- প্রচ্ছদ
- Topic
বিদ্যুৎ
আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। একই সঙ্গে বর্তমানে বিদ্যুতের বিল কমানোর সুযোগ সরকারের হাতে নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। রোববার, ১৮ অক্টোবর দুপুরে বরগুনার বেতাগী উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে তাঁর এ বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করেন নুরুল ইসলাম মনি। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও সেগুলোর ভেতরে যন্ত্রপাতি নেই এবং অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এসব প্রকল্প করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে বিদ্যুতের বিল কমাতে না পারার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে কোন বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। আগামী বছর বিদ্যুতের প্রাপ্যতা নিয়ে তাঁর মন্তব্যের সমর্থনে উৎপাদন বা চাহিদার কোনো পরিসংখ্যানও ওই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। সভায় নাগরিকদের সমান অধিকারের কথাও বলেন চিফ হুইপ। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশে সবাই এ দেশের নাগরিক এবং সবার অধিকার সমান। এ সময় বেতাগীর ৩৭টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোতে নগদ অর্থ ও জিআর চাল বিতরণ করেন তিনি। সূত্র: আরটিভি
যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে বাড়ছে বিশাল তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ। এসব কেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক কম্পিউটার ও সার্ভার চালাতে প্রচুর বিদ্যুৎ এবং শীতলীকরণের জন্য পানি প্রয়োজন হয়। ফলে তথ্যকেন্দ্রের সম্প্রসারণ সাধারণ পরিবারের বিদ্যুৎ বিল ও স্থানীয় পানিসম্পদের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ইপসোসের একটি জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৯ শতাংশ মানুষ এআই তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা এ বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। জরিপে উদ্বেগের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় পানির সরবরাহের ওপর চাপ। উদ্বিগ্ন ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ শতাংশ এ বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ নিয়ে উদ্বিগ্ন ৪১ শতাংশ এবং আবাসিক বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছেন ৩৫ শতাংশ। তথ্যকেন্দ্রগুলো এআই মডেল প্রশিক্ষণ, অনলাইন সেবা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্যকেন্দ্রের বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। কোনো এলাকায় দ্রুত অনেক তথ্যকেন্দ্র গড়ে উঠলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালনব্যবস্থা ও পানির ব্যবহার নিয়ে নতুন পরিকল্পনার প্রয়োজন হতে পারে। তবে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ হলেই প্রতিটি পরিবারের বিদ্যুৎ বিল বাড়বে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এই জরিপ দেয়নি। বিদ্যুতের দাম নির্ভর করে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা, উৎপাদন ব্যয়, নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত এবং নতুন অবকাঠামোর খরচ কীভাবে বণ্টন করা হচ্ছে, তার ওপর। একইভাবে, সব তথ্যকেন্দ্র সমান পরিমাণ পানি ব্যবহার করে না। প্রযুক্তি, শীতলীকরণ পদ্ধতি এবং স্থানীয় আবহাওয়ার কারণে পানির চাহিদায় পার্থক্য হয়। তাই কোনো এলাকায় তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার আগে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদা মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী পরিবারের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা সম্প্রসারণের খরচ যদি গ্রাহকদের ওপর পড়ে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের ইউটিলিটি বিল প্রভাবিত হতে পারে। অন্যদিকে, তথ্যকেন্দ্র নতুন বিনিয়োগ, নির্মাণকাজ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাই তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত মূল্য পরিবর্তন সম্পর্কে খোঁজ রাখতে পারেন। বিদ্যুৎ বিল বেড়ে গেলে বিলের বিবরণ যাচাই করা এবং স্থানীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রকাশিত তথ্য দেখা উপকারী।
চার্জার কিংবা নির্দিষ্ট চার্জিং প্যাডে ডিভাইস বসানোর ঝামেলা কমাতে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন দুই বাংলাদেশি গবেষক। ড. সাইদুল আলম চৌধুরী ও ইউশা আরাফ নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রিজোলিংক। তাঁদের লক্ষ্য তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে বাস্তব জীবনে নিয়ে আসা। বিশেষ করে এমন ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে একটি নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস তার ছাড়াই চার্জ করা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে স্মার্টপাওয়ারবক্স নামের একটি প্রযুক্তি। প্রচলিত ওয়্যারলেস চার্জারে সাধারণত ফোন বা অন্য ডিভাইস নির্দিষ্ট প্যাডের ওপর সঠিকভাবে বসাতে হয়। কিন্তু স্মার্টপাওয়ারবক্স এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে একটি ছোট ত্রিমাত্রিক পরিসরের ভেতরে ডিভাইসের অবস্থান পরিবর্তন হলেও চার্জিং কার্যক্রম চালানো যায়। ফলে ভবিষ্যতে একটি ড্রয়ার বা নির্দিষ্ট চার্জিং জোনের মধ্যে ফোন, স্মার্টওয়াচ কিংবা ইয়ারবাড রাখলেই সেগুলো চার্জ হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্মার্টপাওয়ারবক্স প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত নকশা ও প্রোটোটাইপ উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গবেষক ড. সাইদুল আলম চৌধুরী এবং অধ্যাপক আইগুও প্যাট্রিক হু। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেটিভ ওয়্যারলেস পাওয়ার রিসার্চ ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত। স্মার্টপাওয়ারবক্স প্রযুক্তিতে আসবাবের ভেতরে বসানো পাতলা ও সমতল কয়েলের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। এসব কয়েল নিয়ন্ত্রিত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করে নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে থাকা উপযুক্ত ডিভাইসে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে উন্নত পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ব্যবহার করে কোন ডিভাইসের চার্জ প্রয়োজন, কতটুকু বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে এবং কীভাবে নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়, তা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষকদের লক্ষ্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যা প্রয়োজন ছাড়া সারাক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে না। বরং চার্জিংয়ের উপযোগী ডিভাইস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় অংশ সক্রিয় করবে। এতে বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং নিরাপদে চার্জিং কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণা ও প্রোটোটাইপ উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে এসেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রকল্পটির গবেষণা এগিয়ে নিতে ১ লাখ ১৪ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে। অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ারউইক অ্যান্ড জুডি স্মিথ ইঞ্জিনিয়ারিং এনডাওমেন্ট ফান্ড থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। অনুদানটি প্রযুক্তির প্রোটোটাইপ উন্নয়নে সহায়তা করবে। এই গবেষণার অন্যতম উদ্যোক্তা ড. সাইদুল আলম চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। বর্তমানে অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়্যারলেস পাওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রে রয়েছে পাওয়ার ইলেকট্রনিকস, তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং চার্জিং ব্যবস্থার দক্ষতা ও নিরাপত্তা। রিজোলিংকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর দুটি মার্কিন পেটেন্ট রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনায়ও তাঁর কাজ স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে রিজোলিংকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইউশা আরাফ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগিন্স ইনস্টিটিউটে ডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত। রিজোলিংকে তিনি কৌশলগত কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক উন্নয়নের দিকটি দেখছেন। দুই গবেষকের প্রতিষ্ঠিত রিজোলিংক শুধু মোবাইল ফোন বা ছোট ইলেকট্রনিক পণ্যের চার্জিং প্রযুক্তি তৈরি করতে চায় না। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা এবং বায়োমেডিকেল প্রযুক্তির জন্য তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহের সমাধান তৈরি করা। তাদের কার্যক্রমে রয়েছে প্রযুক্তির নকশা, গবেষণা, পরীক্ষামূলক উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই। বিশেষ করে স্মার্ট হোম, অফিস এবং হাসপাতালের মতো পরিবেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকেরা। একটি ড্রয়ার কিংবা আসবাবের নির্দিষ্ট অংশকে চার্জিং জোন হিসেবে ব্যবহার করা গেলে একাধিক ডিভাইস আলাদা আলাদা তার ছাড়াই চার্জ করা সম্ভব হতে পারে। হাসপাতালের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সেন্সর ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির জন্য কম তারনির্ভর চার্জিং ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গবেষণাটি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছেন অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। স্মার্টপাওয়ারবক্সের বর্তমান ধারণা পুরো বাড়ি বা বড় একটি কক্ষের যেকোনো স্থান থেকে ফোন চার্জ করার প্রযুক্তি নয়। এটি মূলত ছোট একটি নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক পরিসরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা। ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে এর তুলনা করা হলেও ইন্টারনেট সিগন্যাল এবং বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহের প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া এক নয়। প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক সফলতার জন্য চার্জিংয়ের দক্ষতা, ডিভাইসের সামঞ্জস্য, উৎপাদন খরচ এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাগারে কার্যকর একটি প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে এসব বিষয়ে আরও উন্নয়ন ও পরীক্ষা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে দুই উদ্যোক্তার। বিশেষ করে ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি ডিভাইস, স্মার্ট হোম এবং স্মার্ট হাসপাতালের জন্য সাশ্রয়ী তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা তাঁরা দেখছেন। বাংলাদেশে প্রকৌশল ও জীববিজ্ঞানের মতো ভিন্ন দুটি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়া এই দুই গবেষক এখন নিউজিল্যান্ডে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছেন। গবেষণাকে বাস্তব পণ্য ও শিল্পক্ষেত্রের সমাধানে রূপ দেওয়াই তাঁদের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। স্মার্টপাওয়ারবক্সের মতো প্রযুক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে ভবিষ্যতের চার্জিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি গবেষণা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দুই বাংলাদেশি গবেষক ড. সাইদুল আলম চৌধুরী ও ইউশা আরাফ। সূত্র: পাবলিকিয়ান
মাগুরা সদর উপজেলার সংকোচখালি গ্রামের চা বিক্রেতা বাবু মোল্যার নামে ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখিয়ে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার বিল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে বিলটি সংশোধন করা হয়। ঢাকা পোস্টের ২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশোধিত বিলে আগের তিন মাসের বকেয়াসহ মোট বিল নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০৫ টাকা। বিলম্ব ফিসহ পরিশোধযোগ্য অর্থ দাঁড়িয়েছে ৭১২ টাকা। বাবু মোল্যা গোপালগ্রাম ইউনিয়নের সংকোচখালি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ভাষ্য, বাড়িতে সাধারণত মাসে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার বিদ্যুৎ বিল আসে। এবার প্রায় ৩০ হাজার টাকার বিল দেখে তিনি চিন্তায় পড়েন। গত বুধবার অফিসে বিল পরিশোধ করতে গিয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানান। তাঁরা যাচাই করে সংশোধিত বিল দেন। নতুন বিলে পরিশোধের শেষ তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৬ অক্টোবর। বাড়ির বিলের সঙ্গে দোকানের একটি মিটারের বকেয়া যুক্ত করা নিয়ে গ্রাহক ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে বাবু দাবি করেন, তাঁর চায়ের দোকানে অন্য এক গ্রাহকের পুরোনো মিটার বসানো হয়েছিল। প্রায় সাত মাস ব্যবহারের পর ওই মিটারে ২৬ হাজার টাকা বকেয়া দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। দোকানের মিটার প্রায় চার মাস বন্ধ থাকলেও সেই বকেয়া তাঁর বাড়ির মিটারের সঙ্গে যোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বাবু আরও দাবি করেন, বকেয়া যুক্ত করার আগে তাঁকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চলতি দায়িত্বে থাকা জেনারেল ম্যানেজার এস এম শাহিন আহসান চ্যানেল আইকে বলেন, এই গ্রাহকের অন্য একটি মিটারে বকেয়া ছিল। কয়েকবার নোটিশ দেওয়ার পরও তা পরিশোধ না করায় বর্তমান মিটারের সঙ্গে পুরোনো বিল যুক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার পুরো অঙ্কটি শুধু ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য ছিল না; এর সঙ্গে পুরোনো বকেয়া যুক্ত ছিল। তবে সংশোধিত আবাসিক বিল থেকে ওই অর্থ বাদ দেওয়ার পর দোকানের মিটারের বকেয়া কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তা স্পষ্ট করা হয়নি। সূত্র: মাছরাঙা টিভি
যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় পুরোনো পাওয়ার গ্রিডের সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে দেশটির জ্বালানি বিভাগ। এই অর্থ ২৬টি অঙ্গরাজ্যের ৩১টি প্রকল্পে দেওয়া হবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত ২৩ গিগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে, যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ বাড়িতে বিদ্যুৎ দেওয়ার সমান। প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে শুধু নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকেও আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে। এ জন্য সেন্সরসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। কোথাও বিদ্যুতের লাইনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ অন্য পথে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫০০ মাইলের বেশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের বিভিন্ন উপাদান উন্নত করা হবে। পাশাপাশি প্রায় ২১ হাজার মাইলজুড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আনা হবে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও নির্ভরযোগ্য করার পাশাপাশি বিদ্যমান গ্রিড থেকে অতিরিক্ত সক্ষমতা বের করে আনার সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রকল্পগুলোর জন্য প্রায় ১৯০ কোটি ডলার সরকারি অর্থ দেওয়া হবে। এর সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আরও ৩৩৫ কোটি ডলার ব্যয় করবে। অর্থাৎ সরকারি অনুদানের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্থানীয় অংশীদারদের অর্থায়নও থাকছে। অর্থ পাবে বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, কো-অপারেটিভ এবং কলোরাডো, ইন্ডিয়ানা, ওহাইও ও ওকলাহোমার চারটি সরকারি সংস্থা। এসব অঙ্গরাজ্য সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮১ কোটি ডলার পাবে। এর মধ্যে কলোরাডো ও ওকলাহোমার প্রকল্পগুলো বড় আঞ্চলিক গ্রিডের সক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার, শিল্পকারখানা, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। ফলে দেশটির পুরোনো বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষমতা বাড়ানো এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এই প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন করা হচ্ছে কংগ্রেসে পাস হওয়া দ্বিদলীয় অবকাঠামো আইনের অর্থ থেকে। আইনটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় পাস হয়েছিল। অর্থাৎ বর্তমান উদ্যোগের অর্থের উৎস আগের প্রশাসনের সময় অনুমোদিত অবকাঠামো তহবিল। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতকে আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার প্রশাসন দেশীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর কিছু পরিবেশগত বিধিনিষেধ কমানো এবং পুরোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দীর্ঘ সময় চালু রাখার মতো নীতির ওপর জোর দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন অফশোর উইন্ড প্রকল্পের ইজারা পুনরায় কিনতেও প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। এর মাধ্যমে সমুদ্রভিত্তিক বায়ু বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি তেল, গ্যাস ও কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে নতুন গ্রিড প্রকল্পগুলোর মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদ্যমান অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানো। ২৬টি অঙ্গরাজ্যে পরিকল্পিত ৩১টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরোনো গ্রিড থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ নিরাপদ ও কার্যকরভাবে সরবরাহ করার সুযোগ তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'এক্সেল এনার্জি' গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর একটি নতুন প্রস্তাব করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রাহকদের স্পষ্ট দাবি, নিয়মিত চড়া বিল পরিশোধ করলেও তারা কোনো নির্ভরযোগ্য বা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন না। গত মঙ্গলবার কলোরাডো পাবলিক ইউটিলিটি কমিশনের এক গণশুনানিতে সাধারণ মানুষ এই ক্ষোভের কথা জানান। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস কলোরাডোর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক্সেল এনার্জি শুরুতে রাজ্য সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৩৫৫.৬ মিলিয়ন ডলার বাড়তি রাজস্ব আদায়ের আবেদন করেছিল। তবে গ্রাহকদের প্রবল আপত্তির মুখে একটি সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সেই প্রস্তাব প্রায় ৩৭ শতাংশ কমিয়ে ২২৪.৯ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই নতুন প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে কলোরাডোর একজন সাধারণ আবাসিক গ্রাহকের মাসিক বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৫.৮৬ শতাংশ বা মাসে গড়ে ৬.১৩ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যাবে। কলম্বাইন নোলস এলাকার বাসিন্দা ক্যারি কার্টার শুনানিতে প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছে, সেখানে কেন বাড়তি বিল দেওয়া হবে? তিনি জানান, ২০২৫ সালের শেষ ছয় মাসে তাদের এলাকায় অন্তত ১০ থেকে ১২ বার কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যায়। কখনো কয়েক ঘণ্টা, আবার কখনো পুরো সপ্তাহান্ত জুড়ে বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে তাদের। এতে ফ্রিজের খাবার নষ্ট হওয়া, ক্যাম্পিং স্টোভে রান্না করা এবং তীব্র গরমে বরফ কিনে খাবার তাজা রাখার মতো বাড়তি মানসিক ও আর্থিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। এমনকি অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীল এক বৃদ্ধ প্রতিবেশীকে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘর ছাড়তে হয়েছিল। গণশুনানিতে অংশ নেওয়া ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বলেন, এক্সেল এনার্জি যেহেতু এই অঞ্চলে একচেটিয়া ব্যবসা করছে, তাই সেবার মান উন্নত না করে তাদের বিল বাড়ানোর কোনো অধিকার নেই। এদিকে এক বিবৃতিতে এক্সেল এনার্জি জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর থেকে তারা কলোরাডোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার পোল পরিবর্তন, ৪০০ মাইলের বেশি নতুন সঞ্চালন লাইন এবং নতুন সাবস্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। কোম্পানিটির দাবি, এই বিল বৃদ্ধির হার বর্তমান মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম এবং কলোরাডোর মানুষের বিদ্যুৎ বিল এখনো আমেরিকার অন্যান্য রাজ্যের গড় বিলের চেয়ে কম রয়েছে। তবে গ্রাহক ক্যারি কার্টারের মতে, এটি এখন স্রেফ বিশ্বাসের বিষয়। তিনি বলেন, "আমি তাদের কথা বিশ্বাস করি না, কারণ আমাদের এলাকায় সেবার কোনো উন্নতিই চোখে পড়েনি।" বিল বৃদ্ধির এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বর্তমানে পাবলিক ইউটিলিটি কমিশনের পর্যালোচনায় রয়েছে এবং চলতি গ্রীষ্মের শেষের দিকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আমেরিকাজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ হু হু করে বাড়ছে। এর মধ্যেই চলতি গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার তথা এয়ার কন্ডিশনার (এসি) চালানোর খরচ আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা। মে মাসে দেশটিতে বাৎসরিক মূল্যস্ফীতির হার গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আমেরিকায় বিদ্যুৎ বিল গড়ে ১০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেওয়ায় এবার এসি ব্যবহারের পরিমাণ অনেক বাড়বে। একই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের দামও, যা মধ্য ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে আমেরিকায় গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দিন দিন বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পেরে অনেকেই এখন সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করছেন। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, শীতকালে তীব্র ঠাণ্ডায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার বিষয়ে মার্কিন রাজ্যগুলোতে আইনি সুরক্ষা থাকলেও, গ্রীষ্মকালের তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষার অভাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১৯টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়াতে গ্রীষ্মকালে লাইন কাটার বিরুদ্ধে আংশিক আইনি সুরক্ষা রয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ দিন দিন আরও তীব্র ও ঘন ঘন হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই দুর্বল নিয়মের কারণে তীব্র গরমে এসি ছাড়া বাস করা অনেকের জন্য জীবন-মৃত্যুর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই নিয়ম অবিলম্বে পরিবর্তন করা উচিত। চলমান এই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক মার্কিন তরুণ তাদের স্বাধীনভাবে থাকার স্বপ্ন বাদ দিয়ে খরচ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে আবার বাবা-মায়ের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে নাগরিকদের বেতন বা মজুরি এখন আর খরচের সাথে কুলাতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষ এখন দুপুরের খাবার কেনার টাকা বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবেন, নাকি তীব্র গরমে এসি ছাড়াই দিন কাটাবেন—এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জানালার পর্দা ব্যবহার করা, ঘরে না থাকলে থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখা, এসির এয়ার ভেন্টগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং দরজা-জানালার ফাঁকফোকর ভালোভাবে বন্ধ রাখা। তবে এই সাধারণ উপায়েও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিলের চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সাধারণ নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
ঢাকা বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অসন্তোষের মুখে অবশেষে প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া বা রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ প্রত্যাহার করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাধারণ মানুষের পকেটের বাড়তি খরচ কমাতে এবং বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এই জনবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, "প্রিপেইড মিটারে বাড়তি চার্জ আদায় নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমরা পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং একটি জনবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা গড়ে তুলতে আমরা এই মিটার চার্জ পদ্ধতি পুরোপুরি তুলে দিচ্ছি।" উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী প্রতিটি গ্রাহককে প্রতি মাসে রিচার্জ করার সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা 'মিটার ভাড়া' হিসেবে গুনতে হয়। বছরের পর বছর ধরে এই টাকা কেটে নেওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র আপত্তি ছিল। অনেকেরই প্রশ্ন ছিল, মিটারের প্রকৃত দাম বহু আগেই উসুল হয়ে যাওয়ার পরও কেন এই বাড়তি টাকা কাটা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সময়ে মিটার ক্রয়ে অস্বচ্ছতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক দায়ভার সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই বোঝা সরিয়ে নিয়ে বিদ্যুৎ খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্স-এ হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইরানি গ্যাস সরবরাহ আবার ইরাকে চালু হয়েছে। ইরাকের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্কাই নিউজ জানিয়েছে, হামলার কারণে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যা ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলে। হামলাটি ইসরায়েল চালিয়েছে বলে ইরানি পক্ষ দাবি করেছে। এই ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলো যদি পুনরায় লক্ষ্যবস্তু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামো “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। ইরাকের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ঘনমিটার হারে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। এতে ধীরে ধীরে ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।