যে রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি, নতুন প্রতিবেদনে চমকপ্রদ তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচ শুধু কলেজে পড়ার সময়ই নয়, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও বহু মানুষের ওপর দীর্ঘদিন আর্থিক চাপ তৈরি করছে। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তিতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। কোথাও ঋণগ্রহীতাদের মধ্যম মাসিক কিস্তি ২৫৮ ডলার, আবার কোথাও তা ১৬০ ডলারের কাছাকাছি।
ওয়ালেটহাবের ১ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভার্মন্টে শিক্ষাঋণের মধ্যম মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি—২৫৮ ডলার। এরপর রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ২৫০ ডলার, মেরিল্যান্ড ২৪৯ ডলার, নিউ হ্যাম্পশায়ার ২৪৯ ডলার এবং কানেকটিকাট ২৪৭ ডলার।
তালিকার শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে নিউ জার্সি ২৪৬ ডলার, নিউইয়র্ক ২৪২ ডলার, ইলিনয় ২৩৮ ডলার এবং ক্যালিফোর্নিয়া ২৩৭ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়া এ তালিকায় নবম অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, সবচেয়ে কম মধ্যম মাসিক কিস্তি দেখা গেছে ওয়াইওমিং ও আরকানসাসে—দুই রাজ্যেই ১৬০ ডলার। নর্থ ডাকোটায় ১৬১ ডলার, কেনটাকিতে ১৬২ ডলার এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ১৬৫ ডলার। ফলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন রাজ্যের মধ্যে মাসিক কিস্তির ব্যবধান প্রায় ৯৮ ডলার।
ওয়ালেটহাব এই তালিকা তৈরি করতে ৫০টি রাজ্যের ভোক্তা-আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রাজ্যে ঋণগ্রহীতাপ্রতি শিক্ষাঋণের মধ্যম মাসিক পরিশোধের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। এখানে ‘মধ্যম’ অর্থ হলো তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানের পরিমাণ; এটি প্রত্যেক ঋণগ্রহীতার প্রকৃত গড় কিস্তি বোঝায় না।
দেশজুড়ে শিক্ষাঋণের পরিমাণও বিশাল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৪ কোটি ২৩ লাখ ঋণগ্রহীতার নামে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল শিক্ষাঋণ বকেয়া ছিল। এর মধ্যে শিক্ষা বিভাগের সরাসরি ব্যবস্থাপনায় থাকা ঋণের পরিমাণ ১.৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি।
ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের তথ্য আরও বলছে, জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৯৩ লাখ ঋণগ্রহীতা খেলাপির পর্যায়ে ছিলেন। তাদের বকেয়া ফেডারেল শিক্ষাঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ১ কোটি ৭৪ লাখের বেশি ঋণগ্রহীতার অন্তত একটি ঋণ পরিশোধ বা বকেয়া অবস্থায় ছিল।
ঋণের সুদের হারও পরিশোধের সময়কে প্রভাবিত করে। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন করে বিতরণ করা স্নাতক পর্যায়ের ফেডারেল ডাইরেক্ট সাবসিডাইজড ও আনসাবসিডাইজড ঋণের নির্ধারিত সুদের হার ৬.৫২ শতাংশ। একই সময়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ডাইরেক্ট আনসাবসিডাইজড ঋণের হার ৮.০৭ শতাংশ এবং ডাইরেক্ট প্লাস ঋণের হার ৯.০৭ শতাংশ।
ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপোর হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার ৫০০ ডলারের ঋণ এবং ৬.৫২ শতাংশ স্থির সুদের হার ধরে ২০ বছরের মধ্যে ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করতে মাসে প্রায় ৩০২ ডলার দিতে হবে। অর্থাৎ অনেক ঋণগ্রহীতা বর্তমানে যে মধ্যম কিস্তি দিচ্ছেন, সেই হারে ঋণ শোধ করতে ২০ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।
রাজ্যভেদে কিস্তির এই পার্থক্য শিক্ষাঋণের আর্থিক চাপ যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমান নয়, সেটিই তুলে ধরছে। বিশেষ করে ভার্মন্ট, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো রাজ্যে মধ্যম মাসিক কিস্তি ২৪৯ থেকে ২৫৮ ডলারের মধ্যে। বিপরীতে ওয়াইওমিং ও আরকানসাসে তা ১৬০ ডলার।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচ শুধু কলেজে পড়ার সময়ই নয়, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও বহু মানুষের ওপর দীর্ঘদিন আর্থিক চাপ তৈরি করছে। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তিতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। কোথাও ঋণগ্রহীতাদের মধ্যম মাসিক কিস্তি ২৫৮ ডলার, আবার কোথাও তা ১৬০ ডলারের কাছাকাছি। ওয়ালেটহাবের ১ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভার্মন্টে শিক্ষাঋণের মধ্যম মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি—২৫৮ ডলার। এরপর রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ২৫০ ডলার, মেরিল্যান্ড ২৪৯ ডলার, নিউ হ্যাম্পশায়ার ২৪৯ ডলার এবং কানেকটিকাট ২৪৭ ডলার। তালিকার শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে নিউ জার্সি ২৪৬ ডলার, নিউইয়র্ক ২৪২ ডলার, ইলিনয় ২৩৮ ডলার এবং ক্যালিফোর্নিয়া ২৩৭ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়া এ তালিকায় নবম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম মধ্যম মাসিক কিস্তি দেখা গেছে ওয়াইওমিং ও আরকানসাসে—দুই রাজ্যেই ১৬০ ডলার। নর্থ ডাকোটায় ১৬১ ডলার, কেনটাকিতে ১৬২ ডলার এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ১৬৫ ডলার। ফলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন রাজ্যের মধ্যে মাসিক কিস্তির ব্যবধান প্রায় ৯৮ ডলার। ওয়ালেটহাব এই তালিকা তৈরি করতে ৫০টি রাজ্যের ভোক্তা-আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রাজ্যে ঋণগ্রহীতাপ্রতি শিক্ষাঋণের মধ্যম মাসিক পরিশোধের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। এখানে ‘মধ্যম’ অর্থ হলো তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানের পরিমাণ; এটি প্রত্যেক ঋণগ্রহীতার প্রকৃত গড় কিস্তি বোঝায় না। দেশজুড়ে শিক্ষাঋণের পরিমাণও বিশাল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৪ কোটি ২৩ লাখ ঋণগ্রহীতার নামে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল শিক্ষাঋণ বকেয়া ছিল। এর মধ্যে শিক্ষা বিভাগের সরাসরি ব্যবস্থাপনায় থাকা ঋণের পরিমাণ ১.৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের তথ্য আরও বলছে, জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৯৩ লাখ ঋণগ্রহীতা খেলাপির পর্যায়ে ছিলেন। তাদের বকেয়া ফেডারেল শিক্ষাঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ১ কোটি ৭৪ লাখের বেশি ঋণগ্রহীতার অন্তত একটি ঋণ পরিশোধ বা বকেয়া অবস্থায় ছিল। ঋণের সুদের হারও পরিশোধের সময়কে প্রভাবিত করে। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন করে বিতরণ করা স্নাতক পর্যায়ের ফেডারেল ডাইরেক্ট সাবসিডাইজড ও আনসাবসিডাইজড ঋণের নির্ধারিত সুদের হার ৬.৫২ শতাংশ। একই সময়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ডাইরেক্ট আনসাবসিডাইজড ঋণের হার ৮.০৭ শতাংশ এবং ডাইরেক্ট প্লাস ঋণের হার ৯.০৭ শতাংশ। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপোর হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার ৫০০ ডলারের ঋণ এবং ৬.৫২ শতাংশ স্থির সুদের হার ধরে ২০ বছরের মধ্যে ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করতে মাসে প্রায় ৩০২ ডলার দিতে হবে। অর্থাৎ অনেক ঋণগ্রহীতা বর্তমানে যে মধ্যম কিস্তি দিচ্ছেন, সেই হারে ঋণ শোধ করতে ২০ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। রাজ্যভেদে কিস্তির এই পার্থক্য শিক্ষাঋণের আর্থিক চাপ যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমান নয়, সেটিই তুলে ধরছে। বিশেষ করে ভার্মন্ট, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো রাজ্যে মধ্যম মাসিক কিস্তি ২৪৯ থেকে ২৫৮ ডলারের মধ্যে। বিপরীতে ওয়াইওমিং ও আরকানসাসে তা ১৬০ ডলার।
১১৯ দল পেরিয়ে আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জে বিশ্বসেরা ছয়ে বাকৃবির শিক্ষার্থীরা
স্টুডেন্ট লোনে সুদ কমানোর সুযোগ বাড়ল, বাড়ানো হলো আবেদনের সময়সীমা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্বসেরা অক্সফোর্ডে মাস্টার্সের সুযোগ পেলেন ফারিহা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একটি কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় নুরনবী ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীকে বিষধর কালাচ সাপে কামড় দিয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে তিনি চিকিৎসাধীন এবং অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। নুরনবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ভোরে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাপটি তার পায়ে কামড় দেয়। কামড়ের বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি চিৎকার করলে রুমমেটরা ঘুম থেকে উঠে কক্ষে সাপটি দেখতে পান। পরে দ্রুত তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীম আহমেদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সাপটিকে ‘কমন ক্রেইট’ বা পাতি কালাচ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। নুরনবীকে দুই ডোজ অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথা জানিয়েছেন। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্য প্রাণী ও পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সোয়ান’-এর সদস্যরা ওই কক্ষে গিয়ে প্রায় তিন ফুট লম্বা কালাচ সাপটি উদ্ধার করেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো পরিবেশে সাপের উপস্থিতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। কালাচ উষ্ণতার সন্ধানে মানুষের বিছানায় উঠে আসতে পারে বলেও তারা জানিয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর হলের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নুরনবীর রুমমেটদের একজনের দাবি, এর আগেও হলের বিভিন্ন কক্ষে সাপ প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার, স্নেক নেট স্থাপনসহ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এসব দাবি ও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আল-আমিন সরকার জানিয়েছেন, এর আগেও হলে সাপ প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। হলের আশপাশের ঘাস পরিষ্কার করা, সাপ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ব্লিচিং পাউডার ব্যবহারের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। পাঁচতলায় সাপ পাওয়ার ঘটনায় কীভাবে সেটি কক্ষে প্রবেশ করেছে, তা নিশ্চিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এদিকে দুপুরের দিকে নুরনবীর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছে। একই ঘটনায় হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, শহীদ শামসুজ্জোহা হল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর একটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা রয়েছে।
মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষাঙ্গনে নতুন অভিযান, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হচ্ছে প্রতিরোধ কমিটি
আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে রিজেকশন হয় যেসব কারণে, জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা কলেজ-ইউনিভার্সিটি কোনগুলো? প্রকাশ হলো ২০২৭ সালের তালিকা
বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী যখন এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিতে পড়াশোনা শুরুর জন্য। ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের এই শিক্ষার্থী এইচএসসি শেষ করার আগেই এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার নিশ্চয়তা পান। সেপ্টেম্বর থেকে তার এমআইটির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ফায়েজের এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। রাজশাহীতে ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া ফায়েজ ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি দাবা, অলিম্পিয়াড, বিতর্ক ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। চার বছর বয়সে বড় ভাইবোনদের কাছ থেকে দাবা শেখার মাধ্যমে তার আগ্রহের শুরু। প্রথম শ্রেণিতে জাতীয় পর্যায়ের দাবা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং তৃতীয় শ্রেণিতে অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বিতর্কেও যুক্ত হন। ২০২১ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় ফায়েজের শিক্ষাজীবনে বড় পরিবর্তন আসে। তিনি বাংলাদেশ বায়োলজি ও ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের জাতীয় ক্যাম্প এবং জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে শুরু করেন। ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের হয়ে রৌপ্যপদক অর্জন করেন। একই বছর আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডেও ব্রোঞ্জপদক পান। ২০২৪ সালেও আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জপদক অর্জনের তথ্য ফায়েজের নিজের প্রকাশিত প্রোফাইল এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের তথ্যেও রয়েছে। শুধু প্রতিযোগিতার সাফল্যেই থেমে থাকেননি ফায়েজ। ২০২৫ সালে তিনি OlyPara নামে একটি অলাভজনক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৩টি দেশের সদস্য নিয়ে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য ছিল অলিম্পিয়াড প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় মানসম্মত রিসোর্স শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সহজলভ্য করা। সেখানে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন, পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা, কাস্টমাইজড পরীক্ষা এবং সাবেক অলিম্পিয়াড পদকজয়ীদের লেখা বিভিন্ন শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। গবেষণাতেও তার আগ্রহ ছিল। তিনি GSA Bioinformatics Internship-এ একমাত্র হাইস্কুল ইন্টার্ন হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০২৫ সালের BSM International Conference-এ নিজের গবেষণা উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি নটর ডেম কলেজে বাংলা ও ইংরেজি বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এসব একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমই পরে তার এমআইটি অ্যাপ্লিকেশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। এমআইটিতে পড়ার স্বপ্ন ফায়েজের অনেক দিনের হলেও ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জপদক পাওয়ার পর তিনি এটিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে নেন। এরপর কোচিংয়ের ওপর নির্ভর না করে নিজেই SAT ও Duolingo English Test-এর প্রস্তুতি নেন। SAT-এ ১৫৫০ নম্বর এবং Duolingo English Test-এ ১৪০ নম্বর অর্জন করেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে তিনি এমআইটির অ্যাপ্লিকেশন প্রস্তুত করা শুরু করেন। নিজের অর্জনগুলো সাজানো, শিক্ষকদের কাছ থেকে সুপারিশপত্র নেওয়া এবং অ্যাপ্লিকেশনের বিভিন্ন অংশ প্রস্তুত করতে সময় দেন। পরে এমআইটির ইন্টারভিউতেও অংশ নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারভিউটি ছিল অনেকটা কথোপকথনের মতো, যেখানে তিনি নিজের গবেষণা, অলাভজনক উদ্যোগ ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এমআইটির ভর্তি প্রক্রিয়ায় একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর উদ্যোগ, কৌতূহল, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তার সামঞ্জস্যও বিবেচনা করা হয়। এমআইটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফলাফলভিত্তিক শ্রেণিতে প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য ২৯ হাজার ২৮১টি আবেদন পড়েছিল এবং ১ হাজার ৩৩৪টি ভর্তি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এইচএসসি শেষ করার আগেই এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ফায়েজের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত সাধারণত শিক্ষার্থীদের হাইস্কুলের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই আসে। এমআইটির বর্তমান ভর্তি তথ্যেও দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিস্তৃত ও কঠিন একাডেমিক প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেয়। ফায়েজের নিজের ভাষায়, তার যাত্রার মূল বিষয় ছিল দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে নিজের আগ্রহের জায়গাগুলোতে কাজ করা। দাবা দিয়ে শুরু হওয়া সেই পথ তাকে অলিম্পিয়াড, গবেষণা, বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের জন্য অলাভজনক উদ্যোগ এবং শেষ পর্যন্ত এমআইটির ক্লাসরুমে নিয়ে গেছে। ২০২৬ সালের শরতে সেই নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী এখন বিশ্বের অন্যতম পরিচিত গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের পরবর্তী পথ তৈরি করছেন। সূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
আইইএলটিএসে ৯ এ ৯ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাইসা শাম্মা, জেনে নিন তার পরামর্শ
ছয় হাজার টাকা থেকে শুরু, সোহাগের উদ্ভাস এখন প্রকৌশল ভর্তি প্রস্তুতির বড় নাম