বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার ৫৩ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ পুলিশ। প্রজ্ঞাপন দুটিতে স্বাক্ষর করেন মো. আলী হোসেন ফকির, যিনি বর্তমানে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রথম প্রজ্ঞাপনে ৪০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সহকারী পুলিশ সুপার থেকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এসব কর্মকর্তাকে জনস্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নামের পাশে উল্লেখিত পদে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে আরও ১৩ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্কেলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন সংসদ সদস্য (এমপি) ও মন্ত্রীরা। কিন্তু তাদের চলাফেরা, সরকারি গাড়ি কিংবা সরকারি বাসভবন দেখে সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই একটি প্রশ্ন জাগে রাষ্ট্র থেকে তারা আসলে কত টাকা বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পান? বাংলাদেশে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা নির্ধারিত রয়েছে ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী। এই আইনের আওতায় তাদের মাসিক বেতন, চিকিৎসা, ভ্রমণ, পরিবহন ও আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একজন মন্ত্রীর মাসিক বেতন ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। প্রতিমন্ত্রী পান ৯২ হাজার টাকা, উপমন্ত্রী ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং একজন সংসদ সদস্যের মাসিক বেতন ৫৫ হাজার টাকা। বেতনের বাইরে মন্ত্রিসভার সদস্যরা অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করে। সরকারি কাজে বিদেশ সফরের সময় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভ্রমণভাতা পেয়ে থাকেন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি খরচে একটি করে গাড়ি ব্যবহার করার সুযোগ পান। অন্যদিকে সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা পেয়ে থাকেন। জ্বালানি বাবদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা দৈনিক ১৮ লিটার তেলের সমপরিমাণ অর্থ পান। এছাড়া পরিবহন ভাতা হিসেবে মাসে ৭০ হাজার টাকা এবং নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াতের জন্য মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সাধারণত সরকারি বাসভবন পান। এসব বাসার বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোনের খরচও সরকার বহন করে। কেউ সরকারি বাসায় না থাকলে মন্ত্রী মাসে ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা ৭০ হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পান। এ ছাড়া সরকারি বাসভবনের সাজসজ্জার জন্য মন্ত্রী বছরে ৫ লাখ টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা ৪ লাখ টাকা করে পান। সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে আবাসনের জন্য সরকারের কাছ থেকে প্লট বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যদের জন্য আরও কিছু নিয়মিত ভাতা নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সম্মানী ভাতা: মাসে ৫ হাজার টাকা, টেলিফোন ভাতা: ৭ হাজার ৮০০ টাকা, লন্ড্রি ভাতা: ১ হাজার ৫০০ টাকা, ক্রোকারিজ ও টয়লেট্রিজ খরচ: মাসে ৬ হাজার টাকা, নির্বাচনী এলাকার অফিস খরচ (এমপি): মাসে ১৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে মন্ত্রী মাসে ১০ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা ৫ হাজার টাকা করে পান। নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য মন্ত্রী বছরে ১০ লাখ টাকা, প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ লাখ টাকা, উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা ৫ লাখ টাকা করে পান। পাশাপাশি স্বেচ্ছাধীন তহবিল হিসেবে বছরে আরও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বেতন ও সুবিধা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্ধারিত হলেও, এগুলো জনগণের করের অর্থ থেকেই আসে। তাই এই ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
দেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে তথ্য অধিকার কমিশন গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। রোববার (৮ মার্চ) এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকে দেশে তথ্য গোপনের যে সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। অনুষ্ঠানে ড. ইফতেখারুজ্জামান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, নারী অধিকার এবং তথ্য অধিকার একে অপরের পরিপূরক। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গত ১৬-১৭ বছরে তথ্য অধিকারকে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে বরং নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এমনকি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, মানবাধিকার কমিশনের মতো তথ্য কমিশনও এখনো আলোর মুখ দেখেনি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অনেক খাত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনসমক্ষ থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে তিনি প্রস্তাব করেন: আইনের মাধ্যমে কমিশনারদের পদমর্যাদা সুনির্দিষ্ট করতে হবে। কমিশনের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে তথ্যের অধিকার নিয়ে ছয়টি সুনির্দিষ্ট ধারা রয়েছে। নতুন সরকার গঠিত হলে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, টিআইবি তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এক মাহেন্দ্রক্ষণে নারী শিক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাত থেকে এই বিশেষ সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন তাঁর নাতনি ও বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের উত্তরসূরি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও আরও পাঁচজন সফল নারীকে তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অদম্য মনোবলের পরিচয় দেওয়ার জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন: নুরুন নাহার আক্তার: অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জনের জন্য। মোছা. ববিতা খাতুন: শিক্ষা ও চাকুরিক্ষেত্রে সকল বাধা জয় করার স্বীকৃতিস্বরূপ। নুরবানু কবীর: একজন ‘সফল জননী’ হিসেবে তাঁর ত্যাগের মূল্যায়নে। মোছা. শমলা বেগম: নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে ফেলে জীবন সংগ্রামে জয়ী হওয়ার জন্য। মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন: সমাজ উন্নয়নে অনন্য ও অসামান্য অবদানের জন্য। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগটি দেশের নারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। বিশেষ করে গণতন্ত্র রক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নে নারীদের এই অবদানের স্বীকৃতি নতুন প্রজন্মের নারীদের জন্য সাহসের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।