আজ ৮ মার্চ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার: সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।” বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি নানা আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, সম্মাননা প্রদান এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা নারীদের ‘অদম্য নারী পুরস্কার’-এর মাধ্যমে সম্মাননা প্রদান করছে।
এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনও দিবসটি উপলক্ষে নানা আয়োজন করেছে অ্যাকশন অ্যাইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলোর যৌথভাবে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। একই সঙ্গে Bangladesh Bank-এর নির্দেশনায় দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে যথাযোগ্য মর্যাদায় নারী দিবস পালন করা হচ্ছে।
এ বছরের বৈশ্বিক প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হচ্ছে “Give to Gain”—যার মূল লক্ষ্য নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা জোরদার করা।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য মহিলা অধিদফতর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারা বাণীতে বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাজে নারীর মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
National Press Club Bangladesh-এ আজ সকাল ১১টায় আলোচনা সভা, প্রদীপ প্রজ্বলন এবং সম্মাননা প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন Shama Obaid। এ বছর কৃতী নারী হিসেবে সম্মাননা পাচ্ছেন সাংবাদিক Mamtaz Banu।
এছাড়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সকাল ১০টায় র্যালির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করছে। পবিত্র রমজান মাসের কারণে সংগঠনটির বাকি অনুষ্ঠানসমূহ ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করা হবে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্য ও অমানবিক কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেন। পরবর্তীতে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী Clara Zetkin প্রতি বছর ৮ মার্চকে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। পরে United Nations ১৯৭৫ সালে দিবসটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও বহু বছর ধরে দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। সমাজে নারীর অবদানকে সম্মান জানানো এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিবছরই নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি ও ভুয়া ভোটার হওয়া ঠেকাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নাগরিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল করতে এনআইডিতে ব্যক্তির মূল নামের পাশাপাশি এবার ‘ডাক নাম’ যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, নতুন ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার কোনো সম্মানিত ব্যক্তির সুপারিশ বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। আজ রোববার (৮ মার্চ) এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জানান। কেন এই পরিবর্তন? ইসি সূত্রে জানা গেছে, অনেক সময় অপরাধীরা তাদের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে একাধিক এনআইডি তৈরি করে। কিন্তু ডাক নাম ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকলে ব্যক্তিকে শনাক্ত করা অনেক সহজ হবে। এছাড়া রোহিঙ্গা বা বিদেশি নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ের কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তির সুপারিশ নেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে। নিবন্ধন ফরম-২ তে এজন্য আলাদা একটি ঘর রাখা হবে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই দুটি পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে এবং ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরির সুযোগ চিরতরে বন্ধ হবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আজকের প্রধান সংবাদগুলোতে উঠে এসেছে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো- যুগান্তর: এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তেলের মজুত সর্বনিম্ন। খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং তেল বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার অদক্ষতা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২০ সালে অন্তত ৬০ দিনের তেল মজুত সক্ষমতা তৈরির সিদ্ধান্ত থাকলেও বর্তমানে দেশের মজুত ক্ষমতা মাত্র ৩০–৩৫ দিনের, যার মধ্যে ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় ১০–১১ দিনের। আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশের মজুত সক্ষমতা অনেক কম। ভারতে তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ৭৪ দিনের, ভিয়েতনামে ৪৫ দিন, থাইল্যান্ডে ৬১ দিন এবং জাপানে প্রায় ২৫০ দিনের সমপরিমাণ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান মজুত আসলে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়; বরং এটি কেবল স্বাভাবিক পরিচালনার জন্য রাখা মজুত। বিশেষজ্ঞরা আরও অভিযোগ করেছেন, তেল বিতরণকারী কোম্পানিগুলো মজুত অবকাঠামো বাড়ানোর পরিবর্তে ব্যাংকে অর্থ জমা রেখে সুদ অর্জনের দিকেই বেশি আগ্রহী। এ পরিস্থিতিকে অদক্ষ ব্যবস্থাপনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। প্রথম আলো: এক বছরে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ২৭ শতাংশ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে করা এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে ভুক্তভোগী নারী ও তাদের পরিবারের ভিড় থেকেই বোঝা যায় বিচারপ্রার্থীদের মানসিক যন্ত্রণা কতটা গভীর। আদালতের কক্ষের ভেতরে জায়গা না থাকায় অনেকেই বারান্দায় অপেক্ষা করেন। মামলার শুনানির সময় অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের বেদনাদায়ক বর্ণনাও শোনা যায়। এসব আদালতে ধর্ষণসহ বিভিন্ন নির্যাতনের মামলায় ভুক্তভোগীরা বিচার পাওয়ার আশায় হাজির হন। তবে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও মানসিক চাপ তাঁদের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে এবং ধর্ষণের মামলা বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। গত বছরে নারী নির্যাতনের মোট মামলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল ধর্ষণের অভিযোগ। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে করা ধর্ষণের অভিযোগের ১১ হাজারের বেশি মামলার তদন্তে প্রায় ৪৪ শতাংশ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বণিক বার্তা: পাকিস্তানে ৭০ শতাংশ পেট্রল পাম্প বন্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পাকিস্তানেও পড়তে শুরু করেছে। সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় করাচির বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে এবং কিছু পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করে সতর্কবার্তা জারি করেছেন পেট্রোলিয়াম ডিলাররা। যদিও পাকিস্তান সরকার বলছে দেশে পেট্রল ও ডিজেলের কোনো ঘাটতি নেই, তবে নতুন জ্বালানি মূল্যের ঘোষণা কার্যকর হওয়ার আগেই অনেক নাগরিক তড়িঘড়ি করে জ্বালানি কিনতে পাম্পে ভিড় করছেন। খাইবার পাখতুনখোয়া পেট্রোলিয়াম ডিলারস অ্যান্ড কটেজ কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য সচিব নাজিবুল্লাহ জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের কাছে পেট্রল ও ডিজেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে অনেক এলাকার পাম্প ইতোমধ্যে জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী সোমবারের মধ্যে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পেট্রল পাম্পের মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। মানবজমিন: জ্বালানি তেল নিয়ে ‘তেলেসমাতি’। খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারেও। এ মুহূর্তে বড় ধরনের সংকট না থাকলেও ভবিষ্যৎ সংকটের আশঙ্কায় বাড়তি জ্বালানি মজুতের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সরকার বলছে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং আমদানির পাইপলাইনে তেল রয়েছে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল কিনতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে অনেকেই এই আহ্বান উপেক্ষা করে বাড়তি তেল সংগ্রহ করতে পাম্পে ভিড় করছেন। এতে কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। সংকটের সুযোগে পাম্প মালিকরা বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগও উঠেছে। এমনকি পুলিশ পাহারায় জ্বালানি তেল বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে। নিউ এইজ: Women's affairs reforms still on paper-অর্থাৎ নারী বিষয়ক সংস্কারের কথা এখনো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। খবরে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশে নারীদের প্রতি বৈষম্য দূর করা, সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর বেশিরভাগই এখনো বাস্তবায়নের বাইরে রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন মোট ৪৩৩টি সুপারিশ জমা দেয়। এসব সুপারিশের মধ্যে নারীদের সমান সম্পত্তির অধিকার, একটি ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড প্রণয়ন এবং একটি স্থায়ী ও স্বাধীন নারী বিষয়ক কমিশন গঠনের প্রস্তাব ছিল। এদিকে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার জানিয়েছে, তারা কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে। নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। আজকের পত্রিকা: শুল্ক কমানোর সুফল নেই এলপি গ্যাসের দামে। খবরে বলা হয়েছে, সরকার এলপি গ্যাসের আমদানি শুল্ক কমালেও বাজারে এর সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,৩৪১ টাকা হলেও রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় তা প্রায় ১,৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে প্রতি কেজি গ্যাসে ভোক্তাদের অন্তত ৩০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। দেশের দৈনিক প্রায় ৫ হাজার টন গ্যাসের চাহিদা বিবেচনায় প্রতিদিন প্রায় ১৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা প্ল্যান্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ডিস্ট্রিবিউটরদের মতে, সীমিত সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় ও অপেক্ষার সময় বাড়ায় প্রান্তিক পর্যায়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মতে, আমদানিকারকেরা প্রকৃত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে গ্যাস সরবরাহ করছে। সরকারি ইনভয়েস ও বাস্তব বিক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্যের প্রমাণও পাওয়া গেছে, যার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বাড়তি মুনাফা করছে। দ্য ডেইলি স্টার: Family Card pilot to cover 40,000 households-অর্থাৎ পরীক্ষামূলকভাবে ৪০ হাজার পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড। সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় আগামী চার মাসে ৪০ হাজার পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগামী ১০ মার্চ থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হবে এবং প্রতিটি পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। এই কর্মসূচির জন্য সংশোধিত বাজেটের ব্লক বরাদ্দ থেকে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ দশমিক ১৫ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে ব্যয় হবে এবং বাকি অর্থ উপকারভোগী নির্বাচন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। প্রথম ধাপে ১৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবারের ৫০ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হবে যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য। এ কাজে ৫৬০ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হবে এবং প্রত্যেকে ৫,০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। জুনের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ শেষ করে ৪০ হাজার উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। নয়া দিগন্ত: সংসদে নিজেদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশন। এই অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ই জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দল তাদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। কারণ এবারের সংসদের অধিকাংশ সদস্যই নতুন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা সংসদে নিজেদের সক্ষমতা ও উপস্থিতি তুলে ধরতে চান। সংসদে সম্ভাব্য তর্ক-বিতর্ক ও রাজনৈতিক মোকাবেলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে বিভিন্ন দল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সব দলই নিজেদের সংসদ সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে বলে জানা গেছে। আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সেই অধিবেশনেই বোঝা যাবে নতুন সংসদ সদস্যদের প্রস্তুতি সংসদের আলোচনায় কতটা প্রতিফলিত হয়। দেশ রূপান্তর: দুবাই থেকে পুঁজি সরানোর পথ খুঁজছেন এশিয়ার ধনী ব্যক্তিরা। ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর ফলে দুবাইয়ে বসবাসকারী অনেক এশীয় ধনী ব্যক্তি ও উদ্যোক্তা তাদের সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দুবাইয়ে বসবাসকারী ভারতীয় দুই উদ্যোক্তা তাদের সম্পদ নিয়ে উদ্বেগে পড়েন। তারা স্থানীয় ব্যাংক হিসাব থেকে কিছু অর্থ সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরের চেষ্টা করেন। প্রথমে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও পরে তাদের একজন বিকল্প পদ্ধতিতে সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠাতে সক্ষম হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলকে নিরাপদ বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে যে সুনাম ছিল, তা প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কালের কণ্ঠ: হামলার শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জঙ্গিবিমান ও ড্রোনের তৎপরতায় অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের হামলার ঘোষণা দিলে জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর নজর রাখছে। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পণ্যবাহী জাহাজের জন্য কার্যত বন্ধ রয়েছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জড়ো করছে, ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকার, সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি উপলক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা আয়োজন করা হয়েছে। নারী অধিকার, সমতা এবং নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দিতে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও সম্মাননা প্রদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশেষ অবদান রাখা নারীদের অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও ও প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করছে। এ বছর প্রচারাভিযানের মূল বিষয় হলো গিভ টু গেইন, যা নারী-পুরুষের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেয়। এ বছরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia–কে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা দেওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি Mohammed Shahabuddin এবং প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা বিশ্বের সব নারীর প্রতি শুভেচ্ছা ও সম্মান জানিয়েছেন। জাতীয় প্রেসক্লাবে দিবসটি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। বেলা ১১টায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে Shama Obaed–এর। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক Momtaz Banu–কে সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। Dhaka Reporters Unity–এর উদ্যোগে সকাল ১০টায় র্যালির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। রমজান মাসের কারণে অবশিষ্ট অনুষ্ঠান ঈদুল ফিতরের পরে আয়োজন করা হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস নারী শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ১৮৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্য, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অমানবিক কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করেন। পরে ১৯০৯ সালে নারী অধিকার নিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী Clara Zetkin প্রতি বছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে United Nations ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় এবং বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালনের আহ্বান জানায়। বাংলাদেশে স্বাধীনতার আগে থেকেই ৮ মার্চ পালিত হয়ে আসছে এবং বর্তমানে দেশজুড়ে দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে।