এক বছর পর গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন শরণার্থীরা, মানতে হবে যেসব শর্ত
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া শরণার্থীদের জন্য গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা স্পষ্ট করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। দেশটিতে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট সময় পূর্ণ হলে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছর পর স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করা আইনগতভাবে প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’। এর জন্য ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হয়।
গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে শরণার্থীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। প্রথমত, যথাযথভাবে ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ২০৭ ধারার অধীনে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তি হতে হবে।
তৃতীয়ত, আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। চতুর্থত, শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর অন্তত এক বছর দেশটিতে শারীরিকভাবে অবস্থান করতে হবে। ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, এই এক বছরের শারীরিক উপস্থিতির বিষয়টি আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও বিবেচনা করা হয়।
পঞ্চমত, আবেদনকারীর শরণার্থী হিসেবে ভর্তির মর্যাদা বাতিল বা সমাপ্ত হয়ে যাওয়া যাবে না। ষষ্ঠত, অন্য কোনো উপায়ে এরই মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পাওয়া থাকলে এই একই ভিত্তিতে আবার আবেদন করা যাবে না।
সপ্তমত, আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। কোনো কারণে আবেদনকারী গ্রহণযোগ্য না হলে এবং আইনের আওতায় সেই অযোগ্যতার জন্য ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ওয়েভারের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ থাকতে পারে।
ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার জন্য সাধারণত কোনো ফাইলিং ফি দিতে হয় না। বায়োমেট্রিক সেবার ক্ষেত্রেও শরণার্থীদের জন্য ফি নেওয়া হয় না।
গ্রিন কার্ড পাওয়ার মাধ্যমে একজন শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পান। যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের জন্য এই মর্যাদা ভবিষ্যতে আরও স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।
তবে যোগ্যতা পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় নথি এবং গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো ইউএসসিআইএস যাচাই করে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও ফর্মের সর্বশেষ তথ্য দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিজের বুদ্ধিমত্তার মান বা আইকিউ ‘সবচেয়ে বেশি’ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে আলোচনার সময় নিজের চাচা ও এমআইটির সাবেক অধ্যাপক জন ট্রাম্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ দাবি করেন। সাক্ষাৎকারের প্রকাশিত ট্রান্সক্রিপ্টেও তাঁর এই বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে তিনি বিশ্বাস করেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, অল্টম্যানকে তিনি পছন্দ করেন এবং তাঁকে বুদ্ধিমান মনে করেন। এআই নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের উচ্চ আইকিউয়ের অধিকারী বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরপর নিজের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, “আমার আইকিউ সবচেয়ে বেশি। একেবারে সর্বোচ্চ।” তবে নিজের আইকিউয়ের কোনো নির্দিষ্ট স্কোর তিনি উল্লেখ করেননি। তাঁর এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও সাক্ষাৎকারে দেওয়া হয়নি। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাম্প তাঁর চাচা জন জি. ট্রাম্পের কথা বলেন। তাঁর দাবি, জন ট্রাম্প ৪১ বছর এমআইটিতে ছিলেন এবং প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি নিজেও এসব বিষয় বুঝতে পারেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি বংশগত বৈশিষ্ট্যে বিশ্বাস করেন এবং এ বিষয়ে তাঁর একটি বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করেন। জন ট্রাম্প অবশ্য নিজেই ছিলেন একজন স্বীকৃত বিজ্ঞানী। এমআইটির তথ্য অনুযায়ী, জন জি. ট্রাম্প ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যাপক এবং তাঁর নাম ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স পাওয়া এমআইটির বিজ্ঞানীদের তালিকায় রয়েছে। ১৯৮৩ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে তাঁর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিবারের কোনো সদস্যের মেধা, শিক্ষা বা বৈজ্ঞানিক সাফল্য দিয়ে অন্য একজনের আইকিউ নির্ধারণ করা যায় না। মেডলাইনপ্লাসের তথ্য অনুযায়ী, মানুষের বুদ্ধিমত্তা একটি জটিল বৈশিষ্ট্য, যার ওপর জেনেটিক ও পরিবেশগত—দুই ধরনের প্রভাবই রয়েছে। জিনের পাশাপাশি শিক্ষা, পারিবারিক পরিবেশ, শেখার সুযোগ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া আইকিউ পরীক্ষাও বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের একমাত্র পদ্ধতি নয়। মেডলাইনপ্লাস বলছে, বিভিন্ন আইকিউ পরীক্ষা নির্দিষ্ট কিছু সক্ষমতা পরিমাপ করে এবং এগুলো একজন মানুষের সব ধরনের প্রতিভা বা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পুরোপুরি তুলে ধরতে নাও পারে। ফলে ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে বেশি আইকিউ’ থাকার দাবি আপাতত তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবেই থাকছে। কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার স্কোর বা স্বাধীন বৈজ্ঞানিক যাচাই ছাড়া এই দাবিকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম
৩০ রাজ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষ পাচ্ছেন ওবামাকেয়ারের ৫০০ ডলারের রিফান্ড, চেক পাঠানো শুরু
এক বছর পর গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন শরণার্থীরা, মানতে হবে যেসব শর্ত
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অ ভি যা নের কারণ নিয়ে নতুন দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতদিন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরলেও এবার ট্রাম্প বলেছেন, যেসব স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র আঘাত হেনেছিল, সেগুলোতে পারমাণবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ‘মা দ ক’ উৎপাদনের কাজও চলছিল। বৃহস্পতিবার ওকলাহোমার ডুরান্টে এক নির্বাচনী সমাবেশে ২০২৫ সালের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প এই নতুন দাবি করেন। ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান ইরানের ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছিল। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মিসৌরি থেকে উড়ে যাওয়া মার্কিন বি-২ বিমান গভীর রাতে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে বোমা ফেলে। এরপর তিনি দাবি করেন, এসব স্থাপনা শুধু পারমাণবিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল না, সেখানে ‘মা দ কের কারখানা’ও ছিল। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান একই সঙ্গে পারমাণবিক কার্যক্রম এবং ‘মা দ ক’ উৎপাদনের কাজ করছিল। তিনি ওই স্থাপনাগুলোকে ‘মা দ কের কারখানা’ ও পারমাণবিক কারখানা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সেগুলোতে ব্যাপকভাবে আঘাত হানা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের কোন স্থাপনায় কী ধরনের ‘মা দ ক’ উৎপাদন করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁর নতুন বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৫ সালের ওই সামরিক অ ভি যা নের লক্ষ্যবস্তুগুলো একই সঙ্গে পারমাণবিক ও ‘মা দ ক’ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ছিল—এমন দাবি। এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের প্রকাশ্য ব্যাখ্যায় পারমাণবিক কর্মসূচিই প্রধান বিষয় ছিল। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারেও বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অ স্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতেই যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। ট্রাম্পের নতুন বক্তব্যে তাই ইরান অ ভি যা নের পক্ষে তাঁর ব্যাখ্যায় আরেকটি বিষয় যুক্ত হলো। ২০২৫ সালের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর সময় যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এবার সেই একই স্থাপনাগুলোকে ‘মা দ কের কারখানা’ বলছেন ট্রাম্প। ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে এলো। একই সময়ে তাঁর প্রশাসন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। ১ অক্টোবর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের রেল, গাড়ি, উৎপাদন ও ইস্পাত খাতের বিভিন্ন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অ স্ত্র ও অ স্ত্রের উপাদান সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন দুই দেশের সংঘাত, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং তেল সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের কারণ হিসেবে ট্রাম্পের নতুন ব্যাখ্যাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন করার সুযোগ , এআইভিত্তিক নতুন ওয়েবসাইট চালু
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজের সুদ বাড়ল এক লাফে, বাড়তে পারে মাসিক কিস্তিও
৬ কোটির বেশি শিশুর নামে খুলছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট, জানুন ১,০০০ ডলার পাওয়ার নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় নতুন নীতির প্রভাবে বৈধভাবে বসবাসরত হাজারো অভিবাসীর মেডিকেইড সুবিধা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া পরিবর্তনগুলো ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর আওতায় মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির জন্য রাজ্যগুলোর কেন্দ্রীয় সহায়তায় পরিবর্তন আনছে। এর প্রভাব যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থী, নির্যাতন থেকে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তি এবং যৌন পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ওপরও পড়তে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। নতুন ব্যবস্থার অধীনে রাজ্যগুলো মেডিকেইড এবং চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রামের জন্য আগের মতো পূর্ণ সমপরিমাণ কেন্দ্রীয় অর্থ পাবে না। জর্জিয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিটি ‘পিচকেয়ার ফর কিডস’ নামে পরিচিত। জর্জিয়া হেলথ ইনিশিয়েটিভের কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই নীতির কারণে ২০৩৪ সালের মধ্যে রাজ্যটিতে প্রায় ৩২ হাজার মানুষ মেডিকেইড সুবিধা হারাতে পারেন। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ১৪ হাজারের বেশি মানুষ স্বাস্থ্যবিমাহীন হয়ে পড়তে পারেন। এসব হিসাব দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাব্য প্রভাবের পূর্বাভাস হিসেবে দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আটলান্টার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান মার্সি কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথরিন ললার উদ্বেগ জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যবিমাহীন এবং প্রচলিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নন এমন মানুষদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে। ললারের মতে, মানুষের স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে তারা কম চিকিৎসা নেন। এর ফলে মানুষ কম সুস্থ থাকতে পারেন এবং পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ব্যয়ও বাড়তে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ মেডিকেইডকে দুর্বল না করে এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জন্য কর্মসূচিটিকে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করবে। প্রশাসন বলছে, গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য মেডিকেইড সুরক্ষিত রাখাই এর লক্ষ্য। ট্রাম্প প্রশাসন আরও বলেছে, আইনের মাধ্যমে মেডিকেইড ব্যবস্থায় অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বাদ দেওয়া, কাজের শর্ত কার্যকর করা এবং প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য মেডিকেইড সুরক্ষিত রাখাও নীতির উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিন কার্ডধারী অভিবাসীরা এই পরিবর্তনের কারণে মেডিকেইড সুবিধা হারাবেন না। ফলে নতুন নীতির প্রভাব সব অভিবাসীর ওপর একইভাবে পড়বে না। কারা সুবিধা হারাতে পারেন, তা তাদের অভিবাসন পরিস্থিতি এবং মেডিকেইড সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে। ক্যাথরিন ললার বর্তমানে মেডিকেইড সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের নিজেদের কভারেজের অবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, চিকিৎসা নেওয়ার সময় বা জরুরি অবস্থায় গিয়ে যদি কেউ জানতে পারেন যে তার স্বাস্থ্যবিমা আর কার্যকর নেই, তাহলে সেটি বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই পরিবর্তনের বিষয়ে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। মার্সি কেয়ার স্বাস্থ্যবিমাহীন, আংশিকভাবে বিমাকৃত এবং গৃহহীন মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আসা অনেক মানুষও রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক চিকিৎসা, দাঁতের চিকিৎসা, চোখের চিকিৎসা, মনোরোগ চিকিৎসা, আচরণগত স্বাস্থ্যসেবা, শিশু চিকিৎসা এবং ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবা দেয়। ললার জানান, ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর কারণে যারা স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন, তাদের জন্যও আটলান্টায় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। চাকরি হারানোর কারণে যারা স্বাস্থ্যবিমা হারিয়েছেন, তারাও মার্সি কেয়ারের সেবা নিতে পারেন বলে তিনি জানিয়েছেন। মার্সি কেয়ার সিস্টার্স অব মার্সির ঐতিহ্য অনুসরণ করে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। সিস্টার্স অব মার্সি ১৮৮০ সালে আটলান্টার প্রথম হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিল, যা পরে এমোরি সেন্ট জোসেফস হাসপাতাল নামে পরিচিত হয়। বর্তমানে মার্সি কেয়ারের ক্লিনিক ও প্রধান কার্যালয় আটলান্টার ডেকাটুর স্ট্রিটে অবস্থিত। ললার আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ে পরিবর্তন মানুষের মধ্যে চাপ ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তার মতে, এই চাপ মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। আটলান্টায় মানুষকে স্বাগত জানানোর যে ঐতিহ্য রয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা নীতিতেও সেটির প্রতিফলন থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প প্রশাসনে ফের ইলন মাস্ক, পেন্টাগনের ভবিষ্যৎ যুদ্ধকৌশল পর্যালোচনায় নেতৃত্ব দেবেন
“আমার আইকিউ সবচেয়ে বেশি, এমআইটির অধ্যাপক চাচার কাছ থেকেই পেয়েছি”: ট্রাম্প