সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যাংকিং ক্যারিয়ার ছেড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছেন নায়লা শারাফ। ছবি: সংগৃহীত
বুয়েটের ডিগ্রি, বিসিএস ক্যাডারের চাকরি ছেড়ে প্রাথমিকের শিক্ষক নায়লা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর সামনে ছিল প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ারের একাধিক সুযোগ। এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করেছেন, জনতা ব্যাংকে ছিলেন এক্সিকিউটিভ অফিসার। ৩৪তম বিসিএসেও কোয়ালিফাই করেছিলেন। তারপরও সেই পরিচিত পথ ছেড়ে নায়লা শারাফ বেছে নিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা। বর্তমানে তিনি নেত্রকোণা সদরের পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন।   ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর নায়লা প্রথমে এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। তবে অল্পদিনের মধ্যেই সেই চাকরি ছেড়ে দেন। পরে জনতা ব্যাংকে এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে যোগ দিলেও সেখানেও স্থায়ী হননি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তিনি প্রচলিত অর্থে আরও মর্যাদাপূর্ণ সরকারি চাকরির পথে যাননি। শেষ পর্যন্ত শিশুদের পড়ানোর মধ্যেই নিজের পছন্দের জায়গা খুঁজে নেন।   নায়লার ভাষ্য, অর্থ বা বড় পদ তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য নয়। সাধারণ জীবন এবং নিজের কাজ থেকে পাওয়া মানসিক তৃপ্তিকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পান, সেটিই তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি।   শুধু পাঠ্যবইয়ের পড়া শেষ করাই তাঁর লক্ষ্য নয়। শিক্ষার্থীদের জন্য নিজে হাতে ছবি আঁকা, বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন তিনি। স্কুলের প্রান্তিক পরিবারের শিশুরাও যেন শহরের ভালো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো মানসম্মত শিক্ষা পায়, সেই লক্ষ্যেই বাড়তি সময় দিয়ে কাজ করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের সততা, সাহস এবং নৈতিকতার বিষয়েও গুরুত্ব দেন নায়লা। কোন কাজ সঠিক আর কোনটি ভুল, তা যেন তারা নিজের বিবেক দিয়ে বুঝতে শেখে, সেই মানসিকতা তৈরির চেষ্টা করেন তিনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লীলা রানী ভৌমিকও নায়লার পাঠদানের ধরন, দায়িত্ববোধ এবং শিশুদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন।   নায়লা নিজেও একসময় ভিকারুন্নিসা নূন স্কুলে পড়েছেন। সেখানকার শিক্ষা ও সুযোগের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি চান, প্রান্তিক এলাকার শিশুরাও যেন একইভাবে নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তোলার সুযোগ পায়। গত সাত বছর ধরে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।   তবে বুয়েটের ডিগ্রি নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সিদ্ধান্ত সহজভাবে নেননি সবাই। পরিচিতজন ও স্বজনদের কাছ থেকেও নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাঁকে। তারপরও নিজের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন নায়লা। তাঁর কাছে বড় চাকরির পরিচয়ের চেয়ে শিশুদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   নিজের পেশা সম্পর্কে নায়লার উপলব্ধিও স্পষ্ট। অন্য কোথাও কাজ করলে হয়তো বেশি অর্থ বা সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়া যেত, কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা তিনি পান, সেটিই তাঁর কাছে আলাদা। সেই ভালোবাসা এবং শিশুদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগই তাঁকে এই পেশায় ধরে রেখেছে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১২:৩
কম্বোডিয়ার সিহানুকভিলে আটতলা থেকে টিনের ছাদে পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
আটতলা থেকে নিচে পড়ে গিয়েও উঠে ফোনে ব্যস্ত নারী, রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য

কম্বোডিয়ার সিহানুকভিলে একটি ভবনের আটতলা থেকে পড়ে পাশের বাড়ির টিনের ছাদে আছড়ে পড়ার পরও এক নারীর উঠে বসা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরের দিকে ঘটনাটি ঘটে। তবে ওই নারীর পরিচয়, তিনি কীভাবে নিচে পড়লেন এবং পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে একটি বাড়ির ঢেউটিনের ছাদের ওপর ওই নারীকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিএনবি নিউজের তথ্য উদ্ধৃত করে একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি পাশের একটি ভবনের আটতলা থেকে নিচে পড়েছিলেন। প্রচণ্ড আঘাতে টিনের ছাদের একটি অংশও দেবে যায় বলে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে।   ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন প্রথমে আশঙ্কা করেছিলেন, এত ওপর থেকে পড়ে ওই নারী হয়তো গুরুতর আহত হয়েছেন বা তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু প্রায় ৩০ মিনিট পর পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি চেতনা ফিরে পেয়ে নিজেই উঠে বসেন। এরপর মোবাইল ফোন বের করে প্রায় ২০ মিনিট সেটি ব্যবহার করতে থাকেন।   ঘটনার এই অংশের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। প্রকাশিত ভিডিওতে ওই নারীকে টিনের ছাদের ওপর নড়াচড়া করতে এবং পরে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াতে দেখা যায়। নিচে বেশ কয়েকজন মানুষ অবস্থান করছিলেন এবং তাঁদের কয়েকজনকে আলো ফেলে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়।   সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত ওই নারী নিজেই ছাদ থেকে নিচে নেমে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল কি না অথবা পরে চিকিৎসা নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। ফলে ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে চলে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি কোনো ধরনের আঘাত পাননি।   কী কারণে তিনি ভবন থেকে নিচে পড়েছিলেন, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। এটি দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা ছিল, সে বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত কোনো বক্তব্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাঁর নাম, বয়স কিংবা নাগরিকত্বও প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়ালেও ওই নারীর শারীরিক অবস্থা বা পড়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে অনুমান করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো নেই। এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে, সিহানুকভিলে ওই নারী উঁচু ভবন থেকে একটি টিনের ছাদের ওপর পড়েছিলেন, কিছু সময় পর উঠে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন এবং পরে নিজেই সেখান থেকে নেমে চলে যান। তাঁর পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে আর কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১১:৩৮
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রতি বছর প্রচুর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দেশটিতে যান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি, স্টাইপেন্ডের টাকায় থাকা কতটা সম্ভব! জেনে নিন বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বড় একটি প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া স্টাইপেন্ড দিয়ে কি থাকা, খাওয়া ও দৈনন্দিন খরচ চালানো সম্ভব? এর একক উত্তর নেই। অনেক ক্ষেত্রে স্টাইপেন্ড দিয়ে জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় খরচ সামলানো সম্ভব হলেও সেটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ও শহর, ফান্ডিং প্যাকেজ, টিউশন ওয়েভার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত খরচের ওপর নির্ভর করে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এডুকেশনইউএসএ বলছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনার আর্থিক পরিকল্পনা করার সময় শুধু টিউশন নয়, ফি ও জীবনযাত্রার খরচও একসঙ্গে হিসাব করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক শহর থেকে অন্য শহরে থাকার খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকায় সাধারণত জীবনযাত্রার খরচ বড় শহরের তুলনায় কম হতে পারে।   ধরা যাক, কোনো শিক্ষার্থী মাসে ২ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড পাচ্ছেন। শুধু এই অঙ্ক দেখে ফান্ডিং ভালো না খারাপ, তা নির্ধারণ করা কঠিন। প্রথমে দেখতে হবে টিউশন পুরোপুরি মওকুফ হচ্ছে কি না, বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ বহন করছে কি না, শিক্ষার্থীকে আলাদা কোনো ফি দিতে হবে কি না এবং স্টাইপেন্ড থেকে প্রযোজ্য ট্যাক্স কাটার পর হাতে কত থাকবে। এরপর সেই অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহরের রেন্ট, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ তুলনা করতে হবে।   এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের সময় টিউশন, ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মিলিয়ে সম্পূর্ণ বাজেট তৈরির পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে গ্র্যাজুয়েট টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার এবং স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ খুঁজতে বলা হয়েছে। এ ধরনের সুযোগ বিশেষ করে পিএইচডি পর্যায়ে খুবই প্রচলিত।   শিক্ষার্থীর মাসিক বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ সাধারণত হাউজিংয়ে চলে যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একা অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে থাকলে খরচ বেশি হতে পারে। রুমমেটের সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্ট শেয়ার করলে সেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। আবার ক্যাম্পাস থেকে দূরে কম রেন্টের বাসা পাওয়া গেলেও যাতায়াতের জন্য বাড়তি অর্থ খরচ হতে পারে। তাই শুধু রেন্ট নয়, রেন্ট ও ট্রান্সপোর্টেশন মিলিয়ে প্রকৃত খরচ হিসাব করা জরুরি।   খাবারের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। নিয়মিত বাইরে খাওয়া এবং বাসায় রান্না করার মাসিক খরচে বড় পার্থক্য হতে পারে। গ্রোসারি কিনে রান্না করা, আগে থেকে খাবারের পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কম দামের দোকান বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।   ট্রান্সপোর্টেশনের খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। নিউইয়র্ক, বোস্টন বা শিকাগোর মতো গণপরিবহননির্ভর এলাকায় অনেক শিক্ষার্থী গাড়ি ছাড়াই চলতে পারেন। অন্যদিকে ছোট শহর বা সাবার্বে গণপরিবহন সীমিত হলে গাড়ির প্রয়োজন হতে পারে। তখন শুধু গাড়ি কেনার দাম নয়, কার ইন্স্যুরেন্স, গ্যাস, মেইনটেন্যান্স ও রেজিস্ট্রেশনের খরচও মাসিক বাজেটে যোগ হয়।   এ কারণেই একই অঙ্কের স্টাইপেন্ড দুই শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। তুলনামূলক কম খরচের শহরে মাসে ২ হাজার ডলার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো সম্ভব হতে পারে, কিন্তু ব্যয়বহুল শহরে একই অর্থের বড় অংশ শুধু রেন্টেই চলে যেতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং বা স্টাইপেন্ডের অঙ্কের পাশাপাশি স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচও বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   মাস্টার্স ও পিএইচডির ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। এডুকেশনইউএসএর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার অথবা স্টাইপেন্ড দেওয়ার ব্যবস্থা পিএইচডি পর্যায়ে বিশেষভাবে প্রচলিত। মাস্টার্সেও ফান্ডিং পাওয়া যায়, তবে সেটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।   তাই যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডিতে ভর্তি হলেই স্টাইপেন্ড পাওয়া যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। কোনো অফার গ্রহণের আগে শিক্ষার্থীকে অ্যাডমিশন লেটার ও ফান্ডিং অফারের শর্ত ভালোভাবে পড়তে হবে। স্টাইপেন্ড কত, কত মাস দেওয়া হবে, সামার ফান্ডিং আছে কি না, টিউশন কতটা ওয়েভ করা হচ্ছে, বাধ্যতামূলক ফি কত এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কতটা বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে, এসব তথ্য পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।   সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্টাইপেন্ডের টাকায় একজন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর থাকা সম্ভব কি না, তার উত্তর শুধু স্টাইপেন্ডের অঙ্কে পাওয়া যাবে না। আসল হিসাব হলো সব কাটাকাটির পর হাতে কত টাকা থাকবে এবং সেই শহরে বাস্তবে প্রতি মাসে কত খরচ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম বাছাইয়ের আগে এই দুই অঙ্ক পাশাপাশি রেখে হিসাব করলে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১১:২৭
১৯৬০ সালের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বরকে ‘ডুমসডে’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
এই বছরের ১৩ নভেম্বর ‘পৃথিবী ধ্বংসের’ পূর্বাভাস! কী বলেছিল সেই গবেষণা

২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বরকে ‘ডুমসডে’ বা বিপর্যয়ের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছিল ১৯৬০ সালে সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র। সেই তারিখ সামনে আসায় গবেষণাটি আবার আলোচনায় এসেছে। তবে এটিকে ওই দিন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। গবেষণার মূল বিষয় ছিল অতীতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে কী ঘটতে পারে, তার গাণিতিক হিসাব।    গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালের ৪ নভেম্বর। এর শিরোনাম ছিল ‘ডুমসডে: ফ্রাইডে, ১৩ নভেম্বর, এডি ২০২৬’। গবেষণার লেখক হাইঞ্জ ফন ফোরস্টার, প্যাট্রিসিয়া এম. মোরা ও লরেন্স ডব্লিউ. অ্যামিয়ট তখন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গবেষণাপত্রের শুরুতেই বলা হয়েছিল, আগের দুই হাজার বছরের মতো জনসংখ্যা বাড়তে থাকলে আলোচিত তারিখে মানুষের সংখ্যা অসীমের দিকে এগোবে।    এই হিসাব তৈরিতে গবেষকেরা ঐতিহাসিক জনসংখ্যার তথ্য ব্যবহার করেন। তাঁদের সমীকরণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি সময়ের সঙ্গে আরও দ্রুত হওয়ার ধারণা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই প্রবণতাকে ভবিষ্যতে সম্প্রসারণ করেই ২০২৬ সালের তারিখটি পাওয়া যায়। ফলে গবেষণার সিদ্ধান্তটি নির্ভর করছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের ওপর: অতীতের বৃদ্ধির ধারা ভবিষ্যতেও একইভাবে চলতে হবে। এটি পৃথিবী ধ্বংসের কোনো ভৌত প্রক্রিয়া শনাক্ত করার গবেষণা ছিল না।    কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক অ্যালান ম্যাকইচার্ন সম্প্রতি দ্য কনভারসেশনে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে গবেষণাটির দীর্ঘদিনের প্রভাব তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্বাভাবিক শিরোনাম এবং গাণিতিক যুক্তির কারণে গবেষণাটি সংবাদমাধ্যম ও শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক মনোযোগ পায়। টাইম ও নিউইয়র্ক টাইমসে এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। জিনতত্ত্ব, বাস্তুসংস্থান ও জনমিতির বিভিন্ন পাঠ্যবইয়েও সমীকরণটির উল্লেখ আসে।    ম্যাকইচার্নের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে ওই সমীকরণ থেকে পাওয়া জনসংখ্যার পূর্বাভাস অনেক জনমিতিবিদের হিসাবের তুলনায় ভালোভাবে মিলেছিল। তবে প্রায় ১৯৯৩ সাল থেকে বাস্তব জনসংখ্যা গবেষণাটির পূর্বাভাসের তুলনায় কম হতে থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, গবেষকেরা বৈশ্বিক জন্মহার অর্ধেকে নামানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই হার ১৯৬০ সালের অর্ধেকেরও কিছুটা নিচে নেমেছে।    বিশ্বের জনসংখ্যা নিয়ে জাতিসংঘের পূর্বাভাসও ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪’ অনুযায়ী, বৈশ্বিক জনসংখ্যা ২০২৪ সালের প্রায় ৮২০ কোটি থেকে বেড়ে ২০৮০-এর দশকের মাঝামাঝি প্রায় ১ হাজার ৩০ কোটিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এরপর শতাব্দীর শেষ নাগাদ তা কিছুটা কমে প্রায় ১ হাজার ২০ কোটিতে নামতে পারে। এই পূর্বাভাসে জনসংখ্যা অসীমের দিকে যাওয়ার কথা বলা হয়নি।    সুতরাং ১৯৬০ সালের গবেষণাটি বুঝতে এর শিরোনামের পাশাপাশি হিসাবের শর্তও বিবেচনায় নিতে হবে। অতীতের তথ্য থেকে তৈরি একটি জনসংখ্যা সমীকরণকে নির্দিষ্ট দিনে পৃথিবী ধ্বংসের প্রমাণ হিসেবে দেখানোর ভিত্তি নেই। পরবর্তী দশকগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা বদলে যাওয়ায় ‘ডুমসডে’র সেই হিসাবও বাস্তব প্রবণতার সঙ্গে আর মিলছে না। 

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১১:৯
বাসভবনে পুলিশের তল্লাশি ও পরবর্তী গ্রেপ্তারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। ছবি: সংগৃহীত
এপস্টেইন নথি তল্লাশি নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে শরণাপন্ন অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর তাঁর বাসভবনে পুলিশের তল্লাশি ও পরবর্তী গ্রেপ্তারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি থেকে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এবং সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই পুলিশ তল্লাশি চালায়।   দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেমস ভ্যালি পুলিশের নেওয়া সার্চ ওয়ারেন্ট আইনসম্মত ছিল কি না, সেটিই এখন আইনি লড়াইয়ের মূল বিষয়। হাইকোর্টের বিচারপতি মিস্টার জাস্টিস হিলিয়ার্ডের সামনে বৃহস্পতিবার একটি ব্যক্তিগত শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে অ্যান্ড্রুর জুডিশিয়াল রিভিউ আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি প্রকাশ করা যাবে কি না, তা নিয়েও সিদ্ধান্ত হতে পারে।   ফেব্রুয়ারিতে একটি ওল্ড বেইলি বিচারকের অনুমোদিত ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে পুলিশ স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে অ্যান্ড্রুর বাসভবন এবং উইন্ডসরের তাঁর সাবেক বাড়ি রয়্যাল লজে তল্লাশি চালায়। এরপর সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের সন্দেহে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।   ১৯ ফেব্রুয়ারি, তাঁর ৬৬তম জন্মদিনে অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাঁর ব্রিটিশ ট্রেড এনভয় হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার সন্দেহ। এপস্টেইন ছিলেন যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এক মার্কিন অর্থলগ্নিকারী।   গ্রেপ্তারের পর অ্যান্ড্রুকে সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে তদন্তাধীন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে এখনো কোনো দোষ প্রমাণিত হয়নি এবং চলমান তদন্তে অভিযোগগুলো যাচাই করছে পুলিশ।   পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট অ্যান্ড্রুকে পুলিশের তল্লাশি কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার অনুমতি দেয়। এখন তাঁর আইনজীবীরা আদালতে জানতে চাইছেন, যে ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল সেটি যথাযথ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেছিল কি না।   টেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে তাদের তদন্ত চলমান। একই সঙ্গে পূর্বে নেওয়া ওয়ারেন্ট সম্পর্কিত আইনি প্রক্রিয়ায় তারা যুক্ত রয়েছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।   সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণ যুক্তরাজ্যের আইনে বিস্তৃত পরিসরের আচরণকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। এর মধ্যে গোপন আর্থিক বা সরকারি তথ্য শেয়ার করা, দায়িত্বে ইচ্ছাকৃত অবহেলা, দুর্নীতি, স্বার্থের সংঘাত, অসৎ আচরণ এবং ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো বিষয় থাকতে পারে।   অ্যান্ড্রুকে ঘিরে এপস্টেইন সম্পর্কিত বিতর্ক নতুন নয়। গত বছরের শেষ দিকে রাজা তৃতীয় চার্লস তাঁর ছোট ভাই অ্যান্ড্রুর প্রিন্স উপাধি ব্যবহারের অধিকার এবং ডিউক অব ইয়র্কের মর্যাদা প্রত্যাহার করেন। এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে বিতর্ক চলছিল, তার প্রেক্ষাপটেই ওই সিদ্ধান্ত আসে।   ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এই আইনি চ্যালেঞ্জকে ঐতিহাসিকভাবে বিরল ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬৪৯ সালে রাজা প্রথম চার্লসের বিচার হওয়ার পর রাজপরিবারের কোনো সদস্যের পক্ষ থেকে ফৌজদারি প্রক্রিয়ার বৈধতা এভাবে চ্যালেঞ্জ করার নজির আর দেখা যায়নি।   এখন অ্যান্ড্রুর মামলায় মূল প্রশ্ন হলো, তাঁর বাড়িতে তল্লাশির জন্য পুলিশের নেওয়া ওয়ারেন্ট আইনগতভাবে যথাযথ ছিল কি না এবং সেই প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১০:৫৯
ফোনে অচেনা মেসেজ? এক ক্লিকেই বিপদ—সতর্ক থাকুন, অন্যকেও সতর্ক করুন
ফোনে এই মেসেজ এলেই সাবধান! মুহূর্তেই ফাঁ দে ফেলছে প্র তা রকরা

ফোনে হঠাৎ ভেসে উঠল অচেনা একটি মেসেজ—‘আপনার জন্য চাকরির সুযোগ’, ‘সহজ শর্তে ঋণ’, কিংবা এমন কোনো প্রস্তাব, যার জন্য আপনি কখনো আবেদনই করেননি। কৌতূহলবশত অনেকে মেসেজটি খুলে দেখেন, কেউ আবার সঙ্গে থাকা লিংকে ক্লিক করেন। আর এই সামান্য অসতর্কতাকেই কাজে লাগিয়ে মুহূর্তের মধ্যে মানুষকে ফাঁ দে ফেলছে প্র তা রকরা।   নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনকল ও খুদে বার্তা এখন প্র তা রকদের মানুষের কাছে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। শুধু প্র তা রণার সংখ্যা বাড়ছে তা নয়, প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে প্র তা রকরা আগের তুলনায় অনেক দ্রুত এবং বড় পরিসরে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বেটার বিজনেস ব্যুরোর নতুন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক তদন্তকারী দল ২০২২ সাল থেকে পাওয়া প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার প্র তা রণার অভিযোগ বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা গেছে, প্র তা রকরা মানুষের কাছে পৌঁছাতে এমন অনেক বৈধ ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করছে, যেগুলো সাধারণ মানুষ ও বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিয়মিত ব্যবহৃত হয়।   প্র তা রণার নতুন হাতিয়ার প্রযুক্তি   বেটার বিজনেস ব্যুরোর মুখপাত্র জশ প্লানোস বলেন, প্র তা রণা এখন একটি অত্যন্ত লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে। প্র তা রকরা তাদের কার্যক্রমকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যেগুলো সহজলভ্য এবং ব্যবহারে বড় কোনো বাধা নেই।   প্র তা রণার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ভার্চুয়াল ও ইন্টারনেটভিত্তিক ফোন নম্বর, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক খুদে বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা, সহজে ওয়েবসাইট তৈরির সরঞ্জাম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কণ্ঠস্বর ও ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা।   এর ফলে একজন প্র তা রককে প্রতিটি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করতে হচ্ছে না। প্রযুক্তির সাহায্যে অল্প সময়েই হাজারো মানুষের কাছে একই ধরনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।   নম্বর বদলালেই কি প্র তা রক বদলে যায়?   প্র তা রকদের আরেকটি কৌশল নিয়েও সতর্ক করেছে বেটার বিজনেস ব্যুরো। কোনো একটি ফোন নম্বর বন্ধ হয়ে গেলে বা মানুষ সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করতে শুরু করলে প্র তা রকরা দ্রুত নতুন নম্বর ব্যবহার করতে পারে।   তাই নতুন বা অপরিচিত নম্বর থেকে মেসেজ এলেই সেটিকে নতুন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। একই প্র তা রণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই বারবার নম্বর পরিবর্তন করে নতুন করে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।   চাকরি ও ঋণের মেসেজে বিশেষ সতর্কতা   বিশেষ করে এমন মেসেজ নিয়ে সতর্ক করেছে বেটার বিজনেস ব্যুরো, যেখানে এমন চাকরি বা ঋণের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কখনো আবেদন করেননি।   এ ধরনের মেসেজের সঙ্গে অনেক সময় একটি লিংকও দেওয়া থাকতে পারে। সেখানে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া, কোনো ফরম পূরণ করা কিংবা আর্থিক তথ্য শেয়ার করা হলে প্র তা রকরা সেটি পরবর্তী প্র তা রণায় ব্যবহার করতে পারে।   তাই অপ্রত্যাশিত চাকরি বা ঋণের মেসেজ এলে কথোপকথন চালিয়ে না যাওয়াই নিরাপদ। অচেনা প্রেরকের পাঠানো কোনো লিংকেও ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়েছে বেটার বিজনেস ব্যুরো।   আইনও কি প্র তা রকদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পারছে না?   প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে বর্তমান টেলিযোগাযোগ আইন তাল মেলাতে পারছে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   জশ প্লানোসের মতে, বিদ্যমান অনেক টেলিযোগাযোগ বিধি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছিল, যখন ল্যান্ডলাইন ফোনই ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। বর্তমান সময়ে খুদে বার্তা, ভার্চুয়াল নম্বর এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এসব নিয়মের পরিধি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।   তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেলিমার্কেটিং বিক্রয়বিধি এবং টেলিফোন ভোক্তা সুরক্ষা আইনের মতো বিদ্যমান বিধি আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগের সুপারিশ করেছেন, যাতে খুদে বার্তাও আরও শক্তিশালী সুরক্ষার আওতায় আসে।   এখনই যে সতর্কতাটি নিতে পারেন   প্র তা রণা ঠেকাতে খুব জটিল কোনো প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই। বেটার বিজনেস ব্যুরোর পরামর্শ, নিজের মুঠোফোনের অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা শনাক্ত করার ব্যবস্থা চালু করে রাখুন। এতে সন্দেহজনক কল ও মেসেজ শনাক্ত বা ফিল্টার করতে সহায়তা মিলতে পারে।   তবে শুধু এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে ব্যবহারকারীকেও সচেতন থাকতে হবে। অচেনা নম্বর, অপ্রত্যাশিত চাকরি বা ঋণের অফার, সন্দেহজনক লিংক কিংবা জরুরি ভিত্তিতে তথ্য চাওয়া—এসবকে সতর্কতার সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।   কারণ প্র তা রকরা নম্বর বদলাতে পারে, নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে, এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্য কণ্ঠস্বর বা ভিডিওও তৈরি করতে পারে।   তাই ফোনে আসা কোনো মেসেজ যতই আকর্ষণীয় হোক, যাচাই না করে তাতে সাড়া দেওয়া বা অচেনা লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১০:৫৪
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে দুর্গোৎসব। ছবি: সংগৃহীত
টাইমস স্কোয়ারে দ্বিতীয়বারের মত উদযাপিত হতে যাচ্ছে দুর্গোৎসব, প্রবাসে দুই দিনের আয়োজন

নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে দুর্গোৎসব। আগামী ১০ ও ১১ অক্টোবর ফাদার ডাফি স্কোয়ারে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে থাকবে পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, সিঁদুরখেলা, ধুনুচি নাচ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।   টাইমস স্কোয়ার দুর্গোৎসব অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থল ফাদার ডাফি স্কোয়ার, ব্রডওয়ে ও সেভেনথ অ্যাভিনিউ সংলগ্ন ৪৬তম ও ৪৭তম স্ট্রিটের মধ্যবর্তী এলাকা। আয়োজকদের ওয়েবসাইটে দুই দিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলার কথা জানানো হয়েছে।   ১০ অক্টোবর প্রথম দিনের সূচিতে সকাল ১১টায় ষষ্ঠী পূজা দিয়ে মূল ধর্মীয় আয়োজন শুরুর কথা রয়েছে। এরপর দুপুর ১২টায় পুষ্পাঞ্জলি, সাড়ে ১২টায় সপ্তমী পূজা, দুপুর ২টায় আবার পুষ্পাঞ্জলি, আড়াইটায় অষ্টমী পূজা এবং বিকেল ৪টায় পুষ্পাঞ্জলির আয়োজন রাখা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রসাদ বিতরণের পর শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।   প্রথম দিনের সাংস্কৃতিক আয়োজনে নৃত্য, সংগীত ও বিশেষ পরিবেশনা থাকবে। আয়োজকদের বর্তমান সূচিতে নৃত্যাঞ্জলির পরিবেশনা, ডান্ডিয়া নাচ এবং শিল্পীদের সংগীতানুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রচারপত্র ও ওয়েবসাইটের কিছু সংস্করণে শিল্পীদের নাম ও সময়সূচিতে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।   ১১ অক্টোবর দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হবে নবমী পূজা দিয়ে। এরপর পুষ্পাঞ্জলি, দশমী পূজা এবং প্রসাদ বিতরণের পাশাপাশি বিকেল ৫টায় সিঁদুরখেলার আয়োজন রয়েছে। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক পর্বে ধুনুচি নাচ, নৃত্য পরিবেশনা এবং সংগীতানুষ্ঠান রাখা হয়েছে।   এবারের আয়োজনকে ঘিরে মহালয়া ও চণ্ডীপাঠের কথাও বিভিন্ন প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ১০ অক্টোবর ২০২৬ সালে মহালয়া পড়ায় দিনটির সঙ্গে ধর্মীয় তাৎপর্যও যুক্ত হয়েছে। কিছু প্রচারপত্রে সকাল ১১টায় চণ্ডীপাঠ দিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর কথা বলা হলেও আয়োজকদের ওয়েবসাইটের বিস্তারিত সূচিতে একই সময়ে ষষ্ঠী পূজার উল্লেখ রয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়সূচি নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে আয়োজক কমিটির বরাতে জানানো হয়েছে, দুই দিনের উৎসবে চণ্ডীপাঠ, শিশু-কিশোরদের গীতাপাঠ, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, ধুনুচি নাচ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে। প্রবাসী বাঙালি শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণকে এবারের আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   ফাদার ডাফি স্কোয়ার নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র টাইমস স্কোয়ারের অংশ। প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে যান। এমন একটি আন্তর্জাতিক পরিসরে দুর্গোৎসব আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসী বাঙালিদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বৃহত্তর দর্শকের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   আয়োজক সংগঠন জানিয়েছে, টাইমস স্কোয়ারে দুর্গাপূজার আয়োজন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দৃশ্যমান উপস্থিতিও তুলে ধরে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখার লক্ষ্যও রয়েছে এ আয়োজনের।   গতবারের আয়োজনের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো টাইমস স্কোয়ারে দুর্গোৎসব হচ্ছে। দুই দিনের অনুষ্ঠানে পূজার পাশাপাশি সংগীত, নৃত্য ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার কারণে এটি প্রবাসী বাঙালিদের একটি বড় মিলনমেলায় পরিণত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।   তবে অনুষ্ঠানসূচির বিভিন্ন প্রচারপত্র ও আয়োজকদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সময় এবং শিল্পীদের তালিকায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই ১০ বা ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠানে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সর্বশেষ সময়সূচি ও পরিবেশনার তথ্য আয়োজকদের হালনাগাদ ঘোষণা থেকে যাচাই করে নেওয়াই ভালো।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১০:৪৫
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে অজ্ঞাত ঠিকানা থেকে ইমেইল পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি, তদন্তে ডিবির সাইবার ইউনিট

রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক বোমা হামলার হুমকি দিয়ে অজ্ঞাত একটি ইমেইল পাঠানো হয়েছে। বার্তায় মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। হুমকির উৎস ও প্রেরকের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার ইউনিট।   পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোববার, ৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে হুমকির ইমেইলটি আসে। এতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক বোমা হামলার কথা উল্লেখ করে নির্দিষ্ট সময়ও জানানো হয়।   হুমকির বার্তা পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয় এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মো. নাসিরুল আমীন জানিয়েছেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।   ঘটনাটি এখন তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার ইউনিট। ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। তবে এ পর্যায়ে বিস্তারিত কিছু জানানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।   ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান জানিয়েছেন, হুমকির ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পুলিশ এখন পর্যন্ত এটিকে বাস্তবায়নযোগ্য হুমকি হিসেবে দেখছে না। তবে বিষয়টি তদন্ত করে ইমেইলটির উৎস এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।   ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকেও হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অজ্ঞাত ইমেইল পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে।   হুমকির বার্তায় ৬ অক্টোবর সকাল ১১টার কথা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টিকে সতর্কতার সঙ্গে দেখছে। তবে এখন পর্যন্ত হুমকির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।   তদন্তের এই পর্যায়ে ইমেইলটি কে বা কারা পাঠিয়েছে, কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে কিংবা এর পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হুমকির প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১০:৩৩
বাড়তি খরচের চাপে আমেরিকানরা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থনীতিই বড় ইস্যু
বাড়তি খরচের চাপে মার্কিনীরা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থনীতিই বড় ইস্যু

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ভোটারদের কাছে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, খাবার থেকে শুরু করে বাড়ি কেনার খরচ, দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই চাপ অনুভব করছেন অনেক আমেরিকান। ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ভোটারদের বড় বিবেচনা হয়ে উঠেছে কে কীভাবে জীবনযাত্রার খরচ সামলানোর পরিকল্পনা দিচ্ছেন। রয়টার্স ও ইপসসের আগস্টের এক জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে আসতে দেখা যায়। ৯৫১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে ৩৬ শতাংশ মনে করেন, জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পরিকল্পনা তুলনামূলক ভালো। রিপাবলিকানদের ওপর আস্থা রেখেছেন ২৮ শতাংশ। তবে ৩৭ শতাংশ ভোটার কোনো দলকেই এগিয়ে রাখেননি অথবা নিশ্চিত কোনো মত দেননি। এই উদ্বেগের পেছনে বড় কারণ মূল্যস্ফীতি। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এক বছর আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে। একই সময়ে খাবারের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং এনার্জির দাম ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করছে জ্বালানি। আগস্টে শুধু এক মাসেই গ্যাসোলিনের দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। আর এক বছর আগের তুলনায় গ্যাসোলিনের মূল্যসূচক বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে যেসব অঙ্গরাজ্যে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা বেশি, সেখানে পাম্পের বাড়তি খরচ সরাসরি পারিবারিক বাজেটে প্রভাব ফেলছে। মিশিগানের ৩১ বছর বয়সী ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজিস্ট ও হাইস্কুল ফুটবল কোচ জ্যাক ওয়েনের অভিজ্ঞতাও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মিশিগানের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে দুই থেকে চার ঘণ্টা গাড়ি চালানো অস্বাভাবিক নয়। তাই গ্যাসের দাম তাঁর মতো ভোটারদের কাছে শুধু অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নয়, বরং প্রতিদিনের খরচের বিষয়। প্রার্থীরা গ্যাসের দাম কমানোর বিষয়ে কী পরিকল্পনা দিচ্ছেন, সেটিও তাঁর ভোটের সিদ্ধান্তে গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু গ্যাস নয়, বিদ্যুতের বিল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে দ্রুত বাড়তে থাকা এআই ডেটা সেন্টার ভবিষ্যতে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুতের খরচে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন রাজনৈতিক আলোচনাতেও জায়গা পাচ্ছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রার্থীরা বড় বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত খরচ এবং সাধারণ গ্রাহকদের ওপর সম্ভাব্য চাপ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। আবাসন খাতেও স্বস্তি নেই। বাড়ির দাম ও মর্টগেজ রেটের চাপ নতুন ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা আরও কঠিন করে তুলেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা আস্থা প্রায় সাড়ে ১২ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এর পেছনে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, ব্যয়বহুল মর্টগেজ এবং চাকরির বাজার নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে দুই প্রধান প্রার্থীও আবাসনের খরচ নিয়ে ভিন্ন পরিকল্পনা সামনে এনেছেন। রিপাবলিকান মাইক রজার্স ডাউন পেমেন্ট সহায়তা, বাড়ি কেনার খরচ কমানো এবং নতুন বাড়ি নির্মাণে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলছেন। ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদ স্থানীয় বিধিনিষেধ সহজ করে বাড়ি নির্মাণ বাড়ানো, অ্যালগরিদমের মাধ্যমে রেন্ট নির্ধারণে বিধিনিষেধ এবং ডাউন পেমেন্ট সহায়তা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্যারিফও নির্বাচনী অর্থনীতির আলোচনায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আরোপিত বিভিন্ন ট্যারিফ আমদানিনির্ভর ব্যবসার খরচে প্রভাব ফেলেছে। মেইনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স কানাডার ওপর কিছু ট্যারিফের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর যুক্তি, সীমান্তের দুই পাশের বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক খাবার ও বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বাড়াতে পারে। তাঁর ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রয় জ্যাকসনও ট্যারিফের বিরোধিতা করছেন। তবে অর্থনীতির চিত্র পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে ছিল। কিন্তু চাকরি থাকা সত্ত্বেও অনেক পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ রয়ে গেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিয়োগের গতি কমেছে এবং মূল্যস্ফীতি মজুরি বৃদ্ধির একটি অংশ খেয়ে ফেলছে। ফলে অর্থনীতির সামগ্রিক সূচক এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে।  এই বাস্তবতায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে অর্থনীতি শুধু কর্মসংস্থান বা শেয়ারবাজারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। গ্যাস স্টেশনে কত ডলার দিতে হচ্ছে, মাস শেষে বিদ্যুতের বিল কত আসছে, গ্রোসারির খরচ কতটা বেড়েছে এবং একটি বাড়ি কেনা কতটা নাগালের মধ্যে আছে, এসব দৈনন্দিন হিসাবই অনেক ভোটারের কাছে অর্থনীতির বাস্তব চেহারা। আগামী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটের ৩৫টি আসন ভোটের মুখোমুখি হচ্ছে। তাই জীবনযাত্রার খরচ কমানো এবং অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা দুই দলের প্রচারেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন দল বা প্রার্থীকে বেছে নেবেন, তা নির্বাচনের ফলেই স্পষ্ট হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১০:৩০
সাবেক হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এবার ফক্স নিউজে যোগ দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
প্রেস সেক্রেটারি পদ ছাড়ার পর কোথায় যাচ্ছেন ক্যারোলিন লেভিট! মিলল উত্তর

সাবেক হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এবার ফক্স নিউজে যোগ দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রায় দুই মাস পর তিনি নেটওয়ার্কটির অন এয়ার কনট্রিবিউটর হিসেবে নতুন দায়িত্ব শুরু করতে যাচ্ছেন। নভেম্বর থেকে ফক্স নিউজের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও মন্তব্য দিতে দেখা যাবে তাঁকে।   ফক্স নিউজ মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী সুজান স্কট জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস এবং নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে লেভিটের সরাসরি অভিজ্ঞতা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দর্শকদের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে। নতুন ভূমিকায় তিনি নিউজ ও মতামতভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন।   ২৯ বছর বয়সী লেভিট আগস্টে হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়েন। সে সময় তিনি জানান, দুই ছোট সন্তানের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর প্রয়োজন থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি ওয়াশিংটন ডিসি ছেড়ে নিজ রাজ্য নিউ হ্যাম্পশায়ারে ফিরে যান।   লেভিট যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি হোয়াইট হাউসের প্রধান মুখপাত্র হন। এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের ন্যাশনাল প্রেস সেক্রেটারি হিসেবেও কাজ করেছিলেন।   হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় লেভিট জানিয়েছিলেন, রাজনীতি থেকে তিনি পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সংগঠন এমএজিএ ইনকরপোরেটেডে ফেরার পরিকল্পনার কথাও তিনি নিশ্চিত করেছিলেন। ওই সংগঠনে তিনি আগেও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব ছাড়ার পরও লেভিট নিয়মিত ফক্স নিউজে উপস্থিত হয়েছেন। সম্প্রতি শন হ্যানিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি হোয়াইট হাউস ছাড়ার সিদ্ধান্ত এবং পরিবার ও পেশাগত দায়িত্বের ভারসাম্য নিয়ে কথা বলেন। একই সময় তাঁর সম্ভাব্য টেলিভিশন ক্যারিয়ার নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।   ফক্স নিউজে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে লেভিট এমন একটি পথে হাঁটছেন, যে পথে এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের আরেক প্রেস সেক্রেটারি কেইলি ম্যাকেনানি গিয়েছিলেন। ম্যাকেনানি ২০২১ সালে ফক্স নিউজে যোগ দেন এবং পরে নেটওয়ার্কটির নিয়মিত অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন।   লেভিটের নতুন দায়িত্ব এমন সময়ে শুরু হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুম, ট্রাম্পের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন এবং রিপাবলিকান রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় তাঁর উপস্থিতি ফক্স নিউজের রাজনৈতিক কভারেজে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   তবে ফক্স নিউজে যোগ দিলেও লেভিট ট্রাম্পের রাজনৈতিক বলয় থেকে পুরোপুরি আলাদা হচ্ছেন না। হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় ট্রাম্প তাঁকে নিজের শীর্ষ বাইরের উপদেষ্টাদের একজন হিসেবে রাখার কথা জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে লেভিটও ভবিষ্যতে রিপাবলিকান রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।   ফলে হোয়াইট হাউসের পোডিয়াম থেকে সরে যাওয়ার পর লেভিটের ক্যারিয়ার এখন নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে। সরকারি মুখপাত্রের দায়িত্বের বদলে এবার টেলিভিশনের পর্দায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কনট্রিবিউটর হিসেবে দেখা যাবে তাঁকে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১০:১৩
হাতে ১০ হাজার ডলার? এখন কোথায় বিনিয়োগে সুযোগ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা
হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

হাতে ১০ হাজার ডলার আছে, কিন্তু কোথায় বিনিয়োগ করবেন বুঝতে পারছেন না? শেয়ারবাজার, সোনা, সরকারি বন্ড নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট কোম্পানি—উচ্চ সুদের বর্তমান বাজারে এই প্রশ্ন এখন অনেক বিনিয়োগকারীর। এমন পরিস্থিতিতে আটজন বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, তাঁরা এখন ১০ হাজার ডলার হাতে পেলে কোন কোন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতেন।   বাজারের হিসাব বদলে যাওয়ার অন্যতম কারণ সুদের হার। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদ বাড়ানোর চক্রের মুখোমুখি হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির বাড়তি দাম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগ বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে। ট্রেজারি বন্ডের ফলনও বহু বছরের উচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ফলে শুধু বেশি মুনাফার আশা নয়, ঝুঁকি সামলে কোথায় অর্থ রাখা যায়, সেটিও বড় বিবেচ্য হয়ে উঠেছে।  জেপিমরগ্যান প্রাইভেট ব্যাংকের বৈশ্বিক বিনিয়োগ কৌশলবিদ কৃতি গুপ্তা সুযোগ দেখছেন চারটি খাতে—ইউটিলিটি, শিল্প, প্রতিরক্ষা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তাঁর ধারণা, সুদের হার তুলনামূলক বেশি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার এখন পর্যন্ত স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন শিল্প খাতকে সহায়তা করতে পারে। আর বেশি সুদের পরিবেশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদ থেকে আয় বাড়াতে পারে। তবে সিবার্ট ফিন্যান্সিয়ালের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা মার্ক মালেকের কৌশল কিছুটা ভিন্ন। ১০ হাজার ডলার হলে তিনি ৩০ শতাংশ এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে, ২০ শতাংশ এআই সংশ্লিষ্ট শেয়ারে এবং সবচেয়ে বড় অংশ—৩৫ শতাংশ—পাঁচ বছরের কম মেয়াদের মার্কিন ট্রেজারিতে রাখার কথা বলেছেন। বাকি ১৫ শতাংশ সোনা অথবা স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বিলে রাখার পক্ষে তিনি। অর্থাৎ তাঁর কৌশলে প্রবৃদ্ধির সুযোগ নেওয়ার পাশাপাশি বাজারের ঝুঁকি সামলানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। ইউএস ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের রব হাওর্থ আবার ১০ হাজার ডলারের ৬৫ শতাংশ বৈশ্বিক শেয়ারে বিনিয়োগের কথা বলেছেন। এর বড় অংশ থাকবে যুক্তরাষ্ট্র ও উদীয়মান বাজারে। তাঁর পরিকল্পনায় আরও প্রায় ৩০ শতাংশ উচ্চমানের দীর্ঘমেয়াদি বন্ড এবং ৫ শতাংশ বৈশ্বিক অবকাঠামো খাতে রাখা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো সম্প্রসারণের সুযোগ ধরতেই শেষের এই বরাদ্দ। আরেক বিশেষজ্ঞ কিয়ারান অসবর্নের নজর ইন্টারভ্যাল ফান্ডে। এসব তহবিল বিকল্প ও বেসরকারি সম্পদে বিনিয়োগ করে এবং সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পরপর সীমিত পরিমাণ অর্থ তোলার সুযোগ দেয়। তাঁর মতে, স্বল্পমেয়াদি সুদ বাড়লে এসব তহবিলের আয়ও বাড়তে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—প্রয়োজনের সময় দ্রুত পুরো অর্থ তুলে নেওয়া কঠিন হতে পারে। অর্থাৎ সম্ভাব্য আয়ের পাশাপাশি তারল্যঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হবে।  কনভেক্স ওয়েলথের মেলিসা কোরমেয়ার জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে আরও সম্ভাবনা দেখছেন। অন্যদিকে ভ্যানগার্ডের কেভিন খাং মনে করছেন, এআই ঘিরে বাজার এমন পর্যায়ে এসেছে যেখানে শুধু খাত দেখে বিনিয়োগ করার বদলে সঠিক কোম্পানি বেছে নেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কোন প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহার করে বাস্তবে আয় বাড়াতে পারছে, সেই পার্থক্য এখন বিনিয়োগের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।  এডওয়ার্ড জোন্সের মোনা মাহাজানের পছন্দ যোগাযোগসেবা ও শিল্প খাত। আর ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের জেসন ড্রাহো এআই সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প ও ভোক্তানির্ভর খাতেও তিনি সম্ভাবনা দেখছেন।  আট বিশেষজ্ঞের মত ভিন্ন হলেও একটি বিষয় পরিষ্কার—বর্তমান বাজারে ১০ হাজার ডলার এক জায়গায় রাখার বদলে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ ও খাতে ভাগ করে বিনিয়োগের কৌশল গুরুত্ব পাচ্ছে। শেয়ার ও এআই থেকে প্রবৃদ্ধির সুযোগ নেওয়ার পাশাপাশি ট্রেজারি, বন্ড কিংবা সোনার মতো সম্পদ দিয়ে ঝুঁকি সামলানোর কথাও উঠে এসেছে তাঁদের পরামর্শে। তবে কারও হাতে ১০ হাজার ডলার আছে বলেই এই বিনিয়োগ কৌশল হুবহু অনুসরণ করা উচিত নয়। বয়স, আয়, ঋণ, জরুরি সঞ্চয়, কতদিন অর্থ বিনিয়োগ করে রাখা সম্ভব এবং কতটা ঝুঁকি নেওয়া যায়—এসবের ওপর ব্যক্তিগত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১০:৭
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় দক্ষিণ এশীয় বিয়ের শোভাযাত্রায় বিখ্যাত ব্যাটমোবাইলের রেপ্লিকা। ছবি: সংগৃহীত
ফিলাডেলফিয়ার বিয়েতে ব্যাটমোবাইল, মার্কেট স্ট্রিটে নজর কাড়লেন নবদম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় এক দক্ষিণ এশীয় বিয়ের শোভাযাত্রায় ব্যতিক্রমী চমক হয়ে হাজির হয়েছিল ব্যাটম্যান চলচ্চিত্রের বিখ্যাত ব্যাটমোবাইলের রেপ্লিকা। লেবার ডে উইকএন্ডে সেন্টার সিটির মার্কেট স্ট্রিটে আয়োজিত ওই বিয়ের বর ধ্রুব পাদোদারা ব্যাটমোবাইলে করে বিয়ের শোভাযাত্রায় অংশ নেন। সঙ্গে ছিলেন কনে ঋষিকা চৌহান। ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দেরও নজর কাড়ে।    ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিলি পেন জানিয়েছে, ব্যবহৃত গাড়িটি ১৯৮৯ সালে টিম বার্টনের ‘ব্যাটম্যান’ চলচ্চিত্রে দেখা ব্যাটমোবাইলের একটি রেপ্লিকা। ধ্রুব পাদোদারা ফিলাডেলফিয়ায় জন্ম নেওয়া একজন ফার্মাসিস্ট এবং ঋষিকা চৌহান ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা একজন অর্থোপেডিক সার্জারি রেসিডেন্ট। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল লোউস ফিলাডেলফিয়া হোটেলকে কেন্দ্র করে।    বিয়ের দিন সকালে মার্কেট স্ট্রিটের ১২তম ও ১৩তম স্ট্রিটের মধ্যবর্তী অংশে ‘বারাত’ বা বরের ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয়। এজন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পারমিট নিয়ে রাস্তার নির্দিষ্ট অংশ বন্ধ করার ব্যবস্থা করেছিলেন আয়োজকেরা। সেই শোভাযাত্রাতেই ব্যাটমোবাইলের রেপ্লিকাটি ব্যবহার করা হয়।    দক্ষিণ এশীয় বিয়েতে বর সাধারণত সাজানো ঘোড়া, গাড়ি বা অন্য কোনো বিশেষ বাহনে করে বারাতে অংশ নেন। ধ্রুবের বন্ধুবান্ধবের অনেকেই এর আগে ল্যাম্বরগিনি বা ফেরারির মতো বিলাসবহুল গাড়িতে বারাত করেছেন। কিন্তু ধ্রুব চেয়েছিলেন একটু ভিন্ন কিছু। ব্যাটম্যানের প্রতি তাঁর আগ্রহ থেকেই মজা করে ব্যাটমোবাইল ব্যবহারের কথা তুলেছিলেন। পরে সেই ভাবনাই বাস্তবে রূপ নেয়।    কনে ঋষিকা এরপর অনলাইনে বিশেষ ধরনের চলচ্চিত্রভিত্তিক গাড়ি ভাড়ার প্রতিষ্ঠান খুঁজতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ‘ডিলোরিয়ান রেন্টাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১৯৮৯ সালের ব্যাটমোবাইলের রেপ্লিকাটি পাওয়া যায়। তাদের ওয়েডিং প্ল্যানারও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আগে কাজ করেছিলেন। তবে ব্যাটমোবাইল ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তারও প্রথম ছিল।    গাড়িটি বিয়ের অতিথিদের কাছ থেকেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছিল। ফলে শোভাযাত্রার সময় ব্যাটমোবাইল দেখা মাত্রই অতিথি ও পথচারীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে।    ফিলাডেলফিয়ার ব্লগার ও ফটোগ্রাফার হিউ ই ডিলন তাঁর ‘ফিলি চিটচ্যাট’ অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শহরের দক্ষিণ এশীয় বিয়ের শোভাযাত্রায় আগে হাতি, উট এমনকি মামার্সও দেখেছেন, কিন্তু ব্যাটমোবাইল এই প্রথম। ভিডিওতে দেখা যায়, কালো রঙের ব্যাটমোবাইল রেপ্লিকার পাশে বিয়ের পোশাকে দাঁড়িয়ে আছেন নবদম্পতি, আর আশপাশে পথচারীরাও থেমে দৃশ্যটি দেখছেন।    শুধু গাড়িটিই নয়, পুরো বিয়েটিও ছিল ব্যস্ত সূচির মধ্যে আয়োজন করা। ধ্রুব ও ঋষিকা প্রায় আট মাসের মধ্যে তাদের বড় ভারতীয় বিয়ের পরিকল্পনা শেষ করেন। আগের দিন লোউস হোটেলের ৩৩তম তলার টেরেসে একটি রিসেপশন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন সকালে বারাত এবং পরে মূল বিয়ের আয়োজন হয়।    ধ্রুব ও ঋষিকার পরিচয় হয়েছিল ডেটিং অ্যাপ হিঞ্জে। ঋষিকা পূর্ব উপকূলে আসার পর ধ্রুব ছিলেন তাঁর প্রথম ম্যাচ ও প্রথম ডেট। প্রায় দুই বছর পর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ওয়াইনারিতে ধ্রুব তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এরপরই শুরু হয় বিয়ের প্রস্তুতি।    ফিলাডেলফিয়ার মার্কেট স্ট্রিটে ব্যাটমোবাইলের উপস্থিতি সাময়িকভাবে যান চলাচলেও প্রভাব ফেলেছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফিলাডেলফিয়া ইনকোয়ারার জানিয়েছে, গাড়িটি কিছু সময়ের জন্য মার্কেট স্ট্রিটে যানজট তৈরি করেছিল। তবে আয়োজনটি অনুমতি নিয়েই করা হয়েছিল এবং বিয়ের শোভাযাত্রার জন্য নির্দিষ্ট অংশ বন্ধ ছিল।    ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ এশীয় বারাতের সঙ্গে জনপ্রিয় সংস্কৃতির এমন সংযোগই মূলত ঘটনাটিকে আলাদা করে তুলেছে। ঘোড়া বা সাধারণ বিলাসবহুল গাড়ির বদলে ব্যাটম্যানের ব্যাটমোবাইল বেছে নিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত পছন্দকে বিয়ের সংস্কৃতির সঙ্গে মিশিয়েছেন এই দম্পতি। আর সেই আয়োজনই ফিলাডেলফিয়ার ব্যস্ত সেন্টার সিটিতে তৈরি করেছে এক ব্যতিক্রমী মুহূর্ত।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৯:৫৮
মামদানিকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই বিশ্বের ১ নম্বর শহরের স্বীকৃতি পেল নিউইয়র্ক
মামদানিকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই চমক, বিশ্বের ১ নম্বর শহরের স্বীকৃতি পেল নিউইয়র্ক

মেয়র জোহরান মামদানিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্ক চললেও নিউইয়র্ক আবারও বিশ্বসেরা শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের ১ হাজার শহরের মধ্যে নিউইয়র্ক প্রথম স্থান অর্জন করেছে। অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ ও শাসনব্যবস্থার মতো বিভিন্ন সূচকে মূল্যায়নের পর শহরটির সামগ্রিক স্কোর দাঁড়িয়েছে ১০০।   এই স্বীকৃতির সময় মামদানি প্রশাসন নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বেশ কিছু নীতি বাস্তবায়ন করছে। ভাড়ানিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া স্থির রাখা, বিনামূল্যে শিশু যত্নের সুযোগ বাড়ানো এবং উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের উদ্যোগ এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। নিউইয়র্কের ভাড়ানিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর জন্য এক ও দুই বছরের লিজে ভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়ির মালিকদের পক্ষ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জও এসেছে। শিশু যত্নের ক্ষেত্রে মামদানি প্রশাসন চারটি কমিউনিটিতে বিনামূল্যে ২-K আসন চালু করেছে। এর লক্ষ্য ধাপে ধাপে পুরো শহরের দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা। এদিকে উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনাও মামদানির প্রশাসনের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ। এই নীতি নিয়েও আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সূচকে নিউইয়র্কের শীর্ষ অবস্থান অবশ্য শুধু বর্তমান মেয়র প্রশাসনের নীতির ওপর নির্ভর করে দেওয়া হয়নি। শহরের বিশাল অর্থনীতি, শক্তিশালী শ্রমবাজার, দক্ষ জনশক্তি এবং বৈশ্বিক প্রভাবও এই র‌্যাংকিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে মামদানিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং তার প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে মতভেদ থাকলেও আন্তর্জাতিক সূচকে নিউইয়র্কের শক্ত অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। আগামী বছরগুলোতে নতুন নীতিগুলো শহরের জীবনযাত্রা, আবাসন ও অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন নজর রাখার বিষয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৯:৫৪
ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়া ১১১ বাংলাদেশি বর্তমানে মিশরে অবস্থান করছেন। ছবি: সংগৃহীত
ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার ১১১ বাংলাদেশি, মিশর থেকে ফিরবেন দেশে

লিবিয়া থেকে অনিয়মিত পথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার হওয়া ১১১ বাংলাদেশি এখন মিশরে অবস্থান করছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পৃথক তিনটি নৌযানে বিপদের মুখে পড়ার পর বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের উদ্ধার করে। বর্তমানে তাদের মধ্যে ৫৮ জন মিশরের পোর্ট সাঈদ এবং ৫৩ জন দামিয়াতের নিরাপত্তা কেন্দ্রে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের বাংলাদেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের একজন কর্মকর্তা ৩ ও ৪ অক্টোবর পোর্ট সাঈদ ও দামিয়াতে গিয়ে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সমুদ্রযাত্রা, দুর্ঘটনা এবং উদ্ধারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও করে দেওয়া হয়।   পোর্ট সাঈদে থাকা ৫৫ বাংলাদেশি জানিয়েছেন, ১৪ সেপ্টেম্বর তারা লিবিয়ার তবরুক উপকূল থেকে একটি রাবারের নৌকায় গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নৌকাটি প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে। প্রায় এক রাত ও এক দিন তারা উত্তাল সমুদ্রে ভাসতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ‘কিংস্টন’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছে সাহায্যের সংকেত পাঠান।   বিপদসংকেত পাওয়ার পর জাহাজটি মিশরের সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের পোর্ট সাঈদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।   একই নিরাপত্তা কেন্দ্রে থাকা আরও তিন বাংলাদেশি জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশি, মিশরীয় ও সুদানি নাগরিকসহ মোট ৫৬ জন যাত্রী নিয়ে তবরুক থেকে আরেকটি নৌকায় যাত্রা করেছিলেন। সমুদ্রে প্রবেশের পর ওই নৌকাও ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে। প্রায় দুই দিন ভেসে থাকার পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং ছিদ্র দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে।   এ অবস্থায় যাত্রীরা জরুরি বিপদসংকেত পাঠালে ‘এমএসসি ভার্জিনিয়া’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধার অভিযানে এগিয়ে আসে। ওই জাহাজ তিন বাংলাদেশিসহ মোট ১৭ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে থাকা আরও ৩৯ যাত্রী তখন থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   দামিয়াতে থাকা ৫৩ বাংলাদেশির অভিজ্ঞতা ছিল আরও ভয়াবহ। তারা জানিয়েছেন, একই দিন তবরুক থেকে ৫৩ বাংলাদেশি ও ১৪ সুদানি নাগরিকসহ মোট ৬৭ জন একটি রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন। সমুদ্রে প্রবেশের পরই নৌকাটি ঝড়ের মধ্যে পড়ে এবং একপর্যায়ে ভেতরে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে।   ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে যাত্রীরা আশপাশের জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধার কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক জরুরি সংকেত পাঠান। পরে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ওয়াগেনবর্গ শিপিংয়ের ‘আইজেবর্গ’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।   উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, জাহাজটি আর প্রায় ১০ মিনিট দেরিতে পৌঁছালে নৌকায় থাকা সবার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকার ভেতরে পানি বাড়ছিল এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল।   বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ১১১ বাংলাদেশির কেউই মিশরকে গন্তব্য হিসেবে বেছে নেননি। তাদের লক্ষ্য ছিল লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশ করা। কিন্তু ঝড়, নৌযানের যান্ত্রিক ত্রুটি ও পানি ঢুকে পড়ার কারণে তাদের যাত্রা ভয়াবহ বিপদের মধ্যে পড়ে।   দূতাবাস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ, নিরাপত্তা সংস্থা, ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম ১১১ বাংলাদেশির কায়রো থেকে ঢাকা ফেরার টিকিট দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে বলে দূতাবাসের কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাদের দেশে ফেরানো হবে।   যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে দেশে ফিরে গেছেন। বাকিদের জন্য ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।   এই ঘটনা আবারও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার ভয়াবহ ঝুঁকি সামনে এনেছে। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও অনিরাপদ রাবারের নৌকা, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং উদ্ধার পেতে বিলম্বের কারণে এই রুটে যাত্রা প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।   মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসও মানবপাচারকারী এবং অনিয়মিত অভিবাসনে সহায়তাকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় না যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। উদ্ধার হওয়া ১১১ বাংলাদেশির ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্নে শুরু হওয়া কয়েক ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা মুহূর্তেই জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৯:৫১
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক। ছবি: সংগৃহীত
টেনেসিতে ব্যর্থ প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পর মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীর

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়েও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া ক্রিস্টা পাইকের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করার দাবি জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। দুই দফা প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার পরও বেঁচে থাকা ৫০ বছর বয়সী পাইক বর্তমানে হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে রয়েছেন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় যে ভয়াবহ শারীরিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছে, তার পর আবারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা ন্যায়বিচার হবে না।    ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। মামলার নথি অনুযায়ী, টেনেসির নক্সভিলে স্লেমারকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। পরের বছর পাইককে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।    ৩০ সেপ্টেম্বর ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যায় টেনেসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পেন্টোবারবিটালের দুই ডোজ দেওয়ার পরও তাঁর মৃত্যু হয়নি। পরে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ব্যর্থ এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে কেন্দ্র করে টেনেসির এক্সিকিউশন পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।    পাইকের আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, ঘটনার পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাঁর দুই হাত ফুলে ছিল এবং সেখানে পোড়া ও ফোসকার মতো ক্ষত দেখা যায়। পরবর্তী কয়েক দিনেও তিনি জ্ঞান ফিরে পাননি এবং তাঁকে ভেন্টিলেটরের সহায়তায় রাখা হয়েছে। তিনি পুরোপুরি সুস্থ হবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।    পাইকের আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল টেনেসির গভর্নর বিল লির কাছে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পাইক যে অপরাধ করেছেন সেটি অত্যন্ত গুরুতর, কিন্তু ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে তিনি ইতোমধ্যে ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন। এ অবস্থায় আবার তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা করলে তা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বদলে আরও আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করবে বলে তিনি মনে করেন।    ঘটনার পর গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন এবং কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো তা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন বলেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় রাজ্যের অনুমোদিত প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল। তবে ব্যর্থতার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে এখন বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে।    এ ঘটনার পর টেনেসির কারেকশন কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডার পদত্যাগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। রাজ্য প্রশাসন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও বিস্তৃত তদন্ত করছে। পাইকের আইনজীবীরা একই সঙ্গে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সম্পর্কিত সব নথি ও প্রমাণ সংরক্ষণের আবেদন করেছেন।    ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা এর আগেও তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁরা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য, শৈশবে নির্যাতনের ইতিহাস এবং হত্যাকাণ্ডের সময় তাঁর অল্প বয়সের বিষয়টি সামনে আনেন। তবে গভর্নর তাঁর ক্ষমার আবেদন নাকচ করেন এবং শেষ মুহূর্তের আইনি লড়াইয়ের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খুলে যায়।  এই মামলায় পাইকের সঙ্গে অভিযুক্ত টাডারিল শিপকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তিনি যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন। ফলে একই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাইকই একমাত্র আসামি যাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়েছে।    এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পাইক শারীরিকভাবে সুস্থ হলে টেনেসি আবার তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করবে কি না। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর শারীরিক বা মানসিক অবস্থায় স্থায়ী ক্ষতি হলে ভবিষ্যতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের যোগ্যতা নিয়েও নতুন আইনি লড়াই শুরু হতে পারে। আপাতত তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং গভর্নরের কাছে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করার আবেদন জানিয়ে যাচ্ছে তাঁর আইনি দল।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৯:৩২
জ্বর ও মাথাব্যথা থেকে দ্রুত নিউমোনিয়া—নিউমোনিক প্লেগের গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গগুলো জানুন
জ্বর থেকে দ্রুত নিউমোনিয়া, নিউমোনিক প্লেগের যেসব উপসর্গ জানা জরুরি

রাশিয়ায় প্লেগ গবেষণাগারে কর্মরত এক নারীর গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে মৃ ত্যুর পর নিউমোনিক প্লেগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ওই নারী প্লেগে আক্রান্ত ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা থেকে দ্রুত নিউমোনিয়ায় পরিণত হওয়ার মতো উপসর্গগুলো নিয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।   রুশ সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক এলাকার একটি প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি সহকর্মীদের জানিয়েছিলেন, নমুনা সংগ্রহের সময় অসাবধানতাবশত জীবিত ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব ভেঙে গিয়েছিল। এরপর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। হাসপাতালে ভর্তির দুই দিন পর তার মৃ ত্যু হয়। তবে রাশিয়ার ভোক্তা অধিকার ও মানবকল্যাণ পর্যবেক্ষণ সংস্থা রসপোত্রেবনাদজোর জানিয়েছে, ওই কর্মীর ক্ষেত্রে ‘অজানা কারণে নিউমোনিয়া’ শনাক্ত হয়েছিল। পরীক্ষায় তার শরীরে প্লেগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অণুজীব পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত তার মৃ ত্যুর কারণ হিসেবে প্লেগ নিশ্চিত করা হয়নি। নিউমোনিক প্লেগ কী? রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, প্লেগের প্রধান তিনটি ধরন হলো বুবোনিক, নিউমোনিক ও সেপটিসেমিক প্লেগ। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে গুরুতর ধরনগুলোর একটি। নিউমোনিক প্লেগ ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। এতে সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার পাশাপাশি দ্রুত নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও কাশি হতে পারে। কখনো কাশির সঙ্গে রক্ত বা পানির মতো কফও দেখা দিতে পারে। এই রোগের উপসর্গ সংক্রমণের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেখা দিতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, জীবাণু শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছালে এক দিনের মতো কম সময়ের মধ্যেও উপসর্গ শুরু হতে পারে। কীভাবে নিউমোনিক প্লেগ হয়? নিউমোনিক প্লেগ দুইভাবে হতে পারে। প্রথমত, চিকিৎসা না করা বুবোনিক বা সেপটিসেমিক প্লেগের জীবাণু শরীরের অন্য অংশ থেকে ফুসফুসে পৌঁছাতে পারে। দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর কাশি থেকে বের হওয়া সংক্রমিত ক্ষুদ্র কণা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করলেও নিউমোনিক প্লেগ হতে পারে। প্লেগের অন্যান্য ধরন সাধারণত ভিন্ন উপায়ে ছড়ায়। বুবোনিক প্লেগের ক্ষেত্রে আক্রান্ত মাছির কামড় অন্যতম প্রধান কারণ। এতে জ্বর, মাথাব্যথা, কাঁপুনি ও দুর্বলতার পাশাপাশি শরীরের এক বা একাধিক লসিকা গ্রন্থি ফুলে গিয়ে ব্যথাযুক্ত হতে পারে। সেপটিসেমিক প্লেগের উপসর্গ সেপটিসেমিক প্লেগ রক্তে সংক্রমণ ঘটায়। এতে জ্বর, কাঁপুনি, প্রচণ্ড দুর্বলতা, পেটে ব্যথা ও গুরুতর শারীরিক অবস্থা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ত্বক ও শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ এবং টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো জটিলতাও তৈরি হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা কেন জরুরি? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা না করা হলে প্লেগ অত্যন্ত গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নিউমোনিক প্লেগের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। নিউমোনিক প্লেগ চিকিৎসা ছাড়া খুব দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তবে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি কার্যকরভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। রাশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাটিতে এখন পর্যন্ত প্লেগের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়নি। তাই ওই ঘটনা থেকেই ব্যাপক সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত বাড়তে থাকা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৯:২১
গাজায় হামাসের শাসন থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় হামাসের কোনো শাসন থাকবে না

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় হামাসের কোনো শাসন থাকবে না। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় নিহতদের স্মরণে সোমবার, ৫ অক্টোবর জেরুজালেমের মাউন্ট হার্জল সামরিক সমাধিক্ষেত্রে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ওই হামলায় জড়িত এবং জিম্মিদের আটকে রাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   হামাসের নেতৃত্বাধীন ৭ অক্টোবরের হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার ইসরায়েলে জাতীয়ভাবে স্মরণ দিবস পালন করা হয়। হামলা শুরুর সময় সকাল ৬টা ২৯ মিনিট থেকে সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এই রাষ্ট্রীয় স্মরণ অনুষ্ঠানেই গাজার ভবিষ্যৎ শাসন নিয়ে নিজের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেন নেতানিয়াহু।   স্মরণসভায় নেতানিয়াহু বলেন, গত তিন বছরে ইসরায়েল বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। তবে এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে এবং সেগুলো সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপরই তিনি স্পষ্টভাবে জানান, গাজায় হামাসের শাসন থাকতে দেওয়া হবে না।   নেতানিয়াহু আরও জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবরের হামলায় যারা অংশ নিয়েছিল অথবা জিম্মিদের আটকে রাখার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাঁর এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার শাসনব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা সামনে এলেও বাস্তবে বিষয়টির চূড়ান্ত সমাধান এখনো হয়নি।   ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালায়। এএফপির হিসাবে, ইসরায়েলের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে ওই হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন। একই সময় ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৪ জনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ওই হামলার পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে সেখানে ৭৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ১ হাজার ৪৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।   গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা সামনে আসতে শুরু করেছে। তবে গাজার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতে কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় হামাসের শাসন থাকবে না।   ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার পর গাজার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি অঞ্চলে সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতও রয়েছে। সোমবারের স্মরণসভায় হিজবুল্লাহ নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন নেতানিয়াহু।   তিনি জানান, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে লেবাননের সঙ্গে ভবিষ্যতে শান্তির সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হবে। লেবাননের অধিকাংশ মানুষ ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চায় বলেও দাবি করেন তিনি।   স্মরণসভার বক্তব্যে ইরানের নেতৃত্ব নিয়েও কথা বলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তেহরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু।   এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ শুরু হয়। সেই সংঘাতের প্রেক্ষাপটেও সোমবারের বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে নিজের সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন নেতানিয়াহু।   তিন বছর আগে ৭ অক্টোবরের হামলা ইসরায়েল ও গাজার পরিস্থিতিকে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।   এর মধ্যেই যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। হামাসের ভূমিকা, ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। নেতানিয়াহুর সোমবারের বক্তব্যে তাঁর সরকারের অবস্থান আবারও সামনে এসেছে।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি গাজায় হামাসের শাসনের অবসান নিশ্চিত করতে চান তিনি। তবে গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার পূর্ণ কাঠামো কী হবে, সে বিষয়ে স্মরণসভার বক্তব্যে বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরেননি।   ফলে তিন বছর পূর্তির রাষ্ট্রীয় স্মরণসভায় নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রধান বার্তা ছিল গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান। যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চললেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গাজায় হামাসের কোনো শাসন থাকবে না।   সূত্র: এএফপি

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৯:২০
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আসার পর আবার পরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যা বাড়ানোর পথে কানাডা
কানাডায় আবারও অভিবাসন বাড়াতে চায় সরকার, নভেম্বরে আসছে নতুন পরিকল্পনা

কানাডায় টানা কয়েক বছর অভিবাসনের হার কমানোর পর আবার নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বাড়ানোর পথে যেতে পারে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, অভিবাসন ব্যবস্থা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফলে সরকারের সামনে নতুন প্রশ্ন হলো, কখন থেকে আবার পরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি শুরু করা হবে।   এই আলোচনা এমন সময় সামনে এসেছে, যখন কানাডা ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নতুন তিন বছরের ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান প্রস্তুত করছে। পরিকল্পনাটি আগামী নভেম্বরে প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এতে নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং বিদেশি কর্মীদের জন্য ভবিষ্যৎ টার্গেট নির্ধারণ করা হবে।  গত কয়েক বছরে কানাডায় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, হাউজিং সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার অভিবাসনের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রবেশের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কারদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।  বর্তমান ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কানাডা ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৭ ও ২০২৮ সালেও এই সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার করে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে ২০২৬ সালে নতুন টেম্পোরারি রেসিডেন্টের টার্গেট রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার, যা ২০২৭ ও ২০২৮ সালে ৩ লাখ ৭০ হাজারে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।  সরকারের আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কানাডার মোট জনসংখ্যার মধ্যে নন পার্মানেন্ট রেসিডেন্টের হার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের পর নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট গ্রহণের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশের নিচে রাখার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।  তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে কার্নি ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বর্তমান ধাপ সফলভাবে এগোলে ভবিষ্যতে আবার জনসংখ্যা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ কানাডা স্থায়ীভাবে অভিবাসনের দরজা সংকুচিত রাখবে, এমন ধারণা এখনই নিশ্চিত নয়। বরং অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং অবকাঠামোর সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে ধীরে ধীরে অভিবাসনের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাই আলোচনায় এসেছে।  কানাডার বর্তমান ইমিগ্রেশন নীতিতে অর্থনৈতিক অভিবাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের জন্য মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার পার্মানেন্ট রেসিডেন্টের মধ্যে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ জনকে অর্থনৈতিক ক্যাটাগরিতে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন, শরণার্থী ও মানবিক বিবেচনার বিভিন্ন ক্যাটাগরিও চালু রয়েছে।  সরকার ইতোমধ্যে কানাডায় থাকা এবং কাজ করা কিছু টেম্পোরারি রেসিডেন্টকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির পথে নেওয়ার উদ্যোগও রেখেছে। বর্তমান পরিকল্পনায় ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার টেম্পোরারি ওয়ার্কারকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিতে নেওয়ার বিশেষ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো কানাডায় ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখা কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া।  আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় লক্ষ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। ২০২৬ সালে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর টার্গেট ১ লাখ ৫৫ হাজার এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সালে বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনায় শিক্ষার্থী ও টেম্পোরারি ওয়ার্কারদের সংখ্যা কতটা বাড়বে বা বর্তমান সীমা বহাল থাকবে, সেটিই এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।  বাংলাদেশিসহ কানাডায় পড়াশোনা, চাকরি বা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আগ্রহীদের জন্য আগামী ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে কার্নির বক্তব্যকে এখনই অভিবাসন ব্যাপকভাবে বাড়ানোর ঘোষণা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি মূলত ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলেছেন। নতুন টার্গেট ও কোন ক্যাটাগরিতে কতজন নেওয়া হবে, তার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে সরকারের ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের আনুষ্ঠানিক ইমিগ্রেশন পরিকল্পনা প্রকাশের পর।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৯:৬
রাশিয়ার ইরকুতস্কে ল্যাবকর্মীর মৃ ত্যুর পর সন্দেহভাজন প্লে গ প্রাদুর্ভাব নিয়ে সতর্কতা বেড়েছে
ল্যাবকর্মীর মৃ ত্যুর পর রাশিয়ায় প্লে গের শঙ্কা, পরিস্থিতি নজরদারিতে যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ায় সন্দেহভাজন প্লে গ প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইরকুতস্ক অঞ্চলে এক তরুণ ল্যাবকর্মীর মৃ ত্যুর পর এবং প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার খবরের মধ্যে হোয়াইট হাউস বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। ইরকুতস্কের একটি অ্যান্টি-প্লে গ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন ২৮ বছর বয়সী গবেষক দারিয়া শিপিলোভা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লে গের জীবাণু থাকা একটি টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে তিনি প্লে গে আ ক্রা ন্ত হয়েছিলেন কি না, তা রুশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেননি। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত রয়েছে, প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য করণীয় মূল্যায়ন করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার শেলেখভ শহরের একটি হাসপাতালে গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হন শিপিলোভা। পরে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃ ত্যু হয়। তাঁর মৃ ত্যুর পর সংশ্লিষ্ট একটি হাসপাতালকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। একই সঙ্গে তাঁর সংস্পর্শে আসা কয়েক ডজন মানুষকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা যায়নি এবং তাদের পরীক্ষার ফলও নে তি বা চ এসেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ অসুস্থতার নাম প্রকাশ না করে এটিকে ‘বিপজ্জনক সং ক্রা মক রোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ওই অঞ্চলের সব ধরনের জনসমাগম ও সরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন। রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিপিলোভা ‘অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়ায়’ ভুগছিলেন। আরও পরীক্ষায় তাঁর কর্মস্থলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইরকুতস্ক অঞ্চলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গোলিয়ার সীমান্তবর্তী রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে অন্য গবেষকদের সঙ্গে একটি অভিযানে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন শিপিলোভা। স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, নমুনা সংগ্রহের সময় জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব দুর্ঘটনাক্রমে ভেঙে যাওয়ার কথা চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার পর রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান আন্না পোপোভা মস্কো থেকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মাইল দূরে ইরকুতস্ক অঞ্চলে যান। এর মধ্যে রাশিয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। তবে প্লে গের প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় মহামারি বিশেষজ্ঞ মিখাইল ফাভোরভ টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, অ্যান্টি-প্লে গ প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ব্যক্তিরা সাধারণত সুরক্ষা পোশাক ব্যবহার করেন, তাই শুধু একটি টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার কারণে সং ক্র মণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। এদিকে রুশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিপিলোভার মৃ ত্যুর কারণ এবং কথিত প্লে গ প্রাদুর্ভাব নিয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও এখন পর্যন্ত প্লে গে আ ক্রা ন্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত কোনো পরীক্ষার ফল দিয়ে প্রমাণিত হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৮:৪৫
ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় পিএইচডিতে পূর্ণ অর্থায়ন এবং কিছু মাস্টার্স প্রোগ্রামে পেইড অ্যাসিস্ট্যানশিপের সুযোগ রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের পেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ড ও পেইড অ্যাসিস্ট্যানশিপে উচ্চশিক্ষার সুবর্ণ সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিকাংশ পিএইচডি প্রোগ্রামে টিউশন ও নির্ধারিত ফি বহনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে স্টাইপেন্ড দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের মতো সব মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীর জন্য একই ধরনের কেন্দ্রীয় ‘ফুলি ফান্ডেড গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপ’ নেই। অর্থায়ন, যোগ্যতা ও আবেদনপদ্ধতি স্কুল ও প্রোগ্রামভেদে আলাদা।   ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার স্টুডেন্ট রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ পিএইচডি প্রোগ্রাম ফুলি ফান্ডেড। সাধারণত চার থেকে পাঁচ বছরের নির্ধারিত অর্থায়ন মেয়াদে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীর টিউশন ও নির্ধারিত ফি বহন করে। অনেক প্রোগ্রামে এর সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়। তবে কোন প্রোগ্রামে কত বছর এবং কী ধরনের অর্থায়ন থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের অর্থায়নের ধরনও আলাদা। উদাহরণ হিসেবে পেরেলম্যান স্কুল অব মেডিসিনের বায়োমেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজে ভর্তি হওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীরা টিউশন, ফি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং স্টাইপেন্ডসহ পূর্ণ অর্থায়ন পেয়ে থাকেন। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে এই প্রোগ্রামে বার্ষিক স্টাইপেন্ড ৪৯ হাজার ডলার নির্ধারিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও এই অর্থায়নের আওতায় আসতে পারেন। তবে আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্য ভর্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বলে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে। অ্যানেনবার্গ স্কুল ফর কমিউনিকেশনের পিএইচডি প্রোগ্রামেও আন্তর্জাতিক ও দেশীয় শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীদের স্টাইপেন্ড, পূর্ণ টিউশন, ব্যক্তিগত হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং গবেষণা ও ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হয়। প্রথম কয়েক বছরে শিক্ষার্থীরা রিসার্চ বা টিচিংয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এসব দায়িত্ব সাধারণত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। তবে মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার সব মাস্টার্স প্রোগ্রামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণ অর্থায়ন বা টিউশন মওকুফ পাওয়া যায় না। কিছু স্কুল ও বিভাগে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পেন গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের বিভিন্ন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য পার্টটাইম গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপের সুযোগ প্রকাশ করা হয়। এসব পদে সাধারণত সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। বেতন, কাজের ধরন ও মেয়াদ পদভেদে পরিবর্তিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব অ্যাসিস্ট্যানশিপ নিশ্চিত নয়। এ কারণে ‘পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডিতে সবার জন্য ফুলি ফান্ডেড অ্যাসিস্ট্যানশিপ’—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর হতে পারে। পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক পূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকলেও মাস্টার্স পর্যায়ে সুযোগ অনেক বেশি প্রোগ্রাম ও পদের ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে সব অ্যাসিস্ট্যানশিপের সঙ্গে টিউশন সম্পূর্ণ মওকুফ বা হেলথ ইন্স্যুরেন্স যুক্ত থাকে না। কোনো কোনো গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে সরাসরি ঘণ্টাভিত্তিক বেতন দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে ২০২৬ সালে প্রকাশিত পেনের একটি গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট পজিশনে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজের জন্য ঘণ্টায় ২৫ ডলার বেতন উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণের সুবিধা ছিল না। আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাই প্রথমে নিজের পছন্দের ডিগ্রি প্রোগ্রাম নির্বাচন করে সেই প্রোগ্রামের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন ও ফান্ডিং তথ্য দেখা জরুরি। পিএইচডির ক্ষেত্রে আবেদন করার সময়ই সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের অর্থায়নের কাঠামো জানানো থাকে। কোথাও ফেলোশিপ, কোথাও টিচিং বা রিসার্চের দায়িত্ব, আবার কোথাও একাধিক উৎস মিলিয়ে শিক্ষার্থীর ফান্ডিং প্যাকেজ তৈরি করা হয়। মাস্টার্সে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আরও সতর্কভাবে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। অ্যাডমিশন পাওয়া মানেই অ্যাসিস্ট্যানশিপ পাওয়া নয়। কোনো কোনো গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার পর আলাদাভাবে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের জন্য আবেদন করতে হয়। পেন গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনও জানিয়েছে, তাদের গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপগুলো ফান্ডেড পার্টটাইম সুযোগ হলেও এগুলো বাধ্যতামূলক বা নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নির্ধারিত অ্যাডমিশন শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে জিআরই, টোফেল বা আইইএলটিএসের নিয়ম সব প্রোগ্রামে এক নয়। কোন পরীক্ষা প্রয়োজন, আবেদন কখন শুরু হবে, ফান্ডিং কত বছরের এবং আলাদা অ্যাসিস্ট্যানশিপের জন্য আবেদন করতে হবে কি না—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট স্কুল বা বিভাগের বর্তমান নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সব মিলিয়ে, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য উল্লেখযোগ্য ফান্ডিংয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণীকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রোগ্রামের অফিসিয়াল ফান্ডিং ও অ্যাডমিশন শর্ত যাচাই করেই আবেদন করা উচিত।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৮:৩০