ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ’ ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ!
ইরানে আরও তীব্র আক্রমণের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই যুদ্ধংদেহী বার্তার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলারের বেশি বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৭.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুড তেলের দাম ৫.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৫.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।
গত বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমরা কাজ শেষ করতে যাচ্ছি। শিগগিরই এর সমাপ্তি হবে। আমরা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।” আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি দাবি করেন। তবে তার ভাষণে যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক সমাধানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না থাকায় বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা সতর্ক করেছেন যে, উত্তেজনা আরও বাড়লে তেলের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের প্রভাবে নৌপথে চলাচলের ঝুঁকিও বাড়ছে। কাতারের জলসীমায় কাতার এনার্জির একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে তেলের পাশাপাশি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দামও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪৭২৮.৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ। তবে তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে কিছুটা পতন লক্ষ করা গেছে।
সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে মত প্রকাশের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল বা দেশ থেকে বহিষ্কার করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বাক্স্বাধীনতার সুরক্ষা লঙ্ঘন করে। সান হোসের ফেডারেল বিচারক নোয়েল ওয়াইজ শুক্রবার দেওয়া ৯০ পৃষ্ঠার রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কিছু অভিবাসন পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেন। মামলাটি করেছিল স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত সংবাদপত্র ‘দ্য স্ট্যানফোর্ড ডেইলি’। পত্রিকাটির দাবি ছিল, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে মত প্রকাশের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ভিসা বাতিল ও বহিষ্কারের আশঙ্কায় নিজেদের মত প্রকাশ থেকে বিরত থাকছিলেন। বিচারক ওয়াইজ তাঁর রায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী নাগরিকদের পাশাপাশি বৈধভাবে দেশটিতে অবস্থানরত অ-নাগরিকদেরও মত প্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত করে। সরকারের পছন্দ নয় এমন মত প্রকাশ করলেই অভিবাসন আইন ব্যবহার করে কাউকে শাস্তি দেওয়া সেই অধিকারকে কার্যত সীমিত করে দেয়। মামলার সূত্রপাত মূলত ২০২৫ সালের ঘটনাপ্রবাহ থেকে। সে সময় ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে যুক্ত কয়েকজন বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীকে ভিসা বাতিল, আটক এবং বহিষ্কারের উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহমুদ খলিল এবং টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের রুমাইসা ওজতুর্কের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনায় আসে। এসব ঘটনার পর স্ট্যানফোর্ড ডেইলি আশঙ্কা প্রকাশ করে যে তাদের বিদেশি শিক্ষার্থী সাংবাদিকরাও একই ধরনের সরকারি পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, স্ট্যানফোর্ড ডেইলির কয়েকজন বৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থী ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন নিয়ে লেখা প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছিলেন। কেউ আগে প্রকাশিত লেখা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছেন, কেউ নতুন লেখা প্রকাশ থেকে বিরত থেকেছেন, আবার কেউ নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন। এমনকি কয়েকজন শিক্ষার্থী সংবাদপত্রটির কাজ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। বিচারক ওয়াইজ বলেন, সরকারের পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে কার্যত এমন বার্তা পৌঁছেছিল যে ইসরায়েলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে কথা বললে তাদের ভিসা বাতিল এবং বহিষ্কার করা হতে পারে। ফলে অনেকেই নিজেদের মত প্রকাশ থেকে বিরত হয়েছেন। রায়ে বিচারক আরও বলেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও অভিবাসন বিষয়ে যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। তবে সেই ক্ষমতা এমনভাবে প্রয়োগ করা যাবে না, যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতেই না পারেন কোন ধরনের বক্তব্য আইনসম্মত এবং কোন বক্তব্যের কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তিনি এই ধরনের অস্পষ্ট মানদণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। ওয়াইজের মতে, গণতন্ত্রে বাক্স্বাধীনতার অর্থ শুধু সরকারের সঙ্গে একমত হওয়ার অধিকার নয়। সরকারের নীতি, পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক কর্মকাণ্ড বা যুদ্ধের সমালোচনা করার অধিকারও এর অংশ। এমনকি কোনো মতামত প্রচলিত রাজনৈতিক ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা অনেকের কাছে অগ্রহণযোগ্য হলেও, সেটি প্রকাশের অধিকার সংবিধান সুরক্ষা দিতে পারে। এই মামলায় স্ট্যানফোর্ড ডেইলির পক্ষে কাজ করেছে ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন। সংগঠনটির আইনজীবী কনর ফিটজপ্যাট্রিক আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাক্স্বাধীনতা শুধু সরকারের পছন্দের মত প্রকাশকারীদের জন্য নয়। স্ট্যানফোর্ড ডেইলির প্রধান সম্পাদক জর্জ পোরটিয়াসও রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সংবাদকক্ষে কাজ করা সাংবাদিকদের কোনো প্রতিবেদন লেখার কারণে দেশ থেকে বহিষ্কারের ভয় পাওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে সেই ভয় অনেকটাই দূর হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ রায়টির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে প্রশাসন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার এই রায়টি এমন সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন দমনের পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক আইনি লড়াই চলছে। এর আগে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারকও রায় দিয়েছিলেন যে শুধু ফিলিস্তিনিদের সমর্থন বা ইসরায়েলের সমালোচনার কারণে অ-নাগরিকদের বহিষ্কারের উদ্যোগ সংবিধানবিরোধী। সাম্প্রতিক রায়টি বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ আদালত স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক বাক্স্বাধীনতার সুরক্ষা প্রযোজ্য এবং অভিবাসন আইনের ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক মত প্রকাশ দমন করা যাবে না। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও স্ট্যানফোর্ড ডেইলি।
লিভারের চর্বি কমাতে কিটো ডায়েট এগিয়ে, গবেষণায় চর্বি কমেছে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত
ফ্লোরিডায় ১৭ বছরের ছাত্রের সঙ্গে একাধিকবার যৌ ন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে শিক্ষিকার ৭ বছরের কারাদণ্ড
লস অ্যাঞ্জেলেসে অ্যাপার্টমেন্টের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নারীর আত্মহ ত্যা, থামাতে পারেনি উদ্ধারকর্মীরা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক বছর বয়সী নিজের নাতনিকে তপ্ত গাড়ির ভেতর ফেলে রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে কারেন বেনিয়ার্ড নামের ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই অবহেলার কারণে ওই দাদির বিরুদ্ধে গুরুতর নরহত্যার (অ্যাগ্রাভেটেড ম্যানস্লটার) অভিযোগ এনেছে স্থানীয় পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কারেন বেনিয়ার্ড শিশুটিকে অন্তত ৯০ মিনিটের বেশি সময় ধরে একটি বন্ধ ও উত্তপ্ত গাড়ির ভেতর রেখে বাড়ির ভেতরে গিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিলেন। তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার ফলে একপর্যায়ে শিশুটির করুণ মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে সেলফোনের ডেটা এবং বাড়ির রিং ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পেছনের সময়রেখা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে। আপন দাদির এমন চরম অবহেলায় ছোট্ট একটি প্রাণের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
ই স রায়েলের সমালোচনা করলেই ডিপোর্ট? ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগকে অসাংবিধানিক বলল ফেডারেল আদালত
বিদেশে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ২৪৬টি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, সবচেয়ে বেশি পোল্যান্ডে
নিউইয়র্কে তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ, সঙ্গে অর্থ উপার্জনের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইস) তাদের অভিযানগুলোতে কর্মকর্তাদের সহায়তার জন্য কুকুরের আকৃতির অত্যাধুনিক রোবট কেনার পরিকল্পনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অর্থায়নসংক্রান্ত একটি নথির বরাতে জানা গেছে, এই প্রযুক্তি যুক্ত করতে সংস্থাটি সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বোস্টন ডায়নামিকসের তৈরি 'স্পট' নামের এই বিশেষ রোবটগুলো কেনার প্রক্রিয়া চলছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকাশিত নথি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই রোবটগুলো কাউকে সরাসরি গ্রেফতারের কাজে ব্যবহার করা হবে না। বরং যেসব স্থানে কর্মকর্তাদের প্রবেশ করা বিপজ্জনক, সেখানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি নিরূপণে এগুলো মোতায়েন করা হবে। ক্যামেরা এবং সংবেদনশীল সেন্সরযুক্ত এই রোবটগুলো খুব সহজেই কম্পন, ক্ষতিকর গ্যাস ও তেজস্ক্রিয়তার মতো ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান শনাক্ত করতে সক্ষম। এর ফলে বিপজ্জনক, সংকীর্ণ বা সহজে প্রবেশ করা যায় না এমন এলাকায় অভিযানের সময় পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। অবশ্য রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোস্টন ডায়নামিকস স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের এই প্রযুক্তি কোনোভাবেই অস্ত্র হিসেবে বা স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের মতো ক্ষতিকর কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। কুকুরের আকৃতির এই রোবট প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ইতোমধ্যে ব্যবহার করছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগের পাশাপাশি ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো বাসভবনের নিরাপত্তায়ও এমন রোবট ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে আইসের এই রোবট কেনার পরিকল্পনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন সম্প্রতি সংস্থাটির জন্য ২ কোটি ডলার ব্যয়ে বিদ্যুৎ-শক দেওয়া দস্তানা (গ্লাভস) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটররা ইতোমধ্যে ওই দস্তানা কেনার চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তীব্র বিতর্কের মাঝেই নতুন করে রোবট কুকুর যুক্ত করার এই উদ্যোগ অভিবাসন অভিযানে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও একধাপ এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হ ত্যার ঘাতক জেসুস অ্যাকোস্টা গ্রেপ্তার
মালিক ফেলে চলে গিয়েছিলেন, নিউইয়র্কের অন্ধকার বেজমেন্ট থেকে শোচনীয় অবস্থায় উদ্ধার দুটি কুকুর