দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফিতে কমতে পারে হাড়ের ঘনত্ব, ১০ বছরের গবেষণায় ইঙ্গিত
প্রতিদিন একের পর এক কাপ কফি পান করার অভ্যাস হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাও হতে পারে। প্রায় ১০ হাজার বয়স্ক নারীকে ১০ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে করা নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফি পানকারীদের হাড়ের ঘনত্ব কম থাকার প্রবণতা রয়েছে। অন্যদিকে নিয়মিত চা পানকারীদের নিতম্বের হাড়ের ঘনত্ব সামান্য বেশি পাওয়া গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৯ হাজার ৭০৪ নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে এ ফল পেয়েছেন। গবেষণাটি ২০২৫ সালে নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত হয়।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের কফি ও চা পানের অভ্যাস বারবার নথিবদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় এক দশক ধরে তাদের ফিমোরাল নেক ও টোটাল হিপের বোন মিনারেল ডেনসিটি বা হাড়ের খনিজ ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, নিয়মিত চা পানকারীদের টোটাল হিপ বোন মিনারেল ডেনসিটি চা না পানকারীদের তুলনায় কিছুটা বেশি। পার্থক্যটি খুব বড় নয়, তবে পরিসংখ্যানগতভাবে তা উল্লেখযোগ্য ছিল।
কফির ক্ষেত্রে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। সামগ্রিকভাবে মাঝারি পরিমাণ কফি পানের সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে গবেষণার বিশ্লেষণে ইঙ্গিত মিলেছে, দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফি পান করলে হাড়ের ঘনত্ব কমতে পারে।
বিশেষ করে যেসব নারীর জীবনে অ্যালকোহল গ্রহণের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি ছিল, তাদের মধ্যে বেশি কফি পানের সঙ্গে ফিমোরাল নেকের হাড়ের ঘনত্ব কম থাকার সম্পর্ক আরও স্পষ্ট দেখা গেছে।
এ কারণে গবেষকেরা মাঝারি কফি পানকে ক্ষতিকর বলে চিহ্নিত করেননি। দিনে দুই থেকে তিন কাপ কফির মতো পরিমাণে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পাওয়া যায়নি। ঝুঁকির ইঙ্গিত মূলত খুব বেশি কফি পানের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে।
গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি প্রমাণ করে না যে বেশি কফি খেলেই হাড় দুর্বল হয়ে যাবে। এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা। অর্থাৎ কফি ও হাড়ের ঘনত্বের মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেলেও সরাসরি কারণ ও ফলাফল নিশ্চিত করা যায়নি।
গবেষকেরা বয়স, শারীরিক কার্যক্রম, বিভিন্ন রোগ, ওষুধ ব্যবহার এবং অন্যান্য সম্ভাব্য প্রভাবক বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। তবু মানুষের খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ, শরীরের ওজন এবং অন্যান্য বিষয়ও হাড়ের স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে।
চায়ের ক্ষেত্রে গবেষকেরা মনে করছেন, এতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ হাড়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ঠিক কোন উপাদান কতটা ভূমিকা রাখছে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের রোগ বয়স্ক নারীদের জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। আন্তর্জাতিক অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ৫০ বছরের বেশি বয়সী প্রতি তিন নারীর একজন জীবনের কোনো পর্যায়ে অস্টিওপোরোসিসজনিত ফ্র্যাকচারের ঝুঁকিতে থাকেন।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। মেনোপজের পর নারীদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে। এ কারণে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হাড় রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণার ফল থেকে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বার্তা হলো, যারা খুব বেশি কফি পান করেন তারা দৈনিক পরিমাণ কমানোর কথা ভাবতে পারেন। তবে শুধু কফি কমানোই হাড় সুরক্ষার একমাত্র উপায় নয়।
একই সঙ্গে নিয়মিত চা পান হাড়ের জন্য সম্ভাব্য উপকারী হতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। তবে গবেষকেরা চাকে কোনো চিকিৎসা বা অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখছেন না।
সব মিলিয়ে ১০ বছরের এই গবেষণা বলছে, মাঝারি পরিমাণ কফি পান নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই। কিন্তু দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফি অভ্যাসে থাকলে বিশেষ করে বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে হাড়ের স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা যেতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্বাস্থ্য
View moreগর্ভাবস্থার মাত্র ২২ সপ্তাহে অনাগত এক শিশুর ফুসফুসে দ্রুত বেড়ে ওঠা বিরল জন্মগত অস্বাভাবিকতা চিকিৎসায় নতুন সাফল্য দেখিয়েছেন চীন ও হংকংয়ের চিকিৎসকেরা। আল্ট্রাসাউন্ডের সহায়তায় সূক্ষ্ম একটি নিডল গর্ভের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে মাইক্রোওয়েভ শক্তির মাধ্যমে অস্বাভাবিক ফুসফুসের টিস্যু ধ্বংস করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ভ্রূণের মাইক্রোসিস্টিক কনজেনিটাল পালমোনারি এয়ারওয়ে ম্যালফরমেশন বা সিপিএএম চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। শেনঝেন বাওআন উইমেন্স অ্যান্ড চিলড্রেনস হসপিটাল এবং দ্য চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের চিকিৎসকেরা যৌথভাবে এই জটিল চিকিৎসা সম্পন্ন করেন। চিকিৎসা পদ্ধতির বিস্তারিত ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট আন্তর্জাতিক পিয়ার রিভিউড জার্নাল আল্ট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনেকোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্ভের শিশুটির ফুসফুসে যে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে সেটি দ্রুত বড় হচ্ছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি মাইক্রোসিস্টিক সিপিএএম। এটি ফুসফুসের একটি বিরল জন্মগত গঠনগত সমস্যা, যেখানে স্বাভাবিক ফুসফুসের টিস্যুর জায়গায় অস্বাভাবিক সিস্ট বা টিস্যু তৈরি হতে পারে। বড় আকারের সিপিএএম ভ্রূণের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অস্বাভাবিক টিস্যু বেড়ে গেলে সেটি বুকের ভেতরের অন্য অঙ্গের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। গুরুতর অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ, শরীরে তরল জমা বা হাইড্রপস ফিটালিস এবং গর্ভের শিশুর জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন ব্যবহার করেন। রিয়েল টাইম আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে নিডলের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে সেটি অস্বাভাবিক টিস্যুর ভেতরে নেওয়া হয়। এরপর মাইক্রোওয়েভ শক্তি প্রয়োগ করা হয়। মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশনে টিস্যুর ভেতরের পানির অণু দ্রুত কম্পিত হয়ে তাপ তৈরি করে। সেই তাপ নির্দিষ্ট অংশের অস্বাভাবিক টিস্যু ধ্বংস করে। লক্ষ্য থাকে আশপাশের সুস্থ টিস্যু এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে যতটা সম্ভব নিরাপদ রাখা। চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল গর্ভের ভেতরে অত্যন্ত ছোট জায়গায় কাজ করা এবং একই সঙ্গে মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে নিডলের প্রতিটি নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করেই চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসার পর ফুসফুসের অস্বাভাবিক অংশের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। ফলে বুকের ভেতরে অন্য অঙ্গের ওপর তৈরি হওয়া চাপও কমতে শুরু করে। চিকিৎসকেরা এই ফলাফলকে ফিটাল থেরাপির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিপিএএমকে সাধারণ অর্থে ক্যানসার বা প্রচলিত টিউমার বলা সঠিক নয়। এটি মূলত জন্মগত ফুসফুসের অস্বাভাবিক বিকাশ বা ম্যালফরমেশন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে কখনো কখনো “ফুসফুসের টিউমার অপসারণ” হিসেবে বর্ণনা করা হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে “অস্বাভাবিক ফুসফুসের টিস্যু” বা “ফুসফুসের জন্মগত ম্যালফরমেশন” বলা বেশি নির্ভুল। গর্ভের শিশুর ফুসফুসের জটিল রোগে জন্মের আগেই চিকিৎসা নতুন নয়। এর আগে সিপিএএমের গুরুতর ক্ষেত্রে স্টেরয়েড, তরল নিষ্কাশন, শান্ট বসানো, স্ক্লেরোথেরাপি এবং রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশনের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বিশাল মাইক্রোসিস্টিক সিপিএএমে মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশনের এই প্রয়োগকে চিকিৎসকেরা নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করছেন। এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গুরুতর সিপিএএমের সঙ্গে হাইড্রপস ফিটালিস যুক্ত হলে ভ্রূণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এ কারণেই দ্রুত বড় হতে থাকা এবং জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করা ক্ষেত্রে গর্ভের ভেতরেই চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে নতুন এই পদ্ধতিকে এখনই সবার জন্য নিয়মিত চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। প্রকাশিত ঘটনাটি একটি নির্দিষ্ট কেসের অভিজ্ঞতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বুঝতে আরও রোগী, দীর্ঘ অনুসরণ এবং বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফিটাল থেরাপির মূল লক্ষ্য হলো জন্মের আগে এমন গুরুতর সমস্যায় হস্তক্ষেপ করা, যা অপেক্ষা করলে শিশুর জীবন বা ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শেনঝেন ও হংকংয়ের চিকিৎসকদের এই সাফল্য সেই ক্ষেত্রেই নতুন একটি সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
দিনে পাঁচ কাপের বেশি কফিতে কমতে পারে হাড়ের ঘনত্ব, ১০ বছরের গবেষণায় ইঙ্গিত
ক্যান্সারের ১২ শতাংশের পেছনে এই সংক্রমণ, নতুন গবেষণায় চমকে দেওয়ার মতো তথ্য
প্রতিদিনের যে ৭টি অভ্যাস নীরবে চোখের দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ
রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মৃ ত্যুর পর দেশটিকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের সমস্যায় পড়লে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে ওই কর্মী প্লেগে আ ক্রা ন্ত হয়েছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি রুশ কর্তৃপক্ষ। ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মী নিউমোনিয়ায় মৃ ত্যু বরণ করেছেন। তবে তাঁর অসুস্থতার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গভর্নর কোবজেভ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মীদের মধ্যে নতুন করে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত হয়নি। সাইবেরিয়ার ওই ঘটনার বিষয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে রাশিয়াকে সহায়তা করবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন বিষয়টির ওপর নজর রাখছে। তবে ট্রাম্পের সহায়তার প্রস্তাবের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই কর্মীর মৃ ত্যুর সঙ্গে তাঁর গবেষণাগারের কাজের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরীক্ষাগারে জীবাণু ব্যবস্থাপনার সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তার পক্ষেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য জনস্বাস্থ্যঝুঁকি কম বলে মনে হচ্ছে। তবে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে ঝুঁকির মাত্রা আবার মূল্যায়ন করা হবে। রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে প্লেগ নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মীর মৃ ত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে কর্মীর অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মীর মৃ ত্যু প্লেগ সংক্রমণের কারণে হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই। একইভাবে গবেষণাগারে কোনো দুর্ঘটনা থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, এমন দাবিরও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প ও রুবিও। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম বলেই মনে হচ্ছে। নতুন তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে জনস্বাস্থ্যঝুঁকির মূল্যায়নও পরিবর্তন করা হতে পারে।
আর্থিক চাপে নর্থওয়েল হেলথ, নিউইয়র্কে সীমিতসংখ্যক চাকরি বিলুপ্তের ঘোষণা
মেডিকেইড কভারেজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রবাসীরা, নতুন নিয়ম কার্যকর, চিকিৎসা কীভাবে চলবে?
জ্বর থেকে দ্রুত নিউমোনিয়া, নিউমোনিক প্লেগের যেসব উপসর্গ জানা জরুরি
রাশিয়ায় সন্দেহভাজন প্লে গ প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইরকুতস্ক অঞ্চলে এক তরুণ ল্যাবকর্মীর মৃ ত্যুর পর এবং প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার খবরের মধ্যে হোয়াইট হাউস বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। ইরকুতস্কের একটি অ্যান্টি-প্লে গ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন ২৮ বছর বয়সী গবেষক দারিয়া শিপিলোভা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লে গের জীবাণু থাকা একটি টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে তিনি প্লে গে আ ক্রা ন্ত হয়েছিলেন কি না, তা রুশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেননি। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত রয়েছে, প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য করণীয় মূল্যায়ন করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার শেলেখভ শহরের একটি হাসপাতালে গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হন শিপিলোভা। পরে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃ ত্যু হয়। তাঁর মৃ ত্যুর পর সংশ্লিষ্ট একটি হাসপাতালকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। একই সঙ্গে তাঁর সংস্পর্শে আসা কয়েক ডজন মানুষকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা যায়নি এবং তাদের পরীক্ষার ফলও নে তি বা চ এসেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ অসুস্থতার নাম প্রকাশ না করে এটিকে ‘বিপজ্জনক সং ক্রা মক রোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ওই অঞ্চলের সব ধরনের জনসমাগম ও সরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন। রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিপিলোভা ‘অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়ায়’ ভুগছিলেন। আরও পরীক্ষায় তাঁর কর্মস্থলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইরকুতস্ক অঞ্চলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গোলিয়ার সীমান্তবর্তী রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে অন্য গবেষকদের সঙ্গে একটি অভিযানে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন শিপিলোভা। স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, নমুনা সংগ্রহের সময় জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব দুর্ঘটনাক্রমে ভেঙে যাওয়ার কথা চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার পর রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান আন্না পোপোভা মস্কো থেকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মাইল দূরে ইরকুতস্ক অঞ্চলে যান। এর মধ্যে রাশিয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। তবে প্লে গের প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় মহামারি বিশেষজ্ঞ মিখাইল ফাভোরভ টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, অ্যান্টি-প্লে গ প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ব্যক্তিরা সাধারণত সুরক্ষা পোশাক ব্যবহার করেন, তাই শুধু একটি টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার কারণে সং ক্র মণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। এদিকে রুশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিপিলোভার মৃ ত্যুর কারণ এবং কথিত প্লে গ প্রাদুর্ভাব নিয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও এখন পর্যন্ত প্লে গে আ ক্রা ন্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত কোনো পরীক্ষার ফল দিয়ে প্রমাণিত হয়নি।
বয়স কি উল্টো পথে চলে? তরুণ শরীরে ট্রান্সপ্লান্ট এর পর বদলে যাচ্ছে বয়স্ক হৃদপিণ্ড
বয়স্কদের রোগ এখন তরুণদেরও, ৩০ বছরে দ্বিগুণ বেড়েছে স্ট্রোকের হার