বাংলাদেশের আগামী প্রধানমন্ত্রীর জন্য শেরেবাংলা নগরে একটি নতুন স্থায়ী বাসভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানের ধ্বংসপ্রাপ্ত 'গণভবন' সংলগ্ন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসের পাশের প্রায় ১৮ একর জমিতে এই নতুন বাসভবন নির্মাণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
স্থান: বর্তমান গণভবনের উত্তর-পশ্চিম পাশে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসের লাগোয়া এলাকায়। সেখানে বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের কিছু পুরোনো কোয়ার্টার রয়েছে।
কাঠামো: প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, মূল ভবনটি হবে তিনতলা। সেখানে একজন প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় সব ধরনের দাপ্তরিক ও আবাসিক সুবিধা থাকবে।
নির্মাণকাল: গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতে, এটি নির্মাণ করতে আড়াই থেকে তিন বছর সময় লাগবে।
নতুন ভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত হবু প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে দুটি বিকল্প প্রস্তাব রাখা হয়েছে: ১. রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা: যা বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২. স্পিকারের বাসভবন: সংসদ ভবন সংলগ্ন স্পিকারের বাসভবন এবং প্রয়োজনে তার পাশের ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর সাময়িক আবাসের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
সংসদ ভবন এলাকার ২০৮ একর জমির মূল স্থপতি লুই আই কানের নকশায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থানের উল্লেখ আছে কি না, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। স্থাপত্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন স্থাপনা নির্মাণের ফলে মূল নকশায় কোনো ব্যত্যয় ঘটবে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। লুই আই কানের নকশায় এই এলাকায় সবুজের সমারোহ ও লেকের প্রাধান্য ছিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের আবাসস্থল গণভবন ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্তর্বর্তী সরকার সেটিকে জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণের কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছে। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের আমলেই এই জাদুঘরের কাজ সম্পন্ন হবে এবং এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নকশা ও স্থান চূড়ান্ত করে রাখলেও, নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর মতামত নিয়েই চূড়ান্ত কাজ শুরু হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে কে হতে যাচ্ছেন এই নতুন বাসভবনের প্রথম বাসিন্দা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর সরকারি বাসভবন যমুনা-য় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই ঈদে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি—আমরা যেন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।” তিনি আরও বলেন, জনগণ যে ধরনের দেশ দেখতে চায়, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সময়ের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে প্রত্যাশিত দেশ গড়তে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর মতে, জাতীয় অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এই জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেবেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার প্রথমটি শুরু হবে সকাল ৭টায়। এছাড়া সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও আগারগাঁও পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দুটি জামাত (সকাল ৮টা ও ৯টা) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের লনেও পৃথক জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বিভিন্ন ব্লকের মসজিদে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মোট ১৭টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নিচে রাজধানীর প্রধান কয়েকটি ঈদ জামাতের সময়সূচি দেওয়া হলো: স্থান সময় জাতীয় ঈদগাহ (প্রধান জামাত) সকাল ৮:৩০ বায়তুল মোকাররম (৫টি জামাত) সকাল ৭:০০ থেকে ১০:৪৫ পর্যন্ত সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সকাল ৮:০০ (নারীদের পৃথক ব্যবস্থা আছে) আগারগাঁও পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠ সকাল ৮:০০ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সকাল ৮:০০ ও ৯:০০ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ সকাল ৭:৩০ মহাখালী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সকাল ৮:০০
ইরানে চলমান সংঘাতের মধ্যে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের প্রথম একটি দল দেশে ফেরার পথে রয়েছে। ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিয়ে একটি বিশেষ ফ্লাইট আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটা) বাংলাদেশ বিমান-এর একটি বিশেষ ফ্লাইট হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে। তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের উপ-মিশনপ্রধান মোহাম্মদ শাহনূর আলী মুঠোফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেশে ফেরত আসা এই দলে ১১ জন নারী, ১০ শিশু এবং ১৬৫ জন পুরুষ রয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আজারবাইজানে অবস্থান করছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিনিধিদলটি সীমান্ত এলাকায় পৌঁছানো বাংলাদেশিদের সহায়তা দিচ্ছে। ইরানের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে তেহরান থেকে আসা এসব নাগরিককে প্রথমে আজারবাইজানের আস্তারা সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বাসে করে তাঁদের বাকুর বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে আরও বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।