সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
নেপালের লাংটাং অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা
নেপালে বন্যায় নিখোঁজের ৩৭ দিন পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার মালয়েশিয়ান পর্যটক

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের ৩৭ দিন পর অবশেষে জীবিত অবস্থায় খোঁজ মিলেছে এক মালয়েশিয়ান পর্যটকের। দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পর তিনি নিরাপদে মালয়েশিয়ায় ফিরে গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।   শুক্রবার (২ অক্টোবর) ‘মালয়েশিয়া সলিডারিটি: ফ্যামিলিজ ইন হোপ’ (মাসফি)-এর মুখপাত্র মনিভান্নান রেথিনাম এক বিবৃতিতে জানান, ওই পর্যটক নেপালের কাঠমান্ডুতে থাকা মালয়েশিয়ার দূতাবাসে গিয়ে নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর তিনি নিরাপদে দেশে ফিরে যান।   ৩৭ দিন পর নিখোঁজ ওই পর্যটকের জীবিত থাকার খবর স্বাভাবিকভাবেই তার পরিবারের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে। একই সঙ্গে এখনো নিখোঁজ থাকা অন্যদের পরিবারগুলোর মধ্যেও নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে।   গত ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে, ভয়াবহ বন্যার এক দিন আগে, ওই পর্যটককে নাগথালি ভিউপয়েন্টে দেখা গিয়েছিল বলে জানানো হয়। পরে স্থানীয় রাস্তাঘাট ও সেতু ধ্বং স হয়ে যাওয়ায় তিনি দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। সেখানে বিদ্যুৎ ও খাবার পানিরও তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল।   হিমালয়ের লাংটাং লিরুং পর্বতে হিমবাহ ও বরফ ধসের পর ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই হিমবাহ ও বরফ ধসের ফলে তৈরি কম্পনের মাত্রা ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল।   এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপাল ও সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রা ণ হা নি হয়েছে। এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।   দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ভে ঙে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। দুর্গম অঞ্চলগুলোর অনেক জায়গায় রাস্তা ও সেতু ধ্বং স হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যায়।   এর আগে গত ২৭ আগস্ট মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নেপালের বন্যার পর কাঠমান্ডুতে থাকা মালয়েশিয়ান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ৫৫ জন মালয়েশিয়ান নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।   নেপালের পর্যটন দপ্তরের ১৭ সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টিরও বেশি দেশের নাগরিক তখনো নিখোঁজ ছিলেন।   নিখোঁজদের মধ্যে ১৮০ জনের বেশি ভারতীয়, ৬৫ জন আমেরিকান, ৫৪ জন ইউক্রেনীয়, ৫৪ জন মালয়েশিয়ান এবং ৩৭ জন চীনা নাগরিক ছিলেন।   ৩৭ দিন পর এক মালয়েশিয়ান পর্যটকের জীবিত ফিরে আসার খবর তাই দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর জন্য নতুন আশার বার্তা হয়ে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৫:৪১
ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে পাওয়া ৬.০৩ ক্যারেটের হীরা হাতে জ্যাক পিয়ারাডিন
মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে ১২ বছর, অবশেষে মিলল ৬ ক্যারেটের বিশাল হীরা!

মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে কেটে গেছে ১২ বছরেরও বেশি সময়। লক্ষ্য ছিল একটাই—একদিন খুঁজে পাবেন বড় একটি হীরা। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো অবশেষে। যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসের বিখ্যাত ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে খুঁজতে গিয়ে জ্যাক পিয়ারাডিন পেয়েছেন ৬.০৩ ক্যারেটের একটি বিশাল হলুদ হীরা।   চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পার্কটিতে পাওয়া এটিই সবচেয়ে বড় হীরা। হীরাটি পাওয়ার মুহূর্তটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে, কারণ তখন টিকটকে লাইভ করছিলেন পিয়ারাডিন। মাটি খুঁড়ে পাথরটি হাতে উঠতেই বিস্ময়ে তিনি বলে ওঠেন, ‘ওহ মাই গড! ওহ মাই গড!’ এরপর আনন্দে বলেন, ‘বড় একটা পেয়ে গেছি!’   পিয়ারাডিন এই হীরাটির নাম দিয়েছেন ‘আমেরিকান ড্রিম’। তার ভাষায়, এটি একটি বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন হলুদ হীরা।   মিসৌরির বাসিন্দা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর রিজার্ভ সদস্য পিয়ারাডিন ২০১৩ সালে ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে হীরা খোঁজা শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি এখানে ৩০০টিরও বেশি রত্ন খুঁজে পেয়েছেন। হীরা খোঁজার নেশা এতটাই গভীর হয় যে পার্কের কাছাকাছি থাকার জন্য তিনি মারফ্রিসবরো শহরেও চলে যান।   সর্বশেষ হীরাটি খুঁজে পাওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন উইসকনসিনের আরেক রত্ন-সন্ধানী মাইকেল শুমাখার। যে নুড়ি ও মাটির স্তূপ থেকে হীরাটি পাওয়া যায়, সেটি খুঁড়তে শুমাখারও সাহায্য করেছিলেন। পিয়ারাডিন জানিয়েছেন, হীরাটি বিক্রি হলে পাওয়া অর্থের একটি অংশ তিনি শুমাখারের সঙ্গে ভাগ করবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজের একটি ক্রিস্টাল খনি খোলার পরিকল্পনাও করছেন।   ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কের গল্পও বেশ চমকপ্রদ। এটি একসময় উন্মুক্ত হীরা খনি ছিল। ১৯৭২ সালে জায়গাটি স্টেট পার্কে পরিণত হয়। বর্তমানে মাত্র ১৫ ডলার প্রবেশমূল্য দিয়ে দর্শনার্থীরা এখানে পাঁচ গ্যালনের একটি বালতি ভর্তি পাথর নিয়ে হীরা খুঁজতে পারেন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, কেউ হীরা বা অন্য কোনো মূল্যবান রত্ন খুঁজে পেলে সেটি নিজের কাছে রাখতে পারেন।   পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে এখানে ৩৭ হাজারেরও বেশি হীরা পাওয়া গেছে। প্রতি বছর গড়ে ৪০০ থেকে ৮০০টি হীরা খুঁজে পান দর্শনার্থীরা। তবে সেগুলোর বেশিরভাগের ওজন প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্যারেট।   এর আগে ২০২০ সালে এই পার্কে আরকানসাসের এক ব্যাংক ব্যবস্থাপক ৯ ক্যারেটের একটি হীরা খুঁজে পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে এক ফরাসি নাগরিকও এখানে ৭ ক্যারেটের একটি হীরা খুঁজে পান।   আর এই পার্কেই ১৯২৪ সালে পাওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হীরা—৪০.২৩ ক্যারেটের ‘আঙ্কল স্যাম’। পরে সেটি কেটে ও পালিশ করে ১২.৪২ ক্যারেটের একটি হীরায় পরিণত করা হয়। বর্তমানে এটি স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির ‘গ্রেট আমেরিকান ডায়মন্ডস’ প্রদর্শনীতে রাখা আছে।   রত্ন মূল্যায়নকারী লরা স্ট্যানলির মতে, পার্কে পাওয়া গড়ে ০.১৭ ক্যারেটের একটি হীরার দাম প্রায় ৭০০ ডলার হতে পারে। তবে পিয়ারাডিনের পাওয়া ৬ ক্যারেটের উন্নত মানের হলুদ হীরাটির মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার হতে পারে। পিয়ারাডিন অবশ্য জানিয়েছেন, কয়েকজন সংগ্রাহক তাকে বলেছেন, হীরাটির দাম ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।   জেমোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট অব আমেরিকার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাথান রেনফ্রোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে হীরার দুটি পরিচিত খনি রয়েছে—আরকানসাসের ক্রেটার অব ডায়মন্ডস এবং কলোরাডোর কেলসি লেক। তবে কেলসি লেক ব্যক্তিমালিকানাধীন।   বিশ্বের খুব কম জায়গাতেই সাধারণ মানুষকে নিজে হীরা খোঁজার এবং পাওয়া হীরা নিজের কাছে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই বিরল জায়গাগুলোর একটি ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্ক। আর সেই পার্কেই ১২ বছরের অপেক্ষার পর পিয়ারাডিনের হাতে উঠে এলো তার ‘আমেরিকান ড্রিম’।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৫:১৮
আমেরিকায় কয়েক মাসের প্রশিক্ষণে নতুন ক্যারিয়ারে আয় ৪০০০ ডলার!
আমেরিকায় কয়েক মাসের প্রশিক্ষণে নতুন ক্যারিয়ারে আয় ৪০০০ ডলার! বাংলাদেশীদের জন্য ৫ কোর্স

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিতে আইটি সাপোর্ট, সাইবারসিকিউরিটি, ফ্লেবোটমি, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, কমার্শিয়াল ড্রাইভিং ও ডেটা অ্যানালিটিকসের প্রশিক্ষণ বিবেচনা করতে পারেন বাংলাদেশি অভিবাসীরা। এসবের কিছু কোর্স কয়েক মাসে শেষ করা যায় এবং কিছু চাকরিতে কলেজ ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। তবে কোর্স শেষ করলেই তিন মাসের মধ্যে চাকরি বা মাসে চার হাজার ডলার আয় নিশ্চিত হয় না। কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা, পেশাগত সার্টিফিকেশন এবং নিয়োগদাতার শর্ত আলাদা করে বুঝে নেওয়া জরুরি।   প্রথম বিকল্প গুগলের আইটি সাপোর্ট ও সাইবারসিকিউরিটি সার্টিফিকেট। এগুলো দুটি আলাদা প্রশিক্ষণ। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, তাদের অনেক ক্যারিয়ার সার্টিফিকেট নিজের সুবিধামতো পড়াশোনা করে তিন থেকে ছয় মাসে শেষ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় কোর্সের সাবস্ক্রিপশন খরচ মাসে ৪৯ ডলার। ফলে মোট খরচ নির্ভর করে শিক্ষার্থী কত সময়ে কোর্স শেষ করছেন তার ওপর। অনলাইনে পড়ার সুবিধা থাকলেও চাকরির প্রস্তুতির জন্য শেখা বিষয় অনুশীলন এবং সংশ্লিষ্ট পদের নিয়োগশর্ত মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।    আইটি সাপোর্টের সব চাকরিতে কলেজ ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিএলএস। তবে প্রয়োজনীয় কম্পিউটার জ্ঞান থাকতে হয় এবং পদভেদে যোগ্যতা বদলায়। কোর্সে পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া ভর্তি হওয়া সম্ভব হলেও চাকরিতে অভিজ্ঞতা চাওয়া হতে পারে। বিএলএসের ২০২৫ সালের পেশাগত যোগ্যতাসংক্রান্ত তথ্যে কম্পিউটার ইউজার সাপোর্টের ৫৬ দশমিক ৮ শতাংশ চাকরিতে পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন ছিল। তাই একটি সার্টিফিকেট পেলেই নির্দিষ্ট বেতনের চাকরি পাওয়া যাবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।    দ্বিতীয় বিকল্প ফ্লেবোটমি প্রশিক্ষণ। এই পেশায় রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক ল্যাব, রক্তদান কেন্দ্র ও চিকিৎসকের অফিসে ফ্লেবোটমিস্টরা কাজ করেন। বিএলএসের হিসাবে, ২০২৫ সালের মে মাসে এই পেশায় জাতীয় মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৪৫ হাজার ২৩০ ডলার। এটি নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়া প্রত্যেক কর্মীর শুরুর বেতন নয়। প্রশিক্ষণের সময় ও ফি প্রতিষ্ঠানভেদে বদলায়। ভর্তির আগে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ, ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা এবং নিয়োগদাতার গ্রহণযোগ্য সার্টিফিকেশনের সুযোগ আছে কি না, তা জানতে হবে।    তৃতীয় বিকল্প সার্টিফায়েড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সিএনএ। নিউইয়র্কে নার্সিং হোমের নার্স এইড প্রশিক্ষণে ক্লাসরুম ও ক্লিনিক্যাল অংশ মিলিয়ে অন্তত ১০০ ঘণ্টা থাকতে হয়। অনুমোদিত প্রশিক্ষণ শেষ করার পাশাপাশি নির্ধারিত দক্ষতা পরীক্ষা এবং লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার নিয়ম রয়েছে। তাই শুধু অনলাইন কোর্স শেষ করাকে সিএনএ হিসেবে কাজের পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন মনে করা যাবে না। বিএলএসের হিসাবে, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্টদের জাতীয় মধ্যম বার্ষিক বেতন ২০২৫ সালের মে মাসে ছিল ৪২ হাজার ২৬০ ডলার।    সিএনএ প্রশিক্ষণ রোগীর সেবায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি পথ। তবে এটি শেষ করলেই রেজিস্টার্ড নার্স বা আরএন হওয়া যায় না। আরএন হওয়ার শিক্ষা ও লাইসেন্সের শর্ত আলাদা। একইভাবে হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে চাকরি নিশ্চিত, এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়াও সঠিক নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা সার্টিফিকেশন ও অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।   চতুর্থ বিকল্প কমার্শিয়াল ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএলের প্রস্তুতি। ট্রাক বা বাসের ধরন অনুযায়ী লাইসেন্সের শ্রেণি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ভিন্ন হয়। নিউইয়র্কের ডিএমভির নির্দেশনায় কমার্শিয়াল লার্নার পারমিট নেওয়া, যোগ্য চালকের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন এবং রোড টেস্টের ধাপ রয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রোড টেস্টের আগে এন্ট্রি লেভেল ড্রাইভার ট্রেনিংও সম্পন্ন করতে হয়। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্সের সনদ পাওয়া এবং ডিএমভির সিডিএল পাওয়া একই বিষয় নয়।    বিএলএসের হিসাবে, ভারী ট্রাক ও ট্র্যাক্টর ট্রেইলার চালকদের জাতীয় মধ্যম বার্ষিক বেতন ২০২৫ সালের মে মাসে ছিল ৫৮ হাজার ৬৪০ ডলার। তবে কাজের ধরন, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগদাতা অনুযায়ী আয় বদলায়। সিডিএল থাকলেই এমটিএ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে সঙ্গে সঙ্গে চাকরি হয় না। লাইসেন্সের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিয়োগপ্রক্রিয়ার শর্তও পূরণ করতে হয়।    পঞ্চম বিকল্প গুগল ডেটা অ্যানালিটিকস সার্টিফিকেট। এটি ডেটা নিয়ে কাজের প্রাথমিক প্রস্তুতির একটি অনলাইন প্রশিক্ষণ। গুগলের ক্যারিয়ার সার্টিফিকেট কর্মসূচির অন্যান্য কোর্সের মতো এটিও নমনীয় সময়ে পড়া যায়। তবে সার্টিফিকেট অর্জন এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের ডেটা অ্যানালিস্ট পদে নির্বাচিত হওয়া আলাদা ধাপ। আবেদন করার আগে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া শিক্ষা, সফটওয়্যার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজের প্রস্তুতি মিলিয়ে নিতে হবে।    যে প্রশিক্ষণই বেছে নেওয়া হোক, ভর্তির আগে মোট ফি, পরীক্ষার খরচ, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও আর্থিক সহায়তার শর্ত লিখিতভাবে জানা প্রয়োজন। বেতনের জাতীয় মধ্যম হিসাবকে নিজের নিশ্চিত আয় ধরে নেওয়া যাবে না। স্বল্পমেয়াদি কোর্সকে চাকরির প্রস্তুতির একটি ধাপ হিসেবে বিবেচনা করলে খরচ, সময় ও প্রত্যাশার মধ্যে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৫:৫
৯০ কোটি রুপির ঋণ থেকে ৪ হাজার কোটির সম্পদ! যে কৌশলে ঘুরে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন
৯০ কোটি রুপির ঋণ থেকে ৪ হাজার কোটির সম্পদ! যে কৌশলে ঘুরে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন, জানুন

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে প্রায় ৯০ কোটি রুপির ঋণ এবং ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে শূন্য ব্যালান্স নিয়ে কঠিন আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। নিজের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের পর অভিনয় ও টেলিভিশনের কাজে মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠেন তিনি। গত ৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলিউডের এই অভিনেতার আর্থিক বিপর্যয় ও ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।    অমিতাভ ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন অমিতাভ বচ্চন করপোরেশন লিমিটেড, সংক্ষেপে এবিসিএল। প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি বিনোদনসংক্রান্ত অন্যান্য ব্যবসায় যুক্ত হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কোম্পানির আর্থিক সমস্যার প্রভাব তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও পড়ে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ঋণ তিনি শেষ পর্যন্ত পরিশোধ করেন।    সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে পুরোনো সাক্ষাৎকারে অমিতাভ জানিয়েছিলেন, পাওনাদারেরা নিয়মিত বাড়িতে আসতেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানির বিভিন্ন চুক্তিতে ব্যক্তিগত জামিনদার হওয়ায় ঋণ পরিশোধের দায়ও তাঁর ওপর আসে। ব্যাংকে অর্থ না থাকা এবং কাজের সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল।    সংকট কাটাতে তিনি আবার নিজের মূল পেশা অভিনয়ের দিকে মনোযোগ দেন। কাজ চাইতে যান চলচ্চিত্র নির্মাতা যশ চোপড়ার কাছে। এরপর ‘মোহাব্বতে’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। পুরোনো অভিজ্ঞতা স্মরণ করে অমিতাভ জানিয়েছিলেন, এই ছবির কাজ তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে।    চলচ্চিত্রের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে টেলিভিশন। ২০০০ সালে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র সঞ্চালনা শুরু করেন অমিতাভ। একই বছরে মুক্তি পায় ‘মোহাব্বতে’। এই দুই কাজের পর তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন গতি আসে। পরবর্তী সময়ে অভিনয়, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও বিজ্ঞাপনের কাজের মাধ্যমে আর্থিক অবস্থান পুনর্গঠন করেন তিনি।    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬-এ বচ্চন পরিবারের সম্পদের আনুমানিক মূল্য চার হাজার কোটি রুপি উল্লেখ করা হয়েছে। এই অঙ্ক সম্পদের মূল্যায়ন, ব্যাংকে থাকা নগদ অর্থের হিসাব নয়। প্রায় ৯০ কোটি রুপির ঋণের পুরোনো অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান আনুমানিক সম্পদের হিসাব মিলিয়ে তাঁর দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র তুলে ধরেছে প্রতিবেদনটি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৪:৪৬
শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ১৬ কোটি টাকার স্বর্ণ
শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ১৬ কোটি টাকার স্বর্ণ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ৯ কেজি ৩৪০ গ্রাম। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   রোববার (৪ অক্টোবর) বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে ওই দুই কর্মীকে হেফাজতে নেওয়া হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিলেন।    দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটটি বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায় যেখানে অবস্থান করছিল, সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুই বিমানকর্মীর পরিহিত জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণের বারগুলো পাওয়া যায়।   অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি বারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনেও একই পরিমাণ স্বর্ণ এবং প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা আনুমানিক বাজারমূল্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, এই চোরাচালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত, স্বর্ণ কোথা থেকে এসেছে এবং কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানে হেফাজতে নেওয়া দুই কর্মীর নাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। সূত্র: যমুনা টেলিভিশন

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৪:২০
যুক্তরাষ্ট্রের কলেজে এক বছরে আট হাজারের বেশি ধর্ষণ! তালিকার শীর্ষে ইউটাহ
যুক্তরাষ্ট্রের কলেজে এক বছরে আট হাজারের বেশি ধর্ষণ! তালিকার শীর্ষে ইউটাহ

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০২৪ সালে ৮ হাজার ২২৭টি ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ৩ অক্টোবর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। তবে এই সংখ্যা আদালতে প্রমাণিত অপরাধ বা দণ্ডিত ব্যক্তির হিসাব নয়।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের হিসাবে ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহতে সবচেয়ে বেশি, ১৪৬টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এরপর ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারে ৯৬টি এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ৬৭টি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহর প্রকাশিত ব্যাখ্যায় এই সংখ্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪৬টি নথিভুক্ত ঘটনার মধ্যে ১১০টি এসেছে একজন শিক্ষার্থীর একই সম্পর্কের মধ্যে বারবার যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার অভিযোগ থেকে। সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থী ঘটনাগুলো জানান। ফলে ১৪৬টি নথিভুক্ত ঘটনা মানে ১৪৬ জন পৃথক অভিযোগকারী নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অভিযোগকারীর জানানো প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে গণনা করা হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রে ক্লেরি অ্যাক্টের আওতায় উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে রিপোর্ট হওয়া অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে হয়। ফেডারেল শিক্ষার্থী সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে সর্বশেষ তিন বছরের তথ্য রাখার নিয়ম রয়েছে। এতে ধর্ষণসহ বিভিন্ন যৌন অপরাধ, ডাকাতি, চুরি এবং অন্যান্য নির্ধারিত অপরাধের হিসাব অন্তর্ভুক্ত থাকে।    এই পরিসংখ্যান বোঝার ক্ষেত্রে অভিযোগ, তদন্ত ও আদালতের রায়ের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের অপরাধের তথ্য নির্দিষ্ট বছরে ক্যাম্পাস নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় পুলিশকে জানানো অভিযোগের হিসাব। এটি অপরাধের বিচার বা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সংখ্যা নির্দেশ করে না। আবার অনেক ঘটনা রিপোর্ট না হওয়ায় নথিভুক্ত পরিসংখ্যানও সংঘটিত সব ঘটনার পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না।    নিউইয়র্কের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যের ক্ষেত্রেও অপরাধের শ্রেণি আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগের ‘ইনাফ ইজ ইনাফ’ প্রতিবেদনে যৌন নিপীড়নের পাশাপাশি ডেটিং ভায়োলেন্স, পারিবারিক সহিংসতা ও স্টকিংয়ের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তাই এই বিস্তৃত হিসাবকে শুধু ধর্ষণের অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। ফেডারেল ধর্ষণের পরিসংখ্যান এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার সম্মিলিত সংখ্যা সরাসরি এক করে তুলনা করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।    তথ্যের বছরও বিবেচনায় রাখা জরুরি। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালে প্রকাশিত হলেও জাতীয় তুলনাটি ২০২৪ সালের অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহ ২০২৫ সালের অপরাধসংক্রান্ত নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর। ফলে ২০২৪ সালের তালিকাকে বর্তমান বছরের অপরাধের তালিকা হিসেবে দেখানো যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বার্ষিক প্রতিবেদনে অপরাধের তথ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তানীতি, প্রতিরোধ কর্মসূচি ও অভিযোগ জানানোর পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৪:৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, এরপর টেক জায়ান্টে ক্যারিয়ার: আশরাফুলের সাফল্যে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, এরপর টেক জায়ান্টে ক্যারিয়ার: আশরাফুলের সাফল্যে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়াশোনা করেছেন বলেই যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিংসহ মাস্টার্স বা পিএইচডিতে আবেদনের পথ বন্ধ হয়ে যায় না। তবে ভর্তি ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভাগের নির্ধারিত যোগ্যতা, আবেদনকারীর একাডেমিক প্রস্তুতি ও ফান্ডিংয়ের সুযোগের ওপর। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত ভর্তি নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোগ্রামভিত্তিক শর্ত পূরণের কথা বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের কমিটি ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয়।   জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজে শিক্ষার্থীদের সুযোগ ও অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করার প্রস্তুতিতে নিজের ডিগ্রি, ট্রান্সক্রিপ্ট এবং বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতার সঙ্গে নির্বাচিত প্রোগ্রামের শর্ত মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি নির্দেশনায় বিভিন্ন বিভাগের জন্য আলাদা একাডেমিক ফলাফল, সুপারিশপত্র, ব্যক্তিগত বিবৃতি ও অন্যান্য নথির শর্ত রয়েছে। ফলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ যোগ্যতা পূরণ করলেই তার সব মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা পূরণ হয়েছে, এমন ধরে নেওয়া যায় না।    ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষাও প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনায় আইইএলটিএসের ন্যূনতম স্কোর ৬.৫ উল্লেখ রয়েছে। তবে এই স্কোরকে যুক্তরাষ্ট্রের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন শর্ত মনে করা ঠিক হবে না। আবেদনকারীকে নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। একইভাবে জিআরই সব প্রোগ্রামে বাধ্যতামূলক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, তাদের কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে জিআরই বা জিম্যাট প্রয়োজন হয়।    ভর্তির পাশাপাশি ফান্ডিংয়ের জন্যও আলাদা খোঁজ নেওয়া জরুরি। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও স্কলারশিপ সরাসরি বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ সম্পর্কে জানতে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ভর্তির আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগ কীভাবে ফান্ডিং দেয়, তার জন্য আলাদা আবেদন প্রয়োজন কি না এবং কোন সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হয়, সেসব বিষয়ও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।    অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ পেলেই সব ধরনের ব্যয় একইভাবে কভার হবে, এমন নয়। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫ থেকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নির্দেশনায় সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার পূর্ণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে স্টাইপেন্ড, টিউশন ওয়েভার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তুকিযুক্ত হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কথা রয়েছে। কম সময়ের নিয়োগে সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো অফারকে ফুল ফান্ডেড হিসেবে বিবেচনা করার আগে টিউশন, অন্যান্য ফি, স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং সহায়তার মেয়াদ লিখিত অফারে কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তা বুঝে নিতে হবে।    প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজের যোগ্যতার স্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য বিবরণ তৈরি করা। নির্বাচিত প্রোগ্রাম অনুযায়ী প্রজেক্ট, গবেষণার অভিজ্ঞতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আবেদনপত্রে তুলে ধরা যায়। তবে কোনো একজনের সিজিপিএ বা পরীক্ষার স্কোর দেখে একই ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও কার্যকর সূচনা হলো উপযুক্ত প্রোগ্রাম খুঁজে তার ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের শর্ত বোঝা, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা।   সূত্র: scholarship funding with low CGPA

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৩:৪৪
ডেলিভারির ফাঁকেও কোরআন পড়ে আলোচনায় উগান্ডার রাইডার মনসুর
ডেলিভারির ফাঁকেও কোরআন পড়ে আলোচনায় উগান্ডার রাইডার মনসুর

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ডেলিভারির অর্ডারের অপেক্ষায় মোটরসাইকেলের পাশে বসে কোরআন পড়েন উগান্ডার নাগরিক মনসুর কাতাবালওয়া। কাজের বিরতিতে তাঁর কোরআন পড়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় এসেছেন এই ডেলিভারি রাইডার। তবে মনসুর জানিয়েছেন, মানুষের নজরে আসার জন্য নয়, নিজের ধর্মীয় চর্চার অংশ হিসেবেই নিয়মিত কোরআন পড়েন তিনি।   গত ১ অক্টোবর প্রকাশিত খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনসুর প্রায় দুই বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস ও কাজ করছেন। গত পাঁচ মাস ধরে তিনি তালাবাতের ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কর্মরত। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান উগান্ডায় থাকেন। তাঁদের ভালো জীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই দেশ ছেড়ে আমিরাতে এসেছেন তিনি।   ডেলিভারির কাজে দিনের বড় একটি অংশ রাস্তায় কাটে মনসুরের। এক অর্ডার শেষ করে পরবর্তী অর্ডারের অপেক্ষায় কিছুটা সময় পেলেই সঙ্গে রাখা কোরআন খুলে বসেন। মোটরসাইকেলের পাশে বসে তাঁর এমন একটি মুহূর্তের ভিডিওই সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে মানুষের নজর কাড়ে।   মনসুরের এই অভ্যাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের তিন সদস্যকে হারানোর বেদনা। তিনি জানিয়েছেন, বাবা, মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর পর ধর্মের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়। প্রায় তিন বছর আগে তিনি কোরআন মুখস্থ করেন। এখন নিয়মিত পড়ার পাশাপাশি মুখস্থ করা অংশগুলো পুনরাবৃত্তি করেন।   কাজের বিরতিতে হাতে কোরআন নিয়ে পড়লে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন বলে খালিজ টাইমসকে জানিয়েছেন মনসুর। এই সময় তিনি প্রয়াত মা-বাবার জন্যও দোয়া করেন। তাঁদের ক্ষমা এবং জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা কামনা করেন তিনি।   পরিবার থেকে দূরে থেকে জীবিকার দায়িত্ব পালন করছেন মনসুর। সেই ব্যস্ততার মধ্যেই কোরআন পড়ার জন্য সময় রাখেন। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আগেও এই অভ্যাস ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৩:৪
নিউ ইয়র্কে বুকে ব্যথায় ইমার্জেন্সি চিকিৎসা, জেনে নিন যে চারটি ভুলে কয়েক হাজার ডলার!
নিউ ইয়র্কে বুকে ব্যথায় ইমার্জেন্সি চিকিৎসা, জেনে নিন যে চারটি ভুলে কয়েক হাজার ডলার!

নিউ ইয়র্কে বুকে ব্যথা নিয়ে ইমার্জেন্সি রুমে যাওয়ার সময় হাসপাতালের বিলের চেয়ে জরুরি হলো দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া। তবে চিকিৎসার পর কত টাকা রোগীকে দিতে হবে, তা বুঝতে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কভারেজ, হাসপাতালে থাকার স্ট্যাটাস, অ্যাম্বুলেন্সের বিল এবং ফলোআপ পরীক্ষার নিয়ম জানা প্রয়োজন। বাংলাদেশি কমিউনিটির পাঠকদের জন্যও এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। শুধু চারটি ভুলের কারণে সবার ১০ হাজার ডলার বিল আসে, এমন নির্দিষ্ট অঙ্ক ধরে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। হাসপাতালের মোট চার্জ এবং ইন্স্যুরেন্সের হিসাব শেষে রোগীর নিজের পকেট থেকে দেওয়ার টাকা এক বিষয় নয়।   বুকে নতুন বা উদ্বেগজনক ব্যথা, চাপ, শ্বাসকষ্ট কিংবা হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে হাসপাতালের নেটওয়ার্ক খুঁজতে গিয়ে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে কল করার পরামর্শ দেয়। ফেডারেল ইমার্জেন্সি মেডিকেল ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড লেবার অ্যাক্ট অনুযায়ী, আইনটির আওতাধীন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলেও প্রয়োজনীয় মেডিকেল স্ক্রিনিং এবং জরুরি অবস্থা স্থিতিশীল করার চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে এই অধিকার চিকিৎসার সব খরচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাফ করে দেয় না।    প্রথম বিষয় হলো, আউট অব নেটওয়ার্ক হাসপাতালে ইমার্জেন্সি চিকিৎসা নিলেই রোগীর ওপর পুরো বিল চাপানো যায় না। সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস বা সিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ বেসরকারি হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে নো সারপ্রাইজেস অ্যাক্ট জরুরি চিকিৎসায় অপ্রত্যাশিত আউট অব নেটওয়ার্ক বিল থেকে সুরক্ষা দেয়। সাধারণভাবে রোগীর প্রযোজ্য ইন নেটওয়ার্ক কোপে, কোইন্স্যুরেন্স ও ডিডাক্টিবল থাকতে পারে। তাই ফিডেলিস, হেলথফার্স্ট বা মেট্রোপ্লাসের কার্ড থাকলে নির্দিষ্ট কোনো বেসরকারি হাসপাতালে গেলেই পুরো বিল আউট অব নেটওয়ার্ক হবে, এমন সাধারণ সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। কভারেজ বুঝতে কোম্পানির নামের পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্ল্যান ও চিকিৎসার ধরন দেখতে হবে। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইডের নিজস্ব সুরক্ষা ও নিয়ম রয়েছে।    দ্বিতীয় বিষয় হলো, হাসপাতালে রাত কাটানো আর ইনপেশেন্ট হিসেবে ভর্তি হওয়া এক নয়। মেডিকেয়ারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অবজারভেশনে থাকা রোগী আউটপেশেন্ট হিসেবে গণ্য হতে পারেন, এমনকি তিনি হাসপাতালে রাত কাটালেও। এই স্ট্যাটাস চিকিৎসার খরচ ও কভারেজে প্রভাব ফেলতে পারে। রোগী বা পরিবারের সদস্য চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করতে পারেন, তাঁকে ইনপেশেন্ট হিসেবে ভর্তি করা হয়েছে, নাকি অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। তবে অবজারভেশন মানেই ইন্স্যুরেন্স চিকিৎসার খরচ দেবে না, এমন নয়। মেডিকেয়ার পার্ট বি অনেক আউটপেশেন্ট সেবা কভার করে। নিজের প্ল্যানের নিয়ম এবং হাসপাতালের দেওয়া নোটিশ বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।    তৃতীয় বিষয় হলো অ্যাম্বুলেন্সের বিল। ফেডারেল নো সারপ্রাইজেস অ্যাক্টের সাধারণ বিলিং সুরক্ষা গ্রাউন্ড অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সের সম্পূর্ণ চার্জ নিজে দিতে হবে। ইন্স্যুরেন্স কভারেজ ও প্রযোজ্য অন্যান্য নিয়ম অনুযায়ী রোগীর দায় নির্ধারিত হয়। অ্যাম্বুলেন্সের বিল এলে কোন সংস্থা সেবা দিয়েছে, ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম জমা পড়েছে কি না এবং রোগীর অংশ কত, তা সংশ্লিষ্ট বিলিং অফিস ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে জানতে হবে। হাসপাতালের ফিন্যান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স অনুমোদিত হলেই আলাদা অ্যাম্বুলেন্স কোম্পানির বিলও মাফ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।    চতুর্থ বিষয় হলো ফলোআপ পরীক্ষা কোথায় এবং কখন করা নিরাপদ। চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করা যায়, পরবর্তী পরীক্ষা আউটপেশেন্ট ক্লিনিকে করা সম্ভব কি না এবং কত দিনের মধ্যে তা প্রয়োজন। কিন্তু ব্যথা কমেছে বা প্রাথমিক পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক এসেছে বলে নিজে থেকে হাসপাতাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বুকের ব্যথার মূল্যায়নে চিকিৎসকেরা উপসর্গ, পরীক্ষার ফল এবং সামগ্রিক ঝুঁকি বিবেচনা করেন। কম ঝুঁকির রোগীর ক্ষেত্রে জরুরি অতিরিক্ত পরীক্ষা সবসময় প্রয়োজন নাও হতে পারে, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নিতে হয়। স্ট্রেস টেস্ট কোথায় করালে নির্দিষ্ট কত টাকা বাঁচবে, তাও সবার জন্য এক নয়।    চিকিৎসা শেষে বড় বিল এলে খরচের বিস্তারিত বিবরণ বা আইটেমাইজড বিল চাওয়া এবং ইন্স্যুরেন্সের হিসাবের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা কার্যকর পদক্ষেপ। কোন সেবার জন্য চার্জ এসেছে, ইন্স্যুরেন্স কত দিয়েছে এবং রোগীর কত দেওয়ার কথা, তা পরিষ্কার করতে হবে। এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল এবং চিকিৎসকের সেবার জন্য পৃথক বিলও আসতে পারে। জরুরি চিকিৎসায় অপ্রত্যাশিত আউট অব নেটওয়ার্ক বিল পেলে হাসপাতাল ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে বিল পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা যায়। নিউইয়র্কের ডিপার্টমেন্ট অব ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের কাছেও এ বিষয়ে সহায়তা চাওয়া যায়। বিল উপেক্ষা না করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।    বিল পরিশোধে অসুবিধা হলে হাসপাতালের ফিন্যান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে হবে। নিউইয়র্কের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য রোগীদের সহায়তা নির্ধারণে পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা ও ইন্স্যুরেন্স পরিস্থিতি বিবেচিত হয়; ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত আয়ের রোগীরা নির্দিষ্ট শর্তে সহায়তার যোগ্য হতে পারেন। তাই বার্ষিক আয় ৫০ হাজার ডলারের নিচে হলেই সবার সব বিল মাফ হবে, এমন নিয়ম নেই। এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের ফিন্যান্সিয়াল কাউন্সেলরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ১-৮৪৪-৬৯২-৪৬৯২ নম্বরে কল করে ৩ নম্বর অপশন নির্বাচন করা যায়। তাদের সহায়তার আবেদন পর্যালোচনাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধ করতে বলা হবে না বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২:৫৫
এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় এখনো বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল
এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় এখনো বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় এক নারী রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামকে খুঁজছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এফবিআই। ১৯৯৬ সালের ৩ অক্টোবরের ওই ঘটনার ৩০ বছর পরও সংস্থার ওয়ান্টেড তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। এফবিআইয়ের ফিলাডেলফিয়া কার্যালয় তাঁকে সহিংস অপরাধসংক্রান্ত তালিকায় রেখেছে।    এফবিআইয়ের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনাটি পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ার একটি বড় হাসপাতালে ঘটে। অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত জাহিদুল অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠতে থাকা এক নারী রোগীকে ওষুধ দিয়ে ঝিমিয়ে ফেলেন এবং হাসপাতালের কক্ষে তাঁকে ধর্ষণ করেন।    তাঁর বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে অভিযোগ আনার পর ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। বিচার এড়াতে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও এফবিআইয়ের নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।    জাহিদুলের নাম এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায় থাকলেও তাঁকে সংস্থার বিশেষ ‘টেন মোস্ট ওয়ান্টেড ফিউজিটিভস’ তালিকার সদস্য হিসেবে দেখানো হয়নি। ফিলাডেলফিয়া কার্যালয়ের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে ‘অ্যাডিশনাল ভায়োলেন্ট ক্রাইমস’ বিভাগে।    এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার মন্ট্রিয়লে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। তিনি চিকিৎসক স্ত্রীর সঙ্গে চলাফেরা করতে পারেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে তাঁর বর্তমান অবস্থান নোটিশে উল্লেখ করা হয়নি।    সংস্থাটি জাহিদুলকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনার সতর্কতা দিয়েছে। তাঁর সম্পর্কে তথ্য থাকলে স্থানীয় এফবিআই কার্যালয় অথবা নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২:২৬
তেহরানের দেয়ালজুড়ে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ইরানের যুদ্ধকালীন বিলবোর্ড
তেহরানের দেয়ালজুড়ে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ইরানের যুদ্ধকালীন বিলবোর্ড

ইরানের রাজধানী তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে বড় বড় বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। কোনো ছবিতে ট্রাম্পের মুখ সেলাই করা, আবার কোথাও মার্কিন ড্রোনের ওপর পা রেখে দাঁড়িয়ে আছেন এক ইরানি সেনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ঘটনাগুলোকে নিজেদের অবস্থান থেকে তুলে ধরতে এসব ছবি ব্যবহার করছে ইরান।   তেহরানের ভালিয়াসর স্কয়ারের একটি বিলবোর্ডে ট্রাম্পের মুখ বন্ধ অবস্থায় দেখানো হয়েছে। মুখের ওপর হরমুজ প্রণালির মানচিত্রের আদল রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ঘিরে তৈরি পরিস্থিতির বার্তাই ছবিটিতে তুলে ধরা হয়েছে বলে বিলবোর্ডটির নির্মাতারা জানিয়েছেন। এটি স্থাপন করা হয়েছিল গত মে মাসে।   আরেকটি সাম্প্রতিক বিলবোর্ডে পানির নিচে চলতে সক্ষম একটি মার্কিন ড্রোনের ওপর ইরানি সেনাকে পা রেখে দাঁড়াতে দেখা যায়। হরমুজ প্রণালিতে এমন একটি ড্রোন আটক করার যে দাবি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস করেছে, বিলবোর্ডটি সেই দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি। ছবিটি নিজে ড্রোন আটক হওয়ার স্বাধীন প্রমাণ নয়।    এএফপির প্রতিবেদক বিলবোর্ড তৈরির একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাজের প্রক্রিয়া দেখেছেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মোস্তফা কাফায়ি জানান, নতুন কোনো ঘটনার পর তাঁর দল দ্রুত ছবি ও বার্তা তৈরির কাজ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংবাদমাধ্যম পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা দলও রয়েছে। এসব বিলবোর্ড সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত হচ্ছে বলে এএফপি জানিয়েছে।   সব বিলবোর্ড একই সময়ে তৈরি হয়নি। এএফপির প্রতিবেদনে চলতি বছরের মে, জুলাই ও আগস্টে তেহরানে দেখা ছবির পাশাপাশি নতুন বিলবোর্ডের কথাও রয়েছে। ডিজাইনারদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে সড়কের দৃশ্যমান জায়গাগুলোতে নতুন বার্তা তুলে ধরা হচ্ছে। (arabnews.com)   সূত্র: ৪ অক্টোবর ২০২৬-এ আরব নিউজে প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১:৫২
সৌদি আরবের মদিনায় হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা
সৌদি আরবের মদিনায় হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা

সৌদি আরবের মদিনায় তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। আজ রোববার, ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঢাকার পূর্ণ সংহতির কথা জানানো হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথিদের দায়ী করলেও গোষ্ঠীটি তা অস্বীকার করেছে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা গ্রহণযোগ্য নয়। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ডেরও বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ।   হামলাটি ঘটে গত মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ১ অক্টোবর জানায়, মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন আঘাত হেনেছে। জোটের দাবি, উদ্ধার করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হামলায় হুথিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।   জোটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার অকেজো হলেও মদিনার সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়নি। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। মসজিদে নববীতে সরাসরি হামলা হয়েছে, এমন কথা সৌদি জোটের বিবৃতিতে বলা হয়নি।   অন্যদিকে হুথিদের একটি সামরিক সূত্র সৌদি জোটের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। হুথি পরিচালিত সাবা বার্তা সংস্থার মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তারা মদিনার বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে। ফলে হামলার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।   বাংলাদেশের আগে পাকিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশের বিবৃতিটি প্রকাশিত হয়েছে আজ; হামলা এবং এ বিষয়ে সৌদি জোটের অভিযোগ কয়েক দিন আগের।    সূত্র: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি নিয়ে ইউএনবির প্রতিবেদন; সৌদি প্রেস এজেন্সি ও রয়টার্স।  

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রের খামারভিত্তিক স্কুলে গরু পালন ও ফসল ফলিয়ে পড়াশোনার খরচ প্রায় ৪০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের খামারভিত্তিক স্কুলে গরু পালন ও ফসল ফলিয়ে পড়াশোনার খরচ প্রায় ৪০ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টে একটি আবাসিক স্কুলে শিক্ষার্থীরা গণিত ও বিজ্ঞানের ক্লাস করার পাশাপাশি ভুট্টা তোলে, পশুর যত্ন নেয়, বাসন ধোয়। মিল্টন একাডেমির অধিভুক্ত মাউন্টেন স্কুলে ২০২৬ সালের শরৎ ও ২০২৭ সালের বসন্ত সেমিস্টারের নির্ধারিত ফি ৩৯ হাজার ৭৫০ ডলার। খামারের কাজ ও উচ্চ ফি নিয়ে ৩ অক্টোবর দ্য ইনডিপেনডেন্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   ভারমন্টের ভারশায়ারে ৪১৮ একর জায়গাজুড়ে স্কুলটির কার্যক্রম। দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সেখানে একটি সেমিস্টার পড়তে পারে; অধিকাংশই একাদশ শ্রেণির। স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সেমিস্টারে প্রায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রচলিত পাঠ্যক্রমের সঙ্গে খামার, বন ও খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে।   শিক্ষার্থীরা সাধারণত সপ্তাহে প্রায় আট ঘণ্টা খামারের কাজে অংশ নেয়। ফসল তোলা, ভেড়া ও গরুর দেখাশোনা এবং কাঠ কাটার পাশাপাশি রান্নাঘর ও শ্রেণিকক্ষের কাজও ভাগ করে করতে হয়। একই সময়ে অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট বা এপি ক্যালকুলাসের মতো বিষয় পড়ার সুযোগ থাকে। ফলে প্রায় ৪০ হাজার ডলার শুধু কৃষিকাজ শেখার ফি নয়; এটি পূর্ণ আবাসিক শিক্ষাক্রমের নির্ধারিত খরচ।   স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফি থেকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রম, শিক্ষা সফর, বই, পাঠ্য উপকরণ ও দলগত কর্মসূচির ব্যয় মেটানো হয়। তবে যাতায়াতের খরচ পরিস্থিতিভেদে আলাদা হতে পারে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যবিমা থাকা বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনে বাইরে ব্যবহারের সরঞ্জাম স্কুল থেকে ধার নেওয়ার ব্যবস্থাও আছে।   পূর্ণ ফি সব পরিবারকে দিতে হয় না। মাউন্টেন স্কুল আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে সহায়তা দেয়, যা ফেরত দিতে হয় না। স্কুলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ভর্তি মৌসুমে গৃহীত শিক্ষার্থীদের ৪০ শতাংশকে এমন সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে স্কুলটির পরিচালকের দেওয়া হিসাবে, শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০ শতাংশ আর্থিক সহায়তা পায়।   খামারে কাজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহারে কড়াকড়ি রয়েছে। সেমিস্টারের শুরুতে তাঁদের ফোন জমা দিতে হয়; ল্যাপটপ মূলত পড়াশোনার জন্য ব্যবহার করা যায়। কয়েক দিনের প্রকৃতিনির্ভর একক ভ্রমণও কর্মসূচির অংশ। স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এসব অভিজ্ঞতার লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের নিজের কাজের দায়িত্ব নেওয়া এবং অন্যদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে শেখানো।   কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আশা করেন, ব্যতিক্রমী এই অভিজ্ঞতা কলেজে ভর্তির আবেদনে কাজে আসবে। স্কুলও আবেদন ও প্রবন্ধ লেখায় পরামর্শ দেয়। তবে ভর্তি পরামর্শক অ্যাডাম নগুয়েন বলেছেন, শুধু ব্যয়বহুল একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কলেজে বাড়তি সুবিধার নিশ্চয়তা দেয় না। শিক্ষার্থীর নিজের আগ্রহ ও শেখার লক্ষ্যটির সঙ্গে কর্মসূচির সম্পর্ক থাকাই তাঁর মতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: মাউন্টেন স্কুলের ফি ও কর্মসূচির তথ্য।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১:১২
চীনে ৩০ কোটি ডলারের সার্ভার পাচারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
চীনে ৩০ কোটি ডলারের সার্ভার পাচারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে চীনে ৩০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার সার্ভার পাঠানোর অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার এক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর গ্রেগ লুই নামের ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় বিচার বিভাগ। তিনি ইউ কং লুই নামেও পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩৮ বছর বয়সী লুই ‘আর্থমেড কম্পিউটার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে ফেডারেল আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগগুলো হলো রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য পাচার এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্র।   অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, লুই ও তাঁর সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাফিকস প্রসেসরযুক্ত সার্ভার কেনেন। এসব প্রযুক্তি চীনে পাঠাতে মার্কিন সরকারের বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মার্কিন সরবরাহকারীদের দেওয়া নথিতে সার্ভারগুলোর শেষ গন্তব্য সম্পর্কে ভুল তথ্য দেখিয়ে সেগুলো প্রথমে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, পরে সেখান থেকে সার্ভারগুলো চীনে পুনরায় রপ্তানি করা হয়।   বিচার বিভাগ একটি নির্দিষ্ট চালানের বিবরণও দিয়েছে। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লুই প্রায় ৭৬ লাখ ডলারে ২৭টি সার্ভার কেনার অর্ডার দেন এবং সেগুলো লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পাঠানো হয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে এক সহযোগীর ইমেইলে ওই সার্ভারগুলো চীনের একজন ক্রেতার কাছে পাঠানোর কথা উল্লেখ ছিল।   বিচার বিভাগের দাবি, এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে লুইয়ের প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়াভিত্তিক দুটি চালান প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছে। এই অর্থপ্রাপ্তির হিসাব এবং অভিযোগে উল্লেখ করা ৩০ কোটি ডলারের বেশি সার্ভারের মূল্য এক বিষয় নয়।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এসব প্রসেসর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এ ধরনের প্রযুক্তি রপ্তানিতে জাতীয় নিরাপত্তার কারণে বিধিনিষেধ রয়েছে। মামলাটি এফবিআই, বাণিজ্য বিভাগ এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের তদন্তকারীরা দেখছেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগপত্র দোষী সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ নয়; আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত লুই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ১ অক্টোবর ২০২৬ সালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি; রয়টার্স।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ০:৫৮
আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক হোটেলসহ ৬ দিনের প্যাকেজ ৭৪৯ ডলার
আমট্রাকে শরৎকালীন ভ্রমণ: আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক হোটেলসহ ৬ দিনের প্যাকেজ ৭৪৯ ডলার থেকে

শরতের মনোরম পরিবেশে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটি ঘুরে আসতে আগ্রহীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি ভ্রমণ প্যাকেজ সামনে এসেছে। আমট্রাকের ক্রিসেন্ট ট্রেনে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটি যাতায়াত, হোটেলে থাকা এবং শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘোরার সুযোগ নিয়ে এই রাউন্ডট্রিপ প্যাকেজের মেয়াদ ছয় দিন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্যাকেজটির মূল্য শুরু হচ্ছে ৭৪৯ ডলার থেকে।    ৩ অক্টোবর প্রকাশিত সিক্রেট আটলান্টার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাকেজটিতে মোট তিন রাত হোটেলে থাকার পাশাপাশি দুই রাত আমট্রাক ট্রেনে কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটি পর্যন্ত যাতায়াত হবে আমট্রাকের ক্রিসেন্ট রুটে। ফলে গাড়ি চালানো বা দীর্ঘ সময়ের হাইওয়ে ট্রাফিকের ঝামেলা এড়িয়ে ট্রেনেই পূর্ব উপকূলের শরৎকালীন দৃশ্য উপভোগ করে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সুযোগ থাকছে।    প্যাকেজের আরেকটি আকর্ষণ হলো নিউইয়র্ক সিটির বহুদিনের হপ-অন, হপ-অফ দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ। এর আওতায় ইউনিয়ন স্কয়ার, রকফেলার সেন্টার, লিটল ইতালি, চায়নাটাউন, সোহো, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো জনপ্রিয় স্থান দেখার সুযোগ রয়েছে। ফলে যারা প্রথমবার নিউইয়র্ক ভ্রমণে যাচ্ছেন, তাদের জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণগুলো একসঙ্গে দেখার সুবিধা তৈরি হচ্ছে।    শরৎকালে এই ট্রেনযাত্রার বাড়তি আকর্ষণ হতে পারে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন এলাকার পরিবর্তনশীল প্রাকৃতিক দৃশ্য। শরতের পাতার রঙ বদলের সময় ট্রেনে ভ্রমণ করলে রাস্তার পরিবর্তে জানালার পাশ থেকে দীর্ঘ পথের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। আমট্রাকের ক্রিসেন্ট রুট আটলান্টা ও নিউইয়র্কের মধ্যে নিয়মিত যাত্রীসেবা পরিচালনা করে এবং আমট্রাক ভ্যাকেশনস বিভিন্ন শহরকে কেন্দ্র করে ট্রেনভিত্তিক ভ্রমণ প্যাকেজও তৈরি করে।    তবে ৭৪৯ ডলারের মূল্যটি সর্বনিম্ন বা শুরু মূল্য। নির্দিষ্ট ভ্রমণের তারিখ, আসন, হোটেলের প্রাপ্যতা এবং অন্যান্য বুকিং শর্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ৭৪৯ ডলারের মূল্যকে সব তারিখের জন্য নির্ধারিত মূল্য হিসেবে না দেখে প্যাকেজটির প্রাথমিক মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।    আটলান্টা থেকে নিউইয়র্কে শরৎকালীন ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পরিবার, দম্পতি কিংবা বন্ধুদের জন্য তাই এই প্যাকেজটি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক একটি বিকল্প হতে পারে। ছয় দিনের রাউন্ডট্রিপে ট্রেনযাত্রা, হোটেলে থাকা এবং নিউইয়র্কের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান ঘোরার সুযোগ থাকায় একই ভ্রমণে যাতায়াত ও থাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ০:৪৮
ওয়াশিংটনে খাদ্য সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে সোয়া লাখ মানুষ
ওয়াশিংটনে খাদ্য সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে সোয়া লাখ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে কাজের নতুন শর্ত পূরণ করতে না পারলে প্রায় সোয়া লাখ মানুষের খাদ্য সহায়তা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন কর্মকর্তার দেওয়া হিসাবের ভিত্তিতে কিরো ৭ জানিয়েছে, প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার বাসিন্দা এ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। অঙ্গরাজ্যের বাজেট নথিতেও কাজের শর্তের আওতা বৃদ্ধি ও ছাড়ের সুযোগ কমে যাওয়ায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষের খাদ্য সহায়তা হারানোর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।   পরিবর্তনগুলো এসেছে ২০২৫ সালে পাস হওয়া কেন্দ্রীয় আইন এইচআর ১ থেকে। ওয়াশিংটনে স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা ‘বেসিক ফুড’ নামে পরিচালিত হয়। নতুন নিয়মে কাজ করতে সক্ষম ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী আরও বেশি মানুষ কাজের শর্তের আওতায় পড়ছেন। আগে এই বিশেষ শর্তের ঊর্ধ্ব বয়সসীমা ছিল ৫৪ বছর। গৃহহীন ব্যক্তি, সাবেক সেনাসদস্য এবং ফস্টার কেয়ার থেকে বেরিয়ে আসা কিছু তরুণের জন্য আগে যে ছাড় ছিল, সেটিও বাদ দেওয়া হয়েছে।   যাঁদের ক্ষেত্রে শর্ত প্রযোজ্য, তাঁদের সাধারণত মাসে ৮০ ঘণ্টা কাজ, অনুমোদিত প্রশিক্ষণ বা অন্য নির্ধারিত কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়। শর্ত পূরণ না করলে ৩৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ তিন মাস খাদ্য সহায়তা পাওয়ার সীমা কার্যকর হতে পারে। তবে গর্ভবতী ব্যক্তি, কাজ করতে অক্ষম ব্যক্তি এবং পরিবারের ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য খাদ্য সহায়তা গ্রহণকারীসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ ছাড় পেতে পারেন।   ওয়াশিংটনের সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জানিয়েছে, সুবিধাভোগীর পরবর্তী যোগ্যতা যাচাইয়ের সময় তিনি ছাড়ের আওতায় পড়েন কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজন হলে কাজের শর্ত লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হবে। এই যাচাইয়ের আগেই শুধু নতুন কাজের শর্তের কারণে কারও বেসিক ফুড বন্ধ হবে না। পরিবারের একজন অযোগ্য বিবেচিত হলেও অন্য সদস্যদের সহায়তা চালু থাকতে পারে।   অভিবাসীদের ক্ষেত্রে খাদ্য সহায়তা ও স্বাস্থ্যবিমার নিয়ম আলাদাভাবে বদলেছে। অঙ্গরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ হাজার শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি ও অন্য অভিবাসী আগেই কেন্দ্রীয় স্ন্যাপ থেকে অঙ্গরাজ্যের অর্থায়নে পরিচালিত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে স্থানান্তরিত হয়েছেন। সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বলছে, এ পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের নতুন করে আবেদন করতে হয়নি। তবে অঙ্গরাজ্যের খাদ্য সহায়তায় স্থানান্তর হওয়া মানেই সরকারি স্বাস্থ্যবিমাও বহাল থাকবে, এমন নয়।   ১ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট অভিবাসন মর্যাদার প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ওয়াশিংটনের মেডিকেইড কর্মসূচি ‘অ্যাপল হেলথ’-এর যোগ্যতা সীমিত হয়েছে। অঙ্গরাজ্য সরকারের সর্বশেষ হিসাবে, এতে প্রায় ১১ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যবিমা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। তবে আদালতের একটি আদেশে সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম পাওয়া ৮০০ জনের বেশি বাসিন্দার অ্যাপল হেলথ কভারেজ আপাতত সুরক্ষিত রয়েছে।   স্বাস্থ্যবিমার সব পরিবর্তন একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। কিং কাউন্টির সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট প্রাপ্তবয়স্ক অ্যাপল হেলথ সুবিধাভোগীর জন্য কাজের শর্ত ও ছয় মাস অন্তর যোগ্যতা যাচাই শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি। অনেক চিকিৎসাসেবায় সর্বোচ্চ ৩৫ ডলার পর্যন্ত কো-পে চালুর নির্ধারিত তারিখ ২০২৮ সালের ৮ অক্টোবর। কিরো ৭-এর প্রতিবেদনে কো-পের সময় নিয়ে দেওয়া তথ্য কাউন্টির সরকারি সময়সূচির সঙ্গে মেলে না।    যাঁরা খাদ্য সহায়তা পান, তাঁদের সময়মতো যোগ্যতা যাচাই সম্পন্ন করতে এবং নিজের তথ্য হালনাগাদ রাখতে বলেছে সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। বেসিক ফুডের নিয়ম জানতে ৮৭৭-৫০১-২২৩৩ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। কিং কাউন্টিতে স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত সহায়তার নম্বর ৮০০-৭৫৬-৫৪৩৭।

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২৬ ০:৩০
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
নির্দেশের পরও নিউইয়র্কে থাকা ইরানের দুই প্রতিনিধিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করলেন মার্কিন প্রশাসন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার দাবি, দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও তাঁরা নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। একজন শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে, অন্যজন শনিবার সকালে চলে যান। তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে গত সোমবার ইরানের জাতিসংঘ মিশনকে প্রতিনিধিদলের সবাইকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়। শুক্রবার দুই সদস্যের নিউইয়র্কে অবস্থানের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁদের চলে যাওয়ার নির্দেশ আবার জানায় ওয়াশিংটন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা তাঁদের ‘বের করে দেওয়া হয়েছে’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফা নির্দেশের পর দুজন পৃথক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন। তাঁদের জোরপূর্বক দেশ থেকে সরানোর কোনো বিবরণ মার্কিন কর্তৃপক্ষ দেয়নি।   এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও তাঁর প্রতিনিধিদলকেও নির্ধারিত সময়ের আগে নিউইয়র্ক ছাড়তে বলেছিলেন রুবিও। জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে এপি।   তবে মূল প্রতিনিধিদলকে বহিষ্কারের আগের মার্কিন দাবি অস্বীকার করেছে ইরানের জাতিসংঘ মিশন। তাদের বক্তব্য, আগে থেকে জানানো সফরসূচি অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল নিউইয়র্ক ছেড়েছে। সর্বশেষ যে দুই সদস্য শুক্রবার ও শনিবার দেশ ছেড়েছেন, তাঁদের বিষয়ে ইরানের পৃথক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২৩:৪৮
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয় : দিল্লি হাইকোর্ট
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয় : দিল্লি হাইকোর্ট

বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকলেও কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত হয় না। তুর্কমেনিস্তানের এক নারীকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় করা আবেদন খারিজ করে ৩০ সেপ্টেম্বর এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি অমিত মহাজন। আদালত বলেছেন, ভিসা দেওয়া এবং সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া পৃথক সিদ্ধান্ত।   মামলার নথি অনুযায়ী, ওই নারী গত ২৫ মার্চ স্বামীর সঙ্গে একই ফ্লাইটে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দুজনেরই একই ধরনের ব্যবসায়িক ভিসা ছিল। অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁর স্বামীকে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তাঁকে দেননি। সেদিনই তাঁকে তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।   এরপর ওই নারী আদালতে আবেদন করে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো এবং তাঁর ব্যবসায়িক ভিসার ভিত্তিতে ভারতে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ চান। তাঁর যুক্তি ছিল, বৈধ ভ্রমণ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ফেরত পাঠানো হয়েছে; অথচ একই ফ্লাইটে আসা তাঁর স্বামী প্রবেশ করতে পেরেছেন।   ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আদালতে জানায়, ওই নারীর বিষয়ে কিছু নেতিবাচক তথ্য পাওয়ার পর অভিবাসন বিভাগ তাঁকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বলে তাদের দাবি। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওই নারী ৪৭ বার ভারতে এসেছিলেন। বেশির ভাগ সফরের মেয়াদ ছিল এক থেকে তিন দিন; তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা ভিসা ব্যবহার করেছিলেন।   আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, উপস্থাপিত নথিতে ওই নারীর বাবা-মা ও স্বামীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যে অসংগতি ছিল। ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসার কথা বললেও তিনি ব্যবসায়িক পরিচয়পত্র বা আমন্ত্রণপত্র দেখাতে পারেননি এবং নিজ দেশে তাঁর ব্যবসা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেননি। ব্যবসায়িক ভিসা নেওয়ার পরও একটি নথিতে নিজেকে গৃহিণী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এসব বিষয় আদালত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার সময় বিবেচনা করেছে।   বিচারপতি মহাজন বলেছেন, ভারতের অভিবাসন আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকের জন্য বৈধ ভ্রমণ নথি ও ভিসা প্রয়োজন। কিন্তু সেগুলো থাকলেই প্রবেশের নিঃশর্ত অধিকার তৈরি হয় না। জাতীয় নিরাপত্তা, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা, অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং জনস্বাস্থ্যের মতো নির্দিষ্ট বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ প্রবেশে বাধা দিতে পারে। বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তারাও ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য চাইতে পারেন।   স্বামীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হলেও স্ত্রীকে ফেরানোর সিদ্ধান্তকে বৈষম্য হিসেবে মানেননি আদালত। আদেশে বলা হয়, দুজন একই ফ্লাইটে এসেছেন বলেই তাঁদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একই তথ্য বা উদ্বেগ ছিল, এমন ধরে নেওয়া যায় না। আদালত গোপনীয়ভাবে জমা দেওয়া নথিও পর্যালোচনা করেছে এবং সিদ্ধান্তটি তথ্য ছাড়া নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেনি। ফলে আবেদনটি খারিজ করা হয়।   সূত্র: দিল্লি হাইকোর্টের ৩০ সেপ্টেম্বরের আদেশ ও দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২৩:১৬
সাউথ ক্যারোলিনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বর্ণিল মিলনমেলা
২৮ নতুন মুখ, ১৫০ অতিথি, সাউথ ক্যারোলিনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বর্ণিল মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফ্রেশার্স রিসেপশন ও বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬। কলাম্বিয়ার গিবসন পন্ড পার্কে আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যসহ প্রায় ১৫০ জন নিবন্ধিত অতিথি অংশ নেন। এবারের আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নতুন ভর্তি হওয়া ২৮ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো।   ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী সদস্য রয়েছে এবং বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সাউথ ক্যারোলিনার বৃহত্তর কমিউনিটির কাছে তুলে ধরাও সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।   গিবসন পন্ড পার্কে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে শুরু হয় এবারের আয়োজন। অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় গরম সবজি সিঙ্গারা দিয়ে। এরপর দীর্ঘদিনের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, নতুনদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং পার্কের পুকুর, বোর্ডওয়াক, হাঁটার পথ ও সবুজ পরিবেশ ঘুরে দেখার মধ্য দিয়ে সময় কাটান অংশগ্রহণকারীরা।   দুপুরে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার। পোলাও, চিকেন রোস্ট, মিশ্র সবজি, ডিম ও সালাদসহ নানা পদ নিয়ে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে একসঙ্গে বসেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যরা। খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন থাকায় পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।   আয়োজনে দম্পতিদের জন্য বেলুন রেস, পুরুষদের জন্য মার্বেল রেস, নারীদের জন্য পিলো পাসিং এবং শিশুদের জন্য বিস্কুট রেস অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতাগুলো ঘিরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। খেলায় অংশ নেওয়া ও অন্যদের উৎসাহ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে তৈরি হয় প্রাণবন্ত যোগাযোগ।   সাংস্কৃতিক পর্বেও ছিল বৈচিত্র্য। নতুন যোগ দেওয়া শিক্ষার্থী ঐশী জ্যোতির পরিবেশনার পর বাবা-ছেলের জুটি আনন্দ ও তাহমিদ ভাই সংগীত পরিবেশন করেন। গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি ঐতিহ্য ও কমিউনিটির বন্ধনের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।   অনুষ্ঠানের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল ২০২৬ সালের নতুন ২৮ শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অরুণাভ দাস নবাগতদের উদ্দেশে একটি বিশেষ কবিতা রচনা করেন এবং অনুষ্ঠানে তা আবৃত্তি করেন। নতুন শিক্ষার্থীদের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনা, কলাম্বিয়া এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কমিউনিটির নতুন পরিবারের অংশ হিসেবে স্বাগত জানানোর এই আয়োজন উপস্থিতদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়।   এরপর বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজার রফিকুল ইসলাম রানা নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে উপহার দিয়ে স্বাগত জানান। নতুন শিক্ষার্থীরাও একে একে নিজেদের পরিচয় দেন এবং কলাম্বিয়ার বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে পরিচিত হন। আয়োজকদের আশা, এই পরিচয়পর্বের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তি আরও শক্ত হবে।   বার্ষিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহরিমা মোহসিন মোহনা ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটির পরিচয় করিয়ে দেন। একই সঙ্গে তিনি সংগঠনের গত এক বছরের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন এবং আগামী বছরেও কমিউনিটির সদস্যদের নিয়মিত ও সক্রিয়ভাবে সংগঠনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠানের শেষদিকে ছিল র‍্যাফেল ড্র। এ বছর মোট ১৫টি র‍্যাফেল পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে আগের বছরগুলোতে পুরস্কারের সংখ্যা ছিল ১০টি। পাশাপাশি এবার যুক্ত করা হয় দুটি বিশেষ পুরস্কার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করা অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে দেওয়া হয় একটি রেজিস্ট্রেশন ডোর প্রাইজ। এ ছাড়া নবাগত শিক্ষার্থীদের পরিচিতিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি র‍্যাফেল টিকিট বিক্রি করা ফ্রেশারকেও দেওয়া হয় বিশেষ পুরস্কার।   আয়োজকদের মতে, ফ্রেশার্স রিসেপশন ও বার্ষিক সাধারণ সভার মূল লক্ষ্য ছিল নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। বাংলাদেশি খাবার, সংগীত, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে পারস্পরিক যোগাযোগ ও কমিউনিটি বন্ধনের একটি বিশেষ আয়োজন।   ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের পেছনে যারা পরিকল্পনা, স্বেচ্ছাসেবা, রান্না, খাবার পরিবেশন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ছবি তোলা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে সময় দিয়েছেন, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই আয়োজনটি সফল হয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস ও কলাম্বিয়ায় একটি পরিচিত ও আপন পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে আয়োজিত এই মিলনমেলা শুধু ফ্রেশার্স সংবর্ধনা বা বার্ষিক সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। পুরোনো বন্ধুদের পুনর্মিলন, নতুনদের সঙ্গে পরিচয়, বাংলাদেশি সংস্কৃতির উদযাপন এবং কমিউনিটির পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করার মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে উঠেছে সাউথ ক্যারোলিনার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কমিউনিটির জন্য একটি স্মরণীয় আয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২২:৫০
ভারতে পর্যটন কেন্দ্রের ইসরায়েলি ক্যাফেতে ভারতীয়দেরই প্রবেশে বাধা
ভারতে পর্যটন কেন্দ্রের ইসরায়েলি ক্যাফেতে ভারতীয়দেরই প্রবেশে বাধা

ভারতের হিমাচল প্রদেশের কয়েকটি পর্যটন এলাকায় ভারতীয়দের কিছু ক্যাফে ও অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন অধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ সৃষ্টি খান্না। ইসরায়েলি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এসব এলাকায় বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর এজে প্লাসের একটি ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   খান্নার দাবি, কিছু ক্যাফে ও অনুষ্ঠানে আগে ভারতীয়দের প্রবেশে বাধা দেওয়া হতো; এখন অন্য দেশের পর্যটকদেরও ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।হিমাচল প্রদেশের কাসোল, ধরমকোট ও পার্বতী উপত্যকাসহ ইসরায়েলি পর্যটকদের জনপ্রিয় কয়েকটি ভ্রমণপথ অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘হামুস ট্রেইল’ নামে পরিচিত। এসব এলাকায় ইসরায়েলি পর্যটকদের উপযোগী খাবার ও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটকদের জন্য এমন সেবা চালু থাকা এবং অন্য গ্রাহকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অবশ্য আলাদা বিষয়।   চলতি বছরের মে মাসে ধরমকোটে বেড়াতে যাওয়া এক ভারতীয় পর্যটকও কয়েকটি ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, কোথাও তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি; কোথাও আবার পরে অর্ডার দেওয়া ইসরায়েলি পর্যটকেরা আগে খাবার পেয়েছেন। এনডিটিভি তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।   কাসোলে ক্যাফে ঘিরে এমন বিতর্ক আগেও হয়েছে। ২০১৫ সালে ‘ফ্রি কাসোল’ নামে একটি ক্যাফেতে ভারতীয়দের সেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠলে স্থানীয় প্রশাসন তদন্তের নির্দেশ দেয়। সে সময় একজন অভিযোগকারীর বর্ণনা অনুযায়ী, ক্যাফেটির মালিক ছিলেন ভারতীয়। মালিক অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সেখানে ভারতীয়দের প্রতি বৈষম্য চলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছিল।   সূত্র: এজে প্লাসে প্রকাশিত সৃষ্টি খান্নার বক্তব্য;হিন্দুস্তান টাইমস।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২২:২৫