- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ভারতীয় নাগরিক ও ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। মঙ্গলবারের ওই ঘটনায় তিনি হামলাকারীকে ঠেকানোর পাশাপাশি ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সুযোগ করে দেন, যাতে বিমানের যাত্রী ও অন্য সদস্যরা ভেতরে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা দুই পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করান। ভারতীয় ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্মিত মাচ্ছারের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার ঘণ্টা উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা থাকা এই পাইলট ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থা স্পাইসজেটে প্রায় ১১ বছর কাজ করেছেন। মঙ্গলবারের ঘটনার পর তার ভূমিকার কারণে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঘটনার সময় বিমানটি ইসরায়েলের উদ্দেশে যাচ্ছিল। উড্ডয়নের একপর্যায়ে সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন বলে কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এতে তিনি একাধিকবার আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সক্রিয় করতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও অন্যরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান রয়টার্সকে জানান, আহত অবস্থায় মাচ্ছার তার অবশিষ্ট শক্তি ব্যবহার করে ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারী তখন বিমানের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের সামনে অবস্থান করছিলেন এবং সেটিতে আঘাত করছিলেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই সময় বিমানটির নিয়ন্ত্রণে গুরুতর সমস্যা তৈরির আশঙ্কা ছিল। ঘটনার পর বিমানে থাকা দুই দায়িত্বের বাইরে থাকা পাইলট ককপিটে গিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। তাদের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। অবতরণের পর আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হামলাকারীও আহত হয়েছেন এবং তাকেও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে। ঘটনার পর বিমানের ভেতরের কিছু দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মাচ্ছারকে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় আহত অবস্থায় দেখা যায়। যাত্রীদের কয়েকজনও রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দৃশ্যের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফ্লাইটের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় বিমানটি মাত্র ১২ মিনিটে প্রায় ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়। তীব্রভাবে উচ্চতা কমে যাওয়ার সময় বিমানের রাডারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন পর্যায়ে এই ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। হামলার ঘটনায় সহ-পাইলটকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ওমানের নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এক বছরেরও কম সময় আগে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দিয়েছিলেন বলে জেরুজালেম পোস্টকে সূত্র জানিয়েছে। তবে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে এবং হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনাটিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার দিক থেকেও তদন্ত করছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য বা এর সঙ্গে কোনো সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের বর্তমান শারীরিক অবস্থাও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হামলার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার আঘাত কতটা গুরুতর এবং বর্তমানে তিনি কেমন আছেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। বিমানটিতে মোট ১৮০ জন ছিলেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ককপিটে হামলার পর যাত্রীদের কয়েকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। তাদের ভূমিকার পাশাপাশি দায়িত্বের বাইরে থাকা দুই পাইলটের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয় বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিমানে এমন ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে ককপিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ক্রুদের প্রশিক্ষণ এবং যাত্রীদের জরুরি ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনার তদন্তে হামলার সঠিক কারণ, ককপিটে কীভাবে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে একটি বাড়ি থেকে তিন বছরের কম বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাদের মায়ের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত ৩১ বছর বয়সী জাস্টিন মেরি মে। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চার্লসটনের কাছে ল্যাডসন এলাকার একটি বাড়িতে শিশু দুটির মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার আগে পরিবারের সদস্যরা কয়েক সপ্তাহ ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চার্লসটন কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১টার কিছু পর ল্যাডসনের পাইনউড ড্রাইভের একটি বাড়িতে বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিতে যান পুলিশ সদস্যরা। সেখানে গিয়ে তারা দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় পান। পরে বাড়ির মালিক জাস্টিন মেরি মেকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ হওয়ার অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে চার্লসটন কাউন্টির আল ক্যানন ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু দুটির পরিচয় প্রকাশ করেনি। তবে পরিবারের সদস্যরা আটলান্টার সাংবাদিক কোডি অ্যালকর্নকে জানিয়েছেন, তাদের নাম এমোরি ও হারলো। দুজনের বয়সই তিন বছরের কম। নিউজউইকের পর্যালোচনা করা সম্পত্তির নথি অনুযায়ী, পাইনউড ড্রাইভের বাড়িটির মালিক ছিলেন জাস্টিন এবং তার স্বামী হিসেবে নথিতে উল্লেখ থাকা ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। সাউথ ক্যারোলিনাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিটসনিউজের হাতে আসা আদালতের প্রাথমিক নথিতে শিশুদের মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য উঠে এসেছে। ওই নথির বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তদন্তকারীদের কাছে জাস্টিন বলেছেন, আগের দুই সপ্তাহের ঘটনা তার কাছে অস্পষ্ট মনে হচ্ছিল। শেষ কবে দুই মেয়েকে খাবার বা পানি দিয়েছিলেন, সেটিও তিনি মনে করতে পারছিলেন না বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব তথ্য এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফিটসনিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাস্টিন তদন্তকারীদের কাছে শিশুদের খাবার না পাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেন। সন্তানদের যথাযথ খাবার না দেওয়া অবহেলার শামিল বলেও তিনি স্বীকার করেছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজেকে শিশু দুটির একমাত্র দেখাশোনাকারী হিসেবে পরিচয় দেন এবং মৃত্যুর আগের কয়েক সপ্তাহে বাড়িতে অন্য কেউ ছিলেন না বলে জানান। এসব বক্তব্যের সত্যতা ও মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা তদন্তের বিষয়। প্রাথমিক নথি অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছানোর পর জাস্টিনকে বাইরে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। সে সময় তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল বলে তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন। পরে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, এর আগেও ওই বাড়ির বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিতে পুলিশকে সেখানে যেতে হয়েছিল। তবে পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোতে ঠিক কী পাওয়া গিয়েছিল, তা বিস্তারিত জানা যায়নি। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগে জাস্টিনের আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। এর আগে দীর্ঘদিন তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল বলে তারা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে স্বজনেরা সাউথ ক্যারোলিনার সমাজসেবা বিভাগে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি পুলিশকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন এবং জরুরি মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাকারী দলের সহযোগিতাও চান। পরিবারের দাবি, তাদের উদ্বেগ যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। একপর্যায়ে ছোট মেয়ে হারলোর শরীরে গুরুতর ফুসকুড়ি দেখা যাচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া একটি ছবি দেখে স্বজনেরা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে জাস্টিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও তারা জানিয়েছেন। শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধারের এক দিন আগে জাস্টিনের মা স্থানীয় পুলিশপ্রধানকে ইমেইল করে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি। এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মৃত্যুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী কী তথ্য পেয়েছিল এবং সেগুলোর ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে সমাজসেবা বিভাগ বা অন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। জাস্টিনের আচরণ পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কেও কোনো চিকিৎসাগত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এদিকে তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন, শিশুদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় না দেওয়ার ঘটনা তাদের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ফিটসনিউজের প্রকাশিত প্রাথমিক নথিতে ময়নাতদন্তের ফলাফল বা মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ উল্লেখ করা হয়নি। চার্লসটন কাউন্টির করোনার কার্যালয়ও প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাস্টিন তার জামিনসংক্রান্ত শুনানির অধিকার ছেড়ে দেন। ফলে তিনি আপাতত হেফাজতেই থাকছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০ নভেম্বর তার প্রাথমিক আদালতে হাজিরার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাউথ ক্যারোলিনার আইনে শিশু নির্যাতন বা অবহেলার ফলে মৃত্যু ঘটানোর অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে কার্যকর হওয়া সংশোধিত আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর মৃত্যু নির্যাতন বা অবহেলার ফলে ঘটলে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রমাণিত হলে সরাসরি দায়ী ব্যক্তির সর্বনিম্ন ২০ বছরের কারাদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবে জাস্টিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে কোন সাজা প্রযোজ্য হবে, তা বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় মায়ের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার আরও কয়েকটি ঘটনা আলোচনায় এসেছে। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ২০২৩ সালে তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে মামলা হয়। তার আইনজীবীরা ঘটনার সময় গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতার যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে প্রসিকিউটররা তার ফৌজদারি দায় রয়েছে বলে অবস্থান নেন। সেপ্টেম্বরে ওই মামলায় বিচারকমণ্ডলী সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বিচারক বিচারপ্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা করেন ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেও দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার মা কোরি ওয়ালশের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। ওই মামলায়ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যুক্তি আদালতে তোলা হয়েছে। তবে জাস্টিন মেরি মের মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট মানসিক রোগের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পৃথক মামলাগুলোর পরিস্থিতিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। ল্যাডসনের ঘটনায় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে পরিবারের আগাম সতর্কবার্তা। স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা শিশু দুটির নিরাপত্তা নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তদন্তের পাশাপাশি এসব যোগাযোগের নথি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পদক্ষেপও পর্যালোচনা করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুই শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, মৃত্যুর আগের পরিস্থিতি এবং কারও অবহেলা আইনগতভাবে প্রমাণিত হয় কি না, তা নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জাস্টিন মেরি মে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন। সূত্র: নিউজউইক, ফিটসনিউজ।
রাতে ঘুমানোর আগে ফোন চার্জে দিয়ে বালিশের পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়া এখন খুবই সাধারণ অভ্যাস। বিশেষ করে দ্রুতগতির চার্জিং প্রযুক্তির কারণে অনেক ফোন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরোপুরি চার্জ হয়ে যায়, অথচ ব্যবহারকারী ঘুম থেকে ওঠা পর্যন্ত সেটি বিদ্যুৎ সংযোগে থাকে। এতে ফোনের ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয় কি না, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এর উত্তর আগের তুলনায় কিছুটা বদলেছে। বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগ স্মার্টফোনে দীর্ঘ সময় চার্জে থাকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একটি আধুনিক ফোনকে সাধারণভাবে রাতভর চার্জে রাখা মানেই ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে, এমনটা বলা যায় না। উদাহরণ হিসেবে, আইফোন পুরোপুরি চার্জ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জিং নিয়ন্ত্রণ করে এবং অপ্টিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং চালু থাকলে দীর্ঘ সময় সংযুক্ত থাকার পরিস্থিতিতে প্রায় ৮০ শতাংশের পর চার্জ ধীর বা সাময়িকভাবে স্থগিত করে, পরে ব্যবহারকারীর স্বাভাবিক ব্যবহারের সময়ের কাছাকাছি গিয়ে পূর্ণ চার্জ সম্পন্ন করে। গুগলের পিক্সেল ফোনেও একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। অ্যাডাপটিভ চার্জিং ব্যবহারকারীর চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বুঝে দীর্ঘ সময় ফোন চার্জে থাকলে ১০০ শতাংশে পৌঁছানোর সময়টি পিছিয়ে দিতে পারে। আবার কিছু পিক্সেল মডেলে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সীমিত করার সুযোগও রয়েছে। গুগলের মতে, যারা সাধারণত দিনের শেষে ফোনে কিছুটা চার্জ অবশিষ্ট রাখেন, তাদের জন্য এই সীমা ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে সহায়ক হতে পারে। স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি ফোনেও ব্যাটারি সুরক্ষার জন্য একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে। সাম্প্রতিক সফটওয়্যার সংস্করণে ব্যাটারি সুরক্ষা ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ চার্জের সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। নতুন কিছু গ্যালাক্সি ফোনে ৮০, ৮৫, ৯০ বা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সীমা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার ঘুমের সময় চার্জ প্রায় ৮০ শতাংশে থামিয়ে ব্যবহারকারীর জেগে ওঠার আগে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে মডেল ও সফটওয়্যার সংস্করণ অনুযায়ী ফিচারের নাম ও সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। ব্যাটারির আয়ু নিয়ে মূল বিষয়টি হলো লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির স্বাভাবিক রাসায়নিক ক্ষয়। ফোনের ব্যাটারি অসংখ্যবার চার্জ ও ব্যবহারের পর ধীরে ধীরে তার আগের সক্ষমতা হারায়। দীর্ঘ সময় ব্যাটারিকে পুরোপুরি চার্জ অবস্থায় রাখা এবং নিয়মিতভাবে শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আবার পুরো ১০০ শতাংশে চার্জ করার অভ্যাস ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এ কারণে নির্মাতারা এখন ব্যবহারকারীদের জন্য চার্জ সীমা ও স্মার্ট চার্জিংয়ের মতো বিকল্প দিচ্ছে। তবে রাতে ফোন চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাটারির চার্জের পরিমাণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো তাপমাত্রা। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত তাপ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অ্যাপলও জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরম পরিবেশে ফোন চার্জ করলে ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা বেশি হলে ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ ধীর বা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারে। এই কারণেই রাতে ফোন চার্জে দেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি এড়িয়ে চলা উচিত, সেটি হলো ফোনকে বালিশ, কম্বল বা বিছানার চাদরের নিচে রেখে দেওয়া। এসব জায়গায় ফোন ও চার্জার থেকে উৎপন্ন তাপ সহজে বের হতে পারে না। অ্যাপলের নিরাপত্তা নির্দেশনাতেও চার্জের সময় ফোন, চার্জার ও ওয়্যারলেস চার্জারকে ভালোভাবে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বালিশ বা কম্বলের নিচে রেখে চার্জ না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফোনকে গরম গাড়ির ভেতর বা সরাসরি রোদে রেখেও চার্জ দেওয়া উচিত নয়। অ্যাপলের নির্দেশনা অনুযায়ী, আইফোন সাধারণভাবে ০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পরিবেশে ব্যবহারের জন্য তৈরি। অতিরিক্ত গরম পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকলে ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে। ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে নিরাপত্তার জন্য চার্জিং সাময়িকভাবে বন্ধও হয়ে যেতে পারে। তাহলে কি প্রতিদিন রাতে ফোন চার্জে রেখে ঘুমানো যাবে? আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে তা করা যায়। বিশেষ করে ফোনে যদি অপ্টিমাইজড বা অ্যাডাপটিভ চার্জিং সুবিধা থাকে, সেটি চালু করে রাখা ভালো। যারা প্রতিদিন ১০০ শতাংশ চার্জের প্রয়োজন অনুভব করেন না, তারা নিজেদের ফোনে চার্জ সীমা নির্ধারণের সুবিধা থাকলে সেটিও ব্যবহার করতে পারেন। তবে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকতে হলে বা ভ্রমণের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী পুরো চার্জ নেওয়া স্বাভাবিকভাবেই যুক্তিযুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফোন ও চার্জারকে অতিরিক্ত গরম হতে না দেওয়া। চার্জ দেওয়ার সময় ফোনকে বালিশ বা কম্বলের নিচে না রাখা, সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখা এবং ভালো বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় চার্জ দেওয়া নিরাপদ অভ্যাস। একই সঙ্গে নিজের ফোনের ব্যাটারি সেটিংসে গিয়ে স্মার্ট চার্জিং বা চার্জ সীমার সুবিধা রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া যেতে পারে। বর্তমান প্রযুক্তিতে তাই রাতভর ফোন চার্জে রাখার বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কের প্রয়োজন নেই। বরং ফোনের নিজস্ব ব্যাটারি সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলাই দীর্ঘদিন ব্যাটারি ভালো রাখার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য কনভারসেশন, অ্যাপল, স্যামসাং ও গুগল
যুক্তরাজ্যের এম৪ মহাসড়কে লরির সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন তিন সন্তানের মা জো ল। ৩১ বছর বয়সী জো গত ৯ সেপ্টেম্বর উইন্ডসরের কাছে মহাসড়কটিতে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। পরে তার পরিবার জানতে পারে, কাছাকাছি যানজটে আটকে থাকা কয়েকজন দায়িত্বের বাইরে থাকা জরুরি সেবাকর্মী ঘটনাস্থলে থেমে তার সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন। তবে তাদের চেষ্টার পরও ঘটনাস্থলেই জোর মৃত্যু হয়। জোর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে থাকা ওই জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে সহায়তা করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। জোর খালা সামান্থা নিল বলেন, শেষ মুহূর্তে তার পাশে মানুষজন ছিলেন এবং তারা তাকে সাহায্য, যত্ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, বিষয়টি পরিবারকে কিছুটা সান্ত্বনা দিয়েছে। যারা গাড়ি থামিয়ে সাহায্য করেছেন বা জোর পাশে ছিলেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। জো ল তার তিন সন্তান হার্ভি, ১২, আইলা, ৯ এবং পার্কার, ৪ বছরকে নিয়ে থাকতেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তানরাই ছিল তার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। জোর খালা তাকে সন্তানদের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল মা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সন্তানদের নিয়ে বাইরে সময় কাটানো, মোটরবাইক চালানো ও ডার্ট বাইকিংয়ের মতো কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া ছিল তাদের পারিবারিক জীবনের অংশ। সন্তানদের সঙ্গে মজা করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট ছোট ভিডিও বানানোও পছন্দ করতেন জো। জোর পরিবার জানিয়েছে, তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনেরা গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে এই কঠিন সময়ে পরিবারের সদস্যরা একে অপরের আরও কাছাকাছি এসেছেন। জোর খালা জানান, তারা বড় একটি পরিবার এবং পরস্পরের কাছাকাছি বসবাস করেন। দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে আগস্টে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে ইবিজায় ছুটিও কাটিয়েছিলেন। সেই সময়টিকে এখন পরিবারের কাছে বিশেষ স্মৃতি হিসেবে মনে হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর জোর পরিবার তার শেষকৃত্যের খরচ এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ সহায়তার জন্য অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য ৭ হাজার পাউন্ড লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে একটি তহবিল চালু করা হলেও পরে সেখানে ১৭ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ জমা পড়ে। সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ জোর শেষকৃত্যের খরচে ব্যবহার করা হবে এবং অবশিষ্ট অর্থ তার সন্তানদের জন্য রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে পরিবার। জোর শেষকৃত্য অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জোর খালা বলেন, তিন সন্তানকে ঘিরেই তার জীবন আবর্তিত হতো এবং তারা এখন খুব অল্প বয়সেই মাকে হারানোর বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জোকে যারা ভালোবাসতেন তাদের কাছে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। সন্তানরাও যেন সবসময় জানতে পারে, তাদের মা কতটা ভালোবাসা ও যত্নের মধ্যে ছিলেন, সেটিই এখন পরিবারের অন্যতম প্রত্যাশা। জো ল কেন্টের গ্রেভসেন্ডে জন্মগ্রহণ করেন এবং জীবনের পুরোটা সময় সোয়ানলিতে কাটিয়েছেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। এম৪ মহাসড়কের ওই দুর্ঘটনার পর তার পরিবারের সদস্যরা এখন একদিকে শোক সামলাচ্ছেন, অন্যদিকে তিন সন্তানকে সামনে রেখে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। দায়িত্বের বাইরে থাকা জরুরি সেবাকর্মীরা শেষ মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের চেষ্টা করেছিলেন, এই তথ্যটিও পরিবারকে কিছুটা সান্ত্বনা দিচ্ছে। সূত্র: ডেইলি মেইল
ক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রথম অগ্রাধিকার শ্রেণি EB-1-এর আওতায় অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে বিশেষ একটি পথ। EB-1A নামে পরিচিত এই শ্রেণিতে আবেদনকারীর কোনো নির্দিষ্ট চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আবেদনকারীকে নিজের পেশাগত ক্ষেত্রে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক স্বীকৃতি ও অসাধারণ সাফল্যের প্রমাণ দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা, ইউএসসিআইএসের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, EB-1A শ্রেণিতে যোগ্যতার ক্ষেত্র পাঁচটি। এগুলো হলো বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা এবং ক্রীড়া। অর্থাৎ এসব ক্ষেত্রের কোনো একটিতে অসাধারণ দক্ষতা ও স্বীকৃতির প্রমাণ থাকলে একজন বিদেশি নাগরিক EB-1A শ্রেণিতে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু এই পাঁচ ক্ষেত্রের কোনো একটিতে কাজ করলেই EB-1A-এর জন্য যোগ্য হওয়া যায় না। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে নিজের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন এবং তার সাফল্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হয়েছে, এমন প্রমাণ দিতে হয়। অর্থাৎ পেশার ক্ষেত্রের পাশাপাশি ব্যক্তির অর্জন, পরিচিতি এবং সেই অর্জনের স্বীকৃতিও গুরুত্বপূর্ণ। EB-1A আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ বিবেচনা করা হয়। ইউএসসিআইএসের Form I-140 নির্দেশনায় পুরস্কার বা সম্মাননা, পেশাগত সংগঠনের সদস্যপদ, আবেদনকারীকে নিয়ে প্রকাশিত উপাদান, অন্যদের কাজ মূল্যায়নের দায়িত্ব, মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান, বৈজ্ঞানিক বা একাডেমিক লেখা, প্রদর্শনী বা শিল্পকর্ম, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা, তুলনামূলকভাবে উচ্চ পারিশ্রমিক এবং পারফর্মিং আর্টসে বাণিজ্যিক সাফল্যের মতো বিষয়গুলোর প্রমাণের কথা উল্লেখ রয়েছে। নির্ধারিত প্রমাণের কাঠামোর ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সাধারণত ১০টি নির্ধারিত মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত তিনটি পূরণ করার প্রমাণ দিতে হয়, অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তুলনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন। তবে অন্তত তিনটি মানদণ্ড পূরণ করলেই আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয় না। ইউএসসিআইএস পরে পুরো প্রমাণপত্র বিবেচনা করে আবেদনকারী সত্যিই সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার পর্যায়ে রয়েছেন কি না, সেটিও মূল্যায়ন করে। EB-1A-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, আবেদনকারী নিজেই নিজের হয়ে Form I-140, Petition for Alien Worker জমা দিতে পারেন। অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট শ্রেণিতে কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তাকে আবেদনকারীর পক্ষে পিটিশন দাখিল করতে হয় না। একই কারণে EB-1A-এর জন্য সাধারণ কর্মভিত্তিক শ্রম সনদ বা শ্রমবাজার পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। ইউএসসিআইএসের নীতিমালাতেও বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্ব-আবেদনের এই সুযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে EB-1-এর সব শ্রেণির নিয়ম এক নয়। প্রথম অগ্রাধিকার কর্মভিত্তিক অভিবাসন শ্রেণির মধ্যে EB-1A ছাড়াও অসাধারণ অধ্যাপক বা গবেষক এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা দুটি শ্রেণি রয়েছে। অসাধারণ অধ্যাপক বা গবেষক শ্রেণিতে আবেদনকারীর সংশ্লিষ্ট একাডেমিক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত তিন বছরের শিক্ষকতা বা গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকতে হয় এবং সাধারণত একজন মার্কিন নিয়োগকর্তাকে আবেদন করতে হয়। অন্যদিকে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী কর্মকর্তাদের শ্রেণিতেও মার্কিন নিয়োগকর্তার পিটিশন প্রয়োজন হয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে একই প্রতিষ্ঠান, তার মূল প্রতিষ্ঠান, শাখা, সহযোগী বা অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানে গত তিন বছরের মধ্যে অন্তত এক বছর ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী হিসেবে কাজ করার প্রমাণ দিতে হয়। EB-1-এর আওতায় আবেদন অনুমোদিত হলে পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যরাও অভিবাসনের সুযোগ পেতে পারেন। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত ২১ বছরের কম বয়সী সন্তানরা সংশ্লিষ্ট অভিবাসী মর্যাদায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে EB-1A কোনো স্বয়ংক্রিয় গ্রিন কার্ড ব্যবস্থা নয়। আবেদনকারীকে নিজের যোগ্যতা, অর্জন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে স্বীকৃতির বিষয়ে যথেষ্ট নথি দিতে হয়। ইউএসসিআইএসের মূল্যায়নে শুধু প্রমাণের সংখ্যা নয়, সেগুলোর মান এবং পুরো আবেদনের সামগ্রিক চিত্রও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য EB-1A বিবেচনা করছেন এমন ব্যক্তিদের তাই শুধু নিজের পেশার ক্ষেত্রটি পাঁচটি নির্ধারিত বিভাগের মধ্যে পড়ে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। সেই ক্ষেত্রের মধ্যে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত স্বীকৃতি, পেশাগত অবদান এবং তা প্রমাণ করার মতো নথিপত্রও প্রস্তুত করতে হয়। অভিবাসন আইনের জটিলতা বিবেচনায় ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য অনুমোদিত অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনগত সহায়তাকারীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। সূত্র: ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)
হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনিকে নিয়ে তৈরি আলোচিত বিজ্ঞাপন প্রচারের পর খেলাধুলাভিত্তিক পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার বা প্রেডিকশন মার্কেট নভিগের মূল্যায়ন বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি বছরের শুরুতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে অর্থ সংগ্রহ করা প্রতিষ্ঠানটির মূল্য কয়েক মাসের ব্যবধানে চারগুণ হয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে শুধু সুইনির বিজ্ঞাপন নয়, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, নতুন বিনিয়োগ এবং নিউইয়র্ক মেটসের সঙ্গে অংশীদারত্বও ভূমিকা রেখেছে। নভিগ মূলত খেলাধুলা নিয়ে পূর্বাভাসভিত্তিক লেনদেনের সুযোগ দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক মডেল কালশি বা পলিমার্কেটের মতো অন্যান্য পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার থেকে কিছুটা আলাদা। নভিগ নিজেদের প্ল্যাটফর্মকে শুধু খেলাধুলাকেন্দ্রিক হিসেবে তুলে ধরে এবং যুদ্ধ, মৃত্যু বা রাজনীতির মতো বিষয় নিয়ে পূর্বাভাসের বাজার না রাখার কথা প্রচারে জোর দিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি সিডনি সুইনিকে নিয়ে তাদের প্রথম জাতীয় বিজ্ঞাপন প্রচারণা শুরু করে। এই প্রচারণায় ‘ইউফোরিয়া’ অভিনেত্রী সুইনিকে খেলাধুলার বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা অত্যন্ত সাহসী বিজ্ঞাপনে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনের মূল বার্তা ছিল, নভিগে শুধু খেলাধুলা নিয়ে মতামত ও পূর্বাভাসের ওপর লেনদেন করা যাবে। বিজ্ঞাপনটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একই সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। নভিগের সঙ্গে সুইনির সম্পর্ক শুধু বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত অংশীদার এবং শেয়ারধারী হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন। নভিগের নিজস্ব ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই প্রচারণার মাধ্যমে খেলাধুলাকেন্দ্রিক তাদের ব্যবসায়িক পরিচয়কে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরাই ছিল লক্ষ্য। তবে বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সমালোচনাও কম হয়নি। কয়েকজন নারী ক্রীড়াবিদ অভিযোগ করেন, বিজ্ঞাপনটি খেলাধুলায় নারীদের ভূমিকার বদলে তাদের শরীরকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ব্রিটিশ স্প্রিন্টার অ্যামি হান্ট, অস্ট্রেলিয়ার সাঁতারু ও চারবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন আরিয়র্ন টিটমাস এবং মার্কিন জিমন্যাস্ট গ্রেসি ক্রেমার সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের ক্রীড়া দক্ষতা তুলে ধরে বিজ্ঞাপনটির ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সামনে আনেন। সুইনির বিজ্ঞাপন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের মধ্যেই তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ২ লাখের বেশি কমেছে বলে ভ্যারাইটির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। তবে এরপরও তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখের কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক মেগিন কেলি এবং দক্ষিণ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেস সুইনির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, পুরুষদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপনে দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণনির্ভর বিপণন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। সুইনিও বিজ্ঞাপনটি নিয়ে পিছিয়ে যাননি। বরং পরে সামাজিক মাধ্যমে ক্রীড়া সাময়িকীর বিভিন্ন প্রচ্ছদে নগ্ন বা অল্প পোশাকের ক্রীড়াবিদদের ছবি প্রকাশ করে নিজের প্রচারণার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। নভিগের প্রধান নির্বাহী জ্যাকব ফোরটিনস্কিও বিজ্ঞাপনটির পক্ষে ছিলেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নারী ক্রীড়াকে সমর্থন করে এবং বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য নারী ক্রীড়াকে উপস্থাপন করা ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনের দৃশ্য ও বার্তার বড় অংশই সুইনির সৃজনশীল ধারণা থেকে এসেছে এবং তিনি একজন অভিনেত্রী হিসেবে সেটি উপস্থাপন করেছেন। তবে নভিগের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে শুধু এই বিজ্ঞাপনকে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশন বা সিএফটিসি নভিগকে নিয়ন্ত্রিত পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার হিসেবে পরিচালনার অনুমোদন দেয়। এই অনুমোদনের পর প্রতিষ্ঠানটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে নভিগ ৭৫ মিলিয়ন ডলার অর্থ সংগ্রহ করেছিল এবং তখন প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন ছিল ৫০০ মিলিয়ন ডলার। নতুন অর্থ সংগ্রহের ফলে মূল্যায়ন ২ বিলিয়ন ডলারে উঠলে সেটি আট মাসেরও কম সময়ে চারগুণ বৃদ্ধির সমান হবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন অর্থের বড় অংশ এসেছে আগের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। প্রতিষ্ঠানটির আগের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্যানটেরা ক্যাপিটাল, মাল্টিকয়েন ক্যাপিটাল ও এনএফএক্সের মতো বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নভিগের ব্যবসা বাড়ার আরেকটি কারণ নিউইয়র্ক মেটসের সঙ্গে তাদের অংশীদারত্ব। জুলাইয়ে মেজর লিগ বেসবলের দল নিউইয়র্ক মেটসের সঙ্গে নভিগের অংশীদারত্বের ঘোষণা আসে। এটি একটি মেজর লিগ বেসবল দলের সঙ্গে পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার প্রতিষ্ঠানের প্রথম ধরনের অংশীদারত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই খাতটিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়লেও পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রক বিতর্কও রয়েছে। কালশি ও পলিমার্কেটের মতো প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের ঘটনা নিয়ে পূর্বাভাসের বাজার পরিচালনা করে। এসব প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে কিছু অঙ্গরাজ্যের জুয়া নিয়ন্ত্রণ আইন, কর এবং বাজারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নভিগ অবশ্য নিজেকে খেলাধুলায় সীমাবদ্ধ রেখেছে এবং ফেডারেল নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় পরিচালনার অনুমোদন পাওয়ার পর ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। নভিগ ২০২১ সালে জ্যাকব ফোরটিনস্কি ও কেলেচি উকাহ প্রতিষ্ঠা করেন। ফেব্রুয়ারির ৭৫ মিলিয়ন ডলারের অর্থ সংগ্রহের আগে ২০২৫ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি আরও ১৮ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল। ফলে এখন পর্যন্ত নভিগের মোট সংগৃহীত অর্থ ১০৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি বলে ফ্রন্ট অফিস স্পোর্টস জানিয়েছে। নতুন মূল্যায়ন অনুযায়ী নভিগ দ্রুত বেড়ে উঠলেও এটি এখনো কালশি ও পলিমার্কেটের তুলনায় ছোট প্রতিষ্ঠান। তবে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে আলাদা ব্যবসায়িক মডেল, সিএফটিসির অনুমোদন, বড় ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং সিডনি সুইনির মতো তারকাকে যুক্ত করে প্রচারণা প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। সুইনির জন্যও এই অংশীদারত্ব আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তিনি সাধারণ পারিশ্রমিকের পরিবর্তে নভিগের মালিকানার অংশ বা শেয়ার নিয়েছেন বলে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অংশীদারত্বের সঠিক পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ২ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়নে তাঁর অংশীদারত্বের প্রকৃত আর্থিক মূল্য কত, তা নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে নভিগের মূল্যায়ন ৫০০ মিলিয়ন থেকে ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সিডনি সুইনির আলোচিত বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও, নতুন বিনিয়োগ, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বও একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, নভিগ ও ফ্রন্ট অফিস স্পোর্টস।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া থেকে তিন বছরের কম সময়ে পিএইচডি সম্পন্ন করে একাডেমিক সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নিভা। ভিন্ন একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে নতুন একটি গবেষণাক্ষেত্রে কাজ করে এই অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএএসএ অ্যাট ইউজিএ। ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার তথ্য অনুযায়ী, নুসরাত ২০২৩ সালে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস বিভাগে পিএইচডি শুরু করেন। পরের বছর ২০২৪ সালে তিনি ক্রপ অ্যান্ড সয়েল সায়েন্সেস বিভাগে গবেষণার ক্ষেত্র পরিবর্তন করেন। তাঁর গবেষণার মূল আগ্রহ ছিল রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করার উপায় খুঁজে বের করা। বাংলাদেশে নুসরাতের একাডেমিক ভিত্তিও কৃষিবিষয়ক। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তিতে স্নাতক এবং ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২২ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে এসে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ায় পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত হন। পিএইচডি গবেষণায় নুসরাত বাণিজ্যিক চিনাবাদাম ক্ষেতে উচ্চ রেজোলিউশনের হাইপারস্পেকট্রাল ও লাইডার ডেটা ব্যবহার করেছেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য ছিল চিনাবাদামে অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা। পাশাপাশি রিমোট সেন্সিং, আবহাওয়ার তথ্য ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে চিনাবাদামের বৃদ্ধি ও ফলন নির্ধারণের পদ্ধতিও নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। ২০২৫ সালে নুসরাতের গবেষণার একটি অংশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক সম্মেলনেও উপস্থাপিত হয়। সেখানে তাঁর গবেষণায় ড্রোনের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে চিনাবাদামের ফলন আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নির্ধারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। গবেষণাটি কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে উৎপাদন পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনাও দেখায়। নুসরাতের এই একাডেমিক যাত্রায় একটি প্রিয় উদ্ধৃতিও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে বিএএসএ অ্যাট ইউজিএ। হেনরি ডেভিড থোরোর সেই উদ্ধৃতির মূল বক্তব্য হলো, শুধু ব্যস্ত থাকাই যথেষ্ট নয়, মানুষ কী কাজে ব্যস্ত রয়েছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। নুসরাতের গবেষণা ও একাডেমিক পথচলার সঙ্গে এই ভাবনাটিকেই যুক্ত করেছে সংগঠনটি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএএসএ অ্যাট ইউজিএ নুসরাত জাহান নিভাকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও একাডেমিক নিষ্ঠার প্রশংসা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর এই পথচলা বিশেষভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে উঠেছে।
প্রেমের সম্পর্কের খোঁজে একটি এশিয়ান ডেটিং সাইট ব্যবহার করতে গিয়ে চীনা গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগে জড়িয়ে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জন হ্যারল্ড রজার্স। পরে তার ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের হুমকিও দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত চীনের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ এবং ফেডারেল রিজার্ভের সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে তদন্তের মুখে পড়েন এই অর্থনীতিবিদ। চলতি বছরের জুলাইয়ে তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার দায়ে তাকে ৩৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রজার্সের বিরুদ্ধে প্রথমে অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তির ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে আদালতের বিচারে তিনি অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে খালাস পান। একই মামলায় ফেডারেল তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই তাকে ৩৮ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারক ড্যাবনি ফ্রিডরিখ তাকে আরও ১২ মাসের তত্ত্বাবধানে মুক্তির সাজা দিয়েছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, রজার্স ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ফেডারেল রিজার্ভের আন্তর্জাতিক অর্থবিষয়ক বিভাগে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। এই পদে থাকার সময় তিনি মুদ্রানীতি, ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির আলোচনা এবং অন্যান্য অপ্রকাশ্য অর্থনৈতিক তথ্যের মতো সংবেদনশীল নথিতে প্রবেশাধিকার পেতেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলেছে, এসব তথ্যের কিছু অংশ চীনা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছেছিল। রজার্সের চীনের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র শুরু হয় ২০১৩ সালে। সাংহাইয়ে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব ডালাসের আয়োজিত একটি সম্মেলনে তার সঙ্গে হুমিন লি নামে এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। পরে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, হুমিন লি আসলে চীনা গোয়েন্দা কর্মকর্তা জিন চুয়ানের ছদ্মনাম। ২০১৭ সালের দিকে তাদের যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয় এবং পরবর্তী সময়ে চীনে বিভিন্ন সাক্ষাৎ ও বৈঠকের মাধ্যমে রজার্সের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রজার্সের ব্যক্তিগত জীবনও এই ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। সিএনবিসির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, নিজের সন্তানরা আলাদা হয়ে যাওয়ার পর একাকিত্বের সময়ে রজার্স এশিয়ান ডেটিং সাইটে যোগাযোগ শুরু করেন। সেখানে পরিচিত কয়েকজনের কাছে তিনি ব্যক্তিগত ছবি পাঠিয়েছিলেন। পরে ওই অনলাইন যোগাযোগের একটি অংশ ব্ল্যাকমেইলের দিকে গড়ায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই সময়ই হুমিন লি রজার্সের ব্যক্তিগত জীবনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। তিনি রজার্সের সঙ্গে পরিচিত চীনা নারী ইউ লিউ, যিনি ইউ ইউ নামেও পরিচিত, তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে সহায়তা করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। ২০১৬ সালের দিকে একটি ডেটিং সাইটে রজার্সের সঙ্গে ইউ লিউর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে লি তাদের চীনে দেখা করার ব্যবস্থা, ভ্রমণ এবং বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তা করেন বলে আদালতের নথি ও সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রজার্স ও ইউ লিউ ২০১৮ সালের মার্চে হংকংয়ে বিয়ে করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রজার্স পরবর্তী সময়ে তদন্তকারীদের কাছে হুমিন লির প্রতি তার গভীর ব্যক্তিগত নির্ভরতার কথা জানিয়েছিলেন। বিচার বিভাগের নথিতে বলা হয়েছে, লির মাধ্যমে রজার্স তার নতুন স্ত্রী, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সুযোগ এবং আর্থিক সুবিধা পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, রজার্সের পেশাগত অবস্থানও লির সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছিল বলে মার্কিন তদন্তকারীরা দাবি করেন। বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের পর রজার্স চীনে হুমিন লি ও তার সহযোগীদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠক করেন। এসব বৈঠক কখনো কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বা শিক্ষামূলক কার্যক্রমের আড়ালে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব সাক্ষাতে ফেডারেল রিজার্ভের নির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করা হয়েছিল। ২০১৮ সাল থেকে রজার্স ফেডারেল রিজার্ভের অর্থনৈতিক তথ্য, চীনের ওপর সম্ভাব্য শুল্কনীতি, গভর্নরদের জন্য তৈরি ব্রিফিং নথি এবং ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির বৈঠক ও সম্ভাব্য সিদ্ধান্তসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে নিজের ব্যক্তিগত ইমেইলে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়। কিছু নথি চীনে যাওয়ার আগে তিনি প্রিন্ট করে নিয়েছিলেন বলেও মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব তথ্যের অর্থনৈতিক মূল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বা মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত আগে থেকে জানা গেলে আর্থিক বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় সুবিধা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। বিচার বিভাগের নথিতে বলা হয়েছে, চীনের কাছে বিপুল পরিমাণ মার্কিন সরকারি ঋণ থাকায় এ ধরনের তথ্য দেশটির আর্থিক স্বার্থে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। এদিকে ব্যক্তিগত জীবনেও রজার্সের পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ত্রী ইউ লিউর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর রজার্স আবার অনলাইনে পরিচিতি খুঁজতে শুরু করেন। ইনস্টাগ্রামে আকর্ষণীয় নারীদের ছবি ব্যবহার করা কিছু অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন এবং নিজের ব্যক্তিগত ছবি পাঠান। পরে ওই অ্যাকাউন্টগুলোর পেছনে থাকা ব্যক্তিরা ছবিগুলো প্রকাশ করার এবং তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা শেষ পর্যন্ত ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তাদের নজরে আসে। ২০২০ সালে রজার্স নিজেই ফেড কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। এরপর তার চীনা যোগাযোগ এবং ফেডের তথ্য বাইরে যাওয়ার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারীরা তাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, তিনি কখনো ফেডের নিয়ন্ত্রিত তথ্য প্রতিষ্ঠানের বাইরে কাউকে দিয়েছেন কি না। রজার্স তখন তা অস্বীকার করে বলেন, কখনো দেননি। পরবর্তী তদন্তে এই বক্তব্যকে মিথ্যা বলে দাবি করে প্রসিকিউশন। ২০২১ সালে রজার্স ফেডারেল রিজার্ভ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে তিনি প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করে এফবিআই। বিচার বিভাগের সে সময়ের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, রজার্স চীনের সুবিধার্থে ফেডারেল রিজার্ভের বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান গোপন তথ্য সরবরাহের ষড়যন্ত্র করেছিলেন এবং তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। তবে অভিযোগপত্রের তথ্য সে সময় অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত ছিল। পরবর্তী বিচারে অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রজার্স খালাস পান। তবে তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ফেডারেল জুরি তাকে ওই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করার পর জুলাইয়ে ৩৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রসিকিউটররা পাঁচ বছরের সাজা চেয়েছিলেন। মামলার শুনানিতে রজার্সকে হুমিন লিকে এখন কী হিসেবে দেখেন, তা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তাকে ‘গোয়েন্দা’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। লির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তার বর্তমান মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি নিজেকে প্রতারিত বা বিভ্রান্ত হয়েছেন বলে বর্ণনা করেন। তার আইনজীবী জোনাথন গিটলেন অবশ্য মামলায় আনা অভিযোগগুলো রজার্স অস্বীকার করছেন বলে জানিয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, রজার্সের মামলাটি এফবিআইয়ের ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস এবং ফেডারেল রিজার্ভের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় যৌথভাবে তদন্ত করেছে। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মামলায় ফেডের অপ্রকাশ্য অর্থনৈতিক তথ্যের নিরাপত্তা এবং বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতার সম্ভাব্য ঝুঁকি সামনে এসেছে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, সিএনবিসি ও নিউইয়র্ক পোস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা আইনের আওতায় প্রায় ১০ লাখ মানুষকে জনপ্রতি ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেজারি বিভাগ ৩০টি অঙ্গরাজ্যের ৯ লাখ ৫০ হাজারের বেশি যোগ্য গ্রাহকের কাছে এই অর্থ পাঠানো শুরু করেছে। অর্থের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা একটি চিঠিও পাঠানো হচ্ছে। তবে এটি সবার জন্য দেওয়া কোনো সরকারি প্রণোদনা বা সাধারণ ট্যাক্স রিফান্ড নয়। প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, যারা ফেডারেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস হেলথকেয়ার ডট গভের মাধ্যমে ওবামাকেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং প্রিমিয়াম সহায়তা বা সরকারি ভর্তুকি পাননি, মূলত তাদেরই এই ফেরতের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ যারা নিজেদের হেলথ ইন্স্যুরেন্সের পুরো প্রিমিয়াম নিজেরাই পরিশোধ করেছেন, তাদের একটি অংশ এই অর্থ পেতে পারেন। এই ফেরতের পেছনে প্রশাসনের ব্যাখ্যা হলো, ফেডারেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস পরিচালনার জন্য ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে যে ব্যবহার ফি নেওয়া হয়েছিল, তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ছিল। প্রশাসনের দাবি, ওই অতিরিক্ত অর্থ শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের প্রিমিয়ামের ওপর প্রভাব ফেলেছিল এবং একটি বড় উদ্বৃত্ত তৈরি হয়। ট্রাম্প প্রশাসন এখন সেই উদ্বৃত্তের একটি অংশ যোগ্য গ্রাহকদের ফেরত দিচ্ছে। তবে আগের প্রশাসন সত্যিই গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছিল কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যকে আলাদা করে দেখা জরুরি; ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বর্তমান প্রশাসনের ঘোষণা। প্রতিজন যোগ্য গ্রাহক ৫০০ ডলার করে পাবেন। একই পরিবারের একাধিক সদস্য যদি যোগ্য হন, তাহলে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ৫০০ ডলারের ফেরত আসতে পারে। ফলে একটি পরিবারের মোট ফেরতের পরিমাণ ৫০০ ডলারের বেশি হতে পারে। অর্থ পাঠানোর দায়িত্ব ট্রেজারি বিভাগের এবং যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে চিঠিও পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু আমেরিকান নাগরিক হওয়া বা না হওয়াই মূল বিষয় নয়। যোগ্যতা নির্ধারণে কোন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়া হয়েছে এবং প্রিমিয়ামের জন্য সরকারি সহায়তা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি যদি সংশ্লিষ্ট ফেডারেল মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে যোগ্য ওবামাকেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে থাকেন এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেন, তাহলে তিনি এই ফেরতের আওতায় পড়তে পারেন। এই কর্মসূচি ৩০টি অঙ্গরাজ্যে প্রযোজ্য। এসব রাজ্য ২০২৬ সালের জন্য ফেডারেল হেলথকেয়ার ডট গভ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, পেনসিলভানিয়াসহ ২০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি নিজস্ব স্টেট-বেসড হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস পরিচালনা করছে। ফলে এসব রাজ্যের নিজস্ব মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে নেওয়া পরিকল্পনা এই নির্দিষ্ট ৫০০ ডলারের ফেরত কর্মসূচির আওতায় নেই। যোগ্য ব্যক্তিদের আলাদাভাবে নতুন করে কোনো আবেদন করতে হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের ঘোষণায় নতুন আবেদন প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়নি; বরং ট্রেজারি বিভাগ সরাসরি যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে ফেরতের অর্থ পাঠাচ্ছে। তাই কেউ ৫০০ ডলার পাওয়ার কথা বলে ফোন, ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ব্যাংক তথ্য, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা কোনো ফি চাইলে সতর্ক থাকা জরুরি। এই অর্থকে সাধারণ ট্যাক্স রিফান্ড বা সবার জন্য দেওয়া নতুন সরকারি অর্থ হিসেবে না দেখে নির্দিষ্ট ওবামাকেয়ার গ্রাহকদের জন্য ফেরত অর্থ হিসেবে দেখা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় মসজিদগুলোর একটির নেতা সালাহ সারসুরকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে দেশ থেকে বহিষ্কার করা যেতে পারে বলে রায় দিয়েছেন একজন অভিবাসন বিচারক। বুধবার শিকাগো ইমিগ্রেশন কোর্টের বিচারক জেমি সালিনার্দি সারসুরকে বহিষ্কারযোগ্য বলে ঘোষণা করেন। তবে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে করা একটি পৃথক অভিযোগ, তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন, তা খারিজ করে দিয়েছেন বিচারক। সালাহ সারসুর উইসকনসিনের ইসলামিক সোসাইটি অব মিলওয়াকির সভাপতি। ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার জন্য তিনি পরিচিত। চলতি বছরের মার্চে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তারা তাকে মিলওয়াকি থেকে আটক করেন। পরে জুনে মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেমস প্যাট্রিক হ্যানলন তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন। আদালত তখন বলেছিল, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সারসুরের বক্তব্যের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে কি না, সে বিষয়ে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দাবি রয়েছে। তবে বুধবারের অভিবাসন আদালতের রায়ে সারসুরকে বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত ভিত্তিতে বহিষ্কারযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে। সারসুর এই সিদ্ধান্তকে ‘গভীরভাবে হতাশাজনক’ বলে জানিয়েছেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা বলেছেন। এক বিবৃতিতে সারসুর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে, তা রক্ষার জন্য তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যে দেশকে নিজের বাড়ি হিসেবে বিবেচনা করেছেন, সেখানে থাকার অধিকার নিয়েও তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। মার্কিন সরকারের আইনজীবীরা সারসুরের বিরুদ্ধে মূলত ইসরায়েলে কয়েক দশক আগের কিছু দণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, এসব ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। সরকার আরও দাবি করেছিল, সারসুর গ্রিন কার্ডের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং ভোট দেওয়ার সময় নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তবে বিচারক অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগটি গ্রহণ করেননি। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পান। কোনো অভিবাসন বিচারক যদি মনে করেন যে কোনো ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত অধিকার নেই, তাহলে তাকে বহিষ্কার করা হবে বলে বিভাগটি জানিয়েছে। সারসুরের জন্ম ইসরায়েলের দখলাধীন পশ্চিম তীরের এলাকায়। ১৯৮৮ সালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দিকে পাথর ছোড়ার অভিযোগে তিনি ইসরায়েলে কারাগারে ছিলেন এবং ওই ঘটনায় দণ্ডিত হন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বলেছে, ওই সময় একটি পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের অভিযোগেও তিনি দণ্ডিত হয়েছিলেন। তবে সারসুরের আইনজীবীরা বলছেন, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হলেও ওই অভিযোগে তিনি দণ্ডিত হননি। ১৯৯৫ সালে অস্ত্র রাখার চেষ্টা সংক্রান্ত একটি মামলায়ও সারসুর দণ্ডিত হন। তিনি এসব অপরাধ করার কথা অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাকে নির্যাতন করে এবং চাপ প্রয়োগ করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছিল। সারসুর ১৯৯৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং দেশটিতে তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকেই মার্কিন সরকার তার ইসরায়েলি দণ্ডের বিষয়টি জানত। সারসুরের আশঙ্কা, তাকে পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানো হলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। মঙ্গলবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানো তার জন্য জীবনের সমাপ্তির মতো হবে। তার আইনজীবী প্যাট্রিক টরেলও দাবি করেছেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে সারসুরের অতীত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তার জন্য কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তার একটি ইঙ্গিত দেয়। বহিষ্কারের আদেশে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চল ছাড়াও জর্ডানের নাম রয়েছে। বুধবারের শুনানিতে টরেল বিচারকের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করার অনুরোধ করেন। তার যুক্তি, জর্ডানের সঙ্গে সারসুরের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সেখানে তার বসবাসের অধিকারও নেই। সারসুরকে একটি অভিবাসন ফরমে জর্ডানকে নিজ দেশের নাম হিসেবে লিখতে বলা হয়েছিল, কারণ ‘ফিলিস্তিন’কে পূর্ণাঙ্গ ও একীভূত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখানোর বিষয়টি মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় জটিল। বিচারক অবশ্য বহিষ্কারের গন্তব্য নির্দিষ্ট করে দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন, বিষয়টি আপিলের সময় বিবেচনা করা যেতে পারে। সারসুরের আইনজীবী আরও বলেছেন, তাকে জর্ডানে পাঠানো হলেও সেখান থেকে দ্রুত ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। এই মামলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেওয়া একটি বিশেষ অভিবাসন পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের জুনে রুবিও একটি তুলনামূলকভাবে বিরল অভিবাসন আইনি বিধান ব্যবহার করে সারসুরকে বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতে বহিষ্কারের পথ তৈরি করেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। একই ধরনের বিধান ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার মাহমুদ খলিল ও মোহসেন মাহদাওয়ির ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বলেছে, রুবিওর কাছে সারসুরের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। বিভাগটি আরও দাবি করেছে, সারসুর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন অথবা কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন করেছেন। তবে সারসুরের আইনজীবীরা এসব অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। সারসুরের পক্ষে আগস্টে সাক্ষ্য দেওয়া আইনজীবী জাওয়াদ বুলুস বলেন, ইসরায়েলে সারসুরকে চাপ প্রয়োগ করে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। তার দাবি, সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগে সারসুরকে দণ্ডিত করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের সদস্যরা সারসুরকে নির্যাতন করেছিলেন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ অবশ্য এই নির্যাতনের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফিলিস্তিনি বন্দিদের ইসরায়েলি কারাগারে আচরণ এবং ইসরায়েলি সামরিক আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন সময় মানবাধিকার সংগঠন ও বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষজ্ঞরা জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা না থাকার অভিযোগের বিষয়েও সাক্ষ্য দিয়েছেন। ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে থাকে। এর আগে জুনে মার্কিন জেলা বিচারক হ্যানলন সারসুরকে অভিবাসন হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়ার সময় বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। বিচারক আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর হঠাৎ তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করার কারণ সরকার যথেষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি। ট্রাম্প প্রশাসন ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। সারসুরের শারীরিক অবস্থার বিষয়টিও মামলায় উঠে এসেছে। তার আইনজীবীদের দাবি, আটক থাকার সময় তিনি ৩০ পাউন্ডের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ১৪ কেজি ওজন হারিয়েছেন। তিনি টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার রক্তে শর্করার মাত্রা মাসে মাত্র একবার পরীক্ষা করা হয়েছে বলে আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, এতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। কেএফএফ হেলথ নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক যৌথ অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩৩টি অঙ্গরাজ্যে শত শত আটক ব্যক্তি চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন। তবে এসব মামলার সব অভিযোগের সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন দাবি করা হয়নি। সারসুরের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের রায়ের পর এখন তার আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের নোটিশ দেওয়ার জন্য তার হাতে ৩০ দিন এবং আইনি সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করার জন্য ৬০ দিন সময় রয়েছে। সব ধরনের আইনি সুযোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করতে পারবে না। মামলাটি পরবর্তী সময়ে বিচারক ক্রেইগ ডিফোর তত্ত্বাবধানে চলবে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের ভবিষ্যৎ কলেজ ও শিক্ষার খরচের জন্য আগেভাগে টাকা জমাতে চান অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবার। তাদের জন্য ৫২৯ প্ল্যান হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ব্যবস্থা। এই প্ল্যানে নিয়মিত টাকা জমিয়ে তা বিনিয়োগ করা যায়। বিনিয়োগ থেকে অর্জিত অর্থ সাধারণত কর ছাড়ের সুবিধায় বাড়তে থাকে এবং লেখাপড়ার খরচ মেটাতে অর্থ তোলা হলে সেই আয়ের ওপর ফেডারেল আয়কর দিতে হয় না। ৫২৯ প্ল্যান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত একটি শিক্ষাসঞ্চয় ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সন্তানের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা বা অন্যান্য এলিজিবল উচ্চশিক্ষার খরচের জন্য অর্থ জমা রাখা যায়। বর্তমান নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার খরচ, নিবন্ধিত শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং নির্দিষ্ট শিক্ষাঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও ৫২৯-এর অর্থ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এই প্ল্যানের অন্যতম বড় সুবিধা হলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ। সন্তান ছোট থাকা অবস্থায় নিয়মিত অল্প অল্প করে টাকা জমালে বিনিয়োগের অর্থ সময়ের সঙ্গে বাড়ার সুযোগ পায়। বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় আবার বিনিয়োগ হয়ে ভবিষ্যতে আরও আয় তৈরি করতে পারে। তবে ৫২৯ একটি বিনিয়োগভিত্তিক অ্যাকাউন্ট হওয়ায় বাজারের ওঠানামার কারণে এর মূল্য কমতেও পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর অতিরিক্ত কর সুবিধা নির্ভর করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে জর্জিয়ায় পাথটু কলেজ ৫২৯ প্ল্যানে যোগ্যভাবে টাকা জমালে রাজ্যের আয়কর থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। জর্জিয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সুবিধাভোগীর জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ডলার সিঙ্গেল কর জমা দেওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে এবং ৮ হাজার ডলার যৌথভাবে কর জমা দেওয়া দম্পতির ক্ষেত্রে রাজ্যের আয়কর ছাড়ের আওতায় আসতে পারে। অর্থাৎ জর্জিয়ায় কোনো পরিবার সন্তানের ৫২৯ অ্যাকাউন্টে টাকা জমালে সেই টাকা ফেডারেল করযোগ্য আয় থেকে সরাসরি বাদ যাবে না। তবে সঠিক ভাবে জমা দেওয়া অর্থের ক্ষেত্রে জর্জিয়ার রাজ্য আয়করে ছাড় পাওয়া যেতে পারে। তাই ৫২৯ প্ল্যানকে সরাসরি ফেডারেল কর কমানোর ব্যবস্থা হিসেবে না দেখে সন্তানের শিক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় এবং কর সুবিধার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা বেশি সঠিক। ৫২৯-এর অর্থ সাধারণত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন, প্রয়োজনীয় ফি, বই, শিক্ষা উপকরণ এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য শিক্ষাগত খরচে ব্যবহার করা যায়। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে শিক্ষার্থীর থাকা ও খাওয়ার খরচেও এই অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে একই শিক্ষাগত খরচের জন্য ৫২৯-এর কর সুবিধা এবং অন্য কোনো শিক্ষা-সংক্রান্ত কর সুবিধা একসঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষদের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সন্তান শেষ পর্যন্ত যে কলেজে পড়বে, সেটি নিজের রাজ্যেই হতে হবে এমন নয়। যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫২৯-এর অর্থ ব্যবহার করা যায়। সন্তান কলেজে না গেলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পরিবারের অন্য সদস্যকে সুবিধাভোগী করা যায়। এছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে ৫২৯ অ্যাকাউন্ট থেকে সুবিধাভোগীর রথ আইআরএ অ্যাকাউন্টে সীমিত পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরের সুযোগও রয়েছে। জর্জিয়ার পাথটু কলেজ ৫২৯ প্ল্যানে মাত্র ২৫ ডলার দিয়েও অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। ফলে সন্তান ছোট থাকতেই অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করে নিয়মিতভাবে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব। তবে ৫২৯ খোলার আগে পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি, বিনিয়োগের ঝুঁকি, অ্যাকাউন্টের খরচ এবং নিজের রাজ্যের করের নিয়ম ভালোভাবে বোঝা জরুরি। সন্তানের শিক্ষার জন্য ৫২৯ প্ল্যান তাই শুধু টাকা জমিয়ে রাখার একটি অ্যাকাউন্ট নয়। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত সঞ্চয়, বিনিয়োগ থেকে অর্থ বৃদ্ধির সুযোগ এবং যোগ্য শিক্ষাগত খরচে কর সুবিধা, এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করেই এর মূল সুবিধা বোঝা যায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সন্তানের কলেজের খরচের পরিকল্পনা করতে গিয়ে এই ধরনের শিক্ষাসঞ্চয় ব্যবস্থার নিয়ম ও সুবিধাগুলো আগে থেকে জানা গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়াশিংটন ডিসিতে আক্রমণাত্মক মশা ও টিকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের অভিযান শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর করা এক নির্বাহী আদেশে ২০২৮ সালের মধ্যে নির্দিষ্ট প্রজাতির আক্রমণাত্মক মশার সংখ্যা ৯০ শতাংশ এবং টিকের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগবাহী এসব কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিকের পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর ও অন্যান্য নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র, কৃষি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সাধারণ সেবা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসির জন্য একটি সমন্বিত কর্মসূচি তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এই কর্মসূচির আওতায় এশিয়ান টাইগার মশা, মিশরীয় মশাসহ অন্যান্য আক্রমণাত্মক মশার সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি টিকের প্রজনন ও বিস্তারের জায়গাগুলোও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আদেশে মশা ও টিকের প্রজননস্থল কমাতে ঘাস ও আগাছা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশনের উন্নতি, বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাকৃতিক ও লক্ষ্যভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইঁদুর ও হরিণের মতো কিছু প্রাণীর উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে, কারণ এগুলো টিকের বিস্তার এবং টিকবাহিত রোগের সংক্রমণে ভূমিকা রাখতে পারে। মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী আদেশে স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক বা বন্ধ্যা পোকা প্রযুক্তির মতো পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের প্রযুক্তিতে নির্দিষ্ট কীটপতঙ্গের প্রজননক্ষমতা কমিয়ে ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করা হয়। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সহযোগিতামূলক চুক্তির মাধ্যমে এসব প্রযুক্তি কাজে লাগানোর কথাও বলা হয়েছে। টিক ও মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এসব কীটপতঙ্গের মাধ্যমে ছড়ানো রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নতুন গবেষণা কর্মসূচি, পুরস্কারভিত্তিক উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে রোগবাহী কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তি দ্রুত কাজে লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে। আলফা-গ্যাল সিনড্রোমের সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যগুলোর লেবেলিং নিয়েও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিকল্প ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিনড্রোম সাধারণত টিকের কামড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুতর লাল মাংসে অ্যালার্জির সমস্যা। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রাজ্যটির বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ডেঙ্গুর ঘটনা বেড়েছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ছয়টি কাউন্টিতে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ১৯০টি ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে হিলসবোরো কাউন্টিতেই ১৭০টি। তিনটি কাউন্টি এ পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হিলসবোরো কাউন্টিতে পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছিল, কাউন্টিটিতে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ডেঙ্গুর ৫৯টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছিল। আগস্টেও স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ডেঙ্গুর নতুন ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর কাউন্টিতে মশাবাহিত রোগের সতর্কতা জারি ছিল। ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত সংক্রমিত এডিস প্রজাতির মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, সিডিসি জানিয়েছে, দেশটির ৪৯টি মহাদেশীয় অঙ্গরাজ্যে শনাক্ত হওয়া অধিকাংশ ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তি বিদেশ ভ্রমণের সময় সংক্রমিত হন। তবে ফ্লোরিডাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে। ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের একটি অংশ গুরুতর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন এবং এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে ডেঙ্গুর স্থানীয় সংক্রমণের ঝুঁকি সামগ্রিকভাবে সীমিত হলেও এডিস মশা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় পাওয়া যায়। সিডিসি জানিয়েছে, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইয়ে অতীতে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু ছড়ানোর ঘটনা পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশটি শুধু ওয়াশিংটন ডিসিতে মশা ও টিক কমানোর কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আদেশে ডিসিতে পরীক্ষিত নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলো ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য এলাকায় আক্রমণাত্মক মশা ও টিক নিয়ন্ত্রণে মডেল হিসেবে ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। ফলে আগামী দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে রোগবাহী কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি ও পরিবেশভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। সূত্র: হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি), ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ ও নিউজউইক।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ১১টি দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং মিশনপ্রধানদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ‘অ্যাম্বাসেডরস রিজিওনাল কনফারেন্স’ শীর্ষক এই বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। এই সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই এই সম্মেলনে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এক্সে দেওয়া ওই পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং মিশনপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলার এক চমৎকার সুযোগ হয়েছে তাঁর। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্বরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতেরা দেশটিকে আরও বেশি নিরাপদ, শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধশালী করে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে, নয়াদিল্লির এই গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশ নিতে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন গত সোমবার রাতেই ভারতে পৌঁছান। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে উজবেকিস্তান সফরে যেতে পারেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে সঙ্গী হিসেবে শতাধিক মার্কিন কোম্পানির প্রতিনিধিদের একটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী দল থাকার কথা রয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার করাই তাঁর এই সফরের প্রধান লক্ষ্য। উল্লেখ্য, গত এক দশকে উজবেকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য হারে গভীর হয়েছে এবং দেশটি বর্তমানে মধ্য এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার আটলান্টায় তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে নতুন সকার দল ‘বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই দলটির অন্যতম লক্ষ্য। দলের ম্যানেজার আতাহার হোসাইন জানান, বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স মূলত তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিভাবান তরুণদের জন্য একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে তাদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ দেওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে তরুণদের একসঙ্গে মাঠে খেলার সুযোগ হলে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারবে বলে আশা করছেন তিনি। আতাহার হোসাইন বলেন, নতুন ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি সুন্দর ও শক্তিশালী দল গড়ে তুলতে চান তারা। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও ক্রীড়াসুলভ আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে আটলান্টার বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ফুটবল চর্চা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যও রয়েছে দলের। আগামী দিনে স্থানীয় বিভিন্ন সকার টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন ও অন্যান্য দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায় বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স। যারা দলের হয়ে খেলতে আগ্রহী, তাদের ম্যানেজার আতাহার হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। উদ্যোক্তারা মনে করেন, খেলাধুলা শুধু মাঠের প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি কমিউনিটির মানুষকে একসঙ্গে আসার এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করারও একটি কার্যকর মাধ্যম। পরিবার, বন্ধু ও কমিউনিটির সদস্যদের সহযোগিতা নিয়ে দলটিকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী সকার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চান তারা। বেঙ্গল ওয়ারিয়র্সের ম্যানেজার আতাহার হোসাইন দলের নতুন যাত্রার জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের একসঙ্গে নিয়ে আটলান্টায় একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরি এবং কমিউনিটির মধ্যে ঐক্যের বন্ধন আরও শক্তিশালী করাই দলের অন্যতম লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ হিসেবে পরিচিত ইবি-৫ কর্মসূচির বিভিন্ন আবেদন ফি আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস নতুন ফি কাঠামো নির্ধারণ করেছে। এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আবেদনের ফি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর বা তার পর পোস্টমার্ক করা আবেদনগুলোতে নতুন ফি প্রযোজ্য হবে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আবেদন ফি। বর্তমানে একক বিনিয়োগকারীর আবেদন জমা দিতে ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার লাগে। নতুন নিয়মে এই ফি বেড়ে হবে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১০৭ শতাংশ বৃদ্ধি। রিজিওনাল সেন্টারের মাধ্যমে করা প্রাথমিক বিনিয়োগকারীর আবেদনের ফিও ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার হবে, যা বর্তমান ফি থেকে ১১৪ শতাংশ বেশি। নতুন এই দুই ফি’র মধ্যেই ৭৫ ডলারের ইবি-৫ প্রযুক্তি ফি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শর্তযুক্ত গ্রিন কার্ডের শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদনের ফি ৩ হাজার ৭৫০ ডলার থেকে বেড়ে ৫ হাজার ডলার হবে। অন্যদিকে রিজিওনাল সেন্টারের প্রাথমিক অনুমোদনের আবেদনের ফি ১৭ হাজার ৭৯৫ ডলার থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার ১১৫ ডলার হবে। অর্থাৎ এই ফি প্রায় ১৪৮ শতাংশ বাড়ছে। একইভাবে নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রকল্পের অনুমোদনের ফি ১৭ হাজার ৭৯৫ ডলার থেকে বেড়ে ৪২ হাজার ৬৭৫ ডলার হবে, যা প্রায় ১৪০ শতাংশ বেশি। রিজিওনাল সেন্টারের ক্ষেত্রেও আলাদা খরচ বাড়ছে। রিজিওনাল সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন করা বিনিয়োগকারীদের জন্য ইবি-৫ অখণ্ডতা তহবিলের ফি ১ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ১০০ ডলার হবে। ২০ বা তার কম বিনিয়োগকারী থাকা রিজিওনাল সেন্টারের বার্ষিক অখণ্ডতা তহবিলের ফি ১০ হাজার থেকে বেড়ে ১১ হাজার ডলার এবং বেশি বিনিয়োগকারী থাকা নির্দিষ্ট রিজিওনাল সেন্টারের ফি ২০ হাজার থেকে বেড়ে ২২ হাজার ডলার হবে। এই তহবিলের অর্থ কর্মসূচির নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করা, জালিয়াতি তদন্ত, নিরীক্ষা এবং সরেজমিন পরিদর্শনসহ বিভিন্ন তদারকি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। ইউএসসিআইএস বলছে, ২০২২ সালের ইবি-৫ সংস্কার ও অখণ্ডতা আইনের অধীনে কর্মসূচির প্রশাসনিক ব্যয় পুরোপুরি আদায় এবং নির্ধারিত আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সময়সীমা পূরণের জন্য নতুন ফি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান ফি দিয়ে ইবি-৫ কর্মসূচির প্রত্যাশিত ব্যয় পুরোপুরি মেটানো যাচ্ছে না। নতুন ফি কাঠামোর মাধ্যমে সেই ব্যয়ের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি কর্মসূচির অখণ্ডতা রক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থায়ন করা হবে। তবে নতুন নিয়মে ইবি-৫-এর মূল বিনিয়োগের পরিমাণ পরিবর্তন হচ্ছে না। বর্তমানে নির্ধারিত কর্মসংস্থান এলাকা বা টিইএ এবং নির্দিষ্ট অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য ন্যূনতম বিনিয়োগ ৮ লাখ ডলার এবং অন্যান্য যোগ্য প্রকল্পের জন্য ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এসব বিনিয়োগের সীমা নতুন ফি নিয়মের আওতায় পরিবর্তন করা হয়নি। নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হলে ইবি-৫ কর্মসূচির বিভিন্ন আবেদন ও সংশ্লিষ্ট ফি মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে উল্লেখযোগ্য ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে নতুন আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বর্তমান ফি এবং ৩০ নভেম্বরের পরের ফি’র পার্থক্য আগে থেকে হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নতুন নিয়মটি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করা হয়েছে এবং ৬০ দিন পর কার্যকর হবে।
বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও বাঙালির পরিচয় উদযাপনে আগামী শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ভার্জিনিয়ার উডব্রিজে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’। ‘গৌরবের ৩৪তম বছর’ উপলক্ষে এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘স্বর্ণালী অতীত’। বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টির এ. জে. ফেরলাজ্জো বিল্ডিংয়ে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। বিসিসিডিআই বাংলা স্কুল দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বাংলা স্কুলের কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মকে তাদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখা। ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’ও সেই ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের অংশ। বিসিসিডিআইয়ের ওয়েবসাইটে আগের বছরগুলোর ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’র বিভিন্ন আয়োজনের তথ্য ও ভিডিওও রয়েছে। এবারের মেলার বিশেষ প্রতিপাদ্য ‘স্বর্ণালী অতীত’। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের উদযাপনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের কাছে নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াও এই ধরনের আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। মেলায় পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ডিএমভি এলাকার বাংলাদেশিদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং ফ্রি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে অনুষ্ঠান। এদিকে ২০২৬ থেকে ২০২৭ মেয়াদের জন্য বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের নতুন নির্বাহী কমিটিও নির্বাচিত হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আতিয়া মাহজাবীন, সহসভাপতি হিসেবে নূর মোহাম্মদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিভা বড়ুয়া দায়িত্ব পেয়েছেন। সহকারী সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন রুনা আফরোজ এবং কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন মৌসুমী মিত্র। শিক্ষা পরিচালক হিসেবে রাজিয়া সুলতানা, প্রেস ও প্রকাশনা পরিচালক হিসেবে রুমানা শুমি, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া পরিচালক হিসেবে আইরিন ফৌজিয়া এবং প্রোগ্রাম পরিচালক হিসেবে মোহাম্মদ জেড আবদিন দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন নির্বাহী কমিটিকে বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলা ভাষা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। ৩৪ বছরের পথচলা এবং নতুন নেতৃত্বকে সামনে রেখে এবারের ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’ ডিএমভি এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি সাংস্কৃতিক মিলনমেলার উপলক্ষ হিসেবে সামনে এসেছে। ‘স্বর্ণালী অতীত’কে স্মরণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার বার্তাই থাকবে এবারের আয়োজনের কেন্দ্রে।
জর্জিয়ার শহর ও শহরতলির অনেক আবাসিক এলাকায় বাড়ির লনে হরিণ বা খরগোশ, আর আশপাশের রাস্তা ও জলাশয়ের কাছে রাজহাঁস কিংবা ময়ূরের দেখা পাওয়া অনেকের কাছেই এখন পরিচিত দৃশ্য। বিশেষ করে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার আগে নেইবোহুডের সবুজ লনে হরিণের দলকে ঘাস খেতে দেখা যায়। ব্যস্ত প্রবাসজীবনের মধ্যে হঠাৎ এমন দৃশ্য চোখে পড়লে কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের তথ্য অনুযায়ী, মেট্রো আটলান্টার শহর ও শহরতলিতে মানুষের বসতি এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল অনেক জায়গায় পাশাপাশি অবস্থান করছে। এ কারণে মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন প্রাণীর দেখা হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। সংস্থাটির আরবান ওয়াইল্ডলাইফ প্রোগ্রাম মেট্রো আটলান্টার বিভিন্ন কাউন্টিতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিয়ে সচেতনতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ থেকে মেয়ের কাছে বেড়াতে আসা নাজমুল হোসেন জর্জিয়ায় এসে এমন দৃশ্য দেখে বিশেষভাবে আনন্দিত। বিকেলে বাড়ি থেকে হাঁটতে বের হলে আশপাশের নেইবোহুডে হরিণের দল দেখতে পান তিনি। কখনো লনের ওপর দাঁড়িয়ে ঘাস খাচ্ছে, কখনো লতা-পাতায় মুখ দিচ্ছে, আবার কিছুক্ষণ পর ধীরে ধীরে অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। দূর থেকে দাঁড়িয়ে এসব দৃশ্য দেখা তার কাছে প্রবাসজীবনের অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। নাজমুল হোসেনের কাছে বিষয়টি বাংলাদেশের জীবনের সঙ্গে তুলনা করার মতো না। তার অভিজ্ঞতায়, বাংলাদেশে বসতবাড়ির আশপাশে এভাবে অবাধে হরিণ ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য একবারেই অসম্ভব। অথচ জর্জিয়ায় বাড়ির লনেই হরিণের দেখা মিলছে। কখনো খরগোশ, কখনো রাজহাঁস, আবার গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ রাস্তা পার হতে দেখা যাচ্ছে ময়ূর। তার কাছে এসব দৃশ্য নতুনত্বের পাশাপাশি প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যে মন ভালো করে দেওয়ার মতো একটি অভিজ্ঞতা। শুধু হরিণ বা খরগোশ নয়, জর্জিয়ার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, পার্ক ও জলাশয়ের আশপাশেও নানা ধরনের পাখি ও প্রাণীর দেখা পাওয়া যায়। জর্জিয়া ডিএনআর জানিয়েছে, বিশেষ করে কানাডিয়ান রাজহাঁস শহরতলির পুকুর, পার্ক, অফিস কমপ্লেক্সসহ মানুষের বসতির কাছাকাছি বিভিন্ন পরিবেশে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। ফলে এসব প্রাণীর সঙ্গে মানুষের দেখা হওয়াও অনেক এলাকায় স্বাভাবিক বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে জর্জিয়া ডিএনআর। প্রাণীদের খাবার না দেওয়া এবং তাদের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা না দেওয়ার পরামর্শ রয়েছে। বিশেষ করে ছোট হরিণ, খরগোশ বা অন্য কোনো প্রাণীকে একা দেখে বাড়িতে নিয়ে আসা উচিত নয়। ডিএনআরের মতে, অনেক সময় মা প্রাণী কাছাকাছিই থাকে। নাজমুল হোসেনের মতো অনেক প্রবাসীর কাছে তাই জর্জিয়ার এমন দৃশ্য প্রবাসজীবনের ছোট ছোট আনন্দের অংশ হয়ে উঠেছে। বাড়ির লনে হরিণের দল, রাস্তার পাশে খরগোশ বা রাজহাঁস, কিংবা গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ রাস্তা পার হওয়া একটি ময়ূর কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও ব্যস্ত জীবনে এনে দেয় স্বস্তি। বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করলে এসব দৃশ্য ভালো উপভোগ্য মনে হয় অনেকের কাছে। জর্জিয়ার প্রকৃতির এই কাছাকাছি থাকা তাই প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে যোগ করছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত আইভি লিগ প্রতিষ্ঠান কর্নেল ইউনিভার্সিটির এক সাম্প্রতিক জরিপে যৌন নিপীড়নের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। রাজ্য-নির্দেশিত '২০২৫ সার্ভে অব সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট অ্যান্ড রিলেটেড মিসকন্ডাক্ট' শীর্ষক ওই জরিপে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পড়ুয়া প্রায় ৩৫ শতাংশ ছাত্রী ক্যাম্পাসে থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক বা অসহায় অবস্থায় যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে, স্নাতক পড়ুয়া ছাত্রদের মধ্যে এই হার ৮ শতাংশ। এর পাশাপাশি, ২০২৪ সালে এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক মাদক খাইয়ে 'চি ফি' (Chi Phi) ফ্র্যাটার্নিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের (গ্যাং রেপ) অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছেন প্রসিকিউটররা। গত মার্চে প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্সিয়াল টাস্ক ফোর্সের এক সারসংক্ষেপ প্রতিবেদনে জানানো হয়, যৌন নিপীড়ন রোধে দীর্ঘ সময় ধরে নানা পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে এই ধরনের অপরাধের হার এখনও উদ্বেগজনকভাবে বেশি। এসব ঘটনার অধিকাংশের সাথেই অ্যালকোহল বা মাদকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, সাধারণ ছাত্রীদের (২৯%) তুলনায় ফ্র্যাটার্নিটি বা সোরোরিটি-সংশ্লিষ্ট ছাত্রীদের (৫২%) যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার হার অনেক বেশি। অর্ধেক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তারা সচেতন থাকলেও অ্যালকোহল বা মাদকের প্রভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেদের রক্ষা করার মতো অবস্থায় ছিলেন না। এদিকে, টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবরের ওই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তারা নতুন করে অপরাধমূলক তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছেন এবং বিষয়টি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপন করবেন। সম্প্রতি ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী (যার ছদ্মনাম ‘জেন ডো’ ব্যবহার করা হয়েছে) একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করার পর বিষয়টি নতুন করে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। যদিও ফ্র্যাটার্নিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ ওঠার তিন দিনের মধ্যেই অভিযুক্ত সাত সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ঘটনাটির তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট শেখ আল-আমিন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে তাঁর এই নতুন পদোন্নতি কার্যকর হয়েছে। মর্যাদাপূর্ণ এই পদোন্নতি মার্কিন সেনাবাহিনীতে তাঁর সামরিক ও পেশাগত জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শেখ আল-আমিনের এই অনন্য অর্জনকে তাঁর দায়িত্ববোধ, অনুকরণীয় নেতৃত্ব এবং দেশ ও কমিউনিটির প্রতি গভীর অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক অভিনন্দন বার্তায় জানানো হয়, একজন গর্বিত বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে শেখ আল-আমিন মার্কিন সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিউনিটিতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সামরিক ও পেশাগত ক্ষেত্রে তাঁর এই দায়িত্বশীল ভূমিকার মধ্য দিয়ে কর্তব্যপরায়ণতা, সততা, নেতৃত্ব ও সেবামূলক মূল্যবোধের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটছে। ক্যাপ্টেন শেখ আল-আমিন ও তাঁর পরিবারকে এই বিশেষ অর্জনের জন্য উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে তাঁর সামরিক ও পেশাগত জীবনের ভবিষ্যৎ সাফল্যও কামনা করেছে সংগঠনটি। শেখ আল-আমিনের এই সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক বড় সম্মান ও অনুপ্রেরণার প্রতীক।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষ এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে স্টেট সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন স্বাস্থ্যসেবা খাতের অভিজ্ঞ নির্বাহী লিসা ‘মালকি’ ভিডার। প্রায় তিন দশক ধরে স্বাস্থ্যসেবা খাতের সাথে যুক্ত থাকা এবং একটি অ্যাসিস্টেড-লিভিং ফ্যাসিলিটি পরিচালনার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই অর্থোডক্স ইহুদি নারী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নাসাউ কাউন্টি ও ফাইভ টাউনস সমন্বয়ে গঠিত ৯ম ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচনে লড়ছেন। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তিনি বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর প্যাট্রিসিয়া কানজোনেরি-ফিটজপ্যাট্রিকের মুখোমুখি হবেন। রাজনীতিতে আসার পেছনে নিজের তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভিডার। বিশেষ করে নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ বৃদ্ধির কারণে ধর্মীয় আচার পালনে ভীতি তৈরি হওয়াকে তিনি উদ্বেগের বড় কারণ বলে মনে করেন। ভিডার জানান, তাঁর মতো মায়েরা সন্তানদের ধর্মীয় প্রতীক (যেমন 'স্টার অব ডেভিড') পরে বাইরে যেতে দেখে প্রতিনিয়ত শঙ্কায় থাকেন। প্রার্থনালয় ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় গভর্নর ক্যাথি হোকুলের ঘোষিত তহবিল এবং 'সিকিউরিং কমিউনিটিজ অ্যাগেইনস্ট হেট ক্রাইমস' কর্মসূচির প্রশংসা করার পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নির্ভয়ে বসবাসের নিশ্চয়তা দিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি। দীর্ঘদিন স্বাস্থ্য খাতের দাবিদাওয়া নিয়ে নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনিতে দেনদরবার করতে গিয়ে নীতিনির্ধারকদের সাথে বাস্তবতার এক বিশাল ফারাক লক্ষ্য করেন ভিডার। তাঁর মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের একটি বড় অংশ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জটিলতা ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সমস্যাগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারেন না। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো, প্রবীণদের সুরক্ষা এবং সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি দূর করা তাঁর প্রচারণার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। একই সাথে তিনি মনে করেন, আইনসভায় এলাকার স্বার্থ সুরক্ষিত করতে ক্ষমতাসীন দলের সাথে কার্যকরভাবে সমন্বয় করতে পারে এমন নেতৃত্বই ডিস্ট্রিক্টটির প্রয়োজন। নির্বাচনী প্রচারণায় ইহুদিবিদ্বেষ ও জননিরাপত্তার পাশাপাশি স্থানীয় ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি বা অ্যাফোর্ডেবিলিটি সংকটকে সবচেয়ে বড় ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভিডার। অতিরিক্ত প্রপার্টি ট্যাক্স, গ্যাস ও ইউটিলিটি বিলের ভারে সাধারণ পরিবারগুলো জর্জরিত উল্লেখ করে তিনি মধ্যবিত্তের করের বোঝা লাঘব করার প্রতিশ্রুতি দেন। রাজনৈতিক বিরোধীরা তাঁকে কট্টর প্রগতিশীল হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করলেও ভিডার নিজেকে একজন ‘মধ্যপন্থী ও রাজস্ব নীতিতে রক্ষণশীল ডেমোক্র্যাট’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন। রাজনৈতিক বিভাজন পেরিয়ে আইনসভায় আরো মধ্যপন্থী ও বাস্তবমুখী কণ্ঠস্বর যুক্ত করাই তাঁর লক্ষ্য বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।