- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি, চিকিৎসাসেবায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা দেখাতে ব্যর্থতা এবং নতুন নিয়োগদাতার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের ঘটনায় যুক্তরাজ্যে চিকিৎসক ডা. সুরাইয়া কামাল নাজিবের চিকিৎসক নিবন্ধন বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স ট্রাইব্যুনালের এক শুনানিতে তার বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণ ও চিকিৎসাসেবায় ঘাটতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত আসে। ট্রাইব্যুনালের নথি অনুযায়ী, ডা. নাজিব ১৯৮৫ সালে পাকিস্তানের করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ধ মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় যোগ্যতা অর্জন করেন। তিনি ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্ল্যাকপুল টিচিং হসপিটালসে অস্থায়ী কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কনসালট্যান্ট পর্যায়ে তার কাজের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় ২০২২ সালের অক্টোবরে তাকে রেজিস্ট্রার পর্যায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু পরে কিংস লিনের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে কনসালট্যান্ট পদে আবেদন করার সময় তিনি দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি এবং নিজের দক্ষতা নিয়ে ওঠা উদ্বেগ নতুন নিয়োগদাতাকে জানাননি। ট্রাইব্যুনাল এই তথ্য গোপন করাকে অসততা হিসেবে বিবেচনা করে। ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার একটি প্রশিক্ষণে প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন ডা. নাজিব। ফলে তিনি পরবর্তী পরীক্ষার ধাপে যেতে পারেননি। এর মাত্র দুই দিন পর চাকরির ইন্টারভিউ অনুষ্ঠিত হলেও সেখানেও তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেননি। পরে ২০২৩ সালের মার্চে তিনি নতুন হাসপাতালে যোগ দেন। ট্রাইব্যুনালের মূল্যায়নে, তার পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি এবং তথ্য গোপনের ঘটনায় রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ব্ল্যাকপুল কর্তৃপক্ষ তাকে তত্ত্বাবধানে পুনঃপ্রশিক্ষণের সুযোগ দিলেও তিনি সেই সুযোগ গ্রহণ করেননি। শুনানি শেষে মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স ট্রাইব্যুনাল ডা. নাজিবের নাম যুক্তরাজ্যের চিকিৎসক নিবন্ধন থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে তার ওপর তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশও দেওয়া হয়েছে। নোটিশ আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছানোর ২৮ দিন পর নিবন্ধন বাতিলের মূল নির্দেশ কার্যকর হওয়ার কথা। তবে এর মধ্যে তিনি আপিল করলে আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে নয় দিন বয়সী এক শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় অবহেলার দায় স্বীকার করা বাবা-মাকে আড়াই বছর করে কা রা দণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজা তিন বছরের জন্য স্থ গিত রাখা হয়েছে। ফলে তাদের এখনই কা রা গা রে যেতে হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ট্রুরো ক্রাউন কোর্টে রোশেল থমাস ও অ্যান্ড্রু মন্ডারের সাজা ঘোষণা করা হয়। ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর নিউকির হোটেল ভিক্টোরিয়ায় তাদের মেয়ে ডার্সিকে অ চে তন অবস্থায় পাওয়া যায়। জ রু রি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে কো কে নের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। ঘটনার পর গ্রে প্তা র হওয়া দুজনই শিশুর প্রতি অবহেলার একটি করে অ ভি যোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালতবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারক সাইমন কার বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুটির শরীরে কো কে ন প্রবেশ করাকে সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে শিশুটির মৃ ত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বাবা-মায়ের কর্মকাণ্ডই ডার্সির মৃ ত্যুর কারণ—এমন সিদ্ধান্তও শুনানিতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আদালতে প্রসিকিউশন জানায়, দুজনই কো কে ন ব্যবহার করতেন। তাদের পোশাক ও আঙুলের পাশাপাশি হোটেলকক্ষের একটি কাপেও কো কে ন পাওয়া যায়। প্রসিকিউশনের বক্তব্য ছিল, তাদের মা দ ক ব্যবহার শিশুটির জীবনকে ঝুঁ কির মধ্যে ফেলেছিল। সাজা নির্ধারণের সময় বিচারক থমাসের মা ন সিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা এবং মন্ডারের অনুশোচনা ও মা ন সিক অবস্থার বিষয় বিবেচনা করেন। স্থ গিত কা রা দণ্ডের পাশাপাশি দুজনকে এক বছর পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। থমাসকে অতিরিক্ত ছয় মাসের মা দ ক পুনর্বাসন কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ল্যাক্টমেড তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, কো কে ন ও এর বিপাকজাত উপাদান বুকের দুধে পাওয়া যেতে পারে। নবজাতকের শরীরে কো কে ন নিষ্ক্রিয় করার প্রয়োজনীয় এনজাইম পুরোপুরি গড়ে না ওঠায় তারা এ মা দ কে র প্রভাবে বিশেষভাবে ঝুঁ কিপূর্ণ। তবে এই সাধারণ চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য দিয়ে ডার্সির মৃ ত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা যায় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পরীক্ষায় ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়া রুমা বেগমের জীবনের গল্প এখন নতুন করে সামনে এসেছে। একসময় শিক্ষাজীবনের অসাধারণ সাফল্যে যিনি ছিলেন আলোচিত, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁর দিন কাটছে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার একটি বৃদ্ধাশ্রমে। বিষয়টি নিয়ে ১ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বর্তমান জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধাশ্রমে বর্তমানে প্রায় ৭০ জন প্রবীণ নারী-পুরুষ বসবাস করছেন। তাঁদের একজন রুমা বেগম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়া রুমা একসময় মেধা, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বয়সের শেষ পর্যায়ে এসে তাঁর ঠিকানা হয়েছে স্বজনহীন এই আশ্রয়কেন্দ্র। বৃদ্ধাশ্রমে রুমার দিন কাটে অনেকটা নীরবে। সেখানে থাকা অন্যদের সঙ্গে কথা বলেন, মিশতে চেষ্টা করেন। তবে অতীতের কথা উঠলে তাঁর মধ্যে নীরবতা নেমে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একসময় শিক্ষাজীবনের সাফল্য ছিল তাঁর পরিচয়ের বড় অংশ, আর এখন জীবনের বড় শূন্যতা হয়ে দাঁড়িয়েছে আপনজনের সঙ্গের অভাব। রুমার মতো ওই বৃদ্ধাশ্রমে থাকা অন্য প্রবীণদের জীবনেও রয়েছে বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্বের নানা গল্প। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আসমা, খাদেজা, অঞ্জলী, উষা রানী, বানু ও কহিনূর বেগম। কারও সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, আবার কেউ দীর্ঘদিনের পারিবারিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রতিবেদনে অঞ্জলী রানীর কথাও উঠে এসেছে। তাঁর চাওয়া খুব বেশি নয়। শেষ বয়সে সন্তানরা কাছে এসে কিছুক্ষণ বসুক, তাঁর সঙ্গে দুটো কথা বলুক—এটুকুই তাঁর প্রত্যাশা। সারাজীবন পরিবারের জন্য কাজ করার পর শেষ সময়ে আপনজনের সামান্য সময় ও সঙ্গকেই তিনি সবচেয়ে মূল্যবান মনে করছেন। বৃদ্ধাশ্রমটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাখাওয়াত জানান, সেখানে থাকা প্রায় ৭০ জন প্রবীণ মানুষের প্রত্যেকের জীবনেই রয়েছে আলাদা কষ্টের গল্প। কেউ সন্তানদের অবহেলার কারণে এখানে এসেছেন, আবার কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের অনেকেই এখনো স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। রুমা বেগমের জীবন তাই একদিকে শিক্ষাজীবনের সাফল্যের গল্প, অন্যদিকে বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতার বাস্তব চিত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়ার অর্জন তাঁর জীবনের উজ্জ্বল অধ্যায় হলেও শেষ বয়সে এসে সেই সাফল্যের চেয়ে আপন মানুষের সঙ্গের প্রয়োজনই যেন বড় হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষারত আবেদনকারীদের জন্য অক্টোবর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন অর্থবছর ২০২৭ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অভিবাসন ক্যাটাগরিতে ভিসা নম্বরের নতুন বরাদ্দ এসেছে এবং কয়েকটি কাট-অফ তারিখে পরিবর্তন হয়েছে। একই সঙ্গে পাবলিক চার্জের নিয়মে পরিবর্তন এবং ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসার ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও কার্যকর হচ্ছে। প্রথম বড় পরিবর্তন এসেছে নতুন অর্থবছরের ভিসা নম্বর নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছর শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর। আগের অর্থবছরে যেসব ক্যাটাগরির বার্ষিক ভিসা সীমা পূরণ হয়ে গিয়েছিল, নতুন অর্থবছরে সেগুলোতে আবার ভিসা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে ভারতের কিছু কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ড ক্যাটাগরিতে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে ইবি-২-এর ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১ নভেম্বর ২০১৩ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইবি-১ এগিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫-এর তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩ হয়েছে। তবে অন্য অনেক দেশের ক্ষেত্রে কিছু কর্মভিত্তিক ক্যাটাগরিতে তারিখ পিছিয়েও দেওয়া হয়েছে। যেমন, অধিকাংশ দেশের ইবি-২-এর ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১ জানুয়ারি ২০২৫ এবং ইবি-৩-এর ডেট ১৫ মে ২০২৪ করা হয়েছে। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অক্টোবর ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের জন্য ইউএসসিআইএস ডেটস ফর ফাইলিং চার্ট ব্যবহার করছে। অর্থাৎ কিছু আবেদনকারী তাদের প্রাইওরিটি ডেট অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে পারবেন, যদিও চূড়ান্ত গ্রিন কার্ড অনুমোদনের জন্য ফাইনাল অ্যাকশন ডেট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তৃতীয় পরিবর্তন এসেছে পাবলিক চার্জ নিয়মে। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ বিধি বাতিল করে নতুন কাঠামো কার্যকর হয়েছে। এতে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা, সম্পদ ও দায়, শিক্ষা এবং দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এই নিয়ম সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন বাতিল হবে—এমন নয়। চতুর্থ পরিবর্তন ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসায়। ৩০ নভেম্বর থেকে প্রধান বিনিয়োগ আবেদন ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে করা বিনিয়োগকারীদের ফিও বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার হবে। নতুন একটি নির্দিষ্ট আবেদনের জন্য ১০ হাজার ৩৩০ ডলারের ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই গ্রিন কার্ডপ্রার্থীদের জন্য অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে নিজের ক্যাটাগরি, দেশভিত্তিক প্রাইওরিটি ডেট এবং ইউএসসিআইএসের ফাইলিং নির্দেশনা মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে গ্রোসারি কেনার আগে দোকানের উইকলি সার্কুলার দেখে নেওয়া সাশ্রয়ের একটি উপায়। তবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সব দোকানে একই পণ্য বা একই দামে ছাড় চলছে, এমন তথ্য নিশ্চিত হয়নি। তাই বাজারের তালিকা তৈরির সময় সংশ্লিষ্ট শাখার অফারের মেয়াদ ও পণ্যের দাম মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। ফুড বাজারের নিজস্ব ওয়েবসাইটে শাখাভিত্তিক উইকলি সার্কুলার দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। জ্যাকসন হাইটসের দোকানটি ৩৪-২০ জংশন বুলেভার্ডে। প্রতিষ্ঠানটির স্টোর তালিকা অনুযায়ী, শাখাটি সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। দোকানে যাওয়ার আগে এই শাখার সার্কুলার নির্বাচন করে অফার দেখা যাবে। সার্কুলারে শুধু পণ্যের দাম দেখলেই হবে না। কোন তারিখ পর্যন্ত অফার কার্যকর, প্যাকেটের ওজন কত এবং ছাড় পেতে একাধিক পণ্য কিনতে হবে কি না, সেগুলোও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। চাল, তেল বা মসলার দাম তুলনা করার সময় একই ব্র্যান্ড ও একই পরিমাণের পণ্য ধরলে প্রকৃত সাশ্রয় বোঝা সহজ হয়। হালাল মাংসের জন্য এলাকার আরেকটি বিকল্প মিনা বাজার সুপারমার্কেট। শারিয়াহ বোর্ড নিউইয়র্কের তালিকায় দোকানটির ঠিকানা ৭১-১০, ৩৫তম অ্যাভিনিউ। সেখানে দোকানটিকে ২৪ ঘণ্টা খোলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, এর তাজা মুরগি, ভেড়া, খাসি, বাছুর ও গরুর মাংসের হালাল সনদ সক্রিয় রয়েছে; সনদের আওতা তাজা মাংসের মধ্যে সীমিত। একই অ্যাভিনিউয়ের ৭১-০৮ নম্বরে রয়েছে মাছ বাজার। দোকানটির নিজস্ব অনলাইন অর্ডার পেজে স্থানীয় ডেলিভারির ব্যবস্থাও উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে পণ্যের দামের সঙ্গে ডেলিভারি ও অন্যান্য ফি যোগ করে মোট খরচ তুলনা করা উচিত। তবে ইলিশ, রূপচাঁদা, কালোজিরা চাল কিংবা খাসির মাংসে এই সপ্তাহে বিশেষ ছাড় রয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব পণ্য কেনার পরিকল্পনা থাকলে দোকানে ফোন করে দাম, মজুত ও অফারের শর্ত জেনে নেওয়া ভালো। প্রয়োজনের তালিকা ধরে কেনাকাটা করলে ছাড়ের কারণে বাড়তি পণ্য কেনার খরচও এড়ানো যায়। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
নিজের বুদ্ধিমত্তার মান বা আইকিউ ‘সবচেয়ে বেশি’ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে আলোচনার সময় নিজের চাচা ও এমআইটির সাবেক অধ্যাপক জন ট্রাম্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ দাবি করেন। সাক্ষাৎকারের প্রকাশিত ট্রান্সক্রিপ্টেও তাঁর এই বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে তিনি বিশ্বাস করেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, অল্টম্যানকে তিনি পছন্দ করেন এবং তাঁকে বুদ্ধিমান মনে করেন। এআই নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের উচ্চ আইকিউয়ের অধিকারী বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরপর নিজের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, “আমার আইকিউ সবচেয়ে বেশি। একেবারে সর্বোচ্চ।” তবে নিজের আইকিউয়ের কোনো নির্দিষ্ট স্কোর তিনি উল্লেখ করেননি। তাঁর এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও সাক্ষাৎকারে দেওয়া হয়নি। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাম্প তাঁর চাচা জন জি. ট্রাম্পের কথা বলেন। তাঁর দাবি, জন ট্রাম্প ৪১ বছর এমআইটিতে ছিলেন এবং প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি নিজেও এসব বিষয় বুঝতে পারেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি বংশগত বৈশিষ্ট্যে বিশ্বাস করেন এবং এ বিষয়ে তাঁর একটি বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করেন। জন ট্রাম্প অবশ্য নিজেই ছিলেন একজন স্বীকৃত বিজ্ঞানী। এমআইটির তথ্য অনুযায়ী, জন জি. ট্রাম্প ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যাপক এবং তাঁর নাম ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স পাওয়া এমআইটির বিজ্ঞানীদের তালিকায় রয়েছে। ১৯৮৩ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে তাঁর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিবারের কোনো সদস্যের মেধা, শিক্ষা বা বৈজ্ঞানিক সাফল্য দিয়ে অন্য একজনের আইকিউ নির্ধারণ করা যায় না। মেডলাইনপ্লাসের তথ্য অনুযায়ী, মানুষের বুদ্ধিমত্তা একটি জটিল বৈশিষ্ট্য, যার ওপর জেনেটিক ও পরিবেশগত—দুই ধরনের প্রভাবই রয়েছে। জিনের পাশাপাশি শিক্ষা, পারিবারিক পরিবেশ, শেখার সুযোগ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া আইকিউ পরীক্ষাও বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের একমাত্র পদ্ধতি নয়। মেডলাইনপ্লাস বলছে, বিভিন্ন আইকিউ পরীক্ষা নির্দিষ্ট কিছু সক্ষমতা পরিমাপ করে এবং এগুলো একজন মানুষের সব ধরনের প্রতিভা বা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পুরোপুরি তুলে ধরতে নাও পারে। ফলে ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে বেশি আইকিউ’ থাকার দাবি আপাতত তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবেই থাকছে। কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার স্কোর বা স্বাধীন বৈজ্ঞানিক যাচাই ছাড়া এই দাবিকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট। সাইবার অপরাধ দমন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপতথ্য যাচাই এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের তদন্ত আরও শক্তিশালী করতে এই ইউনিট গঠন করা হয়েছে। ১ অক্টোবর রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নতুন ইউনিটটির উদ্বোধন করেন। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে ইউনিটটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, সাইবার পুলিশ ইউনিটে মোট ৪ হাজার ৫৯২টি পদ থাকবে। বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এর কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন। থানাপর্যায়েও সাইবার-সংক্রান্ত সেবা ও তদন্তের জন্য আলাদা সদস্য রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ইউনিটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও এক্সসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো গুজব, অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য, উসকানিমূলক প্রচার এবং সম্ভাব্য সাইবার হুমকি শনাক্ত করার জন্য বিশেষায়িত ব্যবস্থা থাকবে। ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামোতে ‘তথ্য যাচাই ও পাল্টা বক্তব্য’ কার্যক্রমও রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে যাচাইহীন বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হলে তা যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক তথ্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কোন ধরনের বিষয়কে তথ্য যাচাই বা পাল্টা বক্তব্যের আওতায় নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত মানদণ্ড এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সাইবার পুলিশ ইউনিট শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অনলাইন প্রতারণা, পরিচয় চুরি, অনুমতি ছাড়া ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ, অর্থনৈতিক অপরাধ, মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা, ভুয়া বার্তার মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য অপরাধ তদন্ত করবে। এ ছাড়া ডার্ক ওয়েব, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ক্ষতিকর সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল আর্থিক অপরাধ বিশ্লেষণের জন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সাইবার অপরাধের ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণে একটি আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারও স্থাপন করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণ, আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ, ডার্ক ওয়েব, ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সময়ে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার মাধ্যমে সাইবার অপরাধ মোকাবিলা করতেই এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত সাইবার তদন্তকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি অনলাইন প্রতারণা, ভুয়া তথ্য ও বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিট এসব অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কতটা বাড়াতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের স্থায়ীভাবে নিয়ে যেতে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সুযোগ রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক স্ত্রী বা স্বামী, ছেলে বা মেয়ে, বাবা-মা এবং ভাই-বোনের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন করতে পারেন। তবে প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম ও অপেক্ষার সময় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিককে সাধারণত ইমিগ্র্যান্ট ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে প্রবেশ করতে হয়। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা অর্থাৎ গ্রিন কার্ডধারী যোগ্য আত্মীয়কে স্পনসর করেন। সাধারণত স্পনসরকে কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী হতে হয়, যদিও সব ধরনের আত্মীয়ের ক্ষেত্রে বয়সের শর্ত এক নয়। মার্কিন নাগরিকদের জন্য পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসা মূলত দুই ধরনের—‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ এবং ‘ফ্যামিলি প্রেফারেন্স’। ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে মার্কিন নাগরিকের স্ত্রী বা স্বামী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকের বাবা-মা অন্তর্ভুক্ত। এই ক্যাটাগরিতে প্রতিবছর ভিসার সংখ্যাগত সীমা নেই। অন্যদিকে ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে মার্কিন নাগরিকের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে, বিবাহিত ছেলে-মেয়ে এবং ভাই-বোনের মতো সম্পর্ক রয়েছে। এসব ক্যাটাগরিতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা দেওয়া হয়। ফলে আবেদন করলেই সঙ্গে সঙ্গে ভিসা পাওয়া যায় না; ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হতে পারে। মার্কিন নাগরিকরা যেসব চার ধরনের আত্মীয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন, সেগুলো হলো— ১. স্ত্রী বা স্বামী ২. ছেলে বা মেয়ে ৩. বাবা বা মা ৪. ভাই বা বোন বাবা-মা এবং ভাই-বোনের জন্য আবেদন করতে হলে মার্কিন নাগরিকের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। একইভাবে, ছেলে-মেয়ের বয়স ও বৈবাহিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে তারা ইমিডিয়েট রিলেটিভ নাকি ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে পড়বেন, তা নির্ধারিত হয়। গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। বৈধ স্থায়ী বাসিন্দারা তাদের স্ত্রী বা স্বামী এবং অবিবাহিত ছেলে-মেয়ের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন করতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীরা বাবা-মা বা ভাই-বোনকে এই পরিবারভিত্তিক পদ্ধতিতে সরাসরি স্পনসর করতে পারেন না। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের প্রক্রিয়া সাধারণত ফর্ম আই-১৩০ বা ‘পিটিশন ফর এলিয়েন রিলেটিভ’ দিয়ে শুরু হয়। আবেদনকারীর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়। পিটিশন অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরি অনুযায়ী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার পরবর্তী প্রক্রিয়া এগোয়। তবে আত্মীয়ের ধরন অনুযায়ী অপেক্ষার সময় অনেকটা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে ভাই-বোন, বিবাহিত সন্তান এবং কিছু প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত সন্তানের ক্ষেত্রে বার্ষিক ভিসা সীমা থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির সর্বশেষ নিয়ম ও ভিসা বুলেটিন দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট বা ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমার আওতায় থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলারের রিফান্ড দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ৩০টি রাজ্যের যোগ্য গ্রাহকদের এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। ‘ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ ওবামাকেয়ার রিফান্ডস’ নামে এই কর্মসূচির ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ সেপ্টেম্বর করেন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের জন্য বীমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নেওয়া ‘ইউজার ফি’-এর একটি অতিরিক্ত অংশ গ্রাহকদের মধ্যে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এই ফি শেষ পর্যন্ত বেশি প্রিমিয়ামের মাধ্যমে গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়েছিল। এই রিফান্ডের আওতায় মূলত সেইসব মানুষ রয়েছেন, যারা ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের কভারেজের জন্য প্রিমিয়াম সহায়তা পাননি এবং নিজেদের স্বাস্থ্যবিমার পুরো খরচ বহন করেছেন। প্রত্যেক যোগ্য ব্যক্তি ৫০০ ডলার করে পাওয়ার কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের তালিকা অনুযায়ী, আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, উটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিংয়ের বাসিন্দারা এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন। ট্রেজারি বিভাগ ৩০ সেপ্টেম্বর থেকেই অর্থ পাঠানো শুরু করেছে বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যোগ্য ব্যক্তিরা কাগজের চেক অথবা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পেতে পারেন। চেকের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা চিঠিও পাঠানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রাজ্যভেদে প্রাপকের সংখ্যাও ভিন্ন। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার মানুষ এই অর্থ পাওয়ার কথা, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। ফ্লোরিডায় প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯০০ জন পাবেন, যার মোট মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এই রিফান্ড এমন সময়ে দেওয়া হচ্ছে, যখন ২০২৬ সালে ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের স্বাস্থ্যবিমার খরচ নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। হেলথকেয়ার ডট গভের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস মহামারির সময় চালু হওয়া অতিরিক্ত প্রিমিয়াম সহায়তা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালে সহায়তার যোগ্য অনেক গ্রাহকের প্রিমিয়াম বেড়েছে। তবে ৫০০ ডলারের এই রিফান্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে আগের প্রশাসনের অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন এবং কর্মসূচিটির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে দেশজুড়ে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। তবে যোগ্য গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তারা এই কর্মসূচির আওতায় পড়ছেন কি না এবং তাদের চেক বা সরাসরি অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া কখন সম্পন্ন হবে।
বাংলাদেশে পুরোনো ২জি মোবাইল নেটওয়ার্ক ধাপে ধাপে বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২জি সেবা বন্ধের জন্য সরকারের অনুমোদন চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে কমিশনের একটি বৈঠকে ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো পুরোনো প্রযুক্তি থেকে আধুনিক মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারীদের ধীরে ধীরে স্থানান্তর করা। তবে এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ ফিচার ফোন ব্যবহার করেন। বিটিআরসির জুলাই ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট হ্যান্ডসেটের প্রায় ৩৫ শতাংশ ফিচার ফোন। অন্যদিকে স্মার্টফোনের অংশ প্রায় ৬৫ শতাংশ। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেশে প্রায় ১৯ কোটি মোবাইল সংযোগের মধ্যে ৬ কোটি ৫০ লাখের বেশি সংযোগ ফিচার ফোন ব্যবহারকারীদের বলে বিটিআরসির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ২জি বন্ধ করতে হলে বিপুলসংখ্যক মানুষকে নতুন প্রযুক্তির ফোনে যেতে হবে। বিটিআরসি জানিয়েছে, ২জি বন্ধের আগে ফিচার ফোন তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও ভবিষ্যৎ নীতিমালা নিয়ে সরকারের মতামত নেওয়া হবে। এদিকে মোবাইল অপারেটরগুলো ইতোমধ্যে ২জির পরিবর্তে ৪জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য ৪জি কাভারেজ রয়েছে। কিন্তু মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ। ফলে শুধু নেটওয়ার্ক কাভারেজ বাড়ানো নয়, মানুষের হাতে সাশ্রয়ী স্মার্টফোন পৌঁছানোও বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে তৈরি সবচেয়ে সস্তা স্মার্টফোনের দাম ৯ হাজার ৫০০ টাকার বেশি, যেখানে সবচেয়ে সস্তা ফিচার ফোনের দাম প্রায় ৯৫০ টাকা। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্মার্টফোনে স্থানান্তরের খরচ একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিটিআরসি কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০২৯ সালের সময়সীমা প্রয়োজন হলে পরিবর্তন করা যেতে পারে। অর্থাৎ এটি এখনই ২জি বন্ধের চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ নয়; সরকারের অনুমোদন এবং স্থানান্তরের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত এক নারীর অস্ত্রোপচারে ভুল পা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল, চিকিৎসক ও অস্ত্রোপচার দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে মা ম লা করেছেন ওই নারী ও তার স্বামী। শ্যারন জ্যাকস নামের ৭৪ বছর বয়সী ওই নারী ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মারিয়েটার সেলবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ কেটে ফেলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফেরার সময় তিনি দেখতে পান, তার বাঁ পা কেটে ফেলা হয়েছে বলে মা ম লায় অভিযোগ করা হয়েছে। মা ম লার নথি অনুযায়ী, জ্যাকসের ডান পায়ে ক্যানসারজনিত সমস্যার কারণে ওই পা কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসকরা ভুল করে বাঁ পায়ে অস্ত্রোপচার করেন। পরে ক্যানসারে আক্রান্ত ডান পাটিও অন্য একটি হাসপাতালে কেটে ফেলতে হয়। ফলে জ্যাকস এখন দুই পা হারিয়েছেন। জ্যাকসের আইনজীবী ব্র্যাড লেইনের দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসক সঠিক পা চিহ্নিত করেছিলেন। এমনকি ভুল পা কেটে ফেলার পরও সঠিক পায়ে অস্ত্রোপচারের চিহ্নটি ছিল বলে চিকিৎসা নথিতে দেখা গেছে। মা ম লায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসা দল দুবার ‘টাইম-আউট’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর পরিচয়, কোন অস্ত্রোপচার হবে এবং শরীরের কোন অংশে অস্ত্রোপচার করা হবে—এসব নিশ্চিত করার কথা। এরপরও কীভাবে ভুল পায়ে অস্ত্রোপচার হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্যাকসের আইনজীবী। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারে থাকা চিকিৎসক, নার্স, অ্যানেস্থেসিওলজিস্টসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব ছিল অস্ত্রোপচারের স্থান সঠিকভাবে নিশ্চিত করা। কিন্তু মা ম লায় অভিযোগ করা হয়েছে, একাধিকবার যাচাইয়ের সুযোগ থাকার পরও ভুলটি শনাক্ত করা হয়নি। এ ধরনের ভুল অস্ত্রোপচার চিকিৎসাক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুতর ও প্রতিরোধযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। মা ম লায় ঘটনাটিকে এমন একটি গুরুতর নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে এড়ানো সম্ভব ছিল। মা ম লায় জ্যাকসের শারীরিক ও মানসিক কষ্ট, স্থায়ী অক্ষমতা, আগের ও ভবিষ্যতের চিকিৎসা ব্যয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ হারানোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সেলবি জেনারেল হাসপাতালও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সেখানে একটি গুরুতর অস্ত্রোপচারজনিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। নিজেদের পর্যালোচনায় তারা নিশ্চিত হয়েছে যে ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব ছিল এবং নির্ধারিত অপারেশন থিয়েটার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। হাসপাতাল জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে এবং তারা আর ওই পদে কর্মরত নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে অস্ত্রোপচার দলের কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল আরও জানিয়েছে, তারা ওহাইও ডিপার্টমেন্ট অব হেলথের পর্যালোচনায় পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে রোগী ও তার পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। মা ম লাটি এখন আদালতে চলমান। অভিযোগগুলো মা ম লায় উত্থাপিত দাবি হিসেবে রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে খসড়া চুক্তি অনুমোদন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়ায় এনসিটি বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কনটেইনারভিত্তিক পণ্য পরিবহনে এই টার্মিনালের ভূমিকা রয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে concession agreement বা দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা চুক্তির মাধ্যমে টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত, মেয়াদ এবং অপারেটরের নামসহ বিস্তারিত তথ্য চূড়ান্ত নথি প্রকাশের পর আরও স্পষ্ট হবে। এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। এর পক্ষে যারা যুক্তি দেন, তারা আন্তর্জাতিক মানের পরিচালনা, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্য সুবিধার কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, চুক্তির শর্ত, স্বচ্ছতা এবং দেশের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া শরণার্থীদের জন্য গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা স্পষ্ট করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। দেশটিতে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট সময় পূর্ণ হলে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছর পর স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করা আইনগতভাবে প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’। এর জন্য ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হয়। গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে শরণার্থীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। প্রথমত, যথাযথভাবে ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ২০৭ ধারার অধীনে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তি হতে হবে। তৃতীয়ত, আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। চতুর্থত, শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর অন্তত এক বছর দেশটিতে শারীরিকভাবে অবস্থান করতে হবে। ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, এই এক বছরের শারীরিক উপস্থিতির বিষয়টি আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও বিবেচনা করা হয়। পঞ্চমত, আবেদনকারীর শরণার্থী হিসেবে ভর্তির মর্যাদা বাতিল বা সমাপ্ত হয়ে যাওয়া যাবে না। ষষ্ঠত, অন্য কোনো উপায়ে এরই মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পাওয়া থাকলে এই একই ভিত্তিতে আবার আবেদন করা যাবে না। সপ্তমত, আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। কোনো কারণে আবেদনকারী গ্রহণযোগ্য না হলে এবং আইনের আওতায় সেই অযোগ্যতার জন্য ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ওয়েভারের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ থাকতে পারে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার জন্য সাধারণত কোনো ফাইলিং ফি দিতে হয় না। বায়োমেট্রিক সেবার ক্ষেত্রেও শরণার্থীদের জন্য ফি নেওয়া হয় না। গ্রিন কার্ড পাওয়ার মাধ্যমে একজন শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পান। যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের জন্য এই মর্যাদা ভবিষ্যতে আরও স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে। তবে যোগ্যতা পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় নথি এবং গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো ইউএসসিআইএস যাচাই করে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও ফর্মের সর্বশেষ তথ্য দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অ ভি যা নের কারণ নিয়ে নতুন দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতদিন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরলেও এবার ট্রাম্প বলেছেন, যেসব স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র আঘাত হেনেছিল, সেগুলোতে পারমাণবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ‘মা দ ক’ উৎপাদনের কাজও চলছিল। বৃহস্পতিবার ওকলাহোমার ডুরান্টে এক নির্বাচনী সমাবেশে ২০২৫ সালের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প এই নতুন দাবি করেন। ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান ইরানের ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছিল। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মিসৌরি থেকে উড়ে যাওয়া মার্কিন বি-২ বিমান গভীর রাতে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে বোমা ফেলে। এরপর তিনি দাবি করেন, এসব স্থাপনা শুধু পারমাণবিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল না, সেখানে ‘মা দ কের কারখানা’ও ছিল। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান একই সঙ্গে পারমাণবিক কার্যক্রম এবং ‘মা দ ক’ উৎপাদনের কাজ করছিল। তিনি ওই স্থাপনাগুলোকে ‘মা দ কের কারখানা’ ও পারমাণবিক কারখানা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সেগুলোতে ব্যাপকভাবে আঘাত হানা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের কোন স্থাপনায় কী ধরনের ‘মা দ ক’ উৎপাদন করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁর নতুন বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৫ সালের ওই সামরিক অ ভি যা নের লক্ষ্যবস্তুগুলো একই সঙ্গে পারমাণবিক ও ‘মা দ ক’ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ছিল—এমন দাবি। এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের প্রকাশ্য ব্যাখ্যায় পারমাণবিক কর্মসূচিই প্রধান বিষয় ছিল। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারেও বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অ স্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতেই যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। ট্রাম্পের নতুন বক্তব্যে তাই ইরান অ ভি যা নের পক্ষে তাঁর ব্যাখ্যায় আরেকটি বিষয় যুক্ত হলো। ২০২৫ সালের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর সময় যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এবার সেই একই স্থাপনাগুলোকে ‘মা দ কের কারখানা’ বলছেন ট্রাম্প। ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে এলো। একই সময়ে তাঁর প্রশাসন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। ১ অক্টোবর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের রেল, গাড়ি, উৎপাদন ও ইস্পাত খাতের বিভিন্ন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অ স্ত্র ও অ স্ত্রের উপাদান সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন দুই দেশের সংঘাত, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং তেল সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের কারণ হিসেবে ট্রাম্পের নতুন ব্যাখ্যাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বড় অগ্রগতি হয়েছে। মেট্রোরেল লাইন-১ এবং লাইন-৫ নর্দান রুটের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে আটটি প্যাকেজের কাজের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এসব কাজের মোট মূল্য প্রায় ৫৮ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর সংশোধিত প্রস্তাব একনেকে অনুমোদনের পর বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্যাকেজের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর ফলে রাজধানীতে মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দান রুটের গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনুমোদিত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিপো নির্মাণ, সিভিল ওয়ার্কস, রেললাইন স্থাপন, বৈদ্যুতিক অবকাঠামো, সিগন্যালিং ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্টেশন নির্মাণ। মেট্রোরেল লাইন-১-এর আওতায় নদ্দা থেকে রামপুরা পর্যন্ত মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণের জন্য জাপানের তোকিউ কনস্ট্রাকশন এবং বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের যৌথ উদ্যোগ তোকিউ-ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রায় ১৮ হাজার ৩৭ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। নদ্দা থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার অংশের মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণের জন্য আরেকটি প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। একই প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ অংশ নির্মাণেও জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগ কাজ করবে। লাইন-১-এর রেললাইন ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামো স্থাপনের জন্য জাপান-ভারত যৌথ উদ্যোগ এলঅ্যান্ডটি-সুমিতোমো কনসোর্টিয়াম পেয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৬৫ কোটি টাকার কাজ।সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপনের জন্য ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো প্রায় ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ লাইন-১-এর ডিপোর সিভিল ও ভবন নির্মাণকাজের জন্য প্রায় ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। এছাড়া চায়না রেলওয়ে গ্রুপ ও চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের যৌথ উদ্যোগও মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণের একটি প্যাকেজ পেয়েছে। অন্যদিকে মেট্রোরেল লাইন-৫ নর্দান রুট হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই প্রকল্পের আওতায় হেমায়েতপুর-আমিনবাজার এবং নদ্দা-ভাটারা অংশে এলিভেটেড মূল লাইন ও পাঁচটি স্টেশন নির্মাণে চীন ও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ প্রায় ২ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। ডিপোর সিভিল ও ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ উদ্যোগ পেয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকার কাজ। সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী, মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দান রুটের পুরো প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে লাইন-১-এর ব্যয় প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি এবং লাইন-৫ নর্দান রুটের ব্যয় প্রায় ৮৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন অনুমোদিত আটটি প্যাকেজের ৫৮ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা পুরো মেট্রোরেল প্রকল্পের মোট ব্যয় নয়; এটি নির্দিষ্ট আটটি নির্মাণ ও অবকাঠামো প্যাকেজের চুক্তিমূল্য। এই পার্থক্যটি সংবাদে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করার প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসছে। ২০২৭ সাল থেকে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ঘরে বসেই প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। এ জন্য অনলাইনভিত্তিক নতুন একটি এআই সেবা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার নতুন সরকারি ওয়েবসাইট America.gov উদ্বোধনের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পাসপোর্ট সেবাকে আরও সহজ ও আধুনিক করার এই পরিকল্পনার কথা জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের বর্তমান আবেদন প্রক্রিয়ার তুলনায় আরও সুবিধাজনকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নতুন ব্যবস্থাটির একটি প্রদর্শনীও দেখানো হয়। সেখানে একজন ব্যবহারকারী ওয়েবসাইটের সার্চ বক্সে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করার নিয়ম জানতে চাইলে প্ল্যাটফর্মটি প্রয়োজনীয় ধাপ, কী কী নথি লাগবে এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়। পরিকল্পিত পাসপোর্ট সেবায় আবেদনকারীদের জন্য আরও কিছু ডিজিটাল সুবিধা যুক্ত করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে নিজের ছবি তোলার প্রক্রিয়া এবং পাসপোর্টে ছবিটি কেমন দেখাবে, তার নমুনা দেখার সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি অনলাইনে পাসপোর্টের ফি পরিশোধের ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে America.gov উদ্বোধন করেন। সরকারি এই প্ল্যাটফর্মটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি তথ্য ও সেবা সম্পর্কে সাধারণ ভাষায় প্রশ্নের উত্তর এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটিতে সরকারি ফরম পূরণ, বিভিন্ন সেবার জন্য আবেদন এবং আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণের মতো সুবিধাও যুক্ত করা হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার প্রাপ্তবয়স্ক পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে অনুমোদিত পাসপোর্ট গ্রহণকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হতে হয়। সেখানে নাগরিকত্বের প্রমাণ, পরিচয়পত্র, ছবি এবং নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। তবে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী নাগরিকদের জন্য অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়নের সুবিধা ইতোমধ্যেই রয়েছে। নতুন পরিকল্পনার বিশেষত্ব হলো, প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদনকারীদেরও অনলাইন প্রক্রিয়ার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে প্রথমবার পাসপোর্ট আবেদনকারীদের বর্তমান সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে আসতে পারে। তবে পুরো সেবাটি কবে থেকে কার্যকর হবে এবং কারা এর আওতায় থাকবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত চূড়ান্ত নির্দেশনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান আজ শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিশেষ কার্গো বিমানে করে চালানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটের এই জ্বালানি চালানটি এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। তবে বিমানটির রুটে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ পর নতুন করে চালানের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে প্রযুক্তিগত ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কয়েকটি চালানে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সড়কপথে ঈশ্বরদীর প্রকল্প এলাকায় নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে। এদিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমেও অগ্রগতি হয়েছে। বুধবার প্রথম ইউনিটের প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভের ১৬ মেগাপাসকেল উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি ২০২৩ সালে বাংলাদেশে পৌঁছেছিল। তাই আজকের চালানটি মূলত দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি চালান।
স্মার্টফোন এখন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় অবিচ্ছেদ্য অংশ। খবর জানা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, কাজের সমন্বয় কিংবা নানা প্রয়োজনীয় কাজ—সবকিছুতেই স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ছে। তবে এর পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারের একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে তারা যতটা ঘুম পেতেন, তার চেয়ে কম ঘুম পাচ্ছেন। বিপরীতে মাত্র ৫ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আর ৪৬ শতাংশের মতে, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের ওপর তেমন কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের আমেরিকান ট্রেন্ডস প্যানেল-এর মাধ্যমে ২০২৬ সালের ২৬ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়। এতে অংশ নেন ৯ হাজার ৭৫০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক। বয়সভেদে স্মার্টফোনের প্রভাবের পার্থক্য বেশ স্পষ্ট। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬২ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৫২ শতাংশ। ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ একই কথা বলেছেন। শুধু ঘুম নয়, স্মার্টফোন কাজের উৎপাদনশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের উৎপাদনশীলতা কমিয়েছে। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৪৩ শতাংশ, ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৮ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ১৫ শতাংশ। মানসিক অবস্থার ক্ষেত্রে অবশ্য চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। জরিপে ২২ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিপরীতে ১৮ শতাংশ বলেছেন, এটি তাদের মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় অংশ, ৫১ শতাংশ, বলেছেন স্মার্টফোন তাদের মেজাজে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো প্রভাবই ফেলে না। স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় নিয়েও অনেক মার্কিনের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। জরিপে ৫৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, তারা স্মার্টফোনে যতটা সময় কাটান, তা তাদের কাছে অতিরিক্ত মনে হয়। ৩৬ শতাংশ বলেছেন, তারা যে পরিমাণ সময় ফোন ব্যবহার করেন তা মোটামুটি ঠিক আছে। মাত্র ৩ শতাংশ মনে করেন, তারা স্মার্টফোনে খুব কম সময় কাটান। এ ক্ষেত্রেও তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যবহারের অনুভূতি সবচেয়ে বেশি। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের প্রায় ৭০ শতাংশ মনে করেন, তারা স্মার্টফোনে অতিরিক্ত সময় কাটাচ্ছেন। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৬৪ শতাংশ, ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ। তবে স্মার্টফোনকে মার্কিনরা শুধু নেতিবাচকভাবেই দেখছেন না। বরং এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার কথাও উঠে এসেছে জরিপে। প্রায় ৭৩ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন ও তথ্যসমৃদ্ধ থাকতে সাহায্য করে। আর ৫১ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে মাত্র ৩ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোনের কারণে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে দূরে থাকেন। ১২ শতাংশ মনে করেন, ফোনের কারণে অন্য মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থাৎ, স্মার্টফোন মানুষের জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি কিছু সমস্যাও তৈরি করছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যবহার, ঘুমের ঘাটতি এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ তুলনামূলক বেশি। জরিপের ফলাফল বলছে, স্মার্টফোনের সুবিধা মানুষ স্বীকার করলেও এর ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ে অনেকেই এখন নতুন করে ভাবছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচ শুধু কলেজে পড়ার সময়ই নয়, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও বহু মানুষের ওপর দীর্ঘদিন আর্থিক চাপ তৈরি করছে। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তিতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। কোথাও ঋণগ্রহীতাদের মধ্যম মাসিক কিস্তি ২৫৮ ডলার, আবার কোথাও তা ১৬০ ডলারের কাছাকাছি। ওয়ালেটহাবের ১ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভার্মন্টে শিক্ষাঋণের মধ্যম মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি—২৫৮ ডলার। এরপর রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ২৫০ ডলার, মেরিল্যান্ড ২৪৯ ডলার, নিউ হ্যাম্পশায়ার ২৪৯ ডলার এবং কানেকটিকাট ২৪৭ ডলার। তালিকার শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে নিউ জার্সি ২৪৬ ডলার, নিউইয়র্ক ২৪২ ডলার, ইলিনয় ২৩৮ ডলার এবং ক্যালিফোর্নিয়া ২৩৭ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়া এ তালিকায় নবম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম মধ্যম মাসিক কিস্তি দেখা গেছে ওয়াইওমিং ও আরকানসাসে—দুই রাজ্যেই ১৬০ ডলার। নর্থ ডাকোটায় ১৬১ ডলার, কেনটাকিতে ১৬২ ডলার এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ১৬৫ ডলার। ফলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন রাজ্যের মধ্যে মাসিক কিস্তির ব্যবধান প্রায় ৯৮ ডলার। ওয়ালেটহাব এই তালিকা তৈরি করতে ৫০টি রাজ্যের ভোক্তা-আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রাজ্যে ঋণগ্রহীতাপ্রতি শিক্ষাঋণের মধ্যম মাসিক পরিশোধের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। এখানে ‘মধ্যম’ অর্থ হলো তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানের পরিমাণ; এটি প্রত্যেক ঋণগ্রহীতার প্রকৃত গড় কিস্তি বোঝায় না। দেশজুড়ে শিক্ষাঋণের পরিমাণও বিশাল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৪ কোটি ২৩ লাখ ঋণগ্রহীতার নামে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল শিক্ষাঋণ বকেয়া ছিল। এর মধ্যে শিক্ষা বিভাগের সরাসরি ব্যবস্থাপনায় থাকা ঋণের পরিমাণ ১.৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের তথ্য আরও বলছে, জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৯৩ লাখ ঋণগ্রহীতা খেলাপির পর্যায়ে ছিলেন। তাদের বকেয়া ফেডারেল শিক্ষাঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ১ কোটি ৭৪ লাখের বেশি ঋণগ্রহীতার অন্তত একটি ঋণ পরিশোধ বা বকেয়া অবস্থায় ছিল। ঋণের সুদের হারও পরিশোধের সময়কে প্রভাবিত করে। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন করে বিতরণ করা স্নাতক পর্যায়ের ফেডারেল ডাইরেক্ট সাবসিডাইজড ও আনসাবসিডাইজড ঋণের নির্ধারিত সুদের হার ৬.৫২ শতাংশ। একই সময়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ডাইরেক্ট আনসাবসিডাইজড ঋণের হার ৮.০৭ শতাংশ এবং ডাইরেক্ট প্লাস ঋণের হার ৯.০৭ শতাংশ। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপোর হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার ৫০০ ডলারের ঋণ এবং ৬.৫২ শতাংশ স্থির সুদের হার ধরে ২০ বছরের মধ্যে ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করতে মাসে প্রায় ৩০২ ডলার দিতে হবে। অর্থাৎ অনেক ঋণগ্রহীতা বর্তমানে যে মধ্যম কিস্তি দিচ্ছেন, সেই হারে ঋণ শোধ করতে ২০ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। রাজ্যভেদে কিস্তির এই পার্থক্য শিক্ষাঋণের আর্থিক চাপ যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমান নয়, সেটিই তুলে ধরছে। বিশেষ করে ভার্মন্ট, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো রাজ্যে মধ্যম মাসিক কিস্তি ২৪৯ থেকে ২৫৮ ডলারের মধ্যে। বিপরীতে ওয়াইওমিং ও আরকানসাসে তা ১৬০ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ঋণের খরচ আরও বেড়েছে। দেশটির বহুল ব্যবহৃত ৩০ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের গড় হার এবার ৭.২৮ শতাংশে উঠেছে, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মর্টগেজ ঋণের ক্রেতা ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদ ছিল ৭.০৩ শতাংশ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়েছে ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট। ২০২২ সালের অক্টোবরের পর এক সপ্তাহে এত বড় বৃদ্ধি আর দেখা যায়নি। এক বছর আগে একই ধরনের ঋণের গড় সুদ ছিল ৬.৩৪ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজের সুদের হার বেড়েছে। বর্তমান ৭.২৮ শতাংশ হারটি ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। সেদিন ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদ ছিল ৭.২৯ শতাংশ। শুধু ৩০ বছরের ঋণ নয়, ১৫ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের হারও বেড়েছে। গত সপ্তাহের ৬.৪২ শতাংশ থেকে এবার তা বেড়ে হয়েছে ৬.৬০ শতাংশ। এক বছর আগে এই হার ছিল ৫.৫৫ শতাংশ। কেন এত বাড়ছে মর্টগেজ সুদ? গত মাসেই ৩০ বছরের মর্টগেজের সুদ ৭ শতাংশ অতিক্রম করেছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এটি নেমে এসেছিল ৫.৯৮ শতাংশে, যা ২০২২ সালের শেষের পর সর্বনিম্ন পর্যায় ছিল। এরপর থেকে সুদের হার দ্রুত বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষের ৫.৯৮ শতাংশ থেকে বর্তমান ৭.২৮ শতাংশে পৌঁছানোয় প্রায় ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে হার। এই বৃদ্ধির পেছনে মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং অর্থনীতি নিয়ে বন্ডবাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন বিষয় কাজ করে। সাধারণত ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের গতিপথের সঙ্গেও মর্টগেজের সুদের হার ওঠানামা করে। তেলের দাম বৃদ্ধিও সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে। এর প্রভাব আবাসন বাজারেও পড়ছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বাড়ি ক্রেতাদের ওপর প্রভাব মর্টগেজের সুদ বাড়লে একই পরিমাণ ঋণের জন্য মাসিক কিস্তি বেড়ে যায়। ফলে অনেক ক্রেতার বাড়ি কেনার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। কেউ কেউ বেশি সুদের কারণে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়েও দিতে পারেন। ফেব্রুয়ারির শেষের ৫.৯৮ শতাংশ থেকে বর্তমান ৭.২৮ শতাংশে সুদ বৃদ্ধির ফলে ৪ লাখ ডলারের মর্টগেজে মাসিক কিস্তি আনুমানিক ২৭৬ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেও কিছুটা চাপ দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আগের মাসের তুলনায় বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি ২ শতাংশ কমে যায়। মৌসুমভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বার্ষিক বিক্রির হার নেমে আসে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে, যা এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতি। তবে ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটারের মতে, বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে ক্রেতারা নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন। মর্টগেজের সুদের হার ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে, তা মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত এবং বন্ডবাজারের গতিপথের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।