খুলনার ডুমুরিয়া-ফুলতলা (খুলনা-৫) আসনের আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। গত শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মশিয়ালী গ্রামের আকুঞ্জি পাড়ার বাসিন্দা শোকর আকুঞ্জির বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে ভোট দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং দীর্ঘ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে শোকর আকুঞ্জির একটি কাঠের ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি কেরোসিনের বোতল উদ্ধার করেছে, যা এই অগ্নিকাণ্ডকে একটি পরিকল্পিত হামলা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর সৈয়দ হাসান মাহামুদ টিটো জানান, ওই ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চেয়ে বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিল দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। এই ফলাফলে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মীরা আগে থেকেই সমর্থকদের হুমকি দিয়ে আসছিল। তিনি অভিযোগ করেন, শোকর আকুঞ্জির ছেলেরা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করায় তাদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতেই এই হামলা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে গৃহকর্তা শোকর আকুঞ্জি বলেন, "আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন। সময়মতো টের না পেলে হয়তো আমরা কেউ আজ জীবিত থাকতাম না।" তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন। এদিকে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে আজ রবিবার বিকেলে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। খানজাহান আলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুবেল জানান, অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
ঢাকা-৮ আসনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, একই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ও তার নেতা-কর্মী, এজেন্ট এবং পরিবারের সদস্যরা ভোট রিগিং, প্রভাব বিস্তার, ফলাফল আটকে রাখা এবং বাতিল ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো অনিয়ম করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং ও রিটার্নিং কর্মকর্তারাও এসব অনিয়মে জড়িত ছিলেন এবং তাকে বিজয়ী ঘোষণা না করে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি পুনর্গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও ২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে। উল্লিখিত ১১টি অভিযোগ ১. কেন্দ্র নং ২৮, আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ, শাহজাহানপুর: শাপলা কলির পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং পথরোধ করে আটকে রাখা হয়। ভোট গণনার সময় দীর্ঘ বিলম্ব করা হয় এবং ওভাররাইটিং করা শিটে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ২. কেন্দ্র নং ২৯, শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: দুইজন পোলিং এজেন্টকে বুথ থেকে বের করে দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ভোট রিগিংয়ের অভিযোগ। ৩. কেন্দ্র নং ৩১, শাহজাহানপুর রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়: মহিলা কেন্দ্রে পুরুষ এজেন্ট রাখা যাবে না এমন অজুহাতে পাস দিতে দেড় ঘণ্টা বিলম্ব করা হয় এবং এ সময় কারচুপি করা হয়। ৪. কেন্দ্র নং ৩২, শাহজাহানপুর রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়: শাপলা কলির পক্ষে মহিলা পোলিং এজেন্টকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট গণনা ও জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ। ৫. কেন্দ্র নং ৩৪, আব্দুল গফুর শিক্ষা শিবির: ছয়জন পোলিং এজেন্টকে পাস না দিয়ে কারচুপিতে সহায়তার অভিযোগ। ৬. কেন্দ্র নং ৩৮, মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ: পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে প্রার্থী স্বাক্ষরিত মূল ফাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টা কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। ওই সময়ে কারচুপির অভিযোগ করা হয়। ৭. কেন্দ্র নং ৪০, দ্বীপশিখা প্রি-ক্যাডেট হাইস্কুল: সাতজন পোলিং এজেন্টকে পাস না দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে ভোট গণনার সময় বাতিল ভোট ধানের শীষের পক্ষে গণনা করা হয় বলে অভিযোগ। ৮. কেন্দ্র নং ৭৫, ইস্কাটন গার্ডেন স্কুল (মহিলা): মহিলা এজেন্টদের অবরুদ্ধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ৯. কেন্দ্র নং ৮৩, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল: প্রথম গণনার পর পুনরায় গণনা করে বাতিল ভোট ধানের শীষের পক্ষে যুক্ত করা হয় এবং জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ১০. কেন্দ্র নং ৮৮, সিদ্ধেশ্বরী বালক বিদ্যালয়: বাতিল ভোট ধানের শীষের পক্ষে যুক্ত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। প্রার্থীর স্ত্রী আফরোজা আব্বাস বেআইনিভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন বলে অভিযোগ। ১১. কেন্দ্র নং ৯৪ ও ৯৫, বিজ্ঞান ক্যাফেটেরিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা: পোলিং এজেন্টকে পাস না দিয়ে বের করে দেওয়া হয় এবং পরে বুথ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে ভোট গণনা করা হয় এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, এসব অনিয়মের কারণে প্রকৃত ফলাফল পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ভোট পুনর্গণনার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
খুলনার ডুমুরিয়া-ফুলতলা (খুলনা-৫) আসনের আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। গত শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মশিয়ালী গ্রামের আকুঞ্জি পাড়ার বাসিন্দা শোকর আকুঞ্জির বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে ভোট দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং দীর্ঘ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে শোকর আকুঞ্জির একটি কাঠের ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি কেরোসিনের বোতল উদ্ধার করেছে, যা এই অগ্নিকাণ্ডকে একটি পরিকল্পিত হামলা হিসেবে চিহ্নিত করছে। খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর সৈয়দ হাসান মাহামুদ টিটো জানান, ওই ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চেয়ে বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিল দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। এই ফলাফলে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মীরা আগে থেকেই সমর্থকদের হুমকি দিয়ে আসছিল। তিনি অভিযোগ করেন, শোকর আকুঞ্জির ছেলেরা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করায় তাদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতেই এই হামলা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে গৃহকর্তা শোকর আকুঞ্জি বলেন, "আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন। সময়মতো টের না পেলে হয়তো আমরা কেউ আজ জীবিত থাকতাম না।" তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন। এদিকে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে আজ রবিবার বিকেলে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। খানজাহান আলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুবেল জানান, অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুন্সীগঞ্জ সদরের মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন এর ঢালিকান্দি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত মুদি দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ তাজা ককটেল ও চোরাই ব্যাটারি উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে তিনটি বালতিভর্তি ককটেল রয়েছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে মোট অর্ধশতাধিক ককটেল মজুত থাকতে পারে। সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে কয়েকদিন ধরেই এলাকায় টহল জোরদার করা হয়। শনিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ঢালিকান্দি এলাকার মানিক শিকদারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পাশের একটি ফাঁকা দোকানে তিনটি লাল প্লাস্টিকের বালতি দেখে সন্দেহ হলে তল্লাশি চালানো হয়। পরে সেখান থেকে ককটেলগুলো উদ্ধার করা হয়। একই স্থান থেকে মোবাইল টাওয়ারে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি চোরাই ব্যাটারিও জব্দ করা হয়। ১৯ বীর মাওয়া সেনানিবাস এর সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকৃত আলামত স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল। শনিবার সন্ধ্যায় নোয়াদ্দা এলাকায় মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের পরাজিত এমপি প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ককটেল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে বলে জানান স্থানীয়রা। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে, তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী জানান, জেলার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত ও স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। যেকোনো ধরনের সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।