বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে চলমান সমালোচনা, রিট আবেদন এবং রাজনৈতিক বয়ান। নির্বাচন শেষে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও তাঁকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলের সক্রিয়তা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। ড. ইউনূসকে নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে তীব্রতা বাড়ছে। কেউ তাঁকে দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করছেন, কেউ আবার তাঁর সরকারের সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। এমনকি তাঁকে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জোরালো হচ্ছে। এসব আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্যও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এদিকে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, সংস্কার কমিশন গঠন, আইন প্রণয়ন এবং বিদেশি চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে একাধিক রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে তাঁর সরকারের কর্মকাণ্ডের সাংবিধানিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে কমিশন গঠনের আবেদনও জানানো হয়েছে। এর আগে ড. ইউনূসের সরকার গঠন ও শপথকে অবৈধ ঘোষণার দাবিতেও রিট করা হয়েছিল। যদিও আদালত সেটি খারিজ করে দেন, এরপর নতুন করে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনি চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট’। চুক্তিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটে বলা হয়েছে, এটি জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। রিটকারীরা অভিযোগ করেছেন, চুক্তিতে অসম শুল্ক কাঠামো ও দেশীয় শিল্পের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয় রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি ড. ইউনূস। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তাঁর নীরব অবস্থানও নতুন করে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি প্রকাশ্যে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিলেও দলটির বিভিন্ন বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা সিদ্ধান্তের সমালোচনা উঠে এসেছে। একই সময়ে দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি খাত, মূল্যস্ফীতি, প্রশাসনিক নিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকার সমালোচনার মুখে রয়েছে। বেলজিয়ামভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। প্রতিবেদনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সুশাসন নিশ্চিত এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডকে অবৈধ প্রমাণের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বর্তমান সংসদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার পথ তৈরি করতে পারে। আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অবৈধ’ বলে আসছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনও বিভিন্ন বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলেছেন। একই সময়ে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যেও হতাশা ও বিভাজনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য পূরণ হয়নি এবং কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক রূপান্তর অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ‘পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি’ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় গত ৯ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে এই চুক্তির ঘোষণা আসে, যা মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নীতিরই একটি অংশ। ২০১৩ সালের ‘টিকফা’ চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই নতুন চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যকার ৬.১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা। চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিক হলো শুল্কায়ন প্রক্রিয়া। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনবে এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে তা শূন্য শতাংশ হবে। তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ মেকানিজম রাখা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা বা কৃত্রিম তন্তু ব্যবহারের ভিত্তিতে শূন্য শুল্কে পোশাক রপ্তানির সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। বিনিময়ে বাংলাদেশকেও মার্কিন কৃষি ও শিল্পজাত পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও অ-শুল্ক বাধা অপসারণের কঠিন শর্ত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন মানসম্পন্ন মোটরযান, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি অতিরিক্ত পরীক্ষা ছাড়াই বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। চুক্তিতে কেবল বাণিজ্য নয়, বরং ডিজিটাল অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও শ্রম অধিকারের মতো বিষয়গুলোও যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মার্কিন কোম্পানির ওপর বৈষম্যমূলক ডিজিটাল কর না বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ কিছু দেশ থেকে পারমাণবিক সরঞ্জাম কেনা এবং সংবেদনশীল প্রযুক্তি সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার শর্ত রয়েছে। বাণিজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনা এবং আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি আমদানির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। চুক্তিতে শ্রম অধিকার ও পরিবেশ রক্ষায় আইএলও মানদণ্ড অনুসরণ এবং ট্রেড ইউনিয়ন আইন সংশোধনের কঠোর বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য কিছু সুযোগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো বেশ প্রভাবশালী। শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। আজ প্রকাশ করা হলো এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির প্রথম পর্বের অনুবাদ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে বিশ্বনেতাদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে ইউনূস সেন্টারের মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান। বিবৃতিতে ড. ইউনূস বলেন, চলমান সংঘাত বিশ্বকে আরও গভীর অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বাড়ছে, বিশেষ করে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; উপেক্ষিত হচ্ছে মানুষের মৌলিক চাহিদা। এই সংকটকে কেবল একটি আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, এটি পুরো মানবজাতির জন্য একটি গুরুতর নৈতিক চ্যালেঞ্জ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে, যার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর। বিবৃতিতে বৈশ্বিক ঐক্য ও সহমর্মিতার ওপর জোর দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনার পরিবর্তে কূটনৈতিক সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, “আমাদের যুদ্ধ নয়, শান্তিকে বেছে নিতে হবে; হামলা নয়, সংলাপকে বেছে নিতে হবে; বিভাজন নয়, ঐক্যকে বেছে নিতে হবে।” উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাত ৩৯ দিন ধরে চলার পর বুধবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানালেন ড. ইউনূস।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।