সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিজ্ঞান

নোবেল জিতে সুখবর সবার আগে সন্তানদের দিলেন বাবা, নিজ হাতে বানালেন স্যান্ডউইচ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৫:৩৭
সন্তানদের সঙ্গে নোবেলজয়ী কার্ল ডেইসেরথ (সংগৃহীত ও সম্পাদিত)
সন্তানদের সঙ্গে নোবেলজয়ী কার্ল ডেইসেরথ (সংগৃহীত ও সম্পাদিত)

নোবেল পুরস্কার জয়ের সুখবর পেয়েই তা সবার আগে সন্তানদের জানালেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্ল ডেইসেরথ। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার পাওয়ার আনন্দের মধ্যেও বাবার দৈনন্দিন দায়িত্ব থেকে সরে যাননি তিনি। সন্তানদের সুখবর জানানোর পর তাদের জন্য নিজ হাতেই বানিয়েছেন স্যান্ডউইচ।

 

২০২৬ সালের ফিজিওলজি বা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কার্ল ডেইসেরথ। অপটোজেনেটিকস নিয়ে পথপ্রদর্শক গবেষণার জন্য জার্মানির দুই বিজ্ঞানী পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেলের সঙ্গে যৌথভাবে এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

 

নোবেল জয়ের খবর ডেইসেরথ জানতে পারেন গভীর রাতে একটি ফোনকলে। এমন একটি মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দে ভেসে যাওয়ার কথা। কিন্তু খবরটি পাওয়ার পর তার কাছে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াটাই হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ।

 

স্ট্যানফোর্ডের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ডেইসেরথ প্রথমে তার দুই মেয়ে সোফি ও এমাকে নোবেল জয়ের খবর দেন। ১০ বছর বয়সী সোফি ও ১৩ বছর বয়সী এমা খবরটি শুনে বিস্মিত হয়ে যায়। এরপর তারা বাবাকে জড়িয়ে ধরে।

 

সোফি উচ্ছ্বসিত হয়ে বাবাকে বলে, ‘বাবা, তুমি তো সব পুরস্কারই জিতে ফেলেছ!’

 

এরপর ছেলে হাডসনকেও সুখবরটি জানান ডেইসেরথ। ১৬ বছর বয়সী হাডসন প্রথমে অবাক হয়ে বলে ওঠে, ‘কী? ওহ মাই গড, কী?’ এরপরই আনন্দ প্রকাশ করে বলে, ‘দারুণ!’

 

বাবার নোবেল জয়ের খবর সন্তানদের কাছে যেমন আনন্দের ছিল, তেমনি মুহূর্তটি হয়ে ওঠে পরিবারের জন্য বিশেষ স্মৃতি। তবে এই আনন্দের মধ্যেও ডেইসেরথের জীবনের আরেকটি সাধারণ দৃশ্য সামনে এসেছে—সন্তানদের জন্য খাবার তৈরি করা।

 

স্ট্যানফোর্ড জানিয়েছে, ব্যস্ত গবেষণা ও পেশাগত জীবনের মধ্যেও ডেইসেরথ প্রতিদিন তার তিন ছোট সন্তানের জন্য স্যান্ডউইচ তৈরি করার সময় বের করেন। নোবেল জয়ের দিনও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

 

তার ছেলে হাডসনের জন্য সাধারণত র‍্যাঞ্চ ড্রেসিং, চেডার চিজ, সালামি ও টার্কি দিয়ে স্যান্ডউইচ তৈরি করেন তিনি। মেয়ে সোফির পছন্দ র‍্যাঞ্চ, চেডার ও মাংসের স্যান্ডউইচ। আর এমার জন্য কিশমিশের পাউরুটিতে আমন্ড বাটার, মধু ও দারুচিনি দিয়ে স্যান্ডউইচ বানান।

 

নোবেল জয়ের মতো জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের দিনেও সন্তানদের জন্য খাবার তৈরির এই ছোট্ট অভ্যাসটিই ডেইসেরথের পারিবারিক জীবনের অন্য একটি দিক সামনে এনেছে। একদিকে তিনি বিশ্বমানের বিজ্ঞানী, অন্যদিকে সন্তানদের জন্য প্রতিদিনের দায়িত্ব পালন করা একজন বাবা।

 

ডেইসেরথ স্ট্যানফোর্ডের বায়োইঞ্জিনিয়ারিং এবং সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড বিহেভিয়ারাল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক। পাশাপাশি তিনি একজন চিকিৎসক হিসেবেও কাজ করেন। স্ট্যানফোর্ডেই তিনি এমডি ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং সেখানেই রেসিডেন্সি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

 

নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানীর মূল গবেষণার বিষয় অপটোজেনেটিকস। সহজভাবে বললে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আলো ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বিজ্ঞানীদের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

 

ডেইসেরথ নিজেই অপটোজেনেটিকস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, আলো ব্যবহার করে কোষকে চালু বা বন্ধ করা যায়। মস্তিষ্কে অসংখ্য জটিল ও পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত কোষ রয়েছে। নির্দিষ্ট কোষকে চালু বা বন্ধ করে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধারণা পরীক্ষা করতে পারেন।

 

এ বছর ডেইসেরথের সঙ্গে নোবেল পাওয়া পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেলও আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকসের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাদের কাজের ফলে স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষণায় নির্দিষ্ট কোষের কার্যক্রম সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

স্ট্যানফোর্ড জানিয়েছে, ডেইসেরথ বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩৭তম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। তার এই অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও গর্ব প্রকাশ করেছে।

 

স্ট্যানফোর্ডের প্রেসিডেন্ট জনাথন লেভিন বলেন, ডেইসেরথ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নন, তিনি এই প্রতিষ্ঠানেরই সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি স্ট্যানফোর্ড থেকে এমডি ও পিএইচডি করেছেন এবং এখানেই রেসিডেন্সি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখেন।

 

বিজ্ঞানের জগতে বড় সাফল্য অর্জনের পরও সন্তানদের জন্য স্যান্ডউইচ বানানোর মতো সাধারণ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি ডেইসেরথ। নোবেল জয়ের সুখবর সন্তানদের জানানো এবং এরপর তাদের জন্য খাবার তৈরি করার এই দুই দৃশ্যই যেন তার জীবনের দুই পরিচয়কে একসঙ্গে সামনে এনেছে—বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী এবং সন্তানদের যত্ন নেওয়া একজন বাবা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিজ্ঞান

View more
ডাইনোসরের যুগের নতুন পোকা নু-নুর জীবাশ্ম
প্রায় ১০ কোটি বছর আগের পোকার সন্ধান, শরীরের দ্বিগুণ লম্বা মুখ: নাম টেলিটাবিজের নু-নু

ডাইনোসরের যুগে পৃথিবীতে বিচরণ করা এক অদ্ভুত নতুন প্রজাতির পোকার সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ বছর আগে বেঁচে থাকা এই পতঙ্গের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে গাছের রেজিন থেকে তৈরি অ্যাম্বারের ভেতরে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, পোকার মুখের বিশেষ অঙ্গটি ছিল তার শরীরের প্রায় দ্বিগুণ লম্বা এবং অত্যন্ত নমনীয়।   নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ক্রেটোডোরাস নুনু। তবে বিজ্ঞানীদের দেওয়া এই নামের পেছনে রয়েছে শিশুদের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘টেলিটাবিজ’-এর একটি পরিচিত চরিত্র। অনুষ্ঠানের ভ্যাকুয়াম ক্লিনার নু-নুর লম্বা ও নমনীয় পাইপের সঙ্গে প্রাচীন পতঙ্গটির মুখের অঙ্গের মিল থাকায় তার নাম অনুসারেই নতুন প্রজাতিটির নামকরণ করা হয়েছে।   ইসরায়েলের স্টেইনহার্ট মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির গবেষকেরা মিয়ানমার থেকে পাওয়া কাচিন অ্যাম্বারে সংরক্ষিত এই প্রাচীন পতঙ্গের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন প্রজাতিটি শনাক্ত করেন। পোকাটি নিয়াজোনিইডি নামে পরিচিত প্রাচীন এক ধরনের প্ল্যান্টহপার পরিবারের সদস্য। এই পরিবারের আরও ১৩টি নমুনা একই ধরনের অ্যাম্বারে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে।   গবেষকদের নজর কেড়েছে পোকাটির অস্বাভাবিক মুখাঙ্গ। সাধারণভাবে এ ধরনের উদ্ভিদভুক পতঙ্গের মুখের অঙ্গ অনেকটা সূচের মতো হয়। সেটি উদ্ভিদের টিস্যুতে ঢুকিয়ে তারা গাছের তরল বা রস সংগ্রহ করে। কিন্তু ক্রেটোডোরাস নুনুর মুখাঙ্গ ছিল অনেক বেশি লম্বা, নমনীয় ও জটিল।   গবেষণায় দেখা গেছে, এই মুখাঙ্গের গায়ে ঘন ঘন ভাঁজ ছিল। কাঠামোটি অনেকটা বাঁকানো স্ট্র বা নমনীয় পাইপের মতো। এই ভাঁজ মুখাঙ্গটিকে নমনীয় রাখার পাশাপাশি চাপ পড়লে সেটি যাতে চুপসে না যায়, সেখানেও ভূমিকা রাখত বলে গবেষকদের ধারণা।   এই বিশেষ গঠনের কারণে পোকাটি গাছের বাকলের গভীর ফাটল ও সরু খাঁজের ভেতরেও পৌঁছাতে পারত বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। সেখানে থাকা উদ্ভিদের রস সংগ্রহ করাই সম্ভবত এর প্রধান খাদ্য সংগ্রহের কৌশল ছিল। শক্ত বা কম নমনীয় মুখাঙ্গের পতঙ্গ যেখানে সহজে পৌঁছাতে পারত না, সেখানে নু-নুর মতো লম্বা মুখাঙ্গ বড় সুবিধা দিতে পারে।   জীবাশ্মের কয়েকটি নমুনায় মুখাঙ্গ বাঁকানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, এটিও প্রমাণ করে যে পোকাটি জীবিত অবস্থায় তার মুখাঙ্গ বাঁকাতে ও প্রয়োজন অনুযায়ী ভাঁজ করতে পারত। অ্যাম্বারের ভেতরে এমন অবস্থায় সংরক্ষিত হওয়ায় কোটি কোটি বছর আগের এই ক্ষুদ্র প্রাণীর শারীরিক গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পেয়েছেন তারা।   পোকাটির মুখাঙ্গের শেষ প্রান্তেও ছিল আরেকটি অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। সেখানে দুটি খাঁজযুক্ত লোব বা অংশ ছিল, যা খাবার গ্রহণের সময় খুলে গিয়ে গাছের বাকলের ফাটলের দেয়ালে আটকে থাকতে সাহায্য করত বলে গবেষকেরা মনে করছেন। এটি অনেকটা কোনো গর্তের ভেতরে ঢুকে প্রসারিত হয়ে আটকে থাকা একটি দেয়াল-অ্যাঙ্করের মতো কাজ করতে পারে।   বর্তমানে বেঁচে থাকা এই প্রাচীন পরিবারের আত্মীয়দের মধ্যে এমন কাঠামো দেখা যায় না। ফলে বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি ছিল একটি বিশেষ বিবর্তনীয় অভিযোজন, যা পরবর্তী সময়ে হারিয়ে গেছে।   গবেষকেরা বলছেন, এই আবিষ্কার শুধু একটি নতুন পতঙ্গের সন্ধান পাওয়ার ঘটনা নয়। এর মাধ্যমে ডাইনোসরের যুগের বনভূমির পরিবেশ সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ের আরও কয়েকটি সম্পর্কহীন পতঙ্গের মধ্যেও এ ধরনের ভাঁজযুক্ত ও দীর্ঘ খাদ্য সংগ্রহের অঙ্গের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে।   এতে ধারণা করা হচ্ছে, ক্রিটেশাস যুগের বনভূমিতে পুরু বাকলযুক্ত গাছের উপস্থিতি এমন পতঙ্গদের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছিল, যারা গাছের বাকলের গভীর অংশে পৌঁছাতে পারত। অর্থাৎ, প্রায় ১০ কোটি বছর আগে বনভূমির পরিবেশ আজকের তুলনায় অনেক ভিন্ন ছিল এবং সেই পরিবেশে টিকে থাকতে পতঙ্গগুলোও নানা ধরনের বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য গড়ে তুলেছিল।   গবেষক লিওনিদাস-রোমানোস দাভরানোউগ্লোর মতে, প্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ বছর আগে বেঁচে থাকা নু-নুর আবিষ্কার ডাইনোসরের যুগের পতঙ্গজগতের একটি অসাধারণ চিত্র সামনে এনেছে। তার মতে, এটি শুধু বিজ্ঞানের অজানা একটি পতঙ্গের সন্ধান নয়; বরং এমন একটি বিবর্তনীয় সমাধানের প্রমাণ, যার আধুনিক যুগে প্রায় কোনো সমতুল্য নেই।   বিজ্ঞানীদের মতে, অ্যাম্বারে সংরক্ষিত এমন জীবাশ্ম কোটি কোটি বছর আগের বাস্তুতন্ত্র পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোন প্রাণী কীভাবে খাবার সংগ্রহ করত, কোন পরিবেশে তারা সুবিধা পেত এবং প্রাচীন বনভূমি কীভাবে কাজ করত—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এই ধরনের আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয়।   আর নতুন প্রজাতিটির ‘নু-নু’ নামটি সেই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। টেলিটাবিজের পরিচিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মতোই এই প্রাচীন পতঙ্গের মুখ ছিল লম্বা ও নমনীয়। তবে কোটি কোটি বছর আগে বেঁচে থাকা এই ক্ষুদ্র প্রাণীর সেই অদ্ভুত মুখের পেছনে ছিল টিকে থাকার এক জটিল বিবর্তনীয় কৌশল।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৭:৭
সন্তানদের সঙ্গে নোবেলজয়ী কার্ল ডেইসেরথ (সংগৃহীত ও সম্পাদিত)

নোবেল জিতে সুখবর সবার আগে সন্তানদের দিলেন বাবা, নিজ হাতে বানালেন স্যান্ডউইচ

জাপানের বিজ্ঞানীরা রোবটের শরীরে ব্যবহারের জন্য মানুষের মতো ক্ষত সারাতে সক্ষম চামড়া তৈরি করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

রোবটের আঙুলে এখন জীবন্ত মানবচামড়া, সাধারণ ব্যান্ডেজে নিজেই সারাল ক্ষত

১৯৬০ সালের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বরকে ‘ডুমসডে’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

এই বছরের ১৩ নভেম্বর ‘পৃথিবী ধ্বংসের’ পূর্বাভাস! কী বলেছিল সেই গবেষণা

শনি গ্রহের বরফে ঢাকা রহস্যময় উপগ্রহ এনসেলাডাসের ভূপৃষ্ঠ ও বরফের ফাটল। ছবি: সংগৃহীত
শনির চাঁদে প্রাণের সম্ভাবনা, নতুন গবেষণায় মিলল আশাব্যঞ্জক তথ্য

শনি গ্রহের বরফে ঢাকা উপগ্রহ এনসেলাডাসে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন গবেষণায় আশাব্যঞ্জক তথ্য পাওয়া গেছে। পরীক্ষাগারে এনসেলাডাসের সম্ভাব্য সমুদ্রের মতো পরিবেশ তৈরি করে গবেষকেরা দেখেছেন, পৃথিবীর একটি বিশেষ ধরনের অণুজীব অত্যন্ত কঠিন পরিবেশেও টিকে থাকতে এবং মিথেন তৈরি করতে পারে। তবে এনসেলাডাসে সত্যিই প্রাণ রয়েছে, এমন কোনো সরাসরি প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।   ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে’ প্রকাশিত গবেষণায় এনসেলাডাসের সমুদ্রের সম্ভাব্য রাসায়নিক পরিবেশ এবং সেখানে অণুজীবের টিকে থাকার বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়। গবেষকেরা পরীক্ষাগারে উপগ্রহটির সমুদ্রের সম্ভাব্য পরিবেশ তৈরি করে পৃথিবীর একটি অণুজীব সেখানে কেমন আচরণ করে, তা পর্যবেক্ষণ করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেও অণুজীবটি বৃদ্ধি পেতে এবং মিথেন উৎপাদন করতে সক্ষম।   গবেষণায় ‘মিথানোথার্মোকক্কাস ওকিনাওয়েনসিস’ নামের একটি অণুজীব ব্যবহার করা হয়। পৃথিবীর গভীর সমুদ্রের উষ্ণ জলীয় উৎসের কাছাকাছি এ ধরনের অণুজীব পাওয়া যায়। এটি হাইড্রোজেন ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে মিথেন তৈরি করতে পারে। এনসেলাডাসের সম্ভাব্য সমুদ্রের পরিবেশে একই ধরনের প্রক্রিয়া সম্ভব কি না, সেটিই পরীক্ষার অন্যতম বিষয় ছিল।   গবেষকেরা পরীক্ষাগারে অত্যন্ত ক্ষারীয় পরিবেশ তৈরি করেন এবং সেখানে হাইড্রোজেনের উপস্থিতি রাখেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, অণুজীবটি এমন কঠিন পরিবেশেও বৃদ্ধি পেতে এবং মিথেন উৎপাদন করতে পারে। পরীক্ষিত পরিবেশে এটি প্রায় ১১ পিএইচ মাত্রা পর্যন্ত টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে। এই ফল এনসেলাডাসের সম্ভাব্য পরিবেশে পৃথিবীর কিছু অণুজীবের মতো জীব টিকে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে।   বিজ্ঞানীদের ধারণা, এনসেলাডাসের পাথুরে অভ্যন্তর এবং পানির মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে হাইড্রোজেন তৈরি হতে পারে। এই হাইড্রোজেন যদি উপগ্রহটির সমুদ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে উপস্থিত থাকে, তাহলে পৃথিবীর কিছু অণুজীবের মতো জীবের জন্য সেটি শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। নতুন গবেষণায় পরীক্ষাগারে পাওয়া ফল সেই সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।   এনসেলাডাসকে ঘিরে বিজ্ঞানীদের আগ্রহের অন্যতম কারণ এর বরফের নিচে তরল পানির সমুদ্র থাকার শক্তিশালী প্রমাণ। উপগ্রহটির দক্ষিণ মেরুর বরফের ফাটল দিয়ে পানীয় বাষ্প ও বরফের ক্ষুদ্র কণা মহাকাশে ছিটকে বেরিয়ে আসে। নাসার ক্যাসিনি মহাকাশযান এসব কণার মধ্য দিয়ে উড়ে গিয়ে সেগুলোর রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণ করেছিল।   ক্যাসিনির সংগৃহীত তথ্য থেকে বিজ্ঞানীরা পানি, লবণ, জৈব যৌগ এবং অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছেন। এসব তথ্যের কারণে বিজ্ঞানীদের ধারণা, এনসেলাডাসের বরফের নিচে শুধু তরল পানিই নয়, জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু রাসায়নিক উপাদানও থাকতে পারে। তবে এসব উপাদানের উপস্থিতি সেখানে প্রাণ থাকার সরাসরি প্রমাণ নয়।   ২০২৩ সালে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় এনসেলাডাস থেকে বেরিয়ে আসা বরফকণায় ফসফেট শনাক্ত করা হয়। ফসফরাস জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ওই গবেষণার ফল ইঙ্গিত দেয়, এনসেলাডাসের সমুদ্রে প্রাণের রাসায়নিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ফসফরাসের উপস্থিতি থাকতে পারে। এই তথ্যও উপগ্রহটির সমুদ্রকে প্রাণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।   ২০২৫ সালে নাসার গবেষকেরা ক্যাসিনির সংগ্রহ করা তথ্য নতুনভাবে বিশ্লেষণ করে এনসেলাডাসের সমুদ্র থেকে সরাসরি বেরিয়ে আসা বরফকণায় আগে শনাক্ত না হওয়া বেশ কিছু জৈব যৌগের সন্ধান পান। এসব জৈব যৌগকে প্রাণের প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তবে এগুলোর উপস্থিতি এনসেলাডাসের ভেতরে জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলার সম্ভাবনা তুলে ধরে।   ২০২৬ সালের নতুন গবেষণাগুলোতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। এনসেলাডাসের সমুদ্র থেকে বেরিয়ে আসা পানির কণা বরফে পরিণত হওয়ার সময় বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান একে অন্যের থেকে আলাদা হয়ে যেতে পারে। এর ফলে কিছু বরফকণায় জৈব পদার্থ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান তুলনামূলক বেশি ঘন হয়ে থাকতে পারে।   এই বিষয়টি ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এনসেলাডাসের বরফের নিচে থাকা সমুদ্রে সরাসরি পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু দক্ষিণ মেরুর ফাটল দিয়ে যে বরফকণা ও বাষ্প মহাকাশে বেরিয়ে আসে, সেগুলো সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেই ভেতরের সমুদ্রের রাসায়নিক পরিবেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া কোনো তথ্যকেই এনসেলাডাসে প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। পরীক্ষাগারে পৃথিবীর একটি অণুজীব এনসেলাডাসের মতো পরিবেশে টিকে থাকতে পারা শুধু এটিই দেখায় যে ওই ধরনের পরিবেশে জীবনের কিছু ধরন টিকে থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে। বাস্তবে এনসেলাডাসের সমুদ্রে এমন কোনো জীব রয়েছে কি না, সেটি এখনো অজানা।   বিজ্ঞানীদের পরবর্তী লক্ষ্য এনসেলাডাস থেকে বেরিয়ে আসা বরফ ও বাষ্পের মধ্যে এমন রাসায়নিক বা জৈব চিহ্ন খুঁজে বের করা, যা সরাসরি জীবনের অস্তিত্বের দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। ভবিষ্যতের কোনো মহাকাশ অভিযানে সেখানে জীবকোষ, নির্দিষ্ট জৈব অণু কিংবা শক্তিশালী জীবচিহ্ন শনাক্ত করা সম্ভব হলে পৃথিবীর বাইরে জীবনের সন্ধানে সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে বিবেচিত হবে।   এখন পর্যন্ত এনসেলাডাসে কোনো প্রাণ পাওয়া যায়নি। তবে বরফের নিচে তরল পানির সমুদ্র, রাসায়নিক শক্তির সম্ভাব্য উৎস, ফসফরাস, জৈব যৌগ এবং পরীক্ষাগারে পৃথিবীর অণুজীবের এমন পরিবেশে টিকে থাকার সক্ষমতা শনির এই বরফময় উপগ্রহকে প্রাণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। নতুন গবেষণার ফল সেই অনুসন্ধানে আরও একটি তথ্য যোগ করেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১২:১৫
এআইয়ের সহায়তায় ৯ মাসে ২০০ গবেষণাপত্র

এআইয়ের সহায়তায় ৯ মাসে ২০০ গবেষণাপত্র, সমালোচনার মুখে শিকাগোর অধ্যাপক!

ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির গবেষণায় পৃথিবীর কক্ষপথে স্যাটেলাইট নিয়ে আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্ধকারতম আকাশেও স্যাটেলাইটের আলো, ১৬ হাজারের মধ্যে ১০ হাজারের বেশি মাস্কের

ছবি: সংগৃহীত

এআইয়ের ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে মানবজাতির ঝুঁকি

প্রাগৈতিহাসিক যুগের অন্যতম ভয়ংকর শিকারি প্রাণী ছিল টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্স। ছবি: সংগৃহীত
৬ কোটি ৬০ লাখ বছর পর জানা গেল, কীভাবে মারা গিয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে ভারী মাংসাশী ডাইনোসর

প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বিশাল শিকারি ডাইনোসর টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্সের শেষ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রহস্যের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ‘স্কটি’ নামে পরিচিত সবচেয়ে বড় আবিষ্কৃত টি-রেক্সের একটি পাঁজরের হাড়ে পাওয়া আঘাত ও সংরক্ষিত রক্তনালির চিহ্ন বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা ধারণা করছেন, অন্য একটি ডাইনোসরের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।   স্কটির জীবাশ্ম ১৯৯১ সালে কানাডার সাসকাচেওয়ানের ফ্রেঞ্চম্যান রিভার ভ্যালিতে আবিষ্কৃত হয়। রয়্যাল সাসকাচেওয়ান মিউজিয়ামের গবেষকেরা সেখানে এর কঙ্কালের সন্ধান পান। জীবদ্দশায় স্কটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪৩ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ১৯ হাজার ৫০০ পাউন্ড বা প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কেজি। এই বিশাল আকারের কারণে স্কটিকে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় টি-রেক্স কঙ্কাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   তবে স্কটির গুরুত্ব শুধু আকারে নয়। এর একটি পাঁজরের হাড়ে এমন নরম টিস্যুর অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, যা কোটি কোটি বছর টিকে থাকার পরও গবেষণার উপযোগী অবস্থায় ছিল। বিশেষ করে সেখানে খনিজে পরিণত হয়ে যাওয়া রক্তনালির একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের চিহ্ন পাওয়া গেছে। জীবাশ্মে এ ধরনের রক্তনালির কাঠামো সংরক্ষিত থাকা অত্যন্ত বিরল।   এই অস্বাভাবিক সংরক্ষণই গবেষকদের স্কটির জীবনের শেষ অধ্যায় সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনার পদার্থবিজ্ঞানীরা। দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাউরিসিও বারবি এবং পিএইচডি গবেষক জেরিট মিচেল। জীবাশ্মের ভেতরের গঠন না কেটে বা ক্ষতিগ্রস্ত না করে দেখার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে অবস্থিত মার্কিন জ্বালানি বিভাগের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে নিউট্রন ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেন।   এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্কটির পাঁজরের ভেতরের গঠন ত্রিমাত্রিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। সাধারণ এক্স-রে যেখানে মূলত ঘন হাড়ের গঠন দেখাতে কার্যকর, সেখানে নিউট্রন বিভিন্ন হালকা মৌল, বিশেষ করে হাইড্রোজেনের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে। ফলে জীবাশ্মের ভেতরে থাকা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ক্ষীণ টিস্যুর চিহ্নও আলাদা করে দেখা সম্ভব হয়েছে।,   গবেষকদের ধারণা, স্কটির পাঁজরটি জীবদ্দশায় ভেঙে গিয়েছিল। আঘাতের পর শরীর স্বাভাবিকভাবে হাড়টি সারিয়ে তোলার চেষ্টা শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আয়রনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছায় এবং সেখানে নতুন রক্তনালির একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। সেই রক্তনালির খনিজায়িত চিহ্নই কয়েক কোটি বছর পর গবেষকদের সামনে স্কটির আঘাতের প্রমাণ হিসেবে ধরা দেয়।   কীভাবে পাঁজরটি ভেঙেছিল, সে বিষয়ে গবেষকেরা একটি সম্ভাবনার কথা বলছেন। ধারণা করা হচ্ছে, শিকার বা সংঘর্ষের সময় অন্য কোনো ডাইনোসরের সঙ্গে লড়াইয়ে স্কটি আঘাত পেয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কোন প্রাণীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছিল বা ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল, তা জীবাশ্ম থেকে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।   গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাঁজরের হাড়ে সেরে ওঠার চিহ্ন পাওয়া গেলেও সেটি পুরোপুরি জোড়া লাগেনি। অর্থাৎ আঘাতের পর কিছু সময় স্কটি বেঁচে ছিল এবং তার শরীর ক্ষত সারানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। তাই পাঁজরের আঘাতটি তার মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করলেও, এটিই মৃত্যুর একমাত্র কারণ ছিল বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।   স্কটির মৃত্যুর পর তার দেহ কীভাবে এত সূক্ষ্ম টিস্যু সংরক্ষণ করতে পেরেছিল, সেটিও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিজ্ঞানীদের মতে, সে একটি লবণাক্ত জলাভূমিতে মারা গিয়ে থাকতে পারে। এমন পরিবেশে অক্সিজেনের প্রবেশ সীমিত থাকায় পচন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে সাধারণত দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা এমন নরম টিস্যুর কিছু অংশ দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।   স্কটির পাঁজরে সংরক্ষিত রক্তনালির আবিষ্কারের সূত্রপাত অবশ্য আরও কয়েক বছর আগে। ২০২০ সালে তৎকালীন স্নাতক শিক্ষার্থী জেরিট মিচেল স্কটির পাঁজর নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এক্স-রে ভিত্তিক মাইক্রো-সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে অস্বাভাবিক কাঠামো শনাক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে কানাডিয়ান লাইট সোর্সে আরও উন্নত এক্স-রে প্রযুক্তি ও অণুবীক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে সেই কাঠামো নিয়ে গবেষণা করা হয়।   ২০২৬ সালের এপ্রিলে গবেষক দল ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে গিয়ে নিউট্রনভিত্তিক দুটি যন্ত্র ব্যবহার করে স্কটির পাঁজর পরীক্ষা করে। এর মধ্যে একটি পদ্ধতিতে বড় হাড়ের ভেতরের গঠন অক্ষত রেখেই পরীক্ষা করা হয়। নিউট্রন পরীক্ষার ফল আগের এক্স-রে গবেষণার সঙ্গে মিলে যায় এবং রক্তনালির অস্তিত্ব সম্পর্কে পাওয়া তথ্যকে আরও শক্তিশালী করে।   ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনার অধ্যাপক মাউরিসিও বারবি এই আবিষ্কারকে লটারি জেতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। কারণ কোটি কোটি বছর পুরোনো একটি ডাইনোসরের হাড়ের ভেতরে এত বিস্তৃত রক্তনালির কাঠামো সংরক্ষিত থাকা গবেষকদের জন্য অত্যন্ত বিরল সুযোগ।   গবেষণায় যুক্ত পিএইচডি গবেষক জেরিট মিচেলের মতে, প্রতিটি জীবাশ্ম অতীতের একটি ছোট্ট মুহূর্তের ছবি। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেই ছবির ভেতরের আরও সূক্ষ্ম তথ্য বের করে আনা সম্ভব হচ্ছে। ফলে শুধু ডাইনোসরের আকার বা কঙ্কালের গঠন নয়, তারা কীভাবে আহত হতো এবং তাদের শরীর কীভাবে সেই আঘাত সারানোর চেষ্টা করত, সে বিষয়েও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।   গবেষকদের কাছে এই কাজের আরেকটি বড় গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বহু পুরোনো জীবাশ্ম সংরক্ষিত রয়েছে। সেগুলোর অনেকগুলোর ভেতরেও হয়তো এমন অদৃশ্য তথ্য লুকিয়ে আছে, যা প্রচলিত পদ্ধতিতে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিউট্রন ইমেজিং ও উন্নত এক্স-রে প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার ভবিষ্যতে সেই তথ্য সামনে আনার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।   অর্থাৎ, প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে মারা যাওয়া স্কটির কঙ্কাল আজও বিজ্ঞানীদের কাছে শুধু একটি বিশাল টি-রেক্সের নিদর্শন নয়। এর ভাঙা পাঁজর, ক্ষত সারানোর চেষ্টা এবং সংরক্ষিত রক্তনালির চিহ্ন সেই প্রাণীর জীবনের শেষ সময় সম্পর্কে এমন তথ্য দিচ্ছে, যা এত দিন জীবাশ্মের ভেতরেই অদৃশ্য ছিল।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনা, কানাডিয়ান লাইট সোর্স, এনডিটিভি

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৬:৪৭
একই ধরনের অটিজম বৈশিষ্ট্যের মানুষদের মধ্যেই বন্ধুত্ব-সম্পর্কের টান বেশি

একই ধরনের অটিজম বৈশিষ্ট্যের মানুষদের মধ্যেই বন্ধুত্ব-সম্পর্কের টান বেশি

হৃদ্‌যন্ত্রের অকার্যকারিতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ফ্রান্সের কারমাট কোম্পানির তৈরি কৃত্রিম হৃদযন্ত্র ‘এইসন’। ছবি: সংগৃহীত

ডোনার ছাড়াই বাঁচার নতুন আশা, ফ্রান্সের তৈরি কৃত্রিম হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনে নতুন সম্ভাবনা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স খাতে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারের শীর্ষস্থান দখল করছে চীন। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের আমেরিকা যখন চীনের রোবট নিয়ে হাসছে, তখন রোবট প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে শি জিনপিংয়ের চীন

0 Comments