সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

তার ছাড়াই একসঙ্গে একাধিক ডিভাইস চার্জের প্রযুক্তি নিয়ে দুই বাংলাদেশি নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১:১৩
তার ছাড়াই একসঙ্গে একাধিক ডিভাইস চার্জের প্রযুক্তি নিয়ে দুই বাংলাদেশি নতুন উদ্যোগ
তার ছাড়াই একসঙ্গে একাধিক ডিভাইস চার্জের প্রযুক্তি নিয়ে দুই বাংলাদেশি নতুন উদ্যোগ

চার্জার কিংবা নির্দিষ্ট চার্জিং প্যাডে ডিভাইস বসানোর ঝামেলা কমাতে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন দুই বাংলাদেশি গবেষক। ড. সাইদুল আলম চৌধুরী ও ইউশা আরাফ নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রিজোলিংক। তাঁদের লক্ষ্য তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে বাস্তব জীবনে নিয়ে আসা। বিশেষ করে এমন ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে একটি নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস তার ছাড়াই চার্জ করা সম্ভব হবে।

 

এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে স্মার্টপাওয়ারবক্স নামের একটি প্রযুক্তি। প্রচলিত ওয়্যারলেস চার্জারে সাধারণত ফোন বা অন্য ডিভাইস নির্দিষ্ট প্যাডের ওপর সঠিকভাবে বসাতে হয়। কিন্তু স্মার্টপাওয়ারবক্স এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে একটি ছোট ত্রিমাত্রিক পরিসরের ভেতরে ডিভাইসের অবস্থান পরিবর্তন হলেও চার্জিং কার্যক্রম চালানো যায়। ফলে ভবিষ্যতে একটি ড্রয়ার বা নির্দিষ্ট চার্জিং জোনের মধ্যে ফোন, স্মার্টওয়াচ কিংবা ইয়ারবাড রাখলেই সেগুলো চার্জ হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

 

নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্মার্টপাওয়ারবক্স প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত নকশা ও প্রোটোটাইপ উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গবেষক ড. সাইদুল আলম চৌধুরী এবং অধ্যাপক আইগুও প্যাট্রিক হু। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেটিভ ওয়্যারলেস পাওয়ার রিসার্চ ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত।

 

স্মার্টপাওয়ারবক্স প্রযুক্তিতে আসবাবের ভেতরে বসানো পাতলা ও সমতল কয়েলের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। এসব কয়েল নিয়ন্ত্রিত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করে নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে থাকা উপযুক্ত ডিভাইসে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে উন্নত পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ব্যবহার করে কোন ডিভাইসের চার্জ প্রয়োজন, কতটুকু বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে এবং কীভাবে নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়, তা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

গবেষকদের লক্ষ্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যা প্রয়োজন ছাড়া সারাক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে না। বরং চার্জিংয়ের উপযোগী ডিভাইস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় অংশ সক্রিয় করবে। এতে বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং নিরাপদে চার্জিং কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণা ও প্রোটোটাইপ উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে এসেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

প্রকল্পটির গবেষণা এগিয়ে নিতে ১ লাখ ১৪ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে। অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ারউইক অ্যান্ড জুডি স্মিথ ইঞ্জিনিয়ারিং এনডাওমেন্ট ফান্ড থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। অনুদানটি প্রযুক্তির প্রোটোটাইপ উন্নয়নে সহায়তা করবে।

 

এই গবেষণার অন্যতম উদ্যোক্তা ড. সাইদুল আলম চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। বর্তমানে অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়্যারলেস পাওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রে রয়েছে পাওয়ার ইলেকট্রনিকস, তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং চার্জিং ব্যবস্থার দক্ষতা ও নিরাপত্তা। রিজোলিংকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর দুটি মার্কিন পেটেন্ট রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনায়ও তাঁর কাজ স্থান পেয়েছে।

 

অন্যদিকে রিজোলিংকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইউশা আরাফ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগিন্স ইনস্টিটিউটে ডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত। রিজোলিংকে তিনি কৌশলগত কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক উন্নয়নের দিকটি দেখছেন।

 

দুই গবেষকের প্রতিষ্ঠিত রিজোলিংক শুধু মোবাইল ফোন বা ছোট ইলেকট্রনিক পণ্যের চার্জিং প্রযুক্তি তৈরি করতে চায় না। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা এবং বায়োমেডিকেল প্রযুক্তির জন্য তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহের সমাধান তৈরি করা। তাদের কার্যক্রমে রয়েছে প্রযুক্তির নকশা, গবেষণা, পরীক্ষামূলক উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই।

 

বিশেষ করে স্মার্ট হোম, অফিস এবং হাসপাতালের মতো পরিবেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকেরা। একটি ড্রয়ার কিংবা আসবাবের নির্দিষ্ট অংশকে চার্জিং জোন হিসেবে ব্যবহার করা গেলে একাধিক ডিভাইস আলাদা আলাদা তার ছাড়াই চার্জ করা সম্ভব হতে পারে। হাসপাতালের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সেন্সর ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির জন্য কম তারনির্ভর চার্জিং ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

তবে গবেষণাটি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছেন অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। স্মার্টপাওয়ারবক্সের বর্তমান ধারণা পুরো বাড়ি বা বড় একটি কক্ষের যেকোনো স্থান থেকে ফোন চার্জ করার প্রযুক্তি নয়। এটি মূলত ছোট একটি নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক পরিসরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা। ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে এর তুলনা করা হলেও ইন্টারনেট সিগন্যাল এবং বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহের প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া এক নয়।

 

প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক সফলতার জন্য চার্জিংয়ের দক্ষতা, ডিভাইসের সামঞ্জস্য, উৎপাদন খরচ এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাগারে কার্যকর একটি প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে এসব বিষয়ে আরও উন্নয়ন ও পরীক্ষা প্রয়োজন।

 

ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে দুই উদ্যোক্তার। বিশেষ করে ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি ডিভাইস, স্মার্ট হোম এবং স্মার্ট হাসপাতালের জন্য সাশ্রয়ী তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা তাঁরা দেখছেন।

 

বাংলাদেশে প্রকৌশল ও জীববিজ্ঞানের মতো ভিন্ন দুটি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়া এই দুই গবেষক এখন নিউজিল্যান্ডে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছেন। গবেষণাকে বাস্তব পণ্য ও শিল্পক্ষেত্রের সমাধানে রূপ দেওয়াই তাঁদের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

 

স্মার্টপাওয়ারবক্সের মতো প্রযুক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে ভবিষ্যতের চার্জিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি গবেষণা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দুই বাংলাদেশি গবেষক ড. সাইদুল আলম চৌধুরী ও ইউশা আরাফ।

 

সূত্র: পাবলিকিয়ান


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
তার ছাড়াই একসঙ্গে একাধিক ডিভাইস চার্জের প্রযুক্তি নিয়ে দুই বাংলাদেশি নতুন উদ্যোগ
তার ছাড়াই একসঙ্গে একাধিক ডিভাইস চার্জের প্রযুক্তি নিয়ে দুই বাংলাদেশি নতুন উদ্যোগ

চার্জার কিংবা নির্দিষ্ট চার্জিং প্যাডে ডিভাইস বসানোর ঝামেলা কমাতে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন দুই বাংলাদেশি গবেষক। ড. সাইদুল আলম চৌধুরী ও ইউশা আরাফ নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রিজোলিংক। তাঁদের লক্ষ্য তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে বাস্তব জীবনে নিয়ে আসা। বিশেষ করে এমন ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে একটি নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস তার ছাড়াই চার্জ করা সম্ভব হবে।   এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে স্মার্টপাওয়ারবক্স নামের একটি প্রযুক্তি। প্রচলিত ওয়্যারলেস চার্জারে সাধারণত ফোন বা অন্য ডিভাইস নির্দিষ্ট প্যাডের ওপর সঠিকভাবে বসাতে হয়। কিন্তু স্মার্টপাওয়ারবক্স এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে একটি ছোট ত্রিমাত্রিক পরিসরের ভেতরে ডিভাইসের অবস্থান পরিবর্তন হলেও চার্জিং কার্যক্রম চালানো যায়। ফলে ভবিষ্যতে একটি ড্রয়ার বা নির্দিষ্ট চার্জিং জোনের মধ্যে ফোন, স্মার্টওয়াচ কিংবা ইয়ারবাড রাখলেই সেগুলো চার্জ হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্মার্টপাওয়ারবক্স প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত নকশা ও প্রোটোটাইপ উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গবেষক ড. সাইদুল আলম চৌধুরী এবং অধ্যাপক আইগুও প্যাট্রিক হু। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেটিভ ওয়্যারলেস পাওয়ার রিসার্চ ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত।   স্মার্টপাওয়ারবক্স প্রযুক্তিতে আসবাবের ভেতরে বসানো পাতলা ও সমতল কয়েলের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। এসব কয়েল নিয়ন্ত্রিত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করে নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে থাকা উপযুক্ত ডিভাইসে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে উন্নত পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ব্যবহার করে কোন ডিভাইসের চার্জ প্রয়োজন, কতটুকু বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে এবং কীভাবে নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়, তা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে।   গবেষকদের লক্ষ্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যা প্রয়োজন ছাড়া সারাক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে না। বরং চার্জিংয়ের উপযোগী ডিভাইস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় অংশ সক্রিয় করবে। এতে বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং নিরাপদে চার্জিং কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণা ও প্রোটোটাইপ উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে এসেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রকল্পটির গবেষণা এগিয়ে নিতে ১ লাখ ১৪ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে। অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ারউইক অ্যান্ড জুডি স্মিথ ইঞ্জিনিয়ারিং এনডাওমেন্ট ফান্ড থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। অনুদানটি প্রযুক্তির প্রোটোটাইপ উন্নয়নে সহায়তা করবে।   এই গবেষণার অন্যতম উদ্যোক্তা ড. সাইদুল আলম চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। বর্তমানে অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়্যারলেস পাওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রে রয়েছে পাওয়ার ইলেকট্রনিকস, তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং চার্জিং ব্যবস্থার দক্ষতা ও নিরাপত্তা। রিজোলিংকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর দুটি মার্কিন পেটেন্ট রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনায়ও তাঁর কাজ স্থান পেয়েছে।   অন্যদিকে রিজোলিংকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইউশা আরাফ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগিন্স ইনস্টিটিউটে ডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত। রিজোলিংকে তিনি কৌশলগত কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক উন্নয়নের দিকটি দেখছেন।   দুই গবেষকের প্রতিষ্ঠিত রিজোলিংক শুধু মোবাইল ফোন বা ছোট ইলেকট্রনিক পণ্যের চার্জিং প্রযুক্তি তৈরি করতে চায় না। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা এবং বায়োমেডিকেল প্রযুক্তির জন্য তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহের সমাধান তৈরি করা। তাদের কার্যক্রমে রয়েছে প্রযুক্তির নকশা, গবেষণা, পরীক্ষামূলক উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই।   বিশেষ করে স্মার্ট হোম, অফিস এবং হাসপাতালের মতো পরিবেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকেরা। একটি ড্রয়ার কিংবা আসবাবের নির্দিষ্ট অংশকে চার্জিং জোন হিসেবে ব্যবহার করা গেলে একাধিক ডিভাইস আলাদা আলাদা তার ছাড়াই চার্জ করা সম্ভব হতে পারে। হাসপাতালের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সেন্সর ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির জন্য কম তারনির্ভর চার্জিং ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে গবেষণাটি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছেন অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। স্মার্টপাওয়ারবক্সের বর্তমান ধারণা পুরো বাড়ি বা বড় একটি কক্ষের যেকোনো স্থান থেকে ফোন চার্জ করার প্রযুক্তি নয়। এটি মূলত ছোট একটি নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক পরিসরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা। ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে এর তুলনা করা হলেও ইন্টারনেট সিগন্যাল এবং বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহের প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া এক নয়।   প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক সফলতার জন্য চার্জিংয়ের দক্ষতা, ডিভাইসের সামঞ্জস্য, উৎপাদন খরচ এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাগারে কার্যকর একটি প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে এসব বিষয়ে আরও উন্নয়ন ও পরীক্ষা প্রয়োজন।   ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে দুই উদ্যোক্তার। বিশেষ করে ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি ডিভাইস, স্মার্ট হোম এবং স্মার্ট হাসপাতালের জন্য সাশ্রয়ী তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা তাঁরা দেখছেন।   বাংলাদেশে প্রকৌশল ও জীববিজ্ঞানের মতো ভিন্ন দুটি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়া এই দুই গবেষক এখন নিউজিল্যান্ডে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছেন। গবেষণাকে বাস্তব পণ্য ও শিল্পক্ষেত্রের সমাধানে রূপ দেওয়াই তাঁদের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।   স্মার্টপাওয়ারবক্সের মতো প্রযুক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে ভবিষ্যতের চার্জিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি গবেষণা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দুই বাংলাদেশি গবেষক ড. সাইদুল আলম চৌধুরী ও ইউশা আরাফ।   সূত্র: পাবলিকিয়ান

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১:১৩
নিউইয়র্কে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর খোকনের মৃ ত্যুর খবর পাওয়া গেছে

নিউইয়র্কে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি খোকনের মৃ ত্যুর খবর

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার। ছবি: সংগৃহীত

দুর্গাপূজায় ‘মদ খেয়ে নাচানাচি’ করলে ঘাড়ে ধরে থানায় নেওয়া হবে: ফেনীর পুলিশ সুপার

সৌদিতে প্রবাসীদের পরিবার নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ

ভিসা শেষ হওয়ার আগেই পরিবার নিতে পারবেন সৌদি প্রবাসীরা

দুর্গাপূজায় মিলছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি
দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি ভোগ করতে পারবেন।   এই ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করতে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।   ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত ছিল। তবে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস খোলা থাকার কথা থাকলেও ওই দিনটিকেও নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।   গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২২ অক্টোবরের কর্মদিবসেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। ফলে পূজার কারণে টানা তিন দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।   এরপর ২৩ অক্টোবর শুক্রবার এবং ২৪ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পূজার ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে মোট পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে।   তবে এই টানা ছুটির সমন্বয়ের জন্য ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন অফিস খোলা থাকবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ওইদিন সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম চালু থাকবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৭:২৮
নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিতে ঢাকায় নেপালের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল

নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিতে ঢাকায় নেপালের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল

সিরাজগঞ্জে অসহায় ও দরিদ্র ১৫৬ মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে অনন্য নজির গড়েছেন সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত

দুর্গম চর থেকে গ্রামগঞ্জ, ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’ সিরাজগঞ্জের মামুন

ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমানোর সম্ভাবনা

খাদ্য ভর্তুকি ও নগদ সহায়তার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমানোর বড় সুযোগ দেখছে বিশ্বব্যাংক

ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন সময়সূচি
ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সময়সূচি ও নিয়ম

ভারতীয় ভিসার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য নতুন সময়সূচি ও নিয়ম জানিয়েছে ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার বা আইভ্যাক। নতুন ব্যবস্থায় পরবর্তী দুই সপ্তাহের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী খোলা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট মিশন ও ভিসা ক্যাটাগরিতে স্লটের প্রাপ্যতার ওপর পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে।   আইভ্যাকের বর্তমান অ্যাপয়েন্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট সাধারণত প্রতি বৃহস্পতিবার অথবা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে খোলা হয়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট দিনে স্লট চালু হলেও সব আবেদনকারীর জন্য সব সময় স্লট পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট মিশন ও ভিসা ক্যাটাগরিতে কতগুলো স্লট রয়েছে, তার ওপর বুকিংয়ের সুযোগ নির্ভর করবে।   অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বুকিং খোলা থাকবে। আর শনিবার বুকিং করা যাবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। অবশ্যই স্লটের প্রাপ্যতা থাকতে হবে।   আইভ্যাক স্পষ্ট জানিয়েছে, যেদিন বুকিং করা হচ্ছে, সেদিনের জন্য কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যাবে না। আবেদনকারীরা কেবল বুকিংয়ের সময় খোলা থাকা দুই সপ্তাহের চক্রের মধ্যে ভবিষ্যতের কোনো তারিখ নির্বাচন করতে পারবেন। কোন তারিখে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যাবে, তা স্লটের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে।   অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের আগে আবেদনকারীদের অনলাইন ভিসা আবেদনপত্র পূরণ করে তৈরি করা ওয়েবফাইল প্রস্তুত রাখতে হবে। আইভ্যাকের নিয়ম অনুযায়ী, অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থায় আপলোড করা ওয়েবফাইল ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হলে গ্রহণ করা হবে না। বুকিংয়ের সময় প্রথমে প্রধান আবেদনকারীর ওয়েবফাইল আপলোড করতে হয়। প্রয়োজন হলে পরে অন্যান্য আবেদনকারীর ওয়েবফাইলও যুক্ত করা যায়।   অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের প্রক্রিয়ায় আইভ্যাক সেন্টার নির্বাচন, উপলভ্য তারিখ বাছাই এবং এরপর অর্থ পরিশোধের ধাপ রয়েছে। বুকিং সফলভাবে সম্পন্ন হলে আবেদনকারীকে ইনভয়েস ডাউনলোড করতে হবে। নির্ধারিত সেন্টার ও উপলভ্য তারিখ সিস্টেমে দেখানোর পর আবেদনকারী সেখান থেকে উপযুক্ত তারিখ নির্বাচন করতে পারবেন।   বর্তমান ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ভিসার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে পর্যটন, চিকিৎসা, ব্যবসা, পারিবারিক, শিক্ষার্থী, কাজ, সাংবাদিক, ট্রানজিট, কূটনৈতিক ও অন্যান্য ভিসা ক্যাটাগরি রয়েছে। তবে প্রতিটি ক্যাটাগরিতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া স্লটের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভরশীল।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অ্যাপয়েন্টমেন্ট সফলভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর সেটি পরিবর্তন বা বাতিল করার সুযোগ নেই। অন্য তারিখে আবেদন জমা দিতে চাইলে নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে। একইভাবে একজনের নামে বুক করা অ্যাপয়েন্টমেন্ট অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।   অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ে কোনো সমস্যা হলে কিছু ক্ষেত্রে আপলোড করা ওয়েবফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বুকিং করতে হলে প্রয়োজনীয় ওয়েবফাইল আবার আপলোড করতে হবে। আইভ্যাকের নির্দেশনায় স্লট না পাওয়া বা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার মতো বিষয়গুলোও বুকিং সম্পন্ন না হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   আইভ্যাক আবেদনকারীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের জন্য এজেন্ট, দালাল, মধ্যস্থতাকারী বা অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শও দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা প্রতারণার অংশ হতে পারে।   তাই ভারতীয় ভিসার আবেদন করতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইভ্যাকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থায় প্রবেশ করে স্লটের প্রাপ্যতা যাচাই করে বুকিং সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার বা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে নতুন স্লট খোলার বিষয়টি মাথায় রেখে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ওয়েবফাইল আগে থেকেই প্রস্তুত রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো নির্দিষ্ট তারিখে স্লট পাওয়া যাবে কি না, তা আগে থেকে নিশ্চিত নয়; এটি সংশ্লিষ্ট মিশন, ভিসা ক্যাটাগরি ও উপলভ্য স্লটের ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৬:৫৮
মন্টিনেগ্রোর শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন সুযোগ

পর্যটন, নির্মাণ ও চিকিৎসা খাতে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার কর্মী নেবে মন্টিনেগ্রো

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় গবেষণায়, এখন কমনওয়েলথ স্কলারশিপে কেমব্রিজে শরূপ

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় গবেষণায়, এখন কমনওয়েলথ স্কলারশিপে কেমব্রিজে শরূপ

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে অজ্ঞাত ঠিকানা থেকে ইমেইল পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি, তদন্তে ডিবির সাইবার ইউনিট

0 Comments