জেন জি-ই বিয়েতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী, বলছে নতুন গবেষণা
বিয়ে ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক থেকে তরুণ প্রজন্ম ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে—এমন ধারণা অনেকদিন ধরেই প্রচলিত। তবে নতুন এক গবেষণায় সেই ধারণার সঙ্গে মিলছে না জেন জির বাস্তব ভাবনা। বরং অন্য যেকোনো প্রজন্মের তুলনায় জেন জির মধ্যেই বিয়ের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে।
ম্যাচ গ্রুপের ২০২৬ সালের Singles in America গবেষণায় অংশ নেওয়া জেন জির ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতে বিয়ে করতে চান। গবেষণাটি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির কিনসে ইনস্টিটিউটের গবেষকদের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। এতে মার্চ ও এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ৫ হাজার অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, সব বয়সী অংশগ্রহণকারীর ৭৬ শতাংশ বিশ্বাস করেন, রোমান্টিক ভালোবাসা আজীবন স্থায়ী হতে পারে। ৭৪ শতাংশ মনে করেন, কিছু সম্পর্ক যেন ‘হওয়ারই কথা’ এবং ৬১ শতাংশ বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক মানুষের জন্য একজন আদর্শ সঙ্গী বা ‘সোলমেট’ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে তরুণ আমেরিকানদের মধ্যে বিয়ের আগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে আর্থিক চাপ, বাড়ির উচ্চমূল্য এবং সম্পর্কের পরিবর্তিত ধারণাকে দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু নতুন গবেষণার ফল বলছে, বিয়ের প্রতি আগ্রহ কমার চেয়ে বরং বিয়েতে পৌঁছানোর পথটিই জেন জির কাছে বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।
ডেটিং অ্যাপ ফ্লেজের প্রতিষ্ঠাতা ভ্যাল ক্লিমভের মতে, জেন জি আসলে গুরুতর সম্পর্ক চায়। তবে বর্তমান ডেটিং সংস্কৃতি তাদের সেই সম্পর্কে পৌঁছে দেবে কি না, তা নিয়ে তাদের আস্থা কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেন জি আগের প্রজন্মের তুলনায় কম ডেট করেছে। ফলে সম্পর্কের প্রতি তাদের আগ্রহ অনেক ক্ষেত্রে আরও সচেতন ও বাছাই করা। একই সঙ্গে ডেটিং অ্যাপ, ‘সোয়াইপ কালচার’ এবং অনিশ্চিত সম্পর্ক বা ‘সিচুয়েশনশিপ’-এর প্রতি একধরনের ক্লান্তিও তৈরি হয়েছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু উত্তেজনা বা আকর্ষণের চেয়ে মানসিক স্থিরতা ও সামঞ্জস্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেক অবিবাহিত মানুষ। প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৯ শতাংশ জানিয়েছেন, এমন কারও প্রেমে পড়েছেন যাকে শুরুতে তারা আকর্ষণীয় মনে করেননি। ভালো কথোপকথন, অভিন্ন আগ্রহ ও একই ধরনের মূল্যবোধ পরে আকর্ষণ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘শান্তি ও মানসিক নিরাপত্তা’কে ‘আবেগ ও উত্তেজনা’র চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন অবিবাহিতরা।
অর্থনৈতিক বিষয়ও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় ৭১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, অর্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস বাড়ায়। ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা বিয়ের আগে প্রিনাপচুয়াল এগ্রিমেন্ট বা সম্পত্তি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে আগাম চুক্তি করতেও রাজি।
কাউন্সেলর আলেক্সান্দ্রা ক্রোমারের মতে, বর্তমান উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ও জেন জির বিয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর একটি কারণ হতে পারে। বাড়ি কেনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন খরচ—সবকিছুর চাপের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, দুইজনের আয় থাকলে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য অর্জন তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।
তবে বিয়ের প্রতি আগ্রহ বেশি হলেও এর অর্থ এই নয় যে জেন জি দ্রুত বিয়ে করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা হয়তো আগের প্রজন্মের তুলনায় দেরিতে বিয়ে করবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে পারে।
গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ২৪ বছর বয়সে বিয়ে করতে চাওয়া আর ৩০ বছর বয়সের মধ্যে সত্যিই বিয়ে করা—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। তাই জেন জির বিয়ের প্রতি আগ্রহ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের হার বাড়াবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
লাইফস্টাইল
View moreবিয়ে ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক থেকে তরুণ প্রজন্ম ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে—এমন ধারণা অনেকদিন ধরেই প্রচলিত। তবে নতুন এক গবেষণায় সেই ধারণার সঙ্গে মিলছে না জেন জির বাস্তব ভাবনা। বরং অন্য যেকোনো প্রজন্মের তুলনায় জেন জির মধ্যেই বিয়ের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। ম্যাচ গ্রুপের ২০২৬ সালের Singles in America গবেষণায় অংশ নেওয়া জেন জির ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতে বিয়ে করতে চান। গবেষণাটি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির কিনসে ইনস্টিটিউটের গবেষকদের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। এতে মার্চ ও এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ৫ হাজার অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সব বয়সী অংশগ্রহণকারীর ৭৬ শতাংশ বিশ্বাস করেন, রোমান্টিক ভালোবাসা আজীবন স্থায়ী হতে পারে। ৭৪ শতাংশ মনে করেন, কিছু সম্পর্ক যেন ‘হওয়ারই কথা’ এবং ৬১ শতাংশ বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক মানুষের জন্য একজন আদর্শ সঙ্গী বা ‘সোলমেট’ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তরুণ আমেরিকানদের মধ্যে বিয়ের আগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে আর্থিক চাপ, বাড়ির উচ্চমূল্য এবং সম্পর্কের পরিবর্তিত ধারণাকে দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু নতুন গবেষণার ফল বলছে, বিয়ের প্রতি আগ্রহ কমার চেয়ে বরং বিয়েতে পৌঁছানোর পথটিই জেন জির কাছে বেশি জটিল হয়ে উঠেছে। ডেটিং অ্যাপ ফ্লেজের প্রতিষ্ঠাতা ভ্যাল ক্লিমভের মতে, জেন জি আসলে গুরুতর সম্পর্ক চায়। তবে বর্তমান ডেটিং সংস্কৃতি তাদের সেই সম্পর্কে পৌঁছে দেবে কি না, তা নিয়ে তাদের আস্থা কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, জেন জি আগের প্রজন্মের তুলনায় কম ডেট করেছে। ফলে সম্পর্কের প্রতি তাদের আগ্রহ অনেক ক্ষেত্রে আরও সচেতন ও বাছাই করা। একই সঙ্গে ডেটিং অ্যাপ, ‘সোয়াইপ কালচার’ এবং অনিশ্চিত সম্পর্ক বা ‘সিচুয়েশনশিপ’-এর প্রতি একধরনের ক্লান্তিও তৈরি হয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু উত্তেজনা বা আকর্ষণের চেয়ে মানসিক স্থিরতা ও সামঞ্জস্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেক অবিবাহিত মানুষ। প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৯ শতাংশ জানিয়েছেন, এমন কারও প্রেমে পড়েছেন যাকে শুরুতে তারা আকর্ষণীয় মনে করেননি। ভালো কথোপকথন, অভিন্ন আগ্রহ ও একই ধরনের মূল্যবোধ পরে আকর্ষণ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘শান্তি ও মানসিক নিরাপত্তা’কে ‘আবেগ ও উত্তেজনা’র চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন অবিবাহিতরা। অর্থনৈতিক বিষয়ও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় ৭১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, অর্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস বাড়ায়। ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা বিয়ের আগে প্রিনাপচুয়াল এগ্রিমেন্ট বা সম্পত্তি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে আগাম চুক্তি করতেও রাজি। কাউন্সেলর আলেক্সান্দ্রা ক্রোমারের মতে, বর্তমান উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ও জেন জির বিয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর একটি কারণ হতে পারে। বাড়ি কেনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন খরচ—সবকিছুর চাপের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, দুইজনের আয় থাকলে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য অর্জন তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে। তবে বিয়ের প্রতি আগ্রহ বেশি হলেও এর অর্থ এই নয় যে জেন জি দ্রুত বিয়ে করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা হয়তো আগের প্রজন্মের তুলনায় দেরিতে বিয়ে করবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে পারে। গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ২৪ বছর বয়সে বিয়ে করতে চাওয়া আর ৩০ বছর বয়সের মধ্যে সত্যিই বিয়ে করা—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। তাই জেন জির বিয়ের প্রতি আগ্রহ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের হার বাড়াবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
বিলাসপণ্যের ৭৫% কিনে থাকেন মধ্য ও নিম্ন আয়ের ক্রেতারা, উদ্দেশ্য শো-অফ
বাইডেনের ইভি নীতি বাতিল করলেন ট্রাম্প, কমবে নতুন গাড়ির দাম
বরফ, সমুদ্র নাকি মরুভূমির উষ্ণতা? নভেম্বরে ঘুরতে যাওয়ার ৫ দারুণ গন্তব্য
একসময় মুরগি তো দূরের কথা, প্রায় সব ধরনের পাখিকেই ভয় পেতেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার অ্যাশলি উডস। অথচ সেই ভয়ই একসময় এমন ভালোবাসায় পরিণত হবে যে নিজের শরীরে একে একে ৪৩টি মুরগির ট্যাটু করাবেন—তা তিনি নিজেও হয়তো কল্পনা করেননি। এখন মুরগিই তার জীবনের অন্যতম বড় অংশ, আর শরীরজুড়ে থাকা এসব ট্যাটু হয়ে উঠেছে তার স্মৃতি, রসবোধ ও প্রিয় প্রাণীগুলোর প্রতি ভালোবাসার প্রতীক। অ্যারিজোনার প্রেসকট ভ্যালির বাসিন্দা অ্যাশলির জীবনে পরিবর্তন শুরু হয় যখন তিনি ফ্লাফি বা তুলতুলে পালকের জন্য পরিচিত স্যালমন ফাভেরোলস জাতের মুরগি পালন শুরু করেন। প্রথমদিকে মুরগি পালনের বিষয়টি ছিল একেবারেই সাধারণ একটি অভিজ্ঞতা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পাখিগুলোর অদ্ভুত স্বভাব, মজার শব্দ এবং ছোটাছুটির ধরন অ্যাশলিকে আকৃষ্ট করতে শুরু করে। যেসব প্রাণীকে একসময় ভয় পেতেন, ধীরে ধীরে সেগুলোর সঙ্গেই তার তৈরি হয় গভীর এক সম্পর্ক। মুরগির প্রতি অ্যাশলি ও তার পরিবারের ভালোবাসা সময়ের সঙ্গে আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তারা ১০০টিরও বেশি মুরগির যত্ন নেন। ফলে মুরগিগুলো শুধু বাড়ির পোষা প্রাণী বা খামারের অংশ হয়ে থাকেনি, বরং পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। প্রতিটি মুরগির আলাদা স্বভাব ও আচরণ অ্যাশলির কাছে আলাদা কোনো গল্পের মতো মনে হতে থাকে। অন্যদিকে অ্যাশলির আগে থেকেই ট্যাটুর প্রতি আগ্রহ ছিল। মুরগির প্রতি নতুন এই ভালোবাসা এবং ট্যাটুর শখ—দুই বিষয়কে একসঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার প্রথম মুরগির ট্যাটুটিও ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। সেখানে দেখা যায়, অ্যারিজোনার মরুভূমির পটভূমিতে একটি মুরগিকে এলিয়েনরা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। মজার ও কল্পনাপ্রবণ সেই নকশা থেকেই শুরু হয় তার মুরগির ট্যাটুর দীর্ঘ যাত্রা। এরপর একে একে শরীরে জায়গা পেতে থাকে আরও নানা ধরনের মুরগির নকশা। কোনো ট্যাটুতে দেখা যায় জনপ্রিয় চরিত্র চিকেন লিটলকে, আবার কোনো নকশায় রয়েছে কার্টুন চরিত্র ফগহর্ন লেঘর্ন। এমনকি সানগ্লাস পরা মুরগির মতো হাস্যরসাত্মক নকশাও রয়েছে তার শরীরে। প্রতিটি ট্যাটুর নকশায় মুরগিকে ঘিরে অ্যাশলির নিজস্ব রসবোধ এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ছাপ রয়েছে। মুরগির ট্যাটুর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে শেষ পর্যন্ত তা একটি বিশ্বরেকর্ডের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ২০২৬ সালের মার্চে অ্যাশলি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পান একজন নারীর শরীরে সবচেয়ে বেশি মুরগির ট্যাটু থাকার জন্য। তার শরীরে তখন মোট ৪৩টি মুরগির ট্যাটু ছিল। এই স্বীকৃতি তাকে মুরগিপ্রেমী হিসেবে যেমন আলাদা পরিচিতি দিয়েছে, তেমনি তার অস্বাভাবিক শখকেও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। তবে অ্যাশলির কাছে এসব ট্যাটু শুধু রেকর্ড গড়ার বিষয় নয়। প্রতিটি নকশার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কোনো না কোনো স্মৃতি, মজার ঘটনা কিংবা তার জীবনে মুরগিগুলোর বিশেষ ভূমিকা। যে প্রাণীকে একসময় ভয় পেতেন, সেই মুরগিই এখন তার জীবনের এমন এক অংশ হয়ে উঠেছে, যাকে তিনি শরীরে স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে চেয়েছেন। অ্যাশলির গল্প তাই শুধু অদ্ভুত একটি ট্যাটু রেকর্ডের গল্প নয়। এটি বরং কীভাবে ভয় ধীরে ধীরে পরিচয়, পরিচয় থেকে ভালোবাসা এবং সেই ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত জীবনের একটি বিশেষ অংশে পরিণত হতে পারে—তারই এক মজার উদাহরণ। একসময় পাখি দেখলেই আতঙ্কিত হওয়া সেই নারী এখন ৪৩টি মুরগির ট্যাটু নিয়ে নিজের এই অদ্ভুত ভালোবাসার গল্পই বহন করছেন।
২০২৬ শেষ হতে ৯৭ দিন, ৩০ দিনের এই অভ্যাসেই বদলাতে পারে আপনার জীবন
চাকরি ছেড়ে ঘুরে বেড়ান বিশ্ব, ভ্রমণ করেই এখন লাখ টাকা আয় ২৬ বছরের তরুণীর
স্ত্রী ও সংসার থাকার পরও বয়স্ক পুরুষের প্রেমে কেন পড়েন তরুণীরা
নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গরমের সময় গাড়ির এসি ঠিকমতো ঠান্ডা না করলে সরাসরি অটো মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিজেই পরীক্ষা করে দেখা যায়। কেবিনের বাতাসের ফিল্টার, বাতাসের প্রবাহ, ফ্যান ও কনডেনসারের মতো সাধারণ বিষয়গুলো পরীক্ষা করলে সমস্যার প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে রেফ্রিজারেন্ট কমে যাওয়া, কোথাও লিক থাকা কিংবা এসির যন্ত্রাংশে ত্রুটি থাকলে পেশাদার মেকানিকের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমেই নিশ্চিত করুন, গাড়ির এসি চালু আছে কি না। অনেক গাড়িতে এসি এবং ভেতরের বাতাস পুনরায় ঘুরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা আলাদা থাকে। ভেতরের বাতাস পুনরায় ঘুরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা চালু থাকলে বাইরের গরম বাতাসের পরিবর্তে গাড়ির ভেতরের তুলনামূলক ঠান্ডা বাতাসই আবার এসি ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। এরপর ফ্যানের বিভিন্ন গতিতে বাতাসের প্রবাহ পরীক্ষা করুন। ফ্যান চললেও বাতাস খুব কম বের হলে কেবিনের বাতাসের ফিল্টারে ধুলা বা ময়লা জমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে গাড়ির প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ফিল্টার পরীক্ষা ও পরিবর্তন করা যেতে পারে। এরপর গাড়ির ফ্যানগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না খেয়াল করুন। গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় এসি চালু করে প্রয়োজনীয় ফ্যান ঘুরছে কি না দূর থেকে দেখা যায়। বিশেষ করে গাড়ি চলার সময় এসি কিছুটা ঠান্ডা করলেও ট্রাফিক জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গরম হয়ে গেলে বাতাস চলাচল বা ফ্যানের সমস্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে হুডের ভেতরের চলন্ত যন্ত্রাংশের কাছে হাত দেওয়া কিংবা বৈদ্যুতিক সংযোগ খুলে পরীক্ষা করা উচিত নয়। গাড়ির সামনের কনডেনসারেও চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। রেডিয়েটরের সামনে থাকা এই অংশে পাতা, পোকামাকড় বা অতিরিক্ত ময়লা জমে গেলে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হতে পারে। এতে এসির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। দৃশ্যমান ময়লা থাকলে গাড়ির প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে কনডেনসারের মতো সংবেদনশীল অংশে অতিরিক্ত চাপের পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়। এসি ঠান্ডা না হওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে রেফ্রিজারেন্টের পরিমাণ কমে যাওয়া। তবে এসি ঠান্ডা করছে না মানেই রেফ্রিজারেন্ট কমে গেছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোথাও লিক থাকলে রেফ্রিজারেন্ট কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে শুধু নতুন করে রেফ্রিজারেন্ট যোগ করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লিক থাকলে সেটি শনাক্ত ও মেরামত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ রেফ্রিজারেন্ট দিতে হয়। তাই নিজের মতো করে রেফ্রিজারেন্ট কিনে গাড়ির এসিতে ব্যবহার করার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। গাড়িতে কোন ধরনের রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও আগে নিশ্চিত করতে হবে। মোটরগাড়ির এসি ব্যবস্থায় রেফ্রিজারেন্ট নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং এ ধরনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অনুমোদিত যন্ত্রপাতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রাথমিক পরীক্ষা করেও এসি ঠান্ডা না করলে অটো মেরামতের দোকানে গিয়ে সমস্যাটি পরীক্ষা করানো ভালো। মেকানিককে জানিয়ে দিন, কখন থেকে সমস্যা শুরু হয়েছে, বাতাসের চাপ কমেছে কি না, গাড়ি চলার সময় এবং জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এসি কেমন কাজ করছে এবং কেবিনের বাতাসের ফিল্টার সর্বশেষ কবে পরিবর্তন করা হয়েছে। এসব তথ্য সমস্যার কারণ শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে এসি পরীক্ষা করার খরচ কত, রেফ্রিজারেন্ট দেওয়ার খরচ আলাদা কি না এবং মেরামতের আগে লিখিত খরচের হিসাব পাওয়া যাবে কি না, তা জেনে নেওয়া ভালো। এতে অপ্রত্যাশিত খরচ এড়ানোর পাশাপাশি কী কাজ করা হবে সে বিষয়েও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। গরমের সময় গাড়ির এসি শুধু আরামের বিষয় নয়, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত তাপ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। শিশুদের শরীরের তাপমাত্রাও প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় দ্রুত বাড়তে পারে। তাই কোনো শিশুকে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে একা রেখে যাওয়া উচিত নয়। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
ওজন কমানোর ইনজেকশনে বদলাচ্ছে খাবারের অভ্যাস, ব্যবসা হারাচ্ছে রেস্তোরাঁ
বামহাতিদের জন্য নয় আইফোন ডুও, নকশা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন ও বিতর্ক