সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
অপরাধ

ট্রাংক কেটে প্রশ্ন চুরি, কর্মকর্তার কক্ষে ফটোকপি, অন্তর্বাসে পাচারের ভয়াবহ তথ্য

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৪:৩৭
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসি
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসি

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসির বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। তদন্তে পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসের কর্মী এবং দালালদের সমন্বয়ে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের তথ্য উঠে এসেছে।

 

সিআইডির তদন্ত নথি অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র চুরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে পাশ কাটাতে ব্যবহার করা হয়েছে নানা কৌশল। কোথাও ট্রাংকের তালা কেটে প্রশ্নপত্র বের করা হয়েছে, আবার কোথাও কর্মকর্তার কক্ষের ফটোকপি মেশিন ব্যবহার করে প্রশ্নের কপি করা হয়েছে। বিজি প্রেস থেকেও প্রশ্নপত্র বাইরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

তদন্তে সবচেয়ে আলোচিত তথ্যগুলোর একটি এসেছে পিএসসির অফিস সহায়ক মো. সাজেদুল ইসলামকে ঘিরে। অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার আগে তিনি পিএসসির এক কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করেন।

 

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে চাবি সংগ্রহ করে ওই কক্ষে ঢোকেন সাজেদুল। এরপর হ্যাকসো ব্লেড দিয়ে একটি ট্রাংকের তালা কেটে ফাইনাল মডারেশনের চার সেট হাতে লেখা প্রশ্নপত্র বের করেন।প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে তিনি ওই কর্মকর্তার কক্ষেই থাকা অফিসিয়াল ফটোকপি মেশিন ব্যবহার করে চার সেট প্রশ্নের কপি করেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর মূল প্রশ্নপত্রগুলো আবার ট্রাংকে রেখে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।

 

তদন্ত নথি অনুযায়ী, ওই চার সেট প্রশ্নপত্রে মোট ৮০০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ছিল। পরে প্রশ্নগুলো এক জায়গায় না লিখে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার কম্পিউটারের দোকানে অল্প অল্প করে কম্পোজ করানো হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।সিআইডির তদন্ত অনুযায়ী, এসব প্রশ্নের বিনিময়ে সাজেদুল ইসলাম ৭৫ লাখ টাকা পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

প্রশ্নপত্র ফাঁসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে তদন্তে উঠে এসেছে সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসের নাম। সেখানে কর্মরত কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র বাইরে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

 

তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, বিজি প্রেসের কর্মী মোহাম্মদ আকরাম হোসেন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী মজনু মিয়া প্রশ্নপত্রের ছবি তোলা কিংবা কাগজ বাইরে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র শরীরে লুকিয়ে বাইরে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

 

তদন্তে আরও উঠে এসেছে পিএসসির সাবেক কর্মী মো. খলিলুর রহমানের নাম। অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চাকরি হারিয়েছিলেন। পরে পুনর্বহাল হওয়ার পর আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।

 

সিআইডির তদন্তে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর নামও গুরুত্বপূর্ণভাবে এসেছে। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চাকরি বিক্রির একটি বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে এসেছে।

 

এ ঘটনায় সিআইডি মোট ৫৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিজি প্রেসের কর্মী এবং মধ্যস্থতাকারীদের সমন্বয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেটওয়ার্কের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

 

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাশাপাশি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের হিসাব, প্রার্থীদের তথ্য এবং যোগাযোগের নথি উদ্ধারের কথাও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তবে এসব তথ্য সিআইডির তদন্ত ও অভিযোগপত্রে উত্থাপিত অভিযোগ। আদালতের চূড়ান্ত রায়ে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা উচিত।

 

এই তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে। একটি প্রশ্নপত্র কীভাবে নিরাপত্তাবেষ্টিত কক্ষ থেকে বেরিয়ে বাজারে পৌঁছাল, কারা কোথায় সহায়তা করেছে এবং এত দীর্ঘ সময় ধরে এই নেটওয়ার্ক কীভাবে চলেছে—এসব বিষয়ই তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় আরও স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

অপরাধ

View more
কুমড়া তুলতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
কুমড়া তুলতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিউ জার্সিতে প্রাণ হারাল দুই বছরের শিশু

নিউইয়র্কের কাছাকাছি নিউ জার্সির ক্রিম রিজ এলাকার বুলক ফার্মসে পরিবারের সঙ্গে কুমড়া তুলতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই বছর বয়সী জেমস গ্যাব্রিয়েল। নিউইয়র্ক পোস্টের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল গত শনিবার সকাল ১১টার দিকে। অর্থাৎ খবরটি আজ প্রকাশিত হলেও ঘটনাটি আজকের নয়।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেছনের দিকে চলতে থাকা একটি ক্রাইসলার গাড়ির নিচে শিশুটি চাপা পড়ে। দুর্ঘটনার সময় তার দাদি এলেন গ্যাব্রিয়েল শিশুটির হাত ধরে ছিলেন। তিনিও গাড়ির নিচে আটকে পড়েন, তবে সামান্য আঘাত নিয়ে বেঁচে যান।   শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়। শিশুটির বাবা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে প্রাণবন্ত ও আনন্দপ্রিয় বলে স্মরণ করছেন।   নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের পুলিশ দুর্ঘটনাটি তদন্ত করছে। গাড়িচালকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। খামার কর্তৃপক্ষও ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে।    শরৎকালে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পরিবার শিশুদের নিয়ে খামারে কুমড়া তুলতে যায়। এ ধরনের স্থানে গাড়ি চলাচলের পথ ও শিশুদের হাঁটার জায়গা কাছাকাছি হতে পারে। তাই শিশুদের সব সময় হাত ধরে রাখা, গাড়ির পেছনে দাঁড়াতে না দেওয়া এবং চালকের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে নিশ্চিত হওয়া যে তিনি শিশুটিকে দেখতে পাচ্ছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১২:১
ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে আহত ব্যক্তি

নিউইয়র্কে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে আহত ব্যক্তি, গাড়িতে ছিল পাঁচ বছরের শিশু

মা ও শিশুকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

নিউইয়র্কে ১৫ তলা থেকে মা ও শিশুকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সাবেক প্রেমিক

পণ্য ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ

শিশুর ঘুমের পানিতে ভয়ংকর অ্যালকোহল, যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট পণ্য ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ

অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে
ফিনিক্সের অ্যাপার্টমেন্টে গভীর রাতে গুলির ঘটনা, গুরুতর আহত এক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফিনিক্সে বুধবার ভোরে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে গুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তার আঘাত গুরুতর হলেও তিনি বেঁচে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   ঘটনাটি মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাউথ ফিনিক্সের প্যারাডাইস পাল্মস অ্যাপার্টমেন্টে ঘটে। এলাকাটি ৭ম অ্যাভিনিউ ও সাউদার্ন অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি। ঘটনাস্থলের পাশেই ফিনিক্স পুলিশের সাউথ মাউন্টেন প্রিসিন্ট থাকায় কর্মকর্তারা গুলির শব্দ শুনে দ্রুত সেখানে পৌঁছে যান।   পুলিশ পৌঁছানোর পর একজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে দেখতে পায়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হলেও তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।   হামলার আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। গুলি কেন চালানো হয়েছে এবং আহত ব্যক্তি হামলাকারীকে চিনতেন কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত হয়নি।   ঘটনার পর পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ধানে অভিযান শুরু করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে পুলিশ কর্মকর্তাদের রাইফেল হাতে অ্যাপার্টমেন্ট এলাকায় তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে।   তদন্ত চলাকালে আশপাশের এলাকা বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে তদন্তকারীরা নিরাপদে আলামত সংগ্রহ করতে পারেন।   এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সেটিও পুলিশ জানায়নি।ফিনিক্স পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং প্রত্যক্ষদর্শী বা আশপাশের কোনো বাসিন্দার কাছে তথ্য থাকলে তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনার কারণ ও সন্দেহভাজন সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১০:৪৮
৬ অক্টোবর ২০২৬-এর অপরাধ পরিসংখ্যান ব্রিফিং।

নিউইয়র্কে অপরাধ কমলেও হেট ক্রাইম বেড়েছে, উদ্বেগে পুলিশ ও নগরবাসী আজ

পারিবারিক ফটো।

রাত ২ টায় কুইন ক্যামিলার চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, স্বামী আটক

ঘটনা স্থলের ছবি:সংগৃহীত।

শিকাগোর রাস্তায় সাত বছরের শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্ত নারী আটক

আটকের দৃশ্য ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারি, এলএএএক্সে চীনা এজেন্ট সন্দেহে নারী গ্রেপ্তার

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ছেলের ওপর চীনের হয়ে নজরদারি চালানোর অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ৩৪ বছর বয়সী ওয়ানইং ‘হিদার’ ঝাংকে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চীনের সাংহাইগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   ঝাং ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইনে বসবাস করেন এবং পেশায় রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। মার্কিন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ এনেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলে ও তার পরিবারের ওপর নজরদারি চালান এবং তাদের ছবি, ভিডিও ও গাড়ির নম্বরসংক্রান্ত তথ্য চীনা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান।   মার্কিন ফেডারেল আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনাটির সূত্রপাত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই সময় ঝাং এবং তার সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি লাস ভেগাস থেকে সিয়াটলে যান। সেখানে তারা একটি কালো রঙের গাড়ি ভাড়া করে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্যের বাসার কাছে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   অভিযোগপত্রে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ঝাং ও তার সহযোগী গাড়ির ভেতরে অপেক্ষা করছিলেন। পরে লক্ষ্য ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফেরার সময় তারা গাড়ি থেকে ফোন বের করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।   এফবিআই সরাসরি আদালতের অভিযোগপত্রে লক্ষ্য ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি। তবে এফবিআইয়ের প্রকাশিত তথ্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের ভিত্তিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, লক্ষ্য ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ছেলে লাই টিং-ইউ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এলাকায় বসবাস ও কাজ করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঝাং নজরদারি চালানোর পর চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের কাছে ছবি, ভিডিও ও গাড়ির নম্বরের তথ্য পাঠান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝাং এমন কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন যাতে তার কার্যক্রম সহজে শনাক্ত না হয়। একই সঙ্গে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করার বিষয়টি মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে নিবন্ধনও করেননি বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।   এফবিআইয়ের তদন্তে ঝাংয়ের শিক্ষাজীবন ও চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তিনি বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে পড়াশোনা করেছিলেন। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ের একজন পরিচিত ব্যক্তি পরে চীনা সরকারের কর্মকর্তা হন এবং ২০২৫ সালেও তাদের যোগাযোগ ছিল। তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা বা কারও সঙ্গে যোগাযোগ থাকাই গুপ্তচরবৃত্তির প্রমাণ নয়; এসব তথ্য মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।   ঝাংকে গ্রেপ্তারের সময় তিনি চীনের উদ্দেশে যাত্রা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, রোববার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল।   তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ঘটনাটির তীব্র নিন্দা করেছে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও এটিকে ‘আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে দমন-পীড়নের’ একটি উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তাইওয়ানের নাগরিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া বা ক্ষতি করার মতো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তাইওয়ান মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে।   তবে চীনের পক্ষ থেকে ঘটনাটির বিষয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটি সম্পর্কে নিজেদের অবগত নয় বলে জানিয়েছে এবং ‘চীনা গুপ্তচর’ নিয়ে অতিরঞ্জিত প্রচারের মাধ্যমে চীনকে হেয় করার অভিযোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তাইওয়ান, সামরিক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। অন্যদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে তাইওয়ানের নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখলেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রধান সরবরাহকারী।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্যদের বাসস্থান, গাড়ি ও চলাফেরার তথ্য ভবিষ্যতে কোনো সংঘাতের পরিস্থিতিতে চীনের জন্য চাপ তৈরির কাজে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। এ কারণেই তদন্তকারীরা নজরদারির ঘটনাটিকে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে এটি তদন্তকারীদের দাবি, আদালতে এখনো তা প্রমাণিত হয়নি।   এটি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে চীনের হয়ে কথিত গোপন তৎপরতার অভিযোগে সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলার মধ্যে সর্বশেষ ঘটনা। মার্কিন বিচার বিভাগ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তাইওয়ানি, চীনা ও অন্যান্য ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর কথিত নজরদারি ও চাপ প্রয়োগের ঘটনায় একাধিক তদন্ত ও মামলা করেছে।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়ানইং ‘হিদার’ ঝাং এখনো আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ফেডারেল আদালতে প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত একজন অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   মামলাটি এখন তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। আদালতে পরবর্তী শুনানিতে প্রসিকিউশনকে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে এবং ঝাংয়ের পক্ষ থেকেও অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ থাকবে। মামলার পরবর্তী অগ্রগতি থেকেই বোঝা যাবে, মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগগুলো আদালতে কতটা প্রমাণিত হয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৫:৫২
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসি

ট্রাংক কেটে প্রশ্ন চুরি, কর্মকর্তার কক্ষে ফটোকপি, অন্তর্বাসে পাচারের ভয়াবহ তথ্য

পুলিশ সেজে ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সেই রহস্যময় ঘটনার প্রতীকী দৃশ্য

পুলিশ সেজে গু লি না চালিয়েই ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে উধাও, রহস্য আজও অমীমাংসিত

সালমান মুক্তাদির,শহিদুল আলম

সাহসের জন্য সালমানকে জড়িয়ে ধরতাম’, বললেন শহিদুল আলম

0 Comments