- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিকাংশ পিএইচডি প্রোগ্রামে টিউশন ও নির্ধারিত ফি বহনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে স্টাইপেন্ড দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের মতো সব মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীর জন্য একই ধরনের কেন্দ্রীয় ‘ফুলি ফান্ডেড গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপ’ নেই। অর্থায়ন, যোগ্যতা ও আবেদনপদ্ধতি স্কুল ও প্রোগ্রামভেদে আলাদা। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার স্টুডেন্ট রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ পিএইচডি প্রোগ্রাম ফুলি ফান্ডেড। সাধারণত চার থেকে পাঁচ বছরের নির্ধারিত অর্থায়ন মেয়াদে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীর টিউশন ও নির্ধারিত ফি বহন করে। অনেক প্রোগ্রামে এর সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়। তবে কোন প্রোগ্রামে কত বছর এবং কী ধরনের অর্থায়ন থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের অর্থায়নের ধরনও আলাদা। উদাহরণ হিসেবে পেরেলম্যান স্কুল অব মেডিসিনের বায়োমেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজে ভর্তি হওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীরা টিউশন, ফি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং স্টাইপেন্ডসহ পূর্ণ অর্থায়ন পেয়ে থাকেন। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে এই প্রোগ্রামে বার্ষিক স্টাইপেন্ড ৪৯ হাজার ডলার নির্ধারিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও এই অর্থায়নের আওতায় আসতে পারেন। তবে আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্য ভর্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বলে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে। অ্যানেনবার্গ স্কুল ফর কমিউনিকেশনের পিএইচডি প্রোগ্রামেও আন্তর্জাতিক ও দেশীয় শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীদের স্টাইপেন্ড, পূর্ণ টিউশন, ব্যক্তিগত হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং গবেষণা ও ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হয়। প্রথম কয়েক বছরে শিক্ষার্থীরা রিসার্চ বা টিচিংয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এসব দায়িত্ব সাধারণত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। তবে মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার সব মাস্টার্স প্রোগ্রামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণ অর্থায়ন বা টিউশন মওকুফ পাওয়া যায় না। কিছু স্কুল ও বিভাগে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পেন গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের বিভিন্ন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য পার্টটাইম গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপের সুযোগ প্রকাশ করা হয়। এসব পদে সাধারণত সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। বেতন, কাজের ধরন ও মেয়াদ পদভেদে পরিবর্তিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব অ্যাসিস্ট্যানশিপ নিশ্চিত নয়। এ কারণে ‘পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডিতে সবার জন্য ফুলি ফান্ডেড অ্যাসিস্ট্যানশিপ’—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর হতে পারে। পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক পূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকলেও মাস্টার্স পর্যায়ে সুযোগ অনেক বেশি প্রোগ্রাম ও পদের ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে সব অ্যাসিস্ট্যানশিপের সঙ্গে টিউশন সম্পূর্ণ মওকুফ বা হেলথ ইন্স্যুরেন্স যুক্ত থাকে না। কোনো কোনো গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে সরাসরি ঘণ্টাভিত্তিক বেতন দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে ২০২৬ সালে প্রকাশিত পেনের একটি গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট পজিশনে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজের জন্য ঘণ্টায় ২৫ ডলার বেতন উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণের সুবিধা ছিল না। আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাই প্রথমে নিজের পছন্দের ডিগ্রি প্রোগ্রাম নির্বাচন করে সেই প্রোগ্রামের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন ও ফান্ডিং তথ্য দেখা জরুরি। পিএইচডির ক্ষেত্রে আবেদন করার সময়ই সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের অর্থায়নের কাঠামো জানানো থাকে। কোথাও ফেলোশিপ, কোথাও টিচিং বা রিসার্চের দায়িত্ব, আবার কোথাও একাধিক উৎস মিলিয়ে শিক্ষার্থীর ফান্ডিং প্যাকেজ তৈরি করা হয়। মাস্টার্সে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আরও সতর্কভাবে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। অ্যাডমিশন পাওয়া মানেই অ্যাসিস্ট্যানশিপ পাওয়া নয়। কোনো কোনো গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার পর আলাদাভাবে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের জন্য আবেদন করতে হয়। পেন গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনও জানিয়েছে, তাদের গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপগুলো ফান্ডেড পার্টটাইম সুযোগ হলেও এগুলো বাধ্যতামূলক বা নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নির্ধারিত অ্যাডমিশন শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে জিআরই, টোফেল বা আইইএলটিএসের নিয়ম সব প্রোগ্রামে এক নয়। কোন পরীক্ষা প্রয়োজন, আবেদন কখন শুরু হবে, ফান্ডিং কত বছরের এবং আলাদা অ্যাসিস্ট্যানশিপের জন্য আবেদন করতে হবে কি না—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট স্কুল বা বিভাগের বর্তমান নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সব মিলিয়ে, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য উল্লেখযোগ্য ফান্ডিংয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণীকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রোগ্রামের অফিসিয়াল ফান্ডিং ও অ্যাডমিশন শর্ত যাচাই করেই আবেদন করা উচিত।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পনগরী জুবাইলে ক্ষে প ণা স্ত্র হামলায় মো. সজিব নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃ ত্যু হয়েছে। রোববার, ৪ অক্টোবর হামলার সময় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ ত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্য ও সৌদিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে জানা গেছে। নি হ ত সজিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে। জীবিকার সন্ধানে কয়েক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে জুবাইল শহরে কাজ করছিলেন সজিব। সৌদি আরবে কর্মরত আল আমিন নামে এক বাংলাদেশি সজিবের মৃ ত্যুর খবর তাঁর পরিবারকে নিশ্চিত করেন। একই এলাকায় কর্মরত আরেক বাংলাদেশি প্রবাসী রোশন আলী সরকারও সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ক্ষে প ণা স্ত্র হামলাটি ঠিক কোথায় আঘাত হানে এবং এর লক্ষ্য কী ছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় প্রবাসে ছিলেন সজিব। তাঁর আকস্মিক মৃ ত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শো কের ছায়া নেমে এসেছে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক আহমেদ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাগড়া গ্রামের এক প্রবাসীর সৌদি আরবে মৃ ত্যুর খবর তাঁরা পেয়েছেন। এ বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সজিবের ম র দে হ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। স্বজনেরা ম র দে হ বাংলাদেশে এনে পারিবারিকভাবে দা ফ নের ব্যবস্থা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন সৌদি আরব ও প্রতিবেশী ইয়েমেনকে ঘিরে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষে প ণা স্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তবে জুবাইলে যে হামলায় সজিবের মৃ ত্যু হয়েছে, সেটি কারা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এই নির্দিষ্ট হামলায় হ তা হ তের বিস্তারিত কিংবা সজিবের মৃ ত্যু নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের খবর পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার উৎস ও পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই সজিবের মৃ ত্যুর ঘটনা জানা যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের এখন প্রধান প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে সজিবের ম র দে হ দেশে ফিরিয়ে আনা। এ জন্য বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ডেঙ্গু প্রা দু র্ভাব দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালে রাজ্যটিতে স্থানীয়ভাবে সং ক্র মিত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি আ ক্রা ন্ত হয়েছে টাম্পা শহরসহ হিলসবরো কাউন্টি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি কাউন্টিতে ম শা বা হিত রোগের সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ম শা নিয়ন্ত্রণে জোরদার কার্যক্রম চালাচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ফ্লোরিডায় যে ডেঙ্গু প্রা দু র্ভাব চলছে, সেটি মহাদেশীয় যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড়। উপলব্ধ সরকারি তথ্য ও পুরোনো স্বাস্থ্য রেকর্ড অনুযায়ী, অন্তত ১৯৪০-এর দশকের পর কোনো একটি অঙ্গরাজ্যে এক বছরে এত বেশি স্থানীয় ডেঙ্গু সং ক্র মণ দেখা যায়নি। ফ্লোরিডায় এর আগে ২০২৩ সালে প্রায় ২০০টি স্থানীয় সং ক্র মণ শনাক্ত হয়েছিল। চলতি বছরের আ ক্রা ন্তদের বড় অংশই হিলসবরো কাউন্টির বাসিন্দা। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই শুধু এই কাউন্টিতে স্থানীয়ভাবে সং ক্র মিত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫৯-এ পৌঁছেছিল। এরপর সং ক্র মণ দ্রুত বাড়ে। টাম্পা ও আশপাশের এলাকায় ম শা নিধনে দিনের পাশাপাশি রাতেও স্প্রে করা হচ্ছে। বাড়িঘরের আশপাশে জমে থাকা পানি ও ম শার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত করতেও অভিযান চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ জানিয়েছে, পাশের পাসকো কাউন্টিতেও স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সং ক্র মণ শনাক্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সেখানে তৃতীয় স্থানীয় রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ম শা বা হিত রোগের সতর্কতা জারি করা হয়। অরেঞ্জ ও পোলক কাউন্টিতেও স্থানীয় সং ক্র মণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। চলতি বছরের প্রা দু র্ভাবে ফ্লোরিডায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃ ত্যুও নিশ্চিত হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, টাম্পার এক বয়স্ক নারী ৪ সেপ্টেম্বর মৃ ত্যু বরণ করেন। ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ পরে মৃ ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও রোগীর বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি। ডেঙ্গু এডিস প্রজাতির সং ক্র মিত ম শার কামড়ে ছড়ায়। এটি একজন আ ক্রা ন্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য ব্যক্তির শরীরে সাধারণ যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ায় না। সং ক্র মণের পর অনেক মানুষের কোনো উপসর্গই দেখা যায় না। আবার কারও ক্ষেত্রে উচ্চ জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র্যাশ দেখা দিতে পারে। গুরুতর ডেঙ্গুতে র ক্ত ক্ষরণ, র ক্ত চাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া এবং শকের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। ডেঙ্গুতে তীব্র শরীর ও হাড়ের ব্যথা হতে পারে বলে রোগটি অনেক সময় ‘ব্রেকবোন ফিভার’ নামেও পরিচিত। কেন এবারের প্রা দু র্ভাব টাম্পা এলাকায় এত বড় আকার নিয়েছে, তার একক কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুপ্রবণ অঞ্চল থেকে ফ্লোরিডায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক যাতায়াত একটি সম্ভাব্য কারণ। বিদেশে আ ক্রা ন্ত কোনো ব্যক্তিকে ফ্লোরিডার এডিস ম শা কামড়ানোর পর সেই ম শা অন্য মানুষকে কামড়ালে স্থানীয় সং ক্র মণের চক্র শুরু হতে পারে। চলতি বছর পরিস্থিতির একটি ব্যতিক্রমী দিক হলো, ফ্লোরিডায় স্থানীয়ভাবে সং ক্র মিত রোগীর সংখ্যা বিদেশ ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত রোগীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী স্থানীয় সং ক্র মণ ছিল ২৫২টি, আর আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত সং ক্র মণ ছিল ২৪৫টির মতো। বিশেষজ্ঞরা ফ্লোরিডার উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়াকেও ঝুঁকির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন। এডিস ম শা উষ্ণ পরিবেশে দ্রুত বংশবিস্তার করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বিস্তৃত এলাকায় এ ধরনের ম শার বসবাসের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলেও গবেষকেরা সতর্ক করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয়ভাবে সং ক্র মিত ডেঙ্গুর অধিকাংশ ঘটনাই পুয়ের্তো রিকোতে হয়েছে। তবে মহাদেশীয় যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লোরিডার পরিস্থিতি ব্যতিক্রমী। অতীতে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও ফ্লোরিডার মতো উষ্ণ অঙ্গরাজ্যে বিচ্ছিন্ন স্থানীয় সং ক্র মণ দেখা গেলেও এত বড় প্রা দু র্ভাব বিরল। ফেডারেল পর্যায়েও পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে। সিডিসি ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য বিভাগকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় অর্থসহায়তা দিয়েছে। তবে ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সিডিসির রোগ তদ ন্তকারী দলকে সরাসরি মাঠপর্যায়ে পাঠানোর অনুরোধ করেনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ফ্লোরিডায় বসবাসকারী এবং রাজ্যটিতে ভ্রমণকারীদের ম শার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ডিইইটি, পিকারিডিন বা অনুমোদিত অন্যান্য উপাদানযুক্ত ম শা প্রতিরোধক ব্যবহারের পাশাপাশি লম্বা হাতার পোশাক ও লম্বা প্যান্ট পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দরজা ও জানালায় স্ক্রিন ব্যবহার এবং সম্ভব হলে এয়ার কন্ডিশনড জায়গায় থাকার কথাও বলা হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে বালতি, ফুলের টব, পোষা প্রাণীর পানির পাত্র, পুরোনো টায়ার কিংবা অন্য কোনো পাত্রে পানি জমে থাকতে না দেওয়ার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অল্প পরিমাণ স্থির পানিতেও এডিস ম শা বংশবিস্তার করতে পারে। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জ্বর বা ব্যথার জন্য সাধারণত অ্যাসিটামিনোফেন বা প্যারাসিটামল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। ডেঙ্গুর সন্দেহ থাকলে অ্যাসপিরিন ও আইবুপ্রোফেনের মতো কিছু ওষুধ র ক্ত ক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সেগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সং ক্র মণ নিয়ন্ত্রণে শুধু ম শা নিধন কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়। বাসিন্দাদেরও নিজেদের বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি সরিয়ে ম শার প্রজননস্থল কমাতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে টাম্পা ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী কিংবা সেখানে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের ম শার কামড় এড়াতে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দারিদ্র্য, প্রতারণা আর অঙ্গ পা চার চক্রের ফাঁদে পড়ে নেপালের হোকসে গ্রামের বহু মানুষ একসময় কিডনি বি ক্রি করেছিলেন। দালালদের কেউ কেউ তাদের বোঝাত, একটি কিডনি বি ক্রি করলেও বড় কোনো সমস্যা হবে না, এমনকি কিডনি আবার গজিয়ে উঠবে। বছরের পর বছর চলা এই শো ষ ণের কারণে গ্রামটি পরে ‘কিডনি ভ্যা লি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। হোকসে গ্রামের বহু পরিবারে কিডনি বি ক্রির অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে। আর্থিক সংকটে পড়ে অনেকে দালালদের প্রলোভনে রাজি হন। কারও কারও দাবি, অ পা রে শ নের পর দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় পড়েছেন তারা এবং আগের মতো কাজ করতে পারছেন না। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কত মানুষ এইভাবে কিডনি বি ক্রি করেছেন তার নির্ভুল হিসাব করা কঠিন। দালালরা দরিদ্র পরিবারগুলোর অসহায় অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে কিডনি বি ক্রিতে রাজি করাত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অঙ্গ বি ক্রি অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের লেনদেন চলেছে। ভু ক্ত ভো গী দের কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা অঙ্গ বি ক্রির প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাননি এবং প্রতারণার শিকার হয়েছেন। হোকসে গ্রামের পুরোনো এই অধ্যায় এখনো স্থানীয় মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। তবে সংকটটি শুধু একটি গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপালে অঙ্গ পা চারের নতুন অ ভি যোগও সামনে এসেছে, যেখানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষদের ভারতে নিয়ে গিয়ে কিডনি অপসারণের অ ভি যোগ উঠেছে। নেপালের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব লেবার অ্যান্ড মোবিলিটি বা সিইএসএলএএমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে ভালো বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেপালি নাগরিকদের সীমান্ত পার করে ভারতে নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের আটকে রেখে বা চাপ প্রয়োগ করে কিডনি অপসারণের অ ভি যোগ রয়েছে। এমনই একটি ঘটনায় সিন্ধুলি এলাকার এক ব্যক্তি অ ভি যোগ করেন, ২০২৫ সালে চাকরির আশায় ভারতে যাওয়ার পর তাকে প্রায় এক মাস একটি অ্যাপার্টমেন্টে আটকে রাখা হয়। পরে কিডনি অপসারণের কথা জানানো হলে তিনি রাজি হননি। তার অ ভি যোগ, এরপর তাকে জোর করে একটি ক্লিনিকে নিয়ে অ চে ত ন করা হয় এবং তার বাম কিডনি অপসারণ করা হয়। ওই ব্যক্তির দাবি, কিডনির বিনিময়ে তাকে ৬ লাখ রুপি দেওয়ার কথা বলা হলেও দেশে ফেরার সময় তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ১০ হাজার রুপি। পরে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তিনি পরিবারকে বিষয়টি জানান এবং নেপালের অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোতে অ ভি যোগ করেন। অন্যদিকে নেপালের অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যেও কিডনি রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। স্কাই নিউজের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় দেশ ও মালয়েশিয়ায় কাজ করা কিছু নেপালি শ্রমিক দেশে ফিরছেন গুরুতর কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে। তীব্র গরম, পানিশূন্যতা এবং কঠিন কর্মপরিবেশকে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা। হোকসে গ্রামের ‘কিডনি ভ্যা লি’ পরিচয় তাই শুধু অতীতের একটি ভয়াবহ গল্প নয়। এটি দেখায়, দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সীমিত জ্ঞান এবং পা চার চক্রের প্রতারণা কীভাবে মানুষের শরীরকেও বাণিজ্যের অংশে পরিণত করতে পারে। পুরোনো শো ষ ণের ক্ষত মুছে না যেতেই নতুন অঙ্গ পা চারের অ ভি যোগ নেপালে একই সংকটের ভিন্ন রূপ সামনে আনছে। সূত্র: প্রথম আলো
শৈশবের রান্নাঘরে রুটি বানানোর আবদার থেকে শুরু। কৈশোরে একসঙ্গে ১৫ জনের জন্য রান্না। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি, নিজের খাবারের ছবি ধরে রাখার জন্য একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ, পেশাদার শেফ হিসেবে পথচলা এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশি খাবারকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার উদ্যোগ। বাংলাদেশি তরুণী কুমকুম কালামের ‘Your Lil Cook’ এখন শুধু রান্নার একটি পেজ নয়, তার কাছে এটি দেশের খাবার, পারিবারিক স্মৃতি ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম। বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমকুম বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে থাকেন। নিজের ওয়েবসাইটে তিনি জানিয়েছেন, রান্নার প্রতি আগ্রহ শুরু হয়েছিল খুব ছোট বয়সেই। মাত্র চার বছর বয়সে পরিবারের সদস্যদের কাছে রুটি বানাতে সাহায্য করার আবদার করতেন তিনি। নয় বছর বয়সে নিজে প্রথম রান্না করেন ডিম ভুনা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রান্নাঘরের প্রতি সেই আগ্রহও বাড়তে থাকে। কৈশোরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে একসঙ্গে ১৫ জনের জন্য রান্না করার অভিজ্ঞতা হয়ে যায় কুমকুমের। মা, ফুফু ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে যেমন শিখেছেন, তেমনি ইউটিউব দেখে নতুন নতুন রান্নাও চেষ্টা করতেন। ঈদের আগের রাতে রান্না করে পরদিন পরিবারের সদস্যদের পরিবেশন করার স্মৃতিও তার রান্নার প্রতি ভালোবাসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। স্কুল শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে যান কুমকুম। সেখানে পড়াশোনা, কাজ এবং নিজের খরচ চালানোর ব্যস্ততার মধ্যেও রান্না থামেনি। বরং পরিবার ও দেশের বাইরে থাকার কারণে বাংলাদেশের খাবারের প্রতি টান আরও বাড়তে থাকে। বন্ধুদের জন্য প্রায়ই দেশি রান্না করতেন তিনি। তার রান্নার প্রতি আগ্রহ দেখে পরিচিতজনদের অনেকেই তাকে আদর করে ‘Little Cook’ নামে ডাকতেন। সেখান থেকেই আসে ‘Your Lil Cook’ নামটি। কুমকুমের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে নিজের রান্না করা খাবারের ছবি সংরক্ষণের জন্য অনেকটা হঠাৎ করেই একটি ইনস্টাগ্রাম পেজ খোলেন তিনি। তখন নিয়মিত রেসিপি বা ভিডিও প্রকাশের পরিকল্পনাও ছিল না। যখন রান্না করতেন এবং সময় পেতেন, তখনই ছবি তুলে পোস্ট করতেন। ধীরে ধীরে সেই ছোট পেজে মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে। কয়েকশ অনুসারী থেকে কয়েক হাজার, পরে লাখের ঘরে পৌঁছে যায় তার দর্শকসংখ্যা। বর্তমানে Your Lil Cook-এর নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে তাদের অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবার, সহজ রান্নার পদ্ধতি এবং সংস্কৃতিনির্ভর কনটেন্টই প্ল্যাটফর্মটির প্রধান পরিচয়। কুমকুমের জীবনের আরেকটি বড় মোড় আসে করোনা মহামারির সময়। পড়াশোনা ও কাজের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হলে তিনি আরও বেশি সময় রান্নায় দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে নিজের আগের পড়াশোনা ছেড়ে পেশাদারভাবে রান্না শেখার সিদ্ধান্ত নেন এবং মেলবোর্নে কমার্শিয়াল কুকিং ও কুলিনারি আর্টস নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেফ হিসেবেও কাজ করেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনের একটি বড় শোক তার রান্নাকে নতুন অর্থ দেয়। মায়ের মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে কয়েক মাস কাটান কুমকুম। সে সময় তার মনে হয়, পরিবারের পুরোনো রান্না ও রেসিপিগুলো যদি পরবর্তী প্রজন্ম না শেখে, তাহলে একসময় সেগুলো হারিয়ে যেতে পারে। তখন পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের কাছ থেকে আরও বেশি করে ঐতিহ্যবাহী রান্না শেখার উদ্যোগ নেন তিনি। মেলবোর্নে ফিরে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি খাবার নিয়ে নিজের কাজ আরও বিস্তৃত করেন। একসময় ‘Your Lil Cook’ নামে একটি বাংলাদেশি রেস্তোরাঁও চালু করেন। নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, রেস্তোরাঁর সাজসজ্জা থেকে শুরু করে মেনু, পরিবেশন ও রান্না সবকিছুর পরিকল্পনায় তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। প্রায় এক বছর রেস্তোরাঁটি পরিচালনার পর ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যগত কারণে সেটি বন্ধ করে বিরতি নেন। তবে রান্নার সঙ্গে সম্পর্ক থামেনি। এরপর তিনি পূর্ণ সময়ের কনটেন্ট ক্রিয়েটর, শেফ ও রেসিপি ডেভেলপার হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। ২০২৪ সালে শুরু করেন ‘Your Lil Cook Supper Club’। মেলবোর্নে আয়োজিত এই উদ্যোগে অতিথিদের জন্য ঘরোয়া পরিবেশে বিভিন্ন পদে সাজানো বাংলাদেশি খাবার পরিবেশন করা হয়। বর্তমান Your Lil Cook প্ল্যাটফর্মেও সেই সাপার ক্লাবের কার্যক্রম অব্যাহত থাকার তথ্য রয়েছে। তার ওয়েবসাইটে এখন খিচুড়ি, মাছ ভাজা, দুধ চিতই, পুলি পিঠা, বেগুন শুঁটকি, মগজ ভুনাসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি রান্নার রেসিপি প্রকাশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘Bangladeshi Classics’, ‘Deshi Jhal Bideshe’ এবং ‘Dinner for Two’ এর মতো আলাদা সিরিজের মাধ্যমেও রান্নার কনটেন্ট তৈরি করছেন তিনি। কুমকুমের লক্ষ্য শুধু জনপ্রিয় রান্নার ভিডিও তৈরি করা নয়। নিজের পরিচিতিতে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশি খাবারের ঐতিহ্য ও আতিথেয়তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিত করে তুলতে চান। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্ম যেন পারিবারিক রেসিপি, পিঠা, উৎসবের খাবার এবং বাংলাদেশের নিজস্ব রান্নার ইতিহাসকে ধরে রাখে, সেটিও তার অন্যতম লক্ষ্য। একসময় পরিবারের রান্নাঘরে ১৫ জনের জন্য খাবার তৈরির যে অভ্যাস তৈরি হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত কুমকুম কালামের পেশাগত জীবনের ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালে খাবারের ছবি রাখার জন্য শুরু করা ছোট্ট ‘Your Lil Cook’ এখন মেলবোর্ন থেকে বাংলাদেশের রান্না ও সংস্কৃতিকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করার একটি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃ ত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহর মৃ ত্যুদ ণ্ড চাইছে প্রসিকিউশন। হিলসবরো কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নির দপ্তর গত ৮ মে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেয়। মামলার বি চার এখনো শুরু হয়নি; মৃ ত্যুদ ণ্ডের কোনো রায়ও হয়নি। লিমন ও বৃষ্টি দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করছিলেন। ২৭ বছর বয়সী এই দুই শিক্ষার্থীকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা যায়। পরে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছে লিমনের মৃ ত দে হ এবং কাছাকাছি পানিতে বৃষ্টির মৃ ত দে হ পাওয়া যায়। তদ ন্তের পর লিমনের ক্যাম্পাসের বাইরের বাসার সাবেক সহবাসী, ২৬ বছর বয়সী আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে হ ত্যা র অ ভি যোগ আনা হয়। মে মাসে গ্র্যান্ড জুরি তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি অ ভি যোগে বি চার শুরুর অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে অ স্ত্র ব্যবহার করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুজনকে হ ত্যা করার দুটি অ ভি যোগ রয়েছে। প্রমাণ ন ষ্ট করা, মৃ ত দে হ অবৈধভাবে সরানো এবং মৃ ত্যুর তথ্য গোপনের অ ভি যোগও আনা হয়েছে। স্টেট অ্যাটর্নির দপ্তরের দাবি, ফ্লোরিডার আইনে মৃ ত্যুদ ণ্ড চাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুতর পরিস্থিতি এ মামলায় রয়েছে। এগুলো প্রসিকিউশনের অবস্থান; আ দা লতে অ ভি যোগগুলো এখনো প্রমাণিত হয়নি। ১৮ মে আবুগারবিয়েহ আইনজীবীর মাধ্যমে অ ভি যোগ অস্বীকার করে লিখিত বক্তব্য দেন। প্রকাশিত আ দা লতসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, জু রি বি চার শুরুর তারিখ ৩ নভেম্বর ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে এ সূচি বদলাতে পারে। ফলে মে মাসের মৃ ত্যুদ ণ্ড চাওয়ার সিদ্ধান্ত বা ২০২৭ সালের বি চারসূচিকে নতুন কোনো রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এদিকে মে মাসেই লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা। ৮ মে সমাবর্তনে তাঁদের স্মরণে পোশাকসহ দুটি খালি চেয়ার রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষে ডিগ্রিগুলো গ্রহণ করেন মায়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি। লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিবিষয়ে এবং বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গবেষণা করছিলেন। সূত্র: হিলসবরো কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির দপ্তর, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা ও ডব্লিউইউএসএফ।
ইতালিতে কাজের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দেশটির ২০২৬ থেকে ২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালে বিভিন্ন খাতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কোটায় বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্যও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ইতালির সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০ জনকে অমৌসুমি কাজে নেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষি ও পর্যটন খাতে মৌসুমি কাজের জন্য ৮৯ হাজার এবং স্বনিয়োজিত কাজের জন্য আরও ৬৫০ জনের সুযোগ থাকবে। কেয়ারগিভিং খাতেও থাকছে সুযোগ বাংলাদেশসহ বিদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষ আগ্রহের একটি খাত হতে পারে পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং। ২০২৭ সালের অমৌসুমি কর্মী কোটার মধ্যে এই খাতে ১৪ হাজার পদ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও নেপালসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকরা নির্ধারিত কোটার আওতায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন। ফলে ইতালিতে কাজের জন্য যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিন বছরে প্রায় ৫ লাখ বিদেশি কর্মী নেবে ইতালি ইতালির এই কর্মী নিয়োগ পরিকল্পনা শুধু ২০২৭ সালের জন্য নয়। ২০২৬ থেকে ২০২৮—এই তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন এবং ২০২৮ সালেও একই সংখ্যক অর্থাৎ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আবেদন করা যাবে না ইতালির এই কর্মী কোটার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চাকরিপ্রার্থী নিজে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন না। ইতালিতে বৈধভাবে অবস্থানরত কোনো নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মীর জন্য কাজের অনুমোদন বা ‘নুল্লা ওস্তা’র আবেদন করবেন। ‘নুল্লা ওস্তা’ অনুমোদিত হলে এরপর নিজ দেশে থাকা ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ চাকরিপ্রার্থীর জন্য প্রথম ধাপ হলো বৈধ নিয়োগকর্তা ও প্রকৃত চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা। কখন শুরু হবে প্রাক্-আবেদন ২০২৭ সালের কর্মী কোটার জন্য ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘পোর্তালে সার্ভিজি আলি’ প্ল্যাটফর্মে ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে আবেদনপত্রের প্রাক্-পূরণ বা প্রিকম্পাইলেশন শুরু হবে। এই প্রক্রিয়া চলবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত। এই সময়ে নিয়োগকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন প্রস্তুত করতে পারবেন। এরপর নির্ধারিত ‘ক্লিক ডে’তে সংশ্লিষ্ট আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ২০২৭ সালের গুরুত্বপূর্ণ ‘ক্লিক ডে’ খাতভেদে ২০২৭ সালের আবেদন শুরুর তারিখ আলাদা করা হয়েছে। কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য ১২ জানুয়ারি ২০২৭, পর্যটন খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কর্মীদের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় এসব আবেদন গ্রহণ শুরু করার কথা রয়েছে। নির্ধারিত কোটায় আসন খালি থাকা সাপেক্ষে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দালালচক্র থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ ইতালিতে কাজের সুযোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই চাকরিপ্রার্থীদের বৈধ নিয়োগকর্তা ও নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এগোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা দালালকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তার পরিচয় ও বৈধতা এবং ‘নুল্লা ওস্তা’র সত্যতা যাচাই করা জরুরি। শুধু টাকা দিলেই ইতালিতে চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের তাই নির্ধারিত তারিখ, আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সরকারি তথ্য যাচাই করে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় সুযোগ থাকলেও ভিসা পাওয়ার আগে বৈধ চাকরি, নিয়োগকর্তার আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন—প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
রাশিয়ার পূর্ব সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক নারী কর্মীর মৃত্যুর পর তাঁর সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে প্লেগে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়ালেও রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ বিবৃতিতে রোগটিকে ‘অজ্ঞাত কারণে হওয়া নিউমোনিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায় মৃত নারীর নাম দারিয়া শিপিলোভা এবং বয়স ২৮ বছর। তিনি ইরকুতস্কের একটি প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। ২৯ সেপ্টেম্বর তীব্র নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে তিনি শেলেখভের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের সময় জীবন্ত ব্যাকটেরিয়াযুক্ত একটি টেস্টটিউব ভেঙে যাওয়ার কথাও উঠে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী চিকিৎসকদের ঘটনাটি জানিয়েছিলেন। তবে পরীক্ষাগারে দুর্ঘটনা থেকে তিনি সংক্রমিত হয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হয়নি। ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রসপত্রেবনাদজোর গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রোগজীবাণু নিয়ে কোনো দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। মেদুজা রেন টিভির বরাতে জানিয়েছে, ১৮৯ জনকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইরকুতস্কের গভর্নর ইগর কবজেভের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ নেই। তাঁদের পরীক্ষার ফল নেতিবাচক হওয়ার কথা জানা গিয়েছে । প্রতিবেশী বুরিয়াতিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রধান আলেক্সেই সিদেনভ প্রথমে ওই নারীর প্লেগে মৃত্যুর কথা বলেছিলেন। পরে তিনি পোস্টের ভাষা সংশোধন করে প্লেগে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন। বুরিয়াতিয়ায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব নেই বলেও জানান তিনি। ফলে তাঁর প্রাথমিক বক্তব্যকে মৃত্যুর কারণের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না। রবিবার, ৪ অক্টোবর রসপত্রেবনাদজোর জানিয়েছে, ওই কর্মীর রোগ শনাক্ত করা হয়েছে অজ্ঞাত কারণে হওয়া নিউমোনিয়া হিসেবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে সংস্থাটির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, রোগীর নমুনার বিস্তৃত পরীক্ষায় তাঁর পেশাগত কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অণুজীব পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরকুতস্ক অঞ্চল এবং ইরকুতস্ক ও শেলেখভ শহরের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের নজরেও এসেছে। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন সন্দেহভাজন প্লেগ সংক্রমণ ও সংশ্লিষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ওই নারীর প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। পর্যবেক্ষণে থাকা প্রায় ২০০ জনকেও নিশ্চিত প্লেগ রোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: আরটিভি, তাস, মেদুজা, ইউরোনিউজ ও অ্যাক্সিওস।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেছেন, ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় সাড়ে ১২ কোটি মানুষ ভোট দিয়েছেন। দ্রুত ফল প্রকাশের প্রশংসা করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভোটব্যবস্থার সমালোচনাও করেন। তবে রবিবার, ৪ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হয়েছে ব্রাজিলে। ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাধারণ মানুষ সরাসরি ভোট দেন না। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে ভারতের নাম উল্লেখ করে বলেন, ভোট শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই একই দিনে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এরপর ডেট্রয়েট, ফিলাডেলফিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব জায়গায় তুলনামূলক কম ভোট গণনা করতেও কয়েক সপ্তাহ লাগে। মার্কিন ভোটব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পোস্টে ব্রাজিলের নাম না থাকলেও নির্বাচনের সময় ও প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ভোটারের উল্লেখ ব্রাজিলের ভোটের সঙ্গে মিলে যায়। এই মিলের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমগুলো ঘটনাটিকে ব্রাজিলের সঙ্গে ভারতকে গুলিয়ে ফেলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্টের সরকারি সূচিতে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রথম দফার দিন নির্ধারিত ছিল ৪ অক্টোবর। প্রেসিডেন্ট ও গভর্নর পদে প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন রাখা হয়েছে ২৫ অক্টোবর। দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জনগণের সরাসরি ভোটে। ভারতের নির্বাচনী পদ্ধতি ভিন্ন। দেশটির নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পার্লামেন্টের দুই কক্ষের নির্বাচিত সদস্য, রাজ্যগুলোর বিধানসভার নির্বাচিত সদস্য এবং দিল্লি ও পুদুচেরির বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত ইলেক্টোরাল কলেজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে। তাই ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাড়ে ১২ কোটি মানুষের সরাসরি ভোট দেওয়ার দাবি সেই পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ব্রাজিলের প্রথম দফায় ফ্লাভিও বলসোনারো প্রায় ৪৭ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা প্রায় ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ বৈধ ভোট পেয়েছেন। কেউ প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় তাঁদের মুখোমুখি হওয়ার কথা। সূত্র: মানিকন্ট্রোল, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্ট ও ভারতের নির্বাচন কমিশন।
হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত মানতে হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। এদিকে জাহাজে হামলার ঝুঁকি অব্যাহত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের কয়েকটি দিনে যুদ্ধ শুরুর আগের দৈনিক গড় ছাড়িয়েছে। সোমবার, ৫ অক্টোবর প্রকাশিত জাহাজ চলাচলের তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। গালিবাফ রোববার বলেন, জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতায় ইরান যে সাতটি শর্ত দিয়েছিল, সেগুলো পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক চলাচল ফিরবে না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তাতে শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে স্বাভাবিক নৌচলাচল ফেরানোর কথা বলা হয়। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ওই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, ওয়াশিংটনের জবাবের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের অবস্থান জানানো হয়েছে; আরও কিছু বিষয় জানানো বাকি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পর্যায়ে ইরানের মনোযোগ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ফেরানোর দিকে। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরান কূটনৈতিক পথেই অগ্রগতি চায়, তবে নতুন মার্কিন সামরিক হামলা হলে জবাব দিতে প্রস্তুত। কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেও তেল পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ নেই। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক হিসাবে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে চার দিন মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি যুদ্ধের আগের দৈনিক গড় ছাড়ায়। ওই দিনগুলোতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল দিনে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল। যুদ্ধ শুরুর আগের বছরটিতে দৈনিক গড় ছিল প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল। তবে এই আঞ্চলিক হিসাবে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি অন্য পথ ও টার্মিনাল দিয়ে যাওয়া তেলও রয়েছে। রপ্তানি বাড়লেও জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ম্যারিস্কস জানিয়েছে, হরমুজ ও আশপাশে অন্তত সাতটি জাহাজে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা জানিয়েছে, ২ অক্টোবর থেকে হরমুজ প্রণালি অথবা এডেন উপসাগরে প্রতিদিন অন্তত একটি হামলার খবর পেয়েছে তারা। তাই তেল রপ্তানির সাময়িক বৃদ্ধি দিয়ে নৌপথটি পুরোপুরি নিরাপদ হয়ে গেছে বলা যায় না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তার আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এখন এই নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল ফেরানোই ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। সূত্র: রয়টার্সের ৪ ও ৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন।
বয়স বেশি এমন দাতার হৃদপিণ্ড তরুণ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের পর জৈবিকভাবে তুলনামূলক তরুণ হওয়ার লক্ষণ দেখাতে পারে। আবার তরুণ হৃদপিণ্ড বয়স্ক শরীরে প্রতিস্থাপন করলে সেটিতে দ্রুত বয়স বাড়ার আণবিক চিহ্ন দেখা যেতে পারে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন্স হাসপাতালের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় এমনই চমকপ্রদ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষণাটি সেপ্টেম্বর মাসে জীববিজ্ঞানের প্রিপ্রিন্ট প্ল্যাটফর্ম বায়োআরকাইভে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এটি এখনো পিয়ার রিভিউ সম্পন্ন করেনি। ফলে ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও এখনই চিকিৎসা নীতি পরিবর্তনের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করছেন না গবেষকেরা। জেসি আর. পোগানিক, তোমোহিসা মাতসুনাগা, আলেকজান্ডার টাইশকোভস্কি, স্টিভ হরভাথ, ভাদিম এন. গ্লাডিশেভসহ গবেষক দলটি মূলত জানতে চেয়েছিল, একটি অঙ্গের ‘জৈবিক বয়স’ শুধু তার দাতার বয়সের সঙ্গে স্থায়ীভাবে নির্ধারিত থাকে কি না, নাকি নতুন শরীরের পরিবেশ সেটিকে পরিবর্তন করতে পারে। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রথমে ইঁদুরের ওপর বয়সে অমিল হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের পরীক্ষা করা হয়। তরুণ ইঁদুরের হৃদপিণ্ড বয়স্ক ইঁদুরের শরীরে এবং বয়স্ক ইঁদুরের হৃদপিণ্ড তরুণ ইঁদুরের শরীরে প্রতিস্থাপন করে গবেষকেরা ডিএনএ মিথাইলেশন, জিন এক্সপ্রেশনসহ বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন আণবিক সূচক বিশ্লেষণ করেন। ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিস্থাপিত হৃদপিণ্ডের জৈবিক বয়স অনেকাংশে নতুন শরীরের বয়সের দিকে সরে যাচ্ছে। বয়স্ক হৃদপিণ্ড তরুণ শরীরে যাওয়ার পর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু আণবিক চিহ্ন উল্টো দিকে পরিবর্তিত হয়েছে। অন্যদিকে তরুণ হৃদপিণ্ড বয়স্ক শরীরে প্রতিস্থাপনের পর সেটিতে তুলনামূলক দ্রুত বয়স বাড়ার সংকেত দেখা গেছে। গবেষকেরা ডিএনএ মিথাইলেশনভিত্তিক একাধিক ‘এজিং ক্লক’ ব্যবহার করে এই পরিবর্তন পরিমাপ করেন। ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশে রাসায়নিক পরিবর্তনের ধরন দেখে জীববিজ্ঞানে কোনো টিস্যুর আনুমানিক জৈবিক বয়স নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিস্থাপিত হৃদপিণ্ডের এসব বয়সসংক্রান্ত মলিকিউলার প্যাটার্ন দাতার বয়সের চেয়ে গ্রহীতার বয়সের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত হয়ে পড়ছে। তবে পরিবর্তনটি পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েনি। ইঁদুরের পরীক্ষায় প্রতিস্থাপিত হৃদপিণ্ডের বয়স পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা গেলেও গ্রহীতার নিজস্ব হৃদপিণ্ড, রক্ত বা লিভারের জৈবিক বয়সে একই ধরনের বড় পরিবর্তন পাওয়া যায়নি। এতে গবেষকদের ধারণা, নতুন শরীরের পরিবেশ বিশেষভাবে প্রতিস্থাপিত অঙ্গটির ওপর প্রভাব ফেলছে। ইঁদুরের ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রেও দেখা যায় কি না, সেটি যাচাই করতে গবেষকেরা ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন্স হাসপাতালের পুরোনো হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট রেকর্ড ও সংরক্ষিত হৃদপিণ্ডের বায়োপসি নমুনা বিশ্লেষণ করেন। মানবদেহের আণবিক বিশ্লেষণের জন্য বয়সে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকা ১১ জন হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট রোগীর নমুনা নির্বাচন করা হয়। এই ছোট মানব নমুনাতেও একই ধরনের প্রবণতা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বেশি বয়সী দাতার হৃদপিণ্ড তুলনামূলক কম বয়সী গ্রহীতার শরীরে প্রতিস্থাপনের পর সেটির ডিএনএ মিথাইলেশনভিত্তিক জৈবিক বয়স কমে যাওয়ার লক্ষণ পাওয়া যায়। বিপরীত পরিস্থিতিতেও হৃদপিণ্ডের জৈবিক বয়স গ্রহীতার বয়সের দিকে সরে যাওয়ার সম্পর্ক দেখা গেছে। গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হার্ট ট্রান্সপ্লান্টে দাতার বয়স অঙ্গ নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে হৃদপিণ্ডে কাঠামোগত ও কার্যগত পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ায় তুলনামূলক কম বয়সী দাতার হৃদপিণ্ডকে অনেক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। নতুন গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুধুমাত্র দাতার ক্যালেন্ডার বয়স দিয়ে একটি হৃদপিণ্ডের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বিচার করা সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট নাও হতে পারে। গবেষকদের মতে, যদি বড় পরিসরের গবেষণায় একই ফলাফল নিশ্চিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তুলনামূলক বেশি বয়সী দাতার কিছু হৃদপিণ্ডও ট্রান্সপ্লান্টের জন্য বিবেচনার সুযোগ বাড়তে পারে। এতে সীমিত সংখ্যক দাতা হৃদপিণ্ডের ব্যবহার আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরোনো হৃদপিণ্ড সম্পূর্ণভাবে নতুন হয়ে যায়। বয়সের কারণে টিস্যুতে তৈরি হওয়া সব ধরনের ক্ষতি উল্টে যায় এমন প্রমাণ গবেষণাটি দেয়নি। বরং গবেষকেরা দেখিয়েছেন, বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট মলিকিউলার ও এপিজেনেটিক বৈশিষ্ট্যের একটি অংশ নতুন শরীরের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে পরিবর্তিত হতে পারে। আরেকটি বিষয়ও গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া নিজেই হৃদপিণ্ডের ওপর শারীরিক চাপ তৈরি করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে জৈবিক বয়স বৃদ্ধির সংকেতও দেখা গেছে। ফলে ‘তরুণ শরীরে গেলেই পুরোনো হৃদপিণ্ড পুরোপুরি তরুণ হয়ে যাবে’ এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গবেষণাটির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো মানুষের ওপর আণবিক বিশ্লেষণের নমুনা সংখ্যা খুবই কম এবং গবেষণাটি এখনো পিয়ার রিভিউ হয়নি। হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের ক্ষেত্রে রোগের ধরন, ওষুধ, ইমিউনোসাপ্রেসিভ চিকিৎসা, দাতার স্বাস্থ্য এবং প্রতিস্থাপনের সময়কালসহ বহু বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তারপরও গবেষণাটি অঙ্গের বয়স সম্পর্কে প্রচলিত ধারণায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এখন পর্যন্ত বয়সকে অঙ্গের প্রায় স্থায়ী বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা হলেও এই গবেষণা বলছে, অন্তত কিছু ক্ষেত্রে একটি অঙ্গের জৈবিক বয়স তার চারপাশের শরীরের পরিবেশের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বড় ও দীর্ঘমেয়াদি মানব গবেষণায় ফলাফল নিশ্চিত হলে হার্ট ট্রান্সপ্লান্টে দাতা অঙ্গ নির্বাচনের ভবিষ্যৎ কৌশলে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভ, অবরোধ এবং বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ফ্রান্সের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ হাইস্কুলে সোমবার ক্লাস পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় পরিবেশ না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদোয়ার গেফ্রে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলন এখন ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষার্থী আন্দোলনগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। ফ্রান্সে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ হাইস্কুল রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ৪০০ থেকে ৫০০ প্রতিষ্ঠানে ক্লাস পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু ইল দ্য ফ্রান্স অঞ্চলেই ১৬০টির বেশি হাইস্কুল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে ক্লাস চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। শিক্ষার্থীরা মূলত শিক্ষা খাতে আরও জনবল ও অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নেমেছে। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক সংকট, অনুপস্থিত শিক্ষকদের বদলি না হওয়া, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, দীর্ঘ ও চাপপূর্ণ ক্লাস সূচি এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্ল্যাটফর্ম পারকুরসুপ ঘিরে বৈষম্যের অভিযোগ। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিস অঞ্চলে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। নঁত, মার্সেইসহ বিভিন্ন বড় শহর ও ছোট এলাকায় শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। গত সপ্তাহে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শুক্রবার শত শত হাইস্কুলে বিক্ষোভ ও কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরুর পর অন্তত ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অগ্নিসংযোগ বা ব্যাপক ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। একই সময়ে শিক্ষা বিভাগের অন্তত ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। সরকারের দাবি, এসব সহিংসতার অনেক ঘটনায় স্কুলের বাইরের ব্যক্তিরাও জড়িত ছিল। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড়ও হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের কয়েক দিনের অভিযানে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। শুধু শুক্রবারই ১ হাজার ৭৪৭ জনকে আটক করা হয়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার আটক করা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জনকে। শুক্রবার ১৫৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে পুলিশের কঠোর অবস্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, তাদের মূল দাবি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা না করে সরকার নিরাপত্তা ও সহিংসতার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা জানিয়েছে, তারা প্রত্যাশিত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের আশ্বাস পায়নি। ফলে মঙ্গলবার আরও বড় কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নও ওই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে ফরাসি সরকার বলছে, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগকে অস্বীকার করা হচ্ছে না। শিক্ষামন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুও শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো নিয়ে কয়েকটি অগ্রাধিকারমূলক কাজ নির্ধারণ করেছেন। চলতি মাসের শেষ নাগাদ কিছু বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে যেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে, সেখানে দ্রুত ক্লাস পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনে কিছু রাজনৈতিক ও উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শিক্ষক ও শিক্ষা খাতে জনবল সংকট, ভবনের দুরবস্থা এবং শিক্ষাব্যবস্থার চাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থেকেই বর্তমান আন্দোলনের জন্ম হয়েছে। সরকারও আন্দোলনের প্রাথমিক দাবিগুলোর যৌক্তিকতা পুরোপুরি অস্বীকার করেনি। সোমবার শত শত প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ থাকলেও সংকটের এখানেই অবসান হচ্ছে না। মঙ্গলবারের নতুন দেশব্যাপী কর্মসূচিকে সামনে রেখে ফরাসি সরকার, শিক্ষা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে চলমান আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একবারের পরকীয়ায় ১০ বছরের দাম্পত্য প্রায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে এবং দুই বছর ধরে ক্ষমা চেয়েও স্বামীকে ফেরাতে পারেননি, এমন দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন ‘আকাই রিকো’ নাম ব্যবহারকারী এক নারী। ‘লেডি উইথ ফ্লজ’ নামে পরিচিত একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া এই গল্পটি ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করলেও এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, দীর্ঘ ১০ বছরের বৈবাহিক জীবনের মধ্যে একবার স্বামীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন আকাই। বিষয়টি জানতে পারার পর তাঁর স্বামী সম্পর্ক থেকে সরে যান এবং এরপর আর সংসারে ফেরার সিদ্ধান্ত নেননি। এসব পোস্টে আরও বলা হচ্ছে, ঘটনার প্রায় দুই বছর পরও আকাই সম্পর্কটি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি নাকি একাধিকবার ক্ষমা চেয়েছেন, অনুরোধ করেছেন এবং ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁর সাবেক স্বামী পুনর্মিলনে রাজি হননি। গল্পটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একদল ব্যবহারকারীর মতে, দাম্পত্যে বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে দীর্ঘদিনের সম্পর্কও মুহূর্তে অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। তাঁদের যুক্তি, সম্পর্ক কত বছরের সেটির চেয়ে পারস্পরিক বিশ্বাস ও অঙ্গীকার রক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে আরেকদল ব্যবহারকারী বলছেন, ১০ বছরের সংসার এবং একসঙ্গে কাটানো দীর্ঘ সময়ের কথা বিবেচনা করে অন্তত আলোচনার সুযোগ দেওয়া যেতে পারত। তাঁদের মতে, একটি ভুলের পর ক্ষমা, অনুশোচনা এবং সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। ভাইরাল বর্ণনায় আকাইয়ের অনুভূতি হিসেবে বলা হচ্ছে, তাঁর কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় শুধু বিয়ে ভেঙে যাওয়া নয়। বরং একটি ভুলের কারণে যেন পুরো ১০ বছরের সম্পর্কই মুছে গেছে, এমন অনুভূতিই তাঁকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিচ্ছে। তবে America Bangla-র যাচাইয়ে এই ব্যক্তিগত ঘটনার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, আদালতের নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাচাইযোগ্য বক্তব্য বা অন্য কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনলাইনে ‘Akai Riko’ এবং ‘lady_with_flaws’ নামের সঙ্গে গল্পটি যুক্ত করে বিভিন্ন পোস্ট ও আলোচনা থাকলেও সেগুলো থেকে ১০ বছরের বিয়ে, পরকীয়ার ঘটনা কিংবা দুই বছর ধরে পুনর্মিলনের চেষ্টা সংক্রান্ত দাবিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বরং অনলাইনের একটি আলোচনায় গল্পটির সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের নামে প্রচারিত কিছু কনটেন্ট বাস্তব ব্যক্তির মূল পোস্টের সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে। তবে ওই দাবিটিও কোনো কর্তৃপক্ষ বা নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত নয়। ফলে ঘটনাটিকে নিশ্চিত বাস্তব ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। আপাতত এটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের দাবি, যা বিশ্বাসঘাতকতা, ক্ষমা এবং দীর্ঘ দাম্পত্যে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া উচিত কি না, সেই পুরোনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে এনেছে।
গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র সামনে এনে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। গুগল আর্থের সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে যুদ্ধের আগে ও পরের গাজার বিভিন্ন এলাকার চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি। শনিবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা পোস্টে জোলি গাজার রাফাহ, খান ইউনিস ও গাজা সিটির কয়েকটি এলাকার আগের ও বর্তমান চিত্র পাশাপাশি তুলে ধরেন। ছবিগুলোতে আগে ঘনবসতিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা এখন ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়। তিনি লিখেছেন, এখন গুগল আর্থ খুললেই গাজায় কী ঘটেছে, তার একটি চিত্র দেখা সম্ভব। জোলি বলেন, গাজার পুরো পুরো মহল্লা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাড়িঘর, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, সড়ক, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস হয়েছে। তবে স্যাটেলাইট ছবিতে শুধু ভৌত ধ্বংসই দেখা যায়, এর আড়ালে থাকা মানুষের দুর্ভোগ, নিহত পরিবার কিংবা বেঁচে থাকা মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম ছবিতে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার ইউএনওস্যাটের তথ্য তুলে ধরে জোলি জানান, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইউএনওস্যাটের হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা দুই লাখের বেশি। শীত ঘনিয়ে আসায় গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলেও সতর্ক করেছেন জোলি। তাঁর শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষ, যা গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৯৪ শতাংশ, আশ্রয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সহায়তা প্রয়োজন। অথচ ত্রাণ ও আশ্রয় তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনও নানা ধরনের বাধা ও বিলম্ব রয়েছে। জোলি বলেন, শীত আসার আগেই মানুষের নিরাপদ আশ্রয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বেসামরিক মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি গাজার মানুষের বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠনের পরিবেশ তৈরিরও আহ্বান জানান। গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও সরব হয়েছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। দীর্ঘদিন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই অভিনেত্রী চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিসরের দিক থেকে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি মিসরীয় রেড ক্রিসেন্টসহ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গাজার জন্য প্রস্তুত রাখা ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রীও দেখেন। সেই সফরেও জোলি গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ নিরাপদ ও ধারাবাহিক রাখার পাশাপাশি ত্রাণ, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এবার স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে ধ্বংসের পরিসর তুলে ধরে তিনি আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি গাজার বেসামরিক মানুষের জরুরি প্রয়োজনের দিকে ফেরানোর চেষ্টা করলেন।
বিশ্বের প্রথম চার আসনের হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলচালিত যাত্রীবাহী বিমান HY4 তৈরির গবেষণা দলে ছিলেন বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মেয়ে দেবযানী ঘোষ। ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্টুটগার্ট বিমানবন্দর থেকে বিমানটির প্রথম আনুষ্ঠানিক উড্ডয়ন হয়। জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টার ডিএলআরের নেতৃত্বে তৈরি এই উড়োজাহাজের বিদ্যুৎশক্তি ব্যবস্থাপনা ও পাওয়ার ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন দেবযানী। ডিএলআরের তথ্য অনুযায়ী, HY4 হলো বিশ্বের প্রথম চার আসনের যাত্রীবাহী বিমান, যা হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ও ব্যাটারিভিত্তিক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় চালিত। এর ফুয়েল সেল হাইড্রোজেনকে সরাসরি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর করে এবং সেই বিদ্যুৎ দিয়ে বৈদ্যুতিক মোটর চালানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রধান উপজাত হিসেবে তৈরি হয় পানি। উড্ডয়ন ও উচ্চতায় ওঠার সময় অতিরিক্ত শক্তি সরবরাহ করে বিমানের লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। HY4 প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বে ছিল জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টারের ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং থার্মোডাইনামিকস। প্রকল্পে আরও যুক্ত ছিল ইউনিভার্সিটি অব উলম, হাইড্রোজেনিকস, পিপিস্ট্রেল, এইচটু ফ্লাই এবং স্টুটগার্ট বিমানবন্দর। চারজন যাত্রী বহনের উপযোগী বিমানটির দুটি আলাদা ফিউজলাজ রয়েছে, প্রতিটিতে দুজন করে বসার ব্যবস্থা। এই আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়া দেবযানী ঘোষের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জার্মানির আরডাব্লিউটিএইচ আচেন ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব উলমের তথ্য অনুযায়ী, দেবযানী ২০১৬ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি কনভার্সন অ্যান্ড স্টোরেজে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র ছিল কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের জন্য নতুন ধরনের পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ও ডিসি থেকে এসি বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করা। দেবযানীর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ফুয়েল সেল ও ব্যাটারি থেকে পাওয়া ডিসি বিদ্যুৎকে বিমানের বৈদ্যুতিক মোটরের উপযোগী এসি বিদ্যুতে রূপান্তরের প্রযুক্তি উন্নয়ন। এ জন্য সিলিকন কার্বাইডভিত্তিক পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ব্যবস্থার ওপর কাজ করেন তিনি। একই সঙ্গে ফুয়েল সেল, ব্যাটারি এবং বৈদ্যুতিক মোটরের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও তাঁর গবেষণার অংশ ছিল। প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেবযানী জানিয়েছিলেন, এমন একটি পাওয়ার ইলেকট্রনিকস আর্কিটেকচার তৈরির লক্ষ্য ছিল, যা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি ওজনে হালকা ও নির্ভরযোগ্য হবে। ব্যাটারি কখন চার্জ হবে, কখন ডিসচার্জ হবে এবং কখন ফুয়েল সেল থেকে কতটুকু শক্তি সরবরাহ করা হবে, সেসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ইন্টারফেস তৈরিতেও তিনি কাজ করেন। ইউনিভার্সিটি অব উলমের প্রকাশিত গবেষণাতেও দেবযানীর এই কাজের উল্লেখ রয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি সহগবেষকদের সঙ্গে ফুয়েল সেল ও ব্যাটারিচালিত হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের জন্য নতুন এসি হাইব্রিড পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ধারণা নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। পরবর্তী গবেষণাতেও HY4 বিমানের শক্তি ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিতে তাঁর অবদান দেখা যায়। বাংলাদেশে স্নাতক শেষ করার পর দেবযানী কিছু সময় চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন। পরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য জার্মানিতে যান। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি এই গবেষণাক্ষেত্রে যুক্ত হন। তবে HY4-কে সরাসরি “বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক বিমান” বলা প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক নয়। এর আগেও বৈদ্যুতিক ও ফুয়েল সেলচালিত পরীক্ষামূলক বিমান উড়েছে। ডিএলআর HY4-কে বিশ্বের প্রথম চার আসনের যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ও ব্যাটারি ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলে। বিশ্বের পরিবেশবান্ধব বিমান প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পে চট্টগ্রামের দেবযানী ঘোষের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। তাঁর গবেষণা দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তি উন্নয়নেও বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে মাত্র ৩০ ডলারে কেনা একটি পুরোনো চিত্রকর্ম শেষ পর্যন্ত নিলামে বিক্রি হয়েছে ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৬ কোটি টাকার বেশি। প্রায় ৭৫ বছর জনসম্মুখের বাইরে থাকা চিত্রকর্মটি মার্কিন শিল্পী গার্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বির আঁকা ‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস শেলস’। নিউইয়র্কে ফ্রিম্যানসের নিলামে বিক্রির মাধ্যমে এটি শিল্পীর কাজের নতুন বিশ্ব নিলাম রেকর্ডও গড়েছে। ফ্রিম্যানসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫১ সালে আঁকা ছোট আকারের এই চিত্রকর্মটি চলতি বছরের গ্রীষ্মে মিশিগানের একটি এস্টেট সেলে খুঁজে পান এক সংগ্রাহক। পুরোনো রেকর্ড ও মধ্য শতাব্দীর আসবাবপত্র সংগ্রহে আগ্রহী ওই ব্যক্তি বাড়ির একটি অন্ধকার করিডরের কোণে ছবিটি দেখতে পান। ছবিতে ‘অ্যাবারক্রম্বি’ স্বাক্ষর দেখে তাঁর সন্দেহ হয় এটি সাধারণ কোনো চিত্রকর্ম নয়। মাত্র ৩০ ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার টাকায় ছবিটি কিনে নেন তিনি। এরপর ছবিটির প্রকৃত পরিচয় অনুসন্ধান শুরু হয়। গার্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বির শিল্পকর্ম নিয়ে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীর ক্যাটালগে ১৯৫২ সালের শিকাগো ট্রিবিউনের একটি পুরোনো ছবিতে একই চিত্রকর্মের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে অ্যাবারক্রম্বির কাজ নিয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞ ড. সুসান ওয়াইনিঙ্গার চিত্রকর্মটির সত্যতা যাচাই করেন। এরপর সেটি নিলামের জন্য ফ্রিম্যানসের কাছে দেওয়া হয়। ফ্রিম্যানস জানিয়েছে, ১ অক্টোবর নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠানটির পোস্ট ওয়ার অ্যান্ড কনটেম্পোরারি আর্ট নিলামে ছবিটি তোলা হয়। নিলামের আগে এর সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছিল দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ ডলার। ৮০ হাজার ডলার থেকে দর শুরু হওয়ার পর পাঁচজন ফোন বিডার এবং একাধিক অনলাইন বিডারের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ক্রেতার প্রিমিয়ামসহ চূড়ান্ত দাম দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ ডলার। ‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস শেলস’ ১৯৫১ সালে আঁকেন অ্যাবারক্রম্বি। ছোট আকারের ছবিটিতে বিভিন্ন ধরনের ঝিনুক ও শামুকের খোলস দেখা যায়। এগুলো ছিল তৎকালীন শিকাগো সিটি কাউন্সিল সদস্য রবার্ট মেরিয়ামের সংগ্রহের অংশ। মেরিয়াম ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত শিকাগোর পঞ্চম ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ওই এলাকার অন্তর্ভুক্ত হাইড পার্কেই বসবাস ও কাজ করতেন অ্যাবারক্রম্বি। চিত্রকর্মটির ইতিহাসও বেশ ব্যতিক্রমী। ফ্রিম্যানস ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫২ সালে চিকিৎসাসেবার বিনিময়ে ছবিটি কালামাজুর চিকিৎসক জন রেনল্ডসকে দিয়েছিলেন অ্যাবারক্রম্বি। পরবর্তী কয়েক দশক ছবিটি ওই পরিবারের কাছেই ছিল। দীর্ঘ সময় জনসম্মুখের বাইরে থাকার পর রেনল্ডস পরিবারের এস্টেট সেলেই আবার এটি সামনে আসে। ১৯০৯ সালে জন্ম নেওয়া গার্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বি শিকাগোর শিল্পজগতে একজন স্বতন্ত্র সুররিয়ালিস্ট শিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৭৭ সালে মারা যান। তাঁর কাজ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে ‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস শেলস’-এর নিলামমূল্য আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ফ্রিম্যানস জানিয়েছে, এটি অ্যাবারক্রম্বির কোনো চিত্রকর্মের জন্য এখন পর্যন্ত পাওয়া সর্বোচ্চ নিলামমূল্য। মাত্র ৩০ ডলারে একটি এস্টেট সেল থেকে পাওয়া ছবিটি কয়েক মাসের ব্যবধানে ১৩ লাখ ডলারের বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ঘটনাটি আন্তর্জাতিক শিল্পবাজারেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে গবেষণা করা একটি প্রতিষ্ঠানের ২৮ বছর বয়সী এক কর্মীর মৃত্যুর পর প্রায় ২০০ মানুষকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ইরকুতস্ক অঞ্চলের শেলেখভ শহরে। ওই নারীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত “অজানা কারণের নিউমোনিয়া” বা pneumonia of unknown etiology উল্লেখ করেছে। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য ল্যাব দুর্ঘটনা ও প্লেগ সংক্রমণের যে দাবি ছড়িয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। নিহত নারী ইরকুতস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মী ছিলেন। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী তিনি কাজের সময় জীবন্ত জৈব নমুনা থাকা একটি টেস্ট টিউব দুর্ঘটনাবশত ভেঙে ফেলেছিলেন। এরপর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং গুরুতর নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁকে ভেন্টিলেটরে নেওয়া হলেও ২ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। তবে রাশিয়ার ফেডারেল স্বাস্থ্য ও ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থা রসপোত্রেবনাদজর জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্যাথোজেনিক অণুজীব নিয়ে কোনো দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হয়নি এবং মৃত কর্মীর নমুনা পরীক্ষায় তাঁর পেশাগত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অণুজীব শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনার পর জরুরি স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মীর সরাসরি বা পরোক্ষ সংস্পর্শে আসতে পারেন এমন অন্তত ১৯৭ জনকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে হাসপাতালেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শেলেখভ জেলা হাসপাতালসহ কয়েকটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানাতেও সতর্কতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, একটি “বিশেষভাবে বিপজ্জনক সংক্রমণের সন্দেহজনক ঘটনা” নিয়ে জরুরি অ্যান্টি-এপিডেমিক কমিশনের বৈঠক হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত করা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যায়নি এবং তাঁদের পরীক্ষার ফলও নেগেটিভ এসেছে। রসপোত্রেবনাদজরও বলেছে, ইরকুতস্ক ও শেলেখভের সামগ্রিক স্যানিটারি ও মহামারি পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে মৃত নারী যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন, সেখানে বিপজ্জনক রোগজীবাণু নিয়ে গবেষণা হওয়ায় ঘটনাটিকে ঘিরে নিউমোনিক প্লেগের সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ওই নারী প্লেগ সৃষ্টিকারী ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত রুশ ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুকে প্লেগ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ফলে “প্লেগ ছড়িয়ে পড়েছে” বা “নতুন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়েছে” এমন দাবি করার মতো নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। প্লেগ ভাইরাসজনিত রোগ নয়, এটি ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট সংক্রামক রোগ। এর নিউমোনিক ধরন সরাসরি ফুসফুসে আক্রমণ করে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্র থেকে নির্গত ড্রপলেটের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে অন্য মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে রোগটি গুরুতর হতে পারে, তবে দ্রুত শনাক্ত হলে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব। ঘটনার পর রুশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্মক্ষেত্রের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তদন্তে সম্ভাব্য ল্যাব দুর্ঘটনার দাবি সত্য কি না এবং ওই কর্মীর নিউমোনিয়ার প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা নির্ধারণ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাবেক রসপোত্রেবনাদজর প্রধান ও রুশ মহামারি বিশেষজ্ঞ গেন্নাদি ওনিশচেঙ্কো রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে বলেছেন, তাঁর ধারণা ঘটনাটি সম্ভবত প্লেগ নয়। তবে প্লেগ নিশ্চিত হলেও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তিনি দেখছেন না। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশের আহ্বানও উঠছে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে নিশ্চিত “অজানা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব” বা নিশ্চিত “প্লেগ প্রাদুর্ভাব” হিসেবে ঘোষণা করেনি। সরকারি অবস্থান অনুযায়ী এটি অজানা কারণের নিউমোনিয়ায় একজন কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা, যার পর সতর্কতামূলকভাবে ব্যাপক চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রোগটির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে নতুন ফেডারেল আইনের কারণে প্রায় ৯ হাজার ৩০০ অ-নাগরিকের মেডিকেইড স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে কার্যকর হওয়া এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে গ্রিন কার্ড না থাকা শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মানবপাচার থেকে বেঁচে যাওয়া কিছু বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীর ওপর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালে স্বাক্ষর করা এইচআর-১, যা ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, তার আওতায় মেডিকেইডের যোগ্যতার নিয়ম বদলানোর ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইলিনয়ের স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারসেবা বিভাগ জানিয়েছে, যেসব অ-নাগরিক নতুন নিয়মের আওতায় আর পূর্ণ মেডিকেইডের যোগ্য নন, তাদের সর্বশেষ কভারেজের দিন ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। রাজ্য কর্তৃপক্ষ আগেই সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিঠি পাঠিয়ে পরিবর্তনের বিষয়ে জানিয়েছিল। নতুন নিয়মটি ইলিনয় রাজ্য নিজে থেকে তৈরি করেনি, বরং ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে রাজ্যকে তা বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। নতুন নিয়মে সব বৈধ অভিবাসী মেডিকেইড হারাচ্ছেন না। ১ অক্টোবর থেকে পূর্ণ মেডিকেইডের আওতায় থাকার জন্য প্রধানত গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী এবং ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের রাখা হয়েছে। এছাড়া ইলিনয়ে বৈধভাবে বসবাসকারী ১৯ বছরের কম বয়সী শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তিদের জন্য কিছু সুবিধা বহাল রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যভিত্তিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিরাও সুবিধা পেতে পারেন। এর ফলে বিশেষ করে এমন অভিবাসীরা সমস্যায় পড়েছেন, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থান থাকলেও এখনো গ্রিন কার্ড হয়নি। শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতেও সাধারণত নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী, শরণার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে এক বছর থাকার পর এবং আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিরা আশ্রয়ের অনুমোদনের এক বছর পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার পরও গ্রিন কার্ড পেতে আরও সময় লাগতে পারে। ইলিনয়ের পরিস্থিতি বোঝাতে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো কয়েকটি পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরেছে। শিকাগো ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে ৬৬ বছর বয়সী তেরেসিতা ভি. মোরালেসের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ইউগেন কুতার ঘটনা উঠে এসেছে। রোমানিয়া থেকে আসা কুতা ১৫ বছরেরও বেশি আগে গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এতে তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং কথা বলার সক্ষমতাও হারান। এরপর থেকে তিনি নার্সিং হোমে বসবাস করছেন এবং তার সার্বক্ষণিক পরিচর্যার খরচ মেটাতে মেডিকেইডের ওপর নির্ভর করছিলেন। মোরালেস জানান, আগস্টে তার সঙ্গীর কাছে রাজ্য সরকারের পাঠানো একটি চিঠি আসে। সেখানে বলা হয়, তার ‘অ-নাগরিক’ অবস্থানের কারণে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর তিনি আর মেডিকেইডের যোগ্য থাকবেন না। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও নার্সিং হোমের খরচ কীভাবে চালানো হবে, তা নিয়ে এরপর থেকে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন মোরালেস। ইলিনয় কোয়ালিশন ফর ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটসের স্বাস্থ্যনীতি ও ন্যায়বিচার বিভাগের পরিচালক এডিথ আভিলা হেসার পরিবারটিকে বিষয়টি মোকাবিলায় সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মেডিকেইড হারানোর প্রভাব শুধু দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ওপর নয়, নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের ওপরও পড়তে পারে। কুক কাউন্টি হেলথের চিকিৎসক নিম্মি রাজাগোপাল জানিয়েছেন, মেডিকেইড হারাতে যাওয়া কিছু রোগী তাদের নিয়মিত ওষুধ কীভাবে সংগ্রহ করবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কুক কাউন্টিতে ইলিনয়ের মেডিকেইড হারাতে যাওয়া মানুষের ৪০ শতাংশেরও বেশি বসবাস করেন এবং তাদের অনেকেই ইউক্রেনীয় ভাষাভাষী বলে কাউন্টি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শিকাগো ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে। লিগ্যাল কাউন্সিল ফর হেলথ জাস্টিসের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আন্দ্রেয়া কোভাচের মতে, অনেক অভিবাসী দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেইডের মাধ্যমে নিয়মিত চিকিৎসা, রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে আসছিলেন। কভারেজ বন্ধ হলে এসব সেবায় বাধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মেডিকেইড হারানো ব্যক্তিদের জন্য কিছু বিকল্প ব্যবস্থা থাকছে। ফেডারেলভাবে অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো অনেক ক্ষেত্রে বিনা খরচে বা আয় অনুযায়ী কম খরচে চিকিৎসা দিতে পারে। জরুরি অবস্থায় ‘ইমার্জেন্সি মেডিকেইড’ সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি নিয়মিত চিকিৎসা, প্রেসক্রিপশন ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার পূর্ণ বিকল্প নয়। ইলিনয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, শুধু অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে মেডিকেইডের যোগ্য না থাকলেও জরুরি চিকিৎসার জন্য এই সুবিধা বহাল থাকবে। কিছু শরণার্থী মেডিকেইডের বিকল্প হিসেবে ‘রিফিউজি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স’ পেতে পারেন। তবে এই কর্মসূচির সুবিধা সীমিত সময়ের জন্য দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত বা নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি মেডিকেইডের সমতুল্য নিরাপত্তা তৈরি করে না। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা তাই মেডিকেইড হারানো রোগীদের চিকিৎসা পুরোপুরি বন্ধ না করে বিকল্প স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অন্যান্য সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। ইলিনয়ের এই পরিবর্তন আসলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মেডিকেইড ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রথম ধাপগুলোর একটি। কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে নতুন ফেডারেল নিয়মে মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি বা সিএইচআইপির যোগ্যতা মূলত গ্রিন কার্ডধারী, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী, সিওএফএ দেশের নাগরিক এবং কিছু বৈধভাবে বসবাসকারী শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তির মধ্যে সীমিত করা হয়েছে। এর ফলে গ্রিন কার্ড ছাড়া শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিসহ আরও কয়েকটি বৈধ অভিবাসী গোষ্ঠী ফেডারেলভাবে অর্থায়িত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বাদ পড়েছেন। কেএফএফের হিসাবে, শুধু মেডিকেইড ও সিএইচআইপির যোগ্যতা সীমিত করার বিধানই ২০৩৪ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যবিমাহীন করে তুলতে পারে। একই আইনের অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত পরিবর্তন ধরলে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসী স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন বলে কেএফএফের পূর্বাভাস। ইলিনয়ে এখন নতুন নিয়মের বাস্তব প্রভাব শুরু হলেও বিষয়টি পুরোপুরি এখানেই শেষ নয়। যাদের অভিবাসনগত অবস্থান যাচাই করা নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রাজ্য অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ৯০ দিনের সময়ও দিতে পারে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারও যোগ্য অভিবাসনগত অবস্থান প্রমাণিত হলে তিনি নতুন নিয়ম অনুযায়ী কভারেজ ধরে রাখতে পারেন। সূত্র: শিকাগো ট্রিবিউন, ইলিনয় স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারসেবা বিভাগ, কেএফএফ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নতুন আইনের প্রভাবে মিয়ামি-ডেড কাউন্টির হাজারো কর্মীর মজুরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতদিন কাউন্টির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ‘লিভিং ওয়েজ’ বা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যূনতম মজুরি বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর নতুন বিধানের কারণে ভবিষ্যতের সরকারি চুক্তিতে সেই বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। মিয়ামি-ডেড কাউন্টি ১৯৯৯ সাল থেকে ১ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট সেবা চুক্তির ক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য লিভিং ওয়েজ বাধ্যতামূলক করে আসছে। মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট সেবা ও ছাড়পত্রভিত্তিক ব্যবসার ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সরকারি অর্থে পরিচালিত কাজ করা কর্মীরা যেন স্থানীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত কম মজুরি না পান এবং কর্মস্থলের কাছাকাছি জীবনযাপন করতে পারেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মিয়ামি-ডেডের লিভিং ওয়েজ ঘণ্টায় ১৮.৪০ ডলার, যদি কর্মী নির্ধারিত স্বাস্থ্যসুবিধা পান। স্বাস্থ্যসুবিধা না থাকলে হারটি ঘণ্টায় ২২.৫৩ ডলার। এই হার ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার আগে দেওয়া পুরোনো চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকছে। কাউন্টির সরকারি নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার পর দেওয়া নতুন চুক্তিতে ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী কাউন্টি আর নিজস্ব ন্যূনতম মজুরি বা সুবিধা বাধ্যতামূলক করতে পারবে না। এর ফলে এখনই অধিকাংশ কর্মীর বেতন কমে যাচ্ছে না। যেসব কর্মী ইতোমধ্যে কাউন্টির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় কাজ করছেন, তাদের বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত লিভিং ওয়েজ পাওয়ার কথা। সমস্যা তৈরি হবে চুক্তিগুলো শেষ হওয়ার পর। তখন একই কাজের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হলে নতুন আইনের কারণে কাউন্টি আর ঠিকাদারকে ১৮.৪০ বা ২২.৫৩ ডলারের লিভিং ওয়েজ দেওয়ার শর্ত দিতে পারবে না। ফ্লোরিডার ন্যূনতম মজুরি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ঘণ্টায় ১৫ ডলারে পৌঁছেছে। ২০২০ সালে রাজ্যের ভোটারদের অনুমোদিত সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে ধাপে ধাপে ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে এই পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে যদি নিয়োগকর্তা নিজে থেকে বেশি মজুরি না দেয় এবং অন্য কোনো চুক্তিগত বা আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকে, তাহলে ১৫ ডলারই প্রযোজ্য ন্যূনতম মজুরি হবে। হিসাবটি কর্মীদের জন্য বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। বর্তমানে স্বাস্থ্যসুবিধা ছাড়া ঘণ্টায় ২২.৫৩ ডলার পাওয়া একজন পূর্ণকালীন কর্মীকে ভবিষ্যতে ১৫ ডলারে নামিয়ে আনা হলে প্রতি ঘণ্টায় ৭.৫৩ ডলার কমে যাবে। সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা এবং বছরে ৫২ সপ্তাহ কাজের হিসাবে এতে বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৬৬২ ডলার আয় কমতে পারে। তবে এই হিসাব সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ব্যবধান বোঝায়, কারণ নতুন আইন কোনো নিয়োগকর্তাকে কর্মীদের বেতন সরাসরি ১৫ ডলারে নামিয়ে দিতে বাধ্য করছে না। মিয়ামি-ডেডের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কাউন্টির লিভিং ওয়েজের আওতায় থাকা কর্মীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, খাদ্যসেবা কর্মী, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ বিভিন্ন ধরনের পেশার মানুষ রয়েছেন। মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কিছু চুক্তিভিত্তিক কর্মীও এই ব্যবস্থার আওতায় ছিলেন। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাউন্টির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ২০ হাজারের বেশি কর্মী এবং ফ্লোরিডার অন্যান্য স্থানীয় সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ আরও হাজারো কর্মী দীর্ঘমেয়াদে এই পরিবর্তনের প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন। নতুন নিয়মের ভিত্তি তৈরি হয়েছে ২০২৪ সালে পাস হওয়া ফ্লোরিডার হাউস বিল ৪৩৩-এর মাধ্যমে। গভর্নর রন ডি স্যান্টিস ওই বছরের এপ্রিলে বিলে স্বাক্ষর করেন। তবে স্থানীয় সরকারের ঠিকাদারদের মজুরি নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত অংশটি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আইনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নতুন চুক্তিতে ঠিকাদারদের মজুরি বা কর্মসংস্থান সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না এবং মজুরি বা সুবিধার ভিত্তিতে কোনো ঠিকাদারকে বাড়তি সুবিধাও দিতে পারবে না। আইনের সমর্থকেরা বলছেন, স্থানীয় সরকারের আলাদা আলাদা মজুরি শর্ত তুলে দিলে সরকারি চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যবসাগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারি কাজ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফ্লোরিডা চেম্বার অব কমার্সও এই পরিবর্তনকে ব্যবসাবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে সমর্থন করেছে। তাদের যুক্তি, স্থানীয় পর্যায়ে আলাদা মজুরি কাঠামো না থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারি চুক্তিতে অংশ নেওয়া সহজ হবে এবং সরকারের চুক্তি ব্যয় কমতে পারে। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো এই আইনের বিরোধিতা করেছে। ৩২বিজে এসইআইইউ-এর ফ্লোরিডা পরিচালক হেলেন ও’ব্রায়েনের আশঙ্কা, ঠিকাদারদের মধ্যে কম দামে সরকারি কাজ পাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হলে শ্রমিকদের মজুরি কমানোর প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তার ভাষায়, এতে একটি ‘নিচের দিকে প্রতিযোগিতা’ তৈরি হতে পারে, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তি পাওয়ার জন্য শ্রমিকদের পারিশ্রমিক যতটা সম্ভব কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। মিয়ামি-ডেড কাউন্টির মেয়র দানিয়েলা লেভিন কাভাও আইনটির বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি গভর্নর ডি স্যান্টিসকে বিলটিতে ভেটো দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, এর ফলে কাউন্টির হাজারো কর্মজীবী পরিবারের আয় কমে যেতে পারে। তার মতে, স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে কাউন্টির নিজস্ব শ্রমবাজারের জন্য উপযুক্ত মজুরি নির্ধারণের সুযোগ থাকা উচিত। এদিকে মিয়ামি-ডেডে জীবনযাত্রার ব্যয় ইতোমধ্যেই ফ্লোরিডার অনেক এলাকার তুলনায় বেশি। ইউনাইটেড ওয়েকে মিয়ামির ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাউন্টির ৫৬ শতাংশ পরিবার প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে আর্থিক চাপে রয়েছে। ২০২৬ সালের হিসাবে এমন পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার। এসব পরিবারের আয় অনেক ক্ষেত্রে দারিদ্র্যসীমার ওপরে হলেও আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা ও পরিবহনসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে তাদের বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। লিভিং ওয়েজ নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা রয়েছে। মিয়ামি-ডেড কাউন্টির বর্তমান ২২.৫৩ ডলারের হারও স্থানীয় জীবনযাত্রার পুরো ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয় বলে গবেষণাভিত্তিক হিসাব রয়েছে। এমআইটির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর অনুযায়ী, মিয়ামি-ডেডে সন্তানহীন একজন একক প্রাপ্তবয়স্কের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ঘণ্টায় প্রায় ২৫.৯৮ ডলার আয় প্রয়োজন। অর্থাৎ নতুন আইনের ফলে পুরোনো লিভিং ওয়েজ ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে দুর্বল হলে উচ্চ ব্যয়ের এই অঞ্চলের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মীদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে আইনটির প্রভাব ধীরে ধীরে দেখা যাবে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আগে দেওয়া চুক্তিগুলো নতুন আইনে বাতিল বা পরিবর্তিত হচ্ছে না। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে যে চুক্তিগুলো দেওয়া হবে, সেগুলোতেই মিয়ামি-ডেড কাউন্টির লিভিং ওয়েজ বাধ্যতামূলক করার ক্ষমতা থাকবে না। ফলে কর্মীদের মজুরি কমবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে নতুন ঠিকাদারদের বেতন কাঠামো, শ্রমিক সংগঠনের চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর। সূত্র: মিয়ামি হেরাল্ড, মিয়ামি-ডেড কাউন্টি, ফ্লোরিডা সিনেট
ইরানের সীমান্ত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি। তার দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং আইআরজিসির শক্তির কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে এভাবে পিছু হটতে হয়েছে। তবে ফাদাভির এই বক্তব্যের স্বাধীন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ফাদাভি বলেন, “আমেরিকানরা পালিয়ে গেছে এবং আমাদের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছায় নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সামরিক সক্ষমতা এবং আইআরজিসির স্থল ও নৌ শক্তির কারণে মার্কিন বাহিনীকে এমন অবস্থান নিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিনি কোন মার্কিন ইউনিট বা ঘাঁটি থেকে ঠিক কত দূরে সরে গেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা সামরিক তথ্য দেননি। ফাদাভি আরও দাবি করেন, বর্তমানে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও কোনো মার্কিন নৌযান নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী নিজেদের অবস্থান অনেকটা পেছনে সরিয়ে নিয়েছে। তবে ফাদাভির বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য সামরিক তথ্যের পুরোপুরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ বিমানবাহী রণতরী আরব সাগরে অবস্থান করে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকরে সহায়তা করছে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেন্টকমের বাহিনী ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে বলে মার্কিন কমান্ড জানিয়েছে। এর অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ উপস্থিতি অঞ্চলটিতে এখনও সক্রিয় রয়েছে, যদিও ফাদাভির দাবি করা নির্দিষ্ট ১ হাজার কিলোমিটার দূরত্বের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কার্যক্রমও সাম্প্রতিক সময়ে অব্যাহত রয়েছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জুলাই মাসে জানিয়েছিল, ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর অবরোধ পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চালানো প্রথম দফার অবরোধে ১৪০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং নয়টি জাহাজকে অচল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছিল সেন্টকম। জুলাইয়ে অবরোধ পুনরায় কার্যকর হওয়ার পরও মার্কিন বাহিনী ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক চলাচল নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালির আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে হরমুজ ও আশপাশের জলসীমায় জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে এবং ২ অক্টোবরের পর প্রতিদিনই নতুন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি আবারও বাড়লেও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়েও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি পুরোপুরি খুলবে না। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ চললেও পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনও বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ফলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে মার্কিন বাহিনী পিছু হটার দাবি সামনে এলেও অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ তৎপরতা যে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তা মার্কিন সামরিক কমান্ডের প্রকাশ্য তথ্যেই দেখা যাচ্ছে। সূত্র: প্রেস টিভি, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)