সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পৃথিবীতে রেখে মহাকাশে পাড়ি, সন্তানের জন্মের মুহূর্তে কাছে থাকবেন না বাবা
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পৃথিবীতে রেখে মহাকাশে পাড়ি, সন্তানের জন্মের মুহূর্তে কাছে থাকবেন না বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে বৃহস্পতিবার সফলভাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেট। ‘ক্রু ড্রাগন’ ক্যাপসুলে চড়ে নাসার এই ‘ক্রু ১৩’ মিশনে অংশ নিয়েছেন চারজন নভোচারী।   তাদের মধ্যে রয়েছেন কমান্ডার জেসিকা ওয়াটকিন্স, পাইলট লুক ডেলানি, রাশিয়ার কসমোনট সের্গেই তেতেরিয়াৎনিকভ এবং কানাডিয়ান নভোচারী জশুয়া কুতরিক। মহাকাশযানটির প্রপালশন সিস্টেমের একটি ভালভ পরিবর্তনের কারণে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নির্ধারিত এই উৎক্ষেপণটি কিছুটা পিছিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে (ইডিটি) সম্পন্ন হয়।   এই ঐতিহাসিক মিশনের সবচেয়ে আবেগঘন দিকটি আবর্তিত হয়েছে কানাডীয় নভোচারী জশুয়া কুতরিককে ঘিরে। ৬ মাসের এই দীর্ঘ মিশনে থাকাকালীন থ্যাংকসগিভিংয়ের কাছাকাছি সময়ে তার স্ত্রী তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেবেন।   মহাকাশ ভ্রমণের ইতিহাসে এটি মাত্র চতুর্থ ঘটনা, যেখানে বাবা বা মায়ের কেউ একজন পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে থাকাকালীন সন্তানের জন্ম হতে যাচ্ছে। মিশন শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জশুয়া আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, পরিবারকে পৃথিবীতে রেখে মহাকাশে পাড়ি জমানো তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি।   উৎক্ষেপণের মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলটি আইএসএস-এর হারমোনি মডিউলে ডক করার কথা রয়েছে। নভোচারীরা সেখানে পৌঁছানোর পর আইএসএস-এ আগে থেকেই অবস্থান করা ‘ক্রু ১২’ মিশনের সদস্যদের জায়গা নেবেন। ২৩৫ দিনের দীর্ঘ মিশন শেষে ক্রু ১২-এর নভোচারী জেসিকা মেয়ার, জ্যাক হ্যাথাওয়ে, সোফি অ্যাডেনোট এবং আন্দ্রে ফেদিয়ায়েভ আগামী ৫ অক্টোবর নিজেদের ক্যাপসুলে চড়ে পৃথিবীর উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং পরদিন প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবেন।   মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানকালে ‘ক্রু ১৩’-এর সদস্যরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও স্পেসওয়াক বা মহাকাশে হাঁটার মতো কার্যক্রমে অংশ নেবেন। নাসার মতে, তারা মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে মানব স্টেম সেল ব্যবহার করে হৃদরোগ ও পারকিনসন্স রোগের চিকিৎসায় উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে কাজ করবেন।   পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ ভ্রমণের জন্য ফসল উৎপাদন, রক্তপ্রবাহের অস্বাভাবিকতা পর্যবেক্ষণ এবং নভোচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নতুন চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে গবেষণা করবেন। এ ছাড়াও অক্টোবর ও নভেম্বরের স্পেসওয়াকের মাধ্যমে তারা আইএসএস-এর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার চূড়ান্ত প্যানেল (রোল-আউট সোলার অ্যারে) স্থাপনের কাজও সম্পন্ন করবেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৫:৩৭
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় চরম অবহেলায় ১২ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়ের মৃ ত্যু, মায়ের বিরুদ্ধে হ ত্যা মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় চরম অবহেলায় ১২ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়ের মৃ ত্যু, মায়ের বিরুদ্ধে হ ত্যা মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তার মায়ের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গডসডেন এলাকার বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী লেসলি ডেনিস উইলসনকে নিজের মেয়ের মৃত্যুর কারণ হিসেবে অভিযুক্ত করে সোমবার এই হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ওই শিশুটিকে চরম পুষ্টিহীন ও পানিশূন্য অবস্থায় তার শোবার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। সে সময় শিশুটি নিউমোনিয়ায় ভুগছিল এবং তার শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়।   তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মেজর ক্রাইমস ডিভিশনের ডিটেকটিভ অ্যালেক বার্গেস এক শুনানিতে জানান, পুলিশ শুরুতে স্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে ভয়াবহ চিত্র দেখতে পায়। চরম অবহেলার শিকার ওই কিশোরীর ওজন কমে মাত্র ৩২ পাউন্ডে নেমে এসেছিল। তার ডায়াপার পরীক্ষা করে সেখানে জ্যান্ত পোকা (ম্যাগট) পাওয়া যায়।   অসুস্থ ওই কিশোরী মূলত ফিডিং টিউবের সাহায্যে খাবার গ্রহণ করত। পুলিশের অভিযোগ, বাড়িতে পর্যাপ্ত খাবার না থাকা সত্ত্বেও মা উইলসন মেয়েটির দেখভালের দায়িত্ব তার ছোট ভাই-বোনদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পুলিশ।   ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ মে থেকে ১৭ জুনের মধ্যে উইলসন মেয়েটির ওপর নির্যাতন ও ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ব্যবহার করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চরম মাত্রার চিকিৎসা ও শারীরিক অবহেলার কারণে শিশুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৫:১৪
মোবাইলেই ছবি, অনলাইনেই আবেদন, মার্কিন পাসপোর্টে আসছে বড় পরিবর্তন
মোবাইলেই ছবি, অনলাইনেই আবেদন, মার্কিন পাসপোর্টে আসছে বড় পরিবর্তন

মার্কিন পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আধুনিকায়নের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২০২৭ সাল থেকে প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট করতে ইচ্ছুক নাগরিকদের জন্য অনলাইনে আবেদনের সুযোগ চালু করার পরিকল্পনা জানিয়েছে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এই নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, আবেদনকারীদের ছবি তোলার জন্য আর কোনো দোকান বা ফটো স্টুডিওতে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। নিজের স্মার্টফোনে ছবি তুলেই তা সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে।   বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক কোনো মার্কিন নাগরিক জীবনে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করতে চাইলে তাকে সরাসরি ‘পাসপোর্ট অ্যাকসেপ্টেন্স ফ্যাসিলিটি’ বা নির্ধারিত কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় ফর্ম, পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র এবং ছবি সশরীরে জমা দিতে হয়। তবে নতুন উদ্যোগে পুরো প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশ অনলাইনেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   নতুন সিস্টেম সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, আবেদনকারীরা সরকারি পোর্টাল ‘আমেরিকা.গভ’ (america.gov) ব্যবহার করে ‘লগইন.গভ’ (login.gov)-এর মাধ্যমে সাইন ইন করতে পারবেন। এরপর তারা সরকারের কাছে থাকা নিজেদের তথ্য দেখতে পারবেন, প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ করতে পারবেন, অনলাইনে ফি পরিশোধ করতে পারবেন এবং আবেদনের সর্বশেষ অবস্থাও ট্র্যাক করতে পারবেন। তবে ঠিক কী প্রক্রিয়ায় অন্যান্য মূল কাগজপত্র জমা দিতে হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়নি।   পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে ছবির নিয়মেও আসছে বড় পরিবর্তন। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীরা নিজেদের মোবাইলে সদ্য তোলা ছবি বা আগে থেকে ডিভাইসে থাকা উপযুক্ত ছবি আপলোড করতে পারবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও আরও জানান, চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার আগেই আবেদনকারী দেখতে পাবেন পাসপোর্টে তার ছবিটি কেমন দেখাবে।   মনমতো না হলে পুনরায় ছবি তোলার সুযোগও থাকবে। তবে ছবিতে কোনো ধরনের ফিল্টার ব্যবহার, অতিরিক্ত এডিট বা ডিজিটাল পরিবর্তন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ছবি অবশ্যই সাম্প্রতিক, রঙিন এবং সাদা বা অফ-হোয়াইট ব্যাকগ্রাউন্ডের হতে হবে।   উল্লেখ্য, নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল ছবি দিয়ে অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়নের (রিনিউ) সুযোগ বর্তমানে চালু রয়েছে। নতুন পরিকল্পনার ফলে গ্রিন কার্ড থেকে সবেমাত্র মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের জন্যও প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়ে যাবে।   স্টেট ডিপার্টমেন্টের লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অধিকাংশ নাগরিক যেন সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদন করতে পারেন। তবে শিশুদের পাসপোর্টের নিয়ম আলাদা হওয়ায়, নবজাতক বা ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই নতুন ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করবে তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা ও নির্দিষ্ট চালুর তারিখ প্রকাশের আগ পর্যন্ত নাগরিকদের বর্তমান নিয়ম মেনেই পাসপোর্টের আবেদন করতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:৫৫
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ঘরে বসেই রেমিট্যান্স, ট্যাপট্যাপ ও রিয়ায় দ্রুত টাকা পাঠানোর সুবিধা
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ঘরে বসেই রেমিট্যান্স, ট্যাপট্যাপ ও রিয়ায় দ্রুত টাকা পাঠানোর সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দেশে টাকা পাঠানোর পদ্ধতি এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। আগে অনেকেই গাড়ি বা ট্যাক্সি নিয়ে মানি ট্রান্সফার দোকান কিংবা এজেন্টের কাছে গিয়ে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন বা অন্যান্য সেবার মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন। এখন ট্যাপট্যাপ সেন্ড ও রিয়া মানি ট্রান্সফারের মতো মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই অ্যাকাউন্ট খুলে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানো যায়। ট্যাপট্যাপের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে বেশিরভাগ ট্রান্সফার কয়েক মিনিটের মধ্যে পৌঁছাতে পারে।   ট্যাপট্যাপ সেন্ডে বাংলাদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ, নগদ, রকেট এবং বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যাশ পিকআপের সুবিধা রয়েছে। বিশেষ করে বিকাশসহ মোবাইল ওয়ালেটে পাঠানো অর্থ সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যে পৌঁছানোর কথা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিকাশ ও নগদে পাঠানোর ক্ষেত্রে বর্তমানে ৯৯ সেন্ট এবং ব্যাংক ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৪৯ ডলার ফি প্রযোজ্য হতে পারে। লেনদেন নিশ্চিত করার আগে অ্যাপেই ফি ও বিনিময় হার দেখানো হয়।   রিয়া মানি ট্রান্সফারও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ঘরে বসে টাকা পাঠানোর একটি জনপ্রিয় বিকল্প। রিয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য বর্তমানে প্রথম ৫০ ডলার বা তার বেশি লেনদেনে ১০ ডলার পর্যন্ত ক্রেডিট বা ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সুবিধা পেতে প্রথম ট্রান্সফারের আগে রেফারেল বা প্রমো কোড ব্যবহার করতে হয়।   আমেরিকা বাংলার প্রচারমূলক রেফারেল কোড ব্যবহার করেও এই সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ট্যাপট্যাপ সেন্ডে আমাদের প্রমো কোড NURULLAH1 ব্যবহার করে নতুন ব্যবহারকারীরা প্রযোজ্য প্রচারণার শর্ত পূরণ করলে প্রথম ট্রান্সফারে ৫ ডলার বোনাস পাওয়ার সুযোগ পাবেন। রিয়ার ক্ষেত্রে আমাদের প্রমো কোড RT8H-DXJY নতুন রিয়া ব্যবহারকারী প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রান্সফারের আগে এই কোড ব্যবহার করলে ৫০ ডলার বা তার বেশি যোগ্য লেনদেনে ১০ ডলার পর্যন্ত ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী কোডটি প্রথম ট্রান্সফার সম্পন্ন করার আগেই দিতে হবে।   ট্যাপট্যাপ বা রিয়ার মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে শুধু ট্রান্সফার ফি নয়, একই সময়ে প্রাপক শেষ পর্যন্ত কত টাকা পাচ্ছেন সেটিও দেখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিনিময় হার ও ফি পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশে বৈধ চ্যানেলে পাঠানো যোগ্য রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে বর্তমানে ২ দশমিক ৫ শতাংশ সরকারি নগদ প্রণোদনা রয়েছে। ট্যাপট্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক ট্রান্সফার ও বিকাশের মতো মোবাইল ট্রান্সফারেও এই প্রণোদনা প্রযোজ্য হতে পারে।   ফলে যারা এখনো শুধু মানি ট্রান্সফার দোকানে গিয়ে টাকা পাঠান, তাদের জন্য মোবাইল অ্যাপভিত্তিক সেবা একটি সময়সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে। ঘরে বসেই অ্যাকাউন্ট তৈরি, পরিচয় যাচাই এবং অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। তবে টাকা পাঠানোর আগে প্রাপকের নাম ও তথ্য, বিনিময় হার, ফি এবং অ্যাপে দেখানো চূড়ান্ত প্রাপ্য অর্থ ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে অ্যাপ অবশ্যই অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মাধ্যম থেকে ডাউনলোড করা এবং পাসওয়ার্ড ও যাচাইকরণ কোড কারও সঙ্গে শেয়ার না করা জরুরি।   ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনে ট্যাপট্যাপ সেন্ড ও রিয়া মানি ট্রান্সফারের প্রচারমূলক কোড দেওয়া হয়েছে এবং এসব কোড বা সংশ্লিষ্ট লিংকের মাধ্যমে লেনদেন হলে আমেরিকা বাংলা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রেফারেল বা প্রচারমূলক সুবিধা পেতে পারে। আর্থিক লেনদেনের আগে পাঠককে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ফি, বিনিময় হার, বোনাসের শর্ত, যোগ্যতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিজ দায়িত্বে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমেরিকা বাংলা কোনো নির্দিষ্ট সেবাকে সব সময়ের জন্য সর্বোচ্চ রেট, সবচেয়ে সস্তা বা সবার জন্য উপযুক্ত বলে নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৫:২১
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নিখোঁজের চার দিন পর মিলল বাংলাদেশি উবার চালক আলী আহমদের ম রদেহ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নিখোঁজের চার দিন পর মিলল বাংলাদেশি উবার চালক আলী আহমদের ম রদেহ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নিখোঁজের চার দিন পর আলী আহমদ নামে এক বাংলাদেশি উবার চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তার ব্যবহৃত গাড়ির ভেতর থেকেই মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। আকস্মিক ও রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে শোক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার জুমার নামাজ ও দুপুরের খাবার শেষে উবার চালানোর উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন আলী আহমদ। প্রতিদিনের মতো রাতে কাজ শেষে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শনিবার সকাল পর্যন্ত তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কোথাও কোনো সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে তার পরিবার।   অভিযোগ পাওয়ার পর নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পার হলে টেক্সাস পুলিশ ঘটনাটিকে ‘হাই অ্যালার্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে বিশেষ অনুসন্ধান শুরু করে। টানা চার দিন খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার পুলিশ তার নিজস্ব গাড়িটি থেকেই মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আলী আহমদ সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গাদিয়া ত্রিমুখী এলাকার মরহুম আছার উদ্দিনের কনিষ্ঠ পুত্র। তবে তাদের আদি নিবাস বিয়ানীবাজার পৌরসভার শ্রীধরা গ্রামে।   আলী আহমদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি নিছক দুর্ঘটনা, তা ময়নাতদন্ত ও পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও চার সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার এমন অকাল মৃত্যুতে টেক্সাসসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিয়ানীবাজারবাসী ও প্রবাসীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:৩৬
নিউ ইয়র্কের ছাদে কেবিন, বাগান আর সবজি ক্ষেত; মালিকানা পেতে লাগবে ১০.৫ মিলিয়ন ডলার
নিউ ইয়র্কের ছাদে কেবিন, বাগান আর সবজি ক্ষেত; মালিকানা পেতে লাগবে ১০.৫ মিলিয়ন ডলার

নিউইয়র্ক শহরের কোলাহলের মাঝে গ্রামীণ জীবনের স্বাদ পেতে চাইলে আর দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ভিলেজে একটি ভবনের ছয়তলার ছাদে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এক খামারবাড়ি। সবুজে ঘেরা বারান্দা, সামনে বাগান এবং শহরের আকাশচুম্বী ভবনের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ থাকা এই পেন্টহাউসটি ১০.৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গ্রিনউইচ স্ট্রিটে অবস্থিত ছাদের ওপরের স্বপ্নের এই বাড়িটি শহরের বুকে যেন এক টুকরো আস্ত গ্রাম।   ৭১৯ গ্রিনউইচ স্ট্রিটের এই শীর্ষ তলার অ্যাপার্টমেন্টটির মালিক ৮৭ বছর বয়সী ডেভেলপার ডেভিড পুচকফ এবং তার স্ত্রী ও লেখিকা আইলিন স্টুকেন। তারা কয়েক দশক ধরে এখানে বসবাস করছেন এবং ১৯৮৮ সালে এই বাড়ির বসার ঘরেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।   ডেভিড পুচকফ ১৯৭৪ সালে মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার ডলারে ছয়তলা ইটের ভবনটি কিনেছিলেন, যা একসময় ঝুড়ির গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে তিনি এটিকে কো-অপারেটিভ বা যৌথ মালিকানাধীন ভবনে রূপান্তর করেন এবং নিজের জন্য সবচেয়ে ওপরের তলাটি রেখে দেন। গ্রামীণ পেনসিলভেনিয়ায় এক বন্ধুর লেকহাউস পরিদর্শনের পর স্থপতি বন্ধু লরেন্স টোবের সহায়তায় তিনি ছাদের ওপর এই কেবিন ও বাগানটি নির্মাণ করেন।   পেন্টহাউসটিতে রয়েছে প্রায় ৩,০৬০ বর্গফুটের বিশাল লফ্ট স্পেস, যেখানে চারটি বেডরুম ও দুটি বাথরুম রয়েছে। পুরোনো দিনের ইটের গাঁথুনি, কাঠের বিম, ওক কাঠের মেঝে এবং বড় বড় জানালা বাড়িটিকে এক অনন্য রূপ দিয়েছে। লিফট থেকে সরাসরি অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করা যায়। বসার ঘর থেকে একটি স্টিলের সিঁড়ি উঠে গেছে ছাদের কেবিন ও ছোট রান্নাঘরে।   দরজা খুললেই কাঠের তৈরি বারান্দা, বসার দোলনা ও পরিবারের জন্য ডাইনিং টেবিল চোখে পড়ে। আইলিন স্টুকেন নিজেই এই বাগানের দেখাশোনা করেন, যেখানে তিনি বেগুন, ধুন্দুল, লেটুস, টমেটো এবং তুলসীর মতো শাকসবজি ও ভেষজ চাষ করেন।   কম্পাস ব্রোকারেজ ফার্মের জিম সেন্ট আন্দ্রে বাড়িটির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমানে বাড়িটির জন্য প্রতি বর্গফুটে প্রায় ৩,৪৩১ ডলার চাওয়া হচ্ছে, যা এলাকার অন্যান্য চার-বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের (যার গড় মূল্য ২১.৭৫ মিলিয়ন ডলার) তুলনায় ক্রেতাদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়।   তবে এই ছাদের বাগান নিয়ে ২০১৮ সালে কিছু আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছিল। এক অজ্ঞাত প্রতিবেশীর অভিযোগের ভিত্তিতে শহরের নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুচকফকে ১,২০০ ডলার জরিমানা করেছিল এবং দাবি করেছিল যে এটি নির্মাণে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে পুচকফ পাল্টা মামলাও করেছিলেন।   রাস্তা থেকে এই খামারবাড়িটি দেখা না গেলেও এটি মোটেও গোপন কোনো বিষয় নয়। বিভিন্ন স্বনামধন্য পত্রিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে এটি ফিচার হয়েছে এবং ২০১৫ সালে হেলিকপ্টার থেকে তোলা একটি ছবির কারণে এটি ভাইরালও হয়েছিল। তিন কন্যাসন্তানের জনক এই দম্পতি এখন মনে করছেন, জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার সময় এসেছে। বয়স বাড়ার কারণে তারা এখন সন্তান ও নাতি-নাতনিদের বেশি সময় দিতে চান, তাই দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত অনন্য এই ছাদের খামারবাড়িটি নতুন মালিকের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:২২
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ রেট ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, বাড়ি কিনতে মাসে গুনতে হচ্ছে বাড়তি শত শত ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ রেট ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, বাড়ি কিনতে মাসে গুনতে হচ্ছে বাড়তি শত শত ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি মর্টগেজ রেট (বন্ধকী সুদের হার) অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, যা গত প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মর্টগেজ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাক-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড-রেট মর্টগেজ গত সপ্তাহের ৭.০৩% থেকে লাফিয়ে ৭.২৮%-এ পৌঁছেছে। এটি গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। এক বছর আগে এই হার ছিল মাত্র ৬.৩৪%। এ নিয়ে টানা ছয় সপ্তাহ মর্টগেজ রেট বৃদ্ধি পেল।   গত বছরের ২২ নভেম্বরের (৭.২৯%) পর বর্তমানে মর্টগেজ রেট সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। রিফাইন্যান্সিং বা পুনঃঅর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ১৫ বছর মেয়াদি মর্টগেজ রেটও গত সপ্তাহের ৬.৪২% থেকে বেড়ে ৬.৬০%-এ দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৫.৫৫%। মর্টগেজ রেট বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি ক্রেতাদের মাসে কয়েকশ ডলার অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে, যা তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্রেতাই এখন বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন।   ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ৩০ বছর মেয়াদি মর্টগেজ রেট সাময়িকভাবে ৫.৯৮%-এ নেমে এসেছিল, যা ২০২২ সালের শেষের দিকের পর সর্বনিম্ন ছিল। কিন্তু এরপর থেকে সুদের হার প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায়, বর্তমান হারে ৪ লাখ ডলারের হোম লোন নেওয়া একজন ক্রেতাকে প্রতি মাসে প্রায় ২৭৬ ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। অবশ্য, ক্রেতার আয় ও ক্রেডিট স্কোরের ওপর ভিত্তি করে মর্টগেজ রেট বর্তমান গড়ের চেয়ে কিছুটা কম বা বেশিও হতে পারে। ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার পর থেকে মর্টগেজ রেট ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আবাসন বাজার বেশ বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।   মর্টগেজ রেট মূলত মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং অর্থনীতির বিষয়ে বন্ড-মার্কেট বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করে। এটি সাধারণত ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইয়েল্ডের গতিপথ অনুসরণ করে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় এই ট্রেজারি ইয়েল্ড ফেব্রুয়ারির শেষের ৩.৯৭% থেকে লাফিয়ে বৃহস্পতিবার ৫.২৭%-এ পৌঁছেছে, যা ২০০৭ সালের আর্থিক সংকটের ঠিক আগের অবস্থার সমতুল্য। ইয়েল্ড বাড়লে ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ধীর করে দেয় এবং শেয়ারসহ অন্যান্য বিনিয়োগের দাম কমিয়ে দেয়।   মহামারীকালীন সর্বনিম্ন স্তর থেকে ২০২২ সালে মর্টগেজ রেট বাড়তে শুরু করার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত বছর পুরানো বাড়ি বিক্রি ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আটকে ছিল। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ রিয়েল্টরস জানিয়েছে, আগস্ট মাসে বাড়ি বিক্রি জুলাইয়ের তুলনায় ২% কমেছে, যা গত এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:২
ক্যালিফোর্নিয়ায় ছাগলের কাঁচা দুধ খেয়ে মৃত্যুর মুখে ১৭ মাসের শিশু, বিকল কিডনি
ক্যালিফোর্নিয়ায় ছাগলের কাঁচা দুধ খেয়ে মৃত্যুর মুখে ১৭ মাসের শিশু, বিকল কিডনি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে ১৭ মাস বয়সী শিশু ব্রুকলিন ম্যারিসকে কাঁচা বা অপাস্তুরিত ছাগলের দুধ খাওয়ানো শুরু করেছিল তার পরিবার। কিন্তু এই একটি সিদ্ধান্তই প্রায় কেড়ে নিচ্ছিল শিশুটির প্রাণ। ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার মারাত্মক সংক্রমণে কিডনি বিকল হয়ে তিনবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের (হার্ট অ্যাটাক) শিকার হয় সে। বর্তমানে শিশুটি প্রাণে বাঁচলেও তাকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য জটিলতা।   প্রোপাবলিকা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রুকলিনের জন্ম হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের সাত সপ্তাহ আগে। অপরিণত ফুসফুস ও কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া এই ‘মিরাকল বেবি’কে নিয়ে মা এমিলি ম্যারিসের উদ্বেগের অন্ত ছিল না। স্তনপান করানো সম্ভব না হওয়ায় তিনি বাজারের ফর্মুলা বা প্যাকেটজাত গরুর দুধের বিকল্প খুঁজছিলেন।   ফেসবুকের একটি গ্রুপের মায়েদের পরামর্শে তিনি বাড়ির কাছাকাছি একটি খামার থেকে কাঁচা ছাগলের দুধ এনে খাওয়াতে শুরু করেন। প্রথম ছয় মাস ব্রুকলিনের শারীরিক উন্নতি দেখা গেলেও হঠাৎ একদিন ভয়ানক বিপত্তি ঘটে।   গ্রীষ্মের এক দিনে ব্রুকলিন হঠাৎ গাড়ির ভেতর বমি করে দেয়। পরবর্তী দুই দিন ধরে সে প্রথমে হলুদ ও পরে ‘নীলাভ-সবুজ’ রঙের পিত্ত বমি করতে থাকে। তাকে জরুরিভিত্তিতে ৭০ মাইল দূরের একটি শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, সে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার কারণে হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিন্ড্রোমে (এইচইউএস) আক্রান্ত, যা মূলত রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কিডনি বিকল করে দেয়।   তাকে ভেন্টিলেটর ও ডায়ালাইসিসে রাখা হয়। মৃত্যুর মুখ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে।   ব্রুকলিন বেঁচে ফিরলেও আগের মতো আর স্বাভাবিক নেই। সে এখন সামান্য খুঁড়িয়ে হাঁটে এবং রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে আজীবন কিডনির সমস্যায় ভুগতে হতে পারে এবং সে কখনোই অ্যালকোহল পান করতে পারবে না। এদিকে নিজের ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের কারণে মা এমিলি এখন তীব্র অনুশোচনায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “আমি যতদিন বাঁচব, এই কাজটি করার জন্য নিজেকে ঘৃণা করব। আমিই তাকে এই দুধ দিয়েছিলাম, আমি কতটা বোকা ছিলাম!”   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা বা অপাস্তুরিত দুধ পান করার উপকারিতা নিয়ে যেসব দাবি করা হয়, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উজমা সৈয়দের মতে, পাস্তুরিকরণের আগে কাঁচা দুধ পানের কারণে প্রচুর মানুষ অসুস্থ হতো। পাস্তুরিত দুধের তুলনায় কাঁচা দুধে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি ১০০ গুণ বেশি। সুস্থ প্রাণীর দুধেও ই-কোলাই, সালমোনেলা বা লিস্টেরিয়ার মতো মারাত্মক ক্ষতিকর প্যাথোজেন থাকতে পারে, যা গরুর গোবর বা খামারিদের হাত থেকে ছড়াতে পারে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় কেবল লাইসেন্সধারী খামারই মানুষের পানের জন্য কাঁচা দুধ বিক্রি করতে পারে। কিন্তু এমিলি যে খামার থেকে দুধ কিনেছিলেন, সেটি লাইসেন্সবিহীন ছিল। খামার মালিকের দাবি, তারা এই দুধ কেবল ‘পোষা প্রাণীর’ খাবার হিসেবে বিক্রি করেছিলেন। এই ঘটনার পর ব্রুকলিনের পরিবারসহ একই খামারের দুধ খেয়ে অসুস্থ হওয়া আরেক শিশুর পরিবার ওই খামার মালিকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৩:৪৭
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া সফল তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ডেক্সিয়ানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মাহফূজ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
১৮ বছর বয়সে ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে, আজ ১১৪ কোটি ডলারের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে মাহফুজ আহমেদ

ঢাকার ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ শিক্ষার্থী ১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার জন্য। কয়েক বছর পর প্রযুক্তি খাতে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ১৯৯৪ সালে শুরু করেন নিজের ব্যবসা। সেই ছোট উদ্যোগই কয়েক দশকের ব্যবধানে পরিণত হয়েছে বিশ্বজুড়ে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ১১৪ কোটি ডলারের বার্ষিক আয়ের প্রতিষ্ঠান ডেক্সিয়ানে। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই উদ্যোক্তা মাহফুজ আহমেদ বর্তমানে ডেক্সিয়ানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি আজ প্রায় ১২ হাজার কর্মী নিয়ে বিশ্বের ৭০টি কার্যালয় থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।   ১৯৮৯ সালে ১৮ বছর বয়সে ঢাকায় একটি হাইস্কুলের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় মাহফুজ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁর দাদা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পড়াশোনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি ভার্জিনিয়ার জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে তিনি তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকেও উচ্চতর ব্যবসায় শিক্ষা সম্পন্ন করেন।   যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে মাহফুজ আহমেদের কোনো কর্ম-অভিজ্ঞতা ছিল না। জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাঁর প্রথম কাজ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাবে। এরপর প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে করতে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত সমস্যা, দক্ষ জনবলের প্রয়োজন এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবার বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর নিজের ব্যবসা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করে।   ১৯৯৪ সালে মাহফুজ আহমেদ ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেমস, সংক্ষেপে ডিআইএসওয়াইএস, প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির শুরু হয়েছিল একটি ছোট পরিসরের উদ্যোগ হিসেবে। সে সময় মাহফুজ আহমেদ নর্থরপ গ্রুম্যানের পরামর্শক এবং মবিল অয়েলের জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছিলেন। চাকরির পাশাপাশি শুরু করা এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি-সেবা সরবরাহ করা।   ব্যবসার বিকাশে তাঁর ভাই মারুফ আহমেদও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডিআইএসওয়াইএসের কৌশল, যাত্রা ও উন্নয়নে মারুফ গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৯৯ সালে অংশীদার ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হতে থাকে। প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসাও দ্রুত বাড়ে।   পরবর্তী সময়ে ডিআইএসওয়াইএস একের পর এক অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি বাড়ায়। ২০২১ সালে ফ্লোরিডাভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিগনেচার কনসালট্যান্টস অধিগ্রহণের পর ২০২৩ সালে ডিআইএসওয়াইএস নতুন ব্র্যান্ড পরিচয় হিসেবে ডেক্সিয়ান নাম গ্রহণ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষ জনবল সরবরাহ ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রযুক্তি সেবা দিয়ে থাকে। ভার্জিনিয়া বিজনেসের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ডেক্সিয়ানের প্রায় ১২ হাজার কর্মী বিশ্বের ৭০টি কার্যালয়ে কাজ করছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি ২০০টির বেশি ফরচুন ৫০০ কোম্পানিকে সেবা দিচ্ছে।   ব্যবসার আর্থিক আকারও এখন বড় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভার্জিনিয়া বিজনেসের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ডেক্সিয়ানের আয় ছিল ১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১১৪ কোটি ডলার। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে আরও সম্প্রসারণ করছে। ২০২৬ সালের জন্য মাহফুজ ও মারুফ আহমেদ দুজনই স্টাফিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যানালিস্টসের উত্তর আমেরিকার ১০০ প্রভাবশালী জনবল-সেবা খাতের নেতার তালিকায় স্থান পেয়েছেন।   ২০২৩ সালে ডেক্সিয়ানের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করার পর মাহফুজ আহমেদের ভাই মারুফ আহমেদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হন। এরপর মাহফুজ আহমেদ পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। ডেক্সিয়ানের বর্তমান নেতৃত্বের তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমের তদারকিতে যুক্ত রয়েছেন।   ব্যবসার পাশাপাশি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিও অবদান রেখেছেন মাহফুজ আহমেদ। ২০২২ সালে জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও কম্পিউটিং কলেজের প্রযুক্তি উদ্ভাবন তহবিলের জন্য তিনি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অনুদান দেন। ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি মাহফুজ ও মারুফ আহমেদ দুই ভাইকে তাঁদের ব্যবসায়িক সাফল্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি অবদানের জন্য সম্মানিত করে।   উদ্যোক্তা হিসেবে মাহফুজ আহমেদ ২০১৩ সালে আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং-এর গ্রেটার ওয়াশিংটন অঞ্চলের বর্ষসেরা উদ্যোক্তা পুরস্কারও পান। জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর প্রথম দিকের শিক্ষা ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা পরবর্তী ব্যবসায়িক পথ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   ঢাকা থেকে ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সেই শিক্ষার্থীর যাত্রা তাই কয়েক দশকে একটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পৌঁছানোর গল্প। ১৯৯৪ সালে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া ডিআইএসওয়াইএস আজ ডেক্সিয়ান নামে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালে ১১৪ কোটি ডলারের বার্ষিক আয় এবং প্রায় ১২ হাজার কর্মী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তার পেছনে প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ আহমেদের দীর্ঘ ব্যবসায়িক পথচলা এবং তাঁর ভাই মারুফ আহমেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৩:৩১
স্ত্রীকে না জানিয়ে পাকিস্তানে নেওয়া একটি তালাকের রায় টেক্সাসে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রীকে না জানিয়ে পাকিস্তানে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তালাক, টেক্সাসে স্বীকৃতি পেল না

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট স্ত্রীকে যথাযথভাবে না জানিয়ে পাকিস্তানে নেওয়া একটি তালাকের রায় টেক্সাসে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হিউস্টনের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী চৌধুরী ও হিরা আজহারের মামলায় আদালত বলেছে, স্ত্রী তালাকের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সময়মতো জানার এবং নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। গত শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া রায়ে আগের আদালতগুলোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য নিম্ন আদালতে পাঠানো হয়েছে।    আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০০৮ সালে পাকিস্তানে তাঁদের বিয়ে হয়। পরে তাঁরা হিউস্টনে বসবাস শুরু করেন। ২০১২ সালে ভিসা নবায়নের জন্য আজহার পাকিস্তানে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালে চৌধুরী ‘তালাক’ পদ্ধতিতে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। আজহারের দাবি, তাঁকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি; বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার প্রায় দুই বছর পর তিনি তা জানতে পারেন।    চৌধুরীর পক্ষ থেকে বলা হয়, পাকিস্তানের একটি স্থানীয় সংবাদপত্রে তালাকের প্রক্রিয়ার পাঁচ দিন আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টেক্সাস সুপ্রিম কোর্টের মতে, এই মামলায় শুধু ওই বিজ্ঞপ্তি যথেষ্ট ছিল না। স্ত্রীকে ফোন, বার্তা, ইমেইল বা অন্য মাধ্যমে জানানোর সুযোগ ছিল না, এমন কোনো প্রমাণও আদালতে দেওয়া হয়নি।    ২০১৫ সালে হিউস্টনে ফিরে আজহার টেক্সাসের আদালতে বিবাহবিচ্ছেদ ও বৈবাহিক সম্পত্তি ভাগের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত পাকিস্তানের বিচ্ছেদকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর আবেদন খারিজ করেছিল; আপিল আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল। মামলার নথিতে দাম্পত্যকালে অর্জিত যৌথ সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ডলারের বেশি বলে উল্লেখ আছে।    সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায়ে আজহারকে কোনো সম্পত্তির অংশ দেওয়া হয়নি। রায়ের ফল হলো, পাকিস্তানের ওই বিচ্ছেদকে ভিত্তি করে তাঁর টেক্সাসের আবেদন খারিজ রাখার সিদ্ধান্ত আর বহাল থাকছে না। মামলাটি এখন নিম্ন আদালতে ফিরে যাবে।    আদালত আরও স্পষ্ট করেছে, বিদেশে দেওয়া সব বিবাহবিচ্ছেদের রায় বা সব তালাক টেক্সাসে অগ্রহণযোগ্য বলে তারা সিদ্ধান্ত দেয়নি। এই মামলার নির্দিষ্ট কারণ ছিল যথাযথ নোটিশ ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগের অভাব। 

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৩:৪০
সাহসী চার ইসরায়েলি যাত্রীকে বেসামরিক বীরত্বের সম্মাননার জন্য সুপারিশ করবেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। ছবি: সংগৃহীত
বিমানে হামলা ঠেকানো চার যাত্রীকে সম্মাননার সুপারিশ ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের, ভারতীয় পাইলটের প্রশংসা

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সহকারী পাইলটের হামলার সময় এগিয়ে আসা চার ইসরায়েলি যাত্রীকে বেসামরিক বীরত্বের সম্মাননার জন্য সুপারিশ করবেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। গুরুতর আহত হয়েও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।    সুপারিশের তালিকায় আছেন ইয়ানিভ হায়ুন, তসভিকা মানেস, আসাফ রেজুয়ান ও দন্তচিকিৎসক শোতা মুসায়েভ। হারজগের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম তিনজন ককপিটে ঢুকে সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর আহত ক্যাপ্টেনকে চিকিৎসা দেন মুসায়েভ। তসভিকার স্ত্রী তালি মানেস প্রথম অন্য যাত্রীদের ককপিটে বিপদের কথা সতর্ক করেছিলেন। হারজগ তাঁর ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন।   বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি দুবাই থেকে তেল আবিব যাচ্ছিল। ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মাঝ আকাশে সহকারী পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে থাকে। ফ্লাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরবের আকাশে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি ১৪ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমেছিল।   আহত অবস্থায় মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে সহকারী পাইলটকে আটকান। হায়ুন জানান, হামলাকারীকে সরানোর পর তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ সামলে সেটিকে সোজা করতে সাহায্য করেন। পরে বিমানে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের আরেক দল পাইলট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন।   ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, বিমানের সব যাত্রী ও ক্রুর খোঁজ পাওয়া গেছে এবং তাঁরা নিরাপদে আছেন। যাত্রী ও ক্রুদের ফিরিয়ে আনতে তাবুকে দুটি বিকল্প বিমান পাঠায় সংস্থাটি। ভারতের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছার চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠছেন।   ঘটনার পর তদন্ত চলাকালে ইসরায়েলগামী এবং ইসরায়েল থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা দিতে কাজ করার কথাও জানিয়েছে তারা।   হামলার উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সহকারী পাইলটের উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু দাবি করেছেন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ, পূর্বপরিকল্পনা বা সন্ত্রাসবাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা তদন্ত করছে। ফ্লাইদুবাইও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে উদ্দেশ্য নিয়ে অনুমান না করার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৩:৪
যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে ভারতের কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের দুটি ক্যাটাগরি আবার উন্মুক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে ভারতের কিছু আবেদনকারীর অগ্রগতি, বাংলাদেশিদের চিত্র ভিন্ন

যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে ভারতের কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের দুটি ক্যাটাগরি আবার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ভারতের ইবি-২ এবং সাধারণ ইবি-৫ ক্যাটাগরি ‘অনুপলব্ধ’ ছিল। নতুন বুলেটিনে সেগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাটঅফ তারিখ যথাক্রমে ১ নভেম্বর ২০১৩ ও ১ ডিসেম্বর ২০২৩। ভারতের ইবি-১ ক্যাটাগরির তারিখও এগিয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিউজউইকের প্রতিবেদনে মূলত এই অগ্রগতির দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।    তবে অক্টোবরের পরিবর্তন সব আবেদনকারীর জন্য সুখবর নয়। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীরা সাধারণত বুলেটিনের ‘অন্যান্য দেশ’ কলামের অধীনে পড়েন। সেই কলামে ইবি-১ এবং সাধারণ ইবি-৫ ক্যাটাগরি আগের মতোই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও ইবি-২-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ অবস্থা থেকে পিছিয়ে ১ জানুয়ারি ২০২৫ হয়েছে। ইবি-৩ দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবী ক্যাটাগরির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ১৫ মে ২০২৪ হয়েছে। ইবি-৩ ‘অন্যান্য কর্মী’ ক্যাটাগরিতে তারিখ ১ এপ্রিল ২০২২ থেকে পিছিয়ে ১ জানুয়ারি ২০২২ হয়েছে।    এসব তারিখ দিয়ে গ্রিন কার্ড হাতে পাওয়ার সম্ভাব্য দিন বোঝানো হয় না। আবেদনকারীর প্রাইয়োরিটি ডেট বা অগ্রাধিকার তারিখ সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাটঅফের আগে থাকলে ভিসা নম্বর দেওয়া বা গ্রিন কার্ড আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কাটঅফ এগোলে অপেক্ষার সারিতে নতুন কিছু আবেদনকারী সামনে আসেন; পিছিয়ে গেলে কিছু আবেদনকারীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আরও অপেক্ষায় পড়ে।    এখানে আবেদন জমা দেওয়া এবং আবেদন অনুমোদন পাওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে কর্মভিত্তিক আই-৪৮৫ আবেদন জমার যোগ্যতা নির্ধারণে ইউএসসিআইএস ‘আবেদনের তারিখ’ সারণি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য প্রযোজ্য ‘অন্যান্য দেশ’ কলামে ওই সারণিতে ইবি-২-এর তারিখ ১৫ মার্চ ২০২৬, ইবি-৩ দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের ১ আগস্ট ২০২৪ এবং ইবি-৩ অন্যান্য কর্মীদের ১ জুন ২০২২। অন্য সব শর্ত পূরণ হলে এই কাটঅফের আগের প্রাইয়োরিটি ডেটধারী কেউ আবেদন জমা দিতে পারেন; চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তবু আলাদা ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ’ দেখতে হবে।    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে নতুন অর্থবছরের ভিসা সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। এতে কয়েকটি ক্যাটাগরি এগোলেও ‘অন্যান্য দেশ’ শ্রেণির কিছু কর্মভিত্তিক তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভিসা ইস্যু বছরের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১২:২৫
সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ছবি: সংগৃহীত
রাড্ডাকান্ডের সমালোচনার মাঝেই পদত্যাগ করলেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী মিষ্টি

ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে আলোচনায় থাকা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র দেন। সংসদ সচিবালয় সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করেছে।    বিকেলে স্পিকার সাংবাদিকদের বলেন, পদত্যাগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আসনটি শূন্য হয়েছে এবং পদত্যাগ সেদিন থেকেই কার্যকর। শূন্য আসন পূরণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে জানানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে আসনটি পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে; একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন।    গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে চিকিৎসা সরঞ্জামসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মিষ্টি আগে দাবি করেছিলেন, হামলা বা ভাঙচুরে তাঁর কোনো হাত নেই।   বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত ও ফৌজদারি তদন্ত পৃথক বিষয় বলেও তিনি জানান। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নিশ্চিত করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছিলেন।    স্পিকারের দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মিষ্টি তখন পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করেননি। তিনি তদন্ত হওয়ার কথা বলেন এবং দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই হবে বলে মন্তব্য করেন। পরে স্পিকারের বক্তব্য ও সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়। 

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১২:২০
মালয়েশিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন বিনিয়োগ সম্মেলনে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি হাতে বাংলাদেশের ইফতেখার সাফিন। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের ইফতেখার সাফিন

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৬-এর শিক্ষার্থী ব্যবসা উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবক ইফতেখার সাফিন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী একাধিক বাছাইপর্ব পেরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ তিন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে নিজের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে তিনি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।   বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগিতায় আবেদন করার পর একাধিক ধাপের বাছাইপ্রক্রিয়ায় অংশ নেন সাফিন। বাছাই শেষে তিনি এশিয়ার শীর্ষ তিন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। এর ভিত্তিতে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি সম্পূর্ণ অর্থায়িত অংশগ্রহণের সুযোগ পান। চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের একমাত্র সরাসরি অংশগ্রহণকারী ও উপস্থাপক হিসেবে তিনি নিজের প্রকল্প বিচারকদের সামনে তুলে ধরেন।   সাফিনের বিজয়ী প্রকল্পের নাম ‘স্কিলব্রিজ আয়-অংশীদারিত্ব কাঠামো’। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার মধ্যকার ব্যবধান কমানো এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের পথে থাকা আর্থিক বাধা দূর করার একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা। প্রকল্পটি বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের শিল্পখাতের উপযোগী দক্ষতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণের পর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে।   প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার শুরুতে কোনো অগ্রিম কোর্স ফি দিতে হবে না। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণে অর্থায়ন করতে পারবে। পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী চাকরি পাওয়ার পর তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিস্তিতে প্রশিক্ষণের খরচ পরিশোধ করবে। অর্থাৎ প্রকল্পটির মূল ধারণা হলো আগে দক্ষতা অর্জন, এরপর কর্মসংস্থান এবং তারপর আয়ের সঙ্গে যুক্ত কিস্তিতে প্রশিক্ষণের খরচ পরিশোধ।   সাফিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই ব্যবস্থা তুলনামূলক কম খরচে বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ জন্য অতিরিক্ত ব্যয়বহুল প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতার প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠান এবং করপোরেট খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।   বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৬ মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত একটি জাতীয় পর্যায়ের উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, উদ্ভাবক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও সরকারি সংস্থার মধ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্প ও বিনিয়োগের সংযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, গবেষক ও উদ্ভাবকেরা অংশ নেন।   বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়াকে দেশের তরুণ উদ্ভাবনশীলতার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর মতো একটি বাস্তব সমস্যাকে কেন্দ্র করে তৈরি প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পেয়েছেন সাফিন। তার এই অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের ধারণা, গবেষণা ও উদ্ভাবন তুলে ধরার ক্ষেত্রেও উৎসাহ জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১১:৫২
আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এ বিশ্বের শীর্ষ ছয় দলের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’। ছবি: সংগৃহীত
১১৯ দল পেরিয়ে আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জে বিশ্বসেরা ছয়ে বাকৃবির শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দল ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’ আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এ বিশ্বের শীর্ষ ছয় দলের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ও খাদ্যনিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১১৯টি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এ সাফল্য অর্জন করেছে দলটি।    ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’ দলের আট সদস্যের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা হলেন মুর্শিদা জাহান মিতু, নূর আয়শা চৌধুরী, আরকানুল ইসলাম আকিক, সাদিয়া ইসলাম বাধন, সাইফা সাবা হোসাইন এবং কুর্চি রহমান লুবা। দলের অন্য দুই সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিটন ত্রিপুরা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহসানি তাকবিম এশা।    প্রতিযোগিতার শুরুতে ১১৯টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়ে দলটি শীর্ষ ৩০-এ জায়গা করে নেয়। এরপর প্রস্তাবিত সমাধান বাস্তবায়ন ও উন্নয়নের জন্য দলটি ১ হাজার ইউরোর বীজ অনুদান পায়। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস ধরে মাঠপর্যায়ের কাজ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হয়।    ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’-এর প্রকল্পটি মূলত পাট ও পাটজাত উপকরণ ব্যবহার করে টেকসই মাছ চাষব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। প্রকল্পটির লক্ষ্য পুকুরের পাড়ের ভাঙন কমানো, পানির মান উন্নত করা এবং পাটের বর্জ্য ও উপজাতকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্রাকার ও পরিবেশবান্ধব জলজ খাদ্যব্যবস্থা তৈরি করা। প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে পাটজাত উপকরণ, জৈব কয়লা এবং প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান ব্যবহারের মাধ্যমে মাছ চাষকে আরও টেকসই করার বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়েছে।    আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জটি নেদারল্যান্ডসের ওয়াখেনিনজেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ এবং নেদারল্যান্ডস ফুড পার্টনারশিপ যৌথভাবে আয়োজন করে। ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় ১৭টি অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩০টি দল নির্বাচিত হয়েছিল। ২৯ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের ওয়াখেনিনজেনে প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।    প্রকল্পটির উন্নয়নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ দলটির পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে তার দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা তাদের কাজকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোফিজুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমানও প্রকল্পের উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা, পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছেন।    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে শীর্ষ ছয়ে পৌঁছানোকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষি ও জলজ খাদ্যব্যবস্থার সমস্যা থেকে উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১১:৪৭
হাইতির সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গিলবার্ট বিজিও ৯১ বছর বয়সে পরলোকগমণ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
কর ফাঁকি দিয়ে হাজার কোটি ডলার সম্পদ পাচার করা হাইতির বিতর্কিত ধনকুবেরের প্রয়াণ

বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হাইতির সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গিলবার্ট বিজিও ৯১ বছর বয়সে পরলোকগমণ করেছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের ব্যবসায়িক জীবনে তিনি দেশটির সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, কৃষিপণ্য, জ্বালানি এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতে একক আধিপত্যের এক বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। তবে কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল সম্পদ লুকিয়ে রাখা এবং নিজ দেশের মারাত্মক সহিংসতায় লিপ্ত সশস্ত্র বাহিনীকে অর্থায়নের আন্তর্জাতিক অভিযোগে তাঁর সুদীর্ঘ বাণিজ্যিক সুনাম চরমভাবে ক্ষুণ্ন ও বিতর্কিত হয়ে পড়ে।   গিলবার্ট বিজিও ১৯৭২ সালে জিবি গ্রুপ নামের এক বিশাল বহুভাষিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী সময়ে বিজিও নামে পুনর্নামকরণ করা হয়েছিল। দেশের প্রথম ইস্পাত কারখানা আসিরি দ্য হাইতি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে পুরো দেশের অর্থনীতিকে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। আধুনিক সময়ে এসে এটি মোট ১৩টি বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ৬টি প্রধান খাত জুড়ে পরিচালিত হতো। প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি কর্মীর এই বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক পুরো দেশের নির্মাণ সামগ্রী, আন্তর্জাতিক কনটেইনার বন্দর ব্যবস্থাপনা, পেট্রোলিয়াম পদার্থ এবং রান্নার তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করত।   ২০২১ সালে প্রকাশ পাওয়া বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টিকারী প্যান্ডোরা পেপার্স নামের আন্তর্জাতিক গোপন নথিপত্রে এই ধনকুবেরের নাম অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে আসে। সেখানে উদঘাটন করা হয় যে নিজ দেশের চরম political ও অর্থনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে বিজিও পরিবার করমুক্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দ্বীপে শত শত গোপন অ্যাকাউন্ট খুলে নিজেদের বিপুল অর্থ গোপন করে আসছিলেন। দেশের এই শীর্ষ ধনী পরিবার অত্যন্ত চতুরতার সাথে শত শত কোটি ডলার পাচার করে আমেরিকার মিয়ামি ও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক এবং ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে স্থানান্তর করেন, যার ফলে হাইতির রাষ্ট্রীয় অর্থভাণ্ডার বিশাল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।   আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ গবেষকরা সরাসরি প্রমাণ করেছেন যে হাইতির এই চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক দারিদ্র্যের পেছনে বিজিওর মতো প্রভাবশালী ধনী শ্রেণীর রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার নীতি প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। কর আদায়ে সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং বিজিওদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অক্ষমতার কারণে দেশের জনকল্যাণমূলক খাত ও অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পূর্ণ থমকে যায়। এরপর ২০২২ সালে হাইতির পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীকে মদদ দেওয়া ও সহিংসতায় অর্থায়নের অভিযোগে কানাডা সরকার বিজিওর ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে কঠোর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবনের শেষ কয়েক দশকে গিলবার্ট বিজিও প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে আমেরিকার মিয়ামির অতি ধনী এলাকা এবং ডমিনিকান রিপাবলিকের বিলাসবহুল আবাসে বসবাস করতেন। বিতর্কিত ধনকুবের এবং আন্তর্জাতিক যৌন অপরাধী জেফ্রি এপেস্টাইনের বাজেয়াপ্ত করা বিলাসবহুল গাড়ি চড়া দামে কিনে নিয়েও তিনি বিভিন্ন সময়ে বৈশ্বিক গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্যমতে, ফ্লোরিডার নিজস্ব আবাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি এবং স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাঁর শেষকৃত্যের আয়োজন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   সূত্র: মিয়ামি হেরাল্ড

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১১:২৮
টেক্সাসের সরকারি স্কুলগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে নতুন অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে এক বছরে অভিবাসী শিক্ষার্থী কমেছে ১৪ হাজারের বেশি

টেক্সাসের সরকারি স্কুলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অভিবাসী হিসেবে নথিভুক্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ২৭৯ জন কমেছে। অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগের প্রকাশিত হিসাবে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩১; পরের বছর তা নেমেছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫৫২ জনে। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য টেক্সাস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনটি কেডব্লিউটিএক্সও প্রকাশ করেছে।    অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদারের সময়েই এই পতন ঘটেছে। অস্টিন ও হিউস্টনের স্কুল কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার বা ফেরত পাঠানো নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া ও ভর্তি থাকার ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে রাজ্যের হিসাব থেকে শিক্ষার্থী কমার একটি নির্দিষ্ট কারণ প্রমাণ করা যায় না।   হিসাবটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এখানে ‘অভিবাসী’ শব্দটি আইনি মর্যাদা বোঝায় না। শিক্ষা বিভাগের সংজ্ঞায় ৩ থেকে ২১ বছর বয়সী, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির স্কুলে তিন পূর্ণ শিক্ষাবর্ষের বেশি পড়েনি - এমন শিক্ষার্থী এই শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলগুলো শিক্ষার্থীর নাগরিকত্ব বা অভিবাসন মর্যাদা জানতে চায় না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে টেক্সাসে স্কুলে পড়ছে এমন বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুও এই নির্দিষ্ট হিসাবের বাইরে থাকতে পারে।   বড় শহরগুলোর কয়েকটি স্কুল জেলায় পতন বেশি। টেক্সাস ট্রিবিউনের হিসাবে, হিউস্টন স্কুল জেলায় এক বছরে অভিবাসী হিসেবে নথিভুক্ত শিক্ষার্থী কমেছে ২২ শতাংশ। কম ভর্তির কথা জানিয়ে নতুন আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত লাস আমেরিকাস স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্তও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে অঙ্গরাজ্যের সব জায়গায় একই চিত্র নয় - সান আন্তোনিওর নর্থসাইড স্কুল জেলায় এই শ্রেণির শিক্ষার্থী বেড়েছে ৯ শতাংশ।   অভিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে কাজ করা সংগঠন ইমস্কুলসের কর্মকর্তা এসমেরালদা আলদে ট্রিবিউনকে বলেছেন, কিছু পরিবার সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে; কারও মা-বাবা আটক হওয়ায় বড় সন্তানকে কাজেও নামতে হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য, আইসিই স্কুলকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায় না। পরিবারের অভিজ্ঞতা ও সরকারের বক্তব্য দুটিই প্রতিবেদনে এসেছে; রাজ্যজুড়ে শিক্ষার্থী কমার প্রত্যেকটি ঘটনার ব্যাখ্যা কোনো পক্ষই দেয় না।   শিক্ষার্থী কমার প্রভাব শ্রেণিকক্ষের বাইরেও যায়। টেক্সাসে স্কুলের সরকারি অর্থায়নের বড় অংশ শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে উপস্থিতি ও ভর্তি কমলে স্কুল জেলার বরাদ্দে চাপ পড়তে পারে। রাজ্যের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সব শিক্ষার্থী মিলিয়ে টেক্সাসের সরকারি স্কুলে আগের বছরের চেয়ে ৭৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কম ছিল। এই মোট সংখ্যা এবং অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুটি আলাদা হিসাব।   যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শিক্ষার্থী বা তার মা-বাবার অভিবাসন মর্যাদা যা-ই হোক, সেই কারণে কোনো শিশুকে সরকারি প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি থেকে বাদ দেওয়া যায় না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১১:৭
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিজের ব্যক্তিগত বিদেশ সফরের জন্য অনুদান চেয়ে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকা স্টেফানি মুলালি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে বাড়তি নম্বরের অভিযোগ, এ যেন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে নিজের ব্যক্তিগত বিদেশ সফরের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনুদান চাওয়ার অভিযোগে এক স্কুল শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্টেফানি মুলালি নামের ওই বদলি শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তার তহবিলে টাকা দিলে বিনিময়ে পরীক্ষায় তাদের অতিরিক্ত নম্বর (এক্সট্রা ক্রেডিট) দেওয়া হবে। স্কুলের নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে গত ২৯ মে ক্লিনটন কমিউনিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে।   প্রশাসনিক আইন বিচারক ডুয়েন গোল্ডেনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হাইস্কুলের ওই শিক্ষিকা ক্লাসের শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তারা তার ব্যক্তিগত 'গোফান্ডমি' অ্যাকাউন্টে অনুদান দিলে তাদের গ্রেডের সঙ্গে বাড়তি নম্বর যোগ করা হবে। শিক্ষিকার এমন প্রস্তাবে শিক্ষার্থীরা তার তহবিলে টাকা দিতে একপ্রকার মানসিক চাপের মুখে পড়েছিল। জানা যায়, জুলাই মাসে স্বামী নিককে নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে একটি 'মেডিকেল মিশন' বা চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে যাওয়ার জন্য ওই তহবিল খুলেছিলেন তিনি। সফরের খরচ মেটাতে ১ হাজার ৮০০ ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন মুলালি। তবে শেষ পর্যন্ত পাঁচ থেকে পঞ্চাশ ডলারের মধ্যে মাত্র ছয়টি অনুদান থেকে তিনি ১৪০ ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।   বরখাস্ত হওয়া ওই শিক্ষিকা তার মুছে ফেলা তহবিল সংগ্রহের পেজে দাবি করেছিলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে ইকুয়েডর সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছেন, তবে এর জন্য বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। ফেসবুকেও তিনি লিখেছিলেন, চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত একটি সম্প্রদায়কে সাহায্য করার এই সুযোগটি ঈশ্বরের আশীর্বাদ। এই সফরে তিনি মূলত ভাষাগত বাধা দূর করতে দোভাষী হিসেবে কাজ করবেন এবং তার স্বামী আনুষঙ্গিক কাজে সহায়তা করবেন। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি এটিকে নিজের শিক্ষার খরচ মেটানোর একটি অনন্য সুযোগ হিসেবেও তুলে ধরেছিলেন। তবে মহৎ উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও, শিক্ষিকাসুলভ পেশাদারি আচরণ লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীদের অনুদান দিতে প্ররোচিত করায় শেষ পর্যন্ত তাকে লজ্জাজনকভাবে চাকরি হারাতে হলো।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১০:৪৯
অনলাইন দুনিয়ায় দক্ষিণ এশীয় নাগরিকদের লক্ষ্য করে বর্ণবাদী আচরণ ও বিদ্বেষ ক্রমেই বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাজিট’-এর পর ভারতীয় নারীদের নিশানা করে নতুন বর্ণবাদী গালি ‘ল্যাট্রিনাস’

অনলাইন দুনিয়া যেন দক্ষিণ এশীয়দের জন্য ক্রমেই আরও বৈরী হয়ে উঠছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ও শিখ পুরুষদের অবমাননা করতে ‘পাজিট’ নামের একটি বর্ণবাদী গালির ব্যাপক বিস্তার দেখা গিয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রবাসী ভারতীয় নারীদের নিশানা করে ‘ল্যাট্রিনাস’ নামের নতুন একটি ঘৃণ্য শব্দ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। এক্স (সাবেক টুইটার) এবং থ্রেডসের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভিসা নীতি কঠোর করার পক্ষের কট্টরপন্থী ব্যবহারকারীরা এই অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করে ভারতীয় নারীদের প্রতি বিষোদ্‌গার করছেন।   ভাষাগত দিক থেকে ‘ল্যাট্রিনা’ শব্দটি লাতিন ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ শৌচাগার বা পাবলিক টয়লেট। সম্প্রতি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্য উৎসব ও পর্যটনকেন্দ্রে অংশ নেওয়া ভারতীয় নারীদের ছবির ক্যাপশনে এই আপত্তিকর শব্দটি ব্যাপকভাবে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই শব্দের সুনির্দিষ্ট উৎপত্তি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, ‘ইন্ডিয়ান গার্লস আর দ্য নিউ ল্যাটিনাস’ শীর্ষক একটি সাম্প্রতিক পোস্টকে বিকৃত করে বর্ণবাদীরা ‘ল্যাটিনাস’ শব্দটিকে ‘ল্যাট্রিনাস’-এ রূপান্তর করেছে। এমনকি গত ২৫ সেপ্টেম্বর এক্স-এর বৈশ্বিক ট্রেন্ডিংয়ের ৬৫ নম্বর স্থানেও উঠে এসেছিল এই বিদ্বেষমূলক শব্দটি।   শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের এই ধরনের ঘৃণ্য প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রবাসী ভারতীয়রা। সিয়াটলের বাসিন্দা অনু এ. নামের এক নারী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এত অবদান রাখার পরও এমন গালি শোনা চরম বিরক্তিকর ও ঘৃণ্য। এর আগে এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি বৃদ্ধির ঘোষণার পর ‘পাজিট’ বা এর বিকৃত রূপ ‘পুপজিট’ শব্দগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। মূলত সম্মানসূচক পাঞ্জাবি শব্দ ‘পাজি’ (বড় ভাই) থেকে বিকৃত করে ভারতীয় পেশাজীবীদের লক্ষ্য করে ওই গালিটি তৈরি করা হয়েছিল।   যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদী আচরণের এটি একটি নতুন ও ভীতিকর রূপ। ‘স্টপ এএপিআই হেট’-এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অনলাইনে দক্ষিণ এশীয়দের লক্ষ্য করে বর্ণবাদী গালি ব্যবহারের হার ১০৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেই প্রায় ৮৮ হাজার বর্ণবাদী গালি রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনের এই ঘৃণ্য বিদ্বেষ শুধু কিবোর্ডের জগতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এটি অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর জন্য একটি বৃহত্তর বৈরী ও হুমকিস্বরূপ পরিবেশ তৈরি করছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১০:৪১
টেনেসিতে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা গেইল পাইক। ছবি: সংগৃহীত
টেনেসিতে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু না হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা গেইল পাইককে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও তাঁর মৃত্যু হয়নি। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি একটি নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করে স্বাধীন পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।    ৫০ বছর বয়সী পাইক ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত। অপরাধের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। বুধবার সকালে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা থাকলেও আপিল আদালতের স্থগিতাদেশে তা আটকে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করলে রাতে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।    প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, পাইককে পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরও তিনি জীবিত ছিলেন। তাঁর আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে আদালতে আবেদন করেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য কারাগারের বাইরে নেওয়া হয়। তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আইনজীবীদের কাছে তখন বিস্তারিত তথ্য ছিল না।   টেনেসির সংশোধন বিভাগ দাবি করেছে, অনুমোদিত নিয়মের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। তবে সেই নিয়মে প্রথম দফার পর দণ্ডিত ব্যক্তি জীবিত থাকলে দ্বিতীয় দফা ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও, দ্বিতীয় দফার পরও জীবিত থাকলে কী করতে হবে, তা নির্দিষ্ট করা নেই বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। গভর্নর বিল লি ঠিক কী ঘটেছে, তা জানতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।   চলতি বছর টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে জটিলতার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। মে মাসে আরেক দণ্ডিত ব্যক্তির শরীরে ওষুধ দেওয়ার জন্য শিরায় সংযোগ স্থাপন করতে না পারায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করতে হয়েছিল। তবে পাইকের ক্ষেত্রে ওষুধ দেওয়ার পরও মৃত্যু না হওয়ার ঘটনাকে ব্যতিক্রমী বলেছেন মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবিন মাহের।   ফেসবুক হুক: আদালতের স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার পর রাতে শুরু হয়েছিল মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া। দুই দফা ইনজেকশন দেওয়ার পরও জীবিত ছিলেন ক্রিস্টা পাইক। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি চলতি বছরের বাকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে টেনেসি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১০:২৯