভেতরে বসানো পাতলা ও সমতল কয়েলের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। এসব কয়েল নিয়ন্ত্রিত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করে নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে থাকা উপযুক্ত ডিভাইসে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে উন্নত পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ব্যবহার করে কোন ডিভাইসের চার্জ প্রয়োজন, কতটুকু বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে এবং কীভাবে নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়, তা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষকদের লক্ষ্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যা প্রয়োজন ছাড়া সারাক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে না। বরং চার্জিংয়ের উপযোগী ডিভাইস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় অংশ সক্রিয় করবে। এতে বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং নিরাপদে চার্জিং কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণা ও প্রোটোটাইপ উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে এসেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রকল্পটির গবেষণা এগিয়ে নিতে ১ লাখ ১৪ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে। অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ারউইক অ্যান্ড জুডি স্মিথ ইঞ্জিনিয়ারিং এনডাওমেন্ট ফান্ড থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। অনুদানটি প্রযুক্তির প্রোটোটাইপ উন্নয়নে সহায়তা করবে। এই গবেষণার অন্যতম উদ্যোক্তা ড. সাইদুল আলম চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। বর্তমানে অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়্যারলেস পাওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রে রয়েছে পাওয়ার ইলেকট্রনিকস, তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং চার্জিং ব্যবস্থার দক্ষতা ও নিরাপত্তা। রিজোলিংকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর দুটি মার্কিন পেটেন্ট রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনায়ও তাঁর কাজ স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে রিজোলিংকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইউশা আরাফ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগিন্স ইনস্টিটিউটে ডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত। রিজোলিংকে তিনি কৌশলগত কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক উন্নয়নের দিকটি দেখছেন। দুই গবেষকের প্রতিষ্ঠিত রিজোলিংক শুধু মোবাইল ফোন বা ছোট ইলেকট্রনিক পণ্যের চার্জিং প্রযুক্তি তৈরি করতে চায় না। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা এবং বায়োমেডিকেল প্রযুক্তির জন্য তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহের সমাধান তৈরি করা। তাদের কার্যক্রমে রয়েছে প্রযুক্তির নকশা, গবেষণা, পরীক্ষামূলক উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই। বিশেষ করে স্মার্ট হোম, অফিস এবং হাসপাতালের মতো পরিবেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকেরা। একটি ড্রয়ার কিংবা আসবাবের নির্দিষ্ট অংশকে চার্জিং জোন হিসেবে ব্যবহার করা গেলে একাধিক ডিভাইস আলাদা আলাদা তার ছাড়াই চার্জ করা সম্ভব হতে পারে। হাসপাতালের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সেন্সর ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির জন্য কম তারনির্ভর চার্জিং ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গবেষণাটি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছেন অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। স্মার্টপাওয়ারবক্সের বর্তমান ধারণা পুরো বাড়ি বা বড় একটি কক্ষের যেকোনো স্থান থেকে ফোন চার্জ করার প্রযুক্তি নয়। এটি মূলত ছোট একটি নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক পরিসরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা। ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে এর তুলনা করা হলেও ইন্টারনেট সিগন্যাল এবং বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহের প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া এক নয়। প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক সফলতার জন্য চার্জিংয়ের দক্ষতা, ডিভাইসের সামঞ্জস্য, উৎপাদন খরচ এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাগারে কার্যকর একটি প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে এসব বিষয়ে আরও উন্নয়ন ও পরীক্ষা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে দুই উদ্যোক্তার। বিশেষ করে ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি ডিভাইস, স্মার্ট হোম এবং স্মার্ট হাসপাতালের জন্য সাশ্রয়ী তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা তাঁরা দেখছেন। বাংলাদেশে প্রকৌশল ও জীববিজ্ঞানের মতো ভিন্ন দুটি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়া এই দুই গবেষক এখন নিউজিল্যান্ডে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছেন। গবেষণাকে বাস্তব পণ্য ও শিল্পক্ষেত্রের সমাধানে রূপ দেওয়াই তাঁদের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। স্মার্টপাওয়ারবক্সের মতো প্রযুক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে ভবিষ্যতের চার্জিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি গবেষণা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দুই বাংলাদেশি গবেষক ড. সাইদুল আলম চৌধুরী ও ইউশা আরাফ। সূত্র: পাবলিকিয়ান
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁদের রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে কাঁদানে গ্যাসের শিকার হয়েছেন সাঁ দেনি শহরের মেয়র বালি বাগায়োকো। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার থামার আহ্বান জানাতে দেখা যায় তাঁকে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এই কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা, শিক্ষকসংকট এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবিতে চলমান আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বাগায়োকো। বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে তিনি দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়ান। এ সময় পুলিশের উদ্দেশে তাঁকে বারবার থামতে বলতে শোনা যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে বাগায়োকো নিজেও আক্রান্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে চোখের অস্বস্তিতে ভুগতে এবং অন্যদের সহায়তায় চোখে স্যালাইন নিতে দেখা যায়। পরে তাঁকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাগায়োকো জানান, পুলিশ যখন শিক্ষার্থীদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর দাবি, উপস্থিত অনেক শিক্ষার্থী পুলিশের প্রতি কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করেনি। তা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁদের দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেয়র বলেন, রাস্তায় আন্দোলনরত স্কুলশিক্ষার্থীরা তাঁর নিজের সন্তানও হতে পারত। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়ানো নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি। প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের সাঁ দেনি শহরটি তুলনামূলকভাবে নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাসের এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা ও জনবলের অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। বাগায়োকোর মতে, বিত্তশালী এলাকার তুলনায় শ্রমজীবী মানুষের বসবাসের এলাকাগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ফ্রান্সে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। আন্দোলন চলাকালে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। কোথাও গাড়ি ও আবর্জনার পাত্রে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশের অভিযানে বহু শিক্ষার্থী আটক হয়েছে। অন্যদিকে সহিংসতায় পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ফরাসি সরকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ ধরনের বিস্ফোরক গ্রেনেড ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, একটি সংঘর্ষে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত হারানোর ঘটনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশের বলপ্রয়োগসংক্রান্ত ১৮টি ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু হয়েছে। এদিকে বিক্ষোভে বাগায়োকোর ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি ফ্রান্সের বামপন্থী রাজনৈতিক দল লা ফ্রঁস আঁসুমিজের সদস্য। চলতি বছরের মার্চে সাঁ দেনির মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া বাগায়োকোর বাবা-মা পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির নাগরিক ছিলেন। নিজ শহরের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি আলোচনায় রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের একাংশের আপত্তিও রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্যারিসের পুলিশ প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরোধসংক্রান্ত আন্দোলনে কথিত আইনভঙ্গের উসকানির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তবে বাগায়োকো সহিংসতাকে আন্দোলনের পদ্ধতি হিসেবে সমর্থন করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মেয়রের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের দাবি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। শুধু পুলিশ মোতায়েন করে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট দূর করা সম্ভব নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উসকানি এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকেও শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু অক্টোবরের শেষ নাগাদ বাস্তবায়নযোগ্য কিছু প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি অব্যাহত রেখেছেন। এর মধ্যে বাগায়োকোর ঘটনাটি ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে আন্দোলনকারীরা শিক্ষার পরিবেশ ও সুযোগের সমতা দাবি করছেন, অন্যদিকে সরকারকে জননিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
মিসর, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে মোট প্রায় ২ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা সহায়তা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশ তিনটির জন্য আলাদা তিনটি সম্ভাব্য বিদেশি সামরিক বিক্রির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে। প্রস্তাবিত প্যাকেজে মিসরের জন্য জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র, কুয়েতের জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং আমিরাতের জন্য নির্ভুল নিশানার অস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে। তিনটি চুক্তির মধ্যে সবচেয়ে বড়টি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে। দেশটি সর্বোচ্চ ১০ হাজার অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম-২ বা এপিকেডব্লিউএস-২-এর নির্দেশনা ব্যবস্থা কিনতে পারবে। এর সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ১ দশমিক ০৪১ বিলিয়ন ডলার। এসব নির্দেশনা ব্যবস্থা আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে স্থলে ব্যবহারের উপযোগী করে চাওয়া হয়েছে। এপিকেডব্লিউএস-২ মূলত সাধারণ রকেটকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপান্তরের একটি নির্দেশনা ব্যবস্থা। এতে লেজার-নির্দেশনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। প্রস্তাবিত প্যাকেজে নির্দেশনা ব্যবস্থার পাশাপাশি ওয়ারহেড, রকেট মোটর, ফিউজ, প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম এবং কারিগরি ও সরবরাহ সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম খরচে ড্রোনের মতো লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলায় এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। মিসরের জন্য প্রস্তাবিত অস্ত্র প্যাকেজের মূল্য ৮৩২ মিলিয়ন ডলার। এর আওতায় কায়রো সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০টি এফজিএম-১৪৮এফ জ্যাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সর্বোচ্চ ২০০টি জ্যাভেলিন লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিট কিনতে পারবে। এর মধ্যে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। প্যাকেজে প্রশিক্ষণ, সিমুলেশন সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ, কারিগরি সহায়তা ও অন্যান্য সহায়ক ব্যবস্থাও রয়েছে। জ্যাভেলিন একটি বহনযোগ্য অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা সাঁজোয়া যান ও ট্যাংকের মতো লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য তৈরি। মিসরের জন্য এই প্রস্তাবিত বিক্রিটি দেশটির সামরিক বাহিনীর জন্য জ্যাভেলিন ব্যবস্থার প্রথম সম্ভাব্য অধিগ্রহণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমোদন মানেই চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে গেছে এমন নয়। আলোচনার পর অস্ত্রের চূড়ান্ত সংখ্যা, মূল্য ও সরবরাহের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। কুয়েতের জন্য অনুমোদিত প্যাকেজটির ধরন কিছুটা ভিন্ন। দেশটি নতুন করে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র না কিনে বিদ্যমান প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মেরামত ও পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করার সেবা এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পাবে। এ প্যাকেজের আনুমানিক মূল্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পরিবহন, মেরামতের যন্ত্রাংশ, সহায়ক সরঞ্জাম, পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের সরঞ্জাম, কারিগরি তথ্য, প্রশিক্ষণ এবং মার্কিন সরকারের ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশল ও কারিগরি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কুয়েতের এই সহায়তা দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে ব্যবহার করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে কুয়েত দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে এবং দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষায় প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র মেরামত ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তাই এই প্যাকেজের মূল বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনটি সম্ভাব্য বিক্রিই দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এসব অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা সরবরাহের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন হবে না বলেও মার্কিন কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন রয়েছে। তবে এই বিক্রিগুলো চূড়ান্ত করতে কংগ্রেসের পরবর্তী প্রক্রিয়া এবং ক্রেতা দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘোষণার সময়টিও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। আঞ্চলিক সংঘাত ও ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকির মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। বিশেষ করে কুয়েতের প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা সচল রাখা এবং আমিরাতের জন্য তুলনামূলক কম ব্যয়ের নির্ভুল অস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহের উদ্যোগ সেই বৃহত্তর নিরাপত্তা বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মিসর, কুয়েত ও আমিরাতের জন্য অনুমোদিত তিনটি প্যাকেজের সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ দশমিক ২৭৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে আমিরাতের প্যাকেজ ১ দশমিক ০৪১ বিলিয়ন, মিসরের ৮৩২ মিলিয়ন এবং কুয়েতের ৪০০ মিলিয়ন ডলার। তবে এগুলো সম্ভাব্য বিদেশি সামরিক বিক্রির অনুমোদন হওয়ায় চূড়ান্ত চুক্তির পরিমাণ ও সরঞ্জামের সংখ্যা কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, আনাদোলু এজেন্সি ও ডিফেন্স নিউজ।
নিউইয়র্কে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি ও শ্রমিক লীগ নেতা আজিজুল হক খোকনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার নিখোঁজ হওয়ার দিনই খোকনের মৃত্যু হয়। সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত শনিবার থেকে খোকনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা। খোকনকে নিউইয়র্ক সিটির একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান তিনি। সিদ্দিকুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিচয় ও স্বজনদের সন্ধান নিশ্চিত করতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খোকনের মরদেহ ব্রুকলিনের উইনথ্রপ স্ট্রিটে চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ে পাঠায়। তাঁর মরদেহ সেখানে রয়েছে। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। খোকন নিউইয়র্কের খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্টের পাশের অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন। কিউ গার্ডেনসের বাসায় একা থাকতেন তিনি। তাঁর গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের মাগুরায়। প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন খোকন। তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে। শ্রমিক লীগের রাজনীতির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প তাকে নাম ধরে বা কোনো আদরের নামে না ডেকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি। মেলানিয়ার সঙ্গে ২১ বছরের দাম্পত্যের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প জানান, তার স্ত্রী কর্মীদের মতো করেই তাকে ‘স্যার’ বলে ডাকেন। প্যাক্সটনের পক্ষে প্রচারে গিয়ে ট্রাম্প প্রথমে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তিনি তালারিকোকে নিরামিষভোজী বলে দাবি করেন, যদিও তালারিকো এ দাবি বারবার অস্বীকার করেছেন। নিরামিষভোজী বোঝাতে ইংরেজি ‘ভেগান’ শব্দটির উচ্চারণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, একবার মেলানিয়া তাকে শব্দটির সঠিক উচ্চারণ শিখিয়েছিলেন এবং সে সময় তাকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। ট্রাম্পের বর্ণনা অনুযায়ী, মেলানিয়া তাকে বলেছিলেন, ‘স্যার, আপনি আমাকে একটি উপকার করুন, এটা ভে-গান নয়, ভি-গান।’ এরপর ট্রাম্প উপস্থিত সমর্থকদের সামনে বলেন, এবার তিনি শব্দটির সঠিক উচ্চারণ করতে পেরেছেন। মেলানিয়া তাকে সাধারণত কীভাবে সম্বোধন করেন, সেই প্রসঙ্গটি সেখান থেকেই সমাবেশের বক্তব্যে উঠে আসে। এরপর ট্রাম্প আবার তালারিকোর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বক্তব্যে ফিরে যান। তিনি দাবি করেন, তালারিকো এখন রাজনৈতিক কারণে মাংস খাওয়ার কথা বলছেন। এমনকি মাংস খাওয়ার কারণে তালারিকো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প আরও বলেন, রাজনৈতিক কারণে তালারিকোকে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে যেতে এবং মাংস খেতে বাধ্য হতে হয়েছে। তবে তালারিকো নিজে নিরামিষভোজী হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের এই প্রচারণার সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে টেক্সাস হিউম্যান লেজিসলেশন নেটওয়ার্কের কাছে দেওয়া তার একটি বক্তব্যকে। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় মাংসের ব্যবহার কমানোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তবে ওই বক্তব্যে তালারিকো নিজে মাংস খান না বা নিরামিষভোজী, এমন দাবি করেননি। তালারিকো এর আগে নিজের খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গে বলেছেন, তিনি কেন প্যাক্সটনের প্রথম অভিযোগপত্রেরও আগে থেকেই বারবিকিউ খেয়ে আসছেন। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ছড়ানো নিরামিষভোজী হওয়ার দাবিকে খণ্ডন করার চেষ্টা করেছেন। ফলে মাংস খাওয়া নিয়ে দুই পক্ষের রাজনৈতিক প্রচারণা এখন টেক্সাসের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। এদিকে, টেক্সাসের সিনেট নির্বাচন ঘিরে ট্রাম্পের সক্রিয়তা বাড়ছে। সান অ্যান্টোনিওর এই সমাবেশে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, গত ছয় সপ্তাহে এটি টেক্সাসে ট্রাম্পের তৃতীয় সফর এবং রাজ্যটির সিনেট আসন ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের প্রচেষ্টায় তিনি সরাসরি যুক্ত হচ্ছেন। প্যাক্সটনের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো টেক্সাসের অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে তিনি প্যাক্সটনের চেয়ে এগিয়ে আছেন। রিয়েলক্লিয়ারপলিটিক্সের হিসাবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন জরিপের গড় হিসেবে তালারিকোর সমর্থন ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ, আর প্যাক্সটনের ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের জরিপে ব্যবধান ছিল ৫১ শতাংশ বনাম ৪৫ শতাংশ। ফক্স নিউজের একটি জরিপেও তালারিকো ৫১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে প্যাক্সটনের ৪৯ শতাংশের চেয়ে সামান্য এগিয়ে ছিলেন। তবে ওই জরিপের ব্যবধান ছিল তিন শতাংশের ত্রুটিসীমার মধ্যে। অর্থাৎ এসব জরিপ এখনো নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিত করে না, বরং টেক্সাসের ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে এবার বেশ ঘনিষ্ঠ, তা ইঙ্গিত করছে। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৮ সালে লয়েড বেন্টসেনের পর কোনো ডেমোক্র্যাট টেক্সাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে জয় পাননি। ফলে তালারিকো জয়ী হলে সেটি রাজ্যটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রবণতার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে ভোটের প্রায় এক মাস আগে জরিপের ব্যবধানকে চূড়ান্ত ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ট্রাম্পের এবারের টেক্সাস সফরের মূল লক্ষ্য ছিল প্যাক্সটনের প্রচারণায় গতি আনা এবং রিপাবলিকান সমর্থকদের সক্রিয় করা। কিন্তু সমাবেশে তালারিকোর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে মন্তব্যের পাশাপাশি মেলানিয়ার মুখে ‘স্যার’ সম্বোধনের গল্পও আলোচনায় উঠে আসে। প্রেসিডেন্টের নিজের বক্তব্যে উঠে আসা এই ব্যক্তিগত প্রসঙ্গটি রাজনৈতিক সমাবেশের বক্তব্যের একটি অপ্রত্যাশিত অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স ও রিয়েলক্লিয়ারপলিটিক্স।
ফেনীতে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি বলেছেন, পূজামণ্ডপে মদ্যপ অবস্থায় নাচানাচি, মাতলামি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে গিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে দুর্গাপূজা উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন পুলিশ সুপার। সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম সভাপতিত্ব করেন। পুলিশ সুপারের বক্তব্যের অংশ পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তিনি জানান, পূজার সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ফেনী সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মদ ও হুইস্কির প্রাদুর্ভাব রয়েছে। পূজা চলাকালে কেউ মদ্যপান করে নাচানাচি বা মাতলামি করে পরিবেশ নষ্ট করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে আসার পাশাপাশি পুলিশের মেডিকেল টিমের মাধ্যমে পরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। পুলিশ সুপার বলেন, পূজামণ্ডপে দু-একজনের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ পুরো পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও একই ধরনের আচরণে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাই শুরু থেকেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর থাকবে। তিনি আরও জানান, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় বিবেচনা না করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিষয়ে পুলিশ সুপার জানান, অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও শহরকেন্দ্রিক পূজামণ্ডপগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হবে। প্রতিমা তৈরির সময় থেকেও সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে সতর্কতা বজায় রাখার কথা বলেন তিনি। নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপনের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আরও পুলিশ সদস্য চাওয়া হয়েছে বলেও সভায় জানান তিনি। সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। একই সঙ্গে গুজব বা অতিরঞ্জিত তথ্য যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকদেরও কাজে লাগানো হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তুতি সভায় ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, ৪ বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমানসহ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারাও সভায় অংশ নেন এবং নিরাপদ পরিবেশে উৎসব আয়োজনের বিষয়ে মতামত দেন। এবার ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলায় মোট ১৫৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা তিনটি বেড়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ৬৫টি, ফুলগাজীতে ৩৪টি, সোনাগাজীতে ২৩টি, দাগনভূঞায় ১৯টি, পরশুরামে ৭টি এবং ছাগলনাইয়ায় পাঁচটি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে মণ্ডপে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, গুজব প্রতিরোধ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সূত্র: আজকের পত্রিকা, প্রথম আলো ও ফেনী জেলা প্রশাসনের দুর্গাপূজা প্রস্তুতি সভার তথ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের একাংশকে এককালীন ৯০ ডলারের প্রিমিয়াম রিবেট দেওয়া শুরু হয়েছে। মেডিকেয়ার পার্ট বি-এর প্রিমিয়াম পরিশোধে সহায়তা করতে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস সেন্টার (সিএমএস) জানিয়েছে, যোগ্য প্রায় ২০ দশমিক ৮ মিলিয়ন মানুষ অক্টোবর ২০২৬-এ এই অর্থ পাবেন। সব মিলিয়ে এই কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। তবে মেডিকেয়ারের মোট সুবিধাভোগীদের বড় একটি অংশ এই অর্থ থেকে বাদ পড়ছেন। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে থাকা প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মানুষ এই রিবেট পাবেন না। একইভাবে মেডিকেইডের মাধ্যমে প্রিমিয়াম সহায়তা পাওয়া নিম্নআয়ের বয়স্ক মানুষ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও এই অর্থ দেওয়া হবে না। ফলে মেডিকেয়ারের মোট প্রায় ৬৪ দশমিক ২ মিলিয়ন সুবিধাভোগীর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম মানুষ এই এককালীন অর্থ পাওয়ার যোগ্য হচ্ছেন। সিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী Original Medicare Part B-এর ২০ দশমিক ৮ মিলিয়ন সুবিধাভোগী এই অর্থ পাবেন, যদি তারা মেডিকেইড থেকে প্রিমিয়াম সহায়তা না পান এবং আয়ভিত্তিক অতিরিক্ত মাসিক প্রিমিয়ামও পরিশোধ না করেন। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে থাকা ব্যক্তিরা এই কর্মসূচির আওতায় পড়বেন না। পার্ট বি সাধারণত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, অ্যাম্বুলেন্স সেবা, পরীক্ষাগার পরীক্ষা ও অন্যান্য বহির্বিভাগীয় চিকিৎসা ব্যয়ের মতো সেবা কাভার করে। যোগ্য সুবিধাভোগীদের অধিকাংশের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ৯০ ডলার জমা হবে। সিএমএস জানিয়েছে, বেশিরভাগ অর্থ ৮ অক্টোবরের আশপাশে সরাসরি জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। যাদের সরাসরি অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা নেই, তাদের অক্টোবরের পরের দিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মাধ্যমে ডাকযোগে কাগজের চেক পাঠানো হবে। সুবিধাভোগীদের আলাদাভাবে আবেদন বা নিবন্ধন করতে হবে না, অর্থাৎ যোগ্যতা থাকলে অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পাওয়ার কথা। এই অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ২০০৮ সালে কংগ্রেসের মাধ্যমে গঠিত Medicare Improvement Fund। মূলত Original Medicare-এর ফি-ভিত্তিক সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য এই তহবিল তৈরি করা হয়েছিল। সিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে বিভিন্ন আইনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই তহবিল থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে এই তহবিল থেকে প্রায় ২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার নিয়ে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ওবামাকেয়ার বাস্তবায়নের ব্যয়ে ব্যবহার করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এবারের অর্থ সরাসরি মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছে দিয়ে তাদের স্বাস্থ্যসেবার খরচ কিছুটা কমানোই উদ্দেশ্য। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমেরিকানদের নিজেদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে আরও নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার পাশাপাশি মেডিকেয়ার রোগীদের হাতে সরাসরি অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে মেডিকেয়ারকে আরও সাশ্রয়ী করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অর্থ বিতরণকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। সিনেটের অর্থ কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট ওরেগনের সিনেটর রন ওয়াইডেন এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, এককালীন ৯০ ডলারের অর্থ স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় ও প্রশাসনিক সমস্যার মতো দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংকটের সমাধান করবে না। স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেএফএফও বলছে, এককালীন এই অর্থ অনেক সুবিধাভোগীর জন্য সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয়ের তুলনায় এর প্রভাব সীমিত হতে পারে। কেএফএফের মেডিকেয়ার নীতি বিষয়ক পরিচালক জুলিয়েট কিউবানস্কি উল্লেখ করেছেন, মানুষ যখন খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের চাপ অনুভব করছেন, তখন ৯০ ডলারের এই অর্থ কিছুটা সহায়তা করলেও তা খুব বেশি দূর এগিয়ে নিতে নাও পারে। যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীরা ১-৮০০-MEDICARE বা ১-৮০০-৬৩৩-৪২২৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। আর অর্থ পাঠানো হয়েছে কি না, তা জানতে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের ১-৮০০-৭৭২-১২১৩ নম্বরে ১৫ অক্টোবর থেকে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানিয়েছে সিএমএস। এদিকে, এই এককালীন অর্থ বিতরণের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ৩০টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১০ লাখ ওবামাকেয়ার সুবিধাভোগীর জন্য ৫০০ ডলারের রিবেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। ফলে ৯০ ডলারের মেডিকেয়ার রিবেটকে ঘিরে অর্থনৈতিক সহায়তা ও নির্বাচনী রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস সেন্টার (সিএমএস), কেএফএফ।
পোষা কুকুর বা বিড়ালকে পাশে নিয়ে ঘুমানো অনেকের কাছেই স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে। তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে, রাতে পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই ঘরে বা একই বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস ঘুমের মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো মানুষের মধ্যে ঘুমের মান তুলনামূলকভাবে খারাপ এবং অনিদ্রার উপসর্গ বেশি দেখা যায়। তবে গবেষণাটি এমন অভ্যাসকে সরাসরি ঘুমের সমস্যার কারণ হিসেবে প্রমাণ করেনি। গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের ঘুমের অভ্যাস নিয়ে প্রশ্নপত্র পূরণ করতে দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক জানিয়েছিলেন, রাতের অন্তত কিছু সময় তারা পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই ঘরে ঘুমান। গবেষণায় ‘পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো’ বলতে একই বিছানায় শোয়া বোঝানো হয়নি শুধু, একই ঘরে রাতের কিছু সময় ঘুমানোও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর গবেষকেরা পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো এবং না ঘুমানো ব্যক্তিদের ঘুমের অভ্যাস তুলনা করেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, পোষা প্রাণীর সঙ্গে একই ঘরে ঘুমানো ব্যক্তিদের ঘুমের মান কম এবং অনিদ্রার উপসর্গ তুলনামূলক বেশি। বয়স, লিঙ্গসহ বিভিন্ন জনমিতিক পার্থক্য হিসাব করার পরও এই সম্পর্ক দেখা যায়। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, প্রশ্নপত্রভিত্তিক এই গবেষণা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোর কারণেই ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়েছে। পোষা প্রাণীর ধরন বিবেচনা করলে গবেষণায় আরও একটি পার্থক্য পাওয়া যায়। কুকুরের সঙ্গে একই ঘরে ঘুমানোর ক্ষেত্রে ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া গেলেও বিড়ালের ক্ষেত্রে একই ধরনের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোর প্রভাব সব প্রাণীর ক্ষেত্রে একই হতে পারে না। প্রাণীর নড়াচড়া, শব্দ, আকার এবং রাতে মানুষের ঘুমের মধ্যে তাদের আচরণও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো অংশগ্রহণকারীদের ৯৩ শতাংশ মনে করেছিলেন, তাদের পোষা প্রাণী ঘুমের ওপর হয় ইতিবাচক নয়তো নিরপেক্ষ প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ যারা নিজেদের ঘুমের মান নিয়ে সমস্যায় ছিলেন, তাদের অনেকেই সেই সমস্যার সঙ্গে পোষা প্রাণীর উপস্থিতির কোনো সম্পর্ক দেখেননি। গবেষকদের মতে, এই বিষয়টি ইঙ্গিত দিতে পারে যে অনেক মানুষ রাতে পোষা প্রাণীর কারণে ঘুমের ওপর তৈরি হওয়া সূক্ষ্ম ব্যাঘাত সম্পর্কে সচেতন নন। তবে এর অর্থ এই নয় যে পোষা প্রাণী মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বরং দিনের বেলায় পোষা প্রাণী মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় বিভিন্নভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের সঙ্গে সময় কাটানো নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিতে পারে, দৈনন্দিন রুটিন ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং একাকিত্ব কমিয়ে সঙ্গ ও মানসিক স্বস্তি দিতে পারে। তাই পোষা প্রাণীর সামগ্রিক উপকারিতা এবং রাতে ঘুমের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। গবেষকদের মতে, রাতে পোষা প্রাণী একই ঘরে থাকলে শব্দ, নড়াচড়া কিংবা শরীরের তাপমাত্রার মতো বিষয় ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে কেউ যদি ঘুমাতে যাওয়ার পর বারবার জেগে ওঠেন বা গভীর ঘুমে যেতে সমস্যা হয়, তাহলে ঘরের পরিবেশের এসব বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পোষা প্রাণীর উপস্থিতি মানসিক স্বস্তি দিলেও একই সময়ে তাদের ঘুমের ধারাবাহিকতায় সূক্ষ্ম ব্যাঘাত তৈরি হতে পারে। তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এটি ছিল জরিপভিত্তিক গবেষণা, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ঘুমের অভ্যাস সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। ফলে তাদের ঘুমের সমস্যা পোষা প্রাণীর কারণে হয়েছে কি না, তা সরাসরি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের সঙ্গী, সন্তান বা অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতেন কি না, সেই বিষয়টিও আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। গবেষণাটির ফল প্রকাশিত হয় আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Scientific Reports-এ। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম ছিল “Co-sleeping with pets, stress, and sleep in a nationally-representative sample of United States adults”। গবেষণার প্রধান লেখক ব্রায়ান এন. চিন ট্রিনিটি কলেজের মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক। পরবর্তী সময়ে তিনি The Conversation-এ গবেষণার ফল ও এর তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন, যা পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম পুনঃপ্রকাশ করেছে। যারা পোষা প্রাণীকে সঙ্গে নিয়েই ঘুমাতে চান, তাদের জন্য গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সাধারণ পরামর্শ দিয়েছেন। ঘুমানোর জায়গাটি যেন মানুষ ও পোষা প্রাণী উভয়ের জন্য যথেষ্ট প্রশস্ত হয়, তা নিশ্চিত করা যেতে পারে। বিছানার চাদর ও অন্যান্য কাপড় নিয়মিত পরিষ্কার ও পরিবর্তন করা এবং পোষা প্রাণীর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রাতের রুটিন তৈরি করাও সহায়ক হতে পারে। তবে কোন অভ্যাস সবচেয়ে কার্যকর, তা নির্ধারণ করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে গবেষণাটি পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোকে নিষিদ্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। বরং এটি দেখিয়েছে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানোর অভ্যাসের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আরও সতর্কভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে কারও নিয়মিত ঘুমে সমস্যা থাকলে এবং রাতে পোষা প্রাণী একই ঘরে থাকলে, ঘুমের পরিবেশ ও অভ্যাসের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। ভবিষ্যতের গবেষণায় আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে কোন ধরনের মানুষ বা কোন ধরনের পোষা প্রাণীর ক্ষেত্রে এই প্রভাব বেশি দেখা যায়, সেটিও স্পষ্ট হতে পারে। সূত্র: Scientific Reports, The Conversation
আলঝেইমার রোগের মতো মস্তিষ্কে পরিবর্তন তৈরি হওয়ার পরও এক বছর ধরে স্মৃতিশক্তির পরীক্ষায় স্বাভাবিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে আফ্রিকান গ্রিন বানর। নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, প্রাণীগুলোর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে আলঝেইমারের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু আণবিক পরিবর্তন দীর্ঘ সময় ধরে থাকলেও আচরণ বা স্মৃতিতে তার স্পষ্ট প্রভাব দেখা যায়নি। এই ফলাফল রোগটির প্রাথমিক পর্যায় শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Communications Biology-তে। ইয়েল ইউনিভার্সিটি, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভার্সিওর বিজ্ঞানীরা এতে অংশ নেন। গবেষণায় আফ্রিকান গ্রিন বানরকে বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ হলো, মানুষের সঙ্গে তাদের শারীরবৃত্তীয় ও জৈব রাসায়নিক মিল তুলনামূলকভাবে বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বানরদের মস্তিষ্কেও অ্যামিলয়েড-বিটা ও টাউ-সম্পর্কিত পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, যা আলঝেইমার গবেষণায় তাদের সম্ভাবনাময় প্রাণী মডেলে পরিণত করেছে। গবেষণায় মোট আটটি স্ত্রী আফ্রিকান গ্রিন বানরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটিকে কৃত্রিমভাবে তৈরি অ্যামিলয়েড-বিটা অলিগোমার দেওয়া হয়, আর তিনটিকে নিয়ন্ত্রণদলের জন্য ভিন্ন দ্রবণ দেওয়া হয়। চার সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে তিনবার করে মোট ১২ বার এই প্রয়োগ করা হয়। অ্যামিলয়েড-বিটা হলো এমন এক ধরনের প্রোটিন, যা আলঝেইমার রোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গবেষকেরা বিশেষভাবে এর ছোট প্রোটিনগুচ্ছ বা অলিগোমারের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেন, কারণ এগুলো বড় প্লাক তৈরির আগেই স্নায়ুকোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর বানরগুলোর স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা করা হয়। একটি পর্দায় তাদের একটি নির্দিষ্ট আকৃতি দেখানো হয় এবং কিছুক্ষণ পর বিভিন্ন আকৃতির মধ্য থেকে আগেরটি শনাক্ত করতে বলা হয়। গবেষকদের প্রত্যাশার বিপরীতে, অ্যামিলয়েড-বিটা প্রয়োগ করা বানরগুলোর স্মৃতিশক্তিতে পরবর্তী এক বছরে এই পরীক্ষায় কোনো স্পষ্ট অবনতি দেখা যায়নি। অর্থাৎ মস্তিষ্কে আলঝেইমারের মতো জৈবিক পরিবর্তন থাকলেও তা ওই আচরণগত পরীক্ষায় দৃশ্যমান স্মৃতিহ্রাসে পরিণত হয়নি। তবে এক বছর পর নেওয়া মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের তরল, অর্থাৎ সেরিব্রোস্পাইনাল তরল বা মস্তিষ্ক-মেরুরসের পরীক্ষায় ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। এতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত C3 নামের একটি প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে ছিল। রক্তনালি ও রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও কয়েকটি প্রোটিনেও নিয়ন্ত্রণদলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়। সামগ্রিকভাবে এসব পরিবর্তন দেখায়, আচরণে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ না থাকলেও স্নায়ুতন্ত্রের ভেতরে দীর্ঘস্থায়ী জৈবিক পরিবর্তন চলতে পারে। গবেষকদের কাছে এই ফলাফলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শুধু স্মৃতিশক্তির পরীক্ষা দিয়ে আলঝেইমারের প্রাথমিক পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে। কোনো ব্যক্তির আচরণ বা স্মৃতিতে সমস্যা প্রকাশ পাওয়ার আগেই শরীরের তরল বা মস্তিষ্ক-মেরুরসে নির্দিষ্ট প্রোটিনের পরিবর্তন ধরা পড়তে পারে। গবেষণায় ১ মিলিলিটারেরও কম পরিমাণ সেরিব্রোস্পাইনাল তরল থেকে প্রোটিনের বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মানুষের শরীরে তুলনামূলক কম আক্রমণাত্মকভাবে রোগের জৈবিক চিহ্ন অনুসরণের সম্ভাবনা তৈরি করছে। আফ্রিকান গ্রিন বানরকে এ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ মনে করার আরেকটি কারণ হলো, ইঁদুরের তুলনায় মানুষের সঙ্গে তাদের শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের মিল বেশি। তাদের মস্তিষ্কের গঠন, রক্তনালির বৈশিষ্ট্য, প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া এবং আয়ুষ্কালের মতো বিষয় মানুষের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বয়স বাড়লে এই বানরদের মস্তিষ্কে অ্যামিলয়েড-বিটা প্লাক ও টাউ-সম্পর্কিত পরিবর্তনও স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়। এর ফলে মানুষের আলঝেইমারের একেবারে শুরুর পর্যায় বোঝার ক্ষেত্রে এই প্রাণী মডেলটি গবেষকদের জন্য বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। এর আগে পরিচালিত গবেষণাতেও আফ্রিকান গ্রিন বানরের ওপর অ্যামিলয়েড-বিটা অলিগোমার প্রয়োগের পর মস্তিষ্কের স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত অঞ্চলে টাউ প্রোটিনের পরিবর্তন এবং প্রদাহের লক্ষণ পাওয়া গিয়েছিল। এসব পরিবর্তনের কিছু কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। নতুন গবেষণাটি সেই অনুসন্ধানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে ১২ মাস পর প্রাণীগুলোর সেরিব্রোস্পাইনাল তরলে কী ধরনের পরিবর্তন থেকে যাচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করেছে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, বানরগুলোর মধ্যে পাওয়া এই আণবিক পরিবর্তনকে সরাসরি মানুষের প্রাথমিক আলঝেইমার রোগের সমতুল্য হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। গবেষণাটির নমুনার আকারও ছোট ছিল। তাই মানুষের ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিবর্তন রোগের সূচনালগ্নে দেখা যায় কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে মানুষের রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া নমুনার সঙ্গে এসব প্রোটিনের পরিবর্তন তুলনা করা পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তারপরও গবেষণাটির সম্ভাব্য গুরুত্ব কম নয়। বিজ্ঞানীদের মতে, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার অনেক আগেই শরীরে স্থায়ী হয়ে থাকা নির্দিষ্ট প্রোটিনের পরিবর্তন শনাক্ত করা গেলে আলঝেইমার রোগের প্রাথমিক পর্যায় পর্যবেক্ষণের নতুন উপায় তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বানরগুলোর মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা গেলেও কেন তারা দ্রুত স্পষ্ট জ্ঞানীয় অবনতিতে পৌঁছায়নি, সেই বিষয়টি বোঝা গেলে রোগের অগ্রগতি ঠেকানোর সম্ভাব্য সুরক্ষামূলক প্রক্রিয়াও শনাক্ত করা যেতে পারে। গবেষকেরা তাই আফ্রিকান গ্রিন বানরকে শুধু আলঝেইমারের মতো পরিবর্তন তৈরি করার প্রাণী মডেল হিসেবে নয়, বরং রোগের প্রাথমিক জৈবিক চিহ্ন, রোগের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক প্রক্রিয়া বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন। মানুষের ক্ষেত্রে এসব ফলাফল কতটা প্রযোজ্য হবে, তা ভবিষ্যৎ গবেষণায় নির্ধারিত হবে। তবে নতুন এই অনুসন্ধান অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে, স্মৃতিশক্তিতে সমস্যা দেখা দেওয়ার আগেই আলঝেইমারের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবর্তন স্নায়ুতন্ত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে। সূত্র: Communications Biology, ইয়েল ইউনিভার্সিটির মলিকুলার বায়োফিজিক্স অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ
চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোর বাসিন্দা ম্যাডিসন মালমগ্রেন ও তার স্বামী মার্ক। আগের তিন সন্তানই সুস্থভাবে জন্ম নেওয়ায় চতুর্থ সন্তানকে ঘিরেও তাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহে করা আল্ট্রাসাউন্ডে চিকিৎসকেরা এমন কিছু অস্বাভাবিকতা দেখতে পান, যা মুহূর্তেই বদলে দেয় পরিবারের আনন্দ। পরে পরীক্ষায় জানা যায়, অনাগত সন্তান সানি গল্টজ সিনড্রোম নামের একটি বিরল রোগে আক্রান্ত। ম্যাডিসন জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি জানতে পারেন আবারও মা হতে চলেছেন। আগের গর্ভধারণের তুলনায় এবার বমিভাব ও অসুস্থতা বেশি থাকলেও শুরুতে বড় কোনো সমস্যা মনে হয়নি। বরং চতুর্থ সন্তানের লিঙ্গ জানার জন্য তিনি আরও বেশি আগ্রহী ছিলেন। পরে চিকিৎসকের কাছ থেকে যখন জানতে পারেন সন্তানটি মেয়ে, তখন তিন মেয়ের পর আরেকটি কন্যাসন্তানকে ঘিরে পুরো পরিবার আনন্দে মেতে ওঠে। বড় তিন মেয়েও তাদের ছোট বোনকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২০ সপ্তাহের নিয়মিত আল্ট্রাসাউন্ডের সময় পরিস্থিতি বদলে যায়। স্ক্যান করার সময় চিকিৎসাকর্মীর মুখের অভিব্যক্তিতে উদ্বেগ দেখতে পান ম্যাডিসন। তিনি কী হয়েছে জানতে চাইলে তখনই বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পরিবারটিকে মাতৃ-ভ্রূণ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু সেই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় আরও ১০ দিন। অনাগত সন্তানের কোনো সমস্যা থাকতে পারে জেনেও সেই সময়টুকু অসহায়ভাবে অপেক্ষা করা ছিল পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন। বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পর একের পর এক উদ্বেগের তথ্য সামনে আসে। চিকিৎসকেরা দেখতে পান, গর্ভের শিশুটি বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক ছোট। তার হাত ও পায়ে অতিরিক্ত আঙুল ছিল এবং কিছু আঙুল ও পায়ের আঙুল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরীক্ষায় তার চোখও দেখা যাচ্ছিল না। পাশাপাশি ফুসফুসের বিকাশও যথেষ্ট হয়নি বলে চিকিৎসকেরা জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ম্যাডিসনের অ্যামনিওসেন্টেসিস পরীক্ষা করা হয় এবং ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় আরও প্রায় ছয় সপ্তাহ। গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকের কাছাকাছি সময়ে সেই পরীক্ষার ফল আসে। শিশুটির নাম তখনই রাখা হয়েছিল সানি। পরীক্ষায় তার গল্টজ সিনড্রোম বা ফোকাল ডার্মাল হাইপোপ্লাসিয়া শনাক্ত হয়। এটি একটি বিরল জিনগত রোগ, যা শরীরের বিভিন্ন অংশের স্বাভাবিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। ত্বক, হাত, পা ও চোখে এর প্রভাব দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চোখ বা অশ্রুনালি অনুপস্থিত থাকা, দাঁতের অস্বাভাবিকতা, ঠোঁটের জন্মগত ত্রুটি, হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির সমস্যা, শ্রবণশক্তির ঘাটতি এবং মস্তিষ্কের বিকাশজনিত জটিলতাও দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকেরা ম্যাডিসন ও মার্ককে সতর্ক করে জানান, সানির শারীরিক জটিলতা এতটাই গুরুতর যে জন্মের পর সে বেঁচে নাও থাকতে পারে। বেঁচে থাকলে তাকে দীর্ঘমেয়াদি বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। এই খবর ম্যাডিসনের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। তার ভাষায়, যে সন্তানকে তারা এতটা চেয়েছেন এবং যার জন্য অপেক্ষা করেছেন, তাকে হয়তো জন্মের পর ঘরে নিয়ে যেতে পারবেন না, এই সম্ভাবনা মেনে নেওয়া ছিল অসহনীয়। তবে সন্তানকে নিয়ে হাল ছাড়েননি ম্যাডিসন। আইডাহোর স্থানীয় চিকিৎসকেরা আগে গল্টজ সিনড্রোমের রোগীর চিকিৎসা করেননি। তাই আরও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে তারা সান ফ্রান্সিসকোর একজন জিন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, সানির জন্ম এমন একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হওয়া উচিত যেখানে তার বিরল রোগ সম্পর্কে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহে পুরো পরিবারকে নিয়ে আইডাহোর মেরিডিয়ান থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে চলে যান তারা। প্রায় ৬০০ মাইলের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে নতুন শহরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। পরিবারের বাড়ি, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অনিশ্চিত সময়ের জন্য অন্য রাজ্যে চলে যেতে হয়েছিল তাদের। এমনকি সানি বেঁচে থাকলে কখন তাকে নিয়ে আইডাহোতে ফিরতে পারবেন, সেটিও তারা জানতেন না। তারপরও মেয়ের চিকিৎসার সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সিদ্ধান্তটি নিতে দ্বিধা করেননি তারা। অবশেষে ২০২৬ সালের ১২ জুন সানির জন্ম হয়। ৩৭ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় অস্ত্রোপচারকক্ষে তাকে জন্ম দিতে হয়, যাতে প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া যায়। জন্মের সময় তার ওজন ছিল ৪ পাউন্ড ৪ আউন্স, অর্থাৎ প্রায় ১ দশমিক ৯ কেজি। কয়েক মাস ধরে চিকিৎসকেরা যে আশঙ্কার কথা বলে আসছিলেন, সেই কারণে সন্তানকে প্রথমবার দেখার মুহূর্তটিও ছিল ম্যাডিসনের জন্য গভীর উদ্বেগের। জন্মের পর সানিকে সরাসরি নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। তবে সেখানে গিয়ে পরিবারটি এমন একটি খবর পায়, যা তাদের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ছিল। সানি নিজে থেকেই শ্বাস নিচ্ছিল। চিকিৎসকেরা আগে আশঙ্কা করেছিলেন, তার ফুসফুস জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট বিকশিত নাও হতে পারে। তাই জন্মের পর তাকে নিজে শ্বাস নিতে দেখা পরিবারের কাছে ছিল বড় স্বস্তির মুহূর্ত। যদিও তার চিকিৎসায় নিউরোলজি, চক্ষু, হৃদ্রোগ, ত্বক, প্লাস্টিক সার্জারি ও হরমোন বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের যুক্ত হতে হয়। শারীরিকভাবে খুব ছোট হওয়ায় সানির শ্বাসপ্রশ্বাস সচল রাখতে তাকে সিপিএপি যন্ত্রের সহায়তা নিতে হয়। খাবার দেওয়ার জন্য নাক দিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছানো একটি নলও ব্যবহার করা হয়। নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। এই সময়েই ম্যাডিসন ও মার্ক তাদের প্রথম তিন মেয়েকে ছোট বোনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর বোনদের সঙ্গে সানির দেখা হওয়া পরিবারের জন্য স্মরণীয় একটি মুহূর্ত হয়ে থাকে। প্রায় ছয় সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পর ২২ জুলাই সানিকে নিয়ে বাড়ি ফেরার অনুমতি পান ম্যাডিসন ও মার্ক। পরদিন তারা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আইডাহোর উদ্দেশে রওনা হন। গর্ভাবস্থার শেষ কয়েক মাসে যে পরিবারটি জানত না তারা আদৌ সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে কি না, সেই পরিবারই শেষ পর্যন্ত চার মেয়েকে এক ছাদের নিচে নিয়ে ফিরতে সক্ষম হয়। ম্যাডিসনের কাছে সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বর্তমানে সানির বিশেষ কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে। সে চোখ ছাড়াই জন্মেছে, বাম কানে শুনতে পায় না এবং তার দুই হাতের কিছু অংশ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। বয়স অনুযায়ী তার শারীরিক আকারও ছোট। মস্তিষ্কের বিকাশও সম্পূর্ণ হয়নি বলে ভবিষ্যতে তার শেখা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে। এসব কারণে তাকে নিয়মিত বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিতে হয়। ম্যাডিসনের হিসাবে, প্রতি সপ্তাহে চার থেকে পাঁচটি চিকিৎসা-সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকে তাদের। তবু মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ম্যাডিসন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গল্টজ সিনড্রোম সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। তার মতে, কোনো একটি রোগের নাম দিয়ে একটি শিশুর পুরো জীবনকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকেরা সম্ভাব্য নানা জটিলতার কথা জানিয়েছিলেন, কিন্তু জন্মের পর সানি একের পর এক সেই আশঙ্কার অনেকটাই অতিক্রম করেছে। ম্যাডিসনের কাছে সানি শুধু একটি চিকিৎসা-নির্ণয় নয়, বরং শুরু থেকেই তাদের পরিবারের একজন সদস্য। গর্ভে থাকার সময় থেকেই তারা তাকে ভালোবেসেছেন, তার জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেছেন। বড় তিন বোনও এখন তাকে ঘিরে বড় হচ্ছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর চার মেয়েকে একই বাড়িতে একসঙ্গে দেখতে পাওয়াকেই ম্যাডিসন তার পরিবারের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদগুলোর একটি বলে মনে করেন। সূত্র: নিউজউইক, ম্যাডিসন মালমগ্রেনের প্রকাশিত তথ্য