- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
চাঁদাবাজি, দখলচেষ্টা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে শনিবার (৩ অক্টোবর) যুগান্তর এ খবর জানিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারাও চলমান অভিযান জোরদারের কথা বলেছেন। এই অবস্থানের আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা মা ও শিশুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা। ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাত থেকে পরদিন ভোরের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা হয়। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে এর স্থাপনার অংশ ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনার তদন্তে গ্রেপ্তার ও দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা - দুই প্রক্রিয়াই চলছে। রাড্ডার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ১ অক্টোবর স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলবে; সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাড্ডার ঘটনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি এবং যুবদল ও ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট দুটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। কয়েকজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্তি ও বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিগুলোতে সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাড্ডার ঘটনার সরাসরি সম্পর্কের কথা বলা হয়নি। তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতিতে শনিবার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। lএ নিয়ে রাড্ডার ঘটনায় মোট গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৯ জন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীও রয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া আর আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া পৃথক বিষয়। স্পেশাল অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদও বলেছেন, অপরাধের অভিযোগে কাউকে রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের কারণে ছাড় দেওয়া হবে না এবং নগরীতে অভিযান জোরদার করা হবে। একই সময়ে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার মামলার তদন্তও চলছে। এটি রাড্ডার ঘটনা থেকে পৃথক মামলা। ওই মামলায় তখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুটি মামলার গ্রেপ্তারের সংখ্যা একসঙ্গে হিসাব করা যাবে না। সূত্র: যুগান্তর, প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দিলান শান আশারের (২২) সন্ধান চেয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোর আড়াইটার দিকে কলেজ পার্কে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি পার্কিং গ্যারেজে তাঁকে শেষবার নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যে তাঁর সন্ধান মেলেনি। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর দুইটার দিকে দিলান তাঁর বাসা থেকে বের হন। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর টেরাপিন ট্রেইল গ্যারেজের ক্যামেরায় তাঁকে দেখা যায়। এরপর তাঁর অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ কোনো নিশ্চিত তথ্য জানায়নি। দিলানের পরিবার তাঁর নিখোঁজ হওয়ার খবর পুলিশকে জানায়। প্রথমে প্রিন্স জর্জেস কাউন্টি পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, তাঁকে সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর দেখা গেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ ২ অক্টোবরের নতুন তথ্য পায়। সর্বশেষ দেখার সময় হিসেবে এখন ওই ফুটেজের তথ্যই ব্যবহার করছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ। শেষবার দেখা যাওয়ার সময় দিলানের পরনে ছিল মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কালো হুডি, ধূসর প্যান্ট ও সাদা জুতা। পুলিশের দেওয়া বর্ণনায় তাঁর উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট ২ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ১৮৫ পাউন্ড। পুলিশ তাঁকে গুরুতর উদ্বেগজনক নিখোঁজ ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। দিলানের মা বিনিতা আশার ছেলের খোঁজে সবার সহায়তা চেয়েছেন। ছেলের উদ্দেশে তিনি জানিয়েছেন, বাড়ি ফিরলে তাঁকে কোনো ব্যাখ্যা দিতে হবে না - পরিবার শুধু তাঁকে নিরাপদে ফিরে পেতে চায়। দিলানকে দেখে থাকলে বা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশকে ৩০১-৪০৫-৩৫৫৫ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। সূত্র: মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ও প্রিন্স জর্জেস কাউন্টি পুলিশের তথ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ১২ হাজার ৩০০ ডলার মূল্যের একটি 'রোলেক্স সাবমেরিনার' ঘড়ি কেনার চেষ্টার অভিযোগে আলিনা অ্যারেনসিবিয়া নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০২৫ সালের মে মাসে বোকা রেটন এলাকার একটি জুয়েলারি দোকানে অভিনব এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি এই ঘটনার পুলিশের বডি-ক্যামেরা ফুটেজ প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি নতুন করে গণমাধ্যমের আলোচনায় আসে। জানা যায়, ওই নারী দোকানে গিয়ে ঘড়িটি কেনার জন্য তাঁর আইডি ও পেমেন্ট কার্ড জমা দেন। কার্ডের ওপর মুদ্রিত নামের সঙ্গে আইডি কার্ডের তথ্যের আপাত মিল থাকলেও, দোকানের সিস্টেমে আইডি কার্ডটি স্ক্যান করতেই ভিন্ন নাম ও ঠিকানা বেরিয়ে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহ হওয়ায় ওই স্মার্ট কর্মী বোকা রেটন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজেকে ‘এমিলি’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং কার্ডটি নিজের বলে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে তিনি দোকান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টাও করেন, কিন্তু পুলিশ তাঁকে আটকে রাখে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি পোর্টেবল ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার নিয়ে আসে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার দিয়ে হাতের ছাপ নেওয়ার পরই ওই নারীর আসল পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পাম বিচ কাউন্টির রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর আসল নাম আলিনা অ্যারেনসিবিয়া। প্রতারণার কাজ শেষে দ্রুত পালানোর জন্য তিনি ‘লেনা’ ছদ্মনামে একটি উবারও ডেকে রেখেছিলেন। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারে আসল পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ওই উবার চালককে খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়। সব প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আলিনাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণামূলকভাবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পরিচয়পত্র রাখা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। কাউন্টির রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের প্রতিটির জন্য ৫ হাজার ডলার করে জামিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
কানাডার টরন্টোতে ২০২১ সালে এক অভিন্ন বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরিচয় হয়েছিল অনীতা উইং লি ও টিম মুট্টোর। দুজনেরই আগে পূর্ব আফ্রিকায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও তখন তাদের দেখা হয়নি। টরন্টোর সেই পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে রূপ নেয়, আর কয়েক বছর পর সেই বন্ধুত্বই পরিণতি পায় ভালোবাসা ও বিয়েতে। ভ্রমণ, মানবিক কাজ এবং জীবনের নানা মূল্যবোধে মিল থাকায় সময়ের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। একপর্যায়ে টিম অনীতার প্রতি নিজের অনুভূতির কথা জানান। তবে শুরুতে অনীতা সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। বিশেষ করে জীবনসঙ্গী হিসেবে তিনি নিজের চেয়ে লম্বা কাউকে কল্পনা করতেন। ফলে টিমকে শুরুতে তিনি বন্ধুই হিসেবে দেখতেন। তবে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তাদের একে অপরকে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ করে দেয়। সময়ের সঙ্গে অনীতা টিমের দয়া, বিশ্বস্ততা, যত্ন, চরিত্র এবং মানুষের প্রতি তার সম্মানবোধকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, জীবনসঙ্গীর ক্ষেত্রে বাহ্যিক চেহারার চেয়ে একজন মানুষের চরিত্র ও মূল্যবোধ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনীতা পরে উপলব্ধি করেন, টিমের মধ্যেই তিনি এমন অনেক গুণ খুঁজে পেয়েছেন, যা তিনি একজন জীবনসঙ্গীর মধ্যে সত্যিকার অর্থে চেয়েছিলেন। ২০২৩ সালে তাদের বন্ধুত্ব প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর টিম ও অনীতার বাগদান হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২১ জুন কানাডার অন্টারিওর স্ট্রিটসভিলের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ প্রেসবাইটেরিয়ান চার্চে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের ছবি প্রকাশের পর তাদের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। দুজনের উচ্চতার পার্থক্যও মানুষের বিশেষ নজর কাড়ে। অনীতা প্রায় ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং টিম প্রায় ৪ ফুট লম্বা। এই পার্থক্যের কারণে অনলাইনে অনেকের কৌতূহল তৈরি হলেও, দম্পতি তাদের গল্পের মূল বিষয় হিসেবে উচ্চতাকে নয়, বরং বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও পারস্পরিক মূল্যবোধকে সামনে এনেছেন। অনীতা ও টিমের গল্পটি শেষ পর্যন্ত এমন এক সম্পর্কের উদাহরণ হয়ে ওঠে, যেখানে প্রথম দেখায় যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেটিই গুরুত্ব হারিয়েছে। বন্ধুত্বের মধ্য দিয়ে একে অপরকে জানার পর অনীতা টিমের মধ্যে যে গুণগুলো খুঁজে পেয়েছিলেন, সেগুলোই শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্ককে বিয়ের পরিণতি দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে নিউইয়র্ক সিটিতে গত ১ অক্টোবর থেকে সাবস্ক্রিপশন বাতিলের নতুন নিয়ম 'ক্লিক-টু-ক্যানসেল' কার্যকর হয়েছে। এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো সেবায় যুক্ত হওয়া যতটা সহজ, তা বাতিল করার প্রক্রিয়াটিও ঠিক ততটাই সহজ করা। এখন থেকে অনলাইনে সাইন-আপ বা যুক্ত হওয়ার সুবিধা থাকলে, সেই সেবা বাতিলের জন্যও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবশ্যিকভাবে অনলাইনে সরাসরি ক্যানসেল বাটন বা উপায় রাখতে হবে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান সাবস্ক্রিপশন বাতিলের সময় গ্রাহককে সশরীরে উপস্থিত হতে বা ফোনকলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য করতে পারবে না। জিম, স্ট্রিমিং সার্ভিস কিংবা ফ্রি ট্রায়াল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নযোগ্য যেকোনো মেম্বারশিপের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কনজ্যুমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রটেকশন (DCWP) জানিয়েছে, নিয়ম অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য অন্তত ৫২৫ ডলার জরিমানার মুখে পড়তে হবে। গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য চ্যাটবটের লুপে ফেলে রাখার বদলে সরাসরি কর্মীদের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এই প্ল্যাটফর্মে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই উদ্যোগের ফলে নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের বছরে ২ কোটি ১৫ লাখ থেকে ১৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। পাশাপাশি, সাবস্ক্রিপশন বাতিলের জটিলতায় গ্রাহকদের যে হয়রানি হতো, তাতে বছরে অন্তত ৬ লাখ ঘণ্টা সময় বেঁচে যাবে। এর আগে ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) জাতীয় পর্যায়ে এমন একটি নিয়ম চালুর উদ্যোগ নিলেও একটি আপিল আদালতের রায়ে তা আটকে যায়। এর ফলে নিজস্ব উদ্যোগে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন সাধারণ মানুষের জন্য এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করল।
যুক্তরাষ্ট্রের ২ কোটির বেশি প্রবীণ নাগরিককে এককালীন ৯০ ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রবীণদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি 'মেডিকেয়ার'-এর মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা লাঘব করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এই অর্থায়নের জন্য কংগ্রেস মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ডে ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। আসন্ন নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মিডটার্ম নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন ভোটারদের আকৃষ্ট করতে রিপাবলিকান নেতার দেওয়া ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির সর্বশেষ সংযোজন হলো এই ৯০ ডলারের অনুদান। বর্তমানে মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান দলের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের রেটিং বেশ নিম্নমুখী। হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যমতে, যোগ্য প্রবীণরা অক্টোবরের শুরুতেই এই ৯০ ডলার সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (ডাইরেক্ট ডিপোজিট) পেয়ে যাবেন। যাদের ডাইরেক্ট ডিপোজিট সুবিধা নেই, তাদের মেডিকেয়ারে নিবন্ধিত ঠিকানায় ডাকযোগে চেক পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে গত মাসে ট্রাম্প প্রস্তাব করেছিলেন, রিপাবলিকান দল মিডটার্ম নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তিনি সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে চেক পাঠাবেন। যদিও অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের পাশাপাশি স্বয়ং কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও তাঁর ওই বিশাল প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর অধীনে অতিরিক্ত ফি দেওয়া প্রায় ১০ লাখ মার্কিনিকে আলাদাভাবে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এক নারী আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির কারা বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা। শনিবার (৩ অক্টোবর) অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর বিল লি এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, চলতি মাসেই নিজ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন স্ট্রাডা। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রাণঘাতী ইনজেকশন বা লিথাল ইনজেকশনের মাধ্যমে ক্রিস্টা পাইক নামের ওই নারী আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় তাঁকে দুই দফায় পেন্টোবারবিটাল দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। উল্টো সংকটাপন্ন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইনজীবীদের দাবি, ইনজেকশন দেওয়ার সময় তাঁকে জোরে জোরে শ্বাস নিতে ও কাঁদতে দেখা যায় এবং বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেটরের সাহায্যে বেঁচে আছেন। কারাপ্রধান স্ট্রাডা তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুই ডোজ ইনজেকশন দেওয়ার পরও আসামির বেঁচে যাওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ অবস্থায় টেনেসিবাসী তথা বৃহত্তর স্বার্থে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ডটি কার্যকর হলে তিনি হতেন গত ২০০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম নারী। কিন্তু এই বিরল ব্যর্থতার পর তাঁর আইনজীবীরা সাজা কমানোর আবেদন করেছেন। আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে কারাপ্রধান ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডার পদত্যাগকে যৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, এই পদত্যাগ ক্রিস্টার কোনো উপকারে আসবে না। বুধবারের এই ঘটনা সম্পূর্ণ পদ্ধতিগত ব্যর্থতার প্রমাণ। তারা আশা প্রকাশ করেন, স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যবস্থায় থাকা বড় ধরনের ত্রুটিগুলো সামনে আসবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সব আলামত সংরক্ষণের জন্য আইনজীবীরা শুক্রবার একটি জরুরি আবেদনও দাখিল করেছেন। এদিকে টেনেসির কারা বিভাগ তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পদ্ধতির পক্ষেই সাফাই গেয়েছে। তাদের দাবি, যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, প্রোটোকল তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো প্রক্রিয়ার অনুমোদন দেয় না। তবে ঠিক কী কারণে এই ব্যর্থতা এবং পুনরায় ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হবে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের হান্টসভিল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রুমে তৈরি হলো এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ এবং তাঁর বাগদত্তা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেন হাসপাতালের বেডে বসেই। চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অপ্রত্যাশিত এই বিপদের দিনটিই পরিণত হলো এই যুগলের জীবনের এক অন্যতম স্মরণীয় ও সোনালি মুহূর্তে। ঘটনার দিন গত ৫ সেপ্টেম্বর জন কোমো এবং তাঁর বাগদত্তা ডায়ান তাঁদের ম্যারেজ সার্টিফিকেট নোটারাইজ করার জন্য যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যেই জনের চিকিৎসকের কাছ থেকে একটি উদ্বেগজনক ফোন আসে। চিকিৎসক জানান, জনের রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদনে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া গেছে এবং তাঁকে দ্রুত হান্টসভিল হাসপাতালে যেতে বলা হয়। মন খারাপ করে এই যুগল হাসপাতালে গেলে ইমার্জেন্সি রুমের নার্স প্র্যাকটিশনার বেথ গেটস জানতে পারেন যে, জনের আকস্মিক অসুস্থতায় তাঁদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিয়ের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। নিজেদের চোখের সামনে এমন হতাশার দৃশ্য দেখে চুপ থাকতে পারেননি নার্স বেথ। তিনি তখনই হাসপাতালের নিরাপত্তা কার্যালয়ে কর্মরত লাইসেন্সপ্রাপ্ত নোটারি শয়না আলেকজান্ডারকে খুঁজে বের করেন। সব কাজ ফেলে শয়না ছুটে আসেন ইমার্জেন্সি রুমের সি-২৯ নম্বর কক্ষে, যা মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হয় বিয়ের আসরে। হাসপাতালের গাউন পরিহিত জন এবং সাদা প্যান্টস্যুট পরা ডায়ান সেখানে তাঁদের ম্যারেজ সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করেন। পাশেই থাকা আরেক রোগী সামান্থা রিংয়ের বানিয়ে দেওয়া কাগজের তৈরি হলুদ আংটি বদল করে একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে মেনে নেন তাঁরা। এরপর হাসপাতালের বেড থেকে সামান্য ঝুঁকে স্ত্রীকে চুম্বন করেন জন, যা সেখানকার ভয়ার্ত ও অস্বাভাবিক পরিবেশকে এক নিমিষেই আনন্দে ভরিয়ে তোলে। হাসপাতাল কর্মীদের আয়োজন শুধু এখানেই থেমে থাকেনি। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্যালাইনের নল যাতে আনন্দের মাঝে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকেও খেয়াল রাখেন তাঁরা। লাইসেন্সড নার্স কেরিয়া লাইটফুট এই শেষ মুহূর্তের আয়োজনের জন্য ফুল, কাপকেক, প্লাস্টিকের শ্যাম্পেন গ্লাস এবং স্পার্কলিং গ্রেপ জুসের ব্যবস্থা করেন। ইমার্জেন্সি রুমের অ্যাটেনডেন্ট নোলান বেয়ার্ডেন তৈরি করে আনেন ‘জাস্ট ম্যারিড’ লেখা একটি সুন্দর প্ল্যাকার্ড। এই প্রসঙ্গে জন আপ্লুত কণ্ঠে জানান, এই চরম বিপর্যয়ের দিনেও হাসপাতাল কর্মীদের এমন আন্তরিকতা তাঁদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। পরবর্তীতে এই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্নেলকে হাসপাতালের অনকোলজি (ক্যানসার) ইউনিটে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বাড়ি ফেরেন। প্রায় এক বছর আগে ৪০ বছরের বিবাহিত জীবনের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ডায়ানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের পরিচিত ডায়ানকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে এবং হাসপাতালের ওই অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে এখন দারুণ উচ্ছ্বসিত জন কোমো।
আগামী ৩ নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে ডেমোক্র্যাটিক দল। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা কলেজের প্রকাশিত এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, টেক্সাস ও আলাস্কার মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা ৫০ শতাংশ বা তার বেশি সমর্থন পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এই ফলাফল সিনেটের বর্তমান ৫৩-৪৭ ব্যবধানের রিপাবলিকান আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। নতুন জরিপের তথ্যানুযায়ী, টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটিক দলের জেমস টালারিকো ৫১ শতাংশ সমর্থন পেয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে (৪৫%) ৬ পয়েন্টের ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন। অন্যদিকে, আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেল্টোলা ৫০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের (৪৩%) চেয়ে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। এছাড়া, ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনেট দৌড়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শ্যারড ব্রাউন (৪৯%) রিপাবলিকান প্রার্থী জন হাস্টেডকে (৪৬%) সামান্য ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন। অন্যদিকে, আইওয়াতে রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসন ৪৮-৪৭ ব্যবধানে জশ টার্কের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছেন এবং কানসাসে ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিল্টনের সঙ্গে রিপাবলিকান রজার মার্শালের ৪৫-৪৫ পয়েন্টে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখতে সিনেট লিডারশিপ ফান্ড নর্থ ক্যারোলিনার বদলে কানসাসের মতো রাজ্যে তাদের বিপুল অর্থায়ন স্থানান্তর করেছে। এই ৫টি আসনের সবগুলোতেই যদি ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে পারে, তবে আগামী দিনে তারা সিনেটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে।
১৯০৬ সালে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় শুরু হওয়া ভয়াবহ বর্ণবাদী হত্যাযজ্ঞ বা ‘আটলান্টা রেস ম্যাসাকার’-এর ১২০ বছর পূর্ণ হলো। এই মর্মান্তিক ইতিহাস স্মরণ করার পাশাপাশি এর সাথে বর্তমান সময়ের মিথ্যা তথ্যের ভয়াবহতার যোগসূত্র নিয়ে পর্যালোচনা করছেন মরিস ব্রাউন কলেজের একদল শিক্ষার্থী। ১৯০৬ সালের ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা ওই তাণ্ডবে শ্বেতাঙ্গদের হামলায় বহু কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক নিহত ও নির্যাতিত হন এবং অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। সে সময় স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ ছাপানোর পর এই সহিংসতা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। ব্রাউনসভিল, ফাইভ পয়েন্টস, সামারহিল ও অবার্ন অ্যাভিনিউয়ের মতো এলাকাগুলো এই হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বলছেন, তখনকার পত্রিকা আর আজকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবের মধ্যে এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। মরিস ব্রাউন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ডেনিম চেম্বারস জানান, তিনি আগে এই গণহত্যার কথা জানতেন না। তবে এখন তিনি বুঝতে পারছেন, সে যুগে যেভাবে ভুয়া খবরের জেরে সহিংসতা ছড়িয়েছিল, বর্তমান যুগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঠিক একইভাবে মিথ্যা তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোর্সটির অ্যাডজাংক্ট প্রফেসর সানি ব্রাউন জানান, অতীতের ইতিহাস শুধু পড়ার জন্য নয়, বরং বর্তমানের সঙ্গে এর যোগসূত্র খুঁজে বের করাই এই পাঠের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা যেন তথ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন এবং গুজবের বাস্তব পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হন, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, সেই হত্যাযজ্ঞে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে আটলান্টার অ্যাপেক্স মিউজিয়ামের ইতিহাসবিদ কাইলার উইনস্টন-ক্যান্ড্রিকস জানান, এই ঘটনাকে নিছক দাঙ্গা নয়, বরং গণহত্যা বলা উচিত। কারণ এতে ৪০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত মানুষ হতাহত হয়েছিলেন। রাস্তা, ট্রলি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে কৃষ্ণাঙ্গদের টেনেহিঁচড়ে বের করে হত্যা করা হয়েছিল। বিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ বুদ্ধিজীবী ডব্লিউ.ই.বি. ডু বোইস সে সময় আটলান্টা ইউনিভার্সিটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং মর্মান্তিক এই ঘটনা নিয়ে তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘এ লিটানি অব আটলান্টা’ রচনা করেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক জে. ম্যাক্স বারবার প্রাণভয়ে শিকাগো পালিয়ে গিয়ে এই গণহত্যার প্রকৃত সত্য বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন, যার ফলে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালির মতো দেশের গণমাধ্যমেও এই খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছিল। ভয়াবহ সেই ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখতে বর্তমানে অবার্ন অ্যাভিনিউ রিসার্চ লাইব্রেরি এবং অ্যাপেক্স মিউজিয়াম বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। সেখানে নিহতদের স্মৃতিচিহ্ন, পুরনো সংবাদপত্র, মাটির নমুনা এবং বেঁচে যাওয়া মানুষদের দুর্লভ অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে। প্রদর্শনীতে এমন অডিও রেকর্ডিংও রয়েছে, যেখানে জানা যায় কীভাবে কৃষ্ণাঙ্গরা নিজেদের রক্ষার জন্য সে সময় শহরে অস্ত্র নিয়ে এসেছিলেন। অবার্ন অ্যাভিনিউ লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক জন অস্টিন জানান, মানুষ যত বেশি অতীত ইতিহাস ও এ ধরনের গণহত্যার পেছনের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে জানবে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কলঙ্কজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা ততটাই কমে আসবে।
পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় একাধিক গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জন ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাতের পরপরই নাইরোবি-মোম্বাসা মহাসড়কের সালামা এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৬ জন যাত্রী এবং একজন ভ্যানচালক ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই নারী। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জানা গেছে, তীর্থযাত্রীরা মোম্বাসার সেন্ট ম্যাথিয়াস মুলুম্বা ক্যাথলিক প্যারিশের সদস্য ছিলেন। 'ন্যাশনাল প্রেয়ার ডে' বা জাতীয় প্রার্থনা দিবস উপলক্ষে তারা নাকুরু কাউন্টির সুবুকিয়া ন্যাশনাল শ্রাইনের (জাতীয় উপাসনালয়) দিকে যাচ্ছিলেন। মোম্বাসা ক্যাথলিক আর্চডায়োসিসের আর্চবিশপ মার্টিন কিভুভা এক বিবৃতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং পুরো প্যারিশ সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। পুলিশ ও কেনিয়ার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড সেফটি অথরিটির (এনটিএসএ) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টার পরপরই একটি ট্রাক অন্য একটি ট্রাককে ওভারটেক করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে এই চেইন দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর ফলে তীর্থযাত্রীদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী ভ্যান বা মাতাতুর সাথে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এনটিএসএ জানিয়েছে, সালামা এলাকার ওই সড়কটি আগে থেকেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত এবং সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে আগেও সুপারিশ করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং অন্যান্য চালকদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করে লেন মেনে গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং শোকাহত ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানান। কঠিন এই সময়ে সৃষ্টিকর্তা যেন সবাইকে শক্তি ও সান্ত্বনা দেন, সেই প্রার্থনা করার পাশাপাশি তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা যমজ ভাই ডা. ট্রাভান এবং ডা. ট্র্যাভিস জ্যাসপার এখন নিজ শহরেরই একটি স্বনামধন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুই ভাই বর্তমানে রিচমন্ডের চিপেনহ্যাম হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের কো-ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। নিজ শহরে এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছানোর অনুভূতি প্রকাশ করে ট্র্যাভিস গণমাধ্যমটিকে জানান, ৪০ বছর আগে এমন কোনো স্বপ্নের কথা তিনি কল্পনাও করতে পারতেন না। নিজেদের শৈশবের কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে ট্রাভান জানান, একসময় তাদের বাড়িতে কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্থা ছিল না। দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি সংগ্রহ করার জন্য তাদের স্থানীয় পার্কের ওপর নির্ভর করতে হতো। তীব্র খাবার সংকটের মধ্যে দিন পার করলেও তাদের ভেতরে সফল হওয়ার প্রবল ক্ষুধা ছিল। কারণ তারা গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন, এই চরম দারিদ্র্যের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির একটাই উপায়, আর তা হলো কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। চিকিৎসাপেশায় আসার পেছনে ১২ বছর বয়সের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা এই দুই ভাইকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। সে সময় মদ্যপানজনিত লিভার ফেইলিওরে আক্রান্ত এক চাচাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তারা। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকের অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ ও খারাপ মন্তব্য তাদের ভীষণভাবে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। সেদিনই হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুই ভাই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ভবিষ্যতে তারা এমন চিকিৎসক হবেন, যারা রোগী ও তাদের পরিবারের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল এবং মানবিক আচরণ করবেন। নিজেদের সেই শৈশবের প্রতিজ্ঞা পূরণে তারা পড়াশোনায় অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেন। হাইস্কুল থেকে কো-ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হিসেবে পড়াশোনা শেষ করার পর তারা স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিজেদের ডিগ্রি অর্জন করেন। শৈশবের সেই প্রতিজ্ঞার কয়েক দশক পর, গত এপ্রিলে তারা নিজ শহর রিচমন্ডে ফিরে আসেন এবং চিপেনহ্যাম হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের কো-ডিরেক্টর হিসেবে একযোগে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অবিকল একই রকম দেখতে হওয়ায় রোগী ও সহকর্মীদের সুবিধার্থে তারা কর্মক্ষেত্রে সবসময় ভিন্ন রঙের (সবুজ ও বেগুনি) স্ক্রাব পরিধান করেন। শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তারা একে অপরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং একই ভবনে বসবাস করেন। ফেলে আসা দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকিয়ে ট্র্যাভিস বলেন, অতীতের সেই চরম প্রতিকূল দিনগুলোই আজকের এই সফল ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে তাদের গড়ে তুলেছে।
২০২৫ সালের ভয়াবহ দাবানলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিক প্যালিসেডসে নতুন করে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। আগুন নেভার পর ওই ‘বার্ন স্কার’ বা দাবানলকবলিত এলাকায় গড়ে ওঠা প্রথম দিককার একটি নতুন বাড়ি বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হয়েছে, যার দাম হাঁকা হচ্ছে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯০ হাজার (প্রায় ১৪ মিলিয়ন) ডলার। প্যাসিফিক প্যালিসেডসের ৮৩৭ মাস্কিংগাম অ্যাভিনিউতে অবস্থিত পাঁচ বেডরুমের এই বিলাসবহুল বাড়িটি স্থানীয়দের ঘুরে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ীরা। কম্পাস-এর তালিকাভুক্ত ব্রোকার রায়ান জানকুলা জানান, দাবানলের সময় যে সড়কটি তুলনামূলকভাবে বেঁচে গিয়েছিল, সেখানেই বাড়িটি নির্মিত হয়েছে। অ্যালিসন হোয়াইট হোমস-এর ডেভেলপার অ্যালিসন হোয়াইট বর্তমানে এই এলাকায় মোট ১৪টি বাড়ি নির্মাণ করছেন। এর মধ্যে মাস্কিংগাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িটির কাজ সবার আগে শেষ হয়েছে, কারণ দাবানল শুরুর আগেই এর অনুমতিপত্র নেওয়া ছিল। হোয়াইট জানান, বাকি বাড়িগুলোর বেশিরভাগই ওই দাবানলে গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ওই এলাকায় বর্তমানে ১ হাজার ১০০-এর বেশি নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ চললেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৩টি বাড়িকে পুনরায় বসবাসের সনদ বা ‘সার্টিফিকেট অব অকুপেন্সি’ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলারের এই বাড়িটি শুধু বিলাসবহুলই নয়, বরং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের দাবানল মোকাবিলার অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন। ৬ হাজার ৫১১ বর্গফুটের এই সুবিশাল বাসভবনে রয়েছে চমৎকার সানরুম, শেফস কিচেন, কাস্টম ওয়েট বার, মুভি থিয়েটার এবং স্পা-সুবিধাযুক্ত বাথরুম। বাইরের অংশে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ইনফিনিটি পুল, সনা, কোল্ড প্লাঞ্জ, আউটডোর কিচেন এবং ফায়ার পিট। নিরাপত্তার কথা বিশেষভাবে মাথায় রেখে এতে অত্যাধুনিক ফায়ার সাপ্রেশন সিস্টেম, ছাদে স্প্রিঙ্কলার এবং আগুন-প্রতিরোধী বিশেষ ভেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, যা ক্লায়েন্টদের বাড়তি স্বস্তি দেবে। তবে সার্বিক এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স্থানীয়দের জন্য মোটেও সহজ নয়। অনেক মানুষ যারা ৩০-৪০ বছর ধরে নিজেদের চিরস্থায়ী ঠিকানায় বসবাস করছিলেন, তারা মানসিকভাবে দারুণ বিপর্যস্ত। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা ও শান্তা ইনেজ জলাধারে পানির অভাবের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো আবাসন বাজারকে বেশ ভাবাচ্ছে। যে কারণে দাবানলকবলিত এলাকার বাইরে নির্মিত কিছু বিলাসবহুল বাড়ির দাম এরই মধ্যে ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এতসব চ্যালেঞ্জ ও শঙ্কার পরও প্রতিনিয়ত নতুন বাড়ির কাজ শুরু হওয়ার দৃশ্য স্থানীয় গৃহহীন বাসিন্দাদের মনে নতুন করে আশা জাগাচ্ছে।
হলিউড সুপারস্টার অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো চেহারা পেতে ৫০টি প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন এক নারী—এমন খবরে একসময় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অদ্ভুত দর্শনের সেই ছবির কারণে রাতারাতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন ইরানি তরুণী সাহার তাবার। তবে দীর্ঘদিন পর সেই গুজবের অবসান ঘটিয়ে ছবির পেছনের আসল সত্যটি সামনে এনেছেন খোদ সাহার। সম্প্রতি তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জোলির মতো দেখতে বিপুল সংখ্যক সার্জারি করার যে দাবিটি ছড়িয়েছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাহার স্বীকার করেছেন যে, তিনি শরীরে বেশ কিছু সাধারণ কসমেটিক সার্জারি করিয়েছেন। তবে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া তাঁর সেই অস্বাভাবিক চেহারার ছবিগুলো মূলত নিখুঁত মেকআপ এবং ফটোশপের কারসাজি ছিল। নিছক বিনোদন এবং নিজের এক ধরনের শিল্প তুলে ধরতেই তিনি প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ওই ছবিগুলো তৈরি করেছিলেন বলে জানান এই ইরানি তরুণী। তাঁর এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি অন্যতম বড় গুজবের অবসান ঘটল।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার শিশু ও কিশোরদের 'জেন্ডার-অ্যাফার্মিং কেয়ার' বা লিঙ্গ রূপান্তর সংক্রান্ত চিকিৎসায় ফেডারেল মেডিকেইড ও সিএইচআইপি (CHIP) তহবিল বন্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন এই নিয়মের ফলে এখন থেকে বয়ঃসন্ধি বিলম্বিত করার ওষুধ (পিউবার্টি ব্লকার), হরমোন থেরাপি এবং এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শারীরিক চিকিৎসায় কোনো ধরনের ফেডারেল অর্থায়ন ব্যবহার করা যাবে না। সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)-এর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে যেসব ট্রান্সজেন্ডার শিশু-কিশোর ইতোমধ্যে হরমোন থেরাপি নিচ্ছে, তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে হঠাৎ চিকিৎসা বন্ধ না করে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত ধীরে ধীরে তা কমিয়ে আনার সুযোগ রাখা হয়েছে নিয়মে। সিএমএস তাদের নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট করেছে যে, জেন্ডার ডিসফোরিয়া বা লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে মানসিক টানাপোড়েন সংক্রান্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। অর্থাৎ, কাউন্সেলিং বা মানসিক চিকিৎসা চালিয়ে যেতে কোনো বাধা থাকবে না। এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর এটি কার্যকর হওয়া ঠেকাতে দেশজুড়ে আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। গত ১ অক্টোবর নিউ হ্যাম্পশায়ারের চারটি পরিবার এই নিয়মের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করে তা বাতিলের আবেদন জানিয়েছে। এর আগে ২১টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নরও যৌথ ও পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আগামী ১৩ অক্টোবর নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগে বিচারক কোনো স্থগিতাদেশ দেন কি না, সেটিই এখন মার্কিন রাজনীতি ও মানবাধিকার অঙ্গনে মূল আলোচনার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক নতুন এবং অভাবনীয় রেকর্ড তৈরি হয়েছে। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটিকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের অর্থ দান করেছেন সিটাডেলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কেন গ্রিফিন। রয়টার্স ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একক ব্যক্তির পক্ষ থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত দানের ঘটনা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সাহায্যে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে কার্নেগি মেলনের একটি সম্পূর্ণ নতুন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পাশাপাশি মূল ক্যাম্পাসের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ আরও বৃদ্ধি করা হবে। ঐতিহাসিক এই দানের ৩ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারই ব্যয় করা হবে মিয়ামির উইনউড এলাকায় কার্নেগি মেলনের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজে। ৩৫ একরের বেশি জমির ওপর প্রস্তাবিত এই ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ ২০২৭ সালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৮ সাল নাগাদ সেখানে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু হওয়ার পর এই অত্যাধুনিক ক্যাম্পাসে সাড়ে তিন হাজারের বেশি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীর পাশাপাশি প্রায় তিন শ শিক্ষক এবং ছয় শতাধিক কর্মী থাকবেন। গতানুগতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নির্দিষ্ট বিভাগভিত্তিক পড়াশোনার বদলে এই ক্যাম্পাসটি মানবস্বাস্থ্য, জাতীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতা এবং শিল্প প্রযুক্তির মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণার কাঠামো সাজাবে। অন্যদিকে, দানের অবশিষ্ট ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে কার্নেগি মেলনের ঐতিহ্যবাহী পিটসবার্গ ক্যাম্পাসের জন্য। এর মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি ব্যয় হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে। এই বিপুল বিনিয়োগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘কেনেথ সি. গ্রিফিন স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স’ রাখা হয়েছে। বাকি ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটিং সক্ষমতা সম্প্রসারণের মতো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে নতুন ক্যাম্পাসের পাশাপাশি পুরোনো ক্যাম্পাসের গবেষণার ভিতও অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি এমনিতেই রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং গবেষণায় বিশ্বজোড়া খ্যাতির অধিকারী। কেন গ্রিফিনের এই যুগান্তকারী বিনিয়োগ তাদের সেই সক্ষমতাকে শিল্প ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করবে। এর আগে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি দান করা গ্রিফিন এই উদ্যোগকে ভবিষ্যতের উদ্ভাবনের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। কার্নেগি মেলনের প্রেসিডেন্ট ফারনাম জাহানিয়ান মনে করেন, এই বিপুল অর্থায়ন কেবল একটি নতুন ক্যাম্পাসই তৈরি করবে না, বরং মিয়ামি ও পিটসবার্গের মধ্যে শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ও বহুল আলোচিত এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ অচল আখ্যা দিয়ে এটি পুরোপুরি বাতিল করার পক্ষে মত দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সম্প্রতি গণমাধ্যম ‘রিয়েল আমেরিকা’স ভয়েস’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, প্রযুক্তি ও হিসাববিজ্ঞানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। আমেরিকান নাগরিকদের কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে প্রতিস্থাপন করে মূলত স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সাক্ষাৎকারের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করার পর ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভিসা নীতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স উচ্চদক্ষ পেশাদার আনা এবং সস্তা শ্রম ব্যবহারের মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোনো বিশেষ প্রতিভাবান ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার বিষয়ে আলোচনা হতেই পারে। তবে ৬০ হাজার ডলার বেতনের একজন আমেরিকান অ্যাকাউন্ট্যান্টকে সরিয়ে যদি ৪৫ হাজার ডলারে বিদেশি কর্মী আনা হয়, তবে সেটি মেধা অন্বেষণ নয়; বরং স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ধ্বংস করা। তিনি উল্লেখ করেন, কোম্পানিগুলো যাতে সস্তা শ্রমের মাধ্যম হিসেবে এইচ-১বি ভিসার অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্যই ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে এক লাখ ডলার ফি নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছিল। মূলত সস্তা শ্রমের পেছনে থাকা লবিস্টদের কারণে কংগ্রেস যখন কোনো সংস্কারে যেতে পারছিল না, তখনই প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত এই এক লাখ ডলারের বাধ্যতামূলক ফি ইতোমধ্যে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গত ১ অক্টোবর এক ফেডারেল বিচারক এই সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেন, যা প্রশাসনের এইচ-১বি নীতিমালার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বিতীয় কোনো স্থগিতাদেশ। তবে ভ্যান্স মনে করেন, কেবল ফি আরোপই যথেষ্ট নয়; পুরো ব্যবস্থাটিই ভেঙে পড়েছে। তাই তিনি এটি সম্পূর্ণ বাতিলের পক্ষে। বিদ্যমান কাঠামো বহাল থাকা পর্যন্ত মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করার কথা জানিয়ে তিনি সাধারণ আমেরিকানদের নিজ নিজ আইনপ্রণেতা বা কংগ্রেসম্যানদের মাধ্যমে এই আইন পরিবর্তনের চাপ দেওয়ার আহ্বান জানান। জেডি ভ্যান্সের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের আগের অবস্থানের সঙ্গেও বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইলন মাস্কও অতীতে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এইচ-১বি ভিসা কেবল অত্যন্ত উচ্চমানের দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আনার জন্যই ব্যবহৃত হওয়া উচিত, সস্তা শ্রমিক আনার মাধ্যম হিসেবে নয়। ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যখন হাজার হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করে তাদের জায়গায় কম বেতনের বিদেশি কর্মীদের দিয়ে কাজ করায়, তখন সেই ব্যবস্থার সংস্কার ছাড়া উপায় থাকে না। তাঁর সাম্প্রতিক এই কঠোর বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, মার্কিন প্রশাসন এইচ-১বি কর্মসূচিকে হয় কেবল সর্বোচ্চ দক্ষ পেশাদারদের জন্য কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করতে চায়, নতুবা এটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার পথেই হাঁটবে।
একাডেমিক সাফল্য, গবেষণা, নেতৃত্ব ও জনসেবায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আনুম জেহরাকে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোরের ২০২৬ সালের ‘ফাউন্ডার্স উইক স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত করা হয়েছে। চতুর্থ বর্ষের মেডিকেল শিক্ষার্থী আনুম আগামী মে মাসে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিন থেকে স্নাতক হবেন। মাত্র তিন বছরের মেডিকেল শিক্ষাজীবনেই বিশ্ববিদ্যালয় ও এর বাইরের অসংখ্য মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছেন আনুম। পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, নেতৃত্ব, মেন্টরশিপ, স্বাস্থ্যসেবা ও কমিউনিটি সার্ভিসে সক্রিয় ভূমিকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তিনি পরিচিতি পান। সম্মানটি পাওয়ার পর শিক্ষক, সহপাঠী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অসংখ্য অভিনন্দন বার্তা পেয়েছেন তিনি। আনুম পাকিস্তান থেকে আসা একজন অভিবাসী এবং তার পরিবারের প্রথম প্রজন্মের হাইস্কুল ও কলেজ গ্র্যাজুয়েট। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড বাল্টিমোর কাউন্টি থেকে জীববিজ্ঞানে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনে শিশুদের ডায়াবেটিস নিয়ে দুই বছর রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনে ভর্তি হন। গবেষণাক্ষেত্রেও আনুমের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০টির বেশি গবেষ ণা নিবন্ধ, বিশ্লেষণ ও অ্যাবস্ট্র্যাক্টের সহলেখক। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্রে তিনি প্রধান লেখক ছিলেন। ২০২৫ সালের আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির ‘টপ টেন আর্টিকেলস’ তালিকায় তার দুটি গবেষণাপত্রও স্থান পায়। গবেষণায় অসামান্য সাফল্যের জন্য তিনি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের ‘সার্টিফিকেট অব আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট’ পেয়েছেন। পাশাপাশি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের একটি প্রতিযোগিতামূলক সামার রিসার্চ ফেলোশিপ অর্জন করেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মেডিকেল স্টুডেন্ট রিসার্চ ডেতে মৌখিক গবেষণা উপস্থাপনায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে একই আয়োজনের শিক্ষার্থী চেয়ার হিসেবেও নির্বাচিত হন। শিক্ষার্থীদের জন্য নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন আনুম। তিনি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনে কার্ডিওলজি ইন্টারেস্ট গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের মেন্টরশিপ, গবেষণায় অংশগ্রহণ ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার সুযোগ বাড়াতে কাজ করে। একই সংগঠনের অধীনে নারীদের কার্ডিওলজি ক্ষেত্রে আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়াতে একটি বিশেষ শাখাও চালু করেন তিনি। রেড ক্রস ইন্টারেস্ট গ্রুপের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও রক্তদান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন আনুম। তার মানবিক কাজের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ‘কাইন্ডকিন’। এই শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের মাধ্যমে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের পরিবারের সদস্য ও কেয়ারগিভারদের দৈনন্দিন কিছু কাজের চাপ কমাতে সহায়তা করা হয়। কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে পার্কিং মিটারের সময় দেখা, এমন ছোট ছোট কাজেও সহযোগিতা করে উদ্যোগটি। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড মেডিকেল সেন্টারের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটেও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন আনুম। সেখানে অপরিণত শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় মানবিক স্পর্শ ও সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পরিবার, কেয়ারগিভার ও নার্সদেরও কিছুটা সহায়তা করেন তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে আসার পেছনে আনুমের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটিতে হৃদ্রোগের উচ্চঝুঁকি এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি তাকে বিশেষভাবে ভাবিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ল্যাব রিপোর্ট ও ডাক্তারের নোট বুঝতে গিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিজে পড়াশোনা করতেন তিনি। ধীরে ধীরে সেই আগ্রহই তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশেষ করে কার্ডিওলজির দিকে নিয়ে যায়। স্বাস্থ্যসেবায় সুযোগের বৈষম্য কমানো এবং কমিউনিটির মধ্যে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করেছেন আনুম। বাল্টিমোরের একটি ফ্রি ক্লিনিকে চিকিৎসকদের সহায়তা ও রোগীদের কাউন্সেলিং করার পাশাপাশি মেরিল্যান্ডের ফিঙ্কসবার্গে একটি মন্দিরে বিনামূল্যে কমিউনিটি হেলথ এডুকেশন দিয়েছেন তিনি। এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের ২০২৭ সালের ক্লাসের শীর্ষ ১৫ শতাংশ কমিউনিটি সার্ভিসে অবদান রাখা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তার নাম রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও আনুমের মেন্টর কাশিফ মুনির বলেন, একাডেমিক দক্ষতা, মেন্টরশিপ, নেতৃত্ব, মানবিকতা, সমতা ও সহমর্মিতার বিরল সমন্বয় রয়েছে আনুমের মধ্যে। তার মতে, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড যে ধরনের মূল্যবোধসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে চায়, আনুম তারই প্রতিফলন। স্কুল অব মেডিসিনের স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক ও সহযোগী ডিন কেরি এ. থমও আনুমের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তার মতে, প্রথম প্রজন্মের অভিবাসী হিসেবে সুযোগের পথে থাকা বিভিন্ন বাধার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে আনুম স্বাস্থ্যসমতা, মেন্টরশিপ ও কমিউনিটি আউটরিচের মাধ্যমে বাস্তব কাজে রূপ দিয়েছেন। প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে এই সম্মানের জন্য নির্বাচিত হওয়াকে নিজের জন্য অত্যন্ত সম্মানের বলে উল্লেখ করেছেন আনুম। তিনি এই স্বীকৃতির জন্য পরিবার, বিশেষ করে তার মায়ের পাশাপাশি বন্ধু, মেন্টর, সহকর্মী ও রোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো কঠিন ও একই সঙ্গে rewarding ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে সহপাঠীদের নিজেদের সাপোর্ট নেটওয়ার্কের ওপর ভরসা রাখতে এবং যেসব বিষয় তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেগুলো নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ না নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন আনুম। মেধা, গবেষণা ও মানবসেবাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে তার এই অর্জন ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ২০২৬ সালের ফাউন্ডার্স উইক উদযাপনে বিশেষভাবে স্বীকৃতি পেল।
চীনের গুয়াংডং প্রদেশের মেইঝৌ শহরের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী ঝোং জুয়ানজুয়ান এখন ই-স্পোর্টস ও অনলাইন গেমিং জগতের এক পরিচিত নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'আন্টি জুয়ান' নামে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই নারী প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শকের সামনে লাইভ-স্ট্রিমে গেম খেলেন। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (এসসিএমপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র চার বছর আগে ভিডিও গেমের দুনিয়ায় পা রাখা এই প্রবীণ নারী এখন তরুণ গেমারদের কাছেও এক বড় অনুপ্রেরণা। প্রাথমিক গণ্ডি পেরোনো ঝোং জীবনের বেশির ভাগ সময় সেলস ও শিশু পরিচর্যার মতো খণ্ডকালীন কাজ করে প্রায় এক দশক আগে অবসর নেন। তবে তাঁর গেমিংয়ে আসার পেছনের গল্পটা বেশ চমকপ্রদ। প্রায় দুই দশক আগে তাঁর ছেলে যখন মাধ্যমিকের ছাত্র, তখন সে ভিডিও গেমসে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে। পড়াশোনায় অবনতি হওয়ায় সে সময় ছেলেকে খুঁজতে স্থানীয় ইন্টারনেট ক্যাফেগুলোতে ছুটে বেড়াতেন তিনি। কিন্তু ২০২০ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে তাঁর ছেলে 'সোদে' যখন আবারও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাড়িতে গেম খেলতে শুরু করে, তখন ঝোং এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। তরুণ প্রজন্মের গেমের প্রতি এই তীব্র আকর্ষণের কারণ বুঝতে তিনি নিজেই ভার্চুয়াল গেমিংয়ের জগতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে অবাক হলেও ছেলে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে মাকে গেমের নিয়মকানুন শেখাতে শুরু করেন। ৬০ বছর বয়সে এসে গেমের কলাকৌশল আয়ত্ত করা ঝোংয়ের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। বয়সজনিত কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে আসা এবং রিফ্লেক্স ধীর হওয়ায় শুরুতে তিনি গেমের চরিত্রকে সোজা হাঁটাতেও পারতেন না। দেয়ালে ধাক্কা খাওয়া বা ডিজিটাল সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো প্রাথমিক কাজগুলোতেও তাকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হতো। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি হাল ছাড়েননি। নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে ২০২২ সাল থেকে তিনি নিজের গেম খেলার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। অত্যন্ত সাধারণ মানের কম্পিউটার ও সরঞ্জাম ব্যবহার করেও তাঁর চমৎকার দক্ষতা দ্রুতই দর্শকদের নজর কাড়ে। ইতিমধ্যে অনলাইন গেমসে ৮ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়ে ফেলা এই প্রবীণ নারীর সবচেয়ে পছন্দের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন কৌশলগত 'শুটিং গেম'। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। সে সময় জনপ্রিয় শুটিং গেম 'কাউন্টার-স্ট্রাইক: গ্লোবাল অফেন্সিভ' (CS: GO)-এর একটি বিশেষ অনলাইন প্রদর্শনী ম্যাচে খেলার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিদিন তাঁর স্ট্রিম দেখতে আসা হাজার হাজার তরুণের কাছে 'আন্টি জুয়ান' আজ কেবল একজন গেমার নন, বরং ধৈর্য, একাগ্রতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গ্রেটার ক্লিভল্যান্ড এলাকায় একটি হিন্দু মন্দিরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে রিচমন্ড হাইটসের শ্রী স্বামীনারায়ণ ভাদতাল ধাম হিন্দু মন্দিরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। মাত্র কয়েক মুহূর্ত স্থায়ী এই হামলায় মন্দিরের জানালার কাচ চুরমার হয়ে যায়। হামলার সময় মন্দিরের ভেতরে পুরোহিত ও বেশ কয়েকজন পুণ্যার্থী উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপাসনালয়ে এমন অপ্রত্যাশিত হামলায় স্থানীয় হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে চরম নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন (এইচএএফ) এবং কোয়ালিশন অব হিন্দুস অব নর্থ আমেরিকা (কোহনা) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এইচএএফ ইতোমধ্যে বিষয়টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং নাগরিক অধিকার সংস্থাগুলোকে অবহিত করে মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। এইচএএফ-এর নির্বাহী পরিচালক সুহাগ শুক্লা এই হামলাকে সম্ভাব্য 'বিদ্বেষমূলক অপরাধ' বা হেট ক্রাইম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, অনলাইনে হিন্দু আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিদ্বেষ কীভাবে বাস্তবে সহিংসতার রূপ নিতে পারে, এই হামলাই তার প্রমাণ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে স্থানীয় পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত হামলার পেছনের উদ্দেশ্য বা এটি ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর মাসটি 'হিন্দু হেরিটেজ মান্থ' হিসেবে পালিত হয় এবং আর দুই সপ্তাহ পরেই শুরু হতে যাচ্ছে নবরাত্রি উৎসব। ঠিক এমন সময়ে হামলার এই ঘটনা স্থানীয় হিন্দু কমিউনিটির মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। কোহনা অবিলম্বে রিচমন্ড হাইটসের মেয়র এবং স্থানীয় পুলিশকে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরগুলোতে হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালে কুইন্সের শ্রী তুলসী মন্দিরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি ভাঙচুর, ২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার নেওয়ার্কে এসএমভিএস শ্রী স্বামীনারায়ণ মন্দিরে বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ায় বাপস (BAPS) মন্দিরেও ভাঙচুর ও অবমাননাকর বার্তা লেখার ঘটনা ঘটেছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বুকে হিন্দু ধর্মীয় সাইটগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে জোরালো দাবি তুলেছে অধিকার সংগঠনগুলো।