পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে আজ এক মহাসন্ধিক্ষণ। শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ভোটযুদ্ধ। এবারের নির্বাচন কেবল সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য যেমন এটি 'অস্তিত্ব রক্ষার' লড়াই, তেমনই বিরোধী দল বিজেপির জন্য এটি রাজ্যপাট 'দখলের' চূড়ান্ত পরীক্ষা।
তৃণমূলের লক্ষ্য চতুর্থ জয় : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০১১ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালের নির্বাচনে ২১৫টি আসনে জিতে বিপুল জনমত নিয়ে তারা প্রত্যাবর্তন করেছিল। ২০২৬-এ এসে ঘাসফুল শিবিরের প্রধান লক্ষ্য টানা চতুর্থবারের মতো নবান্ন দখল করা এবং উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা।
বিজেপির মরণপণ লড়াই : অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এবার ক্ষমতা হস্তান্তরে মরিয়া। গত বিধানসভা নির্বাচনে তারা ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। যদিও পরবর্তীতে উপনির্বাচন ও দলবদলের কারণে সেই সংখ্যা ৭৫-এ নেমে আসে। এবার গেরুয়া শিবির সেই ক্ষতি পুষিয়ে রাজদণ্ড নিজেদের হাতে নিতে সবটুকু শক্তি নিয়োগ করেছে।
অস্তিত্ব সংকটে বাম-কংগ্রেস : বিগত নির্বাচনে বিধানসভায় খাতা খুলতে ব্যর্থ হওয়া বাম দল এবং কংগ্রেসের জন্য এবারের লড়াই মূলত শূন্যস্থান পূরণের। বিধানসভায় নিজেদের প্রতিনিধিত্ব ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ। দলবদলের রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ মেরুকরণের মাঝে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কার দিকে পাল্লা ভারি করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হবে বাংলার মসনদে শেষ হাসি কে হাসছেন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি পদ্ম শিবির।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
নিজস্ব একটি বাড়ি কেনার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। বড় উঠান, ব্যক্তিগত বাগান, আলাদা কাজের ঘর কিংবা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে উৎসাহিত করে। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্ন অনেক সময় অতিরিক্ত খরচ, নিয়মিত মেরামত এবং জীবনযাপনের বাস্তবতার সঙ্গে মিল খুঁজে পায় না। স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় বসবাসকারী সাংবাদিক ও লেখক সিওভান বল এবং তার স্ত্রীও এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই গেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় তিনি জানিয়েছেন, বহু প্রত্যাশা নিয়ে কেনা বাড়িতে দুই বছরের কিছু বেশি সময় থাকার পর তারা সেটি বিক্রি করে আবার একটি আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে গেছেন। তার ভাষায়, সিদ্ধান্তটি ছিল আর্থিক ও ব্যক্তিগত, দুই দিক থেকেই সঠিক। সিওভান জানান, ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত প্রায় ৯৫০ বর্গফুটের দুই তলা বাড়িটি প্রথম দেখাতেই তাদের ভালো লেগে যায়। বাড়িটিতে ছিল ব্যক্তিগত ছোট একটি বাগান, একটি চিলেকোঠা, আলাদা কাজের ঘর এবং গাছপালা রাখার জন্য কাচঘেরা একটি কক্ষ। শহরের কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে হলেও বাজেটের মধ্যে এমন বাড়ি পাওয়ায় তারা সেটিই কেনার সিদ্ধান্ত নেন। তবে সেখানে বসবাস শুরু করার পরই বাস্তবতা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে। বাড়িটির বয়স প্রায় ৫০ বছর হওয়ায় নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের মেরামতের প্রয়োজন পড়তে থাকে। এক ঝড়ে ছাদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে টালি বদলাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। এছাড়া বয়লার মেরামত, দেয়ালের ফাটল ঠিক করা এবং ছোটখাটো নানা সংস্কারের কাজ প্রায় নিয়মিতই চলতে থাকে। শুধু মেরামতের খরচই নয়, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলও তাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি আসে। আগে অ্যাপার্টমেন্টে থাকার সময় নিচের তলার বাসিন্দাদের তাপ উপরের ফ্ল্যাটেও পৌঁছাত, ফলে আলাদা করে বেশি গরম করার প্রয়োজন হতো না। কিন্তু আলাদা বাড়িতে সেই সুবিধা ছিল না। বাড়ির নকশার কারণে ওপরের তলা গরম থাকলেও নিচের তলা অনেকটাই ঠান্ডা থেকে যেত। এই সমস্যা সমাধানে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন ছিল, যা ব্যয়বহুল। এরই মধ্যে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় সিওভানের শারীরিক অবস্থা। তিনি জানান, আগে থেকেই চলাফেরা-সংক্রান্ত একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল। বাড়িতে ওঠার কয়েক মাসের মধ্যেই তার চলাচলের সক্ষমতা দ্রুত কমতে শুরু করে। দুই তলা বাড়ির সিঁড়িই তখন তার জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে ওঠে। কারণ রান্নাঘর ও বাথরুম ছিল ভিন্ন ভিন্ন তলায়। প্রতিদিন কয়েকবার সিঁড়ি ব্যবহার করতে গিয়ে তাকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। ভবিষ্যতে হুইলচেয়ার ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ির নকশার কারণে সেখানে সিঁড়িতে লিফট বসানোও সহজ ছিল না। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যক্তিগত বাগানটিও আর পরিচর্যা করা সম্ভব হচ্ছিল না। অন্যদিকে তার স্ত্রীও কর্মব্যস্ত থাকায় নিয়মিত বাগানের দেখাশোনা করা সম্ভব হচ্ছিল না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা বাড়িটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। বাড়ি বিক্রির ছয় সপ্তাহের মধ্যেই এডিনবরার শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি একটি আধুনিক অ্যাপার্টমেন্ট কিনে সেখানে চলে যান। নতুন অ্যাপার্টমেন্টে সব প্রয়োজনীয় কক্ষ একই তলায় হওয়ায় চলাফেরা অনেক সহজ হয়েছে বলে জানান সিওভান। পাশাপাশি বাড়িটির জ্বালানি দক্ষতা বেশি হওয়ায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ভবনের বাইরের রক্ষণাবেক্ষণের খরচও অন্য ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে ভাগাভাগি হওয়ায় বড় ধরনের ব্যয়ের ঝুঁকি নেই। এছাড়া গণপরিবহন, রেস্তোরাঁ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বন্ধুদের বাসার কাছাকাছি থাকায় তাদের সামাজিক জীবনও আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে। সিওভানের মতে, একটি বাড়ি কাগজে-কলমে যতই আকর্ষণীয় মনে হোক না কেন, সেটি সবার জীবনধারা বা শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে যাবে, এমন নয়। তাই বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার আগে শুধু সৌন্দর্য বা আকার নয়, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ, জ্বালানি ব্যয়, অবস্থান এবং নিজের জীবনযাপনের বাস্তব চাহিদাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাদের কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছে কংগ্রেসসহ কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দল। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এই ঘোষণায় সন্তুষ্ট নয় আন্দোলনকারীরা। তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদির আশ্বাসের পরও সিজেপি নেতৃত্ব তাদের দাবি থেকে সরে আসেনি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে মোদির ঘোষণার সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে সরানো ছাড়া শুধু বিচার প্রক্রিয়ার ঘোষণা সমস্যার সমাধান করবে না। অভিজিৎ দীপকে আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলন দুর্বল করতে বাইরে থেকে লোক এনে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তার দাবি, প্রায় এক মাস ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করলেও আন্দোলন বড় হওয়ার পর পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। এদিকে বুধবার (২২ জুলাই) রাতের পর যন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আবারও যন্তর মন্তরে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারী। তাদের প্রধান দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোদি আরও বলেন, যারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যার জন্য বর্তমান সরকার দায়ী এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তার অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণে দেশের তরুণরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, পরীক্ষা পরিচালনা এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আশ্বাস দিলেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা ভারতীয় নাগরিক নিতিশ কৌশল যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকাভুক্ত ভারতীয় নাগরিক নিতিশ কৌশলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যে কানাডা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় তাকে আটক করা হয়। আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ দমনে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই গ্রেপ্তারকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জুলাই ভারমন্টের অ্যালবার্গ এলাকায় একটি বাড়িতে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগে সীমান্ত টহল বাহিনীর সদস্যরা ২৬ বছর বয়সী নিতিশ কৌশলকে আটক করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গ্রেপ্তারের মাত্র এক দিন আগেই তার নাম এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল। এফবিআই জানিয়েছে, নিতিশ কৌশল ওরফে ‘লালা’ ভারতের পাঞ্জাবভিত্তিক জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এই অপরাধচক্র হত্যা, অপহরণ, মাদক পাচার, চাঁদাবাজি, অস্ত্র পাচার, অর্থপাচার এবং মানবপাচারের মতো আন্তঃদেশীয় অপরাধে জড়িত। কৌশল সংগঠনটির হয়ে অপহরণ ও হামলাসহ বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের যুক্তরাষ্ট্র জেলা আদালত নিতিশ কৌশলের বিরুদ্ধে ‘র্যাকেটিয়ার ইনফ্লুয়েন্সড অ্যান্ড করাপ্ট অর্গানাইজেশনস (রিকো) কনস্পিরেসি’ আইনে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপরই তাকে খুঁজতে এফবিআই ব্যাপক অভিযান শুরু করে এবং পরে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এফবিআই আগে থেকেই সতর্ক করেছিল, নিতিশ কৌশলকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং তার পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল। মার্কিন কর্তৃপক্ষের এই অভিযান ‘অপারেশন হার্ড বল’-এর ধারাবাহিকতার অংশ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সমন্বিতভাবে পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধচক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া। নিতিশ কৌশলের গ্রেপ্তার সেই আন্তর্জাতিক অভিযানে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।