সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

তিন দিনের ভ্রমণে মা, বাসায় একা পড়ে ছিল ২ মাসের শিশুসহ ৪ সন্তান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৫:৫৬
তিন দিনের ক্রুজে যাওয়ার সময় বাসায় একা পড়ে ছিল দুই মাসের শিশুসহ চার সন্তান
তিন দিনের ক্রুজে যাওয়ার সময় বাসায় একা পড়ে ছিল দুই মাসের শিশুসহ চার সন্তান

ফ্লোরিডার এক মা তিন দিনের বাহামাস ক্রুজে যাওয়ার সময় দুই মাস বয়সী শিশুসহ নিজের চার সন্তানকে বাসায় একা রেখে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিন দিনের ভ্রমণ শেষে সোমবার ক্রুজ জাহাজ থেকে নামার পরই তাকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, নর্থ মায়ামি বিচের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী নাথালি বেলিজেয়ারকে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তারা কার্নিভাল কনকোয়েস্ট ক্রুজ জাহাজ থেকে নামার পর আটক করেন। পরে তাকে স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে শিশুদের অবহেলার চারটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।

 

পুলিশ জানতে পারে, চার সন্তানকে বাসায় একা রেখে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। দুই মাস বয়সী শিশুটির বাবা পুলিশকে জানান, বৃহস্পতিবার তিনি বেলিজেয়ারের একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্টোরি দেখেন, যেখানে ক্রুজের টিকিট দেখা যাচ্ছিল। ওই মা তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি শিশুদের তাদের প্রপিতামহীর কাছে রেখে যাবেন।

 

কিন্তু দুই দিন পর ওই ব্যক্তি বেলিজেয়ারের বাসায় গিয়ে দেখতে পান, টেলিভিশন চালু রয়েছে এবং ভেতর থেকে শিশুদের শব্দ শোনা যাচ্ছে। পরে পুলিশ ও দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন চার শিশুকে একসঙ্গে বাথরুমে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়।

 

আদালতের অভিযোগপত্রে চার শিশুর সবার বয়স উল্লেখ করা হয়নি। তবে এতে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের বয়স দুই বছর এবং আরেকজন দুই মাস বয়সী শিশু।

 

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, শিশুদের দেখাশোনার কথা ছিল তাদের প্রপিতামহীর। তিনি পুলিশকে জানান, বেলিজেয়ার তাকে বলেছিলেন যে তিনি বাইরে যাচ্ছেন এবং শিশুদের তার কাছে দিয়ে যাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি শিশুদের নিয়ে যাননি।

 

বেলিজেয়ারের ভাইও পুলিশকে জানান, তাকে শিশুদের খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছিল।

 

তদন্তের সময় পুলিশ আরও জানতে পারে, বেলিজেয়ার শুক্রবার যাত্রা শুরু হওয়া তিন দিনের একটি ক্রুজের টিকিট কিনেছিলেন। জাহাজটি তিন দিন পর ফিরে আসার সময় স্থানীয় ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

 

গ্রেপ্তারের পর বেলিজেয়ারকে ২ হাজার ৫০০ ডলারের বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ নভেম্বর তাকে আবার আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে শুনানিতে অংশ নিতে হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ইরাক থেকে শেষ মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ১২ বছরের সামরিক মিশন
ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, শেষ হলো ১২ বছরের সামরিক মিশন

ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার উত্তর ইরাকের ইরবিল বিমানঘাঁটি থেকে শেষ মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটিতে আই এসবিরোধী ১২ বছরের সামরিক মিশনের সমাপ্তি হয়েছে।   ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে দুই বছর আগে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতেই এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এর মাধ্যমে যুদ্ধকালীন জোটের একটি অধ্যায়ের ইতি ঘটেছে এবং এখন দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে।   মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেল জানিয়েছেন, ইরবিল বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সুশৃঙ্খলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, ১২ বছরের অভিযানে ইরাক ও পুরো অঞ্চলে আই এসকে একটি সংগঠিত সামরিক হুমকি হিসেবে পরাজিত করা হয়েছে।   ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে দেশের সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী আই এসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের বাইরে থাকা স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে থাকা অ স্ত্র নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাও অব্যাহত থাকবে।   ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস দীর্ঘ। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ২০১১ সালে মার্কিন সেনারা ইরাক থেকে চলে যায়। তবে ২০১৪ সালে আই এস ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করলে ইরাকি সরকারের আমন্ত্রণে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী আবার দেশটিতে ফিরে আসে।   পরবর্তী সময়ে আই এসের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ড অনেকটাই পুনরুদ্ধার করা হলেও সংগঠনটির কিছু সদস্য ও নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদ মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক মিশন ধীরে ধীরে বন্ধ করার বিষয়ে একমত হয়।   গত বছর ইরাকের বেশির ভাগ এলাকা থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হলেও উত্তরাঞ্চলের কুর্দি এলাকায় কয়েক শ মার্কিন সেনা অবস্থান করছিলেন। বুধবার তাঁদেরও প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে।   তবে এই প্রত্যাহার নিয়ে ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সরিয়ে নেওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের পেশমার্গা মন্ত্রণালয়ের দাবি, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় ওই অঞ্চলে এক হাজারের বেশি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষে প ণা স্ত্র হামলা হয়েছিল।   অন্যদিকে ইরানে মিত্র হিসেবে পরিচিত ইরাকি স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছে। এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে বাগদাদ সরকারের প্রচেষ্টা এখনো পুরোপুরি সফল হয়নি।   এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সেই সময়সীমা পরে পিছিয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।   ফলে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে ইরাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও দেশটির সামনে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। আই এসের অবশিষ্ট হুমকি, স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব—সবকিছুই এখন বাগদাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৬:৩৪
তিন দিনের ক্রুজে যাওয়ার সময় বাসায় একা পড়ে ছিল দুই মাসের শিশুসহ চার সন্তান

তিন দিনের ভ্রমণে মা, বাসায় একা পড়ে ছিল ২ মাসের শিশুসহ ৪ সন্তান

১৯১৩ সালে আয়কর, সিনেট নির্বাচন ও ফেডারেল রিজার্ভ ব্যবস্থায় আসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

১৯১৩ সালে নেওয়া তিন সিদ্ধান্ত যেভাবে বদলে দেয় পুরো আমেরিকাকে

যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অথচ কমছে আবাসন নির্মাণ

যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অথচ কমছে আবাসন নির্মাণ, ঘাটতি ১০ লাখ ইউনিট ছাড়ানোর শঙ্কা

লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচারের পর স্বামীর চিকিৎসার নল খুলতে চেয়েছিলেন স্ত্রী
লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচারের পর স্বামীর চিকিৎসার নল খুলতে চেয়েছিলেন স্ত্রী, নিহত নিউইয়র্ক টাইমস কর্মকর্তা

ক্যালিফোর্নিয়ায় গুলিতে নিহত নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস বিভাগের প্রকৌশল পরিচালক জোনাথন ম্যাককিনসি মৃত্যুর আগের বছর স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন। আদালতের নথিতে পারিবারিক সহিংসতা ও সন্তানদের হেফাজত নিয়ে তাঁর ও স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে।    ৪০ বছর বয়সী ম্যাককিনসিকে গত শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন শহরের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পার্কিং এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর শ্বশুর শোইয়ং ঝাং ও শাশুড়ি শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।    আদালতে করা আবেদনে ম্যাককিনসি অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন এবং তাঁদের তিন সন্তানকেও নির্যাতন করেছেন। তাঁর দাবি, শ্বশুর-শাশুড়িও এ ধরনের আচরণে যুক্ত ছিলেন। ম্যাককিনসি আরও অভিযোগ করেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে অপমান ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসবই আদালতে তোলা অভিযোগ; এগুলো প্রমাণিত তথ্য নয়।    অন্যদিকে, জ্যাংও ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা ও সন্তানদের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। ২০২৫ সালে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে মামলাও হয়; তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে সুরক্ষা আদেশ চেয়ে আবেদন করেন।    ম্যাককিনসি ও জ্যাংয়ের বিবাহবিচ্ছেদ এবং সন্তানদের হেফাজত নিয়ে আইনি বিরোধ চলছিল। তবে হত্যার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা পুলিশ প্রকাশ করেনি। তাঁদের দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে আদালত।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ০:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রের ছয় অঙ্গরাজ্যে বাড়ির ইন্স্যুরেন্স বছরে ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ছয় অঙ্গরাজ্যে বাড়ির ইন্স্যুরেন্স বছরে ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে

মোহাম্মদ আব্দুর রহিম

মেয়েকে ড্রাইভিং শেখাতে গিয়ে বাংলাদেশি বাবার মৃত্যু, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির তহবিল সংগ্রহ

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে  কনস্যুলার ফি পরিশোধ

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ১ অক্টোবর থেকে কনস্যুলার ফি পরিশোধে নতুন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানোর পথ খুলল সুপ্রিম কোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানোর পথ খুলল সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রে নিজ দেশের বাইরে অন্য দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নীতি আপাতত চালু রাখতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের একটি রায় স্থগিত করেছে। তবে নীতিটি বৈধ কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। আদালত ডিসেম্বরে মামলাটির শুনানি করবে।    এখানে ‘তৃতীয় দেশ’ বলতে এমন দেশ বোঝানো হচ্ছে, যেটি ফেরত পাঠানো ব্যক্তির নিজের দেশ নয় এবং যেখানে তাঁর আগে কোনো সম্পর্কও নাও থাকতে পারে। এই নীতি মূলত তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে, যাঁদের নামে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার চূড়ান্ত আদেশ রয়েছে, কিন্তু আদেশে উল্লেখিত কোনো দেশে তাঁদের পাঠানো যাচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট সব অভিবাসীকে যেকোনো দেশে পাঠানোর সাধারণ অনুমতি দেয়নি। নির্দিষ্ট এই নীতির ওপর নিম্ন আদালতের বাধা স্থগিত করেছে।    মামলার কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গন্তব্য জানিয়ে সেখানে নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কা তুলে ধরার যথাযথ সুযোগ দিতে হবে কি না। ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক ব্রায়ান মারফি নীতিটিকে বেআইনি বলে রায় দিয়েছিলেন। আপিল আদালতও তাঁর রায়ের অধিকাংশ বহাল রাখে। সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় আপাতত স্থগিত করেছে; তিন বিচারপতি স্থগিতাদেশের বিরোধিতা করেছেন।   কোন দেশে পাঠানো হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এ নীতির আওতায় মানুষকে মেক্সিকো, দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা, নিরক্ষীয় গিনি, লাইবেরিয়া ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রসহ বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সংকলিত হিসাবে, ২০২৫ সাল থেকে ২৯টি তৃতীয় দেশে ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে পাঠানো হয়েছে; তাঁদের অধিকাংশকে পাঠানো হয়েছে মেক্সিকোয়। এটি সংগঠনগুলোর হিসাব, আদালতের অনুমোদিত দেশের তালিকা নয়।   ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, যাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না, তাঁদের অপসারণে তৃতীয় দেশের ব্যবস্থা প্রয়োজন। অন্যদিকে মামলাকারীদের আইনজীবীরা বলছেন, গন্তব্য ও ঝুঁকি সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ ছাড়া কাউকে পাঠালে তিনি নিপীড়ন বা নির্যাতনের মুখে পড়তে পারেন। আদালতের মঙ্গলবারের আদেশে এই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি; ডিসেম্বরে শুনানির পর চূড়ান্ত রায় আসবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২২:২৮
নাহিদুল হক খান সাহেলের মেয়ে নাওয়ার খান

জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নাহিদুল হক খান সাহেলের মেয়ে নাওয়ার খান, আইনজীবী হিসেবে শপথ

ডাকাতির নাটক সাজিয়ে ইউ ভিসার চেষ্টা

ডাকাতির নাটক সাজিয়ে ইউ ভিসার চেষ্টা, ক্যামেরায় ফাঁসের পর দোকানকর্মীকে ভারতে ফেরত

টেক্সাসের বেলেয়ারের কিটিং পরিবারের সদস্য

ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া টেক্সাসের পরিবারে ইমিগ্রেশন জটিলতায় বিচ্ছেদের শঙ্কা

0 Comments